Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    শিকলি কাটা পাখি – আশাপূর্ণা দেবী

    লেখক এক পাতা গল্প148 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    শিকলি কাটা পাখি – ২

    ২

    ‘এবার রংচঙানি ধুয়ে ফেলে—
    বাড়ি যাও হে বটু—
    হাটে হাঁড়ি ভাঙবোনা আর—
    শুনতে হবে কটু।
    সাঙ্গ হলো এবার তবে
    উজিরপুরের পালা
    যা বটেশ্বর গলায় পরে
    টাটকা ঘুঁটের মালা।’

    বটেশ্বরের যখন ঘুঁটের মালার বরাদ্দ, তখন ধরে নিতে হবে বটেশ্বরই পরাজিত।

    হাততালিতে ফেটে পড়ল অক্লান্ত শ্রোতাদের আসর। সারারাত জেগে তাদেরও উৎসাহে ঘাটতি নেই।

    আসর যদি ফাঁকা হয়ে যেতো, গায়েনদেরও অবশ্যই উৎসাহে ভাঁটা পড়তো। কিন্তু শ্রোতার দলই অফুরন্ত উৎসাহে ‘আরো হোক, আরো চলুক’। করে জিনিসটাকে থাকতে দিচ্ছিল না।

    কুচোকাঁচারা ঘুমিয়ে কাদা হয়ে অভিভাবকদের কোলের গোড়ায় পায়ের তলায় হাঁটুর নীচে চটকে পড়ে আছে, সেদিকে অভিভাবকদের দৃষ্টি নেই। জানেন সকালে উঠে বাড়ি যাবার সময় খুঁজে পেতে কুড়িয়ে নিয়ে যাবো।

    স্টেশনের ধারে সম্প্রতি একটা ‘সিনেমা হল’ হলেও এটা একটা আলাদা আকর্ষণ।

    সারা বছরের প্রতীক্ষার বস্তু।

    আবার আগামীকাল যাত্রা শুনবে রাত জেগে। গতকাল পর্যন্ত তো এই কাহিনী হয়েছে।

    পুরুষরা দিনেরবেলা ঘুমিয়ে পুষিয়ে নেবে, মেয়েদের সে সুবিধে নেই, তারা সারাদিন হাই তুলবে আর কাজ সারবে।

    মল্লিকরা বরাবর এখানে থাকে না বটে তবে দেশের সঙ্গে যোগ ছিন্ন করেনি। ছেলেবুড়ো সকলেরই উজিরপুরের ওপর খুব টান।

    আর এই পূজোর ব্যাপারে মহোৎসাহ ওদের। কলকাতার অনেক কুটুম কাটুমও ‘বাড়ির পূজো’ দেখবে বলে সঙ্গে আসে। কলকাতায় তো বারোয়ারি ছাড়া পূজা বলতে কিছু চোখে পড়ে না। আর পড়লেও সেখানে কে নাক গলাতে দিচ্ছে?

    এ আলাদা সুখ।

    তাই এই পূজোর সময়টা উজিরপুরের পথঘাট, বাগান পুকুর গ্রামের এবং শহরের কলকণ্ঠে আর আনন্দ ধ্বনিতে ঝনঝনিয়ে ওঠে।

    সুধো বাগানে এসে দাঁতন করছিল।

    ফুলবাগান নয়, আম কাঁঠালের বাগান। এখন ফল নেই কিন্তু নিবিড় ছায়া আছে।

    সুধো সেই ছায়ায় একটা গাছের গুঁড়ির ওপর বসে দাঁতন করছিল।

    সুধোর মন অন্যমনস্ক, মুখ শুকনো বিষণ্ণ।

    সারারাত লড়ালড়ির পর সকালে অবশ্যই মুখ তাজা থাকবার কথা নয়, কিন্তু এ সে শুকনো নয়। এ আর কিছু।

    গত রাত্রের বাকযুদ্ধে সুধোই শেষপর্যন্ত জিতেছে, কিন্তু এ জেতায় আত্মপ্রসাদ নেই। সুধোর বিবেক সুধোকে কাঁটা বিঁধোচ্ছে।

    ‘কথার কারচুপিতে আমি জিতেছি ওকে হারিয়ে দিয়েছি—।’ সুধো ভাবে, কিন্তু এই জেতা ন্যায্য জেতা নয়।

    অনেকবারই শ্রোতাদের ধাঁধাঁয় ফেলে আসল উত্তর এড়িয়ে গিয়ে ওকে হতভম্ব করে দিয়েছি, জব্দ করে দিয়েছি। ফলে ও খেইহারা হয়ে অন্য খেই ধরতে গেছে। অবশ্যি মাঝে মাঝে ও খুব কাঁচামিও করেছে। তখন মজা লেগেছে।

    তখন ওকে ঠিকই পেড়ে ফেলেছি।

    ঘাম ছুটে গেছে ওর।

    কিন্তু ঐ এক একবার?

    সুধো বিবেককে ঘুম পাড়াতে পারছে না।

    তাই সুধোর জিতেও পরাজিতের মুখ।

    সেই গভীর সন্দেহটাই সুধোকে এতো পীড়া দিচ্ছে নচেৎ ছলে বলে কৌশলে প্রতিপক্ষকে ধরাশায়ী করাই তো খেলা।

    ওই সন্দেহটা যদি না জাগতো, সুধো এত ধিক্কার বোধ করতো না। সমানে সমানে লড়াই হলে যে ভাবেই হোক পাঁচজনের সামনে দলের মান বজায় থাকে। নিজের মুখ বজায় রাখাটাই গৌরবের। কিন্তু এ যে তখন কেবলই মনে হয়েছে একটা মেয়ের কাছে হারবো?

    আর এখন মনে হচ্ছে, একটা মেয়ের সঙ্গে অন্যায় যুদ্ধে জিতলাম?

    কিন্তু ওই ‘মেয়ে’ শব্দটা এমন করে পেয়ে বসেছে কেন সুধোকে?

    রাখালদাস তো বারবার বলেছিল, ‘বাজে চিন্তাটা ছাড় সুধো! শ্রোতার মনহরণ করবার জন্যে ছোঁড়াকে অমন নটবর করে সাজিয়েছে। দেখতে রসালো আছে কিনা।’

    তবু সুধো ভাবছে সত্যিই কি তাই?

    ওই মুখটা সুধোর কোন গভীর অতলে একখানা ছায়া ফেলেছিল নাকি? অনেক অনেক দিন আগে? ঢেউয়ের তোলপাড়ে ভেসে উঠলো, অতল থেকে উপরে এলো। অথচ নামগন্ধ কিছুই মনে পড়ছে না। একটা গানের সুর।

    যেন কতোকাল আগে পাওয়া একটা সুরভি পুষ্পের সৌরভ স্পর্শ।

    দাঁতনটা ছুঁড়ে ফেলে দিয়ে পুকুরের দিকে এগিয়ে গেল সুধো। আর সেই সময়ই সংকল্প করলো সুধো, আমি ওর সঙ্গে দেখা করবো।

    হ্যাঁ দেখা করবো।

    দেখা করে ক্ষমা চাইবো।

    স্পষ্টাস্পষ্টিই বলবো, ‘আমি তোমায় ফাঁকি দিয়ে হারিয়েছি।’

    লোকসমাজে তো আর ও মেয়ে নয়?

    দেখা করতে চাইলে লজ্জা কী?

    তারপর সুধো চান করে নিতে জলে পড়লো।

    তাই করে এরা।

    সারারাত জেগে সকালে একেবারে চান করে উঠে বড়ো এক গ্লাস চিনির শরবৎ অথবা এক গ্লাস ডাবের জল খেয়ে টেনে লম্বা হয়।

    সুধো ভাবলো এখন দেখা করতে গিয়ে লাভ নেই। বটেশ্বর নিশ্চয় ঘুমোচ্ছে।

    তবু ব্যাকুলতার জয় হলো।

    সুধো স্নান করে ভাল ধুতি পাঞ্জাবী পরে জিতেনবাবুর বৈঠকখানা বাড়ির কাছে গিয়ে হাজির হলো। এইখানেই মান্না কোম্পানীর থাকবার জায়গা হয়েছে।

    সুধো গিয়ে দরজার কাছে কাকে একটা বললো, ‘মান্না মশাইকে একবার ডেকে দাও তো ভাই।’

    ‘মান্না মশাই?’

    ছেলেটা অগ্রাহ্য ভরে বলে, ‘তেনার এখন মাঝরাত্তির। ওখান থেকে ফিরেই তো লম্বা দিয়েছে।’

    সুধো বলে, ‘আচ্ছা দলের আর কে আছে?’

    ‘আছে তো সবাই। চলে গেলে তো এই নটা দশের গাড়িতে চলে যাওয়া যেতো, কিন্তু সবাইতো ঘুমে ঘুমে কুমড়ো গড়াগড়ি।’

    সুধো মৃদু হেসে বলে, ‘কেউ জেগে নেই?

    ‘আছে।’

    ছেলেটা ঘাড় দুলিয়ে বলে ‘বটেশ্বরদা আছে। তিনি তো চান করে এসে চা বানিয়ে খাচ্ছে।’

    ‘আচ্ছা বটেশ্বর বাবুকেই একবার গিয়ে বল, তোমায় ডাকছে—।’

    ‘আচ্ছা—’

    ছেলেটা হঠাৎ দাঁড়িয়ে পড়ে বলে, ‘আপনিই কালকের গায়েন না? বসন্তবাহার কোম্পানীর?

    সুধো হেসে বলে, ‘হুঁ। তুমি তো দেখছি চিনে ফেলেছ?’

    ‘আগে পারিনি, এখন পেরেছি। তা’ কালকের লড়ালড়িতে কে জিতলো কে হারলো?

    সুধো হাসিমুখে বলে, ‘কেন, তুমি ছিলে না?’

    ‘একটুক্ষণ ছিলাম। আমার আবার ঘুম বাতিক, তাই চলে এসেছিলাম।’

    ‘ওঃ! লড়াইতে তিনি জিতলেন আমি হারলাম।’

    ‘সত্যি?’

    ‘সত্যিই তো।’

    ‘তা এখন আবার বটেশ্বরদার সঙ্গে কী কাজ?’

    সুধো গম্ভীরমুখ করে বলে, ‘ওনার কাছে একটু শিক্ষা নিতে এসেছি। কিসে জেতা যায়।’

    ছেলেটা দৃঢ়ভাবে বলে, ‘উনি দেবে না। কেন দেবে? নিজের গুণ বিদ্যে কেউ অপরকে শিখিয়ে দেয়?’

    ‘দেয় না? মাষ্টার মশাইদের কাজই তো তাই।’

    ‘বটেশ্বরদা তো আর মাষ্টার মশাই নয়।’

    ‘তা নয় বটে। তবে অপর দলের কেউ খোসামোদ করে শিখতে চাইছে শুনলে, ‘না’ করতে পারবে না।’

    ‘আচ্ছা দিচ্ছি ডেকে।’

    বলে চলে যায় ছেলেটা।

    একটু পরে এসে দাঁড়ায় বটেশ্বর।

    কালকের সেই সাজের সমারোহ এখন অন্তর্হিত। পেণ্টের কোটিং ধুয়ে ফেলা হয়েছে। শুধু ফর্সামতো একটি ছেলে বলে মনে হচ্ছে।

    সুধো একটু থমকে যায়।

    যে দুদিনই দেখেছে বটেশ্বরকে, ওই রংচঙে চেহারা। তাতে যেন মোহিনীমূর্তির আভাস।

    সুধো একটুক্ষণ তাকিয়ে থেকে আস্তে আস্তে বলে, ‘আপনার কাছে আমি ক্ষমা চাইতে এসেছি।’

    ‘ক্ষমা?’

    বটেশ্বর রীতিমতো অবাক হয়।

    ‘হঠাৎ ক্ষমা চাইতে?’

    ‘দেখুন একটু বসতে পেলে ভালো হতো।’

    বটেশ্বর বলে, ‘বসুন।’

    ‘আপনার সঙ্গে একটু আলাপ করতে এলাম।’

    বললো সুধো।

    আর পরমুহূর্তেই বটেশ্বর তীক্ষ্ন গলায় বলে ওঠে, ‘কেন, ঘুঁটের মালা একগাছা নিয়ে এসেছেন বুঝি?’

    সুধো মাথা নীচু করে বলে, ‘দেখুন, ওসব তো বাইরের ব্যাপার। বলতে গেলে, এ তো খেলাই।’

    বটেশ্বর গম্ভীরভাবে বলে, ‘তা এখন আবার আপনার বক্তব্য কী?’

    সুধো মাথা নীচু করে বলে, ‘বললামতো ‘আমি আপনার কাছে ক্ষমা চাইতে এসেছি।’

    ‘ক্ষমা? সেটা আবার কী?

    বটেশ্বর হেসে ওঠে।

    যে হাসি একমাত্র মেয়ে মানুষেই হাসতে পারে, ব্যঙ্গ আর তিক্ততায় ভরা।

    সুধো কি তাহলে নিঃসন্দেহ হবে?

    সুধো কি এখনই বলে বসবে, ‘আচ্ছা আপনি কখনো ‘কানসোনাপুরে ছিলেন? কানসোনাপুর? যেখানে তিন চুড়ো মদনমোহনের মন্দির আছে?’

    কিন্তু না এখুনি ও কথা বলে বসা যায় না।

    সুধো আস্তে আস্তে বলে, ‘আমি কাল আপনাকে অন্যায় করে পরাজিত করেছি। তাই সেই পর্যন্ত শান্তি পাচ্ছি না।’

    বটেশ্বর ভুরু কুঁচকে বলে ‘অন্যায় কিসের? ছলে বলে কৌশলে শত্রু নিধনই তো যুদ্ধের নীতি।’

    ‘নাঃ।’ সুধো বলে, ‘দুর্যোধনের উরুভঙ্গ ভীমসেনের চিরকলঙ্ক। হাজার হাজার বছর পার হয়ে গেল, ভীমের সে কলঙ্ক ধুয়ে মুছে গেল না।’

    বটেশ্বর মৃদু হেসে বলে, ‘সেটা সে যুগের বলে। এ যুগে ওসব নীতি ফিতি অচল।’

    ‘তা নয়। নীতি সব যুগেই সমান।’

    সুধো বলে, ‘আমি নিজে তো টের পাচ্ছি, আমি অন্যায় করে জিতেছি। যে চাপানের উত্তর দিতে পারিনি, সেটা জগাখিচুড়ি করে জিতেছি।’

    বটেশ্বর এবার একটু কৌতুকের হাসি হাসে, ‘তাই সকাল বেলাই বিবেকের দংশনে ছুটে এসেছেন?’

    সুধো বলে, ‘তাই।’

    ‘তা বেশ, তাহলে একটু চা খেয়ে যান।’ বলে একটু হাসির হিল্লোল তুলে ভিতরে ঢুকে যায় বটেশ্বর, এবং একটু পরেই একটা কাঁচের গ্লাসে এক গ্লাস চা নিয়ে এসে বলে, ‘শুধু চা কিন্তু—’

    ‘তাতে কি? তাতে কি?’

    সুধো চায়ে চুমুক দিয়ে একটা আরামের শব্দ করে বলে, ‘আচ্ছা আপনাকে একটা কথা শুধোই। এই বয়সে এমন শিক্ষাটা করলেন কবে? গুরু কে? কোথায় শিক্ষা?’

    বটেশ্বর আস্তে আস্তে বলে, ‘একে একে বলতে হয় তা’হলে। এই বয়সে? আমার বয়সটা আপনি জানেন?’

    ‘নাই বা জানলাম। দেখে তো মালুম হচ্ছে।’

    বটেশ্বর আবার তেমনি একটু হেসে বলে, ‘আপনাকে দেখেও তো নেহাৎ বড়ো বলে মনে হচ্ছে না? আপনাকেও তো ওকথা জিজ্ঞেস করা যায়?’

    ‘তা আমারটার আগে উত্তর দিন, তারপর ওটা হবে।’

    বটেশ্বর বলে, যাক দ্বিতীয় প্রশ্ন হচ্ছে ‘এমন শিক্ষা।’ তা’ সেটাই বা কী এমন? হেরে ভূত হলাম তো।’

    ‘দেখুন ওকথা বলবেন না। ভূত আপনি হননি।’

    ‘ঠিক আছে, ভূত হইনি। বটেশ্বর বলে ওঠে, ‘তবে আমি জানি আমি ভূত হয়ে গেছি।’

    সুধো সাবধানে বলে, ‘তাহলে তো আর না জিগ্যেস করে পারছি না। কানসোনাপুরে গেছেন কখনো?’

    ‘কানসোনাপুর?’

    বটেশ্বর হঠাৎ দারুণ থমকে যায়।

    বলে, ‘কানসোনাপুর?’ সে আবার পৃথিবীর কোনখানে? বিলেতে না আমেরিকায়?’

    সুধো হঠাৎ গাঢ় স্বরে বলে, ‘আমি যদি বলি সেটা কোথায় তুমি ভালই জানো। আর সেখানে তুমি বটেশ্বরে নামে ঘুরে বেড়াতে না। ঘুরে বেড়াতে পুতুল নামের ছোট্ট একটি মেয়ে হয়ে। ভোর না হতেই শিউলি ফুল তুলতে ছুটতে—’

    ‘কী আবোল তাবোল বকছেন?’

    বটেশ্বরের সুরেলা গলা হঠাৎ কড়া হয়ে ওঠে। ‘সকাল বেলাই নেশাভাঙ করে এসেছেন না কি? যান বাড়ি যান।’

    সুধো মৃদু হেসে বলে, ‘আমার উত্তর পেয়ে গেছি। চলি—’

    বটেশ্বরের মুখটা লাল দেখায়। সে কড়া অথচ চাপা গলায় বলে, ‘কাল অতো অপমান করেও আশা মেটেনি? আরো করতে চান?’

    ‘কালকে?’ সুধো বলে ‘আমি যদি ইচ্ছে করে হেরে যেতাম তাহলেই কি তোমার মানটা বাড়তো পুতুল? তাতে তোমার—’

    বটেশ্বর ক্রুদ্ধ গলায় বলে, ‘আবার আবোল তাবোল বকতে শুরু করেছেন? মনে রাখবেন, এখানে খেলনা পুতুল বলে কিছু নেই। আপনি নীলমণি মান্নার দলের কবিয়াল বটেশ্বর সরকারের সঙ্গে কথা বলছেন?

    ‘পুতুল’ আমার চোখকে তুমি ফাঁকি দিতে পারোনি। তোমার ওই রাগের মুখই তোমায় ধরিয়ে দিয়েছে—’

    ‘তাহলে যান, সবাইকে বলে বেড়ানগে—’ বটেশ্বর রুদ্ধ গলায় বলে, ‘অনেক দুঃখের স্রোতে ভাসতে ভাসতে অনেক ঘাটের জল খেতে খেতে একটা কূল পেয়েছি, সেটা ঘুচিয়ে দিন। মহৎ ব্যক্তি, মহত্ত্বের পরিচয় দিন আরো একবার।’

    সুধো হাতের চায়ের গেলাশটা নামিয়ে রেখে বলে, ‘কোনমতেই মাপ করা যায় না?’

    ‘না?’ বটেশ্বর এবার অগ্নিমূর্তি হয়।

    বলে, ‘দেখুন এবার কিন্তু আমি এদের ডেকে বলে দিতে বাধ্য হবো, ওই বসন্তবাহারের গায়েন সকাল বেলা নেশা করে এসে মাতলামি শুরু করেছে।’

    সুধো উঠে দাঁড়ায়।

    বলে, ‘আচ্ছা চলে যাচ্ছি। কিন্তু, মুখ ফিরিয়ে একটু হেসে বলে, ‘আর আমি যদি ছদ্মবেশের কথাটা প্রকাশ করে দিই?’

    বটেশ্বর কয়েক সেকেণ্ড স্থির চোখে তাকিয়ে বলে, ‘শুধু প্রকাশ করলেই তো চলবে না, তাহলে দুঃশাসনের পার্টটাও আপনাকেই নিতে হবে।

    ‘ছি ছি! তোমার মুখে কিছু বাধেনা দেখছি।’

    ‘মুখে বাধবে?’

    বটেশ্বর তীক্ষ্ন গলায় বলে, ‘পেশা তো তের্জা লড়া, তাতে মুখ কি বাবু ভাইয়ের মতো সভ্য থাকে সুধাংশুবাবু?’

    ‘তা বটে! আমাদের দেবদেবী বন্দনা, কি দেহতত্ত্বের গান, ওগুলো লোকের আপদ বালাই লাগে। দেখি তো? সভার মধ্যে যতো গালাগালের স্রোত বওয়াবো, যতো ছোটলোকের মতো ইতর ভাষা বিষ্টি করবো, ততোই বাবু ভাইয়েদের মনোরঞ্জন হবে।’

    ‘আপনি বুঝতে পারছেন না অনেক চোখ এদিকে সেদিক থেকে দেখছে, আপনি যান।’

    ‘যাচ্ছি পুতুল, যাচ্ছি। কিন্তু একটা কথা বলি, তোমায় তো কেউ ”মেয়েছেলে” বলে জানেনা, দেখলই বা?’

    ‘ওঃ! আপনার পায়ে পড়ি, আপনি থামবেন? আপনি কি আমার সর্বনাশ করতে চান?’

    সুধো আস্তে আস্তে দাওয়া থেকে নেমে যায়, আর কিছু বলে না।

    সুধোর চলে যাওয়ার দিকে তাকিয়ে থাকে বটেশ্বর।

    ভগবান একী খেলা তোমার!

    যে সম্পদের জন্যে হাহাকার করে বেড়ায় মানুষ, হয়তো সেই সম্পদটুকুই এমন সময় দাও যে তাকে বিপদ বলে মনে হয়।

    যে ছেলেটা সুধোকে বসিয়েছিল, সে বলে, ‘ও তোমার চেনা না কি বটেশ্বর দা?

    বটেশ্বর সংক্ষেপে বলে, ‘হ্যাঁ আমার মাসির মায়ের কুটুম’।

    ওখানে ওদিকে—’সুধো সুধো’ রবে হৈ চৈ উঠে গেছে।

    কে দেখেছে ওকে শেষ?

    কে আবার দেখেছে? কেউই দেখেনি। নাইতে গিয়েছিল সেইটাই দেখেছে সবাই।

    ও এসে দাঁড়াতেই রাখাল দাস প্রায় ঝাঁপিয়ে পড়ে বলে ওঠে ”কোথায় ছিলে যাদু? সবাই বলছে নাইতে গিয়ে আর ফেরেনি।”

    সুধো বসে পড়ে বলে, ‘তাই বুঝি? তা’ কান্নাকাটি পড়ে যায়নি কেন?’

    ‘পড়বো পড়বো করছিলো’ গুপী বলে ওঠে। ভাবছি এই মিছরির সরবৎটুকু গালে দিয়েই—’ওরে আমার ভাগ্নে রে!’ বলে মড়া কান্না কাঁদতে বসবো।’

    এই ওদের রসিকতা।

    রাখাল বলে, ‘নে শরবৎটা খা।’

    ‘নাঃ আর শরবৎ খাবো না, ‘এই মাত্তর চা খেয়ে এলাম।’

    ‘চা?’ গুপী শোবার জোগাড় করছিলো—

    ছিটকে উঠে বলে, ‘চা? সক্কাল বেলা আবার চা তোমায় কোন কোম্পানী দিলো ভাগ্নে?’

    সুধো গম্ভীরভাবে বলে, ‘মান্না কোম্পানী।’

    ‘মান্না কোম্পানী? তোকে চা খাওয়ালো?’

    গুপী আবার শুয়ে পড়ে বলে, ‘মনিব! যা বলেছি তাই।’

    রাখালের আগেই সুধো বলে ওঠে, ‘কী বলেছো শুনি’?

    ‘বলছিলাম নাইতে নেমে জলে পড়ে গেছলো সুধো, কেউ জাল ফেলে তুলে নিয়ে গেছে। ওই ওরাই নিয়ে গেছলো—’

    রাখাল দাস ধমক দিয়ে ওঠে, ‘তুই থামতো গুপী। আমি প্রকিত কথাটা শুনি। মান্না কোম্পানী তোকে সকালবেলা ডেকে নিয়ে চা খাওয়ালো? আর তুই তাই খেলি?’

    ‘তা খাবোনা কেন?

    রাখাল আতঙ্কের গলায় বলে, ‘তোর একবার সন্দেহ হলোনা এর কারণটা কী?’

    ‘এই দেখো রাখালদা, এক গেলাস চা দিচ্ছে, তাতে সন্দেহের কী থাকবে? বিষ মিশিয়ে দেবে?’

    রাখাল ব্যাকুলভাবে বলে, ‘তাতেই বা ঠাট্টার কী আছে সুধো? এই পৃথিবীতে ঘটে না এসব? বলি তুই ওদের দলের শত্রু কি না? কালকের পরাজয়ে মরীয়া হয়ে বদমতলব আঁটতে পারে না? প্রাণে না মারুক, তুকতাক করে গলাটা খারাপ করে দিতে পারে, মাথাটা খারাপ করে দিতে পারে।’

    ‘আমি তো দেখছি রাখালদা, তার আগে তোমার মাথাটাই কেউ খারাপ করে দিয়েছে।’

    ‘ওরা ডেকেও নিয়ে যায়নি। আর একা আমায় মন্ত্রপূত চাও খাওয়ায় নি। স্বেচ্ছায় গিয়েছিলাম।’ সুধো অবহেলায় বলে,

    ‘ওরা খাচ্ছিলো, সেই থেকে—’

    ‘স্বেচ্ছায় গিয়েছিলি? তা এমন স্বেচ্ছাটা হলো কেন?’

    ‘দেখো রাখালদা’, সুধো গাঢ় স্বরে বলে, ‘সকাল থেকে মনের মধ্যে কাঁটা ফুটছিলো, মনে হচ্ছিল আমি সত্যি জিততে পারিনি, ছলে কৌশলে জিতেছি। তাই মাপ চাইতে গিয়েছিলাম।’

    ‘মাপ চাইতে গিয়েছিলি? কার কাছে?’

    ‘আর কার কাছে? স্বয়ং বটেশ্বরের কাছে?’

    ‘ওরে আমার যাদুরে, ওরে আমার মানিকরে—বটেশ্বরের কাছে মাপ চাইতে গিয়েছিলি তুই!’

    রাখাল কখনো যা না করে, তাই করে। প্রায় ধাক্কা দিয়ে বলে, ‘এতো বিবেকবান পুরুষ তুমি? শুনে যে আমি হাঁ হয়ে যাচ্ছি।’

    গুপী আবার ওর আপাদমস্তক দেখে নিয়ে বলে ‘মালিক, ব্যাপার মনে হচ্ছে গুরুচরণ! ওই বটেশ্বরটা আসলে বটেশ্বরী কিনা সেই খবরটা নেবার জন্যে ভাগ্নে আমাদের সকলের অগোচরে—খি খি খি খি!’

    ‘ভালো হবে না বলছি মামা!’

    ‘এ দেখো ফোঁস করেছে!’

    গুপী একটা চাদর মুড়ি দিয়ে শুয়ে পড়ে রাখাল দাসের সঙ্গে দৃষ্টি বিনিময় করে দুই হাত উল্টে হতাশার ভান করে।

    সুধোও একখানা শতরঞ্চ পেতে, চাদর চাপা দিয়ে পাশ ফিরে শোয়।

    মাথার মধ্যে ইঞ্জিন চলছে, মাথার মধ্যে হাতুড়ি পিটছে। তবু সারা রাত্তিরের জাগরণ ক্লিষ্ট চোখদুটো বুজে আসে।

    শরীর হচ্ছে সবচেয়ে বড়ো কালেক্টর। যেখানে যা বাকিবকেয়া পাওনা থাকে, আদায় করে ছাড়ে সে।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleসোনার কৌটো – আশাপূর্ণা দেবী
    Next Article অনবগুন্ঠিতা – আশাপূর্ণা দেবী

    Related Articles

    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়

    বিপিনের সংসার – বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়

    January 8, 2026
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    ভয় সমগ্র – হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    December 9, 2025
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    কিশোর অ্যাডভেঞ্চার সমগ্র – হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    December 9, 2025
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    প্রকাশ্য দিবালোকে – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    November 18, 2025
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    তারপর কী হল – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    November 17, 2025
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত

    শর্ম্মিষ্ঠা নাটক – মাইকেল মধুসূদন দত্ত

    November 11, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Our Picks

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }