Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    মাহতাব উদ্দিন : জীবন ও গান

    May 18, 2026

    পরমপুরুষ শ্রীশ্রীরামকৃষ্ণ ২ – অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত

    May 18, 2026

    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের প্রেমের গল্প – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    May 16, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    ষষ্ঠ ঋতু – সমরেশ বসু

    সমরেশ বসু এক পাতা গল্প130 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    শুভ বিবাহ

    শুভ বিবাহ

    শুভ বিবাহ কথাটি খুবই চলিত। আমি যে বিয়ের কথা বলতে যাচ্ছি, সেটা ঠিক আপনাদের মতে শুভবিবাহ নাও হতে পারে। মনে হতে পারে খানিকটা অভিনব। অভিনব বিয়ে।

    বেশ কিছুদিন আগের কথা বলছি। একটি ছোটখাটো বেকারি ফ্যাক্টরির হিসাব রক্ষকের কাজ করতুম। আসলে, হিসাব রক্ষা, মালখানা পাহারা দেওয়া এবং সাপ্লায়ার— এই ত্রিবিধ কাজই আমাকে করতে হত। মাইনে পেতুম গোটা তিরিশ। আমার মালিকের এক শালা ছিল, কলকাতা থেকে প্রায় ষাট বাষট্টি মাইল দূরে, ছোট মফস্বল টাউনে। মনোহারী দোকান ছিল তার। আমাকে মাঝে মাঝে মাল নিয়ে, সেইখানে পৌঁছে দিয়ে আসতে হত। সেই সময়টাতে ময়দা পুরো র‍্যাশনিং। পারমিট ছাড়া এক চিমটি ময়দাও পাওয়া যায় না। সেই জন্য, আমার মালিক দূরে মালটা পাঠিয়ে বেশ ভাল রোজগার করছিল।

    কিন্তু কাজটা বড় বিশ্রী। অবশ্য মালটা বহন করবার জন্য আমায় কুলির পয়সা দেওয়া হত। তবু, এত দূরে গিয়ে, মালটা দিয়ে আসতে হত যে, আমার ধৈর্য থাকত না এক একদিন। দায়িত্বও ছিল কম নয়। মালের দায়িত্ব, তা ছাড়া পাই পয়সাটি পর্যন্ত গুণে গুণে হিসাব দেওয়ার দায়িত্ব, সবই করতে হত। তার পর, মালিকের শালাটি পয়সার ব্যাপারে–

    যাকগে ও-সব কথা। সেখানে যাওয়ার সারাদিনে তিনটি গাড়ি আছে। তার মধ্যে একটি আমাদের শহরতলীর স্টেশনে দাঁড়ায় না। সকালের গাড়িটি ফেল করলে, রাত্রি সাড়ে সাতটায় আর একটি। সেইটিতে গেলে, মালিকের শালাকে ঘুম থেকে তুলতে হয়। অবশ্য শ্যালক যদি ঘরে থাকে। তার বসতবাড়ি আবার সে শহর থেকে মাইল তিনেক দূরে। কোনও কোনও দিন সে সেখানে যায়। কোনওদিন বা সেই শহরেরই মেয়েমানুষের পাড়ায়—

    যাক সে কথা। আমাকে নানান রকম ভোগান্তি পোয়াতে হয় প্রায়ই। তবে মাগনা নয়, তিরিশটি টাকার বিনিময়ে। আর খুব খিদে পেলে, রুচি থাকলে, কারখানার ছাড় অর্থাৎ খারাপ কিংবা ভাঙাচোরা রুটি বিস্কুট খেতে পাওয়া যেত। এইটি বিনা পয়সায় পাওয়া যেত। একমাত্র উপরি রোজগার।

    একবার আমাকে যেতে হল সেই সাড়ে সাতটার গাড়িতে। সেদিন আকাশের অবস্থাটা ভাল নয়। শ্রাবণ মাস। জলটা ঠিক জোরে হচ্ছে না। হাওয়াও নেই। সারাটি দিন দিনের মুখ ভার হয়েছিল মেঘ অন্ধকারে। বৃষ্টি হচ্ছে ফিসফিস করে। যেমন রাস্তার অবস্থা, তেমনি গাড়িগুলির তৃতীয় শ্রেণীর অবস্থা। তার উপর ছিল সে দিন বিয়ের লগনসা–বর আর বরযাত্রীরও ভিড় ছিল। বাজার গাড়িগুলির তো কথাই নেই। হয় আঁশটে, নয় ছানার বোটকা গন্ধে ভরা। তার উপরে অন্ধকার। যেন ওই গাড়িগুলিতে বাতি জ্বলতে নেই। ভাল কামরাতেই জ্বলে না। আমার সঙ্গে ছ টিন মাল। এস, পাপা, লেড়ো, নানা রকমের দেশি বিস্কুট, রুটি, কেকভরা। আমাকে বাজার গাড়িতে উঠতে হল। থার্ডক্লাশের যাত্রীরা এত মাল নিয়ে উঠতেও দিতে চান না।

    বেরুলাম, সেখানে পৌঁছুলাম প্রায় রাত্রি এগারোটার সময়। সেই একই ফিসফিসে জল, আর গুমোট। মাঝে মাঝে চোখ ঝলসে দিচ্ছে বিদ্যুৎ। সারা স্টেশনে কুলি নেই একটিও। মালটা নামালুম নিজের হাতেই। মাগনা নয়। কুলির পয়সাটা লাভ হল নিজের।

    স্টেশনটা নদীর পারে। সিঁড়ি দিয়ে নীচে নামতে হয় অনেকখানি, নামি কী করে এত মাল নিয়ে। নীচে উঁকি দিয়ে দেখলুম, রিকশাওয়ালা নেই একটিও। টিকেট কলেকটর চিনতেন আমাকে। মালগুলি রাত্রের মতো অফিসে রাখতে দিলেন। টিনগুলি অবশ্য তালাবদ্ধ ছিল।

    বসে বসে কী করি। নীচে নেমে গেলুম, যদি কোনও দোকানে একটু চা পাওয়া যায়। টিকেট কলেক্টর বললেন, কি, শহরে রাতটা কাটিয়ে আসা হবে বুঝি?

    বলার ভঙ্গিটি খুব স্পষ্ট। বললুম, দেখি কী হয়।

    উনি হাসলেন। আমি নেমে এলুম। ইস! কী বিদ্যুৎ! যেন নির্ঘাত বাজ পড়বে মাথায়।

    স্টেশনটা অনেক উঁচুতে। নীচের জমির সঙ্গে গিয়ে মিশেছে প্রায় এক মাইল দূরে। স্টেশনের লাইনের তলা ইট সিমেন্ট দিয়ে জমানো। যেন উপরে ব্রিজ আর নীচে রাস্তা। কিন্তু রাস্তা ঠিক নয়। তলা দিয়ে সরু সরু মালা ঢাকা গলির মতো হয়েছে এক একটি খিলানের তলায়। চামচিকের বাস। ইঁদুর, আরশোলা, সাপখোপ, সব কিছুরই যাতায়াত আছে এই সুড়ঙ্গগুলিতে।

    নীচে নেমে দেখি, চায়ের দোকান খোলা নেই। শহরটা গুটিসুটি হয়ে ঘুমোচ্ছ। এ-দিক ওদিক তাকিয়ে, খানিকটা উত্তরদিকে একটু আলোর আভাস চোখে পড়ল। এগিয়ে গেলুম।

    দেখলুম আলো জ্বলছে স্টেশনের নীচের একটি সুড়ঙ্গের মধ্যে। তার মধ্যে কিছু লোক। তা বেশ কিছু প্রায় জনা চোদ্দো পনরো হবে। গোটা দুয়েক সাইকেল রিকশাও ঢোকানো রয়েছে।

    আমাকে দেখে সবাই তাকাল। আলো বলতে সাইকেল রিকশার দুটি আলো। বসানো হয়েছে খিলেনের দেয়ালে ছোট ছোট খুপরির মধ্যে। একটি চামচিকে নরকে আবদ্ধ আত্মার মতো এ-পাশে ও-পাশে ছটফট করে উড়ছে। আর মানুষগুলিকে ঠিক মানুষ মনে হচ্ছিল না। যেন কতগুলি কিম্ভুতকিমাকার মূর্তি এক ভিন্ন ভয়াল অন্ধকার রাজ্যের কোণে বসে কীসের ষড়যন্ত্রে ব্যস্ত ছিল, একটি নতুন জীব দেখে চমকে উঠেছে। মুখগুলি যেন অদ্ভুত রং মাখা, বাঁকা চোরা ভাঙা, নাকমুখহীন দলা দলা। শরীরগুলিও সেই রকম। নিজেদের ছায়ার সঙ্গে মিলেমিশে আর একটি প্রাকৃতিক রূপ যেন।

    এক মুহূর্ত পরেই নজর করে দেখলুম, সবাই ঘিরে বসেছে দুজনকে মাঝখানে রেখে। একজন পুরুষ, আর একজন মেয়েমানুষ। একমাত্র তাদের দুজনেরই নতুন কাপড়।

    পুরুষটি কালো, রোগা। খোঁচা খোঁচা চুল, খালি গা। বয়স অনুমান করা যায় না। মেয়েমানুষটির ঘোমটা আছে, তবু মুখ দেখা যায়। সেও কালো, চুলগুলি জটপাকানো। চোখগুলি কোটরে ঢুকে গেছে, দৃষ্টি একটু রোখা রোখা। গায়ে জামা নেই। শরীরের পুষ্টতা চোখে পড়ে। তবে বয়স বলা কঠিন।

    আমার মনে হল, এদের অনেককেই আমি চিনি। কিন্তু কোথায় দেখেছি, মনে করতে পারছিনে। আশ্চর্য! তা হলে কি জন্মান্তর বলে কিছু আছে নাকি? এরা কি আমার গত জন্মের চেনাশোনা, নাকি আগের মৃত্যুর পর পৃথিবীর কোনও এক অদৃশ্য লোকে এদের দেখেছিলুম।

    হঠাৎ একজন বলল আমাকে, কে? কী চাই? যে বলল, সে একজন আধবুড়ো। তাকেও আমি যেন চিনি চিনি মনে হচ্ছে। বললুম, কিছু চাইনে। একটু চায়ের দোকানের খোঁজে এসেছিলুম।

    একটি বুড়ির খনখনে গলা শোনা গেল, চা তো এখেনে পাবেন না গো বাবুমশাই। এখেনে একটা শুভ কাজ হচ্ছে এখন।

    বলেই বুড়ি হেসে উঠল কেশো গলায়! আরে, বুড়িটা তো চেনা। ও হো! হাঁ, ঠিক মনে পড়েছে। এই বুড়িটা তো, এই স্টেশনেরই সিঁড়িতে ভিক্ষে করে।

    একজন জিজ্ঞেস করল, নিবাস কোথায়? কোথায় যাওয়া হবে? যে জিজ্ঞেস করল, তাকেও এবার চিনতে পারলুম। সে এখানকার একজন রিকশাওয়ালা। অনেকবার আমার মাল বয়েছে। বললুম, যাব তো শ্রীহরির মনোহারী স্টোর্সে। কিন্তু রাত হয়ে গেছে

    রিকশাওয়ালা অমনি বলে উঠল, ও হো! আপনি? সেই রুটি বিস্কুটওয়ালা বাবু তো। সাঁতরা বাবুর দোকানে তো অনেকবার আপনাকে নিয়ে গেছি। তা এত রাতে আর কোথায় যাবেন রুটিওয়ালা বাবু, বসে যান না এখানেই।

    আরও কয়েকজন বলে উঠল, হাঁ, হ্যাঁ, বসে যান।

    কিন্তু বসব কোথায়। ছাট অবশ্য লাগছে না, লাগবার কোনও সম্ভাবনাও নেই। যে কোনও ভাল বাড়ির থেকে এ আশ্রয়টি খারাপ নয়। আর বসতে যাবই বা কেন? জিজ্ঞেস করলুম, ব্যাপারটা কী হচ্ছে?

    জবাব দিল সেই রিকশাওয়ালাটিই। বলল, আপনি অনাথকে চেনেন তো? অনাথ আর কালার বউকে?

    অনাথ আর কালার বউ! কই মনে পড়ছে না তো। তার পরে বুঝলুম, অনাথ আর কালার বউ, দুজনেই ভিক্ষুক। এই শহরেই ভিক্ষে করে। স্টেশনটা তাদের কেন্দ্রস্থল। অনাথ নিতান্তই অনাথ। সে নাকি নদে জেলারই কোনও গ্রামের খাঁটি ব্যাঘ্রক্ষত্রিয়দের পূজারী বামুন ছিল। কপাল গতিকে এখানে এসে ভিক্ষুক হয়েছে। এমন কী, তার নাকি ভিটেমাটিও ছিল এককালে। বিয়ে থা আর হয়নি। কেউ ছিলও না দেবার। এখন দরিদ্র বোরাম্ভনের ছেলেকে একটি পয়সা দিন বলে ভিক্ষে করে। বয়স দেখায় প্রায় চল্লিশ বিয়াল্লিশের মতো। কিন্তু সে বলে, একুশের বেশি নয়।

    আর কালার বউ যে কোন কালার বউ, তা কেউ জানে না। বৃন্দাবনের কালা নয়, এটা সবাই জানে। গত মন্বন্তরের সময় থেকে এ শহরে আছে। কালা বলে তার এক স্বামী ছিল। সে মারা গেছে। ছেলেমেয়ে ছিল কয়েকটি। তারাও মরে গেছে।

    কিছুদিন থেকে অনাথ কালার বউগের কাছে প্রেম নিবেদন করছে। এ নিয়ে, রাস্তাঘাটে কালার বউ অনাথকে গুষ্টিসুদ্ধ উদ্ধার করেছে। এখনও তার গতর আছে, ভিক্ষে করতেও পারছে। শুধু শুধু অনাথের কাছে থেকে আবার এক গাদা বিয়োবে কেন? অনাথ তাকে খাওয়াবে পরাবে কী? ছেলেপুলে হলে কী পুষবে? ন্যাড়া বেলতলায় যায় কবার! অতই যদি দুঃখ সইতে পারবে কালার বউ, তবে এই শহরে অনেক বাবুর কাছেই সে যেতে পারত। পয়সা মিলত। কিন্তু রেলপুলের তলায় বিয়োতে হত–

    যাক। কিন্তু অনাথ ভিক্ষে বন্ধ করে প্রায় অনশনে মরতে বসল। কালার বউকে সে ভালবেসেছে, তাকে না পেলে নাকি মরবে।

    মরুক। কালার বউ বলেছে, যদি তাকে পেতে হয়, তবে বিয়ে করতে হবে, দরকার হলে খাওয়াতে পরাতে হবে। অনাথ তাইতেই রাজি। মিছিমিছি নয়। ফাঁকি হলে তাকে কালার বউ এ শহরছাড়া করে ছাড়বে। মেরেধরে তুলো ধোনাও করতে পারে।

    স্টেশনকেন্দ্রের ভিক্ষাজীবী মেয়ে পুরুষেরা গভীর অভিনিবেশ সহকারে ব্যাপারটি ভেবেছে। তার পর এক বাক্যে রায় দিয়েছে, ভিক্ষুক বলে কি তারা মানুষ নয়, না, তাদের আর বিয়ে-থা বলে কিছু নেই! সুতরাং বিয়ে সাব্যস্ত হয়েছে। সকলে তাদের রুজির পয়সাও দিয়েছে বিয়ের খরচের জন্য। এখানে একটি মন্দিরের সামনে, কপালে সিঁদুর লাগিয়ে আর গলায় রুদ্রাক্ষ দিয়ে একজন ভিক্ষে করে। সে ব্রাহ্মণ! বিয়ের মন্ত্র পড়ার পুরোহিত সে। রিকশাওয়ালা দুজন আছে, তাদের আর কোথাও যাবার জায়গা নেই রাত্রে। মালিকের ঘরে রাত্রে ফিরে না গেলেও ক্ষতি নেই। তারাও বিয়েটা দেখে যাবে। তা ছাড়া স্টেশনের লাইসেন্সবিহীন দুজন কুলি আছে এই বিয়ে বাসরে। গুটি তিনেক কুকুর। তার পরে আবার আমি এসে হাজির হলাম আর একজন বাইরের লোক।

    এতক্ষণে আমি ভাল করে সকলের মুখের দিকে তাকালাম। চোখাচোখি হতেই অনাথ সলজ্জ হেসে মাথা নিচু করল। কালার বউ ঘোমটা টেনে দিল।

    শুনলুম মন্ত্র পড়া হয়ে গেছে। এবার সাত পাক ঘোরা হবে। এমন সময়ে আমি এসেছি। দেখলুম, শাল পাতায় ঢাকা রয়েছে কী সব বোধ হয় কিছু তেলেভাজা জাতীয় খাবার আনা হয়েছে। কেন না কুকুরগুলি ওই দিকেই চোখ পিটপিট করে তাকাচ্ছে।

    এখন তর্ক হচ্ছিল বিয়ের অনেক নিয়মকানুন নাকি ঠিক হয়নি। এখানকার অনেকেই এ বিষয়ে অভিজ্ঞ এবং রীতিমতো বিবাহিত। সাতপাকের আগে, সেইটার বিহিত হোক।

    বসতে পারলুম না। দাঁড়িয়েই রইলুম। জীবনে যে এমন বিয়ে দেখতে হবে, কোনওদিন ভাবিনি। এমন বিয়েও যে আবার হয়, তা জানতুম না। এখানেও যে নিয়মকানুন নিয়ে আবার বাকবিতণ্ডা হতে পারে, সেটাও কল্পনাতীত ব্যাপার।

    এবার একটি আধবুড়ি বলে উঠল, আমার কাছে চালাকি চলবে না। শস্তাগণ্ডার দিনে আমার বাপ একশো, এক আধটাকা নয়, একশো টাকা খরচ করে বিয়ে দিয়েছিল। ও-সব বিয়ের আচার-বিচার আর আমাকে শিখুতে হবে না।

    খনখনে গলা বুড়ি, শননুড়ি চুল দুলিয়ে দুলিয়ে বলল, সে কী তোর একলার। আমার বেতে একশোটা নোক খেয়েছিল। ঢাক ঢোল কাঁসি বাদ্যি বাজনা, সে একেবারে কী কাণ্ড।

    রিকশাওয়ালাটা এবার চটে উঠে বলল, আরে দুত্তোর নিকুচি করেছে বাদ্যি বাজনার। আমি এবার আমার গাড়ির বাতি নিয়ে চলে যাব কিন্তু। বলছি তখন থেকে যে, এটা বেওয়ারিশ বিয়ে, চালিয়ে নেও যা হোক করে, তা নয়, এখন আবার আচার বিচার। একজন বলে উঠল, হ্যাঁ, সময়মতো আবার ভোরবেলা গিয়ে কাচারির কোণটাতে আমাকে বসতে হবে। নইলে গাঁয়ের বুড়ো কানাটা এসে বসে পড়বে।

    একটি খোঁড়া ভিখারি বলে উঠল, ওদিকে তেলেভাজাগুলি চুপসে জল হয়ে গেল।

    বসন্তের দাগ ধরা ভয়ঙ্কর মুখো লোক একটি বলে উঠল, অমনি নোলা দিয়ে জল ঝরছে। শালা ভিখিরি কোথাকার।

    উপযুক্ত গালাগাল! কিন্তু খোঁড়া গেল খেপে। বলল, কী! জাত তুলে গালাগাল! জানিস, ও কথা বললে বাবুদেরও ছেড়ে দিইনে!

    রিকশাওয়ালা আমার দিকে ফিরে হেসে বললে, দেখছেন তো শালাদের কাণ্ড। ভেবেছিলাম আজ এট্টু বায়স্কোপ দেখব। তাপর ভাবলাম যে, না এ ব্যাটাদের বিয়েটাই দেখে যাই। তা কী ঝগড়াটাই লাগিয়েছে তখন থেকে।

    কিছু বলতে পারলুম না! হাসতেও পারলুম না। যদি কিছু মনে করে বসে। এরা সকলেই নিজেদের মধ্যে জানাশোনা। আমি অজানা। তা ছাড়া, সবটা মিলিয়ে, এদের সেই করুণ, দয়াভিক্ষা করা কাঁদা কাঁদা ভিখারি মনে হচ্ছিল না এখন। বরং রাগে বিদ্রূপে এই অদ্ভুত পরিবেশে এক অন্য জগতের মানুষ মনে হচ্ছিল। দেখাচ্ছিল আরও ভয়ঙ্কর।

    ইতিমধ্যে দুই বুড়িতে তর্কাতর্কি জমে উঠেছে। পুরোহিত হাঁ করে দেখছে সব। কালার বউয়ের চোখে রাগ। অনাথের ব্যস্ত অস্থিরতা।

    তার পর অনাথের আর সহ্য হল না। সে প্রাণপণে চেঁচিয়ে উঠল, বেটা হতে দেবে, না উঠে পড়ব। এ তো আর গাঁয়ে ঘরে বিয়ে হচ্ছে না যে নিয়মকানুন সব মানতে হবে। আর যদি বাগড়া দাও তো বলো, উঠে পড়ি।

    সব চুপ। কেবল একজন বলে উঠল, হ্যাঁ এবার ঘুরিয়ে দেও, ঘুরিয়ে দেও সাতপাক। রাগারাগির দরকার নেই।

    হঠাৎ একটা বাতি নিভে গেল। তেল নেই আর। আরও অন্ধকার হল। একটি বাতির আলোয় আরও ভয়ঙ্কর হল মূর্তিগুলি। আমার ছায়াটা আলাদা করে খুঁজলুম, পেলুম না।

    খনখনে-গলা, বুড়ি বলল, কত আলো জ্বলেছিল আমার বিয়েতে—

    আধা বুড়ি বলল থেমে থেমে, আমার সময়ে আটটা হ্যারিকেন জ্বলেছিল।

    এক চোখ কানা একজন মোটা গলায় বলে উঠল, আঃ, এবার থামাও ওই কথাগুলি। আমি আর সহ্য করতে পারি না!…

    আচ্ছা, আচ্ছা ঘোরাও। কালার বউকে তুলতে হয় যে! কে কে তুলবে?

    রিকশাওয়ালা বসেছিল রিকশার উপরেই। হঠাৎ সিটটা চাপড়াতে আরম্ভ করল। বাজনা বাজাচ্ছে।

    খোঁড়া উঠল আগে। কালার বউকে তুলবে।

    কিন্তু আবার গণ্ডগোল। কনে কালার বউ বলল, সাতপাক হবে না, বে হবে না। আমার মন নেই।

    এক মুহূর্ত সব চুপ। অবাক গুলতানি। কেন, কী হল! সাতকাণ্ড রামায়ণ পড়ে এখন সীতা কার বাপ!

    কালার বউ নীরব। কিন্তু তার রাগ নেই, চোখা চোখা কথা নেই। খালি নীরব। ঘোমটা খসে পড়েছে, জট পাকানো চুলগুলি ছড়িয়ে পড়েছে ঘাড়ে। মুখের একদিকটা দেখা যাচ্ছে না একেবারে। আর একদিক ঝাপসা ঝাপসা। মানুষ বলে মনে হয় না।

    তার পাশে অনাথের অবস্থা কহতব্য নয়। তিন ভাগ অন্ধকার, এক ভাগ আলোয়, অনাথকে ভয়ঙ্কর মনে হচ্ছিল। তার সারা মুখে বোবা অস্থিরতা ও যন্ত্রণা। সে প্রায় ছেলেমানুষের মতো চিৎকার করে উঠল, ওলো কেন বল…তোর পায়ে পড়ি।

    মনে মনে বললুম, ঠিকই। এ ছাড়া, বরোচিত কথা আর কী বলতে পারত অনাথ।

    কালার বউ পরিষ্কার বলে দিল, আমি বে করে আর ভিক্ষে মাগতে পারব না। আর, কারওর ভিক্ষের ভাতও খেতে পারব না। তা এখন যাই বলো।

    সবাই তো হাঁ। তবে কী করতে হবে?

    কালার বউ বললে, সমসারে যা করে নোকে। কাজ করে, সোমসার করে। ভিক্ষেই যদি করব, তবে আবার এ সব কেন। না বাপু না, এই নেও তোমাদের নতুন শাড়ি

    বলতে বলতে সে তার ছেঁড়া ধোকড়া ন্যাকড়াটা টেনে নিল পরবে বলে। এখনও পরনে তার, সকলের দেওয়া লালপাড় শাড়ি।

    সবাই স্তম্ভিত। অনাথ দেখছে সকলের মুখ। আমার পাশে রিকশাওয়ালাটি গম্ভীর হয়ে উঠেছে।

    কালার বউ আবার বলল, সব গেছে বলেই না আজ ভিখিরি হয়েছি। যদি থাকত! আর আবার যদি হবেই…

    থেমে হঠাৎ ফোঁস ফোঁস করে উঠল,..পেথম যখন বে হয়েছিল।

    রিকশাওয়ালার আরও গম্ভীর; কিন্তু চাপা খুশির চোখে সে কালার বউকে দেখছে। তার পর হঠাৎ আমার দিকে ফিরে খুব বিজ্ঞের মতো মাথা ঝাঁকতে লাগল। অর্থাৎ, দেখছেন তো।

    আমার মেজাজ খারাপ হয়ে উঠছিল। তিরিশ টাকা আর ছাড় মাল খেয়ে আমি বিয়ে করিনি। ভিক্ষুকের বিয়েতে কোথায় একটু মজা দেখছিলুম, তা নয়, ভিখারি বেটির আবার মান। আসরটাকে দিলে জুড়িয়ে।

    কালার বউ কাপড় খুলতে যাবে, রিকশাওয়ালা তার গাড়িতে দাঁড়িয়ে উঠে বলল, দ্যাখ অনাথ, তুই কাজ করতে পারবি?

    অনাথের চোখে আলো দেখা দিল, বললে, পারব।

    চুরি করবিনে?

    আমি বেরাম্ভনের ছেলে—

    থাক ঢের বেরাম্ভন দেখেছি। ঘর ঝাঁট দিতে পারবি?

    পারব।

    বাবুর সঙ্গে কলকাতা থেকে মাল বয়ে নিয়ে আসতে পারবি?

    খুব খুব।

    বেশ আমাদের রিকশা মালিকের গদিতে কাল তোকে নিয়ে যাব। কাজ মিলিয়ে দেব।

    এবার আমারই হাঁ হওয়ার পালা। অন্যান্য লোকগুলি পাথর। তার পর হঠাৎ সবাই একসঙ্গে বলে উঠল, তা হলে অনাথ আর ভিখিরি নয়?

    রিকশাওয়ালা বলল, হাঁ, এখনও ভিখিরি। সাত পাকটা দেও ঘুরিয়ে।

    তা হলে? কী বলিস্ কালার বউ?

    কালার বউ ঘোমটা টেনে বললে, তা হলে হোক।

    অনাথের আর হাসি ধরে না মুখে। খোঁড়া উঠল সকলের আগে, তার পরে এক চোখ কানা।

    সাতপাক ঘোরানো হচ্ছে আর সবাই চিৎকার করছে, এবার আমরাও একটা করে বে করব মাইরি-ই-ই…। তার পর শুভদৃষ্টি। আমি ততক্ষণে বেরিয়ে এসেছি। কেননা, বিয়ে বাসরটা কেমন যেন ভিজে গেছে। ভিজে ভিজে, কান্না মাখা। একটা অন্য রকমের চাউনি সকলের চোখে। ঠিক ভিক্ষুকের আসর আর নেই।

    রিকশাওয়ালাটি পেছন পেছন এসে বলল, সাঁতরা বাবুর দোকানে যাবেন?

    বললুম, হ্যাঁ।

    ওরা তখন খাচ্ছে আর কুকুরগুলি করুণ গলায় কোঁ-কোঁ করছে।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleছিন্নবাধা – সমরেশ বসু
    Next Article মানুষ – সমরেশ বসু

    Related Articles

    সমরেশ বসু

    প্রজাপতি – সমরেশ বসু

    December 2, 2025
    সমরেশ বসু

    গঙ্গা – সমরেশ বসু

    December 2, 2025
    সমরেশ বসু

    বিবর – সমরেশ বসু

    December 2, 2025
    সমরেশ বসু

    অকালবৃষ্টি – সমরেশ বসু

    December 2, 2025
    সমরেশ বসু

    নয়নপুরের মাটি – সমরেশ বসু

    December 1, 2025
    সমরেশ বসু

    শ্রীমতি কাফে – সমরেশ বসু

    December 1, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    अनीश दास
    मौलाना शाह वलीउल्लाह
    रेवरेंड के. के. जी. सरकार
    অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিজ্ঞান রায়চৌধুরী
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমরেন্দ্র চক্রবর্তী
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অরিন্দম দেবনাথ
    অর্পিতা সরকার
    অশোককুমার মিত্র
    অসম্পূর্ণ বই
    আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    কৌশিক সামন্ত
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোপেন্দ্র বসু
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যজ্যোতি মজুমদার
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণু শর্মা
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহতাব উদ্দিন
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    রেভারেণ্ড কে. কে. জি. সরকার
    লীলা মজুমদার
    লেইল লোনডেস
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শঙ্কর চ্যাটার্জী
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শাক্যজিৎ ভট্টাচাৰ্য্য
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্যামল গঙ্গোপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সন্দীপন চট্টোপাধ্যায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সম্পাদনা : শৈলেন্দ্র হালদার
    সরদার ফজলুল করিম
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সায়ন্তনী পূততুন্ড
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্মরণজিৎ চক্রবর্তী
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মাহতাব উদ্দিন : জীবন ও গান

    May 18, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মাহতাব উদ্দিন : জীবন ও গান

    May 18, 2026
    Our Picks

    মাহতাব উদ্দিন : জীবন ও গান

    May 18, 2026

    পরমপুরুষ শ্রীশ্রীরামকৃষ্ণ ২ – অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত

    May 18, 2026

    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের প্রেমের গল্প – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    May 16, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }