Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    মাহতাব উদ্দিন : জীবন ও গান

    May 18, 2026

    পরমপুরুষ শ্রীশ্রীরামকৃষ্ণ ২ – অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত

    May 18, 2026

    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের প্রেমের গল্প – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    May 16, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    সহধর্মিণী – পাঁচকড়ি দে

    পাঁচকড়ি দে এক পাতা গল্প101 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    সহধর্মিণী – ১০

    দশম পরিচ্ছেদ

    সতীশচন্দ্র গৃহমধ্যে আসিয়াই ভিতর হইতে দ্বার রুদ্ধ করিলেন। হেমাঙ্গিনী বিস্মিত হইয়া বলিল, “দরজা বন্ধ করিলে কেন?”

    সতীশচন্দ্র বজ্র-গম্ভীর স্বরে বলিলেন, “সখ্! আমার কথা শেষ হইবার পূর্ব্বে ঘর হইতে বাহির হইয়া যাইতে পারিবে না বলিয়া দরজা বন্ধ করিয়াছি। তোমার সঙ্গে আমার বিশেষ কথা আছে। বলি, আজ এই জ্যোস্না-রাত্রে প্রণয়ীর সঙ্গে ভ্রমণ বৃত্তান্তটা কিরূপ আমি শুনিতে চাহি।”

    হেমাঙ্গিনী দরজার দিকে চাহিল। স্বামীর এ ভাব দেখিলে সে কোন কথা না বলিয়া অন্যান্যবার তাহার সম্মুখ হইতে সরিয়া যাইত। আজ সহসা এরূপ পিঞ্জরাবদ্ধ হইয়া আর তাহার সহ্য হইল না, সে কাঁদিয়া ফেলিল, বলিল, “কেন তুমি এ রকম করিতেছ? আমি কি কখনও তোমার কাছে কোন দোষ করিয়াছি? বিনা কারণে কেন তুমি এই সব কথা বল? কখনও কি আমার কোন দোষ পাইয়াছ?”

    সতীশচন্দ্র অত্যন্ত কঠিনকণ্ঠে বলিলেন, “না, এ পর্য্যন্ত পাই নাই, তাহা স্বীকার করি। এখানে আসিবার পূর্ব্বে আমি কখনও তোমাকে সন্দেহ করি নাই। কিন্তু তুমি এখানে আসিয়া আর নিজেকে সামলাইতে পারিতেছ না দেখিতেছি। এ সব কি ব্যাপার!”

    “তুমি অন্যায় বলিতেছ, আমি অন্য কাহাকেও ভালবাসি না।”

    “যদি সেই প্রেমের বিদায় দৃশ্য স্বচক্ষে না দেখিতাম।”

    “কোন বিদায়?”

    “কোন বিদায়!—বর্ণনা করিব কি? তুমি তাহা কি জান না? চোখের জলে ভাসিতে ভাসিতে যখন তোমার সাধের প্রণয়ীকে বলিয়াছিলে যে, তুমি আমায় ভালবাস না, তাহাকেই ভালবাস, যখন সে তোমার হাত তাহার বুকে তুলিয়া লইয়াছিল, আমি কি তাহা স্বচক্ষে দেখি নাই?”

    হেমাঙ্গিনীর নিশ্বাস প্রায় রুদ্ধ হইয়া গিয়াছিল, সে কোন কথা বলিতে পারিল না।

    সতীশচন্দ্র বলিলেন, “এ সব স্বচক্ষে দেখিয়াও আমি তোমায় কখনও কিছু বলি নাই, কারণ আমি তোমায় সর্ব্বাপেক্ষা, নিজের প্রাণ অপেক্ষাও ভালবাসি। আমি সমস্তই প্রায় ভুলিয়া গিয়াছিলাম—আর—তুমি, হেমাঙ্গিনী—হা হতভাগিনী তুমি—”

    হেমাঙ্গিনী কাতরকণ্ঠে বলিল, “ভগবানের নামে শপথ করিয়া বলিতেছি, আমি ইহা সম্পূর্ণ ভুলিয়া গিয়াছি—আমি এখন আমার ছেলেমেয়ে ও তোমায় ভিন্ন কাহাকেও জানি না। কেন তুমি এই সকল আগেকার কথা তুলিয়া আমাকে কষ্ট দাও, তোমার প্রাণে কি একটুও দয়া নাই?”

    “যে দিন আমরা এখানে আসিয়াছি, সেই দিন হ’তেই সে তোমার কাছে আসিতেছে। দিনের মধ্যে একবার নয় সাতবার!”

    “তোমার ছেলেকে দেখিতে। তুমি কি বিনা চিকিৎসায় বাছাকে মারিয়া ফেলিতে চাও? তিনি এখানে সৰ্ব্বদাই ডাক্তারের মত আইসেন, অন্য কোন ভাবে কখনও আইসেন নাই। তুমি কি নিজে তাহা দেখ নাই?”

    “আর আজ! তোমরা দু’জনে আধ ক্রোশ পথ নিৰ্জ্জনে এক সঙ্গে আসিয়াছ! তোমাদের এ ভাব দেখিয়া আমি যে পাগলের মত হইয়াছিলাম, তাহা কি তুমি বুঝ না? তাহার পরম সৌভাগ্য যে তখন আমার সঙ্গে তাহার দেখা হয় নাই, নতুবা কি যে ঘটিত বলিতে পারি না।”

    “তুমি জ্ঞানী, বিবেচক। ছিঃ, তোমার কি এরূপ কথা ভাল? তিনি এখানে কখনও কোন অসম্মানের কথা বলেন নাই। তিনিও শিক্ষিত। তিনি কি জানেন না যে, আমি এখন অপরের স্ত্রী, ছেলেমেয়ের মা!”

    সতীশচন্দ্র কি উন্মত্ত হইয়াছেন? সম্পূর্ণ না হইলেও কতকটা উন্মত্তই বটে। তিনি কাঁদিয়া ফেলিলেন, একেবারে বালকের মত হেমাঙ্গিনীকে উভয় বাহুবেষ্টনে বুকে চাপিয়া ধরিয়া তিনি ব্যাকুল হইয়া কাঁদিতে লাগিলেন।

    হেমাঙ্গিনী তাঁহার ভাব দেখিয়া ভীতা হইল। সে তাহার স্বামীর এ ভাব আর কখনও দেখে নাই। সে প্রথমতঃ এতই রুষ্ট হইয়াছিল যে, স্বামীর নিকট হইতে চলিয়া যাইবার উপক্রম করিতেছিল কিন্তু এক্ষণে তাঁহার এ ভাব দেখিয়া সে তাহাকে ছাড়িয়া যাইতে পারিল না, তাহাকে শান্ত করিবার জন্য চেষ্টা পাইতে লাগিল। সান্ত্বনা দিবে কি, স্বামীকে কাঁদিতে দেখিয়া হেমাঙ্গিনী নিজেও কাঁদিয়া ফেলিল।

    তখন সতীশচন্দ্র স্ত্রীর প্রতি যে সন্দেহ করিয়াছিলেন, তাহার জন্য মনে মনে অত্যন্ত লজ্জিত হইলেন। তাঁহার স্ত্রীর কথায় তাঁহার বিশ্বাস জন্মিল, তিনি প্রকৃতিস্থ হইলেন, চক্ষের জল মুছিয়া একটি প্রগাঢ় দীর্ঘ নিশ্বাস ফেলিয়া শয্যার উপর হেলিয়া পড়িলেন।

    পরদিবস রমেন্দ্রনাথ খোকাকে দেখিতে আসিলে সতীশচন্দ্র তাঁহার হস্ত-বিলোড়ন করিলেন, তাঁহাকে সমাদরে বসিতে বলিলেন। তিনি ইতিপূর্ব্বে এ কাজ আদৌ করেন নাই।

    একাদশ পরিচ্ছেদ

    ঈর্ষা ভীষণা কাল-সৰ্পী। সে কোনক্রমে একবার হৃদয়-গহ্বরে স্থান পাইলে, কে তাহাকে আর দল করিতে, এমন কি, সম্পূর্ণ দমন করিতে সক্ষম হয়? একটু সুবিধা পাইলেই সে মাথা তুলিয়া দং করিতে চেষ্টা করে। সতীশচন্দ্রেরও তাহাই হইল। তিনি ঈর্ষাকে হৃদয় হইতে তাড়াইতে পারেন নাই, তবে দমন করিয়াছিলেন বটে, কিন্তু উহা সাময়িক মাত্র, সমান্য সুযোগ পাইবামাত্র সে আবার তাঁহার ভীষণ ফণা উত্তোলিত করিল।

    রমেন্দ্র ও তাঁহার স্ত্রীর সকল কার্য্যেই তিনি এখন বিনা কারণে সন্দেহ করিতে লাগিলেন। তিনি তাঁহার স্ত্রীকে আর কোন কথা বলিলেন না বটে, কিন্তু রমেন্দ্র তাঁহার স্ত্রীর সহিত, এমন কি, তাঁহার ছেলের সম্বন্ধে কথা কহিলেও তিনি মনে মনে ঈর্ষায় উন্মত্ত-প্রায় হইতেন। ক্রমেই তাঁহার মনে দৃঢ় বিশ্বাস জন্মিতে লাগিল যে তাঁহার স্ত্রী তাঁহার চোখে ধূলি নিক্ষেপ করিয়া রমেন্দ্রের সহিত নিভৃতে মিশিতেছে। যে কখনও ঈর্ষার বিষম জ্বালা সহ্য না করিয়াছে, সে কোনক্রমে সতীশচন্দ্রের হৃদয়ের এই নরক-যন্ত্রণা উপলব্ধি করিতে পারিবে না। ফলতঃ সতীশচন্দ্র কেমন এক রকম হইয়া গেলেন—না উন্মাদ, না প্রকৃতিস্থ।

    এদিকে খোকা দিন দিন ভাল হইয়া উঠিতে লাগিল, কাজেই রমেন্দ্রবাবুও এখন খুব কদাচ সতীশচন্দ্রের বাড়ীতে আসিতেন, কেননা ছেলে প্রায় ভাল হইয়াছে, এখন আর তাহাকে প্রত্যহ দেখিবার আবশ্যকতা ছিল না।

    অবশেষে খোকা সম্পূর্ণ আরোগ্য লাভ করিলে রমেন্দ্রনাথ একদিন হাসিতে হাসিতে বলিলেন, “এখন আর আমার এখানে কোন কাজ নাই, এখন আমি বিদায় লইতে পারি।”

    রমেন্দ্র চলিয়া গেলে সতীশন্দ্র অন্যমনস্ক ভাবে বলিলেন, “এত দিনে তবে বিদায় হইল।”

    হেমাঙ্গিনী বলিল “হাঁ, বিল পাঠাইতে বলিয়া দিয়াছি।”

    সে দিন সোমবার। মঙ্গলবার সতীশচন্দ্র আহারাদির পর বলিলেন, “এ পর্যন্ত ছেলের অসুখের জন্য এখানকার কিছুই দেখি নাই, আজ একবার দেখিয়া আসি।”

    ছেলের জন্য যত না হউক, নিজের জন্য বটে, তিনি বাটীর বাহিরে অধিকক্ষণ থাকিতে পারিতেন না, কারণ স্ত্রীর উপর ঘোরতর সন্দেহ। আজ রমেন্দ্র বিদায় হইয়া গিয়াছে জানিয়া তিনি কতকটা নিশ্চিন্ত হইয়াছিলেন, সেই সাহসে আহারাদির পরেই বেড়াইতে বাহির হইলেন।

    তিনি কেন অধিকক্ষণ বাড়ী ছাড়িয়া থাকেন না, তাহা হেমাঙ্গিনী বেশ বুঝিতে পারিত, কিন্তু সে তাহার মনের কথা মনেই রাখিত, কখনও প্রকাশ করিত না।

    পরদিনও সতীশচন্দ্র আহারাদির পরেই বাহির হইয়া গেলেন।

    আজ বৈকালের গাড়ীতে সতীশচন্দ্রের পিসীমা তাঁহার পুত্র সুধাংশুকে সঙ্গে করিয়া তাঁহাদের বাড়ীতে আসিয়া উপস্থিত হইলেন। তিনি যে আসিবেন তাহা পূর্ব্বে লিখেন নাই, কাজেই সতীশচন্দ্ৰ তাঁহার আগমন বার্তা জানিতেন না।

    সন্ধ্যা হইয়া গেল, তবুও সতীশচন্দ্র ফিরিলেন না। এই সময়ে হেমাঙ্গিনী বাহিরে কাহার পদশব্দে চমকিত হইয়া উঠিল, মনে মনে বলিল, “এই তিনি আসিয়াছেন। পিসীমা আসিয়াছেন শুনিয়া নিশ্চয়ই ভারি আশ্চৰ্য্য হইবেন।”

    কিন্তু সতীশচন্দ্র আসিলেন না, আসিলেন রমেন্দ্রনাথ।”

    আবার রমেন্দ্র। হেমাঙ্গিনীর প্রাণ কাঁপিয়া উঠিল। সতীশচন্দ্রের অনুপস্থিতিতে রমেন্দ্র! রমেন্দ্র আর আসিবেন না বলিয়া গেলেন, আবার আসিয়াছেন! এখন সতীশচন্দ্র ফিরিয়া আসিয়া তাহাকে রমেন্দ্রের সঙ্গে দেখিলে কি মনে করিবেন! হেমাঙ্গিনীর নয়নে সন্ধ্যার তরল অন্ধকার অমাবস্যার নিশীথের নিবিড় অন্ধকারে পরিণত হইল। তাহার বক্ষঃস্থল অত্যন্ত কাঁপিতে লাগিল, সে অতি কষ্টে আত্মসংযম করিয়া রহিল।

    রমেন্দ্র জিজ্ঞাসা করিলেন, “খোকা কেমন আছে?”

    হেমাঙ্গিনী বলিল, “বেশ আছে। আপনি সেদিন বলিয়াছিলেন, আপনার আর আসিবার আবশ্যক হইবে না?”

    রমেন্দ্র কহিল, “হাঁ, আর তাহাকে দেখিবার আবশ্যক নাই। এই পথে যাইতেছিলাম, তাই একবার মনে করিলাম, তাহার খবরটা লইয়া যাই। আজ কি কুয়াসাই হইয়াছে! এখানে মধ্যে মধ্যে শীতকালে এমনই কুয়াসা হয়, রাত্রে এখন একহাত দূরের লোক দেখিবার উপায় নাই।”

    তিনি একখানা চেয়ার টানিয়া লইয়া হেমাঙ্গিনীর নিকট বসিলেন। এক্ষণে তাঁহার মনে পূর্ব্বের কোন ভাবই আর ছিল না, তিনি সতীশচন্দ্রের মনের ভাবও জানিতেন না, কাজেই তাঁহার মনে কোন সন্দেহও ছিল না। যেমন দশ জনের সহিত ব্যবহার করিতেন, রমেন্দ্রনাথ হেমাঙ্গিনীর সহিতও সেইরূপ ব্যবহার করিতেন। তিনি এখন তাহাকে পূর্ব্বপরিচিতা বন্ধুর ন্যায় বিবেচনা করিতেছিলেন। কিন্তু তিনি এইরূপ ভাবে উপবিষ্ট হইলে হেমাঙ্গিনীর বক্ষঃ আরও কাঁপিতে লাগিল। যদি এই সময়ে সতীশচন্দ্র ফিরিয়া আসেন, তাহা হইলে তিনি কি বলিবেন, তিনি কি ভাবিবেন!

    সে রুদ্ধ কণ্ঠে বলিল, “খোকাকে একবার দেখিবেন না?”

    হেমাঙ্গিনীর ইচ্ছা রমেন্দ্রনাথ যত শীঘ্র সম্ভব বিদায় হয়েন, কিন্তু রমেন্দ্র আজ এত শীঘ্র বিদায় হইবার ইচ্ছা করেন নাই। তিনি বলিলেন, “পরে দেখিব।”

    হেমাঙ্গিনী উঠিয়া দাঁড়াইয়াছিল। রমেন্দ্রনাথ হেমাঙ্গিনীকে বলিলেন, “বসুন, আপনার সঙ্গে একটা কথা আছে।”

    হেমাঙ্গিনীর মাথা ঘুরিতে লাগিল, সে কোন কথা কহিতে পারিল না, নীরবে তাহার সম্মুখে বসিল। এক নিমেষে তাহার আপাদ-মস্তক স্বেদাক্ত হইয়া গেল।

    রমেন্দ্রনাথ বলিলেন, “আমি একটী গোপনীয় বিষয়ে কাহারও পরামর্শ লইতে চাহি। আমি জানি আপনি অতি বুদ্ধিমতী, আপনার পরামর্শ আমি অন্য সকলের চাইতে অ িকতর মূল্যবান্ মনে করি, তাই আমার নিজের একটি গুরুতর বিষয়ে আপনার পরামর্শ জিজ্ঞাসা করিতে চাই।”

    হেমাঙ্গিনীর কণ্ঠ হইতে কোন কথা বাহির হইল না, সে প্রাণহীন পাষাণের মত বসিয়া রহিল।

    দ্বাদশ পরিচ্ছেদ

    কথা কহিবার চেষ্টা পাইয়াও হেমাঙ্গিনী কোন কথা কহিতে পারিল না, তাহার সমস্ত শরীর এতই কাঁপিতেছিল যে তাহার বুক যেন ফাটিয়া যায়। রমেন্দ্রনাথ কি বলিতে চাহে—তাহার সহিত কি পরামর্শ? এই সময়ে যদি স্বামী আসিয়া পড়েন!

    সে কোন কথা কহিল না দেখিয়া রমেন্দ্রনাথ বলিলেন, “আপনি তো প্রফুল্ল বাবুর মেয়েকে দেখিয়াছেন?”

    “হাঁ, দেখিয়াছি, বেশ মেয়ে।”

    “বেশ ভাল মেয়ে?”

    “হাঁ, খুব শান্ত প্রকৃতি, বেশ দেখিতে, লেখাপড়াও বেশ শিখিয়াছে। কেন, তাহার কথা জিজ্ঞাসা করিতেছেন কেন?”

    “তাহার বিবাহের জন্য।”

    “কেন, আপনি কি তাহার সম্বন্ধ করিতেছেন?”

    “সম্বন্ধ করিতেছি ঠিক নহে, নিজেই তাহাকে বিবাহ করিব স্থির করিতেছি।”

    হেমাঙ্গিনী বিস্মিতভাবে তাঁহার মুখের দিকে চাহিল। ক্ষণপরে বলিল, “সুশীলা বেশ ভাল মেয়ে।”

    রমেন্দ্রনাথ মৃদুহাস্যে কহিল, “তবে তাহাকে বিবাহ করা যায়? প্রফুল্ল বাবু এ প্রস্তাব করিয়াছেন।”

    হেমাঙ্গিনী কহিল, “আমি শুনিয়া যথার্থই সুখী হইলাম।”

    এ কথা হেমাঙ্গিনী মিথ্যা বলে নাই, কেননা রমেন্দ্রনাথ বিবাহ করিয়া সুখী হইলে, হেমাঙ্গিনী সত্যই অতিশয় সুখী হয়।

    এই সময়ে জানালায় অন্ধকারে কাহার মুখ বাহির হইল! সে মুখের ভাব অত্যন্ত ভায়াবহ—তাহার বিস্ফারিত চক্ষু হইতে অগ্নি ছুটিতেছে, মাথার চুলগুলাও অত্যন্ত অপরিষ্কার, ওষ্ঠাধর অত্যন্ত বক্র, কি ভীষণ চেহারা! এ কে—একি মানুষের মুখ না কোন প্ৰেত!

    হেমাঙ্গিনী বা রমেন্দ্রনাথ এ বিভিীষিকা দেখিতে পাইলেন না, তবে এই মূর্ত্তির কণ্ঠ হইতে তখন যে এক অৰ্দ্ধস্ফুট শব্দ নির্গত হইল, তাহারা উভয়ে তাহা শুনিয়া চমকিত হইয়া জানালার দিকে চাহিলেন। কেহ কিছু তথায় দেখিতে পাইলেন না।

    হেমাঙ্গিনী জিজ্ঞাসিল, “এ কিসের শব্দ?”

    রমেন্দ্রনাথ বলিলেন, “যে কুয়াসা আর অন্ধকার, কেহ বোধ হয় পথে হোঁচট খাইয়া পড়িয়া গিয়াছে। চলুন, খোকাকে একবার দেখিয়া যাই।”

    উভয়ে খোকাকে গিয়া দেখিলেন।

    রমেন্দ্রনাথ বাহিরে আসিয়া সেই সূচিভেদ্য অন্ধকার ও কুয়াসা দেখিয়া হাসিয়া বলিলেন, “আশা করি বিপদ আপদ ঘটিবে না, নিরাপদে বাড়ী পৌঁছিতে পারিব।”

    রমেন্দ্রনাথ প্রস্থান করিলেন। কিন্তু তখনও সতীশচন্দ্র ফিরিলেন না।

    এই ভীষণ অঞ্জন-প্রগাঢ় অন্ধকারে পথে তাহার কোন বিপদ আপদ ঘটিল না তো? যতই সতীশচন্দ্রের ফিরিতে দেরী হইতে লাগিল, ততই হেমাঙ্গিনী আরও অধীর ও উৎকণ্ঠিত হইয়া উঠিতে লাগিল।

    ক্রমে এইরূপে প্রায় দুইঘণ্টা অতীত হইল, তখন সে আর নিশ্চিন্ত থাকিতে পারিল না। চাকরদিগকে লণ্ঠন লইয়া বাবুর সন্ধানে যাইবার জন্য আজ্ঞা করিল। কিন্তু এই সময়ে দ্রুতপদে বাটীর পশ্চাৎদিক্‌কার দরজা দিয়া সতীশচন্দ্র বাটীর ভিতর প্রবেশ করিলেন। তিনি কাহাকেও কিছু না বলিয়া অন্ধকারে নিজ শয়নকক্ষে প্রবেশ করিয়া দরজা বন্ধ করিয়া দিলেন।

    তাঁহার এই কার্য্যে হেমাঙ্গিনী অত্যন্ত বিস্মিত হইল, তিনি তো কখনও এরূপ করেন না। সমস্ত দিনের পর এই ভীষণ কুয়াসা মধ্যে এতরাত্রে বাড়ী ফিরিয়া কাহারও সহিত কোন কথা না কহিয়া একেবারে ঘরে গিয়া দরজা বন্ধ করিলেন কেন? হয় ত আবার তাঁহার মনে সেই ভাব আসিয়াছে। সৌভাগ্যের বিষয় তিনি রমেন্দ্রকে এখানে দেখেন নাই, নতুবা হয় ত একটা বিষম অনর্থ ঘটিত।

    হেমাঙ্গিনীর হৃদয়মধ্যে এক অজ্ঞাত প্রচণ্ড দুশ্চিন্তা-ঝটিকা বহিতে লাগিল, তাহার চিন্তাশক্তিতে নিদারুণ বিশৃঙ্খলা ঘটিল, সে ফিরিয়া আসিয়া শূন্যদৃষ্টিতে অন্য গৃহে বসিল। তাহার মুখখানি কলামাত্রাবশিষ্ট চন্দ্রের ন্যায় একান্ত ম্লান ও বিষণ্ণ হইয়া পড়িল।

    কিয়ৎক্ষণ পরে সতীশচন্দ্র বাহির হইয়া আসিলেন। হেমাঙ্গিনী দেখিল, তিনি কাপড় ছাড়িয়া অন্য কাপড় পরিয়াছেন। ঘর হইতে বাহির হইয়াও তিনি কোন কথা কহিলেন না। বেশ রাত্রি হইয়াছিল, হেমাঙ্গিনী আহারের কথা কহিল, তাহাতেও তিনি কথা কহিলেন না। তাঁহার ভাব দেখিয়া হেমাঙ্গিনীর ভয় হইল। সে আবার জিজ্ঞাসা করিল, “এই কুয়াসার মধ্যে এত রাত্রি পর্য্যন্ত কোথায় ছিলে?”

    এবার জড়িতকণ্ঠে সতীশচন্দ্র উত্তর করিলেন, “অন্ধকারে পথ ভুলিয়া অন্য দিকে গিয়া পড়িয়াছিলাম।”

    “খাইবে না?”

    “না—খাইয়াছি।”

    “কোথায় খাইলে?”

    “প্রফুল্ল বাবুর বাড়ীতে।”

    সতীশচন্দ্র বাড়ীতে ফিরিয়াছেন শুনিয়া পিসীমা এই সময়ে ছুটিয়া আসিলেন। বাধ্য হইয়া সতীশচন্দ্ৰ তাঁহার সহিত নানা বাজে কথা কহিতে লাগিলেন। পিতার কণ্ঠস্বর শুনিয়া খোকাও তথায় ছুটিয়া অসিল, সতীশচন্দ্রের কণ্ঠস্বরে তাহার ঘুম ভাঙ্গিয়া গিয়াছিল।

    পিসীমা বলিলেন, “এ জায়গা খুব ভাল, অন্য জায়গায় খোকার এত বড় ব্যারামটা হ’লে না জানি কত রোগা হয়ে যেতো।”

    খোকা বলিয়া উঠিল, “আমি রোগা হ’ব কেন? ডাক্তার বাবু বলিলেন, আমি যে ভাল ছেলের মত তার ওষুধ খেয়েছি, একবারও কাঁদিনি।”

    সতীশচন্দ্র ক্ষিপ্রবেগে মস্তক তুলিলেন, বলিলেন, “কখন ডাক্তার বাবু এ কথা বলিলেন?”

    খোকা বলিল, “এই যে আজ সন্ধ্যার সময়। মা তাঁকে সঙ্গে করে আমায় দেখাতে নিয়ে এসেছিলেন।”

    ক্ষিপ্ত ব্যাঘ্রের ন্যায় সতীশচন্দ্র নিজ স্ত্রীর দিকে ফিরিলেন এবং তাহার তীক্ষ্ণদৃষ্টি দ্বারা যেন হেমাঙ্গিনীকে বিদ্ধ করিয়াই বলিলেন, “আজ রমেন্দ্র আবার আসিয়াছিল?”

    হেমাঙ্গিনী সহস্ৰ চেষ্টায়ও স্বর সংযত করিতে পারিল না, তাহার স্বর কম্পিত হইল; সে বলিল, “হাঁ, আজ সন্ধ্যার পর আসিয়াছিলেন।”

    ত্রয়োদশ পরিচ্ছেদ

    সতীশচন্দ্র আরাম কেদারায় গিয়া হেলান দিয়া বসিলেন, কোন কথা কহিলেন না। ক্ষণকালপরে হেমাঙ্গিনীকে বলিলেন, “তুমি বলিয়াছিলে, সে আর আসিবে না?”

    হেমাঙ্গিনী ব্যথিত হৃদয়ে বলিল, “তিনি তাহাই বলিয়াছিলেন। তিনি আসিলে আমিও সে কথা বলিয়াছিলাম। তিনি বলিলেন, এই পথে যাইতেছিলাম, তাই খোকার খবর লইয়া যাইব ভাবিলাম, তাহার পর একটা খবর দেওয়ারও ছিল, শুনিবে কি?”

    এই সময়ে সতীশচন্দ্রের খানসামা সেই গৃহমধ্যে হাঁপাইতে হাঁপাইতে প্রবেশ করিল। সতীশচন্দ্র বিরক্তভাবে বলিলেন, “বেটা, কাঁপিতেছিস কেন? কোথায় গিয়াছিলি, দূর করিয়া দেব জাননা?”

    ভৃত্য ব্যাকুল হইয়া বলিল, “বাবু—বাবু—ভয়ানক—ভয়ানক—“

    সতীশচন্দ্র উঠিয়া বসিয়া ধম্‌কাইয়া বলিলেন, “বেটা পাজী, ভয়ানক কী?”

    “খুন—হুজুর—খুন।“

    পিসীমা ও হেমাঙ্গিনী এই কথায় ভীত হইয়া উঠিলেন। দাস-দাসীরাও ভয়ে কাঁপিতে লাগিল। কিন্তু সতীশচন্দ্র বড় বিচলিত হইলেন না। তিনি আরাম কেদারায় ঠেসান দিয়া গম্ভীর মুখে প্রশ্ন করিলেন, “খুন! কোথায় খুন হইয়াছে?”

    “হুজুর—রেলের মাঠে।”

    “কিরকম?”

    “একজন মাড়োয়ারী দোকানদার অনেক টাকা লইয়া গরুর গাড়ী করিয়া আসিতেছিল, কে তাহাকে খুন করিয়া সব টাকা কড়ি লইয়া পালিয়েছে। সমস্ত মধুপুরে হৈ চৈ পড়িয়া গিয়াছে।”

    “দূর হ বেটা—গাঁজাখোর কোথাকার!”

    খানসামা প্রভুর ধমক খাইয়া পালাইল। সতীশচন্দ্রর অর্দ্ধশায়িত অবস্থায় চক্ষু মুদ্রিত করিয়া বলিলেন, “লোকে দুই এক ঘণ্টার মধ্যে একটা বিষয় কি রকম বাড়াইয়া ফেলে দেখ। খুনের ব্যাপার সত্য বটে, কিন্তু ইহাত মাড়োয়ারী নেই, গরুর গাড়ী নেই, টাকা চুরি নেই, অথচ ইহার মধ্যে লোকে এই সব রটাইয়া তুলিয়াছে।”

    পিসীমা বলিয়া উঠিলেন, “তাহা হইলে তুমি এ কথা আগেই শুনিয়াছিলে?”

    “হাঁ, বাড়ীতে ফিরিবার আগেই শুনিয়াছিলাম।”

    হেমাঙ্গিনী বলিল, “কই! তুমি তো এতক্ষণ কিছু বল নাই?”

    সতীশ কহিল, “খুনের কথা আর কি বলিব।”

    হেমাঙ্গিনী সভয়ে জিজ্ঞাসিল, “কে খুন হইয়াছে, শুনিয়াছ কি?”

    “হাঁ, শুনিয়াছি।”

    “আমাদের চেনা কেউ?”

    “হাঁ, ডাক্তার রমেন্দ্র! তাঁহার বাড়ীর সম্মুখে দরজার পাশেই কে তাহাকে খুন করিয়া গিয়াছে।”

    এই দারুণ ভয়াবহ সংবাদে হেমাঙ্গিনীর মনের যে অবস্থা হইল তাহা বর্ণনাতীত তাহার মুখমণ্ডল একেবারে নীরক্ত, বিবর্ণ হইয়া গেল, নিশ্বাস-বায়ুও নিরুদ্ধ হইয়া আসিল। কি ভয়ানক! এই সন্ধ্যার সময়েই রমেন্দ্র তাহার নিকটে বসিয়াছিলেন, এই কিছু কাল পূর্ব্বে তিনি তাঁহার বিবাহের কথা বলিতেছিলেন, আর সেই রমেন্দ্র আর নাই—ইহ জগতে নাই, খুন হইয়াছেন!

    এক পলকে হেমাঙ্গিনীর মস্তিষ্কের মধ্যে শত চিন্তা, শত বিভীষিকা ঝটিকাবিক্ষিপ্ত উত্তাল তরঙ্গ- ভঙ্গের ন্যায় উদ্বেলিত হইয়া উঠিল, তাহার স্থির চিন্তা করিবার ক্ষমতা সম্পূর্ণরূপে বিলুপ্ত হইয়া গেল।

    পিসীমা বলিলেন, “এ’ ডাক্তার কে?”

    হেমাঙ্গিনীর কথা কহিবার ক্ষমতা ছিল না। সতীশচন্দ্র বলিলেন, “এখানকার ডাক্তার, খোকাকে তিনিই দেখিয়াছিলেন। আমি জানিতাম, তিনি আর আমার বাড়ীতে আসেন না। বোধ হয়, এখান হইতে বাড়ীতে ফিরিবার সময়ে কেহ তাঁহাকে খুন করিয়াছে। বেশ লোক ছিলেন।”

    পিসীমা আশ্চৰ্য্য হইয়া বলিলেন, “এমন লোককে এমন করে কে খুন করিল?”

    সংক্ষেপে সতীশচন্দ্র উত্তর করিলেন, “কেমন করিয়া বলিব, পিসীমা?”

    পিসীমা জিজ্ঞাসিলেন—”তুমি কা’র কাছে শুনিলে?”

    সতীশচন্দ্র কহিল, “এ সব খবর শীঘ্র চারিদিকে ছড়াইয়া পড়ে। যখন বাড়ীতে আসিতেছিলাম, সেই সময় দেখি পথে দু’টো লোক ভারি ব্যস্ত সমস্ত হইয়া কি বলাবলি করিতে করিতে ছুটিতেছে, তাই তাহাদের জিজ্ঞাসা করিয়াছিলাম, তাহারাই ডাক্তারের কথা বলিল।”“

    পিসীমা কহিলেন, “কিন্তু আমাদের খানসামা শুনিয়াছে যে একজন মাড়োয়ারী খুন হইয়াছে? হয় ত ডাক্তারের কথা মিথ্যা।”

    সতীশচন্দ্র সংক্ষেপে “তাই হবে,” বলিয়া সেই আরাম কেদারায়ই নিষ্ক্রিত হইয়া পড়িলেন, পিসীমার সঙ্গে কে আসিয়াছে, তাহা পৰ্য্যন্ত তিনি তাহাকে জিজ্ঞাসা করিতে ভুলিয়া গেলেন।

    ক্রমে দাসদাসীগণ সকলে ঘুমাইয়া পড়িল। সতীশচন্দ্র চেয়ারেই ঘুমাইতেছেন দেখিয়া হেমাঙ্গিনী তাঁহাকে সেইখানে রাখিয়া শয়ন করিতে যাইতে পারিল না। সে সেই ঘরে বসিয়া পিসীমার সঙ্গে কথা কহিতে লাগিল।

    রাত্রি প্রায় বারটার সময় কে সবলে সম্মুখ দরজায় ঘা দিল। উভয়েই চমকিত হইয়া উঠিলেন—এত রাত্রে কে? বিশেষতঃ তাহারা আজ হত্যাকাণ্ডের কথা শুনিয়াছিলেন, সামান্য কারণেই অতিশয় ভীত হইয়া উঠিতেছিলেন।

    সুধাংশু পিসীমাকে সতীশচন্দ্রের বাড়ীতে রাখিয়া তখনই কাকার সহিত দেখা করিবার জন্য গিরিধী চলিয়া গিয়াছিল। কাকার নিকটে তাহার দুই একদিন থাকিবার কথা সুতরাং সে ত ফিরিবে না। তবে এত রাত্রে দরজায় এত জোরে ধাক্কা মারিতেছে কে! সেই শব্দে সতীশচন্দ্ৰ নিদ্রাত্যাগ করিয়া উঠিয়া বসিলেন।

    চতুৰ্দ্দশ পরিচ্ছেদ

    বহির্দ্বারে বারংবার আঘাতের ভয়ানক শব্দ উত্থিত হওয়ায় ভৃত্যদিগেরও ঘুম ভাঙিয়া গেল। তখন একজন গিয়া দরজা খুলিয়া দিল, তৎক্ষণাৎ সুধাংশু আসিয়া উপস্থিত হইল। তাহাকে দেখিয়া তাহার জননী বলিয়া উঠিলেন, “তুই! এর মধ্যে ফিরিলি যে?”

    সুধাংশু বলিল, “কাকাবাবু গিরিধীতে নাই, মফস্বলে চলিয়া গিয়াছেন, সাত-আট দিন ফিরিবে ন না, তাই আমি পরের গাড়ীতেই ফিরিয়া আসিলাম। সেখানে কাহার কাছে থাকিব?”

    সতীশচন্দ্র এখন বুঝিলেন যে পিসীমা একা আসেন নাই—আসাও অসম্ভব, নিশ্চয়ই তাঁহার সঙ্গে সুধাংশু আসিয়াছে; কিন্তু তাঁহার মন অন্য বিষয়ে এতই অভিভূত ছিল যে তিনি এ সকল কথা ভাবিবারও বিন্দুমাত্র সময় পান নাই। এক্ষণে একটা কিছু কথা তাঁহাকে জিজ্ঞাসা করা উচিত বিবেচনা করিয়া বলিলেন, “তুই এই অন্ধকারে কেমন করে পথ দেখিয়া আসিলি?”

    সুধাংশু বলিল, “গিরিধী হইতে যখন বাহির হই, তখন এখানে যে এমন কুয়াসার অন্ধকার হইবে, তাহা কেমন করিয়া জানিব? তবে এখানে ষ্টেশনে নেমে বড় কষ্ট পাইতে হয় নাই।

    সতীশচন্দ্র জিজ্ঞাসিলেন, “কেন, কি হইয়াছিল?”

    “অনেক লোক লণ্ঠন হাতে পথে ছুটাছুটি করছে, তাহাদের লণ্ঠনের আলোয় আমার বেশ সুবিধা হইয়া গেল।”

    পিসীমা বলিলেন, “তুই এত রাত্রে দরজা এমন করে ঠেছিলি যে আমরা ভয়ে মরি!”

    “কেন, এত ভয় কিসের?”

    “খুন!”

    “কোথায়?”

    “এই মধুপুরের কোথায়।”

    “ওঃ—তাই বুঝি লোকগুল লণ্ঠন নিয়ে চারিদিকে ছুটিতেছিল! বটে—তা ভাবি নি। সতীশ দা, কে খুন হয়েছে?”

    সতীশচন্দ্র বলিলেন, “একজন ডাক্তার!”

    বিস্ফারিত করিয়া শুধাংশু বলিল, “কি ভায়ানক!”

    পিসীমা বলিলেন, “তিনি খোকাকে দেখিতেছিলেন,—আজ সন্ধ্যার সময়ও এখানে আসিয়াছিলেন।”

    সুধাংশু। তিনি খুন হইয়াছেন?

    পিসীমা। হাঁ, আজ সন্ধ্যার সময় তিনি এখানে আসিয়াছিলেন। হেম, রমেন্দ্র বাবু এখান থেকে কটার সময় গিয়েছিলেন?

    সু। রমেন্দ্র বাবু—ডাক্তার রমেন্দ্র বাবু—আমাদের রমেন্দ্র বাবু নয় তো?

    সুধাংশু হেমাঙ্গিনীর দিকে চাহিল। পিসীমা বলিলেন “আমাদের রমেন্দ্র বাবু, সে কি!”

    সু।বউ দিদি তা জানে। কলকাতায় বউ দিদির সঙ্গে তার আলাপ ছিল—আমাকে তিনি ভারি যত্ন করিতেন—তিনিই কি?

    সতীশচন্দ্র গম্ভীর ভাবে বলিলেন, “হাঁ, সেই রমেন্দ্রবাবু!”

    সু। সেই রমেন্দ্র বাবু! যিনি কলিকাতায় আমায় এত যত্ন করিতেন! কি ভয়ানক!

    স। হাঁ, তিনিই। তিনি এখানে ডাক্তারি করিতেন।

    সুধাংশুর মুখ নিতান্ত বিষণ্ণ হইল, সে যথার্থই এক সময়ে রমেন্দ্রনাথকে বড়ই ভালবাসিত। সে বলিল, “বউ দিদি, রমেন্দ্র বাবু এখানে আছেন, তুমি আমাকে লেখ নাই কেন? তাহা হইলে তিনি খুন হইবার আগেই আমি এখানে আসিয়া পৌঁছিতাম।”

    পিসীমা বলিলেন, “তিনি খুন হবেন, তা কে আগে জানতো!”

    সু। তিনি বড় ভাল লোক ছিলেন, আমায় ভারি যত্ন করিতেন।

    পি। খুব ভাল লোক ছিলেন?

    সু। বউ দিদিকে জিজ্ঞাসা কর। দাদার সঙ্গে বউ দিদির বে’হলো, না হলে রমেন্দ্রবাবুর সঙ্গেই হতো; আমি তখন ছেলে মানুষ ছিলাম—কিন্তু সব বুঝিতাম, বউ দিদি, রাগ কর না।

    পিসীমা পুত্রের মুখ হইতে এই কথা শুনিবামাত্র তাঁহার মনে পূর্ব্বকথা উদিত হইল। তিনি রমেন্দ্র ও হেমাঙ্গিনীর ভালবাসার কথা শুনিয়াছিলেন। তিনি শুনিয়াছিলেন যে রমেন্দ্র হেমাঙ্গিনীকে ভালবাসিতেন, আর হেমাঙ্গিনীও তাঁহাকে ভালবাসিত। কেবল রমেন্দ্র গরীব বলিয়া হেমাঙ্গিনী তাঁহাকে বিবাহ করেন নাই। তবে সেই রমেন্দ্র আর এখানকার এই রমেন্দ্র দুই এক লোক! পিসীমার মনে যে কথা উদিত হইল, তাহা ভাবিতেও তিনি ভীতা হইলেন। অনেক রাত্রি হইয়াছিল। তাঁহারা সে দিনের মত সকলে শয়ন করিতে গেলেন।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleপাঁচকড়ি দে রচনাবলী ২ (দ্বিতীয় খণ্ড)
    Next Article মৃত্যু-রঙ্গিনী – পাঁচকড়ি দে

    Related Articles

    পাঁচকড়ি দে

    নীলবসনা সুন্দরী – পাঁচকড়ি দে

    September 10, 2025
    পাঁচকড়ি দে

    মায়াবিনী – পাঁচকড়ি দে

    September 10, 2025
    পাঁচকড়ি দে

    হত্যাকারী কে – পাঁচকড়ি দে

    September 10, 2025
    পাঁচকড়ি দে

    গোবিন্দরাম – পাঁচকড়ি দে

    September 10, 2025
    পাঁচকড়ি দে

    মায়াবী – পাঁচকড়ি দে

    September 10, 2025
    পাঁচকড়ি দে

    হত্যা-রহস্য – পাঁচকড়ি দে

    September 10, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    अनीश दास
    मौलाना शाह वलीउल्लाह
    रेवरेंड के. के. जी. सरकार
    অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিজ্ঞান রায়চৌধুরী
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমরেন্দ্র চক্রবর্তী
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অরিন্দম দেবনাথ
    অর্পিতা সরকার
    অশোককুমার মিত্র
    অসম্পূর্ণ বই
    আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    কৌশিক সামন্ত
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোপেন্দ্র বসু
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যজ্যোতি মজুমদার
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণু শর্মা
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহতাব উদ্দিন
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    রেভারেণ্ড কে. কে. জি. সরকার
    লীলা মজুমদার
    লেইল লোনডেস
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শঙ্কর চ্যাটার্জী
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শাক্যজিৎ ভট্টাচাৰ্য্য
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্যামল গঙ্গোপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সন্দীপন চট্টোপাধ্যায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সম্পাদনা : শৈলেন্দ্র হালদার
    সরদার ফজলুল করিম
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সায়ন্তনী পূততুন্ড
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্মরণজিৎ চক্রবর্তী
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মাহতাব উদ্দিন : জীবন ও গান

    May 18, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মাহতাব উদ্দিন : জীবন ও গান

    May 18, 2026
    Our Picks

    মাহতাব উদ্দিন : জীবন ও গান

    May 18, 2026

    পরমপুরুষ শ্রীশ্রীরামকৃষ্ণ ২ – অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত

    May 18, 2026

    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের প্রেমের গল্প – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    May 16, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }