Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    লোকায়ত জীবন ও লোকসাহিত্য – সুমনকুমার দাশ

    সুমনকুমার দাশ এক পাতা গল্প328 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    সোমেশ্বরী মেলার অতীত-বর্তমান

    বাংলাদেশের সুনামগঞ্জের শাল্লা উপজেলার দাড়াইন নদীর ধারে সবুজ-শ্যামল ছোট্ট গ্রাম বাহাড়া। সেই গ্রামের দু-চারজনকে ‘বাহাড়া’ নামের উৎপত্তি হলো কীভাবে সে প্রসঙ্গে জিজ্ঞেস করলাম। কিন্তু কেউ বলতে পারলেন না। তবে গ্রামের পাশে যে প্রায় সাড়ে তিনশো বছর ধরে ‘সোমেশ্বরী মেলা’র প্রচলন, সেটা বেশ বলতে পারলেন। তার মানে, এই গ্রামের উৎপত্তি সাড়ে তিনশো বছরেরও অধিক সময় পূর্বের। আর তখন থেকেই পুণ্যার্জনের স্থান হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে সোমেশ্বরী মন্দির প্রাঙ্গণ।

    সোমেশ্বরী মেলার উৎপত্তি বিষয়ে জানা যায়, ভাটি এলাকার কৃষকেরা বছরে একবারই ফসল ফলাতেন। সেটা হচ্ছে বোরো ধান। সেই খেতের ফসলের উপর নির্ভর করেই সারা বছর খাদ্যসহ খরচ জুগাত। কিন্তু আগাম বন্যা, খরা, শিলাবৃষ্টি ও ঝড়ে প্রায় বছরই সেই ফসল হয় পানিতে তলিয়ে যেত নতুবা বিনষ্ট হতো। এমনই একসময়ে বাহাড়া গ্রামের এক ব্যক্তি পার্শ্ববর্তী পাহাড়ের পাদদেশের নলখাগড়ার বনে নল কাটতে গিয়ে একটি শিলা (পাথর) দেখতে পান। ওই ব্যক্তিটি নল কাটার সুবিধার্থে পাথরটি বাড়িতে নিয়ে আসেন। পরদিন পাথরের উপরে রেখে নল কাটার সময়ে দা-এর আঘাতে পাথরটি ভেঙে দুই টুকরো হয়ে যায়। ভেঙে যাওয়া পাথরের অংশ দিয়ে তাৎক্ষণিক রক্ত বেরোতে থাকলে লোকটি ভয় পেয়ে যান। ওই রাতেই ব্যক্তিটি স্বপ্নে দেখেন-ভাঙা পাথরটি হচ্ছেন সোমেশ্বরী দেবী। সেই দেবীকে গ্রামের পাশে স্থাপন করে পূজা-অর্চনা করতে হবে। এ স্বপ্নের কথা তিনি গ্রামবাসীকে জানালে সবাই মিলে গ্রামের পাশের একটি উঁচু স্থানে পাথরটি স্থাপন করেন। সেই থেকেই পাথরখন্ডটি ‘সোমেশ্বরী দেবী’ রূপে হিন্দু ধর্মলম্বীদের কাছে পূজিত হয়ে আসছে। পাথরখন্ডটি গ্রামের লোকেরা ‘সোমেশ্বরী দেবীর শিলা’ আখ্যা দিয়ে পূজা-অর্চনা শুরু করেন। মানুষজন অকাল বন্যা ও শিলাবৃষ্টি থেকে রক্ষা পেতে সোমেশ্বরী দেবীর দ্বারস্থ হয়ে মানত করতে থাকেন। ধীরে ধীরে সে খবর ভাটিঅঞ্চলের বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে পড়ে। এরপর পুণ্যার্থীদের বিস্তৃতি ক্রমশ বৃদ্ধি পেতে থাকে। এভাবেই শুরু। এখন সেই সোমেশ্বরী প্রাঙ্গণ তীর্থ হিসেবে রূপ পেয়েছে।

    সোমেশ্বরী মেলা যে দেবীর স্মরণে পালিত হয়ে আসছে, সেই দেবীর বিগ্রহ হচ্ছে বেশকিছু পাথরখন্ড। শাল্লার আদি গ্রাম বাহাড়ার পাশে ছোটো-বড়ো গোটা চল্লিশেক পাথরখন্ডতার শরীরে সিঁদুর ধারণ করে গ্রামীণ সহজসরল মানুষের লৌকিক ইতিহাস ও বিশ্বাসের সাক্ষী হয়ে ঠায় দাঁড়িয়ে রয়েছে। ভাটিঅঞ্চলের মানুষেরা বিশ্বাস ও শ্রদ্ধায় প্রতি শুক্র ও সোমবার পাথরখন্ডে দুধ ঢেলে স্নান করিয়ে সিঁদুর মাখিয়ে দেন। কত শত মানুষ সেই পাথরখন্ডরে কাছে হাতজোড় করে মানত করছেন। এখানে দাঁড়িয়ে কায়মানোবাক্যে মনের দুঃখ জানাচ্ছেন লৌকিক দেবী সোমেশ্বরীর কাছে। জীবনযুদ্ধে না-পাওয়ার বেদনা ও হতাশায় আকীর্ণ মানুষের দীর্ঘশ্বাস এখানে প্রতিনিয়ত জমা হচ্ছে। তাঁরা উদ্ধারের আশায় পরম ভক্তিভরে সোমেশ্বরীর কাছে পরিত্রাণ চান।

    সেটা তো লৌকিক দেবী সোমেশ্বরীর এক রূপ। অন্য আরেক রূপ রয়েছে। সেটা প্রত্যক্ষ করা যায় প্রতি চৈত্র মাসের রবি ও সোমবার। এ দুইদিন এখানে মেলা বসে। স্থানীয় অনেকে আবার মেলাকে ‘বান্নি’ বলে থাকেন। দুই দিনব্যাপী মেলার প্রথম দিন বসে ‘বেল-কুইশ্যালের মেলা’। এই মেলায় কেবল বেল-ইক্ষু বিক্রি হয়। সেই মেলাস্থলটি হচ্ছে সোমেশ্বরী মন্দির প্রাঙ্গণে যাওয়ার সামান্য আগে। দাড়াইন নদীর পাড়ে এ মেলা বসে। শত শত পাইকারি ও খুচরা বিক্রেতা বেল ও ইক্ষু নিয়ে বসে থাকেন। প্রতি আঁটি (এক আঁটিতে অন্তত ১২-১৫টি ইক্ষু থাকে) ইক্ষু বিক্রি হয় ৫০ থেকে ১৪০ টাকায় এবং প্রতি হালি বেল বিক্রি হয় ৪০ থেকে ১৫০ টাকায়। পরের দিন সোমবার সোমেশ্বরী প্রাঙ্গণে বসে বারোয়ারি মেলা। খাদ্যদ্রব্য থেকে শুরু করে ব্যবহার্য জিনিস-হরেক রকমের জিনিস মেলে সেই মেলায়।

    উপমহাদেশের অন্যতম এই বৃহৎ মেলায় ভাটিঅঞ্চলের হিন্দু-মুসলিম নির্বিশেষে প্রায় কয়েক লক্ষাধিক মানুষের সমাগম ঘটত একসময়। তবে মেলা ধীরে ধীরে বৈচিত্র্য হারাচ্ছে, মানুষের সমাগমও কমছে। কমতে কমতে এমন অবস্থা দাঁড়িয়েছে-এখন মানুষ হাজার পঞ্চাশেক হয় কিনা সন্দেহ! আমাদের শৈশবে এই মেলাই ছিল উচ্ছ্বাস প্রকাশের অন্যতম ক্ষেত্র। মেলার দুদিন সকাল থেকেই বাবার আশপাশে ঘোরাফেরা, কখন বিকেল আসবে আর বাবা মেলায় নিয়ে যাবেন।

    মেলার প্রস্তুতিটা শুরু হয়ে যেত কয়েকদিন আগে থেকেই। আগের বছর মেলা থেকে কিনে আনা একটি মাটির ব্যাংকের ফুটো দিয়ে পাঁচ পয়সা থেকে শুরু করে এক টাকা পর্যন্ত জমাতাম। চৈত্র মাসের প্রথম রোববার ঘটা করে সেই মাটির ব্যাংকটি ভাঙতাম। এরপর শুরু হতো টাকা গোনার পালা। সর্বসাকুল্যে ৩০ থেকে ৩৫ টাকা হতো। শৈশবে এ ছিল আমাদের কাছে অনেক টাকা! একটা পিস্তল বড়োজোর পাঁচ টাকা, চরকি দুই টাকা, হাওয়াই মিঠাই এক টাকা, প্লাস্টিকের বল ১০ টাকা। খেলনা কেনার হিসেব কষতে-কষতে পুরো দিনটাই যেত। আর বাবার কাছ থেকে বাড়তি খেলনা উপহার প্রাপ্তি তো রয়েছেই। এছাড়া মেলায় আসার আগ-মুহূর্তে মা ও বড়ো ভাই-বোনদের কাছ থেকে আরও কিছু টাকা পাওয়ার নিশ্চয়তা তো ছিলই।

    সেই সকাল থেকে মেলায় যাওয়ার জন্য উদগ্রীব হয়ে থাকতাম। দুপুরের পর বাবার ভাতঘুম শেষে বিকেল হলে মেলায় যাওয়ার প্রস্তুতি শুরু হতো। সে মুহূর্তটুকুর আনন্দ ছিল অন্যরকম। বাবার পাঞ্জাবির কোনা খামচে খেত-লাগোয়া মেঠোপথ দিয়ে হাঁটতাম। বাবা স্কুলশিক্ষক, সবাই তাঁকে চেনে। তাই মানুষেরা হাত তুলে তাঁকে নমস্কার করত। এভাবেই আমাদের বাসস্থান ঘুঙ্গিয়ারগাঁও বাজার থেকে আধা কিলোমিটার হেঁটে মেলা-প্রাঙ্গণে পৌঁছতাম। কী নেই মেলায়? খেলনা থেকে শুরু করে মুড়ি-মুড়কি-জিলিপি-রসগোল্লা কত কী!

    এখনও মনে পড়ে বায়োস্কোপওয়ালার কণ্ঠ-‘হায় রে জানি কী কী আছে?। দেখবার মতো জিনিস আছে।’ সেই ‘দেখবার মতো জিনিস’ দেখবার জন্য মন আকুলিপাকুলি করত। আট আনা খরচ করে অতি-আগ্রহের সেই বায়োস্কোপে চোখ রাখতাম। ডান চোখ বন্ধ করে বাম চোখে ‘দেখবার মতো জিনিস’ দেখতাম। কী কী দেখতাম-সেসব আর তেমন মনে নেই। যতদূর মনে পড়ে তখনকার বাংলা সিনেমার নায়ক-নায়িকা, বন-জঙ্গলের ছবি আর ‘বাপের বেটা’ হিসেব তৎকালীন সময়ে পরিচিতি পাওয়া ইরাকের সাদ্দাম হোসেনের ছবি ছিল বায়োস্কোপের বাক্সে। তবে বায়োস্কোপের ভেতরে চোখ রাখার চেয়েও আকর্ষণীয় ছিল বায়োস্কোপওয়ালার হাস্যরসাত্বক মধুর বর্ণনা।

    পরিষ্কার মনে আছে-বায়োস্কোপের ওপরে স্থাপিত দুটি ছোট্ট দন্ডে দুইটি পুতুল থাকত। একটি পুরুষ পতুল, অপরটি নারী পুতুল। দুই পুতুলকে নিয়ে ছিল বায়োস্কোপওয়ালার গানের ঢঙে মজাদার বিবৃতি। সেই লম্বাচুলওয়ালা বায়োস্কোপওয়ালা ডান হাতে খঞ্জনি বাজাতেন আর মজাদার কথাগুলো আওড়াতেন। অন্য হাতে বায়োস্কোপের হাতল ঘুরিয়ে বাক্সের ভেতরের ছবিগুলো একের পর এক নিয়ে আসতেন। বায়োস্কোপওয়ালা চমৎকার ঢঙে নানাসব কথা বলেই নারী পুতুলটির গালে হাতে দিয়ে একটি ঠোকর দিয়ে বলতেন, ‘নাতিন লো নাতিন, মরলে!’

    বায়োস্কোপওয়ালা যখন পুতুলটিকে ঠোকর দিতেন, আমারও ইচ্ছে হতো ওই পুতুলটিকে ঠোকর দিই। বায়োস্কোপওয়ালার চোখ ফাঁকি দিয়ে যে, এক-আধবার ঠোকর দিইনি, তাও কিন্তু নয়। ইদানীং সোমেশ্বরী মেলায় গিয়ে ছোটোবেলার দেখা বায়োস্কোপওয়ালা কিংবা অন্য কোনও বায়োস্কোপওয়ালাকে আর চোখে পড়ে না। তবে কি বায়োস্কোপের দিন শেষ হয়ে গেল?

    শৈশবের মেলার কত কত স্মৃতি। কিছু যে একেবারেই ফিকে হয়ে যায়নি তা নয়। তবে যে-পর্যন্ত স্মৃতিতে আছে, সেটি এ-রকম : মেলায় যাওয়ার পথে দাড়াইন নদীর দুটি অংশে দুটি বাঁশের সেতু পারাপার হতে হতো। মেলার দিন মানুষের ভিড় বেশি থাকায় সেতুর নিচে খেয়া নৌকাও থাকত। যাঁরা বাঁশের সেতু চড়তে ভয় পেতেন কিংবা যাঁদের হাত জিনিসপত্র বোঝাই থাকত, কেবলমাত্র তাঁরাই সেতু ব্যবহার না করে বিকল্প খেয়ানৌকা দিয়ে নদী পাড়ি দিতেন। প্রতি বছরই দেখেছি-হুড়মুড়িয়ে নৌকোয় উঠার কারণে নৌকাডুবি ঘটত। মুহূর্তেই শুরু হতো নারীপুরুষ-শিশুদের চিৎকার-চেঁচামেচি। সবারই যেন ‘চাচা আপন প্রাণ বাঁচা’। উৎকণ্ঠা-ভরা দৃষ্টিতে কেউ কেউ নদীর দিকে তাকাত, কেউবা উদ্ধার করতে লাফিয়ে পড়ত জলে। তবে খননের অভাবে যৌবন-হারানো দাড়াইন নদীতে আর জল কতটুকুই বা? হাঁটু বা বুক সমান জল হবে! সামান্য স্রোত যে নেই তাও কিন্তু নয়। উতরোল ঢেউ পার হয়ে ভিজে কাপড়ে ডুবে-যাওয়া মানুষগুলো তীরে উঠামাত্র যেন প্রাণ ফিরে পেত!

    মেলায় এত এত মানুষের হাঁটাহাঁটির কারণে প্রচুর ধুলো উড়ত। মেলায় যেসব বিক্রেতারা বসতেন (বিশেষ করে ‘মূর্তিছিলা’লাগোয়া পুকুরটির পাশে) তাঁদের কালো চুল ধুলায় সাদা হয়ে যেত। বিক্রেতাদের মেলানো পসরাও সাদা হয়ে যেত। এখনও সমানতালে ধুলো ওড়ে, সেই ধুলো-ওড়া বিকেল মেলার অন্যতম সুখস্মৃতি। মেলাকেন্দ্রিক আরও আরও স্মৃতি রয়েছে। শৈশবে বড়োদের আলাপ করতে শুনতাম, ‘মেলায় জুয়াখেলা বাইড়া যাইতাছে।’ এটি যে নিষিদ্ধ কোনও খেলা সেটা ঢের বুঝতে পারতাম, তবে খেলাটি কী ধরনের সেটা জানতাম না। দিনের বেলা মেলা শেষে রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বসত জুয়াখেলা-এ-রকম তথ্য আমাদের জানা ছিল। যখন কৈশোরে পা দিই, তখন কয়েক বন্ধু মিলে জুয়াখেলা জিনিসটা কী-সেটি দেখতে নির্দিষ্ট স্থানে হাজির হই।

    জুয়াখেলার স্থানটিতে হাজির হয়ে দেখি নানা বয়সি মানুষ গোল হয়ে বসে রয়েছে। মধ্যখানে একটি আলো ঝলমলে হ্যাজাক লাইট জ্বলছে। কিশোর, যুবক, বৃদ্ধ-অনেক চেনা মানুষকে দেখতে পেলাম। যেহেতু এটি ছিল নিষিদ্ধ অঞ্চল, তাই সামান্য সময় পরেই আমরা বন্ধুরা স্থান ত্যাগ করার উদ্দেশ্যে পা বাড়াই। ঠিক এমন সময়ই দেখা হয়ে যায় আমাদের এক স্যারের সঙ্গে। স্যারকে দেখে কোনওক্রমে আমরা সট্কে পড়ি। আমাদের সে কী চিন্তা। কেনই বা উঁকি দিতে গেলাম সেই দিকটায়? সেখানে যাওয়ার কারণেই তো স্যার দেখতে পেলেন!

    এখন কী যে হবে! তবে স্যার কেন সেই নিষিদ্ধ দিকটায় গেলেন-সেটা কৈশোর বয়সে বুঝতে পারিনি! ভাবতাম-স্যার আমাদেরই মতো বোধহয় জুয়ার আসরটি ঘুরে দেখতে গিয়েছিলেন! সেদিন চেনা মানুষগুলোর কে জুয়া খেলতে গেল আর কে জুয়াখেলা দেখতে গেল-সেই বিশ্বাস-অবিশ্বাসের দোলাচালে দীর্ঘদিন ভুগেছিলাম প্রথম জুয়াখেলা দেখার সন্ধ্যাটির কথা ভেবে ভেবে। সে সময় জুয়াখেলা আড়ালে-আবডালে হতো। চট, ত্রিপল কিংবা পাটির মাধ্যমে খেলার স্থানটি আড়াল করে দেওয়া হতো। আর এখন জুয়া খেলাটাই যেন মুখ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে সোমেশ্বরী মেলায়। আগে অনেকটা লোকচক্ষুর আড়ালে জুয়াখেলা চললেও এখন অনেকটা প্রকাশ্যেই এ খেলা হয়। উপটৌকন পেয়ে পুলিশ যেন সেই খেলার পাহারাদারের ভূমিকা পালন করে! সামাজিক সম্মান প্রদানের রীতিনীতি তোয়াক্কা করে প্রবীণদের সামনেই চলছে জুয়াখেলা। কোনও বাধ্যবাধকতা কিংবা সম্মান-হারানোর কোনও ভয়ই যেন নেই জুয়া-খেলোয়াড়দের ভেতর।

    আমার দেখা শৈশবের সেই মেলা ক্রমশ ফিকে হয়ে আসছে। মেলার সেই রং ও বৈচিত্র্য ধূসর রূপ নিয়েছে। বাবা বলতেন, তাঁদের ছোটোবয়সে এই সোমেশ্বরী মেলায় নাকি ব্যবসায়ীরা হাতির পিঠে চড়ে মালামাল নিয়ে আসতেন। কিন্তু শৈশবে আমরা সেই দৃশ্য কখনও দেখিনি। আর যে দৃশ্য আমরা দেখেছি, সেটা এখনকার শিশু-কিশোররা দেখতে পাচ্ছে না। ধীরে ধীরে যেমন লোকসমাগম কমছে, তেমনই বর্ণিলতা পাংশুটে রং ধারণ করছে। ছোটোবেলায় যখন নতুন বছরের বর্ষ-পঞ্জিকা দেখতাম, তখন চৈত্র মাসের নির্দিষ্ট ওই দিনটির সূচিতে দেখতাম-‘সোমেশ্বরী মেলা হচ্ছে উপমহাদেশের অন্যতম বৃহৎ মেলা’। ‘অন্যতম সেই বৃহৎ মেলা’টি নীরবে-নিভৃতে কেমন যেন নিস্তেজ হয়ে পড়ছে। মেলা উপলক্ষে বসা অস্থায়ী সার্কাস, ষাড়ের লড়াই, টিয়ে পাখির ভাগ্যগননা, পুতুলনাচ-এসব এখন আর চোখেই পড়ে না। দেখা মেলে না সেইসব কুটির শিল্প কারিগর, কুমার ও কামারদের-যাঁদের হাতের কারুকার্যে তৈরি হতো পলো, কুলো, লাঠি, দা, চুপড়ি, কড়া, জাল, বড়শি, ছিপ, খুন্তিসহ নানা ব্যবহার্য দ্রব্য ও খেলনাসামগ্রী।

    কী সুন্দর করে পুথিপাঠ করতেন ভরতচন্দ্র সরকার। দৃষ্টিহীন হওয়ায় তিনি ‘অন্ধ ভরত’ নামে পরিচিত। প্রতি বছরই মেলার দিনটি ওই লোকটির পাঠ করা পুথির সুর পুরো মেলা প্রাঙ্গণে ভিন্ন দ্যোতনা সৃষ্টি করত। অন্ধ ভরত চেঁচিয়ে মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলতেন, ‘অন্ধ ভরতের পুথি, শুনলে হবে গতি’। সেই অন্ধ ভরতের বয়স যখন বাড়তে শুরু করে তখন তিনি একটি চাটি পেতে সোমেশ্বরী মন্দিরের ঠিক পাশেই বিভিন্ন ধর্মীয় পুস্তক এবং স্থানীয়ভাবে জেলা শহরে নিউজপ্রিণ্ট কাগজে মুদ্রিত পুথি, ধামাইলগান, সূর্যব্রতের গান, কীর্তন, পাঁচালি, মালসিসহ বিভিন্ন লোকসংগীতের বই মেলায় বিক্রি শুরু করেন। সেসব বইপুস্তকের লেখকেরা ছিলেন গ্রামীণ নিরক্ষর গীতিকারেরা। প্রকৃতি হতে প্রাপ্ত জ্ঞানই ছিল এসব গীতিকারদের দিক্দর্শন।

    অন্ধ ভরতের গত কয়েক বছর আগে মারা গেছেন। তাই অন্ধ ভরতের সুমধুর কণ্ঠের পুথি আওড়ানো আর কারও কানে বাজে না। মেলা প্রাঙ্গণে অন্ধ ভরতের বসার স্থানটিতে এখন অন্য একজন পঞ্চাশোর্ধ্ব ব্যক্তিকে বই-পুস্তক নিয়ে বসে থাকতে দেখি। তবে সেসব বই-পুস্তকের অধিকাংশই বাংলা ছায়াছবির গান আর বিভিন্ন ধরনের ভিউকার্ড। কিছু কিছু দোকানে ধর্মীয় বইপত্র ও পাঁচালি এবং ধর্মীয় পোস্টার থাকলেও লোকগানের চটি বইগুলো তেমন চোখে পড়ে না। চোখে তো পড়ে না আরও কতকিছুই। তখনকার সময়ে ছানা দিয়ে তৈরি রসগোল্লা এখন ভেজালে বিপর্যস্ত। ময়দা ও পাউডার দুধের তৈরি রসগোল্লা আগের স্বাদ হারিয়েছে কবেই! নেই জিলিপি, জাম (মিষ্টিজাতীয়), কাটাগজা, দই-চিড়া, মিষ্টি উখড়ার রমরমা অবস্থা।

    মেলায় কাছিম এবং হাওরের বড়ো বড়ো মাছের হাট বসত। টাকার অভাবে সবাই সেই কাছিম কিনতে পারতেন না। এলাকার দু-চারজন বড়ো গৃহস্থের বাড়িতে সেই কাছিম যেত। প্রতিবছরই বাবা বড়ো দেখে একটি কাছিম কিনে আনতেন। এ নিয়ে আমার আনন্দের সীমা ছিল না। কাছিম-কাটুয়া সচরাচর বাজারে কিনতে পাওয়া যায় না, তাই মেলার দিনটিতে এই প্রাণিটি কিনে নেওয়ার গৌরবে আমার শৈশবের উচ্ছ্বাসে অন্যরকম রং লাগত! পরের দিন ঘটা করে আমাদের গ্রামের বাড়ি সুখলাইনের আত্মীয়স্বজনদের নিমন্ত্রণ করা হতো। তাঁরা নিমন্ত্রণ পেয়ে আমাদের ঘুঙ্গিয়ারগাঁও বাজারের বাসায় আসতেন। সকলের উপস্থিতিতে কাছিম কাটা হতো। রান্না শেষে একসঙ্গে সবাই বসে উৎসবের মতো সেই মাংস খাওয়ার আয়োজন ছিল এক অন্যতম সুখস্মৃতি। কিন্তু এখন মেলায় কাছিম তো দূরের কথা, হাওরের তাজা-বড়ো মাছেরও সন্ধান পাওয়া যায় না।

    মেলা উপলক্ষে ভাটিঅঞ্চলের প্রতিটি বাড়িতে অতিথিদের সমাগম ঘটে। যে মেয়েটির বিয়ে হয়ে গেছে দূর কোনও গাঁয়ে, সেও জামাই-সন্তানসহ ওই দিনটিতে ‘নাইয়র’ আসে বাবার বাড়িতে। আত্মীয়-স্বজনদের উপস্থিতিতে মুখর হয়ে ওঠে ভাটির গ্রামগুলো। এখানে নাগরিক কৃত্রিমতা নেই, মেলার বদৌলতে পারিবারিক সপ্রীতি ও বন্ধনই যেন মূর্ত হয়ে ধরা দেয়। একে-অপরের সঙ্গে সাক্ষাৎলাভের এক অন্যতম উপলক্ষ সোমেশ্বরী মেলা তাই ভাটির মানুষের কাছে মহামিলনের এক কাক্সিক্ষত লগ্ন হিসেবেই পরিচিত। নগরবাসী হওয়া সত্ত্বে ও এই মেলার টানে কতবার যে ফিরে-ফিরে গিয়েছি জন্ম-এলাকায়। কিন্তু শৈশবের সেই মেলার সঙ্গে এখনকার মেলার কোনও সাদৃশ্যই যেন খুঁজে পাই না।

    আমাদের শৈশবে সোমেশ্বরী মন্দির প্রাঙ্গণটি ছিল জীর্ণ-শীর্ণ আর মেঝের পাকা যে অংশে শিলাখণ্ড রাখা হতো সেটি ছিল ভাঙাচোরা। এখন সেই সোমেশ্বরী মন্দির প্রাঙ্গণে সুদৃশ্য পাকা দোতলা ভবন উঠেছে, শিলাখণ্ড রাখার স্থানটি অনেক নানন্দিক ও দৃষ্টিনন্দন জায়গায় পরিণত হয়েছে। তবু ছোটোবেলাকার আকর্ষণ কেমন যেন ফিকে মনে হয় এখন। এই মেলা এখন আমাকে আর ছুঁতে পারছে না। ছোটোবেলার সেই চৈত্রের বিকেলের আনন্দটুকু কোথায় যেন হারিয়ে গেছে! সেটা কী বয়সের কারণে, নাকি মেলার বৈচিত্র্যতা হারানোর কারণে? বিষয়টি কখনও খুঁজে দেখিনি, খুঁজতে চাইও না। তবে মেলার সাদৃশ্য-বৈশাদৃশ্য মেলাতে গিয়ে ভাবি-রং হারাতে হারাতে আজ থেকে অন্তত ৪০-৫০ বছর পর সোমেশ্বরী মেলার অবস্থা কোথায় গিয়ে ঠেকবে?

    শুধু সোমেশ্বরী মেলা কেন? ভাটিঅঞ্চলের গ্রামীণ মেলার প্রায় সবগুলোরই একই অবস্থা। মেলার গতি-প্রকৃতি পরিবর্তিত হয়ে এখন শুধু পণ্য বিক্রির একটা নিরেট গৎবাঁধা মেলায় রূপান্তরিত হয়েছে। শিল্পায়নের দ্রুত প্রভাব পড়েছে গ্রামগুলোতেও। এ কারণে হাতে তৈরি কারু পণ্য এখন মেলায় খুব একটা চোখে পড়ে না। ঘরে ঘরে ডিশ্-সংযোগের কারণে সিনেমা এখন সহজলভ্য, তাই বায়োস্কোপ আর শিশুদের প্রাণিত করে না। মফস্বল শহরেও শিশু পার্ক প্রতিষ্ঠিত হওয়ার সুবাদে হাতে-চালানো চড়কি আর দোলনার আবেদন থাকার কথাও নয়। বাধ্য হয়ে এসব পেশার লোকেরা পেশা পরিবর্তন করে অন্য রাস্তা ধরেছেন। একের পর এক এভাবেই বিলুপ্ত হতে চলছে গ্রামীণ মেলার উৎসবের রং-ছড়ানো নানা অধ্যায়। মেলার সেই প্রাণ পুনরায় ফিরে পাওয়ার কোনও সম্ভাবনাও আর নেই।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleদ্য হাউস হোয়ার আই ডাইড ওয়ান্স – কেইগো হিগাশিনো
    Next Article ডক্টর ইউনূসের দারিদ্র্য বাণিজ্য – বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Our Picks

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }