Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    লোকায়ত জীবন ও লোকসাহিত্য – সুমনকুমার দাশ

    সুমনকুমার দাশ এক পাতা গল্প328 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    মনসার গানের ভেলায়

    ছোটোবেলায় মা-কাকিদের পদ্মপুরাণ পাঠ করতে দেখতাম। শ্রাবণ মাস এলেই হাওরাঞ্চলের হিন্দু ধর্মালম্বী অধ্যুষিত গ্রামে পদ্মপুরাণ পাঠের ধুম পড়ে যেত। বাদ যেত না আমাদের বাড়িও। শ্রাবণ মাসের শেষ দিন প্রতি ঘরে পূজিত হতেন নাগমাতা খ্যাত মনসাদেবী। ধনী-গরিব নির্বিশেষে প্রত্যেকের বাড়িতে মনসার পূজা হয়। পূজা উপলক্ষে কেউবা মনসার প্রতিমা বসাতেন আবার কেউবা মনসার ঘট বসিয়ে পূজা করতেন। মনসা দেবীর আরেক নাম পদ্মা। হিন্দু ধর্মালম্বীদের দেবীতুল্য পদ্মার জন্ম ও পূজিত হওয়ার ইতিহাসকে উপলক্ষ করেই রচিত হয়েছে মনসামঙ্গল বা পদ্মপুরাণ কাব্য।

    মধ্যযুগের কবিদের প্রণীত বাংলা সাহিত্যের মঙ্গলকাব্য ধারার সবচেয়ে আলোচিত মনসামঙ্গল কাব্য। ত্রয়োদশ শতাব্দী থেকে অষ্টাদশ শতাব্দী পর্যন্ত মনসামঙ্গল কাব্য রচনার বিস্তৃতি হিসেবে গবেষকরা অভিমত দিয়েছেন। তবে এই মনসামঙ্গল কাব্যের উপাখ্যান ভারতের বিহার প্রদেশ হতে বাংলায় এসেছে বলে অভিমত বাংলা সাহিত্যের বিকাশের ধারা গ্রন্থের লেখক শ্রীকুমার বন্দ্যোপাধ্যায়ের। একই অভিমত ব্যক্ত করে মুহম্মদ শহীদুল্লাহ তাঁর বাংলা সাহিত্যের কথা গ্রন্থে লিখেছেন :

    মনসামঙ্গল-এর উপাখ্যান সম্ভবত বিহার হইতে বাংলা দেশে আসিয়াছে। […] মনসামঙ্গল-এর কাহিনি বিহারে প্রচলিত। বিহুলা কথা নামে বিহারী ভাষায় একখানি পুস্তক ছাপা হইয়াছে। সেখানে মনসা বা পদ্মা বিষহরি। মনসামঙ্গল-এর নায়ক-নায়িকা প্রভৃতির নাম বিদ্যাপতির ব্যাড়ীভক্তিরঙ্গিণী-তে এবং বিহুলা কথা-য় আছে।

    […] দোভাষী পুথিসাহিত্যে মনসার ভাসান আছে। এইরূপ একখানি পুথি বেহুলা লখীন্দর ও চাঁদ সওদাগরের কেচ্ছা। ইহার রচয়িতা মুনশি রহিমুদ্দিন আহমদ। ইহা অধুনা ঢাকার সিদ্দিকিয়া বুক ডিপো হইতে প্রকাশিত। গ্রন্থাকারের জন্মস্থান ও রচনার তারিখ অজ্ঞাত। উপাখ্যান সাধারণত মনসামঙ্গল-এর প্রচলিত কাহিনি।

    মনসামঙ্গল কাব্যের উদ্ভব ও উৎপত্তি নিয়ে এখনও গবেষকদের মধ্যে মতবিরোধ রয়েছে। এমনকী সর্বপ্রাচীন হিসেবে স্বীকৃতি কানা হরিদত্ত রচিত পদ্মপুরাণ-এর পুরো কাব্যেরও এ পর্যন্ত কোনও প্রামাণ্য নিদর্শন পাওয়া যায়নি। গবেষকদের ধারণা, এটি ত্রয়োদশ শতাব্দীতে প্রণীত হয়েছিল। এটির পরে পঞ্চদশ শতকে রচিত হয়েছিল বিজয় গুপ্তের পদ্মপুরাণ অথবা মনসামঙ্গল। তিনি এতে কানা হরিদত্ত প্রসঙ্গে লিখেছিলেন, ‘মূর্খে রচিল গীত না জানে মাহাত্ম্য।।প্রথমে রচিল গীত কানা হরিদত্ত।’

    বরিশাল জেলার গৈলা গ্রামের ফুল্লশ্রীর বাসিন্দা বিজয় গুপ্তের প্রণীত কাব্যের পরেই রচিত হয় বিপ্রদাসের মনসাবিজয় কাব্য। এটি ১৪৯৫ খ্রিষ্টাব্দের দিকে রচিত। বিপ্রদাসের বাড়ি ভারতের চব্বিশ পরগণার বসিরহাট মহকুমার বাদুুড়িয়ার নিকটবর্তী বড়োগাঁ গ্রামে। এর বাইরে ষট্কবি, কিশোরগঞ্জ জেলার পাতুয়ারী গ্রামের দ্বিজ বংশীদাস, চন্দ্রাবতী, দিনাজপুর জেলার কুচিয়ামারা গ্রামের জগজ্জীবন ঘোষাল, মৌলভীবাজার জেলার দত্ত গ্রামের ষষ্ঠীবর দত্ত, ঢাকা জেলার গঙ্গাদাস সেন, পশ্চিমবঙ্গের কেতকাদাস ক্ষেমানন্দ, সুনামগঞ্জ জেলার জগন্নাথপুর উপজেলার রাধামাধব দত্ত, পাবনা জেলার লাহিড়ীপাড়া গ্রামের জীবনকৃষ্ণ মৈত্র, ভারতের মানভূম জেলার ক্ষেমানন্দ, চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার সাধনপুর বাণী গ্রামের রামজীবন বিদ্যাভূষণ, ভারতের বীরভূম জেলার কোরগড় পরগণার বিষ্ণু পাল, ময়মনসিংহ জেলার বৈদ্য জগন্নাথ, পশ্চিমবঙ্গের আখড়াসালের দ্বিজ রসিক, পশ্চিমবঙ্গের কালীদাস, ময়মনসিংহ জেলার ব্রজপুর গ্রামের গোপালচন্দ্র মজুমদার, যশোর জেলার মল্লিকপুর গ্রামের দ্বিজ কালীপ্রসন্ন, ভারতের কুচবিহার এলাকার বৈদ্যনাথ প্রণীত পদ্মপুরাণ অথবা মনসামঙ্গলসহ আরও কয়েকটি কাব্যের প্রচলন রয়েছে।

    কানা হরিদত্তেরও আগে মনসা পুথি বা পাঁচালির প্রচলন ছিল বলে গবেষকদের ধারণা। তাঁদের মতানুযায়ী, আসাম তথা সিলেট অঞ্চলে দশম থেকে দ্বাদশ শতাব্দীতে তৈরি মনসা মূর্তির সন্ধান পাওয়া গেছে। এতে প্রমাণিত হয় সেই সময়টাতেও মনসার পুথি বা পাঁচালির প্রচলন ছিল। তবে এসব পুথি বা পাঁচালি পঞ্চদশ শতাব্দী থেকে লিপিবদ্ধ হয়েছে বলে গবেষকদের প্রায় অভিন্ন অভিমত। মনসার অপর নাম বিষহরি। এই শব্দটির অস্তিত্ব শ্রীকৃষ্ণকীর্তন গ্রন্থেও পাওয়া যায়। তবে সেখানে শব্দটি ‘বিষপূর্ণ’ অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে। অপরদিকে চৈতন্যভাগবত ও ধর্মপূজা বিধান-এ মনসার আরেক নাম ‘বিষহরি’ হিসেবে শব্দটির উল্লেখ রয়েছে। মনসামঙ্গল কাব্য রচয়িতার নিবাস ও পদ্মপুরাণ-এর বিস্তৃতি প্রসঙ্গে গোপাল হালদার তাঁর বাঙলা সাহিত্যের রূপ-রেখা গ্রন্থে লিখেছেন-‘[…] বরাবরই মনসামঙ্গল ও মনসার ভাসান গান পূর্ব ও উত্তর বঙ্গেই অধিক প্রচলিত ছিল। অষ্টাদশ শতাব্দী থেকে তাই চট্টগ্রামে, শ্রীহট্টে ও উত্তরবঙ্গেই বেশিসংখ্যক মনসামঙ্গল-এর কবির সাক্ষাৎ পাওয়া যায়।’

    গবেষক দীনেশচন্দ্র সেন মনসামঙ্গল কাব্যের ৬২ জন রচয়িতার নাম তাঁর প্রণীত বঙ্গভাষা ও সাহিত্য গ্রন্থে উল্লেখ করেছিলেন। এঁরা হচ্ছেন : কানা হরিদত্ত, কিশোরগঞ্জ জেলার তাড়াইল উপজেলার নারায়ণ দেব, বিজয় গুপ্ত, রঘুনাথ, যদুনাথ পন্ডিত,বলরাম দাস, জগন্নাথ সেন, বংশীধর, দ্বিজ বংশী দাস, বল্লভ ঘোষ, বিপ্রহৃদয়, গোবিন্দ দাস, গোপীচন্দ্র, বিপ্র জানকীনাথ, দ্বিজ বলরাম, কেতকী দাস, ক্ষেমানন্দ, অনুপম চন্দ্র, রাধাকৃষ্ণ, হরিদাস, কমলনয়ন, সীতাপতি, রামনিধি, কবি চন্দ্রপতি, গোলোক চন্দ্র, কবি কর্ণপুর, জানকী নাথ, বর্ধমান দাস, ষষ্ঠীবর সেন, গঙ্গাদাস সেন, রাম বিনোদ, আদিত্য দাস, কমললোচন, কৃষ্ণানন্দ, পন্ডিত গঙ্গাদাস, গুণানন্দ সেন, জগদ্বল্লভ, বিপ্র জগন্নাথ, জগমোহন মিত্র, জয়দেব দাস, দ্বিজ জয়রাম, নন্দলাল, বাণেশ্বর, মধুসূদন দেব, বিপ্র রতিদেব, রতিদেব সেন, রামাকান্ত, দ্বিজ রসিকচন্দ্র, রাজা রাজসিংহ, রামচন্দ্র, রামজীবন বিদ্যাভূষণ, বিপ্র রামদাস, রামদাস সেন, দ্বিজ বনমালী, বনমালী দাস, বিপ্র দাস, বিশ্বেশ্বর, বিষ্ণু পাল, সুকবি দাস, সুখ দাস, সুদাম দাস এবং দ্বিজ হরিরাম। কেবল সিলেট অঞ্চলেরই ২১ জন মনসামঙ্গল কাব্যের রচয়িতার সন্ধান জানিয়েছিলেন ইতিহাসবেত্তা অচ্যুতচরণ চৌধুরী। তাঁর রচিত শ্রীহট্টের ইতিবৃত্ত (১৯১০) গ্রন্থের পরিশিষ্ট বিভাগে তিনি মনসামঙ্গল রচয়িতার নামের তালিকাও মুদ্রণ করেছিলেন।

    বিংশ শতাব্দীর প্রথমার্ধ্ব পর্যন্ত মনসামঙ্গল কাব্য রচনা বহমান ছিল। লোকসাহিত্যের তাত্ত্বিক আশুতোষ ভট্টাচার্য বাংলা মঙ্গলকাব্যের ইতিহাস গ্রন্থে জানিয়েছিলেন, ‘সিলেটের রাধানাথ রায়চৌধুরী মনসামঙ্গল কাব্যের সর্বশেষ কবি। তিনি ঊনবিংশ শতাব্দীর শেষ ভাগে মনসামঙ্গল কাব্য রচনা করেছিলেন।’ তবে গত কয়েক দশক আগেও কয়েকজন গ্রামীণ গীতিকার মনসামঙ্গল কাব্য রচনার প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছিলেন। সুনামগঞ্জের দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলার টাইলা গ্রামের গীতিকার প্রতাপরঞ্জন তালুকদার একটি মনসামঙ্গল কাব্য রচনাকালে মৃত্যুবরণ করেন। তাঁর প্রণীতব্য অসমাপ্ত মনসামঙ্গল কাব্যের একটি পান্ডুলিপি প্রয়াত গীতিকারের বাড়িতে রক্ষিত আছে। মজার বিষয় হচ্ছে, সেই ত্রয়োদশ শতাব্দী থেকে বর্তমান যুগ পর্যন্ত প্রণীত প্রতিটি মনসামঙ্গল আখ্যানের অভিন্নতা লক্ষণীয়। দু-একটি অধ্যায়ে বর্ণিত কাহিনির বিরল ব্যতিক্রম বাদে প্রত্যেকটি কাব্যের কাহিনি ও বিষয়বস্তুর তেমন কোনও হেরফের নেই বললেই চলে।

    সিলেট তথা হাওর অঞ্চলের বাসিন্দারা দাবি করে আসছেন, সুনামগঞ্জসহ হাওরাঞ্চল একসময় কালীদহ সাগরের নিচে ছিল। পদ্মপুরাণ কাব্যে সেই কালীদহ সাগরের উল্লেখ রয়েছে। ফলে পদ্মপুরাণ এ অঞ্চলেরই কাহিনি। অন্যদিকে চট্টগ্রাম অঞ্চলের বাসিন্দাদের দাবিও অনুরূপ। তাঁদেরও দাবি, বাইশকবি পদ্মপুরাণ রচয়িতার প্রায় প্রত্যেকেই চট্টগ্রামের বাসিন্দা ছিলেন। এ নিয়ে এখনও গবেষকদের মধ্যে পক্ষে-বিপক্ষে নানা মতান্তর রয়েছে। পদ্মপুরাণ-এর ‘নেতার জন্ম ও পদ্মার জন্ম বিবরণ’ পর্বে কালীদহ সাগরের উল্লেখ পাওয়া যায়। সে পর্বে বলা হচ্ছে-‘উপনীত হয়ে শিব কালীদহ তীরে।। বিল্ববৃক্ষ তলে বসে প্রফুল্ল অন্তরে।’ এর বাইরেও কয়েকবার কালীদহ সাগরের নাম উল্লেখ রয়েছে।

    মধ্যযুগের অসংখ্য কবি মনসামঙ্গল বা পদ্মপুরাণ কাব্য রচনা করলেও বাংলাদেশের হাওরাঞ্চলে বাইশকবি প্রণীত পদ্মপুরাণ কাব্য সর্বত্রই পঠিত হয়। এ কাব্যকে কেউ পাঁচালি আবার কেউ পুথি হিসেবেও অভিহিত করে থাকেন। কাব্যগ্রন্থ, পাঁচালি আর পুথি যেটাই বলা হোক না কেন, সেটি এখন হাওরাঞ্চলের গ্রামীণ হিন্দু ধর্মালম্বীদের অন্যতম ধর্মগ্রন্থ হিসেবে পরিগণিত হয়ে আসছে।

    মনসা দেবীকে বিষহরি দেবী নামেও আখ্যায়িত করা হয়। তিনি যেহেতু সর্পের দেবী, তাই সাপে কাটা মানুষকে তিনিই জীবিত করতে পারেন। এ কারণেই তাঁকে বলা হয়-বিষহরি অর্থাৎ যিনি বিষ হরণ করে নিতে পারেন। সেই বিষহরি আঞ্চলিক ভাষায় হাওরাঞ্চলে ‘বিষুরি’ হিসেবে উচ্চারিত হয়। হাওরাঞ্চলের মানুষেরা তাই মনসা পূজাকে ‘বিষুরি পূজা’ বলে থাকেন। কেউ কেউ আবার ‘শ্রাবণী পূজা’ও বলে থাকেন। প্রতি বাংলা বঙ্গাব্দের শ্রাবণ মাসের শেষদিন এ পূজা অনুষ্ঠিত হয়। তবে পূজা আয়োজনের কয়েকদিন আগে থেকেই প্রতিটি বাড়িতে চলে পদ্মপুরাণ পাঠের আয়োজন।

    শৈশবে দেখেছি-বাড়ির উঠোনে কিংবা ঘরের দাওয়ায় বসে মা-জেঠি-কাকি-বউদি-দাদিরা পদ্মপুরাণ পাঠ করতেন। তাঁদের আবেগঘন কণ্ঠে পদ্মপুরাণ পাঠ আমাকে চরমভাবে আকর্ষণ করত। আমি চুপচাপ তাঁদের সঙ্গে বসে বসে শুনতাম। সেই ছোটো বয়সেই মুখস্থ হয়ে গিয়েছিল বাসর রাতে বিপুলার স্বামী লক্ষ্মীন্দরকে সাপে কাটা, চাঁদ সওদাগরের চোদ্দো ডিঙ্গা ডুবে যাওয়া আর লক্ষ্মীন্দরকে ‘জিও রে জিও কানাই মায়ের লক্ষ্মীন্দর’ ধুয়ার সঙ্গে বাঁচানোর কাহিনি। পাঁচালির সুরে পঠিত হতো পদ্মপুরাণ কাব্য।

    মনসা পূজার বিশেষ আয়োজন বলিদান পর্ব। পুরোহিত যখন পূজার আয়োজন সম্পন্ন করেন, তখন পূজার অংশ হিসেবেই যজ্ঞ ও বলিদান পর্ব সারতে হয়। বলিদান পর্বে ইক্ষু, শসা, কলা, কোমরসহ বিভিন্ন সবজি ও ফল বলিদান করা হয়। অবস্থাসম্পন্ন গৃহস্থের পরিবারে পাতিহাঁসও বলিদান করা হয়। সে সময় আমাদের ছোটোদের অন্যতম আকর্ষণ ছিল বলিদান পর্ব। বলিদান মানেই পূজার পরদিন বাড়িতে হাঁসের মাংস রান্না হবে। আর মাংস রান্না মানেই রুচি পরিবর্তন। পূজা উপলক্ষে প্রতিটি বাড়িতেই টানা কয়েকদিন চলে নিরামিষ রান্না। একটানা একঘেয়ে সেই রান্নার অবশেষে বলিদান পর্বের বদৌলতে রুচির পরিবর্তন!

    বলিদান পর্বের মতন আকর্ষণীয় ছিল দেবী বিসর্জন পর্ব। সারা গ্রামের পূজারিরা নিজেদের নৌকায় দেবীকে তুলতেন। আমরাও বড়োদের সঙ্গী হতাম। ঢোল, করতাল ও ঝান বাজিয়ে দেবী বিসর্জনের গান গাইতে গাইতে পুরো গ্রাম চক্কর দেওয়া হতো। পরে গ্রামের পার্শ্ববর্তী দাড়াইন নদীতে গিয়ে একযোগে দেবী বিসর্জন দেওয়া হতো। বিসর্জনের সময় সকলেই নদীর ভাসান পানিতে লাফিয়ে পড়তেন। ছোটোদের যারা সাঁতার জানত না, কেবল তারাই নৌকায় ভিতু ভিতু চোখ নিয়ে বসে থাকত। বাকিরা পানিতে ঝাঁপিয়ে পড়ে আনন্দ-উচ্ছ্বাস করত।

    আনন্দ-উচ্ছ্বাসের এক পর্যায়ে সবাই নৌকায় উঠে একে অপরের মধ্যে প্রসাদ বিতরণ করতেন। প্রসাদ বলতে ছিল ছোলা, মটর, নারকেল এবং কলা ও গুড় মিশ্রিত ভেজা আতপ চালের প্রসাদ। প্রসাদ বিতরণ শেষে শুরু হতো নৌকাবাইচ। একসঙ্গে অনেক নৌকা নদীতে জড়ো হয়ে বাইচ অনুষ্ঠিত হতো। বাইচে সারিগান ছিল অন্যতম অনুষঙ্গ। নৌকাবাইচ শেষে অধিকাংশ নৌকা গ্রামের বিভিন্ন বাড়ির ঘাটে নৌকা ভিড়িয়ে নারকেল ভিক্ষা হিসেবে প্রার্থনা করতেন। সেই বাড়ির গৃহস্থ যদি তাঁর গাছ থেকে নারকেল পেড়ে নিয়ে যাওয়ার অনুমতি দিতেন তাহলে বাইচে অংশ নেওয়া ব্যক্তিরা সমস্বরে গাইতেন, ‘… গ্রামের … বাবু, নারকেল করলেন দান’।

    মনসা পূজাকে উপলক্ষ করে কত কত আচার-সংস্কৃতি পালিত হয়ে আসছে যুগের পর যুগ। এসবের অনেক কিছুই এখন বর্ণিল রং হারিয়ে পাংশুটে আকার ধরেছে। কিন্তু পদ্মপুরাণ পাঠ ঠিক আগের মতন রয়ে গেছে। গ্রামীণ নারীরা এখনও পরম মমতায় ঘরের কাজকাম সেরে পূজার সময়টাতে পুথি পড়া শুরু করেন। দেবী বিসর্জনের আগে পদ্মপুরাণ পাঠ শেষ করার বাধ্যবাধকতা থাকায় রাতে কুপি বাতি জ্বালিয়েও চলে পদ্মপুরাণ পাঠ। সেই পদ্মপুরাণ-এর কাব্যিক আকর্ষণ নিছক কম নয়। এটির পরতে পরতে রয়েছে পদ্মার গুণগান, চাঁদ সদাগরের দাম্ভিক উচ্চারণ ও করুণ পরিণতির কাহিনি।

    পদ্মপুরাণ-এর কাহিনি আবর্তিত হয় নাগমাতা পদ্মাকে উপলক্ষ করে। পদ্মার জন্ম ও বিবাহ পদ্মপুরাণ-এর কাহিনির অন্যতম বিষয়বস্তু। তবে মনসা ও চাঁদ সদাগরের বিবাদ নিয়ে পদ্মপুরাণ-এর মূল কাহিনি আবর্তিত হয়েছে। মনসা সর্পদেবী আর চাঁদ সদাগর ছিলেন একজন বনেদি বণিক। পদ্মা ও চাঁদ সদাগরের বিবাদের ধারাক্রম তৈরি করতে পদ্মপুরাণ-এর কাহিনিকারেরা নানা অধ্যায় সন্নিবেশিত করেছেন। স্বর্গে দেবতাগণের নানা কাহিনি, পদ্মার ছোটো বোন নেতার জন্মকাহিনি, জরৎকারু মুনির সঙ্গে পদ্মার বিবাহ, হুতাশন মুনির সঙ্গে নেতার বিবাহ, চাঁদ সদাগরের সঙ্গে পদ্মার দ্বন্দ-বিবাদ, পদ্মার প্রতি সদাগরের অবহেলা, পদ্মার ইশারায় চাঁদ সদাগরের চোদ্দো ডিঙ্গা সমুদ্রের জলে তলিয়ে যাওয়া, বেহুলা-লক্ষ্মীন্দরের জন্ম ও বিবাহ বৃত্তান্ত, লক্ষ্মীন্দরকে সাপে দংশন, কলার ভোড়ায় মৃত লক্ষ্মীন্দরকে ভাসিয়ে দেওয়া এবং ভোড়ায় বিপুলার সঙ্গী হওয়া, বহু চড়াই-উতড়াই পেরিয়ে পদ্মার মুখোমুখি বিপুলা, পদ্মা কর্তৃক লক্ষ্মীন্দরকে বাঁচিয়ে তোলা, চাঁদ সদাগর কর্তৃক মনসা পূজা ও মর্ত্যে মনসা পূজার উৎপত্তি সম্পর্কিত নানা তথ্য রয়েছে।

    লক্ষ্মীন্দর ও বিপুলার বিবাহ এবং লক্ষ্মীন্দরকে বাসর রাতে সাপে কাটার অংশটুকু মনসামঙ্গলসহ বাংলা মঙ্গলকাব্যের সবচেয়ে জনপ্রিয় কাহিনি হিসেবে ইতোমধ্যে স্বীকৃতি পেয়েছে। কেবলমাত্র এ কাহিনির উপর ভিত্তি করে একাধিক গান, কবিতা ও মঞ্চ নাটক পর্যন্ত রচিত হয়েছে। সুনামগঞ্জের শাল্লা উপজেলার জয়দূর্গা ঢপযাত্রা নাট্যসংঘের সদস্যরা এ কাহিনি নিয়ে একটি ঢপযাত্রা নিয়মিত মঞ্চায়নও করে থাকে।

    মনসার নির্দেশে বাসর ঘরে লক্ষ্মীন্দরকে যখন কালীনাগ দংশন করে, তখন বিপুলা ছিলেন ঘুমে অচেতন। লক্ষ্মীন্দর শত চেষ্টা করেও বিপুলাকে জাগাতে পারেননি। বিষ-যন্ত্রণায় ছটফট করতে করতে লক্ষ্মীন্দর বলেন-‘মরি গো তরাসে প্রিয়া মরি গো তরাসে।। টলমল করে প্রাণ নাগের নিশ্বাসে।’ ছোটোবেলায় মা-দাদিদের মুখে পদ্মপুরাণ কাব্যের এ-রকম ধুয়া শুনে মনটা খারাপ হয়ে যেত। আমরা তন্ময় হয়ে শুনতাম পদ্মপুরাণ-এর লাচাড়ির পরের পঙ্ক্তিগুলো :

    চমকিয়া লক্ষ্মীন্দর উঠিল সত্বরে
    বিপুলা বিপুলা করি ডাকে উচ্চৈঃস্বরে।
    উঠো উঠো প্রাণেশ্বরী কত নিদ্রা যাও
    কিসে কামড়ালো মোরে চক্ষু মেলি চাও।
    সত্বরে উঠো হে প্রিয়া কামড়ালো কিসে
    সর্বাঙ্গ পুড়িয়া উঠে কালকূট বিষে।
    না-হইল মাস পক্ষ দিন অষ্ট চারি
    কাল-রাত্রি পদ্মাবতী তোমা কৈল রাঁড়ী।
    নারী কূলে জন্ম তুমি বিফলে লভিলে
    স্বামী সনে এক রাত্রি সুখে না রহিলে।
    আমার মরণে তুমি না জীবে পরাণে
    তোমা হেন অভাগিনী নাহি ত্রিভুবনে।

    লক্ষ্মীন্দরের আক্ষেপ পাঠকের মনে বিরহ-দহন জাগায়। বিপুলা ঘুম থেকে জেগে যখন বুঝতে পারেন-তাঁর স্বামীকে সাপে দংশন করেছে। তখন বিপুলার বিলাপ আর আর্তি আরও করুণ পরিবেশের সৃষ্টি করে। ঘটনার ধারাবাহিকতায় কলার ভোড়ায় ভাসিয়ে দেওয়া সাপে-কাটা লক্ষ্মীন্দরের সঙ্গী হয়ে বিপুলা নদী-সাগর পেরিয়ে অজানা গন্তব্যে ভাসতে থাকেন। ভাসতে ভাসতে বিপুলা একসময় পৌঁছে যান স্বর্গে। সেখানে নৃত্য প্রদর্শন করে বিপুলা দেবতাদের মনোতুষ্টি অর্জন করেন। পরে নেতা এবং দেবতাদের সহায়তায় পদ্মার দ্বারস্থ হয়ে নানা কৌশল ও বুদ্ধিমত্তার পরিচয় দিয়ে বিপুলা পদ্মার কৃপা লাভ করতে সমর্থ হন। পদ্মা বিপুলার স্বামী লক্ষ্মীন্দরকে জীবিত করেন এবং বিপুলার শ্বশুরের হারানো ধন-সম্পদ ফিরিয়ে দেন।

    ছোটোবেলায় পদ্মপুরাণ পাঠকের দরদি বর্ণনায় বিপুলা-লক্ষ্মীন্দরের জন্য মন খারাপ করত। বড়ো হয়ে যখন উচ্চশিক্ষার্থে সিলেট আসি তখন প্রায় ভুলেই গেলাম ‘বিষুরি’ পূজার কথা। কখন যে শ্রাবণ মাস আসে আবার কখন যে শ্রাবণ মাস চলে যায়-সে খবর যেন অজানাই থেকে যায়। বছর এগারো আগে প্রথমবারের মতো শুনি সুমন চট্টোপাধ্যায়ের (কবীর সুমন) বিখ্যাত সেই গান-‘কাল কেউটের ফণায় নাচছে লক্ষ্মীন্দরের স্মৃতি। বেহুলা কখনও বিধবা হয় না। এটা বাংলার রীতি’। এ গানটি যতবার শুনতাম ততবারই মনে পড়ত ছোটোবেলার শোনা পদ্মপুরাণ-এর সুর।

    বেলা-অবেলায় কবীর সুমনের সেই গানটি কতই না গেয়েছি! তবে ব্যস্ততার কারণে গ্রামের বাড়ি তেমন একটা যাওয়া হয় না, পদ্মপুরাণও আর সেভাবে শোনা হয় না। এক বর্ষায় (১৪১৯ বঙ্গাব্দ) কলকাতার প্রখ্যাত সংগীত শিল্পী মৌসুমী ভৌমিক ও শব্দধারক সুকান্ত মজুমদার লোকগানের খোঁজে সিলেটে আসেন। সে সময় পদ্মপুরাণ-এর সুর-বৈচিত্র্য স্বচক্ষে দেখতে আমাদের গ্রামের বাড়ি গিয়েছিলেন। সংগত কারণে আমিও ছিলাম তাঁদের সার্বক্ষণিক সঙ্গী। সে সময় সুনামগঞ্জের হাওর অধ্যুষিত শাল্লা উপজেলার বাহাড়া, নাইন্দা, হরিপুর, ঘুঙ্গিয়ারগাঁও, খল্লি ও ডুমরা গ্রামে নারী এবং পুরুষ উভয়ের কণ্ঠে পদ্মপুরাণ পাঠ শুনেছিলাম। প্রত্যক্ষ করলাম-আমাদের শৈশবের শোনা পদ্মপুরাণ পাঠের সঙ্গে এখনকার পাঠের কোনও হেরফের হয়নি। মনসা পূজার বৈচিত্র্যেও তেমন ফারাক নেই। সেই উৎসবের মেজাজ, রং ও বৈচিত্র্যতা এখনও যেন অবিকল রয়ে গেছে।

    শাল্লা উপজেলার এ গ্রাম-ও গ্রাম ঘুরে ঘুরে মৌসুমীদি আর সুকান্তদা পদ্মপুরাণ গান রেকর্ডিং করতে থাকেন। এই ফাঁকে আমি সেসব গ্রামীণ গায়কদের সঙ্গে নানা আলাপ সেরে নিই। জেনে নিই তাঁদের গান শেখার উৎস এবং পেশাগত অবস্থান। প্রায় সবাই গ্রামের নিরক্ষর ও খেটে-খাওয়া লোক। পড়াশোনায় হয়তো কেউ কেউ প্রাথমিকের গন্ডি পেরোননি, কিন্তু কী অবলীলায় চোখের ঠাহরে আঙুল ধরে ধরে পাঠ করে নিতে পারেন পুরো পদ্মপুরাণ। হাওরাঞ্চলের প্রায় গ্রামের ঘরে ঘরে এ উদাহরণ পাওয়াটা কোনও অবিশ্বাস্য তথ্যও নয়। উত্তরাধিকার সূত্রে তাঁদের রক্তে গান বইছে, ছোটোবেলায় মা-কাকি-দাদি আর বাবা-কাকা-জেঠাদের মুখে পদ্মপুরাণ পাঠ শুনতে শুনতে তাঁরা নিজেও এখন ডাকসাইটে শিল্পীতে পরিণত হয়েছেন। এটাই মূলত গ্রামীণ মানুষের গান শেখা ও চর্চার শেকড় বা উৎসভূমি।

    শাল্লা উপজেলার ডুমরা গ্রামের ঝন্টু দাশ, যিনি স্বশিক্ষিত ইঞ্জিন মেকানিক ও কাঠমিস্ত্রি বলে আমাদের জানিয়েছিলেন। প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা নেই, তবু নৌকার নষ্ট ইঞ্জিন সারিয়ে নিতে কিংবা কাঠের আসবাবপত্র তৈরিতে পুরো উপজেলায় তাঁর বিকল্প নেই। সেই স্বশিক্ষিত ইঞ্জিন মেকানিক।কাঠমিস্ত্রি ঝন্টু পদ্মপুরাণ-এর ডাকসাইটে গায়ক। তাঁর গান শুনে মুগ্ধ গ্রামের মানুষ। নাইন্দা গ্রামের অলিরানি তালুকদার একজন পুরোদস্তর গৃহিনী। অভাব-অনটনে যাঁর সংসার চলাতে হিমশিম খেতে হয়। দরিদ্রতার কারণেই দ্বিতীয় শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা করে আর এগুতে পারেননি। চার বছর আগে বিয়ে হওয়ার পর নেত্রকোনা জেলার মদন উপজেলার কদমশ্রী গ্রামের বাপের বাড়ি ছেড়ে স্বামীর বাড়িতে আসেন। তিনিও একজন প্রভাবশালী পদ্মপুরাণ গায়িকা। প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা ছাড়াও কেবল চোখের আন্দাজে অক্ষর গুণে গুণে কীভাবে পদ্মপুরাণ পাঠ সম্ভব?-এ প্রশ্নে তাঁর নির্বিকার উত্তর, ‘এটি এখানকার সবাই পারে। এটা আর এমন কী কঠিন কাজ?’

    টানা কয়েকদিন পদ্মপুরাণ পাঠ শুনতে হাওরের কত কত গ্রাম ঘুরেছি। প্রতিটি গ্রামেই নারীরা সুর করে পদ্মপুরাণ-এর বেহুলা-লক্ষ্মীন্দরের কাহিনি বৈঠকি গানের সুরে গাইছিলেন। আমাদের আড্ডা-গল্প-গান চলে সমানতালে। এরই ফাঁকে এক রাতে আমাদের বাসার ছাদে পাটি বিছিয়ে বসল গানের আসর। ওইদিন আকাশ ছিল অন্ধকারে ঢাকা। চাঁদের আলোর ছিটেফোঁটাও নেই। অন্ধকারে আমরা কেবল একে-অপরের নিশ্বাস-প্রশ্বাসের শব্দ টের পাচ্ছিলাম! তবে সে রাতে ঢের বাতাস ছিল। সেই বাতাসে ভেসে বেড়াচ্ছিল বিচ্ছেদী গান। একে একে রাধারমণ, উকিল মুনশি ও শাহ আবদুল করিমের লেখা গান গাইলেন স্থানীয় দুই সংগীতশিল্পী ধরণী দাস ও লিংকন দাশ। সবশেষে গান ধরলেন মৌসুমী ভৌমিক। গলায় সে কী টান! যেন আবেগ উপচে পড়েছে! গভীর রাতে শেষ হয় গানের আসর।

    পরদিন মনসা দেবীর বিসর্জন। আমরা একটা নৌকা করে ডুমড়া গ্রামের পাশের হাওরে বিসর্জন দেখতে যাই। বিকেলের দিকে দেবী বিসর্জন শুরু হয়। চারিদিকে খোল-করতাল-ঢোলের আওয়াজ। সে এক অপূর্ব দৃশ্য। ডুমরা গ্রামের পাশে দাড়াইন নদীর কাছে এসে দেবীকে বিসর্জন দেওয়ার সঙ্গে নৌকায় আগতরা লাফিয়ে লাফিয়ে পানিতে পড়তে থাকেন। এ দৃশ্য দেখে আমরাও উৎসাহিত হয়ে পানিতে ঝাঁপ দিই। আমরা মানে সুকান্তদা, প্রশান্তদাসহ কয়েকজনের সঙ্গে আমিও। দেবী বোধনের সঙ্গে তালমিলিয়ে আমরা হাওরের অবারিত জলে মেতে উঠি জলখেলায়। আর এ দৃশ্য নৌকায় বসে ক্যামেরায় ধারণ করছিলেন মৌসুমীদি।

    ঘণ্টাখানেক পর জলখেলা শেষে আমরা নৌকায় উঠি। এবার বিদায়ের পালা। মৌসুমীদিদের বিদায় জানিয়ে বাড়ি ফিরি। মৌসুমীদি কলকাতায় ফিরে গিয়ে ই-মেইল মারফত আমাকে একটা চিঠি লিখেছিলেন। তাঁর চিঠির কয়েকটি পঙ্ক্তি ছিল এ-রকম : ‘সুমন, কেবলই ভাবছি তোমাকে চিঠি লিখব, কিন্তু হয়ে উঠছে না কিছুতেই। শাল্লার রেকর্ডিং শুনি, তোমাদের দ্বীপের মতন গ্রামের ছবি দেখি। ডুমরার সুভাষ; যে নাকি যে কোনও যন্ত্র খুলে সারিয়ে ফেলতে পারে, তার কণ্ঠস্বর আমাদের মজিয়ে রাখে। তোমাদের বাড়ির ছাদে রাতের গান, ধরণীর গলায় বিচ্ছেদ উপচে পড়ে। এ বাড়ি-ও বাড়ি থেকে ভেসে আসা পাঁচালি, মুঠো ভরা নারকেল প্রসাদ। নৌকার উপর লিংকনের বাবার মনসার প্রতিমাকে দু-হাত দিয়ে ধরে থাকা, তোমার-সুকান্তর-প্রশান্তর ঝপ করে জলে ঝাঁপ দেওয়া-এমন একটা ছুটি সহজে মেলে না। এইসব ভাবি, কিন্তু চিঠি লিখতে অনেকটা দেরি হয়ে যায়।’

    মৌসুমীদির চিঠিতে আরও ছিল হাওরপারের মানুষের পদ্মপুরাণ পাঠ শুনে তাঁর ব্যক্তিগত ভালোলাগার বর্ণনা। তাঁদের গানের বৈচিত্র্যময় সুর ও গায়কীর নিখাদ প্রশংসা। পদ্মপুরাণ-এর প্রসঙ্গ উঠলেই এখন আমার কানে বাজে মৌসুমীদির চিঠির বাক্যগুলো। আমার কেবল অবাক লাগে এটিই ভেবে যে-সেই মধ্যযুগ হয়ে একবিংশ শতাব্দীর মানুষের কাছে এখনও কীভাবে সমান জনপ্রিয়তা ধরে রেখেছে মনসামঙ্গল কাব্য? মধ্যযুগে রচিত এসব কাব্যের কী এমন আকর্ষণ?-যার জন্য গ্রামীণ মানুষ থেকে শুরু করে শহুরে নাগরিকেরা পর্যন্ত মুগ্ধ!

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleদ্য হাউস হোয়ার আই ডাইড ওয়ান্স – কেইগো হিগাশিনো
    Next Article ডক্টর ইউনূসের দারিদ্র্য বাণিজ্য – বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Our Picks

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }