Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    লোকায়ত জীবন ও লোকসাহিত্য – সুমনকুমার দাশ

    সুমনকুমার দাশ এক পাতা গল্প328 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    বীজেতে বীজ রোপণ করি, গঠন হইল মানবতরি – সুমনকুমার দাশ

    বীজেতে বীজ রোপণ করি, গঠন হইল মানবতরি

    এই যে ব্যবসা-বাণিজ্য করছেন, সংসার করছেন। আবার বাউলগান লিখছেন। এতে সবকিছু মিলিয়ে নিজের মধ্যে কি কোনও দ্বিধা-দ্বন্দ্ব  তৈরি হচ্ছে না?

    -কিসের দ্বিধা-দ্বন্দ্ব? ঘরসংসার করেই বাউলগান লিখছি। বেশভূষা ধরে বাউল হওয়ার কী আছে? মনের আনন্দে বাউলগান লিখি। বাউল দর্শনটা তো মনের মধ্যে লালন-পালন করি। মন যখন আনচান করে তখন দোকান-টোকান বন্ধ করে আখড়া বা বাড়ির পাশের শাহপরান মাজারে চলে যাই। সেখানে ফকির-সাধুদের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করি। মন তৃপ্ত হলে আবার চলে আসি। ইচ্ছে হলেই গান লিখি। কখনও-সখনও মনের খেয়ালেই এক-দুইটা গানে সুরও দিই। এটাই আমার জীবন। আপনারা কে কী ভাবলেন, সেটা আমার যায় আসে না। কে কি বললো, না-বললো সে বির্তকে গিয়ে আমার লাভটা কী?

    পরিচয়ের পর সামান্য কুশল বিনিময় শেষে প্রবীর দেবনাথের সঙ্গে এটাই ছিল প্রথম কথাবার্তা। তাঁর সম্পর্কে কিছু বলার আগে প্রবীর দেবনাথের কাছে কেনই বা এলাম, তা একটু খোলাসা করে বলি। আমার ঘনিষ্ঠজন কবি সঞ্জয় কুমার নাথ ২০০৫ সালের দিকে জানিয়েছিলেন, ‘সিলেট শহরতলির শাহপরান গেট এলাকায় প্রবীর দেবনাথ নামে এক ব্যক্তি দীর্ঘদিন ধরে বাউলগান লিখছেন, চর্চা করছেন।’ এ কথার সূত্র ধরে তাঁর কাছ থেকে ঠিকানা সংগ্রহ করে শাহপরান গেট এলাকায় গিয়েছিলাম। কিন্তু ঠিকানামাফিক এসে তো রীতিমতো থ বনে গেলাম। যে লোকটির সঙ্গে পরিচয় হলো, তাঁকে দেখামাত্রই ভিমড়ি খেলাম! এখানে আসার আগে মনে মনে তাঁর সম্পর্কে একটা আদল তৈরি করে ফেলেছিলাম। কিন্তু এ ধরনের একজন লোকের সঙ্গে পরিচিত হব, সেটা আমার ধারণার বাইরে ছিল। মনে মনে আওড়ালাম-এ আবার কেমন বাউল-গীতিকার?

    স্টেশনারি দোকানে প্রচুর জিনিসপত্রে ঠাসা। খোচা খোচা কাচা-পাকা দাড়িসমেত পঞ্চাশোর্ধ্ব বয়সের ব্যক্তি। রীতিমত নাগরিক জীবন-যাপন করছেন। ক্রেতা এলে জিনিসপত্র বিক্রি করছেন। যখন ক্রেতা থাকেন না, তখন ক্যাশবাক্সের উপর রাখা রোলটানা বাইন্ডিং খাতা বের করে গান লিখছেন। এই হলেন প্রবীর দেবনাথ। সেদিন ঘণ্টা ছয়েক আলাপ হয়েছিল। আলাপ-আলোচনায় মনে হলো-নাগরিক জীবনে তিনি বসবাস করছেন ঠিকই, কিন্তু তাঁর মন পড়ে রয়েছে ভাবজগতে।

    এই ‘ভাবজগতে’র ব্যাখ্যা শোনা যেতে পারে প্রবীর দেবনাথের কথাতেই। তাঁর মতে, ‘ভাবনার কী শেষ আছে? ভাবতে ভাবতে জীবনের প্রায় পুরো সময়টাই তো কাটিয়ে দিলাম। কিন্তু হলোটা কী? এখন পর্যন্ত তো আসল মানুষের সন্ধানই পেলাম না। হয়তো আরও আরও সাধনার প্রয়োজন।’ কথা শেষ করে তিনি গাইলেন :

    বীজেতে বীজ রোপণ করি
    গঠন হইল মানবতরি
    কী আজব কারিগরি বাহারি তার নমুনা।

    জল অনল মন্দ ভালো
    আছে আঁধার আছে আলো
    নিখুঁতভাবে যোগ করিল
    পঞ্চ রথের স্থাপনা।

    ছেড়ে দিলো আমার বলে
    তিল মাত্র বাতাসে চলে
    চলে না মন ভুলে গেলে
    তামাদি কেউ রবে না।

    হাড় মাংস জোড়া জোড়া
    চতুর্দিকে দিয়া বেড়া
    প্রবীর কয় রাখিল খাড়া
    এ দেহ মন্দিরখানা।

    গান শেষে প্রবীর দেবনাথ নিজে থেকেই তাঁর গানের ব্যাখ্যা জানালেন এভাবে : ‘নারী পুরুষের দৈহিক মিলনের ফলে দুই মহাশক্তি শুক্র মিলিত হয়ে মাতৃগর্ভে সন্তান জন্ম নেয়। আর তাই আমি বলেছি-বীজেতে বীজ রোপণ করি। গঠন হইল মানবতরি। একজন মানুষের দেহের গঠনপ্রাণালী খুঁজলে পৃথিবীর সকল কিছু এই ভান্ডে পাওয়া যাবে। ভালো-মন্দ, আঁধার-আলো সব এই দেহে আছে। দেহের নমুনাখানাও বাহারি। এক জোড়া নয়ন, নাক, কান, হাত, পা ও মাথা সবকিছুই দেখার মতো। এসব মিলেই আমাদের দেহের মধ্যে পঞ্চরথের স্থাপনা। অন্যদিকে এই সুন্দর দেহের ভেতর ছয় রিপুর বাস। কাম, ক্রোধ, লোভ, অহংকার, হিংসা ও বল। পঞ্চরথকে সঠিকভাবে পরিচালনা করতে হলে ছয় রিপুকে বশে আনা দরকার। তবেই দেহ মন্দিরের পূর্ণতা পাবে। আমাদের ভুলে গেলে চলবে না এই পৃথিবীতে কেউ থাকার জন্য আসিনি। সব ছেড়ে একদিন ঠিকই চলে যেতে হবে।’

    এভাবেই প্রবীর দেবনাথ সেদিন আমাকে বেশ কয়েকটি গান শুনিয়ে সেগুলোর ব্যাখ্যা শুনিয়েছিলেন। আমি যতই শুনছিলাম ততই অবাক হচ্ছিলাম। দেহতত্ত্ব নিয়ে তাঁর জ্ঞানের পরিধি আমাকে মুগ্ধ করে। তিনি বলতে থাকেন, ‘আমি মনে করি মানব দেহ চার ভাগে বিভক্ত। সব উপরের তলায় “অফিস”, মানে মস্তিষ্ক। আর এখান থেকেই সমস্ত দেহ পরিচালনা করা হয়। পরের তলায় “মেশিন ঘড়ি হৃদপিন্ড”, সেখানে দিবারাত্রি কর্ম চলছে, তার সঙ্গে সব তলায় যোগাযোগ রয়েছে। এখানে বিদ্যুতের কোনও ঘাটতি নাই। দু তলায় বর্জ রাখা হয়, পাকস্থলিতে মলমূত্র জমা হয়, মাঝে মাঝে তা পরিষ্কারও করা হয়। এই ঘরের কর্মচারীরা নিজের দায়িত্বে নিজের কাজ করে তাই কোনও ঝামেলা হয় না। মাত্র দুটি স্পিংয়ের ওপর ভর করে মাটির ঘরখানা দাঁড়িয়ে আছে। আর এ নিয়ে আমার একটা গান রয়েছে।’ কথা শেষেই তিনি গান ধরেন :

    মাটির একখান ঘর বানাইল দিয়া সেথায় চার তলা
    তলায় তলায় কর্ম চলে কর্মচারীর কর্মশালা।

    উপর তলায় অফিস কারী
    পরের তলায় মেশিন ঘড়ি
    সব তলায় যোগাযোগ করি বিদ্যুৎ যায় না এক বেলা।

    দু তলায় তার বর্জ রাখে
    সূচি করে ফাঁকে ফাঁকে
    নিজের কর্ম নিজে দেখে নাই সেথায় ঝামেলা।

    দুই স্পিংয়ে করি ভর
    রইল খাড়া মাটির ঘর
    প্রবীর বলে জুড়ায় অন্তর দেখে চূড়ান্ত শিল্পকলা।

    এরপর তিনি আরেকটা গান ধরেন :

    ঠাটার মেশিন পড়ল ঠাটা ধাক্কা দিলে চলে না
    হাওয়ার গাড়ির গেলে বাতাস কারিগর আর মিলে না।

    অঙ্গ হইল ঝরো ঝরো পড়িতে চায় খসিয়া
    চালাতে গিয়ার লাগে সেও গেল ফাঁসিয়া
    জোড়ায় জোড়ায় ক্ষয় ধরেছে চাকায় বাতাস ধরে না।

    ফুরাইল মেয়াদের কাল শেষ হইল গণার সাল
    প্রবীর কয় লাগিল তাল চোখ-কান হইলো কাল
    চুল পাকিল গাল ভাঙিল বিদায় নেওয়ার ভাবনা।

    গান শেষে বরাবরের মতো ব্যাখ্যা করেন। তিনি বলেন : ‘মানুষ যখন বৃদ্ধ হয় তখন দেহের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ বিকল হয়ে পড়ে। বৃদ্ধ বয়সে চোখের জ্যোতি কমে যায়। শরীর হয়ে পড়ে দুর্বল, চলাফেরার ক্ষমতা হারিয়ে ফেলে। তখন দেহের মেয়াদ ফুরিয়ে যায়, জোড়ায় জোড়ায় ক্ষয় ধরে। শ্বাস-প্রশ্বাস নিতে কষ্ট হয়। এই গানের কথাগুলো বৃদ্ধ সময়ের ভাবনা থেকেই এসেছে। মানবদেহের চলাফেরার জন্য অক্সিজেন অতি প্রয়োজন। তাই দেহটাকে হাওয়ার গাড়ি হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। এই গাড়ির কারিগর পাওয়া যায় না। ঠাটার ইঞ্জিন পড়ছে ঠাটা এই কথাটা আমার ক্ষুব্ধতার বহিঃপ্রকাশ।’

    এই গানের ব্যাখা শেষে তিনি টেবিলের উপর রাখা একটি প্লাস্টিকের বোতল থেকে কয়েক ঢোক পানি পান করলেন। মুখ মুছে পুনরায় বলা শুরু করলেন : ‘আপন দেহ নিয়ে বাউলদের ভাবনার শেষ নেই। এই দেহের ভিতরে কত আজব র্মকান্ড চলছে। বাইরেও তার আজব র্মকান্ডের অভাব নাই। বলতে পারেন? কোথা হতে ভয় আসে, কোথা হতে গায়ে বল আসে? কেনই-বা কাঁদলে নয়নে জল আর লোমক‚প দিয়ে ঘাম আসে? ক্ষুধা লাগলে টের পাওয়া যায়, কান পাতলে শোনা যায়, চোখ দিয়ে দেখা যায়। এভাবে আরও কত আজব আজব র্মকান্ড এই দেহে আছে তা বলে শেষ করা যাবে না। তবু কেন জানি ভাবি-আরও ভাবার বিষয় আছে। কিন্তু ভাবতে ভাবতেই শেষ। হয়তো আত্মরসে ডুবে যাওয়া, নয়তো একেবারে শেষ হয়ে যাওয়া।’ তারপর তিনি বললেন, এসব ভেবেই লিখেছিলাম :

    ভাবতে বড়ো অবাক লাগে
    আপন দেহের ফলাফল
    কোথা হতে জাগে ভয় কেমনে হয় দেহে বল।

    রক্ত মাংসে দেহ গড়া
    লোমে লোমে ছিদ্র করা
    বারণ তবু লোদি ঝরা
    কাঁদলে নয়ন ভরা জল।

    ক্ষুধা পাইলে পাই তাড়া
    আনন্দে হৃদয়ে নাড়া
    কান পাতিলে পাই সাড়া
    এ যেন এক আজব কল।

    বিচারিয়া দেখি কত
    আরও আজব অবিরত
    প্রবীর বলে ভাবি যত
    ভেবে ভেবে রসার তল।

    এই গান শেষ করেই প্রবীর দেবনাথ আবার ধরলেন :

    ও মন একবার ভাব নিরলে
    কেন ভবে আসিয়াছ কী হবে মরিয়া গেলে।

    কোথা হইতে আইলে তুমি কোথায় আবার যাবে জানি
    দেহে কেমনে থাকে প্রাণি আবার কোথায় যায় চলে।

    অল্প বাতাস আসে যায় দুই ছিদ্র রয় নাসিকায়
    আবার মরলে বাতাস কোথায় যায়, মাথা ঘুরায় ভাবিলে।

    পরিবর্তন দেহ দেশে শিশু কিশোর জোয়ান বেশে
    বৃদ্ধ হলে মরণ আসে আশা নাই আর থাকব বলে।

    প্রবীর বলে নয় কেউ স্বাধীন দেহে পাখি ভাসিলে ভিন
    আসে না আর গেলে সেদিন তবু থাকি আশার ছলে।

    গান শেষে পদের ব্যাখ্যাও শোনালেন। তিনি বললেন, ‘নিজের মনকে নিরিবিলি ভাবতে বলেছি। এ দেহে কোথা থেকে প্রাণ এলো, আবার কোথায় চলে যাবে? মরে গেলে পরে কি হবে এইসব। তারপর এই দেহের পরিবর্তন সম্বন্ধেও মনের নানান প্রশ্ন স্থান দিয়েছি। শিশু হতে কিশোর যুবক তারপর বৃদ্ধ, পরে মরণ, এসব কেমন করে হয়? আমরা কেহ নয় স্বাধীন, পরান পাখি ভাসিলে ভিন। সব জেনে শুনেও জড় জগতে বেঁচে থাকার সাধ ফুরায় না। আরও বেঁচে থাকতে মনে আশা থাকে। কিন্তু তারপরও হতাশা, আপন মন কি বলে দেবে এই প্রশ্নের উত্তর?’

    আমাকে কথার কোনও সুযোগ না দিয়েই প্রবীর দেবনাথ গান ধরেন :

    যে দিন পাখি যাবে ছাড়ি ভাঙিয়া তোর আপন বাড়ি
    সজনে সকলে মিলে লইয়া বাসের পালকিতে
    শ্মশানপুরে লইয়া যাবে আপন কর্ম সারিতে।

    ভবের হাটে ঘুরি ফিরি খালি হাতে যাবে ফিরি
    অকূলে ভাসাইলে তরি কেমন করে দিবে পাড়ি
    রঙ্গে আছে দেখি কত সঙ্গে নাই কেউ যাইতে।

    খাঁচায় পুরা আছে পাখি কোনদিন জানি দিবে ফাঁকি
    বুঝবে যখন দুইটি আঁখি শুনবে না কেউর ডাকাডাকি
    প্রবীর কয় দেহখানা পড়ে রইবে মাটিতে।

    গান শেষে বরাবরের মতো আবার বিশ্লেষণ করলেন। এ গানের সারমর্ম বিষয়ে তাঁর ভাষ্য : ‘যে দিন পাখি যাবে ছাড়ি মানে দেহ থেকে যে দিন প্রাণবায়ু বাহির হয়ে যাবে, তখন আর ক্ষণিকের জন্য স্বজনরা রাখতে চাইবে না। যত তাড়াতাড়ি পারা যায় শ্মশানের দিকে নিয়ে যাবে শেষকৃত্যের জন্য। এই ভববাজারে কত লেনাদেনা, চেনাজানা হয়েছে, তার কোনও শেষ নেই। তবু যাবার বেলা খালি হাতে যেতে হয়। প্রাণপাখি দেহ ছেড়ে চলে গেলে ডাকিলেও কেউ শুনবে না। তাই বলা হয়েছে-রঙ্গে আছে দেখি কত সঙ্গে নাই কেউ যাইতে। দেহে প্রাণবায়ু থাকতে কত মায়া মমতা ছিল, কত রং আমেশ করেছি, এখনও আমি চলে গেলে কি হবে? কেউ কেউ রং আমেশ ঠিকই করছে। কিন্তু সঙ্গে যাবার কেউ নাই। দেহ ছেড়ে পাখি যখন উড়ে যাবে, সোনার দেহ পড়ে রবে মাটিতে। এইতো আমাদের মানবজীবন; ভবে একা আসা একা যাওয়া আবার খালি হাতে।’

    প্রবীর দেবনাথের কাছে দেহতত্ত্বের গান শুনে দেহ নিয়ে তাঁর নিজস্ব অনুভূতি সম্পর্কে জানার আগ্রহ আরও তীব্র হয়ে উঠল। দেহ নিয়ে তাঁর ভাবনাগুলো একটা কাগজে লিখে দিতে অনুরোধ জানিয়েছিলাম। প্রথমে রাজি না হলেও পরে আমার অনুরোধে রাজি হন। দিন দুয়েক পর তিনি সেই কথাগুলো একটি কাগজে লিখে আমার কাছে দিয়েছিলেন। কোনও ধরনের পরিবর্তন না করে সেটা হুবহু তুলে দিলাম:

    ‘যাহা আছে স্মান্ডে তাহা আছে কলেবরে।’ সাধনতত্ত্বের একজন মান্য ব্যক্তির এই কথা উচ্চারণ করলেই বুঝা যায়, তার মাহাত্ম্য। সাধক-সুফি-মুনি-ঋষি-গুরু-মুর্শিদরাও ভক্তদের দেহসাধনার উপদেশ দিয়ে থাকেন। সামান্য জ্ঞানে উপলব্ধি করলেই বোঝা যাবে-কলেবরে, মানে মানবদেহে সৃষ্টির সকল খুঁজতে জানলে এখানেই মিলিবে সকল। সাধনতত্ত্বে কিছুটা ভিন্নতা থাকলেও দেহ নিয়ে সকলেই এক কথা বলেছেন। কারও কোনও দ্বিমত নাই।

    দেহমূলে স্থানগুলো বিচার করলে দেখা যায়, সমস্ত দেহ জুড়ে রয়েছে অসংখ্য নাড়ি আর রয়েছে নাভি, হৃদয়, কণ্ঠ ও মস্তক। এই অসংখ্য নাড়ির মধ্যে তিনটি প্রধান। সাধনতত্ত্বে এই তিন নাড়ির নামও রয়েছে। এই নাড়িগুলোকে বলা হয় বা তুলনা করা হয় নদীর সাথে। প্রধান তিন নাড়ি মহানদী আর সবগুলো উপনদী। প্রধান তিন নাড়ির নাম : গঙ্গা, যমুনা ও সরস্বতী অথবা ইরা, পিঙ্গলা ও সুষুম্ন বলা হয়। এই তিন নাড়ি পথে রক্ত, বায়ু, শুক্র, রজঃ, জল চালিত হয়। আবার শুক্র রজঃ রক্ত মিশ্রণে বিষামৃত হয় আর ইহাই জীবনীশক্তি। কাম, প্রেম, রস, রজঃ, রতি, ধ্বংস ও সৃষ্টি, জীবনীশক্তি হতে হয়ে থাকে। উপনদীগুলিতেও রক্ত, নীড়, ক্ষির প্রবাহমান।

    বায়ু ও বায়ুর নিয়ন্ত্রণের শক্তি অর্জনের মাধ্যমে দেহের উপর কর্তৃত্ব জন্মায়। শ্বাস-প্রশ্বাস নিয়ে নিয়ন্ত্রণের দ্বারা পবনকে নিয়ন্ত্রণ করলে গোটা দেহে বল আসে। আবার দেহ সুস্থ রাখার জন্য সাধনতত্ত্বে যোগ ব্যায়ামকেও প্রাধান্য দেওয়া হয়। যোগব্যায়ামের মাধ্যমেও কামশক্তিকে বশ করা সম্ভব।

    যাই হোক সে কথায় পরে আসি। আমরা অনেক শুনেছি স্বামী বিবেকানন্দের বাণী-‘সবার উপরে মানুষ সত্য তাহার উপরে নাই।’ তিনি সব কিছুকে তুচ্ছ করে একজন মানুষকে সবার উপরে স্থান দিয়েছেন। তার কারণ হলো মানুষের কাছে মিলিবে সকল মানুষেতে সার। আর যত প্রবঞ্চনা খোঁজাও অসার। মানুষ জ্ঞান মানুষ বুদ্ধি, নিজে জানি জানায় যদি। আপনে খুঁজিব যবে, সৎজনের কাছে যাবে, যা পাবে সত্য পাবে অদ্য মধ্য আদি। তাহলে পাহাড় পর্বত ঘুরে না মরে একজন সৎ মানুষের সান্নিধ্য লাভ করতে পারলেই হয়, সেখানে সকল মিলায়।

    আমাদের সকলেরই সাধনা করার দরকার। কারণ সাধনা ছাড়া সুফল ভোগ করা যায় না। আর দেহসাধনা সে তো বিশাল ব্যাপার। সকলের মঙ্গলের জন্য নিজেকে উৎসর্গ করা। দেহসাধনার ফলে কাম শক্তি লোপ পায়, জন্ম রোধ হয়, নিজেকে সৎ পথে পরিচালনা করা যায়। তাতে দেশ দশ নিজে উপকৃত হই। আয়ু বৃদ্ধি হয়, জগৎকে উপলব্ধি করা যায়। দেহে প্রেম থাকবেই, কারণ কাম হতে প্রেমের জন্ম। স্থাবর জঙ্গম যত দেহ রতি কামে দেহে শান্তি ভোগ করা যায় কিন্তু এই সব অস্থায়ী একদিন শেষ হয়ে যাবে। সাধনার ফলে ইরা পিঙ্গলা ও সুষুম্ন নাড়ি মথে শুক্র ইচ্ছা মতে চালনা করে স্থায়ী শিঙ্গার আনন্দ উপভোগ করা যায়। যার কারণে সাধকরা ওই কামশক্তিকে শিবশক্তি, কৃষ্ণশক্তি রূপে মান্য করেন। আর শক্তিই জীবন, তাই কাম বর্জন করে তাহার কায়া সাধনে হন ব্রত। শুক্র বিনা মহাসুখ সম্ভব নয় তাই তাহারা সাধনার ফলে ইহা দেহতেই শোধন করে রাখেন। গুরু গোঁসাইরা তাহার শিষ্যকে ছয় রিপুকে বশ করতে আদেশ করেন। তার মধ্যে প্রধান হচ্ছে কাম। প্রেম থাকবে কামসাধনার বিষয়। তবে তো সাধনার মূল কপাট খুলে ভেতরে প্রবেশ করা সম্ভব।

    দেহ নিয়ে জানতে বা ভাবতে কার না ইচ্ছা হয়! আর ইচ্ছা থাকলেই কি জানা যাবে? মোটেই না। তার জন্য দেহ শিক্ষকের প্রয়োজন। আর তিনি হচ্ছেন সাধন প্রণালির লোক। সুফি-সাধক-বাউল এঁরা। তারা হলেন একমাত্র দেহবিজ্ঞানী, দেহতত্ত্বের সাধনাকারী। এই লাইনটাই সম্পূর্ণ রূপে আলাদা। এই যে আমার দেহ কত সুন্দর করে সাজানো গুছানো, যেন আজব এক কল। দুটি চোখ আছে যা দিয়ে দূরের-কাছের বস্তু দেখতে পাই। দুটি কান বাইরের শব্দ শুনতে পাই। হাত দিয়ে নানা ধরনের কাজ এবং পা দিয়ে চলাফেরা করতে পারি। নাক দিয়ে বাতাস আসে, বাতাস বাহির হয়। ক্ষুধা লাগলে অনুভব করি।

    তারপর দেহের ভেতরে লুকায়িত আছে মন, সে যেন আর এক আশ্চর্য ব্যাপার। মুহূর্তে লন্ডন, আমেরিকা, জাপান, স্বর্গ, নরক, গ্রহ, তারা অনুমান করা যায়। সময় সময় সুখবর কুখবর আগাম পৌঁছে দিতেও সেই মন সক্ষম। শুধু তাই নয়, আরও আছে, এই দেহঘরে যে প্রতিনিয়ত কী ঘটছে ক্ষুদ্র জ্ঞানে তা বোঝার সাধ্য নয়। মানবদেহে বুকে কান পাতলে শোনা যায় দেহঘড়ির শব্দ, টক টক করে চলছে। আর কত ভিন্ন শব্দও শোনা যায়। পেটে কান পাতলে মেঘের গর্জন এবং নিজের কানে দুই হাত চেপে ধরলে শোনা যায় আগ্নেয়গিরির শা শা শব্দ, যেন ঝড় তুফানের শব্দ। আপন দেহের ভেতর যতই তোলপাড় হোক না কেন, তাহা এমনি এমনি শোনা যায় না, এ সব ভাবতে বড়ো অবাক লাগে, চোখ বুজলে আঁধার, খুললে আলো। দুঃখ পেলে কান্না আসে-নয়ন জুড়ে ঝরে পড়ে নোনা জল। আবার চোখে লবন পড়লে সহ্য হয় না। মুখ দিয়ে লালা আসে কিন্তু সেই লালা আবার লবণাক্ত নয়। তারপর দেহ ভান্ডারে মলমূত্র আবর্জনা বহন করে চলেছি কোনও দুর্গন্ধবিহীন। কিন্তু আবার তাহা ত্যাগ করলে গন্ধ পাই যা দেখেও সহ্য হয় না। এই সব কথা বলে শেষ করার নয়। আর সামান্য সময়ে বিশাল বিশ্ব-ব্রহ্মান্ডকে জানা বলা কি সম্ভব? মোটেও না। তবে সর্বশেষ কথা হলো তারও ধ্বংস আছে। তিল তিল করে যেমন গড়ে ওঠে, তেমন করে তিল তিল করে ক্ষয় হতে থাকে। এমন একটি সময় আসে এই দেহমেশিন আর বাতাস গ্রহণ করে না, প্রাণপাখি উড়ে যায়। এত আদরের দেহ হয়ে যায় মাটি।

    প্রবীর দেবনাথের দেহবিষয়ক লিখিত কথাগুলো পড়ে তাঁর সম্পর্কে অন্তত একটা ধারণা স্পষ্ট হয়ে যায়। সেটা হচ্ছে-আপন দেহ নিয়ে তিনি অনেক ভেবেছেন, সেটা নিঃসন্দেহে বলা যায়। এবং উপরের কথাগুলো হচ্ছে প্রবীর দেবনাথের সেই ভাবনারই বহিঃপ্রকাশ। এরপর অনেক দিন তাঁর সঙ্গে দেহতত্ত্ব, নিগূঢ়তত্ত্ব আর বাউলদের সাধনার প্রসঙ্গে আলাপ-আলোচনা হয়েছে, এমনকী ধীরে ধীরে তাঁর সঙ্গে আমার সম্পর্ক গাঢ় থেকে গাঢ়তর হয়েছে। বুঝতে পারি-প্রবীর দেবনাথ দোকানে বসে বসে মালামাল বিক্রি করলেও তিনি এক অনন্য জগতের মধ্যে বসবাস করছেন আর নিরবচ্ছিন্নভাবে সাধনা করে চলেছেন ‘আপন দেহের’।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleদ্য হাউস হোয়ার আই ডাইড ওয়ান্স – কেইগো হিগাশিনো
    Next Article ডক্টর ইউনূসের দারিদ্র্য বাণিজ্য – বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Our Picks

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }