Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    সাতকাহন ১ – সমরেশ মজুমদার

    সমরেশ মজুমদার এক পাতা গল্প936 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ২. মেয়েরা কি ভূত হয়

    সকাল ন’টায় জলখাবার খেয়ে ধুতি আর পুরো-হাতা শার্ট পরে নিলেন অমরনাথ। এইসময় তাঁর খুব আরাম লাগে। একজোড়া বিদ্যেসাগরী চটি আছে। তিন বছর অন্তর কলকাতায় বেড়াতে গিয়ে কলেজ স্ট্রিট থেকে কিনে আনেন। সপ্তাহে ছ’দিন তো কেডস আর হাফপ্যান্ট পরে কাটাতে হয় চায়ের বাগানে। সন্ধের পরে তাসের আড্ডায় যাওয়ার সময় ফুলপ্যান্ট পরেন। রবিবার একটু বাঙালি সেজে বের হলে মনটাও অন্যরকম লাগে।

    চিরকালই ব্যাকব্রাশ করেন অমরনাথ। আয়নাটা বেলজিয়ামে তৈরি। কুড়ি বছর আগে রবার্ট সাহেবের বউ তাঁকে উপহার দিয়েছিলেন দেশে ফিরে যাওয়ার সময়। নিজেকে দেখলেন অমরনাথ। চুয়াল্লিশ বছর বয়সেই শরীর ভারী হয়েছে, জুলপি পেকেছে, দ্বিতীয় চিবুক স্পষ্ট। ইন্টারমিডিয়েট পাশ করে মামার এক বন্ধুর কাঠের ব্যবসায় চাকরি নিয়ে গেদে থেকে তিনি এসেছিলেন উত্তর বাংলায়। মাতুলালয়ে যারা মানুষ হয় তাদের স্বাবলম্বী হতে হয় তাড়াতাড়ি। সেই কাঠের ব্যবসায় এসে রবার্টসাহেবের সঙ্গে আলাপ। তিনিই নিয়ে এলেন চা-বাগানের চাকরিতে। চব্বিশ বছর হয়ে গেল সময়টা।

    তিনখানা পেল্লাই সাইজের ঘর, উঠোনের গায়ে আর একটি ঘর, ওপাশে রান্নাঘর, দু’পাশে আমকাঁঠালের গাছ শাকসবজি নিয়ে অমরনাথের এই কোয়ার্টার্স। উঠোনে নেমে অমরনাথ মনোরমার দর্শন পেলেন। উঠোনে মোড়া পেতে বসে আছেন চুপচাপ। রান্নাঘরে বাচ্চাদের কলরব। সম্ভবত জলখাবার খাওয়া হচ্ছে। অমরনাথ মায়ের সামনে এসে জিজ্ঞাসা করলেন, ‘বলো কী আনতে হবে?’

    মনোরমা বললেন, ‘কী আর আনবি? সেই তো থোড়বড়ি। তা ছাড়া আজ যেরকম হয়ে আছে আকাশ তাতে ভাল করে বাজার বসবে বলে তো মনে হয় না।’

    একদম সাদা থান পরেন মনোরমা। একবার অঞ্জলির বাপের বাড়ি থেকে নরুন পাড় ধুতি দিয়েছিল, উনি পরেননি। অমরনাথ জিজ্ঞাসা করলেন, ‘কাঁকরোল আনব? গত হাটে খুব ছোট দেখেছিলাম, আজ মনে হয় বড় পাওয়া যাবে।’

    ‘কাঁকরোল তো বাড়িতেই হয়েছে। তবে ওই বিচিওয়ালা বেগুন আনিস না। নতুন আলু উঠেছে কিনা দেখিস। একবেলা তো রান্না করি, বেশি বাজারের কী দরকার।! আর হ্যাঁ, সেরখানেক কালানোনিয়া চাল আনিস তো আজ।’ মনোরমা বললেন।

    মাথা নেড়ে রান্নাঘরের সামনে গেলেন অমরনাথ, ‘হাটে যাচ্ছি, কী কী আনতে হবে?’

    রান্নাঘর থেকে অঞ্জলির গলা ভেসে এল, ‘বুধুয়াকে বলে দিয়েছি।’

    ‘সে কোথায়?’ অমরনাথ গলা তুললেন, ‘বুধুয়া! এই বুধুয়া?’

    গোয়ালঘরের দিক থেকে কালো মদেশিয়া ছেলেটা দৌড়ে এল। অমরনাথ বললেন, ‘নে। ব্যাগট্যাগ নিয়ে চল।’ পকেট থেকে নস্যি বের করতে গিয়ে সামলে নিলেন তিনি। কোনওদিন মায়ের সামনে নস্যি নেননি। পা বাড়াতে গিয়ে ডাক শুনলেন, ‘অমর’, অমরনাথ পেছন ফিরলেন। মনোরমা বললেন, ‘একটু কিসমিস আনিস আজ।’

    ‘কিসমিস?’

    ‘পায়েস হবে। মেয়ের জন্মদিনের কথা বাপের মনে থাকে না। ছেলে হলে মনে রাখতিস।’ মনোরমা মুখ ঘুরিয়ে নিলেন। হেসে ফেললেন অমরনাথ। কাল রাতে অঞ্জলি বলেছিল কিসমিসের কথা। মনোরমা মনে না করিয়ে দিলে নির্ঘাত একটা অনর্থ ঘটত আজ।

    বাড়ির সামনের মাঠে পা রাখলেন অমরনাথ। আজ রোদ উঠবে না। গাছপালাগুলো পর্যন্ত ভিজেভিজে দেখাচ্ছে। ছাতি নেওয়ার দরকার হবে না। বর্ষাকাল নয় তো, মেঘ যতই ঘোরাফেরা করুক চট করে বৃষ্টি নামবে না। আর নামলেও সেটা সন্ধের পর। গত রাতে বাড়িতে ফেরার সময় ছাতা থাকতেও ভিজে গিয়েছিলেন খুব। গরমজলে পা ডুবিয়ে তবে সর্দিটা বাঁচানো গেল। মাঠের ওপারে। আসাম রোড ধরে এই মেঘলা দিনেও লোক যাচ্ছে হাটে। মাঝে একটা হাটবাস বেরিয়ে গেল বোঝাই লোক নিয়ে। আকাশ ভেঙে না পড়লে সপ্তাহের একটিমাত্র হাটবারে বেচাকেনা জমে উঠবেই। শীত পড়ার মুখে, লক্ষ্মীপুজো চলে গিয়েছে। বড়বাবুর বাড়ির সামনে গেটের ভেতরে চালা বেঁধে অনন্ত কালীঠাকুরের কাঠামোয় খড় বেঁধেছে। আগে লোকটা ওই একটি ঠাকুর গড়ত। এখন পাঁচ পাঁচটা বাগানের কালীর অর্ডার নিয়ে কর্মচারী দিয়ে করায়। তবে অন্য যেখানে যা-ই করুক, এই বাগানের ঠাকুরের রং আর চোখ অনন্ত করবেই নিজের হাতে। অমরনাথ দেখলেন বড়বাবুর কোয়ার্টার্সের তারের বেড়া ধরে শনিচর ধোপা খড়ের কাঠামোর দিকে অপলক তাকিয়ে আছে। চা-বাগানের একমাত্র ধোপা। এই বাগানে চাকরি নেবার সময় থেকেই ওকে দেখছেন। বাগান থেকেই ওকে থাকার জায়গা দেওয়া হয়েছে। ও অশক্ত হলে ওর ছেলে কাজ করবে এটাই নিয়ম। কিন্তু সেই ছেলে মাত্র কুড়ি বছর বয়সে হঠাৎ সংসার ত্যাগ করেছে। ছেলেটাকে দেখেছেন তিনি। রবিবারের বিকেলে ইস্ত্রি করা কাপড় নিয়ে বাড়িতে আসত। সাদামাটা গোবেচারি বিহারি যুবকটির মাথায় এমন মতলব ছিল তা তিনি ঘুণাক্ষরেও বুঝতে পারেননি। শনিচর এখন ভয় পাচ্ছে অশক্ত হয়ে পড়লে তাকে এই বাগান থেকে বিতাড়িত হতে হবে। চিন্তাটা মাঝে মাঝে তাঁর নিজেরও হয়। দেশের বাড়িতে এখন কেউ নেই। কাকাদের সঙ্গে তো কোনওদিন সম্পর্ক নেই। মামার বাড়িতে যে মানুষ তার সঙ্গে থাকবেই বা কেন? বিষয়সম্পত্তি যা ছিল বাবার নামে, তা একসময় কাকারা নিজেদের নামে আইনসম্মত করে নিয়েছে। দাদু মারা যাওয়ার পর মামারা খারাপ ব্যবহার করেনি। তবে তারা যে বাইরের লোক এটা ক্রমশ ব্যবহারে ফুটে উঠছিল। এখন এই চা-বাগানের চাকরিটা ছাড়া তাঁর কোনও সম্বল নেই। তবে সময় আছে হাতে। গঞ্জের ওপাশে সস্তায় একটা জমি কিনে রেখেছেন। ষোলো বছর চাকরি আছে। একটু একটু করে গুছিয়ে নিতে হবে এখন থেকেই।

    চাঁপা ফুলের গাছটার কাছে পৌঁছে উলটোদিক থেকে শ্যামলকে আসতে দেখলেন তিনি। পাতিবাবু হরিদাস চ্যাটার্জির বড় ছেলে। ম্যাট্রিক পাশ করে বসে রয়েছে। ভাল ফুটবল খেলে। পাতিবাবু বড়বাবুকে ধরেছেন যাতে তিনি সাহেবকে বলে শ্যামলের চাকরির ব্যবস্থা করেন। ভদ্রলোক বোকামি করছেন। অমরনাথ জানেন বড়বাবু তাঁর শালার জন্যে চেষ্টা করে যাচ্ছেন।

    সাইকেল থামিয়ে শ্যামল দাঁড়িয়ে গেল, ‘অমরকাকা, বাবা বলছিলেন আপনি যদি একবার আমাদের বাড়িতে আসেন তা হলে খুব ভাল হয়। বাবা নিজেই যেতেন, কিন্তু তালুইমশাই আছেন বলে যেতে পারছেন না।’

    ‘কী ব্যাপার তুমি জানো?’

    ‘ও আপনি বাবার কাছেই শুনবেন। আমি আপনার বাড়িতেই যাচ্ছিলাম।’

    ‘চলো।’ অমরনাথ আর কথা বাড়ালেন না। সাইকেল নিয়ে শ্যামল পাশাপাশি হাঁটছিল। কোয়ার্টার্সগুলো বাঁদিকে, ডানদিকে আসাম রোড। ধুতিতে চোরকাঁটা লেগে যাচ্ছে। শ্যামল বলল, ‘কাল। লঙ্কাপাড়া বাগানের সঙ্গে ফুটবল খেলা দেখতে গিয়েছিলেন বড়সাহেব।’

    ‘হ্যাঁ, তোমার দেওয়া গোলে আমাদের বাগান সেমিফাইনালে উঠেছে বলে শুনলাম।’

    ‘সাহেব কিছু বলেছেন?’

    ‘কী ব্যাপারে?’

    ‘এই আমার গোল দেওয়ার ব্যাপারে?’

    ‘জানি না। আমার সঙ্গে তো কথা খুব কম হয়।’ অমরনাথ মনে মনে হাসলেন। একটা গোল দিয়েই ছোকরা ভাবছে চাকরি পেয়ে যাবে। বড়সাহেব গভীর জলের মাছ। তিনি জিজ্ঞাসা করলেন, ‘বাজার যাবে না?’

    ‘আমাদের বাজার খাওয়াদাওয়ার পর হয়।’

    ‘কেন?’ অমরনাথ অবাক হন।

    ‘তখন দাম কমে যায়।’

    অমরনাথ চুপ করে গেলেন। মালবাবুর পাশেই পাতিবাবুর কোয়ার্টার্স। বাগানের সরু গলিতে গলিতে টহল মেরে পাতি তোলান হরিদাসদা। এই চা-বাগানের সবচেয়ে প্রবীণ কর্মী। সামনের মাসে অবসর নেবার কথা ছিল, সাহেবকে অনেক ধরেটরে এক বছরের এক্সটেনশন পেয়েছেন। অমরনাথ দেখলেন, বাইরের বারান্দায় চেয়ার পেতে হরিদাসদা বসে গল্প করছেন তাঁর বেয়াইয়ের সঙ্গে। জলপাইগুড়িতে গিয়ে বাড়ি ভাড়া করে মেয়ের বিয়ে দিয়েছেন। এখানকার নিমন্ত্রিতরা লরিতে চেপে জলপাইগুড়িতে গিয়ে সেই বিয়ের নেমন্তন্ন খেয়ে এসেছে। অমরনাথের শরীর ভাল না থাকায় যাননি। খরচ কমানোর জন্যে এখানকার অনেকেই একটা বাহানা দেখিয়ে জলপাইগুড়িতে গিয়ে ছেলেমেয়ের বিয়ে দেয়। হরিদাসদার যা অবস্থা তাতে ওটা না করে উপায় ছিল না। এখানে বিয়ে দিতে আটগুণ মানুষকে খাওয়াতে হত। তবে হ্যাঁ, এই চা-বাগানের প্রথম দিকের সন্ধেগুলো তাঁর কাটত এই হরিদাসদার কোয়ার্টার্সেই। পুরনো দিনের কলের গান আছে হরিদাসদার। কানাকেষ্ট, সায়গল, কাননবালার রেকর্ড বাজাত সন্ধের পরে। হরিদাসদা একসময় কলকাতায় ছিলেন। আলাউদ্দিন খাঁয়ের বাজনা শুনেছেন। শাস্ত্রীয় সংগীত সম্পর্কে ভাল ধারণা ছিল। ওঁর সঞ্চয়ের রেকর্ড আজকাল কেউ শোনে না।

    হরিদাস চ্যাটার্জিকে বয়সের চেয়ে বেশি বয়স্ক দেখায়। রোগা খয়া লম্বা চেহারা। গরমকালেও গেঞ্জির ওপর সুতির চাদর জড়িয়ে রাখেন। কালীঠাকুরের মূর্তিতে অনন্ত হাত দিতেই গায়ে আলোয়ান আসে। অমরনাথকে দেখে হরিদাসবাবু উঠে দাঁড়ান চেয়ার ছেড়ে, ‘এসো অমরনাথ। চা খাবে তো? শ্যামল, যাও তো মাকে বলো চা দিতে।’

    ‘না দাদা। এইমাত্র জলখাবার খেয়ে বেরিয়েছি। কী ব্যাপার বলুন!’

    ‘আরে বসো বসো। বাজারে যাচ্ছ কিন্তু বাজার তো বসেইনি। এই বারান্দায় বসে ক’টা হাটবাস এল দেখে বুঝতে পারি বাজারের কী অবস্থা। এই বাদলায় বাজার বসতে সময় লাগবে। বসো।’

    শ্যামল জিজ্ঞাসা করল, ‘তা হলে সত্যি আপনি চা খাবেন না অমরকাকা?’

    অমরনাথ মাথা নেড়ে না বলে তৃতীয় চেয়ারটিতে বসলেন।

    হরিদাসবাবু বললেন, ‘সেবার আমার বেয়াইয়ের সঙ্গে তো তোমার আলাপ হয়েছিল।’

    অমরনাথ নমস্কার করলেন, ‘হ্যাঁ হ্যাঁ। ভাল আছেন তো?’

    ‘আছি। বয়স হলে যেমন সবাই থাকে।’ ভদ্রলোক জবাব দিলেন।

    হরিদাসবাবু বললেন, ‘বেয়াইমশাই ব্যস্ত মানুষ, দু‘-দুটো দোকানের ঝামেলা, মিউনিসিপ্যালিটির কাজ, কংগ্রেসি করেন তা তো জানোই, তবু গত রাতে এদিকে এসেছিলেন বলে আমার কাছে একটু থেকে গেলেন। এমনিতে জলপাইগুড়ির বাড়িতেই ওঁকে ধরা যায় না।’

    ‘ওসব ছেড়ে দিন।’ ভদ্রলোক হাসলেন, ‘জলপাইগুড়ি শহরে পুরনো কংগ্রেসি বলতে তো আমরা ক’জন। লোকে জিজ্ঞাসা করে আমি কেন এম এল এ হলাম না। বিধানবাবু অতুল্যবাবুরা তো আমাকে পছন্দ করেন। আমি বলি, ওসব করার জন্যে তো খগেন দাশগুপ্ত মশাই আছেন। ওঁকে জেতাতে পারলেই আমাদের জিত।’ হরিদাসবাবুর বেয়াই চুরুট ধরালেন।

    হরিদাসবাবু বললেন, ‘বেয়াইমশাই বোধহয় একটু বেশি চুরুট খান।’

    ‘তা খাই। আমি তো বলে রেখেছি চিতায় যখন তুলবে তখনও মুখে একটা চুরুট গুঁজে দিয়ো।’

    যেন বিরাট রসিকতা করেছেন এমনভাবে হেসে উঠলেন ভদ্রলোক।

    অমরনাথ জিজ্ঞাসা করলেন, ‘কী ব্যাপার হরিদাসদা, কিছু বললেন না তো!’

    হরিদাসবাবু বললেন, ‘বেয়াইমশাইয়ের সঙ্গে কথা হচ্ছিল। ওঁর ভাইয়ের একটি সুপুত্র আছে। এবার ম্যাট্রিক দেবে। ভ্রাতৃবধূর ইচ্ছে, ছেলেটির বিয়ে দিয়ে ঘরে বালিকাবধূ আনবেন। ওকে আমি একবার দেখেছি। প্রকৃত সুদর্শন। বয়স কত হবে বেয়াইমশাই?’

    ভদ্রলোক বললেন, কত হবে। সেদিন তো জন্মাল। ধরুন, সতেরো।’

    হরিদাসবাবু আবার শুরু করলেন, ‘যা বলছিলাম, ওঁদের কোনও দাবিদাওয়া নেই। শুধু মেয়েটিকে সুন্দরী হতে হবে, দশ-বারো বছর হলেই চলবে। শুনেই আমার মনে পড়ল তোমার দীপার কথা। এই বাগানে ওর চেয়ে সুন্দরী মেয়ে তো আর কেউ নেই।’

    অমরনাথ চমকে উঠলেন, ‘সেকী! দীপা তো আজ দশে পড়ল। এই বয়েসে বিয়ে দেবার কথা ভাবছিই না।’

    হরিদাসবাবুর বেয়াই বললেন, ‘গরমদেশের মেয়েরা বারোতেই যুবতী হয়ে যায়। আমার মায়ের বিয়ে হয়েছিল সাতে, আমি হয়েছিলাম তেরোতে। ওহো, আমার ভাইটিকে আবার কংগ্রেসি বলে ভাববেন না। সে কনট্রাক্টরি করে প্রচুর পয়সা জমিয়েছে। পুত্র বলতে ওই একটি। আপনাকে শাঁখা সিঁদুর ছাড়া কিছুই দিতে হবে না।’

    অমরনাথের বুকের পাঁজর যেন টনটন করে উঠল। ওইটুকুনি মেয়ের বিয়ে দেওয়ার কথা তিনি স্বপ্নেও ভাবেননি। তা ছাড়া কথাটা মুখ ফুটে বাড়িতে বলবেনই বা কী করে? অঞ্জলি শুনলে প্রচণ্ড রেগে যাবে। অমরনাথ দেখলেন, দু’-দুটো মুখ তাঁর দিকে জবাবের আশায় তাকিয়ে আছে। অমরনাথ বললেন, ‘শুনলাম। কিন্তু হরিদাসদা, ইনি তো আমার মেয়েকে দ্যাখেননি। দেখলে যে পছন্দ হবেই তারও তো কোনও মানে নেই।’

    বেয়াইমশাই বললেন, ‘দেখেছি। একটু আগে ওই মাঠ দিয়ে একটি ছেলের সঙ্গে বাজারের দিকে গেল! দূর থেকে যা দেখলাম তাতেই চোখ জুড়িয়ে গিয়েছে।’

    অমরনাথ হতভম্ব। দীপা আবার কোন ছেলের সঙ্গে বাজারের দিকে গেল। তিনি ভেবেছিলেন। রান্নাঘরে বসে জলখাবার খাচ্ছে। একটি ছেলে মানে কোন ছেলে? অঞ্জলি যে রাগারাগি করে তা খুব ভুল করে না।

    হরিদাসবাবু বললেন, ‘বেয়াইমশাই সামনে রয়েছেন, তবু বলি৷ সুযোগ যখন পাচ্ছ তখন আর হাতছাড়া কোরো না। মেয়ে বড় হলে সুপাত্র পাওয়া মুশকিল। তা ছাড়া আমরা যা চাকরি করি, তাতে ভাল পাত্র পেতে গেলে যে বরপণ দিতে হয় তা জোগাড় করতে পারব না। অতি বড় সুন্দরীও সেই কারণে বর পায় না হে৷’

    অমরনাথ বললেন, ‘আপনি নিশ্চয়ই সুপরামর্শই দিচ্ছেন। দেখি, ভেবে দেখি। বাড়িতে একটু আলোচনা করি।’ তারপর হরিদাসবাবুর বেয়াইয়ের দিকে তাকিয়ে জিজ্ঞাসা করলেন, ‘আপনি এখানে। কিছুদিন আছেন নাকি?’

    ভদ্রলোক দ্রুত মাথা নাড়লেন, ‘না না। আজই চলে যাব। তা আপনি ভেবে দেখুন। আজই যে জবাব দিতে হবে তা তো নয়।’

    ‘একটা কথা। উনি এত অবস্থাপন্ন আর আমি চা-বাগানের সামান্য কেরানি। বিয়ে-থা সমান ঘরে হওয়া উচিত। আমার মতো লোকের মেয়েকে কেন বউ করে নেবেন ওঁরা?’

    ‘না মশাই, আপনাকে নিয়ে পারা গেল না। আমাদের সমান ঘর হলে এরকম প্রস্তাব নিয়ে যেতে পারতাম! বড়লোক বাপ কি দশ বছরের মেয়ের বিয়ে দেবে? আমার ভাই চাইছে আপনাদের মতো পরিবার থেকে মেয়ে আনতে। রুচি আছে, শিক্ষা আছে, শুধু পয়সাটাই যা নেই।’ ভদ্রলোক চুরুটে টান দিতে থাকলেন।

    অমরনাথ উঠে দাঁড়ালেন, ‘অর্থবান মানুষের পরিবারে দরিদ্র সংসারের মেয়েরা মানিয়ে নিতে পারে না তো সবসময়। তাই বলছিলাম আর কী!’

    ভদ্রলোক বললেন, ‘অর্থের সঙ্গে শিক্ষার যোগাযোগ যাদের নেই সেই পরিবারগুলোতে হয়তো তেমন হয়। এই যে এখানে হরিদাসবাবু রয়েছেন, ওঁর অবস্থা ভাল নয়, মেয়েটিও আহামরি সুন্দরী নয় জেনেও আমি আমার ঘরে নিয়েছি। কেন নিয়েছি জানেন? বড়লোকের মেয়ের কাছে আমরা শান্তি পাব না, তাই। তাই বলে কি সে খুব কষ্টে আছে? কী হরিদাসবাবু, বলুন না?’

    ‘না না। এঁরা সেই প্রকৃতির মানুষই নয় অমরনাথ।’ হরিদাসবাবু জানিয়ে দিলেন।

    ‘ঠিক আছে, ভেবে দেখি।’ বলে অমরনাথ মাঠে নামলেন। বুধুয়া দূরে দাঁড়িয়ে ছিল চুপচাপ। তাঁকে চলতে দেখে সে এগিয়ে গেল। দীপার বিয়ে এই বয়সে তিনি কি সত্যি দিতে পারবেন? বুকের মধ্যে চাপটা রয়েই গেল। মেয়ের মুখ মনে হতেই তিনি মাথা নাড়লেন, না। পাত্র যতই লোভনীয় হোক সম্ভব নয়।

    গাছের গুঁড়ি কেটে সিঁড়ি বানানো হয়েছে মাঠ থেকে তারের গেট পেরিয়ে আসাম রোডে নামতে। অমরনাথ ধুতি সামলে সেখানে পৌঁছে দেখলেন বুধুয়া একটা ডিমওয়ালাকে ধরেছে। কুলি লাইন থেকে সারা সপ্তাহের জমানো ডিম নিয়ে যাচ্ছে হাটে বেচতে। এখানে কিনলে কয়েক আনা সস্তা হয়। দাম দিয়ে তিনি ডিমওয়ালাকেই বললেন কোয়ার্টার্সে পৌঁছে দিতে।

    পিচের রাস্তার দু’পাশে পাইকাররা বসে গেছে পাট বিক্রি করতে আসা রাজবংশী কৃষকদের ধরতে। দরাদরি করে কেনা পাট চলে যাচ্ছে সদরে। ডুডুয়া নদী থেকে মাছ ধরে মদেশিয়ারা আসছে হাটে ঝুড়ি ঝুলিয়ে। বেশির ভাগই ছোট মাছ। তাদের একজনকে দাঁড় করালেন অমরনাথ, ‘কী আছে, দ্যাখাও।’ লোকটা দ্যাখাল, বান আর পাথরঠোকরা। কবে বান মাছ খেয়েছেন মনে করতে পারলেন না অমরনাথ। ভাল করে রাঁধলে শুনেছেন মাংসের চেয়েও উপাদেয় হয়। চার টাকা সের শুনে জ্যান্ত কিনা দেখতে চাইলেন। পেছন থেকে বুধুয়া জানাল, ওই মাছ নিয়ে গেলে মাইজি খুব রেগে যাবে। অন্যদিন সাড়ে তিন টাকায় বিক্রি হয় তবু মাইজি নেয় না। বলে, দেখলেই সাপের কথা মনে হয়। অন্যদিন মাছ কেনে অঞ্জলি। দুপুরের খাওয়ার পাট চুকলে ওরা বারান্দায় এসে বসে। দূরে আসাম রোড দিয়ে মাছমারারা গেলে ডাকিয়ে এনে মাছ কেনে।

    অমরনাথ মত পরিবর্তন করলেন। হাটে এসে চালানি মাছ কেনাই ভাল। অমরনাথ এগোলেন। আগে হাট বসত এই হাটতলাতেই। এখন চৌমাথা ছাড়িয়ে গিয়েছে। আসাম রোড দিয়ে গাড়ি যায় শামুকের মতো। পাঁচ-ছ’টা বাগান থেকে মানুষ ঝেঁটিয়ে আসছে বাজার করতে। ভিড়ে ভিড়ে একাকার। সপ্তাহের বাকি ছ’দিন তো মাছিও বসে না। দোকান বলতে হাজারির মুদিখানা, মুখার্জিদের মনিহারি দোকান, একটা হাজামখানা, কয়েকটা সিগারেট বিড়ির দোকান, সাইকেল সারাইয়ের দোকান আর যাদবদের ভাটিখানা। এদের ওপর ভরসা করে থাকতে হয় তাঁদের। হঠাৎ কানে তীব্র আর্তনাদ ভেসে এল। একটানা ককিয়ে যাচ্ছে শুয়োরটা। ডানদিকের মাঠের বুকে শুয়োর কাটা হচ্ছে। মদেশিয়াদের প্রিয় মাংস, সস্তাও। কিন্তু চিৎকারটা সহ্য করা যায় না। এই নিয়ে এককালে অনেক ঝামেলা হয়েছে কিন্তু বিক্রি বন্ধ করা যায়নি।

    প্রথমে মাছ কিনলেন অমরনাথ। বরফ-চাপা বড় রুইমাছ। যেটাকে একটু সতেজ মনে হল তার ওজন তিন সের। কয়েকদিন চলবে। একবেলা মাছ খাওয়া হয়। বুধুয়াকে দিয়ে পাঠিয়ে দিলেন বাড়িতে। অঞ্জলির সুবিধে হয়, তাড়াতাড়ি রান্না বসাতে পারবে। বুধুয়া জানে ফিরে এসে কোথায় তাঁকে খুঁজতে হবে। হয় হাজারির মুদিখানা, নয় পেট্রল পাম্পে তাঁকে পাওয়া যাবে। হাজারির দোকানের সামনে ভিড় বাঁচিয়ে দাঁড়িয়ে একটা সিগারেট ধরালেন তিনি। নস্যি নেন কিন্তু মাঝেমধ্যে সিগারেটও চলে। সিগারেটের ধোঁয়া ছাড়তে ছাড়তে ভিড় দেখতে দেখতে তাঁর মনে হল, তা হলে দীপারও সম্বন্ধ এল। এইসময় একটা স্টেশনওয়াগন এসে থামল সামনে। তেলিপাড়া চা-বাগানের মালবাবু সুনীল সেন ওয়াগন থেকে নেমে তাঁকে দেখেই চিৎকার করে উঠলেন, ‘যাক, একেই বলে বরাত, আপনাকে পেয়ে গেলাম, নইলে বাড়ি পর্যন্ত ছুটতে হত।’

    ‘কী ব্যাপার? অমরনাথের ভাল লাগল দীপার বিয়ে-ভাবনা থেকে মুক্তি পেতে।

    ‘পরশুদিন আপনাদের যে-খেলাটা ছিল বানারহাট বাগানের সঙ্গে সেটা ওরা আজ খেলতে চাইছে। একজন পার্টনারকে মঙ্গলবার পাওয়া যাবে না। নিজেদের মধ্যে ব্যাপার, প্লিজ না বলবেন না।’ সুনীল সেন হাত ধরলেন।

    ‘কিন্তু আমার পার্টনারকে তো বলতে হবে।’ ছুটির দিন বেরুতে ইচ্ছে করছিল না অমরনাথের। তেলিপাড়া ক্লাব অকশন ব্রিজ কম্পিটিশন করছে। এই বাগান থেকে দুটো টিম গিয়েছে। তাঁর পার্টনার মেজ গুদামবাবু। ছোকরার একটা দোষ, ভুল হলেই বলে আমি ভেবেছিলাম আপনার হাতে অমুক তাসটা আছে। যতবার বলেন তোমার এই ভাবাভাবি ব্যাপারটা ছাড়ো, তবু শুধরোয় না। সুনীল সেন বললেন, ‘ম্যানেজ করে নিন নইলে কম্পিটিশন শেষ করতে পারব না।’

    আসাম রোডটা নদীর ওপর ছোট্ট সাঁকো ডিঙিয়ে চৌমাথার দিকে চলে গিয়েছে। এখানে বাঁদিকে কাটা কাপড়ের দোকান বসে। উলটোদিকে বেতের ঝুড়ি থেকে আরম্ভ করে তামাকপাতা, সাবান, রঙিন ফিতে থেকে মাছ ধরার সরঞ্জাম নিয়ে পসারিরা বসে। ডাক্তারবাবুর ছেলে বিশু উবু হয়ে বসে কাপড়ের ওপর ছড়ানো নানা রকমের বঁড়শি দেখছিল। ঠিক তার পাশে দাঁড়িয়ে অসহিষ্ণু গলায় দীপা বলল, ‘এত দেখার কী আছে? পুঁটি পাথরঠোকরার জন্যেও ছ’টা নিয়ে নে? বিশু বলল, ‘তুই কেন মেয়ে হলি রে? মেয়েদের এত অধৈর্য হতে নেই!’

    দীপা ঝাঁঝিয়ে উঠল, ‘মা যদি ডেকে না পায় তা হলে দুপুরে মাছ ধরতে যাওয়া বন্ধ হয়ে যাবে।’

    বিশু দোকানদারকে বলল, ‘বান মাছ ধরার সুতো আর বঁড়শি দাও।’

    দীপা বিরক্ত হল, ‘বান মাছ মা রাঁধবে না।’

    ‘আমার মা রাঁধবে। তোরা ঘটি তাই ভাল জিনিস খাস না।’ বিশু বলল।

    বিশুর ওপর খুব রাগ হয়ে গেল দীপার। তখন থেকে বঁড়শি দেখছে তো দেখছেই। আবার ঘটি বলে ঠোকা হল। ঠাকুমা বলে বাঙালদের কোনও বাছবিচার নেই। ঠিক বলে কিনা বোঝা যাচ্ছে না বিশুর বঁড়শি কেনার ধরন দেখে। সে আগ বাড়িয়ে বলল, ‘ওই আটটা বঁড়শির কত দাম হবে?’ দোকানদার দেখে বলল, ‘এক টাকা দিদি!’

    ‘এমা! এ কী বলে রে? এখান থেকে নিস না বিশু।’ দীপা এমন গলায় চিৎকার করে উঠল যে আশেপাশের অনেকেই এদিকে তাকাল। বিশু শেষপর্যন্ত অনেক ঘ্যানর ঘ্যানর করে দামটা বারো আনায় নামিয়ে আনল। দু’জনের সঞ্চয়ে ছিল এক টাকা, তার বারো আনাই বেরিয়ে গেল। গত চার রবিবারে বাবার কাছ থেকে দু’জনে দু’আনা করে সংগ্রহ করেছে।

    কাগজে মুড়ে বঁড়শিগুলো পকেটে পুরে বিশু উঠে দাঁড়াল, ‘এই, শোনপাপড়ি খাবি?’

    দীপা মাথা নাড়ল, ‘শোনপাপড়িওয়ালা এবারের হাটে আসেনি। বৃষ্টি নামবে, তাড়াতাড়ি বাড়ি চল। আর খাওয়াদাওয়ার পর বৃষ্টি নামলে আমি কিন্তু মাছ ধরতে যাব না।’

    ‘বেশ। তা হলে কদমা খাওয়া। ওই ওখানে বসে আছে।’ বিশু আঙুল তুলে দ্যাখাল।

    ‘তুই কী পেটুক রে! কদমা খেলে পেটে কেঁচো হয় জানিস না?’

    বিশু বলল, ‘বাবা ঠিক বলে, মেয়েরা এক নম্বরের কিপটে হয়।’

    অতএব কদমাওয়ালার কাছে যেতেই হল। দু’জনের চার আনা পয়সা বেঁচে আছে। বিশুর জন্যে তার পুরোটাই খরচা হয়ে গেল। কদমাটাকে কামড় দিতে গিয়েই সে থমকে গেল। সেই ছেলেটা। মালবাবুর বাড়িতে এসেছে। সে চাপা গলায় বিশুকে বলল, ‘অ্যাই বিশু, সেই ছেলেটা!’

    বিশু বিরক্ত গলায় জানতে চাইল, ‘কোন ছেলেটা?’

    ‘যে আমাকে আজ সকালে সুচিত্রা সেন বলেছিল।’

    বিশু সঙ্গে সঙ্গে চারপাশ ঘুরে দেখতে চাইল ছেলেটাকে। যার কথা হচ্ছিল সে হাটে এসেছে ফুলবাবু সেজে। মাথায় টেরি বানিয়েছে। খানিকটা দূরে দাঁড়িয়ে এ-দিকেই তাকিয়ে রয়েছে। দীপার খুব রাগ হয়ে গেল। আজ সকালে ছেলেটার মুখে কথাটা শোনামাত্র সে উঠে দাঁড়িয়েছিল। ফ্রকের প্রান্ত উঁচু করে তুলে ফুল রেখেছিল। হাঁটু দেখা যাচ্ছে বুঝতে পেরে ফুলগুলো ফেলে দিয়ে ফ্রক নামিয়ে গম্ভীরভাবে বাড়ির দিকে পা বাড়িয়েছিল। সদর দরজা বন্ধ। তারের বেড়া পেরোনো বাইরে থেকে আসা ওই ছেলেটির সামনে অশোভন বলে পাশের গলির পথ ধরেছিল। ফুলগুলো আনা হল না বলে খুব কষ্ট হয়েছিল তার। এখন রাগ হল। সে হাত বাড়িয়ে ডাকল ছেলেটাকে। ছেলেটা বেশ খুশিমুখে এগিয়ে এল, ‘কী ব্যাপার?’

    ‘কী দেখছেন এদিকে?’ চেঁচিয়ে বলল দীপা।

    সঙ্গে সঙ্গে বিশু জুড়ে দিল, ‘আপনি ওকে সুচিত্রা সেন বলেছেন কেন?’

    ছেলেটি ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে গেল। দীপা বলল, ‘আবার যদি দেখি আপনি কাছে এসেছেন তা হলে রতনকাকুকে বলে দেব।’ কথাগুলো শেষ করে সে হাঁটা শুরু করল। বিশু তার সঙ্গ ধরে কয়েক পা হেঁটে বলল, ‘উরি ব্বাস, তুই কী রাগীলোকের মতো কথা বললি রে!’

    দীপা অহংকারী মুখে আকাশ দেখল। এই ভঙ্গিতে কথা বলতে পারবে, কোনওদিন কেন, আজ সকালেই ভাবতে পারেনি। এখন খুব ভাল লাগছে। খোকন বিশুও তো ছেলে কিন্তু ওই ছেলেটার মতো বদ চাহনি নেই। আচ্ছা বদ মনে হল কেন? একটা খটকা লাগল তার। কথাটা কাকে জিজ্ঞাসা করা যায়? সে বিশুকেই প্রশ্ন করল, ‘ছেলেটার তাকানো দেখেছিস?’

    বিশু মাথা নাড়ল, ‘হুঁ। উত্তমকুমারের মতো।’

    ‘উত্তমকুমার? তুই উত্তমকুমারকে দেখেছিস?’

    ‘পত্রিকায়। মা পড়ে। তাতে উত্তমকুমারের ছবি আছে।’

    ‘যাই বলিস, ছেলেটা বদ। আমার একটুও ভাল লাগেনি।’ দীপা এমন গলায় কথা বলল যে বিশু অবাক হয়ে তাকিয়ে রইল হাঁটার সময়। দীপা সেটা লক্ষ করে জিজ্ঞাসা করল, ‘অ্যাই, তুই আমার দিকে অমন করে কী দেখছিস?’

    ‘তুই কেমন বড়দের মতো কথা বললি।’

    ‘মানে?’

    ‘আমার সোনামাসিকে দেখেছিস তো, জলপাইগুড়িতে কলেজে পড়ে, একদিন আমার সামনে এক বন্ধুকে বলছিল ঠিক ওইভাবে।’

    দীপার শরীরটা কেমন করে উঠল কথাগুলো শুনে! সে কি বড় হয়ে যাচ্ছে! সে গম্ভীর গলায় বলল, ‘আমি তো বড় হচ্ছি।’

    বিশু বলল, ‘ছাই। শাড়ি না পরলে মেয়েরা বড় হয় না।’

    এইসময় সত্যসাধনবাবুর সঙ্গে দেখা হল তাদের। সত্যসাধনবাবু তাদের ক্লাসটিচার। ময়লা একটা চটের থলি নিয়ে বাজারে এসেছেন। দেখতে পেয়েই ডাকলেন, ‘ও দীপা, তোমাগো বাড়িতে জাম্বুড়ার গাছ আছে না?’

    দীপা মাথা নাড়ল, আছে।

    সত্যসাধনবাবু খুশি হলেন, ‘চলো, একবার তোমাদের অখানে যাব।’

    মাস্টারমশাইয়ের সঙ্গে হাঁটতে একদম ইচ্ছে করছিল না দীপার। বিশুটা তাল বুঝে পিছিয়ে পড়েছে। হাঁটতে হাঁটতে মাস্টারমশাই বললেন, ‘অঙ্ক করতেছ তো রোজ? অন্য সব সাবজেক্টে চিন্তা নাই, অঙ্কটাই তোমার গুলমাল। হাফ ইয়ার্লিতে কত পাইছিলা?’

    ‘চল্লিশ।’

    ‘ভেরি ব্যাড। মিনিমাম নাইনটি পাওয়া উচিত। তোমার বাবার লগে কথা বলা দরকার।’ আপনমনে কথা বলতে বলতে হাঁটছিলেন সত্যসাধনবাবু। দীপা ঘাড় ঘুরিয়ে দেখল বিশু আরও পিছিয়ে পড়েছে। অঙ্কে পঁয়ত্রিশ পেয়েছে।

    হাজারির দোকানের সামনে এসে দীপা মুশকিলে পড়ে গেল। বাড়িতে যেতে হলে অমরনাথকে দেখা দিতেই হবে। হাটে আসার জন্যে কৈফিয়ত চাইতে পারেন এখানেই। কিন্তু কিছু করার আগেই সত্যসাধনবাবু বলে উঠলেন, ‘নমস্কার অমরনাথবাবু, আছেন কেমন?’

    অমরনাথ বুধুয়ার জন্যে অপেক্ষা করছিলেন, বললেন, ‘এই একরকম।’ সঙ্গে সঙ্গে মেয়ের দিকে নজর গেল তাঁর। সত্যসাধন বললেন, ‘দীপাকে কইলাম আপনার বাড়ি যাব। এ-মেয়ে সব বিষয়ে ব্রিলিয়ান্ট, অনলি অঙ্কে একটু কম পায়। যদি ওই সাবজেক্টটা ইমপ্রুভ করন যায় তা হলে আর দেখতে হইব না। ম্যাট্রিকে ফাস্ট্র্র ডিভিশন পাইতে হলে এখন থিকাই তৈরি করন দরকার। কিছু একটা করেন।’

    অমরনাথ বললেন, ‘ভাল প্রাইভেট টিউটর পাচ্ছি না। মায়ের কাছেই পড়ে তো!’

    অন্যান্য বিষয়ে দীপা ভাল একথা সত্যসাধনবাবু বলায় খুব খুশি হলেন তিনি। সত্যসাধনবাবুকে চিন্তিত দেখাচ্ছে। সেটা লক্ষ করেই অমরনাথ বললেন, ‘আপনি তো অনেক টিউশনি করেন, সময় পাবেন কি?’

    ‘দ্যাখেন, ভাল স্টুডেন্ট পাইলে টাইম করা অসুবিধা না।’

    ‘তা হলে কবে কথা বলব?’

    ‘বিকালে বাড়ি থাকবেন?’

    ‘না। তেলিপাড়ায় যেতে হবে। আগামীকাল যদি আসেন তা হলে ভাল হয়।’

    ‘ঠিক আছে। সেই কথাই থাকল। চলো দীপা।’

    শান্ত মেয়ের মতো দাঁড়িয়ে ছিল দীপা। এবার জিজ্ঞাসা করল, ‘বাবা, তোমার মাছ কেনা হয়ে গিয়েছে? তপসে মাছ উঠেছে আজ?’

    অমরনাথ বললেন, ‘দেখিনি। যাও, বাড়িতে যাও।’

    রান্নাঘরের বারান্দায় বাজারের স্তূপ। অঞ্জলি তাই নিয়ে ব্যতিব্যস্ত। বুধুয়া মনোরমার বাজার আলাদা ব্যাগে এনে দিয়ে গেছে। অঞ্জলি শাশুড়িকে বলল, ‘দেখুন মা আপনার ছেলের কাণ্ড, কাল রাত্রে আমি বললাম, বেরুবার সময় আপনি মনে করিয়ে দিলেন, তবু এখনও কিসমিস কিনে পাঠায়নি। আর এই হাঁদাগলঙ্গারামকে প্রতিবার বলে দিই বিচিওয়ালা বেগুন আনবি না তবু কাঁড়ি কাঁড়ি আনবেই৷’

    বুধুয়া একটা বেগুন তুলে বলল, ‘বাহারসে দেখনে তো অচ্ছাই লাগতা হ্যায়। আউর, বাবু তো মেরা বাত শুনতাই নেহি। আজ বান মাছ কিননে মাংতা থা।’

    ‘ওটা আনলে তুমি তোমার বাবুকে রেঁধে খাওয়াতে।’ অঞ্জলি বলল, ‘এখানে বসে না থেকে বাজারে যাও। বাবুকে বলো কিসমিস আনতে।’

    বুধুয়া ছুটল। মনোরমা বললেন, ‘দুপুরে খাওয়ার পর মরা আঁচে পায়েস বসিয়ে দিয়ো বউমা।’

    অঞ্জলি বলল, ‘আপনি পায়েস রাঁধলে আপনার ছেলের বেশি পছন্দ হয়।’

    ‘না। ছেলেমেয়ের জন্মদিনে মাকেই পায়েস রাঁধতে হয়। সে কোথায়?’

    ‘কোনওরকমে কয়েকটা লুচি মুখে গুঁজে কোথায় গেল কে জানে! রবিবারে তো বই নিয়েও বসে না।’

    ‘এবার থেকে মেয়ের রাশ ধরো। রান্নাবান্না শেখাও।’

    অঞ্জলি কিছু বলল না। বড় কাঁঠালগাছে একটা ঘুঘু গলা ফাটিয়ে ডেকে যাচ্ছে। মনোরমা আচারের বয়ামগুলো রোদে দিয়েছিলেন। কাকের ভয়ে মুখ খোলেননি একটারও। অঞ্জলি রান্নাঘর থেকে বেরিয়ে এসে বলল, ‘ও কী করেছেন মা! আচার রোদ পাবে কী করে? আকাশ জুড়ে তো মেঘ!’

    ‘বলা যায় না, উঠতেও তো পারে।’ মনোরমা ভুলটা স্বীকার করলেন না। তারপর বললেন, ‘এবার দীপাকে একটু ঘরে আটকে রাখো। ছেলেদের সঙ্গে মেশে এটা ঠিক নয়।’

    অঞ্জলি তরকারির ঝুড়িটা রান্নাঘরে নিয়ে যাওয়ার মুখে বলল, ‘ক’টা দিন তো মা। সারাজীবন তো ঘরে বন্দি হয়েই কাটাবে।’

    মনোরমা অবাক হয়ে বললেন, ‘সেকী! তুমি তো কাল সন্ধেবেলায় এই নিয়ে রাগারাগি করছিলে। তোমাদের আমি বুঝতে পারি না বাবা।’ কথা শেষ করামাত্রই তিনি দীপাকে দেখতে পেলেন। পাশের দরজা দিয়ে ঢুকছে। মনোরমা বললেন, এই যে, এলেন তিনি রাজ্য জয় করে। চেহারা দ্যাখো, একদম শাঁকচুন্নি হয়ে এসেছে।’

    দীপা দ্রুত ঠোঁটে আঙুল চাপা দিল। শাশুড়ির গলা শুনতে পেয়েছিল অঞ্জলি। তাই রান্নাঘর থেকেই চেঁচিয়ে বলল, ‘অ্যাই, কোথায় গিয়েছিলি। দাঁড়া, আজ তোর মজা দেখাচ্ছি।’

    দীপা অঞ্জলির কথা কানে তুলল না। এক দৌড়ে মনোরমার কাছে পৌঁছে নিচু গলায় কিছু বলতে তিনি ঘোমটা টানলেন, ‘ওমা, তাই নাকি? অ বউমা, তাড়াতাড়ি এসো। মাস্টারমশাই এসে বাইরে দাঁড়িয়ে রয়েছেন।’

    অঞ্জলি হলুদ হাতে বেরিয়ে এল, ‘মাস্টারমশাই? কোন মাস্টারমশাই?

    ‘সত্যসাধনবাবু। আমি তো এতক্ষণ তাঁর কাছে ছিলাম।’ গম্ভীর গলায় বলল দীপা।

    ‘ও। তা বাইরে দাঁড় করিয়ে রেখেছিস কেন? বাইরের ঘরে বসা।’ অঞ্জলি ব্যস্ত হল।

    ‘উনি বসবেন না। ভেতরে আসবেন।’ বলে মেয়ে দৌড়ে বেরিয়ে গেল। এবং কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে সত্যসাধনবাবুকে নিয়ে ফিরে এল। সত্যসাধন মহিলাদের নমস্কার করলেন, ‘পরিবারের হুকুম তাই আইলাম আপনাগো বাড়িতে। জাম্বুড়া দরকার একখান।’

    অঞ্জলি বলল, ‘জাম্বুড়া? ওহো! কিন্তু আমাদের বাড়িতে তো বাতাবিলেবু নেই।’

    ‘সেকী? দীপা, তুমি কইলা না তোমাগো বাড়িতে জাম্বুড়া গাছ আছে?’

    ‘হ্যাঁ। ওই তো।’ দীপা হাত তুলে একটি যৌবনে পড়া বাতাবি লেবুর গাছ দেখিয়ে দিল। নিজের ভুলটা বুঝতে পারলেন সত্যসাধন, ‘তাই কও। আমারই ভুল হইছে। আপনাগো মাইয়ার রসিকতাবোধ প্রবল। আমি ফল কই নাই গাছ কইছিলাম। সে ঠিকই কইছে। রিয়েল ইনটেলিজেন্ট গার্ল।’ আদর করে দীপার মাথায় হাত বুলিয়ে দিলেন তিনি।

    অঞ্জলি লজ্জিত হলেন, ‘না না। আপনার মতো মানুষের সঙ্গে রসিকতা করা অন্যায়।’

    হাত তুলে নিষেধ করলেন সত্যসাধন, ‘আরে না না। আমি কিছু মনে করি নাই।’

    হঠাৎ দীপা বলল, ‘আপনি বসুন, আমি এখনই বাতাবিলেবু এনে দিচ্ছি। খোকনদের বাড়িতে এত্ত বাতাবিলেবু আছে।’ বলে ছুটে যেতে গিয়েও দাঁড়িয়ে পড়ল। অঞ্জলি জিজ্ঞাসা করল, ‘কী হল?’ দীপা বলল, ‘দিনেরবেলায় খোকনের ঠাকুমা আসেন না, না?’

    অঞ্চলি স্থানকালপাত্র ভুলে হেসে ফেললেন। মনোরমা পর্যন্ত লজ্জিত। সত্যসাধন কৌতূহলী হয়ে কারণ জিজ্ঞাসা করাতে তিনি বিষয়টি ব্যাখ্যা করলেন।

    খোকনদের গাছে উঠতে হল না। ওর মা রান্নাঘরে রাখা দুটো বাতাবিলেবু দীপাকে দিয়ে দিলেন। সে-দুটো নিয়ে বাড়ি ফিরে সে সত্যসাধনবাবুকে দিল। সত্যসাধনবাবু বললেন, ‘শোনো খুকি। ভূত পেতনি দৈত্যদানব বইল্যা কিছু নাই। এ সবই মানুষের কল্পনা। আসল কথা হইল, আমাদের সামনে যেসব মানুষ ঘুইর‍্যা বেড়ায় তারাই কেউ কেউ ভূত পেতনি হইয়া যায় সময় সময়। এখন বোঝবা না এসব কিন্তু কখনও কল্পনার ভয় পাইবা না।’ মহিলাদের নমস্কার করে সত্যসাধনবাবু বিদায় নিলেন।

    অঞ্জলি বলল, ‘যাও ভূতের মতো দাঁড়িয়ে থেকো না। স্নান করে আমাকে উদ্ধার করো।’

    দীপা ফিক করে হেসে ফেলল, ‘মা, আমি ভূত হব কী করে? মেয়েরা কি ভূত হয়?’

    অঞ্জলি নিজের হেসে ফেলার কারণে লজ্জিত ছিল, মেয়ের এই কথা শুনে মুহুর্তেই রান্নাঘরে ঢুকে গেল।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43 44 45 46 47 48 49 50 51
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleসাতকাহন ২ – সমরেশ মজুমদার
    Next Article কইতে কথা বাধে – সমরেশ মজুমদার (অসম্পূর্ণ)

    Related Articles

    সমরেশ মজুমদার

    চব্বিশ ঘণ্টার ঈশ্বর – সমরেশ মজুমদার

    December 4, 2025
    সমরেশ মজুমদার

    ছোটগল্প – সমরেশ মজুমদার

    December 4, 2025
    সমরেশ মজুমদার

    আট কুঠুরি নয় দরজা – সমরেশ মজুমদার

    December 4, 2025
    সমরেশ মজুমদার

    উত্তরাধিকার – সমরেশ মজুমদার

    December 4, 2025
    সমরেশ মজুমদার

    গর্ভধারিণী – সমরেশ মজুমদার

    December 4, 2025
    সমরেশ মজুমদার

    কইতে কথা বাধে – সমরেশ মজুমদার (অসম্পূর্ণ)

    December 4, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Our Picks

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }