Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    শিকলি কাটা পাখি – আশাপূর্ণা দেবী

    লেখক এক পাতা গল্প148 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    শিকলি কাটা পাখি – ৫

    ৫

    সুধো কি ওই বন্ধ হয়ে যাওয়া দরজাটা ঠেলে ঢুকে পড়ে আবার বলবে, ‘পুতুল, তুমি আমায় অবিশ্বাস কোরো না। আমি তোমার ক্ষতি করতে চাইবো কেন? একদা যদি কোনো ক্ষতি করে থাকি, তা সে অবোধে করেছি। অবোধ হনুমান স্বর্ণলঙ্কা পুড়িয়ে ছারখার করেছিল জানো তো?’

    ভাবলো, সাহস হলো না।

    পুতুলের ভাব অনমনীয়।

    হতেই পারে।

    কী ব্যবহার করে এসেছিল সুধো?

    দুটো মেয়েমানুষের প্রাণভরা ভালবাসা মাটিতে ফেলে দিয়ে পায়ে মাড়িয়ে চলে গিয়েছিল না?

    তা’ দুটো মেয়েমানুষই তো?

    পরে সুধো দিনে দিনে তিলে তিলে ভেবে ভেবে অনুভব করেছে সেই ছোট্ট মেয়েটার মধ্যেও সুধোর জন্যে অনেক ভালবাসা ছিলো বলেই তার অতো দাপট ছিলো সুধোর ওপর।

    যেখানে নিশ্চিন্ত দাপট, নিশ্চিত দাবি, সেখানে হঠাৎ অবহেলা তাচ্ছিল্য দেখলে, মনের অবস্থা কী হয়? কী হওয়া সম্ভব? সেও তো দিনে দিনে তিলে তিলে ভেবেছে? ভেবে ভেবে বড়ো হয়েছে!

    পুতুল যদি এই সুধো নামের হতচ্ছাড়া হতভাগাটাকে ঘৃণা করে তো বেশ করে।

    কিন্তু তাই বলে ওই পুতুলকে আবার এই পৃথিবীর লোকারণ্যে হারিয়ে ফেলবে সুধো?

    সুধো কর্তব্য স্থির করতে করতে সেই বন্ধ দরজাটার সামনে থেকে সরে এলো।

    সুধো পথ হাঁটতে হাঁটতে মনে মনে মান্নাবাবুর সঙ্গে কথোপকথন চালিয়ে বললো—

    ‘মান্নাবাবু আপনার সঙ্গে একটা কথা ছিলো—’

    ‘কেন? আমার সঙ্গে আবার আপনার কী কথা?’

    ‘আপনার ওই বটেশ্বর সম্পর্কে আমি কিছু খবর জানি, সেটাই আপনাকে জানাতাম।’

    ‘আমার লোকের সম্পর্কে আপনার এতো মাথা ব্যথা কেন শুনতে পারি?’

    ‘আমি ওকে অনেকদিন থেকে’—থামলো সুধো।

    ওটা ঠিক হবে না।

    ঠিক আছে—’আমি ওকে আগে জানতাম!’

    ‘শুনে ধন্য হ’লাম। আপনার জানা নিয়ে আপনি থাকেন গে মশাই, আমার আপনার কাছ থেকে কিছু জানার দরকার নেই।’

    ‘কিন্তু সেটা বিশেষ দরকারী কথা—’

    ‘বাজে বকবকানি রাখুন মশাই! আপনার বাহারি কথাগুলো ওই আপনার ‘বসন্তবাহারের’ রাখাল দাসকে বলুন গে।’

    ‘ঠিক আছে তাই বলবো। বলবো মান্নাবাবুর বটেশ্বর সরকার আসলে বটেশ্বরও নয়, সরকারও নয়। আদৌ বেটাছেলেই নয়—’

    ‘অ্যাঁ! অ্যাঁ?’

    ‘হ্যাঁ। ও মেয়েছেলে। ওর আসল নাম পুতুল দাস। এতোটুকুন বেলা থেকে ওকে দেখেছি আমি—’

    ‘সুধাংশুবাবু, একথা ফাঁস করে দেবেন না দোহাই আপনার—’

    ‘কিন্তু আমি তো আর এখন ওকে এইভাবে ছেড়ে দিয়ে চলে যেতে দেব না।’

    ‘ও আপনার আত্মীয়?’

    ‘আমার পরমাত্মীয়।’

    ভাবতে ভাবতে নিজেদের আস্তানায় এসে গেলো।

    পড়বি তো পড় রাখাল দাসেরই সামনে!

    ‘সুধা? এই রোদে কোথায় ঘুরে বেড়াচ্ছিস? মুখ চোখ বসে গেছে, চেহারায় কালি মেড়ে দিয়েছে—’

    ‘কবে আর সুধোর চেহারায় গোলাপ ফুল মাড়া থাকে রাখালদা?’

    ‘আয়নার সামনে দাঁড়াগে যা, নিজের কথার উত্তুর পাবি। শরীর ভালো আছে?’

    ‘কেন থাকবে না?’

    ‘ঠিক আছে, ভালো থাকলেই ভালো।’

    সকালবেলা অতো বেলা অবধি ঘুমোলি, কিছু না খেয়ে বেরিয়ে গেলি—এখন কেমন ভূতে পাওয়ার মতন কী যেন বিড়বিড় করতে করতে এলি!

    সকালে ওই মান্নাদের ওখানে যাওয়াটা বাপু আমি পছন্দ করিনি। বলি পেটের মধ্যে পাকটাক দিচ্ছে না তো?’

    ‘না বাবা, না।’

    ‘তবু বলছিলাম কি, ক’ফোঁটা যোয়ানের আরক খেয়ে নিলে ভালো হতো না?’

    ‘আঃ কী মুস্কিল, বলছি কিছু হয়নি, তবু ওষুধ খেতে হবে? সেই চা—টা দেখছি তোমার পেটের মধ্যেই পাক দিচ্ছে।’

    ‘তা দিচ্ছে।’

    রাখাল দাস গম্ভীরভাবে বলে, ‘মিথ্যে বলবো না, সেই সকাল থেকে মনে সুখ নেই।

    তার ওপর আবার কেমন করে ঘুরে বেড়াচ্ছিস। ঘরে এসে বরং একটু শুলে পারতিস সুধো!’

    ‘যখন রান্নাবান্না হবে তখন—’

    সুধো রাখাল দাসের ওই উদ্বেগকাতর মুখের দিকে তাকিয়ে একটু হেসে বলে,

    ‘পেটে বিষ পড়লে শোওয়াই খারাপ রাখালদা! ঘুরে বেড়ানোই ভালো।’

    ‘কে, কে বলেছে একথা? কে বলেছে বিষ পড়েছে? …’থাক ওসব কথা বেশী বলতে হবে না।’

    বলে রাখাল দাস সুধোকে একটু দেখে নিয়ে চলে যায়।

    বারে বারে সুধোর কপালে কি এই দুঃখই দিয়েছিলে ঠাকুর!

    ভালোবাসার লোকের প্রাণেই আঘাত দিতে হবে সুধোকে?

    সুধো অনেক বড়ো হয়ে ওঠার পর বুঝতে পেরেছিল সে তার বাপকেও মনে কম আঘাত দেয়নি।

    গোঁয়ার স্বভাবের লোকেরা ছেলে ঠেঙিয়েই থাকে, তাছাড়া তার বাবার আবার দ্বিতীয় পক্ষের স্ত্রীর রক্তচক্ষু, তাই বাবা স্ত্রী ওপর রাগ করেই ছেলেকে অমন মার—ধোর করেছে।

    কিন্তু সুধো চলে আসার পর নিশ্চয়ই অনুতাপে জ্বলেপুড়ে মরেছে বাবা।

    আর তার পরের ঘটনার তো কথাই নেই। বুঝি সে আঘাতের সীমা পরিসীমা নেই।

    আবার এই রাখাল দাসের স্নেহবন্ধন কেটে বেরিয়ে যেতে হবে।

    হবেই।

    উপায় নেই।

    পুতুলকে আর ছেড়ে দিতে পারবে না সে।

    পুতুল যদি কিছুতেই তার নিজের স্বরূপ উদ্ঘাটন করতে না দেয় সুধোকে, সুধোকেই মান্নাবাবুর কাছে ধর্ণা দিয়ে ওদের দলে গিয়ে জুটতে হবে।

    মান্না যদি বলে, ‘দুটো গায়েন পোষবার মতো পয়সা আমার নেই’

    —সুধোকে বলতে হবে, ‘মাইনের দরকার নেই আমার।’

    রাখাল দাস বলবে, ‘নেমকহারাম বিশ্বাসঘাতক বেইমান, ইতর ছোটলোক!’

    বলবে।

    হয়তো রাখাল দাস তার এই সন্দেহটাতেই নিশ্চিত হবে, মান্না চায়ের সঙ্গে তুকতাকের ওষুধ খাইয়ে তুক করেছে সুধোকে।

    মান্নার আজ বটেশ্বরের ওপর মেজাজ প্রসন্ন ছিল না।

    ‘বসন্তবাহারের’ লোক তার দলের লোকের জন্যে ঘুঁটের মালার অর্ডার দিয়ে গেল!

    অথচ ওই বটনা সর্বত্রই রূপোর মেডেল নিয়ে আসে। রূপোর গায়ে সোনার কাজ করা মেডেলও আছে ক’খানা, কিন্তু এখানে প্রথম দিনের সভা থেকেই যেন ছোঁড়ার আলগা ভঙ্গী।

    সভায় ঢুকে যেন উদাস উদাস মনমরা ভাব।

    কেন রে বাবা!

    কোনো সুন্দরী মেয়েফেয়ে চোখে পড়েছিলো নাকি? কই মান্নার তো পড়েনি।

    তবু প্রথম দিনটা ভালোয় মন্দে গেছে।

    শেষটা ওই সুধাংশু ছোঁড়া একহাত নিলেও প্রথম দিকে খুব হাততালি কুড়িয়েছে বটেশ্বর। কিন্তু দ্বিতীয় দিনে বটেশ্বর যতোই তোড়জোড় করে লম্ফ দিয়ে আসরে নামুক, ভেতর থেকে জোর ছিল না বোঝা যাচ্ছিল।

    অথচ অসুখ বিসুখও করেনি।

    অকারণ এতোবড়ো একটা নামকরা জায়গায় বাবুদের সামনে, কী অপমান!

    মান্না মুখখানা বেজার করে বাক্স গোছাতে গোছাতে হেঁকে বলে, ‘মেডেলগুলো দে বটা, রাখি।’

    বটেশ্বর পাশের ঘরে ছিলো, নিঃশব্দে এসে দিয়ে গেল সবগুলো।

    এটাও আশ্চর্য! সাধারণতঃ দু’একটা সর্বদা বুকে ঝুলিয়ে রাখতে চায় বটেশ্বর, খুব সৌখিন আছে তো! বলে, ‘থাক না আমার কাছে।’

    আজ সবগুলোই দিয়ে দিলো।

    মান্না গম্ভীর বেজার মুখে বললো, ‘এ যাত্রায় তো ভাগ্যে জুটলো ঘুঁটের মালা।’

    ‘হুঁ।’

    বটেশ্বর সোজা দাঁড়িয়ে, যাকে বলে নিজস্ব গলায় বলে, ‘তাই ভাবছি রিজাইন দেবো।’

    ‘কী দিবি? কী দিবি বললি?’

    ‘রিজাইন। নাম যখন ভেস্তে গেল, তখন আর—’

    মান্না প্রমাদ গণে।

    মান্না বোঝে তার এই বেজার ভাবটা দেখানো ঠিক হয়নি। যতোই হোক গুণী শিল্পী, তাদের অভিমান বেশী! দৈবাৎ এক আধবারও হারবে না, এই কি হয়? হারজিত নিয়েই জগৎ।

    মান্নারই বরং ওকে কাছে ডেকে সহানুভূতি দেখিয়ে ওই কথাগুলো বলা উচিত ছিলো। তা নয় মান্না মেজাজ দেখাতে গেল।

    ছোঁড়া বিগড়ে বসে আছে।

    এমনিতেই তো মেজাজি।

    কারুর সঙ্গে মেলামেশা নেই, সর্বদা অহংকারে মটমট। চেহারাখানি অমন সরেস, সাজসজ্জাতেও বেশ আছে। কিন্তু কথাবার্তায় যদি এক ফোঁটা রস আছে। একেবারে কাঠখোট্টা। একটু তোয়াজ করে কথা বলতে গেলেও বলবে, ‘ওসব কথা রাখুন, আসলে কী বলবেন বলুন।’ মনে হয় বড়ো ঘরের ছেলে। খেয়ালের মাথায় চলে এসেছে। সেই ঘরের অহঙ্কার আছে। দলের আর সবাইকে তো মশামাছি সমান জ্ঞান করে, কারুর সঙ্গে ভাব নেই।…

    অবিশ্যি মান্নাবাবুকে সমীহ ভাব দেখায়, তবে সুবিধেও কম আদায় করে নেয় না। উনি বাবু কারুর সঙ্গে একঘরে শুতে পারেন না, কারুর তেল গামছা সাবান ব্যবহার করতে পারেন না, কারো সঙ্গে এক থালায় খেতে পারেন না। বায়নাক্কা ঢের।

    নচেৎ তবলী, দোয়ার, হারমোনিয়াম বাজিয়ে, ফুলুট বাঁশী বাজিয়ে—এরাও তো কম দরকারি নয়? তবু ওরা সবাই ঘরের মেঝেয় ঢালাও শতরঞ্চি বিছিয়ে গড়া—গড়ি দিয়ে শুয়ে পড়ে, একখানা থালায় ভাত ঢেলে তিন চার জনে ঘিরে বসে সাঁটে।

    সে যাক, হীরোকে হীরোর মর‍্যাদা দিতেই হবে।

    মান্না তাড়াতাড়ি বলে, ‘ছেলেমানুষী করিস না। তুই ঠাট্টা করে বলছিস, পাঁচজনে তাই নিয়ে গুলতানি করবে।’

    ‘ঠাট্টা করে তো বলছি না।’

    ‘তবে কি সত্যি করে বলছিস?’

    ‘হুঁ।’

    ‘দেখ বটা জগতে হারজিত আছেই। একদিন একটু এদিক ওদিক হয়ে গেছে বলেই দল ছাড়বি?’

    ‘শুধু দল ছাড়ব না, এই কাজই ছেড়ে দেবো।’

    ‘এই কাজই ছেড়ে দিবি? এই কবিগান?’

    ‘হ্যাঁ মান্নাবাবু! এ থেকে আমার মন চলে গেছে, আমি আজই চলে যাবো। এই দিনের বেলাই।’

    মান্না আগুন হয়ে ওঠে।

    ‘আজই এক্ষুণি!

    এ কী ছেলের হাতের মোয়া?

    না কি মামদোবাজি?

    চলে যাবো বললেই চলে যাবো?

    মান্না তবু কষ্ট করে আগুন চেপে রেখে বলে ‘তা যাবো বললেই তো যাওয়া হয় না বটেশ্বর! চাকরীর কিছু আইন কানুন থাকে—’

    ‘আমার ব্যাপারে নেই—’

    ‘তোমার ব্যাপারে নেই? কেন? তুমি কি নবাব সিরাজউদ্দৌলা?’

    মান্না ধাপে ধাপে চড়ে, ‘আমিও যেমন তোমায় এককথায় ছাড়াতে পারি না, তুমিও তেমনি অসময়ে—’

    বটেশ্বর দৃঢ় গলায় বলে, ‘আপনিও আমায় এককথায় ছাড়াতে পারেন, আমিও আপনাকে এককথায় ছাড়তে পারি। আমাদের সেইভাবেই কনট্রাক্ট করা আছে।’

    ‘সেইভাবেই কনট্রাক্ট করা আছে?’

    মান্নাবাবুর বুকটা ধড়াস করে ওঠে।

    মনে পড়ে যায়, এই রকমই কী একটা ব্যাপার আছে।

    বটেশ্বর বলছিল, ‘আমার একটি শর্ত রাখতে হবে আপনাকে, তবেই আমি আপনার দলে ঢুকবো।’

    ‘শর্তটা কী?’

    ‘শর্তটা হচ্ছে কোনো পক্ষেই বাধ্য বাধকতা থাকবে না।’

    বটেশ্বরের না পোষালে তৎক্ষণাৎ ছেড়ে যেতে পারবে। মান্না কোম্পানীর না পোষালে তৎক্ষণাৎ ছাড়িয়ে দিতে পারবে।

    শর্তটায় আপত্তির জোর ছিলো না, কারণ দু দিকেরই দরজা খোলা রাখা হচ্ছে।

    তাছাড়া—

    তখন মান্না বটেশ্বরকে নেবার জন্য পাগল।

    কোন এক অখ্যাত গ্রামের থেকে আসা এই ছোঁড়াটা চাকরীর জন্য দরবার করেছিল। সত্যি বলতে গ্রাহ্য করার কথা না, নেহাৎ মান্না ওর লাবণ্যযুক্ত চেহারাখানা দেখেই এতটা গ্রাহ্য দিয়ে বলেছিল, ‘আচ্ছা গা দিকিনি একখানা গান।’

    ব্যস!

    গলা শুনে মান্না নেই।

    আর গানের তাল লয় মানও।

    গলা না হয় ভগবানদত্ত, কিন্তু তাল লয় মান? গুরু কে?

    ‘গুরু আমার মা!’

    ‘মা! কী নাম? কোথায় থাকেন?’

    স্বর্গে গেছেন, নাম নিয়ে লাভ নেই।…বলুন এই শর্তে যদি রাজী থাকেন…’

    কাটখোট্টা ভঙ্গী!

    অমন লাবণ্যময় চেহারা, অমন বাঁশীর মতো গলা, কিন্তু কথা যেন ছুঁড়ে মারে।

    তা’ মারুক। শুধু গলা নয়, কবির গান বাঁধে, একাই দু’পক্ষ হয়ে লড়াই চালায়। এ এক আশ্চর্য্য প্রতিভা! একে কি আবার মানুষ তুচ্ছ একটু শর্তের কচকচি নিয়ে ছাড়ে? শর্তে রাজী হয়ে গিয়েছিল মান্না।

    নিজস্ব একটা ঘর চাই ওর।

    তা নিক।

    একখানা মাত্র ঘর থাকলে সেইখানাই ও নেবে, আর সবাই উঠোনে শোবে।

    অতএব শর্ত মঞ্জুর।

    দলের লোকেরা বলাবলি করে, ‘নির্ঘাৎ ওই গোলাপী আভা রংটা ওর নিজের নয়। পেণ্ট করা। তাই নির্জনের দরকার। ওই ভুরু—টুরু সবই মেকআপ! বড়মানুষের ঘরের ছেলে মনে হয় পালিয়ে এসেছে বোধহয়। পরণ পরিচ্ছেদ দেখেছিস?”

    তা ওই পরণ পরিচ্ছেদই।

    খাওয়া দাওয়ায় বড়মানুষী নেই বটেশ্বরের। নুনভাত দাও, নুনভাত খাবে। দলের অন্যদের মতো কখনো বলবে না—’আজ খাওয়া খারাপ হলো।’

    থাকতে থাকতে ওর নিজস্ব ধরন সকলের সহ্য হয়ে গেছে। আর ওর সেই শর্তও ভুলে গেছে মান্না। আজ মনে পড়িয়ে দিলো বটেশ্বর।

    বললো, ‘আছে কিনা আপনিই মনে করুন।’

    মান্না বললো, ‘তা হলেও, এই দণ্ডে যাবো মানে কী? কারুর সঙ্গে অসরস হয় নি, বিরোধ হয় নি…’

    ‘না কারুর সঙ্গে হয়নি। নিজের সঙ্গেই হয়েছে।’

    ‘নিজের সঙ্গে? এটা আবার কেমন কথা বটু?’

    ‘মানে আর কাজে মন লাগছে না।’

    ‘ছি ছি এ তোমার নেহাৎ ছেলেমানুষী বটেশ্বর! একদিন একটু এদিক ওদিক হয়ে গেছে বলে নিজের এমন গৌরবের জীবনটা ত্যাগ করবে? বরং মনের জোর করে আরো ইয়ে হ’, যাতে ভবিষ্যতে ওই বসন্তবাহারের সুধাংশুর গলায় ছেঁড়াচটির মালা ঝোলাতে পারিস।’

    ‘না আমার আর মন নেই।’

    ব্যস!

    ওই এক কথা, ‘আমার আর মন নেই!’

    সবাই মিলে মাথা খুঁড়লো, তবু সেই এক কথা।

    ‘রাতে খাওয়াটা—অন্তত হোক? নচেৎ মানিকবাবুরা মনে করবেন কী?’

    ‘বলবেন ও খাবে না, শরীর খারাপ।’

    ‘বটু, তুই আমায় এইভাবে জব্দ করবি? তোর সঙ্গে আমার পূর্বজন্মের কোনো শত্রুতা ছিল কী?’

    ‘থাকতে পারে।’

    ‘ওঃ বটে!’ এবার মান্না নিজমূর্তি ধরে। ‘আসল কথা বসন্তবাহার ভাঙচি দিয়েছে। অধিক মাইনের লোভ দেখিয়েছে।

    ওদের ওই ছোঁড়াটা সকালে এসেছিল শুনেই আমার মনে হয়েছিল এরকম কিছু ঘটবে। সকাল বেলা ছোঁড়া কোন মতলবে?

    এখন বুঝিছি কোন মতলবে।

    আচ্ছা আমিও নীলমণি মান্না, দেখি বসন্তবাহার কেমন করে আমার লোক ভাঙিয়ে নিয়ে যায়। আমি যদি তোর ঠ্যাঙ ভেঙে এখানে শুইয়ে রেখে দিই, পারবি যেতে?’

    ‘মেলা বাজে কথা বলবেন না মান্নাবাবু! মাইনে দিতে ইচ্ছে হয় দেন, না দেন ঝগড়া করবো না। মোটকথা আমি এক্ষুণি চলে যাবো!’

    ‘বুঝেছি। আর বলতে হবে না।’

    রাখাল কোম্পানী সবে খেয়ে উঠেছে, হঠাৎ অগ্নিমূর্তি নীলমণি মান্নার নাটকীয় প্রবেশ।

    ‘রাখালবাবু, অতি দর্পে হতা লঙ্কা, তা জানেন তো?’

    ‘কী ব্যাপার? হয়েছে কী?

    ‘হয়েছে কী? জানেন না? পয়সা কিছু বেশী হয়েছে বলে অহংকারে ধরাকে সরা দেখছেন। কিন্তু আমার লোককে ভাঙিয়ে নিলে আপনার ললাটে দুঃখ আছে তা বলে দিচ্ছি।’

    রাখাল দাস মাথা গরম করে না।

    বোঝে কোথাও কিছু ভুল হয়েছে।

    সে আস্তে আস্তে বলে, ‘অন্যের লোক ভাঙিয়ে নিলে ললাটে দুঃখু থাকে বৈকি। তার ল্যাজ মোটা হয়। মনে করে আমার মতন গুণী বুঝি আর ত্রিভুবনে নেই। কিন্তু কথা হচ্ছে তেমন কোনো দুষ্কর্ম তো আমি করিনি মান্নামশাই!’

    ‘করেন নি? করেননি কিছু? ভাজামাছটি উল্টে খেতে জানেন না যে দেখছি। শাক দিয়ে আর মাছ ঢাকবেন না রাখালবাবু! আমার বটেশ্বরকে আপনি অধিক টাকার লোভ দেখান নি? বলি কতো বেশী দেবেন তাকে যা নীলমণি মান্না দিতে পারে না?’

    গোলমালের মতন আকর্ষণীয় ব্যাপার জগতে আর কী আছে? আকৃষ্ট হয়ে সবাই এসে দাঁড়িয়েছিল, সুধোও ছিল।

    বটেশ্বর শব্দটায় সচকিত হলো সে এবং যা শুনলো তাতে ধারণা হওয়া উচিত এরা ওদের বটেশ্বরকে অর্থাৎ আসল হীরোকে বেশী মাইনের লোভ দেখিয়ে টেনে আনছে। এই দুষ্কর্মের শাস্তি দিতে মান্না যতদূর যেতে হয় যাবে।

    সুধো যেন বুঝতে পারে আসলে কী ঘটেছে।

    সুধো শান্তভাবে বলে। ‘বটেশ্বরবাবু বলেছেন আমরা তাঁকে বেশী মাইনের অফার দিয়েছি?’

    ‘আহা রে আমার নাবালক এলেন। এ সব কথা বুঝি লোকে নিজমুখে বলে বেড়ায়? ব্যবহারেই মালুম হয়। আপনি সকালবেলা দালাল হয়ে গেলেন, দু’ঘণ্টা পরেই বাছাধন আমার শিঙ বাঁকালেন—এক্ষুনি চলে যাবো…এর স্বরূপ কচি ছেলেটাও বুঝতে পারে।’

    রাখালদাস বিপন্ন বিব্রত হয়ে বলে, ‘কিন্তু আপনি বিশ্বাস করুন মান্নামশাই, আমি এর বিন্দু বিসর্গও জানিনা। এ নিশ্চয় অন্য চক্রান্ত।’

    ‘অন্য চক্রান্ত তো, আপনার ওই সুধাংশু সকালে গিয়েছিল কেন?’

    ‘আপনি বিশ্বাস করুন মান্নামশাই, আমি জানতামও না। ও নিজেই গিয়েছিল নাকি!’

    ‘ইস! এই ভোর রাত্রে যাকে ঘুঁটের মালা পরিয়ে এসেছে, তার সঙ্গে অকারণ গলাগলি করতে গেলেন উনি, এই কথা মানবো আমি?’

    ‘আচ্ছা আমি ওকে জিজ্ঞেস করছি, এই সুধো?…আরে কোথায় সুধো? এই তো ছিল। সুধো সুধো!’

    কিন্তু কোথায় সুধো?

    সুধো যেন হাওয়া হয়ে গেল।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleসোনার কৌটো – আশাপূর্ণা দেবী
    Next Article অনবগুন্ঠিতা – আশাপূর্ণা দেবী

    Related Articles

    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়

    বিপিনের সংসার – বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়

    January 8, 2026
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    ভয় সমগ্র – হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    December 9, 2025
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    কিশোর অ্যাডভেঞ্চার সমগ্র – হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    December 9, 2025
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    প্রকাশ্য দিবালোকে – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    November 18, 2025
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    তারপর কী হল – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    November 17, 2025
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত

    শর্ম্মিষ্ঠা নাটক – মাইকেল মধুসূদন দত্ত

    November 11, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Our Picks

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }