Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    সাতকাহন ১ – সমরেশ মজুমদার

    সমরেশ মজুমদার এক পাতা গল্প936 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ৩৮. দীপা চুপ করে আছে

    দীপা চুপ করে আছে দেখে মহিলা বললেন, ‘তুমি নিশ্চয়ই খুব অবাক হচ্ছ। অবাক হবার কথাই। হঠাৎ এভাবে কেন তোমার কাছে এলাম তা ভাবা খুবই স্বাভাবিক।’

    দীপা কোনও কথা বলল না। হঠাৎ মনে হল তার মাথা আর নিতে পারছে না। কেমন যেন টালমাটাল লাগছে নিজেকে। পঞ্চাশ বছর পরে সন্ন্যাসী হয়ে ফিরে আসা ঠাকুরদার গল্পটিকে ঠাকুমা বলেছিলেন ভুতুড়ে। একসময় তো কিছুতেই স্বীকার করতে পারেননি। সে পরে যাকেই ওই গল্প শুনিয়েছে সে-ও মাথা নেড়েছে, ইম্পসিবল। ভূত কিংবা ভণ্ড ছাড়া এমন হতে পারে না। অথচ জীবন অদ্ভুত। এই মহিলাকে নিয়ে এসে মামা বলছেন প্রণাম করতে কারণ ইনি তার সৎ মা।

    সুভাষচন্দ্র বললেন, ‘তোর বাবার খুব ইচ্ছে ছিল এখানে আসে। কিন্তু—।’ কথা শেষ করলেন না তিনি, অপরাধীর ভঙ্গি নিয়ে তাকালেন।

    ‘কিন্তু কী?’ খুব নিচু গলায় জানতে চাইল দীপা।

    ‘তুই কীভাবে নিবি তা বুঝতে পারছিল না। আসলে আমার কাছেই শুনেছে যে আর পাঁচটা সাধারণ মেয়ের সঙ্গে তোর কোনও মিল নেই।’ সুভাষচন্দ্র বোঝাতে চাইলেন।

    কিন্তু মহিলা মাথা নাড়লেন, ‘আহা! সত্যি কথাটাই বলুন ওকে। শুনেছি তুমি জন্মাবার পরই দিদি মারা যান। তোমার মাসি দায়িত্ব নেওয়াতে তোমার বাবা মুক্ত করে ফেলেন নিজেকে। আজ তাঁর অনুশোচনা হতেই পারে। কিন্তু যে মানুষটা বাবা হয়ে তোমার জন্যে কোনও কর্তব্য কখনও করেনি সে কোন মুখ নিয়ে একদম প্রথমে এসে দাঁড়ায় সামনে।’

    ‘তাই আপনি এসেছেন?’ দীপার গলার স্বর পালটাচ্ছিল না।

    ‘হ্যাঁ। আমার সঙ্গে তো তোমার কোনও শত্রুতা নেই, তুমি আমাকে দ্যাখোনি আমিও না।’

    ‘ভালই। আপনারা কলকাতায় থাকেন।’

    ‘হ্যাঁ গো। পাকপাড়ায়, ইন্দ্র বিশ্বাস রোডে। এখান থেকে বেশি দূর নয়।’ ‘আমার কথা আপনারা কীভাবে জানলেন?’

    এবার সুভাষচন্দ্র জবাব দিলেন, ‘আমিই বলেছি।’

    ‘ওঁদের কথা আপনি জানতেন?

    ‘না না। জানলে তোমাদের নিশ্চয়ই জানাতাম। হঠাৎ যোগাযোগ হয়ে গেল। পাকপাড়ায় তোমার মামিমার সেজ পিসি থাকেন। তাঁর ছেলের বিয়ে দেবেন বলে স্থির করেছিলেন। এক ঘটক সম্বন্ধ নিয়ে এল, মেয়ে স্কুল ফাইন্যাল পাশ করেছে, পাকপাড়াতেই বাড়ি। আমি এসবের কিছুই জানতাম না। মেয়ে দেখা হয়েছে, এখন দেনাপাওনা নিয়ে কথা হচ্ছে। ছেলে ব্যাঙ্কে চাকরি করে তো! সেইসময় তোমার মামিমার সেজ পিসে একদিন ছুটতে ছুটতে এসে খবর দিলেন, মেয়েটি ভদ্রলোকের দ্বিতীয় পক্ষের, প্রথম পক্ষের বিয়ে হয়েছিল নাকি মালবাজারে। আমরা মালবাজারে এককালে থাকতাম তা তিনি জানতেন। কৌতূহল হল, গেলাম আলাপ করতে। ব্যস, দেখি তোমার বাবাই মেয়ের বাবা।’ হাসলেন সুভাষচন্দ।

    ‘তারপর?’

    ‘তারপর আর কী হবে? অনেক মান অভিমানের কথা হল। বুঝলাম স্রেফ লজ্জায় তোমার খোঁজখবর করার ইচ্ছে থাকা সত্ত্বেও ওঁর পক্ষে করা হয়ে ওঠেনি। আমার কাছে তোমার খবর পেয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়লেন, তখনই দেখা করতে আসবেন। আমি তাকে কোনওমতে শান্ত করলাম। তোমার কথা সব বললাম। খুব কষ্ট পেলেন। তারপর থেকেই বলতে আরম্ভ করেছেন, সে কি আমার মুখ আর দর্শন করবে! আমার বড় মেয়ে, যে নেই বলে বিবাগী হয়েছিলাম তাঁর রক্ত ওর শরীরে, ও কি আমাকে কখনও বাবা বলে ডাকবে। খুব নরম মনের মানুষ হে।’

    এবার ভদ্রমহিলা বললেন, ‘আমি জানি, তোমার অভিমান হওয়া খুব স্বাভাবিক। তবে দিদিকে উনি এত ভালবাসতেন যে ওঁর মৃত্যু সহ্য করতে পারেননি। কিন্তু যতই হোক বাবা সবসময়ই বাবা। আমি কথা দিয়ে এসেছি আজ তোমাকে ওঁর কাছে নিয়ে যাব।’ দীপার হাত ধরলেন মহিলা বেশ আবেগ নিয়েই। ধীরে ধীরে হাত ছাড়িয়ে নিল দীপা, ‘আজ তো সম্ভবই নয়। আমার শরীর খুব খারাপ।’

    ‘শরীর খারাপ? কী হয়েছে?’ সুভাষচন্দ্র জানতে চাইলেন।

    ‘খুব দুর্বল লাগছে।’ উঠে দাঁড়াল দীপা।

    ‘তা তো হবেই। এত পড়ার চাপ, তার ওপর পুলিশ টুলিশের ঝামেলা। মহিলা মাথা নাড়লেন, ‘তা হলে আজ থাক। কাল কিংবা পরশু? মুশকিল হল, তার বেশি দেরি করলে ওঁকে আটকে রাখা যাবে না। এখানে এসে উনি যদি কান্নাকাটি করেন তা হলে পাঁচজনে কী বলবে বলো তো? তা ছাড়া তোমার বোনেরাও আলাপ করতে উৎসুক।’

    দীপা জবাব দিল না। মহিলা সুভাষচন্দ্রকে বললেন, ‘চলুন। ওকে একটু বিশ্রাম নিতে দিন। দেখে মনে হচ্ছে সারাদিনে ওর ওপর খুব ধকল গিয়েছে।’

    সুভাষচন্দ্র উঠলেন, ‘ঠিক আছে। কাল আমি বিকেল পাঁচটায় এসে তোকে নিয়ে যাব। শরীরের ওপর যত্ন নিস। অমরনাথ মুখার্জি নেই বলে ভাবিস না তোর সঙ্গে কেউ নেই। আমরা তো আছি।’ বাইরে পা বাড়ালেন তিনি। দীপা চুপচাপ দাঁড়িয়ে ওদের চলে যেতে দেখল। গেট পেরোবার আগে মহিলা মুখ ফিরিয়ে একবার মিষ্টি করে হেসে যাই বললেন। দীপা নড়ল না। সে কিছুই বুঝতে পারছিল না। সুভাষচন্দ্র যেন বেশ কিছুটা বদলে গিয়েছেন। এখন তাঁর কথাবার্তার মধ্যে খুব চেনা একটা লোকের আদল আসছে। লোকটা কে তা সে মনে করতে পারছে না। কিন্তু আজ সুভাষচন্দ্রকে কিছুতেই ভাল লাগছিল না তার। যে-ভদ্রমহিলা তাকে জন্ম দিয়েই দেহ রেখেছেন তাঁর সঙ্গে সুভাষচন্দ্রের যে-সম্পর্ক ছিল অঞ্জলির সঙ্গেও একই সম্পর্ক। মনে পড়ছে অমরনাথের চিকিৎসার জন্যে কলকাতায় আসার প্রস্তাব দিয়ে অঞ্জলি যখন চিঠি দিয়েছিল তখন সুভাষচন্দ্র জানিয়েছিলেন, সাত দিনের জন্যে কোনও অসুবিধে নেই। খুব খারাপ লেগেছিল তখন। পরে কলকাতায় এলে তিনি অনেক করেছেন। আবার অমরনাথের অসুস্থতা, আর্থিক দুর্গতি আরম্ভ হবার পর থেকেই তিনি যেন নিজেকে সরিয়ে নিয়েছেন। সেই একই মানুষ আবার মৃত বোনের পালিয়ে যাওয়া স্বামীর সঙ্গে এতদিন পরে সম্পর্ক তৈরি করার জন্যে ব্যস্ত হয়ে উঠলে অবাক হতেই হয়। দীপা চোখ বন্ধ করল। অসম্ভব। বাবা বলে কাউকে চিন্তা করলেই অমরনাথের মুখ মনে আসছে। যিনি তাকে জন্ম দিয়েছিলেন তাঁর সম্পর্কে কিছুদিন ধরে একটা কৌতূহল তৈরি হচ্ছিল বটে। কিন্তু তাঁকে অমরনাথের জায়গায় বসানোর বিন্দুমাত্র ইচ্ছে তার নেই। আর কাউকে সে কখনও বাবা বলতে পারবে না। কিন্তু এই মহিলা, সম্পর্কে যিনি তার সৎ মা, ব্যবহার করলেন বেশ ভাল। একেই হয়তো বুদ্ধিমতীর ব্যবহার বলে।

    হস্টেলের ভেতরে পা বাড়াতে গিয়ে গেটের দিকে নজর গেল। অসীম বলে গেছে কিছু বাদেই ঘুরে আসবে। এর মধ্যে অনেকটা সময় গিয়েছে, কিন্তু ও আসেনি। সুভাষচন্দ্র ওকে পছন্দ করেননি। সে সামনে থাকতেই যে-ধরনের ব্যবহার করেছিলেন তাতে বোঝাই যাচ্ছে পরে ভাল কিছু করতে পারেন না। অসীম যদি সেই কারণেই অপমানিত বোধ করে তা হলে এই মুহূর্তে তার কিছু করার নেই। মানুষের যদি জরুরি কিছু কথা বলার থাকে তা হলে সে একটা সময় বলবেই।

    আজ তাকে বিকল্প জায়গায় থাকতে হবে। দীপা পা বাড়াল। হস্টেলের ভেতরে আজ ছোট ছোট জটলা। মেয়েরা হয়তো ঘুরে ফিরে গ্লোরিয়ার কথাই আলোচনা করছে। কেউ কেউ দীপাকে দেখতে পেয়ে ডাকল। দীপা হাত নাড়ল, মুখে বলল, ‘শরীর খারাপ।’

    নিজের বিছানা নয়, পুলিশ তালা খুলে না দিলে নিজের ঘরে যাওয়াও যাবে না, তবু বিছানা তো, শুয়ে মনে হল শরীর এতক্ষণ এই আরাম চাইছিল। চোখ বন্ধ করে কিছু মনে করতে চাইতেই সে হতভম্ব, কিছুই মনে করতে পারছে না। মাথার ভেতরটা যেন একদম ফাঁকা। কোনও কিছু ভেবে সামনে নিয়ে আসার শক্তি তার এক ফোঁটাও নেই। এই অবস্থায় মনে হল কেউ বা কারা ঘরে ঢুকছে। চোখ খোলার প্রয়োজন মনে করল না দীপা। পারফিউমের গন্ধটা নাকে এল এবং সেইসঙ্গে লুসাকার গলা, ‘শি ইজ স্লিপিং!’

    চোখ খুলল দীপা। লুসাকা আর সেই খটমটে নামের মেয়েটি। অদ্ভুত করুণ ভঙ্গিতে তাকিয়ে আছে ওরা। সে উঠে বসল, ‘ইয়েস!’

    লুসাকা ধপ করে বিছানায় বসে পড়ল, ‘প্লিজ হেলপ আস!’

    ‘কী হয়েছে?’ কথা বলতে একটুও ইচ্ছে করছিল না দীপার। এইসময় দরজায় শব্দ হল। দীপা বলল, ‘কে?’

    দারোয়ান সামনে এল! ‘অসীম নামে একজন আপনার সঙ্গে দেখা করতে চাইছে।’

    দীপা মাথা নাড়ল, ‘বলে দাও আমার শরীর খারাপ, আমি শুয়ে আছি।’

    দারোয়ান চলে যেতেই সে লুসাকার দিকে তাকাল। লুসাকার বদলে খটমটে জবাব দিল, ‘সবাই আমাদের দিকে সন্দেহের চোখে তাকাচ্ছে। এভরিবডি।’

    ‘আমি কী সাহায্য করতে পারি?’

    ‘তুমি আমাদের সাজেস্ট করো ওই ছেলেটার কথা পুলিশকে বলব কিনা। ওরা আমাদের অনেক জেরা করেছে কিন্তু ছেলেটার কথা আমরা ভয়ে বলিনি। এখন সবাই যখন আমাদের সন্দেহ করছে তখন ওর কথা বলে দিতে চাইছি আমরা। কিন্তু খুব ভয় করছে।’

    ‘ভয় কীসের?’

    ‘সে লোকাল বয়। আমাদের ক্ষতি করতে পারে। আমাদের কাছে কোনও প্রমাণ নেই। পুলিশ যদি ওকে কিছু না করে তা হলে আমরাই বিপদে পড়তে পারি।’

    ‘কোন ছেলে? কার কথা বলছ?’

    ‘তুমি জানো না? গ্লোরিয়া তোমাকে কিছু বলেনি?’

    ‘আমি মনে করতে পারছি না।’ দীপার সত্যি মনে পড়ছিল না। গ্লোরিয়া এমন কোনও স্থানীয় ছেলের গল্প তার কাছে করেনি যাকে এতটা জড়ানো যায়! সে জিজ্ঞাসা করল, ‘কী নাম ওর?’

    ‘ভিমল সেইন।’ খটমটে বলল, ‘হি ইজ ওয়ান ইয়ার সিনিয়ার।’

    বিমল সেন! দীপা আবছা মনে করতে পারল একটি ছেলেকে। গাড়ি চালিয়ে কলেজে আসে মাঝে মাঝে, ভাল স্বাস্থ্য। স্কটিশে বড়লোকের কিছু ছেলে আসে সময় কাটাতে, তাদের একজন বলে মনে হয়েছিল বিমলকে। গ্লোরিয়ার চেহারায় যে চটক ছিল তাতে জাম্বিয়ার বন্ধুরা ছাড়াও শেষের দিকে কিছু বাঙালি ছেলে ওর সঙ্গে যেচে আলাপ করেছিল। কিন্তু এ-গল্প করলেও কোনও বিশেষ নাম গ্লোরিয়া তার কাছে উল্লেখ করেনি।

    দীপা জিজ্ঞাসা করল, ‘বিমল কী করেছে?’

    ‘ও গ্লোরিয়াকে নিজের গ্রামে বেড়াতে নিয়ে গিয়েছিল।’

    ‘সেকী? ও শান্তিনিকেতনে যায়নি?’ চমকে উঠল দীপা।

    ‘ওরা গ্রাম দেখে সেখানে যাবে বলে ঠিক করেছিল।’

    ‘তোমরা এসব কথা পুলিশকে বললানি কেন? ওরা তো নিশ্চয়ই জিজ্ঞাসা করেছিল?’

    ‘হ্যাঁ। আমরা ভয় পেয়েছিলাম। কিন্তু—!’

    দীপা উঠে পড়ল। আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে চুল ঠিক করে নিয়ে বলল, ‘এসো তোমরা!’

    সুপারের ঘরে গিয়ে ওরা শুনল তিনি নেই, সম্ভবত প্রিন্সিপ্যালের সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছেন। দীপা চিন্তা করল। তারা ইচ্ছে করলে সোজা থানায় যেতে পারত। কিন্তু সেটা ঠিক হবে কিনা বুঝতে পারছে না সে। না, ব্যাপারটা প্রথমে সুপারকেই জানানো উচিত। দারোয়ানের কাছ থেকে প্রিন্সিপ্যালের বাড়ির ঠিকানা জানতে চাইল সে। তিনি কলেজের পাশেই কোয়ার্টার্সে থাকেন জেনে ওরা বেরিয়ে পড়ল। ইতিমধ্যে সন্ধ্যা ঘনিয়ে গিয়েছে। রাস্তায় একজনও ভদ্রঘরের মহিলা একা নেই। কালো মেয়েদুটো মাথা নিচু করে হাঁটছিল। যেন গ্লোরিয়ার মৃত্যুর জন্যে তারাই অপরাধী হয়ে পড়েছে। দীপা জিজ্ঞাসা করল, ‘বিমলের সঙ্গে ওর খুব বন্ধুত্ব ছিল?’

    ‘খুব না। কিছু কিছু ছেলে থাকে যারা মেয়েদের সঙ্গে মিশতে চায় শরীরের জন্য, ও সেই ধরনের ছেলে। চোখ মুখ দেখে বুঝতে পারতাম। ওকে সাবধানও করে দিয়েছিলাম।’

    ‘তা হলে?’ দীপা অবাক হচ্ছিল, একই ঘরে থেকেও সে এসব কিছুই জানে না। ‘ও শোনেনি। আসলে ভালবাসার ব্যাপারে একবার ঠকে গিয়ে ও বেপরোয়া হয়ে গিয়েছিল।’

    দীপা কথা বাড়াল না। জেনেশুনে বিষ খাওয়া তো আত্মহত্যা। প্রেমে ব্যর্থ হলে মানুষ দেবদাস হবেই? পৃথিবীর সব দেশের মানুষ। দেবদাস মদ খেয়েছিল আর গ্লোরিয়া নিজেকে নষ্ট করার অন্য পথ বেছে নিল। কিন্তু মূলে তো কোনও তফাত নেই। হঠাৎ অসীমের কথা মনে পড়ল দীপার। অসীমকে সে পছন্দ করে। অসীমকে কি সে ভালবাসে? ভালবাসা কারে কয়? যদি তার প্রথম শর্ত হয় কষ্ট না দেওয়া, কষ্ট পেতে দেখলে আড়াল করে রাখা, তা হলে কি সে চুপ করে বসে থাকতে পারবে? চট করে এই প্রশ্নের উত্তর যে তৈরি হচ্ছে না। অথচ আজ অবধি, একটি মধ্যবিত্ত পরিবারের মেয়ে হয়েও কম ছেলের সঙ্গে আলাপ হল না। কিন্তু তাদের কেউ তাকে টানেনি। কেন টানেনি? তার অবস্থা কি সেই মানুষের মতো যার শৈশবেই এঁড়ে লেগে গিয়েছিল! কোনওদিন আর স্বাভাবিক হতে পারল না! সেই এক রাত্রের স্মৃতি কি ভালবাসার মনটাকে উপড়ে নিয়ে গেল? দীপার খুব ইচ্ছে করছিল এখন অসীমের সঙ্গে দেখা করতে।

    সাধারণত প্রিন্সিপ্যালের সঙ্গে কথা বলার কোনও প্রয়োজন ছাত্রছাত্রীদের হয় না। তিনি থাকেন দূরত্ব নিয়ে তাই ছেলেমেয়েরা এড়িয়ে চলে। এই বিদেশি প্রিন্সিপ্যাল যে খুব শৃঙ্খলা মেনে চলতে ভালবাসেন তা সবাই জানে। সুপার তাঁর কাছেই ছিলেন। সমস্ত ঘটনা শুনে তিনি সুপারের দিকে তাকালেন৷ সুপার একটু ইতস্তত করে বললেন, ‘চট করে একটা ছেলেকে না জড়িয়ে ফেলে প্রথমেই একটু খোঁজখবর করলে বোধহয় ভাল হয়। এরা যা বলছে তা সরাসরি অভিযোগ করা।’

    প্রিন্সিপ্যাল জিজ্ঞাসা করলেন, ‘তুমি গ্লোরিয়ার রুমমেট। পুলিশ যখন তোমাকে প্রশ্ন করেছিল তখন এসব কথা তাদের জানাওনি কেন?’

    দীপা বলল, ‘আমি একটু আগে এদের মুখে ঘটনাটা প্রথম শুনি।’

    প্রিন্সিপ্যাল এবার লুসাকাদের দিকে তাকালেন। তারা মুখ নিচু করল। দীপা বলল, ‘ওরা প্রথমে ভয় পেয়েছিল। কলকাতায় থাকতে হবে ওদের তাই এখানকার ছেলেকে অভিযুক্ত করতে ঠিক সাহস পায়নি। এখন অবস্থা দেখে আমাকে বলেছে। আপনি যদি ওদের আড়াল করেন তা হলে ভাল হয়।’ দীপা সত্যি কথা বলে ফেলল।

    ‘তোমাদের কাছে কোনও প্রমাণ আছে ওদের একসঙ্গে বর্ধমানে যাওয়ার?’

    লুসাকা মাথা নাড়ল, ‘না। কিন্তু আমরা তাই জানতাম। এখন আমরা চাই গ্লোরিয়াকে যে খুন করেছে তার শাস্তি হোক। যদি তার জন্যে আমাদের এই শহর থেকে পড়াশুনা বন্ধ করে চলে যেতে হয় তাতেও রাজি আছি।’

    ‘ধন্যবাদ।’ প্রিন্সিপ্যাল খুশি হলেন, ‘কিন্তু তোমরা বিমল সেনের ঠিকানা জানো?’

    না ওরা কেউ জানে না। তবে কলেজের খাতায় নিশ্চয়ই পাওয়া যাবে ঠিকানা। প্রিন্সিপ্যাল টেলিফোন তুলে নম্বর ঘোরালেন। দ্বিতীয়বারে লাইন পাওয়া গেল। নিজের পরিচয় দিয়ে প্রিন্সিপ্যাল বললেন, ‘গ্লোরিয়ার পোস্টমর্টেম রিপোর্ট পাওয়া গিয়েছে? যায়নি? কেউ ধরা পড়েনি এখনও? শুনুন, আমাকে একজন বলল ওকে আমার কলেজের ছেলে বিমল সেনের সঙ্গে ঘোরাফেরা করতে দেখা গিয়েছে। কে বলল? অফিসার, আপনাকে আমি নিশ্চয়ই নাম বলব, কিন্তু আপনাকে কথা দিতে হবে সোর্স ডিসক্লোজ করবেন না। কী বললেন? হ্যাঁ, আপনারা যদি প্রশ্ন করতে চান তা হলে আমার এখানে চলে আসুন।’

    রাত সাড়ে ন’টা নাগাদ ওরা মুক্তি পেল। পুলিশ অফিসার লুসাকাদের প্রশ্ন করে সব জেনে নিলেন। যেহেতু এ-ব্যাপারে ওরা কোনওভাবেই জড়িত নয় তাই ওদের প্রসঙ্গ কোথাও তুলবেন না বলে কথা দিলেন। সেই রাত্রেই কলেজের অফিসঘর খুলিয়ে খাতা থেকে বিমল সেনের ঠিকানা বার করা হল। অফিসার সতর্ক করে দিলেন যেন এই ব্যাপারটা মেয়েরা হস্টেলে ফিরে গিয়ে কারও সঙ্গে আলোচনা না করে।

    প্রিন্সিপ্যাল সুপারকে বললেন, ‘ওদের সঙ্গে আপনি ফিরবেন না, কিন্তু দারোয়ানকে বলুন ওদের হস্টেলে পৌঁছে দিতে। অনেক রাত হয়ে গিয়েছে।’

    দীপা বলল, “স্যার, এখান থেকে হস্টেল বেশি দূরে নয়, এটুকু পথ আমরা নিজেরাই যেতে পারব।’

    প্রিন্সিপ্যাল অবাক হলেন, ‘তোমাদের অস্বস্তি হবে না?’

    দীপা মাথা নাড়ল, ‘না। তিনজনে গল্প করতে করতে চলে যাব।’

    সুপারের ইচ্ছে ছিল না কিন্তু দীপা লুসাকাদের নিয়ে বেরিয়ে এল। রাস্তা নিঝুম। কসমস রেস্টুরেন্টের সামনে ফাকা। দীপার মনে হল এই কলকাতা অন্যরকম। হস্টেলে চলে আসতে একটুও অসুবিধে হল না। শুধু বসন্ত কেবিনের সামনে দাঁড়ানো তিনজন প্রৌঢ় চাপা গলায় কথা বলছিল। তারা হাঁ করে ওদের দেখল। পেরিয়ে আসার সময় কানে এল, ‘দিনকাল কী হল, অ্যাঁ! মেয়েছেলে রাতদুপুরে চরতে বেরিয়েছে। আরও কত কী দেখব!’ দীপা কিছু বলল না। ওর ঘুম পাচ্ছিল। মাথা আড়ষ্ট হয়ে আসছিল।

    যা হোক কিছু মুখে দিয়ে নিজের বিছানায় চলে এল সে। চা-বাগানে থাকতে মনোরমা এবং অঞ্জলির শেখানো কিছু অভ্যেস এখনও রয়ে গিয়েছে। বাইরের জামাকাপড়ে বিছানায় শোওয়া নিষেধ ছিল। এইটে দীপা আর মানছে না। কিন্তু রাত্রে ঘুমাবার সময় কাচা জামাকাপড় না পরলে অস্বস্তি হয়। হস্টেলে কেউ সকালের বাসি কাপড় ঘুম থেকে উঠেই ছেড়ে ফেলে না। সেটা কলেজে যাওয়ার আগে স্নানের সময় করে। কিন্তু এই স্নানটা দীপা সেরে নেয় ঘুম থেকে উঠেই। ফলে বাসি কাপড়ের ঝামেলা বইতে হয় না। দরজা বন্ধ করে কাপড় পালটানোর সময় তার মনে হল স্নান করতে পারলে ভাল হত। কিন্তু এখন শরীর একদম বইছে না। টেবিলের ওপর নজর পড়ল। একটা খাম। চিঠি নিশ্চয়ই বিকেলের ডাকে এসেছিল, তারা বেরিয়ে যাওয়ার পর দারোয়ান এখানে রেখে গিয়েছে।

    বিছানায় বসে খাম খুলল দীপা। হাতের লেখা চেনা লাগছিল, চিঠির নীচে নাম দেখে সে থমকে গেল। মনোরমা। আজ অবধি কখনও ঠাকুমা তাকে চিঠি দেননি। গোটা গোটা অক্ষরে সুন্দর করে নাম ঠিকানা লেখা। খামের ওপর ঠিকানা লেখা দেখে সে বুঝতে পারেনি অভ্যস্ত না থাকায়। এখন ভাল লাগল। চিঠি পড়া আরম্ভ করল দীপা সেই ভাল লাগা নিয়ে। ‘পরমা স্নেহাস্পদা মা দীপা, আশা করি ঈশ্বর তোমাকে সর্বাঙ্গীণ কুশলে রাখিয়াছেন।’ দীপা হেসে ফেলল। এই বাংলায় ঠাকুমা যদি কথা বলতেন তা হলে কেমন হত? কেন বাঙালিরা কথা বলা আর চিঠি লেখার ভাষা আলাদা করত? সে মনোরমার মুখখানা মনে করে মাথা নাড়ল। সর্বদা শরীরের প্রতি যত্ন রাখিয়ো। তোমার শিক্ষাগ্রহণে যেন কোনও ত্রুটি না হয়। তোমার বয়সের যুবতীর নিকট নানান প্রলোভন আসিবে। কলিকাতা শহরের এই ব্যাপারে অত্যন্ত দুর্নাম আছে। কিন্তু তোমাকে সততার সহিত দিন অতিবাহিত করিতে হইবে। তুমি অত্যন্ত ভাগ্যবতী তাই পড়াশুনার সুযোগ পাইয়াছ। আমার তো সারাজীবন পোড়া কপালের দাগ লইয়াই থাকিতে হইল। ঈশ্বর তোমার আরও মঙ্গল করিবেন।

    ‘এই পত্র পাইয়া নিশ্চয়ই তুমি খুব অবাক হইয়া গিয়াছ। তোমাকে পত্র লিখিবার একটি বিশেষ কারণ আছে। বউমা নতুন জমিতে বাড়ি তৈরি করিয়াছেন, এই খবর এখানকার সবাই জানে। বড়সাহেবের কানে সেই খবর তুলিয়া দিবার মানুষের তো অভাব নাই। তিনি নির্দেশ দিয়াছেন আগামী মাসের প্রথম তারিখের মধ্যে এই কোয়ার্টার্স আমাদের খালি করিয়া দিতে হইবে। যেহেতু বাসস্থানের সমস্যা নাই তাই তাঁহার এই আদেশ। অবশ্য তিনি জানাইয়াছেন যে অমরনাথের কন্যা অথবা পুত্র যদি কখনও চাকরিপ্রার্থী হয় তাহা হইলে সে চাকরি পাইবে। তুমি চাকরি করিতে অনিচ্ছা প্রকাশ করিয়াছ, তোমার ভ্রাতারা এখনও উপযুক্ত হয় নাই, এই পরিস্থিতিতে আমাদের কোয়ার্টার্স ছাড়িয়া চলিয়া যাইতে হইবে।

    ‘এদিকে বাড়ি বাসযোগ্য করিতে যে-অর্থ খরচ হইয়া গিয়াছে তাহা অঞ্জলি পূর্বে কল্পনা করে নাই। ওইসব স্থানে কিছুদিন পূর্বেও শিয়াল চরিত। জঙ্গল বলিয়া কেহ ওইদিকে যাইত না। পাকিস্তানের লোকেরা আসিয়া ওই স্থানে বাস করিতে আরম্ভ করিলে অবস্থার পরিবর্তন ঘটিয়াছে। কিন্তু শ্মশানের নদীর জল পেটের পক্ষে খুব খারাপ। তোমার মা একটি কুয়া তৈরি করাইয়াছে। কিন্তু একটু বৃষ্টি হইলেই কুয়ার জল উপরে উঠিয়া আসে। আমার পেটে ওই জল সহ্য হইবে না। তোমার মায়ের ইচ্ছা একটি গভীর নলকূপ খনন করানো। কিন্তু তাহার হাত এই মুহূর্তে প্রায় শূন্য। ওই বাড়িতে যাওয়ার পর সংসার চালাইবার চিন্তায় সে উন্মাদ-প্রায়। আমার কাছে সঞ্চিত যাহা ছিল তাহা তোমার মাকে দিয়াছি। কিন্তু গরিব বিধবার সঞ্চয় আর কী হইতে পারে।

    এইরকম পরিস্থিতিতে তোমাকে এই পত্র লিখিতে বাধ্য হইতেছি। তুমি তোমার পড়াশুনা চলাকালীন সময়ের জন্য সমস্ত খরচ আগাম লইয়া গিয়াছ। আগামী বৎসর যে-টাকা খরচ হইবে তাহা এই মুহূর্তে তোমার নিশ্চয়ই প্রয়োজন নাই। তুমি বলিয়া গিয়াছ উপার্জন শুরু করিলে ওই টাকা ফিরাইয়া দিয়া ঋণমুক্ত হইবে। তাই তোমায় লিখি, অবিলম্বে তিন হাজার টাকা তোমার মায়ের নামে ওই সঞ্চয় হইতে তুলিয়া পাঠাইয়া দাও। এক বৎসরের মধ্যে নিশ্চয়ই তোমার বাবার অফিসের পাওনা টাকা আদায় হইয়া যাইবে। তখন তোমার মা আবার ওই টাকা তোমার কাছে পাঠাইয়া দিবে। ইহাতে তোমার কোনও অসুবিধা হইবার কথা নয়। আশা করি, তুমি আমার এই কথার মর্ম বুঝিবে।

    ‘যদি তুমি পত্রপাঠ টাকা পাঠাও তা হলে পুরানো ঠিকানায় পাঠাইও। আমি বিশ্বাস করি তুমি বিলম্ব করিবে না। আমরা অত্যন্ত কষ্টে বাস করিতেছি। অর্থাভাব কী জিনিস তাহা এমন করিয়া কখনও উপলব্ধি করি নাই। আমার শরীর এবং মন বিন্দুমাত্র ভাল নাই। তোমাকে ছাড়া আর কাহাকে এইসব কথা লিখিব!

    ‘তোমার অনেক উন্নতি হোক, দিবারাত্র ঈশ্বরের নিকট এই প্রার্থনা করি। তোমার মা নিচু হইয়া তোমাকে পত্র লিখিবে না। তাহার কাছে সব শুনিয়া আমি এই পত্র লিখিতে বাধ্য হইয়াছি। আশা করি তুমি বিরক্ত হইতেছ না।

    ‘তোমার কুশল সংবাদ জানিতে পারিলে আমি এবং তোমার মা খুশি হইব। ইতি, আশীর্বাদিকা, তোমার ঠাকুমা।’

    চিঠিটা পড়ে পাশে রেখে দিয়ে বিছানায় শুয়ে পড়ল দীপা। খুব অস্বস্তি হচ্ছিল তার। শরীর আনচান করছিল। তার কেবলই মনে হচ্ছিল এই চিঠি মনোরম লেখেননি। কেউ তাঁকে বলে গিয়েছে—এবং তিনি লিখতে বাধ্য হয়েছেন। অঞ্জলির কণ্ঠস্বর যেন স্পষ্ট শুনতে পাচ্ছিল সে। কিন্তু দীপা চিঠিটা তুলে নিল চোখের সামনে। অমরনাথ বেঁচে থাকলে কী করতেন? আড়ষ্টতা সরিয়ে সিদ্ধান্ত নিয়ে নিল সে।

    ক’দিন ধরে বিমল সেনের গ্রেপ্তার এবং গ্লোরিয়ার মৃত্যু নিয়ে কলেজে খুব হইচই হয়েছিল। কিন্তু ছাত্র আন্দোলনের প্রাবল্যে সেসব চাপা পড়ে যেতে দেরি হয়নি। বিধানচন্দ্র রায়ের বিরোধীরা সম্ভবত এই প্রথম একত্রিত হয়ে আন্দোলন শুরু করলেন পশ্চিমবাংলায়। খাদ্যের দাবিতে ট্রামবাস পুড়ল, কিছু মানুষ মারা গেল। ছাত্ররা চিরকালই সরকার বিরোধী হয়। বামপন্থী ছাত্ররা ধর্মঘট ডাকল। ক’দিন কলকাতায় রাজপথে সংঘর্ষ চলল। তারপর যে কে সেই। একটা বুদবুদ তুলে থিতিয়ে যেতে লাগল জল।

    টাকা পাঠানোর প্রাপ্তি রসিদ ঠিক সময়ে এসেছিল। তারপরে মনোরমার পোস্টকার্ড, ‘তুমি যাহা করিলে তাহা কোনওকালেই ভুলিব না। ঈশ্বর তোমার মঙ্গল করিবেন।’ দীপা কোনও চিঠি দেয়নি। অতএব ওখান থেকে কোনও চিঠিও সে আশা করেনি। ব্যাপারটা আচমকা ঘটে আচমকাই মিলিয়ে গেল। কলকাতার রাজনৈতিক আন্দোলন, কলেজ বন্ধ, খবরের কাগজের উত্তাপ অনেকটা সময় ঘিরে থাকায় দীপার মন কিছুটা চাপা পড়েছিল। হস্টেলের মেয়েদের সেই কয়েকটা দিন প্রায় বন্দিদশায় কাটাতে বাধ্য করেছিলেন সুপার। গ্লোরিয়ার মৃত্যুর পরেই অনেকরকম আইনকানুন চালু হয়েছিল। স্বাধীনতা পেতে অভ্যস্ত মেয়েদের মনে যতই অসন্তোষ জমুক কিছু করার ছিল না।

    রাজনীতি দীপাকে মোটেই টানে না। আন্দোলনের শুরু এবং শেষ একদম নির্লিপ্ত হয়ে যখন সে দেখছিল তখন মায়া সক্রিয় হয়ে রাস্তায় নেমেছে। মিটিং মিছিল একদিকে, অন্যদিকে নাটকের দল করে গিয়েছে একই তালে। দীপা খুব বিস্ময় বোধ করে কিন্তু ওই জীবন তাকে টানে না। আন্দোলন শেষ হয়ে গেলে, জায়গার জল জায়গায় ফিরে এলে সে একদিন মায়াকে জিজ্ঞেস করেছিল, কী লাভ হল? যখন তোমরা শুরু করেছিলে তখন শেষ জানতে না?’ মায়া হেসে ফেলল, ‘সত্যি কথা হল, জানতাম। কিন্তু স্বাধীনতার পরে শাসকদের একটা ধাক্কা দেওয়া জরুরি ছিল। ওরা জানল, যা ইচ্ছে তাই করতে পারবে না আর। দেশের মানুষ বুঝতে পারল ইংরেজদের তাড়িয়ে ফেলেই সব কাজ শেষ হয়ে যায় না। অর্থনৈতিক কাঠামো না পালটালে দেশের উন্নতি অসম্ভব। সেইজন্যে সংগ্রাম চালিয়ে যাওয়া উচিত।’

    ‘চলল না কেন?’

    ‘আমাদের শক্তি সীমিত বলে। যদি কখনও কমিউনিস্ট পার্টি ক্ষমতায় আসে তখন দেখবে দেশের মানুষের অবস্থা পালটে যাবে।’

    ‘তুমি কি মনে করো বিধানচন্দ্র রায়ের ইমেজ কংগ্রেসের ইতিহাস ভুলে গিয়ে দেশের মানুষ কমিউনিস্টদের কখনও ক্ষমতায় আসার সুযোগ দেবে?’

    ‘এখনই হয়তো নয়। কিন্তু একদিন হবেই।’

    ‘কমিউনিস্টরা এলে সব পালটে যাবে?’

    একটা রাজ্যে কমিউনিস্ট পার্টির সরকার হলে সীমিত ক্ষমতার মধ্যে নিশ্চয়ই কাজ করবে। মুশকিল হল ভারতবর্ষের সবকটি রাজ্য একই মানসিকতায় নেই। হলে অন্যরকম হত। তবে তার জন্যে হাত গুটিয়ে বসে থাকা বোকামি!’

    দীপা জানে এই তর্কের শেষ নেই। কিন্তু মায়ার বিশ্বাস ওর কাছে সত্যি। আর কেউ যদি বিশেষ আদর্শে বিশ্বস্ত হয়ে কাজ করে যায় তা হলে তার সঙ্গে তর্ক করার কোনও মানে হয় না। ছাত্র-ইউনিয়ন করার দৌলতে মায়ার একটা সুবিধে হয়েছে। সবাই দূর থেকে ওকে নিয়ে নানান গালগল্প করে বটে কিন্তু সামনাসামনি কেউ ঘাঁটায় না। একটি সুন্দরী মেয়ে সমস্ত নিয়ম ভেঙে মাথা তুলে ঘুরে বেড়াচ্ছে, অভ্যস্ত হয়ে যাওয়ার পর সঙ্গলোভী ছেলের দল অথবা ছিদ্রান্বেষীরা ওকে এড়িয়ে যায়। সাধারণ মেয়েদের ক্ষেত্রে ওরা কিন্তু সাহসী হয়। হয়তো মায়ার সম্পর্কে কোনও রহস্য কেউ বোধ করে না বলেই ক্ষমতা ঢাকতে এড়িয়ে যাওয়া সুবিধে বলে মনে করে।

    অসীমের সঙ্গে চেষ্টা করেও দীপা কথা বলতে পারেনি। সাধারণত যেখানে অসীম তার জন্যে আপেক্ষা করত সেখানে ভুলেও আসে না। তা ছাড়া ফাইনাল ইয়ারের ছেলেরা আর নিয়মিত কলেজে আসছে না। ওদের পরীক্ষার দেরি নেই। অতএব কলেজে দেখা হবার জন্যে মন ছটফট করত। সেইসময় অসীম তাকে এড়িয়ে গিয়েছে। দেখা করার বাসনাটা প্রায় জেদে পৌঁছে যাচ্ছিল দীপার। সে ঠিক করেছিল ঠিকানা জোগাড় করে অসীমের বাড়িতে চলে যাবে। এখন পর্যন্ত কলকাতাতেও কোনও সহপাঠিনীর ছেলেদের বাড়িতে একা যাওয়ার চল নেই। কিন্তু ছাত্র আন্দোলন, ধর্মঘট ইত্যাদির জন্যে শহরটার অবস্থা পালটে যাওয়ায় যে ক’দিন সময় চলে গেল তার মধ্যেই ওই জেদটা মরে গেল। বরং তার মনে হতে লাগল কেউ যদি তাকে এড়িয়ে যেতে চায় তা হলে তার পেছনে ধাওয়া করা অত্যন্ত বোকামি। অসম্মান থাকলে কোনও মানুষ সেটা করতে পারে না।

    কিন্তু অসীমের কথা ভাবলেই তার কষ্ট হয়। এসব কথা বলার মতো বন্ধু তার কেউ নেই। এখন পুরনো ঘরে ফিরে গিয়েছে সে। তার নতুন রুমমেট এসেছে। মেয়েটির নাম শান্তা। হস্টেলে জায়গা পায়নি বলে এতকাল এক আত্মীয়ের বাড়িতে ছিল। মেয়েটির নামের সঙ্গে স্বভাবের মিল খুব। এবং বাঙালি মেয়েদের যে স্বভাব সচরাচর দেখা যায় সেটা ওর মধ্যে একদম নেই। অকারণে কৌতূহল দেখায় না, অন্যের ব্যক্তিগত ব্যাপারে কোনও প্রশ্ন করে না। দীপার পক্ষে ব্যাপারটা ভালই হয়েছে। কলেজে মায়ার সঙ্গে একধরনের বন্ধুত্ব তার আছে। কিন্তু সেটা ব্যক্তিগত কথা বলার নয়। বরঞ্চ ব্যক্তিগত কথা বলা যায় মায়ার মায়ের সঙ্গে। এখন মাসে একবার ওঁর কাছে যায় দীপা। একদিন গল্প করার সময় সে বলে ফেলল, ‘জানেন মাসিমা, আমি একটা সমস্যায় পড়েছি। বুঝতে পারছি না আমার কী করা উচিত।’

    মায়া যথারীতি বাড়িতে নেই। পাশের ঘর থেকে তামাকের গন্ধ ভেসে আসছে। মায়ার মা বললেন, ‘ওরে বাবা। তোমাদের আমলের সমস্যা কি আমি বুঝতে পারব? অবশ্য আমার শুনতে আপত্তি নেই, তুমি বলতে পারো।’

    অসীমের সঙ্গে পরিচয়ের পরে যা ঘটেছিল প্রায় অকপটেই দীপা বলে গেল। প্রথমদিকে তার কিছুটা অস্বস্তি হচ্ছিল কিন্তু মাসিমার মুখটা যখন বন্ধুর মতো হয়ে গেল তখন আর আটকাল না। পুরোটা শুনে মাসিমা জিজ্ঞেস করলেন, ‘একটা কথা পরিষ্কার বলো তো, তুমি কি ছেলেটাকে ভালবাসো?’

    দীপা জানত এই প্রশ্নটা তাকে শুনতে হবে। সে নিচু গলায় বলল, ‘বিশ্বাস করুন মাসিমা, ওর সঙ্গে যতদিন দেখা হত কোনওরকম প্রতিক্রিয়া হয়নি। ওকে একজন ভাল বন্ধু বলেই মনে হত। এমনকী ও যখন আমার সঙ্গে শিলিগুড়িতে গিয়েছিল তখনও আমি ওর জন্য কোনও টান অনুভব করিনি।’

    ‘এখন?’

    দীপা জানলার দিকে তাকাল, তারপর মাথা নাড়ল, ‘আমার শুধু মনে হচ্ছে ও আমাকে ঠিক বুঝতে পারেনি। ও বিশ্বাস করতে চাইছে না আমার বিয়ে হয়েছিল।’

    মাসিমা জিজ্ঞাসা করলেন, ‘ওকে বিশ্বাস করানোর জন্য তুমি এত ব্যগ্র কেন?’

    দীপা চুপ করে রইল। মাসিমা হাসলেন, ‘তোমার উচিত এখন ওর সঙ্গে দেখা না করা। ভালবাসা এমন জিনিস লুকিয়ে রাখা যায় না নিজের কাছে। অনেকটা পক্সের মতো, ওষুধ খেলেও চামড়ায় ফুটে বের হবেই। তেমনি নিজেই টের পেতে তুমি। বরং, এই ব্যাপারটা এখন যেমন চলছে চলুক। সময় বয়ে যেতে দাও। যদি তোমার ভেতর কিছু তৈরি হয়ে থাকে তা হলে সময় চলে গেলেও সেটা মুখ তুলবে। তোমার সম্পর্কে ওর আগ্রহ কতটা সত্যি সেটা বুঝতে পারবে তখন।’

    এসব কথা দীপার অজানা ছিল না। কিন্তু মাসিমার সঙ্গে কথা বলার পর মন বেশ শান্ত হল। জানা জিনিসই অন্যের মুখে বন্ধুর মতো শুনতে পেলে আর এক রকম মানে তৈরি হয়। হয়তো নিজের মন যা ভাবছে সেটা সঠিক কিনা তাতে একটা গোপন সন্দেহ থাকে। অন্যের সমর্থন পেলে এক ধরনের স্বস্তি তৈরি হয়। এই কারণে মানুষের জীবনে একজন বন্ধুর দরকার। তার জীবনে তেমন কোনও বন্ধু ছিল না, মাসিমা আজ সেই কাজটা করলেন। ভদ্রমহিলা বললেন, ‘তোমাকে দেখে মনে হয় তুমি বড্ড ভাবো। এটা তোমার স্বভাব। মায়াকে নিয়ে আমি তো কোনও দুশ্চিন্তা করি না। ও যা করছে তা বাঙালি মেয়েরা করে না। তাই ধরাবাঁধা নিয়মে ওকে বেঁধে কী লাভ? আমার আত্মীয়স্বজনরা এ নিয়ে কম কথা বলছেন না। ওদের মতে মেয়েটা নষ্ট হয়ে গিয়েছে। আমি তবু মায়াকে কিছু বলছি না। এত ছেলের সঙ্গে মিশছে, কাউকে মন দিয়েছে কিনা তাও জিজ্ঞাসা করিনি।’

    ‘আমি জিজ্ঞাসা করেছিলাম।’

    ‘কী বলেছিল?’

    ‘বলেছিল, মনে নেবার মতো যোগ্যতা কারও থাকলে তবে দেবার কথা ওঠে।’

    ‘বোঝো। এ মেয়েকে আমি কী বোঝাব? তবে কী জানো, আমাদের এই সমাজব্যবস্থায় নিয়মের বাইরে গিয়ে বেশিদিন নিজেকে ঠিক রাখা মুশকিল।’

    মনের বোঝা অনেকটা কমে গিয়েছিল মাসিমার সঙ্গে কথা বলে। হালকা হয়ে হস্টেলে ফিরে এসেছিল দীপা। এসে দেখল সুভাষচন্দ্র একজন বয়স্ক ভদ্রলোকের সঙ্গে দাঁড়িয়ে আছেন। দীপা দাঁড়িয়ে পড়ল। সে বুঝতে পারছিল আর একটা ঢেউ উঠতে চলেছে। নিজেকে শক্ত করার চেষ্টা করছিল সে প্রাণপণে।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43 44 45 46 47 48 49 50 51
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleসাতকাহন ২ – সমরেশ মজুমদার
    Next Article কইতে কথা বাধে – সমরেশ মজুমদার (অসম্পূর্ণ)

    Related Articles

    সমরেশ মজুমদার

    চব্বিশ ঘণ্টার ঈশ্বর – সমরেশ মজুমদার

    December 4, 2025
    সমরেশ মজুমদার

    ছোটগল্প – সমরেশ মজুমদার

    December 4, 2025
    সমরেশ মজুমদার

    আট কুঠুরি নয় দরজা – সমরেশ মজুমদার

    December 4, 2025
    সমরেশ মজুমদার

    উত্তরাধিকার – সমরেশ মজুমদার

    December 4, 2025
    সমরেশ মজুমদার

    গর্ভধারিণী – সমরেশ মজুমদার

    December 4, 2025
    সমরেশ মজুমদার

    কইতে কথা বাধে – সমরেশ মজুমদার (অসম্পূর্ণ)

    December 4, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Our Picks

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }