Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    মাহতাব উদ্দিন : জীবন ও গান

    May 18, 2026

    পরমপুরুষ শ্রীশ্রীরামকৃষ্ণ ২ – অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত

    May 18, 2026

    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের প্রেমের গল্প – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    May 16, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    সাতকাহন ১ – সমরেশ মজুমদার

    সমরেশ মজুমদার এক পাতা গল্প936 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ৩৬. ভবিষ্যৎ সম্পর্কে প্ৰচণ্ড অসহায়তাবোধ

    অমরনাথের মৃত্যুর আশঙ্কায় এবং মৃত্যুর ঠিক পরে অঞ্জলি যেরকম আচরণ করছিল তা কাজ মিটে যাওয়ার পর পালটে গেল। ভবিষ্যৎ সম্পর্কে প্রচণ্ড অসহায়তাবোধ থেকে সে যেন কিছুটা অপ্রকৃতিস্থ হয়ে পড়েছিল। আর এর পুরো ঝাঝটা গিয়ে পড়েছিল দীপার ওপরে। মায়ের এমন আচরণে প্রভাবিত হয়েছিল ছেলেরা। অবশ্য তারা আর মুখের ওপর কিছু বলছিল না কিন্তু অবহেলা করতে তাদের বিন্দুমাত্র অসুবিধে হচ্ছিল না।

    অমরনাথের কাজ মিটে যাওয়ার পর দেখা গেল অঞ্জলি নিজেকে দারুণভাবে গুটিয়ে নিয়েছে। বেশি কথা বলার বদলে অদ্ভুত এক গাম্ভীর্যে নিজেকে আড়াল করে ফেলল সে। বুধুয়া অমরনাথের মৃত্যুর খবর পেয়ে আবার এ-বাড়িতে চলে এসেছিল। তাকে ডেকে বলে দিল, ‘আমার এমন পয়সা নেই যে তোর মাইনে দেব। তুই এখানে সময় নষ্ট করিস না।’

    অতএব বুধুয়া আবার ফিরে গেল লাইনে।

    তিরিশ বছর আগে চা বাগান আর তার লাগোয়া বাজার, কাঠের মিল নিয়েই ছিল জনবসতি। কিন্তু স্বাধীনতার পর থেকেই সেটা বেড়ে যাচ্ছিল। বিশেষ করে বাজারের এলাকাটা। আংরাভাসা নদীর ধার দিয়ে কলোনি তৈরি হচ্ছিল। এক সকালে দুই ছেলেকে নিয়ে অঞ্জলি বীরপাড়ার রাস্তায় সেরকম একটা জমি দেখে এল। হাজার চারেকের মধ্যে সাত কাঠা জমি পাওয়া যাচ্ছে আসাম রোড থেকে এক মিনিটের দূরত্বে। এখনও কাঠ সস্তা এখানে। জমি কিনে দু-তিন ঘরের বাড়ি তৈরি করে নিলে আর রাস্তায় গিয়ে দাড়াতে হবে না। মাথার ওপরে একটা ছাদ থাকলে কে কী খাচ্ছে তা নিয়ে লোকে মাথা ঘামাবে না। কথাটা শুনে মনোরমা অবাক হবেন, ‘সেকী! ওদিকে তো শ্মশান!

    ‘এখন তো শ্মশানেই বাস করার সময় এসেছে আমাদের।’

    মনোরমা অঞ্জলির দিকে অবাক হয়ে তাকালেন, ‘সাহেব তো এ-বাড়ি ছেড়ে দিতে বলেনি!’

    ‘আজ বলছে না। আগামীকাল যে বলবে না এমন তো কথা নেই। আর মানুষের কথায় আমি বিশ্বাস করি না। দু’বছর ধরে অপেক্ষা করার মতো বোকামি আমি করব না।’

    ‘ওখানে ফাঁকা মাঠ, মানুষজন নেই—!’

    ‘এখন নেই, হতে কতক্ষণ। যেমন অবস্থা তেমনভাবেই থাকতে হবে।’

    ‘বউমা।’

    ‘বলুন।’

    ‘তুমি আমার কথা কিছু ভেবেছ?’

    ‘আপনার কথা? মানে বুঝলাম না।’

    ‘আমি বুঝতে পারছি না আমার কী করা উচিত!’

    ‘আপনি একথা আপনার ছেলে থাকলে বলতে পারতেন। আমার যা অবস্থা হবে আপনারও তা না হবার কোনও কারণ নেই।’

    মনোরমা আর কথা বাড়াননি। অমরনাথ চলে যাওয়ার পরে অঞ্জলি সম্পর্কে তাঁর ব্যবহারেও পরিবর্তন এসেছে। এখন তিনি ওকে অত্যন্ত সমীহ করে কথা বলেন। একদিন যে-অল্পবয়সি মেয়েকে বাড়ির বউ করে এনেছিলেন সে-ই এখন কর্ত্রী হয়ে গিয়েছে। বৈধব্যের পরে যেকাঠিন্য অঞ্জলি অর্জন করেছে নিজের জীবনে তাঁর সঙ্গে কোনও পরিচয় তার কখনও ঘটেনি। দীপারও মনে হয় মনোরমা পালটে গিয়েছেন। অধিকারবোধ থেকে যে-আচরণে তিনি অভ্যস্ত ছিলেন তা রাতারাতি উধাও।

    অঞ্জলির এই ব্যবহার দীপাকে মনস্থির করতে সাহায্য করল। প্রতি মুহূর্তে এবাড়িতে নিজেকে অবাঞ্ছিত লাগছে। অঞ্জলি তার সঙ্গে কথা বলার প্রয়োজন বোধ করছে না। অন্যান্য কোয়ার্টার্স থেকে মহিলারা এসে দীপার চাকরির কথা তুললে প্রকাশ্যে বলতে পারছে, বিধবা মেয়ের উপার্জনে জীবন যাপন করার কোনও বাসনা তার নেই। অঞ্জলির স্বভাব থেকে সবরকম নরম বোধই যেন উধাও হয়ে গিয়েছে। কলেজ খুললে দীপা কলকাতায় চলে গেলে যেন স্বস্তির আবহাওয়া ফিরে আসবে এমন মনে হচ্ছিল ক্রমশ।

    অতএব এ-জন্মের মতো এ বাড়ির সঙ্গে সম্পর্ক শেষ হতে চলেছে আগামীকাল। সকালবেলায় সে রওনা হবে জলপাইগুড়ি শহর থেকে ট্রেন ধরতে। এই ভাল হল। এখন একমাত্র মনোরমা ছাড়া এ বাড়ির কোনও মানুষ তাকে আর টানছে না। কিন্তু প্রকৃতি তাকে টানছে। এই চা-বাগান, দেবদারু গাছ, চাপা ফুলের মাঠ, আসাম রোড— আর কোনওদিন হয়তো সে এদের কাছে ফিরে আসবে না। হঠাৎ দীপার মনে হল এখনও তার মনে এদের সম্পর্কে স্মৃতি বেঁচে আছে বলেই এরা তাকে টানছে। কিন্তু এই টান তেমন সক্রিয় নয় যেমনটা ছিল সে যখন এখানেই দিনরাত কাটাত। হয়তো বছর গেলে, স্মৃতির ওপর অন্য স্মৃতি জমা হলে একদিন আসবে যখন কোনও টানই সে বোধ করবে না। সবরকম সম্পর্কের ক্ষেত্রে এই কথাটা প্রযোজ্য। এবার প্রথমদিন এসে অমরনাথের পাশে বসে থেকে যে অনুভূতি হয়েছিল আজ তা এর মধ্যে কিছুটা ফিকে হয়ে কি যায়নি? এমন জীবনের গল্প সে অনেক পড়েছে যেখানে মানুষ সম্পূর্ণ একা হয়ে পৃথিবীর সমস্ত বাধার সঙ্গে লড়াই করে বেঁচে আছে। তা হলে সে পারবে না কেন?

    রাত্রে মনোরমার পাশে শুয়ে, কিন্তু তার মন কেমন করতে লাগল। মনোরমার চোখেও আজ ঘুম নেই। কেবল উসখুস করছেন। হঠাৎ দীপা চাপা স্বরে জিজ্ঞাসা করল, ঠাকুমা, আমি চিঠি লিখলে তুমি জবাব দেবে তো?’

    মনোরম নিশ্বাস ফেললেন, ‘যদ্দিন খাম পোস্টকার্ড কেনার সামর্থ্য থাকবে তদ্দিন দেব।’

    দীপা আরও কিছুক্ষণ চুপ করে রইল। তারপর জিজ্ঞাসা করল, ‘আমি চাকরি করলে তোমাকে যদি নিয়ে যেতে চাই তুমি আমার কাছে গিয়ে থাকবে তো?

    আচমকা মনোরমা ডুকরে উঠলেন, ‘তুই আমাকে নিয়ে যাস, যত তাড়াতাড়ি পারিস নিয়ে যাস। আমার আর এখানে থাকতে একদম ইচ্ছে করছে না।’ দীপা পাশ ফিরে মনোরমাকে জড়িয়ে ধরল দু’হাতে। তার হাতের বাঁধনে মনোরমা থরথর করে কাঁপছিলেন।

    অনেক অনেক সময় চলে গেলে, একমাত্র কুলি লাইনের মাদলের আওয়াজ ছাড়া পৃথিবী যখন নিস্তব্ধ, তখন মনোরমা উঠলেন। হ্যাঁরিকেনের টিমটিমে আলোটাকে বাড়িয়ে মিটসেফের মতো আলমাবিটাকে খুললেন। দীপা উঠে বসেছিল। সামান্য খোঁজাখুঁজি করে মনোরমা একটা খাতা বের করলেন, ‘এইটে তোর বাবার। কলকাতার হাসপাতালে শেষদিকে যখন ভাল হয়ে উঠেছিল তখন লিখত। এখানে এসে একদিন আমাকে বলল, তোমার কাছে রেখে দাও। কেন বলেছিল তখন বুঝতে পারিনি। তুই রাখ, তোর কাছে রেখে দে।’

    দীপা হাত বাড়িয়ে বাঁধানো ঘোট খাতাটা নিল। মনোরমা ফিরে এলেন বিছানায়, ‘এককালে তোর বাবা খুব পড়তে ভালবাসত। অনেক পত্রিকা, কিনত। আনন্দবাজার, দীপালী, সচিত্র ভারত। বিয়ের আগে গল্প লেখার চেষ্টা করত। মনোরমা নিশ্বাস ফেললেন।

    দীপা জিজ্ঞাসা করল, ‘কী লেখা আছে এতে?’

    ‘পড়ে দেখিস।’ মনোরমা পাশ ফিরে শুলেন।

    ‘মা জানেন খাতার কথা?’

    মনোরমা জবাব দিলেন না। হ্যাঁরিকেনকে মাথার পাশে একটা টুলের ওপর তুলে দীপা খাতার পাতা ওলটাল। অমরনাথের হাতের লেখা প্রায় ছাপার মতো। কিন্তু এখানে যেন সামান্য কাঁপুনি এসেছে অক্ষরগুলোয়। প্রথম পাতায় লেখা, করুণাধারা কোথায়? কবির কাছে যা সহজে আসে তা সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে? কেন? বাকি পাতাটা একদম সাদা। দ্বিতীয় পাতায় লেখা, মৃত্যুর দরজা থেকে ফিরে এলাম। কিন্তু মনে এবং শরীরে মরণের গন্ধ লেগে গেছে। হাজার ওষুধেও সেই গন্ধ মুছবে বলে মনে হয় না। মাঝে মাঝে তাই নিজেকে জিজ্ঞাসা করি, আমি কেন বেঁচে আছি? উত্তর পাই না। বেঁচে থাকার জন্যেই বেঁচে থাকা— এ আর এখন ভাল লাগে না।’

    তৃতীয় পাতায় নজর দিল দীপা, অকালে বিয়ে দিয়ে মেয়েটার যতটা সর্বনাশ করেছিলাম, ওর জন্যে টাকা নিয়ে নিজের সর্বনাশ ততটাই করলাম বলে একসময় মনে হয়েছিল। স্নেহের মানুষের কাছে অশ্রদ্ধা পাওয়া তো চরম সর্বনাশ। এই হয়, মানুষ করতে যায় এক ভেবে, হয়ে যায় উলটো। কিন্তু আমার বিশ্বাস আছে মেয়ে নিজের জীবনকে গড়ে নিতে পারবে। ওর মধ্যে একটা তেজ আছে যা আমার ছিল। না। অঞ্জলির সঙ্গেও ওর কোনও মিল নেই। অঞ্জলি সংসার ছাড়া অন্য কিছু বোঝে না। বরং মাঝে মাঝে মনে হয় মায়ের সঙ্গে ওর কিছু মিল আছে। বুকে দুঃখের আগুন যাদের নিরন্তর তাদের তো মিল থাকাই স্বাভাবিক।

    সকালে বেরুবার আগে মনোরমাই জোর করে খাওয়ালেন দীপাকে। অঞ্জলি বসে ছিল বাইরের ঘরে। তাকে প্রণাম করল দীপা, বলল, ‘আসছি।’

    অঞ্জলি কথা না বলে ঘাড় নাড়ল। এক পলক তার মুখের দিকে তাকিয়ে জিনিসপত্র নিয়ে বাইরে বেরিয়ে এল দীপা। বড় ভাই বারান্দায় ছিল, দিদিকে দেখে মুখ ঘুরিয়ে নিল। মনোরমা তাকে জিনিসগুলো রাস্তায় বয়ে নিয়ে যেতে বললে দীপা বাধা দিল, ‘আমি একাই পারব। সারাটা পথ তো আমাকেই বইতে হবে ঠাকুমা।’

    আসাম রোড পর্যন্ত মনোরমা সঙ্গে এলেন। দীপা ঘাড় ঘুরিয়ে জায়গাটাকে শেষবার দেখে নিল। মনোরমা বললেন, ‘সাবধানে থাকিস। শরীরের প্রতি যত্ন নিস।’

    ‘হ্যাঁ।’

    ‘তোকে খুব বড় হতে হবে।’ মনোরমার গলার যেন অমরনাথের আকুতি।

    ‘হুঁ!’

    ‘কখনও কোনও প্রলোভনে ভুলিস না। তোর বয়স কম যাচাই না করে কোনও পথে পা বাড়াস না। বাবার কথা সবসময় মনে রাখবি!

    ‘তোমার কথা?’ দীপা মুখ ফেরাল।

    থতমত হয়ে গেলেন মনোরমা, ‘আমার কী আছে বল! সারাজীবন ধরে পরের দয়ায় বেঁচে আছি। মনে কোনও সাধ এলেও মুখ ফুটে চাইতে পারিনি। আমি তো তোর জন্যেও কিছুই করতে পারিনি। বরং একসময় খুব কষ্ট দিয়েছি।’ মনোরমা এইসব কথা বলছিলেন অদ্ভুত একটা সুরে। তাতে কান্না ছিল এবং দীপার মন খুব খারাপ করে দিল। এইসময় জলপাইগুড়ির বাস এল। নির্জন রাস্তায় হাত দেখালেই এই রুটের বাস দাড়িয়ে যায়। বাসটাকে হাত দেখাতে হল না আজ। মালপত্র কনডাক্টর তুলে নিল। সিড়ি ভেঙে ভেতরে উঠতে-না-উঠতেই বাস গড়াতে আরম্ভ করল। বসার জন্যে সিট খুঁজে নেওয়ার আগে দীপা নিচু হয়ে মনোরমাকে দেখতে চাইল। এক ঝলক, জানলার একটা ফ্রেমের মধ্যে মনোরমার মুখ। ডান হাতে আঁচল তুলে দাতে চেপে ধরেছেন। সেই মুখ মিলিয়ে গিয়ে দেবদারু আর পাইনের গাছগুলো ছুটে আসতে লাগল জানলায়। দীপার চোখ ঝাপসা। আর সেই ঝাপসা চোখের ভেতর মনোরমার ওই ভঙ্গিটি চিরকালের জন্যে গাঁথা হয়ে গেল।

    কনডাক্টর তাকে সিট দেখিয়ে দেওয়ার পর নিজেকে সেখানে ছেড়ে দিল দীপা। এখন বাসের সমস্ত মানুষ তাকে লক্ষ করছে কিন্তু সে ভ্রূক্ষেপ করল না। সিটে বসে নিজের মুখ দু’হাতে ঢেকে শক্তি খুঁজতে চাইল প্রাণপণে। সে জানে বাস তার চেনা চৌহদ্দি ছাড়িয়ে চলেছে। চোখ থেকে হাত সরালেই সেটা দেখতে হবে। কিন্তু আজ একদম দেখতে ইচ্ছে করছিল না। তার মন জুড়ে এখন মনোরমা, এক নিঃসঙ্গিনী বৃদ্ধার মুখ।

    কিছুদিন আগেও বুক কেঁপে উঠত, পাঁজরে ব্যথা হত। এত বড় পৃথিবীতে সে একদম একা। অসুস্থ হলেও কেউ এসে পাশে দাড়াবে না। বস্তুত, কলকাতা শহরে অসুস্থ না হলে তেমন করে একাকিত্ব বোঝা যায় না। আত্মীয়স্বজনহীন তার মতো মেয়ে নিশ্চয়ই একা পৃথিবীতে বেঁচে আছে। রোজ খবরের কাগজ খুললেই পূর্ব পাকিস্তান থেকে পালিয়ে আসা শরণার্থীদের গল্প পড়তে হয়। সেই গল্পে অল্পবয়সি মেয়ে আছে যারা জীবনের কাছে ধর্ষিতা। পালিয়ে আসার পথে মা-বাবা-ভাই-বোন-জমি এবং সতীত্বকে হারিয়ে এসেছে। আসতে বাধ্য হয়েছে। এসে এখানকার শরণার্থী ক্যাম্পে আরও অন্ধকার ভবিষ্যতের দিকে তাকিয়ে অপেক্ষা করছে। এদের কথা ভাবলেই মনে সাহস আসে। নিজেকে অনেক স্বাধীন মনে হয়। কিন্তু একটা শব্দের অর্থ তার মাথায় কিছুতেই পরিষ্কার হয় না। মায়া এবং মায়ার মায়ের সঙ্গেও কথা বলেছে। তাদের ধারণা অনেকটা একরকমও। আবার গ্লোরিয়া সম্পূর্ণ উলটো ধারণা পোষণ করে। শব্দটা হল সতীত্ব। সতী মানে সাধ্বী, পতিব্রতা, সচ্চরিত্রা। আর সতীত্ব হল পতিব্রতা, সতী স্ত্রীর ধর্ম। যে-মেয়ে সৎ চরিত্রের তাকে যদি কোনও লোভীর দল গায়ের জোরে ধর্ষণ করে তা হলে সে অসহায় অবস্থায় আত্মসমর্পণ করতে বাধ্য হবে। কিন্তু ওই কাজের জন্যে তার সতীত্ব চলে যাবে কেন? সে নিজে তো অসৎ নয়। দ্বিতীয়ত, পতিব্রতা নারী অথবা স্বামীর প্রতি আনুগত্য যদি সতীত্বের ব্যাখ্যা হয় তা হলে বলতে হবে বস্তুটি হল এক ধরনের প্রশ্নহীন আত্মনিবেদন। পতিদেবতার কাছে আত্মসমর্পণ। সেটা করতে আপত্তি নেই যদি পতিদেবতাও একই রকম ভূমিকা গ্রহণ করেন। কিন্তু যদি শব্দটাকে এমনভাবে ব্যাখ্যা করা হয়, দুই নারী পুরুষ পরস্পরের প্রতি ভালবাসায় নিবিড় হয়ে থাকে মন এবং শরীর নিয়ে—, দীপা মাথা নাড়ে, না, এটাও ঠিক হল না। এই শরীর এবং মন তার—যাকে আমার এক জন্মের ভালবাসা দিয়েছি। এটাই বোধহয় সতীত্বের ব্যাখ্যা হওয়া উচিত। অসীম এসব শুনে দীপার দিকে তাকিয়ে অবাক হয়ে জিজ্ঞাসা করল, এসব নিয়ে এত ভাবো কেন?’

    দীপা বলল, ‘বাঃ, কিছু কিছু শব্দ বা ভাবনা আদ্যিকাল থেকে চলে এসেছে যা মেয়েদের আচরণকে বেড়ি পরিয়ে রেখেছে পুরুষদের স্বার্থে। তা যে কী ফালতু সেটা বুঝিয়ে দেওয়া দরকার।’

    ‘সতীত্ব শব্দটি তা হলে ফালতু?’

    ‘নিশ্চয়ই, যদি সেটা পুরুষদের ক্ষেত্রেও ব্যবহার না করা হয়! দশজন মহিলার ওপর বলাৎকার করলে কি কেউ বলে ওই পুরুষটার সতীত্ব চলে গেছে?

    ‘তা বলে না। কিন্তু লম্পট বলতে দ্বিধা করে না।’

    ‘সেরকম শব্দ তো মেয়েদের সম্পর্কে বলা হয়। দুশ্চরিত্রা। কিন্তু মেয়েদের সম্পর্কে সতীত্ব ব্যবহার করা হয় খুব নিচু ভাবনা নিয়ে। সেক্স জড়িয়ে থাকে তাতে। একটি মেয়ে দশটি ছেলেকে নাচাচ্ছে, ঘুরছে, ঘর ভাঙছে, কিন্তু কাউকে শরীর পর্যন্ত পৌছাতে দিচ্ছে না। সেই মেয়ের যখন বিয়ে হল তখন স্বামীই একমাত্র পুরুষ যার সঙ্গে তার শারীরিক সম্পর্ক হল। এই মেয়েটিকে কি সতী বলবে?

    অসীম স্বীকার করল, ‘সমাজ তাই বলবে।’

    দীপা শব্দ করে হাসছিল। শ্যামবাজার থেকে সার্কুলার রোড ধরে ওরা হেঁটে আসছিল। তখন বিকেল শেষ হয়েছে। খান্না সিনেমার সামনে টিকিট প্রার্থীদের ভিড়। অনেকে মাথা ঘুরিয়ে সেই হাসির শব্দে তাকাল। দীপা সেটা উপেক্ষা করল। কিন্তু অসীমকে একটু আড়ষ্ট দেখাল। গ্রে স্ট্রিটের মোড় ছাড়াতে বাঁদিকের ফুটপাথে বেশ কিছু স্বৈরিণীকে দেখা গেল যে যার মতো সেজে খদ্দের ধরার জন্যে লাইন দিয়ে অপেক্ষা করছে। অসীম মনে মনে প্রার্থনা করছিল দীপার দৃষ্টি যেন ওদিকে না। পড়ে। জায়গাটা পেরিয়ে এসে যেই সে স্বস্তির নিশ্বাস ফেলতে যাচ্ছে তখনই দীপা বলল, ‘আচ্ছা, ধরো, ওই যে মেয়েগুলো দাড়িয়ে আছে তাদের একজন প্রথমদিন থেকে আজ পর্যন্ত একই ভঙ্গিতে দাড়ায়, কেউ চাইলে তাকে ঘরে নিয়ে গিয়ে বসায়, গল্প করে, গান শোনায়, খায়দায়, কিন্তু তার বেশি। এগোতে দেয় না। শরীরের ব্যাপারে সে অত্যন্ত সচেতন। কোনও পুরুষ আজ পর্যন্ত তাকে ব্যবহার করতে পারেনি। তুমি কি এই মেয়েটিকে সতী বলবে? তার তথাকথিত সতীত্ব কিন্তু সম্পূর্ণ অক্ষুন্ন রয়েছে।

    অসীম মাথা নাড়ল, ‘না। তা বলা যাবে না।’

    ‘বেশ। যদি উলটো হয়। একটি মেয়ে তার প্রিয়জনের জন্যে জীবন দিতে দ্বিধা করে না, সমস্তরকম ঝড় থেকে প্রিয় মানুষকে আগলে রাখে। কিন্তু শরীর সম্পর্কে সে বড়ই উদাসীন এবং সেটাকে ধর্তব্যের মধ্যে ভাবে না। তা হলে তাকে কি সতী বলবে?’

    অসীম হেসে ফেলল, ‘বলা যাবে কি?’

    দীপার খুব রাগ হয়ে গেল। হস্টেল পর্যন্ত এল চুপচাপ। ওর কথা বলতেই ইচ্ছে করছিল না। মুখ দেখে অসীমও সেটা বুঝতে পেরেছিল। গেট থেকে ফেরার আগে জিজ্ঞাসা করল, কাল তা হলে যাচ্ছ?’

    ‘কোথায়?’

    ‘বাঃ, আমাদের বাড়িতে। ভুলে গেলে?’

    ‘না।’

    ‘সেকী? মা তোমায় দেখতে চেয়েছেন।’

    ‘কিন্তু তার আগে তোমার সঙ্গে আমার কথা আছে।’

    ‘আচ্ছা, সতীত্ব অসতীত্ব নিয়ে তোমার মাথা ঘামানোর কী দরকার?’

    ‘কাল কলেজের পর কথা বলব।’ দীপা দাঁড়াল না। এবং অনেক পরে বিছানায় চুপচাপ শুয়ে নিজের ওপর রাগ হচ্ছিল তার। ওভাবে রেগে যাওয়ার কোনও মানে হয়? কিন্তু অসীম যদি প্রতিবাদ করত, যদি তর্ক চালাত, তা হলে তার ভাল লাগত। যুক্তিহীন অস্বীকার থেকেই তার মেজাজ গরম হয়েছিল। তা হলেও তার নিজেকে সংযত রাখা উচিত ছিল। অসীম ভাল ছেলে। এখন আর ব্যাপারটা চাপা নেই। কলেজের অনেক ছেলেমেয়ে এই নিয়ে কানাকানি করেছে। একসঙ্গে রাস্তায় হাঁটা, কখনও কফি হাউসে গিয়ে বসা, আর অনর্গল কথা বলে যাওয়া— এসবে মানুষের চোখ এখনও তেমন অভ্যস্ত নয়। গল্প তো হবেই। জলপাইগুড়ি শহর হলে হয়তো কলেজ থেকেই চাপ আসত, পোস্টার পড়ত দেওয়ালে। কলকাতার বাগবাজারে বৃষ্টি হলে শ্যামবাজারে টের পাওয়া যায় না। কিন্তু অসীম এখন তার বড় কাছের মানুষ। এই পৃথিবীতে সে একা এমন বোধ আর তীব্র হয়ে বুকের হাড়ে কাপুনি ধরায় না।

    মাঝরাত্রে হস্টেলের গেটে খুব গোলমাল হল। চিৎকার চেঁচামেচিতে ঘুম ভেঙে গেল দীপার। ঘরে সে একাই ছিল। গ্লোরিয়া সাতসকালে শান্তিনিকেতনে বেড়াতে গিয়েছে। জানলায় গিয়ে দাড়াতে দারোয়ানের গলা পেল। যে গেট খুলতে বলছে তাকে দারোয়ান ধমকাচ্ছে। এত রাত্রে গেট খোলা সম্ভব নয়। শেষপর্যন্ত সুপার বেরিয়ে এলেন ঘর থেকে। দারোয়ান তার কাছে নালিশ করল। বহিরাগতের সঙ্গে কথা বলে সুপার দারোয়ানকে গেট খুলতে আদেশ দিলেন। সাদা পোশাকের একজন পুলিশ অফিসার ভেতরে ঢুকে নিজের পরিচয় দিলেন। সুপারকে জিজ্ঞাসা করলেন, ‘গ্লোরিয়া নামে একটি আফ্রিকান নিগ্রো মেয়ে এখানে কি থাকত?’

    ‘হ্যাঁ। কেন বলুন তো?’

    ‘আপনি সুপারিনটেনডেন্ট?’

    ‘হ্যাঁ।’

    ‘তা হলে আপনাকে একবার আসতে হবে। ওকে খুন করা হয়েছে।’

    ‘খুন?’ চমকে উঠলেন সুপার। আর জানলায় দাড়িয়ে কেঁপে উঠল দীপা। পুলিশ অফিসার বললেন, ‘বর্ধমান পুলিশ ওর ডেডবডি পেয়েছে। বাস রাস্তার ধারে খেতের ওপর পড়ে ছিল। ব্যাগে যেসব কাগজপত্র পায় তা থেকেই আমাদের জানিয়েছে। ডেডবডি এখনও আছে বর্ধমানে।

    ‘আমাকে কি সেখানে যেতে হবে?’

    ‘হ্যাঁ।’

    ‘তা হলে আমার প্রিন্সিপ্যালের সঙ্গে আগে কথা বলা দরকার। তা ছাড়া মেয়েটি জাম্বিয়ার নাগরিক। আমি কিছুই বুঝতে পারছি না।’

    ‘মেয়েটি ওরকম জায়গায় গেল কী করে বলুন তো?’ অফিসার জানতে চাইলেন।

    ‘আমি বুঝতে পারছি না।’

    ‘কী আশ্চর্য! হস্টেলের একটা মেয়ে যে বাইরে আছে সেই খবর রাখেন না?

    ‘তা রাখব না কেন? ও তো আমার অনুমতি নিয়ে শান্তিনিকেতনে গিয়েছিল।’

    ‘কার সঙ্গে?’

    ‘তা আমি জানি না।’

    অফিসার একটু ভাবলেন, ‘মুশকিল হল মেয়েটি ভারতবর্ষের নাগরিক নয়। এ নিয়ে অনেক ঝামেলা হবে। দিল্লি থেকে প্রশ্ন করবে। কাল সকালে এই খবর চিফ মিনিস্টারের কানে পৌঁছাবে। সাধ করে কি মাঝরাতে আপনাদের ঘুম ভাঙতে এলাম। মেয়েটি কোন ঘরে থাকত?’

    ‘ওপরে।’

    ‘চলুন। ঘরটাকে বন্ধ করে যেতে হবে। ওর জিনিসপত্রে কেউ যেন হাত না দেয়! এনকুয়ারি শেষ না হওয়া পর্যন্ত ওইরকম থাকবে।’

    ‘কিন্তু ওর রুমমেট আছে ও-ঘরে।’

    ‘জাম্বিয়ান?’

    ‘না বাঙালি।’

    ‘ওকে অন্য ঘরে শিফট করান। চলুন আমার সঙ্গে।’

    জানলা থেকে সরে এল দীপা। গ্লোরিয়ার বিছানা জিনিসপত্র ঘরের একটা দিকে ছড়ানো। অথচ মেয়েটি আর বেঁচে নেই। কাল রাত্রে গ্লোরিয়া বলেছিল, ‘শরীর নিয়ে আমি মোটেই ভাবি না, মানুষের হৃদয়ই আমার কাছে বেশি মূল্যবান। দু’হাতে মুখ ঢেকে দীপা যখন দাড়িয়ে দাড়িয়ে কাঁদছে তখন সুপার পুলিশ অফিসারকে নিয়ে দরজায় এলেন। দরজা বন্ধ ছিল। ওপারে ওঁদের কথাবার্তা এবং কড়া নাড়ার শব্দ হল। দীপা দরজা খুলতেই সুপার বললেন, ‘শোনো, গ্লোরিয়ার একটা অ্যাকসিডেন্ট হয়েছে। পুলিশ এই ঘব সিল করে দিতে চাইছে। তুমি আপাতত আমার গেস্টরুমে চলে এসো জিনিসপত্র নিয়ে।’ দীপা মাথা নাড়ল। হস্টেলের কাজের লোকদের তুলে দীপার জিনিসপত্র ঘর বদল করা হল। এবার পুলিশ অফিসার ঘরে তালা লাগিয়ে সেটা সিল করে দিলেন। এখন সমস্ত মেয়েরা ঘর থেকে বেরিয়ে এসেছে। গ্লোয়িবার মৃত্যুসংবাদ শোনামাত্র সবাই স্তব্ধ। গ্লোরিয়ার বান্ধবী দুই জাম্বিয়ান ছাত্রীকে নিয়ে পুলিশ চলে গেল থানায় জিজ্ঞাসাবাদ করতে। হঠাৎ দীপার মনে পড়ল ভালবাসাহীন জীবন অর্থহীন, এমন কথা গ্লোরিয়া বলেছিল প্রেমে আঘাত পেয়ে। কিন্তু তারপর অনেকদিন চলে গিয়েছে। গতকালও তো মেয়েটা ছিল হাসিখুশি! ঘুম এল না, বাকি রাতটায় চুপচাপ জেগে থাকল দীপা পাথরের মতো। মৃত্যু কী সহজ, কী নিঃশব্দে আসে। অথচ মানুষ চিরকালই জীবন নিয়ে গর্ব করে যায়।

    পরের দিন খবরের কাগজে ঘটনাটা ছাপা হল। বর্ধমানের কাছে একটা গ্রামের পাশে জাম্বিয়ার মেয়েটির মৃতদেহ পাওয়া গিয়েছে। সম্পূর্ণ নগ্ন ছিল সে। যদিও তার পোশাক, ব্যাগ প্রায় অটুট অবস্থায় মৃতদেহের কাছেই পড়ে ছিল। মেয়েটি জাম্বিয়া থেকে কলকাতায় পড়তে এসেছিল। তাকে ধর্ষণের চেষ্টা হয়েছিল। মেয়েটি বাধা দিতে আততায়ীরা তাকে হত্যা করে। এমন একটি জায়গায় মেয়েটি কী করে পৌছাল তা বিস্ময়ের। গ্রামবাসীরা বলছে বিকেল নাগাদ মেয়েটি তিনটে ছেলের সঙ্গে নামে। বিদেশিনী বলে স্থানীয় লোকদের কৌতুহল ছিল। কিন্তু তারা গ্রামান্তরে চলে যায়। সেই তিনজনই সম্ভাব্য হত্যাকারী ধরে নিয়ে পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে। সকালবেলায় হস্টেলে এই খবরে তোলপাড় হয়ে গেল। যদি বলাৎকারই হয় তা হলে ওর পোশাক পাশে অটুট অবস্থায় পড়ে থাকবে কী করে?

    কলেজ ছুটি হয়ে গেল। দীপা কলেজে যায়নি। সাড়ে বারোটার সময় রাধা এল হস্টেলে। এসে দীপার পাশে চুপ করে বসল। দীপা বলল, আমি ভাবতে পারছি না রে। কালও সকালে আমার সঙ্গে কথা বলেছিল।’

    রাধা বলল, ‘ব্যাটাছেলেগুলা এইরকমই। একদম বাচ্চা আর একেবারে থুথুড়া বুড়া ছাড়া ওদের বিশ্বাস করা যায় না।’

    দীপা মাথা নাড়ল, ‘তা হবে কেন? তোমার আমার দাদা কাকা ভাইকে এই দলে ফেলা যায় কি?’

    ‘যখন আমার দাদা কাকা ভাই তখন ঠিক আছে। কিন্তু অন্য মেয়ের সঙ্গে তো একই সম্পর্ক না। পাকিস্তান থেকে আসার সময় যেসব পশু মেয়েদের ইজ্জত জোর করে নিয়েছে তারাও তো কোনও মেয়ের দাদা কাকা ভাই।’ বেশ উত্তেজিত দেখাচ্ছিল রাধাকে। দীপা জবাব দিল না। হঠাৎ রাধা বলল, আর দোষ দিবই বা কাকে? আজ কলেজে এসে শুনি ছুটি হয়ে গেছে ওর জন্যে। বাড়ি চলে যেতে হবে বলে কয়েকটা মেয়ের কী দুঃখ। একজন বলল, নিগ্রোরা খুব সেক্সি হয়। তাই ছেলেরা ঝাপিয়ে পড়েছে। একজন দু’জন হলে ওর কিছু হত না। তুমি ভাবো দীপা, মেয়ে হয়ে একটা মেয়ের সম্পর্কে এমন কথা এরা বলে গেল?’

    দীপার মনে পড়ে গেল, ‘তুমি অসীমকে দেখেছ?’

    ‘হ্যাঁ। গেটে দাঁড়িয়ে ছিল।’

    ‘তোমাকে কিছু বলেছে?’

    ‘না তো! কেন?’

    ‘নাঃ, এমনি।’

    আধঘণ্টা থেকে রাধা চলে গেলে দীপা পোশাক পালটাল। আজ সকাল থেকেই খাওয়াদাওয়ার ইচ্ছেটা একেবারে চলে গিয়েছে। মাথা এবং শরীরে একটা ভারী অনুভূতি যেন ঝুলে রয়েছে একভাবে। কিছু ভাল লাগছে না, কিচ্ছু না।

    কলকাতায় নভেম্বরে শীত নামে না। কিন্তু বাতাসে টান এসে যায়। হস্টেল থেকে বেরিয়ে এই দুপুরবেলাতেও সেরকম বাতাসের স্পর্শ পেল দীপা, পেয়ে আরাম লাগল। কলেজের দিকে হাঁটছিল সে। এখন অসীমের সেখানে থাকার কথা নয়। ছুটি হয়ে গিয়েছে অনেকক্ষণ। অসীম কোথায় থাকতে পারে এমন স্পষ্ট ধারণা তার নেই। অথচ সকাল থেকে ওর কথা একবারও মনে আসেনি। অসীম কলেজে অপেক্ষা করবে ঠিক ছিল। কিন্তু হঠাৎ বন্ধ হয়ে গিয়ে সব এলোমেলো করে দিল। অথচ দীপার ক্রমশ মনে হচ্ছে, এই মুহূর্তে অসীমের দেখা পাওয়া তার খুব দরকার। কেন, কী জন্যে, তা জানা নেই, ওর পাশে একটু হাঁটলেই মনের ভার দ্রুত কমে যাবে এমন একটা বোধ হচ্ছিল। আচ্ছা, অসীম যদি গতকাল গ্লোরিয়ার সঙ্গে গ্রামের নির্জনে থাকত তা হলে একই কাণ্ড করতে পারত? রাধা তো অনাত্মীয় ছেলের চরিত্র সম্পর্কে বিন্দুমাত্র বিশ্বাস করে না। হেসে ফেলল দীপা। উদ্ভট ভাবনা। অসীম কখনও এমন কাজ করতে পারে না।

    কলেজের গেট বন্ধ, সামনে কেউ নেই। কসমসের সামনে কিছু ছেলে আড্ডা মারছে। দীপা চুপচাপ পেরিয়ে এল। অসীমকে কোথায় পাওয়া যায়? খুব আফশোস হচ্ছিল তার। ঠিক সময়ে কলেজে গেলেই সে ওর দেখা পেত। এতবড় শহরে অসীমকে খুঁজে পাওয়া অসম্ভব ব্যাপার। হেদুয়ার মুখে ফিরে এসে দীপা যখন অন্যমনস্কভাবে দাড়িয়েছে ঠিক তখনই পেছন থেকে গলা ভেসে এলে, ‘কফি খাবে?’

    চমকে ফিরে তাকাতেই অসীম হাসল।

    দীপা বিস্ময় এবং খুশিতে একাকার হল, ‘তুমি?’

    ‘দাঁড়িয়েছিলাম।’

    ‘এতক্ষণ?’ দীপা কী বলবে স্থির করতে পারছিল না, তারপর মনে হতেই বলল, ‘যাঃ, হতেই পারে না। একটু আগে আমি এখান দিয়ে কলেজে গিয়েছি।’

    ‘দেখেছি।’ মিটিমিটি হাসছিল অসীম।’

    ‘দেখেছ? আর তুমি আমাকে ডাকোনি?’ হাঁ হয়ে গেল দীপা।

    ‘দেখছিলাম তুমি আমাকে খুঁজেছ কিনা?’

    ‘কী দেখলে?’

    ‘মুখটা যখন কালো হয়ে গেল তখন বুঝলাম যা বোঝার।’

    ‘তুমি তো খুব নিষ্ঠুর।’

    ‘আর তুমি? এতক্ষণ ধরে কেউ দাঁড়াবে যখন আদৌ আসবে কিনা তার ঠিক নেই। কলেজ তো অনেকক্ষণ ছুটি হয়ে গিয়েছে।’

    ‘তা হলে তুমি দাড়িয়ে আছ কেন?’

    ‘আমার মন বলছিল তুমি আসবেই।’

    দীপার মনে হচ্ছিল তার শরীর একটু হালকা হয়ে গেল। সে বলল, ‘জানো, কাল রাত্রে যখন গ্লোরিয়ার খবর পেলাম তখন আমার সব সাদা হয়ে গিয়েছিল। ওরকম একটা মেয়ে দুম করে মরে গেল? মানুষ এত নৃশংস হয়?’

    ‘আমি তোমার মনের অবস্থা বুঝতে পারছি দীপা।’

    ‘মেয়েটার সঙ্গে আমার কোনও মিল নেই, প্রথম প্রথম ওর অনেক আচরণ আমি কিছুতেই মেনে নিতে পারতাম না, পৃথিবীর দুটো আলাদা দেশের মানুষের আচরণ তো উলটো হবেই। কিন্তু ওর কথাবার্তায় আমি একসময় বিশ্বাস করতে আরম্ভ করেছিলাম। আমার মনে হচ্ছিল এ-দেশের মেয়েরা অনেক বাড়তি অভ্যাস অকারণে বয়ে নিয়ে চলেছে। এ-দেশের মেয়েরা কেন করব এই প্রশ্নটা এখনও করতেই শেখেনি!’

    ‘সেকী! তুমি তো জ্ঞানদানন্দিনী ঠাকুরের ভক্ত। তিনি তো সত্তর-আশি বছর আগে দারুণ দারুণ কাণ্ড করেছেন।’

    ‘করেছেন। কিন্তু সেটা এ-দেশের মেয়েকে খুব একটা প্রভাবিত করতে পারেনি, উনি তার পরের প্রজন্মের ছেলেদের প্রশংসা পেয়েছেন। ছেলেরা যেন একটু অনুকম্পা দেখিয়ে বলে, উঃ, কী তেজি মেয়ে ছিলেন।’

    অসীম জবাব দিল না। কসমসের সামনে থেকে রকবাজদের জমায়েতটা এবার এগিয়ে আসছে ট্রাম লাইনের দিকে। উলটো ফুটপাত থেকেই ওরা সিটি দিতে পারে, মন্তব্য ছুড়তে পারে। সে বলল, ‘এখানে না দাঁড়িয়ে থেকে হাঁটা যাক। তুমি খাওয়াদাওয়া করেছ?’

    হাঁটা শুরু করে দীপা বলল, ‘না। ভাল লাগছিল না।’

    ‘সেকী! চলল, কিছু খাবে। এই ট্রামটায় ওঠো।’

    ‘ট্রামে? কোথায়?’

    ‘চলোই না।’

    ওরা ট্রামে উঠল। দুপুরের এই সময়ে ট্রামে বেশি যাত্রী নেই। লেডিস সিট ছেড়ে দীপা এগিয়ে গিয়ে বসতেই এক প্রৌঢ় বললেন, ‘পেছনে লেডিস সিট খালি।’

    দীপা মুখ ঘুরিয়ে বলল, ‘তাতে কী? এটার গায়ে কি জেন্টস সিট লেখা আছে।’

    লোকটি থতমত হয়ে মুখ ফেরাল। অসীম দীপার পাশে বসে বলল, ‘চমৎকার।’

    ‘এত বাজে কথা গায়ে পড়ে বলতে ভালও লাগে লোকের।’ দীপা বলল।

    ‘চলো, কফি হাউসে গিয়ে কিছু খেয়ে সময় কাটিয়ে আমাদের বাড়িতে যাবে। ও হো, আজ যা তোমার মনের অবস্থা তাতে মায়ের সঙ্গে কথা বলা ঠিক হবে?

    দীপা মাথা নাড়ল, ‘না। আমি আগে তোমার সঙ্গে কথা বলতে চাই।

    ‘আমার সঙ্গে?’ অসীম অবাক।

    দীপা নিচু গলায় জবাব দিল, ‘আমার জীবন সম্পর্কে কিছুই জানো না তুমি?’

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43 44 45 46 47 48 49 50 51
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleসাতকাহন ২ – সমরেশ মজুমদার
    Next Article কইতে কথা বাধে – সমরেশ মজুমদার (অসম্পূর্ণ)

    Related Articles

    সমরেশ মজুমদার

    চব্বিশ ঘণ্টার ঈশ্বর – সমরেশ মজুমদার

    December 4, 2025
    সমরেশ মজুমদার

    ছোটগল্প – সমরেশ মজুমদার

    December 4, 2025
    সমরেশ মজুমদার

    আট কুঠুরি নয় দরজা – সমরেশ মজুমদার

    December 4, 2025
    সমরেশ মজুমদার

    উত্তরাধিকার – সমরেশ মজুমদার

    December 4, 2025
    সমরেশ মজুমদার

    গর্ভধারিণী – সমরেশ মজুমদার

    December 4, 2025
    সমরেশ মজুমদার

    কইতে কথা বাধে – সমরেশ মজুমদার (অসম্পূর্ণ)

    December 4, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    अनीश दास
    मौलाना शाह वलीउल्लाह
    रेवरेंड के. के. जी. सरकार
    অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিজ্ঞান রায়চৌধুরী
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমরেন্দ্র চক্রবর্তী
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অরিন্দম দেবনাথ
    অর্পিতা সরকার
    অশোককুমার মিত্র
    অসম্পূর্ণ বই
    আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    কৌশিক সামন্ত
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোপেন্দ্র বসু
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যজ্যোতি মজুমদার
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণু শর্মা
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহতাব উদ্দিন
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    রেভারেণ্ড কে. কে. জি. সরকার
    লীলা মজুমদার
    লেইল লোনডেস
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শঙ্কর চ্যাটার্জী
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শাক্যজিৎ ভট্টাচাৰ্য্য
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্যামল গঙ্গোপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সন্দীপন চট্টোপাধ্যায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সম্পাদনা : শৈলেন্দ্র হালদার
    সরদার ফজলুল করিম
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সায়ন্তনী পূততুন্ড
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্মরণজিৎ চক্রবর্তী
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মাহতাব উদ্দিন : জীবন ও গান

    May 18, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মাহতাব উদ্দিন : জীবন ও গান

    May 18, 2026
    Our Picks

    মাহতাব উদ্দিন : জীবন ও গান

    May 18, 2026

    পরমপুরুষ শ্রীশ্রীরামকৃষ্ণ ২ – অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত

    May 18, 2026

    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের প্রেমের গল্প – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    May 16, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }