মরিলে কান্দিস না আমার দায় – সুমনকুমার দাশ
মরিলে কান্দিস না আমার দায়
ভারতের কলকাতার টিভি চ্যানেল তারা মিউজিক-এ দেখছিলাম ‘গানভাসি লাইভ’ অনুষ্ঠানটি। ওইদিন ছিল শিল্পী প্রাণেশ সোমের পরিবেশনা। বেশ কয়েকটি গান গাওয়ার পরে একসময় শিল্পী গাইলেন :
বসন্ত আসিল, গাছে ফুল ফুটিল
পরাণের বন্ধু আমার আইল না।
বৈশাখের দুঃখের কথা, রাখিলাম শাক নালিতা
পরাণের বন্ধু আইসা খাইল না।
জৈষ্ঠ্যে পাকিল আম, না আসিল বন্ধুশ্যাম
অভাগীর মনের দুঃখ গেল না।
আষাঢ়ে গাঙে পানি, না আসিল গুণমণি
ভরা নদীতে নাও বাইল না।
শ্রাবণে রাখিলাম শশা, ভাদ্রমাসে তালের রসা
আশ্বিন মাসেও আশা পুরল না।
কার্তিকে জোয়ার ভাটা, আগনে ধান্য কাটা
বিরুনের চিরা খৈ এসে খাইল না।
পৌষ ও মাঘের শীতে, ধরিল কলিজাতে
একেলা শুইলে নিদ্রা আসে না।
আসিল বসন্ত ফাল্গুন, ভ্রমরায় করে গুনগুন
বাগানে ফুটিল ফুল কি নমুনা।
চৈত্রে বসন্তের শেষ, গিয়াসের বন্ধু বিদেশ
ঝরিয়া পড়িল ফুল, গাছে থাকল না।
গানটি শুনে একটু নড়েচড়ে উঠলাম। একটু গর্বই হলো। কারণ এই গানটির গীতিকার আমার নিজ জেলা সুনামগঞ্জের বাসিন্দা ছিলেন। তিনি হচ্ছেন গিয়াসউদ্দিন আহমদ। বাড়ি ছাতক উপজেলার শিবনগর গ্রামে। যদিও আমরা একই জেলার বাসিন্দা, কিন্তু তাঁর সঙ্গে আমার উল্লেখ করার মতো ঘনিষ্ঠতা ছিল না। বিভিন্ন অনুষ্ঠানে তাঁর সঙ্গে দেখা-সাক্ষাৎ হতো, সেই সময়ে টুকিটাকি কিছু আলাপ-আলোচনাও হতো। সেই পর্যন্তই। তবে তাঁর গানের সঙ্গে পরিচয় ছিল দীর্ঘদিন থেকে।
মৃত্যুর আগের দিন গিয়াসউদ্দিনের সঙ্গে শেষ দেখা হয়েছিল। এখনও মনে পড়ে সেদিনের কিছু দৃশ্য। সেদিন ছিল ২০০৫ সালের ১৫ এপ্রিল। প্রয়াত সুরকার-শিল্পী বিদিতলাল দাসের প্রতিষ্ঠিত ‘নীলম সংগীতালয়’ প্রতিষ্ঠানটি গিয়াসউদ্দিন আহমদসহ কয়েকজন গুণী ব্যক্তিকে সম্মাননার আয়োজন করেছিল। স্থান সিলেট নগরের শেখঘাট এলাকা। ওই প্রতিষ্ঠানটির উদ্বোধনী সংগীত লেখার জন্য কবি সঞ্জয় কুমার নাথকেও সম্মাননা জানানো হয়। মূলত তাঁর আমন্ত্রণেই আমি সেই অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়েছিলাম।
গিয়াসউদ্দিন আহমদ, সঞ্জয় কুমার নাথসহ আমি সামনের সারিতে বসেছিলাম। ওইদিন অনুষ্ঠানস্থলে বসে ফিসফিসিয়ে গিয়াসউদ্দিনের সঙ্গে সিলেটের লোকগান নিয়ে বেশ কিছু কথাবার্তা হয়েছিল। সেদিন কে জানত এরপরের দিনই তিনি চলে যাবেন না-ফেরার দেশে। পরদিন যখন তাঁর মৃত্যুসংবাদ পাই তখন বিশ্বাস করতে কষ্টই হচ্ছিল। আগের দিন যাঁকে সুস্থ-সবল-প্রাণবান একজন মানুষ হিসেবে দেখেছিলাম, পরদিন তিনি হঠাৎ করেই দেহ রাখলেন। তাঁর মৃত্যর পরপর আমার কানে বারংবার অনুরণন তোলে তাঁর-ই লেখা গান :
শেষ বিয়ার সানাই বাজিল, ডাকছে কাল শমনে
আমার বাসর হবে গো
সাড়ে তিন হাত মাটির ঘরে প্রাণবন্ধুর সনে।
গরম জলে সাবান গুলে গোসল করাইও
কর্পুর গুলিয়া সারা অঙ্গে মাখাইও
আতর গোলাপ ছিটাইও অঙ্গের বসনে।
সাদা কাপড় দিয়া বিয়ার সাজন সাজাইবা
প্রাণবন্ধুর নামটি আমার বুকেতে লেখিবা
কুহেতুরের সুরমা দিবা আমার দুই নয়নে।
বাঁশের পাল্কি সাজাইয়া কান্ধে উঠাইয়া
শবমিছিল করিও সবে কলিমা পড়িয়া
বাসরঘরে রাইখ নিয়া পরম যতনে।
আন্ধারঘরে গিয়াস পাগল নাই রে ভাবনা তোর
বন্ধুর রূপে হইবে আলো সেই না বাসরঘর
জীবনের সাধ মিটবে রে তোর বন্ধু দরশনে।
মৃত্যুর অনেক আগে গিয়াসউদ্দিন এ গান লিখেছিলেন। মৃত্যুচিন্তাবিষয়ক এ-রকম আরও গান তিনি লিখেছেন। এ ধরনের তাঁর একটি গানে মুগ্ধ হয়ে বাংলাদেশের প্রয়াত জনপ্রিয় কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদ বিভিন্ন লেখায় একাধিকবার সেই গানটি ব্যবহার করেছেন। যতদূর মনে পড়ে, ওই গানের কথাগুলো পাঠে বিমুগ্ধ হুমায়ূন তাঁর স্ত্রী শাওনকে উৎসর্গ করা একটি বইয়ে গানটির প্রথম চরণটি উদ্ধৃত করেন। কী এমন গান, যে গানে রাজধানীবাসী এক খ্যাতিমান লেখক বিমুগ্ধ হয়ে বইয়ের উৎসর্গপত্রে তাঁর নাম উল্লেখ করে ফেলেন! আলোচনার সুবিধার্থে বরং সেই গানটির কথাগুলো আগে পাঠ করে নিই :
মরিলে কান্দিস না আমার দায়
ও জাদুধন, মরিলে কান্দিস না আমার দায়।
সুরে ইয়াসিন পাঠ করিও বসিয়া কাছায়
আমার প্রাণ যাওয়ার বেলায়
বিদায়কালে পড়ি না যেন শয়তানের ধোকায়।
বুক বান্দিয়া কাছে রইয়া গোসল দেওয়াইবায়
আমার কথা রাখিবায়
কান্দনের বদলে মুখে কলমা পড়িবায়।
কাফন পিন্দাইয়া আতর, গোলাপ দিয়া গায়
যখন বিদায় করিবায়
তেলাওতের ধ্বনি যেন ঘরে শোনা যায়।
দাফন করিয়া যদি কান্দ আমার দায়
বুক বান্ধা নাহি যায়
মসজিদে বসিয়া কাইন্দ আল্লারই দরগায়।
কবর জিয়ারত করিয়া দোয়া করিবায়
আর দরবারে কইবায়
মাফ করিয়া দিও আল্লা কয় গিয়াস পাগেলায়।
এই গান সম্পর্কে ২০১১ খ্রিস্টাব্দের ২১ ডিসেম্বর দৈনিক প্রথম আলোয় হুমায়ূন আহমেদ লিখেছিলেন, ‘পাঠকের যেমন মৃত্যু হয়, শ্রোতারও মৃত্যু হয়। অতি প্রিয় গান একসময় আর প্রিয় থাকে না। তবে কিছু গান আছে, কখনও তার আবেদন হারায় না। আমার কাছে মরমি কবি গিয়াসউদ্দিনের একটি গান সে রকম। ওল্ড ফুলস ক্লাবের প্রতিটি আসরে একসময় এই গান গীত হতো। শাওনের প্রবল আপত্তির কারণে এই গান এখন আর গীত হয় না। গানটির শুরুর পঙ্ক্তি-‘মরিলে কান্দিস না আমার দায়। ও জাদুধন! মরিলে কান্দিস না আমার দায়’। এই গানটির মূল্যায়ন করতে গিয়ে কথাসাহিত্যিক শাহেদ আলী ১৯৯৯ সালের ২৪ এপ্রিল এক চিঠিতে গিয়াসউদ্দিনকে লিখেছিলেন :
‘মরিলে কান্দিস না আমার দায়’ কথাটির মধ্যে আঞ্চলিক ভাষার ছন্দে ও মাধুর্যে যে সারল্য ফুটে উঠেছে তার অন্য কোনো প্রকাশ ভাষায় সম্ভবপর ছিল বলে মনে হয় না। ‘জন্যের’ পরিবর্তে ‘দায়’ শব্দটি আমি আমার বহু লেখায় ব্যবহার করেছি। কিন্তু আপনার মতো এমন সার্থক প্রকাশ আমার পক্ষে সম্ভব হয়নি।
‘শুধু মরিলে কান্দিস না আমার দায়’ গানটিই নয়, এ-রকম গানসহ অনেক বাউলাঙ্গিকের গান গিয়াসউদ্দিনের বিখ্যাত সৃষ্টি। সিলেট অঞ্চলের বাউল-গায়কদের কণ্ঠে এসব গান দীর্ঘদিন ধরে গীত হয়ে আসছে। এখন বাউলশিল্পীদের কণ্ঠ ছাড়িয়ে সেসব গান ছড়িয়ে পড়ছে বাংলাদেশের সীমানা ছাড়িয়ে পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতের কলকাতাসহ বাংলাভাষী মানুষজনদের কাছে। শিল্পী প্রাণেশ সোমের তারা মিউজিক-এ গাওয়া সেই গানটি কি এই কথার যথার্থতা প্রমাণ করে না?
তারা মিউজিক-এ প্রাণেশ সোমের পরিবেশনার দীর্ঘদিন পর শিল্পীর সঙ্গে আমার পরিচয় হয়েছিল। ঢাকায় শচীন দেববর্মনের একটি স্মরণানুষ্ঠানে গান গাইতে তিনি বাংলাদেশ এসেছিলেন। সিলেটি আঞ্চলিক ও বাউলগানের প্রতি তাঁর অসম্ভব আগ্রহ। সেই আগ্রহ থেকে গানের খোঁজে তিনি আমার কাছে এসেছিলেন। তাঁর সঙ্গে ছিলেন সিলেটের গণসংগীতশিল্পী গৌতম চক্রবর্তী। ওইদিনের আলোচনায় প্রাণেশ সোম গিয়াসউদ্দিনের গান সম্পর্কে উচ্ছ্বাসিত মন্তব্য করেছিলেন। তাঁর ভাষায়, ‘গিয়াসউদ্দিনের গান যে-কাউকেই ভাবিয়ে তোলে। সহজসরল ভাষার নিপুণ ছোঁয়ায় তিনি একেকটি গানকে অনন্য মাত্রায় নিয়ে গিয়েছেন।’
প্রাণেশ সোমের অনুরোধে সেদিন প্রয়াত শাহ আবদুল করিমের অন্যতম প্রধান শিষ্য আবদুর রহমানকে আমার অফিসে আসার আমন্ত্রণ জানিয়েছিলাম। আবদুর রহমান সেদিন শাহ আবদুল করিমের অসংখ্য গান গেয়েছিলেন এবং শিল্পী প্রাণেশ সোম সেই গানের সুরগুলো সংগ্রহ করে নেন। একসময় তাঁদের দ্বৈত পরিবেশনায় মুখরিত হয়ে উঠে একটি খরতপ্ত দুপুর। গানে গানে বিকেল হয়। একসময় তাঁরা বিদায় নেন। কিন্তু থেকে যায় সেই গানের রেশ। আমি আপনমনে গুনগুন করি :
ও মন ভাবো নিরালায়
কোথা হইতে আইসা মানুষ, কোথায় চইলা যায় রে।
পিতার ঔরসে তুমি, বিন্দু রূপ ছিলায়
ভেবে দেখ মায়ের গর্ভে, কোন পথে গেলায় রে।
অন্ধকার ঘরের মাঝে, কেমনে রইলায়
নাপাক দরিয়ার মাঝে, কি খাইয়া ছিলায় রে।
কে আনিল কোনবা পথে, সাধের দুনিয়ায়
ভুইল না রে ও পাগল মন, আগে কি ছিলায় রে।
জনমের এক বৎসর আগে, কিইবা কই ছিলায়
গিয়াসে কয় মইরা গেলে, কোথায় যাইবায় রে।
গুনগুনিয়ে গান গাইতে গাইতে ভাবছিলাম সেদিনের সম্মাননা অনুষ্ঠানের কথা। ওইদিন সঞ্জয় কুমার নাথ ঠিকই বলেছিলেন, ‘মাটির রসে সিক্ত সাধারণ মানুষের হৃদয়ের গান লিখেছেন গিয়াসউদ্দিন। তিনি দেখতে যেমন লম্বা-চওড়া ও ভাবুক, তেমনই গানেও ছিল তাঁর পরিপূর্ণ ছায়া। কথায়-আলাপে আর তাঁর গানের ভাষা যেন একাকার হয়ে যেত। তিনি সত্যিকার অর্থেই একজন প্রণম্য গীতিকার। গানগুলো মনোযোগ সহকারে পাঠ করলে এ প্রমাণ বহন করে।’
এ তো সমঝদারের মতামত। কিন্তু গীতিকার নিজেকে নিয়ে কিংবা তাঁর গান সম্পর্কে কী ভাবেন? ২০০৫ খ্রিস্টাব্দে গিয়াসউদ্দিন আহমদের শেষ বিয়ার সানাই নামের যে গীতিসংকলটি প্রকাশিত হয়েছিল, সেটিতে ‘আমার আরজ’ শিরোনামে একটি ভূমিকা লিখেছিলেন। তাতে তিনি বলেছিলেন :
দীর্ঘ পথচলায় আমি ছিলাম বরাবরই বৈয়িক চিন্তা চেতনার বাইরে, আমার চারপাশ ঘেরা ছিল ঝলমলে সোনার খনি, আর আমি ছিলাম কাদা মাটিতে লেপ্টে থাকা এক সাধারণ মানুষ। উচ্চাকাক্ষা কখনও আমার মগজ দখল করতে পারেনি, মাটি ও মানুষের সাথে মিশে থাকতেই স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেছি আজীবন। যা ভেবেছি, বিশ্বাস করেছি তাই লিখতে চেষ্টা করেছি।
বয়স বেড়েছে। মনে মননে বোধ থেকে এখন বড় অপরাধী লাগে নিজেকে। মনে হয় একজন প্রকৃত মানুষের একটা জীবনে অনেক কিছুই করবার থাকে। কিছুই করা হলো না, জীবনের সাঁঝবেলা সমাগত, শারীরিক নানান অসুস্থতা ঘিরে আছে। দেশ, সমাজ, মানুষ, সর্বোপরি পরকালের জন্যে কি-ই বা করেছি। নিজের দায়বোধ থেকেই মনে হয় আমার বিচারে আমি দোষী।
গিয়াসউদ্দিনের গানের ভাষার মতোই কথাও ছিল সাবলীল। যা বলতেন স্পষ্ট করেই বলতেন। নিরহংকার অধ্যাত্মমনা এই গীতিকার আজীবন সংগীতসাধনায় সময় কাটিয়েছেন। গ্রামীণ বাউলশিল্পী থেকে শুরু করে নামকরা সব শিল্পীদের কণ্ঠে তাঁর গান গীত হয়ে আসছে। এ সময়ের সিলেট অঞ্চলের প্রখ্যাত গীতিকার হিসেবে ব্যাপক পরিচিতি পেয়েছেন। ২০০৭ সালের ১৬ নভেম্বর প্রকাশিত কর্ণে শুনাইও বন্ধুর নাম পুস্তিকায় গীতিকারের ছেলে মু. আনোয়ার হোসেন রনি পিতার স্মৃতিচারণ করে লিখেছিলেন :
ছোটবেলায় মাঝে মাঝে সকালের ঘুম ভাঙতো আব্বার ব্যঞ্জো নামের একটি যন্ত্রের সুর শুনে, এই যন্ত্রটি নাকি পাকিস্তানী এক ভদ্রলোক আব্বাকে উপহার দিয়েছিলেন। চমৎকার সুর তুলে মাঝে মাঝে গানও গাইতেন। তবে আব্বার গাওয়া বেশির ভাগ গানই নতুন লেখা। অর্থাৎ গান লিখে সেই গানে সুরারোপ করতেন। গোবিন্দগঞ্জ হাইস্কুলে যখন আমি পড়তাম, তখন স্কুলের বার্ষিক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে প্রায়ই আব্বা ব্যঞ্জো বাজাতেন। আমার সহপাঠীসহ স্কুলের ছেলে মেয়েরা মুগ্ধ হয়ে আব্বার পরিবেশনা শুনতো। আমার ভীষণ ভালো লাগতো, কারণ অন্য কোনো ছাত্র-ছাত্রীর বাবা-মা এমন করে সবার পরিচিত ছিলেন না।
মাস পাঁচেক আগে সিলেট অডিটোরিয়ামে (বর্তমানে কবি নজরুল অডিটোরিয়াম) এক অনুষ্ঠানে এক শিল্পী যখন গিয়াসউদ্দিন আহমদের সেই অতি পরিচিত গানটি গাইছিলেন, তখন মিলনায়তনের প্রায় সবাই শিল্পীর সঙ্গে সুর মেলান। এখনও কানে ভাসে গানের সেই পঙ্ক্তিগুলো :
আমার ঘরে আসো বন্ধু রে, ও বন্ধু দয়ারই সাগর
হৃদকমলে বসাইয়া, করিমু আদরও রে।
ফুলশয্যা সাজাইয়া দিমু রে, ও বন্ধু করিবায় শয়ন
নয়ন জলে ধুইয়া দিমু, পবিত্র চরণও রে।
যত দুঃখ দেখাইমু রে ও বন্ধু, আমার বুক চিরিয়া
সাধ মিটিবে রূপ দেখিমু, দুই নয়ন ভরিয়া রে।
হৃদয় মন্দিরে তোমায় রে ও বন্ধু, রাখব যতন করি
গিয়াস কাঙাল কেবল তোমার, চরণের ভিখারি রে।
