Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    লোকায়ত জীবন ও লোকসাহিত্য – সুমনকুমার দাশ

    সুমনকুমার দাশ এক পাতা গল্প328 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    অচেনা এক জংলা পাখি থাকে মাটির পিঞ্জিরায় – সুমনকুমার দাশ

    অচেনা এক জংলা পাখি থাকে মাটির পিঞ্জিরায়

    ‘আমি জন্মে জন্মে অপরাধী তোমারই চরণে রে। হায় রে আমারে নি আছে তোমার মনে’-এ গান শুনেই শৈশবকালে প্রেমে পড়েছিলাম গণমনজয়ী বাউল-গায়ক দুর্বিন শাহের। এরপর তাঁর গানের সন্ধানে ছুটে চলা। নানা জায়গার নানা গায়কদের কাছে শুনে শুনে একে একে মুখস্থ হয়ে যায় তাঁর ‘নির্জন যমুনার ক

    ‚লে, বসিয়া কদম্বতলে। বাজায় বাঁশি বন্ধু শ্যামরায়’, ‘বন্ধু যদি হইত নদীর জল। পিপাসাতে পান করিয়া পোড়া প্রাণ করতাম শীতল’, ‘অচেনা এক জংলা পাখি থাকে মাটির পিঞ্জিরায়। ধরা দেয় না, ঘরে বাইরে আসা যাওয়া সর্বদায়’-সহ অসংখ্য গান। শৈশব পেরিয়ে ভর যৌবন। মন তখন দুর্বিন প্রেমে দেওয়ানা। আর তখনই জানতে পারি-সেই ১৯৭৭ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি ‘জ্ঞানের সাগর’ অভিধায় অভিহিত অসংখ্য জনপ্রিয় গানের রচয়িতা দুর্বিন শাহ দেহত্যাগ করেছেন। মনেতে বিরহ আসে। অনেকটাই যেন ‘আমি তোমায় হারা হইয়া বাঁচিব কেমনে’। এ ধাক্কা কাটিয়ে উঠতে বহুদিন সময় লাগে। তারপর আবার মিশে যাই নগরের যান্ত্রিকতার চলমান স্রোতে। আর সকলের মতো আমিও হয়ে উঠি রোবটপ্রতিম পরিপূর্ণ এক যন্ত্রমানব। নিজের পেশা আর টুকটাক লেখার বাইরে কিছুই ভাবতে পারি না। অথচ অনেকটা হঠাৎ করেই সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলি প্রখ্যাত সাধক দুর্বিন শাহের জন্মভিটায় যাওয়ার। যেই কথা সেই কাজ।

    ৬ আগস্ট ২০০৯ খ্রিস্টাব্দ। সকাল ১০টার দিকে সিলেটের বন্দরবাজার এলাকায় পৌঁছে দেখি সকলের আগে অন্যতম সফরসঙ্গী আনিস মাহমুদ উপস্থিত। সামান্য সময়ের ব্যবধানে আসেন সিলেটের সাম্প্রতিক সময়ের জনপ্রিয় দুই বাউলশিল্পী আবদুর রহমান ও বশিরউদ্দিন সরকার। আমরা পার্শ্ববর্তী একটি রেস্তোরাঁয় নাস্তা সেরে সুনামগঞ্জ জেলার ছাতকগামী একটি অটোরিকশা ভাড়া নিই। শুরু হলো দুর্বিন শাহের বাড়ির উদ্দেশে যাত্রা। রাস্তায় চলল একের পর এক গান। রহমানভাই গানের পাশাপাশি দুর্বিন শাহের গানের তত্ত্ব ও ভাবের ব্যাখা দিতে লাগলেন আর বশিরভাই দুর্বিন পরিবারকে কাছে থেকে দেখার স্মৃতিগুলো শুনালেন। এসব শুনতে শুনতেই পৌঁছে যাই ছাতকের মধ্যবর্তী স্থান গোবিন্দগঞ্জ বাজারে। ওই বাজার থেকে স্থানীয় সাংবাদিক রাজুকে গাড়িতে তুলে নিই। প্রায় পৌণে এক ঘণ্টার মধ্যে ছাতক পৌর শহরে প্রবেশ করি। সেখানে আগে থেকেই অপেক্ষা করছিলেন সংগীতশিল্পী অতীন্দ্র দেবনাথ টুটুল। তাঁকে নিয়ে আমরা অপর পাঁচজন পৌর শহরের অদূরে দুর্বিন শাহের বাড়িতে রওয়ানা দিলাম।

    ছাতকের সুরমা নদী। দুক‚ল ছাপিয়ে বর্ষার প্রমত্ত রূপ। ঢেউয়ের পিঠে ঢেউ। আমরা সেই ঢেউয়ে ডিঙি মতন বজরা ভাসিয়ে এগিয়ে চলছি। মধ্য নদীতে আচমকাই মাথায় পাগলামি ভর করলো। দুই হাত দিয়ে কিছুক্ষণ সুরমা নদীর ভরা যৌবন আঁচ করার চেষ্টা করলাম। আহা! প্রাণ উজাড় করা ভালোবাসা আর সমস্ত যৌবনটুকু যেন সুরমা নদী আমাকে দিয়ে দিতে চাইল। ইচ্ছে হলো ঝাঁপিয়ে পড়ি সুরমার বুকে। ঘোর কাটতে না কাটতেই তীরে পৌঁছি। সামান্য একটু হাঁটার পর দুর্বিন টিলা। সুবিশাল টিলাটির আশপাশ অনেকটাই কেটে ফেলা হয়েছে। টিলার চারপাশে ছনখেত আর গাছগাছালি। এই কড়কড়ে রোদেও হালকা বাতাসে গাছের পাতাগুলো দুলছে। চেনা-অচেনা গাছগুলোতে নানাজাতের ও রঙের পাখিরা খাবারের খোঁজে ব্যস্ত আর সেই ব্যস্ততার ফাঁকে ফাঁকে সব পাখিরা যেন মনের আনন্দে নানান সুরে গান গাইছে। হঠাৎ করেই অপূর্ব এই সুর ছাপিয়ে রহমানভাই গাইলেন-‘কাজলবরন পাখি, নিলো হরে আঁখি…’। দুর্বিন পুত্র আলম শাহসহ উপস্থিত সংগীতশিল্পী টুটুলকাকু ও বশিরভাই সুর মেলালেন। এভাবে চলল একের পর এক গান। উপস্থিত সকলেই পুরো টিলা মুখরিত করে গাইছেন দুর্বিন শাহের গান। দরদর করে প্রত্যেকের শরীর হতে ঘাম ঝরছে। অথচ কোনও ক্লান্তি নেই। কখনও বিরহ, কখনও আনন্দ কিংবা কখনও প্রতিবাদের ভাষায় প্রায় এক ঘণ্টা সুরের মায়াজালে শিল্পীরা বন্দি করে রাখলেন আমাদের।

    এরপর ফিরে আসার পালা। দুর্বিন শাহের ছেলে আলম শাহ আবার যেন আসি-এ কথা এক নাগাড়ে বলে চলেছেন। সামান্য সময়ের ভেতরে প্রথম দেখাতেই একজন মানুষ কীভাবে অপরকে আপন করে নিতে পারেন-সেটা এই প্রথম টের পেলাম। মাঝে মাঝে মনে হয় বাউলধারাটা বোধহয় এমনই! এসব ভাবতে ভাবতেই আলম শাহের আধাপাকা ঘর থেকে বেরিয়ে এলাম। ঘর থেকে বের হওয়ার ঠিক আগ মুহুর্তে ফিরে তাকালাম দুর্বিন শাহের সহধর্মিণী স্বরূপা বেগমের দিকে। এই বৃদ্ধ বয়সেও অসাধারণ রূপ-লাবণ্য ধরে রেখেছেন। তাঁকে দেখে নিজের অজান্তেই ঠোঁটে চলে এলো দুর্বিন শাহের জনপ্রিয় সেই গান ‘হলুদবরন রূপের কন্যা লো, মেঘবরণ তার চুল’।

    আবার ঘরে ফেরা। আবার নগরের একঘেয়ে যান্ত্রিক জীবন। তবু জীবনের ফাঁকে ফাঁকে গল্প করার মতো টুকরো টুকরো কিছু স্মৃতি থাকে। এসব স্মৃতির রাজ্যে প্রতিনিয়ত চোখে ভাসছে এক দুপুরে দুর্বিন শাহের বাড়িতে কাটানো কিছু সময়। আমার কাছে চিরদিন দ্যুতিময় হয়ে থাকবে একটি দিন, একটি দুপুর।

    সেই দুপুরে দুর্বিন শাহের বাড়ি থেকে আসার পর সিদ্ধান্ত নিই দুর্বিন শাহ রচনাসমগ্র প্রকাশের। আলম শাহের সঙ্গে কথা বলে কাজ শুরু করে দিই। ২০০৯ সালে এ বইটি বেরও হয়। সম্পাদনার সূত্রে দুর্বিন শাহের গানগুলো বারবার আমাকে পড়তে হয়েছিল। তখন মনে হয়েছে তিনি আমাদের বাউলগানের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ভাষ্যকার। এ সাধকের রচিত প্রায় গান অসামান্য। তবে লালন, রাধারমণ, হাসন রাজা কিংবা শাহ আবদুল করিমের গান যেভাবে এপার-ওপার দুই বাংলার বাঙালিদের কাছে পৌঁছেছে সে তুলনায় দুর্বিন শাহর গান এতটা পৌঁছেনি। অথচ তাঁর গানের ভাষার বিশেষত্ব ও স্বতঃস্ফ‚র্ত উপস্থাপন শ্রোতাদের গভীর আনন্দের খোরাক জোগায়। তিনি যেমন একদিকে গানের রচয়িতা ও গায়ক ছিলেন এবং অন্যদিকে নিজের গানের সুরারোপও করেছিলেন। আপাতদৃষ্টিতে তাঁর গান চিত্তবিনোদনের খোরাক হলেও এসব গানের মর্মকথা স্বতন্ত্র দর্শন হিসেবে মূল্যবান।

    দুর্বিন শাহের গানে বাঙালির বৃহত্তম অংশের মানুষের আচার-সংস্কৃতি ও সুখদুঃখের মধ্যে আন্তঃসম্পর্ক রয়েছে। এই সম্পর্কের অন্যরকম প্রাণসঞ্চারি চেতনা এবং আদর্শ রয়েছে। আর এটি হচ্ছে মানবপ্রেম। মানুষে-মানুষে ভালোবাসার সুস্পষ্ট বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে তাঁর অধিকাংশ গানে। তিনি যে গ্রামে জন্মগ্রহণ করেছিলেন সেটি উপজেলা শহর থেকে প্রায় আধা কিলোমিটার দূরে। নোয়ারাই গ্রামের তারামন টিলা। তবে বর্তমানে টিলাটি দুর্বিন টিলা নামে পরিচিত। আর সেখানেই এক সাধারণ পরিবারে জন্মগ্রহণ করেছিলেন দুর্বিন শাহ। তাঁর জন্ম ১৯২১ খ্রিস্টাব্দে। তাঁর পিতা সফাত আলী আর মায়ের নাম হাসিনা বানু। পিতা ছিলেন মরমিসাধক ও ফকির, মা ‘পিরানি’ হিসেবে শ্রদ্ধার পাত্র ছিলেন সকলের কাছে। ফলে সংগীতচর্চার একটা পারিবারিক ঐতিহ্যেই তিনি বেড়ে উঠেছেন। মাত্র সাত বছর বয়সে বাবাকে হারিয়ে মা-ই ছিলেন তাঁর ধ্যান-জ্ঞান। মা ছিলেন তাঁর ভাবজগতের কান্ডারি।

    দুর্বিন শাহ ১৯৬৮ খ্রিস্টাব্দে বিলেত সফরকালে সুরের মূর্ছনায় প্রবাসী বাঙালিদের বিমোহিত করেছিলেন। প্রতিদানস্বরূপ প্রবাসীরা তাঁকে ‘জ্ঞানের সাগর’ অভিধায় অভিহিত করেছিলেন। এছাড়া দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে তিনি সংগীত পরিবেশন করে কুড়িয়েছেন জনমানুষের ভালোবাসা। তিনি বিয়ে করেছিলেন একই উপজেলার জোড়াপানি গ্রামের সৈয়দ আলীর মেয়ে স্বরূপা বেগমকে। তাঁদের ছিল তিন ছেলে। তবে বড়ো দুই ছেলে জাহান শরিফ ও আজম শরিফ ইতোমধ্যে মৃত্যুবরণ করেছেন। স্ত্রী স্বরূপা বেগমও কয়েক বছর আগে মৃত্যুবরণ করেন। ছোটো ছেলে আলম শরিফ ওরফে আলম শাহ পিতার পথ ধরে সংগীতসাধনায় মগ্ন রয়েছেন।

    দুর্বিন শাহর গানগুলোকে বিভিন্ন ভাগে চিহ্নিত করা যায়। তাঁর অধিকাংশ গানে সুফি ও মরমিবাদ যথেষ্টভাবে ফুটে উঠলেও এসবের বাইরে নানা পর্যায়ের অসংখ্য গান লিখেছেন। শ্রেণি বিভাজন করলে এসব গানগুলোকে বাউল, বিচ্ছেদ, আঞ্চলিক, গণসংগীত, মালজোড়া, জারি, সারি, ভাটিয়ালি, গোষ্ঠ, মিলন, রাধা-কৃষ্ণবিষয়ক পদাবলি, মারফতি, পির-মুর্শিদ স্মরণ, আল্লা স্মরণ, নবি স্মরণ, ওলি স্মরণ, ভক্তিগীতি, মনঃশিক্ষা, সুফিতত্ত্ব, দেহতত্ত্ব, কামতত্ত্ব, নিগূঢ়তত্ত্ব, পারঘাটাতত্ত্ব, দেশের গানসহ বিভিন্ন ভাগে ভাগ করা যায়। এছাড়া বিবিধ শিরোনামে তাঁর রচিত আরও বিভিন্ন পদাবলিকে চিহ্নিত করা যেতে পারে।

    কিন্তু কেমন ছিল তাঁর কণ্ঠ? এ প্রশ্ন মনে আসতেই পারে। প্রাসঙ্গিক হওয়ায় টি এম আহমেদ কায়সারের একটি লেখা উদ্ধৃত করা যায় :

    এমনকী উচ্চারণও স্পষ্ট হতো না সবসময়; গাইতেন কাশযুক্ত ভাঙা ফ্যাসফ্যাসে গলায়, কিন্তু তাতে কি হবে, ভক্তেরা কয়, আসরে আসরে কতো নির্ঘুম রাত কাটিয়েছি দুর্বিন শাহ’র এই গান শুধু তাঁর স্বকণ্ঠে শোনার জন্যে। এক অন্তর্মগ্ন মিনতি, আহা! কী যে এক বিষাদঘন মাধুর্য; যেন কান্না ঝরে পড়তো গানের ছত্রে ছত্রে। গানের বিশাল আসর বসতো তখোন মাজারে, আখড়ায়, প্রত্যন্ত গ্রামে আবার কোনো কোনো গঞ্জেও। দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ হন্য হয়ে ছুটে আসতো গান শোনার জন্যে। দুর্বিন শাহর কিছু গান একদা সারা বাংলাদেশ মাতিয়েছিল, অবশ্য তখনো বাউলাগানের কদর ছিল বেশ; বাউলরাও উপেক্ষিত ছিল না খুব একটা। […] পুরোদস্তর সংসারী হয়েও দুর্বিন শাহ শেষপর্যন্ত একজন ঘরছাড়া বাউল; আপাদশির বোহেমিয়ান। ঘর ছিল, ঘরে স্ত্রী ছিল, সন্তান-সন্ততিও ছিল একাধিক, তারপরও কী এক মোহ, কী এক তৃষ্ণা, কী এক অতৃপ্তি তাঁকে ঘরের ভেতরও এক অর্থে পরবাসী করে রেখেছিল জীবনভর! আজ জিন্দাপিরের মোকাম তো পরদিন কোন আখড়ায় নতুন নতুন গান, নতুন নতুন চিন্তা নিয়ে ঘুরে বেড়িয়েছেন। সংসারের বেড়াজালে কোমর বেঁধে যুক্ত হয়েও বলেছেন ঘরবাড়ি মিছে, সংসার হলো মায়া…।

    উপর্যুক্ত বক্তব্যের অবশ্য সত্যতাও পাওয়া যায় দুর্বিন শাহের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠজন সুনামগঞ্জের আরেক প্রখ্যাত বাউল-গীতিকার শাহ আবদুল করিমের বিভিন্ন মন্তব্য ও আলাপচারিতায়। বিভিন্নজনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে করিমকে আমরা বলতে শুনি ‘দুর্বিন শাহের গলা খুব একটা ভালো ছিল না’। তবে সেই ‘ভালো না-থাকা’ গলায়-ই তিনি আসরের শ্রোতাদের মাতিয়েছেন। শাহ আবদুল করিমের স্মৃতিচারণা, ‘দুর্বিন শাহ আর আমি মিলে কত আসর, মাজার আর আখড়ায় গান করেছি; এ-সবের কোনও ঠিকঠিকানা নেই। সে আর আমি পাল্লা দিয়ে গান গাইতাম। একই গানের ব্যাখ্যা আমরা দুইজন দুইভাবে দিতাম।’ আরেক সাক্ষাৎকারে করিম জানিয়েছিলেন, ‘দুর্বিন শাহ তুলনামূলকভাবে তত্ত্বগানের দিকে ঝুঁকে পড়েছিলেন।’

    দুর্বিন শাহের অসংখ্য তত্ত্বগানের কয়েকটি শুনেছিলাম তাঁর ছেলে আলম শাহের কণ্ঠে। সুর করে গাওয়াটাকে আমরা যেভাবে গান হিসেবে চিহ্নিত করি, ঠিক সেভাবে নয়। অনেকটা আবৃত্তি করার মতো, তবু সেই রেশ এখনও আমার কানে সজীব ও প্রাণবন্ত হয়ে রয়েছে। প্রায় চার শ ফুট উঁচুতে টিলার উপর যে জায়গাটায় দুর্বিন শাহের মাজার, সেখানে দাঁড়িয়ে তাঁর ছেলে আলম শাহ চোখ বন্ধ করে টলছিলেন। আমার কাছে মনে হয়েছিল-এই বুঝি পড়ে যাবেন। একবার তো আমি ধরার জন্য হাত-ই বাড়িয়ে দিয়েছিলাম। তবে আমার পাশে থাকা বশিরউদ্দিন সরকার অভয় দিয়েছিলেন, ‘দাদা, চিন্তা কইরেন না। বুঝছেন কিছু? উনি ভাবের রাজ্যে আছেন, পড়ি পড়ি ভাব তবু পড়বেন না।’ আলম শাহ ‘ভাবরাজ্য’ থেকেই বলছিলেন :

    আমায় আমি চিনতে গেলে বাজে গন্ডগোল
    আমি কে হই আমা থেকে স্মরণ হলে পড়ে ভুল।

    দেখলে মানুষ সবকে চিনি আমায় চিনতে টানাটানি
    আমায় চিনতে সাধু জ্ঞানী কূল না পেয়ে হয় আকূল।

    যোগী ঋষি যুগ ধ্যানে ভাবিতেছে নিশিদিনে
    তারাও না আমায় চিনে কিসেতে হয় আমার মূল।

    আমি বলি আমি একা মানুষে কয় তুমি বোকা
    তাল্লাশ করলে হাদিস ফেকাহ্ খোদামাত্র আছে স্থুল।

    কুদররে মূল খোদার নাম জগতে সব আমার কাম
    নইলে পিতা ছাড়া পুত্র হইতাম বৃক্ষ ছাড়া ফুটত ফুল।

    আমি গেলে সবই যাবে খোদা বলে কে ডাকিবে
    দুর্বিন শাহ কয় আমার ভাবে আমি তার চরণধূল।

    আলম শাহ গান শেষে মাটিতে বসে পড়লেন। বিড়বিড় করে কী যেন বললেন! একসময় গা এলিয়ে দেন মাটিতে। মিনিট পাঁচেক পর উঠে দাঁড়িয়ে পাশে থাকা আবদুর রহমানকে দুই হাতে জড়িয়ে ধরে বললেন, ‘রহমানভাই, আপনি আমার বাড়িতে আইছেন। আমি খুউব খুশি হইছি।’ কথা শেষ করে কোনও বিরতি না দিয়েই আলম শাহ আবার ধরলেন :

    আমায় রাখিও চরণ তলে দয়াল মুর্শিদও
    আমায় রাখিও চরণ তলে
    মানবজনম ধন্য হবে তোমারে পাইলে-দয়াল মুর্শিদও আমার।
    মুর্শিদও সয়ালের দয়াল তুমি নির্ধনিয়ার ধন
    অকূলিয়ার কূল তুমি অন্ধেরই নয়ন
    দিয়া চরণ রাখো জীবন পড়েছি অকূলে
    ও আমার রাখিও চরণ তলে-দয়াল মুর্শিদও আমার।

    মুর্শিদও অনাথের নাথ বলি রাখি কত আশা
    দয়া করে চরণ তলে আমারে দিও বাসা
    মিটাইও মনের পিপাসা, বসো আমার কোলে
    ও আমার রাখিও চরণ তলে-দয়াল মুর্শিদও আমার।

    মুর্শিদও তুমি হও আশিকে খোদা সুরতে ইনসান
    নুরেরই পুতুলা তুমি হাবিবে দেওয়ান
    দুর্বিন শাহ কয় তোমার সমান দরদি নাই ভূতলে
    ও আমার রাখিও চরণ তলে-দয়াল মুর্শিদও আমার।

    গান শেষ করেই আবার বিড়বিড় করে বলতে শুরু করলেন : ‘ঘর বানাইল রে মালিক মেস্তরি। ঘরের ভিতরে রইয়া করে লুকোচুরি।’ এবার রহমানভাই তাঁকে থামালেন। থামিয়ে তিনি আমার উদ্দেশে বললেন, ‘দাদা, দুর্বিন শাহের গানে তত্ত্বের ছড়াছড়ি বেশি। আমাদের পূর্বসূরিদের মধ্যে উনার গানে গভীরতা মারাত্মক। লোকে এর লাগি উনারে জ্ঞানের সাগরও কইতো। আমি তো উনার সঙ্গে একমঞ্চে গান গাইছি। তাঁর কথায়ও ভারী ভারী ভাব ছিল।’ আবদুর রহমান কথা শেষ করে গেয়ে শোনান :

    জন্মে জন্মে অপরাধী তোমারই চরণে রে
    হায় রে আমারে নি আছে তোমার মনে।

    বন্ধুয়া রে, শুনিয়াছি নামটি তোমার পতিত পাবন
    দয়াময় দয়াল তুমি পাতকি তারণ
    কিঞ্চিৎ দয়া করো যারে ও তার ভয় নাই ঘোর নিদানে রে।

    বন্ধুয়া রে, মনপ্রাণ যৌবন দিলাম চরণে তোমার
    পদছায়া দিয়া রাখো জেনে দুরাচার
    আশাতে নিরাশ কইর না আমি দীনহীন রে।

    বন্ধুয়া রে, কৃপাসিন্ধু ভক্তের অধীন
    নিজ গুণে করো দয়া বাসিও না ভিন
    দুর্বিন শাহ তোর চিরদাসী জিয়নে মরণে রে।

    গান শেষ করে আবদুর রহমান রহস্যের হাসি হাসলেন। এই গান শুনে তাঁর হাসির প্রকৃত কারণ বুঝতে পারলাম না। শুধু জিজ্ঞাসু চোখে রহমানভাইয়ের চোখে তাকিয়ে রইলাম।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleদ্য হাউস হোয়ার আই ডাইড ওয়ান্স – কেইগো হিগাশিনো
    Next Article ডক্টর ইউনূসের দারিদ্র্য বাণিজ্য – বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Our Picks

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }