Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    সাতকাহন ১ – সমরেশ মজুমদার

    সমরেশ মজুমদার এক পাতা গল্প936 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ১৫. আসাম রোড

    আসাম রোড যেখানে চা-বাগানের সীমা ছাড়িয়ে বাঁদিকে বাঁক নিয়েছে সেখানে গতরাত্রে বাঘ এসেছিল। দু’-তিনঘর মদেশিয়া সেখানে বাসা বেঁধেছিল। এরা এককালে চা-বাগানেই কাজ করত। চাকরি শেষ হবার পর সাহেব দয়া করে ওই জমিতে তাদের ঘর তুলতে দিয়েছিলেন। তাদেরই একজনের দুধেল গোরুকে মেরে চলে গেছে বাঘটা। বিশু খোকনরা সেই জায়গাটা দেখতে যাচ্ছিল।

    এ-অঞ্চলে বাঘ বলতে চিতাকে বোঝায়। গঞ্জের শিকারিরা এবং সাহেব নিজে সকালে ঘুরে এসেছেন। নির্দেশ দিয়ে এসেছেন গোরুটা যেভাবে পড়ে আছে সেইভাবেই থাকবে। বাঘ নিশ্চয়ই আছে ধারেকাছে। দিন ফুরালেই সে শিকার খেতে আসবে। সেইসময় তাকে হত্যা করা হবে। কিছুদিন আগে একটা হরিণকে আধ-খাওয়া অবস্থায় চা-বাগানের ভেতর পাওয়া গিয়েছিল। সাহেব খবর পেয়ে পৌঁছোবার আগেই যারা দেখেছিল তারা হরিণের অবশিষ্টাংশ তুলে নিয়ে গিয়েছে রান্না করে খেতে। সেটাও বাঘের কীর্তি প্রমাণিত হয়েছে, তাই এবার সুযোগ হাতছাড়া করা চলবে না। চা-বাগানে অজগর ধরা পড়ে, বুনো শুয়োর, হরিণের ছানা, খরগোশ মাঝে মাঝেই পাওয়া যায়। কিন্তু চিতাবাঘকে কবজা করা খুব শক্ত। থাবা দেখে সাহেবের সন্দেহ হয়েছে এ-চিতা খুব বড়সড়। গঞ্জের শিকারিরা বলছে চিতা না, সাক্ষাৎ রয়েল বেঙ্গল টাইগার! যাই হোক না কেন খবরটা নিস্তরঙ্গ চা বাগান আর বাজার এলাকাকে গরম করে তুলেছে। দিন থাকতে থাকতেই লোক যাচ্ছে সেই জায়গাটা একবার স্বচক্ষে দেখতে। বিশুরাও যাচ্ছিল।

    বিশু খোকনের সঙ্গে আজ অজিত ছিল। ওরা হেঁটেই যাচ্ছিল। এখন দুপুর। সবে খাওয়া শেষ হয়েছে। অঞ্জলি মনোরমা যে যাঁর রান্নাঘরে। অমরনাথ আহারান্তে দুপুরের ঘুম দেবার তোড়জোড় করছেন। ঠিক একঘণ্টা ঘুমিয়েই তিনি আবার ফ্যাক্টরিতে চলে যান। স্নান করার আগে তিনি নতুন একটা খবর দিলেন, কাল রাত্রে যখন বাঘ গোরুটাকে ধরেছিল তখন একজন নাকি বল্লম ছুড়ে মেরেছিল। বাঘ সেই বল্লম শরীরে নিয়েই উধাও হয়েছে। আহত বাঘ খুব সাংঘাতিক হয়। অতএব সন্ধের মধ্যেই গোয়ালঘরের দরজা ভাল করে বাঁধতে তো হবেই, কেউ যেন বাড়ির বাইরে না যায়।

    অথচ আসাম রোডে মানুষের মিছিল দেখে দীপার মনে হল কেউ তেমন ভয় পাচ্ছে না। যেভাবে লোকে মেলা দেখতে বা রামলীলার গান শুনতে যায় সেইভাবেই সাইকেলে হেঁটে চলেছে। এইসময় সে বিশুদের দেখতে পেল। সিঁড়ির ওপর দাঁড়িয়ে সে চিৎকার করল, ‘কোথায় যাচ্ছিস?’

    বিশু জবাব দিল, ‘সিনেমা দেখতে।’

    দীপা হেসে ফেলল। তারপর শাড়ি সামলে রাস্তায় এসে বলল, ‘চল, আমিও দেখে আসি। একাই যাব কিনা ভাবছিলাম, তোদের পেয়ে ভাল হল।’

    খোকন অবাক হয়ে বলল, ‘তুই যাবি?’

    দীপা বলল, ‘যাব বলেই তো এলাম।’

    ‘বাড়িতে বলে এসেছিস?’

    ‘নাঃ।’ দীপা হাঁটতে শুরু করে আড়চোখে দূরে নিজেদের কোয়ার্টার্সের সামনেটা দেখে নিল। কেউ বাইরে নেই। এখন অন্তত ঘণ্টা দেড়েকের মধ্যে কেউ তার খোঁজ নেবে না।

    বিশু গম্ভীর গলায় বলল, ‘সবাই দেখবে তুই আমাদের সঙ্গে যাচ্ছিস! ব্যাপারটা ভাব।’

    ‘তার মানে? আমাকে সঙ্গে নিচ্ছিস নাকি তোরা? আমি যাচ্ছি আমার মতো। কথা বললে যদি মানে লাগে তা হলে সেটা খুলেই বল।’ রাগী মুখে তাকাল দীপা।

    ‘আশ্চর্য! মানে লাগার কথা কে বলেছে। অ্যাদ্দিন তো আমাদের সঙ্গে মেশা দূরের কথা, কথাও বলতিস না। নিশ্চয়ই তোকে বাড়ির লোকজন মানা করেছিল। কিছু হলে আমাদের কী! আমরা ছেলে! তোকেই সামলাতে হবে।’ বিশু কড়া গলায় বলল।

    ‘ছেলে বলে সাতখুন মাপ?’

    ওরা জবাব না দিয়ে হাঁটতে লাগল। এইসময় অজিত গায়ে পড়ে কথা বলল, ‘কোনও মেয়েছেলে তো যাচ্ছে না, তাই বোধহয়— !’

    দীপা চট করে বলে উঠল, ‘এই যে, তোমার নাম অজিত, তাই তো?’

    হকচকিয়ে গেল অজিত, ‘হ্যাঁ।’

    ‘আমাকে তুমি মেয়েছেলে বলবে না।’

    ‘আচ্ছা!’ অজিত মুখ ঘুরিয়ে নিল।

    খোকন হাসল। ‘তুই খুব পালটে গিয়েছিস দীপা।’

    ‘বড় হলে সবাই পালটে যায় একটু আধটু। এ নিয়ে কথা বলার কী আছে।’

    কোয়ার্টার্সের সীমা ছাড়িয়ে বাঁদিকে কুলি লাইন আর ডানদিকে চা-বাগান রেখে ওরা এগিয়ে যাচ্ছিল। ইতিমধ্যে বাজার এলাকার যেসব মানুষ আগে পেছনে যাচ্ছিল তারা দীপাকে খুব লক্ষ করছে। দু’পাশে আম-কাঁঠালের সারি, মাঝখানে পিচের সরু রাস্তা। অনেকদিন বাদে দীপার হাঁটতে খুব ভাল লাগছিল। হঠাৎ খোকন বলল, ‘এ্যাই, তোর মনে আছে, আমরা হাতির তাড়া খেয়ে এই জায়গাটা দিয়ে চা-বাগান ছেড়ে উঠে এসেছিলাম।’

    দীপা ঘাড় নাড়ল, ‘মনে আছে। যাবি সেখানে?’

    বিশু বলল, ‘না।’

    দীপা জানতে চাইল, ‘কেন?’

    ‘এখন তুই বড় হয়ে গিয়েছিস। তোকে নিয়ে চা-বাগানের ভেতর ঢোকা ঠিক হবে না। তোর মাথা মোটা তাই বুঝতে পারছিস না।’

    ‘সত্যি পারছি না। ছেলেবেলা থেকে আমরা একসঙ্গে খেলেছি, বড় হয়ে গেছি বলে সেসব বেঠিক হয়ে যাবে কেন? তুই ঠাকুমার মতো কথা বলছিস।’

    বিশু জবাব দিল না। বাঁক অবধি পোঁছোনোর আগে চিৎকার চেঁচামেচি আর মানুষজনকে ছুটে আসতে দেখা গেল। বিশু বলল, ‘কিছু হয়েছে নিশ্চয়ই। একপাশে সরে দাঁড়া।’

    ব্যাপারটা জানা গেল। আংরাভাসা নদীর জঙ্গলে বাঘের ডাক শোনা গেছে। আহত বাঘ যখন হুংকার দেয় তখন বুঝতে হবে সে খুব মরিয়া হয়ে উঠেছে। এই অবস্থায় শিকারিরা সবাইকে জায়গাটা ছেড়ে চলে যেতে বলছে। কয়েক মিনিটের মধ্যে আসাম রোড ফাঁকা হয়ে গেল। ভয় মানুষের কৌতূহলকে মৃত করে ফেলে। একমাত্র চলন্ত বাস আর কিছু গাড়ি ছাড়া দুপুর-গড়ানো আসাম রোডে এখন মাঝে মাঝে টিয়াপাখির ঝাঁকের চিৎকার আর ঘুঘুর ডাক শোনা যাচ্ছে। খোকন বলল, ‘চল, ফিরে যাই।’

    বিশু ধমকে উঠল, ‘ভ্যাট। আংরাভাসা এখানে নাকি? আর বাঘটা গোরু ছেড়ে তোকে খেতে অ্যাদ্দূরে আসবে ভেবেছিস?’

    অজিত বলল, ‘শুনেছি এক রাতে বাঘ তিরিশ মাইল যেতে পারে।’

    বিশু একটু ভাবল, ‘আমার খুব ইচ্ছে করছে যেখানে গোরুটা মরে পড়ে আছে তার কাছাকাছি কোনও গাছে উঠে রাতটা কাটাতে। বাঘটাকে দেখা যেত তা হলে।’

    খোকন বলল, ‘আমি নেই।’

    চা-বাগানের তারের বেড়া ডিঙিয়ে রাস্তায় আসার জন্যে সিঁড়ির ধাপ করে দেওয়া হয়েছে। দীপা তার চূড়োয় উঠে বসতে ওরাও চলে এল। এবার অজিত বলল, ‘খাবি তো?’

    বিশু আড়চোখে দীপাকে দেখে নিল, জবাব দিল না। খোকন ইশারা করে না বলল। অজিত একটু বিরক্ত হল, ‘তাতে কী হয়েছে। ও তো বলল মেয়েছেলে না বলতে। মেয়েছেলে না হলে নিশ্চয়ই মেয়েছেলের মতো ব্যবহার করবে না।’

    দীপা কথাবার্তার অর্থ ধরতে পারছিল না। সে জিজ্ঞাসা করল, ‘কী ব্যাপার?’

    বিশু উত্তর না দিয়ে অজিতকে বলল, ‘দে সিগারেট।’

    অজিত পকেট থেকে একটা কাঁচি সিগারেটের প্যাকেট বের করল। তাতে পাঁচটা সিগারেট আছে। দীপা দেখল খোকন তার দিকে চোরের মতো তাকাচ্ছে। দুটো দেশলাই কাঠি নিভিয়ে সিগারেট ধরাল বিশু। তারপর অজিত। খোকন বলল, ‘আমি পুরো খাব না, আমাকে পরে একটা টান দিতে দিস।’ বিশু ধোঁয়া ছেড়ে বলল, ‘আমি দিতে পারব না।’

    দীপা বলল, ‘লজ্জা করছিস কেন? খেতে ইচ্ছে করলে পুরোটাই খা।’

    খোকন সিগারেট নিল, ‘বাবাকে বলে দিবি না তো?’

    কথাটা শোনামাত্র একসঙ্গে বিশু আর অজিত হেসে উঠল। খোকন লজ্জিত মুখে সিগারেট ধরাল। দীপা বলল, ‘তা হলে তোরা এখন বড় হয়ে গেছিস।’

    বিশু মুখ ফিরিয়ে বলল, ‘আশ্চর্য!’

    দীপা দু’পাশের রাস্তা দেখতে দেখতে বলল, ‘এইজন্যে সত্যসাধনবাবু তোদের বদ বলছিল।’ কথাটা শেষ করে হেসে ফেলল সে।

    অজিত বলল, ‘ওই বুড়োটাকে মাইরি একদিন টাইট দিতে হবে। সবসময় আমার পেছনে লেগে থাকে। মুখের ওপর বলল থার্ড ডিভিশনও পাব না।’

    ‘চুপ কর। পেয়ারের ছাত্রী বসে আছে।’ বিশু ফুট কাটল।

    ‘সত্যি কথা তোদের খারাপ লাগবেই। নিজের পয়সায় সিগারেট খাচ্ছিস না কেন? তা হলে কেউ তোকে কিছু বললে জবাব দিতে পারতিস।’

    ‘নিজের পয়সা না তো কার পয়সা?’

    ‘ইস। তুই রোজগার করিস?’

    ‘নিশ্চয়ই। বাবা বাজারের টাকা দেয়। লিখে দেয় এই আনবে সেই আনবে। নিজে ওজন দেখে নেয় মাঝে মাঝে। বাজার দর যাচাই করে বাজারে ঘুরে ঘুরে। এক পয়সা মারার উপায় নেই। আমি যদি দোকানদারকে পটিয়ে দু’-চার আনা দাম কমাই সেটা আমার কৃতিত্ব। বাবা ঠকছে না, আমি রোজগার করছি।’

    ‘তা হলে তুই বাজার থেকে টাকা চুরি করিস।’

    ‘ফালতু জ্ঞান দিবি না। বিয়ে হয়ে গেলেই মেয়েরা কেমন জ্ঞান দিতে শুরু করে।’ বিশু চোখ বন্ধ করে সিগারেটে টান দিল। আর শক্ত হয়ে গেল দীপা। তার চোখ স্থির হল বিশুর মুখের ওপর। সে খুব শান্ত গলায় জিজ্ঞাসা করতে চাইল, ‘তোদের সঙ্গে আমার আর বন্ধুত্ব নেই, না রে?’

    বিশু থতমত খেয়ে গেল, ‘আমি কি তা বলেছি?’

    খোকন বলল, ‘আমরা তোর জন্যে খুব কষ্ট পেতাম দীপা। তোর বিয়ের পরদিন দুপুরে আমি ভাত খাইনি, জানিস?’

    বিশু বলল, ‘কিছু মনে করিস না দীপা, তোর বাবা লোক খুব খারাপ।’

    ‘মানে?’

    ‘খারাপ লোক না হলে একটা অসুস্থ ছেলের সঙ্গে কেউ মেয়ের বিয়ে দেয়? স্রেফ টাকাপয়সা লাগবে না বলে পার করে দিয়েছে। সেই রাত্রে আমরাই বরকে দেখে বুঝতে পেরেছিলাম অসুখবিসুখ আছে।’ বেশ চড়া গলায় বলল বিশু।

    ‘তুই বুঝতে পেরেছিলি?’ খোকন জানতে চাইল।

    মাথা নেড়ে না বলল দীপা। সেটা লক্ষ করে খোকন জিজ্ঞাসা করল ‘মারা গেল কী করে? বিয়ের পরের পরদিনই তো মরেছে!’

    ‘জানি না।’

    ‘মরে যাওয়ার আগেই তুই জ্বর গায়ে চলে এসেছিলি কেন?’ থোকন প্রশ্ন শেষ করছিল না। তার যেন অনেক কৌতূহল জমা আছে।

    ‘এসেছিলাম।’ দীপা নিশ্বাস ফেলল।

    বিশু উঠে দাঁড়াল, ‘চমৎকার। তুই জিজ্ঞাসা করছিলি বন্ধুত্ব নেই কিনা? থাকবে কী করে! তোর ব্যাপারটা যদি আমাদের বলতে না চাস তা হলে আমরা কী করে তোকে বন্ধু বলে মনে করব?’

    ‘আমি ওসব ঘটনা ভুলে যেতে চাই।’

    ‘তোর বাড়ির লোক তো ভুলতে দিতে চাইছে না। তুই নিরামিষ খাস না? বিধবাদের মতো কাপড় পরিস না?’

    দীপা মাথা নাড়ল, ‘করতে হচ্ছে। কারণ আমি সাবালিকা নই। এখনও যাদের ওপরে নির্ভর করতে হচ্ছে তাদের আমি অপছন্দের কথা বলতে পারি কিন্তু অবাধ্য হতে পারি না।’

    বিশু অবাক হয়ে তাকাল। তারপর জানতে চাইল, ‘তুই যে আজ আমাদের সঙ্গে এখানে এলি, বাড়ির লোক তো জানে না, তার বেলায়?’

    দীপা চুপ করে রইল। ওরাও কথা বলল না। বিশু আবার সিঁড়ির নীচের ধাপে বসল। হঠাৎ খোকন বলল, ‘তোকে বাবা ডিম খেতে বলেছে?’

    দীপা উত্তর দিল না। ডাক্তারবাবু কি বাড়িতে গিয়ে গল্প করেছে? তা হলে তো খবরটা ঘুরে ঠাকুমার কানেও আসতে পারে। ওর অস্বস্তি হল। এইসময় বিশু বলল, ‘যাঃ শালা, এবার ঝামেলা করবে।’ তার সিগারেট শেষ হয়ে গিয়েছিল। চট করে পেছনে ফেলে দিয়ে চাপা গলায় বলল, ‘সিগারেট ফেলে দে খোকন।’

    খোকন বলল, ‘সর্বনাশ। চল পালাই।’

    ‘পালানো যাবে না। সোজা রাস্তা। দেখতে পাবেই।’ বিশু জবাব দিল।

    ‘চা-বাগানে ঢুকবি?’ খোকন জানতে চাইল।

    এবার দীপা কথা বলল, ‘তোরা তো কোনও দোষ করিসনি, ভয় পাচ্ছিস কেন?’

    বিশু বলল, ‘আজেবাজে কথা বানিয়ে বানিয়ে বলবে। কোথায় যাচ্ছে বল তো? বাঘ বেরিয়েছে জানে না? নিশ্চয়ই কোনও মতলব আছে?’

    যাঁকে নিয়ে ওরা কথা বলছিল তিনি ততক্ষণে আসাম রোড ধরে কাছাকাছি এসে গিয়েছেন। দূর থেকেই যে দেখেছিলেন তা এখন মুখ দেখেই বোঝা যাচ্ছে। এবার সামনে দাঁড়িয়ে বললেন, ‘কী ব্যাপার? পঞ্চপাণ্ডবের বাকি দু’জন কোথায়?’

    ওরা জবাব দিল না। চারজন চারদিকে তাকিয়ে রইল। তেজেন্দ্র পাঞ্জাবির পকেট থেকে নস্যিমাখা রুমাল বের করে নাক মুছলেন, ‘তোমার বাড়ি কোথায় ছিল যেন?’

    প্রশ্নটি অজিতের দিকে তাকিয়ে। সে সরাসরি জবাব দিল, ‘কলোনিতে।’

    ‘সেটা তো দেখেই বুঝতে পেরেছি! দেশ কোথায় ছিল?’

    ‘যশোর। মাইকেল মধুসূদন দত্তর গ্রামে।’

    ‘যশোর? সেখান থেকে এতদূরে কেউ এসেছে বলে শুনিনি।’

    ‘আমরা তো এসেছি।’

    ‘মাইকেল মধুসূদন দত্তের নামটা বলার কী দরকার ছিল? খুব গর্বের বিষয় নাকি? সারাজীবন নকল ইংরেজ সেজে একটার পর একটা মেম বিয়ে করে যাওয়া খুব কৃতিত্বের কথা? ফট করে একটা নাম বলে দিলেই হল?’

    ‘রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের আগে তিনি বাংলা সাহিত্যের শ্রেষ্ঠ কবি।’

    ‘কবি? চার লাইন কবিতা লিখলেই কবি হওয়া যায়? আর কবি যদিও বা বলা যায় চরিত্র ঠিক না থাকলে কীসের কবি? দিনরাত শুনেছি মদ গিলত। হ্যাঁ, কবি হলেন কুমুদরঞ্জন মল্লিক। নাম শুনেছ? বর্ধমানের মানুষ।’ তেজেন্দ্র আবার নাক মুছলেন। তাঁর চোখ দীপার ওপর থেকে সরছিল না।

    ‘তুমি এদের সঙ্গে কী মনে করে? ক’বছর দেখিনি তো?’ তেজেন্দ্র প্রশ্ন করে গলায় জমে থাকা কফ শব্দ করে ছুড়ে দিলেন একপাশে। দীপা জবাব দিল না। তার মুখ অন্যপাশে ফেরানো ছিল। বিশু বলল, ‘দীপা, তোকে বলছেন উনি।’

    দীপা মুখ ফেরাতে বাধ্য হল। তেজেন্দ্র ডাকলেন, ‘এদিকে এসো। নেমে এসো।’

    ‘কেন?’ দীপা জানতে চাইল।

    ‘তুমি একে যুবতী তায় বিধবা। এইসময় উঠতি বয়সের ছেলেদের সঙ্গে মিশতে নেই। লোকে বদনাম করবে। বিধবার বদনাম হলে খুব খারাপ হয়।’ তেজেন্দ্র আঙুল নেড়ে ডাকলেন। দীপার মুখ লাল হয়ে উঠল, ‘কোথায় যাব?’

    ‘বাড়িতে। তোমার ঠাকুমাকে আমি কতটুকু দেখেছি, তোমার বাবার বিয়ে দেখলাম। আমার একটা কর্তব্য তো আছে।’ তেজেন্দ্র রুমাল পকেটে রাখলেন।

    ‘আমি বাঘ দেখতে এসেছিলাম।’

    ‘তা দ্যাখো। কিন্তু এইসব বকাটে ছোকরাদের সঙ্গে মোটেই আড্ডা দেবে না।’

    ‘আপনি আমাকে বাঘ দেখাবেন?’ দীপা সরল গলায় জানতে চাইল।

    ‘বাঘ? ’

    ‘হ্যাঁ। ওই আংরাভাসার নদীর ধারে বাঘ বেরিয়েছে জানেন না?’

    ‘তা শুনেছি।’

    ‘আপনি এদিকে এসেছিলেন কেন?’ বিশু জিজ্ঞাসা করল।

    ‘বারান্দায় বসে দেখলাম দীপা তোমাদের সঙ্গে এদিকে এল। তোমাদের ওপর আমার কোনও ভরসা নেই। এইসব নির্জন জায়গায় আগে কত কী কাণ্ড হয়েছে!’

    দীপা নেমে আসছিল সিঁড়িতে পা দিয়ে বিশুদের শরীর বাঁচিয়ে। তাকে জায়গা দেওয়ার জন্যে অজিত উঠে দাঁড়াতেই কাঁচি সিগারেটের প্যাকেটটা দেখা গেল। অজিত সেটাকে পকেটে ঢোকাবার সুযোগ পেল না আর। তেজেন্দ্রর নজর পড়ল প্যাকেটটার ওপর। তিনি দীপাকে বললেন, ‘ওই প্যাকেটটা নিয়ে এসো তো!’

    দীপা বলল, ‘এটা অজিতের প্যাকেট।’

    তেজেন্দ্র মাথা নাড়লেন, ‘জানি জানি। বাঙালরা এসেই তো দেশের সর্বনাশ করছে। গোঁফ উঠতেই সিগারেট ফুঁকতে শুরু করেছে আজকাল আমাদের ছেলেরা— কেন করছে তা জানি না ভেবেছ? নিয়ে আসতে বলেছি যখন তখন নিয়ে এসো।’

    বিশু কথা না বাড়িয়ে প্যাকেটটা দীপার হাতে তুলে দিল। দীপা সেটাকে নিয়ে এগিয়ে এসে তেজেন্দ্রর হাতে দিল। তেজেন্দ্র প্যাকেট খুলে দেখলেন, ‘দুটো পড়ে আছে। তার মানে আটটা খতম। তুমিও খেয়েছ নাকি?’

    মাথা নেড়ে না বলল দীপা। তেজেন্দ্রর চোখ ছোট হল। তিনি প্যাকেটটা পকেটে রেখে দিয়ে বললেন, ‘চলো।’ দীপা বলল, ‘কিন্তু আমি যে বাঘ দেখতে এসেছিলাম। আপনি আমাকে নিয়ে যাবেন না?’

    তেজেন্দ্রকে চিন্তিত দেখাল। তিনি মাথা ঘুরিয়ে আসাম রোডের ওপাশটা দেখলেন। দীপা বলল, ‘চলুন না। এরা খুব ভিতু, এরপর আর এগোতে চাইছে না। আপনি এসে ভাল হল। আমাকে নিয়ে চলুন না।’

    তেজেন্দ্র মাথা নাড়লেন, ‘বেশ, বলছ যখন। বাঘকে আমি মোটেই ভয় পাই না। এখন যেখানে চাঁপাফুলের গাছ, কালীপুজো হয়, সেখানে একসময় সন্ধে হলেই কেঁদে কেঁদো বাঘ আসত। এই শর্মা টর্চ জ্বেলে একা ফিরে আসত কোয়ার্টার্সে। বুঝলে? বাঘটাঘ আমাকে দেখিয়ো না। চলো।

    দীপা অবলীলায় হাঁটতে লাগল। তেজেন্দ্র তার পাশে। পেছনে বসে থাকা তিনজন কোনও কথা বলল না। এবার মুখ ফিরিয়ে দীপা দেখল ওরা সিঁড়ি ছেড়ে উঠে যায়নি। সে বলল, ‘জানেন, ডাক্তারবাবু না আমাকে ডিম খেতে বলেছেন। আমার শরীর খুব দুর্বল হয়ে গিয়েছে তো!’

    ‘দুর্বল? তুমি?’ তেজেন্দ্র লুঙ্গি ধরে হাঁটছিলেন।

    ‘বাঃ! আমার ইনফ্লুয়েঞ্জা হয়েছিল না?’

    ‘ও। বিধবার তো ডিম খাওয়া ঠিক নয়। না, তুমি এক কাজ করতে পারো। রোজ সকালে এসো আমাদের বাড়িতে। বউমা একটা মুরগি পুষেছেন, সেটা মোরগ ছাড়া রোজ একা একাই ডিম দেয়। সেই ডিম খেতে পারো তুমি। মোরগ ছাড়া মুরগি যখন ডিম দেয় তখন তাকে আর আমিষ বলে না। এসব যাদের বিয়ে হয়েছে তারা ছাড়া কেউ বুঝবে না। তুমি নিশ্চয়ই বুঝতে পারছ।’ তেজেন্দ্র হাসলেন।

    ‘মুরগি মোরগ ছাড়াই ডিম দেয়?’ অবাক হল দীপা।

    ‘দেয়। তবে সেই ডিমে বাচ্চা হয় না। তুমি কাল আমাদের বাড়িতে এসো না। তবে আমি ভাবতে পারছি না তোমার ঠাকুমা এই ডিম খাওয়া মেনে নেবেন কিনা। আমি তো অনেকবার ওঁর সঙ্গে কথা বলেছি, ভদ্রমহিলা খুব গোঁড়া।’ তেজেন্দ্র পকেটে হাত দিলেন।

    হাঁটতে হাঁটতে ওরা অনেকটা দূর চলে এসেছিল। আসাম রোড যেখানে বাঁক নিয়ে চা-বাগান ছাড়িয়ে চাষের খেত ভেদ করে আংরাভাসার দিকে এগিয়ে যাচ্ছে সেথানে জিপটা দাঁড়িয়ে ছিল। জিপে বসে ছিলেন বড়সাহেব। তিনি নেমে এলেন রাস্তায়। ইংরেজিতে বললেন, ‘আপনারা এখানে কেন?’

    তেজেন্দ্র জবাব দিলেন, ‘এই মেয়েটি বাঘ দেখতে চায়।’

    বড়সাহেব বললেন, ‘সরি। এটা চিড়িয়াখানা নয়। আপনারা ফিরে যান। কোথায় থাকেন আপনারা?’ তেজেন্দ্র বললেন, ‘আপনার বড়বাবুর বাবা আমি। এই চা-বাগান আমার হাতেই তৈরি হয়েছিল।’

    ‘ও, আচ্ছা।’ বড়সাহেব হাসলেন, ‘মনে পড়েছে। কিন্তু আপনারা এখানে আর থাকবেন না। উন্ডেড চিতা খুব ভয়ংকর হয়।’

    তেজেন্দ্র বিচলিত হলেন এবার, ‘উন্ডেড? সর্বনাশ। চলো ফিরে চলো। চলি স্যার। আপনার প্রশংসা আমার ছেলের মুখে খুব শুনি। এখন বৃদ্ধ হয়ে গিয়েছি, কিন্তু সারাজীবন ব্রিটিশ ম্যানেজারদের কাছে কাজ করে অ্যাপ্রিশিয়েট করার ক্ষমতা পেয়েছি। আমিও আপনার সাহসের প্রশংসা করছি। চলো হে।’ দীপার হাত ধরে পিছু ফিরলেন তেজেন্দ্র।

    দীপা হাঁটতে হাঁটতে জিজ্ঞাসা করল, ‘বাঘ দেখা হবে না?’

    তেজেন্দ্র একটু হাঁপিয়ে পড়েছিলেন, ‘উন্ডেড বাঘ দেখতে নেই। উন্ডেড বাঘরাই ম্যান-ইটার হয়ে যায়। দৌড়োদৌড়ি করে শিকার ধরতে পারে না তো! সাহেবটার চেহারা দেখলে? শুঁটকি মাছের মতো। আমাদের সময়ে যেসব সাহেব আসতেন তাঁদের কী চেহারা ছিল! বাপস। যেমন লম্বা তেমন চওড়া। নাইনটিন টোয়েন্টি ওয়ানে লুইস নামের একটা সাহেব এল। সাড়ে ছয় ফুট লম্বা, ছাতি অন্তত বাহান্ন ইঞ্চি, হাতের কবজি ইয়া মোটা। চারটে মুরগি দিয়ে ব্রেকফাস্ট করত। স্কচ খেত জল না মিশিয়ে ঢকঢক করে। আর যা খাটতে পারত তা না দেখলে বিশ্বাস করবে না। কিন্তু ওই চেহারাটাই বেচারার কাল হয়েছিল।’ নিশ্বাস ফেললেন তেজেন্দ্র।

    কৌতূহলী হল দীপা, ‘কেন?’

    কোনও মেমসাহেব ওকে বিয়ে করতে চায়নি। যোগ্য পার্টনার খোঁজে তো ওরা। অতবড় চেহারার সঙ্গে পাল্লা দেবে কে? তেলিপাড়া বাগানের ম্যানেজার হেস্টিংস সাহেবের বোন ছিল খুব লম্বা, বাঁশের মতো। তবে সাদা চামড়া বলে কথা। দেখে অবশ্য আমার হিজড়ে বলে মনে হত। হিজড়ে বোঝো? ওই যে যারা বাচ্চা হলে কী হল গো বলে মাদল বাজিয়ে পয়সা নিতে আসে! তা হেস্টিংস সাহেবের বোন এল লুইসের সঙ্গে কোর্টশিপ করতে। রাত বারোটায় সেই বাঁশনি তেলিপাড়ায় ফিরে গিয়ে প্রাণ বাঁচালেন। একেই চা-বাগানে ব্রিটিশ মেয়ে অবিবাহিত অবস্থায় বেশি থাকে না তার ওপর খবরটা চাউর হল। একেবারে আসাম থেকে দার্জিলিং। লুইসের ভাগ্যে আর মেয়ে জোটে না। তা এত দূরে একটা হুমদো গোরা কি একা থাকতে পারে। অতএব হুকুম হল কুলি লাইন থেকে কামিন চাই রাত কাটানোর জন্যে। তখন অবশ্য এটা রেওয়াজের মধ্যেই ছিল। তিন তিনটে কামিন অসুস্থ হয়ে পড়ল এমন যে তারা মাসখানেক বিছানা থেকে উঠতেই পারল না। শেষপর্যন্ত তুরা বলে একটা কামিন সাহেবের সঙ্গে থেকে গেল। তার তিনটে সাহেব বাচ্চা হল। এখনও দু’-একটা লোককে দেখবে গায়ের রং সাদা। তারা সব তুরার বংশধর। লুইস আমাকে একদিন বলেছিল, বাবু, ইন্ডিয়ান ওমেন আর ফার বেটার দ্যান ব্রিটিশ গার্লস। তা সেরকম লোক আর কোথায়, সেইসব মেয়েছেলেও তো নেই।’ তেজেন্দ্র আর একবার ফোঁত করে নিশ্বাস ফেললেন। দীপার খুব রাগ হচ্ছিল। ঠাকুরদার বয়সি লোকটা তাকে এসব গল্প শোনাচ্ছে কেন? ওরা ততক্ষণে সেই জায়গায় চলে এসেছিল যেখানে একটু আগে বিশুদের ছেড়ে গিয়েছিল। তেজেন্দ্র সেখানে দাঁড়ালেন, ‘ছোঁড়ারা কোথায়?’

    ‘আমি কী করে জানব?’

    ‘হুম। ভেরি ব্যাড। ওরা তোমাকে কী বলছিল?’

    ‘মানে?’

    ‘খারাপ কথা কিছু বলছিল? লাভটাভের কথা?’

    ‘না।’ দীপা ঠোঁট কামড়াল তারপর ফট করে মিথ্যে কথা বলল, ‘ওরা আপনাকে নিয়ে আলোচনা করছিল। আমি নিষেধ করছিলাম।’

    ‘আ-আমাকে নিয়ে?’ তেজেন্দ্র এবার অবাক।

    ‘হ্যাঁ। ওরা একটা ক্লাব করবে। প্রেসিডেন্ট কাকে করা হবে এ নিয়ে তর্ক হচ্ছিল। খোকনকে আমি বললাম আপনাকে প্রেসিডেন্ট করতে।’

    ‘প্রেসিডেন্ট? আমি?’ নিজের বুকে হাত রাখলেন তেজেন্দ্র।

    ‘হুঁ। অজিত রাজি হচ্ছিল না। ও তো বাইরের লোক, এসেই আপনার সম্পর্কে আজেবাজে কথা শুনেছে। সেসবই বলছিল।

    ‘আজেবাজে কথা! কী কথা?’

    ‘আমি বলতে পারব না।’

    ‘আহা, বলো না। এখানে তো কেউ নেই।’

    ‘আপনার বউ মারা যাওয়ার পর আপনি কীসব করেছিলেন সেসব কথা। বিশু অবশ্য খুব আপত্তি করেছে। বলেছে প্রেসিডেন্ট আপনাকেই করতে হবে।’

    ‘ক্লাবটা কীসের?’

    ‘সাংস্কৃতিক ক্লাব।’

    ‘ছেলেমেয়ে একসঙ্গে?

    ‘হ্যাঁ।’

    ‘আমার অবশ্য আপত্তি নেই প্রেসিডেন্ট হতে। তবে ওই অজিতটাকে দলে রাখবে কিনা ভেবে দ্যাখো। বাঙালগুলো এদেশে আসার পর ভক্তিশ্রদ্ধা কমে যাচ্ছে মানুষের। নিয়মশৃঙ্খলা বলে কিছু থাকছে না আর। স্বাধীনতা! এ স্বাধীনতা কে চায়? তোমাদের জন্যে খুব দুঃখ হয়, তোমরা ব্রিটিশ আমলে বড় হলে না। তা হলে দেখতে পেতে ডিসিপ্লিন কাকে বলে? সাধে কি ওরা এত বড় হয়েছে। ওরা যদি ভারতবর্ষে না আসত তা হলে এই চা-বাগান হত? এত ব্রিজ, এত শহর, এত কলকারখানা তৈরি হত? কিস্যু না। আমরা সেই সিরাজদৌল্লার যুগেই থেকে যেতাম। ব্রিটিশদের তাড়িয়ে আমরা আমাদের সর্বনাশ করলাম। তা বলে দিয়ো ওদের, আমার কোনও আপত্তি নেই প্রেসিডেন্ট হতে। তোমাদের সঙ্গে আরও ঘনিষ্ঠভাবে মেলামেশা করা যাবে। তাতে তোমরাই লাভবান হবে।’ তেজেন্দ্র আবার নিশ্বাস ফেললেন।

    দীপা হাসার চেষ্টা করল, ‘খুব ভাল হল। ওদের বলব। কিন্তু দাদু, আমার একটা কথা আপনি রাখবেন? এখন তো আপনি আমাদের প্রেসিডেন্ট!’

    ‘হ্যাঁ হ্যাঁ নিশ্চয়ই। বলে ফ্যালো।’

    ‘ওই সিগারেটের প্যাকেটটা দিন। ওদের মন খুব খারাপ হয়ে গিয়েছে।’

    তেজেন্দ্র কপালে আরও ভাঁজ ফেললেন। দীপা সেটা লক্ষ করে বলল, ‘ওরা খুব ভয় পাচ্ছে যে আপনি নিশ্চয়ই বড়দের বলবেন ওরা সিগারেট খাচ্ছিল।’

    ‘সেটা তো বলার মতো কথাই। খুব অন্যায়।’

    ‘কিন্তু আপনি প্রেসিডেন্ট হয়ে ওদের নিন্দে করবেন?’

    তেজেন্দ্র আকাশের দিকে তাকালেন একটু। তারপর বললেন, ‘কিন্তু তোমাকে নিয়ে এই যে ওরা হুটহাট জঙ্গলে চলে আসছে এটা আর করা চলবে না। তোমার যদি এদিকে আসতে ইচ্ছে করে তা হলে আমার সঙ্গে আসবে।’

    দীপা চটপট নিপাট ভালমানুষের মতো ঘাড় নাড়তেই তেজেন্দ্র পাঞ্জাবির পকেটে হাত দিলেন। সিগারেটের প্যাকেটটা বের করে বললেন, ‘যাঃ, এবার তোমার কথায় ওদের ছেড়ে দিলাম। আচ্ছা, তুমি সিগারেট খাও না তো?’

    ‘না।’ দীপা ঘনঘন ঘাড় নাড়ল।

    ‘গুড। মেয়েছেলে সিগারেট খেলে ঠোঁট কালো হয়ে যায়।’

    দীপার মুখ গম্ভীর হয়ে গেল মেয়েছেলে শব্দটা শুনে। সে হাত বাড়িয়ে প্যাকেটটা নিল। তারপর তেজেন্দ্রর সঙ্গে কোয়ার্টার্সের দিকে হাঁটা শুরু করল। কয়েক পা হেঁটে তেজেন্দ্র জিজ্ঞাসা করলেন, ‘কী ব্যাপার, তোমার মুখ এত গম্ভীর কেন?’

    ‘আপনি আমাকে কখনও মেয়েছেলে বলবেন না।’

    ‘মানে? তুমি তো মেয়েছেলে।’

    ‘না। আমি মেয়ে। মেয়েছেলে শব্দটার মধ্যে একটা তাচ্ছিল্য আছে।’

    ‘তাচ্ছিল্য? তুমি খুব গল্পের বই পড়ো বুঝি?’

    দীপা জবাব দিল না। ওরা যখন আসাম রোড ছেড়ে মাঠে নামল তখন অঞ্জলি আর মনোরমাকে দেখা গেল। অত্যন্ত উদ্বিগ্ন হয়ে বারান্দায় দাঁড়িয়ে আছেন ওঁরা। দীপা বলল, ‘তা হলে আমরা সব ঠিকঠাক করে আপনাকে প্রেসিডেন্টের ব্যাপারটা জানিয়ে দেব।’

    তেজেন্দ্র বললেন, ‘তাড়াতাড়ি করবে। বয়স হয়ে যাচ্ছে তো!’ কিন্তু তেজেন্দ্র নিজের কোয়ার্টার্সের দিকে গেলেন না। দীপাকে নিয়ে অঞ্জলিদের সামনে পৌঁছে বললেন, ‘মেয়ের খুব সাধ হয়েছিল বাঘ দেখবার। খুব সাহসী, বুঝলেন।’ কথাগুলো মনোরমার উদ্দেশে। তাঁদের দু’জনের মাথায় এখন ঘোমটা। অঞ্জলি জিজ্ঞাসা করলেন, ‘তুই না বলে চলে গিয়েছিলি যে বড়। লোকজন দৌড়ে দৌড়ে এল অথচ তোর পাত্তা নেই। কী ভেবেছিস কী তুই?’

    তেজেন্দ্র বললেন, ‘উত্তেজিত হয়ে না বউমা। আমি তো সঙ্গে ছিলাম। নদীতে যখন বর্ষার জল এসে মেশে তখন তার আচরণ কি শীতের মতো হয়। তবে তখন বাঁধ দেওয়া দরকার গতি নিয়ন্ত্রিত রাখার জন্যে। সেইজন্যেই আমি সঙ্গে ছিলাম।’ আরও খানিক বকর বকর করে তেজেন্দ্র চলে গেলেন তখন মনোরমা মুখ খুললেন, ‘তুই ওই হতচ্ছাড়া বুড়োটার সঙ্গে নির্জনে গিয়েছিলি?’

    ‘বুড়োমানুষ তো! তোমার থেকেও বড়। অনেক বড়।’

    ‘তাতে কী হয়েছে? খবরদার ওর সঙ্গে কোথাও যাবি না। চিতায় উঠলেও ওরকম পুরুষকে বিশ্বাস করা যায় না। অনেক তো বড় হয়েছ। আর কবে বুঝবে?’

    গতকাল রেজাল্ট আসার কথা ছিল। কিন্তু আসেনি। আজ সকালে সত্যসাধন মাস্টার জলপাইগুড়িতে গিয়েছেন। গতকাল সারাদিন ধরে উত্তেজনা ছিল স্কুলে। বিকেলে অঞ্জলির সঙ্গে দীপা এসে কিছুক্ষণ অপেক্ষা করে ফিরে গিয়েছিল। রাত্রে ঘুম আসেনি তেমন। অমরনাথ অবশ্য বলেছিলেন, ‘তুই যা পড়েছিস আমি তার অর্ধেক পড়িনি। আমি যদি পাশ করে থাকি তা হলে তুইও করবি। এত চিন্তার কী আছে?’

    দুপুরে খাওয়াদাওয়ার পর সে একাই স্কুলে যাচ্ছিল। আসাম রোড ধরে যাওয়ার সময় বিশুদের দেখতে পেল। পাঁচটা সাইকেল পাশাপাশি যাচ্ছে রাস্তা জুড়ে। দীপা দাঁড়িয়ে পড়তেই অজিত বলল, ‘এখনও কোনও খবর নেই। প্রেসিডেন্ট সাহেব স্কুলে গিয়ে বসে আছে?’

    সঙ্গে সঙ্গে বাকি চারজন হেসে উঠল। তাদের সেই সাংস্কৃতিক ক্লাব আজ পর্যন্ত তৈরি হয়নি। পরের দিন সিগারেটের প্যাকেট ফেরত দিয়ে বানানো গল্পটা বিশুদের বলতেই ওরা রেগে গিয়েছিল খুব। কিন্তু ব্যাপারটা ম্যানেজ করতে হয়েছে অনেক চেষ্টা করে। তেজেন্দ্রকে বোঝানো হয়েছে যে প্রেসিডেন্ট হতে পারেন বাগানের বড়বাবু, যিনি তাঁরই ছেলে। সেটাই উচিত। নিজের ছেলের বিরুদ্ধে যেহেতু তেজেন্দ্র যেতে পারেন না তাই ওরা আপাতত ক্লাবটা করছে না। এই দুই-আড়াই মাস দীপা তেজেন্দ্রকে এড়াতেই বাড়ির বাইরে খুব একটা আসেনি। বিশুদের সঙ্গে দেখাসাক্ষাৎ কদাচিৎ হয়েছে। এখন সে বলল, ‘আমি স্কুলে যাচ্ছি। আমার মন বলছে আজ রেজাল্ট আসবে।’ অতএব সাইকেলগুলো ঘুরল।

    ঠিক চারটের সময় বাস থেকে নেমে দৌড়োতে দৌড়োতে এলেন সত্যসাধন মাস্টার। তাঁর হাতে কাগজপত্র। সবাই ভিড় করে দাঁড়াতেই তিনি গম্ভীর হয়ে গেলেন, ‘না না, এইভাবে না। আগে হেডমাস্টার মশাইয়ের সঙ্গে কথা কই তারপর অ্যানাউন্স করব।’ তিনি প্রায় জোর করেই ভেতরে চলে গেলেন। একটা দমবন্ধ করা পরিবেশ। কেউ কথা বলছে না। দীপা মুখ ফিরিয়ে দেখল অমরনাথ সাইকেল চেপে স্কুলের সামনে এসে দাঁড়িয়েছেন। এই অসময়ে তাঁকে এখানে দেখে সে ছুটে গেল। অমরনাথ তার কাঁধে হাত রাখতেই সত্যসাধন মাস্টার বারান্দায় বেরিয়ে এলেন। তারপর চিৎকার করে নাম আর ডিভিশন বলে যেতে লাগলেন। দীপা নিজের নাম শুনতে পেল না। সবার নাম ডাকা শেষ হয়ে গেলে সত্যসাধন মাস্টার চিৎকার করে উঠলেন, ‘শোনো সবাই, আমাগো দীপা চারটা লেটার নিয়া ফার্স্ট ডিভিশনে পাশ করছে। সে কুথায়?’

    আর তখন সবাইকে ছাপিয়ে অমরনাথ সশব্দে মেয়েকে জড়িয়ে ধরে কেঁদে উঠলেন, ‘মাগো! মা আমার।’

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43 44 45 46 47 48 49 50 51
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleসাতকাহন ২ – সমরেশ মজুমদার
    Next Article কইতে কথা বাধে – সমরেশ মজুমদার (অসম্পূর্ণ)

    Related Articles

    সমরেশ মজুমদার

    চব্বিশ ঘণ্টার ঈশ্বর – সমরেশ মজুমদার

    December 4, 2025
    সমরেশ মজুমদার

    ছোটগল্প – সমরেশ মজুমদার

    December 4, 2025
    সমরেশ মজুমদার

    আট কুঠুরি নয় দরজা – সমরেশ মজুমদার

    December 4, 2025
    সমরেশ মজুমদার

    উত্তরাধিকার – সমরেশ মজুমদার

    December 4, 2025
    সমরেশ মজুমদার

    গর্ভধারিণী – সমরেশ মজুমদার

    December 4, 2025
    সমরেশ মজুমদার

    কইতে কথা বাধে – সমরেশ মজুমদার (অসম্পূর্ণ)

    December 4, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Our Picks

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }