Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    মাহতাব উদ্দিন : জীবন ও গান

    May 18, 2026

    পরমপুরুষ শ্রীশ্রীরামকৃষ্ণ ২ – অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত

    May 18, 2026

    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের প্রেমের গল্প – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    May 16, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    সাতকাহন ১ – সমরেশ মজুমদার

    সমরেশ মজুমদার এক পাতা গল্প936 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ২১. দুশ্চিন্তার ছাপ

    দূর থেকে অমরনাথকে দেখে দীপার মনে হয়েছিল কিছু একটা হয়েছে। দুশ্চিন্তার ছাপ মানুষটির মুখে বেশ স্পষ্ট। গেস্টরুমের সামনে স্থির হয়ে দাঁড়িয়ে আছেন, হাতে একটা ছোট্ট ব্যাগ যা এর আগে সে কখনও দেখেনি।

    দীপা দাঁড়াতেই অমরনাথ মেয়েকে দেখলেন৷ তিনি অত্যন্ত ক্রুদ্ধ এবং বিরক্ত থাকায় দৃষ্টিটা বেশিক্ষণ স্থির রাখলেন না। মুখ ঘুরিয়ে বললেন, ‘তোমার সঙ্গে কিছু কথা বলতে এসেছি। এই ঘরে বসা যাবে?’

    দীপা মাথা নাড়ল। গেস্টরুমে একমাত্র পিতামাতা এলেই অনুমতি না নিয়ে বসা যায়। সে আগে এগিয়ে গিয়ে বলল, ‘এসো।’

    অমরনাথ চেয়ারে বসলে দীপা জিজ্ঞাসা করল, ‘মা ঠাকুমা কেমন আছে?’

    ‘তাদের খবরে তোমার কোনও প্রয়োজন আছে?’

    ‘মানে?’ চমকে তাকাল দীপা। বাবাকে এমন গলায় কথা বলতে সে কখনও শোনেনি। অমরনাথ তখন ব্যাগটি কোলের ওপর রেখে পকেট হাতড়াচ্ছেন। তিন-চারটি কাগজপত্রের মধ্যে একটি বিশেষ কাগজ বের করে বললেন, ‘এটা পড়ে দ্যাখো।’

    সামান্য তফাতে দীপা দাঁড়িয়েছিল। কিছুক্ষণ থেকেই ধন্দ লাগছিল খুব। অমরনাথের এগিয়ে ধরা কাগজটা যে একটা চিঠি তা বুঝতে সময় লাগল। ভাঁজ খুলতেই পাকা হাতের লেখায় সম্বোধন চোখে পড়ল, ‘মাননীয় অমরনাথ মুখোপাধ্যায় সমীপেষু, এই চিঠি প্রায় বাধ্য হইয়াই আপনাকে লিখিতেছি। আপনার কন্যা দীপাবলী জলপাইগুড়ির হস্টেলে থাকিয়া কলেজে ভরতি হইয়াছে। আপনি অনেক দূর স্থানে বাস করেন বলিয়া শহরের কোনও সংবাদ নিয়মিত রাখিতে পারেন না বলিয়া বিশ্বাস করি।

    ‘আপনার অবগতির জন্য জানাইতেছি যে দীপাবলীর ব্যবহার ও আচরণ সনাতন বঙ্গরমণীর বিপরীত। তাহাকে উচ্ছৃঙ্খল আখ্যা দেওয়াই সংগত। জলপাইগুড়ি শহর বিলাত আমেরিকা নহে। এখানে ছাত্রীরা অধ্যয়নের বাইরে অন্য জীবনযাপন করে না। কিন্তু দীপাবলী ছাত্রীদের সঙ্গ ত্যাগ করিয়া ছাত্রদের সঙ্গে দিনরাত মশগুল থাকে। কলেজে তো বটেই, শহরের রাস্তাতেও তাহাদের ঢলাঢলির দৃশ্য নিয়মিত দেখিতে পাওয়া যায়। এই বেলেল্লাপনা শহরের যুবকদের কোন পথে নিয়া যাইতেছে তাহা নিশ্চয়ই অনুধাবন করিতে পারিতেছেন। আশঙ্কা হইতেছে এই দৃষ্টান্ত অনুসরণ করিয়া সুকুমারমতি অন্যান্য ছাত্রীরা যদি একই আচরণ করে তা হলে সমস্ত শহরের জীবনযাত্রা ও ঐতিহ্য গোল্লায় যাইবে।

    ‘আমার একমাত্র পুত্র ওই কলেজে দীপাবলীর সহপাঠী। আপনার কন্যার ওই আচরণ দেখিয়া সে নষ্ট হইতে বসিয়াছে। এই অবস্থায় হয় আপনি কন্যাকে সংযত করুন নয় তাহাকে চা-বাগানে ফিরাইয়া নিয়া যান। ইতি, আপনার এক শুভাকাঙক্ষী।’ চিঠিটা পড়া হয়ে গেলে দীপা মুখ তুলল। তার মুখে নিশ্চয়ই কোনও কৌতুকের চিহ্ন স্পষ্ট ছিল তাই অমরনাথ সবিস্ময়ে বলে উঠলেন, ‘তুমি কি চিঠিটা পড়লে? তোমার মুখ দেখে আমি বুঝতে পারছি না।’

    ‘হ্যাঁ, পড়লাম।’ দীপা কাগজটা ভাঁজ করে অমরনাথের হাতে ফিরিয়ে দিল।

    ‘এটা পড়ার পরেও তুমি হাসছ?’

    ‘বাবা, যারা চিঠি লেখে অথচ নাম সই করতে পারে না, তাদের কোনওরকম গুরুত্ব দেওয়াটা বোকামি। বেনামী চিঠির লেখকরা মেরুদণ্ডহীন।’

    ‘তোমার কাছে আমি উপদেশ শুনতে আসিনি। মনে কোরো না কলেজে পড়ছ বলে তোমার চারটে হাত গজিয়েছে। এ-চিঠিতে যা লেখা রয়েছে তা সত্যি?’

    ‘আমি কী বলব?’

    ‘কী বলব মানে? আমি জানতে চাইছি সত্যি কি না?’

    দীপা খুব নিচু গলায় বলল, ‘তোমার কী ধারণা?’

    ‘আমার ধারণার কথা হচ্ছে না। আমি থাকি চা-বাগানে। তুমি এখানে কী করছ তা তোমার জানার কথা। তোমার মুখেই সেটা শুনতে এসেছি।’

    ‘তুমি কী জানতে চাইছ?’

    ‘কতবার এককথা বলব?’

    ‘তার আগে তুমি বলো বেলেল্লাপনা মানে কী?’

    ‘নির্লজ্জ আচরণ।’

    ‘আমি সেটা কোনওদিন করিনি।’

    ‘তা হলে এই লোকটার কী দায় পড়েছিল পয়সা খরচ করে আমাকে লিখতে?’

    ‘কোন লোকটা?’

    ‘ও, বেনামী চিঠি বলে কোনও গুরুত্ব থাকবে না। ঘটনা মিথ্যে হয়ে যাবে?’

    ‘না। নিশ্চয়ই কিছু ঘটেছিল। যে লিখেছে সে সেটাকে বিকৃত করেছে?’

    ‘কী ঘটেছিল?’

    ‘আমার ক্লাসের কিছু ছেলে মেয়েদের বিরক্ত করত। অনেক বছর ধরে চলে আসছিল ব্যাপারটা। মেয়েরা সেটা মুখ বুজে মেনে নিত। আমি মানিনি। কিন্তু ওদের সঙ্গে ঝগড়া না করে আলাপ করেছিলাম। আসলে এখানকার ছেলেদের সঙ্গে কোনও মেয়ে প্রকাশ্যে কথা বলে না বলেই ছেলেরা ওরকম আচরণ করে। আমার মনে হয়েছিল, আমরা একসঙ্গে পড়ি, একই বয়েস, তখন সামান্য কথা বলতে দোষ কী! আর সেটা করতেই ওদের ব্যবহার পালটে গেল। এখন যার সঙ্গে ক্লাসের ভেতরে কথা বলি তার সঙ্গে রাস্তায় দেখা হলে মুখ ঘুরিয়ে যাওয়া যায়? কলেজে যাওয়া আসার সময় কারও কারও সঙ্গে কথা বলেছি। আমার মনে হয়েছে ওরা যে-কোনও মেয়ের চেয়ে নতুন বিষয়ে কথা বলতে পারে। কিন্তু হস্টেলের বড়দি বললেন আমার এই আচরণ নাকি অনেক মেয়ের বাবা মেনে নিতে পারছেন না। ওদের সঙ্গে কথা বললে আমাকে হস্টেল ছাড়তে হবে। হস্টেল ছাড়লে আমি পড়াশুনার সুযোগ পাব না। বাধ্য হয়েই আমি ছেলেদের এসব বলেছি। ওরা আর আমার সঙ্গে কথা বলে না। আমার বয়েসের ছেলেরা অনেক বেশি বুঝতে পারে।’ কথাগুলো বলতে বলতে দীপার গলার স্বর ভারী হয়ে এল, চোখ ভিজে উঠল।

    ‘তোমাকে কি এখানে প্রগতি করতে পাঠানো হয়েছিল?’

    ‘মানে?’

    ‘তুমি এসেছিলে পড়াশুনা করতে। তার বাইরে অন্য কোনও ব্যাপারে মন দেওয়ার কোনও কথা ছিল না। আজ নিশ্চয়ই সারাশহরে এ-ব্যাপার নিয়ে কথা হচ্ছে। যে-দেশে থাকবে সেই দেশের মানুষরা যে-আচরণ করে তাই তোমাকে করতে হবে। চা-বাগানে বিশু বাপী খোকনের সঙ্গে মিশতে, আমরা ছেলেবেলা থেকে দেখে আসছি, তাও বড় হবার পর তোমার ঠাকুমা মা সেটা অপছন্দ করেছেন। আগুন কাঠ পাশাপাশি যদি কোনও আড়াল না রেখে থাকে তা হলে অগ্নিকাণ্ড হবেই। নিষেধ এই কারণে। ছি ছি ছি, এ তুমি কী করলে?’

    ‘আমি কিন্তু কিছুই করিনি।’

    ‘তোমাকে আজকাল আমি বুঝতে পারি না। হয় তুমি বোকা নয় মিথ্যেবাদী।’

    ‘আমি তোমাকে কী মিথ্যে বলেছি?’

    অমরনাথ জবাব দিলেন না। কয়েক মুহূর্ত মাটির দিকে তাকিয়ে মাথা নাড়লেন। তারপর অন্যরকম গলায় বললেন, ‘এ-চিঠি পাওয়ার পর থেকে আমার চোখে ঘুম নেই। তোমার মা বা ঠাকুমাকেও চিঠিটার কথা বলতে পারিনি কারণ আমি চাই না ওরা এই আঘাত পাক। এখন একমাত্র উপায় তোমাকে চা-বাগানে ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়া।’

    ‘না।’ চিৎকার করে উঠল দীপা।

    ‘পয়সা খরচ করে কেউ দুর্নাম কিনতে চায় না।’

    ‘আমি এমন কিছু করিনি যাতে তোমার দুর্নাম হয়।’

    অমরনাথ হাতে ধরে থাকা চিঠিটা নাড়ালেন, ‘এটা পড়েও বলছ?’

    দীপা দিশাহারা হয়ে গেল। সত্যি, অমরনাথকে খুব কাহিল দেখাচ্ছে এখন। যদি জলপাইগুড়ি থেকে চলে যেতে হয় তা হলে ভবিষ্যতে নিজের পায়ে দাঁড়ানো যাবে না কখনও। সে কথা খুঁজে না পেয়ে বলল, ‘বাবা, তুমি আমাকে বিশ্বাস করছ না?’

    অমরনাথের চোয়াল শক্ত হল। তিনি কোনও জবাব দিলেন না।

    ‘বাবা, আমি তো বড়দিকে কথাই দিয়েছি এই কলেজে পড়ার সময় কোনও ছেলের সঙ্গে আর কথা বলব না। তুমি আমাকে আর একবার সুযোগ দাও।’

    অমরনাথ এবার মুখ খুললেন, ‘ব্যাপারটা শুধু আমার ওপর নির্ভর করছে না। যে-ভদ্রলোক দয়া করে তোমার পড়ার খরচ দিচ্ছেন খবরটা নিশ্চয়ই তাঁর কানেও উঠেছে। তিনি যদি সেটা বন্ধ করে দেন তা হলে—।’

    ‘তিনি তো তোমাকে কিছু বলেননি এখনও।’

    ‘তা বলেননি—।’

    ‘যদি কিছু বলেন তা হলে আমি তাঁর কাছে যাব। সব বুঝিয়ে বলব।’

    চকিতে সোজা হয়ে বসলেন অমরনাথ, ‘না না। ওখানে তুমি যাবে না। মিস্টার রায় সেটা কখনওই পছন্দ করবেন না।’

    অমরনাথের এই প্রতিক্রিয়া লক্ষ করার মতো মানসিক অবস্থা দীপার ছিল না। তার দু’গাল বেয়ে জল গড়িয়ে পড়ছিল। অমরনাথ চোখ তুলে মেয়েকে দেখলেন। তারপর গম্ভীর গলায় বললেন, ‘কান্নার কোনও দরকার নেই।’

    চকিতেই বাবার সেই কথাগুলো মনে পড়ল। বাবা বলতেন, রক্তের চেয়ে চোখের জল অনেক বেশি মূল্যবান। কিন্তু আজ সেই কথাগুলো বললেন না।

    দীপা আঁচলে মুখ মুছল। তারপর কাঁপা গলায় বলল, ‘তুমি যদি চাও তা হলে একবার বড়দির সঙ্গে কথা বলতে পারো।’

    অমরনাথ মাথা নাড়লেন, ‘আমার কারও সঙ্গে কথা বলার দরকার নেই।’

    ‘কিন্তু তুমি আমাকে বিশ্বাস করছ না বাবা?’

    ‘ঠিক আছে। তুমি যা বলছ তা যেন সত্যি হয়, সেইটে দেখো। ব্যাঙ্ক থেকে তোমার নামে টাকা এসেছে?’ অমরনাথ উঠে দাঁড়ালেন।

    ‘হ্যাঁ। অত টাকা আমার দরকার নেই।’

    ‘যা দরকার তা রেখে বাকিটা তোমার মাকে দিয়ে দাও।’

    দীপা ইতস্তত করল একটু। অমরনাথ জিজ্ঞাসা করলেন, ‘কিছু বলবে?’

    ‘না। মানে, ওই টাকা তো মিস্টার রায়ের অফিস থেকে আমার পড়ার জন্যে আসছে। ওঁকে বললে হয় না কম টাকা পাঠাতে?’

    ‘উনি মনে করেন অতটাই তোমার দরকার। তোমার প্রয়োজন না থাকলে তুমি যা ইচ্ছে তাই করতে পারো। এ বিষয়ে কথা বলতে গেলে উনি নিশ্চয়ই খুব বিরক্ত হবেন। বড়লোকের খেয়াল বলে কথা।’

    ‘তা হলে দাঁড়াও, আমি এনে দিচ্ছি।’ দীপা দ্রুত বেরিয়ে গেল। এখন তাকে অনেক সহজ দেখাচ্ছে। অমরনাথ চিঠিটাকে পকেটে রাখলেন। হাতের লেখা দেখে বোঝার উপায় নেই কে লিখেছে। তবে খামের ওপর জলপাইগুড়ি পোস্ট অফিসের ছাপ ছিল। সেইটেই স্বাভাবিক। কিন্তু ওটা পাওয়ার পর থেকেই মাথা খারাপ হয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়েছিল তাঁর। এখন মেয়ের পরিবর্তন দেখে একটু ভাল লাগছে। দীপা ফিরে এল প্রায় দৌড়েই। তার হাতে বেশ কয়েকটা দশ টাকার নোট। অমরনাথ মেয়েকে বসতে বলে কাগজ কলম বের করলেন। দীপার যা যা প্রয়োজন তা আর একবার হিসেব করা হল। দেখা গেল একশো টাকা হলেই পুরো খরচ মিটে যায়। দীপা বাকি টাকাগুলো অমরনাথের হাতে দিতে তিনি সেটা পকেটে রেখে দিলেন। এবং এইসময় দীপার আনার কথা মনে পড়ল। সে বলল, ‘জানো, এর মধ্যে একদিন আমি খুব চমকে গিয়েছিলাম?’

    অমরনাথ মুখে কিছু না বলে গম্ভীর মুখে অপেক্ষা করলেন। আসলে সেই মুহূর্তে তিনি এই লজ্জাবোধে আক্রান্ত ছিলেন। মেয়েকে টাকা দেওয়ার বদলে মেয়ের টাকা তিনি নিচ্ছেন, এইটে বড় খোঁচা দিচ্ছিল। চেক নেওয়া, ব্যাঙ্কে জমা দেওয়ার মধ্যে প্রত্যক্ষ প্রাপ্তি ছিল না।

    দীপা বলল, ‘হঠাৎ আনা নামের সেই কাজের মহিলা এই হস্টেলে আমার সঙ্গে দেখা করতে এসেছিল।’

    ‘আনা?’ অমরনাথ চমকে উঠলেন।

    ‘যে আমাকে ওই বাড়ি থেকে পালাতে সাহায্য করেছিল। কী বিরাট চেহারা হয়েছে, মোটাসোটা, কাজের লোক বলে আর চেনাই যায় না।’

    ‘আনা এখানে এসেছিল?’ বিড়বিড় করলেন অমরনাথ।

    ‘হ্যাঁ। কিন্তু আমি এখানে আছি তা ও জানল কী করে?’

    ‘জেনেছে নিশ্চয়ই।’

    ‘ও এসেছিল তোমার খবর নিতে। তোমার সঙ্গে ওর কী দরকার?’

    অমরনাথ নার্ভাস বোধ করলেন। আনার ওপর অত্যন্ত বিরক্ত হয়ে উঠলেন তিনি। তার এখানে আসার কী দরকার ছিল! দীপা দেখল অমরনাথ অন্যমনস্ক হয়ে পড়েছেন। সে দ্বিতীয়বার প্রশ্নটা করল। অমরনাথ সজাগ হলেন, ‘আমি তো কিছুই বুঝতে পারছি না। ব্যানার্জিমশাইয়ের শরীর খারাপ হল কিনা কে জানে! আর তুমি যে এখানে আছ তা হরদেব দেখে গিয়েছেন। খবরটা তিনিই দিতে পারেন। তোমার এখানে না এসে আমাকে চিঠি দিতে পারত!’

    ‘কেন?’ দীপার মুখে রক্ত জমল, ‘তোমার সঙ্গে কীসের সম্পর্ক? কে অসুস্থ কি না তা তোমাকে জানাতে হবে কেন? ও-বাড়ির সঙ্গে আমাদের কোনও সম্পর্ক নেই তা তুমি জানো না? আমি ভাবতেই পারি না এসব। নেহাত ওই কাজের মেয়েটা আমার উপকার করেছিল সেদিন তাই আমি খারাপ ব্যবহার করতে পারিনি।’

    ‘দ্যাখ মা, সবসময় স্মৃতি আঁকড়ে বসে থাকতে নেই।’

    ‘তুমি কী বলতে চাইছ?’

    ‘অতীতে ওঁরা অন্যায় করেছিলেন, আমরাও যোগাযোগ রাখিনি। সম্পর্ক যা ছিল তা শুধু বলার জন্যেই। তোকে পরীক্ষা দিতে হয়েছে কলেজে ভরতি হতে হয়েছে ওদের উপাধি নিয়ে। কিন্তু দিন আর নদীর জল সবসময় সমান বহে যায় না। খবর তো আমারও কানে আসে। ব্যানার্জিমশাই পক্ষাঘাতে পঙ্গু এখন, ওঁর স্ত্রী উন্মাদাশ্রমে। সংসার ছারখার হয়ে গিয়েছে। এখন বিষ তো দূরের কথা, ছোবলও নেই।’ অমরনাথ কথাগুলো বলতে বলতে মেয়ের দিকে তাকাচ্ছিলেন। কিন্তু মেয়ের মুখে কোনও পরিবর্তন দেখতে পেলেন না।

    দীপা বলল, ‘যেমন কর্ম করেছে তেমন ফল পাচ্ছে। কিন্তু তাতে আমাদের কী? তুমি ওদের সঙ্গে কোনও সম্পর্ক রাখবে না বলে দিলাম। আর আমার কাছে যদি কেউ আসে তা হলে আমি মুখের ওপর কথাটা বলে দেব।’

    ‘দীপা, তুই কি এখনও ব্যাপারটা ভুলতে পারছিস না?’

    ‘তুমি কী বলছ বাবা? আমি কোনওদিন ভুলতে পারব! তোমরা আমাকে জোর করে বিয়ে দিয়েছিলে, আমার ভবিষ্যৎ নষ্ট করে দিতে চেয়েছিলে—।’

    ‘কী বলছিস তুই? আমি জেনেশুনে তোর ভবিষ্যৎ নষ্ট করতে চেয়েছিলাম? এমন কথা তুই উচ্চারণ করতে পারলি?’ অমরনাথের গলার স্বর পালটে গেল।

    দীপা মাথা নাড়ল, ‘আমার কী ক্ষতি হয়েছে তুমি জানো না? বন্ধুবান্ধবদের পর্যন্ত ব্যাপারটা বলতে পারি না। সবাই জানে আমি কুমারী। ব্যাপারটা ভাবলেই বমি পায় আমার। আর তুমি এখন ওদের হয়ে নরম নরম কথা বলতে এসেছ। তোমার ওপর আমার রাগ হওয়া অন্যায়? তুমি বলো?’

    অমরনাথ হাসার চেষ্টা করলেন, ‘দ্যাখ দীপা, রাগ করে দূরে থেকে নিজের কোনও লাভ হয় না। আমি প্রতিশোধ নিতে চাই। তোর ওপর যে অত্যাচার হয়েছে তার দাম দিয়ে যেতে হবে প্রতুল ব্যানার্জিকে। আমি সেই চেষ্টাই করছি।’

    দীপা অবাক হয়ে তাকাল, ‘দাম? ওই অন্যায়ের কী দাম হতে পারে?’

    ‘দেখি!’ অমরনাথ মাথা নিচু করলেন, ‘অনেক চিন্তা করার আছে। ঠিক আছে, ভালভাবে থাকিস। আজ আমি চলি।’

    অমরনাথ গেস্টরুম থেকে বেরিয়ে সিঁড়ির ধাপে পা রাখতেই দীপা পেছন থেকে ডেকে উঠল, ‘বাবা!’ অমরনাথ মুখ ফেরালেন না।

    দীপা এগিয়ে এল, ‘আমার কোনও দাম দরকার নেই।’

    অমরনাথ মাথা নাড়লেন, ‘শুনলাম।’

    ‘তুমি কি এ-কথাটা জানতে না?’

    ‘জানি। কিন্তু জীবন তো কোনও হিসেব মেনে চলে না। আজ যে অত্যন্ত ঘৃণ্য শত্রু, কাল যদি সে মৃত্যুমুখে পতিত হয়ে তোর কাছে এক গ্লাস জল চায় তা হলে কি তুই মুখ ফিরিয়ে নিতে পারবি। মানুষ হলে পারবি না। এটাই জীবনের নিয়ম। তোর কিছু চাই না, কিন্তু আমিও তো একইভাবে প্রতারিত হয়েছি, সে জ্বালা মেটাবার সুযোগ পেলে ছাড়ব কেন?’

    ‘তুমি কি ওদের বাড়িতে যাচ্ছ?’ দীপা সরাসরি প্রশ্ন করল।

    অমরনাথ একটু ইতস্তত করলেন, ‘হ্যাঁ। আনা কেন এসেছিল তা জানা দরকার। হয়তো—! তা ছাড়া তাকে নিষেধ করতে হবে, এখানে যেন আর না আসে।’

    অমরনাথ আর দাঁড়ালেন না। হনহন করে হস্টেলের গেট দিয়ে বেরিয়ে গেলেন। তাঁর যাওয়ার ধরন দেখে দারোয়ান পর্যন্ত অবাক হয়ে গেল। দীপা চুপচাপ দাঁড়িয়ে ছিল। তার কেবলই মনে হচ্ছিল অমরনাথ সত্যি কথাটা গোপন করছেন। আজ যে-মেজাজ এবং চেহারা নিয়ে তিনি চিঠি পেয়ে ছুটে এসেছিলেন তার সঙ্গে চলে যাওয়ার সময় তাঁর চেহারায় কোনও মিল নেই। প্রথমদিকে তিনি যেভাবে ক্রোধ প্রকাশ করেছেন শেষদিকে যেন পালিয়ে গেলে বাঁচেন, এমন মনে হচ্ছিল। জ্ঞান হবার পর সে অমরনাথকে ওই ভঙ্গি এবং ভাষায় কথা বলতে শোনেনি। আজ এক সম্পূর্ণ অচেনা অমরনাথ হস্টেল থেকে পালিয়ে গেলেন। হ্যাঁ, বাবার যাওয়ার ভঙ্গিটাকে পালানো বলাই ঠিক। বাবার সঙ্গে নিশ্চয়ই ওদের যোগাযোগ আছে। এটুকু ভাবতেই শরীর জ্বলতে লাগল। যোগাযোগ আছে বলেই আনা এসেছিল। প্রতুল ব্যানার্জির পক্ষাঘাত হয়েছে, তার স্ত্রী উন্মাদ— এতে তার কিছু এসে যায় না। কিন্তু বাবা কেন ওদের বাড়িতে যাওয়া আসা করছে! দীপার ইচ্ছে হচ্ছিল এখনই চা-বাগানে ছুটে যেতে। অঞ্জলিকে সব কথা খুলে বললে বাবার পরিবর্তনের কারণটা জানা যাবে। কিন্তু তখনই মনে হল, মা যদি তার কাছে লুকিয়ে যান? দীপা ভেবে পাচ্ছিল না কী করা উচিত!

    থানার পাশ দিয়ে করলা নদীর ধার দিয়ে ঝোলনা ব্রিজের কাছে পৌঁছে অমরনাথের চেতনা পরিষ্কার হল। এতক্ষণ তিনি অত্যন্ত ক্রুদ্ধ হয়ে ছুটে আসছিলেন। মেয়ের হস্টেলে যাওয়ার জন্যে আনাকে কটুকথা বলবেন। পারলে প্রতুলবাবুকেও কথা শোনাতে ছাড়বেন না। যে-সর্বনাশ তাঁরা এককালে করেছেন তার পুনরাবৃত্তি হতে দেবেন না তিনি।

    কিন্তু ঝোলনা ব্রিজের ওপর উঠে মনে হল এরকম রাগের কোনও মানে হয় না। সাত দিনের বদলে অনেক দিন হয়ে গেল। ব্যাপারটা নিয়ে তিনি অনেক ভেবেছেন। বীরপাড়া চা-বাগানের গুদামবাবুর ভায়রাভাই উকিল। ভদ্রলোক শালির বাড়িতে বেড়াতে এসেছিলেন। তাঁর সঙ্গে দেখা করে অমরনাথ সমস্ত ব্যাপারটা খুলে বলেছেন। তিনিও বলেছেন যে প্রতুল বন্দ্যোপাধ্যায় যদি উইল করে কাউকে দিয়ে না যান তা হলে সমস্ত সম্পত্তির একনম্বর উত্তরাধিকারিণী দীপা। কিন্তু আনা যেখানে আছে সেখানে উইল হবেই। তিনি না গেলে আনা অন্য কাউকে ধরতে পারে। গোড়ালিতে ফোসকা পড়ছে বলে কোনও মূর্খ বলে না যে সে জুতো ব্যবহার করবে না। আনার দেওয়া প্রতুলবাবুর তৈরি উইলের খসড়া থেকে সম্পত্তির যে-হিসেব পাওয়া গিয়েছিল তাই উকিল ভদ্রলোককে দিয়ে দিয়েছিলেন অমরনাথ। কথা ছিল তিনি সবকিছু লিখে স্ট্যাম্প পেপারে টাইপ করিয়ে রাখবেন। ভদ্রলোকের বাড়ি এই করলা নদীর ধারে জলপাইগুড়ি গার্লস স্কুলের পাশেই।

    অমরনাথ পথ পরিবর্তন করে জিজ্ঞাসাবাদ করে উকিলবাবুর বাড়িতে পৌঁছালেন। ভদ্রলোক তখনও বাইরের ঘরে মক্কেলদের নিয়ে বসে। অমরনাথকে ঢুকতে দেখে মাথা নেড়ে বললেন, ‘বসুন।’ অমরনাথ কোনার দিকে একটা বেঞ্চিতে গিয়ে বসলেন। মক্কেলদের সঙ্গে কথাবার্তা সারতে আধ ঘণ্টা সময় লাগল। অমরনাথ দেখলেন একজন মক্কেল যাওয়ার সময় কুড়িটি টাকা দিয়ে গেল। উকিলবাবু ডাকলেন, ‘আসুন আপনি। আপনার তো অনেকদিন আগেই আসার কথা। দেরি হচ্ছে দেখে গতকালই আমার ভায়রাভাইকে একটা চিঠি দিয়েছি। কী ব্যাপার মশাই?’

    ‘নানারকম ঝামেলায় আটকে পড়েছিলাম।’

    ‘শুনুন, এ যা সম্পত্তি তার তুলনায় কোনও ঝামেলাই ইমপর্টেন্ট হতে পারে না। আচ্ছা, এই আনা মহিলাটিকে অংশ দিতেই হবে?’

    অমরনাথ অসহায়ভাবে মাথা নাড়লেন।

    ‘বুঝুন, বাড়ির ঝি সেবা করে মাথায় উঠছে। কাটানো যায় না?’

    ‘কীভাবে?’

    ‘কাটাতে চান? তা হলে আমার ওপর ছেড়ে দিন।’

    অমরনাথ দ্বিধায় পড়লেন। আনাকে প্রতারিত করে পুরো সম্পত্তির দখল নিলে লাভ হয় নিশ্চয়ই কিন্তু মন সায় দিচ্ছে না। তা ছাড়া সইসাবুদ তো আনাই প্রতুলবাবুকে দিয়ে করাবে। ব্যাপারটা জানতে পারলে সে অনর্থ করে ছাড়বে। না, কারও অভিশাপ থাকলে সম্পত্তি থেকে সুখ পাবেন না তিনি। অমরনাথ মাথা নাড়লেন, ‘দরকার নেই, যেমন বলেছি তেমন করুন।’

    উকিলবাবু হাসলেন, ‘আপনার যেমন ইচ্ছে। কাগজপত্র সব তৈরি করেই রেখেছি।’ তিনি উঠে আলমারির দরজা খুলে একটা ফাইল টেনে আনলেন, ‘যত তাড়াতাড়ি পারেন পেনসিলে টিক দেওয়া জায়গাগুলোয় সই করিয়ে আনুন। বাকি কাজটা আমি করে দেব।’

    অমরনাথ স্ট্যাম্প পেপারগুলো নিয়ে মন দিয়ে পড়তে লাগলেন। হ্যাঁ, সব ঠিকঠাক আছে। উকিলবাবু টেবিলের উলটোদিকে বসেছিলেন। পড়া শেষ হলে আচমকা প্রশ্ন করলেন, ‘আপনি হরদেব ঘোষালকে চেনেন? আপনার বেয়াইমশাইয়ের বন্ধু!’

    চমকে উঠলেন অমরনাথ। পরক্ষণেই মনে পড়ল কোর্ট কাছারিতে ঘোরাঘুরি করা হরদেবের নেশা। একই শহরের লোক সেই সূত্রে পরিচিত হতেই পারে। তিনি মাথা নাড়লেন, হ্যাঁ।

    ‘ভদ্রলোকের কাছে প্রতুলবাবুর কাহিনি শুনলাম। ওই আনা মেয়েটা তো মুঠোয় করে রেখেছে তাকে। খুব সুন্দরী নাকি?’

    ‘না। তেমন নয়।’

    ‘তা হলে নিশ্চয়ই স্বাস্থ্য ভাল।’ হ্যা হ্যা শব্দ করে হাসলেন উকিলবাবু, ‘হরদেবের সঙ্গে আপনার সম্পর্ক কীরকম?’

    ‘আলাপ আছে।’

    ‘উঁহু, মনে হল আরও বেশি কিছু। যাক, আর দেরি করবেন না।’

    একটু ইতস্তত করে অমরনাথ জিজ্ঞাসা করলেন, ‘আপনি কি হরদেবকে এই উইলের কথা কিছু বলেছেন?’

    ‘না মশাই। সেই বুদ্ধি না থাকলে ওকালতি করে খেতে পারতাম না। লোকটা একটা শেয়াল, খ্যাঁকশেয়াল বললেও কম বলা হয়। আমার মক্কেল আপনি, সে নয়।’

    অমরনাথ খুশি হলেন, ‘কত দিতে হবে?’

    ‘আমাকে?’ দুলে দুলে নিঃশব্দে হাসতে লাগলেন উকিলবাবু, ‘রাজার সম্পত্তি পেতে চলেছেন। এখনই কিছু দেওয়ার দরকার নেই। তবে পাওয়ার আগে আঙুলগুলো আর মুঠো করবেন না, তা হলেই হবে। পারলে আজই সই করিয়ে আনুন।’

    ‘তবু যদি একটা আন্দাজ দেন।’

    ‘আরে মশাই, এখন আপনার পকেটে যা আছে তাতে আমার কোনও আসক্তি নেই। আমি আমারটা ঠিক সময়মতো আপনার কাছে চেয়ে নেব। যদি প্রয়োজন হয় তা হলে কোর্টে চলে আসবেন। উকিলরা যেখানে বসে সেখানে খোঁজ করলে পেয়ে যাবেন।’

    ঝোলনা ব্রিজ পেরিয়ে হাকিমপাড়ায় ঢুকলেন অমরনাথ। এত শান্ত এলাকা যে মনেই হয় না শহরে এসেছি। চারপাশে নজর রেখে তিনি এগোচ্ছিলেন। তাঁর ভয় হচ্ছিল পথে হরদেবের সঙ্গে দেখা না হয়ে যায়। কিন্তু প্রতুল বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়ির গেট পর্যন্ত আসতে কোনও বিঘ্ন ঘটল না। বাগানের ভেতরে পা দিতেই গন্ধটা নাকে এল। বাঁদিকে একটা স্বাস্থ্যবান মাঝারি গাছে পদ্মের মতো সুন্দর ফুল ফুটেছে। একটু চিন্তা করে নামটা মনে করতে পারলেন তিনি, গ্ল্যান্ডিফ্লোরা। গন্ধে বুক ভরে যায়। ফুল ফোটে তার সময়মতো শুধু মানুষের সময়টার কোনও হিসেব থাকে না।

    সদর দরজা যথারীতি বন্ধ। চট করে মনে হয় কেউ বাস করে না। অমরনাথ দরজায় শব্দ করলেন কয়েকবার কিন্তু সাড়া মিলল না। প্রতুলবাবু নিশ্চয়ই মারা যাননি। এই ছোট্ট শহরে প্রতুলবাবুর মতো মানুষ মারা গেলে মুখে মুখে খবর ছড়াত। হঠাৎ অমরনাথের মনে হল উইলটুইল করার আগেই যদি প্রতুলবাবু চলে যান তা হলে আনাকে এক পয়সাও দিতে হবে না। সমস্ত সম্পত্তি আইনমোতাবেক দীপাই পাবে। মরে গেল নাকি? পরক্ষণেই মাথা নাড়লেন তিনি। কিছু বিশ্বাস নেই, কোখেকে একটা উইল বেরিয়ে পড়বে আর চোখে ধুতরো ফুল দেখতে হবে। যত যাই হোক, কোনও মানুষের মৃত্যু কামনা করা ঠিক নয়।

    ‘শেষপর্যন্ত মনে পড়ল!’

    গলাটা শুনেই চমকে ফিরে তাকালেন অমরনাথ। বাগানের রাস্তায় দাঁড়িয়ে আছে আনা। কে বলবে বাড়ির ঝি। শরীর স্বাস্থ্য যেন আরও ঝকমকে। স্নান করেছে বলে আরও টাটকা দেখাচ্ছে। হাতে ফুলের সাজি। ফুল তুলতে বেরিয়েছিল পেছনের দরজা দিয়ে।

    অমরনাথ আমতা আমতা করলেন, ‘সবকিছু তৈরি করতে দেরি হয়ে গেল!’

    ‘আমি হনুমান নাকি যে সূর্যকে বগলে আটকে রাখব? এইসময়ে তিনি যদি স্বর্গে চলে যেতেন তা হলে ওই তৈরি করা কাগজ আমার কোন কাজে লাগত?’

    অমরনাথ হাসলেন, ‘শেষ ভাল যার সব ভাল। এখন সব তৈরি।’

    ‘আসুন এদিক দিয়ে। সদর খোলা নেই।’ কথাগুলো বলে আনা বাগানের মধ্যে দিয়ে হাঁটতে লাগল। ওকে অনুসরণ করে প্রায়-পঞ্চাশের কাছাকাছি অমরনাথ হঠাৎ শিহরিত হলেন। আজকাল অঞ্জলির সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক দৈবাৎ হয়। তাঁর বাসনা অঞ্জলির নির্লিপ্তির কাছে চাপা পড়ে যায়। কোথায় যেন পড়েছিলেন, বাঙালি মেয়েদের মন পঁয়ত্রিশের এপাশে চলে এলেই শরীর নিবিয়ে দিয়ে নিশ্চিন্ত হতে চায়। অথচ আনার বয়স চল্লিশের এদিকে তো নয়ই। কিন্তু হাঁটার ধমকে সমস্ত শরীরে ঢেউ বয়ে যাচ্ছে তার। নিজেকে সংযত করতে প্রাণপণে চেষ্টা করছিলেন অমরনাথ। দেশটা বিলেত আমেরিকা নয়। বাঙালি পুরুষ যদি বিবাহিত এবং সন্তানের পিতা হয় তা হলে মনের মধ্যে এক সন্ন্যাসীকে ধরে রাখা অবশ্য কর্তব্য।

    পেছনের বারান্দায় পৌঁছে একটা মোড়া এগিয়ে দিল আনা, ‘বসুন।’ অমরনাথ বসলেন। সাজিটা রেখে দিয়ে এসে আনা বলল, ‘ওমা, আপনার কি শরীর খারাপ? মুখচোখ অমন হয়ে গিয়েছে কেন?’

    অমরনাথ দ্রুত মাথা নাড়লেন, ‘না না। কিছু হয়নি।’

    আনার ঠোঁটে হাসি চলকে উঠল, ‘না হলেই ভাল। কই দিন।’

    অমরনাথ উকিলবাবুর তৈরি উইল এগিয়ে দিলেন। আনা সেটাকে নিয়ে জিজ্ঞাসা করল, ‘চা দেব, না শরবত?’

    অমরনাথ বললেন, ‘কিছু না। আমি খেয়েই এসেছি।’

    ‘এসেছেন তো চা-বাগান থেকে। এতক্ষণে সব হজম হয়ে গেছে।’

    ‘না না, আমার কিছু প্রয়োজন নেই। প্রতুলবাবু কেমন আছেন?’

    ‘শালগ্রামশিলা।’

    ‘মানে?’

    ‘নড়াচড়া করতে পারে না যে তাকেই পুজো করতে হয়। আপনার সঙ্গে এর মধ্যে হরদেবের দেখা হয়েছিল?’

    ‘না তো!’

    ‘আমি ভেবে পাচ্ছিলাম না আপনার দেরি হচ্ছে কেন? খোঁজ নিতে মেয়ের কলেজে গিয়েছিলাম। সে তো এখন দিব্যি হয়েছে।’

    ‘হুঁ। তবে আজকালকার মেয়ে তো, এ-বাড়ির সঙ্গে কোনও সম্পর্ক রাখতে চায় না।’

    ‘সেটা অ্যাদ্দিন চাইত না। এখন সম্পত্তি পাবে, না চাইলে চলে?’

    ‘ও যে এসব পাচ্ছে তা জানে না।’

    ‘জানে না মানে?’

    ‘এ-বাড়ির কোনও কিছুর সঙ্গে ও যোগাযোগ নেই বলে জানে।’

    ‘এই যে উনি অতগুলো টাকা দিলেন পড়ার খরচ চালাতে?’

    অমরনাথ মুখ তুলে তাকালেন। আনার মুখে বিস্ময়। এই মহিলার কাছে প্রতুলবাবু কোনও কিছুই গোপন রাখতে শেষপর্যন্ত পারেন না। তিনি নিচু স্বরে বললেন, ‘সেটা ব্যাঙ্কে আছে। ব্যাঙ্কই পাঠাচ্ছে। দীপা জানে না!’

    ‘কদ্দিন ধামাচাপা দিয়ে চালাবেন?’

    ‘দেখি।’ অমরনাথ উঠলেন, ‘প্রতুলবাবুর সঙ্গে দেখা করতে পারি?’

    ‘দাঁড়ান। উনি এখন উদোম হয়ে পড়ে আছেন। চাদর টেনে দিই তারপর যাবেন।’ আনা ঘরে ঢুকে গেল। তাজ্জব হয়ে গেলেন অমরনাথ। অসুস্থ একটি মানুষ কেন বিবস্ত্র হয়ে বিছানায় শুয়ে থাকবে? পেচ্ছাব বাহ্যি করাচ্ছিল নাকি? তা তো নয়, আনা তো বাগানে ফুল তুলছিল! ব্যাঙ্কের ব্যাপারটা না বলাই উচিত ছিল।

    মিনিটখানেক বাদে প্রতুলবাবুর খাটের পাশে বসেছিলেন অমরনাথ।

    ‘চিনতে পারছেন?’

    ‘না পারার কোনও কারণ নেই।’ প্রতুলবাবুর গলার স্বর মিনমিনে কিন্তু স্পষ্ট। শরীর শুকিয়ে প্রায় দড়ির মতো হয়ে গিয়েছে। মুখ এবং বাইরে বেরিয়ে থাকা দুটো হাত দেখে সেটা বোঝা যায়। বাকি শরীর সাদা চাদরে ঢাকা। অমরনাথ অনুমান করলেন সেটি আনা এখনই ঢাকা দিয়েছে। আজ প্রতুলবাবু ঘাড় ঘোরাতে পারছেন না বলে মনে হল। তাঁর মুখ ছাদের দিকে স্থির। চোখ ঘুরছে।

    ‘মেয়ে কেমন আছে?’ সেই অবস্থায় প্রশ্ন করলেন প্রতুলবাবু।

    ‘ভাল। কলেজে পড়ছে।’

    ‘জলপাইগুড়িতেই তো আছে, দেখতে বড় সাধ হয়।’ প্রতুলবাবুর মুখ থেকে কথাগুলো বেরুতেই আনা বলল, ‘এখন আর সাধ হলে কী হবে।’

    ‘কী নাম যেন রাখা হয়েছিল? আশা, আশালতা। সেই নাম আর নেয়নি, না?’

    আনাই জবাব দিল, ‘না।’

    প্রতুলবাবু বললেন, ‘আমি খুব শিগগির যাচ্ছি না। সে কি আসবে?’

    ‘দেখি।’ অমরনাথ বলতে পারলেন।

    এবার আনা ঝুঁকে তাঁর কানের কাছে মুখ নিয়ে গিয়ে ফিসফিস করে কিছু বলল। প্রতুলবাবু চোখ ঘোরালেন, ‘আমাকে আপনারা ক্ষমা করেছেন?’

    ‘অতীতের ওইসব ব্যাপার ভুলে যাওয়াই ভাল।’

    প্রতুলবাবুর মুখে হাসি ফুটল, ‘একটা কথা রাখবেন?’

    ‘বলুন।’

    ‘আমি চলে গেলে আপনি আনুকে একটু দেখবেন।’

    অমরনাথ মুখ তুলতেই আনার ঠোঁটে হাসি খেলে গেল। প্রতুলবাবু হাত তুলতে চেষ্টা করছিলেন। সাদা চাদরটা সরে যাচ্ছিল। আনা প্রায় ঝাঁপিয়ে পড়ে ঠিক করে দিল সেটা। প্রতুলবাবু বললেন, ‘আর ঢেকে কী হবে। এসেছি যেভাবে যাব সেইভাবে।’ হাত নেতিয়ে পড়ল শরীরের পাশে।

    আনা ইশারা করল বাইরে বেরিয়ে যাওয়ার জন্যে। অমরনাথ বললেন, ‘চলি।’ প্রতুলবাবু সাড়া দিলেন না। চোখের পাতাদুটো বন্ধ হল মাত্র।

    বাইরের ঘরে পোঁছে অমরনাথ ছটফট করতে লাগলেন। উইলটা সই করাবার কোনও চেষ্টাই আনা করল না। লোকটাকে পেছন থেকে ধরে বসিয়ে দিলে নিশ্চয়ই সই করতে পারবে। এখন সই হয়ে গেলে তিনি কোর্টে গিয়ে উকিলবাবুর সঙ্গে দেখা করতে পারতেন। উইল আইনসংগত করতে কত খরচ পড়বে তিনি জানেন না। আজ না হলে তাঁকে আর একদিন আসতে হবে। এইরকম খুচরো ছুটি পাওয়াও তো মুশকিল।

    পায়ের শব্দে মুখ ফেরালেন তিনি। আনা বলল, ‘দাঁড়িয়ে কেন? বসুন।’

    ‘না না। যেতে হবে।’ অমরনাথ ব্যস্ততা দেখালেন।

    আনা হাসল, ‘উনি চলে গেলে আমার দায়িত্ব নিতে বললেন আপনাকে, কই, আপনি তো কোনও জবাব দিলেন না?’

    ‘কী বলব?’ মুখ ঘোরালেন অমরনাথ।

    ‘হরদেব ঘোষাল হলে কিন্তু বিশ্বরূপ দেখানোর মতো হাঁ করত।’

    অমরনাথ অস্বস্তিতে পড়লেন। হরদেব নাকি একসময় আনার শরীরের দিকে নজর দিয়েছিল। তাঁকে আর হরদেবকে আনা একই চরিত্রের মনে করছে নাকি! আজ হাঁটার ভঙ্গি দেখে কয়েক সেকেন্ড চঞ্চলতা এসেছিল, সেটা কয়েক সেকেন্ডই। হঠাৎ আনা হাত ঘুরিয়ে বলল, ‘না বাবা, আমার দায়িত্ব কাউকে নিতে হবে না। অ্যাদ্দিন দেখলাম যখন তখন চিতায় ওঠার আগে ঠিকই টিকে থাকতে পারব।’

    অমরনাথ জিজ্ঞাসা করলেন, ‘উইলটা সই করিয়ে নিলে আজই কোর্টে যাওয়া যেত।’

    আনা হাসল, ‘আমি তো ইংরেজি পড়তে জানি না। যাচাই করে নিই আপনি ঠিকঠাক লিখিয়েছেন কিনা। আমার ভাগটা ঠিকমতো লেখা আছে কিনা। পুরুষমানুষকে আমি বিশ্বাস করি না।’

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43 44 45 46 47 48 49 50 51
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleসাতকাহন ২ – সমরেশ মজুমদার
    Next Article কইতে কথা বাধে – সমরেশ মজুমদার (অসম্পূর্ণ)

    Related Articles

    সমরেশ মজুমদার

    চব্বিশ ঘণ্টার ঈশ্বর – সমরেশ মজুমদার

    December 4, 2025
    সমরেশ মজুমদার

    ছোটগল্প – সমরেশ মজুমদার

    December 4, 2025
    সমরেশ মজুমদার

    আট কুঠুরি নয় দরজা – সমরেশ মজুমদার

    December 4, 2025
    সমরেশ মজুমদার

    উত্তরাধিকার – সমরেশ মজুমদার

    December 4, 2025
    সমরেশ মজুমদার

    গর্ভধারিণী – সমরেশ মজুমদার

    December 4, 2025
    সমরেশ মজুমদার

    কইতে কথা বাধে – সমরেশ মজুমদার (অসম্পূর্ণ)

    December 4, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    अनीश दास
    मौलाना शाह वलीउल्लाह
    रेवरेंड के. के. जी. सरकार
    অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিজ্ঞান রায়চৌধুরী
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমরেন্দ্র চক্রবর্তী
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অরিন্দম দেবনাথ
    অর্পিতা সরকার
    অশোককুমার মিত্র
    অসম্পূর্ণ বই
    আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    কৌশিক সামন্ত
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোপেন্দ্র বসু
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যজ্যোতি মজুমদার
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণু শর্মা
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহতাব উদ্দিন
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    রেভারেণ্ড কে. কে. জি. সরকার
    লীলা মজুমদার
    লেইল লোনডেস
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শঙ্কর চ্যাটার্জী
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শাক্যজিৎ ভট্টাচাৰ্য্য
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্যামল গঙ্গোপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সন্দীপন চট্টোপাধ্যায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সম্পাদনা : শৈলেন্দ্র হালদার
    সরদার ফজলুল করিম
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সায়ন্তনী পূততুন্ড
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্মরণজিৎ চক্রবর্তী
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মাহতাব উদ্দিন : জীবন ও গান

    May 18, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মাহতাব উদ্দিন : জীবন ও গান

    May 18, 2026
    Our Picks

    মাহতাব উদ্দিন : জীবন ও গান

    May 18, 2026

    পরমপুরুষ শ্রীশ্রীরামকৃষ্ণ ২ – অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত

    May 18, 2026

    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের প্রেমের গল্প – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    May 16, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }