Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    সাতকাহন ১ – সমরেশ মজুমদার

    সমরেশ মজুমদার এক পাতা গল্প936 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ৪৮. স্কটিশ চার্চ কলেজে জানাজানি হয়ে গেল

    খবরটা কে কাকে বলেছিল ঈশ্বর জানেন, কিন্তু স্কটিশ চার্চ কলেজে জানাজানি হয়ে গেল বিখ্যাত চিত্রপরিচালক সুবিনয় সেন দীপাবলী ব্যানার্জিকে নায়িকা করতে চেয়েছিলেন তাঁর পরের ছবিতে কিন্তু সে রাজি হয়নি। ছেলেমেয়েদের কাছে এক লহমায় যেন সে নায়িকা হয়ে গেল। কালচারাল সেক্রেটারি এসে ক্লাসের বাইরে তাকে একদিন বলল, ‘আপনি নিশ্চয়ই জানেন সামনের শনিবার মহাজাতি সদনে কলেজ সোশ্যাল। সবাই চাইছে আপনি এই অনুষ্ঠানটা কনডাক্ট করুন। মানে, যেসব শিল্পী গান গাইবেন তাঁদের নাম ঘোষণা করবেন।’

    ‘সেকী! আমি তো এমন কাজ কখনও করিনি। তা হলে আমাকে বলছেন কেন?’

    ‘কাউকে তো করতে হবে। আর এই মুহুর্তে আপনি খুব উপযুক্ত।’

    ‘কেন?’

    ‘সুবিনয় সেনের ব্যাপারটার জন্যে।’

    ‘এসব কথায় আপনি কেন কান দেন। আমাকে মাপ করবেন।’

    মুখে যাই বলুক সহপাঠিনীরা যে তাকে ঈর্ষা করছে বুঝতে অসুবিধে হচ্ছে না। নিজের ভাগ্য ক্রমশ নিজের কাছেই বিস্ময়ের বস্তু হয়ে উঠছে। যে-কোনও সাধারণ অসাধারণ মেয়ের চেয়ে ঈশ্বর তাকে অনেক বেশি শাস্তি দিয়েছেন। কষ্ট কী জিনিস তার মতো আর ক’টি মেয়ে বুঝতে পেরেছে কে জানে। অন্তত এই বয়সে। কলেজে এমন কোনও মেয়ে পাওয়া যাবে না যে পৃথিবীতে তার মতো একা। অথচ মাঝে মাঝে তাকে নিয়ে এমন এক একটা ঘটনা ঘটে যাচ্ছে যে সে সবার আলোচনার অথবা ঈর্ষার বস্তু হচ্ছে।

    হস্টেলে ফিরতেই সুভাষচন্দ্রের সঙ্গে দেখা। এত ঝড় জল বয়ে গেল তবু কখনও সুভাষচন্দ্র বা তার জন্মদাতার কথা মনে আসেনি। সুভাষচন্দ্র আজ অন্যরকম। বেশ হাসিখুশি। বললেন, ‘তোর মামিমা প্রায়ই বলেন মেয়েটা কেন আসে না, এত কাছে থাকে। তুই তো মাঝে মাঝে যেতে পারিস।’

    ‘আমাকে আপনি এর আগে কখনও বলেননি।’ দীপা হাসল।

    ‘যাক গে! শোন, তোর পাওয়ার অফ অ্যাটর্নি নিয়ে প্রতুল বাঁড়ুয্যের সম্পত্তি উদ্ধার করতে অনেকটা এগিয়েছি, বুঝলি? লাখ লাখ টাকার ব্যাপার। স্বনামে যা রেখেছিল তাই এই, বেনামে যা ছিল তা আর উদ্ধার করা যাবে না। এখন তুই মন খুলে বল তো, তোর কী ইচ্ছা?’

    ‘আপনি একটু পরিষ্কার করে বলুন, আমি কিছু বুঝতে পারছি না।’

    ‘ব্যাপার হল, তুমি প্রতুল বাঁড়ুয্যের উত্তরাধিকারিণী। সব সম্পত্তি তোমার। কিন্তু তুমি বলেছ ওসব নেবাব ইচ্ছে নেই। তা হলে কে নেবে? এই কিছুদিন আগে যখন জলপাইগুড়িতে গিয়েছিলাম তখন ভাবলাম চা-বাগানে গিয়ে ওদের দেখে আসি। তোমার মা ঠাকুমা যে কষ্টে আছে তা চোখে দেখা যায় না। মনে হল তোমার আপত্তি না থাকলে ওদের কিছু দেওয়া উচিত। আমারও বয়স বেড়েছে। কিছুই জমাতে পারিনি এ-পর্যন্ত। অথচ দায়দায়িত্বও কম নয়। কী করে সেসব মাথা থেকে নামাব বুঝতে পারছি না। তা ছাড়া এসব কাজে যাওয়া আসা কোর্ট কাছারিতে কম খরচ হচ্ছে না।’

    ‘আমি কিন্তু আপনাকে বলিনি খরচ করতে।’

    ‘আহা! তুমি বলবে কেন? আমি আমার গরজেই করেছি। বলছিলাম কী, তরী প্রায় কুলে এনে ফেলেছি। এখন তোমার কি ইচ্ছে আছে ওদের কিছু দেওয়ার?’

    ‘কাদের কথা বলছেন?’

    ‘তোমার জন্মদাতা বাবা আর সৎমায়ের কথা বলছি।’

    ‘আপনিই ওঁদের নিয়ে এসেছিলেন আমার কাছে।’

    ‘হুঁ। পরে ভেবে দেখলাম ঠিক হয়নি। তোমার মা মারা যাওয়ার পরই তো আমাদের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করেছিল সে। আবার বিয়ে করে সে নিজেই সব সম্পর্ক অস্বীকার করেছে। আমার নিজের বোন যখন নেই আর তার স্মৃতি যখন মানুষটা নষ্ট করেছে তখন তাকে কেন তুমি আর এখন অনুগ্রহ করবে?’

    ‘কী ব্যাপার বলুন তো?’

    ‘মানে?’

    ‘আপনার সঙ্গে কি ওদের ঝগড়া হয়েছে।’

    ‘না না, ঝগড়াঝাঁটি নয়। আমার বুঝতে একটু সময় লাগল।’

    ‘আপনার এই মত ওঁরা জানেন?’

    ‘না, আমার জিনিস নয়, আমি কেন বলব? বলবে তুমি!’

    ‘ওঁরা যদি বলেন আপনাকে কিছু না দিতে। ভাগনির সম্পত্তিতে মামার কোনও অধিকার নেই। এ-কথা তো আইনও বলবে।’

    ‘বলতে আরম্ভ করেছে। তোমার বাবা যাকে বিয়ে করেছেন, মানে যাকে নিয়ে আমি এখানে এসেছিলাম, তার কথাবার্তায় আমি ভুলে গিয়েছিলাম সব। কিন্তু তোমার সম্মতি পাওয়ার পর তার ব্যবহার পালটে গিয়েছে। আমাকে তো বলেই দিল বাবার চেয়ে মামা বড় হতে পারে না।’

    ‘তাই বলুন। আপনারা এখন আর এক দলে নেই। ঠিক আছে, আপনি যা করছেন করুন। এ-ব্যাপারে যত খরচ হচ্ছে লিখে রাখবেন। যখন আমাকে প্রয়োজন হবে খবর দেবেন। ঠাকুমা এখন কেমন আছেন?’

    ‘ওই আর কী।’

    ‘আপনি বললেন চা-বাগানের বাড়িতে গিয়েছিলেন?’

    ‘হ্যাঁ। তোমার মায়ের সঙ্গে কথা বলেছি এসব ব্যাপার নিয়ে।’

    ‘ঠাকুমাকে দ্যাখেননি?’

    ‘শুনলাম ওঁর শরীর খারাপ। বৃদ্ধা মানুষ। নিজের ঘরে ছিলেন। তাই আর বিরক্ত করিনি। কেন, কী হয়েছে বলো তো?’

    দীপা জবাব দেবার প্রয়োজন বোধ করল না। ঠাকুমার পা ভাঙার খবরটা নিয়ে সে আর কিছু ভাবতে চাইল না। সুভাষচন্দ্র সেটা ধরতে পারলেন না। দীপা বলল, ‘আপনি ওখানে গিয়ে ঠিক কী কী কাজ করেছেন বলুন তো?’

    সুভাষচন্দ্র যেন এবার বলার মতো বিষয় খুঁজে পেলেন। সোৎসাহে বলতে লাগলেন, ‘প্রথমে পাড়ায় গিয়ে কয়েকজনকে জিজ্ঞাসা করলাম। ঠিকঠাক সম্পত্তির পরিমাণ কেউ বলতে পারল না। প্রতুল বাঁড়ুয্যের বাড়ির তো অবশিষ্ট কিছু নেই। বন্যায় পলি পড়ে সব নষ্ট হয়ে গিয়েছে। পাড়ার লোকে জানলা দরজাও খুলে নিয়ে গিয়েছে। গাছগাছালিরও খারাপ অবস্থা। প্রতুল বাঁড়ুয্যের ছোট ভাইপোর সঙ্গে দেখা করলাম। সে তো প্রথমে আমায় সাফ কথা বলতেই চায় না। তোমার সই করা কাগজ দেখাতে বলল তার কোনও ইন্টারেস্ট নেই, সে জানেও না কী কী সম্পত্তি আছে। উঃ, সে যে কী হ্যাপা তা তোমাকে কী বলব।’ মাথা নাড়লেন সুভাষচন্দ্র। দীপা কথা বলল না। কিন্তু লক্ষ করল হঠাৎ হঠাৎই সুভাষচন্দ্র তুই থেকে তুমিতে উঠে যাচ্ছেন।

    সুভাষচন্দ্র আবার শুরু করলেন, ‘আমি তো ছাড়ার পাত্র নই। গেলাম জলপাইগুড়ির কোর্টে। জমিজমার রেকর্ড দেখতে চাইলাম। সে তো হিমালয়ের একটা লতা খোঁজার মতো ব্যাপার। কিন্তু খুঁজতে জানলে কী না হয়। যে-ভদ্রলোক প্রতুলবাবুর বিষয়সম্পত্তি দেখাশোনা করতেন, মানে ওঁর উকিলবাবু, তিনি তো সব মেরে দেবার তালে ছিলেন। আমায় দেখে মোটেই খুশি হলেন না। কিন্তু তার মূহুরিকে টাকাপয়সা দিয়ে ম্যানেজ করে সব বের করলাম রেকর্ড থেকে। বুঝতেই পারছ যা ছিল ও তার অর্ধেকও না। ওঁর সম্পত্তির বেশির ভাগই তো বেনামে। কোর্টে তার রেকর্ড থাকবে কেন? যা পেয়েছি সব লিখে নিলাম। এরপর গেলাম ব্যাঙ্কে। অ্যাকাউন্ট নাম্বার জানি না, কোন ব্যাঙ্কে টাকা রাখতেন তাও না। যে ক’টা ব্যাঙ্ক জলপাইগুড়িতে আছে সব চরতে লাগলাম। সেখান থেকে তিনটে অ্যাকাউন্টের সন্ধান পেলাম। তার ব্যালান্স অ্যামাউন্ট, অ্যাকাউন্ট নম্বর লিখে এনেছি। তুমি চাও তো তার কপি দিতে পারি তোমাকে।’

    ‘দেবেন তো!’

    ‘ও, আচ্ছা, দেব।’ একটু হকচকিয়ে গেলেন সুভাষচন্দ্র, ‘এখন কোর্ট থেকে অর্ডার বের করতে হবে যে তুমিই তাঁর উত্তরাধিকারিণী। অর্ডার পেলে ওগুলো তোমার নামে ট্রান্সফার করা যাবে। মুশকিল হল, এসব সময়সাপেক্ষ ব্যাপার আর তা করতে আমাকে জলপাইগুড়িতে গিয়ে কিছুদিন থাকতে হবে।’ সুভাষচন্দ্র মুখ বিমর্ষ করলেন।

    ‘ও, আচ্ছা!’ মাথা নাড়ল দীপা।

    ‘ইয়ে, তোমার জন্মদাতা তো কোনওকালে দায়িত্ব নেননি। এতে যে পয়সাকড়ি খরচ হচ্ছে তা যাচ্ছে আমার পকেট থেকেই। অথচ পড়ে পাওয়া চৌদ্দআনা নিতে তার জিভ লকলক করছে। এসব আমার সহ্য হয় না। আর তাঁর স্ত্রীর কথাবার্তা শুনলে মনে হয় তিনি যেন কুইন ভিক্টোরিয়া।’ সুভাষচন্দ্র আক্রোশ বোঝালেন, ‘কিন্তু মুশকিল হল আমার তো অবস্থা ভাল নয়। কলকাতায় সংসার রেখে জলপাইগুড়িতে যাওয়া মানে একই সঙ্গে দু’জায়গায় খরচ চালানো। এ আমি পারব কী করে? তা ছাড়া কোর্ট কাছারির খরচাও আছে। তাই আমি বলছিলাম যদি তুমি এখন হাজার টাকা আমাকে দাও, মানে তাতেই সব হয়ে যাবে, তা হলে প্রতুল বাঁড়ুয্যের টাকা পাওয়ামাত্রই তোমাকে শোধ করে দেব।’

    এরকম প্রস্তাব যে সুভাষচন্দ্র করতে পারেন চিন্তাও করেনি দীপা। মামার মুখের দিকে কিছুক্ষণ তাকিয়ে থেকে সে বলল, ‘আমি কী করে দেব?’

    ‘আমি সব জানি। অঞ্জলি বলেছে আমাকে। অমরনাথ যাওয়ার আগে প্রতুল বাঁড়ুয্যের টাকা থেকে তোমার ভবিষ্যতের ব্যবস্থা করে গিয়েছে। বিচক্ষণ মানুষ ছিল তো! তা বেশি দিন তো নয়, কয়েক মাসের মধ্যেই টাকাটা ফেরত পাচ্ছ মা!’

    দীপা মাথা নাড়ল, ‘আপনি ভুল শুনেছেন। তা ছাড়া যে-সামান্য টাকা আমাকে দেওয়া হয়েছিল তা থেকেও আমি চা-বাগানে সাহায্য করেছি। এখন আমাকে টিউশনি করতে হয় নিজের খরচ চালানোর জন্যে। আপনার যদি খুব অসুবিধে হয় তা হলে এসব করার দরকার নেই। আপনারা নিজেরাই এমন প্রস্তাব নিয়ে এসেছিলেন, আমার এতে কোনও আগ্রহ ছিল না, এখনও নেই।’

    সুভাষচন্দ্র যখন দেখলেন দীপা নরম হবার পাত্রী নয় তখন দেখি কী করা যায় গোছের কথা বলে বিদায় নিয়েছিলেন। হস্টেলে নিজের খাটে শুয়ে দীপা নিঃসাড়ে হাসল। যতই সে ভাবুক অতীত ভুলে গেছে তার বিবাহিত দু’দিনের স্মৃতি কি তাকে চিরকাল এভাবে বিব্রত করে যাবে? তার মনে হল সম্পত্তির বিলিব্যবস্থা হয়ে গেলে সে রক্ষা পেতে পারে। সুভাষচন্দ্রের মুখের ওপর কিছু বলতে পারেনি সে। চারপাশের আত্মীয়স্বজনের অর্থনৈতিক অবস্থা এত খারাপ যে তাঁরা কিছু চাইলে সরাসরি না বলা মুশকিল হয়ে ওঠে। ওই সম্পত্তিটাকে ওঁরা পড়ে পাওয়া চৌদ্দআনা বলে মনে করছেন। যদি সম্পত্তি না থাকত, যদি দীপা নিজের পরিশ্রম এবং বুদ্ধিতে খুব বিত্তশালী হয়ে উঠত, তা হলেও ওঁরা একইভাবে সাহায্যের জন্যে আসতেন। মধ্যবিত্ত বা নিম্নবিত্তের কোনওকালেই বিনাশ্রমে পাওয়ার লোভ দূর হবে না। হঠাৎ ভাবনাটা মাথায় এল। প্রতুল বাঁড়ুয্যের ভাইয়ের ছেলে সুভাষচন্দ্রকে বলেছেন ওইসব সম্পত্তিতে তাঁর আগ্রহ নেই। বংশের সূত্র ধরলে তিনিই প্রকৃত উত্তরাধিকারী। দীপা দু’রাতের বৈবাহিক সম্পর্কের ভিত্তিতে সেই উত্তরাধিকার অর্জন করতে বাধ্য হয়েছে। সে যদি ভদ্রলোককে সমস্ত দাবি লিখিতভাবে প্রত্যাহার করে অনুরোধ জানায় তিনি তাঁর ইচ্ছেমতন বিলিব্যবস্থা করুন তা হলে আর এইসব অনুরোধ-উপরোধের মুখোমুখি হতে হবে না দীপাকে। কিন্তু ভদ্রলোকের নাম ঠিকানা সে জানে না। শুধু রায়কত পাড়ার কথা মনে আছে। দীপার মনে পড়ল রায়কত পাড়ায় তার এক সহপাঠিনী থাকত। প্রতুলবাবুর দাদা তো জেলার নামকরা কংগ্রেস নেতা। তাই সেই সহপাঠিনীকে লিখলে নাম ঠিকানা পেতে অসুবিধে হবে না। যেন মাথার ওপর থেকে একটা বিরাট বোঝা নেমে গেল এমন একটা অনুভূতি হচ্ছিল দীপার।

    দু’দিন বাদে বিকেলে, হস্টেলে বসে বইয়ের পাতা ওলটাচ্ছিল দীপা, এমন সময় খবর এল তার ভিজিটার এসেছে। নীচে নেমে দেখল শমিত আর একজন ভদ্রলোক।

    শমিত ওকে দেখেই বলল, ‘কী ব্যাপার, একদম ডুমুরের ফুল, মায়ার কাছেও খবর পাচ্ছি না। আমাদের একদম ত্যাগ করলে?’

    শমিতকে দেখামাত্র কেমন একটা ঝিমঝিমে ভাব চলে এল শরীর এবং মনে৷ যেন একটা ভারী কিছু হঠাৎই ঝুলে পড়ল সেখানে। সে হাসার চেষ্টা করল, ‘তা কেন? অসুখের জন্যে অনেক পিছিয়ে পড়েছিলাম, তাই—।’

    শমিত বলল, ‘আগে এই ভদ্রলোকের সঙ্গে কথা শেষ করো। ইনি আমাকে খুঁজে বের করেছেন তোমার সঙ্গে কথা বলার জন্যে।’

    দীপা ভদ্রলোকের দিকে তাকাল। শমিত যখন নিয়ে এসেছে তখন নিশ্চয়ই আনার পেছনে যুক্তি আছে। সে বলল, ‘বলুন।’

    ভদ্রলোক দু’হাত জড়ো করে নমস্কার করলেন, ‘আমাকে সুবিনয় সেন পাঠিয়েছেন। উনি চেষ্টা করেও অনেকদিন যোগাযোগ করতে পারেননি। উনি আপনার সিদ্ধান্তের জন্যে এখনও অপেক্ষা করছেন।’

    দীপা মাথা নাড়ল, ‘না। সিনেমায় অভিনয় করার কোনও বাসনা আমার নেই।’

    ঠোঁট কামড়ালেন ভদ্রলোক, তারপর জিজ্ঞাসা করলেন, ‘কারণটা জানতে পারি?’

    ‘এটা আমার ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত।’

    ভদ্রলোক যেন স্বস্তি পেলেন। তিনি বারংবার দীপার মুখ শরীর দেখছিলেন। এবার ঘুরে দাঁড়িয়ে তিনি শমিতকে বললেন, ‘অনেক ধন্যবাদ আপনাকে। আসলে সুবিনয়বাবু এত ব্যস্ত হয়েছিলেন যে আমাকেই আসতে হল। আসলে উনি বোঝেন না ভদ্রঘরের সব মেয়েই যে ফিল্মে অ্যাক্টিং করার সুযোগ পেলেই চলে আসবে তা নয়। আপনাকে বিরক্ত করলাম বলে দুঃখিত। চলি।’

    ভদ্রলোক চলে গেলে শমিত হাসল, ‘ব্যাপারটা লক্ষ করলে?’

    ‘কী ব্যাপার?’ দীপা এত সহজে নিষ্কৃতি পেয়ে খুশি হয়েছিল।

    ‘সুবিনয়বাবুর আগামী ছবির প্রযোজক যেন তোমার না শুনে হাঁফ ছেড়ে বাঁচলেন। একটু আগে আমার সঙ্গে কথা বলার সময় উনি বলেছিলেন এত টাকা খরচ করে ছবি তৈরি হবে, নতুন নায়ক নায়িকা নিলে বেশ ঝুঁকি হয়ে যায়। নেহাত সুবিনয়বাবু খুব নামজাদা পরিচালক তাই তিনি কিছু বলতে পারছেন না। নইলে সুচিত্রা সেনকে নেওয়া পাকা হয়ে গিয়েছিল।’

    দীপার মুখে রক্ত জমল, ‘যাঃ। যে-চরিত্রে আমায় ভেবেছে সেই চরিত্রে উনি করবেন কী করে? মানাবেই না। উনি আমার থেকে কত বড়!’

    শমিত মাথা নাড়ল, ‘ওটা ফিল্ম লাইন। চল্লিশ বছরেও নায়ক নায়িকা কলেজের ফার্স্টইয়ারের ছাত্রছাত্রী হয়। নাটকে তো আকছার। সেদিন কম্বাইন শো বিষবৃক্ষের বিজ্ঞাপন দেখলাম। কুন্দনন্দিনীর চরিত্রে পঞ্চান্ন বছরের এক বৃদ্ধা নায়িকা নামছেন। অতএব সব হয়। কিন্তু তুমি করছ না বলে প্রযোজক যেন বেঁচে গেলেন।’

    ‘বেঁচে গেলেন!’

    ‘হুঁ। তার আর কোনও ঝুঁকি রইল না।’

    ‘আমি করলে ঝুঁকি হত?’

    ‘হত না! তোমাকে কে চেনে? এক পয়সাও টিকিট বিক্রি হত না তোমার নামে। লোকে অন্য কারণে হলে এসে তোমার অভিনয় দেখে ভাল লাগলে তোমাকে নিয়ে কথাবার্তা বলত। না লাগলে তোমার কপাল পুড়ল। সবাই বলত তোমার জন্যেই ছবি ফ্লপ করেছে। যাক, ছেড়ে দাও এসব কথা।’

    ‘না, দাঁড়ান। আপনার মনে হয়েছে লোকটি আমায় অবহেলা করল?’

    ‘অবহেলা করেছে কিনা জানি না তবে বেঁচে গিয়েছে। ভাবখানা দেখে তাই তো মনে হল।’ শমিত হাসল।

    দীপা আচমকা গম্ভীর হয়ে গেল। শমিত জিজ্ঞাসা করল, ‘এখন তোমার শরীর কেমন আছে? বেশ। রোগা হয়ে গিয়েছ।’

    ‘ভালই তো আছি। আচ্ছা, সেই ওয়ার্কিং গার্লস হস্টেলের কোনও খবর পাওয়া গেল? আমি মানিকতলায় একটা হস্টেলের খবর পেয়েছি কিন্তু ওখানে কোনও সিট খালি নেই।’

    ‘তুমি কবে থেকে যেতে চাও?’

    ‘এমন করে বলছেন যে এখনই যেতে পারি?’

    ‘আমি বলে রেখেছি। মাস তিনেক বাদে একটা সিট খালি হবে বাগবাজারের একটা হস্টেলে। ওখানকার ব্যবস্থা খুব ভাল।’

    ‘আমি কিন্তু চাকরি করি না।’

    ‘চাকরির সংজ্ঞা কী? তুমি তো টিউশনি করেও রোজগার করো। আর এ নিয়ে ওরা কোনও কড়াকড়ি করবে না। হস্টেলের কিছু স্বাভাবিক নিয়ম আছে। এক মাস ওরা দেখবে তুমি সেই নিয়ম মেনে চলছ কিনা। তারপর বোর্ডার হিসেবে পার্মানেন্ট করে নেবে।’ শমিত বলল।

    ‘আপনি আমার একটা বড় উপকার করলেন।’

    ‘তুমি আমাকে না বললে করতাম না।’

    ‘ঠিক হল না। ওয়ার্কিং গার্লস হস্টেলের প্রস্তাব আপনিই দিয়েছিলেন।’

    ‘ও, হ্যাঁ, তাই তো।’ বলেই হাসতে শুরু করল শমিত। দীপাও সেই হাসিতে যোগ দিল। এটা এল খুব স্বতঃস্ফুর্ত ভাবেই। হাসি থামলে দীপা বলল, ‘আপনাকে আর একটা উপকার করতে হবে আমার।’

    ‘শোনা যাক।’

    ‘আজ কি রিহার্সাল আছে আপনার?’

    ‘কেন বলো তো?’

    ‘জিজ্ঞাসা করছি।’

    ‘রিহার্সাল নেই। তবে গ্রুপে যাব। সাতটা নাগাদ যাওয়ার কথা।’

    ‘তা হলে এখনও অনেক সময় আছে। আপনি আমার সঙ্গে যাবেন?’

    ‘কোথায়?’

    ‘সুবিনয় সেনের বাড়িতে।’

    ‘সেকী? সেখানে যাবে কেন?’

    ‘ভদ্রলোকের সঙ্গে কিছু কথা আছে আমার।’

    ‘আশ্চর্য! সেটা ওই ভদ্রলোককে বলে দিতে পারতে।’

    ‘ওঁকে তো বলার নয় কথাগুলো।’

    ‘দ্যাখো দীপা, আমি সুবিনয় সেনের বাড়ি চিনি না। খোঁজ করে বের করতে হবে। আজ না গিয়ে কাল যদি যাও তা হলে ভাল হয়।’

    ‘না, আজই। কাল গেলে ব্যাপারটার গুরুত্ব থাকবে না।’

    ‘বেশ চলো। স্টুডিয়ো পাড়ায় গিয়ে খোঁজ করতে হবে।’

    ‘আমি আপনার বেশ অসুবিধে করলাম—।’

    ‘দীপা, দূরত্ব নিয়ে কথা বললে আমাকে অনুরোধ কোরো না।’

    সুবিনয় সেনের বাড়িতে যেতে হল না। নিউ থিয়েটার্স স্টুডিয়োতে ঢুকে শমিত এবং দীপা এক ঝাঁক দ্বিতীয় শ্রেণির শিল্পীদের দেখতে পেল। সবাই এমন ভাবভঙ্গি করছেন যেন সবে মর্ত্যে পা দিয়েছেন। গেটে দারোয়ানকে সুবিনয় সেনের কথা জিজ্ঞাসা করেছিল শমিত। জেনেছিল তিনি এই স্টুডিয়োতে একটা অফিসঘর ভাড়া নিয়ে রোজ সন্ধে ছ’টা অবধি কাজ করেন।

    দোতলা বাড়ির একতলায় সুবিনয় সেনের অফিস। বাইরে নেমপ্লেট এবং পিয়ন আছে। দেখা করতে। চায় জেনে সে জেরা করতে লাগল। ফিল্মে নামতে চাইলে সেনসাহেব দেখা করবেন না। এইসময় একটি লোক দীপাকে দেখে এগিয়ে এল, ‘আরে আপনি! আসুন আসুন, দাদার সঙ্গে দেখা করতে চান?’

    ওরা চিনতে পারল। সুবিনয় সেনের সহকারী ইনি, শো দেখতে গিয়েছিলেন।

    পিয়ন আর কথা বাড়াল না।

    সুবিনয় সেন একজনকে কিছু বোঝাচ্ছিলেন। হঠাৎ ওদের ঢুকতে দেখে চোখ ছোট করলেন, কথা থামালেন। সহকারী তাঁর কাছে ছুটে গিয়ে পরিচয় দিতেই তিনি সামনে বসা লোকটিকে ছেড়ে দিয়ে ওদের বসতে বললেন, ‘বলুন কী ব্যাপার?’

    দীপা চেয়ারে বসে বলল, ‘আজ এক ভদ্রলোক আমার কাছে গিয়েছিলেন, বোধহয় আপনার ছবির তিনি প্রযোজক—’।

    ‘হ্যাঁ। উনি আমাকে এসে বলেছেন আপনার ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তের কথা। কিন্তু ওঁকে তো আপনি জানিয়েই দিয়েছেন, তারপর—। আপনি কি মত পরিবর্তন করেছেন?’

    ‘আমি আপনার কাছে একটা অনুরোধ নিয়ে এসেছি।’

    ‘কী ব্যাপার?’

    ‘দেখুন, এখন এই মুহূর্তে আমার পক্ষে পড়াশুনা ছাড়া আর কিছু করা একেবারেই অসম্ভব। আমাকে রেজাল্ট ভাল করতেই হবে।’

    ‘তা করুন। তবে থিয়েটার করলে রেজাল্ট ভাল থাকবে আর ফিল্ম করলে খারাপ হয়ে যাবে এটা আমি মেনে নিতে পারছি না। তা ছাড়া আপনার অভিনয় দেখার পর আমি কয়েকজন সাংবাদিককে বলি যে পরের ছবিতে নতুন মেয়েকে নায়িকা করব। বুঝতেই পারছেন এ নিয়ে এখন কথা হবে।’

    ‘পরীক্ষা পর্যন্ত আমি নাটকও করছি না।’

    ‘বলুন, আপনার অনুরোধ কী?’

    ‘পরীক্ষার পরে যদি আমাকে একটা সুযোগ দেন তা হলে কৃতজ্ঞ থাকব।’

    শুধু সুবিনয় সেনই নন শমিত পর্যন্ত চমকে উঠল। ও যে এই কথা বলতেই এতদূরে আসতে পারে এমন ভাবনা শমিত ভাবতেই পারেনি।

    ‘তুমি বলছি’, সুবিনয় সেন বাঁ হাতে চশমা খুললেন, ‘তুমি তো ফিল্মে অভিনয় করতে চাও না, তা হলে আর পরীক্ষার পরে আসতে চাইছ কেন?’

    ‘প্রথমে বলুন, একবছর বাদে আপনি আমাকে সুযোগ দিতে পারেন কিনা। তা হলে আমি আমার কথা বলব।’

    ‘দিতে পারি না বলব না, পারি তাও না। সামনের বছর যে-ছবি করব সেখানে তোমার বয়সি কোনও মেয়ের ভূমিকা না-ও থাকতে পারে।

    ‘এই ছবিতে এখন যিনি আমার ভূমিকায় করবেন তাঁর বয়স কত?’

    ‘ও হো! তুমি বড্ড বেশি কথা বলো। একজন বড় অভিনেত্রী জানেন বেমানান-বয়সি কোনও চরিত্রে অভিনয় করতে গেলে কী করতে হয় যাতে দর্শক তাঁর অভিনয়টাই দেখবে, বয়সটা বিচার করবে না। এটা করতে গেলে অভিজ্ঞতা দরকার হয়। তবে, এ-কথা বলছি, যদি ঠিকঠাক চরিত্র পাই, যদি প্রযোজক আমার বিরোধিতা না করেন, তা হলে তোমার কথা নিশ্চয়ই ভাবব। সেদিন তোমার অভিনয় ভাল লেগেছিল, শুধু এই কারণেই ভাবব।’

    ‘এতেই হবে। আজ আপনার এই ছবির প্রযোজক গিয়েছিলেন আমার কাছে। আমি করব না শুনে তিনি যেন নিষ্কৃতি পেলেন। নতুন একজনকে নিয়ে ছবি করার ব্যাপারে ওঁর অনাগ্রহ হয়তো স্বাভাবিক, কিন্তু আমি একটি ছবিতে অভিনয় করে প্রমাণ করতে চাই যে আপনি ভুল নির্বাচন করেননি।’

    মনে হচ্ছে ওঁর ব্যবহারে তুমি একটু ধাক্কা খেয়েছ। গুড। মানুষের যদি আত্মসম্মানবোধ না থাকে তা হলে সে কীসের মানুষ। আর শিল্পীর তো সেটা আরও বেশি থাকা উচিত। আমি মনে রাখব তোমার কথা। তুমি তোমার পরীক্ষা শেষ হলেই আমার সঙ্গে যোগাযোগ কোরো।’

    সুবিনয় সেনের অফিস থেকে বেরিয়ে স্টুডিয়োর মধ্যে দিয়ে যাওয়ার সময় ওরা একটাও কথা বলল না। স্টুডিয়োর বাইরে এসে বাস স্টপে দাঁড়িয়ে শমিত মুখ খুলল, ‘আমি এমন অবাক খুব কম হয়েছি।’

    ‘ওমা, কেন?’

    ‘তুমি যে এই কথা বলতে আসবে কে জানত!’

    ‘আমার মেজাজ খারাপ হয়ে গিয়েছিল। কেউ আমায় উপেক্ষা করছে দেখলে আমি স্থির থাকতে পারি না।’

    ‘বাঃ, তা হলে কাজ হাসিল করতে হলে তোমায় উপেক্ষা করতেই হবে।’

    ‘ভ্যাট, ইয়ারকি হচ্ছে!’

    ‘তবে তুমি অতবড় একটি নামী মানুষের সঙ্গে যেভাবে কথা বলে গেলে তা অনেক ছেলে পারত না।’ শমিত দেখল দূরে বাস আসছে, ‘চলো, ওঠা যাক, রিহার্সাল না থাকলেও তো যেতে হবে।’

    বাসটি এসপ্লানেড পর্যন্ত এল। শমিত ঘড়ি দেখল, এখনও কিছুটা সময় আছে। জিজ্ঞাসা করল, ‘চা খাবে? খিদে পেয়েছে।’

    ‘আমি খাওয়াব।’

    ‘কারণ?’

    ‘কোনও কারণ নেই।’

    ধর্মতলা স্ট্রিটের মুখটায় একটি বাঙালি-রেস্টুরেন্টে ঢুকল ওরা। বেশ ভিড়। দোতলায় জায়গা মিলল। এখানে মিষ্টি খুব বিক্রি হয়। ওরা নোনতা আর চা বলল। শমিত মিষ্টি খেতে চাইল না। ছোট টেবিলে মুখোমুখি বসে শমিত বলল, ‘ভুল করেছি। তোমাকে অবহেলা করে কিছু বললে অন্তত পরীক্ষার পর নাটক করতে। জানা ছিল না তাই ভুলটা হল।’

    দীপা চোখ তুলে উজ্জ্বল হাসল। তারপর বলল, ‘এই যে তুমি দিনরাত নাটক নিয়ে থাকো, তোমার অ্যাম্বিশন ভাল নাটক করা, এটাই তোমাকে আর পাঁচজনের থেকে আলাদা করেছে। স্বপ্নেও তুমি নাটকের ছবি দ্যাখো, না?’

    ‘এটা নিন্দে না প্রশংসা বুঝতে পারছি না।’

    ‘মানে?’

    ‘হঠাৎ তুমি বলতে আরম্ভ করলে?’

    দীপা জিভ বের করল, মাথা নাড়ল শমিত, ‘দয়া করে আর আপনি বোলো না। তা হলে সেটাই প্রমাণ করবে তুমি আমার নিন্দে করছিলে।’

    দীপা আর কথা বলল না। খাবার এলে চুপচাপ খেতে লাগল। মিনিট পাঁচেক বাদে ওরা যখন চায়ের জন্যে অপেক্ষা করছে তখন শমিত বলল, ‘মনে হচ্ছে তুমি না জেনে বিরাট একটা অপরাধ করে ফেলেছ।’

    ‘না, তা কেন?’ দীপা ওপর থেকে নীচের কাউন্টারের দিকে তাকাল।

    ‘তা হলে এমন মুখ করে আছ কেন? আমাকে বন্ধু ভাবতে পারো না?’

    ‘ভাবি না কে বলল?’

    ‘কী আনন্দ!’

    ‘শুধু ইয়ারকি!’

    ‘কীরকম বন্ধুত্ব বলল! ইয়ারকি তো আসবেই। আমি কেরিয়ারের কথা না ভেবে আজ নাটক নিয়ে পড়ে থাকতে চাই। এতেই আনন্দ পাই। সুদীপ ইংরেজিতে এম এ করছে, কলেজে পড়াবে। সেইসঙ্গে নাটক। অর্থাৎ পাশাপাশি অন্যকিছু ভাবছে। আমাকে মা মাসিরা বাউন্ডুলে বলেন। এক কাকা ঘোষণা করেছেন যে আমার ভবিষ্যৎ ঝরঝরে। আর তুমি সিরিয়াসলি পড়াশুনা করে কেরিয়ার তৈরি করতে চাও। আই এ এস-এ বসতে যাচ্ছ। জিরো আর একশোতে বন্ধুত্ব হল। দুটোতেই অবশ্য জিরো আছে, অবস্থান এদিক ওদিক।’

    ‘এতে তোমার আফশোস হচ্ছে?’

    ‘নাঃ। যাই বলল, পাওয়াটাই বড় কথা, কতটা পাচ্ছি সেই বিচার করতে গেলে কষ্ট বাড়ে। আমি যেচে কষ্ট পেতে রাজি নই?’

    ‘আর যার ওপর কষ্ট চাপিয়ে দেওয়া হয়? অনবরত যার ওপর কষ্টের বৃষ্টি হচ্ছে আর যে দুটো হাত মাথার ওপর তুলে তার আড়ালে নিজেকে বাঁচাতে চেষ্টা করছে তাকে কী বলবে?’

    ‘আমি জানি।’

    ‘কী জানো? চমকে যেয়ো না, তুমি জানো, আমি বিধবা?’

    ‘এটাকে কি তুমি অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করো?’ শমিত গম্ভীর হল।

    ‘মানে!’ দীপা অবাক হয়ে গেল।

    ‘তোমার সমস্ত ঘটনা আমি মায়ার কাছে শুনেছি। বিধবা বলে ঘোষণা করলে অনেকের কৌতুহল থেকে আড়াল নিশ্চয়ই করতে পারো। কিন্তু সত্যি কথাটা বলো তো, তুমি নিজেকে বিধবা ভাবো?’

    এক মুহূর্ত চুপ করে থেকে দীপা মাথা নাড়ল, না।

    ‘তা হলে? কথাটা আমাকে শোনালে কেন? শুনে আমি তোমার সঙ্গে আর মিশতে চাই কিনা পরীক্ষা করতে?’

    ‘যদি বলি তাই!’

    ‘তা হলে ভুল হয়েছে তোমার।’

    ‘আর পাঁচটা অবিবাহিতা মেয়ের সঙ্গে আমার কোনও মিল নেই!’

    ‘সেটা তোমার আচরণে বোঝা যায়!’

    ‘তার মানে?’

    ‘ওরা কেউ তোমার মতো প্রতিবাদী নয়। বোধহয় এই কারণেই নাটক করবে না জানার পরেও আমি তোমার সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করতে পারিনি।’

    চা এল। ওরা চুপচাপ খেল। দীপাকে দাম দিতে দিল শমিত। বাইরে বেরিয়ে এসে শমিত জিজ্ঞাসা করল, ‘তুমি কি হস্টেলে যাবে?’

    ‘হ্যাঁ।’

    ‘তা হলে ট্রামে ওঠো। আমি বাস ধরি। আর বেশি সময় নেই।’

    ‘ঠিক আছে। তুমি এগোও, সামনেই তো ট্রাম গুমটি, আমি উঠে যাব। তোমাকে সময় নষ্ট করতে হবে না।’ দীপা হাসল।

    ‘কবে দেখা হবে?’

    ‘টিউশনির দিনগুলোর বাইরে হস্টেলেই থাকব।’

    ‘কী হয়েছে তোমার? এমন গম্ভীর হয়ে কথা বলছ?’

    ‘কেমন যেন গোলমাল হয়ে গেল আজ। ভাবনাটাবনাও যেন আচমকা হাতের বাইরে চলে যাচ্ছে। কিছু নয়, সামলে নেব।’ দীপা কথা শেষ করামাত্র একটি মেয়েলি গলা ভেসে এল, ‘আরে, দীপাবলী না?’

    ওরা দু’জনেই মুখ ফিরিয়ে দেখল এক মধ্যবয়সি মহিলা এগিয়ে আসছেন। তাঁর হাতে সদ্য কেনা জামাকাপড়ের প্যাকেট। দীপার গলা একদম পালটে গেল। উচ্ছ্বসিত হয়ে বলল, ‘ওমা, আপনি! এখানে!’

    ‘আমি তো এখন কলকাতায়।’ কাছে এসে হাত ধরলেন মহিলা।

    শমিত বলল, ‘তা হলে আজ আমি চলি দীপা।’ শমিত দাঁড়াল না। দীপা তার চলে যাওয়া দেখল। এভাবে না গেলে সে আলাপ করিয়ে দিত। ভদ্রমহিলা ততক্ষণে দীপাকে প্রায় জড়িয়ে ধরেছেন, ‘তুই কী বড় হয়ে গেছিস।’

    দীপা ওঁর মুখের দিকে তাকাল। রমলা সেনের সিঁথিতে সিদুরের লম্বা দাগ।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43 44 45 46 47 48 49 50 51
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleসাতকাহন ২ – সমরেশ মজুমদার
    Next Article কইতে কথা বাধে – সমরেশ মজুমদার (অসম্পূর্ণ)

    Related Articles

    সমরেশ মজুমদার

    চব্বিশ ঘণ্টার ঈশ্বর – সমরেশ মজুমদার

    December 4, 2025
    সমরেশ মজুমদার

    ছোটগল্প – সমরেশ মজুমদার

    December 4, 2025
    সমরেশ মজুমদার

    আট কুঠুরি নয় দরজা – সমরেশ মজুমদার

    December 4, 2025
    সমরেশ মজুমদার

    উত্তরাধিকার – সমরেশ মজুমদার

    December 4, 2025
    সমরেশ মজুমদার

    গর্ভধারিণী – সমরেশ মজুমদার

    December 4, 2025
    সমরেশ মজুমদার

    কইতে কথা বাধে – সমরেশ মজুমদার (অসম্পূর্ণ)

    December 4, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Our Picks

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }