Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    অপেক্ষার বারোমাস – অর্পিতা সরকার

    May 1, 2026

    শ্মশানকোকিলের ডাক – সৌভিক চক্রবর্তী

    May 1, 2026

    এসো না অসময়ে – অর্পিতা সরকার

    May 1, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    ৬৪. বিপদে বুজুমবুরা – সাইমুম সিরিজ #৬৪

    লেখক এক পাতা গল্প257 Mins Read0
    ⤶

    বিপদে বুজুমবুরা – ৭

    ৭

    বুজুমবুরা শহরের উত্তর-পূর্ব প্রান্তের এলাকা।

    বুরুন্ডির এক নাম্বার জাতীয় সড়কটি এই এলাকার উপর দিয়েই পূর্ব দিকে এগিয়ে গেছে।

    কামেংগি বসতি এলাকাটা এক নাম্বার জাতীয় সড়কের উত্তর ধার ঘেঁষে।

    কামেংগি এলাকার পূর্ব পাশে নিরিবিলি দাঁড়িয়ে আছে একতলা একটা সুন্দর বড় বাংলো।

    এটাই চাওসিকোর বড় ফুফুর বাসা।

    বাড়িতে বাস করে তার বড় ফুফু, ফুফা এবং কয়েকজন কাজের লোক। তার বড় ফুফুর তিন ছেলে, তিন মেয়ে। সবাই দেশের বাইরে, কেউ পড়ার জন্যে, কেউ চাকুরি নিয়ে বিদেশে আছে। চাওসিকোর ফুফা সেনাবাহিনীর একজন অফিসার ছিলেন। এখন রিটায়ারমেন্ট নিয়ে বাড়িতে অবসর যাপন করছেন।

    তাদের বাড়ির সামনে দিয়ে প্রশন্ত সড়ক। তিন পাশের বাড়িগুলো একটু দূরে। হাউজিং-এর সব প্লটে বাড়ি হয়নি বলেই জায়গা একটু জনবিরল।

    মাগরিবের নামাজ শেষ।

    চাওসিকো, আনা আরিয়া প্রস্তুত হয়ে বসে আছে ড্রইংরুমে। ফুফি ও তাদের ফুফাও সাথে বসে আছে।

    ফুফা বলছিল, ‘তোমরা টেনশন করো না। সব আশংকাই সত্য হয় না। কিছুই নাও ঘটতে পারে। আল্লাহ ভরসা।’

    ‘ফুফা, যিনি আশংকা করেছেন, তিনি একটা নিশ্চিত বিষয়কেই আশংকার কভারে বলেছেন। ভয় এখানেই।’ বলল চাওসিকো।

    ‘কোনো ভয় নেই চাওসিকো। আল্লাহর উপর ভরসা করো।’ চাওসিকোর ফুফা বলল।

    ‘ফুফা, আমি ভয় করছি আনাকে নিয়ে। সে আমার জন্যে বিপদে পড়েছে।’ বলল চাওসিকো।

    ‘ফুফাজী, আমি কোনো ভয় করছি না। আল্লাহর যা ইচ্ছা সেটাই হবে। আমাদের দায়িত্ব সাধ্যানুসারে সাবধান হওয়া। আমরা সেটার জন্যে চেষ্টা করছি। বাকিটা আল্লাহই করবেন।’ আনা আরিয়া বলল।

    ‘ধন্যবাদ মা আনা, আল্লাহর উপর এই ঈমান আমাদের রাখতে হবে। আলহামদুলিল্লাহ।

    বাইরে সন্ধ্যার অন্ধকার তখন আরও গাঢ় হয়েছে।

    একটু দূরে দূরে বিজলীর আলো। সে আলো ‘বিদঘুঁটে আলো আঁধারীর সৃষ্টি’ করেছে।

    সেই আলো আঁধারীর মধ্যে একটা মাইক্রো এবং দুটো বড় জিপ এসে দাঁড়াল চাওসিকোর ফুফার বাড়ির সামনে। গাড়ি তিনটি রাস্তার পাশে নিয়ে ঘুরিয়ে রাখা হলো ফেরার প্রস্তুতি হিসাবে।

    তিন গাড়ি থেকে নামল আট দশজনের মতো লোক। তাদের সকলের মুখে মুখোশ।

    বাড়িটা প্রাচীর ঘেরা।

    রাস্তা থেকে নেমে তিন চার গজ এগুলেই রাস্তার সমান্তরাল প্রাচীরে বাড়িতে প্রবেশের প্রশস্ত গেট। গ্রিলের গেট ছিটকিনি দিয়ে বন্ধ করা।

    ছিটকিনি খুলে মুখোশধারীরা ভেতরে প্রবেশ করল।

    গেটটা পুরোপুরি খুলে দিয়ে বাড়ির সামনে এগিয়ে গেল।

    সবার হাতে স্টেনগান।

    একজনের হাতে সর্বাধুনিক মডেলের কারবাইন। এই লোকটিই মনে হয় দলনেতা। সে দু’জনকে লক্ষ্য করে বলল, ‘তোমরা দু’জন দু’পাশ দিয়ে গিয়ে বাড়ির তিন দিকটা দেখে এসো পেছন দিয়ে বেরুবার কোনো গেট আছে কিনা। তোমরা না ফেরা পর্যন্ত আমরা বাড়ির গেটে অপেক্ষা করছি।’

    লোক দু’জন তিন চার মিনিটের মধ্যেই ফিরে এলো।

    এবার সকলে এগোলো বাড়ির গেটের দিকে।

    দলনেতা লোকটি দরজার নব ঘুরিয়ে দেখল দরজা লক করা।

    লোকটি পকেট থেকে একটা পেন্সিল টর্চের মতো কিছু বের করল।

    দেখা গেল টর্চই, তবে সেটা ল্যাসারবিম টর্চ। ওটা দিয়ে অনেক বড় বড় কাজ হয়। দরজার লক তো সেকেন্ডেই হাওয়া করে দেয়া যায়।

    ল্যাসারবিম দিয়ে দরজার লক হাওয়া করে দেয়া হলো।

    অস্পষ্ট একটা শব্দ করে দরজা লুজ হয়ে গেল এবং জানান দিল যে, দরজা খুলে গেছে।

    দরজার পরেই স্বল্প দীর্ঘ প্রশস্থ করিডোর। তার ডান পাশে একটি বন্ধ দরজা। অন্য পাশে খোলা দরজা, ভেতর থেকে মানুষের কথা কানে আসছে।

    দলনেতা পেছনে তাকিয়ে ফিসফিসিয়ে বলল, ‘তোমরা চারজন আমার সাথে এসো। অবশিষ্টরা করিডোরে দাঁড়াও। দু’দিকেই চোখ রাখবে।’

    দলনেতাসহ অস্ত্র উঁচিয়ে পাঁচজন ঢুকে গেল ড্রইং রুমে। চাপা কণ্ঠে চিৎকার করে দলনেতা বলল, ‘আমরা শয়তান চাওসিকো এবং ভ্রষ্টা আনা আরিয়াকে নিয়ে যেতে এসেছি। তারা আমাদের শিকার। কেউ বাধা দিলে তাকে আমরা নির্দয়ভাবে গুলি করে মারবো।’

    চাওসিকো, আনা আরিয়া, চাওসিকোর ফুফা ও ফুফি সকলেই সোফা থেকে উঠে দাঁড়িয়েছিল। চাওসিকোর ফুফা সন্ত্রাসীদের লক্ষ্য করে বলল। ‘এরা তোমাদের কি ক্ষতি করেছে, কাউকে কি হত্যা করেছে? কেন তারা তোমাদের হিংসার শিকার হবে।’

    ‘কারো কথার জবাব দিতে আমরা বাধ্য নই। তবু বলছি, চাওসিকো হত্যার চেয়েও বড় অপরাধ করেছে। আমাদের প্রভু জেসাসের অবমাননা করেছে। আর আনা আরিয়া আমাদের জাতির সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে। জাতির একজন হয়ে সে জাতির অপূরণীয় ক্ষতি করেছে। আমাদের সতেরোজন লোক নিহত হওয়ার জন্যে দায়ী সে।’

    এ পর্যন্ত বলেই দলনেতা তাকাল দু’জনের দিকে। বলল, ‘তোমরা এদের হাত-পা বেঁধে ফেল এবং চ্যাংদোলা করে নিয়ে চলো গাড়িতে।

    চাওসিকোর ফুফা-ফুফি কিছু বলতে যাচ্ছিল। তাদের বাধা দিয়ে বলল। ‘আমরা কোনো কথা শুনব না। আমাদের তাড়াতাড়ি কাজ সারতে হবে। ঝামেলা করলে কিন্তু অযথাই দুটি বুলেট খরচ করতে হবে আপনাদের জন্যে।’

    দু’তিন মিনিটের মধ্যে চাওসিকো ও আনা আরিয়াকে চ্যাংদোলা করে নিয়ে সবাই বেরিয়ে এলো বাড়ির গেট দিয়ে।

    ওদিকে আহমদ মুসাদের গাড়ি তখন চাওসিকোর ফুফুদের বাড়ির রাস্তায়।

    বাড়ির সামনের রাস্তায় মাইক্রোসহ তিনটি গাড়ি দাঁড়ানো দেখে আহমদ মুসা গাড়ি আস্তে চালানোর জন্যে আসুমানি আব্দুল্লাহকে অনুরোধ করেছে। ‘জনাব সন্ত্রাসীরা আমাদের আগেই মনে হয় পৌঁছে গেছে। আপনি প্লিজ আমার সিটে আসুন। ড্রাইভিং সিটে আমাকে বসতে হবে।’ বলল আহমদ মুসা আসমানি আব্দুল্লাহকে লক্ষ্য করে।

    ‘আপনি আহত হাত নিয়ে গাড়ি চালাতে পারবেন?’ আসুমানি আব্দুল্লাহ বলল।

    ‘জনাব অনেক সময় প্রয়োজন সবচেয়ে বড় হয়ে দেখা দেয়।’ বলল আহমদ মুসা।

    সিট চেঞ্জ হলো দু’জনের মধ্যে। আহমদ মুসা ড্রাইভিং সিটে বসল। গাড়িটা আর একটু সামনে এগিয়ে নিল যাতে চাওসিকোর ফুফিদের বাড়ির গেট দিয়ে সামনের সব কিছু সে দেখতে পায়।

    আহমদ মুসা নাইটভিশন দূরবীন চোখে লাগিয়ে দেখতে পেল, আট দশজন সন্ত্রাসী বাড়ি থেকে বেরিয়ে আসছে। কারবাইনধারী একজন ও স্টেনগানধারী চারজন- এই পাঁচজন অস্ত্রধারী সামনে। তাদের পেছনে চারজন চাওসিকো, আনা আরিয়াকে চ্যাংদোলা করে নিয়ে আসছে। তাদের পেছনে আরও একজন অস্ত্রধারী।

    আহমদ মুসার গাড়ি যেখানে, সেখান থেকে বাড়ির প্রাচীরের গেটটা একশ’ গজের বেশি হবে না। গেটটা খোলা।

    আহমদ মুসা পরিকল্পনা করে নিল।

    জ্যাকেটের পকেট থেকে এম-১৬ বের করে ডান পাশে সিটের উপর রাখল যাতে ডান হাত সহজেই তা কাছে পেয়ে যায়।

    মাঝারি গতির চেয়ে একটু বেশি জোরে গাড়ি চলতে শুরু করে ঠিক রাস্তায় চলা সাধারণ গাড়ির মতোই।

    আহমদ মুসার চোখ সন্ত্রাসীদের উপর।

    আহমদ মুসা অংক কষে নিয়েছে ঠিক কোন অবস্থায় ওদের উপর আঘাত হানবে যা হবে ওদের জন্যে এক অকল্পনীয় সারপ্রাইজ।

    আহমদ মুসা গাড়ির গতি অব্যাহতভাবে বাড়াচ্ছে।

    বাইরের প্রধান গেটটা তখন ২০ গজ দূরে।

    সন্ত্রাসীদের সামনের কয়েকজন গাড়ি বারান্দায় নামার সিঁড়িতে পা দিচ্ছে।

    ‘জনাব আপনি সিটে শুয়ে পড়ে সিট আঁকড়ে ধরুন।’

    আসুমানি আব্দুল্লাহর উদ্দেশ্যে এই কথাগুলো বলেই আহমদ মুসা গাড়ির স্পিড একদম টপে নিয়ে এলো।

    গাড়ি লাফ দিয়ে উঠে বুলেটের মতো ছুটল।

    গাড়ি যখন গেটের মুখ বরাবর, তখন সন্ত্রাসী দলটির সামনের কয়েকজন সিঁড়ি ভেঙে গাড়ি বারান্দায় নেমে এসেছে। চাওসিকো ও আনা আরিয়াকে চ্যাংদোলা করে নেয়া চারজনসহ পাঁচজন তখনও সিঁড়িতে আসেনি। সিঁড়ির কারণে তাদের গতি কিছুটা মন্থর হয়েছে।

    আহমদ মুসার বুলেটের মতো চলা গাড়ি একটুও গতি না কমিয়ে গেটের মুখে এসে একটা বিপজ্জনক টার্ন নিল বাড়ির গাড়ি বারান্দার দিকে। ক্যাচ করে একটা তীক্ষ্ম, প্রচণ্ড শব্দ তুলে প্রবল ঝাঁকুনি দিয়েছিল গাড়িটি। কিন্তু গতি একটুও কমেনি। বুলেটের মতো ছুটছে গাড়ি।

    গাড়ির শব্দে সন্ত্রাসীরা পেছনে ফিরে তাকিয়েছিল।

    তাকিয়েই আতংকে সবার চোখ বিস্ফারিত। ঝড়ের গতি নিয়ে একটা গাড়ি তাদের উপর ঝাঁপিয়ে পড়ছে।

    দেখা ছাড়া তাদের করার কিছুই ছিল না।

    তারা সরে দাঁড়াবারও সময় পেল না।

    গাড়ি পিশে ফেলল সন্ত্রাসীদের সামনের কয়েকজনকে।

    গাড়ি সন্ত্রাসীদের আঘাত করার কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই আহমদ মুসা হার্ড ব্রেক কষে ছিল। সিঁড়ির সাথে ধাক্কা খাওয়ার আগেই গাড়ি থেমে গিয়েছিল। গাড়ি থামার মুহূর্তেই আহমদ মুসা তার এম-১৬ নিয়ে গাড়ি থেকে বেরিয়ে এলো।

    পেছনের সন্ত্রাসীদের আতংকিত ও বিমূঢ় ভাব তখনও কাটেনি।

    চাওসিকো ও আনা আরিয়া তাদের হাত থেকে পড়ে গিয়েছিল।

    আহমদ মুসাকে গাড়ি থেকে বের হতে দেখে সন্ত্রাসীদের হাত নড়ে উঠেছিল। তাদের স্টেনগানে হাত দিয়েছিল এবং স্টেনগানের ব্যারেল আহমদ মুসার দিকে তাক করার জন্য মরিয়া হয়ে চেষ্টা করছিল।

    ‘বাঁচতে চাইলে স্টেনগান ফেলে দিয়ে হাত তুলে…।’

    আহমদ মুসা কথা শেষ করতে পারল না। ওদের স্টেনগানের ব্যারেল আহমদ মুসার দিকে উঠে আসতে দেখল।

    আহমদ মুসার কথা থেমে গেল।

    এম-১৬ এর ট্রিগারে আহমদ মুসার ডান তর্জনি চেপে বসল।

    এম-১৬ ঘুরে এলো সন্ত্রাসীদের উপর দিয়ে।

    পাঁচটি দেহ ঝাঁঝরা হয়ে গেল মুহূর্তেই।

    আহমদ মুসা এগোলো চাওসিকো ও আনা আরিয়ার দিকে।

    বাড়ির দরজা দিয়ে বেরিয়ে এলো চাওসিকোর ফুফা ও ফুফি।

    চাওসিকোর ফুফি ছুটে এসে জড়িয়ে ধরল আহমদ মুসাকে। কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলল, ‘আল্লাহর হাজার শোকর তুমি ঠিক সময়ে এসেছ বেটা। একটু দেরি হলে আমার চাওসিকো ও আমার আন্না মা’র সর্বনাশ হয়ে যেতো। আল্লাহ আমাদের রক্ষা করেছেন।’

    চাওসিকোর ফুফা চাওসিকো ও আনা আরিয়ার বাঁধন খুলে দিয়েছে।

    চাওসিকো এসে জড়িয়ে ধরল আহমদ মুসাকে। কান্নাচাপা কণ্ঠে বলল, ‘স্যার বাঁচার আশা আমি’ ছেড়ে দিয়েছিলাম। কিন্তু আল্লাহ সব অসম্ভবকে সম্ভব করতে পারেন।’

    আনা আরিয়া আহমদ মুসার পায়ের কাছে লুটিয়ে পড়েছিল। কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলল, ‘ভাই, আল্লাহর এত দয়ার কৃতজ্ঞতা তাকে জানাব কীভাবে। সে যোগ্যতা তো আমার নেই।’

    ‘খুব সহজ বোন। আখেরাতে তাঁর সামনে দাঁড়াবার জন্যে যত ভালোভাবে তৈরি হবে, তাঁর পুরস্কার জান্নাত লাভের জন্যে নিজেকে যত ভালোভাবে প্রস্তুত করে তুলবে, তত বেশি তিনি খুশি হবেন।’ বলল আহমদ মুসা।

    চাওসিকোর দিকে তাকিয়ে আহমদ মুসা বলল, ‘চাওসিকো দেখো, আনা আরিয়ার কাপড়-চোপড় কোথায়। তাঁকে ঠিক করো। আমরা এখনি বেরুব।’

    এবার আহমদ মুসা গাড়ির পাশে দাঁড়ানো আসমানি আব্দুল্লাহকে দেখে চাওসিকোর ফুফা-ফুফিকে লক্ষ্য করে বলল, ‘ইনি জনাব আব্দুল্লাহ। আমি তাদের মেহমান। চাওসিকো ও আনা আরিয়া এদেরই মেহমান হবেন।

    চাওসিকো ফুফা-ফুফি আসুমানি আব্দুল্লাহকে সালাম দিয়ে বলল, ‘আলহামদুলিল্লাহ, আমরা খুশি হলাম। আল্লাহ তাদেরকে, আপনাদেরকে- সবাইকে নিরাপত্তা দিন। তার অনুগ্রহ পাবার চেয়ে বড় কিছু নেই।’

    ‘আলহামদুলিল্লাহ। পরিচিত হওয়ায় খুশি হলাম। সুযোগ হলে ইনশাআল্লাহ আপনাদের একদিন নিয়ে যাব।’ আসুমানি আব্দুল্লাহ বলল।

    আসুমানি আব্দুল্লাহর কথা শেষ হতেই আহমদ মুসা চাওসিকোর ফুফা- ফুফিকে লক্ষ্য করে বলল, ‘জনাব যা কিছু যেখানে যেভাবে আছে, সেভাবেই থাকুক। আপনি পুলিশে খবর দিন। যা ঘটেছে সবই তাদের বলবেন। শুধু মি. আব্দুল্লাহর নাম করবেন না। আমরা যে সেখানে গেছি, সেটাও বলবেন না। আর আমি মনে করি আপনারা কয়েক দিন বাড়িতে না থাকলেই ভালো হয়।’

    ‘ধন্যবাদ জনাব। আমরাও সেটাই ভাবছি। পুলিশের সাথে কাজটা আমাদের মিটে গেলেই ইনশাআল্লাহ আমরা শিফট হবো।’

    ‘ধন্যবাদ। তাহলে অনুমতি দিন আমাদের।’ বলল আহমদ মুসা

    ‘ঠিক আছে। আসুন। আল্লাহ আপনাদের, আমাদের সবাইকে তার রহমতের ছায়ায় রাখুন। আল্লাহ আপনাকে নেক হায়াত দান করুন। মজলুম মানুষের পাশে দাঁড়াবার তৌফিক আল্লাহ আপনাকে আরও বেশি বেশি দান করুন।’

    সালাম বিনিময়ের পর আহমদ মুসারা সবাই বিদায় হলো।

    চাওসিকোর ফুফা তার মোবাইলটা হাতে নিল পুলিশকে টেলিফোনের জন্যে।

    .

    বালিশে মুখ গুঁজে কাঁদছিল মিসেস শিলা স্টিফেন, আনা আরিয়ার মা।

    ঘরে ঢুকল ফাদার স্টিফেন ফোবিয়ান।

    বসল স্ত্রীর পাশে। বলল, ‘সেই বিকেল থেকে কাঁদছ। বিকেলের নাস্তা করনি। এখন ডিনারের সময়। এভাবে কাঁদলে কি চলবে? যা ঘটেছে, যেভাবে ঘটেছে, তাতে আমার তোমার করার মতো কিছুই ছিল না।’

    উঠে বসল আনা আরিয়ার মা। তার আলুথালু বেশ। অশ্রুধোয়া মুখ। কিন্তু চোখ ভরা বিক্ষোভ। বলল, ‘তুমি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি, তুমি এদেশের খ্রিস্টানদের একজন শীর্ষ নেতা। তুমি তোমার মেয়েকে রক্ষা করতে পারলে না, বাঁচাতে পারলে না শয়তানদের হাতে পড়া থেকে? ঐ মেয়েটাই তো আমাদের সব। আমাদের সব ভালোবাসা, স্নেহ, মমতা, আমাদের সব স্বপ্ন-সাধ তো তাকে ঘিরেই। কেন পারলে না মেয়েটাকে উদ্ধার করতে?’

    ‘দেখ তোমার মেয়ে চাওসিকোর সাথে গিয়ে আরও খারাপ করেছে। বলল স্টিফেন ফোবিয়ান।

    ‘না গেলেও তো বাঁচতে দিত না। আমরাও বিপদে পড়তাম। সতেরোজন লোক নিহত হওয়ার জন্যে সে দায়ী। এটাই তোমার বিরুদ্ধে বড় অভিযোগ। না গেলেই এ অভিযোগ থেকে সে বাঁচত?’ আনা আরিয়ার মা বলল।

    ‘কিন্তু গিয়েও তো বাঁচতে পারলো না। বলল স্টিফেন ফোবিয়ান।

    ‘বাঁচবে কি করে? তুমি তো মেয়ের পক্ষে দাঁড়াওনি। বিদেশ থেকে আসা লোকরা যা ইচ্ছে তাই করবে, এটা তোমরা মেনে নিচ্ছ কেন? কেন তারা চাওসিকোকে কিডন্যাপ করেছিল বিমানবন্দর থেকে? চাওসিকো যদি প্রভু যিশুর অপমান করেই থাকে, তাহলে কি অপমান করেছে দেখে তোমরা বিচার করতে পারতে। অনেক রকমের শাস্তি আছে। তাকে শাস্তিও দেয়া যেত। আর চাওসিকো নিজের ইচ্ছাতে যায়নি, যেতেই তো চায়নি সে।’

    ‘তুমি ঠিকই বলেছ শিলা। কিন্তু এখন যুক্তির চেয়ে শক্তির অগ্রাধিকার চারদিকে। বিশেষ করে যাদের বিদেশি বলছ, তারা শক্তি ছাড়া আর কিছুই বুঝে না। বলল স্টিফেন ফোবিয়ান।

    ‘কিন্তু তুমি যুক্তির পক্ষে দাঁড়াওনি কেন? কেন শক্তির দাপট মেনে নিয়েছ?’ বলল আনা আরিয়ার মা, স্টিফেন ফোবিয়ানের স্ত্রী।

    সংগে সংগে উত্তর দিল না স্টিফেন ফোবিয়ান।

    সে গম্ভীর হয়ে উঠেছে।

    তার চোখে-মুখে গ্লানির একটা ছায়া। বলল, ‘শিলা, তুমি মেয়েকে হারাতে বসেছ, আমাকেও হারাতে চাও?’

    মিসেস শিলা স্টিফেন, আনা আরিয়ার মা চমকে উঠে স্বামীর মুখ চেপে ধরে বলল, ‘কি সব অলুক্ষুণে কথা বলছ। আমি মেয়েকেও হারাতে চাই না, তোমাকেও হারাতে চাই না। কিন্তু তুমি এ কথা বলছ কেন?’

    ‘এখন হয়তো অধিকাংশই আমরা মনে করছি, মানুষ বড় নয়, জাতির স্বার্থ বড়। জাতির স্বার্থে ব্যক্তিকে কোরবানী দেয়া যায়।’ বলল স্টিফেন ফোবিয়ান।

    ‘কিন্তু যাকে জাতির স্বার্থ বলা হচ্ছে, সেটা কি আসলেই জাতির স্বার্থ? প্রতারণা, প্রবঞ্চনা, অত্যাচার-উৎপীড়নের মাধ্যমে যা অর্জিত হয়, তা জাতীয় স্বার্থ নয়। কারও মাথায় বাড়ি দিয়ে কিছু পাওয়া বা নেয়া জাতীয় স্বার্থ হতে পারে না।’ বলল আনা আরিয়ার মা।

    ‘এসব কথা ঘরে বলতে পারো কাউকে না শুনিয়ে, বাইরে বলা যাবে না। কোথাও কখনও বলতেও যেও না। ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা আমাদের মেয়েটার যাতে কোনো ক্ষতি না হয়। তাকে যেন আমরা ফিরে পাই। তার কণ্ঠ ভারি।

    স্টিফেন ফোবিয়ানের শেষ কথাটায় কেঁপে উঠল মিসেস শিলা স্টিফেন। বলল কান্নারুদ্ধ কণ্ঠে, ‘কোথায় নিয়ে যাবে?’

    ‘জানি না শিলা। ব্ল্যাক ক্রসের লোকরা ছাড়া আমাদের কেউ এটা জানে বলে মনে হয় না।’ বলল স্টিফেন ফোবিয়ান।

    কেঁদে উঠল আনা আরিয়ার মা মিসেস শিলা স্টিফেন। বলল, ‘তোমরা এটা মেনে নিয়েছ কেন? মেয়েদের এভাবে রাখা যায় না। এর পরিণাম কি তুমি জান?’ কান্নাজড়িত কণ্ঠের কথা আর্তনাদের মতো শোনাল।

    ‘আর বলো না শিলা এ সব। আমি সহ্য করতে পারছি না। আমি সব কিছু ভুলে থাকতে চাই। আমি এক অপদার্থ পিতা। আমার মেয়েটার বাবা ডাকের যোগ্য আমি নই। কান্নারুদ্ধ কণ্ঠে বলল স্টিফেন ফোবিয়ান।

    ফাদার স্টিফেন ফোবিয়ানের মোবাইল বেজে উঠল।

    মোবাইল স্ক্রিনে দেখল বাতিস্তা সান্ড্রির নাম। মনটা বিরক্তিতে ভরে গেল। কল অন করল স্টিফেন ফোবিয়ান।

    ‘গুড ইভেনিং মি. বাতিন্তা, সান্ড্রি।’ গুড শব্দটি খুব কষ্ট করে বলল স্টিফেন ফোবিয়ান।

    ‘গুড নয়, ইভেনিংটা ব্যাড হয়ে গেছে মি. স্টিফেন ফোবিয়ান।’ উত্তরে ও প্রান্ত থেকে বলল বাতিস্তা সান্ড্রি।

    ‘কেন কি ঘটেছে? কেন এমন কথা বলছেন?’ বলল স্টিফেন ফোবিয়ান। কি ঘটেনি মি. স্টিফেন ফোবিয়ান! আপনার মেয়েকে উদ্ধার এবং চাওসিকোকে ধরতে গিয়েছিল আমাদের দশজন শীর্ষ কমান্ডো। কিন্তু তাদেরকে ধরে আনতে পারা তো দূরের কথা দশজন কমান্ডোই নিহত হয়েছে, খবর জানাবার মতও কেউ বেঁচে ছিল না। পুলিশে আমাদের সোর্স- এর কাছ থেকেই মাত্র এই ঘটনা আমরা জানতে পেরেছি। বাতিস্তা সান্ড্রি বলল।

    ‘কীভাবে এত বড় ঘটনা ঘটল মি. বাতিস্তা?’ জিজ্ঞাসা স্টিফেন ফোবি- য়ানের।

    ‘আমাদের কমান্ডোরা ঠিক ঠিকই গিয়েছিল। ওদের দু’জনকে ধরে, বেঁধে যখন বাড়ি থেকে বের করে নিয়ে আসছিল, সেই সময় সেখানে এসে উদয় হয় আমাদের কুগ্রহ আহমদ মুসা। সে আমাদের দশজন কমান্ডোকে মেরে চাওসিকো ও আনা আরিয়াকে উদ্ধার করে নিয়ে চলে যায়।’ বলল বাতিস্তা সাড়ি।

    ‘খুবই দুঃখের বিষয় মি. বাতিস্তা। আমাদের দশজন কমান্ডো তার কিছুই করতে পারল না?’ স্টিফেন ফোবিয়ান বলল।

    ‘পারবে কি করে? আহমদ মুসার কাছে এরা শিশু। তার কৌশল, তার বুদ্ধি তার ক্ষিপ্রতার কোনো তুলনা নেই। কলিন ক্রিস্টোফার নিজে আমাকে বলেছেন, আহমদ মুসার হারার কোনো রেকর্ড নেই।’

    ‘তাহলে?’ বলল স্টিফেন ফোবিয়ান

    ‘আপনার মেয়েকে নিয়ে কোনো দুশ্চিন্তার কারণ নেই। আহমদ মুসা শত্রু হলেও বলছি, সে খুব ন্যায়নিষ্ঠ, নীতিনিষ্ঠ ও মানবিক। বিশেষ করে মেয়েদেরকে সে সব সময় মা ও বোনের চোখে দেখে। বাতিস্তা সান্ড্রি বলল।

    ‘ধন্যবাদ মি. বাতিস্তা। কিন্তু আমি ভাবছি, আমরা আগাবো কি করে?’ বলল স্টিফেন ফোবিয়ান।

    ‘দেখা যাক, কলিন ক্রিস্টোফাররা কি চিন্তা করছেন। সব দায়িত্ব তো ওদের উপরই দেয়া হয়েছে।’

    কথা শেষ করেই বাতিস্তা সান্ড্রি বলল, ‘ঠিক আছে, মি. স্টিফেন এখন রাখছি। কোনো ডেভলপমেন্ট থাকলে আপনাকে ডাকা হবে অথবা জানানো হবে।

    ‘ঠিক আছে। বাই মি. বাতিস্তা।

    ‘বাই মি. স্টিফেন।

    কল অফ করে মোবাইলটা বিছানায় ছুঁড়ে দিয়ে মি. স্টিফেন ফোবিয়ান গিয়ে স্ত্রীকে জড়িয়ে ধরল। বলল, শিলা, আমাদের মেয়ে বেঁচে গেছে, আমাদের মেয়ে বেঁচে গেছে।’

    বলতে গিয়ে কেঁদে ফেলল স্টিফেন ফোবিয়ান।

    মিসেস শিলা স্টিফেন, আনা আরিয়ার মা কিছুটা বুঝেছিল, কিন্তু বিষয়টা তার কাছে পরিষ্কার হয়নি। বলল, ‘আমাদের মেয়ে বেঁচে গেছে, তাহলে তুমি কাঁদছ কেন? বল কি হয়েছে?

    কান্নাজড়িত কণ্ঠ আনা আরিয়ার মার।

    স্ত্রীকে ছেড়ে দিয়ে স্টিফেন ফোবিয়ান বলল, ‘শিলা, এবারও আহমদ মুসাই আমার মেয়েটাকে বাঁচিয়েছে। চাওসিকো ও আমাদের মাকে ধরে নিয়ে যাচ্ছিল ওরা। ঠিক সময়েই আহমদ মুসা এসে পড়ে এবং একাই দশজন কমান্ডোকে হত্যা করে চাওসিকো ও আনাকে উদ্ধার করে নিয়ে যায়।’

    সংগে সংগেই আনা আরিয়ার মা আকাশের দিকে মুখ তুলে দুই হাত জোড় করে কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলল, ‘আল্লাহ, ঈশ্বর যে নামই হোক, হে আল্লাহ! আপনিই একমাত্র সৃষ্টিকর্তা। আমাদের কৃতজ্ঞতা গ্রহণ করুন। আমাদের প্রাণপ্রিয় মেয়ে এবারও আপনার দয়ায়ই বেঁচে গেছে। আহমদ মুসাকে আরও শক্তিশালী করুন। তার পরোপকারী হাতকে আরও মজবুত করুন।’

    স্টিফেন ফোবিয়ান চোখ মুছে বলল, ‘শিলা তুমি যে একেবারে আমাদের স্বার্থের বিপক্ষে প্রার্থনা করছ। আহমদ মুসা তো আমদের প্রতিপক্ষ।

    ‘আমি পক্ষ-বিপক্ষ বুঝি না। যে ন্যায়ের পক্ষে আমি তার পক্ষে। ধর্মের জন্যে জোর-জবরদস্তি, খুন, গুম, অত্যাচার-উৎপীড়ন, প্রলোভন-প্রতারণার কথা কোনো ধর্মই বলে না, আমাদের ধর্ম বলবে কেন? যদি বলে ধর্ম আর ধর্ম থাকবে না। আর…’

    আনা আরিয়ার মাকে বাধা দিয়ে বলল, ‘শিলা তুমি আর এগিয়ো না। এসব বলে কোনো লাভ নেই। আমাদের ধর্ম আজ জাতিগত রূপ নিয়েছে। এবং সেই জাতি আজ ধর্মের উপর নেই, ধর্মকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করছে মাত্র। স্বীকার করতে লজ্জা নেই একমাত্র মুসলমানদের মধ্যে ছাড়া বিভিন্ন ধর্মের নামে পরিচিত জাতি-সদস্য ও সমাজ-সদস্যদের আচার- আচরণে, চিন্তা-কর্মে, কায়কারবারে, লেনদেনে, ব্যক্তি পরিবার-সমাজ নিয়ন্ত্রণে ধর্মের অনুশাসন নেই। যাক এ সব কথা শিলা। এসো আমাদের মেয়ের কথা ভাবি। আজ তো সে বাঁচল। কিন্তু কতদিন এভাবে নিজেকে বাঁচাতে পারবে। পরিণতি ভেবে খুবই আতংক বোধ করছি শিলা।’

    ‘আমি শুরু থেকেই আতংকে আছি। কিন্তু আবার মনে মাঝে মাঝে আশা জাগে, মুসলমানদের আল্লাহকে তো এখনও আমার চেনা হয়নি। তবে আহমদ মুসার উপর আমার ভরসা আছে। আমাদের মেয়েকে সে বোন ডেকেছে। নিশ্চয় তার নিরাপত্তার ব্যবস্থা সে করবে। সেদিন তার কথা আমার খুব ভালো লেগেছে। এক বয়স্কা মেয়ের নিরাপত্তা শুধু পিতা-মাতা কিংবা স্বামী সংসারেই আছে। আহমদ মুসা খুব ন্যায়নিষ্ঠ ও নীতিনিষ্ঠ বলেই আমাদের মেয়ের নিরাপত্তার জন্যে ঐ সময় সে এই কথা বলতে পেরেছে। চারদিকের লোভাতুর মানুষের মিছিলে আহমদ মুসারা অনন্য।’ বলল আনা আরিয়ার মা শিলা স্টিফেন।

    তুমি ঠিকই বলেছ শিলা, আহমদ মুসা আমাদের দেখা মানুষদের মধ্যে অনন্য কিন্তু তারও সামর্থ্যের তো একটা সীমা আছে। এখন প্রকৃতপক্ষে সরকারও তার পক্ষে নেই। লোভী পুলিশরা তো আহমদ মুসার প্রতিপক্ষকে সব শক্তি দিয়ে সহযোগিতা করবে। এই অবস্থায় আহমদ মুসা নিজেকে কীভাবে নিরাপদ করবে এবং আমাদের মেয়েকে নিরাপত্তা দেবে কীভাবে?’ বলল স্টিফেন ফোবিয়ান।

    ‘স্টিফেন তুমি যে অংক কষলে, তাতে আমাদের জন্যে আশার কিছু নেই। কিন্তু আহমদ মুসারও তো একটা অংক নিশ্চয় আছে। তোমার কাছ থেকেই তো শুনেছি, সব পথ বন্ধ করলেও স্রষ্টা আহমদ মুসার জন্যে একটা পথ খোলা রাখেন। অত…’

    মিসেস শিলা স্টিফেনের কথার মাঝখানেই স্টিফেন ফোবিয়ান বলে উঠল, ‘ওটা আমার কথা নয় শিলা, ইন্টারনেটে একজন আহমদ মুসা- বিশেষজ্ঞের একটা কমেন্ট ওটা।’

    ‘যাই হোক। আমি বলতে চাই আমি হতাশ নই, তোমার হতাশ হলে চলবে না। আশাই এখন আমাদের বাঁচার অবলম্বন। আমি অন্তর দিয়ে আহমদ মুসার আল্লাহকে ডাকছি। যে আল্লাহ আহমদ মুসাকে এত ভালো মানুষ বানিয়েছেন, পরোপকারী বানিয়েছেন, সে আল্লাহ নিশ্চয় অনেক দয়ালু হবেন এবং মজলুমের রক্ষাকর্তা হবেন।’ বলল মিসেস শিলা স্টিফেন। তার কণ্ঠ আবেগ কম্পিত ও ভারি শুনাল।

    ‘ধন্যবাদ শিলা। তোমার কথায় মনে জোর পাচ্ছি। কিন্তু শিলা তুমি আহমদ মুসার আল্লাহকে ডাকছ কেন? প্ৰভু যিশুকে ডাক।’ বলল স্টিফেন ফোবিয়ান।

    ‘প্ৰভু যিশু তো আহমদ মুসার মতো কাউকে বানিয়েছেন, আমি দেখছি না। তাই যাঁকে আমি চোখের সামনে সক্রিয় দেখছি, তাঁকেই আমি ডাকছি।’ আনা আরিয়ার মা মিসেস স্টিফেন ফোবিয়ান বলল।

    ‘সাবধান শিলা, তুমি কিন্তু পথ হারাচ্ছ। বলল স্টিফেন ফোবিয়ান।

    ‘না আমি পথ হারাইনি। আমি আমার আনা মা’র পথে চলছি। সেই তো আমাদের সব।’ মিসেস শিলা স্টিফেন, আনা আরিয়ার মা বলল। ‘আমাদের আনা মা’র পথ কোনটি?’ বলল স্টিফেন ফোবিয়ান। ‘খুঁজে নাও তুমি।’

    বলে উঠে দাঁড়াল আনা আরিয়ার মা, মিসেস স্টিফেন ফোবিয়ান। বলল, ‘চলো ডিনার ঠাণ্ডা হয়ে যাচ্ছে।’

    গম্ভীর স্টিফেন ফোবিয়ান উঠে দাঁড়াতে দাঁড়াতে বলল, ‘তোমাকেও খুঁজতে হয়নি, আমাকেও খুঁজতে হবে না। আনা তো শুধু তোমার মেয়ে নয়, আমারও মেয়ে।’

    ‘ধন্যবাদ স্টিফেন’ বলে স্বামীর হাত ধরল মিসেস শিলা স্টিফেন।

    দু’জন এগিয়ে চলল ডিনার টেবিলের দিকে।

    .

    বুরুন্ডির প্রেসিডেন্টের টেলিফোনে বুরুন্ডির প্রধানমন্ত্রীর ঘুম ভাঙল এবং প্রধানমন্ত্রীর টেলিফোনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ঘুম ভাঙল।

    অন্যদিকে ব্ল্যাক ক্রসের প্রধান কলিন ক্রিস্টোফারের টেলিফোনে মধ্য আফ্রিকা চার্চ আন্দোলনের নেতা ও মধ্য আফ্রিকা কাউন্সিল অব ক্যাথলিক চার্চের সভাপতি বাতিস্তা সান্ড্রির ঘুম ভাঙল এবং বাতিস্তা সান্ড্রির টেলিফোনে ঘুম ভাঙল ফাদার স্টিফেন ফোবিয়ানের।

    ঠিক একই সময়ে আসমানি আব্দুল্লাহর ডাকে ঘুম ভাঙল সামিরা সাদিয়ার, আনা আরিয়া ও চাওসিকোর।

    সবাই সবখানে সবার ঘুম ভাঙিয়ে একই কথা বলল, FWTV (ফ্রি ওয়ার্ল্ড টিভি)-র ভোর বেলার এক ঘণ্টার বিশেষ নিউজ বুলেটিন শুনেছেন কিনা।

    এর দুই ঘণ্টা পর ঐ টেলিফোনগুলো আবার সক্রিয় হলো এবং টেলিফোনের কণ্ঠগুলোতে এবার নতুন জিজ্ঞাসা ধ্বনিত হলো : আজকের ওয়াশিংটন পোস্ট.. নিউইয়র্ক টাইমস, লা’মন্ডে এবং বুরুন্ডির লেক ট্যাংগানিকা টাইমস ও বুজুমবুরা পোস্টের প্রিন্ট ভারসন ও অনলাইন ভারসন দেখেছেন কিনা, পড়েছেন কিনা।

    FWTV-এর এক ঘণ্টার দীর্ঘ নিউজ বুলেটিনে কি আছে?

    পত্রিকাগুলোর অনলাইন ও প্রিন্ট ভারসনের রিপোর্ট কি বলেছে?

    সামিরা সাদিয়া বুজুমবুরার ঘটনা-প্রবাহের উপর যে রিপোর্ট পাঠিয়েছিল তার পুরোটাই ব্রডকাস্ট করেছে FWTV এবং পত্রিকাগুলোও ছেপেছে রিপোর্টের পুরো কাহিনীটা।

    আনন্দের অশ্রুতে ভাসছে সামিরা সাদিয়া নতুন সাংবাদিক হওয়ার আনন্দে নয়, সত্য প্রকাশ হওয়ার খুশিতে।

    বাতিস্তা সান্ড্রির অফিসে তখন ক্ষোভে-দুঃখে চুল ছিঁড়ছে খ্রিস্টান পরিচয়ের গোপন সন্ত্রাসী সংস্থা ব্ল্যাক ক্রসের প্রধান কলিন ক্রিস্টোফার। তার চোখ-মুখ লাল। সীমাহীন রাগের ভারে কাঁপছে তার শরীর। সে চিৎকার করে বলল, ‘বলতে পারেন মি. বাতিস্তা, আহমদ মুসাকে শেষ করতে কত কোটি ডলার চাই?’

    কথার মধ্যেই সে হাত বাড়িয়ে তার মোবাইলটি তুলে নিল।

    ***

    [পরবর্তী বই – শান্তির দ্বীপে সংঘাত]

    ⤶
    1 2 3 4 5 6 7
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Article৬৫. শান্তির দ্বীপে সংঘাত – সাইমুম সিরিজ #৬৫
    Next Article ৬৩. লেক ট্যাঙ্গানিকার তীরে – সাইমুম সিরিজ #৬৩

    Related Articles

    আশাপূর্ণা দেবী

    সমুদ্র কন্যা – আশাপূর্ণা দেবী

    April 24, 2026
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    আমাদের মহাভারত – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    March 20, 2026
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়

    বিপিনের সংসার – বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়

    January 8, 2026
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    ভয় সমগ্র – হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    December 9, 2025
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    কিশোর অ্যাডভেঞ্চার সমগ্র – হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    December 9, 2025
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    প্রকাশ্য দিবালোকে – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    November 18, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    अनीश दास
    मौलाना शाह वलीउल्लाह
    रेवरेंड के. के. जी. सरकार
    অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিজ্ঞান রায়চৌধুরী
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমরেন্দ্র চক্রবর্তী
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অরিন্দম দেবনাথ
    অর্পিতা সরকার
    অশোককুমার মিত্র
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    কৌশিক সামন্ত
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যজ্যোতি মজুমদার
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেইল লোনডেস
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শঙ্কর চ্যাটার্জী
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শাক্যজিৎ ভট্টাচাৰ্য্য
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সম্পাদনা : শৈলেন্দ্র হালদার
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্মরণজিৎ চক্রবর্তী
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    অপেক্ষার বারোমাস – অর্পিতা সরকার

    May 1, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    অপেক্ষার বারোমাস – অর্পিতা সরকার

    May 1, 2026
    Our Picks

    অপেক্ষার বারোমাস – অর্পিতা সরকার

    May 1, 2026

    শ্মশানকোকিলের ডাক – সৌভিক চক্রবর্তী

    May 1, 2026

    এসো না অসময়ে – অর্পিতা সরকার

    May 1, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }