Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    মানবজমিন – শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

    August 7, 2026

    কড়িখেলা – সঙ্গীতা বন্দ্যোপাধ্যায়

    August 7, 2026

    নীললোহিতের চোখের সামনে – নীললোহিত (সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়)

    August 7, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    নিরুদ্দেশের দেশে – নীললোহিত (সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়)

    Ek Pata Golpo সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় এক পাতা গল্প178 Mins Read0
    ⤷

    নিরুদ্দেশের দেশে – ১

    ১

    যারা জীবনে কখনো দিকশূন্যপুরে যায়নি, কিংবা সে জায়গাটার নামও শোনেনি, তারা বুঝতে পারবে না তারা কী থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। যার অস্তিত্বই জানা নেই, তাকে না–পাওয়ার তো কোনো দুঃখ থাকে না। কিন্তু যারা দিকশূন্যপুরে একবার গেছে, কিন্তু বারবার ফিরে যেতে পারেনি, তাদের অতৃপ্তির শেষ নেই।

    আমি মাঝে মাঝে সেই জায়গাটার কথা ভাবি, কিন্তু আমারও যাওয়া হয়ে ওঠে না। কেউ আমাকে ডেকে নিয়ে যায় দক্ষিণে, কেউ উত্তরে। এই তো কয়েকদিন আগে নিলয়দার সঙ্গে নর্থ বেঙ্গল ঘুরে এলুম, সেখানে সামসিং ডাক– বাংলোয় নিলয়দার পা ভাঙল। তার আগে প্রবালের সঙ্গে যেতে হলো পুণায়। সেখানে ফেরার ট্রেনের টিকিট হারিয়ে ফেলে কী কাণ্ড! প্রবাল সব দোষটা চাপিয়ে দিলে আমার ঘাড়ে। আমার জামার পকেট ফুটো ছিল, তা কি আমি জানতুম? প্রবালের কাছে আর যা টাকা বাকি ছিল, তাতে মাত্র একজনের ফেরার ভাড়া হয়। প্রবাল আমায় বলেছিল, তুই থেকে যা, আমার জরুরি কাজ আছে, ফিরতেই হবে!

    আমি যেন একটা ছাই ফেলতে ভাঙা কুলো। বন্ধুবান্ধব, চেনাশুনো যার যখনই বাইরে কোথাও চাকরির ইন্টারভিউ কিংবা অন্য কাজে যাবার দরকার হয় কিন্তু একা যেতে ইচ্ছে হয় না, তখনই সে এসে আমাকে বলে, এই নীলু, চল, চল, একটা ব্যাগ গুছিয়ে নে, বেড়াতে যাবি আমার সঙ্গে! আমার যখন–তখন বেরিয়ে পড়তে ভালো লাগে ঠিকই, কিন্তু সব সময় তো ইচ্ছে না–ও করতে পারে? কিন্তু আমার মৃদু আপত্তি জানাবারও উপায় নেই। কিছু বলতে গেলেই ওরা ধমক দেয়, ধ্যাৎ, তুই বেকার বসে আছিস, তোর আবার কাজ কী রে? আমরা তোর ট্রেন ভাড়া দেব, হোটেলে এক ঘরে থাকবি, তোর তো কোনো পয়সা খরচাই নেই। যেন বিনা পয়সায় ট্রেন যাত্রা আর হোটেলের খাদ্য ভক্ষণ করাই আমার জীবনের মোক্ষ।

    আজ সকালবেলা ঘুম ভেঙে বারান্দায় এসে দাঁড়াতেই দেখি সাদা–কালো মেলানো একটা বেশ বড় পাখির পালক পড়ে আছে। পালকটা তুলে নিতেই বুকের মধ্যে কেমন যেন শিরশির করে ওঠে। এটা কোন্ পাখির পালক, আমি চিনি না। পালকটা নিয়ে গালে একটু ছোঁয়াতেই আমার দিকশূন্যপুরের কথা মনে পড়ে যায়। কেউ যেন সেখান থেকে আমাকে ডেকেছে।

    দিকশূন্যপুরে কোনো পোস্ট অফিস নেই, সেখানকার লোকেরা চিঠিপত্র লেখে না। এরকম তো অনেক গ্রামেগঞ্জেই এখনো পর্যন্ত পোস্ট অফিস খোলা হয়নি, কিন্তু সেইসব জায়গাগুলো তো আর সৃষ্টিছাড়া হয়ে থাকেনি, কোনো রকমে চিঠিপত্র যাওয়া–আসার একটা ব্যবস্থা হয়ে গেছেই। তাহলে দিকশূন্যপুরের মানুষ কি পায়রা বা হাঁস উড়িয়ে তাদের বার্তা পাঠায়? না, না, না, সেরকম কিছু না। দিকশূন্যপুরে একটুও ইতিহাসের গন্ধ নেই।

    তবু, সকালবেলার মেঘলা আকাশ, কচি কলাপাতা রঙের আলো আর পলিমাটির মতন ঠাণ্ডা নিস্তব্ধতার মধ্যে বারান্দায় এসে দাঁড়িয়ে প্রথমেই একটা পাখির পালক চোখে পড়লে মনে হয় না, কোনো একটা জায়গা থেকে ডাক এসেছে? এটা খুবই গোপন অনুভূতি, কারুকে জানাবার মতন নয়।

    একবার ভাবলুম পালকটাকে রেখে দেব আমার কোনো প্রিয় বইয়ের ভাঁজে। কিংবা, ফুলদানিতে সাজিয়ে রাখলে কেমন হয়? তারপর মনে হলো, নাঃ, এটা জমিয়ে রাখবার জিনিস নয়। আমি বারান্দার বাইরে হাত বাড়িয়ে গ্যালিলিও–র মতন পালকটাকে ছেড়ে দিলুম বাতাসে, সেটা পাক খেয়ে ঘুরতে ঘুরতে চলে গেল নিচে।

    অমনি আমার চোখের সামনে ভেসে উঠল বন্দনাদির মুখ।

    খানিকক্ষণ সামনের বাড়ির ফুলের টব সাজানো ছাদের ওপরের শূন্যতায় বন্দনাদির মুখখানি বসিয়ে নিঃশব্দে কথা বললুম তাঁর সঙ্গে। বন্দনাদির কপালটা রোদ–পড়া নদীর জলের মতন।

    তখনি ঠিক করলুম, আজ আর খবরের কাগজ পড়ব না। রেডিও শুনব না। পাশের বাড়িতে সুজিতবাবু ও তাঁর স্ত্রী দ্বৈত ঝগড়া–ঝংকার শুরু করলে কান বন্ধ করে রাখব। ইচ্ছে মতন কান বন্ধ করার একটা নিজস্ব কায়দা আমার আছে। আজ একটি ভিখিরিকে আমার একটা পুরোনো জামা দিতে হবে।

    দিকশূন্যপুর তো অনেক দূর, তার আগে একবার যেতে হবে বেকবাগানে।

    মুড়ি–ডিমভাজা আর চা খেয়ে বেরুতে যাচ্ছি, মা জিজ্ঞেস করল, এত সাত তাড়াতাড়ি হুড়োহুড়ি করে কোথায় যাচ্ছিস? জামার বোতামটা পর্যন্ত লাগাস নি!

    একটা খাঁকি রঙের খাম উঁচু করে দেখিয়ে আমি সুর করে বললুম, চা–ক– রি–র ই–ন্টা–র–ভি–উ!

    এই খাঁকি খামটা বেশ উপকারী। আমার এক জামার পকেট থেকে আরেক জামার পকেটে নিয়মিত যাতায়াত করে। অনেক জায়গাতেই এটা দেখিয়ে নানারকম সুবিধে পাওয়া যায়।

    আগে ইন্টারভিউ–এর দিন মা আমার পকেটে ঠাকুরের ফুল–বেলপাতা খানিকটা গুঁজে দিত। শততম ইন্টারভিউ পার হয়ে যাবার পর আর মা উৎসাহ পায় না। আমাদের মায়ের জেনারেশানও এখন বুঝে গেছে যে একালে চাকরি– বাকরি পাওয়ার ব্যাপারে ঠাকুর–দেবতাদের কোনো হাত নেই।

    কলকাতা শহর আজ স্নান করে সেজেগুজে আছে। রাস্তায় অনেক চলমান ছাতা। এই রকম ইলশেগুঁড়িতে আমার মাথায় বেশ আরাম হয়। কাল রাত্তিরের জোরাল বৃষ্টিতে কোথাও কোথাও জল জমে আছে। আমার পায়ে রবারের চটি, কোনো অসুবিধে নেই। প্যান্টটা একটু উঁচু করে নিলেই হলো। এরকম চটি পরে ইন্টারভিউ দিতে যাচ্ছি, তাতেও মা–র সন্দেহ হলো না। আজকাল সবই চলে। অবশ্য সে–রকম চাকরিতে আমি কোনোদিনই ডাক পাব না, যাতে টাই আর মোজাওয়ালা জুতো পরে দর্শন দিতে হয়।

    ট্রামে–বাসে এখনো অফিস যাত্রীদের ভিড় শুরু হয়নি। স্কুলের ছেলে– মেয়েরাই যাচ্ছে এখন। সকালবেলা কিশোর–কিশোরীদের ঝলমলে মুখ দেখলে চোখ ভালো থাকে। বেশি বাচ্চাদের স্কুলে পৌঁছে দেওয়া এখন মায়েদের ডিউটি। সুতরাং এখন রাস্তায়, চলন্ত রিক্সায়, বাস স্টপে প্রচুর যুবতী মা। হ্যাঁ, যুবতী মায়েদের দেখলেও চক্ষু ও হৃদয় প্রসন্ন হয়।

    ইংরিজি স্কুলগুলি শুরু হয় তাড়াতাড়ি, বাংলা স্কুলগুলো দেরিতে। আমাকে তাড়াতাড়িই যেতে হবে।

    বেকবাগানে ট্রাম থেকে নেমে দেড় মিনিট হাঁটলেই তপেশদার বাড়ি। বসবার ঘরে তপেশদা এখনো খবরের কাগজ পড়ছেন, ভেতরে কোনো ঘরে তারস্বরে চিৎকার করছে মাইকেল জ্যাকসন। আজকাল অধিকাংশ বাড়িতে গেলেই, সকালে দুপুরে বা সন্ধেয়, মাইকেল জ্যাকসনের গলা শুনতে হবেই। বীটলরাও ফিরে এসেছে।

    তপেশদা কাগজটা নামিয়ে ভরাট গলায় বললেন, কী নীলু মাস্টার, কী খবর?

    মাস্টার কথাটার মানে এই নয় যে আমি এ বাড়ির ছেলেমেয়েদের পড়াই। ইংলিশ মিডিয়ামের ছাত্রছাত্রীদের পড়াবার বিদ্যেই আমার নেই। ওটা তপেশদার আদরের সম্বোধন।

    একটা সোফায় বসে পড়ে আমি জিজ্ঞেস করলুম, আজ আপনার অফিস নেই?

    তপেশদা একটা বেশ ভালো কোম্পানির বিক্রি–বিভাগের মাঝারি সাহেব। প্রায়ই তাঁকে গৌহাটি–পাটনা–ভুবনেশ্বরে সফরে যেতে হয়। কলকাতায় থাকলেও কাঁটায় কাঁটায় ঠিক সময়ে অফিসে উপস্থিত হবার বাধ্যবাধকতা নেই। ওঁর হয়তো কোনো শাঁসালো মক্কেলের সঙ্গে আজ গ্র্যাণ্ড হোটেলে লাঞ্চ খাবার অ্যাপয়েন্টমেন্ট আছে, যা খুশি খাবেন, বিলের টাকা দেবে কোম্পানি। তারপর উনি ঢেঁকুর তুলতে তুলতে অফিস যাবেন। আরামের চাকরি আর কাকে বলে! প্লেনে চেপে বেড়ানো আর গ্র্যাণ্ড হোটেলে লাঞ্চ। আমায় এই চাকরি কেউ দেয় না? জিনিস বিক্রি করা আর কী শক্ত। আমায় কেউ তাজমহলটা বিক্রি করে দিতে বলুক না…।

    তপেশদা বললেন, হ্যাঁ, যাব এখন! তারপর তোমার খবর–টবর কী? কাজ– টাজ পেলে কিছু?

    –আপনি তো দিলেন না কিছু ব্যবস্থা করে।

    –তোমায় বললুম, টাইপিং শিখে–টিখে নাও!

    অর্থাৎ আমায় উনি কেরানিগিরিতে বসাতে চান। নিজে ঘুরবেন প্লেনে প্লেনে, আর আমি অফিসে রোজ এক চেয়ারে বসে টাইপ মেশিনে খটাখট করব? ঐ ফাঁদে আমি পা দিচ্ছি আর কি!

    —আমি দুটো জায়গা থেকে অফার পেয়েছি। একটা কিছু হয়ে যাবে।

    বেশি কৌতূহল না দেখিয়ে তপেশদা বললেন, ভালো, ভালো! উনি বুঝলেন আমি চাকরির উমেদারিতে আসিনি। তবু ওঁর চোখে খানিকটা কৌতূহল লেগে রইল।

    আজকাল বিনা কারণে কেউ কারুর বাড়িতে যায় না। একটা কিছু উদ্দেশ্য বা উপলক্ষ থাকে। তপেশদা সেইটা বুঝতে চাইছেন, কিন্তু মুখ ফুটে জিজ্ঞেস করতেও পারছেন না। অন্য পার্টিকে কিছুক্ষণের জন্য ধাঁধায় রেখে দেওয়াই আমার স্বভাব।

    মাইকেল জ্যাকসন অকস্মাৎ থেমে গেল ভেতরে। শোনা গেল অল্পবয়েসী মেয়েদের গলা। ওরা স্কুলে যাবার জন্য তৈরি হচ্ছে। তিনজনের স্কুলই কাছে।

    তপেশদা আবার খবরের কাগজটা তুলতে যাওয়ার ভঙ্গি করে বললেন, পাঞ্জাবের ব্যাপার–স্যাপার দেখেছ?

    যেহেতু আজ আমি খবরের কাগজ থেকে দূরে থাকব, তাই সঙ্গে সঙ্গে প্ৰসঙ্গ পাল্টাবার জন্য বললুম, তপেশদা, আপনি বেশ রোগা হয়ে গেছেন কিন্তু! চেহারাটা খুব সুন্দর ফিট রেখেছেন!

    চল্লিশের পর যাদের চেহারা ভারির দিকে যেতে শুরু করে তারা সবচেয়ে খুশি হয় এইরকম কথা শুনলে। তপেশদা লজ্জা লজ্জা ভাব করে বললেন, আমার নিজস্ব একটা সিস্টেম আছে, বুঝলে…।

    তপেশদার চুলে সামান্য পাক ধরেছে, তবু তাঁকে এখনো যুবকের মতনই দেখায়। অতি–ভ্রমণের কিছুটা ক্লান্তির ছাপ তাঁর চোখের নিচে। তপেশদা দিকশূন্যপুরের নাম শোনেননি।

    তিন মেয়েকে সঙ্গে নিয়ে ঢুকলেন অৰ্চনাদি। বর্নালী, শ্রাবণী আর রূপসা। তেরো থেকে সাত। এর মধ্যে রূপসাই সবচেয়ে ছোট, সে অর্চনাদির নিজের মেয়ে নয়।

    অর্চনাদি তপেশদাকে বললেন, আমি তাহলে ঘুরে আসছি। বুঝলে?

    তারপর আমায় দেখে জিজ্ঞেস করলেন, কী নীলু, কখন এসেছ?

    —এই তো একটু আগে।

    শুধু যে মেয়েদের স্কুলের জন্য সাজিয়েছেন তাই–ই না, অর্চনাদি নিজেও বেশ সেজেছেন। আটপৌরে শাড়ি পরে আর চুলটুল না আঁচড়ে তো মেয়েদের স্কুলে পৌঁছে দিতে যাওয়া যায় না। তাও অর্চনাদি যাবেন গাড়িতে। কোনো কোনো মা–বাবাকে আমি ট্যাক্সি করেও ছেলেমেয়েদের স্কুলে পৌঁছে দিতে দেখেছি। কে বলল, এ দেশটার কোনো উন্নতি হয়নি?

    আমি রূপসাকে ভালো করে লক্ষ্য করলুম। বেশ হাসিখুশিই তো রয়েছে। স্বাস্থ্যও ভালো। নাকটা যেন একটু লালচে। তা বাচ্চাদের সর্দি হবে না?

    তিনটি মেয়েরই চোখে চোখে তাকিয়ে আমি চেনা হাসি দিলুম। রূপসাকে জিজ্ঞেস করলুম, তোমার গান শেখা চলছে?

    রূপসা লাল–রিবন বাঁধা মাথাটা দুলিয়ে বলল, হ্যাঁ।

    রূপসার মুখে তার মায়েরই মুখের আদল।

    অর্চনাদি বলল, পৌনে নটা বাজে। চল, চল, দেরি হয়ে গেছে। নীলু, তুমি বসো!

    তারপর স্বামীকে: তোমার গাড়িটা এক্ষুনি দরকার নেই তো? আমি একটু গড়িয়াহাট ঘুরে আসব।

    তপেশদা উদারভাবে বললেন, দয়া করে এগারোটা–ট্যাগারোটার মধ্যে ফিরো! ওরা বেরিয়ে যাবার পর তপেশদা জিজ্ঞেস করলেন, নীলু, তুমি চা–টা কিংবা কফি–টফি কিছু খাবে–টাবে?

    —কফি খেতে পারি।

    কফি যে চায়ের থেকে আমার বেশি প্রিয় তা নয়। কফি বলার কারণ ওটা তাড়াতাড়ি বানানো যায়।

    তপেশদা বললেন, তুমি বসে কাগজ–টাগজ দ্যাখো–ট্যাখো। আমি একটু আসছি!

    তপেশদা সব সময়ে দ্বিত্ব দিয়ে কথা বলেন। খবর–টবর, কাগজ–টাগজ, টাকা– ফাকা, সিগারেট–টিগারেট। জিনিস বিক্রি করা যাদের কাজ তাদের বোধহয় সব কিছুই দু’বার বলতে হয়।

    ক্যালেণ্ডারে একটা স্নিগ্ধ হ্রদের ছবি। খুব সম্ভবত সুইটসারল্যাণ্ডের। উঠে গিয়ে দেখলুম ছবিটা আন্দামানের। ভালো দৃশ্য দেখলেই কেন আমাদের বিদেশের কথা মনে পড়ে?

    এ বাড়ির কাজের ছেলেটি কফি এনে দিল। তা বলে এত তাড়াতাড়ি। গরমজল বোধহয় তৈরিই ছিল। হাপুস হুপুস শব্দে আমি কফি শেষ করতে লাগলুম।

    তপেশদা ফিরে এসে বললেন, এবারে নীলু মাস্টার, তোমার কথা–টথা শুনি।

    আমার প্রয়োজন মিটে গেছে, আমি উঠে দাঁড়িয়ে বললুম, তপেশদা, আমি এবারে চলি! পরে আবার আসব!

    তপেশদার মুখে একটা গভীর বিস্ময় ঝুলে রইল। আমি চাকরির উমেদারি করিনি, ধার চাইনি, এমনকি তপেশদার একটা সিগারেট পর্যন্ত নিইনি। তপেশদার বৃত্তের মধ্যে এরকম কেউ আসে না।

    বাইরে বেরিয়ে আমি বাড়িটার দিকে একবার ফিরে তাকালুম। ছিমছাম দোতলা বাড়ি, তপেশদাদের পৈতৃক।

    এই বাড়িটাকে আজকাল আমার কাকের বাসা মনে হয়। কাকের বাসায় কোকিলের ছানা মানুষ হচ্ছে। না, না। তপেশদা বা অর্চনাদির সঙ্গে আমি কাকের তুলনা দিতে চাই না, ওঁরা দু’জনেই বেশ ভালো। গলার আওয়াজও তেমন খারাপ নয়। কিন্তু অর্চনাদির ছোটবোন বন্দনাদি সত্যিই কোকিলের মতন। বন্দনাদি একজন শিল্পী এবং তাঁর চরিত্রে খাঁটি বোহেমিয়ানা আছে।

    রূপসার যখন তিন বছর বয়েস, তখন বন্দনাদি ওকে নিজের দিদির বাড়িতে রেখে নিরুদ্দেশ হয়ে যান। তারপর থেকে তপেশদারা তার কোনো রকম সন্ধান পাননি।

    আমার দ্বিতীয় গন্তব্য মনোহরপুকুর।

    অজিতকাকা রিটায়ার করলেও নিজেকে সবসময় ব্যস্ত রাখতে ভালোবাসেন। তাঁকে বাড়িতে নাও পাওয়া যেতে পারে কিন্তু কাকিমা থাকবেন। নারী জাতির এক প্রথম শ্রেণীর প্রতিভূ এই লীলা কাকিমা। পৃথিবীতে জীবাণুশূন্য জল যেমন দুর্লভ, তেমনই দুর্লভ আত্মগ্লানিহীন নারী। অধিকাংশ মেয়েকেই আমি কখনো না কখনো বলতে শুনেছি, তাদের জীবনে যা পাওয়ার কথা ছিল, তার প্রায় কিছুই পাওয়া হলো না। লীলা কাকিমার জীবনে আমি এরকম মনোভাব মুহূর্তের জন্যও দেখিনি। এমনকি দু’একবার চরম সঙ্কটের সময়েও। এমন মানসিক স্থৈর্য তিনি কোথা থেকে পেয়েছেন কে জানে! লীলা কাকিমার কথা আমি যখনই ভাবি, তখনই একবার মনে মনে বলি, রিমার্কেবল লেডি! কেন যে ইংরিজিতে বলি কে জানে! বাংলায় কী বলা যায়? মহীয়সী রমণী? নাঃ, এটা বড্ড দেবী দেবী শোনায়! লীলা কাকিমা সাধারণের মধ্যেই অসাধারণ!

    বাস স্টপে দাঁড়িয়ে আছি, পেছন থেকে কে যেন বলল, হ্যালো, ওল্ড বয়!

    চমকে ফিরে তাকিয়ে, পুলকিত বিস্ময়ে দেখলুম রফিককে। এ যে মেঘ না চাইতেই জল! রফিকের বাড়িতে যাওয়ার কথা আমি একবার চিন্তা করেছিলুম বটে, কিন্তু সেটা আজকের প্রোগ্রামে ঠিক আঁটানো যাবে না। যদিও রফিকের বাড়ি কাছেই। রফিক বিয়ে করার পর ওর বাড়িতে আর বিশেষ যাওয়াই হয়নি।

    এই বাদলার দিনেও রফিক দুধসাদা ট্রাউজার্সের সঙ্গে মেরুন রঙের হাওয়াই শার্ট পরেছে, তার ওপর একটা পাতলা রেন কোট। মানিয়েছে চমৎকার। একেবারে সাহেবদের মতন দেখাচ্ছে। জুতোর পালিসও নিখুঁত।

    রফিক সাধারণত দশটার আগে বিছানা থেকে ওঠে না। আজ যে সে ন’টার মধ্যেই সেজেগুজে রাস্তায় এসে দাঁড়িয়েছে, তাতে কলকাতা শহর ধন্য হয়ে গেছে। বিয়ে করলে মানুষ কোনো না কোনো ভাবে বদলাবেই। তবে, আশা করি রফিক এখন ভিড়ের ট্রাম–বাসে উঠবে না। রফিক একবার বলেছিল, অচেনা পুরুষ– মানুষদের গায়ের গন্ধ সহ্য করতে পারে না সেইজন্যই সে কোনো অচেনা মানুষের এক হাত দূরত্বে পাঁচ মিনিটের বেশি দাঁড়িয়ে থাকতে পারে না।

    —কী রে, রফিক। কোথায় যাচ্ছিস?

    আমার কথার উত্তর না দিয়ে রফিক হাত তুলে একটা ট্যাক্সি থামাল। তারপর বলল, তুই কোথায় যাবি? চল, নামিয়ে দিচ্ছি।

    আমি যাব দক্ষিণে, রফিক যদি সুদূরতম উত্তরেও যায়, তা হলেও ওর আমন্ত্রণ প্রত্যাখ্যান করে লাভ নেই। কতটা ঘুরে যেতে হবে না হবে, রফিক সেকথা চিন্তাও করবে না। তার বনেদিয়ানা এ সবকিছুর ঊর্ধ্বে। পৃথিবী যদি একদিকে ধ্বংস হয়ে যেতেও শুরু করে, তবু রফিক তার আদবকায়দা ছাড়বে না।

    ট্যাক্সিতে ওঠবার পর আমি জানালার কাচ নামাতে যাচ্ছি, রফিক মাথা নেড়ে নিষেধ করল আমাকে। পকেট থেকে বিলিতি সিগারেটের প্যাকেট বার করে প্রথমে একটা আমাকে দিল, তারপর লাইটার জ্বেলে দু’জনের সিগারেট ধরাবার পর বলল, এবার নামাতে পারিস। এইসব লাইটারগুলো শীতের দেশের জিনিস তো। তাই একটুও হাওয়া সহ্য করে না!

    এক মুখ ধোঁয়া ছেড়ে রফিক একদৃষ্টিতে তাকিয়ে রইল আমার মুখের দিকে বেশ কয়েক মুহূর্ত। যেন সে আমার অন্তস্থল দেখার চেষ্টা করছে।

    তারপর ওর সুন্দর পাতলা ঠোঁটে প্রায় অদৃশ্য একটা হাসি ফুটিয়ে, সম্পূৰ্ণ অপ্রত্যাশিত ভাবে বলল, তুই আমার বউকে আগে ভালোবাসতিস, সেইজন্যই আমার বিয়ের পর তুই আর আমাদের বাড়িতে আসিস না, তাই না?

    প্রতিবাদ করা নিরর্থক। এখন রফিকই কথা বলবে এবং ওর মতামতটাই প্রাধান্য পাবে। বিয়ের আগে রফিকের স্ত্রী রোমিকে আমি মাত্র তিনবার দেখেছি, তার মধ্যে দু’বার কোনো কথাই হয়নি, তৃতীয়বার সব মিলিয়ে ছ’–সাতটা বাক্য বিনিময় হয়েছে মাত্ৰ।

    আমি বললুম, তুই ঠিক বলেছিস। তুই এই বিশ্বের সুন্দরীশ্রেষ্ঠাকে বিয়ে করবি, তাতে আমার হিংসে হবে না?

    রফিক শুকনো ভাবে হাঃ হাঃ করে হাসল। তারপর বলল, ঠিক আছে, দুটো বছর কাটতে দে। দু’বছর পার হয়ে যাক, তারপর তুই রোমির সঙ্গে যত ইচ্ছে প্রেম করিস!

    –ওরে বাবা, দু’বছর অপেক্ষা করতে হবে? কেন?

    – তা তো হবেই! ম্যারেজ ইজ আ টু ইয়ার্স লং পিকনিক! এই দু’বছর স্বামী– স্ত্রী একেবারে কপোত–কপোতী। তারপর তো রোজকার দানাপানি। তখন বউ কারুর সঙ্গে টুকটাক প্রেম করল কিংবা স্বামী অন্য মেয়ের সঙ্গে কিছুক্ষণ সময় কাটাল, এতে কিছু যায় আসে না। তবে, সংসারের শান্তিটা রাখতে পারলেই ভালো।

    রফিক এই অদ্ভুত তত্ত্বটা কোথা থেকে জোগাড় করল কে জানে। কিন্তু এমন জোর দিয়ে বলল যেন এর ওপরে আর কোনো কথা চলে না। রোমিকে বিয়ে করবার জন্য ও কত কাণ্ডই না করেছে। সেই উন্মাদনার আয়ু মাত্র দু’বছর! আমার হাসি পেল। আমি রোমির সঙ্গে দু’বছর বাদে প্রেম করব? ততদিনে ও আমার নামটাও মনে করতে পারবে কিনা সন্দেহ!

    খানিকক্ষণ রাস্তার দিকে তাকিয়ে থেকে রফিক আবার হঠাৎ বলল, ও হ্যাঁ, ভালো কথা। আম্মা প্রায়ই তোর কথা বলেন! আম্মা তো একতলার ঘরে থাকেন, তুই আমার কাছে না গেলেও একদিন তো আম্মার সঙ্গে দেখা করলে পারিস?

    —হ্যাঁ, যাব। কেমন আছেন আম্মা?

    —ওরকম আলগা ভাবে হ্যাঁ যাব বলিস না। শিগগিরির মধ্যে একদিন আয়! তুই তো জানিস, আম্মা তোকে দেখলে কত খুশি হন?

    রফিকের আম্মার চোখে রফিকের দিদির স্বামী, অর্থাৎ আমাদের সকলের মুরাদ দুলাভাইয়ের সঙ্গে আমার চেহারা ও মুখের খুব মিল আছে। সকলেরই ধারণা মুরাদ দুলাভাই কোনো দুর্ঘটনায় মারা গেছেন, যদিও তাঁর লাশের সন্ধান পাওয়া যায়নি। রফিকের দিদি অবশ্য এখনো আশা ছাড়েননি, তিনি প্রতীক্ষায় আছেন যে মুরাদ সাহেব একদিন ফিরে আসবেনই

    আমি বললুম, যাব, নিশ্চয়ই খুব শিগগির একদিন যাব!

    —আবার আলগা ভাবে নিশ্চয়ই যাব বলছিস? আমি তোকে চিনি না? ঠিক কবে যাবি বল!

    –তুই আমাকে এত বকছিস কেন, রফিক?

    —আই য়্যাম সরি। সত্যি দুঃখিত, নীলু। আই সাপোজ আই য়্যাম ইন ব্যাড .মুড দিস মর্নিং!

    –কেন, কী হয়েছে?

    নিরুদ্দেশের দেশে

    উত্তর না দিয়ে রফিক ফরাসি কায়দায় কাঁধ ঝাঁকাল।

    –তোর দিদি কেমন আছেন রে?

    —তা আমি কী করে জানব? দিদি আছে দিদির মতন। কে কী রকম থাকে তা কি অন্য কেউ বলতে পারে?

    –কোথায় যাচ্ছিস তুই এই সাতসকালে?

    এবারে রফিক কৌতুকের ভঙ্গিতে বাঁ দিকের চোখ টিপে মুচকি হেসে বলল, জীবিকা! হার্ড রিয়েলিটি। তুই তো বিয়ে করিসনি, তুই এসব বুঝবি না!

    রফিক আমাকে ত্রিকোণ পার্কের শেষপ্রান্তে নামিয়ে দিয়ে চলে গেল। কারণ আমি ওখানেই নামতে চেয়েছি। আমি ঠিক কোন্ বাড়িতে যাব তা রফিক জানতে চায়নি একবারও। ছেলেটার এইসব গুণ সত্যিই মনে রাখার মতন।

    যা ভেবেছিলুম তাই–ই, অজিতকাকা বাড়িতে নেই। তিনি ন্যাশনাল সেভিংস সার্টিফিকেট বিক্রির এজেন্সি নিয়েছেন, সেইজন্য সকাল থেকেই তিনি পরিচিত সার্কেলে ঘুরে বেড়ান। লীলা কাকিমা চোখে চশমা এঁটে সেলাই মেশিন নিয়ে বাচ্চাদের জামাকাপড় সেলাই করছিলেন, আমাকে দেখে কয়েক মুহূর্ত তাকিয়ে রইলেন। তাঁর চোখে কৌতূহল। কিন্তু তিনি তপেশদার মতন দ্বিধা করলেন না। পরিষ্কার গলায় বলেন, এসো নীলু, বসো। এই সেলাইটা শেষ করে নিই, কেমন? হঠাৎ এসে উপস্থিত হলে যে? নিশ্চয়ই তোমার কোনো উদ্দেশ্য আছে।

    মিথ্যে প্রধানত দু’রকম। সাদা আর কালো। নিজের স্বার্থসিদ্ধির জন্য কিংবা অন্যের ক্ষতি করবার জন্যই কালো মিথ্যের ব্যবহার। আর সাদা মিথ্যে নিয়ে কৌতুক হয়, কখনো কখনো পরের উপকারেও লেগে যায়।

    আমি সাদা, কালো, খয়েরি, বাদামি, বেগুনি ইত্যাদি সব রকম মিথ্যেতেই ওস্তাদ। তবে যাদের মনটা সাদা, তাদের সামনে কখনো কালো মিথ্যে বলি না। এইটুকু মাত্র নীতিবোধ আমার আছে।

    লীলা কাকিমার প্রশ্নের উত্তরে আমি বিনা দ্বিধায় বললুম, আপনাকে দেখতে এসেছি শুধু!

    চশমাটা খুলে, সদ্য পানা পরিষ্কার করা পুকুরের রহস্যময় গভীরতার মতন হেসে তিনি বললেন, কেমন দেখছ?

    লীলা কাকিমার বয়েস আমার ঠিক দ্বিগুণ। এখনো মুখের চামড়া কুঁচকোয় নি। দৃষ্টি স্বচ্ছ। তিনি একটা সাদা খোলের চওড়া নীল কারুকার্যময় পাড়ের শাড়ি পরে আছেন, তবু তাকে যেন এখনো ঝলমলে ছাপা শাড়িতে মানাত।

    আমার যখন পনেরো বছর বয়েস, তখন মনে হতো তিরিশ বছর বয়েসের লোকেরাই তো সব বুড়ো। শুধু চাকরি–বাকরি করে, নিছক কাজের কথা ছাড়া আর কিছু জানে না। এখন সাতাশ বছরে পৌঁছে দেখছি, পঞ্চাশ–পঞ্চান্ন বছর বয়েসের লোকরাও তো তেমন কিছু বুড়ো বা অপদার্থ নয়। একটু নিজেদের কথা বেশি বলে বটে, তবে কর্মক্ষমতা যেন যৌবনের চেয়েও বেশি। বাঁচতে বাঁচতে আরও কত কী শিখতে হবে!

    লীলা কাকিমা অবশ্য নিজের কথাও একদম বলেন না। তাঁর মেজো ছেলে বিজন যখন চিঠি লিখে বাড়ি ছেড়ে চলে যায়, সেই সময়টায় আমি কলকাতায় ছিলুম না। প্রায় মাস দেড়েক বাইরে থাকতে হয়েছিল। বিজনের ওরকম আকস্মিক কাণ্ডতে লীলা কাকিমা নিশ্চয়ই খুব আঘাত পেয়েছিলেন, কান্নাকাটিও করেছিলেন। কিন্তু তা লোকচক্ষুর অগোচরে। সেই অবস্থায় লীলা কাকিমাকে কেউ দেখেনি।

    আমি যখন কলকাতায় ফিরেছিলুম, তখন লীলা কাকিমা সম্পূর্ণ শান্ত। আমাকে তিনি বলেছিলেন, বিজন যে চলে গেল…ও বুদ্ধিমান ছেলে… নিশ্চয়ই ভেবেচিন্তেই গেছে। কত ছেলে তো আজকাল বিদেশে থাকে, পাঁচ–দশ বছর অন্তর দেখা হয়। তারপর দ্যাখো আমরা সাধু–সন্ন্যাসীদের শ্রদ্ধা করি, কিন্তু তারাও তো কোনো মা বা বউয়ের মনে কষ্ট দিয়ে সংসার ছেড়ে এসেছে।

    লীলা কাকিমা আমার চোখের দিকে তাকিয়ে আছেন, আমি বললুম, আপনাকে গত দশ বছর ধরে আমি একই রকম দেখছি।

    লীলা কাকিমা বললেন, তাহলে তুমি দেখতে জান না। দশ বছর ধরে কি কেউ একরকম থাকতে পারে? পঞ্চাশ বছর বয়েস হয়ে গেলে জীবনটা একটু অন্যরকম হয়ে যায়, শরীরটা আর আগের মতন থাকে না, শরীর নিয়েই তো জীবন! এই সময় ব্লাডপ্রেসার গণ্ডগোল করে, ব্লাড সুগার হবার ভয় থাকে, হাঁটুতে বা কোমরে ব্যথা হতে পারে…

    –এর মধ্যে আপনার কোটা হয়েছে?

    —কোনোটাই বোধহয় এখনো হয়নি। অন্তত টের পাই না। কিন্তু হতে তো পারে, সেইজন্য মনে মনে তৈরি থাকা ভালো।

    –এইসব জামাকাপড় তৈরি করছেন কার জন্য?

    —আমি এগুলো বিক্রি করি, জান না? সারাদিন বাড়িতে বসে থাকার বদলে একটা কিছু কাজ করা তো ভালো।

    এটা একটা সাদা মিথ্যে। আমি জানি, লীলা কাকিমা ঠাকুরপুকুরের একটি সমাজসেবা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত। ওখানকার অনাথ আশ্রমের ছেলেমেয়েদের জন্য তিনি বিনামূল্যে জামাকাপড় তৈরি করে দেন। কিন্তু লোকের কাছে বলেন, বিক্রি করি। এখনো সেই ব্যাপারটাই চালিয়ে যাচ্ছেন কি না সেটা আমি একটু ঝালিয়ে নিলুম।

    উঠে গিয়ে উনি প্লেটে করে দুটি সন্দেশ নিয়ে এলেন আমার জন্য। তারপর বললেন, নীলু, তোমায় দেখে একটা কথা মনে পড়ল। বিজনের তো অনেক প্যান্ট–· শার্ট পড়ে ছিল। কিছু কিছু তপন নিয়েছে, কিছু গেছে বাসনওয়ালার কাছে। সেদিন দেখি আলমারিতে একটা শার্ট রয়ে গেছে এখনো। বেশ ভালোই আছে, ছেঁড়ে– ঢেঁড়ে নি। আর বেশিদিন থাকলে নষ্ট হয়ে যাবে। সেই শার্টটা তুমি নেবে? তোমার গায়ে হয়ে যাবে।

    আলমারি খুলে লীলা কাকিমা জামাটা বার করলেন। ওরে বাবা, এ যে অনেক দামী জিনিস। একটা গরদের হাওয়াই শার্ট। এত দামী জামা আমি জন্মে কখনো পরিনি। কেই–বা দেবে!

    নিজের জামাটা খুলে ওটা পরে দেখলুম বেশ ফিট করে গেছে।

    লজ্জা লজ্জা ভাব করে বললুম, লীলা কাকিমা, আজ আমার জন্মদিন। বেশ আপনার কাছ থেকে একটা উপহার পেয়ে গেলুম।

    –আজ তোমার জন্মদিন, সত্যি?

    হ্যাঁ বলে আমি ঢিপ করে একটা প্রণাম করলুম লীলা কাকিমার পায়ে।

    এটাও একটা সাদা মিথ্যে!

    নিজের জামাটা একটা খবরের কাগজে মুড়ে নিয়ে রাস্তায় বেরিয়ে এসে আমি একজন পছন্দমতন ভিখিরি খুঁজতে লাগলুম। বৃষ্টি থেমে গেছে, রোদ উঠেছে চড়া, এখন রাস্তায় প্রচুর মানুষজন। প্যাচপেচে কাদা, এখন আর এই শহরটাকে পছন্দ করার কোনো কারণ নেই।

    হাঁটতে হাঁটতে চলে এলুম গড়িয়াহাট মোড়ের কাছে। দরকারের সময় ঠিক জিনিসটি কিছুতেই খুঁজে পাওয়া যাবে না? এমনকি ভিখিরি পর্যন্ত। কলকাতা শহরে ভিখিরির অভাব? যে–ক’জনকে দেখছি তারা হয় স্ত্রীলোক বা বুড়ি বা একেবারে বাচ্চা।

    শেষ পর্যন্ত বাজারের সামনে প্রায় আমারই যমজ চেহারার একজন ভিখিরির সন্ধান পেয়ে গেলুম। সে আমার সামনে পয়সার জন্য হাত পাততেই আমি মনে মনে বললুম, তুমি আজ একটা জামা উপার্জন করেছ।

    আশ্চর্য, সকালবেলা যখন আমি কোনো ভিখিরিকে নিজের একটা জামা দেবার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলুম, তখন স্বপ্নেও ভাবিনি যে আমি নিজেও আজ একটা চমৎকার শার্ট পেয়ে যাব!

    মহাপুরুষরা যে বলে গেছেন কারুকে কিছু দিতে চাইলে নিজেরও অনেক কিছু পাওয়া হয়ে যায়, তা সত্যি নাকি? দু’একদিন মিলে যায় বোধহয়!

    ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleঘটনার ঘনঘটা – নীললোহিত (সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়)
    Next Article ভালোবাসা নাও, হারিয়ে যেও না – নীললোহিত (সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়)

    Related Articles

    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    নীললোহিতের চোখের সামনে – নীললোহিত (সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়)

    August 7, 2026
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    নীললোহিতের অন্তরঙ্গ – নীললোহিত (সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়)

    August 7, 2026
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    আকাশ পাতাল – নীললোহিত (সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়)

    August 7, 2026
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    ভালোবাসা নাও, হারিয়ে যেও না – নীললোহিত (সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়)

    August 6, 2026
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    ঘটনার ঘনঘটা – নীললোহিত (সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়)

    August 5, 2026
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    শেষ দেখা হয়নি – নীললোহিত (সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়)

    August 5, 2026
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    अनीश दास
    मौलाना शाह वलीउल्लाह
    रेवरेंड के. के. जी. सरकार
    অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত
    অঁতোয়ান দ্য সাঁত-এক্সুপেরি
    অনন্যা পাল
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অনীশ দেব
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    অভিজ্ঞান রায়চৌধুরী
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক দত্ত
    অভীক সরকার
    অমরেন্দ্র চক্রবর্তী
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অরিন্দম দেবনাথ
    অর্পিতা সরকার
    অশোককুমার মিত্র
    অসম্পূর্ণ বই
    আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুর রহমান আল-আরিফি
    আবদুল হালিম
    আব্দুল মালেক আলী আল-কুলাইব
    আব্দুল হামীদ ফাইযী
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    কৌশিক সামন্ত
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোপেন্দ্র বসু
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভট্টাচার্য
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যজ্যোতি মজুমদার
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বাণ রায়
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পরিমল ভট্টাচার্য
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিয়োদর দস্তইয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণু শর্মা
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাসরুর আরেফিন
    মাহতাব উদ্দিন
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রণদীপ নন্দী
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রশীদ করীম
    রাজর্ষি দাশ ভৌমিক
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    রাফিক হারিরি
    রেভারেণ্ড কে. কে. জি. সরকার
    লীলা মজুমদার
    লেইল লোনডেস
    লেখক
    শওকত আলী
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শঙ্কর চ্যাটার্জী
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শহীদুল্লা কায়সার
    শাক্যজিৎ ভট্টাচার্য
    শাক্যজিৎ ভট্টাচাৰ্য্য
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শৈবাল মিত্ৰ
    শ্যামল গঙ্গোপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রীপারাবত
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঙ্গীতা বন্দ্যোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সন্দীপন চট্টোপাধ্যায়
    সন্মাত্রানন্দ
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমীরণ গুহ
    সমুদ্র পাল
    সম্পাদনা : শৈলেন্দ্র হালদার
    সরদার ফজলুল করিম
    সরোজকুমার রায়চৌধুরী
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সায়ক আমান
    সায়ন্তনী পূততুণ্ড
    সায়ন্তনী পূততুন্ড
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুব্রত গুহ
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সেলিনা হোসেন
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ
    সৈয়দ শামসুল হক
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বপ্নময় চক্রবর্তী
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্মরণজিৎ চক্রবর্তী
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হরিশংকর জলদাস
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মানবজমিন – শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

    August 7, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মানবজমিন – শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

    August 7, 2026
    Our Picks

    মানবজমিন – শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

    August 7, 2026

    কড়িখেলা – সঙ্গীতা বন্দ্যোপাধ্যায়

    August 7, 2026

    নীললোহিতের চোখের সামনে – নীললোহিত (সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়)

    August 7, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }