Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    সাতকাহন ১ – সমরেশ মজুমদার

    সমরেশ মজুমদার এক পাতা গল্প936 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ১৪. চাবাগানের আশেপাশে

    চা-বাগানের আশেপাশে যে-সমস্ত সরকারি জমি খালি পড়ে ছিল সেগুলোর দিকে কেউ নজর দিত না। বার্নিশঘাট পেরিয়ে লঙ্কাপাড়া অথবা হয় ময়নাগুড়ি লাটাগুড়ি নয় বানারহাট হয়ে সেবক পর্যন্ত, আর ওদিকে কুচবিহার আলিপুরদুয়ারে যাওয়ার পথে দু’পাশে তাকালে হয় জঙ্গল, নয় বুনো ঝোপ আর ফাঁকা মাঠ চোখে পড়বে। সেইসব মাঠের সর্বত্র লাঙলও পড়ে না। মদেশিয়ারা তো চা-বাগানের কাজেই অভ্যস্ত— রাজবংশী সম্প্রদায়, যাঁদের ভূমিপুত্র বলা যায়, তাঁরাও বিচ্ছিন্নভাবে বাস করেন। সরকারের মনের অবস্থা এইরকম, চা-বাগান তার সীমানার মধ্যে স্থির থাক, আমরা আমাদের মতো আছি। এখনও চা-বাগানে মাঝেমধ্যে বাঘ বের হয়। সাপ তো আছেই। হাতির দল বেখেয়ালে চলে আসে রাজবংশীদের গ্রামে, মদেশিয়াদের কুলি লাইনে। তবে এরকম ঘটনা বেশি ঘটে না। এখনও গঞ্জে গঞ্জে শিকারিরা আছেন যাঁরা পুরনো বন্দুক নিয়ে বাঘ কিংবা হরিণ মারতে বের হন। চা-বাগানের ম্যানেজাররা অবশ্য এ-ব্যাপারে অনেক সুবিধে ভোগ করেন।

    দ্বিখণ্ডিত ভারতবর্ষের পরবর্তী প্রতিক্রিয়ায় দক্ষিণবঙ্গ যেভাবে আক্রান্ত হয়েছিল ঠিক সেইভাবে প্রথমদিকে চা-বাগানগুলো হয়নি। পূর্ববাংলার মানুষেরা এইরকম আদিম পরিবেশে চট করে আসতে চাননি। এখানে জীবিকার সম্ভাবনা খুব কম ছিল। চা-বাগানের বাবুর চাকরি সীমিত। যাঁরা করছেন তাঁরা প্রায় বংশানুক্রমেই করে যাচ্ছেন। চা-শ্রমিকদের কাজে পূর্ববাংলার মানুষ নিজেকে নিয়োগ করার কথা ভাবতেই পারতেন না। এটা পশ্চিমবঙ্গের মানুষ সম্পর্কেও প্রযোজ্য। অন্য কোনও শিল্প অথবা অর্থ উপার্জনের পথ না থাকায় এদিকটায় মানুষের ঢল প্রথমে নামেনি।

    কিন্তু জলের সঙ্গে মানুষের স্বভাবের কিছুটা মিল আছে। অবরুদ্ধ হলেই একটা পথ খুঁজে নিতে দেরি হয় না। স্বাধীনতার সাত-আট বছর পর থেকেই ঢলটা নামল। যে-যার মতো গোরু-ছাগল চাষের জমি কিনে নিয়ে ডুয়ার্সের বিশাল ফাঁকা এলাকায় চলে আসতে আরম্ভ করলেন। ফলে প্রথমেই কাঠের ব্যবসায়ীদের সংখ্যা বাড়ল। এবং সেইসঙ্গে জমি জবরদখল করে গঞ্জ এলাকার কাছেই কলোনি তৈরি শুরু হয়ে গেল। এই ব্যাপক অনুপ্রবেশের বিরুদ্ধাচরণ করার ক্ষমতা সরকারের ছিল না। এতদিন মদেশিয়া নেপালি পশ্চিমবঙ্গীয় ভাষা ইতস্তত শোনা যেত। এখন তাদের সবাইকে ছাপিয়ে পূর্ববাংলার ভাষা এল। কিন্তু মুশকিল হল যেহেতু পূর্ববাংলার জেলাভিত্তিক ভাষার চেহারা আলাদা, চট্টগ্রামের মানুষের সঙ্গে যশোরের মানুষ একই গলায় কথা বলতে পারে না, তাই এখানে এসে একটি সংকর ভাষা তৈরি হল। ডুয়ার্সে যেসব মানুষ বেশি এসেছিলেন তাঁদের বাড়ি ছিল রংপুর রাজশাহী ইত্যাদি জেলায়। ঢাকার কিছু মানুষও দিগ্ভ্রান্ত হয়ে এদিকে চলে এসেছিলেন। এই সংকর ভাষার সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গের মানুষ প্রথমে মিলতে না চাইলেও শেষপর্যন্ত আলাদা হয়ে থাকতে পারলেন না।

    চা-বাগানের গায়েই এখন প্রায় ঘনবসতি। অবশ্য তা বাজার এলাকাকে ঘিরেই। স্কুলের ছাত্রসংখ্যা বাড়তে লাগল। ব্যাপারটা এমন হয়ে দাঁড়াল যে স্কুলবাড়িতে আর জায়গা কুলোচ্ছিল না। ফলে নতুন স্কুলবাড়ি তৈরি হল। নবাগতদের মধ্যে যাঁরা ম্যাট্রিক পাশ করেছিলেন কোনওমতে তাঁদের কেউ কিছু করার না পেয়ে মাস্টারিতে যোগ দিলেন।

    চা-বাগানের মানুষেরা প্রথমে পূর্ববঙ্গের মানুষদের পছন্দ করেননি। কিন্তু সংখ্যায় নবাগতরা এমনই বিপুল ছিল যে প্রতিবাদ মনে মনেই থেকে গেল। তাঁরা প্রতি মুহূর্তে পূর্ববঙ্গের মানুষের জীবনযাপনের পদ্ধতিতে ছিদ্র অন্বেষণ করতেন। এ-ব্যাপারে মনোরমার সঙ্গে বড়বাবুর বাবা তেজেন্দ্রর কোনও মতপার্থক্য ছিল না। ব্যাপারটা অমরনাথের মধ্যেও অসংক্রমিত ছিল না। ছেলেদের কথার মধ্যে পূর্ববঙ্গের ভাষা হুড়মুড় করে ঢুকে পড়েছে। একা সত্যসাধন মাস্টার এতদিন ছিলেন কিন্তু এখন তো হাজার হাজার সত্যসাধন ছড়িয়ে পড়েছেন চারধারে। একমাত্র বাঁচোয়া তাঁরা চা-বাগানের এলাকায় ঢুকতে পারেননি। বাজার এবং বাস রাস্তার দু’পাশে তাঁরা বসতি স্থাপন করে ফেললেন। প্রচণ্ড সংগ্রামের সময় কে তাদের অপছন্দ করছে সেদিকে লক্ষ করলেন না। খুব অল্পদিনেই বাজার এলাকার যা কিছু সামাজিক কাজকর্ম তা ওঁদের দখলে গেল। পুজো পার্বণ বেড়ে গেল এবং সেইসঙ্গে বঙ্গে বর্গী, সিরাজ, দুইপুরুষ ইত্যাদি নাটকের অভিনয় শুরু হয়ে গেল সেইসময়। এখন আর বোঝাই যায় না এঁরা পূর্ববাংলা ছেড়ে আসতে বাধ্য হয়েছেন, বাস ট্যাক্সি লরি থেকে পানবিড়ি সিগারেটের ব্যবসায় তাঁরা ছড়িয়ে পড়লেন। অতি স্বাভাবিকভাবেই এঁদের হাতে কাঁচা পয়সা আসতে লাগল। প্রথমদিকে জীবন ধারণের পক্ষে তা অতি সাধারণ হলেও কেউ কেউ ক্রমশ অর্থবান হয়ে উঠলেন। মুখার্জি রায়েদের শ’-মিলের পাশাপাশি পালেদের শ’-মিল চালু হল। কিন্তু অনুপ্রবেশ হওয়া সত্ত্বেও চা-বাগান তার অতীত ঐতিহ্য এক জায়গায় ধরে রাখতে পেরেছিল। নবাগতদের মধ্যে শিক্ষার ছাপ ছিল খুবই কম। জীবনসংগ্রামে ব্যস্ত হয়ে পড়ায় শিক্ষার দিকে তাঁরা নজর দিতে পারেননি। ফলত, তাঁদের পরিবারের মহিলারাও পূর্ববঙ্গ থেকে বয়ে আনা সংস্কার এবং ধর্মান্ধতা আঁকড়ে ছিলেন। মেয়েদের বিয়ের আগে বা পরে চা-বাগানের রাস্তায়, গঞ্জের পথে দেখা যেত না। অন্তত যৌবন এলে তো নয়ই।

    একমাত্র ললিতা এ-ব্যাপারে ব্যতিক্রম। কোয়ার্টার্সের সবাই অবাক হয়ে দেখত শ্যামলকে বিয়ে করার পর ললিতা তাকে নিয়ে সন্ধের আগে আসাম রোড ধরে চা-বাগানের দিকে বেড়াতে যায়। তেজেন্দ্র নিজের চোখে দেখেছেন কোয়ার্টার্সের এলাকা ছাড়িয়ে গেলেই ললিতা শ্যামলের কনুই ধরে হাঁটে। এইসময় ললিতা পরিপাটি করে চুল বাঁধে, ভাল শাড়ি কায়দা করে পরে, মাথায় ফুলও গোঁজে। এই নিয়ে প্রথমদিকে সবাই খুব হাসাহাসি করেছিল। যে-মেয়ে বিষ খেয়ে যমের বাড়িতে প্রায় পৌঁছে গিয়েছিল সে এত গদগদ প্রেম দেখাবে— এটা মুখ বুজে সইতেই হবে এমন ভাবা অন্যায়। কিন্তু পরবর্তীকালে অনেকেই উষ্ণ হয়ে উঠলেও এ-ব্যাপারে কেউ সরাসরি শ্যামলকে কিছু বলতে পারলেন না। হরিদাসবাবুর মৃত্যুর পর শ্যামল স্বাভাবিকভাবেই চাকরিটা পেয়েছিল। সাহেব নিজে শ্যামলকে ডেকে চাকরি দিয়েছিলেন একটাই শর্তে, ললিতাকে বিয়ে করতে হবে। শ্যামল এক পায়ে খাড়া ছিল। বিয়ে হয়ে গেল, কিন্তু একবছর অতিক্রান্ত হয়ে গেলেও যখন ললিতা মা হল না তখন সবাই হতভম্ব। বীণাবউদি গালে হাত দিয়ে বলেছিলেন, ‘ওমা, পেটে পেটে এত। এই শুনলাম পেটে বাচ্চা এসেছে বলে মেয়েটা আত্মহত্যা করতে গিয়েছিল। সেটা গেল কোথায় গো!’ কেউ বলল, জলপাইগুড়ির হাসপাতালে ললিতা যখন ছিল তখনই নাকি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। আবার কারও মতে ওসব কিছু নয়। বিষ খেয়েছিল মনের জ্বালায়। মেয়ের দোষ ঢাকার জন্যে সেইসময় মালবাবুর বউ কেঁদেকেটে গল্পটা ফেঁদেছিলেন। ললিতা যদি মরে যেত তা হলে ওই কারণে শ্যামলকে হয়রান করা যেত। বেঁচে থাকলে বিয়ে করতে বাধ্য হবে। তা চালটা খুব ভাল কাজ করেছে। কিন্তু যাদের নিয়ে এত কথা তারা যেন গ্রাহ্যই করছে না। শ্যামল কাজে যায়। ফিরে এসে বাড়িতেই থাকে অথবা ললিতার সঙ্গে বেড়াতে বেরোয়। ফুটবল ছেড়েছে, লাইব্রেরির দায়িত্ব নিচ্ছে না। ললিতা আগেও কারও সঙ্গে কথা বলত না, এখন তো তার নাক আরও উঁচু হয়েছে।

    দীপার কিন্তু ললিতাকে ভাল লাগে। কেমন সাহসী। কিন্তু সেইসঙ্গে শ্যামলের ওপর একধরনের শ্রদ্ধা তৈরি হয়েছে তার। চা-বাগানের ভেতর ললিতা যখন ভয় পেয়েছিল তখন শ্যামল তাকে ভরসা দিয়েছিল। সেই কথাটা অন্তত রেখেছে। অবশ্য লক্ষ্মীজেঠিমা যখন এসে ঠাকুমার কাছে ললিতামাসি সম্পর্কে অভিযোগ করে তখন ভাল লাগে না। চেনাজানা পৃথিবীতে একমাত্র তার মা এবং ঠাকুমা ছাড়া কোনও শাশুড়ি বউমার মধ্যে সদ্ভাব দেখতে পায়নি সে। বিছানায় শুয়ে সে মনোরমাকে জিজ্ঞাসা করল, ‘তুমি তোমার বউমাকে সহ্য করো কী করে ঠাম্মা?’

    মনোরমা চাল বাছছিলেন। অবাক হয়ে তাকালেন। জলপাইগুড়ি থেকে পরীক্ষা দিয়ে ফেরার দু’দিন পরে ইনফ্লুয়েঞ্জাতে পড়েছে দীপা। আজ সকাল থেকে জ্বর নেই। মোটেই ইচ্ছে নেই তাকে ভাত দেবার। অমরনাথকে বলেছেন ডাক্তার জলখাবার খেয়ে যখন ডিসপেন্সারিতে যাবে তখন যেন দীপাকে দেখে যায়।

    দীপা হাসল, ‘তোমার সংসারে একটি অন্য বাড়ির মেয়ে কর্তৃত্ব করছে তা তুমি সহ্য করছ কী করে ভেবে পাই না।’

    মনোরমা হাসলেন, ‘তোর মা তো খুব ভাল মেয়ে।’

    ‘খারাপ কে বলেছে। তোমার সঙ্গে সব ব্যাপারে বনে?’

    ‘সব ব্যাপারে বনতে পারে?’

    ‘তা হলে মেনে নেয় তোমাকে, এই তো। কিন্তু মনে মনে খুশি নিশ্চয়ই হয় না। উলটো ব্যাপার হলে তুমিও হও না। তোমরা ঝগড়া করো না কেন বলো তো?’

    ‘এই, আজ তোর কী হয়েছে বল তো?’

    দীপা জোরে জোরে হেসে উঠল, ‘মা বলছিল ইচ্ছে হলে ভাত খেতে পারি। তুমি বলছ রুটি খেতে। তোমরা ঝগড়া করে ঠিক করে নাও না।’

    মনোরমা গম্ভীর হলেন, ‘সেটা ডাক্তারবাবু এসে ঠিক করবেন।’

    দীপা জিজ্ঞাসা করল, ‘তোমার শাশুড়ি তোমার সঙ্গে ঝগড়া করতেন?’

    মনোরমা হেসে ফেললেন, ‘দ্যাখ ঝগড়া হয় দু’জনে মিলে। একপক্ষ বকে যাচ্ছে অন্যপক্ষ চুপ করে আছে, এতে ঝগড়া হয়? বাপের বাড়ি থেকে আমাদের শেখানোই হয়েছিল গুরুজনদের মুখের ওপর কথা না বলতে। উনি বকতেন যাতে আমার শিক্ষা হয়। জীবনের অনেক কিছুই তো জানতাম না তখন।’

    ‘তোমার আড়ালে অন্যদের কাছে নিন্দে করতেন না?’

    ‘আড়ালে কেন, সামনেই বলতেন। রাঁধতে জানে না, কাজকর্মে ছিরিছাঁদ নেই, দুপুরে পড়ে পড়ে ঘুমোয়। তা আমি তো সত্যি রাঁধতে ভাল জানতাম না আর ঘুমোতেও ভালবাসতাম খুব। সেটা তো সত্যি কথা।’

    ‘খোঁটা দিত না?’

    ‘তা দিত। তোর শাশুড়ি যদি সুযোগ পেত তা হলে ছাড়ত?’

    ‘আমার শাশুড়ি! তোমাকে বারবার বলেছি সেই মহিলা আমার কেউ নয়। ওদের বাড়ির কেউ আমার কিছু নয়। তুমি ও-বাড়ির কথা আমার কাছে বলবে না।’ আচমকা গলা বেড়ে গেল দীপার।

    মনোরমা মাথা নাড়লেন, ‘সাত পাকে বাঁধা পড়েছিল অগ্নিসাক্ষী করে, সম্পর্ক কি আর এ-জীবনে অস্বীকার করতে পারবি?’

    এইসময় অঞ্জলির গলা শোনা গেল, ‘আসুন ডাক্তারবাবু।’

    মনোরমা চাল রেখে উঠে দাঁড়িয়ে ঘোমটা টানলেন। ডাক্তারকে দরজায় দেখা গেল, ‘কী খবর? পরীক্ষা কেমন হল?’

    দীপা মাথা নাড়ল, ‘ভাল।’

    ‘তোমাকে আর জলপাইগুড়িতে যেতে দেব না। ফিরে এলেই একটা-না-একটা অসুখ বাধাও। জ্বর আছে?’ ভদ্রলোক হাত রাখলেন কপালে। অঞ্জলির সঙ্গে মনোরমার গোপন চোখাচোখি হল। ডাক্তার মাথা নাড়লেন, ‘নাঃ, জ্বর নেই। খুব ভাল।’

    দীপা জিজ্ঞাসা করল, ‘কী খাব আজকে?’

    ‘যা ইচ্ছে। শুধু আচার ছাড়া।’

    এইসময় মনোরমা বললেন, ‘ওকে আজ ভাত দেব না ডাক্তারবাবু।’

    ‘কেন দেবেন না? জ্বর নেই যখন তখন ভাত খাবে না কেন? ভাত খাবে।’

    হঠাৎ দীপা বলল, ‘ঠাকুমা, এক গ্লাস জল খাব।’

    অঞ্জলি সেটা আনতে যাচ্ছিল, মনোরমা তাকে নিষেধ করে নিজেই বেরিয়ে গেলেন। তিনি চোখের আড়াল হওয়ামাত্র দীপা বলল, ‘আমার না খুব খিদে পায়, দুর্বল দুর্বল লাগে, মাথা ঘোরে। শুধু নিরামিষ তরকারি খেতে একদম ইচ্ছে করে না।’

    ‘মাথা ঘোরে? প্রেশার ঠিক আছে তো?’ ডাক্তার যন্ত্র খুলতে লাগলেন।

    দীপা ফিসফিস করে বলল, ‘ডিম খেলে তো শরীরে জোর আসে। আমাকে দেখেটেখে আপনি বলুন রোজ একটা করে ডিম খেতে।’

    ‘খুব ইচ্ছে করছে?’ ডাক্তার গলা নামালেন।

    ‘হুঁ।’

    ‘দিচ্ছে না?’

    ‘হুঁ। বিধবা বলে।’

    ‘সেকেন্ড ডিভিশন থাকবে?’

    ‘থাকবে।’

    ‘খোকাটা পাশ করবে কিনা সন্দেহ। কিন্তু সেকেন্ড ডিভিশন না থাকলে আমি কিন্তু সব ফাঁস করে দেব।’ প্রেশার দেখে অনেক কষ্টে হাসি চাপলেন তিনি। এতক্ষণ কথাবার্তা হচ্ছিল চাপা গলায়।

    মনোরমা এইসময় কাঁসার গ্লাসে জল নিয়ে ঢুকলেন, ‘কেমন দেখলেন ডাক্তারবাবু?’

    ‘খুব দুর্বল হয়ে পড়েছে। প্রেশারটাও। শুনুন, ওর শরীরে শক্তি হওয়া দরকার।’

    ‘দুধ খেতে চায় না যে। একটু বলে দিন তো।’ মনোরমা বললেন।

    ‘দুধে মোটা হয় শক্তি বাড়ে না।’ দীপা জলের গ্লাস নিল।

    ‘ওর শরীরের যা অবস্থা তাতে ডিম খাওয়া দরকার। রোজ একটা।’

    ‘ডিম?’ প্রায় চিৎকার করে উঠলেন মনোরমা।

    ডাক্তার বললেন, ‘কী হল?’

    ‘ও ডিম খাবে কী? ওর ব্যাপার তো সব জানেন।’

    ‘জানি। কিন্তু ওর শরীরের জন্যেই খাওয়া দরকার। আরও দুর্বল হয়ে পড়লে আমার চিকিৎসায় কোনও কাজ দেবে না।’ কোনওরকমে হাসি চেপে ডাক্তার বেরিয়ে গেলেন।

    দীপা গ্লাস রেখে শুয়ে পড়ল, ‘উঃ মাথাটা কী ঘুরছে।’

    অঞ্জলি বলল, শুয়ে থাক কিছুক্ষণ।’

    মনোরমা ঘুরে দাঁড়ালেন, ‘বউমা, দীপাকে কী করে ডিম দেব?’

    অঞ্জলি বলল, ‘এ-ব্যাপারে আমি কী বলব বলুন। আপনি যা ভাল মনে করেন তাই হবে। ডাক্তাররা তো এরকম বলেই।’

    মনোরমা মাথা নাড়লেন, ‘যুগ যুগ ধরে বাঙালি বিধবারা নিরামিষ খেয়ে এল কারও শরীর খারাপ হল না, বৈষ্ণবরা মাছ-মাংস খায় না তাদের শরীর ঠিক থাকে, আর তোমার মেয়ে দুর্বল হয়ে পড়ছে।’

    ‘এ-কথা আমাকে বলছেন কেন?’ অঞ্জলি জানতে চাইল।

    ‘অমরের প্রশ্রয়ে এসব হচ্ছে।’

    ‘কী বলছেন আপনি! আপনার ছেলে কখনও আপনাকে অস্বীকার করে না।’

    ‘করত না। কিন্তু দিন পালটাচ্ছে। জলপাইগুড়ি থেকে ফিরে এসেই ও অন্যরকম হয়ে গেছে এবার।’ মনোরমা ঘর ছেড়ে বেরিয়ে গেলেন। তাঁকে খুব বিরক্ত দেখাচ্ছিল।

    অঞ্জলি মেয়ের দিকে তাকাল। দীপার মুখটা এবার বেশ সহজ। সে বলল, ‘যা খুশি করো তোমরা। আমাকে কিছু বলতে এসো না।’

    দীপা হেসে ফেলল, ‘এ-ব্যাপারটা নিয়ে শাশুড়ি বউমার ঝগড়া হতে পারে না?’

    ‘মানে?’ অঞ্জলি হতভম্ব।

    ‘তুমি ঠাকুমার অনেক কিছু পছন্দ করো না, অনেক কিছু ওঁকে বলতে চাও না। আবার ঠাকুমাও তোমার অনেক কিছু মানতে পারে না। অথচ তোমরা কেউ কারও নামে নিন্দে করে বেড়াও না, ঝগড়া করা তো দূরের কথা। এরকম তো দেখা যায় না।’

    ‘বড্ড বেশি পেকে গেছিস তুই, না?’ অঞ্জলি ঝাঁঝিয়ে উঠল। আর তখনই মনোরমা ফিরে এলেন দরজায়, ‘তখন থেকে বলে যাচ্ছে মায়ের সঙ্গে কেন ঝগড়া করো না তুমি? কী মতলব বলো তো? আমার তো মাথায় ঢুকছে না।’

    ‘কুবুদ্ধি আর কাকে বলে। ফাজলামি করছে। খবরদার ওকে ডিম দেবেন না মা? ডাক্তার যতই বলুক দিতে! অঞ্জলি চলে যাচ্ছিল। দীপা তাকে পেছন থেকে ডাকল, ‘এম্মা! তুমি ঠাকুমাকে খবরদার বললে?’

    মনোরমা এবার হেসে ফেললেন, ‘তুই সত্যি পারিস বাবা!’

    ডাক্তারের নির্দেশ এ-বাড়িতে মানা হল না। ডিম মাছ মাংসের জন্যে দীপা প্রথম প্রথম টান অনুভব করত, তারপর সেটা চলে গিয়েছিল। জলপাইগুড়ি থেকে ফিরে আসার পর এবার, পরীক্ষা চুকে যাওয়া আলস্যের সময় তার বারংবার মনে হতে লাগল একমাত্র ওই তিনটে খেলেই বিদ্রোহ করা যায়। অথচ চুরি করে খেতে মোটেই ইচ্ছে করছিল না। বোঝা গেল মনোরমা কিংবা অঞ্জলি তার পাতে আমিষ তুলে দেবেন না।

    দুপুর পেরিয়ে গেলে অঞ্জলির আলমারির হাতলে হাত দিল দীপা। তালা না দেওয়া মায়ের স্বভাব এটা সে জানত। ওটা খুলতেই দুই আর তিন নম্বর তাকটায় শাড়ির মিছিল দেখল সে। এর অনেকগুলোও অঞ্জলি এক বছরের বেশি পরেনি। চা-বাগানের নিস্তরঙ্গ জীবনে কেউ ভাল শাড়ি পরে বসে থাকে না। আর ওই দুর্ঘটনাটা ঘটে যাওয়ার পর থেকেই রঙিন শাড়ি এড়িয়ে চলে। সেগুলো পাশাপাশি পড়ে রয়েছে আলমারিতে। এইসময় মনোরমা আর অঞ্জলি বাইরের বারান্দায় মোড়া পেতে বসে। অতএব নিশ্চিন্তে শাড়ি বাছতে লাগল সে। রঙিন শাড়ির গায়ে হাত দিতেই অদ্ভুত একটা শিরশিরানি এল শরীরে। ব্যাপারটা এমন যে সে নিজেই অবাক হল।

    একটা হলুদ শাড়ি বেছে নিল দীপা। অঞ্জলির জামা তার গায়ে আঁটবে না। নিজের বিয়ের বাক্স খুলে অনেক যাচাই করে হলুদের কাছাকাছি একটা জামা বের করে নিল। বাথরুমে পোশাক পালটে শোওয়ার ঘরের আয়নার সামনে এসে থমকে গেল সে। তার চেহারা এইরকম! নিজেকেই চিনতে পারছে না এখন। ঘুরিয়ে ফিরিয়ে দেখল অনেকবার। তারপর হেসে ফেলল। আয়নায় দীপাকে মুহূর্তে লাজুক দেখাল।

    বাইরের ঘর পেরিয়ে আসতে সময় লাগল। পা দুটো যেন খুব ভারী হয়ে গেছে। জোর করে নিজেকে সচল করল সে। মনোরমা আর অঞ্জলি রাস্তার দিকে মুখ করে বসে গল্প করছিলেন। মনোরমা বলছিলেন, ‘দুধ না খাক, ছানাও তো খেতে পারে। ডাক্তারের যেমন বুদ্ধি!’

    অঞ্জলি কিছু বলতে গিয়ে চোখের কোণে হলুদ রং দেখল। খুব দ্রুত মুখ ফিরিয়েই সে অবাক হয়ে গেল। তার মুখ দেখে আরও লজ্জা পেল দীপা। ততক্ষণে মনোরমাও চোখ ফিরিয়েছেন। কী বলবেন ভেবে পাচ্ছিলেন না তিনি।

    দীপা হাসবার চেষ্টা করল, ‘তোমার শাড়ি। আলমারিতে নষ্ট হচ্ছিল। পরে ফেললাম। কেমন দেখাচ্ছে বলো তো?’

    অঞ্জলি মাথা নাড়ল, ভাল। শেষপর্যন্ত তার মুখে হাসি ফুটল। মনোরমা মুখ ফিরিয়ে নিলেন গম্ভীরভাবে। দীপা চোখের ইশারায় তাঁকে দেখাল অঞ্জলিকে। অঞ্জলি বলল, ‘আট বছর হয়ে গেল শাড়িটা। দেখিস ফেঁসে না যায়।’

    ‘তুমি কি এটা পরবে?’

    ‘আমি আজকাল ওসব শাড়ি পরি?’

    ‘আমি একটু ঘুরে আসছি।’ নেতানো রোদমাখা মাঠের দিকে তাকিয়ে কথাগুলো বলল দীপা। দুই মহিলা কোনও কথা বললেন না। পাশের সিঁড়ি দিয়ে নীচে নামল সে। প্রতি মুহূর্তেই মনে হচ্ছিল মনোরমা বাধা দিতে পারেন। কিন্তু কোনও কিছু ডাক সে শুনল না। খানিকটা এগিয়ে চারপাশে তাকিয়ে ভারী ভাল লাগল তার। কত বছর বিকেলে এভাবে বাইরে আসেনি সে। দূরে মাঠের মাঝখানে বাচ্চারা ফুটবল খেলছে। আজকাল বিশু খোকন ফুটবল খেলে না। মনে হওয়ামাত্র ওদের দেখতে পেল দীপা। আসাম রোড দিয়ে পাঁচটা সাইকেল অলস গতিতে যাচ্ছে। বিশু খোকন তার সঙ্গে পড়েছে। একই স্কুল থেকে পরীক্ষা দিতে গিয়েছে। ছেলেদের সিট পড়েছিল অবশ্য আলিপুরদুয়ারে। কিন্তু তার বিয়ের পর আর ওরা নিজে থেকে কথা বলতে আসেনি। যেভাবে দীপা নিজেকে গুটিয়ে নিয়েছিল তাতে তাকে এড়িয়ে যাওয়াই সমীচীন মনে করছিল ওরা। আজ দীপার ইচ্ছে হল ওদের সঙ্গে কথা বলতে।

    অবশ্য এই কয় বছরে ওরা অনেক বড় হয়ে গেছে। দু’জনেরই গোঁফ বেরিয়েছে, দাড়ি গজিয়েছে হালকাভাবে। হাফপ্যান্ট পরা ছেড়ে দিয়েছে এখন। তার ওপর বাজার কলোনি এলাকার পূর্ববঙ্গের কিছু ছেলে এখন ওদের বন্ধু হয়েছে। এই এখন যে তিনজন ওদের সঙ্গে সাইকেলে আছে তারা চা-বাগানের কেউ নয়। দু’জনই তাদের এক ক্লাস নীচে পড়ে। দেখে মনে হয় পড়াশুনা ছাড়া সবকিছু করে। তিনজন সঙ্গে থাকায় একটু অস্বস্তি হচ্ছিল। কিন্তু সেটাকে কাটিয়ে উঠল সঙ্গে সঙ্গে। চটপট পা চালিয়ে সিঁড়ি টপকে সে চিৎকার করল। ‘এই বিশু!’

    প্রায় একই সঙ্গে থেমে গেল পাঁচটা সাইকেল। বিশু আর খোকন পরস্পরের মুখ চাওয়া-চাওয়ি করল। বাকি তিনজনের চোখে কৌতূহল। আসাম রোডের দিকে পা বাড়িয়ে দীপার খেয়াল হল অনেক পেছনে বারান্দায় বসে থাকা দুই মহিলার কথা। অঞ্জলির যতটা হবে না মনোরমার বুকের মধ্যে নিশ্চয়ই এতক্ষণে ঝড় উঠে গেছে।

    এইসময় দূরে একটা বাস দেখা গেল। দীপা গলা তুলেই বলল, ‘একপাশে সরে আয়, বাস আসছে, চাপা পড়বি।’ স্পষ্টত দুটো ভাগ হয়ে গেল দলটা।

    নতুন তিনজন চলে গেল ওপাশে, খোকন আর বিশু দীপার কাছে এসে সাইকেল থেকে নেমে দাঁড়াল।

    খোকনই প্রথম কথা বলল, ‘তুই আমাদের সঙ্গে কথা বলছিস?’

    ‘তাই তো মনে হচ্ছে। কেমন পরীক্ষা দিলি তোরা?’

    ‘একরকম।’ খোকন জবাব দিল।

    ‘তুই?’ বিশুর দিকে তাকাল দীপা।

    ‘কিছু বলবি তুই?’ বিশু বেশ কঠোর মুখে তাকাল।

    সঙ্গে সঙ্গে দুষ্টুবুদ্ধি খেলে গেল দীপার মাথায়। সে বলল, ‘অনেকদিন থেকেই একটা কথা খুব ভাবছিলাম। আচ্ছা বল তো, বিয়ের পর আমি যখন শ্বশুরবাড়ি যাচ্ছিলাম তখন তোরা ওরকম কেঁদে উঠলি কেন?’

    প্রশ্নটা শোনামাত্র কেমন বোকা হয়ে গেল বিশু। খোকন হেসে ফেলল। শেষপর্যন্ত বিশু বলল, ‘অনেকদিন আগের কথা, ভুলেই গিয়েছি।’

    ‘ওমা, তাই? আমাকেও ভুলে গিয়েছিস তোরা?’

    ‘তোকে কী করে ভুলব! তুই স্কুল ছাড়া বাড়ি থেকে বের হতিস না। আমাদের কারও সঙ্গে কথা বলতিস না, তাই।’ খোকন কথা শেষ করল না।

    এবার বিশু বলল, ‘ডাকলি কেন?’

    ‘এমনি। হঠাৎ ভাবলাম আজ জিজ্ঞাসা করি সেই রাত্রে কেঁদেছিলি কেন? ভুলে গিয়েছিস যখন তখন আর মনে করে কী লাভ!’

    এইসময় খোকন বলল, ‘অ্যাই দ্যাখ, সবাই দেখছে।’

    শোনামাত্র দীপা এবং বিশু মুখ ঘুরিয়ে দেখল মাঠের ওপাশে কোয়ার্টার্সগুলোর বারান্দায় বারান্দায় মেয়েরা দাঁড়িয়ে অবাক হয়ে এদিকে দেখছে। যেন এরকম অবাক কাণ্ড অনেকদিন তারা দেখেনি। মুখ ফিরিয়ে নিয়ে দীপা জিজ্ঞাসা করল, ‘কোথায় যাচ্ছিস তোরা?’

    খোকন জবাব দিল, ‘এমনি ঘুরছি।’

    রাস্তার ওপারে তিনটি ছেলে তখনও দাঁড়িয়ে। ওদের ভঙ্গিতে নায়ক নায়ক ভাব। দীপা জিজ্ঞাসা করল, ‘তোদের বন্ধু ওরা?’

    খোকনই জবাব দিল, ‘হ্যাঁ, ও হল সুভাষ, মাঝখানে গোবিন্দ আর ডানদিকে অজয়। তুই ওদের আগে দেখিসনি?’

    দীপা জবাব দিল না। ওর খুব ইচ্ছে করছিল এদের সঙ্গে আসাম রোড ধরে বেড়াতে। কিন্তু তিনটি অপরিচিত ছেলে থাকায় যাওয়াটা ঠিক হবে কিনা বুঝতে পারছিল না। তার ওপর একইদিনে রঙিন শাড়ি পরে রাস্তায় বেরিয়ে এদের সঙ্গে কথা বলাটাই অনেকখানি হয়ে গিয়েছে। মনোরমা এবং অঞ্জলির পক্ষে আর হজম করা সম্ভব হবে বলে মনে হয় না। সে বলল, ‘যা তোরা। কাল সকাল দশটায় আসব। মাঠে থাকিস।’ কথা শেষ করেই দীপা ফিরল। এবং সত্যসাধন মাস্টারকে দেখতে পেল। তাঁকে দেখেই সম্ভবত বিশুরা আর দাঁড়াল না। দীপা অপেক্ষা করল মানুষটির জন্যে।

    কাছে এসে সত্যসাধনের চোখ বড় হয়ে গেল, ‘তুমি রঙিন শাড়ি পরছ?’

    কথা না বলে দু’বার মাথা নাড়ল দীপা। বিস্ময়টা কেটে গিয়ে হাসি ফুটল সত্যসাধন মাস্টারের মুখে ‘বিদ্রোহীর জয় হইল নাকি?’

    ‘এখনও বোঝা যাচ্ছে না। আজই প্রথম পরলাম। দেখছেন না, ওপাশের কোয়ার্টার্সগুলোর বারান্দায় ভিড় জমে গিয়েছে।’

    ‘তাই তো৷ আসলে কী জানো, অভ্যাস। অভ্যাসের চাকর মানুষ। আমিও তার ব্যতিক্রম না। সত্যি কথা বলি, আমিও খুব কনজারভেটিভ। এক একটা থিয়োরি মাথার মধ্যে এমন বইস্যা যায় যে অন্য চিন্তা আসে না। কিন্তু প্র্যাকটিক্যাল লাইফে যদি সেই প্রবলেম আসে তা হলে দেখি থিয়োরিটা ভুল। এক্কেবারে ভুল। শোনো দীপা, এখন বলি পোশাক হইল মনের প্রতিফলন। তোমার মন চাইলে রঙিন পরবা, না চাইলে পরবা না।’

    ‘আপনি আমাদের বাড়িতে যাচ্ছেন?’

    ‘হুঁ। একটু আর্লি আইস্যা পড়ছি। তোমার বাবা তো আসে নাই এখনও?’

    ‘না। তাতে কী আছে চলুন না।’ দীপা মাস্টারমশাইকে ছাড়তে চাইছিল না। তিনি সঙ্গে থাকলে আর যাই হোক মনোরমা কিংবা অঞ্জলি আপাতত মুখে কুলুপ এঁটে থাকবেন। বাইরের লোক বাড়ির লোক ব্যাপারটা মনোরমা খুব মানেন। আর এইসময় যদি অফিস থেকে অমরনাথ ফিরে আসেন তা হলে দীপা ম্যানেজ করে নিতে পারবে।

    সিঁড়ি টপকে মাঠে নামতে নামতে সত্যসাধন বললেন, ‘এই ছেলেগুলো তোমারে কী কইতেছিল? অত্যন্ত বদ। থার্ড ডিভিশন পাইবে কিনা সন্দেহ।’

    দীপা হেসে ফেলল। সত্যসাধন রেগে গেলেন, ‘হাসো কেন?’

    ‘বদ বললেন কেন?’

    ‘বদ না? লেখাপড়ায় মন নাই শুধু বাপের পয়সায় সিগারেট ফোঁকে।’

    ‘ওরা সিগারেট খায়?’ অবাক হয়ে গেল দীপা।

    মাথা নাড়লেন সত্যসাধন, ‘এ ম্যান ইজ নোন বাই দ্যা কম্পানি হি কিপস। খারাপ আলুর সঙ্গে ভাল আলু রাখলে সেইটাও পইচ্যা যায়। ভাল মানুষের সঙ্গ পাইলে জ্ঞান বাড়ে, মন বড় হয়।’

    দীপা কিছু বলল না। কিন্তু ও দৃশ্যটা ভেবে পুলকিত হল। বিশু খোকন বসে সিগারেট টানছে। ওরা এত বড় হয়ে গিয়েছে এর মধ্যে! খোকনটা এখনও তেমনি বোকাবোকা কথা বলে কিন্তু বিশু যেন বেশ পালটে গিয়েছে। গলার স্বরটাও অন্যরকম হয়ে গিয়েছে। ভাল না মন্দ তা বুঝতে পারছিল না সে।

    অঞ্জলি উঠে দাঁড়িয়েছিল, সত্যসাধন মাস্টারকে মোড়াটা এগিয়ে দিয়ে মনোরমা ভেতরে চলে গেলেন। তাঁর মুখে এখন ঘোর অমাবস্যা। কিছুক্ষণ কথা বলে অঞ্জলি চা বানাতে চলে গেলে সত্যসাধন জিজ্ঞাসা করলেন, ‘তোমার জ্বর সারল কবে?’

    ‘আজই।’

    ‘আছ কেমন?’

    ‘খুব দুর্বল লাগে। ডাক্তার ডিম খেতে বলেছেন।’

    ‘ডিম?’

    ‘গায়ে জোর হবার জন্যে।’

    ‘তোমার ঠাকুমায়— ?’

    ‘মানতে চাইছেন না।’

    একটু চুপ করে থাকলেন সত্যসাধন। তারপর বললেন, ‘তুমি নিশ্চয়ই জানো না যে আমি নিরামিষাশী। দীক্ষান্তে আমিষ ত্যাগ করছি আজ সাত বৎসর। কোনও অসুবিধা হয় না। পৃথিবীর অনেক মানুষ আমিষ খায় না। অ্যানিমাল প্রোটিনে যা কাজ হয় তা ভেজিটেবিল প্রোটিনেও হইতে পারে। যে-সংস্কার তোমার ক্ষতি করে না তা মান্য করলে কেউ যদি সুখী হয় তাই তো তোমার করা উচিত।’

    দীপার মনে পড়ল রমলা সেনের কথা। তিনিও প্রায় একই কথা লিখেছেন। জলপাইগুড়ি থেকে সে যে-চিঠি দিয়েছিল তার উত্তর এখনও পায়নি, কিন্তু আগের অনেক চিঠির ভাষা মাস্টারমশাইয়ের মতের সঙ্গে মিলে যাচ্ছে। কিন্তু সে বিদ্রোহ করতে চায়। আর তা করতে গেলে কেউ-না-কেউ তো দুঃখ পাবেই। দীপা জবাব দিল না।

    এইসময় চা-বাগান থেকে সাইকেলগুলো বেরিয়ে আসতে লাগল। গরম পড়ে যাওয়ায় দিনের আয়ু বেড়েছে। সন্ধে হতে বেশ দেরি। অমরনাথ কোয়ার্টার্সের সামনে সাইকেল থেকে নেমে যেন হতভম্ব হয়ে গেলেন মেয়েকে দেখে। দীপা হাসল। সাইকেল বেড়ার গায়ে হেলান দিয়ে রেখে অমরনাথ জিজ্ঞাসা করলেন, ‘কী ব্যাপার?’

    ‘পরলাম।’ দীপা মুখ ফিরিয়ে নিল।

    ‘বেশ ভাল দেখাচ্ছে তোকে। কেউ কিছু বলেনি?’

    ‘এখনও সুযোগ পায়নি।’

    সত্যসাধন হেসে ফেললেন। তারপর বললেন, ‘অমরনাথবাবু, আপনার লগে কিছু কথা ছিল। ভোরবেলায় একটা স্বপ্ন দেখছি।’

    ‘বলুন।’ অমরনাথ অঞ্জলির মোড়ায় বসলেন।

    ‘দেখলাম দীপা মা ডাক্তার হইছে। তখনই চিন্তাটা মাথায় ঢুকল। ওরে কী পড়াইবেন? সায়েন্স না আর্টস?’

    ‘আগে পাশ করুক।’ অমরনাথ হঠাৎ আড়ষ্ট হলেন।

    ‘সে ব্যাপারে কোনও সন্দেহ নাই। জলপাইগুড়ি এ সি কলেজ ভাল তবে খুব ভাল না। সবচেয়ে ভাল ওকে কলকাতায় পাঠানো। বেথুনের কলেজে ভাল হস্টেল আছে কিনা জানি না, থাকলে ওর চেয়ে ভাল কিছু হয় না।’

    ‘দেখি।’ অমরনাথ গম্ভীর গলায় বললেন।

    রাত্রে শোওয়ার সময় অমরনাথ স্ত্রীর কাছে প্রসঙ্গ তুললেন। ছেলেদুটো বড় হচ্ছে। স্কুল ফাইন্যাল পর্যন্ত দীপাকে তিনি যথেষ্ট যত্নে পড়িয়েছেন। কিন্তু তারপর পড়তে গেলে যে অর্থব্যয় করতে হবে তা কতটা সম্ভব? বাড়িতে থেকে পড়া এক কথা আর কলকাতা কিংবা জলপাইগুড়িতে গেলে ওর থাকা খাওয়ার খরচ লাগবে। অঞ্জলি নিচু গলায় জবাব দিল, তুমি যা পারবে তাই করবে।’

    ‘করতে গেলে কষ্ট করতে হবে। মেয়ে পাশ করে চাকরি নেবে এবং আমাদের খাওয়াবে এতটা আশা করি না। আর লোকেই বা বলবে কী! এইজন্যেই অমরবাবু ওকে লেখাপড়া শিখিয়েছে।’

    ‘তোমার ছেলেরা বড় হয়ে চাকরি করলে তুমি তাদের কাছে থাকবে না?’

    অমরনাথ জবাব দিলেন না। তিনি উসখুস করতে লাগলেন। আজ আর একটা ঘটনা ঘটেছে। বিকেলের ডাকে দুটো চিঠি এসেছে। একটা রমলা সেনের। সেটা মেয়েকে দিয়ে দিয়েছেন। দ্বিতীয়টি প্রতুলবাবুর। জলপাইগুড়ি থেকে লিখেছেন। তিনি অসুস্থ। অতীতের সব ঘটনার জন্য মার্জনা চেয়েছেন। তিনিই গিয়েছিলেন গেস্ট হাউসে দেখা করতে। পরদিন সকালে গিয়ে শুনেছেন যে তাঁরা চলে গেছেন। তিনি কথা বলতে চান। অমরনাথ যদি জলপাইগুড়িতে যেতে পারেন তা হলে খুব ভাল হয়। ব্যাপারটা অঞ্জলিকে বলতে সাহস পেলেন না অমরনাথ। চিঠি পাওয়ার পর থেকেই হরদেব ঘোষালের কথা মনে পড়ছে তাঁর। অত বড় সম্পত্তি দীপাব হাতে আসতে পারে। আর কিছু না হোক, মেয়েটা যদি পাশ করে তা হলে ওই বাড়িতে থেকে কলেজে পড়তে পারে। এতে প্রচুর খরচ বাঁচবে। এখন প্রতুলবাবু নিশ্চয়ই তাঁর আগের গোঁ আঁকড়ে বসে থাকবেন না। ভুল বুঝে যে-মানুষ অনুশোচনা করে তার সঙ্গে বিরোধ জিইয়ে রেখে লাভ নেই।

    মনোরমার পাশে চুপচাপ শুয়েছিল দীপা। মনোরমা উলটোদিকে মুখ করে শুয়েছিলেন। খানিক আগে শোওয়ার সময় রঙিন শাড়ি ছেড়ে নিজের আটপৌরে সাদা শাড়ি পরে এসেছে দীপা। সেদিকে তাকিয়ে প্রথম কথা বলেছিলেন মনোরমা, ‘যাক, তা হলে আর নিষেধ করছি না। ভেবেছিলাম রঙিন শাড়ি পরলে আমার পাশে শুতে দেব না।’

    দীপা উত্তর দেয়নি। বিকেলে অমরনাথের দেওয়া রমলা সেনের চিঠি পড়ে তার মন খুব খারাপ হয়ে গিয়েছে। ছোট্ট চিঠি লিখেছেন তিনি। ‘পরীক্ষা ভাল হয়েছে জেনে খুব খুশি হলাম। রেজাল্টের জন্যে উদ্গ্রীব হয়ে আছি। আর একটা কথা, লিখেছ বিদ্রোহ করব, বিদ্রোহ করতে গেলে নিজেকে উপযুক্ত করে গড়ে তুলতে হয়। নিজেকে প্রশ্ন করো তুমি তার কতটা উপযুক্ত।’ দূরে কুলি লাইনে মাদল বাজছে। রাত নিশুতি। দীপার বুক মুচড়ে একটা নিশ্বাস বেরিয়ে এল।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43 44 45 46 47 48 49 50 51
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleসাতকাহন ২ – সমরেশ মজুমদার
    Next Article কইতে কথা বাধে – সমরেশ মজুমদার (অসম্পূর্ণ)

    Related Articles

    সমরেশ মজুমদার

    চব্বিশ ঘণ্টার ঈশ্বর – সমরেশ মজুমদার

    December 4, 2025
    সমরেশ মজুমদার

    ছোটগল্প – সমরেশ মজুমদার

    December 4, 2025
    সমরেশ মজুমদার

    আট কুঠুরি নয় দরজা – সমরেশ মজুমদার

    December 4, 2025
    সমরেশ মজুমদার

    উত্তরাধিকার – সমরেশ মজুমদার

    December 4, 2025
    সমরেশ মজুমদার

    গর্ভধারিণী – সমরেশ মজুমদার

    December 4, 2025
    সমরেশ মজুমদার

    কইতে কথা বাধে – সমরেশ মজুমদার (অসম্পূর্ণ)

    December 4, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Our Picks

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }