Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026

    কালীগুণীন ও চতুরঙ্গের ফাঁদ – সৌমিক দে

    March 24, 2026

    কপিলাবস্তুর কলস – প্রীতম বসু

    March 23, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    উজান-যাত্রা – বাণী বসু

    বাণী বসু এক পাতা গল্প255 Mins Read0
    ⤷

    উজান-যাত্রা – ১

    ১) আমি তিনি ও সে

    শুনেছি ওঁর বাবা গুজরাতের কটন কিং। ছিলেন, না এখনও আছেন, গত না জীবিত, অতশত জানি না। নিতাইদা পাঠিয়েছেন, ওঁকে নিতে এসেছি। হাওড়া—আমেদাবাদ এক্সপ্রেস পাক্কা সাত ঘণ্টা লেট। খোঁজখবর করে জানতে পারি নাগপুর পার হয়ে থেকেই খোঁড়াতে খোঁড়াতে আসছে। ঠিক কী গোলমাল ওরা বলল না। সম্ভবত যান্ত্রিক। ভাল বাবা, খোঁড়াতে খোঁড়াতেই আসুক, দুর্ঘটনায় পড়ার চেয়ে ভাল। চারপাশে থিকথিক করছে লোক। অনেকেই এক্সপ্রেসটার জন্যে অপেক্ষা করতে করতে খেপে যাচ্ছে। মুখ—খারাপ করছে খুব। কাজল সাধারণত চুপচাপ থাকে। তবে আজ ওর ভুরুতে কোঁচ ধরেছিল। পাশের ভদ্রলোককে বলল, আপনার কে আসছেন, জানতে পারি!

    আরে আর বলবেন না—মেয়ে জামাই—বিয়ের পরে ফার্স্ট টাইম। এখন এই খচড়া দেশের খচড়া রেল তো কোনও কাজই টাইমে করে না!

    কাজল ওঁর আপাদমস্তক ভাল করে দেখে নিয়ে বলল, সময়ে আসাটা ইমপর্টান্ট? না গোটা আসাটা?

    মানে? কী বলতে চাইছেন?

    যান্ত্রিক গোলযোগকে অগ্রাহ্য করলে যে—কোনও সময়ে অ্যাকসিডেন্ট ঘটে যেতে পারে, জানেন তো?

    ভদ্রলোক কটমট করে চেয়ে ওর থেকে কয়েক গজ দূরে গিয়ে দাঁড়ালেন। মুখখানা কালো হয়ে রয়েছে।

    অলুক্ষুণে কথা বলিস কেন রে? আমি বিরক্ত হই।

    কাজল উত্তর দিল না, একটু পরে বলল, একটা বাজল, চল কিছু খেয়ে আসি।

    রেলওয়ে রেস্তোরাঁটা সুবিধের নয়। তবু অনেক ডেলি প্যাসেঞ্জার, কাছাকাছি অফিস—টাইমের লোক এখানে খেতে আসে। আমরা মশলা ধোসার অর্ডার দিয়ে বসি। সেফেস্ট, যদি—না আলু পেঁয়াজের পুরটা অলরেডি গেঁজে গিয়ে থাকে। কাজলের ভুরুর কোঁচ ফিকে হয়েছে কিন্তু এখনও পুরোপুরি যায়নি। কাপড়টাপড় ইস্ত্রি করতে গেলে পয়লাবার ইস্ত্রি চালাবার পর যেমন হালকা একটা অমসৃণ ভাব থেকে যায়, তেমন।

    বলল, দেশটা কার? রেলটা কার?

     

     

    বুঝি, সেই ভদ্রলোকের সঙ্গে ঝগড়ার দ্বিতীয় দফাটা আমায় শুনতে হবে।

    নোংরা, লেট, চোর ঘুষখোর, অরাজক হলেই ‘এই দেশ’। কিন্তু হরগোবিন্দ খোরানা, অর্মত্য সেন, অরুন্ধতী রায় হলেই দেশটা আমাদের হয়ে যায়, ‘আমাদের ছেলে, আমাদের মেয়ে।’

    তুই ওঁকে বললি না কেন ‘আমাদের এই খচড়া দেশ’ বলতে? তা হলেই তো আর কোনও ব্যাকরণের ভুল থাকত না। মুচকি হাসি আমি।

    থাকত। ও গম্ভীরভাবে বলল, বলা উচিত ছিল ‘আপনাদের মতো খচড়াদের দিয়ে তৈরি দেশ।’

    সর্বনাশ, খুব বেঁচে গেছি। তুই তো আর. ডি. এক্স—রে! সঙ্গে ঘোরা বিপজ্জনক! কখন ফাটবি, নিজেও যাবি, আমাকেও উড়িয়ে দিবি! ডেঞ্জারাস!

    কথাটা তোর মনে হয় না? সোশাল সার্ভিস করিস তো? চেতনা বাড়াবার জন্যে কিছু করতে পারিস না? জাস্ট নাগরিক চেতনা! রাস্তায় ময়লা ফেলতে নেই, বাসে স্মোক করতে নেই, গাঁক গাঁক করে লাউডস্পিকার চালাতে নেই, কিউ ভাঙতে নেই, নিজের কাজটা করতে হয়।…

     

     

    বাস, বাস, তোর ‘নেই’ আর ‘হয়’—এর লিস্টটা পরিষ্কার হয়ে গেছে আমার কাছে।

    রিয়ালি? তো করিস না কেন কিছু?

    করব, করব, শিগগিরই করব ভাবিসনি।

    বিরক্ত মুখে ধোসার ওপর ছুরি চালাল কাজল। যেন আমজনতা, অর্থাৎ ওই ‘নেই’ আর ‘হয়’গুলো যারা মানে না, তাদের ওপর দিয়ে। আমিও বাদ যাচ্ছি না। একে কিচ্ছু করি না, তার ওপর আবার ফাজলামি।

    ছবিগুলো আর একবার ব্যাগ থেকে বার করে দেখি। একগাদা ভিড়ের মধ্যে কখনও আধা মুখ কখনও সিকি মুখ, কখনও দু’দুটো মাইক্রোফোনের পেছনে বক্তৃতারত ভ্যাটকা মুখ। দুর! এভাবে একটা মানুষকে শ’য়ে শ’য়ে যাত্রীর মধ্যে থেকে চিনে নেওয়া অসম্ভব। নিতাইদা তো ফোটোগুলো দিয়েই খালাস। কাজল ফট করে ওর ঝোলা থেকে একটা লম্বাচওড়া চার্ট পেপারের রোল বার করল। বলল, ‘তোর হাতের লেখাটা তো ছাপা হরফের মতো, লিখে ফেল দেখি নামটা। বড় বড় করে।’ একটা বেগুনি রঙের ফেল্ট পেনও বার করে দিল। সুতরাং হাতের লেখার সুনাম রাখতে আমি বড় বড় করে লিখি KASTURI BEN। লেখার সময়েই খেয়াল হয়েছিল ওঁর পদবিটা আমরা জানি না। সত্যি কথা বলতে কি এই গুজরাতিদের ভাই আর বেন—এর জ্বালায় পদবিটা উবেই যায়। ভুলাভাই, শরদভাই, নমিতা বেন, নীলম বেন। তবে আমরা কেউই স্বপ্নেও ভাবিনি উনি একটা সাধারণ স্লিপার বা শয়নযান থেকে কাঁধে একটি ঝোলা, আর হাতে একটা মাঝারি ক্যারি—অন নিয়ে নেমে আসবেন। উনি গটগট করে আসছিলেন একটা সচল গাছের মতো। আমাদের প্ল্যাকার্ডের দিকে। অর্থাৎ স্টেশনের উলটোমুখো। কেননা আমরা ওঁকে সামনের দিকে এ.সি. ফার্স্ট ক্লাস কোচগুলোয় খুঁজছিলাম। কিন্তু যেই দূর থেকে দেখলাম, এক লহমায় আবছা, আধা—সিকি ফোটোগ্রাফগুলোর খাপে খাপে বসে গিয়ে উনি জ্যান্ত হয়ে উঠলেন। দেখলে কে বলবে কটন—কিং—এর মেয়ে! স্মার্ট খুব, কিন্তু ড্যাশিং টাইপ লাগছিল না। খুব কেজো মহিলা। প্র্যাকটিক্যাল, শান্ত কিন্তু দৃঢ়। এরকমটাই আমার প্রথম মনে হল। সাদা ধ্বধবে মিলের শাড়ি পরেছেন। সাদা লেসের পাড়। শাড়িতে ছোট ছোট সাদা চিকনের ফুল। ভদ্রমহিলা ময়দার মতো সাদা ফরসা। মজবুত ফিগার। দারুণ একটা ব্যক্তিত্বের আঁচ পাচ্ছিলাম। থাকবেই। নইলে আর কাজগুলো করেন কী করে! ফোটোর চেয়ে অনেক কম বয়স, বেশি অ্যাট্রাকটিভ লাগে। তবে মাঝবয়সি তো নিশ্চয়ই। এবং গুজরাতি কটন কিং—এর মেয়ের নাকে কানে হিরে নেই। আশ্চর্য!

     

     

    প্ল্যাকার্ড এবং পেছনে আমাদের দেখে উনি থেমেছিলেন, একটু টানযুক্ত বাংলায় বললেন নিতে এসেচ আমায়? কেন? সেকী? আমি ঠিক চলে যেতে পারতুম।—চলছেন আমাদের সঙ্গে সমান তালে। কিছুক্ষণ ওঁর সঙ্গে গটগট করে চলতে চলতে ভাল লাগে খুব। যেন আত্মবিশ্বাস বেড়ে যায়।

    আপনি এত ভাল বাংলা বলেন!—বিগলিত হয়ে জিজ্ঞেস করি। কস্তুরী বেন চলতে চলতে বললেন, কেনো? নিতাই বোলেনি আমার ছুটবেলা কেটেচে কলকাতায়। জোম্মো থেকে।

    একথাটা অবশ্য আমরা জানতাম না। শুধু জানতাম এখানে ওঁদের কিছু সম্পত্তি আছে। থাকতেই পারে। গুজরাতি মিলের শাড়ি ধুতি চাদর তো এখানকার বাজার ছেয়ে আছে।

    সেই থেকে এতদিন পরেও মনে রেখেছেন?—আমি না বলে পারি না। একটু গম্ভীর অন্যমনস্ক গলায় উনি বললেন, ছুটোতে মানুষ যা শিকে আর ভুলে না। ছুটোবেলাই সব বেলা।

    শেষ কথাটা ভাল বুঝলাম না! ছোটবেলাই সব বেলা? কী অর্থে? এই যে আমাদের উৎসাহ—ছটফট যৌবন, ওঁর এত কেজো সফল প্রৌঢ়ত্ব, এগুলো? এগুলোর চেয়ে ছোটবেলার গুরুত্ব বেশি? কাজলের সঙ্গে চোখাচোখি করি। মিটিমিটি হাসছে। মানে আমার ভ্যাবাচ্যাকা ভাবটা উপভোগ করছে। ভাল বাবা, কর। তুই সব কথার মানে বুঝিস, কখনও ভ্যাবাচ্যাকা খাস না, তোর কাছে প্রশ্ন কম, উত্তর বেশি। সে উত্তরগুলো দিতেও তোর যথেষ্ট কার্পণ্য। তোর উইজডম—এর চড়া দাম। আমি বাবা একটু অভিভূত ধরনের মানুষ। যারা বশংবদ থাকে, দূর থেকে পুজো করে, নিজেকে অন্যের তুলনায় সামান্য মনে করে, শেখবার জন্য, নতুন কিছু করবার বা দেখবার জন্যে যারা উন্মুখ হয়ে থাকে। এটা কিন্তু আত্মবিশ্বাসের অভাব জাতীয় জিনিস নয়। এটা আমি কাজলকে বোঝাতে পারি না। ও বলে ‘হম কিসিসে কম নহি, কম নহি’ মন্ত্র জপ করতে থাক, ঠিক হয়ে যাবি।

     

     

    মন্ত্র জপ করলেই সব্বার থেকে তালেবর হয়ে যাব? এত সোজা!

    তা তো বলিনি! ব্যাপারটা হল এই যে, তুমি হতে পারো নামকরা সেতারি কি সরোদিয়া, লাখ লাখ কামাও, ডিজাইনার জামাকাপড় পরে আসরে বসো, আংটি থেকে হিরে ঝলকায়, কিন্তু আমিও একটা পূর্ণাঙ্গ মানুষ। আমার কাজটা আমি ষোল আনা সৎভাবে করি। আমি জীবনের প্রতিটি ধাপ জানতে জানতে, বুঝতে বুঝতে, লড়াই করতে করতে এইখানে পৌঁছেছি।

    আমি বলি, কার কথা বলছিস? তোর কথা?

    ভীষণ রাগ করে কাজল, ইয়েস, আমার কথা। কিন্তু তোরও কথা। যে ছেলেগুলো খেত—মজুরি করে বই ভাগাভাগি করে পড়ে ফার্স্ট ডিভিশনে পাশ করে, জয়েন্টে চান্স পায়, তাদেরও কথা, যে ভদ্রলোক এই কাপুরুষের দেশে সাহস করে কোনও মেয়ের অপমানের জবাব দেন তাঁরও কথা, যে কুলি সারাদিন ঠেলায় লোহার রড বয়ে বয়ে রাত এগারোটায় রাস্তার কল থেকে জল নিয়ে ছাতু ভিজিয়ে খাচ্ছে, তারও কথা।

     

     

    ওকে বোঝানো মুশকিল। তাঁর নিজের ক্ষেত্রে একজন সেতারি কি সরোদিয়া যেখানে দাঁড়িয়ে আছেন, একজন সমাজকর্মী হিসেবে আমি বা অন্য যেসব সৎ আন্তরিক মানুষদের কথা ও বলল—আমরা কি আমাদের কাজের জায়গাতেও সেইখানে দাঁড়িয়ে আছি?

    সততার, সিনসিয়ারিটির, স্ট্রাগল—এর কোনও ফার্স্ট সেকেন্ড হয় না মিঠু, কোনও সেলিব্রিটি স্টেটাস হয় না। ধান্দাবাজির সমাজসেবা তো আর করিস না!

    কোথা থেকে কোথায় চলে গেল—যাঃ। এই হল কাজল।

    ওর যুক্তি—তর্ক সত্ত্বেও কিন্তু আমার বীরপূজার বাতিক কমে না। আমি আমার দেবতাদের থেকে অটোগ্রাফ নিতে নিতে উচ্ছ্বসিত হয়ে উঠি, বিহ্বল হয়ে যাই—সে গায়ক, বাদক, লেখক যিনিই হন না কেন। আমি তো কাজলেও মুগ্ধ, অভিভূত। একজন ট্রাইব্যাল ছেলে যতই কেন সুযোগ—সুবিধে পাক, এমন করে সব কমপ্লেক্স ঝেড়ে ফেলবে গা থেকে ময়লা ঝাড়ার মতো, তথাকথিত মূল স্রোতের ছেলেমেয়ের সঙ্গে সহ—ও প্রতিযোগিতা করে এইখানে এসে দাঁড়াবে এবং নিজের পদবি বুক ফুলিয়ে ঘোষণা করবে, এটা মোটের ওপর অভাবনীয়। বাংলা ইংরেজি দুটোই বলে অবলীলায়, জলের মতো। নাক—উঁচুদের সঙ্গে যখন মেশে তখন ওর ব্যক্তিত্ব থাকে সবাইকে ছাড়িয়ে অন্য উচ্চতায়, যদিও সেভাবে বোঝা যায় না কথায়, পোশাকে, ব্যবহারে বা আদবকায়দায়। একদম সহজ। আলাদা হয়ে থাকে শুধু সামান্য একটু উন্নাসিকতা আর ওর কষ্টিপাথরের চকচকে চেহারাটা। একটু থ্যাবড়া নাক, পুরু ঠোঁট, চৌকো মতো মুখ, বডিবিল্ডিং না করেও প্রায় এক বডি—বিল্ডারের মতোই সৌষ্ঠব। ওকে পুজো করব না তো কী? ওর চেনাশোনা অনেক, জানি তারাও ওকে প্রশংসা সম্ভ্রমের চোখে দ্যাখে। কাজল! ওহ, ও তো একসেপশন্যাল। কিন্তু তারা ওকে কাজল বলে মনে রাখে, মুণ্ডাটা ভুলে যায়। ইচ্ছে করেই কি না, জানি না। চেহারার আদিবাসী মহিমা অবিকৃত রেখে ত্বকের দ্যুতি ছড়িয়ে, বিদ্যাবুদ্ধি ঝলমলিয়ে যখন একমুখ বিরল হাসির ফোয়ারা ছুড়ে বলে, ওহ নো, নট মুন্দ্রা, মুণ্ডা। কাজল মুণ্ডা। গট ইট? আমাদের কোনও এক কমন ফ্রেন্ডের একদিন কী দুর্মতি হয়েছিল, বলেছিল দ্যাখ, লোকে সরকারি সুবিধে পাবার জন্যে পদবি বদলে এস.সি. এস.টি. হয়ে যায়। গ্রামের দিকে বিশেষত। ভাবতে পারবে না, আমাদের বাবার কালের কাজের লোক শিডিউলড কাস্টে নাম লিখিয়ে রজক দাস হয়ে এল, শুনতে পাই সরকারি নিয়মের ফাঁকফোকর দিয়ে জমিজমা, ছেলেদের চাকরিফাকরি সব বাগিয়েছে। তা কাজল, তুমি তো উলটোটাও করতে পারো, কারও সাধ্য নেই বোঝে তুমি সাত পুরুষে শিক্ষিত নও। কাজল রাগ করেনি, শান্ত, হাসি ছিল চোখে, বলল, তোমরা চট করে রং বদল করতে পারো। আমি পারি না—নাকের ওপর হাত রেখে বলেছিল—আমার পরিচয় এইখানে দাগা আছে, অনাস। সেই ঋগবেদের যুগ থেকে। তা ছাড়া করব কেন? আমি ইতিহাস। ৭০০০ বছরেরর ইতিহাস। ব্রোঞ্জ যুগ থেকে বর্তমান স্যাটেলাইট, কম্পিউটারের যুগে মানুষের উৎক্রান্তির ইতিহাস। রেয়ার স্পেসিমেন। হোয়াই শুড আই ডেসট্রয় ইট!

     

     

    হাওড়া স্টেশনে একটা মেল বা এক্সপ্রেস ট্রেন এলে ট্যাক্সির লাইন আদি—অন্তহীন হয়ে যায়। তবে কিছু কালোবাজারি ট্যাক্সি থাকে, তারা প্রি—পেড ট্যাক্সির মতো আগে থেকে ভাড়া ঠিক করে নিয়ে চুপিচুপি প্যাসেঞ্জার নিয়ে আউট অব টার্ন চলে যায়। অবশ্যই ভাড়া দেড়া, কি ডবল। এইরকম একটা ট্যাক্সি ধরবার চেষ্টায় ছিলাম, কস্তুরীবেন বললেন, কিউটা কীসের?

    কিউয়ে দাঁড়ালে ভীষণ দেরি হয়ে যাবে দিদি—কাজল বলল।

    আমরা অন্য ট্যাক্সি ধরার চেষ্টা করছি।—আমি তাড়াতাড়ি বলি, এখানে এরকম না করে কোনও উপায় নেই।

    —কিউয়েতে দাঁড়াতে অসুবিদে কী? তোমাদের পায়ে বেথা বা তাড়া কিছু?

    আমি বলি, না। আসলে আপনি এতটা ট্রেন জার্নি করে এলেন, সাত ঘণ্টা লেট।

    আমাকে থামিয়ে উনি বললেন, লেট তো হচ্ছেই। এতো জার্নি তো শেষ হোয়নি এখনও। এখনও কি ঠিক অ্যাড্রেসে পৌঁছোতে পেরেছি?

     

     

    এমনভাবে কথাটা বললেন যে, মনে হল ‘ঠিক অ্যাড্রেস’ বলতে উনি মোটেই তিনের এক ফার্ন রোডের রোডটাই বোঝাচ্ছেন না। আরও কিছু, তারও অতীত, তারও অতীত। এত দূর, দৃষ্টির অগোচর কোনও ঠিকানার দিকে চোখ রেখে কোনও মানুষ পথ চলতে পারে? সন্দেহ নেই, ইনিও আমার এক অটোগ্রাফ—হিরো বা হিরোইন হতে যাচ্ছেন।

    কাজল বলল, আমি এখানে থাকা সত্ত্বেও আপনাকে কষ্ট করতে হবে কেন?

    কস্তুরীবেন এতক্ষণে মিটিমিটি হেসে বললেন, সেটা এনডিওরেন্স ওয়াইজ বুঝতে হবে। তুমাকে হাটকাট লাগছে—খুব বেয়াম ওয়েটলিফটিং করো নাকি?

    হাটকাট মানে হাট্টাকাট্টা আর কী!

    কাজল বলল, সামান্য। অ্যাথলিট হিসেবেও মন্দ না। আপনাকে কাঁধে করে বাড়ি পৌঁছে দিতে পারি।

    বোটে!—উনি হাসিহাসি চোখে বললেন।

     

     

    আধ ঘণ্টার ওপর দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে ট্যাক্স পাওয়া গেল। জ্যামট্যাম, লাল—বাতিটাতি পেরিয়ে যখন তিনের এক ফার্ন রোডে পৌঁছোলাম তখন সন্ধে হয়ে গেছে। বাড়িটা বেশ বড়, তিনতলা। একটু তেধেড়েঙ্গে—টাইপ, আজকালকার আর্টিটেকচার নয়। কেয়ারটেকার রামলাখনের কাছ থেকে চাবি নিয়ে উঠতে উঠতে আমাদের ওপরে ডাকলেন, দরজা খুললেন উনি। এই তেতলাতেই উনি থাকেন মনে হল। জানি ওঁরা ধনী। কিন্তু ফ্ল্যাটটা বা বলা ভাল তিনতলাটা, যত বিরাট তত সাজানো—গোছানো কিছু নয়। একটা ঘরে দেখলাম তক্তপোশ পাতা, ওপরে সাধারণ একটা তোশকের ওপর সাধারণ হ্যান্ডলুমের বেডকভার। একটা গোদরেজের আলমারি, একটা গদিঅলা হাতলহীন চেয়ার। সাধারণ টেবিল, দেওয়ালে লাগানো তাকে কিছু বই। এ ঘরে মালপত্র রেখে উনি আর একটা ঘর খুললেন—বৈঠকখানা, তক্তপোশ, গদি, গোটা চার তাকিয়া, নিচু টেবিল, গদি দেওয়া কাঠের বেঞ্চি। পুরনো দিনের কিছু সুন্দর মোড়া। দেওয়ালে প্রচুর ছবি, যেমন সরকারি অফিসে টাঙানো থাকে—গাঁধীজি, রবীন্দ্রনাথ, সুভাষচন্দ্রকে চিনতে পারলাম। অন্যদের নামগুলো জ্বলজ্বল করে লেখা না থাকলে আমি অন্তত চিনতে পারতাম না—স্বীকার করাই ভাল। গোখেল, সুরেন ব্যানার্জি, বিপিন পাল, উল্লাসকর দত্ত, সূর্য সেন, লালা লাজপৎ রায়, বালগঙ্গাধর তিলক। ক্ষুদিরামকে চিনলাম ওঁর ফাঁসির গানের সঙ্গে সঙ্গে চেহারাটাও খুব পাবলিসিটি পায় তো! প্রফুল্ল চাকী আর সূর্য সেন বোধহয় এই প্রথম দেখলাম। কস্তুরীবেন দেখি ঘরটাতে দাঁড়িয়েই আছেন, দাঁড়িয়েই আছেন, যেন বাহ্যজ্ঞানশূন্য।

     

     

    এই পর্যন্ত পৌঁছে দিয়ে আমরা চলে যাব কিনা ভাবছিলাম। একটু অস্বস্তিও লাগছিল, মানুষটি এখন স্মৃতির রাস্তা দিয়ে পেছনে চলেছেন, বুঝতে পারি। কিন্তু উনি বেশ আদেশপূর্ণ গলায় বললেন, বসো।

    কাজল দাঁড়িয়েই রইল, কিছু খাবারটাবার আনি দিদি।

    সোব হোচ্ছে, সোব হোচ্ছে, ইমপেশেন্ট হোবে না। বসো।

    অসহায়ের মতো বসে রইলাম দু’জনে। আর কী আমাদের করণীয় আছে কে জানে! নিতাইদা বলে দিয়েছেন, ওঁর দেখাশোনা করতে, কথা শুনতে। তো বসি। বৈঠকখানার ফাঁক দিয়ে একটা লাইব্রেরি মতো দেখা যাচ্ছিল। দেওয়ালে দেওয়ালে আঁটা আলমারিতে বই। টেবিল চেয়ার, একটা আরাম—চেয়ারও। সামনের দিকে তাকালে দেওয়ালে বিবেকানন্দ ও শ্রীঅরবিন্দের ফোটো চোখে পড়ে। এই ছবি দুটো অর্থাৎ ওঁর শোওয়ার ঘরে স্থান পেয়েছে।

    উনি ব্যস্ত হয়ে একবার ঘুরে গেলেন, চুপ বসে কেনো? গোল্পো কর, গোল্পো করতে বাধা নেই। ইস্কুল নয়, কি জেলখানা।

     

     

    কাজল আমার দিকে তাকায়। অর্থাৎ কী আর করা! অপেক্ষা করো, কী দুরূহ ডিউটি এবার পড়বে, এবং ইতিমধ্যে গোল্পো কোরো।

    আমি গভীর কৌতূহলে লক্ষ করি গত শতাব্দীর এইসব সাজসজ্জা। উঁচু সিলিং, পুরু দেওয়াল, গরাদের জানলা, চার ব্লেডের ফ্যান, রদ্যাঁর থিংকারের একটা রেপ্লিকা রয়েছে, এতক্ষণ দেখিনি। উনি এঘর থেকে ওঘর ব্যস্তভাবে ঘোরাফেরা করেছিলেন আর মাঝে মাঝে—রামলাখন, রামলাখন বলে হাঁক পাড়ছিলেন। রামলাখনের ‘হাঁ জি, হাঁ জি’ও শোনা যাচ্ছিল। কাজলও মনের মধ্যে সব টুকে রাখছে বুঝতে পারছি। তবে ব্যাটা মহা চালাক। জানতে দেবে না।

    এমন সময়ে চানটান করে ফ্রেশ জামাকাপড় পরা কস্তুরীবেন ঢুকে বললেন, রাত হয়ে যাচ্ছে। এসো আমরা তিনজুনে এইখানে বসে খাওয়া সেরে নিই।

    আমরা দু’জনেই হাঁ হাঁ করে উঠি। উনি এবার গম্ভীর চোখে চেয়ে বললেন, কেনো? বাড়িতে মাংস আছে? না ইলিশ রান্না হোচ্ছে, পাতুরি, কেলাপাতা মোড়া? তিনজনেই হেসে ফেলি।

     

     

    রামলাখন তিওয়ারি খাবার দিয়ে গেল। গরম গরম মোটা মোটা আটার রুটি, তুলতুলে নরম, অড়হর ডাল, আর রসগোল্লা।

    বাথরুম থেকে হাতমুখ অগত্যা ধুয়ে আসতে হয়। ন্যাপথলিনের গন্ধঅলা কবেকার সবুজ বর্ডার দেওয়া সাদা টার্কিস তোয়ালেতে হাত মুছে এসে বসি। উনি বললেন, কোতো সোকালে গেছ। কোতো কোষ্ট হয়েছে আমার জন্যে! দুপুরবেলা কী খেয়েছেন—মিষ্টি? বেচারা!

    আমাদের যে তেমন কোনও অসুবিধে হয়নি, অভুক্ত নেই—এসব বলে কোনও লাভ হল না। চামচ করে মাখন লাগিয়ে দিলেন রুটিতে। আমার ফিগারের বারোটা বাজল।

    খাবার সময়ে উনি একটাও কথা বললেন না। কোনও নিয়ম মানেন? না কী? ওঁর মতো আধুনিক মনের মানুষ কোনও পুরনো নিয়মে আটকে আছেন ভাবতে ভাল লাগল না। কী আর করা যাবে! তবে ক্রমশই ওঁকে খুব আত্মমগ্ন লাগছিল। ঠিক চিন্তাগ্রস্ত নয়। কিন্তু কিছু একটা জরুরি বিষয় আছে যা নিয়ে উনি ভাবছেন। রসগোল্লার রস টিপে খাচ্ছি দেখে হঠাৎ যেন সংবিতে ফিরে এলেন।

    —ফিগার কনশাস?

    আমি চমকে উঠি। একটু লজ্জা পেয়ে বলি, মিষ্টি বেশি খেতে পারি না।

    —রসই যদি ফেলে দিলে তোবে আর রসগোল্লা কী? দিস ইজ আওয়ার স্পেশ্যাল ফেভারিট ইন আমেদাবাদ। আগে জানলে তুমাকে তিত গোল্লা খাওয়াতে পারতুম।

    —কোত্থেকে? আছে আপনার কাছে?—কাজল হেসে জিজ্ঞেস করল।

    উনি বললেন, আছে। জড়িবুটি দিয়ে বানানো গোলি। আমি রোজ সোকালে একটা করে খাই। কুনও রোগ কাছে ঘেঁষতে পারে না।

    —কোথায় পাওয়া যায়?—আমাকে আমার স্বাস্থ্যবাতিকে বাবা—মায়ের জন্য অনেক কালমেঘ খেতে হয়েছে, তেতোকে আমি ভয় পাই না।

    —কুত্থাও পাবে না। এ আমাদের ফেমিলির নিজস্ব ফরমুলা। আমরা সোব বাড়িতেই বানাই তো! আচার, মিষ্টি, ওষুধ—সোব।

    —আপনাদের তা হলে ডাক্তার লাগে না বলুন।

    —ফাংশন্যাল ডিজিজের জন্যে খুব কম। কোনও অর্গ্যান খারাপ থাকলে বেচারি কী করছে?

    এ ভাবেই শেষ হয় কস্তুরীবেনের সঙ্গে আমাদের প্রথম সাক্ষাৎ।

    ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleগান্ধর্বী – বাণী বসু
    Next Article অমৃতা – বাণী বসু

    Related Articles

    বাণী বসু

    নূহর নৌকা – বাণী বসু

    November 3, 2025
    বাণী বসু

    ছোটোগল্প – বাণী বসু

    November 3, 2025
    বাণী বসু

    অন্তর্ঘাত – বাণী বসু

    November 3, 2025
    বাণী বসু

    খনামিহিরের ঢিপি – বাণী বসু

    November 3, 2025
    বাণী বসু

    খারাপ ছেলে – বাণী বসু

    November 3, 2025
    বাণী বসু

    মোহানা – বাণী বসু

    November 3, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Our Picks

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026

    কালীগুণীন ও চতুরঙ্গের ফাঁদ – সৌমিক দে

    March 24, 2026

    কপিলাবস্তুর কলস – প্রীতম বসু

    March 23, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }