Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    শিকলি কাটা পাখি – আশাপূর্ণা দেবী

    লেখক এক পাতা গল্প148 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    শিকলি কাটা পাখি – ৬

    ৬

    স্টেশন নেহাৎ কাছে নয়।

    সাইকেল রিক্সা ভিন্ন গতি নেই। কিন্তু সে গতির দিকে লক্ষ্য না রেখে মান্না কোম্পানীর বটেশ্বর হনহনিয়ে হেঁটে চলেছিল স্টেশনের দিকে।

    রোদে খাঁ খাঁ রাস্তা, তবু বটেশ্বর হাঁটা পথই বা ধরেছে কেন?

    কেন কে জানে!

    ধরেছে তাই দেখতে পাওয়া যাচ্ছে।

    অবশ্য সাইকেল রিক্সা যে গ্রামে প্রচুর আছে তা নয়, যে ক’খানি আছে সে ক’খানিকে হয়তো আপাতত মল্লিক বাবুরাই দখল করে রেখেছেন।

    বটেশ্বর বোধকরি ভেবেছে, এগোই তো, পথে পাই নিয়ে নেবো। কাউকে সে জানিয়ে বেরোয় নি তা বোঝা যাচ্ছে। বটেশ্বরের হাতে বেশ ভারী একটা সুটকেস, সেটা বওয়া বেশ সুখসাধ্য নয়!

    হঠাৎ পিছন থেকে সুটকেসে একটা টান পড়লো।

    চমকে উঠলো বটেশ্বর।

    মান্নাবাবু কি গুণ্ডা পাঠিয়ে মাঝপথে সর্বস্ব লুঠ করিয়ে জব্দ করতে চান?

    ফিরে তাকালো।

    আর পাথর হয়ে গেল।

    ‘ওটা আমার হাতে থাক, ভারী আছে।’

    বটেশ্বর কড়া গলায় বলে, ”চাকরী খেয়েও আশা মেটেনি? সুটকেসটাও দখল করতে চান?”

    ‘তা চাই। সুটকেসটাই নয়, তার মালিকটিকেও।’

    ‘নাটক নভেলের কথা রাখুন, পথ ছাড়ুন।’

    ‘পথ তো আগলাইনি, শুধু পায়ে পায়ে পথ চলতে এসেছি।’

    বটেশ্বর দাঁড়িয়ে পড়ে বলে, ‘আচ্ছা আপনি কেন এতকাল পরে আমার শনি হয়ে এলেন?’

    ‘আমার ভাগ্য! বারে বারেই তোমার শনি হবো, রাহু হবো, এই কপাল আমার!’

    ‘সুধা, তোমার পায়ে পড়ছি, আমাকে আমার জীবনে চলতে দাও। আমাকে এভাবে জব্দ কোরো না।’

    ‘পুতুল!’

    পুতুল উত্তর দেয় না, অন্যদিকে তাকিয়ে থাকে।

    ‘পুতুল, যে জীবনে এতোদিন ছিলে, সে জীবন তো পুরনো কাপড়ের মতো ফেলে চলে এসেছো—’

    ‘পৃথিবীতে তো একটা মাত্রই পথ নেই? আবার অন্য পথের চেষ্টা করবো, অন্য কোথাও দাঁড়িয়ে যাবো—’

    ‘এইটাই কি চিরকালের জীবন হতে পারে পুতুল? বেটাছেলে সেজে আসর মাৎ করে—’

    ‘মাৎ আর করতে পারলাম কই?’

    এতোক্ষণে একটু হাসে পুতুল, ‘কাৎই তো হয়ে গেলাম।’

    ‘পুতুল, তুমি কি সেই অভিমানে—?’

    ‘আরে দূর!’

    ‘তবে তুমি হঠাৎ কেন এভাবে—’

    ‘আচ্ছা তুমি কি গোয়েন্দা? আমার ওপর চোখ রাখতে কেউ তোমায় লাগিয়েছে?’

    পুতুল রেগে বলে, ‘নইলে তুমি জানলে কী করে যে একটা সহায় সম্বলহীন মেয়ে তার শেষ সহায় ছদ্মবেশ টুকুকে হঠাৎ হারিয়ে ফেলে ভয়ে পালাচ্ছে!’

    ‘তোমার এই পালানোটাই তো সারা উজিরপুরে রাষ্ট্র হয়ে গেছে পুতুল!’

    ‘কী? তার মানে?’

    ‘মানে এই—মান্নাবাবু গিয়ে রাখাল দাসকে এই মারে সেই মারে। তোমাকে উনি ওঁর দল থেকে ভাঙিয়ে নিয়ে যাবার জন্যে নাকি আমায় দালাল পাঠিয়েছিলেন, আর তুমি ওর মুখের ওপর চাকরী ছেড়ে দিয়েছো।’

    ‘য্যাঃ!’

    ‘কথাটা অবিশ্বাসের, তবু সত্যি। তুমুল চেঁচামেচি। আমি সেই গোলমালের মধ্যে থেকে সরে এলাম।’

    ‘বেশ দেখা হয়েছে তো? এখন যেতে পারেন।’

    ‘আবার ‘আপনিই’ বলে রাগ করে।

    সুধো তাতে কান দেয় না।

    সুধো মৃদু হেসে বলে, ‘যাবার উপায় কোথা? তলপী বইতে হবে না?’

    ‘ওঃ বইতেই হবে? তলপী বইবার চাকরীটা কে দিলে শুনি?’

    ‘সব চাকরী কি দিতে হয়? কিছু কিছু চাকরী নিতেও হয়।’

    ‘আমার খুব রাগ হচ্ছে সুধা! তুমি কেন আবার ধূমকেতুর মতন আমার জীবনের মধ্যে এলে?’

    ‘ধূমকেতুর স্বধর্ম!’

    পায়ে পায়ে এগোচেছ।

    পুতুল যেন নিরুপায় হয়েই ওই সুটকেসটার ভারটা ছেড়ে দিয়ে চলতে চলতে বলে, ‘আচ্ছা তুমি যে আমার সঙ্গে যাচ্ছো, এর উদ্দেশ্য কী?’

    উদ্দেশ্য? হয়তো প্রায়শ্চিত্ত।’

    হুঁ! এসব মহৎ চিন্তা—টিন্তাগুলো বোধহয় আজকালই গজিয়েছে?’

    ‘অস্বীকার করবো না। সুধো বলে, ‘সত্যিই হঠাৎ তোমায় দেখে, যেন সারাজীবনের বোকামী আর লোকসানের ওজন দেখে প্রাণটা হায় হায় করে উঠলো।…মার কি খবর পুতুল?’

    ‘মা? ও বাবা! এ যে একেবারে অনুতাপের আগুনে ঝলসানো! মার কথা তোমার মনে আছে?’

    ‘আছে পুতুল। সবই আছে, সবই থাকে। কোনো কিছুই হারিয়ে যায় না, ফুরিয়ে যায় না। শুধু কুগ্রহরাই যা খুশী করায়। এখন মায়ের নাম মুখে আনা আমার ধাষ্টামো। তবু জানতে ইচ্ছে হচ্ছে—’

    ‘মা নেই সুধো।’

    সুধো চমকালো না।

    সুধো যেন এই কথাটাই শোনবার জন্যে প্রস্তুত হচ্ছিলো।

    আস্তে বললো, ‘বুঝতে পারছিলাম। মা থাকলে কি আর তুমি—?’

    ‘দরকারও হতো না! মা যে কোথা থেকে কি করতেন!’

    ‘কিন্তু একটা কথা বলি,—জগৎ সংসারে এতো রকম কাজ থাকতে, হঠাৎ বেটাছেলে সেজে কবিগান করার ইচ্ছে হলো কেন?’

    ‘কেন?’

    পুতুল একটু বিষণ্ণ হাসি হাসে।

    ‘সব ‘কেন’র মানে বলা যায় না।’

    ‘কাঁঠালতলার সেই পুকুরটা কেটে নিয়েছিলি পুতুল? যাতে কচি পুতুলকে চান করাবি বলেছিলি?’

    ‘নিয়েছিলাম বৈকি!’

    পুতুল একটু হাসে, ‘সেই পুকুরে চান করতে করতেই তো কচি পুতুলটা এতো বড়ো হলো।’

    ‘মা আমায় কী বলতেন পুতুল?’

    ‘কী মনে হয়?’

    ‘মনে তো অনেক কিছুই হয়। মনে হয় বলেছেন—বেইমান নেমকহারাম অকৃতজ্ঞ ছোটলোক।’

    ‘ওইসব কথাগুলোর সঙ্গে মার মুখটা মিলোতে পেরেছো?’

    ‘না পুতুল, তা’ পারছি না। কিন্তু ওইগুলোই তো বলা উচিত।’

    পুতুল চড়া গলায় বলে, ‘উচিত কাজটা মার হয়ে আমি করেছি। শুধু ওই নয়, আরো অনেক কিছু বলেছি। আজো বলি।’

    ‘বলেছিস? আজো বলিস? তুই আমায় বাঁচালি পুতুল! মনে হচ্ছে…কিন্তু, মা তা’হলে কী বলেছেন?’

    পুতুল একটু দাঁড়িয়ে পড়ে আস্তে বলে, ‘মা বলতো, শিকলিকাটা পাখি।’ কেঁদে কেঁদে বলতো, ‘জানতাম। জানতাম ও খাঁচা ভেঙে পালাবে।’

    ‘কতোদিন হলো পুতুল?’

    পুতুল প্রশ্নটা বুঝে নেয়।

    বলে, ‘এই আশ্বিনে সাত বছর।’

    ‘সাত বছর! এই সাত বছর তুই একা আছিস পুতুল?’

    ‘একা কেন? ভগবান আছেন সঙ্গে সঙ্গে?’

    কিছুক্ষণ আর কথা বললো না সুধো।

    তারপর আবার স্তব্ধতা ভেঙে বললে, ‘কী হয়েছিল?’

    ‘জ্বর। শুধু জ্বর। সে জ্বর আর ছাড়লো না।’

    ‘আর মা আমায় ছেলের মতো করে—’

    থেমে যায়, তারপর সামলে নিয়ে বলে, ‘কিন্তু তোর তো তখন বিয়ের বয়স হয়ে গিয়েছিল পুতুল! বিয়ে করিসনি কেন? তাহলেতো—’

    পুতুলের গলা ধারালো শোনায়, ‘বিয়ের বয়স হলেই বিয়ে করতে হয়? তোমারও তো বিয়ের বয়েস হয়ে গেছে কোনকালে।’

    ‘আমার কথা বাদ দে। আমি একটা লক্ষ্মীছাড়া বাউণ্ডুলে। তাছাড়া বেটাছেলে।’

    ‘তাতেই মাথা কিনেছো?’

    ‘না’ মানে, বেটাছেলের তো অন্য ভয় নেই। মেয়েছেলের পদে পদে ভয়।’

    ‘সে জ্ঞান আছে তাহলে?’

    ‘ছিল না জ্ঞান পুতুল, ধীরে ধীরে হয়েছে। যতো নিজের ছোটলোকমীর কথা ভেবেছি ততোই জ্ঞান জন্মেছে। কিন্তু জানতাম না তো তুই কোথায় কী অবস্থায় আছিস। মনে ভাবতাম রূপের জোরে খুব একখানা বড়লোকে বাড়িতে বিয়ে হয়েছে, সোনার খাটে গা আর রূপোর খাটে পা মেলে শুয়ে আছিস—’

    ‘ভাবতে এইসব?’

    ‘ভাববো না? বড়লোকের বৌ হবার মতোই তো রূপখানা তোর!’

    ‘হুঁ। তাই মান্নাবাবুর দাসত্ব করছি।’

    ‘সে তোর সখের কাজল পরা পুতুল! আর মারও অন্যমনস্কতা। মা যদি সময়ে—’

    ‘দেখো সুধা, মার নামে কথা বলো না।’

    ‘না না ছিঃ। কথা বলবো কেন? মানে ইয়ে—’

    ‘জানি বুঝেছি। মা বলতেন, ‘যার হাতে মনে মনে তোকে সঁপে দিয়ে রেখেছিলাম তাকে ছাড়া আর কারুর হাতে দিতে মন সায় দেয়না পুতুল! আমি মরে গেলে তোর যা মনে হয় করিস।’

    ‘পুতুল!’

    ‘কী?’

    ‘কার হাতে?’

    পুতুল কড়া গলায় বলে, ‘বুঝতে পারছো না? সে হচ্ছে আমার যম।’

    দূর থেকে টিনের বেড়া দেওয়া এক ফোঁট্টা স্টেশনটা দেখা গেল।

    সুধো সুটকেসটা হাত বদল করলো।

    ‘এখন গাড়ি আছে?’

    ‘পাঁচটার সময় আছে।’

    ‘কোন ট্রেন? কোথা থেকে আসে?’

    ‘জানিনা। একদিন আমাদের দলের নিতাই বলেছিল পাঁচটার গাড়িতে ওর শালা আসবে। দাও এবার আমার তলপীটা দাও।’

    ‘উঁহু, না তো। বরাবরের চাকরী নিলাম যে।’

    ‘সুধা, তুমি বুঝতে পারছো না—’

    ‘পারছি।’

    ‘ওরা তোমায় খুঁজবে না?’

    ‘তা খুঁজবে।’

    ‘তারপর? যখন দেখবে তুমি আমি দু’জনে একই সঙ্গে নিরুদ্দেশ, তখন কী বলবে?’

    ‘কি আবার বলবে? কিছুই বলবে না। দুটো ‘ছেলে’ই একসঙ্গে নিরুদ্দেশ হয়ে গেল, শুধু এই বলবে।’

    পুতুলের যেন নতুন করে খেয়াল হলো তার বহিরঙ্গে সাজটা কী? এতক্ষণ সে আস্তে আস্তে বটেশ্বর থেকে পুতুল হয়ে গিয়েছিল।

    ‘এই এই দাঁড়া—’

    একখানা সাইকেল রিক্সা স্টেশনের শেডের নীচে থেকে আস্তে আস্তে বেরোচ্ছিল। সুধো তাকে দাঁড় করালো।

    ‘এখন এটা কী হবে?’

    পুতুল অবাক হয়। ‘কোন কাজে লাগাবে এখন এটাকে?’

    ‘দেখোনা, ওঠো।’

    ‘তোমার মতলবটা কী?’

    ‘মতলব খারাপ। তোমায় নিয়ে ভেগে পড়া।’

    ‘তা সেটা তো হচ্ছিলই। এখন এই ট্রেন এসে পড়ার সময় কোথায় যাবে?’

    ‘ট্রেনে উঠবো না পুতুল! ট্রেন ছাড়বার আগেই পালাবো।’

    ‘কী ব্যাপারটা কী? আমি তো কিছুই বুঝতে পারছি না।’

    ‘বোঝবার আগে পালাই।’

    ‘এই রিক্সাওলা, এখানে কোথায় বিবিগঞ্জের হাট বসে? সেখানে নিয়ে চল।’

    ‘হাট তো বাবু পর্শু।’

    ‘ওঃ তাই নাকি?’

    ‘তা’ বিবিগঞ্জ তো আছে? সেখানেই চল।’

    সুধো পুতুলকে প্রায় ঠেলে তুলে দিয়ে সুটকেশটা নিয়ে চড়ে বসে।

    পুতুল উঠে বসে, কিন্তু ব্যাকুলভাবে ট্রেন আসার সম্ভাবিত দিকটার দিকে তাকিয়ে বলে, ‘তোমার অভিসন্ধিটা দয়া করে খুলে বলবে আমায়?’

    ‘অভিসন্ধি তো খুলেই বললাম। আরো একটা কথা শুনে নাও। মনে করো না মান্নাবাবু আর রাখালদা নিজেদের জলজ্যান্ত মাল দুটোকে হারিয়ে যেতে দেবে। যেই টের পাবে পাখি হাওয়া, সেই রিক্সা করে ছুটে চলে আসবে ইষ্টিশানে। জানে তো—আমাদের শেষ গতি রেলগাড়ি। এসে হুল্লোড় তুলে গাড়িখানাকে চলে যাইয়ে ছাড়বে।

    পুতুল এদিকটা ভেবে দেখেনি।

    পুতুল ভাবছিলো কোনমতে একবার রেলগাড়িতে চড়ে বসে তারপর ভাববে কোন দিকে যাবে, কোথায় নেমে পড়বে, এরপর কী করবে।

    হঠাৎ যেন নিশিতে পাওয়ার মতো ছুটে চলে আসছিলো, এখন সব অদ্ভুত অন্যরকম লাগছে।

    যে শত্রুর ভয়ে দিশেহারা হয়ে পালিয়ে আসছিলো, তার সঙ্গে এক রিক্সা গাড়িতে এগিয়ে চলছে, নিজেকে প্রায় ছেড়ে দিয়ে। কোথায় নিয়ে যাচ্ছে তা আর ভাবছে না। এখন তো সব ভাবনা ওই শত্রুটার।

    ‘এখন আমরা বিবিগঞ্জে পৌঁছে কোথাও গা ঢাকা দিয়ে থাকবো। ওরা এদিকে নিশ্চয় আসবে না।’

    ‘আর তোমার জিনিসপত্র?’

    ‘দূর ভারী তো জিনিস! দ্বিতীয় একটা বস্ত্রের দরকার হতে পারে। তা’ তোমার কাছেই তো মিলবে।’

    হঠাৎ দু’জনে হেসে ওঠে।

    সম্পূর্ণ কৌতুকের হাসি।

    যেন দু’জনে বরাবরই এমনি এক রিক্সায় গায়ে গা ঠেকিয়ে বেড়াতে যায়, এমনি হাসি গল্প করে।

    ‘যেতে যেতে একটা পানের দোকান পেলে পান খাবো।’

    ‘ওঃ একাই খাবে?’

    ‘তাই কি খায় কেউ?’

    ‘আচ্ছা তোমার খুব অদ্ভুত লাগছে না?’

    ‘লাগছে, আবার লাগছে না।’ পুতুল আস্তে বলে, ‘যেই মাত্র তোমায় দেখতে পেলাম, সঙ্গে সঙ্গে মনে হয়েছিলো, এইবার বুঝি সব ওলোট পালোট হয়ে যাবে। যা কিছু সাজানো, সব ভেঙে ছত্রখান হয়ে যাবে।’

    ‘তুমি আমায় দেখেই চিনতে পেরেছিলে?’

    ‘তোমায় দেখে? তোমার ছায়া দেখে।’

    পুতুল এবার অভিযোগের গলায় বলে, ‘তুমি কিন্তু আমায় প্রথমে চিনতে পারনি।’

    ‘তা পারিনি, স্বীকার করেছি। তোমার যে সাজ অন্য। তবু জানো পুতুল, দেখামাত্র কী যে হতে লাগলো মনের মধ্যে! তাই না অমন করে রাগিয়ে দিয়ে দেখছিলাম, খোলসটা ভাঙুক, দেখি।’

    ধান ক্ষেতের পাশ দিয়ে চলেছে রিক্সাখানা, অনেকক্ষণ আর কথা বলছে না ওরা। যেন কথা হারিয়ে ফেলেছে।

    যেন উপলব্ধিতে আনছে, সত্যিই এখন ওরা একসঙ্গে চলছে কিনা।

    কিন্তু সেই কানসোনাপুরে ওদের যা বয়েস ছিল সে কি প্রেমে পড়ার বয়েস?

    নয় নিশ্চয়ই, তবু কোথায় যেন কী একটা বন্ধন দুজনকে অলক্ষ্যে বেঁধে রেখেছিল। হয়তো একজনের মাতৃহৃদয়ের একান্ত ইচ্ছার নির্দেশ, আর একজনের অপরাধ বোধের ব্যাকুলতা তিল তিল করে হয়ে উঠেছিলো ভালবাসা। তাই একমুহূর্তে দূরত্ব গেল ঘুচে। শৈশবের চেনা, সেও বুঝি এক আলাদা জিনিস।

    একসময় সুধো বলে ওঠে, ‘মা থাকলে ফিরে গিয়ে বলতাম, ‘মা, তোমার শিকলি কাটা পাখি আবার এসে খাঁচায় ধরা দিলো।’

    পুতুল একটুক্ষণ চুপ করে থেকে একটু বিষণ্ণ ধরনের হাসি হেসে বলে, ‘আর এক খাঁচার শিকল কাটলো!’

    সুধো চুপ করে রইলো।

    রাখাল দাসের মুখটা মনে পড়লো। সুধোর জন্যে উদ্বেগটা মনে পড়লো।

    একটা নিঃশ্বাস ধানক্ষেতের মধ্যে মিলিয়ে গেল।

    যবনিকা

    হ্যাঁ, শেষ পর্যন্ত সেই রাত্রে অজিতা দেবীও একটা খুন করে বসলেন। যে রাত্রির প্রভাত ভয়ঙ্কর একটা উত্তেজনার স্নায়ু থরথরিয়ে অপেক্ষা করছিল, অজিতা দেবী কী করেন! অজিতা দেবী কী করবেন!

    অজিতা দেবীই তো এই এতদিন ধরে ছিলেন সকলের লক্ষ্যবস্তু। শুধু যে সমগ্র পরিবারই তা’ নয়, আত্মীয়—অনাত্মীয়, বন্ধু, শত্রু, পরিচিত—অপরিচিত, বলতে গেলে দেশশুদ্ধ সবাই এ পর্যন্ত অজিতা দেবীর দিকেই তীব্র উৎকণ্ঠিত দৃষ্টিতে তাকিয়ে থেকেছে, কী করেন উনি! কী করবেন!

    কিন্তু কেন?

    প্রৌঢ়া বিধবা অজিতা দেবী হঠাৎ এতখানি গুরুত্ব লাভ করলেন কী সূত্রে? দেশসুদ্ধ লোকই বা তাঁর নাম জানলো কী জন্যে? তিনি তো তাঁর দেব—দ্বিজ, আচার—নিষ্ঠা, ব্রত—পার্বণ নিয়ে প্রায় পূজোর ঘরের এলাকাতেই নির্বাসিত ছিলেন, অথবা স্বেচ্ছায় নিয়েছিলেন সে নির্বাসন। সে যাই হোক, সেই নির্বাসিতা অজিতা দেবী একেবারে মঞ্চের মধ্যস্থলে এসে অবতীর্ণ হলেন কেন?

    যেন ভয়ঙ্কর যে নাটকখানার অভিনয় দেখবার জন্যে রোমাঞ্চিত কলেবর দর্শককুল অপেক্ষা করছে, তার নায়িকার ‘রোল’টা দেওয়া হয়েছে অজিতা দেবীকে।

    কী এর কারণ?

    কারণ সেই আগের খুনটা।

    উদ্দাম একটা ঝড়ের রাতে অজিতা দেবীর বাড়িতেই যে খুনটা হয়ে গিয়েছিল। বিগত কয়েক মাস ধরে যার ‘কেস’ চলছিল নির্লজ্জ নগ্ন কঠোর একটা হিংস্রতার রূপ নিয়ে। অজিতা দেবীই হচ্ছেন সেই ‘কেস’—এর প্রধান সাক্ষী।

    কারণ প্রত্যক্ষদর্শী হিসেবে তিনি নাকি প্রধান। সম্পর্ক হিসেবেও।

    তাই পরামর্শদাতা—আত্মীয় আর উকিল ব্যারিস্টারবর্গ তাঁকে প্রস্তুত করছিল সত্য সাক্ষ্য দেবার জন্যে। হ্যাঁ সত্য সাক্ষ্য দেবার জন্যেও ‘প্রস্তুত’ করতে হয় বৈকি। বলবার পদ্ধতির একটু এদিক—ওদিকেও যে ‘কেস’ একেবারে ঘুরে যেতে পারে।

    আশ্চর্য!

    অজিতা দেবীর বাড়িতে একটা খুনের ঘটনা ঘটলো! এত সাধাসিধে গেরস্থালী বাড়িতে এমন শান্ত—ছন্দ সংসারে এমন ঘটনা যে কী করে ঘটতে পারে, তাই ভেবে পায়নি অজিতা দেবী আর অজিতা দেবীর ছেলের পরিচিত সমাজ।

    অজিতা দেবীর মেয়ের বাড়িটা অবশ্য বড়লোকের বাড়ি, মানে জামাই কলকাতার এক নামকরা বনেদী বাড়ির ছেলে, কিন্তু অজিতা দেবীর ছেলে তো সাধারণ একজন কেরাণীমাত্র।

    বাপের তৈরি বাড়িটা রয়েছে, স্ত্রী গোছালো মেয়ে, মা প্রায় সংসার নির্লিপ্ত, কাজেই অজিতা দেবীর ছেলে পার্থসারথির জীবনছন্দে কোথাও কোনোখানে জটিলতা ছিল না।

    পার্থসারথির স্ত্রী নন্দিতার বাপের বাড়িটাও ততোধিক গেরস্থ। মেয়ের বিয়ে দিয়ে নিশ্চিন্ত আছে, পূজোয় মেয়ে জামাইয়ের শাড়ি ধুতি, জামাইষষ্ঠীতে জামাইয়ের ধুতি চাদর এইটুকু করতেই তাদের সামর্থ্য ফুরোয়, মেয়েকে কদাচ নিয়ে যায়, এদানীং তো বহুকাল নিয়ে যায়ও নি। নন্দিতা মাঝে মাঝে মা বাপের সঙ্গে দেখা করে আসে রিষড়েয় গিয়ে, অজিতা দেবী হয়তো সেদিন পূজোর ঘর থেকে নেমে একটু বেশীক্ষণ সংসারচক্রে ঘোরেন, নন্দিতা ফিরলেই তাঁর ছুটি।

    অজিতা দেবীর মেয়ে ভারতীও মা ভাইয়ের বাড়িতে মাঝে মাঝেই আসতে পায়, কারণ ওর বনেদী শ্বশুরবাড়ির নিয়ম নয় বৌরা বেশী বাপের বাড়ি যায় অথবা নিতান্ত প্রয়োজন ব্যতীত সেখানে রাত্রিবাস করে।

    বড্ড মন—কেমন করে, যাও বেড়িয়ে এসো। তাই আসে ভারতী। তবে যখন আসে, মা ভাই ভাজ ভাই—ঝি সকলের জন্যে আলাদা আলাদা করে প্রচুর উপঢৌকন নিয়ে আসে। খাবার—দাবার খেলনা—পাতি কাপড়—চোপড়।

    পার্থ বোনকে ‘এত বাড়াবাড়ি’ করার জন্যে অনুযোগ করলেও ভারতী শোনে না সে কথা। অমায়িক হেসে বলে, ‘এ আর কী দাদা, সামান্যই তো!’ বনেদী বাড়ির আবহাওয়ায় সে—ও ক্রমশঃ ওদের ছাঁচে হয়ে উঠেছে, ওদের মত ‘কারুকার্যময় বিনয়’ শিখেছে। যেমন আছে তার বর রাজেন্দ্রভূষণের।

    কিন্তু ‘আছে’ শব্দটা কি এখনো ব্যবহার করা চলে?

    কি জানি।

    তবে ও শব্দটা মুলতুবী রেখে বলা যায় রাজেন্দ্রভূষণ ছেলে খারাপ নয়। স্বভাব চরিত্রের নিন্দে কোনোদিন শোনা যায় নি। বৌকে অযত্ন করে না, নিজে গাড়ি চালিয়ে নিয়ে আসে, নিয়ে যায়। হয়তো একটু বোকা চালিয়াৎ, হয়তো একটু অহঙ্কারী, তা’ সে এমন কিছু নয়। বনেদী বড়লোকের বাড়িতে মেয়ের বিয়ে দিলে ওটুকু মেনেই নিতে হয়। অজিতা দেবীদের মত গেরস্থ বাড়ির মেয়েরতো ও—বাড়িতে পড়বারই কথা নয়, নেহাৎ ভারতীর রূপের জোরেই—

    হ্যাঁ রূপের জোরেই ওদের বাড়িতে পড়েছিল ভারতী মাত্র চোদ্দ বছর বয়সে। কোথায় কোন বিয়ে—বাড়িতে ফুটফুটে মেয়েটাকে দেখেই ওদের পছন্দ হয়ে গিয়েছিল। সঙ্গে সঙ্গে তোড়জোড় করে নিয়ে গিয়ে নিজেদের হারেমে পুরে ফেলেছিল।

    তখন অজিতা দেবীর স্বামী অভিলাষ সেন জীবিত ছিলেন। আর সত্যি বলতে, তিনি স্ত্রী পুত্রের আপত্তি অগ্রাহ্য করে প্রায় জোর করেই মেয়ের বিয়েটা দিয়ে ফেলেছিলেন। বড়লোকের ওপর মোহ ছিল তাঁর, মোহ ছিল ‘বনেদী’ শব্দটার ওপর। নইলে অজিতা দেবীর একান্ত অনিচ্ছে ছিল লেখাপড়ায় ইতি টেনে স্কুলের মেয়েটা ঘোমটা টেনে শ্বশুরবাড়ি যায়।

    পার্থরও তো বটেই।

    পার্থ বলেছি, ‘একজনের লোভের যূপকাষ্ঠে একটা কচি মেষ বলি হল!’

    বলেছিল—

    কিন্তু এ সব তো অতীত কথা। এ কথা তো এ কাহিনীতে অবান্তর।

    ভারতী যে পড়তে পায়নি, সে আক্ষেপ ভারতীর মধ্যে তো এখন আর তিলমাত্রও অবশিষ্ট নেই। ভারতী তো ওর শ্বশুরবাড়ির মহিমায় বিগলিত। ভারতী কেরাণী—টেরাণীদের, ওর স্বামীর মতই ঈষৎ কৃপার দৃষ্টিতে দেখে থাকে।

    অবশ্য ডিগ্রীধারী কেরাণীরাও আবার ওদের প্রতি সেই দৃষ্টি ফেলে। ওদের ওই সর্বদা পান—জর্দা গালে ভরে থাকা, ওঁদের ওই গহনা কাপড়, মোটর গাড়ির প্রসঙ্গ ব্যতীত গল্পের আর অন্য প্রসঙ্গ না থাকা, ওদের ওই ‘সদাই’ সুখী’ মুখ, আর ভারী—ভারী গড়ন, সবই এদের কাছে কৌতুকের।

    কিন্তু তার বেশী কিছু নয়!

    তা’ ছাড়া কিছু নয়।

    মোটের মাথায় অজিতা দেবীর এই নিতান্ত সাধারণ পরিমণ্ডলটি একটা নৃশংস হত্যাকাণ্ডের পটভূমিকা হবার উপযুক্ত নয়।

    অথচ ঘটে গেছে সেই ঘটনা।

    আবার নাকি শোনা যাচ্ছে—আকস্মিকও নয়। ইচ্ছাকৃত। আছে সে প্রমাণ। তাই তিন মাস ধরে হাজতে পড়ে আছে রাজেন্দ্রভূষণ রায়! আর ভারতী রায় কোমর বেঁধে লড়ছে তাকে উদ্ধার করবার জন্যে। তাছাড়া রাজেন্দ্রভূষণের দুই দাদা ব্রজেন্দ্রভূষণ আর তেজেন্দ্রভূষণ, যাদের সঙ্গে নাকি মুখ দেখাদেখি ছিল না রাজেন্দ্রর, তারাও বিরোধ ভুলে এই লড়াইয়ে অংশগ্রহণ করে মরীয়া হয়ে লড়ছে।

    কাগজে কাগজে এই তিন মাস ধরে এই লোমহর্ষক হত্যাকাহিনীর ইতিবৃত্ত ছাপা হচ্ছে, এবং সবাই অপেক্ষা করছে, কি হয়? কি হয়?

    অনেকের সাক্ষ্য হয়ে গেছে, অনেকের হয়তো পরে হবে, সেগুলো নিয়ে কেউ মাথা ঘামাচ্ছে না। সবাই উদগ্রীব হয়ে আছে অজিতা দেবী কী বলেন? নিহত হতভাগ্য হচ্ছে তাঁর একমাত্র পুত্র আর হত্যাকারী তাঁর একমাত্র কন্যার স্বামী—অজিতা দেবীর জামাতা।

    অজিতা দেবী কি সেই জামাইকে ফাঁসিতে লটকে পুত্রহত্যার প্রতিশোধ নেবেন? পুত্রহত্যার রক্তে স্নান করে পুত্রশোকের জ্বালা জুড়োবেন? না কি তাঁর মেয়ের মুখের দিকে তাকিয়ে, ন্যায় ধর্ম, সত্য ধর্ম, সব কিছুতে জলাঞ্জলি দিয়ে, ধর্মাধিকরণের সামনে ঈশ্বরের নামে শপথ করে মিথ্যা কথা উচ্চারণ করবেন?

    এই প্রশ্নে—

    এই প্রশ্নে আন্দোলিত হচ্ছে সবাই।

    আর ভয়ানক ভাবে আন্দোলিত হচ্ছে এ নাটকের আর এক নায়িকা নন্দিতা। সে এ প্রশ্নে আন্দোলিত হচ্ছে, উত্তেজিত হচ্ছে বিদীর্ণ হচ্ছে, জর্জরিত হচ্ছে। কখনো বিশ্বাসে, কখনো সন্দেহে, শাশুড়ীর দিকে তাকিয়ে দেখছে সে।

    বুঝতে পারছে না।

    অজিতা দেবীর মুখ দেখে কিছু বোঝবার উপায়ও নেই। মুখটা যেন পাথর হয়ে গেছে সেদিন থেকে।

    অজিতা দেবী যদি পুত্রশোকে আকুল হয়ে কাঁদতেন, নন্দিতা কিছুটা আশা রাখতে পারতো। হত্যাকারীর ‘উচিত শাস্তি’তে হয়তো তার জ্বলেপুড়ে যাওয়া প্রাণটা কিছুটা শান্তিলাভ করতো। কিন্তু অজিতা দেবী এক ফোঁটা চোখের জল ফেলেননি, একবার ডুকরে ওঠেননি। এমন কি সেই ঘটনাস্থলে একবার আছড়েও পড়েননি।

    ‘তার মানে তোর শাশুড়ীর তখনই সঙ্গে সঙ্গে ঘটনাটার পরিণাম চিন্তা এসে গেছে—’ নন্দিতার দাদা বিশ্বনাথ ঘৃণার গলায় বলেছে, ‘তখনই মনে পড়েছে, সর্বনাশ। জামাইটা যে ফাঁসিতে ঝুলবে। তাই অত শক্ত আছেন। দেখো এখন জামাইয়ের বদলে আর কাউকে না ফাঁসান।’

    নন্দিতার বাবা একবার বলেছিলেন, ‘তাই কি হয়, পুত্রশোকের জ্বালা বলে কথা। যতই হোক জামাই পরের ছেলে—’

    কথা শেষ করতে পারেননি, নন্দিতার মা ডুকরে উঠেছিলেন, ‘ওগো পরের ছেলে যে নিজের ছেলের বাড়া হয় গো—’

    তখন আবার নন্দিতার দাদা কটু গলায় বলেছিল, ‘সবাই হয় না মা। খুনে ডাকাত, শয়তান, এদেরও কি সেই পর‍্যায়ে ফেলবে তুমি?’

    তা’ বটে!

    তা’ ফেলা যায় না বটে।

    সেই কথাই ভাবে সবাই।

    সেই ঝড়ের রাত্তিরের আগের বেলাটা পর্যন্ত যে সেই পর‍্যায়েই ছিল লোকটা, তা কারুর মনে পড়ে না।

    নন্দিতার দিদি বলে, ‘ওই জামাইকে উনি জামাই—আদর করতেন। আশ্চর্য!’

    বাপের বাড়ির লোকেই এখন ঘিরে থাকছে নন্দিতাকে। মা আসছেন, বাপ ভাই আসছেন, দিদি জামাইবাবু আসছেন। মাসী পিসীও এসে গেছেন এক আধবার। আর হাজার হাজার কথার ঝড়ে নন্দিতার শোকের সমুদ্রটা যেন শুকিয়ে মরুভূমি হয়ে উঠছে।

    কথা, কথা, অজস্র কথা।

    হবেই তো!

    এ মৃত্যু তো স্বাভাবিক নিয়মে ভগবানের হাত থেকে আসেনি যে, শোক ওই অশ্রুজলে ধুয়ে যাবে, ‘ভগবানের মার মানুষের বার।’ কিন্তু এ মৃত্যু তো আকস্মিক একটা দৈব দুর্ঘটনারও ফল নয়, যাকে ‘অবধারিত নিয়তি’ বলে কপালে করাঘাত করে সান্ত্বনা পাওয়া যাবে।

    এ যে মানুষের হিংস্রতা থেকে এসেছে।

    এসেছে অকল্পিত ভয়ঙ্করতা থেকে।

    এ শোক কি করে স্তব্ধতায় পবিত্র হবে? হবে নিঃশব্দে নম্র?

    এ শোক কড়া মদের মত উগ্র উত্তেজনাময়। এ শোক আগুনে ঝলসে যাওয়া দাহের মত। এ শোক তাই পুড়িয়ে পুড়িয়ে খাক করছে নন্দিতাকে। পুড়িয়ে দিচ্ছে নন্দিতার সমস্ত মানবিকতা, সমস্ত চিত্তবৃত্তি। নন্দিতার চেহারাটা একটা ক্ষ্যাপা জন্তুর মত হয়ে গেছে, নন্দিতার ভিতরটা অহরহ ধকধক করে জ্বলছে।

    আর নন্দিতার হিতৈষীরা মাঝেমাঝেই সেই আগুনে কাঠ জোগান দিচ্ছে।

    প্রথমটা আছড়ে—পরা বিস্ময়।

    এ কী!

    এ কী অবিশ্বাস্য।

    এ কী সাংঘাতিক!

    এ কী করে সম্ভব হলো?

    লোকে কি স্বপ্ন দেখছে? লোকে যে বুঝতে পারছে না? বিস্ময় প্রশ্নের যত রকম পদ্ধতি আছে, তার কোনোটাই হয়তো বাদ গেল না।

    তারপর সুরু হলো—আর এক প্রশ্ন।

    কারণটা কী?

    কোন পরিস্থিতিতে হতে পারলো এমন অসম্ভব ঘটনা। এ কী আকস্মিক কোনো কলহের উত্তেজনার ফল? এ আগুন কি আগে থেকে ধোঁয়াচ্ছিল? এর পিছনে কি কোনো ‘নারী ঘটিত’ কাণ্ড আছে?

    কিন্তু সেটাই বা কি করে হবে? ব্যাপারটা যদি উল্টো হতো, আজকের ওই হত্যাকারীই যদি নিহত হতো, অঙ্কটা একমিনিটে কষা হয়ে যেতো। স্ত্রী ঘটিত সন্দেহে কেরাণীর রক্তও টগবগিয়ে ফুটে উঠতে পারে, আর সেই ফুটন্ত রক্তের জ্ঞান থাকে না, তার ভাজ বিধবা হচ্ছে কি বোন বিধবা হচ্ছে। এটা একেবারে জলের মত সোজা।

    কিন্তু এক্ষেত্রে সে—সন্দেহ সন্দেহ করা চলে না।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleসোনার কৌটো – আশাপূর্ণা দেবী
    Next Article অনবগুন্ঠিতা – আশাপূর্ণা দেবী

    Related Articles

    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়

    বিপিনের সংসার – বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়

    January 8, 2026
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    ভয় সমগ্র – হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    December 9, 2025
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    কিশোর অ্যাডভেঞ্চার সমগ্র – হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    December 9, 2025
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    প্রকাশ্য দিবালোকে – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    November 18, 2025
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    তারপর কী হল – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    November 17, 2025
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত

    শর্ম্মিষ্ঠা নাটক – মাইকেল মধুসূদন দত্ত

    November 11, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Our Picks

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }