Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    সাতকাহন ১ – সমরেশ মজুমদার

    সমরেশ মজুমদার এক পাতা গল্প936 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ৩৫. অমরনাথ শুয়ে আছেন

    অমরনাথ শুয়ে আছেন তাঁর খাটে। যে-খাটটা কখনই তাঁর নিজস্ব ছিল না। বিয়ের পর অঞ্জলি ওই খাট নিয়ে এসেছিল। দীপা কিংবা তাঁর অন্য ছেলেদের অনেক বাল্যস্মৃতি রয়েছে ওই খাটকে ঘিরে। খাটের ওপাশে বসে অঞ্জলি মাঝে মাঝেই অজ্ঞান হয়ে যাচ্ছে। জ্ঞান ফেরামাত্র সে তীব্র চিৎকার করে ঝাপিয়ে পড়ছে অমরনাথের বুকে। চা-বাগানের অন্যান্য বাবুদের স্ত্রীরা তাকে সামলাতে চেষ্টা করছে প্রাণপণে। একজন ছুটে এসে জড়িয়ে ধরলেন মনোরমাকে। নিজেকে তিনি কোনওমতে বহন করে এনেছিলেন এই ঘরে, ছেলের মুখের দিকে তাকিয়ে তিনিও অজ্ঞান হয়ে গেলেন। তাঁকে সেবা করতে ব্যস্ত হয়ে পড়ল কয়েকজন। দূরের দরজায় দীপা দাড়িয়ে রইল পাথরের মতো। তার সঙ্গে হাজার হাজার টাকা এবং একটি ব্যাঙ্ক ড্রাফট।

    অমরনাথকে খুব শান্ত দেখাচ্ছিল। যেন প্রশান্ত মনে ঘুমাচ্ছেন। তার পরনে এখনও লুঙ্গি আর গেঞ্জি। সে দুটিও ধোপদুরস্ত। ডাক্তারবাবু এগিয়ে এলেন দীপার কাছে, হবে জানতাম কিন্তু এত তাড়াতাড়ি হবে ভাবতে পারিনি। প্রচণ্ড লড়াই করেছিলেন, চেষ্টা করলাম।’

    দীপার শরীর এখন চৈত্রের আকাশ। একটা গরম হলকা যেন পাক খাচ্ছে শরীরময়। কথা বলতে গিয়ে আবিষ্কার করল জিভ নড়ছে না। আর সেইসময় অঞ্জলির জ্ঞান ফিরে এল। স্বামীর বুকের দিকে ঝাপিয়ে পড়তে উদ্যত হতেই তার নজর পড়ল দীপার দিকে, সঙ্গে সঙ্গে গলার স্বর পালটে গেল তার। হিমশীতল গলায় যদি উপহাস মেশে তা হলে এমনভাবে শব্দ উচ্চারণ করা যায়।

    অঞ্জলি বলল, এসো, অত দূরে কেন, এসে দ্যাখো, যাকে এতকাল বাবা বলতে, যিনি তোমার সর্বনাশ করেছিলেন বলেছিলে, তিনি কী সুন্দর ঘুমিয়ে আছেন। কাছে এসো।’

    নাড়া খেল দীপা। ঘরে যারা ভিড় করে ছিল গম্ভীর মুখে তারা এবার পরস্পরের মুখ চাওয়াচাওয়ি করতে লাগল। অঞ্জলি টলতে টলতে খাট থেকে নামল। ওকে আটকাবার চেষ্টা কেউ করল না। তার আঁচল মাটিতে লুটোচ্ছিল। কয়েক পা এগিয়ে এসে চিল-চিৎকারে অঞ্জলি বলে উঠল, ‘জন্মমাত্র মাকে খেয়েছিল বিয়েমাত্র স্বামীকে গিলেছিল, তবু তোর নোলা ভরল না রে, ওকে শেষ না করলে তোর কিছুতেই কি পেট ভরছিল না?

    হঠাৎ তারস্বরে চিৎকার করে উঠলেন মনোরমা, ‘বউমা! না, এমন কথা বোলো না, বোলো না। পাপ। হবে, পাপ হবে।

    ‘পাপ হবে?’ ফুঁসে উঠল অঞ্জলি, ‘কীসের পাপ? আর পাপ হলে কে ভয় পাচ্ছে? আমার আর কী রইল? কী হবে পাপে? এতদিন মানুষটা ভাল ছিল। খেত ঘুমাত, তবু তো ছিল। যেই ইনি এলেন কলকাতা থেকে—।’দাঁতে দাঁত লেগে গেল অঞ্জলির। তার শরীর টলতে লাগল। দু’জন মহিলা দু’পাশ থেকে ধরে মেঝেতেই শুইয়ে দিলেন তাকে। সবাই খুব অপ্রস্তুত।

    পাথরের মতো দাঁড়িয়ে ছিল দীপা। এখন তার চৈতন্য পরিষ্কার। কথাগুলো গরম লোহার মতো তাকে এফোঁড় ওফোঁড় করে দিয়ে গেল আচমকা। সে নড়তে পারছিল না।

    ডাক্তারবাবু পাশে দাঁড়িয়ে ছিলেন। এবার তিনি দীপার কাঁধে হাত রাখলেন, ‘আপসেট হয়ো না।’ এইসময় তানেক মানুষ নার্ভ হারিয়ে ফেলে, সেন্স কাজ করে না। উনি কী বলছেন তা নিজেই জানেন না।’

    দীপা দেখল মনোরমাকে ধরাধরি করে নিয়ে যাওয়া হল অমরনাথের কাছে। ছেলের মাথার পাশে। ধপ করে বসে পড়লেন তিনি। ওর খুব ইচ্ছে করছিল অমরনাথের কাছে যায়। কিন্তু সেইসঙ্গে ভয় হচ্ছিল জ্ঞান ফিরে আসামাত্র অঞ্জলি যদি আবার চিৎকার শুরু করে। ওই খারাপ কথাগুলো যদি আবার শুনতে হয়। ডাক্তারবাবু ওর পিঠে হাত দিয়ে তখনও দাড়িয়ে ছিলেন। দীপার সমস্ত শরীর কেঁপে উঠল। সে হঠাৎ জড়িয়ে ধরল ডাক্তারবাবুকে এবং সেইসঙ্গে কান্না ছিটকে উঠল। এতক্ষণের চাপা যন্ত্রণা শোক এবং আহত হবার অনুভূতি মিলে মিশে একাকার। এই কান্না অমরনাথের জন্যে যতটা নিজের জন্যে তার চেয়ে কিছু কম নয়। ডাক্তারবাবু মাথায় হাত বোলাচ্ছিলেন ‘বি স্টেডি। তুমি আর পাঁচটা মেয়ের মতো নও। তোমার নার্ভ খুব শক্ত, আমি জানি। বি স্টেডি।’

    কান্নার বেগ সামান্য কমলে দীপার অনুভবে একটা পুরুষালি গন্ধ ছড়াল। এই গন্ধ অমরনাথ জড়িয়ে ধরলে সে অনুভব করত। পলকেই নিজেকে ছাড়িয়ে নিয়ে সে ছুটে গেল অমরনাথের কাছে। মৃত মানুষের হাত টেনে নিয়ে নিজের মুখ রাখল সে এখানে। আর তখনই খাটের এক কোণে দাড়ানো বড় ভাই বলে উঠল, ‘এই দিদি, তুই বাবাকে ছুঁবি না।’

    কেউ একজন প্রতিবাদ করল, ‘এই, তুই কী যা তা বলছিস?’

    ‘ঠিক বলছি। দিদির জন্যে বাবা মারা গিয়েছে।’

    দীপার কানে কথাগুলো ঢুকছিল। দাঁতে দাঁত চেপে বসেছিল সে। যেন অমরনাথের স্পর্শের আড়ালে নিজেকে লুকিয়ে রাখার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছিল। এই হাত কতবার তাকে ছুঁয়ে গিয়েছে। এখনও উত্তাপ চলে যায়নি চামড়ার। মানুষ মরে গেলে সম্পর্কও মরে যায়?

    ডাক্তারবাবুর গলা কানে এল, শ্যামল, আর দেরি করে কোনও লাভ নেই।’

    শ্যামলদা বলল, ‘নিয়ে গেলেই হয়। সাহেব আসবেন শুনছিলাম।

    ‘এসে পড়লেন বলে। তৈরি হও তোমরা।’

    মনোরমা কোনও কথা বলছেন না। ওরা অমরনাথকে পোশাক পরানোর জন্যে হাত লাগাতেই তিনি দীপাকে নিয়ে নেমে এলেন উঠোনে। একটানা কেঁদে যাচ্ছিল দীপা। তাকে জড়িয়ে ধরে বসে রইলেন রান্নাঘরের সিড়িতে। তার দৃষ্টি শূন্য। দীপাকে আঁকড়ে ধরে বসে থাকা ছাড়া এই মুহূর্তে তার যেন কিছুই করার ছিল না।

    একসময় ললিতাদি এগিয়ে এল কাছে! নিচু গলায় বলল, ‘দীপা, তোমাকে ওঁরা ডাকছেন। একবার এসো।’

    দীপা মাথা ঝাকাল, ‘আমি যাব না, কোথাও যাব না।’ মনোরমার কোল থেকে মুখ তুলতে তার বিন্দুমাত্র ইচ্ছে ছিল না।

    ললিতা বলল, ‘ওঁকে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। সাহেব এসেছেন। এইসময় তোমার গিয়ে দাঁড়ানো উচিত। লক্ষ্মীটি, উঠে এসো।’

    অমরনাথকে শ্মশানে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। দীপা শক্ত হয়ে গেল। আর তখনই মনোরমা শুকননা স্বরে বললেন, ‘যা।’ দীপা ধীরে ধীরে উঠল। ললিতা তার হাত ধরল।

    অঞ্জলিকে ধরে রাখা মুশকিল হচ্ছিল। তার পৃথিবীতে আর কেউ নিজের বলে রইল না, এইরকম একটা বাধে আক্রান্ত হয়ে সে বেসামাল হয়ে গিয়েছিল। দীপাকে ছেড়ে দিয়ে ললিতাদি তার কাছে গিয়ে বলল, ‘কাকিমা, নিজেকে একটু সামলান। ছেলেরা সামনে আছে, ওদের কথা ভাবুন।’

    একসময় অমরনাথকে নিয়ে ওরা রওনা হল। শিউলি গাছের পাশ দিয়ে মাঠ ডিঙিয়ে আসাম রোডের দিকে মিছিলটা চলে গেল হরিধ্বনি দিতে দিতে। মেয়েদের শ্মশানে যাওয়ার চল এখনও এ-বাগানে হয়নি। শুধু ছেলে না থাকলে এবং মেয়ে যদি অবিবাহিতা হয় তা হলে তাকে মুখাগ্নির জন্যে নিয়ে যাওয়া হয়। তবে সেসব ক্ষেত্রে মৃতের দাদা ভাই বা ওইরকম আত্মীয় যদি না থাকে তবেই।

    সবাই মিলে অঞ্জলিকে ধরাধরি করে ভেতরে নিয়ে গেলে, দীপা একা মাঠে দাঁড়িয়ে আসাম রোডে শবমিছিল দেখছিল। কিছু বয়স্ক মানুষ যাঁরা শ্মশানে যাননি তারা এখন ফিরে যাচ্ছিলেন যে যার বাড়িতে। এই চা-বাগানের ম্যানেজার তার গাড়িতে চেপে রওনা হচ্ছিলেন শ্মশানের দিকে। ওঠার মুখে জিজ্ঞাসা করলেন, মেয়েরা যদি যেতে চায় তিনি লিফট দিতে পারেন। কিন্তু কেউ কিছু জবাব দিল না।

    যে-মানুষটির সঙ্গে তার সবচেয়ে অপ্রীতিকর সম্পর্ক তৈরি হত বারংবার অথচ যে-মানুষটির ভালবাসা সে অনুভব করত প্রতিটি মুহূর্তে, এই পৃথিবীতে যিনি ছিলেন তার প্রকৃত শুভাকাঙ্ক্ষী, তার এগিয়ে যাওয়ার পথে সবরকম সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন নিজের কথা চিন্তা না করে, আজ আর। তিনি কোথাও রইলেন না।

    দীপা ধীরে ধীরে হাঁটতে লাগল। শ্মশানযাত্রীদের থেকে অনেক দূরে, একা একা। তার পায়ে জুতো নেই, চোখে জলের দাগ। আংরাভাসা নদী, বাজার, চৌমাথা পেরিয়ে সে যখন পুলের ওপর এসে দাঁড়াল। তখন শ্মশানযাত্রীরা নেমে গিয়েছে নীচে। চুপচাপ একা দাড়িয়ে অনেক দূর থেকে মানুষটিকে ছাই হয়ে। যেতে দেখল সে। মানুষটি মরে যাওয়ার পর আগুনের স্পর্শেই শুধু ছাই হয়ে যায়? জীবন্ত মানুষও তো কারও কারও কাছে ছাই হতে পারে! জন্মাবার পর তাকে যে-দুটো মানুষ স্নেহ-ভালবাসায় আপ্লুত হয়ে নিয়ে এসে নিজের সন্তানের মতো মানুষ করতে চেয়েছিল, বাবা ও মা বলতে শিখিয়েছিল, তার একজন যদি চিতার আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে যায়, অন্যজন জ্বালা ঈর্ষার সঙ্গে নিজের অস্তিত্ব লোপ পাবার আশঙ্কায় মরিয়া হয়ে এতদিনের সম্পর্কই শুধু পুড়িয়ে ছাই করে দেয়নি, নিজেকে অনেক নীচে নামাতেও। বিন্দুমাত্র দ্বিধা করেনি।

    দীপা আবার বাড়ির পথ ধরল। চৌমাথায় সবাই তাকে এখন লক্ষ করছে। এই চেনা জায়গাটাকে এখন তার অচেনা মনে হচ্ছে। চৌমাথা, পোস্ট অফিস, স্কুলের মাঠ, বাজার, আংরাভাসা নদী সব যেন অচেনা, অপরিচিত। অথবা তাদের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা স্মৃতিগুলো এই মুহূর্তে অবশ হয়ে গিয়েছে। আসাম রোড দিয়ে কোয়ার্টার্সের সামনে পৌছে স্থির হল সে। এখন সে ওই বাড়িতে থাকবে কী করে? যে-চারজন মানুষ ওই বাড়িতে বাস করবে তাদের তিনজন তাকে আর পছন্দ করছে না। অঞ্জলি যে-ভাষা প্রকাশ্যে ব্যবহার করেছে, বড় ভাই যে কথাগুলো উচ্চারণ করতে সাহস পেয়েছে, তারপর আর ওখানে থাকার কোনও মানে হয় না। যদি এটা মেনে নিতে হয় তা হলে অনেকদিন আগে সে প্রতুলবাবুর বাড়িতে সব মেনে নিয়ে বিধবা হয়ে থাকতে পারত। কিন্তু কোথায় যাবে সে? এই পৃথিবীতে তার যাওয়ার জায়গা নেই। হস্টেল খুলতে দেরি আছে। আর দু’দিন বাদেই পুজো। এবার মা দুর্গা অদ্ভুতভাবে আসছেন তাদের পৃথিবীতে।

    বারান্দায় উঠে এল দীপা। ললিতাদি এবার তার সামনে দাড়িয়ে। যে-ললিতাদি একসময় শ্যামলদাকে পাওয়ার জন্যে আত্মহত্যা করতে চেয়েছিল, যে কারণে শ্যামলদার বাবা আত্মহত্যা করেছিলেন, যাকে এই চা বাগানের সবাই খারাপ মেয়ে বলে একসময় এড়িয়ে চলত, সেই ললিতাদি আজ তাদের বাড়ির সমস্যা সামলাচ্ছে। সময় সবকিছু খুব সহজেই পালটে দিয়ে যায়। ললিতাদি জিজ্ঞাসা করল, ‘কোথায় গিয়েছিলে দীপা?’

    ‘শ্মশানের রাস্তায়।’

    ‘দাহ হয়ে গিয়েছে?’

    ‘হ্যাঁ।’

    ‘এখনই শ্মশানযাত্রীরা ফিরে আসবে। ওদের জন্যে সব ব্যবস্থা করে রেখেছি। বুধুয়াকে পাঠিয়েছি। মিষ্টি আনতে বাজারে। এলে মিষ্টি জল দিতে হবে।’

    ‘বুধুয়া? বুধুয়া এসেছে?’

    ‘হ্যাঁ। খবর পেয়ে চলে এসেছে।’

    ‘কিন্তু মিষ্টি খাওয়াতে হবে কেন?’

    ‘নিয়ম।’ ললিতাদি বলল, ‘মানুষগুলোর তো অনেক পরিশ্রম হল। আর হ্যাঁ, তুমি একবার ভেতরে যাও। তোমার মা বারংবার তোমার খোজ করছেন।’

    দীপা শক্ত হয়ে গেল। ঠোট কামড়াল। ললিতাদি বলল, ‘যাও।’

    অগত্যা দীপা পা বাড়াল। আর এক প্রস্থ আক্রমণ আর একগাদা নোংরা কথায় তাকে স্নান করতে হবে এখন। তখন অমরনাথের মৃতদেহের সামনে দাড়িয়ে সে কথা বলেনি, কিন্তু এবার জানতে চাইবে। কেন তাকে এসব বলা হচ্ছে। কী দোষ তার?

    বড় ঘরটায় মেঝেতে চিত হয়ে শুয়ে আছে অঞ্জলি। তার একপাশে কয়েকজন মহিলা। একজন তাকে ডাকল, ‘এসো। ওই তো দীপা এসে গিয়েছে।’

    অঞ্জলি উঠে বসতে চাইলে একজন মহিলা বাধা দিলেন, না না, আপনি উঠবেন না। অত মাথা ঘুরছে—।’

    কিন্তু অঞ্জলি শুনল না। হাত বাড়িয়ে সে ডাকল, ‘দীপা, কাছে আয়।

    একেবারে অন্যরকম গলা। দীপা হতভম্ব হয়ে গেল। কিন্তু তখনই তার নজর পড়ল অঞ্জলির ওপর। ইতিমধ্যেই হাত থেকে শাখা নোয়া খুলে নিয়ে স্নান করিয়ে দেওয়া হয়েছে তাকে। হঠাৎ যেন শরীরটাকে রক্তশূন্য দেখাচ্ছে। অঞ্জলি এবার কান্না মেশানো গলায় ডাকল, ‘রাগ করিস না মা, কাছে আয়।’

    যেন শেকড়ের শেষ প্রান্তে টান পড়ল। দীপা নিজেকে সামলাতে পারল না। একরকম টলতে টলতেই সে অঞ্জলির কাছে পৌছে গেল। তাকে দুহাতে জড়িয়ে ধরে বুকে টেনে নিয়ে অঞ্জলি করে কেঁদে উঠল, ‘তোকে ও সবচেয়ে ভালবাসত রে। তোর জন্যেই শুধু দিনরাত চিন্তা করত। তোর অত বড় ক্ষতি হওয়ার পর ভীষণ মুষড়ে পড়েছিল মানুষটা। তোকে ও পাগলের মতো ভালবাসত।’

    দীপা কেঁদে ফেলল। এই সত্যি কথাটা বুকের সমস্ত আড়াল যেন এক টানে সরিয়ে ফেলল।

    কান্না চলল কিছুক্ষণ। অঞ্জলি সেই অবস্থায় বলতে লাগল, ‘আমি পাগল হয়ে গিয়েছি রে। আমার মাথার কোনও ঠিক নেই। তোকে তখন কী বলতে কী বলেছি, মানুষটার প্রাণ ছিল না শুনে গেল তো সব, কী করে প্রায়শ্চিত্ত করি।’

    দীপা চিৎকার করে উঠল, ‘মা’

    ‘আমি তোর সঙ্গে সৎমার মতো ব্যবহার করেছি। কী করে করলাম—।’

    এইসময় শ্মশানযাত্রীরা ফিরে এল। বুধুয়াও এল মিষ্টির হাঁড়ি নিয়ে। অঞ্জলির ছোট ছেলে ঘরে ঢুকে এই দৃশ্য দেখে দৌড়ে বেরিয়ে গেল। একটু বাদে বড় ছেলে এল, মা!’ একটি কিশোরের গলা থেকে যুবকের স্বর বের হল যেন!

    অঞ্জলি কেঁপে উঠল। তার কান্না থেমে গেল। দীপাকে জড়িয়ে ধরেই সে আবার অমরনাথের উদ্দেশে বিলাপ শুরু করল। বড় ছেলে যেন হতবাক। দিদি যে আবার মায়ের এত কাছাকাছি পৌছে যাবে সে সম্ভবত আশাই করেনি।

    পুত্রের মৃত্যুশোকে একটা মানুষ যে কতটা পাথর হয়ে যেতে পারে তা মনোরমাকে না দেখে বোঝ দীপার পক্ষে সম্ভব ছিল না। জলপাইগুড়িতে যে-কাপড়ে গিয়েছিলেন সেই এক কাপড়ে তিনি বসে ছিলেন মধ্যরাত পর্যন্ত। সন্ধের মুখে প্রায় জোর করে দীপা তাকে তার ঘরে নিয়ে এসেছিল। বৃদ্ধা বিছানায় শোননি। ঠাকুরের ছবির দিকে পেছন ফিরে চোখ বন্ধ করে বসেছিলেন তিনি। বারংবার বলা সত্ত্বেও কথার জবাব দেননি। মনোরমা সামান্য সুস্থ আছেন আর তার ঠাকুরের সামনে প্রদীপ জ্বলেনি এমন একটা সন্ধ্যার কথা দীপা কখনও কল্পনাও করতে পারেনি। রক্ত মাংসের শরীরটা যেন বাহ্যজ্ঞান হারিয়ে ফেলেছিল।

    আজ রাত্রে এ বাড়িতে রান্না হবার কথাও নয়। দুই ছেলে হবিষ্যি করবে। কিন্তু মেয়েদের জন্যে সামান্য খাবার ডাক্তারবাবুর স্ত্রী পাঠিয়ে দিয়েছিলেন। অঞ্জলি সেটা ছুঁয়েও দ্যাখেনি। রাত বাড়লে দীপার হঠাৎ খিদে পেল। অথচ আবহাওয়া এমন যে সেই খাবার খেতে যেতেও খারাপ লাগছিল। অমরনাথকে সে ভালবাসত। অমরনাথের কাজের প্রতিবাদে সে একসময় জলপাইগুড়ির হস্টেল ছেড়ে চলে এসেছিল। নগ্ন একটা সত্য বলেছিল বলে অমরনাথ সেদিন অপমানিত বোধ করেছিলেন। কিন্তু এর বাইরে অমরনাথই সম্ভবত পৃথিবীর একমাত্র মানুষ যিনি তাকে বুঝতে পারতেন। সেই অমরনাথের চলে যাওয়াটা তার কাছে যেমন কষ্টের তেমনই এই রাত্রে খিদেবোধটাও সমান সত্যি।

    বড় বাড়ির দরজা বন্ধ। উঠোনের ওপাশে রান্নাঘরের দরজা খোলা হয়নি। সে মনোরমার ঘর থেকে বেরিয়ে কলতলার দিকে গেল। টিউবওয়েল টিপে জল বের করে বেশ খানিকটা গিলে ফেলতেই শরীর যেন গুলিয়ে উঠল। মাথায় মুখে জল দিয়ে সোজা হয়ে দাড়াতেই সে চমকে উঠল। রান্নাঘরের বারান্দায় কেউ একজন বসে আছে। কে? চোর? অনেকগুলো চিন্তা একসঙ্গে পাকিয়ে ওঠামাত্র সে চিৎকার করে উঠল, ‘কে?’

    ‘হাম। আমি।’ বুধুয়ার গলা।

    সহসা যেন নিশ্বাস সহজ হল, ‘ওখানে কী করছিস?’

    ‘এইস্যাই। বইঠা হ্যায়।’ বুধুয়ার গলায় নির্লিপ্ততা।

    ‘বাড়ি যাসনি কেন?’

    ‘এইস্যাই।’

    ‘খেয়েছিস কিছু?’

    ‘নেহি। ভুখ নেহি লাগতা।’

    ‘তোর ঘুম পাচ্ছে না?’

    ‘নেহি।’

    দীপা অবাক হয়ে গেল। অমরনাথের সঙ্গে বুধুয়ার সম্পর্ক প্রভু এবং ভৃত্যের। হাটের দিন ব্যাগ হাতে পেছন পেছন যেত। অমরনাথের বাজার করা নিয়ে সে অঞ্জলির সঙ্গে তর্ক করত। কিন্তু কখনই অমরনাথের মুখের ওপর কথা বলার স্পর্ধা দেখায়নি। এই বাড়ির চাকরি থেকে বঞ্চিত হয়ে নিশ্চয়ই খুব কষ্টে ছিল বেচারা। আজ এই রাত্রে একা রান্নাঘরের বারান্দায় ওইভাবে যে-মানুষ বসে থাকে তার মনটাকে এ-বাড়ির কেউ কখনও বুঝতেই চায়নি। দীপা বলল, ‘বুধুয়া, তুই রান্নাঘরে গিয়ে শুয়ে পড়।’

    বুধুয়া জবাব দিল না। এবং দীপা আবিষ্কার করল তার সমস্ত খিদেবোধটা এক মুহুর্তেই উধাও হয়ে গিয়েছে। পায়ে পায়ে মনোরমার ঘরে ঢুকে সে দরজা দিল। তারপর দু’হাতে মনোরমার কাঁধ ঝরে কঁকাল, ঠাকুমা, ঠাকুমা এবার উঠে বসো।’

    মনোরমা চোখ তুলে তাকালেন। তারপর শুকনো গলায় জানতে চাইলেন, কার সঙ্গে কথা বলছিলি?’ দীপা বলল, ‘বুধুয়া। রান্নাঘরের বারান্দায় বসে আছে। তুমি ওঠো। শুয়ে পড়ো। তুমি না শুলে আমি ঘুমাতে পারব না।’

    মনোরমা উঠলেন, ‘আমি বাথরুম থেকে আসছি। তুই আমার বিছানা নীচে করে দে।’

    ‘নীচে কেন?’

    ‘ছেলেদুটো আজ নীচে শোবে, আমি খাটে শুতে পারব না।মনোরমা বাইরে বেরিয়ে গেলেন। আর তার কয়েক সেকেন্ড বাদে হঠাৎ একটা কান্না বাজল উঠোনে। এ নিশ্চয়ই বুধুয়া। দীপা দরজা ফাক করে দেখার চেষ্টা করল। মনোরমা দাড়িয়ে আছেন উঠোনে আর তার পায়ের ওপর মাথা রেখে বুধুয়া কেঁদে যাচ্ছে, ‘বাবু দেওতা থা, মা, বাবু হামকো তিনশো রুপিয়া দেকে বোলা বুধুয়া, আজসে তুম কিসি কো গোলাম নেহি হ্যায়, তুম ব্যাবসা করো। লেকিন হাম জিন্দেগি ভর বাবুকো গোলাম—।’

    অমরনাথের মৃত্যু যেন একটি পরিবারের বিশেষ কারও চলে যাওয়া নয়, চা বাগানের সমস্ত মানুষের আত্মীয়বিয়োগ বলে ক্রমশ মনে হচ্ছিল। দু’বেলা মানুষজনঃ আসছেন। ডাক্তারবাবুর পরিবার বিশেষ করে দেখাশোনা করছেন। শ্যামলদা এবং ললিতাদি দু’বেলা খবর নিচ্ছেন। অঞ্জলি যত তাড়াতাড়ি ভেঙে পড়েছিল তত তাড়াতাড়ি সামলে উঠেছে।

    পুজো এসে গেল অমরনাথের শ্রাদ্ধের আগেই। এ-বাড়িতে পুজোর আবহাওয়া নেই। এখনও পুজো হচ্ছে বাজারে। চা-বাগানের একমাত্র পুজো কালীঠাকুরের। দুই ভাই থাকা সত্ত্বেও অমরনাথের কাজের ব্যাপারে দীপাকেই সব দায়িত্ব নিতে হচ্ছে। দু’জনের সঙ্গে সম্পর্ক একটুও স্বাভাবিক হয়ান তার। কিন্তু সেটা নিয়ে মোটেই ভাবছে না সে। অঞ্জলি তার সঙ্গে ভাল ব্যবহার করছে এখন। ব্যাঙ্ক ড্রাফট পোস্ট অফিসে জমা দেওয়া হয়ে গিয়েছে অঞ্জলির নামে। সেইটে পাওয়ায় তার দুশ্চিন্তা সামান্য কমেছে।

    এসব সত্ত্বেও মনোরমা কিন্তু মোটেই স্বাভাবিক হননি। ঠাকুমাকে বোঝাবার কিছু নেই। যে-মানুষ জীবনে অনেক অভিজ্ঞতার মধ্যে দিয়ে এসেছে তাকে নতুন করে উপদেশ দিতে যাওয়ার কোনও মানে হয় না। তবু এক রাত্রে দীপা তাকে বলেছিল, তুমি কেন এত চিন্তা করছ ঠাকুমা। আমার ওপর তোমার একটুও ভরসা নেই?

    মনোরমা জবাব দেননি। এখন তিনি একবেলা খাচ্ছেন। প্রায় হবিষ্যান্নই বলা চলে। একা থাকলেই উদাস চোখে তাকিয়ে থাকেন। দীপা দ্বিতীয়বার কথাটা তুলতে মুখ খুলেছিলেন, ‘আমার শৈশব কেটেছিল বাবা-মায়ের কাছে, সবার যেমন কাটে। অল্প বয়সে বিয়ে হল। স্বামীকে পেলাম। তাঁর বাড়িতে গেলাম। বাবা-মায়ের হাত থেকে তিনি আমার দায়িত্ব নিলেন। কিন্তু কিছুদিনের মধ্যে নৌকাডুবি হল, পেটে তোর বাবাকে নিয়ে ফিরে এলাম আবার সেই বাবার কাছে। তারপর বাবা গেলেন। ভাই দায়িত্ব নিল আমার। ছেলে হল, মানুষ করলাম। উপযুক্ত ছেলে চাকরি পেয়ে নিয়ে এল কাছে। এবার সে নিল দায়িত্ব। জীবনে এত স্বস্তি কখনও পাইনি। তা সেই ছেলেও চলে গেল। এবার দায়িত্ব নেবে ছেলের বউ? হয়তো নেবে। কিন্তু আমি কে? আমি কি একটা মানুষ? এইভাবে একজনের পর একজনের কাধে ভর করে বেঁচে থাকাকে কি মানুষের জীবন বলে? তোর মাকে কি আমি কখনও চিনতাম? অথচ এখন তার ভরসায় আমাকে জীবন কাটাতে হবে। এই হল বিধিলিপি।’

    দীপা অবাক হয়ে বৃদ্ধার মুখের দিকে তাকিয়ে ছিল। আত্মসম্মানবোধ প্রতিটি মানুষের আছে। যারা নিজেকে উন্মোচিত করতে অক্ষম তারা সেটাকে চেপে রাখে, মুখ বুজে সয়ে যায়। কিন্তু মনের মধ্যে মাঝে মাঝেই সেই বোধটা নিশ্চয়ই ঠোকর মারে। তাঁরা হয়তো দ্বারকানাথ ঠাকুরের স্ত্রী দিগম্বরী দেবী হতে পারেন না কিন্তু জ্বালা তো সবার সমান। সে বলেছিল, ‘ঠাকুমা, আমি তো তোমাদের বংশের কেউ নই। তোমাদের রক্ত আমার শরীরে নেই। কিন্তু জ্ঞান হবার পর থেকেই আমি তোমার গায়ের গন্ধ নিয়ে প্রতিটি রাত্রে ঘুমিয়েছি। মেয়ে হিসেবে কী করা উচিত তা শিখেছি তোমার কাছ থেকে। এখন বলো তোমার সঙ্গে আমার সম্পর্ক কি রক্তের সম্পর্কের চেয়ে কম দামি?’

    মনোরমা দীপার হাত জড়িয়ে ধরলেন। সেই স্পর্শে অনেক কথা বলে ফেললেন তিনি।

    দীপা বলল, ‘তুমি আর কয়েকটা বছর অপেক্ষা করো ঠাকুমা, আমি চাকরি পাওয়ামাত্র তোমাকে আমার কাছে নিয়ে যাব। তুমি আর আমি থাকব।’

    দীপা যাই বলুক মনোরমার কোনও পরিবর্তন ঘটল না। অঞ্জলি ব্যাপারটাকে যেন লক্ষই করছিল না। এমনকী অমরনাথের কাজের ব্যাপারে সে যখন মনোরমার কাছে এসে জিজ্ঞাসা করেছিল, ‘আপনার যদি কিছু বলার থাকে বলুন। আমি আমাদের সাধ্যমতো সব করার চেষ্টা করছি—।’মনোরমা তখন জবাব দিয়েছিলেন, ‘তুমি যা ভাল বোকো তাই করো।’

    শ্রাদ্ধের কাজে যোগ দেবার জন্যে বাবুদের বাড়িতে গিয়ে ছেলেরা বলে এসেছে। বাজার এবং অন্যান্যদের জানানো হয়েছে। দূরের আত্মীয়দের চিঠিতে সংবাদ জানানোর কাজ সারা। কলকাতায় সুভাষচন্দ্রকে অঞ্জলি নিজে চিঠি লিখেছে। সুভাষচন্দ্র টেলিগ্রামে দুঃখ প্রকাশ করে জানিয়েছেন তার শরীর এত খারাপ যে আসা সম্ভব হচ্ছে না। অঞ্জলি শ্রাদ্ধের দু’দিন আগে দীপাকে বলল, ‘তুই অফিসে। গিয়ে সাহেবকে নেমন্তন্ন করে আয়।’

    ‘আমি? আমি কখনও ওদিকে যাইনি।’

    ‘যাইনি বলে কখনও যাবি না এমন তো কথা নেই।’

    ‘কী বলব?’

    ‘আসতে বলবি। এখন ওই লোকটার ওপর সব নির্ভর করছে।’

    ‘তার মানে?’

    বড় হয়েছিস অথচ বাস্তবান হচ্ছে না কেন? তোর বাবার চাকরি যতদিন ছিল, অফিসে না গেলেও, এই বাড়িতে থাকার হক ছিল আমাদের। এখন তো যে-কোনও মুহূর্তে বলে দিতে পারে বাড়ি ছেড়ে দাও। অবশ্য যদ্দিন সব প্রাপ্য টাকা না হাতে দিচ্ছে তদ্দিন তাড়াতে পারবে না। কিন্তু দিয়ে দিলেই তো অন্য বাবুকে ঢুকিয়ে দেবে এখানে। যদি পারিস এ ব্যাপারে কথা বলিস একবার।

    ‘কী কথা বলব?’

    ‘বড় খোকা পাশ করা পর্যন্ত যদি এখানে থাকা যায়!’ অঞ্জলি মরিয়া হয়ে বলল। দীপা কিছু বলল না।

    চা বাগানের ভেতর দিয়ে মুড়ি বিছানো পথ দিয়ে অফিস এবং ফ্যাক্টরির দিকে যাওয়া নিষেধ ছিল। ছেলেবেলায়। দীপা সেই পথে ফ্যাক্টরির সামনে আসতেই মালবাবুর সঙ্গে দেখা হয়ে গেল। তিনি অবাক হয়ে জিজ্ঞাসা করলেন আসার কারণ। দীপা উদ্দেশ্যটা জানাতেই নিজে স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে নিয়ে গেলেন অফিস বাড়িতে। গিয়ে বড়বাবুকে ব্যাপারটা বললেন। বড়বাবু দীপাকে নিয়ে গেলেন। বড় সাহেবের ঘরে। পরিচয় করিয়ে দেবার পর বড়সাহেব ওকে বসতে বললেন। দীপা বসল।

    বড়সাহেব বললেন, এটা খুবই দুঃখের ব্যাপার। মিস্টার মুখার্জি এই চা-বাগানের অ্যাসেট ছিলেন। কোম্পানি তার চিকিৎসার জন্যে সবরকম সহযোগিতা করেছে কিন্তু শেষরক্ষা হল না। ওয়েল, নিশ্চয়ই যাব আমি। কখন যেতে হবে?’ ভদ্রলোক কথা বলছিলেন যে-ইংরেজিতে তার উচ্চারণ বুঝতে অসুবিধে হচ্ছিল না দীপার।

    দীপা বলল, ‘এগারোটা নাগাদ এলে ভাল হয়।’

    ‘ঠিক আছে। তুমি তো কলকাতায় পড়ো? কোন কলেজে?’

    ‘স্কটিশ চার্চ।’

    ‘আচ্ছা! ইন্টারমিডিয়েট পাশ করেছ?’

    ‘আমার থার্ড ইয়ার চলছে।’

    ‘গুড। ঠিক আছে, আমি যাব।’

    শ্রাদ্ধের দিন যে ব্যাপারটা ঘটবে তা দীপা আন্দাজ করেনি। একগাদা মানুষের সামনে বড়সাহেব বড়বাবুকে দিয়ে অঞ্জলিকে ডেকে আনলেন। দীপা দাড়িয়ে ছিল। বড়সাহেব হিন্দিতে বললেন, ‘আপনার মেয়ের সঙ্গে কথা বলে আমার ভাল লেগেছে। ও ইংরেজি বলতে এবং বুঝতে পারে। আমাদের কোম্পানিতে এখনও মেয়েদের ক্লার্ক হিসেবে নেওয়া হয়নি। ইন ফ্যাক্ট কেউ অ্যাপ্লাই করেনি। কিন্তু মিস্টার মুখার্জির মেয়ে হিসেবে আমি ওর নাম হেডঅফিসে সুপারিশ করব যাতে এখানে ওকে চাকরি দেওয়া হয়। ওর যা কোয়ালিফিকেশন তাতে কোনও অসুবিধা হবে না। আপনার আপত্তি আছে?’

    অঞ্জলি বিগলিত হল, ‘আপনার দয়া। ওর চাকরি হলে আমরা বেঁচে যাব। এই বাড়ি ছেড়ে কোথায় যাব ভেবে পাচ্ছিলাম না।’

    ‘না না। ও চাকরি করলে আপনাদের এখান থেকে কোথাও যেতে হবে না।’ বড়সাহেব দীপার দিকে তাকিয়ে বললেন, ‘তুমি কালই আমাকে অ্যাপ্লিকেশন দিয়ো।’

    দীপা কী বলবে বুঝে উঠছিল না। এই চা-বাগানে চাকরি করা মানে সমস্ত জীবন একটা কুয়োর মধ্যে আটকে থাকা। যে স্বপ্ন সে দেখছে তা থেকে লক্ষ মাইল ছিটকে যাওয়া। একটা কেরানির জীবন কি তার কাম্য? কখনই না। অমরনাথ বলেছেন, অনেক ওপরে উঠতে হবে, অনেক বড় হতে হবে তাকে।

    বড়সাহেব জিজ্ঞাসা করলেন, ‘কী ভাবছ তুমি?’

    ‘আমার বাবা চেয়েছিলেন আমি যেন গ্র্যাজুয়েট হই।’

    ‘আচ্ছা! কিন্তু তুমি এখনই চাকরি করতে পারো।’

    ‘বাবার ইচ্ছেটাই আমার ইচ্ছে।’

    ‘ওয়েল, সেটা তোমার ব্যাপার। কতদিন লাগবে?

    ‘দু’বছর।’

    ‘আমি জানি না কোম্পানি এতটা দিন তোমাকে ডিস্টার্ব না করে থাকবে কিনা। দেখি, কী করতে পারি। তুমিও ভেবে দ্যাখো।’ সাহেব গম্ভীর হয়ে গিয়েছিলেন।

    সেই রাত্রে তুমুল হল। অঞ্জলি যেন পাগল হয়ে গেল। প্রথমদিকে বোঝাতে চেয়েছিল ভাল কথায়, শেষে শ্লেষ এল গলায়, ‘বিদ্যেধরী হবে। গ্র্যাজুয়েট হয়ে দুটো ডানা নেড়ে ঘুরে বেড়াবে? তখন কেউ দেবে চাকরি? তোমার বাবা এই কবেই তোমাদের মানুষ করেননি? আমি কোনও কথা শুনতে চাই না।

    ‘আমি আগে পড়াশুনা শেষ করব। আই এ এস দেব।’

    ‘তাতে আমার কী হবে? আমি তো তখন পথে বসব। একটু কৃতজ্ঞতা বোধ নেই তার। জন্ম দিয়ে মা মরে গেল, বাপ দায়িত্ব নিল না, আমরাই তোকে এত বড় করেছি, আর আমাদের দুর্দিনে তুই পাশে দাঁড়াবি না?’

    দীপা বলল, ‘মা, যে টাকা পোস্ট অফিসে আছে, যা কোম্পানি থেকে পাবে তাতে তোমরা তিন-চার বছর বাড়ি ভাড়া করে ভালভাবে থাকতে পারবে। তদ্দিনে আমার চাকরি হয়ে যাবেই। আমাকে এই বদ্ধ জায়গায় সারাজীবন কাটাতে হবে না। তখন তোমরা আমার কাছে থাকতে পারবে।’

    ‘বাঃ। সেইসময় যদি তোমার মতিগতি পালটে যায় তা হলে জমানো টাকা শেষ করে কোথায় দাঁড়াব আমরা?’

    ‘মতিগতি তো এখানে থাকলেও পালটাতে পারে।’

    ‘না। এখানে তোমাকে মন্ত্রণা দেবার কেউ নেই।’ অঞ্জলি বলল, ‘এখানকার সবাই জানবে তুমি বাবার জন্যে চাকরি পেয়েছ।’

    দীপা কোনও জবাব দিল না। চা-বাগানের এই জীবন অমরনাথদের কি পছন্দ ছিল! কোনও উচ্চাশা নেই, শুধু দিনগত পাপক্ষয় করে যাওয়া! অসম্ভব। সে মরে গেলেও এখানে থাকতে পারবে না। তাকে অনেক বড় হতে হবে। এই পুরুষশাসিত সমাজব্যবস্থা থেকে বেরিয়ে নিজের পায়ে দাঁড়াতে হবে। কিন্তু সে কি অকৃতজ্ঞ হচ্ছে? না। কখনওই নয়। অঞ্জলির ব্যবহার যাই হোক সে কখনওই কর্তব্য থেকে সরে যাবে না।

    অঞ্জলি জিজ্ঞাসা করল, ‘চুপ করে কী ভাবছ?’

    ‘বড়সাহেবের কাছে তো আমি সময় চেয়েছি।’

    ‘সময় যদি না দেয়?’

    ‘তখন দেখা যাবে।’

    ‘এটা তো পাশ কাটানো কথা। তোর ব্যাপার কী বল তো?’

    ‘কী ব্যাপারে?’

    ‘কলকাতার কোনও ছেলে কি তোর মাথা ঘুরিয়েছে?’

    ‘কী যা-তা বলছ?’

    ‘ঠিকই বলছি। তোর মামা একবার লিখেছিল এমন কথা। শোনো দীপা, যে-ছেলের সঙ্গে তুমি ঘুরে বেড়াও সে মজা লোটা ছাড়া কিছু করবে না। যদি কুমারী হতে তা হলে হয়তো বিয়েথা করত। চারধারে যখন এত কুমারী মেয়ে ফ্যা ফ্যা করে ঘুরে বেড়াচ্ছে তখন সাধ করে কেউ বিধবাকে বিয়ে করে? ওসব মতলব ছেড়ে দে।’

    ‘তুমি মিছিমিছি ভয় পাচ্ছ মা। আমি যাই করি কখনও অকৃতজ্ঞ হব না।’

    এই সরল স্বীকারোক্তিতে আস্থা পেল না অঞ্জলি। সমানে সে আক্রমণ চালিয়ে গেল ক’দিন ধরে। শেষপর্যন্ত ঘোষণা করল, ‘ঠিক আছে, যদি দুই-আড়াই বছর সাহেব অপেক্ষা না করে, যদি আমাদের। এই বাড়ি ছেড়ে যেতে বাধ্য করে, তা হলে যেন এ-জীবনে তোর মুখ আমাকে দেখতে না হয়। আমি লোকের বাড়িতে বাসন মেজে খাব তাও ভাল তবু তোর পয়সায় মুখে ভাত তুলব না।’

    ‘তুমি কি আমাকে এখনই চলে যেতে বলছ?’

    ‘তোকে আমি আর সহ্য করতে পারছি না।’

    ‘বেশ, আমি চলে যাচ্ছি।’

    ‘তাই তো যাবি। নিজের আখের গুছিয়ে চলে যাবি না?’

    আর তখন বড় ছেলে বলল, ‘মা, তুমি কেন এত খোশামোদ করছ। দু’বছর পরে আমি স্কুল ফাইন্যাল পাশ করে যাব। তখন সাহেবকে বলব আমাকে চাকরি দিতে।’

    এই বিতর্কে মনোরমা অংশ নিলেন না। তিনি যেন এসব ব্যাপারের অনেক ঊর্ধ্বে চলে গিয়েছেন। যেদিন দীপা কলকাতায় যাবে তার আগের রাত্রে তিনি কথা বললেন, দীপা, তোর মনে আছে, অনেকদিন আগে তেজেনবাবু আমাকে নিয়ে হরিদ্বার যেতে চেয়েছিলেন। তোর বাবা অভিমান করেছিল, আমি যেতে চাইনি!

    ‘মনে আছে। খুব মজা হয়েছিল।’ দীপা বলল।

    ‘এখন মনে হয় তখন গেলে পারতাম।’

    ‘কেন?’

    ‘যদি সেই মানুষটার দেখা পেতাম তা হলে বলতাম আমার এত বড় সর্বনাশ কেন করল?’

    ‘কে?’

    ‘যে একটা রাত্রে এসেছিল দায় মেটাতে!’

    ‘ঠাকুমা!’

    ‘হ্যাঁ রে। যে সন্ন্যাসী সে তো সংসারের কাছে মৃত। আমার কাছেও। আমার বৈধব্য তাই সত্যি। কিন্তু সেই মানুষটা তো বেশ বেঁচে আছে।’

    ‘তুমি তো কখনও সেটা স্বীকার করোনি।’

    ‘স্বীকার করলে তোর বাবা খুব কষ্ট পেত।’

    ঠাকুমা, তুমি আমার সঙ্গে হরিদ্বারে যাবে?’

    ‘কেন?’

    ‘ওঁকে খুঁজতে।’

    ‘হিমালয় তো এটুখানি জায়গা নয়। এত বড় একটা পর্বতে কাউকে খুঁজতে যাওয়া বোকামি।’ মনোরমা নিশ্বাস ফেললেন। তারপর দু’হাতে দীপাকে জড়িয়ে ধরে পাশ ফিরে বললেন, ‘মাগো, জীবন হিমালয়ের চেয়ে অনেক বড়। সেখান থেকে যেটা খুঁজে নিতে চাইবি সেটা খুঁজবি আন্তরিকভাবে। কারও সঙ্গে আপোষ করবি না। আমার বয়সে কিছু খোঁজা যায় না, খুঁজে পাওয়া যায় না, কিন্তু তোর বয়সটা ঠিকঠাক খোঁজার বয়স।’

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43 44 45 46 47 48 49 50 51
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleসাতকাহন ২ – সমরেশ মজুমদার
    Next Article কইতে কথা বাধে – সমরেশ মজুমদার (অসম্পূর্ণ)

    Related Articles

    সমরেশ মজুমদার

    চব্বিশ ঘণ্টার ঈশ্বর – সমরেশ মজুমদার

    December 4, 2025
    সমরেশ মজুমদার

    ছোটগল্প – সমরেশ মজুমদার

    December 4, 2025
    সমরেশ মজুমদার

    আট কুঠুরি নয় দরজা – সমরেশ মজুমদার

    December 4, 2025
    সমরেশ মজুমদার

    উত্তরাধিকার – সমরেশ মজুমদার

    December 4, 2025
    সমরেশ মজুমদার

    গর্ভধারিণী – সমরেশ মজুমদার

    December 4, 2025
    সমরেশ মজুমদার

    কইতে কথা বাধে – সমরেশ মজুমদার (অসম্পূর্ণ)

    December 4, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Our Picks

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }