Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    লোকায়ত জীবন ও লোকসাহিত্য – সুমনকুমার দাশ

    সুমনকুমার দাশ এক পাতা গল্প328 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    থাকি না যেন তোমারে ভুলিয়া – সুমনকুমার দাশ

    থাকি না যেন তোমারে ভুলিয়া

    বিশ বছর আগের কথা। পৌষের পয়লা রাত। আকাশে ধোয়ার মতো কুয়াশা, ঝিরঝির করে টুপটাপ শিশির পড়ছিল। ঠিক শিশির নয়, যেন বৃষ্টির ফোঁটা। বরফের মতো ঠান্ডা ছিল সেই শিশির-বৃষ্টি। সে দিনের বরফ-ঠান্ডা শীত উপেক্ষা করে আমাদের গ্রামের বাড়ির সুবিশাল সামিয়ানা টানানো উঠোনে পাতা খড়ের গাদায় বসে অন্য অনেকের মতো আমিও বাউলগান শুনছিলাম। মঞ্চে জনা পাঁচেক শিষ্যসহ গান গাইছিলেন প্রখ্যাত বাউল-গায়ক ও গীতিকার শাহ আবদুল করিম। লম্বা চুল, সাদা পাঞ্জাবি আর গলায় ডোরাকাটা মাফলার জড়ানো। এখনও সেই দৃশ্য চোখে ভাসে।

    বয়সের কারণেই তখন অতোসতো বুঝি না। তাই গানের কথা নয়, সুরের টানেই গান শুনছিলাম। কী এক বিরহী উচ্চারণ-‘আমার বুকে আগুন বন্ধু। তোমার বুকে পানি। দুই দেশে দুইজনার বাস। কে নিবায় আগুনি রে’। সেদিনের সেই সুর আর কথা এখনও কানে বাজে। আজ ১ পৌষ, ১৪১৮। রাতের গাঢ় কুয়াশা দেখে সেই স্মৃতি মনে ভর করল। এ যেন সেই ক্ষণ। চোখ বন্ধ করে বেসুরোভাবেই আস্ত গানটি আওড়ালাম :

    বন্ধু দরদিয়া রে
    আমি তোমায় চাই রে বন্ধু
    আর আমার দরদি নাই রে।

    না জেনে করেছি কর্ম
    দোষ দিব আর কারে
    সর্পের গায়ে হাত দিয়াছি
    বিষে তনু ঝরে রে
    আর আমার দরদি নাই রে।

    আমার বুকে আগুন বন্ধু
    তোমার বুকে পানি
    দুই দেশে দুইজনার বাস
    কে নিবায় আগুনি রে
    আর আমার দরদি নাই রে।

    জন্মাবধি কর্মপোড়া
    ভাগ্যে না লয় জোড়া
    এ করিমরে করবায় নাকি
    দেশের বাতাস ছাড়া রে
    আর আমার দরদি নাই রে।

    এক এক করে আমার চোখে ভাসতে লাগল শাহ আবদুল করিমের শিষ্য প্রয়াত রোহী ঠাকুর ও আবদুর রহমানের গায়ন-ভঙ্গি। অস্পষ্ট স্মৃতিতে ভাসছে বিশ বছর আগেরকার সেই দৃশ্য। সেদিন ওরা দুইজনও করিমের সঙ্গে মঞ্চে ছিলেন। আরও একজনের কথা খুব মনে পড়ে। তিনি ছিলেন সেই রাতের গানের আসরের মূল ঢোলবাদক। কী লম্বা চুল, সেই চুল দোলানোর ভঙ্গিটুকুও বেশ চমৎকার! একবার ডানে, অন্যবার বামে দুলিয়ে দুলিয়ে ঢোল বাজাচ্ছিলেন তিনি।

    অনেক পরে যখন রোহী ঠাকুর আর আবদুর রহমানের সঙ্গে আমার ব্যক্তিগত পরিচয় হয়, তখন জানতে পারি সুনামগঞ্জের শাল্লা উপজেলার সুখলাইন গ্রামের ওই আসরে তাঁরা দুজন সারা রাত গান গেয়েছিলেন। বয়সে ছোটো থাকায় তাঁদের চেহারা স্পষ্ট মনে না-পড়লেও আবছা আবছা সেই রাতের দৃশ্য মনে উঁকি দেয় ঠিকই। কিছু গানের ছড়ানো-ছিটানো পঙ্ক্তি মনে পড়ে। সে সময়ের বালক মনে প্রভাব ফেলেছিল যে ঢোলবাদক, প্রথম দেখাতেই তাঁর কথাও তাঁদের জিজ্ঞেস করি। কিন্তু কেউ-ই আমাকে সেই ঢোলবাদকের সন্ধান দিতে পারেননি।

    সেই রাতের বাউলগানের আসরের স্মৃতির দীর্ঘদিন পর শাহ আবদুল করিমের গান নিয়ে কাজ করার সুবাদে এই বাউল-গীতিকারের রচিত প্রায় পাঁচ শ গানের সবকটিই কমবেশি পড়া হয়েছে। তাঁর গানের পঠন-পাঠন শেষে আমার ব্যক্তিগত যা অনুভূতি সেটা ভারতের বিশিষ্ট বাউল-গবেষক অধ্যাপক সুধীর চক্রবর্তীর উদ্ধৃতি-ই যথার্থ :

    মরমি গীতিকার তিনি-বৈরাগ্যপন্থি বাউল নন-জীবনসন্ধ্যায় পারগামী মুমুক্ষু মানুষ নন। তিনি জড়িয়ে রয়েছেন এই পরিবর্তমান দেশকালের ভাগ্য ভবিতব্য নিয়ে, বর্তমানের শংকা মেখে, আরও বড় চিন্তনের বোঝা নিয়ে। তাই তাঁকে দেখতে হয়, এমন ভরা দেশ কেমন করে রিক্ত হয়ে গেল মূল্যবোধের বিচারে।

    শুভেন্দু ইমাম সম্পাদিত শাহ আবদুল করিম : পাঠ ও পাঠকৃতি বইয়ে অধ্যাপক সুধীর চক্রবর্তী ‘ভাটিঅঞ্চলের গণগীতিকার : শাহ আবদুল করিম’ শিরোনামে মুদ্রিত প্রবন্ধের এক জায়গায় লিখেছিলেন, ‘[…] যাঁর সান্নিধ্য কামনায় এত আয়োজন আর আততি, তাঁকে বলা হচ্ছে বাউলসম্রাট শাহ আবদুল করিম। আশি-ঊর্ধ্ব এই ভঙ্গুর শরীর নিয়েও এখনো আপোশহীন এক বাউল, এখনো গান লিখে যান সমান তালে, এমনকী এখনো সুর করে গানের কলি আওড়ালে সংলগ্ন পরিবেশ ঝিম ধরে যায় যেন।’

    সেটা ছিল বেশ আগে লিখিত সুধীর চক্রবর্তীর অভিমত, তখন করিম ছিলেন আশি বছরের বয়স্ক। এরপর শাহ আবদুল করিম আরও ১৩ বছর বেঁচেছিলেন। সন-তারিখ উল্লেখ করে তাঁর মৃত্যুর তথ্য জানাতে হলে বলতে হবে ২০০৯ সালের ১২ সেপটেম্বর সকাল সাতটা ৫৮ মিনিট। তবে জীবনের শেষ কয়েকটি বছর ছাড়া শাহ আবদুল করিম সমানতালে গান লিখেছেন-গেয়েছেন, এমনকী তাঁর গান শুনে মুগ্ধতায় ‘ঝিম ধরেছে’ পুরো গানের আসরে।

    আজ যে শাহ আবদুল করিমের দেশজোড়া পরিচিতি কিংবা তাঁর গান নিয়ে মাতামাতি হচ্ছে দেশের সীমানা ছাড়িয়ে পার্শ্ববর্তী রাষ্ট্র ভারতের কলকাতা পর্যন্ত। আরেকটু যোগ করলে বলা যেতে পারে বিভিন্ন দেশের বাংলাভাষী মানুষজনদের কাছে তাঁর গানের ব্যাপক গ্রহণযোগ্যতার কথা। অথচ ব্যক্তি শাহ আবদুল করিম কখনওই প্রচার-প্রচারণা চাননি। আর দশ-পাঁচজন বাউল-গীতিকারের মতোই নীরবে-নিভৃতে কাটিয়ে দিতে চেয়েছিলেন পুরো জীবন।

    কিন্তু সেটা হলো কই? বরং দিনে দিনে শাহ আবদুল করিমের গানের সপ্রতিভ উপস্থিতি বাঙালি জাতিকে করেছে উজ্জীবিত ও প্রাণিত। জীবিতাবস্থায় পেয়েছিলেন কিংবদন্তিতুল্য সম্মান। প্রাসঙ্গিক বিবেচনায় বরং চলতি প্রবন্ধে শাহ আবদুল করিমের জীবনের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত বেড়ে ওঠার দিনগুলোর পাশাপাশি উত্থান-পর্বের খুঁটিনাটি বিষয়গুলোর একটু খোলামেলা আলোচনা সেরে নিতে পারি।

    শাহ আবদুল করিম ১৯১৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার ধলআশ্রম গ্রামে জন্মগ্রহণ করেছিলেন। ভাটি এলাকার অসংখ্য দারিদ্র্য-পীড়িত জনগোষ্ঠীর সঙ্গে শোষণ-পীড়ন প্রত্যক্ষ করে তাঁদেরই একজন প্রতিনিধি হিসেবে বেড়ে উঠেছেন। আর কীভাবে গানের জগতে এলেন, সেটা বরং আহমদ মিনহাজের কথা ধার করেই বলে নিই :

    সেই কবে, তাঁর নিজেরও স্মরণ আছে কি না কে জানে, গানে গানে তাঁর নিজেকে বেঁধেছিলেন করিম, ভাটির চারণকবি করিম। ভাটি, আক্ষরিক অর্থেই গানের দেশ, গান এখানে আপনিই খেলে-নদীর সর্পিল পরিবেষ্টনে, শস্যের সমাহারে হাওরের রাশি রাশি জলের ফেনায় অভিনব এই দেশটিতে প্রকৃতি তার আপন প্রয়োজনেই গান ফলায়, হাওরের ঢেউয়ের সঙ্গে ওঠে গানের ঢেউ-এই ঢেউয়ে নাও ভাসানো মানুষ হলেন করিম। ভাটির মানুষ গান ভালোবাসে, ভালোবাসে গানের ভাও রপ্ত করে নিতে এবং এভাবেই তারা রপ্ত করে নিয়েছে করিমকে, আর করিমও রপ্ত করে নিয়েছেন ভাটিকে।

    লোকে বলে করিমের গান বাউল গান। করিম নিজেও তা বলেন। ভাটির বাইরে যারা তাঁর গানের সঙ্গে পরিচিত, তাঁর জীবন-ভাবনার অনুরাগী, তারাও বলেন। বলাটা মিথ্যে, তা নয়। কিন্তু এর মধ্যে একটা ছোট অসম্পূর্ণতা আছে। সন্দেহ নেই করিম শাহনুর-শিতালং-আরকুম-হাসন-লালনের উত্তরসূরি, তাঁদের ভাব-বৃত্তের অনুগামী-তারপরেও কেবল বাউল বললে করিমের পরিচয় যেন ঠিক ফুটে ওঠে না। এই পরিচয়ের ভেতর দিয়ে ভাটির সঙ্গে, ভাটির মানুষ ও প্রকৃতির সঙ্গে তার নাড়ির যোগ ও বন্ধুতাকে ঠিক চেনা যায় না। অথচ যারা করিমের গানের সঙ্গে পরিচিত, বিশেষ করে গানের আসরে গান গাইবার আগে নাতিদীর্ঘ বক্তব্যে করিম যে পটভূমি সৃষ্টি করেন প্রায়শই, এর সঙ্গে যারা পরিচিত তারা নিশ্চয় স্বীকার করবেন : করিম প্রথমত ভাটির মানুষ, অতঃপর বাউল। তাঁর শরীরে তাঁর কণ্ঠে তাঁর বচনে ভাটির জল-হাওয়া-মাটির গন্ধ, এই গন্ধকে বাদ দিলে করিমের বাউলত্ব থাকে না। ভাটির জল-হাওয়া গায়ে মেখেই করিম বাউল।

    এ তো গেলো করিমের গানের জগতে প্রবেশ ও বেড়ে ওঠার সময়কার কথা। কিন্তু যে পরিবারে তিনি বেড়ে উঠেছেন, সেটার চিত্র তো খুবই করুণ। তাঁর বাবা ইব্রাহিম আলী দরিদ্র কৃষক। নিজেদের কোনও জমি না থাকায় পরের জমি বর্গাচাষ করে সংসার চলে। যে বছর বন্যা-খরা-শিলায় ফসলহানি হয়, সে বছর দিনের পর দিন অভুক্ত অবস্থায় থাকতে হয়। ঘরে একবেলা খাবার থাকলে, অন্যবেলা নাই। পাঁচ ভাই-বোনের মধ্যে শাহ আবদুল করিম ছিলেন সবার বড়ো। তাই অনেকটা বাধ্য হয়ে শৈশবেই তাঁকে অভাব-অনটনে জর্জরিত সংসারের হাল ধরতে হয়। গ্রামের এক মহাজনের বাড়িতে গরু-মহিষ রাখালের চাকুরি নেন। শুরু হয় নতুন জীবন। মাঠে মাঠে মনের সুখে বাঁশি বাজিয়ে সুর তোলেন, রাতে আশপাশের গ্রামগুলো যাত্রাপালা, কীর্তন আর বাউলগান শোনেন মগ্ন হয়ে। সেই থেকে গানের নেশা পেয়ে যায়।

    শাহ আবদুল করিমের দিন এভাবেই চলতে থাকে। গরু রাখালের চাকরি ছেড়ে দিয়ে গ্রামের পাশে সদ্য প্রতিষ্ঠিত ধলবাজারের একটি ভুশিমালের দোকানে কর্মচারীর চাকরি নেন। এরই ফাঁকে গ্রামে স্থাপিত নৈশ বিদ্যালয়ে ভর্তি হন। কিন্তু মাত্র আট দিন পর সেই বিদ্যালয় বন্ধ হয়ে পড়লে আর পড়াশোনা এগোয়নি।

    করিম তখন কৈশোর পেরিয়ে যৌবনে। যাত্রাগানের দলে যোগ দিয়ে গ্রামে গ্রামে গান গাওয়া শুরু করেন। এই সময় একটা-দুটা করে গানের পদও রচনা শুরু করে আসরে গাইতেন। তাঁর চমৎকার কণ্ঠ শুনে বিমোহিত হতেন দর্শকেরা। দর্শকদের সেই মুগ্ধতা ছড়িয়ে পড়ে আশপাশের গ্রাম থেকে শুরু করে দূর-দূরান্তে। যুবক বয়সেই তিনি হয়ে ওঠেন সকলের প্রিয় ‘করিমভাই’। কিন্তু তাতে কী, নিজগ্রামেই একদিন ইদের নামাজের দিন ঘটে বিপত্তি। সেটা বরং করিমের ‘আত্মস্মৃতি’ অংশ থেকেই তুলে দিচ্ছি :

    ইদ এসেছে ইদের দিন বাড়িতে ছিলাম।
    জামাতে যাইতে সবার সঙ্গ নিলাম।
    গ্রামের দুই-এক মুরব্বি মোল্লাগণ হতে।
    ধর্মীয় আক্রমণ এল ইদের জামাতে।
    জামাত আরম্ভের পূর্বে মুরব্বি একজন।
    ইমাম সাহেবকে জিজ্ঞাস করলেন তখন।
    জানতে চাইলেন, গান গাওয়া পারে কি পারে না।
    ইমাম বললেন, ‘গান গাওয়া আল্লা-নবির মানা।’
    মুরব্বি বললেন, ‘তবে জিজ্ঞাস করো তারে।
    গান সে ছাড়বে কিনা বলুক সত্য করে।’
    ইমাম বললেন, ‘কিতা জি বাঁচতে এখনো পারো।
    তওবা করে বেশরা বেদাতি কাম ছাড়ো।
    সবার কাছে প্রথম বলো আমি এসব করব না।’
    আমি বললাম, ‘সত্য বলি, গান আমি ছাড়ব না’।
    মুরব্বি বললেন, ‘দেখো কী করা যায় তারে।
    সবার সামনে এই কথা বলতে কি সে পারে?
    যাই করুক এখন বলা উচিত ছিল তার।
    এই সমস্ত কর্ম আমি করব না আর।’
    আমি বললাম, ‘এসেছি আজ জামাত পড়িতে।
    ইচ্ছা নয় মিথ্যা কোনো কথা বলিতে।
    ছাড়তে পারব না আমি নিজে যখন জানি।
    উপদেশ দিলে বলেন কী করে তা মানি।
    পরে করিব যাহা এখন বলি করব না।
    সভাতে এই মিথ্যা কথা বলতে পারব না।’
    এই সময় অন্য এক মুরব্বি বললেন :
    ‘আপনারা এখন কোন পথে চললেন।
    এই আলাপ ঘরে বসে পারি করিতে।
    এখন এসেছি ইদের নামাজ পড়িতে।
    এক গ্রামে বাস করি হিন্দু-মুসলমান।
    কে না গেয়েছি বলেন জারি সারি গান।
    একতারা দিয়ে গায় একা গান তার।
    ইদের জামাতে কেন এই গানের বিচার?
    এই আলোচনা এখন বন্ধ করেন।
    নামাজ পড়তে এসেছি নামাজ পড়েন।’
    মুরব্বি হতে এই কথা যখন এল।
    এই বিষয় এখানেই শেষ হয়ে গেল।
    জামাত শেষ হলে পরে আসিলাম বাড়িতে।
    কী করিব গান যে আমি পারি না ছাড়িতে।
    মনে ভাবি দয়াল যাহা করেন আমারে।
    আমার নৌকা ছেড়ে দিলাম অকূল পাথারে।

    এরপর শাহ আবদুল করিম ‘নৌকা ছেড়ে’ দিলেন ‘অকূল পাথারে’। গ্রাম ছেড়ে পাড়ি জমান অজানার উদ্দেশে। একমাত্র সঙ্গী হাতের একতারা। সাধু-সন্ন্যাসীদের মতো এ গ্রাম থেকে সে গ্রামে যান আর গান গেয়ে মুগ্ধ করেন অগণিত শ্রোতাকে। এভাবে দীর্ঘসময় হাওরাঞ্চলের বিভিন্ন গ্রামে চষে বেড়িয়েছেন। একসময় নেত্রকোনার বাইশচাপরা গ্রামের সাধক রশিদ উদ্দিনের সঙ্গে পরিচয় হয়। তাঁকে উস্তাদ মান্য করে গানের তালিমও নেন। এ সময়টাতেই ময়মনসিংহ অঞ্চলের উকিল মুনশি, আবদুস সাত্তার, মিরাজ আলী, তৈয়ব আলী, মজিদ তালুকদারসহ অনেকের সঙ্গে বাউলগান পরিবেশন করেন।

    শাহ আবদুল করিমের নাম-যশ ক্রমশই দ্রুত থেকে দ্রুততর ছড়িয়ে পড়ছিল পুরো দেশময়। সর্বত্র গান গাওয়ার জন্য ডাক পড়ে তাঁর। মানুষের ভালোবাসাও উপেক্ষা করতে পারেন না। কিন্তু করিম যেন কিছুতেই শান্তি খুঁজে পাচ্ছিলেন না। নিজেকে চেনার অনুসন্ধানে ব্যস্ত হয়ে পড়লেন। এ পরিপ্রেক্ষিতে মুর্শিদ মানেন নিজ জেলা সুনামগঞ্জের উকারগাঁও গ্রামের মৌলা বক্স মুনশিকে। আর তখনই তিনি দেহ সাধনায় সিদ্ধি অর্জনের পাশাপাশি অবিরাম লিখে গিয়েছিলেন একের পর এক বাউল অঙ্গের পদাবলি। এ বিষয়টি ভীষ্মদেব চৌধুরীর বয়ানে উল্লেখ করা যেতে পারে :

    দেহতত্ত্বের বিচিত্র অনুশাসন মান্য করেই সাধনায় সিদ্ধি অর্জন করতে হয় একজন বাউলকে। দেহসাধনার নিগূঢ় করণ-কারণ, অন্ধি-সন্ধি আর তত্ত্ব-তালাশের আগুনে দগ্ধ হয়ে হয়ে নিকষিত হয়ে ওঠে এক-একটি বাউল হৃদয়। মরমি বাউলসাধকদের মতোই করিম বাউলও জীবাত্মা-পরমাত্মার অনন্ত লীলাখেলায় জড়িয়েছেন নিজেকে, সুফি এবং বৈষ্ণব সাধকদের মতোই জীবাত্মা হয়ে পরমাত্মারূপী ‘প্রাণবন্ধের’ সঙ্গে মিলন-পিপাসায় ব্যাকুল হয়েছেন। সুফিরা যেমন মনুষ্যহৃদয়কেই ঈশ্বরের প্রকৃত আবাসস্থল হিসেবে বিবেচনা করেছেন এবং মানুষের সাধনাকেই পরমাত্মার সান্নিধ্য প্রাপ্তির শ্রেষ্ঠ উপায় হিসেবে গণ্য করেছেন, শাহ আবদুল করিমও তেমনই নিগূঢ় সন্ধ্যাভাষায় বলে ওঠেন বাউল-সাধনার সেই অমোঘ সত্য : ‘মক্কাতে কাবার ঘর আদি কাবা আদম শহর’। এই ‘আদম শহর’-ই বাউল করিমের দীর্ঘ সাধন-জীবনের উপাস্য। পির-মুর্শিদ এবং সংগীত-ঘরণী সরলার মধ্যেও ওই অপার রহস্যময় ‘শহর’-এর সন্ধান করেছেন করিম। একেই তিনি কখনও অভিহিত করেছেন ‘মানবগাড়ি’ নামে, কখনও সম্বোধন করেছেন ‘মানবগাছ’ বা ‘মানবতরি’ অভিধায়। মানুষকে জমিনের রূপকে প্রতিভাসিত করেছিলেন উপান্তু মধ্যযুগের শাক্তকবি রামপ্রসাদ সেন এই অবিস্মরণীয় আক্ষেপোক্তি করে, ‘মানবজমিন রইল পতিত, আবাদ করলে ফলত সোনা।’ কিন্তু মানুষকে ‘শহর’, ‘গাড়ি’, ‘তরি’ আর ‘গাছ’-এর সঙ্গে অভেদ কল্পনার অপূর্বত্ব বাউলগানে পাগলা করিমের প্রাতিস্বিক অবদান। মানুষের প্রতিরূপক হিসেবে গাছ-এর ব্যবহারের দৃষ্টান্ত ভারতীয় দর্শনের ব্যাখ্যায়, এমনকী আধুনিক কথাসাহিত্য ও কবিতায় মধুসূদনে এবং বিভুতিভূষণে পাওয়া যাবে। কিন্তু শহর আর গাড়ির প্রতিসাম্যে মানুষকে দাঁড় করিয়ে তাতে অভেদ তাৎপর্যে প্রতিষ্ঠার দৃষ্টান্ত দুর্লভ। করিমের সংগীতকৃতির এরকম অসামান্য দৃষ্টান্ত রয়েছে অনেক।

    ভীষ্মদেব চৌধুরীর লেখা যেখানে শেষ, তারপর থেকেই আমি শুরু করতে চাইছি। তিনি করিমের সংগীতকৃতির অসংখ্য দৃষ্টান্তের দু-একটির কথা আলোকপাত করেছেন। বাউল আঙ্গিকের সে রকম অসংখ্য পদাবলিও করিমের রয়েছে। সেসব গানের কয়েকটির প্রথম কলি তুলে দেওয়ার লোভটুকু সংবরণ করতে পারছি না। যেমন :

    ১. মুর্শিদের কাছে আমি কেন যাই

    ২. নাম সম্বলে ছাড়লাম তরি

    ৩. কও গো দয়াল

    ৪. আসল কাজে ফাঁকি দিয়া রে

    ৫. মনমাঝি তোর মানবতরি

    ৬. এলিম শিখলে আলেম হয় না

    ৭. মানবতত্ত্বের কী মাহাত্ম্য

    ৮. আমি আছি আমার মাঝে

    ৯. মাটির পিঞ্জিরায় সোনার ময়না রে

    ১০. রাখো কি মারো এই দয়া করো

    ১১. মুর্শিদ ধন হে

    ১২. আজব রঙের ফুল ফুটেছে

    ১৩. ও মন খুঁজলে না রে

    ১৪. আমি তোমার কলের গাড়ি

    ১৫. হাওয়ার পাখি ভরা আমার

    ১৬. মানুষে মানুষ বিরাজ করে

    ১৭. মানুষ হয়ে তালাশ করলে

    ১৮. এমন এক রঙের দেশ আছে

    উপরের প্রায় প্রত্যেকটি গান-ই শাহ আবদুল করিমের স্বকণ্ঠে শোনার সৌভাগ্য আমার হয়েছে। তিনি যখন এসব গান গাইতেন তখন তাঁর চোখে-মুখে আর্শ্চযজনক এক জ্যোতি লক্ষ করা যেত। একটু তী²ভাবে তাকালে সেটি যে কারও নজরে পড়ার কথা। তবে সেই জ্যোতি কোনও অলৌকিক বা ঈশ্বরিক নয়। সেটা নিতান্তই অনুভবের বিষয়।

    শাহ আবদুল করিম পলে পলে নিজের রচিত গানের সারমর্ম ও চেতনা বিশ্বাস করতেন বলেই তাঁর মধ্যে এমনটি হতো। এ পরিপ্রেক্ষিতে তাত্ত্বিক তপোধীর ভট্টাচার্যের বক্তব্য উদ্ধৃত করা যেতে পারে : ‘শাহ আবদুল করিম শব্দের সিঁড়ি দিয়ে চেতনার শীর্ষবিন্দুতে পৌঁছতে চাইছেন এবং প্রতিপলে অনুপলে অনুভব করছেন, শব্দাতীতকে শব্দ দিয়ে বাঁধা যাচ্ছে না। কিন্তু ভাবুক বাউলের কাছে উপকরণ তো বড় নয়; অভ্যন্ত শব্দসজ্জাকে বারবার ব্যবহার করেছেন এই বিশ্বাসে যে এর মধ্যে আশিকের ধন পরশরতন এর সাক্ষাৎ মিলবে। সন্ত-কবিতার কিছু কিছু পরিচিত শব্দবন্ধ বাউল করিমের প্রগাঢ় অনুভবের দ্যুতিতে নতুন সুরে-তালে-লয়ে বেজে উঠেছে।’

    তপোধীর ভট্টাচার্য এও বলেছিলেন, ‘নানা উৎস থেকে উৎসারিত অজস্র নদী যেমন আপন বেগে পাগলপারা হয়ে স্বতন্ত্র উপস্থিতি ঘোষণা করে তবু সাগর-মোহনায় পৌঁছে অসামান্য ঐক্যবোধে সম্পৃক্ত হয়ে যায়, শাহ আবদুল করিমের রচনাসম্ভারও তেমনই বহুমাত্রিক লোকায়ত চেতনার সংশ্লেষণে সমৃদ্ধ হয়েই অদ্বিতীয় অনুভবের আলো বিচ্ছুরণ করে।’ কথাপ্রসঙ্গে করিমের বহুল প্রচলিত ‘গাড়ি চলে না’ গানটির কথা বলা যেতে পারে। সেই গানে তিনি আধুনিক জীবনের সঙ্গে নিজের দেহকে অসামান্য দক্ষতায় উপস্থাপন করেছেন। বিস্তৃত আলোচনার পূর্বে নিচে সম্পূর্ণ গানটি চয়ন করা যেতে পারে :

    গাড়ি চলে না, চলে না
    চলে না রে
    গাড়ি চলে না।

    চড়িয়া মানবগাড়ি
    যাইতেছিলাম বন্ধু বাড়ি
    মধ্য পথে ঠেকল গাড়ি
    উপায়-বুদ্ধি মিলে না।
    মহাজনে যত্ন করে
    পেট্টোল দিল টেংকি ভরে
    গাড়ি চালায় মন-ড্রাইভারে
    ভালো-মন্দ বোঝে না।

    গাড়িতে পেসিঞ্জারে
    অযথা গন্ডগোল করে
    হেন্ডিম্যান কন্ডাকটারে
    কেউর কথা কেউ শোনে না।

    পার্সগুলো সব ক্ষয় হয়েছে
    ইঞ্জিনে ময়লা জমেছে
    ডায়নমা বিকল হয়েছে
    লাইটগুলো ঠিক জ্বলে না।

    ইঞ্জিনে ব্যতিক্রম করে
    কন্ডিশন ভালো নয় রে
    কখন জানি ব্রেকফেইল করে
    ঘটায় কোন দুর্ঘটনা।

    আবদুল করিম ভাবছে এবার
    কন্ডেম গাড়ি কী করব আর
    সামনে বিষম অন্ধকার
    করতেছি তাই ভাবনা।

    এ গানটি সম্পর্কে গীতিকার নিজে কী বলেছেন শুরুতেই আমরা সেটি জেনে নিতে পারি। সাংবাদিক মাসুম অপুর নেওয়া এক সাক্ষাৎকারে শাহ আবদুল করিম ‘গাড়ি চলে না’ গানটি প্রসঙ্গে বলেছিলেন, ‘বন্ধুর বাড়ি এ আত্মায়। গাড়িতে চড়ে আত্মশুদ্ধির সন্ধানে ছুটি। কিন্তু পাই না। রিপু থামিয়ে দেয়। একদিন হয়তো এ গাড়ি পুরোদমে থেমে যাবে। প্রকৃত মালিকের কাছে ধরা দেবে। এ করিমকে তখন মানুষ খুঁজে পাবে শুধুই গানে আর সুরে।’ এতো গেল গীতিকারের নিজস্ব বয়ান। এই গান সম্পর্কে অধ্যাপক সৈয়দ মনজুরুল ইসলামের ব্যক্তিগত অভিমত হলো :

    ‘গাড়ি চলে না’ গানটিতে একজন মানুষের শারীরিক সক্ষমতা ও দক্ষতার অভাবের সঙ্গে একটি বিকল হতে থাকা গাড়ির তুলনা করা হয়েছে। দেহতত্ত্বের সঙ্গে যন্ত্রতত্ত্বের এই সম্মিলন খুবই বিরল ঘটনা, কিন্তু শাহ আবদুল করিম খুব অনায়াসে কাজটি করেন। এছাড়া প্রেম ও বিরহ, মনোকষ্ট ও যন্ত্রণা-এসব চিরন্তন বিষয়-তো রয়েছেই। আমার মনে হয়েছে, এই গুণী চারণকবি ও শিল্পী সময়ের দাবির প্রতিও সচেতন। সময়ের পরিবর্তন হচ্ছে, মানুষের ভাব ও প্রকাশের জগতে ও পরিবর্তন এসেছে। নতুন নতুন উৎপ্রেক্ষা, রূপক ও তুলনার ক্ষেত্র প্রস্তুত হচ্ছে। তিনি এসব বিষয়কে মনে রেখেই গান লেখেন। এজন্য এগুলো জনপ্রিয়তা পায়।

    এর মানে শাহ আবদুল করিমের লেখা দেহতত্ত্বের গানগুলো জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে গীতিকারের সমকালীন চিন্তা-ভাবনার কারণেই-সেটাই কী বলতে চেয়েছেন সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম? অন্তত উপরের উদ্ধৃতিটুকু পাঠ করলে সেটাই ধারণা হয়। সেটা হয়তো অনেকাংশে ঠিক, কিন্তু যে গানগুলো একেবারেই নিরেট দেহতত্ত্বকেন্দ্রিক, সেগুলোর জনপ্রিয়তার মুখ্য কারণটুকু কী?

    এই প্রশ্নের উত্তরও আমরা সৈয়দ মনজুরুল ইসলামের কথাতেই জেনে নিই : ‘তাঁর নানা ধরনের সৃষ্টি সত্ত্বে ও শাহ আবদুল করিম বাউলধারার একজন সাধক, ওই পথের পথিক; তাঁর মানসিকতায়, তাঁর সাধনায় একজন বাউলের উপস্থিতি। এবং এই বাউলটি শুধুই নিভৃতে বিচরণকারী একজন আধ্যাত্মিক মানুষ নন, তিনি গণমানুষের সেবায় নিয়োজিত। এজন্য তিনি সহজ, কিন্তু প্রবলও। তাঁর সুর নমিত হলেও যা বলতে চান, তাতে অস্পষ্টতা থাকে না। তাঁর চাওয়া প্রবল, চাওয়ার প্রকাশ উচ্চকিত নয়; ভাবনা প্রবল, ভাবনার প্রকাশ নমিত। সুরেলা।’

    আমাদেরও ধারণা, শাহ আবদুল করিমের সহজসরল স্পষ্ট বয়ান-ই তাঁর গানের ব্যাপক জনপ্রিয়তার মুখ্য কারণ। শিল্পী শুভপ্রসাদ নন্দীমজুমদার ‘শাহ আবদুল করিম ও তাঁর গান’ শিরোনামে এক লেখায় এমনটিই ইঙ্গিত দিয়েছেন। তিনি লিখেছিলেন, ‘তিনি এ অঞ্চলের মরমিগানকে তত্ত্বের ঘেরাটোপে বন্দি করে রাখেননি। তাঁর গানে সময়ের ছাপ অত্যন্ত স্পষ্ট। সময়ের ছাপ বলতে এখানে চিত্রকল্পে আধুনিক জীবনের নানা ছবি উঠে আসার কথা বলা হচ্ছে না। এটা অনেকেই করেছেন। করিমের গানেও এ ধরনের আধুনিক চিত্রকল্পের দৃষ্টান্ত একাধিক।’

    শাহ আবদুল করিমের বয়স যতই বাড়ছিল, তিনি ততই গণমানুষের দিকেই ক্রমশ ঝুঁকে পড়ছিলেন। দেহতত্ত্ব, নিগূঢ়তত্ত্ব নিয়ে যে শাহ আবদুল করিমের ছিল সাধনা, তিনি হঠাৎ করেই বদলে যেতে শুরু করলেন। সেই বদলে যাওয়াটা কেমন ছিল সেটাও আমরা করিমের নিজের কথাতেই জেনে নিতে পারি। তিনি ১৯৯৭ সালে টি এম আহমেদ কায়সারকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, ‘একদা তত্ত্বের সাধনা করতাম, এখন দেখি তত্ত্ব নয়, নিঃস্ব বঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়াতে হবে। দেহতত্ত্ব, নিগূঢ়তত্ত্ব আর সোনার বাংলা, সোনার মানুষ বললে হবে না। লোভী, শোষক, পাপাত্মাদের আঘাত করতে হবে।’ এ জন্যই হয়তো তিনি এক গানে লিখেছেন : ‘তত্ত্ব গান গেয়ে গেলেন যারা মরমি কবি। আমি তুলে ধরি দেশের দুঃখ-দুর্দশার ছবি। বিপন্ন মানুষের দাবি করিম চায় শান্তিবিধান।’

    প্রসঙ্গক্রমে অধ্যাপক সুধীর চক্রবর্তীর একটি মন্তব্য প্রণিধানযোগ্য। তাঁর মতে, ‘আবদুল করিম অধ্যাত্ম পথের গান দিয়ে শুরু করে, তাতে যশস্বী ও প্রতিষ্ঠা লাভ করেও চলে আসেন দরিদ্র ও জর্জরিত মানুষের পক্ষে।’ এই দরিদ্র মানুষের পক্ষে চলে আসার কারণটাই-বা কী? আশপাশের মানুষের দারিদ্র্য-বঞ্চনা আর শোষকদের অন্যায়-জুলুম দেখে দেখেই কী তিনি তাহলে প্রতিবাদী হয়ে উঠলেন? এ জন্যই কী তিনি লিখলেন : ‘শোষক তুমি হও হুঁশিয়ার চলো এবার সাবধানে। তুমি যে রক্তশোষক বিশ্বাসঘাতক তোমারে অনেকে চেনে।’

    শুধু গান লিখেই থামলেন না। ভাষা আন্দোলন, কাগমারী সম্মেলন, ঊনসত্তরের গণঅভুত্থান, মুক্তিযুদ্ধ, স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনসহ প্রত্যেকটি প্রগতিশীল আন্দোলন-সংগ্রামে গণসংগীত গেয়ে সংগ্রামী মানুষের চেতনায় নতুন জোয়ার বইয়ে দিয়েছেন। কবি শুভেন্দু ইমামের ভাষায়, ‘অসম্ভব জনপ্রিয় ও তত্ত্ববহুল বাউলগানের পাশাপাশি তিনি রচনা করেছেন অসংখ্য গণসংগীত, যা “সর্বহারার দুঃখজয়ের মন্ত্র” বলে সারস্বতসমাজ কর্তৃক প্রশংসিত হয়েছে।’ এ সময়টাতেই তিনি পেয়েছেন মওলানা ভাসানী, হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও রমেশ শীলের একান্ত সান্নিধ্য। এভাবেই করিম পরিণত হন ‘গণমানুষের গীতিকার’ হিসেবে।

    শাহ আবদুল করিম সাধারণ মানুষের দুঃখ-দুর্দশা ভালোভাবেই উপলব্ধি করতে পেরেছেন বলেই অত্যন্ত হৃদয়ছোঁয়া ভাষায় সেসব কথা তাঁর গানে তুলে ধরতে পেরেছেন। অন্তত সেটা তাঁর বেলায় নির্দ্ধিধায় বলা যায়। টি এম আহমেদ কায়সার ঠিকই বলেছেন : ‘[…] নৌকা, জল, নদী, হাওর, ভাটির জীবনের সঙ্গে সম্পৃক্ত ইত্যাকার প্রতিটি উপাদান করিম প্রয়োগ করেন স্রেফ মোড়ক বা মুখোশ হিসেবে। অন্তরালে ঢুকিয়ে দেন মানুষের অন্তর্নিহিত অন্তহীন দুঃখ, বেদনা আর পাঁজরভাঙা হাহাকার। তত্ত্বের রহস্যময়তা ছাপিয়ে মানব বন্দনাই তাঁর গানের মূল সুর হয়ে ওঠে’। ‘সবার উপরে মানুষ সত্য, তাহার উপরে নাই’ এই মন্ত্রে দীক্ষিত হয়েই তিনি লিখেছিলেন :

    মানুষ যদি হইতে চাও করো মানুষের ভজনা
    সবার উপরে মানুষ সৃষ্টিতে নাই যার তুলনা।

    নিজলীলা প্রকাশিতে আপে আল্লা পাকজাতে
    প্রেম করল মানুষের সাথে তার আগে আর কেউ ছিল না।

    প্রেম ছিল আরশ মহলে স্থান পাইল মানুষের দিলে
    আসল মানুষ কারে বলে কী নাম তার কই ঠিকানা।
    সব দেশে সব জায়গায় মানুষ প্রেমখেলাতে নারীপুরুষ
    মানুষেতে আছে মানুষ রয় না মানুষ মানুষ বিনা।

    আবদুল করিম হুঁশে থাকো মানুষ ভালোবাসতে শিখো
    অন্তরে অন্তরে মাখো রবে না ভবযন্ত্রণা।

    মানুষকে ভালোবেসে এবং মানুষের ভালোবাসা নিয়েই শাহ আবদুল করিম দেহত্যাগ করেছেন। তবে রয়ে গেছে তাঁর অগণিত সৃষ্টিসম্ভার। তিনি নেই, দেহও রেখেছেন সেই কবে। তবু প্রতি বছর চৈত্র মাসে তাঁকে ঘিরে ‘শাহ আবদুল করিম লোকউৎসব’ হয়। সেই উৎসবে করিম-বন্দনায় মেতে ওঠেন তাঁর শিষ্য-প্রশিষ্য-অনুরাগীরা। ২০০৬ সালে প্রথমবারের মতো শুরু হওয়া লোকউৎসবে তাঁর শিষ্য ষাটোর্ধ্ব কাইয়ূম শাহের গাওয়া করিমের সেই গানটি এখনও অবিরত কানে বাজে। সেই গানটি দিয়েই লেখার ইতি টানছি। ওইদিন কপালে ডান হাত ছুঁয়ে কাইয়ূম শাহ গেয়েছিলেন :

    রাখো কি মারো এই দয়া করো
    থাকি না যেন তোমারে ভুলিয়া।

    নিশি-দিনে শয়নে স্বপনে
    পরানে পরানে মিশিয়া
    এই আঁধার রাতে নেও যদি সাথে
    তুমি নিজে পথ দেখাইয়া।

    আমি তোমার পাগল, ভরসা কেবল
    দীনবন্ধু তোমার নাম শুনিয়া
    নেও যদি খবর হইব অমর
    নামের সুধা পান করিয়া।

    দয়াল নাম তোমার জগতে প্রচার
    জীবেরে দয়া করো বলিয়া
    আবদুল করিম বলে রেখো চরণতলে
    দিও না পায়ে ঠেলিয়া।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleদ্য হাউস হোয়ার আই ডাইড ওয়ান্স – কেইগো হিগাশিনো
    Next Article ডক্টর ইউনূসের দারিদ্র্য বাণিজ্য – বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Our Picks

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }