Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    সাতকাহন ১ – সমরেশ মজুমদার

    সমরেশ মজুমদার এক পাতা গল্প936 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ২৫. অমরনাথ হতভম্ব

    অমরনাথ হতভম্ব। সন্ন্যাসীর বয়স অনুমান করা সম্ভব নয়। তবে তাঁর দীর্ঘ দেহের গৌরবর্ণ ত্বক যেরকম কুঁচকে গিয়েছে তাতে আশির কাছাকাছি হওয়াই সংগত। মাথার জটা প্রায় সাদা, দাড়িতে লাল ছাপ লেগেছে সাদার গায়ে। সন্ন্যাসী জিজ্ঞাসা করলেন, ‘কত বছর বয়সে এই চাকরিতে যোগ দিয়েছ তুমি?’

    অমরনাথ জবাব না দিয়ে পারলেন না, ‘অল্প বয়সেই। এখন বলুন কী করতে পারি আপনার জন্যে। রাত অনেক হয়েছে।’

    ‘তোমার জানতে নিশ্চয়ই কৌতূহল হচ্ছে আমি কী বলতে এসেছি?’

    ‘স্বাভাবিক।’

    ‘আমি যা বলব তার আগে আমার কয়েকটা তথ্য জানা দরকার। তুমি কি তোমার মাতুলালয়ে বড় হয়েছ?’ সন্ন্যাসী অমরনাথের মুখের দিকে তাকালেন।

    ‘হ্যাঁ। সেখানে থেকেই আমি স্কুলে পড়েছি।’

    ‘তোমার পিতা—?’

    ‘তিনি আমার জন্মের আগেই দুর্ঘটনায় মারা গিয়েছেন।’

    ‘কীরকম দুর্ঘটনা?’

    ‘নৌকোডুবি।’

    ‘তোমার পিত্রালয়ের সঙ্গে কোনও যোগাযোগ নেই?’

    ‘না। কিন্তু আপনি এইসব তথ্য জানতে চাইছেন কেন?’

    ‘প্রয়োজন আছে।’ সন্ন্যাসী হাসলেন, ‘এটি কে?’

    ‘আমার মেয়ে।’ অমরনাথ বুঝতে পারছিলেন যে তিনি সন্ন্যাসীর ব্যক্তিত্বের কাছে পরাস্ত হচ্ছেন। মানুষটির দৃষ্টিতে এমন সম্মোহনী শক্তি রয়েছে যে তিনি ওঁর আদেশ পালন করতে বাধ্য হচ্ছেন। অমরনাথ ঘাড় ঘুরিয়ে অঞ্জলি এবং দীপাকে দেখলেন।

    ‘তোমার সংসারে এখন ক’জন মানুষ?’

    ‘ছয় জন। আমার দুটি পুত্রসন্তান, এরা, আর আমার মা।’

    ‘তোমরা কি সুখে দিনযাপন করছ?’

    অমরনাথ উত্তর দিলেন না। আজ দুপুরের পর থেকে ঈশ্বর তাঁর জীবন থেকে সমস্ত সুখ কেড়ে নিয়েছেন। দিনযাপন করতে হয় বলেই করা।

    সন্ন্যাসী বললেন, ‘তুমি আমার প্রশ্নের উত্তর দাও।’

    ‘গৃহী মানুষের জীবন কি সুখে বাঁধা থাকে?’

    ‘থাকে না। তবু গৃহী পার্থিব সুখের চেষ্টা করে। তুমি করেছ নিশ্চয়!’

    ‘করেছিলাম।’

    ‘পাওনি? ব্যর্থ হয়েছ?’

    হঠাৎ দীপা জিজ্ঞাসা করল, ‘আপনি কী চান?’

    সন্ন্যাসী হাসলেন, ‘উত্তরটা তোমার ঠাকুমা থাকলে দিতে ভাল লাগত।’

    ‘তিনি এখন পুজো করছেন?’

    ‘পুজো? তিনি কি দীক্ষা নিয়েছেন?’

    ‘হ্যাঁ।’ দীপা উত্তরটা দেওয়ামাত্র অঞ্জলি ফিসফিস করে বলল, ‘দ্যাখ, ঠাকুমার বোধহয় পুজো হয়ে গিয়েছে। হলে ওঁকে এখানে ডেকে আন।’

    দীপা একটু জেদ দেখিয়ে বলল, ‘দাঁড়াও, আগে শুনি ওঁর কথা।’

    সন্ন্যাসী দীপার দিকে তাকালেন, ‘তুমি ছাত্রী?’

    ‘হ্যাঁ। আমি কলেজে পড়ি।’

    ‘হুঁ। অনেক পড়াশুনা হবে তোমার।’

    অঞ্জলি এতক্ষণ উসখুস করছিল। এবার সুযোগ পেয়ে বলে ফেলল, ‘দেখুন তো, ইনি আবার জেদ ধরেছেন জলপাইগুড়ির কলেজে পড়তে যাবেন না।’

    ‘জেদ? না-পড়ার জন্যে জেদ! কেন? নিজের স্বভাবের উলটো আচরণ করছ কেন?’

    ‘আমার কী স্বভাব তা আপনি জানেন?’ দীপা জিজ্ঞাসা করল।

    ‘তোমাদের বংশে কি কোনও মেয়ে কলেজে ভরতি হয়েছে?’

    প্রশ্নটার উত্তর দিলেন অমরনাথ, ‘না। ও প্রথম। অবশ্য—!’

    ‘অবশ্য কী?’

    ‘দীপা আমাদের মেয়ের চেয়ে আপন। জন্মমাত্র ওকে আমরা সন্তানের মতো লালন করেছি। আমার শ্যালিকা ওকে জন্ম দিয়েই মারা গিয়েছিল। সেই দিন থেকে, যদিও রক্তের কোনও সম্পর্ক নেই, কিন্তু আমরা মনে করি হৃদয়ের সম্পর্ক রক্তের চেয়ে মূল্যবান।’

    সন্ন্যাসী দীপার মুখের দিকে আবার তাকালেন, ‘পড়াশুনা তোমাকে করতে হবেই মা। তা থেকে তোমার নিষ্কৃতি নেই। কিন্তু একটা কথা, অন্তত তিরিশ বছর না হলে বিবাহ কোরো না। বাঙালি মেয়েদের পক্ষে বয়সটা যদিও খুব বেশি তবু তিরিশ পর্যন্ত অপেক্ষা করা উচিত।’

    অঞ্জলি কৌতূহল দমন করতে পারল না, ‘কেন?’

    ‘শুনতে খারাপ লাগবে কিন্তু এ-মেয়ের কপালে বৈধব্য লেখা আছে যদি অল্প বয়সে বিবাহ হয়। এ ছাড়া মেয়েটি নিজের ভাগ্য নিজে গড়ে নেবে।’

    অঞ্জলি জিজ্ঞাসা করল, ‘আপনি হাত দেখতে পারেন?’

    সন্ন্যাসী সশব্দে হেসে উঠলেন, ‘না মা। ওসব বিদ্যে আমার জানা নেই। তবে গুরুর আশীর্বাদে কখনও কখনও কারও মুখের দিকে তাকালে কেউ যেন কানে কানে আমাকে তার সম্পর্কে কিছু বলে যায়।’

    দাপা হেসে ফেলল, ‘এই বাড়িতে আসার আগে বুঝি আপনি এখানকার কারও সঙ্গে আমাদের বিষয়ে আলোচনা করেছেন?’

    সন্ন্যাসী অবাক হলেন, ‘মানে?’

    দীপা বললে, ‘আপনি যেসব কথা বলছেন তা এখানকার সবাই জানেন।’

    সন্ন্যাসীর মুখ গম্ভীর হয়ে গেল, ‘কারও সঙ্গে এ-বিষয়ে আলোচনা করার সৌভাগ্য আমার হয়নি। তা ছাড়া তোমার ভবিষ্যতে কী ঘটবে তা সবাই জানবে কী করে?’

    ‘আপনি যা ভবিষ্যতে হবে বলছেন তা অতীতে ঘটে গিয়েছে।’

    সন্ন্যাসী অবাক হয়ে গেলেন। অমরনাথ চুপচাপ শুনছিলেন। দীপাকে তাঁর বেশ বাচাল বলে মনে হচ্ছিল। অনর্থক কথা বাড়াচ্ছে সে। তিনি জিজ্ঞাসা করলেন, ‘আপনি বলছিলেন আমার সঙ্গে আপনার কিছু কথা আছে। সেটা যদি শেষ করেন তা হলে ভাল হয়। রাত বাড়ছে। আমি খুব ক্লান্ত।’

    সন্ন্যাসী বললেন, ‘এ-সময়ে এসেছি বলে আমি দুঃখিত। বেশ, আমার কথা শেষ করি।’

    এইসময় অঞ্জলি মুখ ঘুরিয়ে দেখল মনোরমা আসছেন। সে বলল, ‘মা এসে গিয়েছেন। আসুন মা!’ সন্ন্যাসী মুখ খুলতে গিয়েও থেমে গেলেন। তাঁর চোখ এখন অঞ্জলির পাশে, দরজার দিকে। মনোরমা ধীরে ধীরে সেখানে এসে দাঁড়ালেন।

    মনোরমা সন্ন্যাসীকে দেখলেন। এত রাত্রে একজন সন্ন্যাসী কখনও কারও বাড়িতে আসে বলে তিনি শোনেননি। অমরনাথ বললেন, ‘ইনি আমার মা।’

    ‘হ্যাঁ। ওঁর চেহারার সামান্যই পরিবর্তন হয়েছে।’ সন্ন্যাসী মৃদুস্বরে বলতেই মনোরমা চমকে উঠলেন। তাঁর নিশ্বাস বন্ধ হয়ে গেল। দু’চোখে অন্ধকার দেখলেন তিনি। তাঁর সমস্ত চেতনা লোপ পেয়ে গেল। শেষবার চেষ্টা করলেন দরজা আঁকড়ে ধরতে। সন্ন্যাসী বলে উঠলেন, ‘ওঁকে ধরো।’ তাঁর গলার স্বর এত উচ্চগ্রামে ছিল যে অঞ্জলি চমকে গিয়ে শাশুড়িকে পড়ে যেতে দেখে দু’হাতে জড়িয়ে ধরল। অমরনাথ ছুটে এলেন। তিনিও মনোরমাকে আর এক পাশে ধরলেন। সন্ন্যাসী বললেন, ‘ওঁকে ওখানে শুইয়ে দাও।’

    মনোরমাকে খাটের ওপর শুইয়ে দেওয়া হল। ঘরের কেউ মনোরমার এই আকস্মিক পরিবর্তনের কারণ বুঝতে পারছিল না। অঞ্জলি দ্রুত পাখা নিয়ে এসে বাতাস করা শুরু করল। অমরনাথ মনোরমার ওপর ঈষৎ ঝুঁকে ডাকতে লাগলেন, ‘মা, মা, তোমার কী হয়েছে?’

    অঞ্জলি বলল, ‘তুমি ডাক্তারবাবুকে খবর দাও।’

    সন্ন্যাসী বললেন, ‘মুখে একটু জল দাও। ডাক্তারের প্রয়োজন হবে না।’

    দীপা এতক্ষণ চুপচাপ সব লক্ষ করছিল। সন্ন্যাসীর উপদেশ শেষ হওয়ামাত্র সে জিজ্ঞাসা করল, ‘আপনাকে দেখামাত্র ঠাকুমার এমন হল কেন?’

    সন্ন্যাসী গম্ভীর মুখে বললেন, ‘এ থেকে প্রমাণিত হল মনের সঙ্গে শরীরের সম্পর্ক রয়েছে। আমার ভাবতে ভাল লাগছে তোমার ঠাকুমার মনের কোনও পরিবর্তন হয়নি।’

    এইসময় মনোরমা চোখ মেললেন। অঞ্জলি ঝুঁকে পড়ে জিজ্ঞাসা করল, ‘মা, কী হয়েছে আপনার? শরীর খারাপ লাগছে?’

    মনোরমা জবাব দিলেন না। তাঁর নিশ্বাস দ্রুত পড়ছিল। অঞ্জলি আবার হাওয়া করতে চাইলে তিনি নিষেধ করলেন, ‘থাক।’ তারপর চোখ বন্ধ করলেন। ঘরের কেউ কোনও কথা বলছিল না। মিনিটখানেক চুপচাপ শুয়ে থাকার পর মনোরমা উঠে বসলেন অঞ্জলির আপত্তি সত্ত্বেও। তাঁর চোখ এবার সন্ন্যাসীর দিকে। সন্ন্যাসীও চোখ ফেরাচ্ছিলেন না। মনোরমা বেশ রুগ্ণ গলায় জিজ্ঞাসা করলেন, ‘আপনি কে?’

    ‘আমাকে দেখে যা মনে হয় আমি তাই?’

    ‘তা হলে এখানে এসেছেন কেন?’

    ‘তুমি অসুস্থ। কথা বললে আরও উত্তেজিত হয়ে পড়বে।’

    ‘সেটা আমি বুঝব। কেন এসেছেন?’

    ‘সন্ন্যাসীরও সংসারের প্রতি কিছু দায় থাকে। সেই দায় মেটানোর প্রয়োজন হয় পঞ্চাশ বছর সাধনার পর। তবে আমার আসার জন্য কারও কোনও ক্ষতি হোক আমি চাই না।’

    মনোরমা বেশ কিছুক্ষণ চুপচাপ সন্ন্যাসীকে দেখলেন। তারপর অঞ্জলির দিকে তাকিয়ে বললেন, ‘তোমরা সবাই এই ঘর থেকে যাও তো। আমি একা ওঁর সঙ্গে কথা বলতে চাই। আমি ডাকলে এ-ঘরে এসো।’

    অঞ্জলি অমরনাথের দিকে তাকালে তিনি ইশারা করলেন আদেশ মান্য করতে। যদিও তাঁর এই রহস্যময় ব্যাপারে কৌতূহল বেড়ে যাচ্ছিল। অঞ্জলি দীপাকে ডাকলেন ঘর থেকে চলে আসবার জন্যে। ওরা সবাই চলে গেলে মনোরমা জিজ্ঞাসা করলেন, ‘না, আমার ভুল হতে পারে না। আপনার প্রকৃত পরিচয় জানতে চাই। বলুন?’

    সন্ন্যাসী বললেন, ‘প্রথমে বলে রাখি তুমি খেয়াল রাখবে যে হিন্দুঘরের বিধবা হিসেবে তোমার যা করণীয় তা থেকে সরে আসার কোনও কারণ ঘটেনি। কোনও গৃহী যখন সন্ন্যাসীর জীবন যাপন করেন তখন সংসারী মানুষের কাছে তিনি মৃত হয়ে যান। মনোরমা, তোমার অনুমান অভ্রান্ত। নৌকোডুবিতে আমার শারীরিক মৃত্যু ঘটেনি, আমাকে তুমি ঠিকই দেখছ। নদীতে ডুবে যাওয়ার পর কোথায় ভেসে উঠেছিলাম, কোন সাধুর প্রভাবে পড়ে আমি হিমালয়ে গেলাম, সেসব কথা এখন অবান্তর। নৌকাডুবিতে আমার সাংসারিক অস্তিত্বের মৃত্যু ঘটেছে। এবং সেই কারণেই তোমার এই বৈধব্যজীবন ধর্মমতে সংগত।’

    মনোরমা থরথর করে কেঁপে উঠলেন। তারপর দু’হাতে মুখ ঢেকে ফুঁপিয়ে উঠলেন। তাঁর কান্নার শব্দ সম্ভবত ভেতরের ঘরেও যাচ্ছিল। এবং আচমকা তিনি হাত সরিয়ে ভেজা চোখে বলে উঠলেন, ‘বিশ্বাস করি না। আমার বাবা সব জায়গায় খবর নিয়েছিলেন। আমি যাঁকে বিয়ে করেছিলাম তিনি অনেকদিন আগে ঈশ্বরের পায়ে চলে গিয়েছেন।’

    ‘বেশ তো! আমি তোমাকে কিছুই বিশ্বাস করতে বলিনি। তোমাকে নিজে থেকে কোনও কাহিনি শোনাইনি। আমার গলার স্বর শোনামাত্র তুমি চৈতন্য হারালে—!’

    এইসময় ভেতর থেকে অমরনাথের গলা পাওয়া গেল, ‘মা, কী হয়েছে, কাঁদছ কেন?’

    মনোরমা জবাব দিলেন না। সন্ন্যাসী বললেন, ‘তোমার ছেলেকে এখানে আসতে বলল।’

    মনোরমা দ্রুত মাথা নাড়লেন, ‘না! আপনি বুজরুক। আপনাকে আমি চিনি না।’

    সন্ন্যাসী মাথা নাড়লেন, ‘না, আমি বুজরুক নই। চিনতে চাইছ না সেটা তোমার ইচ্ছে। পঞ্চাশ বছর পর সন্ন্যাসীকে এক দিনের জন্যে তার গৃহে ফিরে আসতে হয়—।’

    ‘এসব কথা আমি শুনতে চাই না।’ মনোরমা উঠে দাঁড়ালেন। তারপর গম্ভীর ভঙ্গিতে ঘর থেকে বেরিয়ে ভেতরের ঘরে পা দিতেই অমরনাথের মুখোমুখি হলেন। অমরনাথ অত্যন্ত বিস্মিত। আজ পর্যন্ত তিনি মায়ের এই চেহারা দেখেননি। ইতস্তত না করেই তিনি প্রশ্ন করলেন, ‘কী হয়েছে তোমার? কাঁদছিলে কেন? খারাপ কিছু বলেছে নাকি?’

    মনোরমা নিঃশব্দে মাথা নেড়ে না বললেন।

    ‘আমি কিছুই বুঝতে পারছি না। ঠিক আছে, দেখছি।’ অমরনাথ মনোরমার পাশ কাটিয়ে বাইরের ঘরে এসে হাত জোড় করলেন, ‘কিছু মনে করবেন না। আপনার আচরণ আমাদের কাছে রহস্যময় ঠেকছে। আপনি বৃদ্ধ এবং সন্ন্যাসী। কিন্তু এর বেশি আমাদের পক্ষে সহ্য করা সম্ভব নয়। তা ছাড়া রাতও অনেক হয়েছে, এবার আপনি চলে গেলে খুশি হব।’

    সন্ন্যাসী বললেন, ‘আমি এখানে থাকার জন্যে আসিনি। পথেঘাটে রাত কাটানোর অভিজ্ঞতা আমার আছে। সেই যোশীমঠ থেকে অনেক ঘুরে তোমাদের ঠিকানা বের করে শেষপর্যন্ত যে-কারণে পৌঁছাতে পেরেছি তা সম্পূর্ণ হলেই আমি চলে যাব।’

    ‘কারণটা তাড়াতাড়ি বলুন।’

    ‘তুমি ঈশ্বরের নামে যে-কোনও খাদ্যবস্তু আমাকে দান করো।’

    ‘মানে?’ অমরনাথ আবার হতভম্ব।

    ‘তুমি মনোরমার পুত্র। অতএব এই দানের অধিকারী তুমিই।’

    ‘কেন আমি আপনাকে দান করতে যাব? আপনি যদি অভুক্ত থাকেন তা হলে আমার স্ত্রীকে বলছি আপনাকে কিছু খাবার দিতে। অঞ্জলি—।’ স্ত্রীকে গলা তুলে ডাকলেন অমরনাথ। অঞ্জলি কাছাকাছি ছিল। ডাক শুনে চটপট চলে এল। তাকে দেখে অমরনাথ বললেন, ‘কিছু খাবার এনে ওঁকে দাও। নাটকটা শেষ হোক।’

    ‘নাটক!’ সন্ন্যাসী হাসলেন, ‘ঠিকই বলেছ, জীবন থেকে নাটক তৈরি হয় কিন্তু অনেক সময় জীবন নাটককে ছাপিয়ে যায়। মা, তোমার বাড়িতে কোনও ফল আছে?’

    অঞ্জলি মাথা নাড়ল, ‘না।’

    সন্ন্যাসী জিজ্ঞাসা করলেন, ‘অন্ন? ভাত?’

    ‘শুধু ভাত?’

    ‘হ্যাঁ।’

    ‘সকালের রাঁধা কিছুটা রয়েছে।’

    ‘তাই হবে। একটা পাত্রে তার সামান্য কিছু নিয়ে এসো।’

    হঠাৎ অমরনাথ ক্ষিপ্ত হয়ে উঠলেন, ‘দাঁড়ান। আপনি কী করতে চাইছেন?’

    ‘আমার চাওয়াটা খুবই সামান্য অমরনাথ। সন্ন্যাস নিয়ে সংসার ত্যাগ করে গেলে কোনও কোনও গোষ্ঠীর সন্ন্যাসী যদি পঞ্চাশ বছর জীবিত থাকেন তা হলে তাঁকে একদিনের জন্যে তাঁর সংসারে ফিরে এসে পুত্র কন্যা অথবা স্ত্রীর হাতের দান গ্রহণ করতে হয়। নইলে তার সাধনা সম্পূর্ণ হয় না। বলতে পারো নিজের স্বার্থেই আমি তোমাদের কাছে এসেছি।’ সন্ন্যাসী খুব ধীর গলায় কথাগুলো বলে গেলেন।

    অমরনাথের দুই চোখ বিস্ফারিত। তাঁর কথা বলার শক্তি লোপ পেয়ে গেল কয়েক মুহূর্তের জন্যে। এইসময় অঞ্জলি চিৎকার করে উঠল, ‘এ আপনি কী বলছেন?’

    ‘আমি সত্যি কথাই বলছি মা।’

    ‘না!’ তীব্র স্বরে শব্দটি উচ্চারণ করে মনোরমা দরজায় ছুটে এলেন, ‘ওঁর কথা বিশ্বাস কোরো না বউমা, মিথ্যে মিথ্যে, সব বুজরুকি।’

    সন্ন্যাসী চোখ বন্ধ করলেন। সাদা দাড়ি গোঁফ সত্ত্বেও তাঁকে পাথরের মতো দেখাচ্ছিল। অমরনাথ এবার চেতনায় এলেন, আপনি যা বলছেন তা দায়িত্ব নিয়ে বলছেন!’

    ‘দ্যাখো, তোমাদের কাছে আমার অন্য কিছু চাওয়ার নেই। না টাকাপয়সা, না বিষয় সম্পত্তি। মিথ্যাচার করে আমি কী পেতে পারি? এখনই এই রাত্রে আমি চলে যাব। হয়তো এই জীবনে তোমাদের সঙ্গে আমার আর দেখা হবে না। আমার গোষ্ঠীর নিয়ম পালন করতেই তোমাদের বিরক্ত করতে এসেছি। তোমরা অসংযত হয়ো না।’

    হঠাৎ অত্যন্ত অসহায় হয়ে পড়লেন অমরনাথ। তিনি বুঝতে পারছিলেন না কী করবেন! এই বৃদ্ধ সন্ন্যাসী তাঁর পিতা? যে-মানুষটিকে জন্মইস্তক মৃত বলে জানেন, তিনি তাঁর সামনে বসে দান চাইছেন? পিতৃস্নেহের প্রতি তার লোভ ছিল ছেলেবেলা জুড়ে। বন্ধুদের প্রত্যেকের বাবা ছিল শুধু তাঁর নয়। সেই মানুষটিকে আজ সামনে পেয়ে—। না, মনোরমা স্বীকার করেননি এখনও। বাবার চেহারার যে-বর্ণনা তিনি শুনেছেন তার সঙ্গে সন্ন্যাসীর বয়স সত্ত্বেও কিছু মিল রয়েছে। তিনি চোখে দেখেননি। কিন্তু চিনতে যদি কেউ পারেন তিনি হলেন মনোরমা। অমরনাথ মায়ের দিকে ঘুরে কাঁপা গলায় প্রশ্ন করলেন, ‘মা, তুমি বলো, ইনি আমার বাবা?’

    মনোরমা মুখে আঁচল চাপা দিলেন।

    অমরনাথ বললেন, ‘মা, তুমি চুপ করে থেকো না। যদি ইনি মিথ্যা কথা বলেন তা হলে যাতে এই চা বাগান থেকে সশরীরে না বেরুতে পারেন তার ব্যবস্থা আমি করব।’

    মনোরমা অফুটে বললেন, ‘না।’

    অমরনাথ উত্তেজিত হয়ে জিজ্ঞাসা করলেন, ‘তুমি স্পষ্ট বলো মা, এটা সত্যি?’

    মনোরম সেই অবস্থায় মাথা নাড়লেন, ‘আমি জানি না।’ তাঁর মুখ থেকে আবার কান্না ছিটকে উঠল। এবং এতক্ষণ চুপচাপ দেখে গিয়ে দীপা ঘবের মাঝখানে এগিয়ে এল, ‘তোমরা একটু চুপ করো। শুনুন, আপনি যে পরিচয় দিচ্ছেন তার সপক্ষে কোনও প্রমাণ আছে?’

    সন্ন্যাসী মাথা নাড়লেন, ‘না নেই। ধরো মা, তোমাকে এখান থেকে তুলে যোশীমঠে নিয়ে যাওয়া হল। সেখানে কেউ কখনও তোমাকে দ্যাখেনি। হঠাৎ যদি কেউ তোমাকে সেখানে বলে যে তুমি কে প্রমাণ দাও তা হলে দিতে পারবে? তোমার ঠিকানা নাম যতই বললো তাতে তো তুমি এই তুমি প্রমাণিত হবে না যতক্ষণ না সেটার সত্যাসত্য পরীক্ষা করতে কেউ এখানে আসে। তাই না? পরিচিত মানুষ-সমাজ থেকে আমরা চলে গেলে পরিচয় প্রমাণ করা বড় শক্ত হয়ে পড়ে।’

    দীপা সন্ন্যাসীর কথা মন দিয়ে শুনে জিজ্ঞাসা করল, ‘তা হলে আপনার পরিচয় জানতে যোশীমঠে যেতে হবে আমাদের? ব্যাপারটা কি আদৌ বাস্তব?’

    ‘ঠিকই, বাস্তব নয়। তা হলে আর একটা উপায় থেকে যাচ্ছে। সেটা হল যিনি চিনতে পারবেন, অর্থাৎ একমাত্র পূর্বপরিচিত ব্যক্তিই শনাক্ত করতে পারেন।’

    ‘এখানে আপনার পূর্বপরিচিত কেউ নেই। বাবাও পঞ্চাশ বছর আগে জন্মাননি৷ ঠাকুমাও যে কথা বললেন, তা আপনি শুনেছেন।’

    ‘শুনেছি।’

    ‘এত রাত্রে আপনি কোথায় যাবেন?’

    ‘পথে বের হবার আগে পথ নিয়ে কি কোনও সন্ন্যাসী চিন্তা করে মা? যিনি সম্পূর্ণ বর্জন করতে পারেন—।’

    ‘সন্ন্যাসীদের স্বার্থপর হতে হয়?’

    ‘এক অর্থে তুমি সত্যি বলছ।’

    ‘নিজের স্বার্থ ছাড়া যারা চিন্তা করতে পারে না তারা কী ধরনের মানুষ?’

    ‘বিচার করতে হবে কোন স্বার্থ? ঈশ্বরচিন্তায় মগ্ন হয়ে পার্থিব সম্পর্ক থেকে যিনি গুটিয়ে নেন নিজেকে তাঁর সঙ্গে ধনলোভী স্বার্থান্বেষীর তুলনা করা কি ঠিক?’

    ‘ঈশ্বরচিন্তায় মগ্ন থেকে যিনি নিজের পরিবারের থেকে বিচ্ছিন্ন হন তিনি কি একাই ঈশ্বরকে পেতে চান না? তাঁর স্ত্রীপুত্র যদি ভেসে যায় তবু তিনি নিজের পুণ্যের জন্যে সন্ন্যাসী হয়ে দিন কাটান না? অর্থাৎ ঈশ্বরকে পেতে তিনি একাই চান নিজের স্বার্থসিদ্ধি করতে। তফাতটা কোথায় আমি বুঝতে পারছি না।’

    এইসময় অমরনাথ ধমকে উঠলেন, ‘দীপা! এত কথা বলার কোনও দরকার নেই।’

    আর মনোরমা বললেন, ‘না অমর। দীপা ঠিকই বলছে।’

    খুব অবাক হয়ে গেল দীপা। যে-ঠাকুমা দিনরাত ঠাকুর পুজো করে বস্তাপচা সংস্কার আঁকড়ে থাকেন তাঁর মুখ থেকে এমন কথা সে শুনবে ভাবতে পারেনি। সে ঘুরে দাঁড়িয়ে বলল, ‘ঠাকুমা, ভাল করে চেয়ে দ্যাখো তো, ইনি তোমার স্বামী ছিলেন?’

    মনোরমা জবাব দিলেন না। দীপা একবার বাবার দিকে তাকাল। তারপর বলল, ‘বাবা, ঠাকুমার কাছে ঠাকুরদার অনেক গল্প শুনেছি। ওঁর বাঁ দিকের বুকে একটা বড় আঁচিল ছিল। ছোটবেলায় সেটা কাটতে গিয়ে ঘা করে ফেলেছিলেন। এই নিয়ে ঠাকুমা তাঁকে খুব খ্যাপাতেন। তুমি দেখবে সেই দাগটা ওঁর শরীরে রয়েছে কিনা?’

    মনোরমা বললেন, ‘আঃ, তোমরা থামবে? আমার কথা বিশ্বাস হচ্ছে না কেন?

    অমরনাথ এক পা-ও এগোলেন না। সন্ন্যাসী হাসলেন। তারপর তাঁর আলখাল্লার বাঁধন খুলে উর্ধবাঙ্গের কিছুটা উন্মুক্ত করে বললেন, ‘সম্ভবত এই দাগটির কথাই উনি তোমাকে বলেছিলেন।’

    তাঁর কথা শেষ হওয়ামাত্র মনোরমা ছিটকে বেরিয়ে গেলেন ঘরের বাইরে। অমরনাথ কাঁপতে কাঁপতে বসে পড়লেন চেয়ারে। অঞ্জলি দ্রুত শাশুড়িকে অনুসরণ করল।

    দীপা বলল, ‘আপনি আমাকে ক্ষমা করবেন।’

    ‘ঠিক হল না। এই চিহ্ন যে-কোনও মানুষের শরীরে থাকতে পারত। কাকতালীয় ভাবে সে যদি তোমাদের কাছে মিথ্যে বলতে এসে সেটা দেখাত, তা হলে এত তাড়াতাড়ি তাকে স্বীকার করা কি ঠিক?’

    দীপা মাথা নাড়ল, ‘না। আর কোনও প্রমাণের দরকার নেই।’

    ‘কেন?’ সন্ন্যাসীর চোখে কৌতুক।

    ‘ঠাকুমার আচরণ প্রমাণ করছিল তিনি আপনাকে চিনতে পেরেছেন?’

    ‘তুমি তো অসাধারণ বুদ্ধিমতী।’

    ‘তাতে কিছু লাভ হচ্ছে না। কিন্তু এটা কি আপনি ঠিক করলেন! একটি মানুষ এতকাল ধরে জেনে এসেছেন যে তিনি বিধবা। তাঁর সমস্ত সত্তায় সেই ধারণা বসে গিয়েছে। এতদিন বাদে তিনি এই আঘাত কী করে সহ্য করবেন?’

    ‘আমি তো তাঁর কাছে মৃত।’

    ‘কিন্তু সেটা এখন তো সত্যি নয়।’

    ‘কেন নয়! আমার সাংসারিক সত্তা তো সেই কবে মরে গিয়েছে।’

    ‘এটা আপনি যেভাবে ভাবতে পারেন ঠাকুমা তা পারবেন কেন? তিনি আপনার শ্রাদ্ধ পর্যন্ত করেছেন। আমি বুঝতে পারছি না কী হবে?’

    ‘ঠিকই বলছ তুমি। মৃত মানুষ ফিরে এলে মানুষের সুখের বদলে দুঃখ বাড়ে। আমি নিজের কথাই ভাবতে গিয়ে এ-দিকটা চিন্তা করিনি।’

    ‘কিন্তু নৌকোডুবির পরে আপনি কী করে সন্ন্যাসী হলেন? ঠাকুমার কথা আপনার মনে পড়েনি? তাঁকে বঞ্চিত করে যাচ্ছেন একথা মনে হয়নি?’

    ‘না। কারণ যে-সাধু আমাকে প্রাণে বাঁচিয়েছিলেন, দীর্ঘদিন অসুস্থ হয়ে তাঁর কাছে থাকার পরে জানতে পেরেছিলাম তিনি হিমালয়ে ফিরে যাচ্ছেন। আমি তাঁর অনুমতি নিয়ে গ্রামে ফিরে যাওয়ার উদ্দেশ্যে যাত্রা করে জেনেছিলাম তোমার ঠাকুমা ইতিমধ্যে শ্রাদ্ধ করে বৈধব্যজীবন যাপন করতে আরম্ভ করেছেন। কেমন ধিক্কার এল মনে। আমি পৃথিবীতে বেঁচে আছি, অথচ আমার প্রিয়জনেরা মৃত ভেবে নিয়ে তাঁদের মতো জীবনযাপন করতে অভ্যস্ত হয়ে পড়েছে। সেই মানসিকতায় আমি সাধুর কাছে ফিরে গিয়েছিলাম। তিনি আমাকে নিয়ে গিয়েছিলেন হিমালয়ে। ওঁকে যদি কেউ বঞ্চিত করে থাকেন তা হলে তিনি ঈশ্বর। আমি নই।’ সন্ন্যাসী কথা শেষ করতেই ঘড়িতে শব্দ বাজল। রাত গভীর হচ্ছে। সন্ন্যাসী অমরনাথের দিকে তাকালেন।

    অমরনাথ বিস্ময়াবিষ্ট হয়ে এতক্ষণ কথাবার্তা শুনছিলেন। এবার চোখাচোখি হতে কাঁপতে কাঁপতে উঠে দাঁড়ালেন, ‘বাবা!’

    সন্ন্যাসী উত্তর দিলেন না। অমরনাথ এগিয়ে এলেন দুই হাত জোড় করে, ‘বাবা, আমাকে ক্ষমা করুন।’

    ‘তুমি স্বাভাবিক আচরণ করেছ অমরনাথ। এখন কি তোমার কাছে দান পেতে পারি?’

    ‘বাবা, আপনি যেতে পারবেন না।’

    ‘মানে?’

    ‘আপনাকে আমাদের কাছে থাকতে হবে।’ অমরনাথের গলার স্বর কাঁপছিল।

    ‘অসম্ভব। সন্ন্যাসী কখনও গৃহবাসী হতে পারে না।’

    ‘আপনাকে আমরা পেতে পারি না বাবা?’

    ‘না।’ সন্ন্যাসী বললেন, ‘আমার প্রার্থনা এবার পূর্ণ করো অমরনাথ।’

    ‘বাবা। এ-জীবনে আপনার দর্শন এভাবে পাব কখনও ভাবিনি। আমার অনেক সমস্যা। পিতা হয়ে আমাকে কিছু উপদেশ দিয়ে যান দয়া করে। আজ রাতটা অন্তত থাকুন।

    ‘না। রাত্রিবাস করা সম্ভব নয়।’

    ‘কিন্তু এখানে কোনও হোটেল দূরের কথা ধর্মশালা পর্যন্ত নেই।’

    ‘সেই চিন্তা তোমার নয়।’ সন্ন্যাসী হাসলেন, ‘তোমার নিজস্ব জীবনযাত্রা বলে দেবে সমস্যায় পড়লে তোমার কী ধরনের আচরণ হওয়া উচিত। সংসার জীবন এবং তার সমস্যা সম্পর্কে কোনও আগ্রহ আমার আর অবশিষ্ট নেই।’

    অমরনাথ ঠোঁট কামড়ালেন। তারপর ধীরে ধীরে ঘর থেকে বেরিয়ে গেলেন। সন্ন্যাসী দীপার দিকে তাকালেন, ‘তোমার নামটি কী যেন?’

    ‘দীপাবলী।’

    ‘বাঃ। আলোকিত করো। নিজেকে প্রকাশ করো।’

    ‘কীভাবে?’

    ‘নিজের চারপাশের অন্ধকার দূর করে। আমি অনুমান করছি তোমার বিবাহ হয়েছিল। তোমার স্বামী বিগত। কিন্তু এখন এই বয়সে—, বিভ্রম হচ্ছে।’

    ‘আমার বাবা বোধহয় এই ব্যাপারে আপনার উপদেশ চাইছিলেন। ওঁরা কেন যে বালিকা অবস্থায় আমার বিয়ে দিলেন তা এখনও আমি বুঝতে পারিনি। বিয়ের দু’দিন বাদেই সেই ছেলেটি অসুস্থতায় মারা গেল। তার বাবার হাত থেকে আমি কোনওমতে রক্ষা পেয়ে চলে এসেছিলাম। তার দীর্ঘদিন বাদে যখন কলেজে ভরতি হলাম, তখন জানতাম না যে সেই ভদ্রলোক প্রায়শ্চিত্ত করার জন্যে আমার বাবার সঙ্গে ষড়যন্ত্র করে ব্যাঙ্কে আমার নামে টাকা রেখেছিলেন, যাতে আমি পড়াশুনা চালিয়ে যেতে পারি। খবরটা ওঁর মৃত্যুর পরে আমি জেনেছি। জানার পর ওঁর নোংরা টাকায় আর পড়াশুনা করতে আমি রাজি নই। জলপাইগুড়ি শহরের কলেজ থেকে আজ আমি চলে এসেছি।’

    সন্ন্যাসী হাসলেন, ‘যা ভাল মনে করেছ তাই হয়েছে।’

    দীপা বলল, ‘কিন্তু আমাকে সবাই বোঝাতে চাইছেন আমি ভুল করছি।’

    ‘তাদের নিশ্চয়ই বোঝাবার অধিকার আছে।’ সন্ন্যাসী উঠে দাঁড়ালেন, ‘অমরনাথ কী করবে?’ বলতে-না-বলতে অমরনাথ এবং অঞ্জলি ফিরে এলেন। অমরনাথের হাতে একটি থালায় রাতের খাবার। তিনি বললেন, ‘আপনি হাত মুখ ধুয়ে তারপর নিশ্চয়ই এসব গ্রহণ করবেন?’

    সন্ন্যাসী বললেন, ‘তার প্রয়োজন হবে না। এত কেন এনেছ? আমি সামান্য অন্ন চেয়েছি তোমার কাছে। তুমি ওই থালা থেকে একমুঠো আমার হাতে তুলে দাও।’

    ‘আপনি আমার এখানে রাতের খাবার খাবেন না?’

    ‘না।’ সন্ন্যাসী দুটো হাত অঞ্জলির মতো এগিয়ে ধরেও সরিয়ে নিলেন। তিনি দীপার দিকে তাকালেন, ‘শোনো মা। তুমি পথিক, পথ তোমার। সেই পথ রাজা তৈরি করেছেন না কোনও অসৎ ধনীর টাকায় তৈরি হয়েছে তা তো তোমার জানার কথা নয়। পথিকের কাজ পথ ধরে লক্ষ্যের দিকে এগিয়ে যাওয়া। শরীরের জন্যে জীবন নয়, জীবনের জন্যে শরীর। লক্ষ্যে পৌঁছে পথিক পায়ের ধুলো ধুয়ে ফেলে জলে। সেটাই তো উচিত। পথ পড়ে থাকে পথে।’ সন্ন্যাসী আবার অমরনাথের দিকে ফিরলেন, ‘দাও।’

    তাঁর বাড়ানো দুই হাতের চেটোয় এক মুঠো অন্ন তুলে দিলেন অমরনাথ। সন্ন্যাসী মনে মনে কিছু বললেন। তাঁর দুটো ঠোঁট কাপঁছিল। সযত্নে ওই অন্ন তিনি নিয়ে বেরিয়ে এলেন বারান্দায়। নেমে দাঁড়ালেন অন্ধকার আকাশের নীচে। তারপর মন্ত্র উচ্চারণ করতে করতে সেই অন্ন ছড়িয়ে দিতে লাগলেন মাটি, জল, আলো, বাতাস এবং আকাশের উদ্দেশে। হ্যারিকেনের আলোর যে সামান্য অংশ বাইরে আসতে পেরেছিল তাতে তাকে খুব রহস্যময় মনে হচ্ছিল। উৎসর্গ শেষ হলে তিনি যখন স্থির হলেন তখন অমরনাথ এবং অঞ্জলি তার পায়ের সামনে নতজানু হলেন। সন্ন্যাসী হাত তুলে আশীর্বাদ করে ধীরে ধীরে অন্ধকারের মধ্যে দিয়ে আসাম রোডের দিকে এগিয়ে চললেন। আর তখন অমরনাথ ডুকরে কেঁদে উঠলেন। অঞ্জলি তাঁকে বলল, ‘তুমি ওঁকে চলে যেতে দিচ্ছ? তোমার বাবা না? যাও, আটকাও। মায়ের কথা ভাবতে পারছ? উনি চলে গেলে ওঁর কী হবে?’

    অমরনাথ বললেন জড়ানো গলায়, ‘থাকলে কী ভাল হবে অঞ্জলি?’

    অঞ্জলি সেটা বুঝতে চাইল না, ‘স্বামীকে পঞ্চাশ বছর পরে ফিরে পেতে স্ত্রীর ভাল লাগবে না? কী যা-তা বলছ? তা ছাড়া এত রাত্রে এই জঙ্গুলে জায়গায় উনি কোথায় থাকবেন?

    দীপা চুপচাপ শুনছিল। তার চোখের সামনে একটি মানুষ বংশধরের কাছ থেকে অন্নের ডেলা গ্রহণ করে পঞ্চভূতে ছড়িয়ে দিয়ে নির্বিকারভাবে চলে গেলেন। এই সংসার এই অন্ধকার কোনও কিছুই তাঁর প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করতে পারল না। সে বলল, ‘মা, বাবা ঠিকই বলেছেন। ওঁকে ডেকে কোনও লাভ হবে না।’

    দীপা ভেতরে চলে এল। বসার ঘর শোওয়ার ঘর পেরিয়ে উঠোনের বারান্দায় পৌঁছে মনোরমার ঘরের দিকে তাকাল। দরজা ভেজানো। আলো জ্বলছে। সে নিঃশব্দে দরজা খুলল। মনোরমা বসে জপ করছেন, রোজ যেমন করেন। ঠাকুমার পুজো এর আগেই শেষ হয়ে গিয়েছে বলে সে জানত। দীপা খাটের ওপর বসল।

    তার চোখের সামনে এক বৃদ্ধার টানটান শরীর, যে-শরীরে কম্পন নেই। একমাত্র একবার কেঁদে ওঠা ছাড়া ঠাকুমা সমানে অস্বীকার করে গিয়েছেন ঠাকুরদার অস্তিত্ব। যাওয়ার সময় ঠাকুরদা ভুলেও ওঁকে ডাকেননি। উনি জানেন না এখনও, ঠাকুরদা চলে গিয়েছেন। সত্যি কি ঠাকুমা মনে করছেন উনি ঠাকুরদা নন। কিন্তু কী স্বার্থ নিয়ে মানুষটা এখানে আসবেন? মনোরমা যেভাবে বসে আছেন তাতে মনেই হচ্ছে না কোনও কিছু তাঁকে আলোড়িত করেছে। পুজোর সময় তাঁকে ডাকা নিষেধ। দীপা অপেক্ষা করতে লাগল।

    এ-বাড়ির কোথাও কারও শব্দ পাওয়া যাচ্ছে না। অন্তত আধঘণ্টা কেটে যাওয়ার পর প্রণাম সেরে মনোরমা উঠে দাঁড়ালেন। তাঁর নজর পড়ল দীপার ওপর। দীপা তাঁর চোখের দিকে তাকাল। তারপর জিজ্ঞাসা করল, ‘তুমি বিশ্বাস করো উনি ঠাকুরদা নন।’

    ‘নিশ্চয়ই।’ মনোরমা জবাব দিলেন।

    ‘কিন্তু উনি তো প্রমাণ দিলেন।’

    ‘কীসের প্রমাণ? বুকের দাগ আর অতীতের গল্প? তাতে কী হয়েছে? এই যে আমি পঞ্চাশ বছর ধরে বৈধব্যজীবন পালন করছি সেটা মিথ্যে হয়ে যাবে এক নিমেষে? আমার বাবা পঞ্চাশ বছর আগে অনেক খবর নিয়ে জেনেছিলেন তিনি মারা গিয়েছেন। আজ ভূতের মতো বেঁচে ফিরে এলেই হল? উঃ, আর কত বুজরুকি দেখব!’

    ‘তা হলে তুমি কাঁদলে কেন? কেন চলে এলে?’

    ‘আমি সহ্য করতে পারছিলাম না।’

    ‘কিন্তু ধরো ঠাকুরদা তখন মারা যাননি, আজ সত্যি উনি ফিরে এসেছেন!’

    ‘কে বলল মারা যায়নি! যখন মানুষের মন থেকে টান চলে যায় তখন সে বেঁচে থাকে নাকি! নে ওঠ, খেয়ে নে।’

    অবাক হয়ে তাকিয়েছিল দীপা। তার মনে হল ঠাকুমা ঠিকই বলছেন। ঠাকুরদা যদি ঈশ্বরকে পাওয়ার জন্যে পঞ্চাশ বছর ধরে স্বার্থপরতা দেখান, যদি আজ সংসারে এক মুহূর্তের জন্যে এই ফিরে আসাটা স্বার্থের কারণে হয়ে থাকে, তা হলে ঠাকুমা ঠিকই করেছেন তাঁর অস্তিত্ব অস্বীকার করে। সে বলল, ‘দাঁড়াও!’

    দীপা মনোরমাকে প্রণাম করল। মনোরমা তাকে বুকে জড়িয়ে ধরে হঠাৎ থরথর করে কাঁপতে লাগলেন। দীপা ফিসফিস করে বলল, ‘তুমি শক্ত হও ঠাকুমা, তুমি একজন সন্ন্যাসীর চেয়েও অনেক বড়।’ একটু শান্ত হয়ে মনোরমা জিজ্ঞাসা করলেন, ‘তুই কলেজে ফিরে যাবি তো?’

    দীপা মাথা নাড়ল, ‘যাব।’ মনে মনে সে উচ্চারণ করল, পথ তুমি কার? পথিকের!

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43 44 45 46 47 48 49 50 51
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleসাতকাহন ২ – সমরেশ মজুমদার
    Next Article কইতে কথা বাধে – সমরেশ মজুমদার (অসম্পূর্ণ)

    Related Articles

    সমরেশ মজুমদার

    চব্বিশ ঘণ্টার ঈশ্বর – সমরেশ মজুমদার

    December 4, 2025
    সমরেশ মজুমদার

    ছোটগল্প – সমরেশ মজুমদার

    December 4, 2025
    সমরেশ মজুমদার

    আট কুঠুরি নয় দরজা – সমরেশ মজুমদার

    December 4, 2025
    সমরেশ মজুমদার

    উত্তরাধিকার – সমরেশ মজুমদার

    December 4, 2025
    সমরেশ মজুমদার

    গর্ভধারিণী – সমরেশ মজুমদার

    December 4, 2025
    সমরেশ মজুমদার

    কইতে কথা বাধে – সমরেশ মজুমদার (অসম্পূর্ণ)

    December 4, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Our Picks

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }