Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    সাতকাহন ১ – সমরেশ মজুমদার

    সমরেশ মজুমদার এক পাতা গল্প936 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ১০. দীপাবলীর ফুলশয্যা

    ন’টা বাজতে-না বাজতেই বিয়েবাড়ি ফাঁকা হয়ে গেল। একেই শীতের রাত তার ওপর শহরটার নাম জলপাইগুড়ি। গরমকালে এখনও রাত্রে রিকশা পাওয়া যায় কিন্তু শীত পড়লেই সন্ধে গড়ালে তারা উধাও হয়ে যায়। আর রিকশা ছাড়া ঘোরাফেরার অন্য কোনও যান এখানে নেই। শহরে চিফ মিনিস্টারের উপস্থিতিও খুব একটা কাজ দেয়নি এ-ব্যাপারে। স্টেশনের কাছে ওয়েসিস নামের একটা হোটেলে উঠেছেন অমরনাথ। খাওয়াদাওয়ার পর সেখানে যেতে হবে হেঁটে। মাইলখানেক রাস্তা।

    সন্ধে নাগাদ তিনি এসেছেন বিয়েবাড়িতে। বাগান থেকে সুভাষচন্দ্র আর নবনী ছাড়া কেউ তাঁর সঙ্গে আসেনি। হরিদাসবাবুর মৃত্যুর পর কাউকে বলতেও ইচ্ছে হয়নি। এরকম একটা ঘটনায় সমস্ত বাগান একেবারে চুপ মেরে গিয়েছে। মেয়ের বউভাতে না এলেই নয় তাই আসা। দুঃখ তিনিও কম পাননি। তার চেয়ে বড় কথা, কাউকে বলতে পারেননি যে দীপা বাড়িতে থাকতে থাকতেই তিনি হরিদাসবাবুকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখেছেন। শুভযাত্রায় বিঘ্ন ঘটবে বলে পালিয়ে থেকেছেন। স্বার্থপরের মতো কাজ করেছেন নিশ্চয়ই তবে সেটা মেয়েটার মুখ চেয়ে। কিন্তু সেইসঙ্গে মনে খুঁতখুঁতানি শুরু হয়ে গেছে অঞ্জলির। এই বিয়েতে একটার পর একটা অশুভ ইঙ্গিত ধরা পড়ছে। আজ বউভাতে এসে মন হালকা হল তাঁর। মেয়ের বিয়ে হয়েছিল তাঁর সাধ্যমতো। কোথাও কার্পণ্য করেননি। কিন্তু এ-বাড়িতে এসে বুঝতে পারলেন সেটা কত সামান্য। নতুন বউ বসে আছে রাজেন্দ্রাণীর মতো। উপহারের পাহাড় তার পাশে।

    সুভাষচন্দ্র পাশে এসে দাঁড়ালেন, ‘জামাইবাবু, এবার চলুন।’

    ‘হ্যাঁ। একবার দীপার সঙ্গে— ।’

    ‘না। আর যাবেন না। সন্ধেবেলায় অনেক কষ্টে নিজেকে সামলেছে মেয়েটা। এখন চলে যাচ্ছেন জানলে ভেঙে পড়তে পারে। তা ছাড়া আমার এখানে থাকতেও ভাল লাগছে না।’

    ‘কেন সুভাষ? কী হয়েছে?’

    ‘কী হয়েছে আপনি বুঝতে পারছেন না?’

    বুঝতে পারলেও এতক্ষণ মনকে প্রবোধ দিচ্ছিলেন অমরনাথ। যতটা না এরা করছে তিনি তা অনেক বাড়িয়ে ভাবছেন। সন্ধেবেলায় তাঁরা যখন বিয়েবাড়িতে এসেছিলেন তখন কেউ তাঁদের সাদরে অভ্যর্থনা করেনি। প্রতুলবাবু ছিলেন না। বরযাত্রীদের মধ্যে কেউ কেউ চিনতে পারায় বসার জায়গা মিলেছিল। সুভাষচন্দ্র অনুরোধ করেছিলেন, ‘একবার দীপার সঙ্গে দেখা করতে চাই। মানে, ওর বাবা এসেছেন তো!’

    খবর নিয়ে যে ভেতরে গিয়েছিল সে ফিরে এসে অপেক্ষা করতে বলেছিল। একঘণ্টা কেটে গেলেও কেউ ভেতরে নিয়ে যায়নি। ইতিমধ্যে দু’বার তাগাদা দিয়েছেন সুভাষচন্দ্র। তখন প্রতুলবাবু বেরিয়ে এলেন, ‘ও আপনারা এসে গিয়েছেন। ভাল হল। খাওয়াদাওয়া হয়ে গেছে?’

    অমরনাথ হাতজোড় করে বলেছিলেন, ‘আজ্ঞে না। আগে একবার দীপাকে দেখতে চাইছি।’

    ‘নিশ্চয়ই নিশ্চয়ই। আসুন আপনারা আমার সঙ্গে। তবে সে আর দীপাবলী নেই। এখন তো তার পুনর্জন্ম। নামটাও পালটে গিয়েছে। আমার স্ত্রী নাম রেখেছেন আশালতা। আপনি ওকে আশা বলে ডাকলে সুবিধে হয়।’

    নবনীও সঙ্গে ছিল। সুন্দর সাজানো ঘরে সিংহাসনের ওপর বসে আছে মেয়ে৷ দরজায় দাঁড়িয়ে অমরনাথের মনে হল তিনি যেন এক মহারানির দর্শন পাচ্ছেন। মাথায় মুকুট, সারা শরীরে গহনা, ফুলের মালা, লাল বেনারসির চাকচিক্য— সব মিলিয়ে ও যেভাবে বসে আছে তাতে মনেই হচ্ছে না ওকে কখনও দেখেছেন। দরজা পর্যন্ত পৌঁছে প্রতুলবাবু বললেন, ‘ভেতরে মেয়েদের ভিড়। বিয়ের ব্যাপার হলেও মেয়েরা তো মেয়েই। আপনি এখান থেকেই দেখাসাক্ষাৎ করুন।’

    প্রতুলবাবুর গলার স্বর শুনে ঘরের মেয়েরা চুপ করে গিয়েছিল। সবাই এদিকে তাকিয়ে। মাথা নিচু করে বসে ছিল দীপা। ঘর চুপচাপ হয়ে যেতেই বিস্ময়ে মুখ তুলল। তার নজর দরজায় আসতেই অমরনাথের চোখাচোখি হল। অমরনাথ কী করবেন বুঝতে না পেরে হাসবার চেষ্টা করলেন। দীপার শরীরটা যেন সিংহাসন ছেড়ে ওঠার চেষ্টা করল। সঙ্গে সঙ্গে নতুনদি বলে উঠলেন, ‘ওমা, করছ কী! নতুন বউ আসন ছেড়ে ওঠে নাকি?’

    দীপা ধীরে ধীরে শরীরটাকে ছেড়ে দিল। অমরনাথের কথা বলতে খুব ইচ্ছে করছিল কিন্তু সুভাষচন্দ্র বললেন, ‘চলুন জামাইবাবু, বাইরে গিয়ে বসি।’

    এসব অনেকক্ষণ আগের কথা। খাওয়াদাওয়া হয়েছে এবং সেইসময় প্রতুলবাবু একবার সামনে এসে দাঁড়িয়েও ছিলেন। কিন্তু যে-যত্ন তিনি ওঁকে চা-বাগানে করেছিলেন তার সিকিভাগও এখানে পাননি। অতএব সুভাষচন্দ্র কী বলতে চাইছে তা তিনি ভালভাবেই বুঝতে পারছেন। মেয়েটা সুখী হোক, দীপা মরে গিয়েছে, আশালতা রাজেন্দ্রাণীর মতো সুখে বেঁচে থাকুক। নবনী খেয়েদেয়ে হাসপাতালে চলে গিয়েছিল। ললিতার অবস্থা বিকেলেও ভাল ছিল না। শ্যামল বাবার মুখাগ্নি করেই হাসপাতালে ফিরে এসেছে। চা-বাগানে ওরই আচরণে ঢিঢি পড়ে গেছে। গলায় কাছা ঝুলিয়ে সে ললিতার জন্যে রাত জাগছে তা মালবাবুও পছন্দ করছেন না। নবনীকে তিনি তাই বলেছেন। কিন্তু ছেলেটার সাহায্য কাজে আসছে। তা ছাড়া যে-কারণে ললিতা বিষ খেয়েছিল সেই কারণটা এখনও থেকে গিয়েছে। ললিতার জন্যেই তাই শ্যামলকে প্রয়োজন। নবনী বিয়েবাড়ি থেকে যাওয়ার সময় বলে গিয়েছিল হাসপাতাল থেকে খবরটা নিয়ে সে এখানেই চলে আসবে। হাকিমপাড়া থেকে ধড়ধড়া নদী ডিঙিয়ে হাসপাতালে যেতে তিন মিনিট লাগে। অমরনাথ সুভাষচন্দ্রকে বললেন, ‘নবনী তো এখনও এল না। ওর জন্যে আমাদের অপেক্ষা করা উচিত। হোটেল পর্যন্ত বেচারা একা একা যাবে, এটা ভাল দেখায় না, আমাদের সঙ্গেই তো এসেছে।’

    সুভাষচন্দ্র বুঝতে পারলেন জামাইবাবু একটা অজুহাত খুঁজছেন এখানে আরও কিছুক্ষণ কাটানোর। তিনি বললেন, ‘ঠিক আছে, চলুন আমরা রাস্তায় গিয়ে ওর জন্যে অপেক্ষা করি। যদি রিকশা পেয়ে যাই তা হলে দাঁড় করিয়ে রাখব।’ অমরনাথের ইচ্ছের বিরুদ্ধেই তাঁকে নিয়ে বাইরে আসতেই নবনীকে দেখতে পাওয়া গেল। ওঁদের দেখেই নবনী চিৎকার করে উঠল, ‘সুসংবাদ আছে দাদা। ললিতার জ্ঞান ফিরেছে। ডাক্তার বলল বিপদ কেটে গেছে।’

    নতুনদি জোর করে খাইয়ে দিলেন দীপাকে, ‘না বললে চলে আশা! এখন থেকে শরীরটাকে ঠিকঠাক রাখতে হবে। এতদিন কার সঙ্গে শুতে তুমি?’

    এইভাবে পাঁচজনের সামনে কেউ হাতে খাবার তুলে খাইয়ে দিচ্ছে, খুব রাগ হচ্ছিল দীপার। সে খাবে না বলেছিল এইটেই তার অপরাধ। এতক্ষণে বুঝে গিয়েছে বাবা আর এ-বাড়িতে নেই। বাবার সঙ্গে মামা আর নবনীকাকু এসেছিল। ওরাও নিশ্চয়ই চলে গিয়েছে।

    নলিনী খাওয়া দেখছিলেন, ধমকে উঠলেন, ‘প্রশ্ন করলে জবাব দাও না কেন? বাপ মা কি তোমাকে সহবত শেখায়নি? নাকি এই বাড়ির লোকজনকে পছন্দ হচ্ছে না?’

    ‘ঠাকুমার সঙ্গে।’ ঠোঁট খুলে জবাব দিল দীপা।

    নতুনদি বললেন, ‘হুম। তিনি তোমাকে খুব ভালবাসতেন?’

    ‘হ্যাঁ।’

    ‘বিয়ের পর কী কী করতে হবে বুঝিয়ে বলেছেন?’

    ‘হ্যাঁ।’

    নলিনী ছাড়া সবাই গলা খুলে হেসে উঠল। নতুনদি কোনওমতে হাসি থামিয়ে জিজ্ঞাসা করলেন, ‘কী বলেছেন তিনি? আহা, লজ্জা কী, বলো না?’

    দীপা গড়গড় করে বলে গেল, ‘এ-বাড়ির সবাইকে নিজের বাড়ির লোক ভাবতে হবে, গুরুজনদের আদেশ মান্য করতে হবে, শ্বশুরমশাইকে বাবা শাশুড়িকে মা বলতে হবে, ছুটোছুটি করা চলবে না, চেঁচিয়ে কথা বলা নিষেধ, এইসব।’

    সবাই এ ওর মুখের দিকে তাকাল। নতুনদি বললেন, ‘খুব ভাল। এসব তো করতেই হবে। তোমার ঠাকুমা অতুলের ব্যাপারে কিছু বলে দেননি?’

    দীপার কপালে ভাঁজ পড়ল। সবাই উন্মুখ হয়ে রয়েছে। কয়েক সেকেন্ড চলে গেলে একজন বলল, ‘অতুল কে জানো তো? তোমার বর।’

    দীপা মাথা নাড়ল, ‘হুঁ। ঠাকুমা বলেছে দেবতার মতো মনে করতে হবে।’

    ‘দেবতার মতো? অ্যাঁ?’ নতুনদির গলা থেকে শব্দ তিনটি ছিটকে উঠল সেইসঙ্গে হাসির ফোয়ারা ছড়িয়ে পড়ল। নতুনদিকে নলিনী ধমক দিলেন, ‘আঃ, তোমরা শুধু হেসেই মরছ। ওদিকে আমার ছেলেটা জেগে জেগে কাহিল হয়ে পড়ল। যা বলার ভালভাবে বুঝিয়ে দিয়ে নিয়ে চলো। ফুলশয্যা কি রাত পোয়ালে হবে?’

    নতুনদি বললেন, ‘শোনো আশা, আজ তোমার ফুলশয্যা। মেয়েদের জীবনে একবার মাত্র এই রাতটা আসে! আজকের রাত্রে বরের সঙ্গে তোমার আলাপ হবে। সে যা যা বলবে তাই করবে। যা যা করতে বলবে তাই মান্য করবে। কোনও কাজে বাধা দেবে না। বুঝলে? আজকের রাত্রে সে যদি খুশি হয় তোমার ব্যবহারে তা হলে সারাজীবনে তোমাকে আর দুঃখ পেতে হবে না। মাথায় ঢুকেছে? তোমাকে আজ থেকে বরের পাশে শুতে হবে।’

    দীপা শক্ত হয়ে বসে রইল। নতুনদি সেটা লক্ষ করে জানতে চাইলেন, ‘কী হল?’

    নলিনী বললেন, ‘কী আবার হবে। শরীরে তেল আছে, না শুকানো পর্যন্ত ওইরকম করবে। নাও, ওঠো সবাই। আমারই ঘুম পাচ্ছে তো খোকার দোষ কী!’

    তাকে বাথরুম সেরে আসতে বলা হল। দীপা ব্যাপারটা বুঝতেই পারছিল না। সবার মুখ চোখে কেমন যেন রহস্যময় হাসি। ঘুমের কথা হচ্ছে অথচ তাকে কেউ জিজ্ঞাসা করছে না ঘুম পাচ্ছে কিনা। তাকে আজ থেকে বরের পাশে শুতে হবে। ওই কথাটা বলার জন্যে ওরা কত কী না বলে গেল।

    মেয়েরা যখন দীপাকে নিয়ে ফুলশয্যার ঘরের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে তখন প্রতুলবাবু এলেন। সঙ্গে সঙ্গে বিবাহিতাদের মাথার ঘোমটা বড় হল। সম্পর্কে যাঁরা দিদি বা বোন তাঁরা আড়ষ্ট হয়ে দাঁড়ালেন। প্রতুলবাবু দীপার সামনে দাঁড়িয়ে কিছুক্ষণ পর্যবেক্ষণ করলেন, ‘হুম। নলিনী, কালীবাড়িতে পুজো দিয়েছ?’

    ‘দিয়েছি। তুমি আবার এখন এলে কেন?’ নলিনীর গলায় মৃদু প্রতিবাদ।

    ‘একশোবার আসব। এই বাড়ি আমার। ওর বাপ আমাকে না জানিয়ে চলে গিয়েছে। ভদ্রতা বলে কিছু নেই। তোমরা সব একে বলেটলে দিয়েছ তো?’ প্রতুলবাবুর গলার স্বর অন্যরকম শোনাচ্ছিল। তাঁর মুখ থেকে ভেসে আসা গন্ধ চাপা ছিল না।

    ‘সব করেছি। তুমি যাও, বিশ্রাম নাও গে।’

    ‘বিশ্রাম আমি একবারে নেব নলিনী। চিফ মিনিস্টারকে আজ এ-বাড়িতে আনতে পারলাম না এ যে কত বড় পরাজয় আমার—! উফ!’ চোখ বন্ধ করলেন তিনি।

    প্রতুলবাবু রাস্তা আগলে দাঁড়িয়ে, তিনি না সরলে এঁরা এগোতে পারছিলেন না।

    নতুনদি বললেন, ‘ছেলের বিয়ে দিয়ে সাততাড়াতাড়ি বউ আনলেন চিফ মিনিস্টারের জন্যে তো নয়। যে জন্যে এনেছেন তা হলেই তো সব সমস্যার সমাধান।’

    ‘ঠিক। তুমি যা বোঝো নলিনী তা বোঝে না।’ পকেট হাতড়ালেন প্রতুলবাবু। তারপর একটা কাগজের মোড়ক বের করলেন। মোড়কের ভেতর মোড়ক। সেটি তিনি এগিয়ে দিলেন, ‘খোকাকে আমি এক পুরিয়া খাইয়ে দিয়েছি। দেবী চৌধুরানির কালীবাড়ির সন্ন্যাসী দিয়েছেন আমাকে। পরীক্ষিত সত্য। খোকাকে যা বলার একটু আগে বলে এলাম। তুমি এই মেয়েটাকে ইচ্ছে করলে পুরিয়াটা খাইয়ে দিতে পারো।’ এবার পা টলল প্রতুলবাবুর।

    নলিনী বিরক্ত হলেন খুব, সে হবেখন। এখন সরো তো। এত করে বললাম এসব নিয়ে তুমি মাথা ঘামাবে না— অথচ। যাও, যেখানে ইচ্ছা।’

    পুরিয়ার মোড়ক পকেটে রেখে দিয়ে ঘুরে দাঁড়ালেন প্রতুলবাবু, ‘ঠিক হ্যায়। যাচ্ছি। তবে আমি কাজে বিশ্বাস করি না। ফল দেখতে চাই।’ প্রতুলবাবু হনহন করে বেরিয়ে গেলেন। দলটা আবার এগোল। এসব কথার অর্থ দীপার মাথায় ঢুকছিল না। সে শুধু একটা অভিমানে আক্রান্ত হয়ে পড়েছিল। অমরনাথ যে তাকে না বলে চলে গিয়েছেন এটা সে ভাবতে পারছে না। বাবা কি চা-বাগানে ফিরে গেল! বাবা তার সঙ্গে একটাও কথা বলল না। হঠাৎ সে ফুঁপিয়ে উঠল সশব্দে।

    নলিনী জিজ্ঞাসা করলেন, ‘আরে কী হল আবার?’

    নতুনদি দীপার মাথায় হাত বোলালেন, ‘আহা। ঘাবড়ে গিয়েছে বেচারা ওইসব কথা শুনে। আশা, ও আশা, ওঁর কথায় কিছু মনে কোরো না। চুপ করো।’

    চুপ সে করে গেল। ফুলশয্যার ঘরে ঢুকল সবাই। জলপাইগুড়িতে ফুলের দোকান নেই। সবরকমের ফুল সারাবছর পাওয়া যায় না। এ-বাড়ির বাগানে যে-ফুল ফুটেছিল তাই দিয়ে ফুলশয্যার খাট সাজানো হয়েছে। নেটের মশারির মধ্যে প্রতুলচন্দ্র শুয়ে আছে লেপ চাপা দিয়ে।

    নতুনদি নলিনীকে বললেন, ‘ছেলের ফুলশয্যার ঘরে মায়ের থাকতে নেই। যাও এখন।’

    নলিনী আড়চোখে ছেলের দিকে তাকালেন, তার চোখ পিটপিট করছে। নলিনী বললেন, ‘যাচ্ছি বাবা। তা তোরাও চল এখান থেকে। এদের ফুলশয্যায় আড়িপাতার দরকার নেই। উনি নিষেধ করেছেন।’

    নতুনদি বললেন, ‘তা আমি বুঝেছি। খাটের তলায় কেউ আছে কিনা দ্যাখো।’

    শুধু খাট না, আলমারির পেছন থেকেও দু’জন বের হল। সবাইকে ঘর থেকে বের করে দিয়ে নতুনদি বললেন, ‘দরজায় খিল তুলে দাও। ওইখানে সুইচ আছে। ইচ্ছে হলে আলো নিবিয়ে দেবে। মশারি বেশি ফাঁক করে উঠো না, মশা ঢুকে যাবে। কোনও ভয় নেই। বুঝলে?’

    দীপা ঘাড় নাড়ল। নতুনদি ওর চিবুকে আঙুল ছুঁইয়ে চুমু খেলেন। তারপর দীপাকে দরজা পর্যন্ত টেনে এনে নিজেই সেটাকে ভেজিয়ে বেরিয়ে গেলেন। ঝটপট খিল তুলে দিল দীপা। শব্দটা হওয়ামাত্র বাইরে হাসির আওয়াজ উঠল। দীপার কপালে ভাঁজ পড়ল। ওরা এমন হাসাহাসি করছে কেন? শব্দটা মিলিয়ে গেলে সে ঘুরে দাঁড়াল। বিছানায় কেউ শুয়ে আছে তা বুঝতে ভাল করে নজর দিতে হয়। কিন্তু এই মুকুট, এইসব গয়নাগাঁটি পরে তাকে শুতে হবে নাকি? কেউ তো বলে দেয়নি ফুলশয্যার রাত্রে এসব খুলে ফেললে অন্যায় হয় কিনা। সে মুকুটটা খুলে টেবিলে রাখল। তারপর আলোর দিকে তাকাল। না, আলো নিবিয়ে অচেনা জায়গায় সে শুতে পারবে না।

    মশারিটা সামান্য ফাঁক করে সে বিছানায় উঠে বসল। পাশাপাশি দু’জোড়া বালিশ। গোলাপ ফুলের পাপড়িতে প্রায় ঢাকা। সে বিছানায় উঠতেই অতুলচন্দ্র চোখ ফেরাল। দীপা ঠোঁট মোচড়াল। তার পায়ের কাছে লেপ তো দূরের কথা একটা চাদর পর্যন্ত নেই। সে মুখ ঘোরাল, ‘আমি কী গায়ে দেব?’

    অতুলচন্দ্র মিনমিনে গলায় বলল, ‘এই লেপের তলায় তোমাকে শুতে হবে।’

    ‘কেন? আমার আলাদা লেপ নেই কেন?’

    ‘আমি জানি না।’

    ‘তোমাদের বাড়িতে আমি এসেছি। তোমার লেপটা আমাকে দাও।’

    ‘না। আমি কাউকে কিছু দিই না। সবাই আমাকে দেয়। তুমি তাড়াতাড়ি তোমার জামাকাপড় খুলে ফেলো। আমি আর জেগে থাকতে পারছি না।’ অসহিষ্ণু গলায় বলল অতুলচন্দ্র। তার গলার স্বর শেষদিকে ক্যানকেনে শোনাল।

    ‘কী?’ প্রায় চিৎকার করেই উঠল দীপা।

    ‘চেঁচামেচি করলে আমার মাথায় লাগে। আমি কিন্তু বাবাকে বলে দেব। তাড়াতাড়ি সব জামাকাপড় খুলে আমার পাশে এসো।’ একটানা বলে গেল অতুলচন্দ্র।

    ‘এম্মা! একী কথা! জামাকাপড় খুলব কেন?’

    ‘স্বামীর পাশে বউকে ওইভাবে শুতে হয়।’

    ‘বাজে কথা। আমার মা বাবা তো স্বামী স্ত্রী। আমি কোনওদিন ওদের জামাকাপড় খুলে শুতে দেখিনি। যদি তোমার একথা মাকে বলি না মেরে হাড় ভেঙে দেবে।’

    ‘আমাকে আমার বাবা বলেছে।’

    ‘কী বলেছে?’

    ‘আঃ, আমি কথা বলতে পারছি না। এসো৷’

    ‘তোমার বাবা মা জামাকাপড় না পরে শোয়? ছি ছি ছি। আমি বাবা এসব খুলতে পারব না। খুললে আমার ঘুমই আসবে না।’ উলটোমুখ করে শুয়ে পড়ল দীপা। দু’জনের মাঝখানে ব্যবধান বড়জোর এক হাত। তার ঠান্ডা লাগছিল। অনেকক্ষণ কুঁকড়ে শুয়ে থেকেও তার ঘুম এল না। ঠান্ডাটা এবার বাজনা বাজাচ্ছে দু’পাটি দাঁত নিয়ে। সে মৃদু গলায় ডাকল, ‘অ্যাই?’

    ওপাশ থেকে কোনও জবাব এল না। দীপা আবার জিজ্ঞাসা করল, ‘তোমার লেপটা কি খুব বড়?’ এবারও সাড়া মিলল না। দীপা উঠে বসল। একদম আপাদমস্তক লেপে ঢেকে ঘুমাচ্ছে যে তার ওপর প্রচণ্ড রাগ হল। সে ঠান্ডায় কষ্ট পাচ্ছে জেনেও ঘাপটি মেরে পড়ে আছে। লেপের একটা প্রান্ত ধরে সে টানতে লাগল। অতুলচন্দ্র প্রতিবাদের সুর গলায় তোলার চেষ্টা করে পাশ ফিরে শুতেই অনেকটা লেপের অধিকার পেয়ে গেল দীপা। এই লেপটা কি বাগান থেকে এসেছে? নতুন নতুন গন্ধ। ওয়াড় পরানোর পর বুঝতে পারছে না সে। যদি আসে তা হলে বাবারও ভুল হয়েছে। দুটো ছোট লেপ পাঠালেই পারত, তা হলে তাকে এভাবে টানাটানি করতে হত না। লেপের উত্তাপে এখন আরাম হল দীপার। ওপাশে কোনও সাড়া নেই। হঠাৎ মনে হল সে কোনও অন্যায় কথা বলে ফেলেনি তো যার জন্য অতুলচন্দ্র রেগে গিয়ে কথা বলছে না! এঁরা আজ থেকে বর যা বলবে তাই করতে উপদেশ দিয়েছেন। কিন্তু জামাকাপড় কেন খুলে শুতে যাবে সে? বর যদি পাগল হয় তা হলে বউ তার কথা শুনবে? অসম্ভব! জামাকাপড় খুলে যে শুতে বলে সে তো পাগল।

    নিজের আচরণের সমর্থনে যুক্তি খুঁজে পেয়ে কিছুক্ষণ ভাল থাকল দীপা। কিন্তু অতুলচন্দ্র চুপচাপ থাকায় আবার অস্বস্তি হল। সে ডাকল, ‘অ্যাই!’

    অতুলচন্দ্রের সাড়া মিলল না। দীপার মাথায় দুষ্টবুদ্ধি চাপল। সে ধীরে ধীরে লেপ ধরে টানতে লাগল। ঘাপটি মেরে পড়ে থাকলেও লেপ সরে গেলেই কথা বলতে বাধ্য হবে। এই ঠান্ডায় গায়ে চাপা না দিয়ে কেউ শুতে পারবে না। লেপটা সরে আসছিল হড়হড়িয়ে। অতুলচন্দ্রের কাছ থেকে বাধা আশা করছিল দীপা। পুরোটা সরে আসামাত্র গলা থেকে ছিটকে আসা চিৎকার গোঙানি হয়ে গেল। কোনওমতে লেপেই মুখ চোখ চেপে ধরল সে। সমস্ত শরীরে কাঁপুনি। সেই অবস্থায় দুই হাতের সমস্ত শক্তি দিয়ে লেপটাকে ছুড়ে ফেলল অতুলচন্দ্রের ওপর। একটা হাড়জিরজিরে সম্পূর্ণ নগ্ন শরীর কুঁকড়ে পড়ে আছে,— চোখের মধ্যে ঢুকে যাওয়া এই ছবিটাকে সে কিছুতেই সরাতে পারছিল না। কীরকম গা-গোলানি ভাব চলে এল শরীরে। সে বিছানার এককোণে চলে এল। অতুলচন্দ্র ঘুমাচ্ছে। এই কাণ্ড ঘটল তবু তার ঘুম ভাঙেনি।

    পা মুড়ে বসে দীপা লেপের স্তূপটাকে দেখল। অতুলচন্দ্রকে লোক বলে ভাবতে ইচ্ছে করছিল না। খোকন কিংবা বিশু যখন ফুটবল খেলতে খেলতে গেঞ্জি খোলে অথবা নদীতে স্নান করতে খালি গায়ে জলে ঝাঁপ দেয়, তখন তার মাথায় কোনও ভাবনাই আসত না। গা গুলিয়ে উঠত না। এই ছেলেটার শরীর দেখে হল কেন? সম্পূর্ণ নগ্ন মানুষের চেহারা কি এমন বীভৎস হয়? কিন্তু না। মশারির ভেতরও ছেলেটার শরীরে শুধু কয়েকটা হাড় দেখতে পেয়েছে সে। বিজ্ঞান বইতে যে নরকঙ্কালের ছবি ছাপা আছে তাকে যদি বিছানায় শুইয়ে দেওয়া হয় তা হলে অবিকল এমন দেখাবে। দীপার মনে পড়ল। অতুলচন্দ্র তাকে জামাকাপড় ছেড়ে শুতে বলেছিল। নিজে আগেভাগেই জামাকাপড় খুলে লেপের তলায় চলে গিয়েছিল। ওকে নাকি ওর বাবা এই কাজ করতে বলেছে। এ-বাড়ির নিয়ম নাকি এটা? কী বিশ্রী নিয়ম। দীপা হাঁটুতে চিবুক রেখে বসে রইল। মশারির ভেতরেও ঠান্ডায় বসে থাকা ক্রমশ কষ্টকর হয়ে উঠল তার। ঘুমের কোনও বালাই নেই।

    বাইরের পৃথিবীতে কোনও শব্দ নেই। চা-বাগানে এইসময় জেগে থাকলে বেতালা মাদল বাজতে শোনা যায়। জলপাইগুড়িতে নিশ্চয়ই কেউ মাদল বাজায় না। দীপা আর পারছিল না। খাটের একপাশে অতুলচন্দ্রের নগ্ন শরীরের দিকে পেছন ফিরে লেপের প্রান্ত টেনে শরীর ঢেকে শুয়ে পড়ল সে। একটু একটু করে ঘুম জড়িয়ে নিল তাকে।

    হঠাৎ বুকের পাঁজরে প্রচণ্ড চাপ পড়তেই নিশ্বাস বন্ধ হয়ে যাওয়ার উপক্রম হল দীপার। চটকে যাওয়া ঘুম এবং নিশ্বাসের কষ্টে সে ককিয়ে উঠল, ‘বাবা গো৷’ এবং এখনই দুটি শীর্ণ হাত প্রাণপণে তার জামা ছিঁড়ে ফেলতে চাইল, ‘খোলো, খোলো জামা। ঘুমিয়ে পড়েছিলাম বলে কথা শোনোনি। খোলো।’

    দীপা অতুলচন্দ্রকে বুঝতে পারল। কিন্তু সে নিজের জামা দু’হাতে আঁকড়ে ধরেও চোখ খুলল না। সে জানত চোখ খুললেই অতুলচন্দ্রর নগ্ন শরীর দেখতে হবে। এই কয়েকবারের চেষ্টাতেই হাঁপিয়ে উঠেছিল অতুলচন্দ্র। এবার সে দীপার পেটের কাছে গোঁজা শাড়ির প্রান্ত ধরে টান দিল। দীপা প্রতিবাদ করল চোখ বন্ধ করে, ‘আঃ, কী হচ্ছে? আমার জামাকাপড় ধরে টানছ কেন?’

    ‘আমি আবার ওষুধ খেয়েছি। বাবা বলেছে তোমাকে আনা হয়েছে বাচ্চা দেওয়ার জন্যে। কাপড় না খুললে তোমার বাচ্চা হবে কী করে?’ ঘনঘন নিশ্বাস পড়ছিল তার। দীপার কাপড় কোমর থেকে খুলে এলেও গিঁটটা আলগা হয়নি। কয়েকবার সেটাকে খোলার চেষ্টা করে হাল ছাড়ল অতুলচন্দ্র, ‘আমি ওষুধ খেয়েছি। বাবা বালিশের নীচে রেখে গিয়েছিল। আবার ঘুমিয়ে পড়লে বাবা বকবে।’

    ‘কীসের ওষুধ?’

    ‘আমি রোজ যে ওষুধ খাই সেটা না। এই ওষুধ খেলে বাচ্চা তৈরি করা যায়। আমি তো বেশিদিন বাঁচব না, তাই বাবা— উঃ, খোলো না কাপড়।’ ঝাঁপিয়ে পড়ল নগ্ন শরীরটা দীপার ওপর। আর নিজের অজান্তেই প্রচণ্ড জোরে ধাক্কা মারল দীপা দুই হাতে। সঙ্গে সঙ্গে অতুলচন্দ্রের শরীরটা ছিটকে চলে গেল খাটের প্রান্তে। মশারির ছত্রির আওয়াজ উঠল। একটা ককানির শব্দ কানে এল। এবং সেইসঙ্গে কান্নার স্বর উঠল, ‘তুমি আমাকে মারলে? উঃ বাবা। ‘তুমি মারলে? আজ অবধি কেউ আমাকে মারেনি, জানো?’

    দীপা উঠে বসেছিল। প্রচণ্ড রাগে তার শরীর কাঁপছিল। এবং এখন অতুলচন্দ্রের নগ্ন শীর্ণ দেহ তার দৃষ্টিতে ছিল না। সে চাপা গলায় বলল, ‘আবার যদি আমার গায়ে হাত দাও তা হলে মেরে তোমার হাড় ভেঙে দেব।’

    ‘হাড় ভেঙে দেবে?’ কাতর বিস্ময় অতুলচন্দ্রের গলায়।

    ‘হ্যাঁ।’

    ‘আমি বালিশে মাথা রেখে শোব? আমার খুব কষ্ট হচ্ছে।’

    ‘শোও।’

    প্রায় কাঁপতে কাঁপতে লেপটার প্রান্ত শরীরে টেনে নিয়ে অতুলচন্দ্রকে বিছানার এক পাশে শুয়ে পড়তে দেখল দীপা। তারপর থেকে একটা কুঁইকুঁই শব্দ বেজে গেল সমানে। অনেকক্ষণ দীপা পাথরের মতো বসে রইল। কী শুনল সে? তাকে এ-বাড়িতে নিয়ে আসা হয়েছে বাচ্চা দেবার জন্যে? চকিতে চা-বাগানের ভেতরে লুকিয়ে থাকা ললিতার গলা বেজে উঠল কানে। ললিতা শ্যামলদার কাজে প্রতিবাদ করছিল। সেই ললিতা বিষ খেয়েছে। বিয়ের দিন সবাই এই নিয়ে কথা বলছিল তার সামনেই। ললিতার পেটে বাচ্চা এসেছে। দীপার বুঝতে অসুবিধে হয়নি পেটে বাচ্চা এসেছে বলেই সে বিষ খেয়েছে। ওটা আসুক তা চায়নি বলেই চা-বাগানের ভেতরে প্রতিবাদ করেছিল সেদিন। শ্যামলদা যা করেছিল তাই করতে চেয়েছে অতুলচন্দ্র। কিন্তু ওষুধ খেয়েছে কেন? শ্যামলদা কি ওষুধ খেয়েছিল? বাচ্চা করতে গেলে কি ওষুধ খেতে হয়? মাথায় কিছু ঢুকছিল না তার। শুধু বুঝতে পারছিল খুব একটা গর্হিত ব্যাপার করতে যাচ্ছিল অতুলচন্দ্র। কিন্তু ও বলল কেন বেশিদিন বাঁচবে না! বর মরে গেলে বউ বিধবা হয়। বিধবা মানে— দীপার চোখের সামনে চট করে মনোরমা চলে এলেন। মাছ মাংস ডিম পেঁয়াজ-হীন আলোচালের ভাত আর নিরামিষ তরকারি নিয়ে খেতে বসেন মনোরমা। অসম্ভব! সে বিধবা হতে পারবে না। অতুলচন্দ্রের দিকে তাকাল সে। লেপমুড়ি দিয়ে সমানে কুঁইকুঁই করে যাচ্ছে। ওই ছেলেটা মরে গেলেই তাকে বিধবা হতে হবে। খুলে যাওয়া কুঁচিগুলো কোমরে গুঁজল সে। তারপর একটু সরে এসে জিজ্ঞাসা করল, ‘অমন করছ কেন?’

    ‘আমার কষ্ট হচ্ছে।’

    ‘কীসের কষ্ট?’

    ‘নিশ্বাসের।’

    ‘তোমার বাবা মাকে ডাকব?’

    ‘না। কিছুতেই না।’

    ‘কেন?’

    ‘বাবা খুব রেগে যাবে।’

    ‘তোমার কষ্ট হচ্ছে শুনলে রেগে যাবে?’

    ‘না। দু’-দু’বার ওষুধ খেয়েও আমি যেটা করার কথা সেটা করতে পারলাম না বলে রেগে যাবে। বাবা বলেছে একজন বংশধর চাই আমি মরে যাওয়ার আগে। আমি সবটা জানতাম না, বাবার কথায় আনা আমাকে সব শিখিয়ে দিয়েছে। ওষুধ না খেলে আমার শরীর শক্ত হয় না বলে আনা বাবাকে ওষুধ আনতে বলেছিল। তুমি মারলে আমাকে। এখন আমি বাবাকে কী বলব?’ গলার স্বর ক্রমশ নিস্তেজ হয়ে আসছিল।

    ‘এসব করতে হবে জানলে বিয়ে করতামই না।’

    ‘বিয়ে এসব করার জন্যেই মানুষ করে। আমার রক্ত খারাপ হয়ে গিয়েছে। বুকের ভেতর ব্যথা করে। কোনও ওষুধে কমে না। শুধু ঘুম পায়। সেদ্ধ ছাড়া কিছু খেতে পারি না। মরে তো যাবই, তাই বাবা বলেছে আমার যদি ছেলে থাকে তবে তার মধ্যে আমি বেঁচে থাকব। তুমিও একা থাকবে না। তোমার ছেলে থাকবে।’

    ‘আমি এখন পড়ি। এইসময় কেউ মা হয়?’

    ‘ও। আমি ওসব জানি না। আমাকে যা করতে বলেছিল তা করেছিলাম। এখন পারিনি জানলে যে কী হবে? কী আবার হবে! মরে যাব। তার বেশি কিছু হবে না তো। তুমি বিধবা হবে। এখন তো তুমি রাজি হলেও আমি কিছু করতে পারব না। এই ওষুধটা খাওয়ামাত্র শরীরটা কেমন হয়ে যায়। কিন্তু দশ মিনিটের মধ্যে আবার ঘুম পেয়ে যায়। তুমি আমাকে মারলে বলে ঘুম পাচ্ছে না কিন্তু আর ওষুধ তো নেই। শোনো, তুমি মিথ্যে কথা বলতে পারো?’

    ‘মিথ্যে কথা?

    ‘হুঁ। আমি বলব যা যা করার করেছি। তুমি সায় দেবে। এখন তা হলে আর কেউ কিছু বলবে না। বাচ্চা তো দশ মাস আগে হয় না।’ অতুলচন্দ্র চুপ করে গেল। তার শরীর কাঁপছিল কারণ লেপটা নড়ছে। কুঁইকুঁই শব্দটা শেষপর্যন্ত বন্ধ হল। দীপা পাথরের মতো বসে রইল। তার এখন শীতবোধও ছিল না।

    দরজায় খুব জোরে জোরে আঘাত হতে ঘুম ভাঙল দীপার। খাটের একপাশে কুঁকড়ে শাড়িতে মুখ মাথা ঢেকে শুয়ে ছিল সে। মাথা তুলে ঘরটাকে দেখল। বুঝল সকাল হয়ে গেছে। সে ধড়মড়িয়ে উঠে বসল। ওপাশে অতুলচন্দ্র তখন লেপের তলায় চাপা পড়ে আছে। দীপা খাট থেকে নামতে গিয়ে আবিষ্কার করল সমস্ত শরীরে আড়ষ্টতা, গা ব্যথা করছে, দরজায় আবার আঘাত হল এবং নলিনীর গলা পাওয়া গেল, ‘ভরদুপুর পর্যন্ত ঘুমাচ্ছে যে। এ কীরকম বউ! বাড়ি থেকে বলেটলেও দেয়নি?’

    দীপা খিল খুলতেই ওপাশের চাপে দরজা হাট হয়ে গেল। নলিনী আর আনা দাঁড়িয়ে আছে। নতুনদি বা অন্য মেয়েদের দেখতে পেল না সে। আর তখনই মুখে হাত চাপা দিয়ে হেসে উঠল আনা, ‘ওমা, নতুন বউয়ের মুখখানা দ্যাখো, সিঁদুরে যে গোবর লেপা হয়ে রয়েছে। প্রথম রাত, সাতসকালে কি ঘুম ভাঙে!’

    ‘হুম। বুঝেছি। সে এখনও ঘুমাচ্ছে?’ নলিনী ঘরে ঢুকলেন। তাঁর চোখ মশারির ভেতরটা দেখতে চাইছে। গম্ভীর গলায় তিনি হুকুম করলেন, ‘চটপট মশারিটা তোল আনা। কাকভোরে উঠে তিনি খবরটা শোনার জন্যে অপেক্ষা করছেন। আগে তাঁকে শান্ত করি।’

    ‘আর চিন্তা করার কী আছে! সিঁদুর দেখে বুঝতে পারছ না। তোমার ছেলের মাথায় শমন এলে কী হবে একেবারে ব্যাসদেবের ক্ষমতা নিয়ে জন্মেছে গো!’ মশারি তুলতে তুলতে কথাগুলো বলল আনা।

    নলিনী দীপার দিকে ফিরলেন, ‘কাল রাত্রে কোথায় শুয়েছিলে আশা?’

    মাথা না তুলে দীপা জবাব দিল, ‘বিছানায়’।

    ‘আহা! বিছানায় না শুয়ে কি মাটিতে শোবে! বিছানার কোনখানে?’

    নলিনীর কথার অর্থ বোধগম্য হল না দীপার। সে হাত তুলে দ্বিতীয় বালিশটাকে দেখাল। নলিনী বললেন, ‘আনা, খোকাকে না জাগিয়ে ওখানকার লেপ সরা। বিছানার চাদর দেখব আমি। সেইটেই আসল।’

    মশারি তোলা হয়ে গিয়েছিল। আনা ওপাশে সরে গিয়ে সতর্ক হাতে লেপের প্রান্ত তুলে অতুলচন্দ্রের দিকে সরিয়ে দিয়ে ঝুঁকে পড়ল। এগিয়ে গিয়েছিলেন নলিনী, বিছানা দেখতে দেখতে তাঁর মুখ থমথমে হয়ে যাচ্ছিল। শেষপর্যন্ত আনার সঙ্গে তাঁর চোখে চোখে কথা হল। আনা ফিসফিসিয়ে বলল, ‘আগে জিজ্ঞাসা করো তো, সেখানে খুব দৌড়ঝাঁপ করত কিনা। সেরকম বেশি করলে নাকি আগেই ওসব চুকে যায়। মাথা গরম কোরো না।’

    নলিনী ঘুরে দাঁড়ালেন, ‘আশা, এদিকে এসো।’ দীপা এগিয়ে গেল।

    ‘বিয়ের আগে তুমি কি খুব দৌড়াদৌড়ি করতে?’ নলিনী জানতে চাইলেন।

    সত্যি কথা বলা উচিত হবে কিনা বুঝতে পারছিল না দীপা। বিয়ের পর বউয়ের দৌড়ঝাঁপ করা উচিত নয় কিন্তু বিয়ের আগে? নলিনী রেগে গেলেন, ‘কী ঘাঁটা মেয়ে রে বাবা, প্রশ্ন করলে জবাব দেয় না। আমার কথা কানে ঢুকছে?’

    ভয়ে ভয়ে সত্যি কথাটা বলে ফেলল, ‘আমরা মাঠে খেলতাম।’

    ‘হুঁ! তোমার মাসিক কবে হয় প্রথম?’।

    মাসিক শব্দটার অর্থ আন্দাজে ধরে নিল সে। ঠাকুমা বলেছিলেন ঋতু। মা বলেছিলেন পিরিয়ড। প্রতি মাসে হয় মেয়েদের বয়স হলে। তাই বোধহয় ইনি মাসিক বলছেন। সে মাথা নাড়ল, ‘একবার হয়েছিল। এ-মাসেই।’

    ‘তারপরেও দৌড়েছ?’

    ‘না।’ এটাও সত্যি কথা।

    নলিনী আনার দিকে ঘুরে দাঁড়ালেন, ‘কী বুঝছিস?’

    ‘জিজ্ঞাসা করো না সরাসরি।’ সে উপদেশ দিল।

    নলিনী আড়চোখে ছেলের দিকে তাকিয়ে আবার ফিরলেন, ‘কাল রাত্রে খোকা কিছু করেছে? মেয়েমানুষ, মাসিক হয়ে গিয়েছে, নিশ্চয়ই বুঝতে পারছ কী বলছি?‘

    দীপার মাথা নিম্নগামী হল। চিবুক ঠেলে বুকে। আনা সেটা লক্ষ করে প্রশ্ন ছুড়ল, ‘খোকা কি ওষুধ খেয়েছিল?’

    নীরবে একবার মাথা নেড়ে দীপা জানাল, ‘হ্যাঁ।’ সঙ্গে সঙ্গে আনা হেসে উঠল, ‘ব্যস। উত্তর পেয়ে গেছ। যাও তেনাকে নিশ্চিন্ত করো।’

    ‘খোকাকে ডাক। তার শরীর কেমন আছে দেখি। সেটাও তো বলতে হবে। ওসব ওষুধ খেলে শুনেছি পরে শরীর খারাপ হয়।’ নলিনী এগিয়ে গেলেন নিজেই।

    ‘ও খোকা, খোকা! খোকা রে!’ লেপটা সরাতে যাচ্ছিলেন তিনি আনা বাধা দিল, ‘করছ কী। লেপ সরিয়ো না, ঠান্ডা লেগে যাবে।’ সে সন্তর্পণে মুখ থেকে লেপের প্রান্ত সরিয়ে দিল, ‘খোকা। খোকা!’

    অতুলচন্দ্র চোখ মেলল। লাল টকটকে চোখ। তারপর বিড়বিড় করে বলল, ‘আমি আর ওই ওষুধ খাব না।’

    আনা খপ করে তার গলায় বুকে হাত রাখল, ‘মা গো কী ঠান্ডা! তুমি তাড়াতাড়ি দাদাবাবুকে ডাক্তার ডাকতে বলো।’ নলিনী আর্তনাদ করে ছুটলেন। আনা অতুলচন্দ্রের মুখ ধরে বলল, ‘ও খোকা, কী হয়েছে?’

    অতুলচন্দ্র বিড়বিড় করে বলল, ‘মিথ্যে কথা বলবে। আমি যে পারিনি, তুমি যে মেরেছ তা কাউকে বলবে না।’

    সঙ্গে সঙ্গে আনা উঠে দাঁড়াল। তার চোখ দীপার দিকে, ‘তোমার সঙ্গে ওর কাল রাত্রে কিছু হয়নি?’

    দীপা এবারও সত্যি কথা বলল, ‘না।’

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43 44 45 46 47 48 49 50 51
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleসাতকাহন ২ – সমরেশ মজুমদার
    Next Article কইতে কথা বাধে – সমরেশ মজুমদার (অসম্পূর্ণ)

    Related Articles

    সমরেশ মজুমদার

    চব্বিশ ঘণ্টার ঈশ্বর – সমরেশ মজুমদার

    December 4, 2025
    সমরেশ মজুমদার

    ছোটগল্প – সমরেশ মজুমদার

    December 4, 2025
    সমরেশ মজুমদার

    আট কুঠুরি নয় দরজা – সমরেশ মজুমদার

    December 4, 2025
    সমরেশ মজুমদার

    উত্তরাধিকার – সমরেশ মজুমদার

    December 4, 2025
    সমরেশ মজুমদার

    গর্ভধারিণী – সমরেশ মজুমদার

    December 4, 2025
    সমরেশ মজুমদার

    কইতে কথা বাধে – সমরেশ মজুমদার (অসম্পূর্ণ)

    December 4, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Our Picks

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }