Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    সাতকাহন ১ – সমরেশ মজুমদার

    সমরেশ মজুমদার এক পাতা গল্প936 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ১৩. প্ৰাপ্তবয়স্কতা শরীরের না মনের

    অমরনাথ রিকশাওয়ালাকে থামতে বলল। তিনি লোকটাকে চিনতেই পারছিলেন না। রোগা লম্বা প্রৌঢ় এবং পোশাকে অসাচ্ছল্যের ছাপ স্পষ্ট। কাছে এসে লোকটি দুই হাত যুক্ত করে মাথায় ঠেকিয়ে জিজ্ঞাসা করলেন, ‘ভুল করেছি কি? আপনি অমরনাথবাবু?’

    ‘আজ্ঞে হ্যাঁ, আপনার ভুল হয়নি।’

    ‘তা যাচ্ছেন কোথায়? সঙ্গে পরিবার রয়েছে দেখছি। এখনই এলেন মনে হচ্ছে।’

    ‘হ্যাঁ, আমার মেয়ের ফাইন্যাল পরীক্ষা। এখানেই সিট পড়েছে, ক’দিন থাকতে হবে।’

    ‘মেয়ে? উইটে বুঝি? বাঃ, অনেক বড় হয়ে গেছে। হুম। কোথায় উঠবেন?

    ‘বাবুপাড়ায় একটা গেস্ট হাউসে।’

    ‘বাবুপাড়ায় গেস্ট হাউস? তিনটে আছে। রায়দের, মিত্তিরদের আর গুপ্তদের। কোনটায় উঠছেন? ঠিকানা আছে?’

    ‘মিস্টার এস কে মিত্র ভদ্রলোকের নাম।’

    ‘বুঝেছি। ঠিক আছে, আর আটকাব না। পরে দেখা হবে।’

    ‘আপনাকে ঠিক চিনতে পারলাম না।’

    ‘পরিচয় দিলেই পারবেন। আমিই যাব দেখা করতে। না না, পরিবারের সবাইকে রাস্তায় দাঁড় করিয়ে রাখা ঠিক হচ্ছে না। আসি, নমস্কার।’

    চলন্ত রিকশায় বসে চিন্তিত হলেন অমরনাথ। লোকটি নিজের পরিচয় এড়িয়ে গেলেন কেন? কখনও এঁকে দেখেছেন বলে মনে পড়ছে না অথচ এমনভাবে কথা বললেন যে সব খবর জানেন। পেছনের রিকশায় বসে অঞ্জলি দীপাকে বলল, ‘তোর বাবার কাণ্ডটা দেখলি। চেনাজানা নেই একটা উটকো লোককে গড়গড় করে সব কথা বলে গেল। কার মাথায় কী মতলব আছে কেউ বলতে পারে?’

    দীপা বলল, ‘বাবা কী এমন বলেছে!’

    ‘বাঃ, কোথায় উঠব কেন এসেছি বলার কী দরকার! এমনও তো হতে পারে লোকটা ওদের কোনও আত্মীয় কিংবা খুব চেনা।’ অঞ্জলির কথা শেষ হতেই মুখ থমথমে হয়ে গেল দীপার। জলপাইগুড়িতে আসতে হবে জানার পর থেকেই সেই রাত-দিনগুলোর কথা মনে পড়ছে। দম বন্ধ হয়ে আসে। রাত্রে এসেছিল বলে কিছুই দ্যাখেনি, আবার দুপুর পেরিয়ে যখন চোরের মতো ফিরে যাচ্ছিল তখন কোনওদিকে তাকাবার মতো মন ছিল না। এতদিন হয়ে গেল, বাড়িতে কেউ ভুলেও ওই কথা তোলে না। কিন্তু তার আচরণ বিধবা ছাপ মেরে নিয়ন্ত্রিত করে রাখা হয়েছে এমনভাবে যে সেই কথা ভুলে যাওয়ার উপায় নেই। এই লোকটি যদি ওদের লোক হয় তা হলে?

    এস কে মিত্রের গেস্ট হাউস খুঁজে বের করতে অসুবিধে হল না। সুন্দর ছিমছাম বাগানওয়ালা বাড়িটা করলা নদীর ধারেই। চৌকিদার নিজেই এগিয়ে এল, সে ইতিমধ্যে নির্দেশ পেয়ে গেছে। ঘরদোর দেখে অমরনাথ খুশি। রমলা সেনের প্রতি কৃতজ্ঞ হলেন তিনি। আজই একটা চিঠি লিখবেন ঠিক করলেন। বাড়ি দেখে অঞ্জলির মেজাজ শান্ত হল। নইলে অজানা লোককে সব খবর দেওয়ার জন্যে স্বামীর সঙ্গে তার একপ্রস্ত হয়ে যেত। চৌকিদার চলে গেলে বলল, ‘শোনো, তোমাকে একটা কথা বলছি। আমরা এখন শত্রুপক্ষের এলাকায় এসেছি। সাবধানে চলবে। সবাইকে আগবাড়িয়ে বিশ্বাস করবে না। ওই লোকটা যদি আসে তা হলে বেশি কথা বলবে না।’

    দীপা পড়তে বসে গেল। অঞ্জলি ছেলেদের নিয়ে করলা নদীর ধারে গিয়ে দাঁড়াল। বিয়ের পর এই প্রথম সে অমরনাথের সঙ্গে বাইরে একা হল। একা শব্দটা ভাবামাত্র হেসে ফেলল সে। ছেলেদুটোকে কড়া গলায় বলল, ‘সাবধান করে দিচ্ছি, কেউ যেন এই নদীর ধারে খেলতে আসবে না। বড় বড় কুমির আছে। গপ করে গিলে নেবে তোমাদের।’

    সন্ধের মধ্যে অমরনাথের অনেকগুলো কাজ হয়ে গেল। দীপার যে-স্কুলে সিট পড়েছে সেখানে যাওয়ার সহজ পথটি দেখে এলেন। বাজার থেকে আহার্য জিনিস কিনলেন। গেস্ট হাউসে ফিরে দেখলেন সত্যসাধন মাস্টার বারান্দায় বসে চা খাচ্ছেন। অঞ্জলি বলল, ‘কী ঝামেলা বাধালে বলো তো!’

    অমরনাথ বললেন, ‘কী হয়েছে?’

    ‘সেই লোকটা এসেছিল। তুমি নেই শুনে বলেছে ঘুরে আসছে।’

    ‘লোকটা কে তাই তো বুঝতে পারছি না। মাস্টারমশাইয়ের খবর ভাল?’

    ‘মন্দ না। এখন পরীক্ষাটা ভালয় ভালয় শেষ হইলেই হয়। একটা কথা কই। এখন দীপারে একদম ডিস্টার্ব কইরেন না। ওর যেমন পড়নের ইচ্ছা তাই পড়তে দিবেন। আর পরীক্ষার অন্তত এক ঘণ্টা আগে নিয়া যাইবেন সেন্টারে।’

    ‘আপনি নিশ্চিন্ত থাকুন, আপনার ছাত্রীর কোনও অসুবিধে হবে না।’

    সত্যসাধন মুখে হাত বোলালেন একটু। তারপর নিচু গলায় বললেন, ‘দ্যাখেন অমরনাথবাবু, আমি ব্যাকডেটেড মানুষ। কখনও ভাবি নাই মাইয়ামানুষের মেধা পুরুষদের চেয়ে বেশি। কিন্তু দীপারে দেইখ্যা আমার ভুল ভাঙছে। এই মেয়েটি অনেক উপরে উঠবে। হয়তো ঈশ্বরের বাসনা ছিল না সে সংসার করে। আজ উঠি।’

    অঞ্জলি বলল, ‘রোজ যদি একবার এখানে ঘুরে যান মাস্টারমশাই— !’

    সত্যসাধন বললেন, ‘বলার দরকার নেই। স্বার্থ আমার, আমি আসব!’

    গেট খুলে যখন সত্যসাধন বেরিয়ে যাচ্ছেন তখন অঞ্জলি অমরনাথের কিনে আনা জিনিসপত্রের ব্যাগ নিয়ে ভেতরে গেল। একটা ঘর দীপাকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। এ-বাড়িতে ইলেকট্রিক আলো আছে। ফলে দ্বিতীয় ঘরটিতে ছেলেদুটো হুটোপাটি করছে। ইলেকট্রিক আলোয় রাত কাটানোর অভিজ্ঞতা এই প্রথম হচ্ছে ওদের। অঞ্জলি ধমকাল, ‘আস্তে। বারংবার বলেছি এই ক’দিন দিদি বাড়িতে থাকলে গলা তুলে কথা বলবি না।’

    বারান্দায় চেয়ার পাতা ছিল। অমরনাথ তার একটায় বসলেন। খুব শান্ত এই বাড়িটা। রমলা সেন যেচে যদি ব্যবস্থাটা না করে দিতেন—! অঞ্জলি ভদ্রমহিলাকে কখনই পছন্দ করেনি। কিন্তু এখন আর মুখ ফুটে কিছু বলে না। এক কাপ চা হলে মন্দ হত না। অঞ্জলিকে ডেকে বলতে ইচ্ছে হল না। আজকাল মাঝে মাঝেই ক্লান্তি লাগে। চা-বাগানোর কাজে এমন একটা অভ্যাস হয়ে গেছে যে তার বাইরের জীবনের সঙ্গে খাপ খাওয়াতে পারেন না। ছেলেদুটোকে হয়তো মানুষ করে যেতে পারবেন। কিন্তু মেয়েটা?

    অমরনাথ নিশ্বাস ফেললেন। শেষপর্যন্ত দীপা স্কুল ফাইনাল পরীক্ষা দিচ্ছে। তাঁদের বংশে কোনও মেয়ে এই অবধি পড়েনি। বংশ! দীপা কি তার বংশের? উত্তরটা ভাবতেই ভাল লাগে না। যে-মেয়েটিকে জন্মের পরই মাকে হারাতে হয়েছে, যার বাবা স্ত্রীর মৃত্যুর পরই সম্পর্ক অস্বীকার করেছে, সেই মেয়েটিকে যখন বুকে তুলে নিতে পেরেছিলেন, তিল তিল করে বড় করে তুলতে পেরেছিলেন, তখন—! অমরনাথ মাথা নাড়লেন। মতিভ্রম! মতিভ্রম না হলে হরিদাসদার কথা শুনে বিয়েতে তিনি রাজি হয়ে যেতেন না। মনোরমা যদি সেসময় চাপ না দিতেন। এত কিছু করা নষ্ট হয়ে গেল একটা ভুলের জন্যে। এখন তার প্রায়শ্চিত্ত করা। লোকে বলে ছেলে হলে পড়াশুনার পেছনে খরচ করার মানে হয়, মেয়ের পেছনে এত টাকা ঢালছেন কেন? তার ওপর বিধবা মেয়ে। কোনও ভবিষ্যৎ নেই। কবে বিদ্যাসাগরমশাই বিধবা বিবাহ চালু করেছিলেন কিন্তু কে মানছে? কেউ না। দেশে লক্ষ লক্ষ কুমারী পড়ে থাকতে সাধ করে কেউ বিধবাকে বিয়ে করে! সুভাষচন্দ্র গত দু’বছরে কলকাতা থেকে অবশ্য একটার পর একটা সম্বন্ধ পাঠিয়ে যাচ্ছে। কেউ দু’বার বিয়ে করেছে কেউ তিন সন্তান নিয়ে বিপত্নীক। দ্বিতীয়বার ভুল করবেন না অমরনাথ। সেই কথা জানিয়েও দিয়েছেন সুভাষচন্দ্রকে। স্কুল ফাইন্যালটা পাশ করলে চা-বাগানের স্কুলে একটা কাজ হয়েও যেতে পারে।

    অঞ্জলি চায়ের কাপ নিয়ে পাশে এসে দাঁড়াল, ‘কী ভাবছ?’

    অমরনাথ খুশি হয়ে কাপ নিলেন। কথা বললেন অন্য গলায়, ‘কেমন লাগছে জলপাইগুড়ি? তোমারও একটু চেঞ্জ হল!’

    ‘তা হল। আমি ঠিক করেছি দীপা যখন পরীক্ষা দিতে যাবে তখন বাইরে ঘুরতে যাব। পরীক্ষা শেষ হলে ওকে নিয়ে ফিরব।’

    ‘তাই হবে।’

    ‘আর পরীক্ষা যেদিন শেষ হবে সেদিন সবাই মিলে একটা সিনেমা দেখতে যাব। একটু আগে রিকশায় করে মাইকে বলতে বলতে গেল, কাল থেকে রূপশ্রী সিনেমা হলে উত্তমকুমারের সিনেমা হবে। কুহক।’

    ‘ভালয় ভালয় পরীক্ষা হোক।’

    ‘কেউ আসছে।’ অঞ্জলি গেটের দিকে তাকিয়ে বলল। গেট খুলে যিনি আসছিলেন তিনি খুব জোরেই হাঁটছিলেন। একেবারে কাছে এসে বললেন, ‘নমস্কার মশাই, এই এলেন বুঝি? আমি অবশ্য এর আগে খোঁজ নিয়ে গিয়েছি।’

    অঞ্জলি চটপট ভেতরে চলে এল। অমরনাথের চা তখনও অর্ধেক। তিনি উঠে দাঁড়িয়ে বললেন, ‘আমি কিন্তু এখনও আপনাকে চিনতে পারিনি।’

    ‘খুব স্বাভাবিক। কয়েক মিনিটের জন্যে দেখা হয়েছিল। আমার আবার মুশকিল হল যাকে ভাল লাগে তাকে কিছুতেই ভুলে যেতে পারি না। তা কী বলব মশাই, বয়স তো কম হল না, ভাল লাগার মতো মানুষ তো কম দেখলাম না, তাঁরা সবাই মাথার মধ্যে যাকে বলে ঠাসাঠাসি হয়ে থাকেন। আমাকে এখনও বুঝতে পারছেন না? মেয়ের বউভাতে জলপাইগুড়িতে এসেছিলেন। প্রতুলবাবুর বাড়িতে আমি আপনাকে আপ্যায়ন করে বসতে বলেছিলাম। এখন মনে পড়ছে?’

    অমরনাথ শক্ত হলেন। একটু ভাবার চেষ্টা করলেন। কিন্তু সেই সন্ধ্যায় এই লোকটিকে দেখেছিলেন কিনা মনে করতে পারলেন না। তিনি জিজ্ঞাসা করলেন, ‘আপনার নাম?’

    ‘হরদেব ঘোষাল। প্রতুলবাবুর প্রথম জীবনের ব্যাবসার পার্টনার ছিলাম। যেই তিনি লাভের মুখ দেখতে লাগলেন অমনি হাত ধুয়ে ফেললেন! তা একটু নিশ্চয়ই বসতে বলবেন। হাঁটতে হাঁটতে হাঁটু ব্যথা হয়ে গেল।’

    অমরনাথ ইতস্তত করলেন। যে-সম্পর্কটি একেবারেই চুকে গিয়েছে তারই জের ধরে উদয় হয়েছেন হরদেব। নতুন জায়গায় একেবারে অভদ্র হতেও পারছেন না। চা-বাগান হলে যে-ব্যবহার করতেন এখানে তা পারলেন না। বললেন, ‘বসুন।’

    আধ-খাওয়া চা সুদ্ধু কাপটি মাটিতে নামিয়ে রাখলেন। তারপর জিজ্ঞাসা করলেন, বলুন কী উদ্দেশ্যে এসেছেন?’

    হরদেব আরাম করে বসলেন, ‘এই মেয়ে তো সেই মেয়ে যে বিধবা হয়েছে?’

    অমরনাথ জবাব দিলেন না। হরদেব একটু অপেক্ষা করে বললেন, ‘আমারও তাই মনে হয়েছিল। অবশ্য বিয়েবাড়িতে কনের বেশে দেখেছি, এখন তো ডাগর হয়েছে, মিল তেমন নেই, তবু শুনেছিলাম মেয়েটিকে আপনি পড়াচ্ছেন। তা সে যে স্কুল ফাইন্যাল পরীক্ষা দেবার মতো উপযুক্ত হয়ে গেছে তা কী করে ভাবব! খুব ভাল, খুব ভাল।’ পকেট থেকে কৌটো বের করে নস্যি নিলেন হরদেব।

    ‘আপনি কী উদ্দেশ্যে এসেছেন এখনও বললেন না!’

    ‘বলছি। দেখুন অমরবাবু, প্রতুল ছেলের বিয়ে দিয়ে বউ ঘরে আনল। যে-ছেলে ভেতরে ভেতরে খয়ে যাচ্ছে তার মাধ্যমে বংশধর চাইল সে। আপনার মেয়ে সেদিন পালিয়ে বেঁচেছিল। ছেলেও মরল প্রতুলের। তারপর—’

    ‘এসব তো আমাদের জানা। পুরনো গল্প। এখন কেন ওসব তুলছেন?’

    ‘বলছি। আপনার মেয়ে পালিয়ে যাওয়ার পর প্রতুল তার পুত্রের মৃত্যু সংবাদ জানিয়েছিল। কেন জানেন? জানিয়েছিল এইজন্যে যার সম্পর্কে সম্পর্ক সে নেই তাই তোমার মেয়েকে আর পাঠিয়ো না। সে ঠিকই করেছিল। কারণ আপনি আর আপনার মেয়েকে তার শ্বশুরবাড়িতে ফেরত পাঠাননি।’

    ‘কে কী চেয়েছিল জানি না, আমি পাঠানো উচিত বলে মনে করিনি।’

    ‘হ্যাঁ। এটাই সে চেয়েছিল। প্রতুলের বিশাল সম্পত্তি। এসবের উত্তরাধিকারী কে বলুন তো! জানেন? জানেন না! আপনার মেয়ে।’ শেষ শব্দদুটো নিচু গলায় বললেন হরদেব ঘোষাল। অমরনাথের চোখ ছোট হল, ‘কী করে?’

    ‘পুত্রবধূ। ছেলে নেই মেয়ে নেই অতএব সম্পত্তি তো পুত্রবধূই পাবে’। হরদেব হাসলেন, ‘প্রথম ছয়-সাত মাস খুব উদ্বিগ্ন ছিল সে। না না, পুত্রশোকে নয়, আপনি যদি খবর পাঠান যে মেয়ে গর্ভধারণ করেছে এবং সন্তানসম্ভবা, তা হলে কী হবে? শেষপর্যন্ত তার লোকজন যখন জানাল কিছুই হয়নি তখন নিশ্চিন্ত হল।’

    ‘কিন্তু আপনি বললেন তিনি উত্তরাধিকারী আনার জন্যে ছেলের বিয়ে দিয়েছিলেন। সেরকম কিছু হলে তাঁর তো খুশি হবার কথা।’ অমরনাথ আপত্তি করলেন।

    ‘না। একটু চা হবে? আচ্ছা থাক। তিনি খুশি হতেন না। কারণ তিনি ভাল করেই জানতেন যে তাঁর পুত্রের পিতা হবার ক্ষমতা নেই। তবু তিনি বিয়েটা দিয়েছিলেন। কিন্তু যদি তাঁর অনুমান ভুল হয়, পুত্র যদি দুর্ঘটনা ঘটিয়ে ফেলে, উদ্বিগ্নতা সেই কারণে! ’

    ‘আপনি যা বলছেন তা আমার কাছে দুর্বোধ্য। আর এইসব কথা কী করে জানতে পারলেন আপনি?’ অমরনাথ বিরক্ত হলেন।

    ‘জানি। এখন আমি প্রতুলের অনেক নীচের স্তরের। তার অর্থ আছে, নাম হয়েছে, রাজনৈতিক দলে টাকা খাটায়। আমার কিছুই নেই। তার সঙ্গে এক আসনে বসার যোগ্যতা আমার নেই। মাঝে মাঝে দয়া করে সে টাকা দেয় আমাকে। কেন দেয় জানেন? মানুষ যতই ওপরে উঠুক, তার পাছায় যদি ঘা থাকে তা হলে সে সোজা হয়ে বসতে পারে না। অপকর্মগুলো নিয়ে আলোচনা করার সঙ্গী, বিশ্বস্ত সঙ্গী নেই তার। এখন যারা তাকে চেনেজানে তারা অন্য চেহারা জানে। একমাত্র আমার কাছে তার অতীত বাঁধা। তাই আমাকে দরকার হয় তার। ঘর বন্ধ করে কুমতলব বলে পরামর্শ চায়। আমিও দিই, বদলে টাকা নিই। ফেলো কড়ি মাখো তেল, আমি কি তোমার পর!’ হাসলেন হরদেব ঘোষাল। তারপর বললেন, ‘ছেলের বিয়ে ঠিক করছে আমাকে বলেনি। জানতে পেরে জিজ্ঞাসা করলাম, মেয়েটাকে মারছ কেন? সে বলল, এক পয়সা যৌতুক নেব না, বাজরানির মতো থাকবে, এতে মারাটা কী দেখলে? তারপর গলা নামিয়ে বলেছিল, আমার বংশধর দরকার। এ ছেলে মরে গেলে আর সুযোগ পাব না। আমি চমকে উঠলাম। বিশ্বাস করুন, আমি জোগাড় করে আনলাম এক ধরনের পাউডার যা খেলে শরীরের তেজ বাড়ে। প্রতুলকে রাজি করালাম ছেলেকে খাওয়াতে। প্রতুল রাজি হল কেন জানেন? অন্তত মেয়েটার প্রাথমিক অভিজ্ঞতা একটা হোক সে চেয়েছিল। কিন্তু তার পরের দিন ছেলে গেল। হাসপাতালে আর বউ গেল পালিয়ে। প্রতুল খবর পেল সন্ধেবেলায়। তখন ঘাট বন্ধ হয়ে গিয়েছে। নইলে যেমন করেই হোক সেই রাত্রে সে বউকে ফিরিয়ে আনত। হয়তো সেই রাত্রে ছেলে না মরলে পরদিন নিজে আপনার বাড়িতে চলে যেত। অমরনাথবাবু, অতুল মরে গিয়ে আপনার মেয়েকে বাঁচিয়ে গেছে।’

    অমরনাথ চকিতে দ্বিতীয় ঘরের দিকে তাকালেন। মেয়েটা পড়ে চুপচাপ। বাইরে থেকে বোঝা যায় না কখনই। জোরে পড়তে পারে না সে কিছুতেই। এই মুহুর্তে সে কী করছে বোঝার উপায় নেই। কিন্তু হরদেব ঘোষালের কথাবার্তা যদি তার কানে যায় তা হলে একটা গোলমাল হতে বাধ্য। হয়তো এত কষ্টের পড়াশুনা নষ্ট হয়ে যাবে, পরীক্ষা দিতে পারবে না মেয়েটা। তিনি সোজাসুজি বললেন, ‘হরদেববাবু, আপনি আমার অপরিচিত। প্রতুলবাবু আপনার বন্ধু। তাঁর ব্যক্তিগত কথা আমাকে বলা অন্যায় হচ্ছে। তা ছাড়া ওই সম্পর্কের কথা আমরা ভুলে যেতে চাই।’

    হরদেব বললেন, ‘এসব কথা আপনাকে আমি বলতাম না অমরনাথবাবু। আপনার চা-বাগানের বাসায় দিনে গিয়ে দিনেই ফিরে আসা যায়। কিন্তু আমি তো কখনও যাইনি। কিন্তু সম্প্রতি আমি প্রতুলের দ্বারা চরম অপমানিত হয়েছি। আমাকে সে তার বাড়িতে ঢুকতে নিষেধ করেছে। আমি গরিব, প্রতিশোধ নেবার ক্ষমতা আমার সীমিত। কিন্তু মনে রাখবেন, সীমিত, একেবারে যে নেই তা নয়। আপনাকে আজ আচমকা দেখতে পেয়ে মনে হল সেই প্রতিশোধ আমি নিতে পারি। আপনি কি জানেন প্রতুলবাবুর স্ত্রী বিকৃত মস্তিষ্ক? পাগল?’

    ‘না তো।’ অজান্তেই বলে ফেলল অমরনাথ।

    ‘হ্যাঁ। এক বছর হল সে উন্মাদ। প্রতুল তাকে সম্প্রতি উন্মাদাশ্রমে পাঠিয়ে দিয়েছে। প্রথমদিকে পাঠালে হয়তো সুস্থ হতে পারত কিন্তু এখন কোনও সম্ভাবনা নেই। বাড়ির কর্তী হয়ে আছে আনা।’ আবার নস্যি নিলেন হরদেব।

    ‘আনা? শুনেছি ওদের পরিচারিকার নাম আনা।’

    ‘সঠিক শুনেছেন। এই রমণীটির সঙ্গে প্রতুলবাবুর দীর্ঘকালের সম্পর্ক। ওঁর স্ত্রীও সেকথা জানতেন। আনা অত্যন্ত বুদ্ধিমতী রমণী। প্রতুলবাবুর অনেক কুকর্মে সে মন্ত্রণা দিয়েছে। এখন সে বিবাহিতা স্ত্রীর মর্যাদা চায়। প্রথমা স্ত্রী উন্মাদিনী, পুত্র মৃত, প্রতুলবাবু নিশ্চয়ই দ্বিতীয়বার বিয়ে করতে পারেন। কিন্তু যাঁর বাড়িতে ডি সি-এস পি আসেন, নেতারা আসেন, তিনি কী করে ঝি-ক্লাসের একটা মেয়েকে বিয়ে করবেন? তার ওপর মেয়েটি যাকে বলে যৌবনের শেষ প্রান্তে। প্রতুল আমাকে বলেছিল আনাকে বুঝিয়ে বলতে। একশোটি টাকা নিয়ে আমি রাজি হয়েছিলাম। কিন্তু আনা আমাকে নাকানি চুবুনি খাওয়াল। সে বলল আপনার মেয়েকে লুকিয়ে ফেরত পাঠিয়ে দিয়েছে সে নিজে কারণ তার স্বার্থ ছিল। সে যখন জানতে পারল অতুল বাঁচবে না তখনই তার মাথায় বুদ্ধিটা খেলল। আপনার মেয়েকে প্রতুলের খপ্পর থেকে বের করে দিতে পারলে পুরো সম্পত্তি দখল করতে তার কোনও অসুবিধে হবে না। কারণ প্রতুলের ঔরসে তার গর্ভে একটি পুত্র সন্তান জন্মেছে। না না, জলপাইগুড়ির কোনও লোক একথা জানে না। ছেলেটি রয়েছে হাওড়ায় আনার গ্রামে। প্রতি মাসে প্রতুলবাবু আনার নাম করে তার খরচ পাঠায়। মানি অর্ডারের রসিদগুলো আমায় দেখিয়েছে আনা। এসব খবর নলিনীর অজানা নয়। কিন্তু যেই আনা বিয়ের কথা তুলল অমনি তার মাথা খারাপ হয়ে গেল। আনা বুঝেছে, প্রতুল বিয়ে না করলে সে ওই সম্পত্তির অধিকারিণী হবে না। কী বোঝাব আমি? প্রতুলকে বললাম যা ন্যায্য তাই করতে। আপনার মেয়ের নামে সম্পত্তি লিখে দিতে। সে ক্রুদ্ধ হল। আমাকে অপমান করল প্রচণ্ডভাবে। তারপর থেকে ওই বাড়িতে আমি আর যাই না। কিন্তু জ্বলে যাচ্ছে ভেতরটা। আপনি আমার সঙ্গে হাত মেলান।’

    ‘কীভাবে?’

    ‘প্রতুলের পরিবারে এখন মালিক দু’জন। প্রতুল আর তার স্ত্রী। কিন্তু স্ত্রী উন্মাদিনী। সে আর কখনও ভাল হবে না। অতএব রইল প্রতুল একা। আনা যতই চাপ দিক তার পক্ষে জলপাইগুড়িতে বাস করে ঝি-কে বিয়ে করা সম্ভব হবে না। সে জানে তা হলে আর মাথা তুলে দাঁড়াতে পারবে না। গতকাল শুনলাম সে রক্তচাপে ভুগছে। এই অবস্থায় ওর বিপুল সম্পত্তির একমাত্র উত্তরাধিকারিণী আপনার মেয়ে।’

    ‘তাও যদি হয়, আপনি কী চাইছেন?’

    ‘আপনার মেয়েকে তার শ্বশুরবাড়িতে পাঠিয়ে দিন।’

    ‘মানে?’

    ‘এখন প্রতুলের যা অবস্থা শুনছি, তাতে নখ দাঁত খসে পড়তে বেশি দেরি নেই। এইসময় মেয়ে গিয়ে ওখানে কায়েম হলে আনার সাধ্য নেই কিছু হাতিয়ে নেয়। প্রতুল যদ্দিন আছে তদ্দিন একটু সইতে হবে, কিন্তু তারপর— !’

    ‘হরদেববাবু, এবার আপনি আসুন।’

    ‘মানে?’

    ‘আমার মেয়ে এখানে এসেছে পরীক্ষা দিতে। আমরা এসব ব্যাপারে মাথা গলাতে চাই না। তা ছাড়া যে-সম্পর্ক অস্বীকার করেছি সেখানে আমার মেয়ে ফিরে যেতে পারে না। আপনি এখন আসুন।’ অমরনাথ উঠে দাঁড়ালেন।

    হরদেব মাটির দিকে মুখ করে কিছুক্ষণ বসে রইলেন। তারপর গা-ঝাড়া দিয়ে উঠে পড়লেন, ‘ভাল। তবে কথাটা মনে রাখবেন। মন পরিবর্তিত হলে আমার সঙ্গে যোগাযোগ করবেন। কথায় বলে পড়ে পাওয়া চৌদ্দ আনা, এ তো রাজার সম্পত্তি।’ হরদেব টুক টুক করে গেট খুলে বেরিয়ে গেলেন।

    অমরনাথ ধীরে ধীরে দীপার ঘরের দরজায় পৌঁছালেন। টেবিলে ঝুঁকে বসে মেয়েটা লিখে যাচ্ছে। ওখানে বসলে কি বারান্দায় বলা কথাবার্তা শোনা যায়? বুঝতে পারলেন না তিনি। কিন্তু হঠাৎ তাঁর অস্বস্তি শুরু হল। যে-ভঙ্গিতে দীপা লিখে যাচ্ছে তাতে মোটেই ওকে আর কিশোরী মনে হচ্ছে না। ও কি আর কিশোরী আছে? অনেক পোড়-খাওয়া লড়াকু মেয়ের আদল এসে গেছে ওই ভঙ্গিতে। অমরনাথ চট করে সরে এলেন। পাশের ঘরে ছেলেদুটো বিছানায় শুয়ে গল্প করছে। দরজার পাশে একটা চেয়ারে পাথরের মতো অঞ্জলি বসে। অমরনাথ দাড়াঁতেই চোখাচোখি হল।

    অঞ্জলি জিজ্ঞাসা করল চাপা গলায়, ‘ও কী করছে?’

    ‘লিখছে।’

    ‘শুনতে পেয়েছে বলে মনে হল?’

    ‘বুঝতে পারলাম না।’

    ‘আমি এই ভয় পাচ্ছিলাম।’

    ‘হয়তো শুনতে পায়নি।’

    ‘লোকটাকে আর এখানে ঢুকতে দেবে না।’

    ‘মনে হয় নিজেই আর আসবে না।’

    প্রায় ঝড়ের মতো পরীক্ষার দিনগুলো কাটল। প্রথম দিন দুপুরে খুব লজ্জা পেয়েছিল অঞ্জলি। টিফিনের সময় অমরনাথের সঙ্গে পরীক্ষার হলে গিয়ে দীপার সঙ্গে দেখা করেছিল সে। ঘন্টা পড়ার আগেই পৌঁছে গিয়েছিল। আর তখন দেখতে পেয়েছিল ছাত্রীদের বাবা-মা হাতে ডাব নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। সকাল সকাল দীপাকে ভাত খাইয়ে পৌঁছে দিয়েছিল অমরনাথ। এত অল্প সময়ের মধ্যে খিদে পায় না দীপার। কিন্তু মেয়েরা যখন হল থেকে বের হল, গার্জেনরা যখন তাদের হাতে কাটা ডাব তুলে দিয়ে প্রশ্ন করতে লাগল, তখন মনে হল খালি হাতে আসা ঠিক হয়নি। একটা পরীক্ষা দিয়েই মেয়ের মুখে ঘাম, চুল উসকোখুসকো, আঙুলে কালির দাগ। দুটো কলম দিয়েছিলেন অমরনাথ। অনেককাল আগে কেনা পার্কার কলমটা তোলা ছিল। সেটার সঙ্গে নিত্য ব্যবহৃত কলমটাও নিয়ে এসেছিল দীপা। বোঝা যাচ্ছে পার্কার কলমটা ব্যবহার করেনি। নিশ্চয়ই লিক করছে সস্তার কলম থেকে। অমরনাথ আঙুলটা দেখিয়ে বললেন, ‘আঙুলটার কী অবস্থা করেছিস। পার্কার দিয়ে লিখলে সুবিধে হত না।’ দীপা মাথা নাড়ল, ‘পুরনো কলমে সুবিধে হয়। লিখে লিখে অভ্যাস হয়ে গেছে তো। মা, আমার না কী ভয় করছিল যখন খাতা দিল। কোয়েশ্চেন পেপার হাতে নিয়ে মনে হল আমি একটা প্রশ্নেরও উত্তর লিখতে পারব না। কিন্তু যেই রোল নম্বরটা খাতায় লিখলাম সব ঠিক হয়ে গেল।’

    অমরনাথ জিজ্ঞাসা করলেন, ‘অ্যাডমিট কার্ড দেখে নম্বরটা লিখেছিস তো?’

    ‘আমার মুখস্থ হয়ে গেছে।’

    এবার অঞ্জলি জিজ্ঞাসা করল, ‘তুই ডাব খাবি?’

    ‘ডাব?’ দীপা মুখ ঘুরিয়ে চারপাশে তাকাল। তারপর হেসে বলল, ‘খামোকা ডাব খেতে যাব কেন? আমার কি পেট খারাপ?’

    অঞ্জলির মনে হল মান বাঁচল। তারপর থেকে এক রুটিন। সকালে অমরনাথ মেয়েকে পৌঁছে দিয়ে আসেন। দুপুরে খাওয়াদাওয়া চুকিয়ে অঞ্জলি দুই ছেলেকে নিয়ে বেরিয়ে পড়ে। পরীক্ষার হলে টিফিনের শেষে মেয়ে ঢুকে গেলে ওরা শহর দেখতে বের হয়। দেবী চৌধুরানির কালীবাড়িটি তার খুব ভাল লেগেছে। পরীক্ষার শেষ দিনে অমরনাথ উত্তমকুমারের কুহক ছবির টিকিট কিনে এনেছেন। পরীক্ষার পর বাড়ি এসে বিছানায় লাফিয়ে উঠে উপুড় হয়ে শুয়ে পড়ল দীপা, ‘আঃ। কতদিন ভাল করে ঘুমোইনি মা।’

    অঞ্জলি বলল, ‘চা-বাগানে গিয়ে কাল থেকে যত খুশি ঘুমাস। একটু বাদে তৈরি হয়ে নে। আমরা সবাই কুহক দেখতে যাব।’

    ‘আমার ভাল লাগছে না মা। তোমরা যাও?’

    ‘শরীর খারাপ লাগছে তোর?’

    ‘না। শুধু ঘুম পাচ্ছে।’

    ‘ক’মাস ধরে যা পড়া পড়লি। সিনেমাটা উত্তমকুমারের ছিল তাই ভাবলাম দেখি।’

    ‘সুচিত্রা সেন আছে?’ মুখ ফিরিয়ে জিজ্ঞাসা করল দীপা।

    ‘কেন?’

    ‘থাকলে আমি যাব।’

    অঞ্জলি জানত যে ছবির নায়িকা অন্য। তবু সে ঠোঁট ওলটাল, ‘জানি না। হয়তো! উত্তমকুমার থাকলেই তো সুচিত্রা সেন থাকে।

    দীপা উঠে বসল। বসে হাসল, ‘জানো, অনেকদিন আগে একটা ছেলে আমাকে বলেছিল আমি নাকি সুচিত্রা সেনের মতো দেখতে। তারপর অনেক সিনেমা পত্রিকায় আমি তার ছবি দেখেছি কিন্তু কোনও মিলই খুঁজে পাইনি।’

    ‘কোন ছেলে বলেছিল?’ অঞ্জলির মুখ গম্ভীর হল।

    ‘তুমি চেনো না। অনেক বছর আগে মালবাবুর বাড়িতে এসেছিল।’

    ‘আমাকে বলিসনি কেন?’

    ‘আমি কথাটার মানেই বুঝিনি তখন।’

    ‘এখন বুঝেছিস?’

    ‘বাঃ, আমি কি আর ছোট আছি? ’

    সিনেমা দেখার পর অঞ্জলির মন খুব ভাল হয়ে গিয়েছিল। ছেলেদের নিয়ে অমরনাথ আগে আগে যাচ্ছিলেন। পেছনে দীপার পাশে অঞ্জলি। অঞ্জলি বলল, ‘হেমন্তকুমারের গানগুলো কী সুন্দর। শহরের লোকদের কী সুবিধে, ইচ্ছে হলেই সিনেমা দেখতে পারে।’

    দীপা আঁচল টানল। রিকশার দঙ্গল, সিনেমা ফেরত মানুষের ভিড় সামলে ওরা হাঁটছিল। অঞ্জলি হাসল, ‘কথা বলছিস না যে। তোর নায়িকা না দেখে মন খারাপ হয়ে গিয়েছে?’ তারপরেই মনোরমার মুখ মনে পড়ে গেল তার। চাপা গলায় বলল, ‘শোন, বাড়িতে গিয়ে ঠাকুমাকে বলার দরকার নেই যে আমরা সিনেমা দেখলাম।’

    ‘কেন?’

    ‘বুঝেছিস না?’

    ‘বুঝেছি।’

    ‘কী?’

    ‘আমার সিনেমা দেখা ঠিক নয়।’

    ‘দ্যাখ, কেউ যদি মনে করেন এই করা উচিত ওই করা উচিত, আর তিনি যদি বয়স্ক হন এবং বোঝালেও না বোঝেন, তা হলে খামোকা সত্যি কথা আগ বাড়িয়ে বলে দুঃখ দিয়ে লাভ কী!’

    ‘সামনে যারা বাবার সঙ্গে যাচ্ছে তারা যদি বলে দেয়?’

    ‘ওদের মনে থাকবে না। আর মনে থাকলেও না হয় বলব ভগবানের সিনেমা দেখেছি।’

    ‘এর চেয়ে না দেখলেই হত। না দেখলে তো কোনও ক্ষতি হত না।’ দীপা খুব নিস্পৃহ গলায় কথাগুলো বলল। অঞ্জলি এবার গম্ভীর হয়ে গেল। আজকাল দীপার অনেক কথাই সে ঠিকঠাক বুঝতে পারে না। বড্ড ধাক্কা দিয়ে কথা বলে সে।

    গেস্ট হাউসে পৌঁছাতেই চৌকিদার বলল, ‘এক বাবু আয়া থা মিলনেকে লিয়ে।’

    অঞ্জলি জিজ্ঞাসা করল, ‘কী নাম বলেছে? মাস্টারমশাই? রোজ যিনি আসেন?’

    ‘নেহি। ইয়ে দুসরা আদমি।’

    অঞ্জলি অমরনাথের দিকে তাকাল, ‘আবার এসেছিল সেই লোকটা!’

    দীপা জিজ্ঞাসা করল, ‘কে মা?’

    অঞ্জলি ভেতরে ঢুকল, ‘তুই চিনবি না। আয়।’ ওরা চলে গেলে অমরনাথ চৌকিদারের কাছে জানতে চাইলেন, ‘কী রকম দেখতে হে সেই বাবুকে?’

    ‘বুড্ডা। গাড়িমে আয়া থা।’

    গাড়িতে এসেছিল? খুব অবাক হলেন অমরনাথ। হরদেব ঘোষালকে দেখে কিছুতেই মনে হয় না তার গাড়ি আছে। গাড়ি থাকলে কেউ রাস্তায় হেঁটে বেড়ায় না। তা ছাড়া হরদেবকে দেখে সচ্ছল বলে মনেই হয় না। তা হলে কে এল? অমরনাথ ভেবে পেলেন না। চৌকিদারকে জিজ্ঞাসা করেও তিনি নতুন কিছু জানতে পারলেন না। যাঁর গেস্ট হাউস তিনি একবারও আসেননি। আর তিনি তো চৌকিদারের মালিক।

    ঘরে এসে অঞ্জলিকে এই কথাগুলো বললেন অমরনাথ। অঞ্জলি বলল, ‘এত ভাবার কী আছে! যে আসে আসুক। আমরা তো কাল সকালেই চলে যাচ্ছি।’

    রাত বাড়ল। যিনি এসেছিলেন তিনি আর এলেন না। অমরনাথের ঘুম আসছিল না। কেমন যেন ভয়ভয় করছিল। মানুষের ওপর আর বিশ্বাস রাখা যাচ্ছে না। যিনি এসেছিলেন তিনি যদি প্রতুলবাবু হন তা হলে তো ভয়ের কারণ রয়েছে। হরদেব ঘোষাল যা বলেছেন তা যদি সত্যি হয় তা হলে দীপা ওদের পথের কাঁটা। আনা নামক সেই পরিচারিকাটি কি চাইবে দীপা বেঁচে থেকে সম্পত্তি ভোগ করুক! প্রতুলবাবু নিজে থেকে কি দীপাকে সম্পত্তি দিতে চাইবেন? মুশকিল হল, এই ধরনের মানুষ এরকম বিশাল সম্পত্তি কোনও জনকল্যাণমূলক প্রতিষ্ঠানকে মৃত্যুর পর দান করেও যেতে পারেন না। শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত নিজে আগলে থাকতে চান। হঠাৎ মনে হল, প্রতুলবাবু তো এতদিন কোনও বিরক্ত করেননি তাঁদের। পুত্রবধূ হিসেবে যে দাবি আছে তাতে তিনি দীপাকে জোর করে নিয়ে যেতে চাইলে কতটা বাধা দিতে পারবেন অমরনাথ। এক্ষেত্রে যদি হরদেব ঘোষালের কথা জানিয়ে তিনি প্রতুলবাবুকে লিখে দেন যে তাঁর সম্পত্তির ওপর দীপা কোনওদিন দাবি জানাতে যাবে না তা হলে তো ভদ্রলোককে নিশ্চিন্ত করা যায়। অন্তত কোনও আতঙ্কের সম্ভাবনা থাকে না।

    অমরনাথ ঘুমন্ত ছেলেদুটোর পাশ থেকে উঠে বাইরে বেরিয়ে এলেন। বারান্দার আলো নিবিয়ে দিয়ে গিয়েছে চৌকিদার। অথচ দীপাদের ঘরে আলো জ্বলছে। দীপা আর অঞ্জলি শুচ্ছে ওখানে। নতুন জায়গায় আলো না জ্বেলে ঘুমাতে পারে না অঞ্জলি। অবশ্য দীপাও রাত জেগে পড়ত। মাঝে মাঝেই অমরনাথ তাকে সতর্ক করতেন, ‘অনেক রাত হয়েছে। আর পড়তে হবে না, এবার শুয়ে পড়।’ আজ তো কোনও পড়াশুনা নেই।

    রাত নিশুতি। শহরের কোথাও কোনও শব্দ নেই। চারধার ছায়াছায়া। বাবুপাড়ার রাস্তার আলো নিস্তেজ। হঠাৎ অমরনাথের মনে হল তিনি অনর্থক চিন্তা করছেন। আজকের রাত তো মধ্য পর্যায়ে। কাল ভোরেই শহর ছাড়ছেন। চা-বাগানে পৌঁছে গেলে কোনও দুশ্চিন্তা থাকবে না। তিনি কেন খামোকা প্রতুলবাবুকে চিঠি দিতে যাবেন! দেখাই যাক না। ঈশ্বর কার কপালে কী লিখেছেন তা কে জানে! আগ বাড়িয়ে নিশ্চয়ই সম্পত্তি দাবি করতে যাচ্ছেন না তিনি। কিন্তু যদি জল সেদিকে গড়ায় তা হলে সন্ন্যাসী হয়ে থাকার কোনও যুক্তি নেই। গা-ঝাড়া দিয়ে নিজের ঘরের দিকে যাওয়ার সময় হঠাৎই তিনি ডাকলেন, ‘দীপা, ঘুমোসনি?’

    ভেতর থেকে আওয়াজ এল, ‘হ্যাঁ। ঘুমোচ্ছি।’

    ‘কী করছিস?’

    ‘চিঠি লিখছিলাম।’

    ‘ও। কাকে?’

    ‘শিলিগুড়িতে।’

    ‘খুব ভাল করেছিস। আমি লিখব ভেবেছিলাম, তুই ধন্যবাদ দিয়ে দিস।’ অমরনাথ নিজের ঘরে ঢুকে গিয়ে দরজা বন্ধ করলেন।

    নিজের নাম লিখে মায়ের ঘুমন্ত শরীরটাকে দেখল দীপা। জলপাইগুড়িতে এসে মায়ের হাবভাব অনেক বদলে গিয়েছে। যেন বয়স কমেছে হঠাৎই। দীপা চিঠির ওপর নজর রাখল, ‘শ্রদ্ধাষ্পদেষু, আজ আমার পরীক্ষা শেষ হল। কোনও প্রশ্নের উত্তর লিখতে আমার অসুবিধে হয়নি। জানি না রেজাল্ট কীরকম হবে। তবে এর চেয়ে ভাল আমি লিখতে পারতাম না।

    ‘আজ আমি ভেবেছিলাম আপনি আসতে পারেন। হয়তো সময় পাননি। কিন্তু আপনাকে দেখতে খুব ইচ্ছে করছিল আমার।

    ‘মা জোর করায় আজ পরীক্ষার পরে একটা সিনেমা দেখতে গিয়েছিলাম আমি। ফেরার পথে মা বললেন ব্যাপারটা যেন ঠাকুমাকে না জানাই। এটা আমার খুব খারাপ লেগেছে। নিজেকে বিধবা বলে ভাবতে আজকাল মোটেই ইচ্ছে করে না। যে-লোকটা আমাকে বিয়ে করেছিল, তার স্মৃতি বলতে হাড় জিরজিরে রুগ্ণ নগ্ন শরীর ছাড়া আর কিছু মনে পড়ে না। ঠিক করেছি, এবার চা-বাগানে গিয়ে এতদিন যা মেনে এসেছি তা আর মানব না। আপনি লিখেছিলেন প্রাপ্তবয়স্ক না হওয়া পর্যন্ত ওটা মানা উচিত। কিন্তু লেখেননি প্রাপ্তবয়স্কতা শরীরের না মনের? তাড়াতাড়ি চিঠি দেবেন? প্রণাম নেবেন। দীপাবলী।’

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43 44 45 46 47 48 49 50 51
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleসাতকাহন ২ – সমরেশ মজুমদার
    Next Article কইতে কথা বাধে – সমরেশ মজুমদার (অসম্পূর্ণ)

    Related Articles

    সমরেশ মজুমদার

    চব্বিশ ঘণ্টার ঈশ্বর – সমরেশ মজুমদার

    December 4, 2025
    সমরেশ মজুমদার

    ছোটগল্প – সমরেশ মজুমদার

    December 4, 2025
    সমরেশ মজুমদার

    আট কুঠুরি নয় দরজা – সমরেশ মজুমদার

    December 4, 2025
    সমরেশ মজুমদার

    উত্তরাধিকার – সমরেশ মজুমদার

    December 4, 2025
    সমরেশ মজুমদার

    গর্ভধারিণী – সমরেশ মজুমদার

    December 4, 2025
    সমরেশ মজুমদার

    কইতে কথা বাধে – সমরেশ মজুমদার (অসম্পূর্ণ)

    December 4, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Our Picks

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }