Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    ভূমি ও আকাশ

    উপন্যাস ছোটগল্প সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় এক পাতা গল্প21 Mins Read0

    ভূমি ও আকাশ

    প্রথমেই গণ্ডগোল লাগল ফাগুলালের সঙ্গে। প্রতিবছরই এরকম হয়। লোকটা যেমন বেপরোয়া, তেমনি ঠ্যাটা।

    সব গ্রামেই সাধারণত এক ধরনের মানুষ থাকে, বাপ-ঠাকুরদারা যা বলে গেছেন, তা মেনে চলে, গণ্ডির বাইরে যেত চায় না, সরপঞ্চ বা গুনিনদের নির্দেশ অমান্য করতে সাহস পায় না।

    আবার প্রত্যেক গ্রামেই থাকে একজন নিরেট বোকা। সে সব কথায় হে-হে করে হাসে, যেমন ছোটে কুঁয়ার। আর থাকে একজন অতি চালাক। সে এই ফাগুলাল।

    ছোটে কুঁয়ার মোটাসোটা, মাঝারি উচ্চতা, লুঙ্গি পরে, কখনও-কখনও একটা ছেঁড়াখোঁড়া খাকি। প্যান্ট, কিন্তু কেউ কোনওদিন তার ওপর গায়ে জামা-টামা কিছু দেখেনি। তার বাবা আর্মিতে ছিল, পুঞ্চের যুদ্ধে মাটি নিয়েছে। ওই খাকি প্যান্টটা ছোটে কুঁয়ারের বাবার উত্তরাধিকার।

    আর ফাগুলাল লম্বা, ছিপছিপে, মাথা ভরতি চুল, সে ফুলপ্যান্ট আর শার্ট পরে, খুব গরমের সময় গেঞ্জি, আর সবসময় তার গলায় বাঁধা থাকে একটা সবুজ রুমাল। তার গলার আওয়াজ তীক্ষ্ণ, তাতে মিশে থাকে বিদ্রুপের ছোঁয়া।

    ফাগুলাল মাঝে-মাঝেশহরে ফুরন খাটতে যায়, তার মুখে পড়েছে সেই শহুরে ছাপ। অকারণেই সে রোজ দাড়ি কামায়।

    ভালু আর গণেশদাস তার কাছে চাঁদা চাইতেই, সে ডান হাতের পাঞ্জা নাড়তে-নাড়তে অবজ্ঞার সঙ্গে বলল, ভাগ হিয়াসে। চান্দা। যত্ত সব বুজরুক!

    গণেশদাস বলল, আরে হারামি, পঞ্চায়েত থেকে বলে দিয়েছে, সবকোইকো পাঁচ রুপে চান্দা দেনেই হোগা।

    ফাগুলাল হাসতে-হাসতে বলল, আমি হারামি, তুইও হারামি। ঠিক হ্যায়? তোর বাপও হারামি। আমি পঞ্চায়েতের খাই না পরি? আমি টাউন থেকে পয়সা রোজগার করে আনি; সেই পয়সায় খাই। কখনও মাঠে যাই না!

    পেছন থেকে ছোটে কুঁয়ার হে-হে করে হেসে উঠল।

    গণেশদাস একটু চুপসে গিয়ে বলল, তুই পুকুরে গোসল করিস, সেটা পঞ্চায়েতের।

    ফাগুলাল বলল, সেটা আমার বাপের।

    গণেশদাস মনে-মনে ঠিক করল, সরপঞ্চের কাছে এর নামে নালিশ করতে হবে। সে আর কথা বাড়াল না।

    ওরা হাঁটতে লাগল অন্য একটা বাড়ির দিকে।

    আকাশে যেন গড়াচ্ছে আগ্নেয়গিরির লাভা। আষাঢ় মাসের মাঝামাঝি চলে এল। এখনও একটুও বৃষ্টির নামগন্ধ নেই, এ-বছরে মেঘেরা যেন বুন্দেলাখণ্ডের কথা ভুলেই গেছে।

    ভালু একবার পেছন ফিরে দেখল, ফাগুলালও আসছে তাদের সঙ্গে। ছোটে কুঁয়ারও আছে, কিন্তু তার তো কোনও কাজকম্ম নেই, মানুষ দেখলেই সে পেছন-পেছন ঘোরে।

    ভালু জিগ্যেস করল, তুই কোথা যাচ্ছিস রে ফাগু?

    ফাগুলাল বলল, মজাক মারতে যাচ্ছি, দেখি কে-কে চাঁদা দেয়!

    ভালু বলল, শালা, তুই ছাড়া আর সব আদমি দেবে! তোর মতন আর তো কেউ টৌনে গিয়ে কেরেস্তান হয়নি!

    ফাগুলাল বলল, তোর এক চাচা টাউনে গিয়ে সেপাই হয়েছিল, তাই না? সে কি কেরেস্তান?

    এরা কেউই তর্ক করা পছন্দ করে না। দুটো-একটা কথার পরই যুক্তি ফুরিয়ে যায়। তাই ভালু বলল, যা ভাগ।

    ফাগুলাল তবু সঙ্গ ছাড়ল না।

    একটা খেজুরগাছের তলায় দাঁড়িয়ে আছে সাহেবঝরি। তার সাদা কপালে বিন্দু-বিন্দু ঘাম। ফুটিফাটা মাঠে পড়ে আছে তার হাত-লাঙল। এখন মাটি চষার কোনও প্রশ্নই ওঠে না।

    তার নাম কেন সাহেবঝরি, তা এখন আর কেউ জানে না। ছেলেবেলা থেকে সবাই এই নাম শুনে আসছে। ওর গায়ের রং অন্য অনেকের তুলনায় ফরসা। বাবুদের মতন।

    গণেশদাসের হাতে একটা থলি। সে বলল, এ-সাহেবুয়া, দে, পাঁচ রূপে চাঁন্দা দে!

    সাহেবঝরি তার গামছার খুট খুলতে-খুলতে বলল, তিন রূপে এখন নিয়ে যা। আর দু-রূপ্যে পরসোঁ দিয়ে দেবে, কিরিয়া করে বলছি। ঠিক দিয়ে দেবে! আজ ঘরে ভাত নেই রে বুবুয়া!

    গণেশদাদা বলল, বৃষ্টি না হলে যে সব্বাইকে না খেয়ে মরতে হবে! পরসোঁয় ঠিক দিবি তো বাকি দু-রূপে?

    ফাগুলাল এগিয়ে এসে বলল, দিস না ঝরি। এক পয়সা দিস না। সব বুজরুকি!

    গণেশদাস আর ভালু দুজনেই তার দিকে ফিরে দাঁড়াল। এটা অত্যন্ত গুরুতর অপরাধ। ফাগুলাল নিজে দিতে চাইছে না, সেটাই ক্ষমার অযোগ্য, তার ওপরে সে অন্যদের বাধা দিচ্ছে? এ গ্রামে এরকম কখনও হয়নি।

    মুখখানা হিংস্র করে ভালু বলল, শালে, এবার এক ঝাপড় খাবি!

    ভালুর গাঁট্টাগোঁট্টা পেটা চেহারা, সে এরকম কথা বলতে পারে। তার সারা গায়ে, এমনকী হাতের তালুর পেছন দিকেও বড়-বড় লোম, সেই জন্যই বোধহয় তার ডাক নাম ভালু।

    কিন্তু সে কিছু করবার আগেই ছোটে কুঁয়ার ছুটে এসে এক চড় কষাল ফাগুলালের গালে। বেশ জোরেই মেরেছে। ফাগুলাল একটু টলে গেল।

    এসব ক্ষেত্রে কেউ বাধা দেয় না। অন্যরা একটু দূরে দাঁড়িয়ে দেখে।

    ফাগুলাল প্রত্যাঘাত করল না, হাত বুলোতে লাগল গালে। তার পেশিতে আছে বিদ্যুৎগতি, শরীরে আছে নিহিত শক্তি। সে ইচ্ছে করলে ছোটে কুঁয়ারকে মেরে ছাতু করে দিতে পারে।

    কিন্তু ফাগুলাল ভাবল বেচারি অবোলা, অবোধ। কেন মেরেছে তা ও নিজেই জানে না। কয়েক মুহূর্ত বাদে সব ভুলে যাবে।

    শান্তভাবে ফাগুলাল বলল, এইসান কভি নেহি মারনা কুঁয়ার। মানুষকে মারলে তার খুব লাগে। তোকে মারলে তোরও খুব লাগবে। তখন কী করবি?

    ছোটে কুঁয়ার কী বুঝল কে জানে, হেসে উঠল হি-হি করে।

    এই সময় দেখা গেল, দূর থেকে দু-একজন প্রবীণ ব্যক্তি হেঁটে আসছে। এ গ্রামের সবাই তাদের খুব ভক্তিশ্রদ্ধা করে। সে সম্মান শুধু বয়েসের কারণে, নইলে দুজনের চেহারাতেই দারিদ্র্যের চিহ্ন প্রকট। একজনের গায়ে জড়ানো গামছাটাও শতছিন্ন।

    সব বৃত্তান্ত শুনে, তাদের মধ্যে যার নাম শিবুমামা, সে বলল, এ কী কাণ্ড তুই করছিস রে ফাগু? তুই চান্দা দিবি না, তোর নাম আমি খারিজ করে দিয়েছি। কিন্তু তুই অন্যদের বারণ করেছিস কোন সাহসে?

    ফাগুলাল বলল, বেঙা-বেঙরি বিয়ে দিলে বৃষ্টি হবে? ইয়ে সব বাকোয়াস! গরিবদের কাছ থেকে শুধু-শুধু চান্দা নিচ্ছ!

    অন্য প্রবীণটর নাম মগনরাম। সে বলল, আলবাত হোবে! দু-সাল আগে হয়েছিল। মনে নেই? সবকোইকো ইয়াদ হ্যায়?

    ফাগুলাল হেসে উঠে বলল, বেঙা-বেঙরি বিয়ে? মামা, তুমি বলো তো, কোনটা বেঙা আর কোনটা বেঙি কেউ চেনে? বলল না, কেউ চেনে?

    ব্যাং পাওয়া মোটেই সহজ নয়। বর্ষার সময় ব্যাং ডাকে, এই প্রখর গ্রীষ্মে তারা কোথায় যেন অদৃশ্য হয়ে যায়।

    প্রধান পানীয় জলের পুকুরটাও এখন শুকিয়ে-শুকিয়ে কাদা-কাদা। সেখানে অনেক খুঁজে দুটো ব্যাং পেলেই হল। ডাক শুনে, ব্যাঙের লিঙ্গ চেনার মতো কান এখানকার কারোরই নেই।

    তবু দুটো ব্যাং পাওয়া গেলেই তাদের ফুল-দুব্বো দিয়ে পুজো করা হয়। যে-কোনও বিয়ের দৃশ্যের মতনই বউ-ঝিরা গান গায়, পুরুষরা নাচে, চাঁদার টাকায় মদ ও মাংস আসে। বেশ একটা উৎসব উৎসব ভাব। খরাক্লিষ্ট মানুষরা এই সময় একটা দিন অন্তত দুশ্চিন্তা ভুলে আনন্দে মেতে ওঠে।

    যেহেতু আষাঢ় মাস, তাই দেরি হলেও বৃষ্টি তো হবারই কথা। ওই উৎসবের দু-এক দিনের মধ্যে হুড়মুড়িয়ে বৃষ্টি নামলে সবাই ধরে নেয়, ব্যাঙের বিয়ের জন্যই বৃষ্টি ঢেলে দিল আকাশ।

    শত-শত বছর ধরে এই ব্যাপার চলে আসছে। এর একটা ভালো দিক তো আছে অবশ্যই। অন্য কেউ যদি এরকম বেয়াদপি করত, তা হলে পঞ্চায়েতের সামনে কঠিন শাস্তি দেওয়া হত। তাকে।

    ফাগুলালের ব্যাপারে সবাই একটু নরম, তার কারণ তার বাবা ছিলেন এ-অঞ্চলের অত্যন্ত সম্মানিত ব্যক্তি। বহুদিন ধরে তিনি ছিলেন পঞ্চায়েত প্রধান। গরিব দুঃখীদের জন্য তার মনে ছিল অনেক দরদ। তিনিই নিজের উদ্যোগে একটা পুকুর কাটিয়েছিলেন। সেই সিয়ারাম ভগত এর নাম উঠলেই এখনও অনেকে কপালে হাত ঠেকায়। তিনি হঠাৎ মারা গিয়েছিলেন সাপের কাপড়ে।

    ফাগুলাল তার বাবার কোনও গুণই পায়নি। ছেলেটা একেবারে লাফাংগা। খালি চ্যাটাং-চ্যাটাং কথা বলে। ও তো টাউনে থাকলেই পারে, মাঝে-মাঝে ফিরে আসে কেন? ওর মা এখনও বেঁচে আছে, সে বুড়ি এখন অন্ধ। ফাগুলাল কি ফিরে আসে তার মায়ের টানে? মোটেই না। প্রতিবেশীরা দেখেছে, মায়ের সঙ্গে ও মোটেই তেমন সময় কাটায় না। এদিক-ওদিক ঘুরে খালি ফোঁপরদালালি করে, আর লোকের পেছনে লাগে।

    সিয়ারাম ভগতের প্রতি শ্রদ্ধাতেই তার ছেলেকে এখনও পর্যন্ত কোনও শাস্তি দেওয়া হয়নি। কিন্তু এই অবস্থা কতদিন চলবে তার ঠিক নেই। অল্পবয়েসি ছেলে ছোকরারা সিয়ারাম ভগতকে। দেখেনি, তারা ফাগুলালের আস্পর্ধা সহ্য করবে কেন? কেউ-কেউ বলে, পঞ্চায়েতের মিটিন-এ সবার সামনে যদি ওকে শাস্তি দেওয়া না যায়, তা হলে একদিন মাঠের মধ্যে ওর গলাটা কেটে রাখলেই তো হয়!

    শিবুমামা বলল, তোকে চান্দা দিতে হবে না। তুই যা এখান থেকে। আর কথা বাড়াসনি!

    ফাগুলাল বলল, আমি মন বদলে ফেলেছি। হাঁ, চান্দা দিব। জরুর দিব। বিশ রূপ্যে। তবে এখন নয়। বেঙা-বেঙির শাদি হওয়ার দু-দিনের মধ্যে যদি বরাত শুরু হয়।

    শিবুবাবা বলল, যা যা, আভি ভাগ হিয়াসে।

    শনিবার দুপুরে বেঙা-বেঙির বিয়ে হল। তার মধ্যে একটা কোলাব্যাং, আর-একটা বড়ই ছোট। তাদের কি আর-একজায়গায় বসিয়ে রাখা যায়? কোলাব্যাংটার বোধহয় বিয়ে করার একেবারেই ইচ্ছে নেই, সে মাঝে-মাঝেই তিড়িং করে এক লাফ দিয়ে পালাতে চায়, আবার তাকে ধরে আনতে হয়।

    হাঁড়িয়ার মদ জোগাড় হয়েছে প্রচুর। কয়েকজন ঢোল বাজাচ্ছে, স্ত্রীলোকেরা গাইছে সমস্বরে গান। এই একই গান তারা গায় বহু যুগ ধরে।

    সন্ধে পর্যন্ত অনেক আমোদ ফুর্তি হল। কয়েকজন এমনই মাতাল হল যে মাটি থেকে আর উঠে দাঁড়াবার ক্ষমতা নেই। সারারাত ওখানেই শুয়ে থাকবে।

    কোলাব্যাংটা শেষপর্যন্ত পালিয়েছে। ছোট ব্যাংটার নড়বার লক্ষণ নেই, মাঝে-মাঝে কোঁক-কোঁক শব্দ করছে। সে বেচারি বোধহয় বিয়ের দিনেই স্বামীহারা হয়ে দুঃখে কাঁদছে।

    এই উৎসবের সময় ফাগুলালকে ধারে-কাছে কোথাও দেখা গেল না। সে একটা গাছতলায় শুয়ে থেকে একটা ঘাসের ডগা মুখে দিয়ে চিবোয়। এটা তার খুব পছন্দের জায়গা।

    একদিন, দু-দিন, তিনদিন, তবু বৃষ্টির দেখা নেই। সকাল থেকেই সূর্য কটমট করে তাকিয়ে আছেন। তিনি কোনও মেঘকে এদিকে ঘেঁষতে দেবেন না।

    সবার চোখ আকাশের দিকে তাকিয়ে থাকতে-থাকতে চোখ লাল হয়ে যায়। এই সময় বীজতলা তৈরি করতে না পারলে আর ফসল তোলার আশা থাকবে না।

    ভালুর সঙ্গে একদিন ফাগুলালের দেখা।

    সে মিচকি হেসে বলল, বিশ রূপে পেলি না তো?

    ভালু বলল, আরে যা-যা। তোর টাকায় আমরা মুতে দিই। তোকে তো আর খেতির কাম-কাজ করতে হয় না।

    ফাগুলাল বলল, আমি টাউনে চলে যাব। সেখানে বরখা হচ্ছে, খবর পেয়েছি।

    বুড়ো গটগাছতলায় কয়েকজন প্রবীণ লোক প্রায় সব সময়েই বসে থাকে। বিকেলের দিকে মাধো নামে একটি ছেলে ছুটতে-ছুটতে এসে একটা সাংঘাতিক খবর দিল।

    পাশের গাঁ বরমোতিয়ায় একটা সার্কাসের দল এসে তাঁবু ফেলেছে।

    এই সময় সার্কাস? লোকের হাতে পয়সা নেই, কোনও বাড়িতেই প্রতিদিন উনুন জ্বলে না। পানীয়। জলেও টান পড়েছে। এ গাঁয়ের পুকুরটা একেবারে খটখটে শুকনো, মেয়েরা তিন মাইল দূরের এক ঝোরা থেকে কলসি করে জল আনে। সে ঝোরাও এখন ছিরছিরে, একটা কলসি ভরতেই অনেকক্ষণ লাগে, মেয়েদের মধ্যে ঝগড়া লেগে যায়।

    তবু সার্কাস দেখতেও যায় মানুষ। যেমন মদের ঠেক এই দুর্দিনেও বন্ধ হয় না।

    একজন বলল, সার্কাসে এবার হাঁথি এনেছে? হাঁথি?

    শিবুমামা দারুণ ক্রুদ্ধ হয়ে বলে উঠল, চুপ শালো! হাঁথি? হাঁথি তোর ইয়েতে আমি ঢুকিয়ে দেব!

    ওই সার্কাসের হারামিরা এসেছে, এখন এক মাইনা এক ফোঁটাও বৃষ্টি হবে না!

    সার্কাসের সঙ্গে অনাবৃষ্টির কী সম্পর্ক তা কেউ-কেউ বুঝতে পারে না। এ-ওর মুখের দিকে তাকায়।

    শিবুবাবা বলল, ঝড়-বৃষ্টি হলে সার্কাস চলে? তাই ওই শুয়োরের বাচ্চারা বৃষ্টি রুখে দেয়।

    ওরা কী করে বৃষ্টি রুখে দেয়?

    তুক করে।

    কী করে তুক করে?

    ওরা তাঁবু খাটাবার জন্য বড়-বড় পেরেক আর গজাল পোঁতে মাটিতে। ওই লোহার গজালে মন্ত্র পড়ে দেয়। যতদিন সেই গজাল পোঁতা থাকবে, ততদিন আকাশে মেঘ আসবে না!

    যুক্তিটা এবার সবারই অকাট্য মনে হয়।

    সত্যিই তো, বৃষ্টি পড়লে ওদের বেওসার ক্ষতি। বৃষ্টি হলে মানুষজন যাবে না। তাই ওরা মেঘ তাড়িয়ে দেয়। আর বৃষ্টির অভাবে যে এতগুলো গ্রামের মানুষ ধুকছে, তা ওদের খেয়াল নেই।

    সার্কাসওয়ালাদের বিরুদ্ধে ক্ষোভ জমতে থাকে। প্রথমে কেউ-কেউ বলে, সার্কাসের ম্যানিজারকে গিয়ে অনুরোধ করবে, সেই মন্ত্ৰপড়া গজালটা তুলে দিতে মাটি থেকে।

    ম্যানিজার যদি সে কথা না শোনে? কিংবা লোক দেখানোভাবে অন্য একটা গজাল তুলে দিয়ে বলে, এই তো ফেলে দিলাম।

    দল বেঁধে সবাই চলল সেই সার্কাসের তাঁবুর দিকে। ক্রমশদল বাড়তে লাগল। কারুরই এখন কোনও কাজ নেই, এই একটা ভর-উত্তেজনার ঘটনা ঘটতে যাচ্ছে।

    ম্যানিজারবাবু প্রথমে ওদের কথা হেসে উড়িয়ে দিল। তারপর শুরু হল তর্কাতর্কি। আচমকাই শুরু হয়ে গেল ভাঙচুর।

    লোকজনের হল্লার সঙ্গে মিশল জন্তু-জানোয়ারের নানারকম রব। বাঁদর আছে। দুটো ভাল্লুক, তিনটে হাতি, এমনকী একটা বাঘও রয়েছে।

    খুব বেশি ক্ষতির সম্ভাবনা দেখে ম্যানিজারবাবু একটা বন্দুক নিয়ে এসে দুবার গুলি চালাল আকাশের দিকে।

    তারপর কড়া গলায় বলল, ঠিক হ্যায়। তাঁবু গুটিয়ে নিয়ে যাচ্ছি। কত গেরাম আমাদের সেধে সেধে ডাকাডাকি করে, আমাদের কি যাওয়ার জায়গার অভাব? কিন্তু কেউ যদি আমার জানোয়ারদের গায়ে চোট লাগায়, তা হলে আমি গুলি চালাব!

    দু-দিনের মধ্যে উৎখাত হয়ে গেল সার্কাস। তবু, কোথায় বৃষ্টি?

    সার্কাসের তাঁবুগুলোর খুঁটি যখন উপড়ে ফেলা হচ্ছে, তখন কাছাকাছি দাঁড়িয়ে বিড়ি টানছিল ফাগুলাল। যেন একটা মজার দৃশ্য।

    গোটাতিনেক মেয়েও ছিল সার্কাসের দলে, তারা ঝলমলে জাঙিয়া আর গেঞ্জি পরে খেলা দেখায়। তারা নিজেদের পুঁটুলিগুলো বুকে নিয়ে গরুর গাড়িতে উঠতে-উঠতে যা-তা গালাগালি দিয়ে গেল এই গ্রামের মানুষদের।

    দু-দিন পরেও যখন বৃষ্টি হল না, ফাগুলাল ভালুকে রাস্তায় ডেকে বলল, লোহার খুঁটি আর গজালগুলো সব উঠাকে লে গিয়া কি নেহি, তা ভালো করে দেখেছিস তো? উ লোগ রাগ করে যদি মন্তর করা গজালটা পুঁতে রেখে যায়, তা হলে এ-বছরই বৃষ্টি হবে না!

    তাই তো, এ-কথাটা তো ঠিক। অনেকে দৌড়ে গেল সেই পরিত্যক্ত মাঠে। তন্নতন্ন করে খোঁজার পর দেখা গেল, সত্যিই তিনটে গজাল এখনও পোঁতা আছে মাটিতে। সেগুলো তুলে ফেলা হল, এর মধ্যে কোনটা মন্ত্রপূত? এদের ফেলা হবে কোথায়?

    এক জায়গায় কাঠকুঠো জড়ো করে আগুন লাগিয়ে তার মধ্যে ফেলে দেওয়া হল সেই তিন লোহার টুকরোকে। সবাই জানে, আগুনের আঁচে সব খারাপ মন্ত্র খারিজ হয়ে যায়।

    ওদিকে উজ্জয়িনীর মহাকাল মন্দিরে শুরু হয়েছে যজ্ঞ। এজন্য চান্দা লাগে না। মন্দিরেরই অনেক সম্পত্তি আছে। প্রতিদিন সেখানে ঘিয়ের প্রদীপ জ্বলে। শিপ্রানদীর ধারে বহু মানুষ। জমায়েত হয়ে দেখল সেই যজ্ঞ। কাঠ পুড়ল কয়েক মণ। তার মধ্যে কিছু চন্দন কাঠ। সত্যিকারের টিকি আর মোটা পৈতেধারী ব্রামভনদের উঁচু গলায় মন্ত্র শুনে খুবই ভক্তি শ্রদ্ধা হয়। উপস্থিত সবাইকে দেওয়া হল খিচুড়ি ভোগ।

    তবু তো বৃষ্টি আসে না। গুজব শোনা গেল, এই যজ্ঞের ফলে সুদূর রেওয়া জেলায় কালো মেঘ জমেছে, কিন্তু এদিকে হাসিরপুরে আকাশ এখনও খাঁ-খাঁ করে আছে।

    এরপর আর একটাই পূজা বাকি আছে। তাতে উদ্যোগ নিতে হয় শুধু মেয়েদের। এ তল্লাটের নারীরা অনাত্মীয় পুরুষদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলে না। এ বাড়ি থেকে ও বাড়ি যাওয়ার সময় তারা মাথা ঢেকে রাখে পিল্লতে। হিন্দু, মুসলমান সব একইরকম। এবারেই তো সরপঞ্চ হয়েছে শবনম বানু, খুবই তেজি নারী। কিন্তু পুরুষদের সঙ্গে কথা বলার সময় একটা পরদার আড়াল থাকে।

    এ গ্রামে কখনও ইলেকটিরি আসেনি, দূরদর্শন নেই, কিন্তু রেডিয়ো তো আছে কয়েকজনের। তারা আকাশবাণীর হিন্দি সমাচার শোনে। এ বছর পরধানমন্ত্রীর সিংহাসনে সোনিয়াজি না নিয়ে মনমোহন ভাইয়াকে ছেড়ে দিলেন, তা সবাই জানে। বাজপেয়িজি হেরে গিয়ে মনের দুঃখে এখন সারাদিন ঘুমিয়ে থাকেন, ইন্দিরাজির ছোটি বহু বলে দিয়েছেন, আদমি লোগোকো মরনে দেও, লেকিন গরু-ভঁইস জবাই নেহি চলেগা। এসব খবরের চেয়েও সবাই শুনতে চায় মেঘের কথা।

    ভগবানকা কেয়া বিচার, একই তো দেশ, তবু বঙ্গাল আর গুজরাতে এত বৃষ্টি হয়েছে যে গাঁও কে। গাঁও ডুবে যাচ্ছে, আর বুন্দেলখণ্ডে ছোট ছেলের কান্নার মতন কয়েক ফোঁটা বারিষও দিলে না? বুন্দেলাখণ্ড কী দোষ করেছে?

    একজন বলল, আরে ভগবানকো আউর বহোত কাম-কাজ আছে, উসি লিয়ে ভগবান অন্য দেবতাদের ডিউটি ভাগ করে দিয়েছেন। বারিষকা দেওতা মালানদেব।

    এরা এখানে ইন্দ্রকে বলে মালানদেব। তাঁকে পুজো করার অধিকার শুধু নারীদের। সে সময় পুরুষদের ধারে-কাছে যাওয়াও নিষেধ!

    বহু বছর ধরেই এরকম ইন্দ্রপূজা চলে আসছে। কিন্তু গত দু-বছর হয়নি, কারণ কিছু ঝঞ্চাট শুরু হয়েছে। খবর পেলেই ঢৌন থেকে ক্যামরা কাঁধে করে দলে-দলে তোক ছুটে আসে, তারা কোনও কথাই শোনে না, ফটাফট তসবির খিচে নেয়। যে পূজা পুরুষদের দেখাই নিষেধ, তা তসবির যদি তুলে নেয়, তা হলে সারা গ্রামের মানুষেরই যে পাপ হয়।

    তাই ওই পূজা বন্ধ করে দেওয়ারই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। সেই জন্যই কি মালানদেব ব্রুদ্ধ, এই আকাশে মেঘ পাঠাচ্ছেন না?

    বয়স্ক পুরুষরা কয়েকজন মিলে ঠিক করল, এবার ওই পূজা আবার চালু করতেই হবে। উপায় তো নেই। এটাই শেষ চেষ্টা।

    তবে সব কিছু সারতে হবে অতি গোপনে।

    ইন্দ্রপূজা হয় অমাবস্যার রাতে।

    সরপঞ্চ শবনম বানো তেঁড়া পিটিয়ে ঘোষণা করে দিল, ওই দিন রাতে, সূর্যদেও অস্তাচলে যাওয়ার পর কোনও পুরুষ আদমি ঘর থেকে বার হবে না। বড়কা মন্দিরের পূজারিণী রুকমাণি দেবীও জানিয়ে দিল যে, সেদিন কোনও বেহুদা কিংবা মতলববাজ যাই-ই হোক, পুরুষ যদি বিশেষ একজন রমণীকে দর্শন করে ফেলে, তা হলে সে-পুরুষটির তো শাস্তি হবেই, নারীটিকেও দিতে হবে প্রচুর জরিমানা। কেন, নারীটিকে জরিমানা দিতে হবে কেন? নারীটি নিশ্চয়ই আগে কোনও পাপ করেছে কিংবা পুরুষটিকে জাদু করে টেনে এনেছে। স্ত্রীলোকটির সে জরিমানার। পরিমাণ কম নয়, গ্রামশুদ্ধ সবাইকে খাওয়াতে হবে এক রাত। তাতে যদি তার ঘটি-বাটি, চাটি হয়ে যায় তা হোক।

    একটাই রাস্তা বাইরে থেকে এ-গ্রামে ঢুকেছে। সাত-আটজন নওজোয়ান বিকেল থেকে গ্রামের বাইরে একটা কালভার্টের ওপর বসে থাকবে। তারা আর সারারাত ঘরে ফিরবে না। ঢৌনোর কোনও আখবারের লোক কিংবা ক্যামরাওয়ালারা যদি ইন্দ্রপূজার খবর শুনে ছুটে আসতে চায়, আটকানো হবে তাদের। প্রয়োজন হলে এরা লাঠি-ডান্ডা চালাতেও পিছপা হবে না। যেমন করে হোক এরা গ্রামের ইজ্জত রক্ষা করবেই।

    সমস্যাটা হতে পারে ছোটে কুঁয়ারকে নিয়ে। সে বুদ্বুটাকিছুই না বুঝে রাত্রে বেরিয়ে পড়তে পারে। তাকে একটা ঘরের মধ্যে শিকলি এঁটে রাখা হল। সূর্যভান আর জুগনু নামের দুটো লোক, এক-এক রাতে খুব বেশি নেশা করে ফেলে, তখন তারা কী করে ফেলবে ঠিক নেই। সূর্যভান তো এক রাতে চুরচুর হয়ে, তার নিজের চাচিকে জাপটে ধরে টেনে নিয়ে যাচ্ছিল। ঝোপের দিকে, চাচির চ্যাঁচামেচি শুনে অনেকে ছুটে এসে সূর্যভানকে বেদম মার দিয়েছিল। এদের দুজনকে রাখা হবে চোখে-চোখে।

    আর ফাগুলাল? সেটাকে তো সামলানো দরকার। বাপের সুনাম ভাঙিয়ে সে হারামিটা আর কত বেয়াদপি চালাবে? কয়েকজন অবশ্য বলল, না, না, ওকে কিছু বোলোনা, দেখি না, ও কী করে?  মেয়েদের জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, ওকে দেখলেই সবাই মিলে একসঙ্গে চিল্কার করবে। তারপর মেয়েরাই ওর ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে ভেঙে দেবে ওর শিরদাঁড়া। একজন মেয়ের হাতে তো শাবল থাকবেই। এরপর দেখা যাবে, ফাগুলালের কত রস!

    কিন্তু ফাগুলালের দেখাই পাওয়া যায়নি গত দু-দিন। ভালো করে খোঁজ নিয়ে জানা গেল, সে চলে গেছে ঢৌনে। একবার গেলে সে একমাসের মধ্যে ফেরে না।

    বৃদ্ধরা স্বস্তির নিশ্বাস ফেললেন। মারামারি জিনিসটা ভালো নয়। আর যাই হোক, সে তো সিয়ারাম ভগত-এর ব্যাটা। তাকে হাড়গোড় ভাঙা অবস্থায় দেখলে অনেকেরই দিমাগ খারাব হয়ে যেত।

    ইন্দ্রপূজা হয় একটা অশথগাছের তলায়।

    এ-পূজায় কোনও মূর্তি লাগে না, একটা কাঠের দণ্ডের ডগায় লাগানো থাকে একটা তেকোনা সাদা ঝাণ্ডা। চিঁড়া, গুড় আর কলা হচ্ছে এই দেবতার উপচার। আগে তিলের সন্দেশও দেওয়া হত, কিন্তু এবারে সে পয়সার বড়ই অনটন।

    সবাই জানে। বহুত বরস আগে একবার বৃন্দাবনে এরকম বর্ষণের খুব অভাব হয়েছিল। তখন অন্য মহিলাদের সঙ্গে রাধামাঈ এই পূজা করেছিলেন। সেবারে যা কাণ্ড হয়েছিল! পূজা শেষ হওয়ার আগেই কিষণজি কোথা থেকে দৌড়ে এসে পূজা কা পরসাদ খেতে শুরু করেছিল। আরে ছি, ছি ছি, ইন্দর দেবতা অন্য কোনও পুরুষের দর্শনই সহ্য করতে পারেন না, এখন কী হবে? পূজা সব বিফলে গেল? সকলের মাথায় হাত, ভয়ে মুখ আমসি।

    তখন আকাশে দৈববাণী হয়েছিল। স্বয়ং ইন্দ্রদেব হাসতে-হাসতে বলেছিলেন, আরে আনপড় আদমিলোগ, তোরা জানিস না, কিষণজিতো হামসে ভি বহুত বড়া দেওতা, সব দেওতাসে বড়া। আমি কিষণজির ওপর রাগ করতে পারি? হাঁ, দুসরা কোই আদমি এইসান কিয়া তো আমি তোদের গ্রামে আগ লাগিয়ে দিতাম!

    কিষণজি তো এই কলিযুগে যখন-তখন আসেন না, তাই কঠোর নিয়ম হয়েছে, কোনও পুরুষের ছায়াও দেখা যাবে না এই পূজাকা টাইমমে।

    রাধামাঈ যে-গান গাইতেন, সেই গানই চলে আসছে যুগ-যুগ ধরে :

    চিড়া কুটেছি ইন্দর দেবতার জন্য, ফুলের মতন তাজা
    এসো এসো ইন্দর দেবতা, তুমিই তো আমাদের রাজা।
    কেলা এনেছি, গুড় এনেছি, মিশিয়েছি বুকের লহু
    লহু হল মধু আর কাউয়া কোয়েলা কুহু।
    কিষণ মহারাজ, দূরে থাকো, আমরা দুখিনী নারী
    বালবাচ্চার মুখ সুখা হল, গানাভি গাইতে না পারি!

    মোটামুটি এই কয়েকটা পংক্তি, একই রকম সুরে, গাওয়া হতে লাগল বারবার। মোট একশো আটবার। কে শুনল কে জানে?

    গান শেষ হওয়ার পরে গড় হয়ে মাটিতে কপাল ঠেকিয়ে প্রণাম করল সবাই। এসময় বেশ কিছুক্ষণ চোখ বুজে থাকতে হয়।

    এরপরে আসল পর্ব।

    ইন্দ্র দেবতাকে গান শোনানো হল, খাদ্য-অর্ঘ্য দেওয়া হল, তারপর তাঁকে অন্যভাবে খুশি করতে হবে না?

    এখন এইসব নারীদের মধ্যে একজনকে নির্বাচিত করে পাঠানো হবে কৃষির মাঠে। যাকে নির্বাচন করা হবে, তার শরীরে কোনও রোগ-ভোগ থাকবে না। খোস-পাঁচড়া, ঘা, কাঁটা-ছেড়া থাকবে না, স্বাস্থ্য হবে ভালো।

    আগে বসেই অনেকটা ঠিক করা ছিল, সকলেই একবাক্যে বলল, প্রথমে পাঠানো হবে। সরিতাকে। তার উমর খুব কম নয়। দেড় কুড়ি আরও পাঁচ তো হবেই। সরিতা আবার বিধবা, সন্তানও নেই।

    সরিতার আর শাদি হবে না, কিউঁকি পণ্ডিতজি ছক কেটে বলে দিয়েছেন, আবার শাদি হলে আবার তার দুলহা মরবে। তার ভাগ্যে তার নিজস্ব ঘর-সংসার নেই। সে থাকে তার বড় ভাইয়ের বাড়িতে।

    অন্তত চার-পাঁচজন জোয়ান মরদ সরিতাকে ঘরওয়ালি করতে চেয়েছিল। কিন্তু পণ্ডিতজির গণনা শুনে পিছিয়ে গেছে। একজন মেয়েমানুষের জন্য কে আর মরতে চায়।

    হাতে একটা লোহার শাবল নিয়ে এক-পা এক-পা করে এগোতে লাগল সরিতা, তার সঙ্গে চলল আরও দুজন। ঠিক মেপে-মেপে পঞ্চাশ পা গিয়ে থামবে, এরপর আর সঙ্গে কেউ যাবে না।

    শাড়ি খুলল সরিতা। বুকের জামা, কোমরের শায়া সব খুলতে হল। সারা গায়ে আর একটুও সুতো নেই। তার ছাড়া-পোশাক নিয়ে চলে গেল অন্য মেয়ে দুটি। ওরা পৌঁছে গেলে সবাই মিলে কয়েকবার উলু দেবে, তারপর সরিতার একলা যাত্রা শুরু।

    একেবারে মিশমিশে অন্ধকার, নিজের হাত-পাও দেখা যায় না।

    মেয়েমানুষ নিজের স্বামীর সামনেও নিভৃতে সব বস্ত্র খোলে না, স্নানের সময়ও কাপড় পরে থাকে, অর্থাৎ জ্ঞান হওয়ার পর থেকেই সারা শরীর ঢাকাঢুকি দিয়ে রাখাই অভ্যেস হয়ে গেছে। এই প্রথম সে পুরোপুরি নগ্ন, কেউ না দেখলেও হাঁটতে গেলে জড়তা এসে যায়। কিন্তু ইন্দ্রপূজার যে এটাই রীতি।

    কেউ দেখছে না, কিন্তু ইন্দ্র দেবতা তো দেখছে। দেওতারা আন্ধারেও দেখতে পায়। ইন্দর দেওতা তো পুরুষ। সরিতা যেন সেই পুরুষের দৃষ্টি টের পাচ্ছে।

    আন্দাজে-আন্দাজে হেঁটে সরিতা পৌঁছে গেল কৃষির মাঠে। ঝিঝি পোকার ডাক ছাড়া আর কোনও শব্দ নেই। এই সময় মাঠ পানিতে ভিজে ভিজে থাকার কথা। আহা রে, এক ফোঁটাও জল না পেয়ে ঝিঝি পোকাগুলোরও ডাক যেন ফাটাফাটা।

    হাতের শাবলটা তুলে মাটিতে একটা কোপ দিল সরিতা। ঠিক সাতবার কোপ দিতে হবে।

    তারপর সেই গর্ত ঘিরে নাচতে হবে সাত পাক। তবে যদি ইন্দর দেওতা খুশ হন। আজ রাত্তিরেই যদি বারিষ হয়, তবে বুঝতে হবে ইন্দর দেওতার খুব পসন্দ হয়েছে এই মেয়ের নাচ।

    মাটি এত শক্ত যে এক-একবার ঠংঠং করে শব্দ হচ্ছে শাবল মারার পর। ভালো করে গর্ত খুঁড়তে হবে, কাল সকালে এসে পরীক্ষা করে দেখবে পুরুষরা। যদি বোঝে যে মেয়েটি ফাঁকি মেরেছে, তা হলেও শাস্তি পেতে হবে।

    কোনও-কোনও বছর ইন্দ্র দেবতা নাকি এই সময় একেবারে মেয়েটির সামনে এসে দাঁড়ান।

    শাবল চালাতে-চালাতে সরিতা ভাবতে লাগল, আকাশের দেওতা কি সত্যি-সত্যি জমিতে পা। ছোঁয়ান? বারবার সে এদিক-ওদিক ফিরে-ফিরে দেখতে লাগল, যদিও সে জানে, এত অন্ধকারে কিছুই দেখা যাবে না!

    কিংবা দেওতাদের গায়ের রং-ই তো চেরাগ বাতির মতন।

    মোটামুটি একটা গর্ত খোঁড়া হয়ে গেছে। এইবার নাচ।

    জীবনে আর কোনও পুরুষের মনোরঞ্জনের জন্য তাকে কিছু করতে হবে না। পুরুষরা তাকে ভয় পায়। তার স্পর্শেই আছে মৃত্যু।

    দেওতাদের তো সে ভয় নেই। দেওতারা অমর।

    এক পাক নাচের পরই শরীরটা কেঁপে উঠল সরিতার। কিছু একটা শব্দ শোনা গেল কি? না, কীসেরই বা শব্দ হবে। একটু বাতাসও নেই যে উড়বে গাছের শুকনো পাতা।

    একটু পরে আবার শব্দ। কেমন যেন অশরীরী, অপ্রাকৃত ব্যাপার। সরিতার একবার ইচ্ছে হল, ছুট্টে ফিরে যেতে। সাত পাক নাচ হোক বা না হোক, কেউ তো বুঝবে না।

    কিন্তু দেবতা ঠিক বুঝবে। পূজার নিয়ম ভাঙা হবে। পাপ হবে সারা গ্রামের মানুষের।

    মন দিয়েই সে সম্পূর্ণ করল সাত পাক নাচ।

    তারপর চোখ তুলে সামনের দিকে তাকাতেই মনে হল, এক জায়গায় যেন অন্ধকার জমাট বেঁধে আছে। পুরুষ মূর্তির মতন।

    তার বুক ধড়াস-ধড়াস করতে লাগল। সে কি চোখে ভুল দেখছে? এখানে এখন কোনও মানুষ আসবে কী করে? তবে কি দেবতা স্বয়ং? তাও কি হয়?

    দেওতা হলে সেই চেরাগ বাতি কই?

    ছুটে যে পালাবে সরিতা, সে সাধ্যও নেই, পা-যেন গেঁথে গেছে মাটিতে। কাঁপা-কাঁপা গলায় সে জিগ্যেস করল, কউন?

    সে খুব আশা করেছিল, কোনও উত্তর পাবে না। ওখানে আসলে কেউ নেই। ওই জমাট অন্ধকার তার মনের ভুল।

    কিন্তু উত্তর এল।

    এক ভরাট পুরুষকণ্ঠ বলল, ম্যায় হুঁ মালানদেও।

    সঙ্গে-সঙ্গে যেন সর্বাঙ্গ ঘামে ভিজে গেল সরিতার। কেটে গেল ভয়। মালানদেও না ছাই! ও গলার আওয়াজ সে চেনে না!

    লজ্জা নিবারণের জন্য এত হাত বুক ও অন্য হাতে যোনিদেশ চাপা দিয়ে সে বলল, আরে বেওকুফ কাঁহিকা! তুইধার আয়া? মরনেকা ডর নেহি তুহার?

    লঘু হাস্য করে সেই অন্ধকার মূর্তি এক-পা এগিয়ে এসে বলল, তেরা নাচ বহোত আচ্ছা লাগা!

    আগেই থামলি কেন? পুরা সাত পাক হয়নি। তুই ফাঁকি মেরেছিস!

    সরিতা বলল, আলবাত সাত বার নেচেছি। তা ছাড়া, তুই গুণবার কে? তুই কি নালিশ করতে যাবি?

    ফাগুলাল বলল, না, নালিশ করতে যাব না। আর একটু নাচ না!

    সরিতা বলল, তুই তো এখনই মরবি! এবার ভগতজির নামেও কেউ তোকে বাঁচাবে না!

    ফাগুলাল বলল, আমায় কে মারবে? কার সাধ্য আছে?

    সরিতা বলল, আমি চিল্লাব। সবাই ছুটে আসবে, তোকে ছাতু করে দেবে! যদি ওরা দেরি করে, আমার কাছেও লোহার শাবল আছে!

    আবার হেসে ফাগুলাল বলল, তুই মারবি আমাকে? তা হলে তো পণ্ডিতজির কথাই সত্যি হয়ে যাবে। তোর কাছে এলে মরদরা বাঁচে না। তবে, মার আমাকে।

    সে আরও কাছে এসে সরিতার কাঁধে হাত রাখল।

    সরিতা বলল, সত্যি আমি চ্যাঁচাব! আরে ছি-ছি, তোর একটুও কি রকম নেই রে? আমি মালানদেরও-র পূজা দিতে এসেছি, তুই ছুঁয়ে দিলি, আমার কত পাপ হল। এখন মালানদেরও আর বারিষ দেবে না! রাগ করে আকাশে আগুন ছড়িয়ে রাখবে!

    ফাগুলাল বলল, শোন সরিতা, আমি পাপ জানি, পুণ্যও জানি। গাঁয়ের বেহুদা আদমিলোগ শাস্তর ভুলে গেছে, পড়া লিখা তো কিছু করে না। এই ইন্দ্রপূজার রাত, যে পূজা দিতে আসে, সে হয়। ভূমি। আর পুরুষ হয় আকাশ। ভূমি আর আকাশের মিলন না হলে বারিষ হবে কী করে? সরিতা, তুই বুঝিস না, আমি তোর জন্যই টাউন থেকে বারবার গাঁয়ে ছুটে আসি। তোকে আমি টাউনে নিয়ে যাব, মন্দিরে পূজা দিয়ে তুই আমার ঘরওয়ালি হবি। টাউনে কেউ জাতের পরোয়া করে না।

    সরিতা এবার কান্নাভেজা গলায় বলল, অমন কথা বলিস না! তুই আমায় শাদি করলে তোর মরণ হবে। তুই যা, যা, এখনও চলে যা! আমি তোর মরণ চাই না!

    ফাগুলাল বলল, আমি চাই! তুই আমাকে মেরে ফ্যাল সরিতা, তা হলে আমার শরীর জুড়োবে! আর ছোটাছুটি করতে হবে না। মরণের আগে, শুধু একবার…

    সরিতা বলল, না, না। ফাগু, তুই কেন মরবি। আমি মরলে বরং কারুর ক্ষতি নেই দুনিয়ায়। আমার মতন বেওয়ারিশ মেয়েমানুষের তো মৃত্যুতেই মুক্তি মেলে!

    ফাগুলাল বলল, টাউনে গিয়ে তুই আমার সঙ্গে বাঁচতে পারিস। অন্তত যতদিন বাঁচা যায়। ভালোবাসা দিয়ে আমরা পণ্ডিতজির কথা মিথ্যে করে দিতে পারি।

    সরিতা বলল, এসব তুই কী বলছিস ফাগু? আমার সারা শরীর কাঁপছে। হা ভগওয়ান, আমায় আর কত দুঃখ দেবে?

    হঠাৎ আকাশ চিরে দেখা গেল বিদ্যুঝলক। সেই আলোকে সরিতাকে দেখল ফাগুলাল। একেবারে আদিম মানবী।

    তার কয়েক মুহূর্ত পরেই বজ্রগর্জন।

    সরিতা বলল, ওই দ্যাখ, মালানদেরও ক্রুদ্ধ হয়ে আমাদের ধমকাচ্ছে!

    ফাগুলাল বলল, বারিষের আগে আকাশ ডাকে। সেই গর্জন তো পৃথিবীকে ধমকায় না! ঝড়কে বকুনি দেয়। বলে, হঠ যাও, হঠ যাও! এখন আর কেউ থাকবে না! এখানেও আর কেউ নেই। আয় সরিতা।

    তারপর সরিতা হল ভূমি আর ফাগুলাল হল আকাশ। তাদের মিলন হল। সেই মিলনখেলা যেন চলতে লাগল অনন্তকাল।

    খানিকবাদে দুজন শুয়ে রইল পাশাপাশি। দুজনেরই শরীরে বিন্দু বিন্দু ঘাম। আকাশে বিদ্যুৎচমক এখন ঘনঘন। বৃষ্টি একেবারে আসন্ন। কাকতালীয়। আষাঢ় মাসের মাঝামাঝি, বৃষ্টি একদিন-না-একদিন তো আসবেই। তবু আজই, এখনই বৃষ্টি নেমে সরিতাকে পুণ্যবতী করে দিল।

    জুঁইফুলের মতন এক-একটা বৃষ্টিবিন্দু ঝরে পড়তে লাগল ওদের শরীরে।

    সরিতা আবেগ-জড়ানো কণ্ঠে বলল, যা ফাগু, তুই এবার জঙ্গলের দিক দিয়ে চলে যা!

    ফাগুলাল বলল, তুই আমার সঙ্গে টাউনে যাবি না?

    সরিতা ত্রস্ত হয়ে বলল, ওই যেন অনেকের গলা শুনতে পাচ্ছি। যা, এখন যা। তোকে দেখলে সব ঝুট হয়ে যাবে!

    ফাগুলাল বলল, আমার যেতে ইচ্ছে করছে না যে!

    তবু সরিতার তাড়নায় তাকে উঠতে হল। নিজের পোশাক তুলে নিয়ে সে মিলিয়ে গেল বিপরীত দিকের অন্ধকারে।

    আগে ছুটে এল মেয়ের দল। একজনের হাতে সরিতার শাড়ি, জামা। তারপর এল গাঁয়ের সমস্ত পুরুষ। সবাই ইন্দ্রদেবতার নামে জয়ধ্বনি দিচ্ছে। নাচ শুরু করেছে মেয়েরা, সরিতা তাদের মধ্যমণি।

    মাটিতে পড়ে আছে ফাগুলালের কয়েক ফোঁটা বীর্য। এখুনি তা বৃষ্টির সঙ্গে মিশে যাবে!

    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleভুল মানুষের গল্প
    Next Article ভেজাল

    Related Articles

    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    প্রকাশ্য দিবালোকে – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    November 18, 2025
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    তারপর কী হল – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    November 17, 2025
    ছোটগল্প বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়

    কাদা kada

    August 11, 2025
    উপন্যাস বুদ্ধদেব গুহ

    নগ্ন নির্জন – বুদ্ধদেব গুহ

    May 28, 2025
    উপন্যাস বুদ্ধদেব গুহ

    কোয়েলের কাছে – বুদ্ধদেব গুহ

    May 23, 2025
    আশাপূর্ণা দেবী ছোটগল্প

    আসল বেনারসী ল্যাংড়া

    April 5, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Our Picks

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }