Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    ষষ্ঠ ঋতু – সমরেশ বসু

    সমরেশ বসু এক পাতা গল্প130 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    সুঁচাদের বারোমাস্যা

    সুঁচাদের বারোমাস্যা

    অনেক ঘাট বাট পেরিয়ে সুচাঁদ উঠল এসে রায়চরে। রায়চরে ঝুলনের মেলা বসবে কাল। গত সনের আগের সন মন্বন্তর গেছে। যুদ্ধ নাকি চলছে এখনও। ঝাঁক বেঁধে ওড়ে হাওয়াই জাহাজ। কুরমিটোলায় মিলিটারির ভিড় কাটেনি আজও। তবু আশা ছিল, গত দু সনের থেকে এবছরের মেলা একটু জমবে। কিন্তু আকাশের গতিক ভাল নয়।

    শেষ শ্রাবণে ঝুলন। আষাঢ়ের ঢল নেমেছিল একটু আগে আগেই। আকাশে ঘোর লেগেছে শ্রাবণের। ভারী ঘোর। বড় ঘটা। চিকচিক বিজলি হানছে যখন তখন। যেন আকাশ জুড়ে বাসুকীর নোলা ছোঁক ছোঁক করছে। চেটেপুটে নেবে জগৎ সংসারটা। গুরু গুরু গর্জন, কড়কড় ঝঙ্কার রোজ। হাট বাজারে কাজের মনকে অষ্টপ্রহর ডেকে ডেকে আকাশ তার ঘটা দেখাচ্ছে।

    উত্তর-পশ্চিম দিকটা দেখতে দেখতে এসেছে সুচাঁদ। ওদিকে টঙ্গি, উত্তরে পুবলী, জয়দেবপুর, তারাগঞ্জ, চরসিন্দুর, সব ঘুরে, এঁকেবেঁকে এসে উঠেছে রায়চরে। বানার নদীতে জল নেমেছে আষাঢ়েই। পাটখেতের বুক ড়ুবেছে। বানারে যমুনার ঝাপটায় কালশিরা পড়েছে, ফুলেছে। কেঁপে উঠেছে বালু নদী, চাপ দিয়েছে বংশী। চাপ দেয়নি ঠিক। যমুনার যে অনেক গান! বাজিয়ে ফিরছে বংশী নদী। সুরের ডাক কী! তীব্র কান্নার নীল সুর শেষ পর্যন্ত বানারে মহাকান্নায় এসে তরতর করে নেমে গেছে দক্ষিণে। ওদিকে উত্তর-পূর্ব কোণ থেকে, নালা বিলের তলায় তলায় সিঁদেল চোরের মতো মাথা গলিয়েছে ব্ৰহ্মপুত্ৰ। তারপর, নামো দক্ষিণে, আরও দক্ষিণে। বাঁকশাল, ঘোড়াশাল, জোড়াশালের কিনারে কিনারে নীচে মেঘবরণী লখ্যা। এর মধ্যেই পার-হারানী তীরহারানী তা-থৈ তা-থৈ। মহাসঙ্গম মেশামেশি করেছে মিশমিশে গাঢ় আকাশে।

    রায়চরের গাঙ ফুলেছে। খানে খানে কাটাল। টানা স্রোতের বুকে হঠাৎ জল ঠেলে দাঁড়িয়েছে যেন উলটো স্রোত, সারি সারি, বাঁকা ঝকঝকে লম্বা হাঁসুয়ার মতো। টানা স্রোত মানে মানে ফণা গুটানো সাপের মতো পাশ দিয়ে গেছে বেঁকে। এর নাম কাটাল। সোজা টানে যে আসে ভেসে, তাকেই কাটে। দায়ের মতো নয় হঠাৎ থামিয়ে, টুপ করে টেনে নেয় তলায়।

    নৌকাগুলিকে ঠিক জুত করতে পারে না। জলে যাদের কারবার, তেমন সবল সেয়ানা মানুষ হলেও একটু বেকায়দায় পড়ে। মেয়েমানুষের চুল আর শাড়ি পেলে হয় একবার। এক গরাস মাত্র। ঘুর্ণি অন্য জিনিস। লাট্টুর মতো পাক দিয়ে বোঁ করে টেনে নিয়ে যায় তলায়।

    দেখতে দেখতে এসেছে সুচাঁদ। বুঝছে রায়চরের খালে আগেই লখ্যা ঝাঁপ দিয়েছে। এমনিতে বড় হাসির ছটা। হাসিতে ফেঁপে ফুলে কলকল চলচল, যেন ভারী পিরিতের ইশারা। সুচাঁদ মনে মনে নমস্কার করে বলেছে, আলো সব্বোনাশী, ঢলানি, আর ঢলাইস না।

    পুবে বাতাসে গোলাপী নেশার আমেজ। মাঝে মাঝে খ্যাপা মাতালের চাপা গর্জন শোনা যায়। পুবের উঁচু ত্রিপুরা থেকে বাতাস ঢালুতে নেমে আসছে যেন জলের টানে টানে। সেই টানে বিজলি ঝলকানো আকাশটাও গড়িয়ে নেমে এসেছে এদিকে। নেমে এসেছে মুখে নিয়ে মেঘনার জল। উত্তর থেকে, থেকে থেকে আসছে ময়মনসিংহের টিলার বাতাস। নদী কংসের ক্রুদ্ধ শাসানি সেই বাতাসে। বাতাসে বাতাসে কাটাকাটি চলছে শুন্যে। তারপর জলে।

    শুক্লপক্ষ যাচ্ছে। আগামী কাল পূর্ণিমা। কিন্তু এ কালি আকাশের কপালে কোনওদিন যে চাঁদ উঠেছিল, মনে হয় না। কোনওদিন উঠবে, সে ভরসাও নেই। শুধু বিদ্যুৎ আর নির্ঘাত বাজ।

    তবু রায়চরের গাঙে নৌকা লেগেছে মন্দ নয়। মেঘনার চালাঘরও উঠেছে কিছু কিছু।

    গাঙের জলের ছিটা মাথায় দিয়ে নেমে এল সুচাঁদ। জায়গার নাম রায়চর। শাসন করেন অকুলীন কায়স্থ দাশ মহাশয়েরা। ঝুলন তাদেরই।

    কুচকুচে কালো সুচাঁদ। কালো শলুইয়ের মতো কোঁচকানো বাবরি। মা দুর্গার অসুরের মতো শরীর। খাঁটি নমঃশূদ্রের গঠন তার শরীরের। গোঁফদাড়ি কামানো মুখখানি মেয়েমানুষের মতো কোমল।

    লাঠির ডগায় একটি বোঁচকা। একটু বড় বোঁচকা। বোঁচকার সঙ্গে একটি ছোট হ্যারিকেন ঝুলনো। খালি গায়ে, লাঠির ডগায় বোঁচকা কাঁধে নিয়ে এসে উঠল সুচাঁদ। দেখা করল দাশবাবুদের সঙ্গে বৈঠকখানায়।

    পায়ে হাজা পড়েছে সুচাঁদের। প্রতিটি আঙুলের ফাঁকে ফাঁকে, গোড়ালি আর পায়ের পাতা অবধি বাসি মাংসের মতো নীরক্ত সাদা-সাদা ঘা। মাঝে মাঝে ফাটল, জমাট রক্তের আভাস। গাঙের জলে ধোয়া কালো থ্যাবড়া পা দুটিতে আলতা পরার মতো শ্বেত প্রলেপ পড়েছে।

    সুচাঁদ বলল, বাবু, এট্টুস আমার চরণ দুইখান দেইখা নাইরাল ত্যাল দেন।

    এক বাবু বললেন, পাবি পাৰি। আক্কেবারে যে জলের পোকা হইয়া গেছসরে? সারা দ্যাশটা মইয়াইয়া আইলি নাকি?

    সুচাঁদ হাত জোড় করে বলল, হ, তা-ই একরকম। উঁচান থেইখ্যা আইলাম। অদিকে ঢল নামছে মন্দ না কত্তা। চণ্ডাইলা নদী কংস যদি না বানে চ্যাতে, তা হইলেও, এইবার জলডা এট্টুস বেশিই হইব।

    বাবুদের মুখও অন্ধকার। একজন বললেন, হ, হেইরকমই তো দেখি। মেলাডা এইবার তেমন জমব না মনে হইতেছে।

    সুচাঁদ বলল, হ। তারপর হেসে বলল, তবে, ওই যে কইলেন না, জলের পোকা? খালি জলের পোকা না কত্তা, আমি পউষ্যা কালীর পাঁটাও। হাত পাও ফাটে শীত ঠাণ্ডার দিনেই। শুকাইতে জল আইয়া পড়ে। হাজা-ফাটা বারমাইস্যা। আমি আপনেগো পোকা আর পাঁটা।

    বলে গড় করল আবার। বাবুরা হেসে উঠলেন হ্যা হ্যা করে। বললেন, যা যা হারামজাদা, যা, তর লগে বকতে পারি না।

    সুচাঁদ কপালে হাত ঠেকিয়ে আবার বলল, আমি আপনেগো হারামজাদা। বলে ঘর পেরিয়ে চলে গেল পেছনের নির্জন বারান্দায়। বাবুরা সঙের মসকরায় হাসতে লাগলেন পেট ফুলিয়ে।

    সুচাঁদ বাবুদের বাগান দেখে ফিসফিস করে বলল, হ, সোন্দর, বড় সোন্দর জমি, সোনার লাহান!..

    সুচাঁদ নিজে, আরও নাবালের, দূর দক্ষিণ-পশ্চিম অঞ্চলের নমঃশূদ্র ঘরের ছেলে। বাপের আমলে কোনওদিন নিজেদের জমি ছিল না। বারো বছর বয়সে ঢুকেছিল বজ্রহাটের মামুদ ফকিরের কৃষ্ণ-যাত্রার দলে। গলাখানি মন্দ ছিল না। শিখিয়ে দিলে ঢং-ঢাংও করতে পারত ভাল।

    তারপর দিনকাল গেল খারাপ হয়ে। উঠে গেল যাত্রার দল। ততদিনে ভূঁইয়াদের দেওয়া চাকরান ভিটাখানিও গেছে। বাপ গেছে মরে। বোনটা চলে গেছে এক ডাকপিয়নের সঙ্গে। আর কেউ ছিল না।

    মামুদ ফকিরের ভিটাতেই হল বাস। তাই বা কতদিন চলে। একদিন ফকিরের কাছ থেকে যাত্রার কিছু ছেঁড়া পোশাক নিয়ে দিল গায়ে। মুখে মাখল রং। দাঁড়াল গিয়ে বজ্রহাটের বাজারে।

    সঙ আইছেরে বউরূপী আইছেরে, বলে লোকে ভিড় করল। পয়সাও উঠল কয়েকটা। সেই থেকে শুরু। সেই থেকে সুচাঁদ—চাইন্দা বইরূপী।

    বারো থেকে কুড়ি পর্যন্ত গেছে যাত্রা। কুড়ি থেকে আজ বারো বছর সঙ। এইবার সাজতে বসতে হয় সুচাঁদকে। রায়চরে যা পয়সা পাওয়া যাবে, একদিনেই। কালকেই রওনা দিতে হবে নসীরপুর। নসীরপুর থেকে সোজা ঢাকা শহরে। জল নেই, কাদা নেই, খটখটে শুকনো রাস্তায় হেঁটে বেড়াবে কিছুদিন। হাজাফাটায় টান ধরবে একটু। তবে, গণ্ডগোল মূলে। শহরে বড় সঙের ভিড়। রোজই সঙ। পেটের মধ্যে কুকুর ডাকে।

    সেখান থেকে ঘুরতে ঘুরতে নারায়ণগঞ্জ, মুন্সীগঞ্জ, সিরাজদিঘা, আবার বজ্ৰহাট। তারপর মেঘনার এপারে-ওপারে চক্কর দিয়ে ঠেলে উঠবে ওপরে পুব ঘেঁসে। উঠতে উঠতে ময়মনসিং থেকে আবার নামবে। নামতে নামতে আবার এই রায়চরে। তারপর নসীরপুর। নসীরপুর, নসীরপুর আর চাইন্দা, সোনার লাহান জমি না, এইবার নসীরপুর।

    তাড়াতাড়ি বোঁচকা খুলল সে।

    এখন সম্বল পাঁচ আনা পয়সা। পয়সা রেখে বসল জলের ঘটি নিয়ে পেছনের বারান্দায়। মান্ধাতার আমলের একখানি ক্ষুর নিয়ে শান দিল।

    তারপর ঠ্যাং থেকে পায়ের পাতা অবধি লোম চাঁছল। দুই হাত চাঁছল, বুক চাঁছল, মুখের তো কথাই নেই।

    বোঁচকা থেকে বের করল পরচুলা। প্রায় রাক্ষসীর চুল, কচুরিপানার শুকনো শিকড়ের মতো। তাও আবার তালুতে ন্যাকড়া বেরিয়ে পড়েছে। হাজায় দেওয়ার নারকেল তেল দিয়ে ভাঙা চিরুনিতে আঁচড়াল সেই চুল। কাগজের নরমুণ্ড আর ছোট ছোট হাড়ের মালা বের করল। সব আছে বোঁচকাটিতে। বগলে বাঁধল দুটি ন্যাকড়ার হাত।

    তারপর নীল রঙের ল্যাঙট পরে, গায়ে মাখল নীল রং। কালোর উপরে সেই নীল রং জলস্থলের লীলাক্ষেত্র হয়ে উঠল। সাদা খড়ির ত্রিনয়ন আর বগলে বাঁধা দুই ন্যাকড়ার হাত। মাথায় পরচুলা দিয়ে টিনের খাঁড়া নিয়ে, দাঁতে দাঁতে কামড়ে ধরল রাঙানো জিভ। একেবারে চতুর্ভুজ মা কালী।

    ওদিকে রায়চরের গাঙ ফুলছে। তবু ভিড় হয়েছে মন্দ নয়। সারারাত্রি জল হয়েছে। সকাল থেকে পুবে সাওটা সোঁ সোঁ করছে! উঁচু থেকে গাছগাছালির মাথায় পা দিয়ে নেমেছে কিনা। সকলেই বলছে, দ্যাওয়ার কপালে আগুন।

    তাকে দেখে লোকে। সে দেখে, দূরে, গাঙের জল আর পাটখেত। রায়চরের গাঙ নেই আর। লখ্যা লকলক করছে। তবে, এখনও রায়চরের দক্ষিণে, তিন হাত নীচে জল। কালীবেশী সুচাঁদ বলল মনে মনে, আলো সব্বোনাশী ঢলানি, এট্টুস থাম, নসীরপুরটা যাইতে দে।

    আর নসীরপুর। বেলা শেষে, হাতের চেটো খুলে গুণে দেখল তেরো পয়সা সম্বল।

    দেখে সবাই, হাততালি দেয়, দেয় না কিছু। নেই কিছু হবে কী! সোনার লাহান জমি কি আর দেবে? না, ধলা টুকটুকে একখানি বউ…।

    আর চাইন্দা! খাইতে পাইলে শুইতে চাস! সত্যি, আবার বউয়ের কথাও ভাবে সে কোন সাহসে!

    পরদিন সকালবেলা মিলিটারি সাহেব সেজে সঙ দেখাল। মেলায় ভারী হাসির ধুম। ওদিকে গাঙের কিনারে লেগেছে চার-মাল্লাই নৌকা। খবর নিয়ে জানল, পাট কাটতে যাচ্ছে সবাই নাবিতে। নাবির দেশে ড়ুবে ড়ুবে গাছের গোড়া কাটতে হয়। মজুরিটা একটু বেশি পাওয়া যায়। নাবিতে কোথায় যাবে? শুনল, সোনাইগঞ্জ।

    সুচাঁদ বলল, হাবলী বিলের উত্তর দিক দিয়া যাইবা?

    হ।

    আমারে নামাইয়া দিয়া যাও তোমরা কুড়াইল। আমি যামু নসীরপুরের জন্মাষ্টমীর মেলায়।

    নসীরপুর। আরে বাপ্পুইসরে! কুড়াইল থেকে চৌদ্দ মাইল নসীরপুর।

    মাঝি বলল, তা যাইবা, চলো। দশটা পয়সা দিতে হইব। বলতে না বলতেই চাপা আর্তনাদ করে, পায়ে হাত দিয়ে সুচাঁদ বসে পড়ল, আরে বাপরে, বাপরে, বাপরে..

    কী হইল, কী হইল? আতঙ্কে চিৎকার করে উঠল সবাই।

    সুচাঁদ হেসে বলল, সঙ। সঙ দেখামু, লইয়া যান মাঝি ভাই। দশ পয়সা নাই।

    মাঝি আর পাটকাটারা হেসেই খুন। ডাক দিল, তাড়াতাড়ি চল।

    বিদায় নিল সুচাঁদ। বোঁচকা আর হারিকেন নিল ঘাড়ে।

    রায়চরের মেলায় রোজগার হয়েছে সোয়া সাত আনা। একখানি ছেঁড়া জামা, পুরনো ধুতি একখানা।

    .

    রায়চরের গাঙে লখ্যার জল এসেছে পশ্চিমদিক থেকে। গাঙ গেছে রায়চরে পুবদিক দিয়ে ঘুরে, এঁকেবেঁকে দক্ষিণে। চারমাল্লাই নৌকা ভাসল পশ্চিমে। গলুইয়ের মুখ রইল দক্ষিণ-পশ্চিমে। ছেঁড়া পালে বুক দিয়ে পড়েছে উত্তর-পুবের পাহাড়ি সাওটা। মেঘের চেহারা এখন নিরীহ। মেঘ দলা পাকিয়ে এলিয়ে গড়িয়ে নীচে নামছে যেন নেশা করে। কেবল দূর উত্তরে বিকিয়ে উঠছে আকাশটা।

    কিন্তু নৌকা ছুটল একটু বাঁয়ে চেপে, গোঁ ধরে।

    নৌকার মধ্যে টোকা, হুঁকা, কাস্তে আর ছোট ছোট বোঁচকা অনেকগুলি। পাটকাটাদের গেরস্থালি। প্রত্যেকেরই সঙ্গে আছে হারিকেন, নয় তো লম্ফ, তলা-পোড়া হাড়ি। বোঁচকার মধ্যে আছে লুঙ্গি, নয় তো ধুতি, থালাবাটি-ঘটি, সব আছে। কুল্যে প্রায় পঁচিশ জন চলেছে পাট কাটতে।

    দাঁড়িরা সব ছইয়ের ভিতরে বসেছে। সুচাঁদ রঙ্গ করল ঘণ্টাখানেক। তারপর ঘুরে ফিরে এল আবার জলের কথা। বংশীনদী যদি কালীগ্রাম ভাসায়, তবে সোনাইগঞ্জে পাট কাটা বড় বিপদ। থির জলে ড়ুবে কাটা এক কথা। সোঁতের জলে আর এক কথা। গাছের গোড়ায় হাঁসুয়ার পোঁচ দিতে না দিতে জল টেনে নিয়ে ফেলবে দূরে।

    সুচাঁদ বলল, কেডা? বংশী? দশদিন আগে দেইখা আইছি। উনি তো কালী গেরামের পায়ে ধরছেন। অ্যাদ্দিনে সোনাইগঞ্জে কি আর টান যায় নাই? এইবার জলটা এট্টুস বেশি। চিন্তিত মুখে পাটকাটারা তাকিয়ে রইল দূরের দিকে। ভেসে গেছে দুপাশের মাঠগুলি। গ্রামে জল ঢুকেছে।

    একজন বলল, জলের লাহান দেবী নাই। মাইনষে কয়, ভূত-পিরেত সব বাতাসে ঘোরে। কিন্তু জলের সঙ্গেই আসল অপদ্যাবতার বাস। ভাল কইরা ঠাওর কইরো, অনেক কিছু দেখবা।..

    সুচাঁদ বলল, হ, আমার পাও দুইডারে তো খাইয়া ফেলাইছে, এই দেখ। বলে হাজা-ঘা পা দুটো দেখাল।

    এটাও রঙ্গ ভেবে দুঃখের মধ্যে হাসল সবাই। হালমাঝি হাঁক দিল, কুড়াইল!

    লাঠির ডগায় বোঁচকা। বোঁচকার সঙ্গে হ্যারিকেন। কাঁধে ঝুলিয়ে নামল সুচাঁদ। চলি তবে, আসি ভাই, আসছে বছর আইয়ো চাইন্দ, নানান কথার মধ্য বিদায় নিল সবাই। নৌকা এগুল।

    দূরে হাবলীবিল দেখা যায়। বিল নয়, দশটা লখ্যা নদীর মুখ একত্র হয়েছে যেন। ওই বিল পার হয়ে সোজা পশ্চিমে গেলে, ডাঙায়-ডাঙায় দক্ষিণে যাওয়া যায়। কুল্যে চৌদ্দ মাইল, তা হলে নসীরপুর।

    কিন্তু নৌকার ভাড়া নেই সুঁচাদের। আধসেরটাক চাল আছে এখন সম্বল। কুড়াইল তো উপোসীভূতের গ্রাম। বিলে মাছ ধরে খায়। একটা নৌকা নেই কারও ঘরে। মাটির গামলাতে চলাচল করে।

    কুড়াইলের দক্ষিণ দিক দিয়ে চর-নিশিন্দা পার হওয়া যাবে। ডাইনে থাকবে হাবলীবিল। চরনিশিন্দায় চাষ হয়, বাস নেই। যা আছে, তাও খানে খানে, দূরে দূরে। উঁচুতে ধান, নিচুতে পাট। জায়গাটা একটু হাজা, বিলের ধার কিনা! বহুদূর, দুস্তর ছড়ানো জায়গা। তবে ডাঙা-পথ তো বটে। এখন একটু জল হয়েছে। কত আর। হাঁটু, নয় তো কোমর। তারপর হিজলবাগ। ঢাকা জেলার এইপারে জোয়ারের দেশে হিজলগাছ একটু কম। কিন্তু চরনিশিন্দার পর মাইল খানেক শুধু হিজলের সারি। হিজলবাগ আর একটু নীচে। সেখানেও বাস নেই। তারপর সোজাসুজি ইমলীপুর। তারপরে নসীরপুর। কুল্যে আট মাইল। না পৌঁছুতে পারলে হরিমটর। তা ছাড়া ঢাকা শহরে যেতেই হবে।

    কুড়াইলের দক্ষিণপ্রান্তে চলে এল সে। দু-পাশে জল-ঘাসের সারি। মাঝখান দিয়ে জলের দাগ চলে গেছে এঁকেবেঁকে। ওইটি রাস্তা।

    পা দিল সুচাঁদ। লোক দেখা যায় না একটাও। যা-ও আছে, বিলের ওদিকটায় মাছ ধরছে।

    ছপ ছপ ছপ..হাঁটু জলে চলল সুচাঁদ।

    আকাশজোড়া মেঘ নেমে আসছে এঁকেবেঁকে বিশাল বাসুকীর মতো। মাঝে মাঝে চেরা জিভের মতো বিদ্যুতের ঝিলিক। বাতাসে ওড়া ছাইয়ের মতো বৃষ্টিকণা, গায়ে লাগে না। আসতে না আসতেই হাওয়া। বাতাসে পাটপচা গন্ধ। তার মধ্যে বেশ আঁশটে আভাস। এদিকে পাট কাটবে ভাদ্র আশ্বিনে। ঝিঁ ঝিঁ ডাকছে ঘাসবনে। আর কোনও শব্দ নেই। শুধু ছপ ছপ..

    ছপ ছপ কমে এল। জলটা কোমর ধরছে আস্তে আস্তে। পায়ের হাজাগুলি ভিজে উঠেছে এতক্ষণে। নীচের পাঁক ঢুকে জ্বালা ধরছে এবার। কচুরিপানা দেখা যায়। হঠাৎ দাঁড়াল সুচাঁদ। তীক্ষ্ণচোখ একদঙ্গল কচুরি পানার দিকে তাকাল। পানা সরছে আস্তে আস্তে দক্ষিণে। বলল, আরে লইখ্যা ঠসইক্যা এদিকেও চলছস?

    অর্থাৎ হাবলীবিলের তলায় তলায় লখ্যা এসে পড়েছে। টান লেগেছে মাঠের জলেও। তবে মন্দের ভাল। জলটা বেশি না বেড়ে থাকলেই হয়। পা চলবে একটু তাড়াতাড়ি।

    পাটখেত দেখা দিল। মাঝে মাঝে ধানখেত। খেতের ধারে ধারে মালীশালার বেড়া। লোকে বলে বাউতা শোলা, অর্থাৎ বেতো শোলা। খুব মোটা আর হালকা। ওই শোলাতে টোপর আর দুর্গার সাজ তৈরি হয়। খেতের মধ্যে পানা ঢুকবে, তাই বেড়া দিয়েছে।

    হঠাৎ নজরে পড়ল, দরের একটা পাটখেতের ধার দিয়ে দিয়ে কে যেন যাচ্ছে। হাঁটছে না, বোধহয় চারীতে অর্থাৎ গামলায় ভাসতে ভাসতে যাচ্ছে। যাচ্ছে, কিন্তু যা মেঘের ভার, দেখাই যায় না। যেতে যেতে আড়াল পড়ে গেল আবার।

    মনটা একটু খুশি হল সুচাঁদের। একলা নয়, লোক আছে তা হলে চরনিশিন্দার নিরালা সমুদ্রে। দেখা না হোক, আছে, এই তো যথেষ্ট।

    আকাশের এ-পাশে ও-পাশে একটা আচমকা ফালা দিল যেন কেউ হাঁসুয়া দিয়ে। দুম করে শব্দ হল বাজের।

    সুচাঁদ বলল, রইয়ো হে বউরূপী, চাইন্দা সঙ যায়।

    ঘাস পার হয়ে এসেছে অনেকক্ষণ। এখন কলমি আর হিঞ্চে, মাঝখান দিয়ে জলের দাগ। কলমি, হিঞ্চে হেলে পড়েছে দক্ষিণে, টানটা ওই দিকে। জলের টান যেন বাড়ছে আস্তে আস্তে। ঘাড়ের বোঝা কাঁধ বদলাল সুচাঁদ।

    সামনে বেতবন। বুক ড়ুবিয়ে মাথা ভাসিয়ে আছে উপরে। পুবের হাওয়ায় ভারী শনশন তুলেছে জলের বুকে। একটু ঘুরে যেতে হবে। বড় কাঁটা। সাপও এমন আশ্রয়টি জড়িয়ে-সড়িয়ে ভোগ করতে পারে না। কচুরিপানা আটকে আছে বেত-ঝোপের গায়ে।

    নিমেষে একঝাঁক বৃষ্টি নেমে কাঁপ ধরিয়ে দিয়ে গেল। কিন্তু পায়ের ঘাগুলি যেন আগুনে পুড়ছে। মাঝে মাঝে সুড়সুড়ি লাগছে পাঁক ঢুকে। মনে হয় এবার পা দুটো তুলে, মাথা দিয়ে চলতে পারলে জুত হত।

    জলটা বুক থেকে কোমরে ওঠা-নামা করছে। হাঁটু জল আর পাওয়া যাচ্ছে না। পেছনে চেয়ে দেখল কুড়াইল হারিয়ে গেছে ঘাসবন পাটখেতে।

    আবার বেত-ঝোপ দু-পাশে। চারদিকেই। কেন, রাস্তা ভুল হল নাকি? নাকি সঙ দেখায়।

    রাস্তা তো ভুল হয়নি। পা আটকাল কীসে! বেতগাছের শিকড় এক ঝোপ থেকে আর এক ঝোপে চলে গেছে। একই ঝাড়ের বংশ। খোঁচা লেগে একটি আঙুলে বোধহয় ছর ফুটে গেল। নসীরপুরের বাবুদের কাছে একটু তেল পাওয়া যাবে।

    জলটা কিন্তু বড় পরিষ্কার। সাফ সাফ দেখা যায় নীচে, আশ-শেওড়ার বন আছে ড়ুবে।

    বেতঝোপগুলি পার হয়েই, ছড়ানো মোতরা ঝোপ। কালো কালো ডাঁটা, বড় বড় পাতা মোতরার। ফুল ফুটেছে সাদা সাদা। জলে ড়ুবে গেছে ঝোপের গলা। মোতরার বাকল তুলে তৈরি হয় শীতলপাটি। বড় নাগিনীর ভিড় ওই ঝোপে। এখন অগতি নাগনাগিনীর গতি। অসহায় নাগ ছোবলায় আবার মোতরার বুকেই।

    এক মুহূর্ত থমকাল সুচাঁদ। মোতরা ঝোপগুলি এড়ানো দরকার। গেল একটু উত্তর দিক দিয়ে। ঝোপঝাপ কম ওদিকটায়।

    আবার দেখা। কে যায় গামলায় ভেসে। প্রায় ঝোপের পাশ দিয়ে এঁকেবেঁকে চলেছে যেন। সুচাঁদ হাসল একগাল, একবুক জলে দাঁড়িয়ে। গলার সুর ঢেলে হাঁক দিল, কোন সঙ যাও হে।

    কোনও সাড়াশব্দ নেই। মাছ ধরছে নাকি নিঃশব্দে। কিন্তু এত দূরে। নাকি, কোনও পাকা বহুরূপী। হেসে উঠে আবার ডাক দিল, আবডাল দিয়া কে যান হে।

    আরও খানিকটা এগিয়ে, থমকে দাঁড়াল সুচাঁদ। কে? পায়ের তলা থেকে মাথা অবশি বিদ্যুৎ খেলে গেল। যেটাকে গামলা ভেবেছিল সেটা একটা হাত দেড়েকের কলগাছের গুঁড়ির ভেলা। তার উপরে বসে আছে.. ওটা কী? শেয়াল!

    হেসে ফেলল সুচাঁদ, আরে হালা বহুরূইপ্যা! চাইন্দা সঙের রূপ দেখাইতে আইছস।

    শেয়ালটা ভয় পেয়ে ল্যাজটা প্রায় পেটের তলায় ঢোকাল। ভীত করুণ হলদে চোখে সুঁচাদের দিকে তাকাল। দাঁত বের করে, বড় করুণভাবে ডেকে উঠল কোঁক কোঁক করে। যেন বাড়ির পোষা কুকুরটা। ওদিকে টাল সামলাতে হচ্ছে টলমল ভেলায়।

    সুচাঁদ যত এগুতে লাগল ভেলার দিকে, শেয়ালটা কুঁকড়ে কুঁকড়ে ছোট হতে লাগল। কিন্তু নামছে না। সুচাঁদ যে মারমুখী নয়, সেটা যেন বুঝেছে। একেবারে কাছে আসতে একটা ঠ্যাং জলে নামিয়ে, ঠিক কান্নার সুরে শেয়ালটা ক্যাঁকক্যাঁক করতে লাগল।

    সুচাঁদ দেখল, ভেলাটার মধ্যে রক্ত। কয়েক ফালি রক্তাক্ত নেকড়া। এ বর্ষায় মড়া পোড়াবার ডাঙা থাকে না, ভাসিয়ে দেয় সবাই। বোধহয়, কোনও শিশুর মৃতদেহ ছিল এই ছোট্ট ভেলায়। লোভী শেয়াল খেতে খেতে ভেসে এসেছে, এখন অকুলে পড়েছে। সুচাঁদের মতো বুঝি।

    সুচাঁদ ফিরে তাকাল জানোয়ারটার দিকে। জানোয়ারটাও তার দিকেই চোখ পিটপিট করে তাকিয়েছিল। যেন পোষা জীবটি, কিছুই জানে না। জলে ভিজেছে, কাঁপছে থরথর করে।

    সুচাঁদ বলল, প্যাটের জ্বালায় তুইও চাইন্দা সঙের মতো ঘর হারাইছসরে বহুরূইপ্যা। মাইনষের ছাও খাইছসরে হালা? তারপর জল আর ঝোপের দিকে তাকিয়ে বলল, আমি যদি মরি, তাইলেও তর বড় ফলার হইব না? চল, কেউ যখন নাই, তর লগেই এট্টস কথা কইতে যাই, মরি তো, ভাল কইরা খাইস।

    এগুল সুচাঁদ। একটু ফারাক দিয়ে শেয়ালটা ভাসতে ভাসতে চলল ভেলায়।

    জলের টান দক্ষিণে, পথও দক্ষিণে। শেয়ালটার চোক সর্বক্ষণ তার দিকে। মাঝে মাঝে আড়াল পড়ছে নোতরা আর বেত ঝোপে। মনে মনে বলল সুচাঁদ, হালারে না লাগে কাটে।

    সে প্রায় সস্নেহ গলায় খেঁকিয়ে উঠল, আরে ওই ঢ্যামনা সঙ, কোনদিকে দিয়া যাস, মোনসায় খাইব যে।

    খ্যাঁকানি শুনে শেয়ালটার পাছাটা গুটিয়ে গেল। তাকাল অসহায় করুণ চোখে। একটু একটু দুলছে ভেলাটার তালে তালে।

    সুচাঁদ ভেলাটায় হাত দিল। যেন পেটের ভিতর থেকে কঁকিয়ে উঠল শেয়ালটা।

    উঃ, অ্যাক্কেবারে যে গেলি রে সঙ। বলে ভেলাটা সরিয়ে নিয়ে এল একটু মোতরা ঝোপের কাছ থেকে। সুচাঁদ বলল, বাপ্পু ইসরে, গোঁফ দেখি রায়চরের দাশবাবুর মতন? রায়চর থেইক্যা আসতেছেন নাকি?

    শেয়ালটা ভয়ে ভয়ে পাছা পাতল। জল ঠেলার কষ্টটা কিছুক্ষণের জন্য ভুলে গেল সুচাঁদ। বলল, শোন, ওর বায়চরের বাবুহো সঙ দেখাইয়া আইলাম, পয়সা দিছে চাইর আনা। আর ভালবাইসা কইছে, দূর হ হারামজাদা।

    শেয়ালটা চোখ পিটপিট করে জিভ দিয়ে ঠোঁট চাটল। সুচাঁদ বলল, হাসস নাকিরে? সঙ দেইখা? তবে বোঝ, রায়চরের এক নমঃর মাইয়া বুঁচি আবার আমার লগে পিরিত করতে চায়। মরণের লেইগ্যা। আঃ, সঙের পায়ে বড় হাজা হইতেছে রে! বাবুরা নাইরেল ত্যাল দিছিল, জ্বালা যায় না তবু।

    জানোয়ারটা করুণ চোখে চেয়ে কাঁপতে লাগল। কিন্তু নজর ঠায় সুচাঁদের দিকে। সুচাঁদের মনে হল, সত্যি যেন কেউ আছে তার সঙ্গে। এই চরশিন্দার শ্বাপদসঙ্কুল জলজঙ্গলে মুখ খুলে গেল তার বলল, রায়চরে সঙ দেইখা আইছি। ক্যান, কালা চশমা চোখে দিয়া বাবুগো সামনে বইসা কইলাম, বাবু, বেশ সঙ দেখলাম। বাবু কইলেন, কইরে? বাবুরে দেখাইয়া কইলাম এই তো!

    বলে হা হা করে হাসল সুচাঁদ। শেয়ালটা ভয়ে ডাক ছেড়ে দিল, খ্যাঁক খ্যাঁক।

    আরে ব্যাটা, খুব যে হাসি!

    সুচাঁদকে ঠেকতে হচ্ছে। এবার পায়ে পায়ে বাধা। পায়ের তলায় শাপলা আর কাইচলা।

    এখন শুধু আঁশটে গন্ধ জলে। থেকে থেকে মোতরা ফুলের গন্ধ পাওয়া যায়। বড় শক্ত লতা কাইচলার। ডগায় ডগায় আবার নীল ফুলের বাহার। শালুক ফুল মুচড়ে গেছে দক্ষিণ দিকে।

    শেয়ালটা একটু আগে আগে যাচ্ছে। ভাসছে কিনা। কাইচলার জটায় আটকাচ্ছে না পদে পদে। জলের নীচের অপদেবতারা যেন বাড়িয়েছে সহস্র হাত কে যায়? ধরে রাখ, ধরে রাখ।

    সামনে হিজলবাগ। দিনের বেলায়ও ঘুটঘুট্টি অন্ধকার যেন। হিজলের মাথা ঠেকেছে মেঘে। মেঘে-হিজলে-জলে একাকার। পার হলেই ইমলীপুর।

    হঠাৎ বুকে আলতো স্পর্শে ফিরে দেখল, বেশ একখানি হলদে পেট বড় জোঁক শুঁড় ঢুকিয়েছে। আরে সঙ! টেনে তোলা যায় না। কখন ধরেছে। বড় মিষ্টি চাইন্দার রক্ত, না। ছুড়ে ফেলল জোঁকটা দূরে। রক্ত পড়ছে, থামানো দায়।

    লক্ষ পড়ল জলের দিকে। আরে বাপ্পু ইসরে। রক্তচোষার রাজত্ব যে! পরিষ্কার দেখা যায়, জলের নীচে বন। তার পাতায় পাতায়, পাতার মতো জোঁক। জলের টান, কিন্তু কামড়ে ধরে আছে। কিন্তু, মানুষের গন্ধ পায় বোধ হয়। সুচাঁদ দেখল, কুঁকড়ে কুঁকড়ে সব ভেসে আসছে তার দিকে।

    সুচাঁদ তাড়াতাড়ি, জলের নীচে পায়ে হাত দিল। যা ভেবেছে। হাজা ঘা পেয়ে, গোটা তিনেকে ছেঁকে ধরেছে। টেনে টেনে তোলা যায় না। তাই বোধ হয় জ্বালাটা কম ছিল। অসাড় হয়ে গেছে তো। টেনে টেনে তুলল।

    শেয়ালটার দিকে তাকিয়ে দেখল। নজরটা তার দিকেই। ওদিকে জোঁক ধরেছে ওর নাকের কাছে। রক্ত পড়ছে টপটপিয়ে। কিন্তু ভয়টা মানুষকেই বেশি।

    সুচাঁদ হেসে বলল, আরে সঙ! জোঁকে তরেও খায়!

    শেয়ালটা একটু ছোট হয়ে গেল কুঁকড়ে।

    তারপরে হিজলবাগ। জলের তোড় বড় এখানে। চোখে দেখা যায় সব, কিন্তু অন্ধকার। বনস্পতি হিজলের ফাঁকে ফাঁকে কী জমাট বেঁধেছে মেঘ। পাখি-পাখালি কিছুই নেই। থাকবে কী করে। এখন নাগের বাস।

    এখানে জল কোমরে। কিন্তু বড় টান। আপনি টেনে নিয়ে যায়। কলকল শব্দ। ছলছল করে গাছের গায়ে। আবার কাটালের নকশা করে।

    শেয়ালটা ক্যাঁকক্যাঁক করছে। ভয় পেয়েছে জলের তোড়ে। ভেলা গিয়ে মাঝে মাঝে ধাক্কা দিচ্ছে গাছে। অসহায়, বেসামাল। চকিতে আড়াল হয় আবার দেখা যায়।

    সুচাঁদ বলে, যা সঙ, ভাইস্যা যা, তরে লইখ্যা টানছে।

    কিন্তু চোখাচোখি হতে বলল, ইস। একেবারে কোলের পোলার মতো চাইয়া রইছস দেখি? বলে, এগিয়ে ভেলাটা হাত দিয়ে গাছের ফাঁকে ফাঁকে এগিয়ে দিতে লাগল। জোঁকটা ফেলে দিল নাকের থেকে টেনে। শেয়ালটা কোঁ-কোঁ করে উঠল। একটু একটু করে কমে এল হিজলের ঠাসাঠাসি। ওই দেখা যায় ফাঁকে ফাঁকে, ইমলীপুর।

    ইমলীপুর, তারপর নসীরপুর। পা দুটি জলে ভেজা ন্যাকড়া হয়ে গেছে। জোর নেই। ঘায়েও সাড় নেই। তবু জোর দিল সুচাঁদ! জোর, খুব জোর।

    হিজলবাগ শেষ। আবার ঘাস কলমি-হিঞ্চে। হঠাৎ ঝপ করে শব্দ হল। সুচাঁদ দেখল, ঝাঁপ দিয়েছে শেয়ালটা। সাঁতরে চলেছে ইমলীপুরের দিকে! আরে সেয়ানা সঙ। পরান বড় সোনা! সুচাঁদের আগে আগে গেল।

    সামনেই একটা ঝাঁকাল গাব গাছ। শেয়ালটার গতি ওই দিকেই। ও! এদিককারই বাসিন্দা বুঝি। দেখা গেল, গাব গাছের নীচে ছোট ছোট ঘাস, তবে ডাঙা। ইমলীপুরের ডাঙা।

    শেয়ালটা ধরল গিয়ে গাব গাছ। সুচাঁদ তখনও হাত কুড়ি দূরে। ঠিক! মাটি দেখা যায়।

    শেয়ালটা উঠে দাঁড়াল, একবার গা ঝাড়ল। নুলো দিয়ে নাক ঘষল, বোধ হয় জোঁকটা ফেলল। দেখল একবার সুচাঁদকে, তারপরে রওনা দিল।

    সুচাঁদ বলল, চললি? চাইন্দারে মনে রাখিস।

    কিন্তু একটু গিয়েই দাঁড়িয়ে পড়ল শেয়ালটা। সুচাঁদও দূর জলেই দাঁড়াল। কী হল? শেয়ালটা পা তোলবার চেষ্টা করছে। পারছে না। টলছে, নড়ছে আর একটু একটু করে ড়ুবে যাচ্ছে।

    ড়ুবছে! ও, প্যাঁক! অর্থাৎ পাঁক। মানুষ-ডোবা পাঁক কাদা! গোড়ালি উঁচু করে, মুখ তুলল সুচাঁদ। দেখল, পেট অবধি ড়ুবে গেছে, ডাকছে ক্যাঁক ক্যাঁক করে। তারপরে পিঠ ড়ুবল। মাথাটা বাকি।

    আরে সঙ! তবে গেলি কেন। সুচাঁদ তো তোকে ওখানে গিয়ে বাঁচাতে পারবে না। শেয়ালটা কেঁউ কেঁউ করে ডেকে উঠল অসহায় কুকুর বাচ্চার মতো।

    হঠাৎ সুচাঁদের বুকটা ফুলে উঠল। মুখটা ফিরিয়ে নিল। তা হলে! হ্যাঁ, ওই উত্তরদিক দিয়ে, ওই কৃষ্ণচূড়ার তলা দিয়ে ঢুকতে হবে।

    কৃষ্ণচূড়ার তলায় এসে একবার ফিরে তাকাল সুচাঁদ। দেখা যায় না শেয়ালটাকে।

    হালায় সঙ। মর, তর লেইগ্যা কেউ কান্দব না, কেউ না।

    কিন্তু কালো মুখটা জলে ভাসছে। শেয়ালের জন্য নয়, সঙ্গীহারা হয়ে। মেলায় এসে দেখল, গায়ের লোমগুলি আবার বেড়েছে। ক্ষুর দিয়ে বসল সে।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleছিন্নবাধা – সমরেশ বসু
    Next Article মানুষ – সমরেশ বসু

    Related Articles

    সমরেশ বসু

    প্রজাপতি – সমরেশ বসু

    December 2, 2025
    সমরেশ বসু

    গঙ্গা – সমরেশ বসু

    December 2, 2025
    সমরেশ বসু

    বিবর – সমরেশ বসু

    December 2, 2025
    সমরেশ বসু

    অকালবৃষ্টি – সমরেশ বসু

    December 2, 2025
    সমরেশ বসু

    নয়নপুরের মাটি – সমরেশ বসু

    December 1, 2025
    সমরেশ বসু

    শ্রীমতি কাফে – সমরেশ বসু

    December 1, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Our Picks

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }