Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    সাতকাহন ১ – সমরেশ মজুমদার

    সমরেশ মজুমদার এক পাতা গল্প936 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ৪০. মেয়েটির নাম লাবণ্য

    মেয়েটির নাম লাবণ্য। পুরনো কালের চেয়ারে বসে নাম শুনে চমকে গেল দীপা। দশ বছরের মিষ্টি চেহারার মেয়েটি বলল, ‘আমার নাম লাবণ্য মিত্র।’

    মেয়েটির পাশে হাসিমুখে দাঁড়িয়ে আছেন তার দিদিমা। মুখ দেখে বোঝা যাচ্ছে তিনি খুব খুশি, নাতনির জন্যে মাস্টারনি জোগাড় করতে পেরে নিশ্চিন্ত হয়েছেন। দীপা তাঁকেই জিজ্ঞাসা করল, ‘ওর নাম কে রেখেছিল?’

    ‘আমি।’ বৃদ্ধা খুব গর্বিত ভঙ্গিতে জবাব দিলেন।

    ‘কিছু মনে করবেন না, ওর মায়ের নাম কী ছিল?’

    ‘ওমা, মনে করা কেন? ওর মাকে আমি দুলু বলে ডাকতাম, ভাল নাম ছিল গোলাপ, গোলাপবালা। একেবারে গোলাপের মতো রং ছিল তো!’

    হঠাৎ লাবণ্য ঘাড় শক্ত করে বলে উঠল, মায়ের কথা আমার সামনে বলবে না।’

    দীপা আবার অবাক, ‘কেন?’

    ‘না। যে আমার জন্ম দিয়ে চলে গেছে ভগবানের কাছে, তার নাম করবে না।’

    দীপা কয়েক মুহূর্ত কথা বলতে পারল না। সেই ভদ্রমহিলা যিনি তাকেও জন্ম দিয়ে মারা গিয়েছিলেন, তাঁর নাম জেনেছে সে অনেক বড় হয়ে, বিয়ের আগে। কিন্তু সেটা জানার পর তার তো এমন প্রতিক্রিয়া হয়নি। সে বৃদ্ধাকে জিজ্ঞাসা করল, ‘লাবণ্য নামটা আপনি কোথায় পেলেন? কেউ তো চট করে রাখে না।’

    ‘কোথায় আর পাব মা! আগে চাইতাম মেয়ে সুন্দরী হোক, রূপসি হোক, দেখে পাঁচজনের চোখ পুড়ে যাক। কিন্তু সব ছেড়েছুড়ে দেবার পর মনে হত সুন্দরী রূপসি মানে তো হাজার সমস্যা। তার চেয়ে হাত পা চোখ মুখ নিখুঁত হোক আর মুখে লাবণ্য থাক। যত বড় সুন্দরী হোক যদি লাবণ্য না থাকে তা হলে সব রূপ মাঠে-মারা যাবে। তা ওর মা যখন মারা গেল তখন কোলে নিয়ে ভাবছি এ মেয়ের কী নাম দেওয়া যায়। একটু আলাদা রকম, মানে আমাদের থেকে আলাদা। রেখে দিলাম লাবণ্য।’ বৃদ্ধা হাসলেন, ‘প্রথমে অবশ্য লাবণ্যপ্রভা রেখেছিলাম। তা এখানে একটা সিড়িঙ্গে লোক আছে, আমাকে দিদির মতো দেখে, হারমোনিয়াম বাজিয়ে গায়, মেয়েদের রবিঠাকুরের গান শেখায় যে শিখতে চায়, সে শুনে বলল, ওসব প্রভাট্রভা ছেঁটে দাও। তুমি একেবারে রবি ঠাকুরের বুকের খাঁচায় হাত ঢুকিয়ে দিয়েছ!’

    ‘খুব ভাল বলেছেন উনি। আপনি রবীন্দ্রনাথের নাম শুনেছেন তা হলে?’

    ‘ওমা, শুনব না কেন? এই তো, ওই গলি দিয়ে সোজা গেলে চিৎপুর-গণেশ টকি আর তারপরেই রবিঠাকুরের বাড়ি। ওঁর কত গান কঞ্চি ভাইয়ের কাছে শিখেছিলাম!’

    ‘কঞ্চি ভাই?’

    ‘ওই যে সিড়িঙ্গে, যে হারমোনিয়াম বাজায়।’ বৃদ্ধা ভেতরে চলে গেলেন।

    প্রথমদিন লাবণ্যকে জানতেই চলে গেল। ও কী পড়তে ভালবাসে, বইপত্তরগুলোর সঙ্গে পরিচিত হতে সময় নিল দীপা। সেইসঙ্গে লাবণ্যর সঙ্গে আলাপ। মেয়েটাকে প্রথমে একটু জেদি ধরনের মনে হয়েছিল কিন্তু কথা বলে ধারণা পালটাল। জানার আগ্রহ আছে খুব। একমাত্র লাবণ্য বলল, ‘জানো, দিদিমা যখন এসে বলল মাস্টারনি ঠিক হয়েছে তখন আমি খুব ভয়ে ভয়ে ছিলাম। আমার ক্লাসের অঙ্কদিদির মতো যদি তুমি হও!’

    ‘কেন? অঙ্কদিদি কেমন?’

    ‘পাহাড়ের মত। রাগলে আগ্নেয়গিরি হয়ে যান।’

    ‘গুরুজনদের সম্পর্কে এভাবে কথা বলতে নেই!’

    ‘বাঃ। উনি নিজেই বলেন। রাগলে আমি আগ্নেয়গিরি!’

    ভঙ্গিটা নকল করে দেখাল লাবণ্য। হেসে ফেলল দীপা, ‘তা হোক, তুমি বলবে না। শোনো লাবণ্য, আমি তোমাকে যা পড়াব তা যদি তুমি বুঝতে না পারে তা হলে আমাকে জিজ্ঞাসা করবে। কখনও লজ্জা করবে না। তুমি স্কুল থেকে ফেরো চারটের সময়?’

    ‘হ্যাঁ। দশটার সময় যাই।’

    ‘দীপা জিজ্ঞাসা করল, ‘কে নিয়ে যায়?’

    ‘দিদিমা।’

    ‘কাল কী পড়া আছে?’

    ‘কালকের পড়া হয়ে গিয়েছে।’

    ‘বাঃ, তুমি দেখছি খুব ভাল মেয়ে। আমি আসব সোম বুধ আর শনি।’

    ‘তুমি যদি রোজ আমাদের বাড়িতে আসো তা হলে খুব ভাল হয়।’

    ‘কেন?’

    ‘তোমাকে আমার খুব ভাল লেগেছে। এখানে যেসব মেয়ে থাকে তারা কেউ স্কুলে যায় না, বই পড়ে না ওদের কথা শুনতে আমার একটুও ভাল লাগে না।’

    ‘শুনো না।’

    ‘শুনি না তো। আমি কারও সঙ্গে মিশি না।’

    ‘ঠিক আছে, যদি দেখি তোমার প্রয়োজন হচ্ছে তা হলে অন্য দিনও আসব।’

    ‘তুমি কলেজে পড়ো, না?’

    ‘হ্যাঁ।’

    ‘আমি যে কবে কলেজে পড়ব!’

    দীপা হাসতে গিয়ে থেমে গেল। সত্যসাধন মাস্টারের মুখ হঠাৎ মনে পড়ে গেল তার। একদিন সে সত্যসাধন মাস্টারকে জিজ্ঞাসা করেছিল একই কথা। তিনি বলেছিলেন, ‘কাজ কইর্যা যাও মন দিয়া, সময় হইলেই ফল পাইবা।’

    মনটা কেমন ভিজে উঠল। সে ঠিক করল সত্যসাধনবাবু যে-পদ্ধতিতে তাকে পড়াতেন সেই একই পদ্ধতিতে সে লাবণ্যকে পড়াবে। এইসময় দু’হাতে দুটি থালা নিয়ে ঘরে ঢুকলেন বৃদ্ধা। সেদিকে নজর যেতে চমকে উঠল দীপা, ‘একী!’

    ‘এ সামান্য। একটু জলখাবার।’

    এক থালা লুচি বেগুনভাজা আর অন্যটিতে তিন-চার রকমের মিষ্টি। দীপা তীব্র প্রতিবাদ করল, ‘অসম্ভব। আমি এ-সময়ে এত খাই না।’

    বৃদ্ধা মাথা নাড়লেন, ‘না মা, খেতে তোমাকে হবেই, আজ প্রথম দিন এ-বাড়িতে তুমি এলে। না খেয়ে চলে গেলে লাবণ্যর ঘোর অকল্যাণ হবে।’

    ‘আপনি এসব একদম বিশ্বাস করবেন না। আমার খাওয়ার ওপর ওর কল্যাণ নির্ভর করবে না। ও যা কাজ করবে সেইমতো ফল পাবে।’ দীপা ওঠার জন্য তৈরি হল।

    ‘মা, একটা কথা বলব।’ বৃদ্ধা হঠাৎ গম্ভীর হয়ে গেলেন।

    ‘তুমি যা বললে তা যদি সত্যি হয় তা হলে কাজের জন্য ফল ভোগ করছি আমি। তুমি কি সেই কারণেই এই বাড়িতে খেতে চাইছ না?’ বৃদ্ধা মাথা নাড়লেন, ‘তা হলে আমি তোমাকে জোর করব না।’

    কয়েক সেকেন্ড সময় লাগল বুঝতে। এবং বোঝমাত্র দীপা প্রতিবাদ করে উঠল, ‘এসব আপনি কী বলছেন? আমার মাথায় অমন ভাবনা একবারও আসেনি। তা ছাড়া আপনার অতীতের পরিচয় আমার জানার দরকার নেই। আপনি আমার ছাত্রীর দিদিমা, এইটুকুই যথেষ্ট।’

    এইসময় লাবণ্য বলল, ‘তুমি একটুও খাবে না?’

    দীপা মেয়েটার দিকে তাকিয়ে হেসে ফেলল, ‘আচ্ছা, দাও। তবে এতগুলো নয়। আমি খুব অল্প খাই।’তৎক্ষণাৎ বৃদ্ধার মুখে হাসি ফুটল।

    তিনি একটি দাসীকে নির্দেশ দিতে খালি থালা এল। দীপা লক্ষ করল থালার চেহারা আয়নার মতো পরিষ্কার। এর গঠনও অভিনব। বৃদ্ধা সেটা বুঝতে পেরে বললেন, ‘এগুলো অনেক যুগ ধরে তোলা ছিল। আমরা ব্যবহার করিনি কখনও। তুমি আসবে বলে নামিয়ে মাজিয়ে রেখেছিলাম।’

    ‘এরকম আর করবেন না। আমাকে আলাদা না ভাবলেই ভাল হত।’

    ‘ওমা! তুমি আলাদা না?’

    ‘নিশ্চয়ই না। আমার সঙ্গে লাবণ্যর তফাত কোথায়?’

    কথাটা শুনে বৃদ্ধা খুব খুশি হলেন। লাবণ্যকে একটা কাজের অছিলায় অন্য ঘরে পাঠিয়ে বললেন, ‘সবসময় খুব ভয়ে ভয়ে থাকি মা। স্কুলে যদি জানতে পারে কোন বাড়ি থেকে এসেছে তা হলে তো ছাড়িয়েও দিতে পারে। কোনও বন্ধুর বাড়িতে যেতে দিই না, কাউকে আসতেও বলে না। এরই মধ্যে ওইটুকুনি মেয়ে সব বুঝে গিয়েছে।’

    ‘আপনারা কি মিত্র?’

    ‘না গো। যে-মানুষটির সঙ্গে ওর মা শেষ এক বছর ছিল সে হল মিত্র। তা সত্যি কথা কী বলব মা, মেয়ের মৃত্যুর পর মিত্তির এসে বলে গিয়েছিল লাবণ্যর জন্য যখন যা প্রয়োজন হবে তাকে বলতে। লোক তো খারাপ নয়। স্কুলে ভরতির সময় সঙ্গে গিয়ে বাপ বলে নিজের পরিচয় দিয়েছে। তাই বা কে দেয়?’

    ‘তিনি এখানে এখন আসেন?’

    ‘না সে বিয়েথা করেছে, ছেলেমেয়ে হয়েছে। তবে খবর দিলে বাইরে দেখা করে। লাবণ্য তাকে দেখেছে স্কুলে ভরতির দিন।’

    ‘কিছু বলেনি?’

    ‘কী বলবে। তখন ও এত বাচ্চা ছিল ব্যাপারটা বুঝতেই পারেনি।’ বৃদ্ধা হাসলেন।

    ‘কিছু মনে করবেন না, আপনার এখন চলে কী করে?’ প্রশ্নটা করা উচিত না তবু না করে পারল না দীপা। তার কৌতূহল বাড়ছিল।

    ‘কুঁজো গড়িয়ে। যা আছে তাতে এ-মেয়ের বিয়ে হয়ে যাবে। তারপর তো সব ফক্কা। আমি যখন থাকব না তখন কুঁজো শুকিয়ে গেলে ক্ষতি কী। আচ্ছা মা, তুমি তো নাতনির সঙ্গে কথা বললে, কী মনে হল?’

    ‘কী ব্যাপারে?’

    ‘বি এ এম এ চাই না, ম্যাট্রিকটা পাশ করতে পারবে তো?’

    ‘আপনি যেভাবে সামলে রাখছেন তাতে ও এম এ পাশ করে যাবে, দেখবেন।’

    ‘না মা। অত আশা করি না। অতি বড় বিদ্যেধরীও না পায় বর। ভাল একটা ছেলে দেখে বিয়ে দেব যে ওকে হেনস্থা করবে না। পেটে যদি সামান্য বিদ্যে থাকে তা হলে সমাজে চলতে ফিরতে পারবে। আমরা যা পাইনি ও তা পেলেই আমি খুশি।’

    যে-বুড়ো চাকরটি দরজা খুলেছিল তাকে বৃদ্ধা বললেন বাস স্ট্যান্ড পর্যন্ত পৌঁছে দিতে। দীপা আপত্তি করল, ‘এখান থেকে সরাসরি কোনও বাস নেই আমার হস্টেলে যাওয়ার। ওকে পাঠাতে হবে না, আমি একাই যেতে পারব।’

    বৃদ্ধা মাথা নাড়লেন, ‘না মা। সন্ধে হয়ে গিয়েছে। তোমাকে কেউ যদি অসম্মান করে তা হলে আমি শান্তি পাব না। হরি সঙ্গে যাক। ও তোমাকে ছাতুবাবুর বাজারের কাছে পৌঁছে দিয়ে আসবে। হরি, সাবধানে যাবি।’

    হরি বলল, ‘তুমি তো আমাকে চল্লিশ বছর ধরে দেখছ। কোনও ভয় নেই। চলুন।’

    আজ বিকেলে যখন সেন্ট্রাল অ্যাভিনিউ দিয়ে এই এলাকায় এসে বাড়ি খুঁজছিল তখন অনেকেই অবাক হয়ে গিয়েছিল। লোকগুলো জুলজুল করে দেখছিল তাকে। পানের দোকান, বাড়ির রোয়াকে বসা মানুষগুলোর একজন তাকে জিজ্ঞাসা করেছিল, ‘কী চাই বলুন তো?’

    দীপার বক্তব্য শুনে লাবণ্যদের বাড়ির দরজায় পৌঁছে দিয়ে বারেবারে ঘুরে দেখছিল। লাবণ্যদের বাড়িতে ওঠার সিঁড়ি আলাদা। সিঁড়ির মুখে লেখা রয়েছে ‘গৃহস্থদের বাড়ি’। অর্থাৎ এ-পাড়ায় নোটিশ ঝুলিয়ে বলতে হয়, আমি গৃহস্থ। কিন্তু এখানে আসার সময় খান্না সিনেমার সামনে দাঁড়ানো মেয়েগুলোর মতো কাউকে নজরে পড়েনি।

    হরির সঙ্গে রাস্তায় নেমে দীপার চোখে তেমন কিছু পড়ল না। শুধু উলটো দিকের রকে বসা একটা লোক চেঁচিয়ে উঠল, ‘ও হরিদা, যাচ্ছ কোথায়?’

    ‘দিদিমণিকে পৌঁছে দিতে।’

    ‘বাড়িউলির নাতনিকে পড়াবে বুঝি?’

    ‘তোর এত খবরে কী দরকার?’

    ‘না না। অনেক উটকো মেয়ে তো রোজ আসছে। তা তোমাদের ঝিয়ের কাছে শুনলাম বাড়িউলি মাস্টারনি রেখেছে। এ-পাড়ায় তো কোনওদিন দেখিনি।’

    ‘দেখে রাখ। পাঁচজনকেও বলে দিবি। অন্যরকম কিছু হলে চোখ গেলে দেব।’

    কথাগুলো বলে হরি সসম্ভ্রমে বলল, ‘চলুন দিদিমণি। দাঁড়াবেন না।’

    হাঁটতে হাঁটতে দীপা জিজ্ঞাসা করল, ‘লোকটা কে?’

    ‘দালাল। আর কেউ আপনাকে বিরক্ত করবে না। ওই বলে দেবে সবাইকে। আসুন রাস্তা পার হই।’ বাস গাড়ি সামলে পার্কের ফুটপাতে পৌঁছে হরি বলল, ‘এই ফুটপাত দিয়ে ভদ্রলোকের মেয়েরা হাঁটে। বিকেলে আপনি এই ফুটপাত দিয়ে এসে এখান থেকে রাস্তা পার হবেন। কেউ কিছু বলবে না, তবু যদি বলে ফেলে আমার নাম করবেন।’

    ‘আমার কিন্তু জায়গাটা দেখে কলকাতার অন্য রাস্তার মতনই মনে হচ্ছে!’

    ‘আমাদের বাড়িটা তো মুখে তাই অমন মনে হচ্ছে। ভেতরে চিৎপুর পর্যন্ত এখন মচ্ছব বসে গিয়েছে। মা খুব চেষ্টা করেছিল বাড়ি বিক্রি করে ভদ্রপাড়ায় উঠে যেতে। কিন্তু যারা কিনবে তারা দামই দিতে চায় না।’ হরি মাথা নেড়ে কথা বলছিল।

    ছাতুবাবুর বাজারের সামনে এসে দীপা বলল, ‘এবার তুমি চলে যাও।’

    হরির বোধহয় ইচ্ছে ছিল আর একটু যাওয়ার কিন্তু দীপা আমল দিল না। বাঁদিকের ফুটপাত ধরে সে হনহনিয়ে হেঁটে এল হেদোর সামনে। এসে স্বস্তি হল। কিন্তু তখনই কানে এল একটা গলা, “নিশ্চয়ই হস্টেলের মেয়ে।’ দ্বিতীয় গলা বলল, ‘বাঙালও হতে পারে।’

    সে ঘাড় ঘুরিয়ে দেখল কয়েকজন লোক ফুটপাতে দাঁড়িয়ে গল্প করছিল, গলাদুটো শোনা গেছে তাদের মধ্যে থেকেই। খামোকা গায়ে পড়ে ঝগড়া করে কোনও লাভ নেই। এরা নিশ্চয়ই উত্তর কলকাতার মেয়েদের সন্ধের পর একা দেখতে অভ্যস্ত নয়। ফুটপাত পার হয়ে ওপারে যাওয়ার জন্য রাস্তায় নামতে দীপার সমস্ত শরীরে যেন বিদ্যুৎ বয়ে গেল। সে কী করবে বুঝতে পারছিল না। ধীরে ধীরে ট্রামবাস দেখে রাস্তাটা পার হয়ে এল।

    বাস স্ট্যান্ডে দাঁড়িয়ে ছিল অসীম। দীপা যখন রাস্তা পার হচ্ছে তখন সে দেখতে পেয়েছিল তাকে। কী করবে বুঝে ওঠার আগেই দীপা সামনে এসে দাঁড়াল।

    অসীম জিজ্ঞাসা করল, ‘তুমি? এত রাত্রে?’

    ‘পড়াতে গিয়েছিলাম।’ দীপা আবিষ্কার করল তার কথা বলতে খুব কষ্ট হচ্ছে। অনেক দিন পরে অসীমকে দেখল সে। এখন মনে হচ্ছে অনেক অনেক দিন।

    ‘পড়াতে? তুমি টিউশনি করছ নাকি?’

    ‘হ্যাঁ।

    ‘কোথায়?’

    ‘সোনাগাছিতে। সেন্ট্রাল অ্যাভিনিউর ওপরে।’ সরল গলায় বলল দীপা।

    অসীম হাঁ হয়ে গেল। সে অবাক চোখে দীপাকে দেখল, তোমার কি মাথা খারাপ হয়ে গিয়েছে? কী করে এই টিউশনিটা পেলে? ‘পেয়ে গেলাম।’

    দীপা হাসার চেষ্টা করল, ‘তখন জিজ্ঞাসা করলে এত রাতে? রাত তো সবে শুরু হয়েছে। আর মাথা যে খারাপ হয়েছে তা কেউ বলেনি। তুমি এখানে?’

    ‘তোমার সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিলাম।’

    ‘আমার সঙ্গে?’

    ‘গিয়ে শুনলাম তুমি হস্টেলে নেই।’

    ‘তাই এখানে দাঁড়িয়ে আছ?’

    ‘আমি কি তোমার জন্যে এর আগে ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থাকিনি?’

    ‘থেকেছ। তখন সময়টা অন্যরকম ছিল। কিন্তু ব্যাপারটা কী?’

    ‘তোমার সঙ্গে কয়েকটা জরুরি কথা আছে।’

    ‘কিন্তু আমি এখন খুব ক্লান্ত।’কথাটা বলার আগে দীপা বিন্দুমাত্র ভাবেনি। বলে ফেলে মনে হল ঠিক বলেছে। এতদিন যে স্বেচ্ছায় দূরে থেকেছে তার খেয়ালখুশি মতো সে কথা বলবে কেন? দীপা ঘুরে দাঁড়াল, ‘তোমার দরকারটা যদি খুব জরুরি হয় তা হলে পরে দেখা করতে পারো। আগামীকাল আমি কলেজে থাকব।’

    অসীম তাড়াতাড়ি চলে এল সামনে, ‘দীপা, প্লিজ। এত নিষ্ঠুর হয়ো না।’

    ‘নিষ্ঠুর আমি! চমৎকার!’

    ‘তুমি আজ আমাকে একটু সময় দাও।’

    ‘বাঃ, একটু আগে বললে এত রাত্রে ফিরছি কেন? এত রাত্রে সময় দেব কী করে?’

    ‘কিন্তু আমার যে আজই বলা দরকার।’

    ‘তোমার ইচ্ছেমতো সবসময় কাজ হবে এমন ভাবছ কেন?’

    ‘বুঝতে পারছি আমি তোমার ওপর জোর করছি!’

    ‘জোর করতে যে অধিকার বোধ প্রয়োজন হয় তা তোমার নেই। তুমি নিজেই তা হারিয়েছ। যেদিন আমার মামা হস্টেলে এসেছিলেন সেইদিন তুমি উধাও হয়ে গিয়েছিলে। আমার সঙ্গে দেখা করার প্রয়োজন বোধ করোনি। তারপর আমার ওপর দিয়ে যে ঝড় বয়ে গিয়েছে তার কোনও খবর নেবার ইচ্ছেও হয়নি তোমার। আবার আজ বলছ আমি নিষ্ঠুর।’

    ‘আমি কেন উধাও হয়েছিলাম তুমি জানো না?’

    ‘আমার আর জানার দরকার নেই। আমাকে হস্টেলে যেতে দাও।’

    ‘দাঁড়াও। সেদিন তুমি যখন দারোয়ানের সঙ্গে ভেতরে চলে গেলে তখন তোমার মামা আমাকে জিজ্ঞাসা করেছিলেন, আমি কে? আমাব সঙ্গে তোমার সম্পর্ক কী? উনি নিজের পরিচয় দিতে আমি বলেছিলাম আমরা বন্ধু। উনি ঠাট্টা করে বলেছিলেন এ-দেশে ছেলে মেয়ের মধ্যে বন্ধুত্ব হয় না। এটা বিলেত আমেরিকা নয়। আমি বলেছিলাম, সময় পালটাচ্ছে, আপনাদের ধারণাটাও বদলে নেওয়া দরকার। উনি খুব খেপে গেলেন। বললেন তিনি তোমার গার্জেন। তোমার সঙ্গে যদি আমি মিশি তা হলে তিনি স্টেপ নেবেন। কারণ এতে তোমার ক্ষতি হবে। আমি জিজ্ঞাসা করলাম, কীসের ক্ষতি? উনি বললেন, তুমি বিবাহিতা। তোমার স্বামী কিছুদিন আগে মারা গিয়েছে। তোমার শ্বশুরবাড়ির সমস্ত সম্পত্তি দখল পেতে যাচ্ছ। কিন্তু এসময় যদি একজন হিন্দু বিধবার চরিত্রে কলঙ্কের ছাপ পড়ে তা হলে সর্বনাশ হয়ে যাবে। আমি যদি সত্যি তোমাকে বন্ধু বলে মনে করি তা হলে তোমার উপকারের জন্যে আর কখনও যেন দেখা না করি। সেদিন তুমি নিজেকে বিধবা বলেছিলে। বলেছিলে বিয়ের রাত্রে তোমার স্বামী মারা গিয়েছিলেন। আমি বিশ্বাস করতে চাইনি। ভেবেছিলাম তুমি আমাকে পরীক্ষা করার জন্য একটা গল্প বানিয়ে বলছ। পরে একা দাঁড়িয়ে ভেবেছিলাম যদি সত্যি হয় তা হলে আমার কী? আমি তো তোমাকে ভালবাসি, তোমার অতীত নিয়ে আমার কী হবে। কিন্তু তোমার মামা যখন বললেন কিছুদিন আগে তোমার স্বামী মারা গিয়েছেন তখন সব এলোমেলো হয়ে গেল। বুঝলাম তুমি মিথ্যে বলেছ আমাকে। আমি সহ্য করতে না পেরে চলে গিয়েছিলাম।’

    পাথরের মতো দাঁড়িয়ে কথাগুলো শুনছিল দীপা। তার সমস্ত শরীর যেন ধীরে ধীরে রক্তশূন্য হয়ে যাচ্ছিল। কোনওরকমে সে জিজ্ঞাসা করতে পারল, ‘তা হলে আজ এলে কেন?’

    ‘না এসে উপায় ছিল না।’

    ‘আমি একটু বসব। দাঁড়াতে পারছি না।’

    ‘তোমার হস্টেল অবধি যেতে পারব না?’ দীপার বলার ভঙ্গিতে ব্যস্ত হয়ে উঠল অসীম।

    ‘এখন আর তোমাকে ঢুকতে দেবে না।’ অত্যন্ত ক্লান্ত দেখাচ্ছিল দীপাকে।

    এইসময় একটা ট্রাম আসছিল শ্যামবাজারের ডিপো থেকে। অসীমা দীপাকে বলল, ‘এটায় ওঠো।’

    ‘কেন?’

    ‘বসতে পারবে।’

    অসীমকে উঠতে দেখে দীপা অনুসরণ করল। ট্রামে যাত্রী ছিল হাতে গোনা। ওরা একেবারে সামনে এগিয়ে গিয়ে ড্রাইভারের পেছনে বসল। দীপার মনে হল সে বেঁচে গেল। হঠাৎ সমস্ত শরীর থেকে ঘাম বেরুচ্ছিল, ভিজে যাচ্ছিল এবং সেইসঙ্গে মাথা ঘোরা। বসতে পেরে তাই আরাম হল। ট্রাম চলতে শুরু করলে বাতাস লাগল মুখে। সে চোখ বন্ধ করল, হঠাৎ এভাবে শরীর খারাপ করছে কেন?

    ‘রুমালে ঘাম মুছে নাও।’ নিচু গলায় বলল অসীম যদিও তার কোনও দরকার ছিল না। পেছনের সিটগুলো একদম খালি৷ ট্রাম চলার সময় যে-শব্দ হয় তাতে কথা বেশি দূরে যেতেও পারে না। দীপা খুব দুর্বল হাতে ঘাম মুছল। একটা গা-গুলানি ভাব পাক খাচ্ছে পেটে। শিরাগুলো ঝিমঝিম করছে। আচমকা সে আবিষ্কার করল যদি সে অসুস্থ হয়ে যায় তা হলে তাকে দেখার কেউ নেই। হস্টেল থেকে হয়তো হাসপাতালে ভরতি করে বাড়িতে চিঠি দেবে। কিন্তু কেউ আসবে না দায়িত্ব নিতে। এই পৃথিবীতে যতক্ষণ শরীর ঠিক থাকে ততক্ষণ সব সমস্যার বিরুদ্ধে লড়াই করে বাঁচা যায়। কাউকে তোয়াক্কা না করে একা থাকা সম্ভব যতক্ষণ শরীর তাজা থাকে। কিন্তু অসুস্থ হলেই একজন সঙ্গী দরকার হয় যে খুব কাছের মানুষ। অসীম জিজ্ঞাসা করল, “কেমন লাগছে এখন?’

    একটু সময় নিয়ে দীপা বলল, ‘ভাল।’

    ‘ডাক্তারের কাছে যাবে?’

    ‘ডাক্তার? দীপা মাথা নাড়ল, ‘না না। আমি ঠিক আছি।’

    সারাটা পথ অসীম কোনও কথা বলল না। কী করে যে ট্রামটা ধর্মতলায় পৌঁছে গেল-তা টের পায়নি দীপা। চোখ বন্ধ করে বসে থাকতে থাকতে একটু আচ্ছন্নের মতো হয়ে গিয়েছিল। কাছে কেউ চিৎকার করতেই তার চোখ খুলে গেল। দেখল ট্রামটা দাঁড়িয়ে আছে কার্জন পার্কে। কামরায় তার পাশে অসীম ছাড়া কেউ নেই। শরীরের ক্লান্তি অনেক কমে গেছে, গা-গুলানি ভাব আর নেই। সে কথা বলল, ‘ট্রাম যাবে না?’

    ‘সামনের ট্রাম ছাড়লে এটার চান্স। আমরা ডিপোতে বসে আছি। শরীর কেমন?

    ‘ভাল লাগছে।’

    ‘কী হয়েছিল বলো তো?’

    ‘জানি না?’

    ‘অনেকক্ষণ খাওয়াদাওয়া করোনি?’

    না তো। সন্ধে নাগাদ একথালা খেয়েছি।’

    ‘অম্বল হয়ে গিয়েছে?’

    ‘না।’

    ‘তুমি তো বললে টিউশনি থেকে আসছ!’

    ‘হ্যাঁ। ওখানেই খেয়েছি।’

    ‘কীরকম বাড়ি?’

    ‘সে তোমার শুনে দরকার নেই। এখন একটু চা খেলে ভাল হত।’

    ‘ভাঁড়ে চা বিক্রি করছে। খাবে?’

    ‘আমি কখনও খাইনি।’

    ‘গঙ্গাজলে গুড় আদা দিয়ে চা করে।’

    ‘গঙ্গাজলে? যাঃ।’

    পাশের ছাউনির নীচে একটা লোক জ্বলন্ত উনুনে কেটলি বসিয়ে চা বিক্রি করছে। অসীম তাকে ডেকে দুটো ভাঁড় দিতে বলল। গরম চায়ে চুমুক দিয়ে আদার গন্ধ পেল দীপা। কিন্তু ভাল লাগল। শরীরটা একটু একটু করে তাজা হয়ে যাচ্ছে।

    চায়ের ভাঁড় জানলা ঘেঁষে ফেলে দিয়ে অসীম বলল, ‘এত অল্প পয়সায় বসার জায়গা, চা খাওয়া পৃথিবীর কোনও রেস্টুরেন্টে পেতে না। সেই সঙ্গে বেড়ানোটা উপরি।’

    ‘দেখছি তাই।’

    ‘তোমার কি এরকম হঠাৎ হঠাৎ শরীর খারাপ হয়?’

    ‘কখনও হয়নি।’

    ‘আজ হল কেন?’

    ‘জানি না। তোমার সঙ্গে কথা বলতে বলতে—।’

    ‘আই অ্যাম সরি।’

    ‘কেন?’

    ‘আমি না দাঁড়িয়ে থাকলে শরীর খারাপ হত না।’

    দীপা চুপ করে গেল। সামনের ট্রামটা এখন ডিপো ছেড়ে যাত্রা শুরু করেছে। সে লক্ষ করল অসীম বসেছে তার সঙ্গে স্পর্শ বাঁচিয়ে। এটা ভাল লাগল। দীপা কথাগুলো মনে করার চেষ্টা করল। অসীমের মুখে টানা ঘটনাগুলো শুনতে শুনতে তার অস্বস্তি শুরু হয়েছিল। মামা যে ওভাবে মিথ্যে কথা বানিয়ে বলতে পারে— শোনামাত্র যে-উত্তেজনা মনে জন্ম নিয়েছিল তাই তার শরীর খারাপ করে দিল। শুধু মামা নয়, একই সঙ্গে অসীমের ওপর রাগ জন্মেছিল তার। মামার মুখে যা শুনেছে তাই বিশ্বাস করে দূরে গিয়েছিল অসীম। মামাকে সে সেইদিন প্রথম দেখল। তার উচিত ছিল দীপাকে ব্যাপারটা জিজ্ঞাসা করা। এই দায়িত্বটুকু পালন করার কথা ওর একবারও মনে এল না। পুরুষ জাতটা কি সন্দেহ আঁকড়ে থাকতে এত ভালবাসে? দীপা ভেবে পাচ্ছিল না।

    ট্রাম আবার শ্যামবাজারের দিকে ফিরছে। সন্ধে পেরিয়ে গিয়েছে অনেকক্ষণ। এবার বেশকিছু যাত্রী উঠেছেন। হস্টেলের গেট বন্ধ হবার আগে না পৌঁছালে ঝামেলা হবেই। গ্লোরিয়ার ঘটনাটা ঘটার পর থেকে কড়াকড়ি খুব বেড়ে গিয়েছে। অসীম বসে আছে চুপচাপ। মুখ ফিরিয়ে কথা বলল দীপা, কী বলতে এসেছিলে?’

    ‘না, থাক।’

    ‘কেন?’

    ‘তুমি অসুস্থ—।’

    ‘এখন ঠিক হয়ে গিয়েছি।’

    অসীম নিশ্বাস ফেলল, ‘আমি একটা চাকরি পেয়েছি।’

    ‘বাঃ, খুব ভাল খবর।’ সবকিছু ভুলে গিয়ে উচ্ছল হল দীপা।

    ‘তুমি খুশি?’

    ‘নিশ্চয়ই।’ দীপা অসীমের হাতে হাত রাখল, ‘কোথায়?’

    ‘দিল্লিতে। বাবার এক বন্ধুর সোর্সে। ভাল চাকরি। এখনই তিনশো টাকা পাওয়া যাবে।’

    ‘তিন শো! বাপস। অনেক টাকা!’

    ‘হ্যাঁ, অনেক।’

    ‘আরে, এভাবে বলছ কেন?’

    ‘তুমি কি চাও আমি এই চাকরি করি?

    ‘আমার চাওয়ার সঙ্গে তোমার চাকরি করার কী সম্পর্ক?’

    অসীম মুখ ফিরিয়ে নিল। দীপা ধীরে ধীরে হাত সরিয়ে জানলা দিয়ে আকাশের দিকে তাকাল। ট্রামটা খালি রাস্তা পেয়ে বেশ জোরে ছুটছে। দোকানপাট বন্ধ হতে আরম্ভ করেছে। শেষপর্যন্ত অসীম বলল, ‘তুমি আমাকে ক্ষমা করবে না?’

    ‘কেন?’

    ‘আমি তোমাকে ভুল বুঝেছিলাম।’

    কী ব্যাপারে?’

    ‘আমি তোমাকে সন্দেহ করেছিলাম।’

    ‘সেটা যে সত্যি নয় তার প্রমাণ কি তুমি পেয়েছ? মামার কথা সত্যি নয় তাই বা ভাবলে কী করে? আর এসবের সঙ্গে তোমার চাকরি করারই বা কী সম্পর্ক?’

    ‘আমি তোমাকে বিয়ে করতে চাই দীপা!’

    নড়ে উঠল দীপা। একরাশ ভাল লাগার ঢেউ যেন তাকে নিয়ে লোফালুফি করছে।

    ট্রাম ততক্ষণে মাঝপথ পার হয়ে গিয়েছে। দীপা অসীমের দিকে না তাকিয়ে বলল, “কিন্তু আমি তো তোমাকে মিথ্যে বলেছিলাম।’

    ‘আমি সব ভুলে যেতে চাই দীপা। তোমার সঙ্গে দেখা না করে আমি একটুও ভাল ছিলাম না। আমি জানি না তোমার কষ্ট হয়েছে কিনা।’

    ‘হয়েছে।’

    ‘তা হলে?’

    ‘কী তা হলে?’

    ‘ওসব কথা তুলছ কেন?’

    ‘তুমি এখনই বিয়ের কথা তুলছ কেন?’

    ‘আমি একা দিল্লিতে যাব না।’

    ‘কেন?’

    ‘না। তোমাকে কলকাতায় ফেলে রেখে আমি দিল্লিতে গিয়ে ভাল থাকব না।’

    ‘কিন্তু তোমাকে তো অপেক্ষা করতে হবেই অসীম।’

    ‘ও, তোমার সেই আই এ এস? ওটা এখনও মাথায় ঢুকে আছে?’

    ‘আছে। সহায় সম্বলহীন বাঙালি মেয়ের ওপরে উঠার একমাত্র পথ হল এইসব কম্পিটিটিভ পরীক্ষা দিয়ে চাকরি নেওয়া। অন্তত মামা কাকার রেফারেন্স এখনও লাগে না।

    ‘তুমি আমাকে ব্যঙ্গ করছ?’

    ‘আমি, তোমাকে, কীভাবে?’

    ‘ওই যে দিল্লির চাকরি বাবার বন্ধুর মারফত পেয়েছি বলে। আমি জানি আমার অনেক বন্ধুর কথাটা শোনামাত্র বুক টাটাচ্ছে। এই বাজারে তিনশো টাকা মাইনে ক’জন পায়?’

    ‘তুমি কি আমাকে তোমার ওইসব বন্ধুর দলে ফেলছ?’

    ‘না না। কিন্তু তোমার কথা বলার ধরন এমন—!’

    ‘অসীম, তুমি আমার একটা কথা শুনবে?’ ওর হাত আবার স্পর্শ করল দীপা।

    ‘নিশ্চয়ই!

    ‘তুমি দিল্লিতে চলে যাও। আমি জানি তুমি আমাকে ভালবাসো। কিন্তু আমার সঙ্গে তোমার মিলছে না। যে-কোনও বিষয়ে কথা বললে মনে হয় আমাদের ঝগড়া বেধে যাবে। এই অবস্থায় বেশিদিন আমরা একসঙ্গে থাকতে পারব না। ভালবাসা এক জিনিস আর পরস্পরকে বুঝতে পারা আর এক জিনিস!’

    ‘তুমি আবার আমার সঙ্গে খেলা করছ!’

    ‘খেলা! তুমি খেলা বললে?’

    অসীম চট করে উঠে দাঁড়াল, ‘শোনো, আমি শুনেছি আই এ-এস-এ ম্যারেড মেয়েরা চান্স পায় না। অতএব তোমার কোনও চান্স নেই।’ বলে কোনও জবাবের অপেক্ষায় না থেকে হনহন করে গেটের কাছে চলে গেল। ট্রামটা বিবেকানন্দ রোডে থামতে অসীম নেমে পড়ল। তারপর একবারও না তাকিয়ে অন্ধকার গলিতে ঢুকে পড়ল। দীপার মাথায় তখন কিছুই ঢুকছিল না। অসীমের শেষ কথাটা তাকে যেন অসাড় করে দিয়েছে। ট্রাম ছাড়ল।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43 44 45 46 47 48 49 50 51
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleসাতকাহন ২ – সমরেশ মজুমদার
    Next Article কইতে কথা বাধে – সমরেশ মজুমদার (অসম্পূর্ণ)

    Related Articles

    সমরেশ মজুমদার

    চব্বিশ ঘণ্টার ঈশ্বর – সমরেশ মজুমদার

    December 4, 2025
    সমরেশ মজুমদার

    ছোটগল্প – সমরেশ মজুমদার

    December 4, 2025
    সমরেশ মজুমদার

    আট কুঠুরি নয় দরজা – সমরেশ মজুমদার

    December 4, 2025
    সমরেশ মজুমদার

    উত্তরাধিকার – সমরেশ মজুমদার

    December 4, 2025
    সমরেশ মজুমদার

    গর্ভধারিণী – সমরেশ মজুমদার

    December 4, 2025
    সমরেশ মজুমদার

    কইতে কথা বাধে – সমরেশ মজুমদার (অসম্পূর্ণ)

    December 4, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Our Picks

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }