Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    সাতকাহন ১ – সমরেশ মজুমদার

    সমরেশ মজুমদার এক পাতা গল্প936 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ১২. রমলার চিঠি

    ‘স্নেহের দীপাবলী, তোমার চিঠি পেয়েছি। তোমাকে আমি ইংরেজিতে চিঠি লিখতে বলেছিলাম। অথচ সেটা পেয়ে আমি বাংলায় কেন লিখছি তাই ভেবে নিশ্চয়ই অবাক হচ্ছ। সেইটে আগে বুঝিয়ে বলি। আমাদের সময় আমরা ইংরেজিটা বাংলার চেয়ে ভাল শিখতাম। কোনও কিছু বানিয়ে লিখতে বললে বাংলার বদলে ইংরেজিতে লিখলে সুবিধে হত। নেসফিল্ডের গ্রামার বই সেই ছোট্টবেলায় এমন গিলিয়ে দেওয়া হয়েছিল যে ইংরেজি বাক্য ভুল লিখতেই পারতাম না। এতে উপকার হয়েছে দুটো। পৃথিবীর প্রায় সমস্ত বিখ্যাত বই ইংরেজি ভাষায় পাওয়া যায়। পিতৃভাষায় দক্ষতা থাকায় সেগুলোতে ডুবে যেতে অসুবিধে হয় না। দ্বিতীয়ত জিভের আড়ষ্টতা চলে গেলে কথা বলতে সুবিধে হয়। মনে রেখো বাংলার বাইরেই কেউ বাংলাভাষাটা বোঝে না। বড় জায়গায় পৌঁছোতে হলে নিজেকে আন্তর্জাতিক করতেই হবে। শুনেছি রাশিয়ান বা ফরাসিরা ইংরেজি বলে না। পৃথিবীর ইতিহাসে যদি কখনও রাশিয়ান বা ফরাসিদের মতো জায়গা দখল করতে পারি তখন না হয় শুধু বাংলা ব্যবহার করব। তোমার ইংরেজি বিদ্যে কতটুকু তা জানার জন্যেই ইংরেজিতে চিঠি লিখতে বলেছিলাম। খুব ভাল লাগল, কারণ একটি বানান ভুল পাইনি, ছোট ছোট বাক্যে মনের কথা লিখতে পেরেছ। আমি বিশ্বাস করছি কেউ তোমাকে ওই চিঠি লিখতে সাহায্য করেনি। চা বাগানে থেকে অমন স্কুলে পড়েও যে তুমি ওই চিঠি লিখতে পেরেছ তার জন্যে তোমার মাস্টারমশাইকে আমার শ্রদ্ধা জানালাম।

    এখন কেমন আছ? পরীক্ষা তো দরজায়। যদি জলপাইগুড়ির বদলে শিলিগুড়িতে তোমাদের সিট পড়ত তা হলে আমার এখানে থেকে পরীক্ষা দিতে পারতে। দাঁতে দাঁত চেপে লড়ে যাও। তোমাকে সাফল্য পেতেই হবে। মনে রেখো আমি যখন পাশ করেছিলাম, কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ে গিয়েছিলাম, তখন মেয়েদের হাতে গোনা যেত। এখনও ছবিটা বড় বেশি পালটায়নি। আমাকে ঘোড়ামুখো মেয়ে বলা হত। আমাদের সমাজ আমার এই ঔদ্ধত্য মেনে নেয়নি। বয়েই গেছে আমার। তুমিও যা ন্যায় মনে করবে তাই সত্য বলে ভাববে। সেই সত্যের জন্যে কিছুর সঙ্গে আপস কোরো না।

    মাথা ঠান্ডা রেখে পরীক্ষা দেবে। যে-প্রশ্নটিকে কঠিন মনে হবে তার উত্তর আগে লিখবে। কারণ তখন তোমার মাথা তাজা থাকবে এবং তুমি কিছু একটা ভেবে বের করতে পারবে৷ সহজ উত্তরগুলো লিখে ফেলার পর কঠিনটা নিয়ে আর ভাবার অবকাশ পাবে না। যেন তেন করে সারতে হবে তখন, নম্বরও কমে যাবে। কঠিনটাকে সরিয়ে রেখে সহজটাকে ধরা মানে পালিয়ে যাওয়া। সহজ যা তা তো পরেও সহজ থাকে। তাই না?

    এ-চিঠির উত্তর আমি এখন চাই না। সব পরীক্ষা শেষ হলে একটা লম্বা চিঠি লিখে আমাকে জানিয়ে। তোমার এগিয়ে যাওয়ার পথে আমার শুভেচ্ছা সবসময় থাকবে। ইতি রমলা সেন।’

    চিঠিটা হাতে নিয়ে কিছুক্ষণ চুপচাপ বসে রইল দীপা। রমলা সেনের চিঠি এলেই মন ভাল হয়ে যায়। বয়স্কা মানুষটা কেমন বন্ধুর মতো কথা বলেন। গত দু’বছর ধরে প্রতি মাসে দুটি করে চিঠি লেখে দীপা, জবাব পায়। চিঠিটা অমরনাথ সকালে জলখাবার খেতে আসবার সময় ফ্যাক্টরি থেকে এনেছিলেন। বাগানের সবার চিঠি ফ্যাক্টরিতে জমা হয়। জলখাবার খেয়ে আবার কাজে যাওয়ার সময় তিনি পড়ার ঘরের দরজার সামনে দাঁড়ালেন। আগে যেটা বসার ঘর ছিল সেটা বাড়িয়ে পার্টিশন দিয়ে দীপার পড়ার ঘর করে দেওয়া হয়েছে অনেকদিন। পায়ের আওয়াজ থেমে যেতে দীপা মুখ ফিরিয়ে তাকাল।

    অমরনাথ জিজ্ঞাসা করলেন, ‘কার চিঠি? রমলা সেনের?’

    দীপা মাথা নাড়ল। অমরনাথ জিজ্ঞাসা করলেন, ‘কী লিখেছেন।’

    দীপা বলল, ‘পড়বে? আমার কী করা উচিত তাই লিখেছেন!’

    অমরনাথ কথা না বলে হেসে নীচে নেমে গেলেন। দীপা দেখল বেড়ার গায়ে হেলান দেওয়া সাইকেল টেনে নিয়ে তিনি ফ্যাক্টরির দিকে রওনা হলেন। দীপা জানলা দিয়ে মাঠের দিকে তাকাল। সকালে রোদে মাঠ, চাঁপা ফুলের গাছ মাখামাখি। আসাম রোড দিয়ে বাস ছুটে যাচ্ছে। পাখি ডাকছে গাছে গাছে। পৃথিবীটা কী শান্ত! দীপা চিঠিটাকে আর একবার দেখল। ভোর চারটের সময় পড়তে বসেছে। আজকাল পাঁচটার পরেই সকাল হয়ে যায়। সারাদিনে পনেরো ঘণ্টা না পড়লে খুব খারাপ লাগে। টেস্ট পেপারটা নিয়ে আবার অঙ্ক কষতে বসতেই বারান্দায় শব্দ হল। সাধারণত বারান্দার দিকের দরজাটা বন্ধ রাখে পড়ার সময়। দীপা দেখল খবরের কাগজ পড়ে আছে। সে উঠে আজকের কাগজটা তুলে নিল, জহরলাল নেহরু কী বলেছেন, বিধানচন্দ্র রায় কী করেছেন, কমিউনিস্টরা কোথায় আন্দোলন করেছে, এইসব। প্রথম পাতাটা পড়তে মোটেই ভাল লাগে না। দ্বিতীয় পাতা খুলতে সুচিত্রা-উত্তমের ছবি দেখতে পেল সে। গত কালীপুজোয় মাঠে সিনেমা দেখানো হয়েছিল। অগ্নিপরীক্ষা। গানে মোর ইন্দ্রধনু। মনের ভেতর গুনগুনিয়ে বেজে যায় সর্বক্ষণ। তখন সুচিত্রা উত্তমকে দেখেছিল সে। যেতে চায়নি প্রথমে। অঞ্জলি জোর করে ধরে নিয়ে গিয়েছিল। তখন অনেক রাত। মাথায় চাদর জড়িয়ে সবার পেছনে মায়ের সঙ্গে ত্রিপলের ওপর বসে দেখেছিল। সুচিত্রা সেনের ছবি দেখলেই মালবাবুর বাড়ির সেই ছেলেটার কথা মনে পড়ে। সেই কত বছর আগে শিউলিফুল তুলছিল সে ভোরবেলায়। ছেলেটি সামনে এসে বলেছিল, তোমাকে দেখতে ঠিক সুচিত্রা সেনের মতো। খুব রাগ হয়ে গিয়েছিল সেদিন। আজ হাসি পেল। ছেলেটাকে তারপর আর কখনও দ্যাখোনি সে।

    খবরের কাগজ বাইরের ঘরের টেবিলে রেখে দিয়ে সে ভেতরে এল। এখন সবাই রান্নাঘরে। বারান্দা দিয়ে উঠোনে নামার সময় মনোরমার গলা ভেসে এল, ‘সুজিটা খেয়ে যা।’ দীপা মুখ ভেংচাল, ‘রোজ রোজ সুজি ভাল লাগে না!’

    ‘আর কী করব বলে দে। লুচি বেগুনভাজা ভাল লাগে না, পরোটায় অরুচি হয়ে গিয়েছে, দুধ-রুটি দিলে বলবি রুগির খাবার। আমার হয়েছে জ্বালা।’ মনোরমার গলায় অসন্তোষ। দীপা এগিয়ে গিয়ে দরজা থেকে বাটি তুলে নিল, ‘একটা চামচ দাও।’ মনোরমা নিজে কখনও চামচ ব্যবহার করেন না। কিন্তু তিনি এগিয়ে দিলেন। উঠোনে দাঁড়িয়ে সবে এক চামচ সুজি মুখে পুরেছে দীপা অমনি ছোট ভাই বলে উঠল, ‘এই দিদি, আমাকে দিবি?’

    দীপা মাথা নেড়ে হ্যাঁ বলতে-না-বলতেই রান্নাঘর থেকে অঞ্জলি ধমকে উঠল, ‘এ্যাই, কী হ্যাংলা রে তুই! একটু আগে ডিমসিদ্ধ খেলি এখন সুজি চাইছিস! দিদি কি ডিম খায় যে তোকে সুজি দেবে? একদম দিবি না ওকে দীপা!’

    মনোরমা সুজিতে বড্ড বেশি মিষ্টি দেন কিন্তু সে-কথা বললে রেগে যান। আজ তেজপাতা এবং এলাচ থাকা সত্ত্বেও সুজিটাকে বিস্বাদ লাগল দীপার। ছোট ভাই ততক্ষণে সরে গিয়েছে সামনে থেকে। আর একটু হেঁটে বাড়ির পাশের লিচু গাছের তলায় এল সে। তারপর এক চামচ সুজি ছুড়ে দিল মাটিতে। অমনি দুটো পাতিকাক লাফিয়ে পড়ল সেখানে। দুই ঠোকরে সেটা সাবাড় করে ঘাড় ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে তাকাতে লাগল দীপার দিকে। একটু একটু করে কাকদুটোকে সুজি খাওয়াতে লাগল সে।

    তার মায়ের রান্নাঘরে বসে খাওয়ার পাট চুকেছে সেই বড় অসুখ থেকে সেরে ওঠার পর থেকেই। মনোরমার রান্নাঘরে এখন তার জন্যে রান্না হয়। আলোচালের ভাত, ডাল, তরকারি, ভাজা। চাটনিটা অবশ্যই। আগে মনোরমা একবেলা রান্না করতেন। এখন রাত্রে রুটি করেন। ওঁর শরীর খারাপ হলে অঞ্জলি এখানে এসে রান্না করে দিয়ে যায়। এই নিয়ে অমরনাথের সঙ্গে মনোরমার প্রচণ্ড তর্ক হয়েছিল। মায়ের মুখের ওপর সচরাচর কথা বলেন না অমরনাথ। সেবার বিদ্রোহী হয়েছিলেন। ওইটুকুনি মেয়ে মাছ-মাংস-ডিম-পেঁয়াজ খাবে না এটা মানতে পারেননি। এই বয়সে শরীরে প্রোটিন দরকার। কিন্তু মনোরমা এসবে কান দিতে চাননি। হিন্দু মেয়ে বিধবা হলে বয়স কোনও ব্যাপারই নয়। বিধবার যা যা করণীয় তাই তাকে করতে হবে। তা যদি না মানে তা হলে মন্ত্র পড়িয়ে বিয়ে দিয়েছিলে কেন? প্রায় ছয়মাস কোনও বাক্যালাপ ছিল না মা-ছেলের মধ্যে। খুব কষ্ট হত দীপার। প্রথম প্রথম বাড়িতে মাছ-মাংস আসা বন্ধ হয়েছিল। দীপা খাবে না অথচ তারা খাবেন, অমরনাথ ভাবতে পারতেন না। ফলে ছোট দুটো প্রায়ই অধভুক্ত থাকত। মাছ ছাড়া ওদের চলে না। এইসময় একজন খুব অসুখে পড়ল। ডাক্তারবাবু হুকুম করলেন সিঙ্গি মাছের ঝোল খাওয়াতে। ফলে আবার মাছ এল বাড়িতে। সেইসময় একদিন একা পেয়ে অমরনাথ তাকে জিজ্ঞাসা করেছিলেন, ‘হ্যাঁরে, ঠাকুমার সঙ্গে নিরামিষ খেতে তোর খুব কষ্ট হয়, না? দুর্বল লাগে?’ বাবার মুখের দিকে তাকিয়ে সে সত্যি কথা বলতে পারেনি, ‘না তো! ঠাকুমা তো খুব ভাল রান্না করে।’ তারপর থেকেই আবার অমরনাথের সঙ্গে মনোরমার সম্পর্ক সহজ হয়ে গেল।

    ‘সুজিটা খেলি না কেন?’

    দীপা চমকে ফিরে দেখল অঞ্জলি তার পেছনে এসে দাঁড়িয়েছে।

    ‘এমনি।’

    অঞ্জলি ওর কাঁধে হাত রাখল, ‘খেতে ভাল হয়নি?’

    ‘খারাপ হয়নি।’ কথাটা বলেই অঞ্জলির দিকে তাকাল সে। মা এখন কীরকম ভারী ভারী হয়ে গিয়েছে। আগের মতো হইচই করে না। চেঁচামেচিও কমে গেছে। অঞ্জলি যেমন এসেছিল তেমন চলে গেল চুপচাপ। শাড়ির আঁচলে কপাল মুছল দীপা। শীত চলে যেতে না-যেতেই ঘাম হচ্ছে। সাদা আঁচলটা অবশ্য ভিজল না। এখন সে নিয়মিত কাপড় পরে। কালো সরু পাড় সাদা শাড়ি, সাদা জামা। মনোরমা বলেছেন বিধবাদের রঙিন শাড়ি পরতে নেই। মন চঞ্চল হয় এমন কোনও কাজ করতে নেই। ঈশ্বরের দেওয়া এই শরীরটাকে পবিত্র রাখতে হবে মৃত্যু পর্যন্ত। আর এই কাজ সহজতর হবে যদি উপযুক্ত কোনও গুরুর কাছে দীক্ষা নেওয়া যায়। সব মেনে নিলেও এই একটা ব্যাপারে বেঁকে বসেছিল দীপা। দীক্ষা মানে নিয়মিত পুজো করে যাওয়া। যেটা সে কিছুতেই পারবে না। অমরনাথ মেয়ের সমর্থনে কথা বলেছিলেন বলেই বোধহয় মনোরমা এ নিয়ে জোর করেননি। সুবিধে হল ক্লাস নাইনে উঠলেই স্কুলে মেয়েদের শাড়ি পরতে হয়। স্কুলের ইউনিফর্ম হল কালো সরু পেড়ে সাদা শাড়ি আর সাদা জামা। অতএব স্কুলে গিয়ে কোনও অসুবিধে হয় না দীপার। চার-পাঁচজন মেয়ে যখন ওই একই পোশাকে বাড়ি ফেরে তখন কয়েকবার দেখেছেন অমরনাথ, কষ্টটা কমে গিয়েছিল।

    এসব কথা রমলা সেনকে একসময় লিখেছিল দীপা। ভদ্রমহিলা চমৎকার চিঠি লিখেছিলেন। অপ্রাপ্তবয়স্ক এবং পরনির্ভর মেয়েদের পক্ষে নিজের মত প্রকাশ করা অনুচিত কাজ নয়। কিন্তু যতক্ষণ তুমি নিজের দায়িত্ব নিতে না পারছ ততক্ষণ গুরুজনদের মতামত মান্য করতেই হবে। তোমার বাবা-মায়ের মতামত যদি ঠাকুমা না শোনেন তা হলে তাঁর অবাধ্য হলে বাড়িতে শুধু অশান্তিই চলবে। মনে রেখো তুমি বিধবা নও। একটি রোগগ্রস্ত তরুণের সঙ্গে তোমার বিয়ে হয়েছিল। তার সঙ্গে মানসিক বা শারীরিক সম্পর্ক হবার আগেই সে চলে গিয়েছে। সংস্কৃতে ধব মানে স্বামী। যে-তরুণ তোমার ধব হতে পারেনি সে চলে গেলে তুমি কেন বিধবা হবে? তা সত্ত্বেও তোমাকে এই পরিস্থিতি মেনে নিতে হবে কিছুদিনের জন্যে। নিরামিষ খেয়ে ভালভাবে বেঁচে আছেন এমন মানুষের সংখ্যা পৃথিবীতে কম নেই। আর পোশাক? ওটা তো বাইরের ব্যাপার। পোশাক কখনও মানুষের ভেতরটাকে তৈরি করে না। তোমার সামনে একটা পুরো জীবন পড়ে আছে। সাময়িক এই ব্যবস্থাটা মেনে নাও। এতে তো তোমার কোনও ক্ষতি হচ্ছে না।

    চিঠিটা অমরনাথকে দেখিয়েছিল দীপা। পড়ে তিনি হেসেছিলেন নিজের মনে। তারপরে বলেছিলেন, ‘এই মহিলার সঙ্গে সারাজীবন যোগাযোগ রাখবে। উনি ঠিক কথাই লিখেছেন। এসব আমারই বলা উচিত ছিল অথচ কীভাবে বলব বুঝতে পারিনি। তবে এই চিঠি তোমার ঠাকুমাকে দেখিয়ো না।’

    উঠোন থেকে ফিরে এল দীপা পড়ার ঘরে। টেস্ট পেপার নিয়ে বসতে গিয়ে জানলায় নজর গেল। বিশু আর খোকন সাইকেলে চেপে আসাম রোড দিয়ে যাচ্ছে। এক নিমেষেই ওরা চোখের আড়ালে চলে গেল। কতকাল আর ওদের সঙ্গে গল্প করা হয়নি। এ-ব্যাপারে আর কেউ তাকে নিষেধ করেনি। কিন্তু নিজের থেকেই আর যেতে চায় না সে। মজার ব্যাপার হল ওরাও তাকে ডাকতে আসে না। স্কুল থেকে ফেরার সময় মাঝে মাঝে দেখা হয়। ওরা এমন ভাব করে চলে যায় যেন কোনওদিন আলাপ ছিল না। কোনও বাড়িতে যায় না সে। তার কোনও বন্ধু নেই। হঠাৎ বুক কাঁপিয়ে কান্না এল দীপার। টেস্ট পেপারে মুখ চেপে সে চুপচাপ কেঁদে গেল কিছুক্ষণ। তারপর এক ঝটকায় উঠে বসে আঁচলে মুখ পুছে পড়তে বসল।

    গত কয়েক বছরে জায়গাটার চেহারা খুব দ্রুত বদলেছে। চৌমাথাকে কেন্দ্র করে এক নতুন জনপদ গড়ে উঠেছে। কাঠের ব্যবসায়ীরা ছিলেন কিন্তু এখন তাঁদের সংখ্যা বেড়েছে। বেশ কয়েকটা সরকারি অফিস চালু হওয়ায় তাদের কর্মচারীরাও বাসা নিয়েছে। সেইসঙ্গে বাজার এলাকায় ব্যাঙ্ক, ফরেস্ট অফিস, পি ডব্লু ডি-র অফিস বসে যাওয়ায় জায়গাটার রমরমা বেড়েছে। সেলুন, রেস্টুরেন্ট, ছোট হোটেল থেকে শুরু করে দু’-দুটো লন্ড্রি চালু হয়ে গেছে চৌমাথায়। আর সেই কারণে একমাত্র স্কুলটিতে ছাত্রছাত্রী সংখ্যা বেড়েছে। গত বছর থেকে এই স্কুলের ছাত্রছাত্রীরা ফাইন্যাল পরীক্ষায় বসছে। চারজন ছেলে গিয়েছিল, দু’জন থার্ড ডিভিশনে পাশ করেছে, দু’জন পারেনি। এবার সংখ্যাটি বেড়েছে। মোট ছাত্রছাত্রী বারোজন। স্কুলের বর্তমান প্রেসিডেন্ট বিখ্যাত টিম্বার মার্চেন্ট অনিল চ্যাটার্জির মেয়েও এই দলে আছে। সত্যসাধনবাবুর ইচ্ছে ছিল না তাকে ফাইন্যাল পরীক্ষায় বসতে দিতে। টেস্টে সে তিনটি বিষয়ে পাশ করতে পারেনি। তার বিরুদ্ধে কিছু অভিযোগও ছিল। সে ছাত্রীর মতো আচরণ করে না। কিন্তু প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে যাওয়ার সাহস হেডমাস্টারমশাইয়ের ছিল না। সত্যসাধনবাবুর এখন একমাত্র বাসনা এই যে দীপাকে তিনি ফার্স্ট ডিভিশনে পাশ করাবেনই। এই স্কুল থেকে যদি কেউ ফাস্ট ডিভিশন পায় তা হলে কে ফেল করল তা নিয়ে লোকে আলোচনা করবে না।

    স্কুল থেকে এবারও সত্যসাধনবাবু পরীক্ষার সময় জলপাইগুড়িতে যাবেন। প্রায় প্রত্যেক ছাত্রছাত্রীর সেখানে থাকার ব্যবস্থা হয়ে গিয়েছে কিন্তু দীপার ব্যাপারে অমরনাথ মনস্থির করতে পারেননি। এমন কোনও নিকট আত্মীয় সেখানে নেই যার বাড়িতে দীপাকে নিয়ে ওঠা যায়। সত্যসাধন প্রস্তাব দিয়েছিলেন, তাঁর বোন-ভগ্নিপতি জলপাইগুড়ির শিল্পসমিতি পাড়ায় থাকেন, তাঁদের ওখানেই তিনি দীপার ব্যবস্থা করে দিতে পারেন। অমরনাথ কোনও উত্তর দেননি। অথচ যাওয়ার সময় হয়ে এল। বিকেলবেলায় সত্যসাধন মাস্টার চা-বাগানের দিকে আসছিলেন হনহন করে। আসাম রোড দিয়ে একটা জিপ পাশ কাটিয়ে যেতে গিয়ে ব্রেক কষল। সত্যসাধন ঘুরে দাঁড়াতেই অনিলবাবুকে দেখতে পেলেন। ড্রাইভারের পাশে বসে অনিল চ্যাটার্জি নমস্কার করলেন, ‘ভাল আছেন তো? এরকম দৌড়ে দৌড়ে যাচ্ছেন কোথায়?’

    সত্যসাধন বিনীত গলায় বললেন, ‘এই একটু অমরনাথবাবুর কোয়ার্টার্সে।’

    ‘ও। ওঁর মেয়ে নাকি খুব ভাল ছাত্রী। বিধবা মেয়েকে পড়িয়ে ভদ্রলোকের কী লাভ হচ্ছে বুঝি না। যে জন্য দাঁড়ালাম, জলপাইগুড়িতে তো যাচ্ছেন, দেখবেন আমার মেয়েটা যেন ভালভাবে পরীক্ষা দেয়। মোটামুটি থার্ড ডিভিশন পেলেই হবে। মানে ডিভিশনের কোনও দরকার নেই আমার। পাশ করলেই একটা খুব ভাল পাত্র পাওয়া যাবে। ছেলেটির ইচ্ছে মেয়েকে অন্তত স্কুল ফাইনাল পাশ হতে হবে, বুঝুন।’ অনিলবাবু হাসলেন।

    মন দিয়া পরীক্ষা দিতে কন— !’

    ‘আরে মশাই মন দিলেই যদি পাশ করা যায় তো আমিও করতাম। পরীক্ষার সময় যদি গার্ডরা ওকে। একটু সাহায্য করে এটা দেখবেন। আমিও থাকব সে-সময়। কোনও অসুবিধে হলে সঙ্গে সঙ্গে আমাকে জানাবেন, আমি ব্যবস্থা করব। চলি।’ জিপটা আবার গতি নিয়ে চলে গেল। কিছুক্ষণ চুপচাপ দাঁড়িয়ে রইলেন সত্যসাধন মাস্টার। বাবা হয়ে মানুষটা কি মেয়েকে অসৎ উপায়ে পাশ করাতে চান? সময় কীভাবে পালটে যাচ্ছে! সত্যসাধন মাস্টারের মনে হল অশিক্ষিত কিছু মানুষ ব্যবসায়ের দৌলতে হাতে কাঁচা পয়সা পাচ্ছে বলেই মানুষের মেরুদণ্ডটি দিন দিন নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। আজ থেকে তিরিশ বছর আগেও কেউ একথা বলতে পারত না। ব্রিটিশরা চলে যাওয়ার পর ব্যাপারটা যেন দ্রুত বেড়ে চলেছে। রবীন্দ্রনাথ লিখেছিলেন, অর্থনৈতিক স্বাধীনতা না পেলে কোনও জাতির মেরুদণ্ড গঠিত হতে পারে না। অর্থ যদি কয়েকটি অশিক্ষিত মানুষের হাতে সীমাবদ্ধ হয় তা হলে তো তারা তার বলে বলীয়ান হয়ে বেপরোয়া হবেই। আবার হাঁটতে শুরু করলেন সত্যসাধন মাস্টার। এবং তখনই তাঁর খেয়াল হল কথাগুলো ঠিক এইরকমভাবে রবীন্দ্রনাথ লিখেছিলেন তো? আজকাল এর কথা ওর মুখে, অথবা কখনও কখনও নিজের মনের কথা পছন্দসই মানুষের মুখে বসিয়ে দিচ্ছেন তিনি আজকাল। এটা ঠিক নয়। ছাত্রছাত্রীরা বিভ্রান্ত হবে।

    বারান্দায় মোড়া পেতে অঞ্জলি বসে ছিল। সত্যসাধনকে দেখে তাড়াতাড়ি উঠে দাঁড়াল, ‘আসুন মাস্টারমশাই, আপনার ছাত্রী এখনও পড়ার ঘরে।’

    ‘সেকী! কী মুশকিল কথা। এই বিকাল বেলায় সে পড়তেছে, এটা ঠিক না।’

    ‘কী বলব বলুন। এত করে বলি, কিন্তু কিছুতেই শুনবে না। এত পড়লে কি মাথা ঠিক থাকবে? আপনি তো জানেন ও মাছ-মাংস খায় না। শরীরে শক্তি পাবে কী করে তা বুঝি না। আপনি একটু বুঝিয়ে বলুন।’ অঞ্জলি একপাশে সরে দাঁড়াল। সত্যসাধন বারান্দায় উঠে এসে পড়ার ঘরের বন্ধ দরজাটা খুললেন। দীপা বই থেকে মুখ তুলে তাকিয়েছিল। সত্যসাধনবাবু বললেন, ‘দিস ইজ ভেরি ব্যাড। কাম হিয়ার।’

    দীপা উঠল। লজ্জিত মুখে সে বাইরে এসে দাঁড়াল। হঠাৎ সত্যসাধনবাবু তার মাথার দিকে তাকিয়ে জিজ্ঞাসা করলেন, ‘তোমার উচ্চতা কত?’

    দীপা একটু অবাক হল, ‘জানি না তো!’

    ‘মাইপা দ্যাখো। এখনই।’

    মাপা হল। দীপা দেওয়ালে ঠেস দিয়ে সোজা হয়ে দাঁড়াল। একটা স্কেল দিয়ে মাথার সমান্তরাল দেওয়ালে দাগ দেওয়া হল। অঞ্জলির লম্বা ফিতে দিয়ে মাটি থেকে সেই দাগ পর্যন্ত মাপা হল। পাঁচ ফুট তিন ইঞ্চি। সত্যসাধনবাবু মাথা নাড়লেন, ‘ইম্পসিবল। দ্বিতীয়বার মাপো।’ এবারেও একই অঙ্ক পাওয়া গেল। সত্যসাধনবাবু বললেন, ‘অবাক কাণ্ড! তুমি কখন এত লম্বা হইলা? আমি কত জানো? পাঁচ ফুট ছয়। অনলি তিন ইঞ্চি বেশি লম্বা। সত্যি অবাক কাণ্ড।’

    দীপা বলল, ‘আপনি আমার চেয়ে এক জীবন বেশি লম্বা।’

    অ্যাঁ? তুমি এখনও কবিতার বই পড়তেছ? তোমারে নিষেধ করি নাই বিফোর ফাইন্যাল নো কবিতার বই! কী কাণ্ড।

    ‘আমি ছ’মাস আগে পড়েছিলাম।’

    ‘কার কবিতা?’

    ‘আপনি একটা পত্রিকা দিয়েছিলেন। তাতে ছিল।’

    ‘বেশ। কিন্তু খুকি, এইরকম সুন্দর বিকালে তুই বই নিয়া বইস্যা থাকবা না। ঘাসে পা রাখবা। আকাশের নীচে একটু ঘুইর‍্যা বেড়াইবা। বুঝলা?’

    অঞ্জলি বলল, ‘উনি আসছেন মাস্টারমশাই।’

    দেখা গেল অমরনাথ মাঠ পেরিয়ে সাইকেল নিয়ে চলে এসেছেন কোয়ার্টার্সের সামনে। মাস্টারমশাইকে দেখে জিজ্ঞাসা করলেন সাইকেল থেকে নেমে, ‘কখন এলেন?’

    ‘এই তো। অমরনাথবাবু, আপনে কি জানেন আপনার দীপার উচ্চতা কত?’

    অমরনাথ অবাক হলেন সামান্য সময়ের জন্য। তারপর সপ্রতিভ গলায় জবাব দিলেন, ঊনত্রিশ হাজার তিনশো ফুট।’

    দীপা চিৎকার করে উঠল, ‘এম্মা!’

    অমরনাথ বললেন, ‘হিমালয়ের থেকে একটু বেশি। তাই না দীপা?’

    সত্যসাধন সশব্দে হেসে উঠলেন। দীপা লজ্জা পেয়ে ভেতরে ঢুকে গেল। মনোরমা আসছিলেন, ওকে দেখে জিজ্ঞাসা করলেন, ‘কে হাসছে রে ওরকম ষাঁড়ের মতো?’

    দীপা আঙুল তুলল, ‘দাঁড়াও, মাস্টারমশাইয়ের সামনে বলব।’

    ‘অ্যাঁ! ও বাবা। মাস্টারমশাই? তা এত হাসির কী হল?’

    ‘জানি না। গিয়ে জিজ্ঞাসা করো।’

    মনোরমা একটু বিরক্ত হয়েই বাইরে এলেন। অঞ্জলি মাথার ঘোমটা টানল। তখন অমরনাথ বলছিলেন, ‘সমস্যা অনেক মাস্টারমশাই। আপনার আত্মীয়ের বাড়িতে ওকে একা রেখে আমরা নিশ্চিন্ত থাকতে পারব না। কীরকম পরীক্ষা দিচ্ছে—, বুঝতেই পারছেন?’

    ‘তা ঠিক। কিন্তু দীপারে একটা ভাল জায়গায় রাখা দরকার। ওয়েসিস কিংবা রুবি বোর্ডিং-এ ঘর পাওয়া মুশকিল।’

    ‘সেটা শুনলাম। কাল নবনীর বন্ধু এসেছিল জলপাইগুড়ি থেকে। সে বলল পরীক্ষার্থীরা নাকি ওই দুটো হোটেলে অ্যাডভান্স টাকা জমা দিয়ে প্রায় দখল করে নিয়েছে। মুশকিল হল হোটেলেও দীপাকে নিয়ে ওঠা যাবে না।’

    ‘আমার আত্মীয়র বাড়িতে আপনাদের প্রবলেম হইতে পারে কিন্তু হোটেলে না থাকার কী কারণ তো বোঝলাম না।’

    মনোরমা এবার মুখ খুললেন, ‘এটা তো খুব সহজ কথা মাস্টারমশাই। মেয়েটা বিধবা। হোটেলে পাঁচভূতের ব্যাপার, মাছ-মাংসের ছোঁয়াছুঁয়ির বালাই নেই, ওখানে ও খাবে কী? ওর জন্যে তো আলাদা বাসনপত্রে কেউ রান্না করে দেবে না!’

    সত্যসাধন মাস্টারের থতমত ভঙ্গিটি লক্ষ করল অঞ্জলি। ভদ্রলোক বোধহয় আজ পর্যন্ত জানতেন না যে মনোরমা দীপাকে চিরাচরিত বৈধব্যজীবনের খানিকটা মানতে বাধ্য করেছেন। তাঁকে গম্ভীর হয়ে যেতে দেখল অঞ্জলি। শেষপর্যন্ত তিনি বললেন, ‘ঠিক আছে, আপনারা যা ভাল মনে করেন তাই করুন। অন্তত দীপা যেন আনডিস্টার্বড পরীক্ষা দিতে পারে সেইটা দেখবেন।’

    অমরনাথ বললেন, ‘জলপাইগুড়িতে একটা বাড়ি ক’দিনের জন্যে ভাড়া নিতে চেয়েছিলাম আমি। নবনীর বন্ধু বলল, অন্তত মাসখানেকের নীচে কেউ বাড়ি ভাড়া দেয় না। গায়ে লাগছে খুব। তবু ওকে বলেছি, তাই ব্যবস্থা করতে।’

    যদি ব্যবস্থা না হয়’, সত্যসাধন মাস্টার মুখ তুললেন, ‘কিছু মনে কইরেন না, আপনি কিন্তু দায়িত্ব পালন করতেছেন না। আজ বাদ কাল তার পরীক্ষা আর এখনও কোনও ব্যবস্থা হয় নাই! নো, ইটস নট ডান। সে আমার প্রিয় ছাত্রী তাই এত কথা কইলাম। আসি, নমস্কার।’ সত্যসাধন ফিরে যাওয়ার জন্যে পা বাড়ালেন। অঞ্জলি তাঁকে ডাকল, ‘মাস্টারমশাই, আপনার বোন তো ওখানে আছেন, উনি কোনও ব্যবস্থা করতে পারেন না?’

    ‘দায়িত্ব যদি দ্যান তা হলে— ।’

    ‘ও তো আপনারই মেয়ে। আপনি না থাকলে আজ পরীক্ষা দেওয়া কি সম্ভব হত ওর পক্ষে? আপনি চলে যাবেন না। ওঁর সঙ্গে কথা বলুন। আমি চা আনছি।’

    সত্যসাধন মাস্টারের মুখ প্রসন্ন হল এখন। অমরনাথ বললেন, ‘দীপা কোথায়? ওকে ডেকে দাও, ওর চিঠি আছে।’

    ‘শিলিগুড়ি থেকে?’ অঞ্জলি প্রশ্নের মধ্যে ঈষৎ বক্রতা ছিল।

    অমরনাথ বললেন, ‘খুলে দেখিনি।’

    অঞ্জলি ভেতরে চলে গেলে মনোরমা বললেন, ‘এটা ভাল করিস না অমর। মেয়ের যথেষ্ট বয়স হয়েছে। কে না কে চিঠি দিচ্ছে আর তুই তা বয়ে এনে ওকে দিচ্ছিস। বদমায়েশ ছেলে ছোকরাও তো লিখতে পারে।’

    ‘সেরকম কেউ লিখলে দীপা নিশ্চয়ই আমাকে বলবে।’

    ‘বাঃ কী বুদ্ধি! শুনলেন মাস্টারমশাই? ওই বয়সে মতিভ্রম হতে আর কতক্ষণ সময় লাগে! মেয়ে তখন বাপকে বলবে আমার মতিভ্রম হয়েছে?’

    সত্যসাধন মাস্টার বললেন, ‘মা। একটা কথা কই। অমরনাথবাবু ঠিক কাজই করতেছেন। বিশ্বাসে মিলায় বস্তু তর্কে বহুদূর।’

    এইসময় দীপা এসে দাঁড়াল। অমরনাথ তাকে খামটা এগিয়ে দিলেন। সে সবার সামনেই খামের মুখ খুলে দুটো কাগজ বের করল। প্রথমটা পড়ে নিয়ে দ্বিতীয়টা বাবার দিকে এগিয়ে দিল, ‘এই চিঠিটা তোমাকে লিখেছেন উনি।’

    অমরনাথ চিঠিটা পড়লেন। তাঁর মুখে হাসি ফুটল। একবার সন্ধ্যার আকাশের দিকে তাকিয়ে সামান্য ভাবলেন, তারপর বললেন, ‘মাস্টারমশাই, একেই বলে যোগাযোগ। আপনি তো রমলা সেনের নাম শুনেছেন। দীপাকে খুব ভালবাসেন মহিলা!’

    ‘শুনছি। তবে ওঁর সাজেশন ঠিক না। আগে ইজি অ্যানসার লিখলে ব্রেন ট্যাক্সড হয় না। কী লিখছেন তিনি?’

    অমরনাথ বললেন, ‘জলপাইগুড়ির কোনও হোটেলে পড়াশুনার আবহাওয়া কেমন থাকবে তা নিয়ে ওঁর সন্দেহ আছে। ওঁর পরিচিত এক ভদ্রলোকের অফিসের গেস্ট হাউস আছে বাবুপাড়ায়। আমরা সেখানে থাকতে পারি ইচ্ছে হলে। গেস্ট হাউসে দুটো ঘর আছে, নিজেরাও রাঁধতে পারি আবার চৌকিদারকে বললে সে করে দিতে পারে। সময় বেশি হাতে নেই বলে তিনি তাঁর বন্ধুকে বলে দিয়েছেন চৌকিদারকে জানিয়ে দিতে। আমাদের যদি অন্য কোথাও ব্যবস্থা হয়ে থাকে তা হলে একবার চৌকিদারকে খবরটা দিলেই হবে। নইলে সরাসরি ওখানে উঠতে পারি।’ অমরনাথ থামতেই মনোরমা জিজ্ঞাসা করলেন, ‘বন্ধু মানে? কীরকম বন্ধু?’

    অমরনাথ চট করে গম্ভীর হয়ে গেলেন, ‘সেটা লেখেননি উনি।’

    ‘অত বড় মেয়েছেলের আবার বন্ধু হয় কী করে! গেস্ট হাউস মানে কী?’

    ‘অতিথিদের থাকার জায়গা।’

    ‘ও বাবা। সেটা নিশ্চয়ই কোনও মেয়ে বন্ধু রাখবে না। আমার ভাল ঠেকছে না। যতই ভাল চিঠি মেয়েকে লিখুক, যে-মেয়েছেলে এত বছর বয়স পর্যন্ত বিয়ে করেনি তাকে আমি কিছুতেই মেনে নিতে পারি না। তার আবার বন্ধুও আছে।’

    হঠাৎ দীপা প্রতিবাদ করল, ‘মেয়েছেলে মেয়েছেলে বোলো না তো!’

    মনোরমা আকাশ থেকে পড়লেন, ‘মানে?’

    ‘মেয়েছেলে আবার কী কথা! মহিলা বলবে।’

    ‘কেন? মেয়েছেলে বললে জাত যায় নাকি? জন্মভর লোকে আমাদের মেয়েছেলে বলে এল, কই আমার তো কখনও গায়ে লাগেনি। তোর যেন ফোসকা পড়ল!’

    অমরনাথ বললেন, ‘দ্যাখো, উনি ভদ্রতা করেছেন। আমাদের যখন থাকার জায়গা ঠিক হয়নি তখন ওই ভদ্রতার খাতিরে একবার সেখানে গিয়ে দ্যাখা দরকার। নইলে আগরওয়ালারা নতুন ধর্মশালা করেছেন সেখানেই উঠব।’

    সত্যসাধন মাস্টার জিজ্ঞাসা করলেন, ‘গেস্ট হাউসের চার্জ কত?’

    ‘ওটা নাকি ভাড়া দেওয়ার জন্য নয়। তাই লিখেছেন উনি।’

    অঞ্জলির যাওয়ার ইচ্ছে ছিল কিন্তু সে গেলে ছেলেদুটো সঙ্গে যাবে। তাদের সামলানো মনোরমার পক্ষে সম্ভব নয়। অতএব মনোরমাই সঙ্গে যাবেন। দু’খানা ঘর যদি পাওয়া যায় তা হলে একটিতে নাতনি ঠাকুমা থাকবে অন্যটিতে অমরনাথ। কিন্তু যাওয়ার আগের দিন মনোরমা বেঁকে বসলেন। তিনি যেতে পারবেন না। ভোর রাত্রে স্বপ্ন দেখেছেন তিস্তায় নৌকো ডুবি হচ্ছে এবং সেই নৌকোতে তিনি দীপার সঙ্গে বসে আছেন। অঞ্জলি বোঝাতে চাইল, স্বপ্নের সঙ্গে জীবনের মিল এক লক্ষে একবার হয় কিনা সন্দেহ। মনোরমা বললেন, ‘না বউমা। একটা নৌকোডুবি আমার জীবনটাকে ছারখার করে দিয়েছিল। স্বপ্নটা যখন দেখেছি তখন আর পা বাড়াচ্ছি না। তোমাকে কী বলব, আমি আর দীপা পাশাপাশি বসে জল দেখছি হঠাৎ মুখ তুলে দেখি তিনি। দু’হাত দূরে নৌকোয় বসে আমার দিকে তাকিয়ে হাসছেন। সঙ্গে সঙ্গে ডুবে গেল নৌকো।’

    অঞ্জলির সমস্ত শরীরে কাঁটা ফুটল। মৃত মানুষেরা মাঝে মাঝে ভোরবেলায় স্বপ্ন দেখিয়ে হুঁশিয়ার করে দিয়ে যায় এমন গল্প সে অনেক শুনেছে। অমরনাথ চিন্তিত হলেন। নিজে কখনও উনুনের পাশে যাননি তিনি। খাবার আনতে হলে হোটেলে যেতে হবে। সেটা মনোরমা জানলে কুরুক্ষেত্র বাধবে। জলপাইগুড়িতে অবশ্য নৌকো এড়িয়েও যাওয়া যায়। তাতে প্রচুর সময় লাগে। বানারহাট থেকে টেনে চেপে শিলিগুড়ি, সেখান থেকে আবার ট্রেন পালটে জলপাইগুড়ি। পুরো একদিনের পথ। পরীক্ষার দু’দিন আগে মেয়েটাকে এতখানি পরিশ্রম করানো উচিত হবে কিনা বুঝতে পারছিলেন না। শেষপর্যন্ত অঞ্জলি জানাল সে-ই যাবে। বাঁদর দুটোকে এমন শাসনে সেখানে রাখবে যে ওরা দিদিকে বিরক্ত করার সাহস পাবে না। মনোরমার মুখে হাসি ফুটল।

    মনোরমা আজ মাঠে নেমে এসেছিলেন। বুধুয়া বাসের মাথায় মালপত্র তুলে দেওয়ার পর আসনে বসে অঞ্জলি তাকে শেষবার বলল বাড়ি ছেড়ে কোথাও না যেতে। তারপরই তার নজরে পড়ল বড়বাবুর বাবা তেজেন্দ্র নিজেদের কোয়ার্টার্স ছেড়ে লুঙ্গি পরে গেঞ্জি গায়ে বেরিয়ে এসেছেন। ওর হাসি পেল। দীপা জিজ্ঞাসা করল, ‘হাসছ কেন?’

    অঞ্জলি মাথা নাড়ল, এমনি।’

    দীপার খুব অস্বস্তি হচ্ছিল। লেডিস সিট খালি থাকার দৌলতে তারা বসতে পেরেছে কিন্তু অমরনাথ মাথার ওপরে রডে হাত রেখে চলন্ত বাসে দাঁড়িয়ে আছেন। বাবাকে দাঁড় করিয়ে রেখে তারা বসে আছে এমন কাণ্ড কখনও ঘটেনি। সে মায়ের দিকে তাকাল। ব্যাপারটা অঞ্জলির মধ্যে কোনও প্রতিক্রিয়া ঘটায়নি। সে খুব খুশি মুখে চা-বাগান পিছিয়ে যেতে দেখছে। এইসময় ছোট ভাইটা জিজ্ঞাসা করল, ‘অ্যাই দিদি, এই নদীটার নাম কী রে?’

    দীপা গম্ভীর মুখে জবাব দিল, ‘আংরাভাসা।’

    নৌকোয় বসেছিল অঞ্জলি কাঠ হয়ে। বালিতে পা দিয়ে বলল, ‘বাঁচলাম বাবা।’

    দীপা জিজ্ঞাসা করল, ‘কেন?’

    ‘তোর ঠাকুমা স্বপ্ন দেখেছিল না?’

    ‘ঠাকুমার আসার ইচ্ছে ছিল না বলে বানিয়ে বলেছে।’

    ‘সেকী! কী করে বুঝলি?’

    ‘বাঃ। আমি তো ঠাকুমার পাশেই শুয়েছিলাম। খারাপ স্বপ্ন দেখলেই ঠাকুমা ঠেলে আমার ঘুম ভাঙিয়ে দেয়। কাল তো ভাঙায়নি।’ কথা বলতে বলতে লোকটার ওপর নজর পড়ল তার। পঙ্খিরাজ ট্যাক্সির সামনে দাঁড়িয়ে হাঁকছে, ‘পাঁচ সিকে পাঁচ সিকে।’ জিনিসপত্র ততক্ষণে অন্য একটা ট্যাক্সিতে তুলে দিয়েছিলেন অমরনাথ। দীপা ছুটে গেল তাঁর কাছে, ‘বাবা, আমাকে একটা আধুলি দেবে?’

    ‘আধুলি? কী করবি?’

    ‘দাও না। পরে বলব।’

    অমরনাথ পকেটের খুচরো পয়সার দঙ্গল থেকে একটা আধুলি বের করে দিতেই দীপা ছুটে গেল লোকটার কাছে। ততক্ষণে সেই ট্যাক্সিতেও যাত্রী বোঝাই হয়ে গিয়েছে। ড্রাইভার স্টার্ট দিতে যাচ্ছিল। দীপা পাশে দাড়িয়ে বলল, ‘এটা নিন।’

    ‘নিন মানে? আট আনায় তো যাওয়া যায় না ভাই। আর জায়গাও নেই।’

    ‘না। আমি যাব না। আপনি আমার কাছে আট আনা পান।’

    ‘আমি? তোমার কাছে?’ অবিশ্বাসে লোকটা যাত্রীদের দিকে তাকাল। তাঁরাও এখন কৌতূহলী হয়েছেন। দীপা আঁচলটা টেনে ধরল, ‘হ্যাঁ। অনেকদিন আগে আপনি আমাকে আট আনায় জলপাইগুড়ি থেকে এই ঘাটে এনেছিলেন।’

    খানিকক্ষণ তাকিয়ে থেকে থেকে লোকটা নেমে এল গাড়ি থেকে, ‘তোমার হাতে একটা ভারী সুটকেস ছিল? বিকেল হয়ে গিয়েছিল। তোমার সঙ্গে কেউ ছিল না, তাই তো?’

    দীপা মাথা নাড়ল, হ্যাঁ।

    লোকটা হতভম্ব হয়ে গেল। তারপর বিড়বিড় করে বলল, ‘কিন্তু সেদিন তোমার মাথায় সিঁদুর ছিল, হাতে শাঁখা ছিল। নতুন বউ মনে হচ্ছিল। এই গল্প আমি অনেকের কাছে করেছি। কিন্তু— ।’

    ‘এখন আর আমি বউটউ নই। আপনি আমার খুব উপকার করেছিলেন। এটা নিলে আমার ভাল লাগবে।’ দীপার কথা শেষ হওয়ামাত্র অমরনাথ তার পাশে এসে দাঁড়ালেন। ড্রাইভার তাঁকে দেখল, ‘আপনার—?’

    ‘মেয়ে।’

    ‘ও। শোনো, তুমি খুব ভাল। আমি কিছুই জানি না তোমার। কিন্তু এত বছর পরে তো আর ওই আধুলি নিতে পারব না। সেদিন যদি তোমার কাছে বাসভাড়া ছাড়া বেশি পয়সা থাকত অবশ্যই নিতাম। আমরা কসাই লোক। কাউকে একটা পয়সাও ছাড়ি না। কিন্তু সেদিন আধুলিটা কম নিয়েছিলাম বলে আজও মনে মনে সুখ পাই। তুমি যদি সেটা আজ শোধ করে দাও তা হলে আর সুখ থাকবে না।’

    ‘তা হলে আপনার কাছে আমি ঋণী থাকব?’

    ‘না। সেদিন কি তোমাকে বলেছিলাম পরে দিয়ে দিয়ো? বলিনি। তা হলে আর ঋণ বলছ কেন? মনে করো তোমার জন্যে আট আনাই ভাড়া ছিল। আচ্ছা, যেদিন তুমি আবার শাঁখা সিঁদুর পরে সুটকেস নিয়ে একা এই ঘাটে এসে আমার পঙ্খিরাজে উঠবে সেদিন সুদ সমেত শোধ করে দিয়ো।’ কথা শেষ করেই লোকটা গাড়িতে উঠে বসল। তারপর বেশ রাগী মুখে গাড়িতে স্টার্ট দিয়ে বালির ওপর ছুটে চলল কিং সাহেবের ঘাটের দিকে। প্রচণ্ড শব্দের সঙ্গে যে-ধুলো উড়ল তাতে মুহুর্তেই গাড়িটা ঢাকা পড়ে গেল। অমরনাথ মেয়ের কাধে হাত রাখলেন, ‘চল।’

    দুটো রিকশা করতে হল। ছেলেদের নিয়ে অমরনাথ সামনের রিকশায় বসেছিলেন। পেছনে বিষণ্ণ মুখে মায়ের পাশে দীপা। কোর্টকাছারি ছাড়িয়ে ডানদিকে সুভাষ বোসের মূর্তিটাকে রেখে রিকশা করলা নদীর ওপর কাঠের ব্রিজে উঠতেই ওপাশ থেকে একজন চিৎকার করে উঠলেন, ‘ও মশাই, দাঁড়ান দাঁড়ান। আপনার নাম অমরনাথ না?’

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43 44 45 46 47 48 49 50 51
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleসাতকাহন ২ – সমরেশ মজুমদার
    Next Article কইতে কথা বাধে – সমরেশ মজুমদার (অসম্পূর্ণ)

    Related Articles

    সমরেশ মজুমদার

    চব্বিশ ঘণ্টার ঈশ্বর – সমরেশ মজুমদার

    December 4, 2025
    সমরেশ মজুমদার

    ছোটগল্প – সমরেশ মজুমদার

    December 4, 2025
    সমরেশ মজুমদার

    আট কুঠুরি নয় দরজা – সমরেশ মজুমদার

    December 4, 2025
    সমরেশ মজুমদার

    উত্তরাধিকার – সমরেশ মজুমদার

    December 4, 2025
    সমরেশ মজুমদার

    গর্ভধারিণী – সমরেশ মজুমদার

    December 4, 2025
    সমরেশ মজুমদার

    কইতে কথা বাধে – সমরেশ মজুমদার (অসম্পূর্ণ)

    December 4, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Our Picks

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }