Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    সাতকাহন ১ – সমরেশ মজুমদার

    সমরেশ মজুমদার এক পাতা গল্প936 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ৪৬. দ্বিতীয় অভিনয় হয়ে যাওয়ার পরে

    দ্বিতীয় অভিনয় হয়ে যাওয়ার পরে তিনদিন রিহার্সালে যায়নি দীপা।

    তিনদিন আগে এক দুপুরে রাধার দাদা আর মা তার কাছে এসেছিলেন। তখন সবে স্নান সেরে চুল আঁচড়াচ্ছিল সে। আগের রাতেই দ্বিতীয় অভিনয় হয়েছে ঢাকুরিয়ায়। সেখান থেকে বাড়িতে ফিরতে মোটেই রাত হয়নি। কিন্তু একটা কাণ্ড হয়েছে শোয়ের পরে। কার্টেন কল-এর পরে সে যখন গ্রিনরুমে যাচ্ছিল পোশাক বদলাতে তখন একটি ছেলে এসে বলল, ‘আপনাকে একজন ডাকছেন। বাইরে দাঁড়িয়ে আছেন।’

    ‘কে?’ দীপা জিজ্ঞাসা করল।

    ‘নাম জিজ্ঞাসা করিনি।’

    সুদীপ যাচ্ছিল পাশ দিয়ে, শুনতে পেয়ে বলল, ‘নাম জিজ্ঞাসা না করে ডাকতে এসেছ কেন? তোমাদের তো বলা হয়েছে উটকো লোক যেন শোয়ের পরে ভিড় না করে। চলো, আমি দেখছি।’ সুদীপ ছেলেটিকে নিয়ে এগিয়ে যেতে স্বস্তি পেয়েছিল দীপা। তখন এত ক্লান্ত হয়ে পড়েছিল যে কথা বলার ইচ্ছেও ছিল না। গ্রিনরুমের মুখে শমিতের সঙ্গে দেখা, ‘আজ তিনটি জায়গায় একটু ঝুলেছে। কাল রিহার্সালে এলে বলব।’

    ‘খুব খারাপ হয়েছে?’

    ‘খারাপ বলিনি। প্রথম রাতে যে হাইটে উঠেছিল তা থেকে নেমেছে। অবশ্য এটাই নিয়ম। সেকেন্ড শো-এ সবসময় এইরকম হয়। যদিও হবার কোনও কারণ নেই। যাও, চেঞ্জ করে নাও, বেশি রাত কোরো না।’ শমিত কথাগুলো যখন বলছিল তখনই সুদীপ ফিরে এল, যে-ভদ্রলোক দেখা করতে চান তিনি বিখ্যাত চিত্র-পরিচালক সুবিনয় সেনের সহকারী। ওঁরা আগামী ছবির নায়িকা খুঁজছেন। আপনার অভিনয় দেখে খুব ভাল লেগেছে তাই কথা বলতে চান।’

    শমিত বলল, ‘সুবিনয় সেন?’

    ‘না, ওঁর সহকারী।’ সুদীপ জানাল।

    শমিত জিজ্ঞাসা করল, ‘তোমার কি দেখা করার আগ্রহ আছে?’

    দীপা মাথা নাড়ল, না। শমিত আর দাঁড়াল না। সুদীপ বলল, ‘তা হলে কী বলব? আপনার অসুবিধে আছে?’

    ‘না! বলুন ইচ্ছে নেই।’ দীপা গ্রিনরুমে ঢুকে গিয়েছিল।

    সকাল থেকেই এই ব্যাপারটা মাথায় পাক খাচ্ছিল। দলের অনেকেই ব্যাপারটা নিয়ে আলোচনা করেছে। সুবিনয় সেন খুব নামকরা চিত্র-পরিচালক। তাঁর সব ছবিই দর্শকদের ভাল লাগে। এরকম একজনের কাছ থেকে অফার পেয়েও কথা বলতে না যাওয়া মানে বিরাট সংযমের পরিচয়। পৃথিবীর ইতিহাসে দেখা গিয়েছে অনেকেই নাটক করতে এত ভালবাসেন যে সিনেমার যান্ত্রিকতায় পা বাড়ান না। এ সবই তার ক্ষেত্রে প্রশংসা হয়ে আসছিল। কিন্তু এখন তার মন ছিল না এতে। আজ সকালে মনে হল ওরা ওকে অযথা বড় করেছে। নাটক করার আগ্রহ তার কখনও ছিল না। দুটো শো কোনওমতে করে ফেলেছে। এর মধ্যে একদিন কৌতুহলী হয়ে লাইব্রেরি থেকে অভিনয়ের ওপর লেখা একটা বই নিয়েছিল সে। খানিকটা পড়ে মনে হয়েছিল সে কিছু না জেনেই স্টেজে নেমেছিল। যেন আন্দাজে মশলা দিয়ে হঠাৎ রান্না করতে গিয়ে মোটামুটি সুস্বাদু করে ফেলার মতো ব্যাপার। ব্যাপারটা সুদীপকে বলেছিল। সে লক্ষ করেছিল সুদীপের সঙ্গে সহজ গলায় কথা বলা যায়। হোঁচট খেতে হয় না। কিন্তু শমিতের কথাবার্তায় কেমন যেন খোঁচা থাকে, মন খুলে কথা বলতে অসুবিধে হয়।

    সুদীপ বলেছিল, ‘অভিনয়রীতি, প্রযোজনা, সেট, আলো নিয়ে অনেক বই বেরিয়েছে আজকাল। বিখ্যাত সব পরিচালকের অভিজ্ঞতা সেইসব বইয়ের মাধ্যমে আমরা পাচ্ছি। ঠিক কথা, কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে কোনটে বেশি কাজে লাগে? বইয়ের শিক্ষা না জীবন থেকে নেওয়া অভিজ্ঞতা? আমার তো মনে হয় দ্বিতীয়টাই জরুরি।’

    এইসময় শমিত ঘরে ঢুকে বলেছিল, ‘দুটোই।’

    অতএব তর্ক উঠল। সুদীপ বলেছিল, ‘গিরিশ ঘোষ কোনও বই পড়ে অভিনয় করেছিলেন? দানীবাবু? এঁদের অভিনয় দেখতে হাজার হাজার মানুষ ছুটে যেত।’

    শমিত হেসেছিল, ‘তুমি আমি যাইনি। কারণ যাওয়ার সুযোগ নেই। কিন্তু গিরিশ ঘোষের নাটক পড়ো। আজ যদি অভিনয় করতে হয় ওই নাটকগুলো তা হলে অনেক ঝাড়াই বাছাই করতে হবে। যেটি নির্বাচিত হবে তার ওপর অনেক কলম চালাতে হবে। কারণ পাতায় পাতায় আবেগের বন্যা বইছে, যুক্তি চাপা পড়ে গিয়েছে। তাঁর অভিনয় দেখার সুযোগ পাইনি কিন্তু লেখা পড়ে মনে হয় অভিনয়ের সময় আবেগ খুব বড় জায়গা নিত। আর কে না জানে একজন অভিনেতাকে আজকাল শুধু আবেগসর্বস্ব বলে ভাবতে পারি না। তাকে সংযত এবং বিশ্লেষণধর্মী হতে হবে। এর জন্যে শিক্ষা দরকার। প্রকৃত অভিনেতাকে অনুশীলন করতে হবে নিয়মিত, পড়াশুনা করে নিজেকে শিক্ষিত করতে হবে, আর সেইসঙ্গে আশেপাশের মানুষ এবং তাদের আচরণকে খুঁটিয়ে দেখতে হবে। যে-অভ্যেস একজন স্কুল শিক্ষকের মধ্যে দেখা যায় তা চায়ের দোকানের বয়ের থাকতে পারে না। আবার এক চায়ের দোকানের বয়ের চরিত্রে অভিনয় করতে গিয়ে যদি তুমি সেইরকম একটি বাস্তব চরিত্রকে নকল করো, তা হলে হাস্যকর হয়ে যেতে পারে যদি না শিক্ষালব্ধ ভাবনা প্রয়োগ করে তার কোনটা নেবে কোনটা বাদ দেবে স্থির করতে না পারো।’

    শমিত কথা শুরু করলেই সব তর্ক একসময় থেমে যায়। সেদিনও গিয়েছিল। কিন্তু দীপার ধারণা বদ্ধমূল হল সে অশিক্ষিত অভিনয় করছে। মায়ার সঙ্গে এই নিয়ে কথা বলেছিল একদিন। মায়া বলেছিল, ‘দূর! অত সময় কোথায় কলেজের পড়া, রিহার্সাল, ইউনিয়ন করার পর আলাদা করে নাটকের ওপর পড়াশুনা করার? শমিত যা দেখিয়ে দেয় তাই করি। ও আমার থেকে অনেক ভাল বোঝে।’

    হ্যাঁ, শমিত বোঝে। নাটক নিয়ে দিনরাত পড়ে আছে সে। কিন্তু একেবারে অন্ধের মতো অনুকরণ করার কোনও যুক্তি খুঁজে পায় না দীপা। তাই মনে হচ্ছে এইভাবে অভিনয় করাটা ঠিক হচ্ছে না। দ্বিতীয় শোয়ের পরে এইটে বেশি করে মনে হচ্ছে। আর কাল রাত্রে সুবিনয় সেনের সহকারী যে-উদ্দেশ্যে এসেছিলেন সেটা ভাবতেই একটা অস্বস্তি প্রবল হচ্ছিল। সিনেমায় অভিনয় করতে যাওয়া মানে অভিনয়কেই প্রফেশন হিসেবে নেওয়া। তার দ্বারা সম্ভবও নয়। এসব সত্ত্বেও মনের মধ্যে একটা গুনগুনানি তৈরি হয়েছিল। মনে পড়েছিল অনেককাল আগে এক কাকভোরে শেফালি তুলতে গিয়ে মালবাবুর বাড়িতে আসা এক তরুণ তার দিকে তাকিয়ে সুচিত্রা সেনের সঙ্গে তুলনা করেছিল। সেদিন সুচিত্রা সেনের কোনও ছবি সে দেখেনি। কিন্তু কলকাতা শহরে এখন উত্তমকুমার-সুচিত্রা সেন যেভাবে রাজত্ব করছেন তা এড়িয়ে বাস করা মুশকিল। নিজের চেহারার সঙ্গে ভদ্রমহিলার কোনও বাহ্যিক-মিল নেই। তবু ছেলেটি বলেছিল কেন? আজ সিনেমার পরিচালক খোঁজ নিতে আসায় সেই সকালটা যেন নতুন করে ফিরে এল। ফলে খুব মন খারাপ হয়ে গিয়েছিল দীপার।

    চুল আঁচড়ানো শেষ হতেই বারান্দায় শব্দ হয়েছিল। মনে হয়েছিল রাধা এসেছে। গতকাল থেকে ওর সঙ্গে দেখা হয়নি। এগিয়ে গিয়ে দরজাটা খুলেই সে অবাক হল। এখানে আসার পর মাসিমা একদিনও এ বাড়িতে আসেননি। চোখাচোখি হতেই ভদ্রমহিলা কেমন যেন হয়ে গেলেন। দীপা বলল, ‘আরে, কী আশ্চর্য! আপনি এখানে? আসুন আসুন।’ হাত ধরে সে ঘরে নিয়ে আসতে আসতে পেছন ফিরে বাবার দাদাকে বলল, ‘আসুন।’

    বিছানায় বসিয়ে একমাত্র চেয়ারটি রাধার দাদার দিকে এগিয়ে দিয়ে সে জিজ্ঞাসা করল, ‘ভাল আছেন আপনি?’

    ‘আর কী করে ভাল থাকব মা! কপাল তো একবার পুইড়াই ক্ষান্ত হয় না, বারেবারে পোড়ে। কত পাপ যে করছিলাম তার শাস্তি পাইতেছি এখন।’ বলতে বলতে ভদ্রমহিলা ডুকরে কেঁদে উঠে আঁচলে চোখ ঢাকলেন।

    রাধার দাদা চাপা গলায় বলল, ‘মা, শান্ত হও।’

    ‘আর আমারে শান্ত হইয়া থাকতে কইস না তোরা। শান্ত হইয়া করুমটা কী? ভগবান আমার কথা। শুনব? শুনব না। তাঁর কান্না থামছিল না।’

    হকচকিয়ে গিয়েছিল দীপা। নিচু গলায় জিজ্ঞাসা করল, ‘কী হয়েছে মাসিমা?’,

    ‘কী হয় নাই তাই কও! তুমি তো সব জানো, জানো না?’

    ‘আমি বুঝতে পারছি না মাসিমা।’

    এবার রাধার দাদা বলল, ‘মা, তুমি আমাকে কথা বলতে দাও।’

    ‘বল! যত ইচ্ছা বল। আমি আর পারি না!’ ভদ্রমহিলা নিশ্বাস ফেললেন শব্দ করে। দীপা কোনও কূলকিনারা ভেবে পাচ্ছিল না।

    রাধার দাদা জিজ্ঞাসা করল, ‘আপনাকে রাধা কিছু বলেছে?’

    ‘কী ব্যাপারে বলুন!’

    ‘গৌরাঙ্গ নামের একটি ছেলেকে নিয়ে কোনও কথা?’

    দীপা শক্ত হল। তা হলে ঘটনা এই। তা হলে তার উচিত সত্যি কথা বলা। যা সত্যি তাই বললে রাধার উপকারই হবে। সে স্বাভাবিক হতে চেষ্টা করল, ‘হ্যাঁ।’

    ‘কী বিপদ বলুন তো! আমি সারাদিন ব্যাবসা নিয়ে থাকি, কিছুই দেখতে পারি না সংসারের। আর এই ফাঁকে ও এমন একটা কাণ্ড বাধিয়ে বসল!’

    ‘কী কাণ্ড! রাধার মতো মেয়ে কোনও অন্যায় করতে পারে না।’

    ‘আমিও তাই ভাবতাম।’

    ‘আমি জানি না কাউকে ভালবাসা আপনাদের চোখে অন্যায় কিনা।’

    রাধার মা কিছু বলতে যাচ্ছিলেন কিন্তু হাত তুলে তাঁকে থামিয়ে রাধার দাদা বলল, ‘এ নিয়ে তর্ক করতে চাই না। আচ্ছা, আপনার সঙ্গে যেদিন রাধা নাটক দেখতে গিয়েছিল সেদিন গৌরাঙ্গ সঙ্গে ছিল?’

    বিপদ কোন দিক দিয়ে আসবে ঠাওর করতে পারছিল না দীপা, তবু সে সত্যি কথাটাই বলল, ‘হ্যাঁ। ওঁর সঙ্গে বাস স্ট্যান্ডে দেখা হয়ে গিয়েছিল।’

    ‘না, ওটা হঠাৎ দেখা হওয়া নয়।’

    ‘আমি জানি না। কিন্তু কী হয়েছে বলবেন তো?’

    আপনার এই ঘরে কখনও গৌরাঙ্গ এসে বাধার সঙ্গে দেখা করেছে?

    ‘আমার এখানে? না। কখ্খনও নয়।’

    রাধার মা অবাক হয়ে তাকালেন ছেলের দিকে। তারপর বললেন, ‘তুমি সত্য কথা বলো মা!’

    ‘বিশ্বাস করুন, এখানে গৌরাঙ্গবাবু কখনও আসেননি। আমি শুনেছিলাম জাত নিয়ে আপনাদের আপত্তি আছে। কিন্তু ওকে পড়াশুনা করার সুযোগ দিয়েছেন, নিজেরটা বুঝতে পারে ও। এখন—।’

    ‘নিজেরটা যদি বুঝতে পারত তা হলে কোনও কথাই উঠত না। পাকিস্তান থেকে যখন এসেছিলাম তখন সব ছেড়ে আসতে হয়েছিল। এ দেশে এ অবস্থায় থেকে জাত নিয়ে ক’দিন পড়ে থাকতে পারতাম?’

    রাধার মা বললেন, ‘ওরে সব কথা বল, সব কথা খুইল্যা বল, ও যদি বন্ধুরে বুঝাইতে পারে, আমি তো আর কোনও পথ দেখি না।’

    রাধার দাদা অন্যদিকে মুখ ফেরাল, ‘রাধার বিয়ের জন্যে মা ব্যস্ত হয়ে উঠেছেন। ছেলে দেখা হচ্ছিল। কিন্তু কাল দুপুরে রাধা স্পষ্ট বলে দিল সে গৌরাঙ্গ ছাড়া অন্য ছেলেকে বিয়ে করতে পারবে না। মা মেনে নেয়নি। চিৎকার, বকাঝকা চলছিল। দুপুরে খেতে এসে আমি সব শুনে মাকে বোঝালাম অনেক করে। তাঁর মেয়ে যদি এই করে শান্তি পায়, পাক। নিজের ভবিষ্যৎ নিজে বুঝে নিতে চাইছে যখন তখন তাই নিক। আপনি নিশ্চয়ই জানেন গৌরাঙ্গরা থাকে বাস স্ট্যান্ডের ও-পাড়ায়। খেয়েদেয়ে দোকানে যাচ্ছি এমন সময় গৌরাঙ্গর বাবার সঙ্গে দেখা। দু’-একটা কথার পর ওঁকে বললাম যে সামনের রবিবার ওঁদের বাড়িতে আমি যাব। তিনি কারণ জিজ্ঞাসা করলেন। তখন বললাম, মনে হয় আপনার ছেলের সঙ্গে আমার বোনের ভাব হয়েছে। দু’জনেই যখন প্রাপ্তবয়স্ক তখন বিয়েটা দেওয়া দরকার।’

    ‘তারপর?’ দীপার মনে হচ্ছিল ভদ্রলোক বেশ আধুনিক। উদার।

    ‘উনি কথাটা শুনে খুব খেপে গেলেন। বললেন, এ-দেশে এসে আমরা অধঃপতনে গিয়েছি, ছেলে ধরার জন্যে মেয়েকে লেলিয়ে দিচ্ছি, এইসব। আমারও রাগ হয়ে গেল। দু’-একটা কথা শুনিয়ে দিলাম। জাতটাতের কথাও এসে পড়ল। উনি বললেন জাত ধুয়ে জল খেতে। জাতফাত ছিল পূর্ববঙ্গে। এখানে। শুধু টাকা দিয়ে পরিচয় হয়। তাঁর ছেলের জন্যে যে-সব সম্বন্ধ আসছে তারা এত দেবে অত দেবে। ওই টাকা পেলে তিনি মেয়ের বিয়ে দেবেন। আর কথা না বাড়িয়ে আমি দোকানে চলে গিয়েছিলাম। কিন্তু কাজে মন দিতে পারছিলাম না। বোনটার জন্যে খুব কষ্ট হচ্ছিল। তাই সন্ধের পরে দোকান বন্ধ করে আবার ওঁর সঙ্গে কথা বলতে গেলাম। তিনি স্পষ্ট বলে দিলেন কুড়ি ভরি সোনা, বিশ হাজার টাকা নগদ না পেলে ছেলের বিয়ে আমার বোনের সঙ্গে দেবেন না। অনেক অনুরোধেও নরম হলেন না। আমি তখন গৌরাঙ্গর সঙ্গে দেখা করতে চাইলাম। সে এল। সব শুনে বলল, তার বাবা যা বলেছেন তার বিরুদ্ধে যাওয়া সম্ভব নয়। রাধার সঙ্গে আলাপ হয়েছিল মাত্র, তার বেশি কোনও ঘনিষ্ঠতা নেই। শুনে আমি হতভম্ব।’

    ‘তারপর?’ দীপার গলার স্বর পালটে গেল। সমস্ত শরীর রাগে জ্বলতে শুরু করেছে এর মধ্যে। রাধার দাদা বলল, ‘ব্যাপারটা এখানেই শেষ হয়ে গেলে কিছু বলার ছিল না। বাড়িতে ফিরে এসে সেই যে রাধা ঘরে ঢুকে দরজা দিয়েছে তা এখন পর্যন্ত খোলেনি। কী করব ভাবতে পারছি না!’

    ‘সেকী! কাল থেকে খাওয়াদাওয়া করেনি?’

    ‘না। অনেক ডাকাডাকি হয়েছে সাড়া দিচ্ছে না। একটু একটু করে পাড়ার লোক এই নিয়ে ফিসফিসানি শুরু করেছে। তাই মাকে বললাম আপনার কাছে আসতে। আপনি যদি এই ব্যাপারে আমাদের সাহায্য করতে পারেন।’

    ‘ও হো, আমাকে খবর দিলেই আমি চলে যেতাম। চলুন এখনই।’

    ‘আপনার খাওয়াদাওয়া হয়েছে?’

    ‘ছেড়ে দিন তো! আগে দেখি রাধা কী করছে?’

    রাধার মা বললেন, ‘সকাল থিকা তো বাসায় উনান ধরাই নাই। ভাত খাইয়া আইতে কমু তারও তো উপায় নাই।’

    ‘আপনি ব্যস্ত হবেন না তো! আমার এখানে সব তৈরি আছে।’

    রাধার দাদা বলল, ‘আপনারা আসুন, আমি এগিয়ে যাচ্ছি।’

    দীপা বুঝল একসঙ্গে রাস্তায় হাঁটা এড়িয়ে যাওয়ার জন্যেই এই ব্যবস্থা। ভাল লাগল, অন্তত এই সময়ে পাড়ার লোকজনের কৌতুহল না বাড়াতে এটাই দরকার ছিল। মাসিমাকে নিয়ে বাইরে বেরিয়ে দরজায় তালা দিয়ে কয়েক পা এগোতেই বাড়িওয়ালার সঙ্গে দেখা। ভদ্রলোক মুখ করুণ করে দাঁড়িয়ে আছেন। পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় বললেন, ‘কথাটা সত্যি নাকি?’

    ‘কী কথা?’ রাধার মা মুখ নামালেন।

    ‘আপনার মাইয়ার নাকি অসুখ হইছে?’

    রাধার মা কিছু বলার আগেই দীপা বলল, ‘ঠিকই শুনেছেন। তবে খারাপ কিছু না, একটু জ্বর সর্দি এই আর কী। চলুন মাসিমা।’

    জায়গাটা পেরিয়ে এসেই ভদ্রমহিলা কাতর গলায় বললেন, ‘শোনলা তো? তুমি না কইলে কী জবাব দিতাম কী জানি! এখন তো দেখা হইলেই সবাই এক কথা জিগাইবো। ভগবান! কেন মরণ হয় না!’

    ‘আপনি মন শক্ত করুন মাসিমা। কে কী বলল তাতে একদম কান দেবেন না। সব ঠিক হয়ে যাবে। রাধা আপনাকে কষ্ট দিতে পারে না।’

    উঠোনে ঢুকেই দীপা বুঝল বাড়িটা কাঁটা হয়ে আছে। এদের বাড়িতে আরও কিছু মহিলা এবং কাচ্চাবাচ্চা আছে। তাদের মুখ চেনা কিন্তু কথাবার্তা হয়নি। রাধা বলে মাঝে মাঝেই কিছু জ্ঞাতি ট্রানজিটে এখানে আসেন। এঁরাও উদ্বিগ্ন। দীপা মাসিমাকে ছেড়ে এগিয়ে গেল একটা বন্ধ দরজার দিকে। তারপর সেখানে মৃদু শব্দ করে ডাকল, ‘রাধা, আমি দীপা, দরজা খোলো, তোমার সঙ্গে কথা বলতে চাই।’

    দীপা ঘাড় ঘুরিয়ে দেখল এ-বাড়ির সবাই খানিকটা দূরত্বে দাঁড়িয়ে তাকে দেখছে।

    মিনিট খানেক গেল। এর মধ্যে দীপা আর একবার ডেকেছে। তার ধারণা হল রাধা দরজা খুলবে না। কী করবে মাথায় আসছিল না। মরিয়া হয়ে তৃতীয়বার ডাকতে যাওয়ার সময় দরজা খুলল। অল্প। দীপা চট করে ঘরে ঢুকে আবার দরজা বন্ধ করে ঘুরে দাঁড়াল। একটা তক্তাপোশ, ঘর ভরতি জিনিস। দরজা খুলে দিয়েই রাধা আবার সেই তক্তাগপাশে উপুড় হয়ে শুয়ে পড়েছে।

    নিঃশব্দে কাছে গিয়ে রাধার পিঠে হাত রেখে দীপা জিজ্ঞাসা করল, ‘তুমি এমন করছ কেন? সত্যি। বলল তো, তুমি কী চাও?’

    ‘মরতে।’ শুকনো গলা, অনেক কান্নার পরে শুকিয়ে যাওয়া গলা।

    ‘ওঠো তো, উঠে বসো।’

    রাধা নড়ল না। একই ভঙ্গিতে পড়ে রইল। দীপা বলল, ‘তুমি ওঠো রাধা।’

    এবার একটু সময় নিয়ে ধীরে উঠে বসল সে। দীপা ওর মুখ দেখে চমকে উঠল। বারো-তেরো ঘণ্টাতেই এমন শুকিয়ে যায় কেউ? সে পাশে বসে দু’হাতে ওর কাঁধ ঝাঁকিয়ে বলল, তুমি এত বোকা, ছি! আমি ভাবতে পারিনি। আমি তোমাকে আর পাঁচটা সাধারণ মেয়ের থেকে আলাদা বলে জানতাম। এমন করছ কেন?’

    ঠোঁট কামড়াল রাধা। তার ডান চোখ দিয়ে একটা জলের ধারা গড়িয়ে এল।

    ‘তোমার বন্ধুত্ব গৌরাঙ্গবাবু অস্বীকার করছে। লোকটার মেরুদণ্ড নেই যে বাবার সামনে দাঁড়িয়ে সত্যি কথা বলবে। এমন একটা লোকের জন্যে তুমি কষ্ট পাচ্ছ?’

    রাধা জবাব দিল না মুখে, তার মাথা দু’বার নড়ে উঠল।

    ‘গৌরাঙ্গ তোমার যোগ্য নয়। তার জন্যে কেন চোখের জল ফেলবে?’

    ‘আমি, আমি ওকে ভালবাসি!’ খুব নিচু কান্না মেশানো শব্দগুলো রাধার গলা থেকে বেরিয়ে এল।

    দীপা বলল, ‘কাকে ভালবাসো? একটি স্বার্থপর বিশ্বাসঘাতককে?’

    রাধা উত্তর দিল না। দীপা সময় নিয়ে বলল, ‘কিছু মনে কোরো না রাধা, ওর সঙ্গে মিশে, কথা বলে, বুঝতে পারোনি ওর চরিত্র কী! ও তোমাকে সত্যি ভালবাসে কিনা! নিজের মন এভাবে মুক্ত করার আগে জানতে চাওনি?’

    ‘ভাবিনি। কথা কম বলা ওর অভ্যেস। আমি কী করব?’

    ‘যাক গে। যা হবার হয়েছে। এখন তো সব বুঝতে পারছ। কাল থেকে দরজা বন্ধ করে আছ। তুমি নিজে যেমন কষ্ট পাচ্ছ বাড়ির সবাইকে আরও উদ্বিগ্ন করে রেখেছ। মাসিমার কথা ভাবো। ওঠো, বাথরুমে যাও।’

    ‘না।’

    ‘কেন?’

    ‘আমার মরে যাওয়া ছাড়া কোনও উপায় নেই দীপা।’ হাউহাউ করে কেঁদে উঠল রাধা। তারপরেই ঘুরে দু’হাতে দীপাকে জড়িয়ে ধরল।

    কিছুক্ষণ স্থির হয়ে রইল দীপা। কাঁদতে কাঁদতে রাধা জড়ানো গলায় বলল, ‘আমি মরে গিয়েছি দীপা, আমি মরে গিয়েছি।’

    ‘মরে গিয়েছ মানে?’

    ‘ও যদি আমাকে বিয়ে না করে তা হলে আর আমার বিয়ে হবে না।’ এবার কথাগুলো এমন আর্তনাদ হয়ে বাজল যে কেঁপে উঠল দীপা। আচমকা সমস্ত শরীরে একটা শিহরন বয়ে গেল। এই শিহরন বরফের স্রোতের মতো। তবু কোনওমতে সে উচ্চারণ করল, ‘কেন, কী হয়েছে? এ-কথা বলছ কেন?’

    ‘ওকে ছাড়া আমি কাউকে ছুঁতে পারব না।’ কান্না আর থামছিল না।

    দীপা পাথর হয়ে গেল। যৌবন শুরু হবার আগেই যে-আতঙ্ক শ্রীযুক্ত অতুলচন্দ্র একটি রাত্রে তার মনে বপন করেছিলেন তা তো উপড়ে ফেলা হয়নি। শুধু সময়ের ধুলো জমেছে পুরু হয়ে। তারপরে কেউ তাকে বলেনি নরনারীর শারীরিক সম্পর্ক নিয়ে কোনও কথা। কোনও বইতেও বিশদ পড়ার অবকাশ হয়নি। কিন্তু শরীর এবং মনের বয়স বাড়ার সঙ্গে কখন কেমন করে এ-বিষয়ে সচেতনতা এসে গিয়েছে তা সে জানে না। সেই বোধ থেকেই ওর মনে হল রাধা চূড়ান্ত সর্বনাশ করে বসে আছে। বিয়ের পর যেটা পাঁচজনের কাছে স্বাভাবিক, যা তার নিজের কাছে ভয়ংকর, বিয়ের আগে তার অভিজ্ঞতা মানে অনেক বড় কিছু হারানো।

    ‘কবে হয়েছে?’ দীপা রাধার হাত ছাড়িয়ে তক্তাপোশের ওপর বসে পড়ল।

    ‘তিনবার।’

    ‘কিন্তু কবে?’

    ‘শেষবার যেদিন তোমার নাটক দেখতে গিয়েছিলাম।’

    দীপা হতভম্ব হয়ে গেল। নাটক দেখতে যাওয়া এবং আসার সময়ে সে ওদের সঙ্গে ছিল। শুধু সে ভেতরে চলে যাওয়ার পর ঘণ্টা চারেক ওরা আলাদা একসঙ্গে কাটিয়ে ছিল। তার মধ্যে—? ওরা নিশ্চয়ই হল থেকে বেরিয়ে কোথাও গিয়েছিল। কিন্তু রাধা তো নাটকের ব্যাপারে বিস্তারিত বলেছে। গেলে জানবে কী করে?

    ‘নাটক দ্যাখোনি তোমরা?’

    ‘হুঁ। তার মধ্যেই, ওকে মানা করেছিলাম, শোনেনি।’

    ‘কী বলছ তুমি? ও তোমাকে কী করেছে খুলে বলো তো?’

    ‘আমি বলতে পারব না।’

    ‘আঃ, না বললে আমি তো কিছুই বুঝতে পারছি না।’

    একটু সময় নিল রাধা। তারপর বলল, ‘আমার বুকে হাত দিয়েছিল। এর আগে দু’বার চুমু খেয়েছে। স্বামী ছাড়া কেউ এসব করে না। আমি ওকে ছাড়া আর কাউকে তাই স্বামী বলে ভাবতে পারব না।’

    কথা না বলে চুপচাপ রাধার মুখের দিকে তাকিয়ে থাকল দীপা। এবং একই সঙ্গে সেই শীতল স্রোত যেন হুড়মুড়িয়ে নেমে গেল শরীর থেকে। তারপরেই হালকা গলায় বলল, ‘উঃ, তুমি আমাকে এমন ভয় পাইয়ে দিয়েছিলে!’

    ‘তার মানে?’

    দীপা বলল, ‘একসঙ্গে ক্লাস করেছি,কত কথা বলেছি তোমার সঙ্গে, কিন্তু তুমি এত সেনসিটিভ কখনও ভাবিনি। ভেবেদ্যাখো, তুমি বোকামি করছ কিনা। এককালে কোনও পুরুষ বাঙালি মেয়ের হাত ধরলে তার সতীত্ব যেত। আমি জানি না, তারও আগে অবিবাহিতা মেয়েকে কোনও পুরুষ দেখে ফেললে তার বিয়ে হত কিনা! আজ থেকে একশো বছর আগে জন্মালে তুমি কোনও ছেলের সঙ্গে করমর্দন করতে না। করলে এই অবস্থা হত।’

    ‘যাঃ, এই দুটো ব্যাপার এক হল?’

    ‘না, এক নয়। কিন্তু একজনকে বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করেছিলে, সে তোমাকে আদর করেছিল, ওই মুহূর্তে নিশ্চয়ই তোমার আদর বলে মনে হয়েছিল, কিন্তু পরে দেখলে সেই লোটা বিশ্বাসঘাতক। একমাত্র মনের ওপর আঘাত দেওয়া ছাড়া সে তোমার কী ক্ষতি করেছে? তুমি যেভাবে শুরু করেছিলে তাতে আমি ভয় পেয়েছিলাম নরনারীর সম্পর্কের চূড়ান্ত মিলন তোমাদের হয়ে গিয়েছে, তুমি ওর সন্তানের মা হতে যাচ্ছ। অদ্ভুত।’ দীপা কথাগুলো বলে হেসে উঠল।

    ‘যাঃ, অসভ্য।’ রাধার মুখ লাল হয়ে গেল, ‘আজেবাজে কথা বলছ।’

    ‘ওঠো তো! যাও বাথরুম থেকে ঘুরে এসো। চেহারার কী হাল করেছ আয়নায় দেখলে বুঝতে পারবে। এই করেই বাঙালি মেয়েরা মরল।’

    ‘কিন্তু আমি যে ওকে ছাড়া কিছু ভাবতে পারছি না।’

    ‘কেন? তোমার শরীরে হাত দিয়েছে বলে?’ আচমকা কঠোর হয়ে গেল দীপা।

    ‘না, মানে, সব মিলিয়ে—।’

    ‘শোনো রাধা, তুমি তৈরি হয়ে নাও। তারপর আমার সঙ্গে বের হবে।’

    ‘কোথায়?’

    ‘তুমি গৌরাঙ্গর সঙ্গে কথা বলবে।’

    ‘যদি দেখা না করতে চায়?’

    ‘করবে। তুমি যেটা দাদার মুখে শুনেছ সেটা সরাসরি জেনে এসো।’

    রাধার মুখ উজ্জ্বল হল। দীপা ওকে ঘরের বাইরে নিয়ে আসতেই উদ্বিগ্ন মুখগুলো দেখতে পেল। রাধা বাথরুমে চলে যেতেই ওর মা ছুটে এলেন কাছে, ‘কী বলল?’

    দীপা হাসল, ‘ঠিক আছে, কোনও ভয় নেই।’

    ‘কোনওরকম—?’ প্রৌঢ়া শব্দটি উচ্চারণ করতে যেন সাহস পাচ্ছিলেন না।

    ‘না।’ নিজের অভিজ্ঞতা সম্পর্কে কোনও ধারণা দীপার এর আগে হয়নি।

    এই ব্যাপারটা নিয়ে দীপা পরে অনেক ভেবেছে। পনেরো থেকে একুশের মধ্যে বাঙালি মেয়েদের পঞ্চাশ শতাংশ অন্য ছেলের প্রতি আকৃষ্ট হয়। মায়া বলেছিল বেশিরভাগ রক্ষণশীল বাড়ির মেয়েদের প্রেম-ধারণা তৈরি হয় তুতোদাদাদের মাধ্যমে। ওসব ক্ষেত্রে গুরুজনদের সন্দেহ চট করে আসে না। কিন্তু প্রথম প্রেমের ক্ষেত্রে এইসব মেয়েরা যেরকম সিরিয়াস হয় তা বিচার করলে কোনও যুক্তি খুঁজে পাওয়া যায় না। এদের তুলনায় ছেলেদের অধিকাংশ অনেক বাস্তব। ফলে সামান্য কারণে মেয়েরা যে আঘাত পায় তা তাদের অনেককেই চিরদিনের জন্যে নড়বড়ে করে দেয়। শরীরের পরিবর্তন শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে মনের হাওয়া বদলের এই ঝাপটা এড়াতে পারে না অনেকেই। চোরাগোপ্তা, লুকিয়ে চুরিয়ে ঘটনা ঘটানোর কারণে দুঃখটা বোধহয় বেশি করে বাজে। রাধাকে নিয়ে গৌরাঙ্গর কাছে গিয়েছিল সে। গৌরাঙ্গ মুখের ওপর অস্বীকার করতে পারেনি, কিন্তু জানিয়েছিল ঠিক ওই মুহূর্তে বাবা মাকে অস্বীকার করে বাড়ি থেকে বেরিয়ে আসা তার পক্ষে সম্ভব নয়। নির্জন মাঠে বসে রাধা কিন্তু শেষপর্যন্ত কাঁদেনি। উলটে গালাগাল দিয়েছিল। সেটা মাথা নিচু করে হজম করেছিল গৌরাঙ্গ। ব্যাপারটা সেখানেই চুকে গেল। এই ঘটনাই অন্য চেহারা নিতে পারত যদি সেদিন দীপা না যেত। এখন রাধা স্বচ্ছন্দে উচ্চারণ করতে পারে, ‘আমি কী বোকামি করেছিলাম, না!’

    তৃতীয় শো হল দক্ষিণ কলকাতার একটি মঞ্চে। এটিও কল শো। এখন মায়া নিয়মিত রিহার্সালে আসছে যদিও তার শরীর পুরো সুস্থ হয়নি। তৃতীয় শোয়ের পরে দীপা আর অভিনয় করবে না জেনে সে অনেক বুঝিয়েছে ওকে। কিন্তু দীপা বলেছে অভিনয় সে মোটেই করতে পারছে না। শুধু মুখস্থ করা সংলাপ আওড়ে যাচ্ছে। দক্ষতা না নিয়ে কোনও কাজ করা উচিত না। তা ছাড়া অভিনয় করতে সে কলকাতায় আসেনি। মায়া যখন সুস্থ হয়ে উঠেছে তখন দলের সমস্যাও মিটে যাওয়া উচিত। সে শুধু শূন্যস্থান পূর্ণ করতে এসেছিল। রিহার্সালের দিন তবু ম্যানেজ করা যায় কিন্তু শোয়ের রাতে বাড়ি ফিরতে খুব মুশকিল হয়। দীপা ঠিক করল এটাই তার শেষ অভিনয়। এসব কথা শমিত ভাল জানে। কিন্তু ইদানীং এ নিয়ে কোনও কথা বলেনি সে। কাজের কথা বলেছে নির্লিপ্তভাবে। রিহার্সালে কোনও কিছু দেখানোর সময় অবহেলা করেনি এই ভেবে যে এটাই দীপার শেষ শো।

    আজ রাধাকে নিয়েই গিয়েছিল দীপা। যেহেতু দক্ষিণ কলকাতার মঞ্চ তাই রাধার দাদাকে অনুরোধ করেছিল শোয়ের পরে সেখানে আসতে। নাটক দেখার সময় তার নেই, কিন্তু ওইসময় তার অসুবিধে হবে না। পাড়ায় কয়েকদিন হল বেশ গোলমাল হচ্ছে। জমি নিয়ে ঝগড়া অনেক দূরে পৌঁছেছে। রাত করে একা ফিরতে নিষেধ করেছিল অনেকেই।

    রাধা দীপার সঙ্গে গ্রিনরুমেই বসেছিল। মায়া সাহায্য করছিল দীপাকে। আজ যেন অনেকেই খুব গম্ভীর হয়ে পড়েছে। এমনকী সুদীপ পর্যন্ত দেখা হলে ভাল করে কথা বলল না। ফার্স্ট বেল পড়ার পর দেবেশদা এসে দেখে গেলেন। ‘ঠিক আছে’ ছাড়া তৃতীয় শব্দ উচ্চারণ করেননি। মায়া কথা বলছিল সহজভাবে। দীপা তাকে জিজ্ঞাসা করল, ‘কী হয়েছে সবার?’ ঠোঁট ওলটাল মায়া, ‘কী জানি!’

    আজ প্রথম থেকেই অভিনয় করতে ভাল লাগছিল। সংলাপ বলার সময় অথবা যেখানে কথা নেই সেখানেও সে ছিল অনবদ্য। শোয়ের পরে সাজঘরে এলে মায়া উচ্ছ্বসিত প্রশংসা করছে যখন তখন শমিত এল, ‘দীপা, একটু বাইরে এসো।’

    অবাক হয়ে সাজঘরের দরজা পেরিয়ে এসে দীপা দেখল শমিতের পাশে দু’জন বয়স্ক ভদ্রলোক দাঁড়িয়ে আছেন। শমিত পরিচয় করিয়ে দিল, ‘এই হল দীপাবলী, আর ইনি সুবিনয় সেন বুঝতেই পারছ। আর উনি প্রযোজক।’

    সুবিনয় সেন নমস্কার করে বললেন, ‘আমার সহকারীর কাছে শুনেছিলাম, আজ নিজের চোখে দেখে যাকে বলে মুগ্ধ তাই হয়ে গিয়েছি। অপূর্ব—। খুব ভাল লেগেছে ভাই। তুমি অনেক ছোট, তোমাকে তাই তুমি বলছি।’

    ‘অনেক ধন্যবাদ।’ দীপা নিচু গলায় বলল।

    ‘আমি শুনেছি তুমি ফিল্মের অভিনয় করতে চাও না। কথাটা কি ঠিক?’

    ‘হ্যাঁ।’

    ‘কিন্তু কেন?’ সুবিনয় সেন বললেন, ‘এ তো ঈশ্বরদত্ত ক্ষমতা। এর ব্যবহার না করার কোনও কারণ আছে? তোমার বাড়িতে আপত্তি আছে?’

    ‘এটা আমিই ঠিক করেছি।’

    ‘কিন্তু কেন?’

    ‘এসব নিয়ে আমি কখনও ভাবিনি। আপনারা আমাকে প্রশংসা করছেন কিন্তু আমি জানি যদি কিছু করে থাকি সেটা এমনি হয়ে গিয়েছে, আমি জেনে-শুনে করিনি। এই ঘটনা বারেবারে ঘটে না।’

    ‘ঠিক আছে, তুমি আমার ওপর ছেড়ে দাও। আমি জানি না তুমি আমার কোনও ছবি দেখেছ কিনা। আমি তোমাকে চরিত্রটি পড়ে শোনাব। তার পরেও যদি না বলতে ইচ্ছে করে বোলো।’

    ‘আমি আপনাকে কথা দিতে পারছি না। তবে এত করে বলছেন যখন তখন আমি ভেবে দেখব।’

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43 44 45 46 47 48 49 50 51
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleসাতকাহন ২ – সমরেশ মজুমদার
    Next Article কইতে কথা বাধে – সমরেশ মজুমদার (অসম্পূর্ণ)

    Related Articles

    সমরেশ মজুমদার

    চব্বিশ ঘণ্টার ঈশ্বর – সমরেশ মজুমদার

    December 4, 2025
    সমরেশ মজুমদার

    ছোটগল্প – সমরেশ মজুমদার

    December 4, 2025
    সমরেশ মজুমদার

    আট কুঠুরি নয় দরজা – সমরেশ মজুমদার

    December 4, 2025
    সমরেশ মজুমদার

    উত্তরাধিকার – সমরেশ মজুমদার

    December 4, 2025
    সমরেশ মজুমদার

    গর্ভধারিণী – সমরেশ মজুমদার

    December 4, 2025
    সমরেশ মজুমদার

    কইতে কথা বাধে – সমরেশ মজুমদার (অসম্পূর্ণ)

    December 4, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Our Picks

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }