Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    সাতকাহন ১ – সমরেশ মজুমদার

    সমরেশ মজুমদার এক পাতা গল্প936 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ৫০. রমলা সেন চোখ ছোট করলেন

    রমলা সেন চোখ ছোট করলেন, ‘ওয়ার্কিং গার্লস হস্টেল? তার মানে?’ দীপা বলল, ‘আলাপ করিয়ে দিই। ইনি রমলা সেন। আমার জীবনে ইনি প্রথম বড় হবার স্বপ্ন দেখিয়েছিলেন। কলেজে পড়ান। আর ইনি শমিত, স্কুলে পড়ান, কিন্তু আসল পরিচয় একটি শিক্ষিত নাটকের দলের পরিচালক। নাটক নিয়ে থাকেন, স্বপ্ন দ্যাখেন। নাটকই এঁর সব।’

    রমলা সেন বললেন, ‘ওমা, এমন নাটুকে লোকের সঙ্গে তোর আলাপ হল কী করে?’

    দীপা হেসে ফেলল, ‘হয়ে গেল।’

    শমিত চুপচাপ শুনছিল, ‘আপনারা দু’জনেই একটু বাড়িয়ে বললেন।’

    রমলা সেন হোঁচট খেলেন, ‘আমি আবার কী বাড়িয়ে বললাম!’

    ‘সত্যি যদি নিজেকে নাটুকে ভাবতে পারতাম তা হলে খুশি হতাম। সেটা ভাবতে গেলে দিনরাত তাই নিয়ে ডুবে থাকতে হয়। আসলে নাটক এমন একটা শিল্প যা একক চেষ্টায় করা সম্ভব নয়। সহ-অভিনেতা থেকে শুরু করে আলো, এমনকী যে উইংস টানবে তাকেও নাটকের লোক হতে হবে। ডুবে থাকলে সেসব চোখ মেলে দেখার সুযোগ পাওয়া যাবে না। যাঁরা লেখেন বা ছবি আঁকেন তাঁদের সেই সুযোগ আছে।’ শমিত হাসল।

    রমলা সেন সোজা হয়ে বসলেন, ‘এ ছেলে তো বলে ভাল। বাঃ, চমৎকার।’

    শমিত বলল, ‘যদি কিছু মনে না করেন তো একটা প্রশ্ন করব?’

    রমলা সেন নীরবে মাথা নাড়লেন।

    শমিত বলল, ‘সেদিন আপনাকে এক পলক দেখলেও আমার মনে হচ্ছে কিছু পরিবর্তন ঘটেছে আপনার। সেদিন ওই রুমালটা নিশ্চয়ই মাথায় বাঁধেননি।’

    ‘উঃ, এই এক প্রশ্নের উত্তর দিতে দিতে আমার প্রাণ বেরিয়ে গেল!’

    ‘আমি কিন্তু প্রথমেই বলেছি আপনি কিছু মনে করলে বলব না।’ বিব্রত হল শমিত।

    দীপা শব্দ করে হেসে উঠল। গম্ভীর হয়ে গেলেন রমলা সেন। সঙ্গে সঙ্গে দীপা থেমে গেল। ওর মনে হল যেসব কথা উনি তাকে বলতে পেরেছেন তা নিশ্চয়ই শমিতকে শোনাতে চান না। রমলা সেন শমিতকে জিজ্ঞাসা করলেন, ‘তুমি মেয়েদের খুব খুঁটিয়ে দ্যাখো।’

    ‘মেয়েদের বললে ঠিক বলা হবে না। আমি রাস্তাঘাটে মানুষের চালচলন চেহারা দেখি। নাটকের কোনও চরিত্রের সঙ্গে মিল আছে এমন চেহারার মানুষ দেখলে আরও ভাল করে তাকে লক্ষ করি। এটা খুব কাজে লাগে।’

    ‘তোমার নাটকে আমার মতো কোনও চরিত্র আছে নাকি!’

    ‘না। তাই সেদিন ভাল করে দেখিনি।’

    ‘রিয়েল ইনটেলিজেন্ট। ভাল লাগল। হ্যাঁ, সেদিন তুমি আমার মাথায় রুমাল দ্যাখোনি। কেন দ্যাখোনি বলতে পারব না, এটা আমার ব্যক্তিগত ব্যাপার।’

    দীপা সঙ্গে সঙ্গে জিজ্ঞাসা করল, ‘হস্টেলটা কোথায়?’

    ‘বাগবাজারে। একটা সিট এ-মাসের শেষে খালি হচ্ছে। আমি বলে রেখেছিলাম। তোমার দরখাস্ত কালকের মধ্যে জমা দিতে হবে।’

    ‘টার্মস কী?’

    ‘তেমন কিছু না।’

    ‘আমি চাকরি করছি বলতে হবে তো?’

    ‘না। আমি বলেছি তুমি কলেজে পড়ো আর প্রাইভেট টিউশনি করো। চাকরি ঠিক আছে, ফাইনাল দিয়েই জয়েন করবে!’

    ‘সেকী! এ তো একদম মিথ্যে কথা।’

    ‘মিথ্যে নয়। আমি যে-স্কুলে পড়াই তার মর্নিং সেকশনে কিছুদিন পরেই ডেপুটেশন ভ্যাকেন্সিতে লোক নেবে। ইচ্ছে করলে তুমি করতে পারো।’

    ‘গ্রাজুয়েট না হয়েই!’

    ‘প্রাইমারি সেকশনে অসুবিধে হবে না।’

    ‘হস্টেলে কত টাকা লাগবে?’

    ‘মনে হয় এখানে যা দিচ্ছ তার থেকে বেশি নয়।’

    রমলা সেন চুপচাপ কথাগুলো শুনছিলেন। এবার প্রশ্ন না করে পারলেন না, ‘তোর এখানে কী অসুবিধে হচ্ছে। এখানে সবাই ছাত্রী, পড়াশুনার আবহাওয়া আছে—!’

    ‘সবই ঠিক। মুশকিল হয় ছুটি পড়লে সবাই যে যার বাড়িতে চলে যায়। এমনকী ঠাকুর চাকরও। তখন হস্টেলে থাকা যায় না। তারপর পরীক্ষা হয়ে গেলে এই হস্টেল ছাড়তে হবে। তখন কোথায় যাব?’

    ‘তুই বাড়িতে যাস না?

    ‘কোন বাড়ি?

    ‘আঃ, তোর বাবার বাড়ি।’

    ‘বাবা মারা যাওয়ার পর যাওয়ার সম্পর্ক নেই।’

    ‘সেকী? কেন?’

    ‘অনেক গল্প। শোনাতে গেলে অনেক কথা বলতে হবে।’

    ‘সেদিন বলছিলি বটে তুই তোর গার্জেন কিন্তু আমি ব্যাপারটা ধরতে পারিনি। কী করে এমন হল? তোর মা কি চাননি যে তুই পড়াশুনা করিস?’

    ‘বললাম তো আরও জটিল ব্যাপার।’ দীপা গম্ভীর হল।

    শমিত জিজ্ঞাসা করল, ‘আজ অ্যাপ্লিকেশনটা পেলে ভাল হত। যাওয়ার পথে জমা দিয়ে যেতাম। কাল আসতে পারব না।’

    ‘তা হলে আমাকে ঠিকানাটা বলুন আমি পৌঁছে দিয়ে আসব।’

    ‘কাকে?’

    ‘মানে?’

    ‘দিতে হবে সেক্রেটারির হাতে। ঠিক আছে, আমাকে একটা ভাল কাগজ এনে দাও, আমি লিখে দিচ্ছি, তুমি সই করে দেবে।’

    মাথা নেড়ে রমলা সেনকে ‘আসছি’ বলে বেরিয়ে গেল দীপা। রমলা সেন বললেন, ‘তুমি অনেকক্ষণ দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে কথা বলছ। বসো।’

    ‘ধন্যবাদ। শমিত চেয়ার টেনে বসল।

    ‘তোমরা কী ধরনের নাটক করো?’

    ‘সাধারণত অ্যাডপটেশন।’

    ‘কেন?’

    ‘তাতে দর্শকরা ভাল বিদেশি নাটক সম্পর্কে ধারণা তৈরি করতে পারেন। আর আমরাও ভাল নাটকে কাজ করার সুযোগ পাই।’

    ‘আমার মনে হচ্ছে দীপাকে তুমি খুব পছন্দ করো।’

    ‘হ্যাঁ। ওর মধ্যে তেজি ভাব আছে যা আমি পছন্দ কর।’

    ‘বাঃ, এভাবে উত্তর দিতে পারলে তুমি?’

    ‘আপনি আমাকে প্রশ্ন যখন করতে পারলেন তখন উত্তর দিতে বাধা কী!’

    ‘তুমি দীপাকে কতটুকু জানো?’

    এইসময় দীপা কাগজ নিয়ে ঢুকল। ঢুকে বলল, ‘আমার কথা কী বলা হচ্ছিল!’

    রমলা সেন বললেন, ‘আমি ওকে জিজ্ঞাসা করছিলাম তোকে কতটা জানে!’

    দীপা শমিতের দিকে তাকিয়ে বলল, ‘কী জবাব দেবেন?’

    শমিত হাসল, ‘এখনও তো হিসাব করিনি। দাও কাগজটা।’ সে কাগজ নিয়ে ঝটপট লিখে ফেলল লাইনগুলো। লিখে বলল, ‘পড়ে সই করো।’

    ঠোঁট উলটে দীপা চোখ বোলাল, তারপর সই করে দিল। কাগজটা নিয়ে শমিত উঠে দাঁড়াল, ‘চলি, আপনারা কথা বলুন। আজ পুরো রিহার্সাল আছে।’ শমিত চলে গেল। ওর যাওয়া দেখলেন রমলা সেন। তারপর বললেন, ‘বেশ বুদ্ধিমান ছেলে। স্কুলে পড়ায় বলল, না?’

    “হ্যাঁ। একটা কাজ করতে হয় বলে করছে।’

    ‘হ্যাঁরে, তুই কি ওকে ভালবাসিস।’

    দীপা রমলা সেনকে এক মুহুর্ত দেখল। তারপর বলল, ‘মাথায় আসেনি।’

    ‘মানে?’

    ‘ভালবাসার যেসব গল্প এতদিন পড়েছি তার নায়িকার মনের ভাব আমার কখনও হয়নি।’

    ‘এ তুই ফাঁকিমারা কথা বললি।’

    ‘সত্যি কথা কিন্তু। আমার চেয়ে বয়সে বড় হলেও শমিতকে বন্ধু হিসেবে পছন্দ হয় আমার। মনে হয় ওর ওপর আস্থা রাখা যায়। হয়তো ওর বয়সি ছেলেদের তুলনায় ব্যক্তিত্ব বেশি বলেই এটা মনে হয়। কিন্তু ওর জন্যে আমার মনে কখনও তোলপাড় হয়নি। তাই তোমাকে কী করে বলব ওকে ভালবাসি!’ দীপা অকপটে বলল।

    অমলকুমার বন্দ্যোপাধ্যায়ের চিঠি এল। আগের চিঠির বক্তব্যে যদি কোনও অসংগতি থাকে তা হলে দীপা যেন তাকে মার্জনা করে। সেইসঙ্গে জানাননা, যদি এ-ব্যাপারে দীপা মনে করে তার কোনও সাহায্য প্রয়োজন তা হলে তা সে করতে প্রস্তুত। চিঠি পড়ে দীপার ভাল লাগল৷ সে চিঠি লিখে জানাল, সুভাষচন্দ্র যে-সব কাগজপত্র উদ্ধার করেছেন তাতে তার হিসেব অনুযায়ী বারো লক্ষ টাকা হবে। বাস্তবে এই অঙ্ক কম বা বেশি হতে পারে। এখন কোনও জনহিতকর প্রতিষ্ঠানকে দান করতে হলে প্রথমে দান করার অধিকার তাকে অর্জন করতে হবে। যেহেতু এই কাজ জলপাইগুড়ির আদালত বা সরকারি অফিসেই করতে হবে তাই যদি অমলকুমার সাহায্য করেন তা হলে সে চিরকৃতজ্ঞ থাকবে। চিঠির উত্তর কলেজ হস্টেলের ঠিকানায় না দিয়ে নতুন ঠিকানায় যেন দেওয়া হয়। দীপা ওয়ার্কিং গার্লস হস্টেলের ঠিকানাটা জানিয়ে লিখল সামনের মাসের এক তারিখে সে ওই ঠিকানায় উঠে যাচ্ছে।

    কিন্তু ওই চিঠির উত্তর এত তাড়াতাড়ি এল যে নতুন ঠিকানার প্রয়োজন হল না। চিঠিতে অমলকুমার লিখেছে যে সে জলপাইগুড়ির প্রোথিতযশা উকিল জীবনগতি রায় মহাশয়ের সঙ্গে কথা বলেছে। রায় মহাশয় খুব বড় মাপের মানুষ। সব শুনে বলেছেন এমন একটা কাজ যে মেয়ে করতে পারে তাকে তিনি একটি পয়সা পারিশ্রমিক না নিয়ে সাহায্য করবেন। কিন্তু এসব করতে হলে দীপাকে দিনকয়েক জলপাইগুড়িতে থাকতে হবে আইনগত কারণে। দীপা যত তাড়াতাড়ি আসতে পারে তত ভাল হয়।

    দীপা ঝুঁকি নিল। সুভাষচন্দ্রের দেওয়া সমস্ত কাগজ সে পার্সেল করে পাঠিয়ে দিল অমলকুমারের নামে। সেইসঙ্গে জানাল সামনের মাসের শেষদিকে সে যেতে পারবে। কারণ তার তখন ছুটি থাকবে। সমস্যা হল জলপাইগুড়ি শহরে কোনও থাকার জায়গা নেই। সেখানকার হোটেলের ব্যবস্থা কীরকম অথবা তারা একা মেয়েকে থাকতে দেয় কিনা তাও সে জানে না। অতএব একটা নিশ্চয়ই সমস্যা হয়ে দাঁড়াবে।

    কলেজ হস্টেল ছেড়ে সে যখন ওয়ার্কিং গার্লস হস্টেলে এল তখন শমিত আর মায়া সঙ্গে ছিল। এখানকার বেশিরভাগ মেয়েই শিক্ষিকা। দু’-চারজন অফিসে কাজ করে। তাদের সঙ্গে শিক্ষিকাদের মেলামেশা কম। শমিতের ভেতরে ঢোকা নিষেধ, মায়া ওকে ঘরে পৌঁছে দিল। দীপার রুমমেট এক মধ্যবয়সি মহিলা। আর জি কর হসপিটালে নার্সের চাকরি করেন। যেমন কালো তেমন ভারী শরীর। দিনটা ছিল রবিবার। মহিলা নিজের খাটে বসে টেবিলে আয়না রেখে সন্না দিয়ে পাকা চুল তুলছিলেন। ওবা ঢুকতেই হাতের আড়ালে সন্না লুকিয়ে জিনিসপত্র নামাতে দেখলেন। ঘরে ঢোকার আগে দীপা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে দেখা করে টাকাপয়সা জমা দিয়ে এসেছিল। মহিলা আচমকা জিজ্ঞাসা করলেন, ‘কোন জেলা?’

    মায়া জবাব দিল, ‘জলপাইগুড়ি। আপনি এ-ঘরে থাকেন বুঝি?’

    ‘হ্যাঁ, এটা আমারই ঘর। কত রুমমেট এল গেল আমি কিন্তু রয়েই গেছি। এই হস্টেলে যে-কেউ দেবিকার ঘর বললে এই ঘরটাই দেখিয়ে দেবে।’

    মায়া হাসল, ‘তা হলে তো আমার বন্ধু এখানে আপনার সঙ্গে ভালই থাকবে।’

    দেবিকা বললেন, ‘ও, তুমি থাকবে ভাই?’

    দীপা বেশ চটে গেল। একে কথায় মাতব্বরির ভাব স্পষ্ট তার ওপর সরাসরি তুমি বলা তার মোটেই পছন্দ নয়। বয়সে বড় হলেও জিজ্ঞাসা করে তুমি বলা উচিত। সে জবাব দিল না। মায়া ওকে বিছানা পাততে সাহায্য করল। সেটা দেখতে দেখতে দেবিকা জিজ্ঞাসা করলেন, ‘বিয়েথা হয়ে গেছে না হয়নি!’

    মায়া জবাব দিল, ‘ওমা, আপনি চোখে দেখে বুঝতে পারেন না?’

    ‘চোখে দেখে? সেদিন চলে গিয়েছে। হাসপাতালে চাকরি করছি। যা সব কেস দেখছি রোজ মাথা ঘুরে যাচ্ছে। মাথায় সিঁদুর দিয়ে খালাস করতে এল, স্বামীর নাম দেখাল। স্বামী দেবতাটিকেও দেখলাম। অল্প বয়স দু’জনের। বাচ্চা হল সন্ধেবেলায়, ভোরবেলায় মায়ের পাত্তা নেই। খোঁজ খোঁজ। বেড খালি, কোথাও পাওয়া গেল না। পুলিশে খবর গেল। তারা খবর নিয়ে বলল ঠিকানাটা মিথ্যে। ওই নামে কেউ থাকে না। বাচ্চাটার কী হবে? তা এক দারোয়ানের বউ চেয়ে নিল, তার বাচ্চা হচ্ছে না দশ বছর। তবে?’

    দীপা মায়ার দিকে তাকাল, ‘কেন কথা বাড়াচ্ছিস?’

    মায়া আবার হাসল ‘তা হলে আজ চলি। নীচে শমিত দাঁড়িয়ে আছে। কাল কলেজে দেখা হবে।’ বলে দরজা পর্যন্ত গিয়ে ঘুরে বলল, ‘আমার বন্ধু খুব গম্ভীর, কম কথা বলে, আপনিও বেশি কথা বলবেন না।’ বলে বেরিয়ে গেল।

    দীপা অনেক কষ্টে হাসি চাপল। সে দেবিকার দিকে পেছন ফিরে বালিশ ঠিক করল। টুকিটাকি কাজ সারল। দেবিকা বিছানায় বসে চুপচাপ ওকে দেখছিলেন এবার নিশ্বাস ফেলে বললেন, ‘তা হলে তো ভাই তোমাকে অন্য ঘরে যেতে হবে।’

    ‘কেন?’ ঘাড় বেঁকিয়ে তাকাল দীপা।

    ‘আমি তো কথা না বলে থাকতে পারি না।’ মাথা নাড়লেন তিনি।

    ‘ঠিক আছে, আপনি কথা বলবেন।’ দীপা একটা বই নিয়ে বিছানায় শুয়ে পড়ল।

    ‘তা হলে ঠিক আছে। হ্যাঁ, যে-কথা বলছিলাম, দেখে মনে হয় বিয়েথা হয়নি। বিপদ বলো ভয় বলো এখানেই। মা-বাবা সম্বন্ধ করছে না তো?’

    দীপা কথা বলল না। দেবিকা বললেন, ‘করবে না। মেয়ে চাকরি করলে কোন মা-বাপ চায় তাকে খরচ করে বিয়ে দিই। যে-গোরু দুধ দেয় তাকে কেউ বিক্রি করতে চায়? আর এই করতে করতে দেখবে একসময় তোমার আমার মতো বয়স হয়ে যাবে, আর তখন বিয়ে হবে না। আমি তো এর আগের দুই রুমমেটকে বলে বলে বিয়ে করালাম।’

    কথা না বলে পারল না দীপা, ‘আপনার খুব বিয়ের শখ ছিল বুঝি?’

    ‘খুউব। সেই ছেলেবেলায় যখন রান্নাবাটি খেলতাম তখন থেকে। সময়ে কেউ বিয়ে দিল না। দু’বার যে নিজে চেষ্টা করিনি তা নয়। কিন্তু ডাক্তার বলো আর রুগি বলো, হাসপাতালে ঢুকলে কত মিষ্টি কথা, হাসপাতালের বাইরে চোখ উলটে দেয়। তাই বলছিলাম, বিপদ বলো, ভয় বলো, এখানেই।’ দেবিকা গলা নামালেন, ‘কোথায় চাকরি করো?’

    ‘করি না, করব! স্কুলে।’

    ‘অ। আমার এক পেশেন্ট ছিল স্কুলের মাস্টারনি। অমন খেঁকুরে মেয়েমানুষ আমি বাবা জীবনে দেখিনি। যেমন রোগা তেমনি খেঁকুরে। রোজ বিকেলে আয়না বের করে বেডে বসে পাউডার মাখত। এক রাত্রে আমায় বলে কিনা, জানান দিয়ে তবে রাত্রে আসবেন নইলে অন্ধকারে আপনাকে বোঝা যায় না। কী আস্পদ্দা!’

    দীপা হাসি চাপল। হঠাৎ দেবিকা লাফিয়ে উঠলেন, ‘ওরে বাবা রে!’ কথা বলতে বলতে কী দেরি না হয়ে গেল। আমার ডিউটির সময় হয়ে গেছে। আজ আবার নার্সিং সুপার দাঁত দেখাবে।’ দীপা মুখ ফিরিয়ে চোখ বইতে রাখল। মহিলা এই ঘরেই জামাকাপড় পরিবর্তন করছেন। দীপা যে রয়েছে তা যেন খেয়ালেই নেই। পোশাক পালটে চুল আঁচড়ে দেবিকা বললেন, ‘কাল সকালে আবার দেখা হবে। কী যেন নাম তোমার? নাম না জানলে কথা বলা যায় নাকি!’

    ‘দীপাবলী।’

    ‘আমি ওই বলীটলি বলতে পারব না। শোনো দীপু, আমি চলে যাচ্ছি, আজ রাত্রে তুমি আমার মাছটা খেয়ে নিয়ো। চেয়ে খেয়ো নইলে ঠাকুর দেবে না।’

    ‘আপনি রাত্রে ফিরবেন না?’

    ‘না। নাইট ডিউটি। নাইট ডিউটি নিই কেন বলো তো? রাত দশটার পর পাঁচটা পর্যন্ত টানা ঘুম। এদিকে সারাদিনেও বিশ্রাম। রাতে হাসপাতালে কপাল খারাপ না হলে কোনও ঝামেলা থাকে না তো। চলি।’ দুদ্দাড় করে ঘরের বাইরে চলে গিয়েও ফিরে এলেন তিনি। মুখ ঢুকিয়ে বললেন, ‘মাছটা মনে করে খেয়ো। টাকা যখন রিফান্ড দেবে না তখন মাছটা আর ছাড়ব কেন? রোজ ছাড়ি, আজ টাইট।’ শব্দ তুলে চলে গেলেন দেবিকা। দীপা উঠে বসল। অদ্ভুত মহিলা। এতক্ষণ ওঁর ওপর তার বেশ রাগ হচ্ছিল। নিজের বা অন্যের ব্যক্তিগত ব্যাপার বলে কিছু থাকতে পারে তা এই ধরনের মহিলা ভাবতেও পারেন না। কানের পোকা বের করে দেবার পক্ষে যথেষ্ট। আবার মাছ খেতে বলে যাওয়াটা ওঁর ছবিটাকে পালটে দিল। সে ওইভাবে চেয়ে মাছ খেতে আগ্রহী নয়। কিন্তু ওই বলার মধ্যে সহজ মন ছিল, এটাও ঠিক।

    নতুন হস্টেলে অসুবিধা হচ্ছে না দীপার একমাত্র দেবিকাদেবীর কথার তুবড়ি ছাড়া। কলেজ হস্টেলের সঙ্গে এখানকার একটা বড় তফাত বাসিন্দাদের বয়স হয়েছে। সেই কারণে হাঁটা চলায় ব্যবহারে একটা ভারী ব্যাপার আছে। দু’দলের আলোচনার বিষয়ও আলাদা। বড়রা অনেকেই স্নেহ করে দলে টানতে চাইছেন। এঁদের মধ্যে যেমন অবিবাহিতার সংখ্যা বেশি তেমনি স্বামী পরিত্যক্তা অথবা অর্থের কারণে স্বামী-সংসার ছেড়ে আসা মহিলাও আছেন। সমস্ত পশ্চিমবাংলায় এঁদের সংখ্যা যদিও হাতে গোনা যায় যাঁরা নিজের উপার্জন করে দাড়িয়ে আছেন, তবু কথা বললে এঁদের হা হুতাশ বুঝতে অসুবিধে হয় না।

    পরীক্ষার জন্যে তিনমাসের ছুটি আরম্ভ হতেই অমলকুমারের চিঠি এল জলপাইগুড়ি থেকে নতুন ঠিকানায়। অমলকুমার জানিয়েছে, জলপাইগুড়ির হস্টেলে কোনও মহিলা সাধারণত একা থাকেন না। হোটেলদুটি খুব উঁচু মানেরও নয়। তা ছাড়া জলপাইগুড়িতে এসে হস্টেলে ওঠার কথা না ভাবলেই ভাল হয়। পুরনো আত্মীয়তার কথা যদি না তোলা হয় তা হলে যেমন নিয়ে চিঠির জবাব দীপা দিয়েছে সেই মনেই রায়কতপাড়ায় অমলকুমারের বাড়িতে সে থাকতে পারে। এ-ব্যাপারে অমলকুমারের মায়ের কোনও আপত্তি নেই। অমলকুমার উকিলবাবুকে সমস্যাটা জানিয়েছিল। তিনিও বলেছেন, থাকার জায়গার কোনও অভাব হবে না। তাঁর বাড়িতেও বহু জায়গা আছে। জলপাইগুড়ির বিখ্যাত চা-শিল্পপতি শ্রীযুক্ত বীরেন ঘোষ তাঁদের পাড়ার লোক। ঘোষমহাশয়ের একটি ভাল গেস্ট হাউস আছে। উকিলবাবু তার সঙ্গে কথা বলে সেখানে থাকার ব্যবস্থা করে দিতে পারেন। পত্রপাঠ কবে আসছে জানালে অমলকুমার স্টেশনে অপেক্ষা করবে।

    লাইব্রেরি থেকে বেরিয়ে শমিতের রিহার্সাল রুমে গেল দীপা। গিয়ে দেখল দরজায় তালা ঝুলছে। তাকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে পাড়ার একটি ছেলে বলল, ‘রিহার্সাল পার্টিদের খুঁজছেন? পাবেন না। বাড়িওয়ালা ঘর বন্ধ করে দিয়েছে।’

    ‘সেকী? কেন?’

    ‘ভাড়া দিতে পারেনি, তাই।’

    ‘কতদিন এমন হল?’

    ‘দিন চারেক। তবে ওদের সামনের পার্কে পাবেন।’

    ‘পার্কে?’

    ‘হ্যাঁ। ওখানে কালকেও রিহার্সাল দিয়েছে জানি।’

    পার্কে নাটকের রিহার্সাল দেওয়া যায় স্বপ্নেও ভাবেনি দীপা। বেশ কৌতুহলী হয়ে সে ছেলেটির দেখানো পথ দিয়ে পার্কে এল। তখন সন্ধে হ্বহ্ব। আলো জ্বলে গিয়েছে। পার্কের মাঝখানে অন্ধকার। এদিকে বৃদ্ধ এবং মাঝবয়সিরা আড্ডা মারছে আলোর তলায়। ঘুরতে ঘুরতে এক কোণে সুদীপ এবং আরও চারটে ছেলেকে দেখতে পেল। বেঞ্চি দখল করে তারা বসে আছে। তাকে দেখে সুদীপ বলল, ‘আরে, কী ব্যাপার?’

    ‘এখানে রিহার্সাল হচ্ছে শুনলাম!’

    ‘হ্যাঁ। চার মাস ঘরভাড়া দিতে পারিনি বলে বাড়িওয়ালা বের করে দিয়েছে।’

    ‘চার মাস? কত ভাড়া ছিল?’

    ‘পনেরো টাকা করে, ষাট টাকা।’

    ‘ষাট টাকা। দেননি কেন?’

    ‘কত লস হচ্ছে এক একটা শো করে জানা আছে?’

    দীপার মুখে এসেছিল, লসই যখন হচ্ছে তখন নাটক করছেন কেন? কিন্তু সে কিছুই বলল না। সুদীপ হাসল, ‘এই পার্কে রিহার্সালের আইডিয়া খারাপ না। ওপেন এয়ারে অভিনয় করলে গলা ভাল হয়, গরমে কম ঘামতে হয়। শুধু বৃষ্টি নামলে প্রবলেম।’

    দীপা জানতে চাইল, ‘ষাট টাকা পেলে বাড়িওয়ালা ঘর খুলে দেবেন?’

    ‘জানি না দেবে কিনা। খুব রাগারাগি হয়ে গেছে। কিন্তু—।’

    ‘আপনি আমার সঙ্গে চলুন৷’

    ‘কোথায়?’

    ‘আপনাদের আগের রিহার্সাল রুমে। কাল টিউশনির টাকা পেয়েছি। এখন দিয়ে দিচ্ছি পরে আপনারা আমাকে শোধ করে দেবেন।’

    ‘অসম্ভব।’

    ‘মানে?’

    ‘শমিত আমাকে শেষ করে ফেলবে। ও গিয়েছে এক জায়গায় টাকা জোগাড় করতে। ও ফিরে না আসা পর্যন্ত—, ওই যে, এসে গিয়েছে।’ সুদীপের দৃষ্টি অনুসরণ করে দীপা দেখল শমিত আরও দুটো ছেলের সঙ্গে কথা বলতে বলতে আসছে। সঙ্গে মায়াও আছে। দীপার খেয়াল হল মায়া তাকে এ-ব্যাপারে কোনও কথা বলেনি। তাকে দেখে শমিত খুবই সাধারণ গলায় বলল, ‘কতক্ষণ?’

    ‘একটু আগে।’ দীপা কথাদুটো বলে মায়ার দিকে তাকিয়ে হাসল।

    এদিকে শমিত গলা তুলেছে ততক্ষণে, ‘বন্ধুগণ! একটা সুখবর আছে। আমরা আমাদের ঘর ফিরে পাচ্ছি! এই যে চাবি ফিরে পেয়েছি।’ সে চাবি দেখাল।

    সুদীপ অবাক হয়ে জিজ্ঞাসা করল, ‘কী করে হল ব্যাপারটা?’

    ‘বাড়িওয়ালার স্ত্রীর জন্যে। আমি তো মাঝেমধ্যে মাসিমা বলে জল চেয়ে খেয়েছি। স্বামী আমাদের তাড়িয়ে দিয়েছেন শুনে উনি তাঁকে খুব তিরস্কার করেছেন। আর তাই স্বামীর মনে হয়েছে কাজটা ঠিক হয়নি। হয়তো পাড়ায় রটে গিয়েছে যে তিনি যেহেতু আমাদের তাড়িয়ে দিয়েছেন তাই আমরা পার্কে রিহার্সাল দিচ্ছি। এতে পাড়ার পাঁচজনের কাছে উনি বোধহয় ছোট হয়ে যাচ্ছিলেন। যা হোক, ওসবে আমাদের প্রয়োজন নেই। আমি বাড়িওয়ালাকে কথা দিয়েছি এখন থেকে নিয়মিত ভাড়া দেবই আর বকেয়াটা প্রতি কল শো পিছু এক মাসের করে দেব।’

    শমিতের কথা শেষ হওয়ামাত্র হাততালি পড়ল। সুদীপ বলল, ‘বাঁচা গেল। তা হলে কি আজ রিহার্সাল এখানে হবে?’

    ‘সবাই এসেছে?’ শমিত জানতে চাইল।

    ‘না, এখনও আসেনি। আমি বলি কী এখন ঘরে ফিরে যাওয়া যাক।’

    সুদীপ প্রস্তাব দিতে সবাই তাকে সমর্থন করল। দল যখন ঘরে ফিরছে তখন শমিত দীপাকে জিজ্ঞাসা করল, ‘কী ব্যাপার?’

    ‘আপনার সঙ্গে কথা ছিল।’

    ‘কোনও অসুবিধে হয়েছে?’

    ‘না। কিন্তু এত ব্যাপার ঘটল আমাকে বলেননি কেন?’

    ‘শুনলে কী করতে?’

    ‘কিছু একটা সাধ্যমতো চেষ্টা করতাম।’

    ‘তুমি যদি আমাদের দলের একজন হতে তা হলে নিশ্চয়ই বলতাম।’

    ‘ও।’ দীপা চুপচাপ হাঁটল। মায়া সুদীপের সঙ্গে কথা বলতে বলতে আগে আগে যাচ্ছে। দীপা বলল, ‘এসেছিলাম কারণ আমাকে জলপাইগুড়িতে যেতে হচ্ছে।’

    ‘কেন?’

    ‘ওখানকার সব সম্পত্তি, যা আমার নয়, অথচ আমার বলে সবার ধারণা, তা আইনসংগত করে কোনও দাতব্য প্রতিষ্ঠানকে দান কবে দিতে যাচ্ছি।’

    ‘যদি আইনসংগত হবার পরে দানের ইচ্ছেটা চলে যায়?’

    ‘আপনি আমাকে এখনও চেনেননি।’

    ‘হুম। কবে যাওয়া হচ্ছে।’

    ‘আগামীকাল।’

    ‘ওখানে থাকার ব্যবস্থা?’

    ‘হয়ে যাবে।’

    ‘আমি কীভাবে সাহায্য করতে পারি? সঙ্গে গেলে কাজ হবে?’

    ‘না!’ হঠাৎ চাপা চিৎকার করে উঠল দীপা।

    ‘কী হল?’ অবাক হয়ে দাঁড়িয়ে গেল শমিত।

    সঙ্গে সঙ্গে ধাতস্থ হল দীপা। এবং সেইসঙ্গে লজ্জা পেল। বলল, সরি।’

    শমিত অদ্ভুত চোখে তাকাল। দীপা বলল, ‘আমি চলি।’

    ‘তা হলে এলে কেন?’

    ‘আপনাকে জানাতে?’

    ‘চলো ঘরে গিয়ে বসবে?’

    ‘অসম্ভব!’

    ‘কেন?’

    ‘আমি দলের একজন নই।’ দীপা উলটো রাস্তা ধরল।

    নর্থবেঙ্গল এক্সপ্রেস জলপাইগুড়িতে যায় না। কিন্তু একটা লোকাল ট্রেন পেয়ে গেল সে শিলিগুড়ি থেকে সেটা হলদিবাড়ি যাবে জলপাইগুড়ি ছুঁয়ে। ট্রেনে আসতে আসতে কেবলই মনে হয়েছে অসীমের কথা! শমিত সঙ্গে আসতে চাওয়ামাত্র সে যেভাবে চেঁচিয়ে উঠেছিল তার জন্যে কোনও প্রস্তুতি ছিল না। অসীম যা করেছিল তা শমিতকে করতে দিতে চায় না সে।

    আসার আগে সময় ছিল না। অমলকুমারকে চিঠি দিলে সেটা এখানে পৌঁছানো হত না তার আসার আগে। চটজলদি সিদ্ধান্ত নিতে বেলাকোবা পার হওয়ামাত্র চিন্তা শুরু হল। কোথায় উঠবে! কোনও ব্যবস্থাই নেই। কী করা যায়? হঠাৎ মাথায় একটা বুদ্ধি উঁকি মারল। বেলা দশটা নাগাদ স্টেশন থেকে রিকশা নিয়ে সে সোজা কলেজের হস্টেলে চলে এল। রিকশা থেকে নামামাত্র দারোয়ান তাকে দেখল দেখে চিনতে পারল। তার মুখে হাসি ফুটল। দীপা জিজ্ঞাসা করল, ‘বড়দি আছেন?’ দারোয়ান মাথা নেড়ে হ্যাঁ বলতে তাকে সুটকেসটা দেখতে বলে সে ভেতরে ঢুকল।

    বড়দি তাকে দেখে অবাক হলেন। সবকিছু জানার পর বললেন সে স্বচ্ছন্দে দিন পাঁচেক হস্টেলের গেস্টরুমে থাকতে পারে। খাওয়াদাওয়া এখানেই। পাঁচ দিনের জন্যে গেস্ট ফি বাবদ পনেরো টাকা দিতে হবে। টাকার পরিমাণটা শুনেই মনে পড়ল তার শমিতদের কথা। ওরা এই টাকাটা দিতে পারলে লজ্জায় পড়ত না।

    রিকশা নিয়ে দুপুরের পরে সে রায়কতপাড়ায় এল দিনবাজার ঘুরে। করলা নদীটা দেখে মনটা ভারী হয়ে গেল। রায়কতপাড়ায় ঢুকে অমলকুমারের নাম বললে কেউ চিনতে পারছিল না। দীপা ইচ্ছে করেই অমলকুমারের বাবার নাম বলছিল না। শেষপর্যন্ত সে জীবনগতি রায় মশাইয়ের বাড়িতে উপস্থিত হয়ে জানল তিনি এখন আদালতে। বাড়িতে ফিরে চেম্বারে বসতে সন্ধে হয়ে যাবে। কিন্তু সেখানে অমলকুমারের খবর পাওয়া গেল। উমাগতি স্কুলের পাশেই ওদের বাড়ি। একটুও ইতস্তত না করে সে অমলকুমারের বাড়িতে এল। রাস্তার ধারে টিনের দরজা। দরজাটি ভেজানো, ঠেলতেই খুলে গেল। ভেতরে চওড়া পরিষ্কার উঠোন। এক বয়স্কা বিধবা মহিলা উঠোনে মোড়া পেতে রোদ্দুরে চুল শুকোতে শুকোতে বই পড়ছেন। শব্দ শুনে অবাক চোখে তাকালেন। দীপা এগিয়ে গেল, ‘অমলবাবু আছেন?’

    ‘না। ও বাড়িতে নেই। ময়নাগুড়ি গিয়েছে। বিকেলে ফিরবে।’

    ‘ও, আচ্ছা! আপনি?’

    “আমি ওর মা।’ ভদ্রমহিলা বলতে বলতে চেনার চেষ্টা করছিলেন। একটু থেমে প্রশ্ন করলেন, ‘তুমি নিশ্চয়ই দীপাবলী?’

    ‘হ্যাঁ।’

    ‘ওমা, কখন এসেছ? তোমার তো সোজা আমাদের বাড়িতে ওঠার কথা!’

    ‘না, ঠিক সেরকম কথা হয়নি।’ দীপার ভাল লাগল মহিলার বলার ধরন, ‘আমি আমার পুরনো হস্টেলে উঠেছি।’

    ‘কেন? আমার কুঁড়েঘর কি খুব খারাপ। অন্যায় করেছ।

    ‘আমি তো আপনাকে আগে চিনতাম না।’

    ‘তা ঠিক।’ প্রৌঢ়া মাথা নাড়লেন, ‘তা অবশ্য বলতে পারো। এসো ভেতরে এসো। কখন এলে? আজ সকালের ট্রেনে?’

    ‘হ্যাঁ। দীপা ওঁকে অনুসরণ করল।

    এক ঘণ্টা ধরে বারান্দায় পাশাপাশি বসে অনেক কথা হল। ভদ্রমহিলা একবারও ভুলেও প্রতুল বন্দ্যোপাধ্যায় বা তার পরিবার সংক্রান্ত কোনও কথা বললেন না। তিনি শুধু দীপার কলকাতার জীবনযাপন সম্পর্কে জানতে চাইছিলেন। সেসব নিয়েই কথা হচ্ছিল। একসময় জলখাবারের কথা উঠতে মহিলা জিজ্ঞাসা করলেন, ‘তুমি মিষ্টি খাও তো?’

    দীপা হাত নাড়ল, ‘না মাসিমা, মিষ্টিতে আমার আপত্তি আছে।’

    চা এল, সঙ্গে বিস্কুট আর ডিমের ওমলেট। ডিম দেখে দীপা মহিলার দিকে তাকাল একবার। প্রতুলবাবুর দাদার স্ত্রী ইনি। সঙ্গে সঙ্গে শ্রদ্ধা বাড়ল।

    পাঁচটার কিছু বাদে অমলকুমার ফিরল। লম্বা, সুগঠিত বুদ্ধিদীপ্ত চেহারা। চোখদুটো আলাদা ধরনের। গভীর। মাসিমা জিজ্ঞাসা করল, ‘বল তো এ কে?’

    অমলকুমার ভাবতে চাইল। কিন্তু দীপা সুযোগ দিল না, ‘আমি দীপা।’

    ‘আরে! আপনি? কখন এলেন?’

    ‘ও আজ সকালে এসে পুরনো হস্টেলে উঠেছে।’ মাসিমা বললেন।

    ‘সেকী! মা তো আপনাকে এখানেই রাখতে চেয়েছিল।’

    মাসিমা মাথা নাড়লেন, ‘না, থাক। এ নিয়ে জোর করিস না। তুই বরং ওকে একবার জীবনগতিবাবুর । বাড়িতে নিয়ে যা। যে-কাজের জন্যে এসেছে সেটাই আগে করা দরকার।’

    টিনের দরজা পেরিয়ে দীপা বলল, ‘আপনি খেটেখুটে এলেন, জিরোবার সময় পেলেন না। খারাপ লাগছে খুব।’

    ‘একদম খাটিনি। ময়নাগুড়িতে গিয়েছিলাম ব্যাবসার কাজে। কাজ হয়নি।’

    ‘আপনি ব্যাবসা করেন?’

    ‘হ্যাঁ।

    জীবনগতি রায় মহাশয় অত্যন্ত সজ্জন লোক। দীপার এই ভাবনার প্রচুর প্রশংসা করলেন। খুব কম মানুষ পৃথিবীতে আছে যারা এমন কাজ করতে পারে। আগামীকাল তাকে এগারোটার সময় কোর্টে তাঁর সঙ্গে দেখা করতে বললেন। দিন চারেকের মধ্যে যাতে সব হয়ে যায় তার চেষ্টা করবেন। সেখান থেকে বেরিয়ে দীপা বলল, ‘একটা রিকশা ডেকে দেবেন?’

    ‘আমাদের বাড়িতে যাবেন না আজ?’

    ‘সন্ধে হয়ে গিয়েছে। কাল না হয় যাওয়া যাবে।’

    ‘চলুন, আপনাকে পৌঁছে দিয়ে আসি বউঠান।’

    ‘শুনুন। আপনাকে একটা অনুরোধ করব?’

    ‘নিশ্চয়ই।’

    ‘আমায় দীপা বলে ডাকবেন।’

    অমলকুমার মুখ তুলে তাকাল। তারপর গম্ভীর গলায় বলল, ‘আমি আজ পর্যন্ত আপনার বয়সি কোনও সদ্যপরিচিতা মহিলাকে নাম ধরে ডাকিনি।’

    ‘ডাকতে আপত্তি আছে?’

    ‘না। তবে সেক্ষেত্রে আমাকে অমল বলতে হবে।’

    ‘বেশ। তা হলে আজ থেকে আমরা বন্ধু হলাম।’

    ‘আমি আমৃত্যু এর মর্যাদা রাখব।’ অমলকুমার হাত তুলে রিকশা ডাকল।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43 44 45 46 47 48 49 50 51
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleসাতকাহন ২ – সমরেশ মজুমদার
    Next Article কইতে কথা বাধে – সমরেশ মজুমদার (অসম্পূর্ণ)

    Related Articles

    সমরেশ মজুমদার

    চব্বিশ ঘণ্টার ঈশ্বর – সমরেশ মজুমদার

    December 4, 2025
    সমরেশ মজুমদার

    ছোটগল্প – সমরেশ মজুমদার

    December 4, 2025
    সমরেশ মজুমদার

    আট কুঠুরি নয় দরজা – সমরেশ মজুমদার

    December 4, 2025
    সমরেশ মজুমদার

    উত্তরাধিকার – সমরেশ মজুমদার

    December 4, 2025
    সমরেশ মজুমদার

    গর্ভধারিণী – সমরেশ মজুমদার

    December 4, 2025
    সমরেশ মজুমদার

    কইতে কথা বাধে – সমরেশ মজুমদার (অসম্পূর্ণ)

    December 4, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Our Picks

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }