Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    অপেক্ষার বারোমাস – অর্পিতা সরকার

    May 1, 2026

    শ্মশানকোকিলের ডাক – সৌভিক চক্রবর্তী

    May 1, 2026

    এসো না অসময়ে – অর্পিতা সরকার

    May 1, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    শিকলি কাটা পাখি – আশাপূর্ণা দেবী

    লেখক এক পাতা গল্প148 Mins Read0
    ⤶

    শিকলি কাটা পাখি – ১১

    ১১

    নিজের শোবার ঘরটায় ঢুকলেন। ভারী গড়নের সেকেলে একটা দেরাজ আছে, সেটা খুললেন।

    এটা ওটা ছোটখাটো কাগজ—পত্র, চিঠি, হিসেব, ক্যাশমেমো, মুঠো করে চেপে সব টেনে বার করলেন, ঘরের দরজাটা ভেজিয়ে আস্তে একটা দেশলাই কাঠি জ্বেলে দিলেন।

    সেই আগুনে ভারতীর চিঠিখানা।

    বেচারী ভারতী!

    সে হয়তো চিঠিখানা পাঠিয়ে পর্যন্ত ঘণ্টা গুনছে। ওকি স্বপ্নেও ভাবছে না তার চিঠিটা দেশলাই জ্বেলে পুড়িয়ে ফেলেছে! কিন্তু পুড়িয়ে ফেলাই ভালো। ও চিঠিতে ভারতী তার মাকে অনুরোধ করেছে মিথ্যা সাক্ষী দেবার। আস্তে আস্তে সেটা নিশ্চিহ্ন হয়ে যাক।

    ‘নন্দিতা সেটা বুঝে ফেলেছে—’

    ভাবলেন অজিতা দেবী। একবার নিশ্চিহ্ন করে ফেলতে পারলে আর ভয় নেই, আর দুশ্চিন্তা করবার কিছু নেই। তাই নন্দিতা এমন উঠে পড়ে লেগে—। কিন্তু তবু অজিতা দেবীর ভুল হয়েছিল।

    উনি ভেবেছিলেন মাঝ রাত্রে সবাই ঘুমোয়।

    কিন্তু উনি যখন ভাবছিলেন, ‘আজ আবার এ বাড়িতে একটা খুনের ঘটনা ঘটবে—’ তখন নন্দিতা নামের মানুষটা জেগে উঠলো।

    হয়তো কাগজ পোড়া গন্ধে।

    হয়তো বা দুঃস্বপ্নে।

    পার্থর ফটোটা দেয়ালমুখো করে রেখেছে বলেই কি দুঃস্বপ্নের হাত থেকে রেহাই পেয়েছে সে?

    প্রথম প্রথম অনেকে ঘিরে থাকতো তাকে। এই ঘরটায় মানুষ ধরতো না। নন্দিতার মা, দিদিরা, পিসি। ঘরের বাইরে দালানে ক্যাম্পখাট পেতে কতদিন যেন দাদাও।

    কিন্তু কতদিন আর মানুষ একটা এলোমেলো হয়ে যাওয়া জীবনের জন্যে নিজেদের জীবনযাত্রাকে এলোমেলো করতে থাকবে?

    দিদিরা কতদিন পারবে তাদের স্বামী পুত্র ছেড়ে সদ্য বিধবা বোনকে সান্ত্বনা জোগাতে আসতে?

    পিসির নিজেরই শরীর খারাপ, বাতের শরীর, যেমন তেমন করে শুলে গায়ে ব্যথা হয়।

    …নন্দিতার বাবার ব্লাডপ্রেসার বেড়েছে, নন্দিতার মা কতদিন তাঁকে একা রেখে অন্যত্র রাত কাটাবেন? তাছাড়া মিঠু! তাকে তো দেখছেন তিনি? তাকে সকালবেলা স্কুলে পাঠাতে হয়, তার আয়োজন আছে।

    নন্দিতার দাদাকে অফিস যেতে হয়, খাওয়া শোওয়ার এত অনিয়ম দীর্ঘদিন বরদাস্ত হবে কেন?

    নন্দিতা অতএব একলা থাকতে শিখুক!

    ভগবান যখন চির—নিঃসঙ্গ করেই দিলেন।

    ওরা এই রকমই ভেবেছে।

    ওদের সাধারণ চিন্তাধারায়।…

    তবু ওরা সারা সন্ধ্যা থাকে বৈ কি! কেউ না কেউ অন্ততঃ।… আজও যখন সেই রক্তের ছিটে লাগা দেওয়াল দেড়তলার ঘরটায় কানে হাত চাপা দিয়ে বসেছিল নন্দিতা, তখন ওর মেজদি এসেছিল।

    দিদি হাত ধরে টেনে নিয়ে গেল।

    বললো, ‘অনবরত এই ঘরে একা বসে থেকে থেকে তুই কি মাথাটা খারাপ করে ফেলবি?’

    মেজদি জানতো না, নন্দিতা সেই রাতের পর এঘরে আর একা বসে থাকেনি কোনো দিন। এসেছে পুলিশের লোকের সঙ্গে।

    সেই ভয়ঙ্কর ঘটনার সময় ঠিক কে কোনখানে বসেছিল অথবা দাঁড়িয়েছিল, আর কোনখানে দাঁড়িয়ে কোন ভঙ্গীতে রিভলভারটা চালিয়েছিল নৃশংস রাজেন সেটা পুলিশের লোককে দেখাবার জন্যে।

    মেজদি তা জানতো না।

    মেজদি দূরে থাকে, কম আসে।

    আজ এসেছিল।

    আগামী কালকের জন্যে সাহস জোগাতে, শক্তি যোগাতে। বলেছিল, ‘হেলিস দুলিস না, এক বলতে আর এক বলিস না।’

    অথচ ওরাই নন্দিতার আড়ালে, নন্দিতার দুই দিদি আর মা, নন্দিতার সমালোচনা করেছে।

    বলেছে, ‘মেয়েমানুষ হয়ে এত প্রতিহিংসাপরায়ণ কেন বাবা! কাঠ কবুল প্রতিজ্ঞা ওকে ফাঁসিতে ঝোলাবোই!…ছিঃ নিজের যে অবস্থা ঘটেছে, যে জ্বালায় জ্বলছিস, আর একটা মেয়েমানুষ সেই জ্বালায় জ্বলুক, এই চাইছিস তুই?…তোর নিজের ননদ! শাশুড়ীর মেয়ে! বুড়ির অবস্থা ভাবছিস না একবার? মেয়েমানুষ না তুই?’

    তবে যা বলে আড়ালে।

    ওকে উপদেশ দিতে আসবার সাহস কারো নেই।

    দিতে এলেই ফোঁস করে উঠবে। বলবে ‘পরের কথা কেউ বোঝে না! চির সুখীজন ভ্রমে কি কখন ব্যথিত বেদন বুঝিতে পারে?’

    তাই ওর মেজদি ওর হাত ধরে টেনে আনতে আনতে দরদী গলায় বলে—’এ ঘরে একা বসে থেকে থেকে কি পাগল হয়ে যাবি?’

    মেজদি অনেক সান্ত্বনা দিয়ে চলে যাবার পর দাদা এসেছিল উকিল নিয়ে। শেষ পালিশ দিয়ে গিয়েছিল।

    আর তারপর—

    ওরা চলে যাবার পর মুকুল। অনেকদিন পর।

    নন্দিতা বলেছিল, ‘আবার তুমি এলে যে? বারণ করেছিলাম না?’

    মুকুল বললো ‘অনেকদিন তো মানলাম বারণ!’

    ‘তা হোক আরো কিছুদিন মানো। চারিদিকে শত্রু, হঠাৎ কে কোন দিক থেকে নিহতের স্ত্রীর চরিত্রের বদনাম দিয়ে কেস ঘুরিয়ে দিয়ে বসতে পারে। ওরা তো বলেছেই সুইসাইড। এমন কি ওরা নাকি একটা মনস্তত্ত্ববিদকে ধরে এনে সাক্ষী দিইয়েছে।

    তিনি নাকি বলেছেন, ‘এরকম হয়। কোন পূর্ব সংকল্প না থাকলেও হঠাৎ একটা ধারালো ছুরি কি একটা বন্দুক দেখলে মানুষের অকস্মাৎ খুন চাপতে পারে, আত্মহত্যার বাসনা জেগে উঠতে পারে।’

    …নন্দিতা অন্যদিকে মুখ করে বলে, ‘আমার চরিত্রে দোষ দিতে পারলে, সে বাসনায় একটা অবচেতন কারণও আবিষ্কার করতে পারে তাদের সাইকোলোজিষ্ট।’

    মুকুল কিন্তু এমন একটা অভাবিত কথা শুনেও তার সম্পর্কে কোনো ব্যঙ্গ মন্তব্য না করে বলেছিল একটা সম্পূর্ণ অন্য কথা। যে কথা নন্দিতার অনুকূলও নয়।

    খপ করে বলে উঠেছিল, ‘আচ্ছা নন্দিতা, তোমার কি মনে হয় না লোকটার ফাঁসির হুকুমের বদলে যাবজ্জীবন জেল বা দ্বীপান্তর—টিপান্তর গোছের কিছু হলে ভাল হয়?’

    নন্দিতা ওর কথার ঠিক মানেটা চট করে ধরতে পারেনি। নন্দিতা ওর দিকে তীক্ষ্ন দৃষ্টিতে তাকিয়েছিল।

    দেখে নিয়ে বলেছিল, ‘হঠাৎ এ রকম মনে হল কেন তোমার?’

    ‘না অন্য কিছু নয়!’ মুকুল কেমন যেন উদাস ভাবে বলেছিল, ‘ভাবছি—একটা খুন, আর একটা ফাঁসির উপর ভিত গেড়ে আমাদের নতুন জীবন সুরু হবে?’

    নন্দিতা কেঁপে উঠেছিল।

    নন্দিতার মনে হয়েছিল ওর সেই নতুন জীবনের ভিতটাও বোধহয় কেঁপে গেছে। হয়তো কোথাও ফাটল ধরেছে, আস্তে আস্তে সেখান থেকে চোরা জল উঠবে। বাড়ি বানানো হবে না।

    তাই নন্দিতার সামলে নিতে সময় লেগেছিল।

    তারপর নন্দিতা ভারী মুখে বলেছিল, ‘তা’ আমাদের পছন্দ অনুযায়ী তো আর ‘হুকুম’ বেরোবে না?’

    মুকুল অপ্রস্তুত হয়ে গিয়েছিল, ‘না তা নয়।’ তবে মনে হচ্ছিল।

    মুকুলের মনে হচ্ছিল।

    কিন্তু নন্দিতার কি সত্যিই ‘মন’ বলে একটা বস্তু নেই? নন্দিতা কি ভারতীর ভাবী চেহারাটা কল্পনা করে শিউরে উঠছে না?

    কিন্তু নন্দিতার উপায় নেই সেই মনকে প্রশ্রয় দেবার। কারণ নন্দিতা নরকের পথে অনেকদূর এগিয়েছে, এখন আর সে পথ থেকে ফেরা যাবে না।

    তাই নন্দিতার সেই মন স্বপ্নের মধ্যে নন্দিতার উপর প্রতিশোধ নেয়। নন্দিতা জেগে ওঠে, ঘেমে যায়, বাকি রাতটা বসে থেকে সকালের প্রতীক্ষা করে।

    আজও নন্দিতা জেগে উঠেছিল।

    নন্দিতা জেগে উঠে কাগজ পোড়া গন্ধ পেয়েছিল।

    নন্দিতার ভয় হয়েছিল। উঠে যেতে সাহস হয়নি।

    ওর মনে হয়েছিল ঘর থেকে বেরোলেই বুঝি দেখতে পাবে একটা দীর্ঘছায়া প্রেত, রাত্রির অন্ধকারে ঘুরে ঘুরে সব কিছুতে আগুন লাগিয়ে বেড়াচ্ছে!

    সে আগুন চিঠি কাগজ ছবি থেকে ছড়াতে ছড়াতে নন্দিতার নতুন জীবনকে গ্রাস করবে।

    নন্দিতার হাত—পা ঠাণ্ডা হয়ে গিয়েছিল।

    তারপর আস্তে আস্তে সাহস সঞ্চয় করেছিল নন্দিতা, ছোট চাকরটা রান্না ঘরের উনুনটা নিভোতে ভুলে যায়নি তো? সেখানে কোনো কিছু ছিল না তো?

    নন্দিতা ঘর থেকে বেরিয়ে এল।

    দালানের সুইচে হাত দেবার আগেই অজিতার ঘরের দরজার ফাটল থেকে একটা আগুনের আভা দেখতে পেলো।

    নন্দিতা স্তব্ধ হয়ে ভাবলো এক মিনিট।

    ঘটনাটা কী ঘটছে!

    কিন্তু না, কাপড় পোড়া গন্ধ নয়, চুল পোড়া, চামড়া পোড়া কিচ্ছু নয়, স্রেফ কাগজ পোড়া।

    তার মানে কোনো গোপন কাগজ—পত্র।

    কী হতে পারে সেটা? যেটা টিকে থাকলে নন্দিতার অনুকূল, ভস্ম হলে অজিতার অনুকূল?

    সবসময় এখন নন্দিতা অজিতাকে প্রতিপক্ষের দৃষ্টিতেই দেখতে অভ্যস্ত হয়ে গেছে।

    নন্দিতা ভাবলো, এই গোপন কাজের সাক্ষী থাকা আবশ্যক। কখন কোনটা দরকার হয় বলা যায় না।

    এখন নন্দিতার দু’চোখ খোলা, তাই সেই দুঃস্বপ্নের ছায়াগুলো সরে সরে যাচ্ছে।

    নন্দিতা ভেজানো দরজাটা ঠেলে ঋজু হয়ে দাঁড়ালো।

    বললো, ‘মাঝ রাত্রে এসব কী হচ্ছে?’

    অজিতা দেবী চমকে মুখ তুলে তাকালেন। তারপর মুখ ফিরিয়ে নিয়ে বললেন, ‘সে কৈফিয়ৎ কি তোমাকে দিতেই হবে?’

    নন্দিতা ক্রুদ্ধ গলায় বললো, ‘কৈফিয়ৎ দেওয়া না দেওয়া আপনার ইচ্ছে। তবে মনে রাখবেন, যেটা আপনি লুকিয়ে করছিলেন, তার একজন সাক্ষী রইল।

    অজিতা নির্লিপ্ত গলায় বললেন, ‘কোনো কাজই লুকোনো থাকে না। কোথাও কোথাও তার সাক্ষী থাকে।’

    ‘ওঃ ভগবানের কথা বলছেন?’ নন্দিতা বুঝি পায়ের তলার মাটি খুঁজতে তাড়াতাড়ি ভগবানের নাম টেনে আনে, ‘এখনো আপনি আপনার ভগবানকে ভক্তি করেন?’

    অজিতা দেবী একথার উত্তর দিলেন না।

    অজিতা দেবী কি নন্দিতাকে হঠাৎ জেগে উঠতে দেখে ভয় পেলেন? ভাবলেন, যেটা নিঃশব্দে আর সহজে হতে পারবে ভেবেছিলাম, সেটা বুঝি আর হল না?

    কি জানি!

    অজিতা দেবী শুধু সেই ঘুমন্ত আগুনটায় একটা জ্বালানি ঠেলে দিলেন। একখানা আবাঁধা ফটো। অজিতা দেবীর নিজের বিয়ের আগের ফটো, যেটা দেখিয়ে বিয়ের সম্বন্ধ হয়েছিল ওঁর! ঝাপসা হয়ে গেছে, ঘোলাটে হয়ে গেছে। তবু যত্ন করে তোলা ছিল কুমারীবেলার সেই ফটো।

    সেই ছবিখানাকে পুড়িয়ে ফেলছেন কেন অজিতা দেবী?

    সমস্ত ভালবাসার আর সমস্ত সেণ্টিমেণ্টের জিনিসগুলি কি তা’হলে নিজের হাতে পোড়াতে সাধ তাঁর? তাঁর ভগবানের ওপর আক্রোশে?

    নাও নাও, সব নাও।

    নিজের হাতে যে আগুন জ্বেলেছো, তাতে আহুতি নাও।

    আর ভাবতে দাও আমায়, আমার এই অতি সাধারণ জীবনের ছক—এর ওপর তোমার ওই অদ্ভুত সর্বনাশা খেলার ঘুঁটিগুলো সাজাতে বসলে কেন?

    নন্দিতা সন্দিগ্ধ দৃষ্টিতে চারিদিক তাকিয়ে দেখলো। মতলবটা কি মানুষটার? নন্দিতাকে কি খুন করে ফেলবে? আগে থেকে তাই তার প্রমাণ পত্র—টত্র সরিয়ে ফেলছে? কিন্তু এঘরের সঙ্গে কবে কোনদিন যোগ ছিল নন্দিতার? তবে কি বিষ—টিষ?

    ওই আগুনের ধারে বসে থাকা মানুষটার চোখের মধ্যে যেন কী এক সংকল্পের আগুন। নন্দিতা তো ওর হাতে খায় না, বিষ—টিষ কোনো কাজে লাগবে না!

    তবে? আগুনে পুড়িয়ে মারবেন নাকি নন্দিতাকে?

    নন্দিতার সর্বাঙ্গ শিথিল হয়ে আসে! নন্দিতা কি চেঁচিয়ে উঠবে? চেঁচিয়ে পাড়ার লোক জড়ো করবে?…তারপর বলবে স্বপ্ন দেখে ভয় পেয়ে—

    কিন্তু মাঝরাতে চীৎকার শুনে আর কি কেউ ছুটে আসবে? অনেক শিক্ষা হয়েছে তাদের। অনেক হয়রানি হয়েছে পুলিশের হাতে।

    আর তখনই—গলার জোর ফিরে পায় নন্দিতা।

    বলে, ‘তখন তো খুব শাসিয়ে গেলেন। কোন সত্যি কথাটা বলবেন শুনি?’

    অজিতা দেবী ওর দিকে স্পষ্ট চোখে তাকালেন। বললেন, তুমি একটা ভদ্র ঘরের মেয়ে ছিলে নন্দিতা, একটা ভদ্র ঘরের বৌ হয়েছিলে। কুগ্রহের ফেরে—’ একটু থামলেন অজিতা দেবী, তারপর বললেন, কিন্তু এমন করে নিজেকে ধ্বংস কোরো না তুমি।’

    নন্দিতার ভিতরটা যখনই কেঁপে ওঠে, নন্দিতা তখনই বাইরের খোলসটাকে শক্ত করে নেয়।

    তাই নন্দিতা বিদ্রূপের গলায় বলে, ‘ওঃ! আবার উপদেশ! কিন্তু একটা কথা মনে রাখবেন, এখন এতদিন পরে আপনার কোনো নতুন সত্যি কথা কাজে লাগবে না। লোকে অবিশ্বাসের হাসি হেসে উঠবে। লোকে আপনাকে পাগল বলবে। নয়তো বলবে—স্বার্থের জন্যে কতদূর নামতে পারে মানুষ। বুঝলেন? আপনার সত্যি কথা কোনো কাজে লাগবে না। নিজের চোখে প্রত্যক্ষ করেছি বললেও না।’

    অজিতা দেবী খুব শান্তভাবে একটু হাসলেন। বললেন, ‘জানি।’

    ‘জানলেই ভালো। আর শুনুন, আপনাকে আগেই জানিয়ে রাখছি, মিঠু আর এ বাড়িতে আসবে না। আমি আর এ বাড়িতে থাকবো না।’

    ‘তাও জানি।’

    সেই হাসিটাই আবার দেখা গেল অজিতার মুখে।

    ‘ওঃ সবই জানেন! তা ভালো। শুধু আমি জানতে পারলাম না মাঝরাতে উঠে অগ্নিকাণ্ড করছেন কেন?’

    অজিতা বললেন, ‘পাগলের খেয়াল আর কি! না করলেও ক্ষতি ছিল না।’

    ‘আচ্ছা জানা যাবেই—’

    নন্দিতা ঠিকরে চলে যায়।

    কারণ নন্দিতা কিছুতেই নিজেকে তার নিজের হাতে বাঁধা চড়া তার থেকে নামাতে চায় না।

    নন্দিতার ভয় হচ্ছে, নন্দিতার আর নিজের ওপর বিশ্বাস থাকছে না। ওর মনে হচ্ছে ও হয়তো শেষ রক্ষা করতে পারবে না।

    ওর কাছে যে সত্যকথা লুকোনো আছে, যেটা লুকিয়ে রাখবার জন্যে সহস্র জাল ফেলে চলেছে সে এতদিন ধরে, সেটা বুঝি আর লুকিয়ে রাখতে পারবে না। বুঝি হঠাৎ ফেটে বেরিয়ে পড়বে।

    তাই নিজেকে অবিরত শক্তির মন্ত্র জপাচ্ছে।

    তাই সে ‘আচ্ছা জানা যাবে’ বলে ঠিকরে চলে যায়।

    তারপর জানা যায় সেই খবর। পরদিন সকালে।

    কেন অজিতা দেবী নিশাচরের মত মাঝরাত্রে উঠে অগ্নিযজ্ঞ করছিলেন, কেন তাঁর ক্ষুদ্রতম ভালবাসার জিনিসগুলি সেই আগুনে আহুতি দিয়েছিলেন।

    মাঝরাত্রে একটা হত্যাকাণ্ডের আয়োজন করতে এই অগ্নিযজ্ঞ অজিতা দেবীর। এটা বোধহয় বোধন।

    নন্দিতা উঠেছিল, জেগেছিল, তবু নন্দিতা মুহূর্তের জন্যেও এ সন্দেহ করেনি।

    নন্দিতা তখন নিশ্চিন্ত হয়ে শুতে গিয়েছিল। চিরদিনের একটা ‘ধর্মপুণ্যি’ মানুষ যে এমন একটা কাজের জন্য মতলব ভাঁজছিলেন, তা তার ধারণার মধ্যে আসবে কি করে?

    নিঃশঙ্ক মানুষটা ঘরে গিয়ে শুয়ে পড়েছিল, তারপর অনেক দুঃস্বপ্নের ছায়া পার হয়ে শেষ রাতের দিকে ঘুমিয়ে পড়েছিল।

    কেমন করে জানবে সে, সেই ঘুমের অবকাশে আর একটা মৃত্যু নামছে এ বাড়িতে আস্তে আস্তে পা টিপে টিপে।

    সকাল বেলা একা নন্দিতাই নয়, সকলেই জানলো।

    আর, আরও একবার এই নিতান্ত সাধারণ বাড়িটা অসাধারণ হয়ে উঠলো। লোকে বাড়ি ভরে গেল। আর ধর্মাধিকরণের পাইকরাও এল। এজাহার নিলো যাদের যাদের নেওয়া সম্ভব।

    ঝি, চাকর, গোয়ালা। যারা প্রথম সকালের সাক্ষী।

    তারপর নন্দিতার।

    নন্দিতা সেই একই কথা বলে চললো, আমি কি করে জানবো? উনি অত ধর্মবিশ্বাসী পাপপুণ্য বিলাসী মানুষ, উনি এমন কাজ করবেন—’

    প্রথমটা কে দেখলো?

    ওঃ সে ওই বাচ্চা চাকরটা।

    সে বলেছিল, ‘ঠাকুমা এখনো উঠলো না কেন মা?’

    নন্দিতা বলেছিল, ‘আমি কি জানি?’

    নন্দিতা ভেবেছিল, অনেক রাত পর্যন্ত কি সব করে এখন ঘুমোচ্ছেন আর কি!

    তারপর সন্দেহজনক বেলা হলো। ছেলেটা বহুবার দুম দুম করে জোরে দরজা ঠেলে বিফল হয়ে, বারান্দা ঘুরে কার্নিশে নেমে দেখতে গিয়ে পরিত্রাহি চেঁচাতে চেঁচাতে এসে আছড়ে পড়লো। তারপর তো পুলিশ।

    পাড়ার লোক বলাবলি করতে লাগলো, ‘বাড়িটা কার পাপে কোন কুগ্রহের অভিশাপে পড়ে গেছে! আশ্চর্য! অথচ এই সেদিনও কী সুন্দর সুখের সংসারই ছিল!

    এই ভাবেই তো মানুষের সুখের হিসেব।

    বইয়ের মলাট দেখে সমালোচনা।

    তবু একথা মানতেই হবে বৈকি, কোনো কোনো অভিশপ্ত মুহূর্ত হঠাৎ যদি সে মলাট ছিঁড়ে না ফেলে, হয়তো চিরদিনই সেই সমালোচনা থেকে যায়।

    ঝড় বড় ভয়ঙ্কর জিনিস, বড় ভয়ঙ্কর রাত্রির আকাশ!—

    নন্দিতার পিসি বললেন, ‘আশ্চয্যি দেখালো বুড়ি। তখন করলি না টাটকা টাটকি, এখন এতদিন পরে—

    নন্দিতার মা মেয়ের দিকে তীব্র দৃষ্টি হেনে বললেন, ‘তিলে তিলেই অভাব ধরা পড়ে। একদিনে শূন্যতা বোঝা যায় না।’

    নন্দিতার দাদা বললে, কেসটা সম্পূর্ণ গুছিয়ে আনা হয়েছিল, একেবারে খারাপ হয়ে গেল।’

    নন্দিতার দিদিরাও এক একবার এলো, কিন্তু নন্দিতা যেন সকলের সহানুভূতি হারাচ্ছে। যেন সকলে ভাবতে সুরু করেছে, এটা তোমার করলেই বেশী মানাতো।

    বলছে না, কিন্তু ওদের অব্যক্ত ভঙ্গীটাই বলে ফেলছে।

    হয়তো এই নিয়ম পৃথিবীর। সমস্ত সহানুভূতি গিয়ে জমে মৃতের উপর। যেন সে একটা উচ্চাসন পেয়ে গেছে, যেন সংসারের সকলের কাছে জিতে গেছে।

    জীবিতরা পরাজিতের দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকে সেই বিজয়ীর দিকে।

    জনে জনে সবাই এলো, এলো না কেবল নন্দিতার বাল্যবন্ধু।

    নন্দিতা জানে ও আর আসবে না।

    এতগুলো ভয়ঙ্করের ওপর ভিত গড়ে নতুন জীবন গড়বার সাধ ওর নেই।

    কিন্তু নন্দিতারই কি আর?

    যারা নিয়তির শিকার হয়েছিল, তারা মরলো। নন্দিতা তার জন্য দায়ী নয়, তবু নন্দিতা হঠাৎ তাকিয়ে দেখছে তার সামনের সেই লক্ষ্যটা, তীব্র চেষ্টায় সার্চ লাইট জ্বেলে চারিদিকে অগ্রসর হচ্ছিল নন্দিতা, সেই লক্ষ্যটা যেন কোথায় হারিয়ে গেছে।

    নন্দিতা ভাবতে চেষ্টা করছে, তার মনের ওপরকার খোলসটাকে শক্ত করে নিয়ে ভাবতে চেষ্টা করছে, ‘এতো ভালই হলো।—কোথাও আর কোনো দুশ্চিন্তা রইল না। একজোড়া চোখ অহরহ আমার জীবনের উপর তীক্ষ্নদৃষ্টি হেনে নিঃশব্দে আর চেয়ে থাকবে না।

    কিন্তু ভাবতে পারছে না।

    অনবরতই মনে হচ্ছে বরাবরের মত এই শেষবারেও অজিতা দেবীই জিতে গেলেন। সংসারের গণ্ডী ছাড়িয়ে তিনতলার উঁচুতে ঠাকুর ঘরে উঠে গিয়ে যেমন চিরদিন জিতে এসেছেন আজও তেমনি।

    অজিতা দেবীর উপর ভয়ানক একটা হিংসে হতে থাকে নন্দিতার। যেন যে টিকিটটার জোরে নন্দিতাই অনেক উঁচুতে উঠে যেতে পারতো নন্দিতার অন্যমনস্কতায় সেই টিকিটটা অজিতা দেবীই হস্তগত করে ফেলে উঁচুতে উঠে গেলেন।

    ⤶
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleসোনার কৌটো – আশাপূর্ণা দেবী
    Next Article অনবগুন্ঠিতা – আশাপূর্ণা দেবী

    Related Articles

    আশাপূর্ণা দেবী

    সমুদ্র কন্যা – আশাপূর্ণা দেবী

    April 24, 2026
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    আমাদের মহাভারত – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    March 20, 2026
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়

    বিপিনের সংসার – বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়

    January 8, 2026
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    ভয় সমগ্র – হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    December 9, 2025
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    কিশোর অ্যাডভেঞ্চার সমগ্র – হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    December 9, 2025
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    প্রকাশ্য দিবালোকে – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    November 18, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    अनीश दास
    मौलाना शाह वलीउल्लाह
    रेवरेंड के. के. जी. सरकार
    অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিজ্ঞান রায়চৌধুরী
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমরেন্দ্র চক্রবর্তী
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অরিন্দম দেবনাথ
    অর্পিতা সরকার
    অশোককুমার মিত্র
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    কৌশিক সামন্ত
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যজ্যোতি মজুমদার
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেইল লোনডেস
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শঙ্কর চ্যাটার্জী
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শাক্যজিৎ ভট্টাচাৰ্য্য
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সম্পাদনা : শৈলেন্দ্র হালদার
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্মরণজিৎ চক্রবর্তী
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    অপেক্ষার বারোমাস – অর্পিতা সরকার

    May 1, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    অপেক্ষার বারোমাস – অর্পিতা সরকার

    May 1, 2026
    Our Picks

    অপেক্ষার বারোমাস – অর্পিতা সরকার

    May 1, 2026

    শ্মশানকোকিলের ডাক – সৌভিক চক্রবর্তী

    May 1, 2026

    এসো না অসময়ে – অর্পিতা সরকার

    May 1, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }