Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    মাহতাব উদ্দিন : জীবন ও গান

    May 18, 2026

    পরমপুরুষ শ্রীশ্রীরামকৃষ্ণ ২ – অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত

    May 18, 2026

    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের প্রেমের গল্প – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    May 16, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    অন্ধকারের গল্প – তৌফির হাসান উর রাকিব সম্পাদিত

    তৌফির হাসান উর রাকিব এক পাতা গল্প294 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    সাপ ভয়ঙ্কর – মিজানুর রহমান কল্লোল

    সাপ ভয়ঙ্কর

    চট্টগ্রাম থেকে ঢাকার উদ্দেশে ছেড়ে আসা ‘মহানগর গোধূলি’ ট্রেন রাত আটটার দিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া স্টেশনে পৌছলে হুড়মুড় করে ‘ছ’ বগিতে উঠে পড়লাম আমি। আমাকে টিকেট কেটে দেয় যে ছেলেটি, রুবাইয়েত, একটি ওষুধ কোম্পানির রিপ্রেজেন্টেটিভ, সে উঠবে ভৈরব থেকে। সব টিকেট তার কাছে। আমাকে মোবাইলে মেসেজ পাঠানোর পরেও ফোন করে জানিয়েছে, ‘স্যর, আপনি উঠবেন ছাগলের ছ-তে।’

    আমি বললাম, ‘বুঝেছি, ছ।’

    সে আবার চিৎকার করে বলল, ‘স্যর, ছ। ছাগলের ছ। চোরের চ না কিন্তু।’

    আমি বললাম, ‘আচ্ছা।’

    সে চিৎকার করে বলল, ‘চিন্তা করবেন না, স্যর। আমি ভৈরব থেকে উঠব। ৩১ আর ৩২ নম্বর সিট আমাদের। সেকেন্দার স্যরকে ফোনে পাচ্ছি না। আপনি একটু কাইগুলি তাকে ফোন করে বলবেন, তার বগি জ। স্যর, জানোয়ারের জ।’

    আমি বললাম, ‘আচ্ছা, বলব।’

    রুবাইয়েত আবার চিৎকার করল, ‘স্যর, বেলাল স্যরের টিকেট ম্যানেজ করতে পারিনি। ওনাকে বলবেন, উনি যেন কিছু মনে না করেন। একটা স্ট্যাণ্ড টিকেট কেটে উঠে পড়তে বলেন। পরে সিট দেখা যাবে। আসলে, স্যর, ওনার টিকেট আমি ইচ্ছা করেই কাটি নাই। উনি আমার ওষুধ লেখেন না।’

    আমি বললাম, ‘ঠিক আছে। ট্রেন চলে এসেছে, আর কথা বলা যাচ্ছে না।’

    ‘ওকে, স্যর। ছাগলের ছ।’

    ট্রেনের সিটে বসতেই আমার ঝিমুনি এল।

    ট্রেন বা গাড়িতে চলার সময় কখনওই আমি চোখ খুলে রাখতে পারি না।

    ঝিমুনির মধ্যেই বুঝতে পারলাম ট্রেন ভৈরব স্টেশনে থেমেছে, রুবাইয়েত এসে বসেছে আমার পাশে। ঝমঝম করে ট্রেন আবার চলতে শুরু করেছে। আমি রুবাইয়েতের গায়ে হেলান দিয়ে ঘুমিয়ে গেলাম।

    হঠাৎ ঝাঁকি দিয়ে ট্রেন থেমে গেল।

    আমি ধড়মড় করে উঠে বসলাম।

    ‘কী হয়েছে?’ আচমকা ঘুম ভেঙে গিয়ে বুঝতে পারলাম না এভাবে ট্রেন থামল কেন।

    মানুষের চিৎকার শোনা যাচ্ছে। রুবাইয়েত বলল, ‘স্যর, আপনি থাকেন। আমি দেখে আসি ব্যাপারটা কী।’

    ট্রেন থেকে নেমে গেল সে। প্রায় দশ মিনিট পর ফিরে এল। ‘খুব বেশি মারাত্মক অবস্থা না, স্যর। তবে মালবাহী ট্রেনটা হাইগা দিছে। লাইন থেকে আউট। আমাদের শুধু সামনের বগিটা পড়ছে। মরে নাই কেউ।’

    ‘কীভাবে?’

    ‘কোন্ বানচত যেন ফিশপ্লেট খুলে ফেলেছে। কাল অবরোধ আছে, তাই। ভাগ্য ভাল যে ড্রাইভারের চোখে পড়ছিল। তাই বাঁইচ্যা গেছি। শুধু খবিশের খ বগিটা—’

    ‘পড়ে গেছে?’

    ‘পুরা পড়ে নাই। কাত হয়ে আছে। গরুর গ. বগিও।’

    ‘আচ্ছা, চুপ করো। এখন, ঠিক হবে কখন?’

    ‘মেলা দেরি হবে। ঢাকা থেকে উদ্ধার কর্মীরা আসবে, তারপর।’

    ‘সে তো ভোর হয়ে যাবে। কিছুদিন আগে সিলেটের পারাবত ট্রেনের বগি লাইনচ্যুত হয়েছিল, দশ ঘণ্টা লেগেছিল লাইন ক্লিয়ার হতে।’

    ‘জানি, স্যর, কুত্তার ক বগি এক্কেরে উল্টে গেছিল।’

    আমি চোখ বুজলাম।

    কিছুক্ষণ পর রুবাইয়েত বলল, ‘এক কাজ করলে কেমন হয়, স্যর? আমরা বরং নেমে যাই। ট্রেন লাইন বাদ দিয়া রাস্তায় ঢুকি। রাত বেশি হয় নাই। বাসে করে ঢাকায় ফিরব।’

    ‘মন্দ নয়,’ আমি বললাম। ‘সকালে আবার শালার সেমিনার আছে। এখন কোথায় আমরা, বলো তো?’

    ট্রেনের জানালা দিয়ে মাথা বের করল রুবাইয়েত। বাইরে কাকে যেন জিজ্ঞেস করল। তারপর মাথা টেনে এনে বলল, ‘মেথিকান্দা। মনে হয় নরসিংদীর মধ্যে।’

    ‘হুম, নরসিংদীর রায়পুরা থানার থানার একটা গ্রাম মেথিকান্দা।’

    ‘স্যর, চিনেন নাকি?’ রুবাইয়েত তাকাল আমার দিকে।

    ‘ঠিক চিনি না। তবে ডা. দীপুর কাছে নাম শুনেছি। ওর বাড়ি নরসিংদী।’

    ‘এই জন্য বলতে পারছে। নইলে কার ঠেকা অন্য জায়গার নাম মনে রাখার?’

    আরও একটু অপেক্ষা করে ট্রেন থেকে নামলাম আমরা। আমার ব্যাগটা রুবাইয়েত হাতে নিয়েছে। ওরটা বাম কাঁধে। আমি বললাম, আমার ব্যাগটা আমিই নিতে পারব। কিন্তু সে কথা শুনল না। দু’জনে সামনে এগোলাম। অনেকদিন পর ঝিঁঝি পোকার ডাক শুনলাম।

    হাঁটছি আমরা। ক্রমেই ম্লান হয়ে আসছে আলো।

    আমি বললাম, ‘কই, আমি তো কোন রাস্তা দেখি না। এখনও বিলের মধ্যেই আছি।’

    রুবাইয়েত বলল, ‘বিল কই দেখলেন, স্যর? ওই যে বাম পাশে গ্রাম। গ্রামে ঢুকব, নাকি সামনে এগিয়ে যাব বুঝতে পারছি না। মেথিকান্দা কি শেষ হয়েছে?’

    ‘আমি কীভাবে বলব?’ অনেকটা পথ হেঁটে হাঁপিয়ে উঠেছি আমি। আকাশে মেঘের আড়াল থেকে বেরিয়ে এল চাঁদ। বিরান এক এলাকা। মানুষের কোন চিহ্ন নেই। ‘এভাবে না চিনে না বুঝে ট্রেন থেকে নেমে আসাটা আমাদের ঠিক হয়নি,’ আমি কিছুটা হতাশার সুরে বললাম। ‘কোন জীবজন্তু সামনে এসে পড়লে পালাতেও পারব না।’

    ‘স্যর, খারাপ চিন্তা করবেন না। এখানে একটা বড় রাস্তা থাকার কথা। বাস চলাচলের।’ রুবাইয়েত বলল।

    আমি বললাম, ‘বাস কেন, অন্য কোন বাহনেরও চিহ্ন কোথাও দেখছি না। আদৌ কোন রাস্তা আছে কিনা কে জানে। আমরা কি ভুল পথে এলাম?’

    ‘স্যর, সামনে মনে হয় বাজার। কয়েকটা ঘর দেখা যাচ্ছে। বাজারের মতই তো মনে হচ্ছে।’

    চাঁদের আলোয় দেখলাম, আসলেই তাই। চার-পাঁচটা ছোট-ছোট ঘর। সামনে ফাঁকা জায়গা।

    ‘স্যর, বাজার যেহেতু একটা আছে, রাস্তাও তাহলে আছে।’ বলল রুবাইয়েত।

    ‘অনেকদিন এতটা পথ হাঁটিনি,’ আমি বললাম। ‘একেবারে ঘেমে গেছি।’

    ‘আরেকটু পথ, স্যর।’

    বাতাসের ছিটে ফোঁটা নেই।

    চাঁদের ঘোলাটে আলোয় কেমন এক ভৌতিক পরিবেশ।

    গুনে দেখলাম ছয়টা ঘর একই লাইনে।

    ভেতরে আলো নেই।

    মনে হয় ঘুমিয়ে পড়েছে, অথবা দোকান বন্ধ করে সবাই বাড়ি চলে গেছে।

    নেহায়েত সাধারণ ঘর। টিনের চাল। কাঠের দেয়াল।

    সামনে ছোট্ট বারান্দা।

    সবগুলোর কাঠামো একই।

    তবু কেন জানি না আমার শরীর কেঁপে উঠল।

    মনে হলো ওগুলোর ভেতর ভয়ঙ্কর কিছু একটা আছে!

    রুবাইয়েত বলল, ‘চলেন, স্যর, ওই বারান্দায় বসে একটু বিশ্রাম নিই।’

    আমি বললাম, ‘না। ওখানে আমি বসব না। চলো সামনে যাই।’

    ‘স্যর, আমরা কি পথ হারাইছি?’

    ‘বুঝতে পারছি না।’

    ‘অদ্ভুত!’

    ‘কী?’

    ‘স্যর কি জায়গাটার নাম খেয়াল করেছেন? ওই দেখেন ভাঙা সাইনবোর্ড।’

    আমি একটা খুঁটিতে টানানো সাইনবোর্ডটা পড়লাম: সাপমারা বাজার।

    ‘হুম, নামটা অদ্ভুত।’ আমি বললাম।

    ‘স্যর, এখন কী করব? বাঁয়ের রাস্তাটায় যাব? নাকি এখানে বসে থাকব? নাকি রেললাইন ধরে সামনে হাঁটতে থাকব?’

    হঠাৎ আমার মনে পড়ল আমার পকেটেই তো মোবাইল ফোন রয়েছে, আমি কাউকে ফোন করছি না কেন?

    আমি দ্রুত প্যান্টের পকেট থেকে মোবাইল বের করে ফোন করতে যাব, দেখি নেটওয়র্ক নেই।

    রুবাইয়েতকে বলতে সে-ও তার মোবাইল বের করল।

    ‘স্যর, আমারটায়ও নেটওয়র্ক নেই। মনে হয় এদিকে মোবাইলের টাওয়ার নেই।’

    ‘একেবারে অজপাড়া গাঁ।’

    ‘জি, স্যর।’

    ‘নাম সাপমারা বাজার।’

    ‘জি, স্যর, খুবই অদ্ভুত নাম।’

    ঘরগুলো পেছনে রেখে সামনে এগোলাম।

    আমার পাশে-পাশে হাঁটছে রুবাইয়েত।

    আমরা একটা বাগানের মধ্যে ঢুকে পড়লাম।

    চারপাশে সুনসান নিস্তব্ধতা। কেবল আমাদের হেঁটে যাবার শব্দ ছাড়া আর কোন শব্দ নেই।

    নীল আলোয় ভেসে যাচ্ছে চারদিক। কোন মানুষজনের চিহ্ন চোখে পড়ছে না। অজপাড়া গাঁ, হয়তো সবাই ঘুমিয়ে পড়েছে। শেয়াল কিংবা কুকুরের ডাকও নেই। এ ধরনের গ্রামে অন্য কোন প্রাণী না হোক, শেয়াল বা কুকুরের ডাক শোনা যাবেই। অবশ্য এমনও হতে পারে, যে গ্রামের মানুষ সন্ধ্যার পরেই ঘুমিয়ে পড়ে সে গ্রামে শেয়াল বা কুকুরও তাড়াতাড়ি ঘুমিয়ে যায়। এমনকী ঝিঁঝি পোকারাও।

    ‘আমরা আসলে কোথায় যাচ্ছি?’ নীরবতা ভঙ্গ করে আমি বললাম।

    ‘রাতটা কাটাতে হবে কোথাও,’ বলল রুবাইয়েত। ‘আসলে, স্যর, এখন বুঝতে পারছি ট্রেন থেকে নামাটাই আমাদের ভুল হইছে। দেখি সামনে কোন বাড়ি-ঘর পাই কিনা।’

    ‘অথবা চায়ের দোকান,’ আমি বললাম। ‘টায়ার্ড লাগছে।’

    ‘জি, স্যর, টায়ার্ড লাগছে। বাতাস কেমন যেন।’ রুবাইয়েত বলল।

    হাঁটতে-হাঁটতে কাঁধের ব্যাগ থেকে পানির বোতল বের করল রুবাইয়েত। ‘স্যর, পানি খান, ভাল লাগবে।’

    আমি বললাম, ‘তুমি খেয়ে তারপর দাও।’

    রুবাইয়েত বোতল থেকে ঢকঢক করে পানি খেল। তারপর আমার দিকে বাড়িয়ে দিল সেটা। আমি ধরার আগেই মনে হলো সেটা ছোঁ মেরে কেউ নিয়ে চলে গেল। ঠিক এক সেকেণ্ডেরও কম সময়। একটা ছায়া যেন সরে গেল। কেমন গন্ধ লাগল নাকে।

    আমরা হতভম্বের ভাব কাটিয়ে ওঠার আগেই প্রায় দশ ফুট দূরে বোতলটি আছড়ে পড়ল। পেছনে শোঁ-শোঁ একটা শব্দ শুনলাম। তারপর সড়াৎ করে কিছু চলে যাবার শব্দ। ঝট করে পেছনে তাকালাম। কিছু নেই। মনে হলো দূরে ছায়ার মত কিছু একটা হঠাৎ অদৃশ্য হলো। দৌড়ে বোতলের কাছে গেলাম। নিচু হয়ে ওঠাতে যাব, রুবাইয়েত আচমকা চিৎকার করে বলল, ‘স্যর, ধরবেন না ওটা।’

    আমি তার দিকে তাকিয়ে বললাম, ‘কেন?’

    ‘দেখুন, স্যর,’ বলল সে। ‘ভাল বোতল, অর্ধেকটা পানিতে ভরা ছিল। এখন দোমড়ানো, মোচড়ানো। মনে হচ্ছে গরম পানিতে সেদ্ধ করা হয়েছে। দেখুন গলে গেছে কিছুটা। আমার ভয় লাগছে। কী হয়েছিল, স্যর, একটু আগে? বোতলটা থাবা দিয়ে নিয়ে গিয়েছিল কে? চলুন, স্যর, আমরা পালাই।’

    আমিও যে অবাক হইনি তা নয়। ভয় আমারও কিছুটা লাগছে। যদিও মাথার ওপরে চাঁদ জ্যোৎস্না বিলাচ্ছে অকাতরে। তবু কেমন ভৌতিক পরিবেশ। মনে হচ্ছে জনমানবশূন্য পরিত্যক্ত এক গ্রাম এটা।

    ‘ট্রেন থেকে আমাদের নামাটাই ঠিক হয়নি,’ বিড়বিড় করে বলল রুবাইয়েত। ‘খুব ভুল হয়ে গেছে।’

    আমি বললাম, ‘চলো, ফিরে যাই।’

    পেছনে পথের দিকে ইঙ্গিত করে বললাম, ‘ওই পথেই তো এসেছি। ওদিক দিয়ে গেলে নিশ্চয়ই রেললাইনটা খুঁজে পাব। রেললাইন পেলে আর চিন্তা নেই। ‘

    ‘ওদিক দিয়ে?’ অনিশ্চয়তার সুরে বলল রুবাইয়েত। ‘কতবার বাঁক নিয়েছি, পথ আর খুঁজে পাব কিনা কে জানে? রাত, স্যর, দুটো বাজতে চলল। সকাল পর্যন্ত যে এখানে অপেক্ষা করব, সে উপায়ও নেই।’

    ‘তবু তো এখান থেকে যেতে হবে।’

    ‘জি, স্যর। যেতে হবে।’

    ‘চলো, ফিরতি পথই ধরি।

    ‘জি, স্যর। সেটাই ভাল হবে।’

    ঘুরে আবার হাঁটতে শুরু করলাম আমরা। কিন্তু মনে হলো এটা ভিন্ন কোন পথ। কারণ গাছপালা বেশ ঘন হয়ে আসছে ধীরে-ধীরে। চাঁদের আলো ক্রমে ম্লান হচ্ছে। হঠাৎ‍ কোন শিশুর গুঙিয়ে ওঠার শব্দ শুনলাম। থেমে পড়লাম আমরা। আবার নিস্তব্ধতা। তাকালাম সামনে। একসাথে অনেকগুলো ছায়া যেন সরে গেল।

    ‘আমরা পথ হারিয়ে ফেলেছি,’ একটু কাঁপা গলায় বললাম আমি।

    ‘জায়গাটা ঠিক স্বাভাবিক না,’ প্রত্যুত্তরে বলল রুবাইয়েত।

    ‘চুপ, কে যেন আসছে!’

    আমি আর রুবাইয়েত একে অপরের গা ঘেঁষে দাঁড়িয়ে রইলাম।

    রাস্তাটা ঠিক সোজা নয়, তাই দেখা যাচ্ছে না কে আসছে। শুধু হালকা পায়ের ছুটে আসার শব্দ শোনা যাচ্ছে। আমরা চুপচাপ দাঁড়িয়ে রইলাম। এবং দেখলাম তাকে।

    একটা কিশোর!

    আটকে রাখা নিঃশ্বাস ছাড়লাম।

    চাঁদের আলোয় তার মুখ দেখা যাচ্ছে। ভীত, শংকিত এক মুখ। আমাদেরকে খেয়াল করেনি সে। দৌড়ে আসছে। যেন পেছনে তাড়া করছে কিছু।

    কাছে আসতেই আমি খপ করে তার একটা হাত ধরে ফেললাম। সে ‘বাবাগো’ বলে এক চিৎকার দিয়ে আমার বুকের ওপর আছড়ে পড়ল।

    আমি বললাম, ‘ভয় পেয়ো না। কে তুমি?’

    ‘আমি…আমি…’ সে তোতলাতে লাগল। ‘আপনারা কারা? এখানে কী করেন?’

    ‘তুমি কে সেটা বলো!’

    আমাদের দিকে তাকাল সে। এখনও হাঁপাচ্ছে।. হাঁপাতে-হাঁপাতে বলল, ‘মানুষই তো মনে হচ্ছে আপনাদের। চলেন এখান থেকে। একটুও দেরি করবেন না।’

    ‘আগে বলো তুমি কে!’ ধমক দিলাম আমি। ‘কোত্থেকে আসছ? যাচ্ছই বা কোথায়?’

    ‘আমি রবিন।’ মনে হচ্ছে রীতিমত কাঁপতে শুরু করেছে সে। ‘ওইখানে আমাদের বাড়ি-’ দূরে অন্ধকারের দিকে হাত তুলে দেখাল। ‘আমি আমার দাদাকে রেখে পালিয়ে এসেছি। দৌলতকান্দি-মামাদের বাড়ি চলে যাব।’

    ‘কিন্তু এত রাতে কেন? দৌড়াচ্ছই বা কেন? আর দাদাকেই বা রেখে কেন? তুমি তো অনেক ছোট। একা- একা এভাবে-’

    ‘ওরা-ওরা আমার দাদাকে খেয়ে ফেলবে এখন। আমার বাবাকে যারা খেয়েছে-’

    ‘তোমার কথা বুঝতে পারছি না আমি, কী বলছ!’

    ‘বলছি, আমার দাদাকে ওরা এখন খেয়ে ফেলবে। আমি জানি। আমার বাবারও ঠিক এরকম হয়েছিল। আহ্, কী যন্ত্রণা ছিল তার মাথায়। পাগল হয়ে গিয়েছিল! দাদারও এখন একই অবস্থা। ছাড়েন আমাকে।’

    ‘না, আমি বললাম। ‘চলো, তোমাদের বাড়ি যাব। তোমার দাদাকে দেখব।’

    অবাক হয়ে ছেলেটি তাকাল আমার দিকে। বারো কি তেরো বছর বয়স ওর। খালি গা। পরনে হাফপ্যান্ট। পা দুটোও খালি। টিপিক্যাল গ্রামের ছেলেরা যেমন হয়।

    ‘আপনি কি পাগল নাকি?’ ছেলেটা বলল।

    আমি বললাম, ‘না, আমি ডাক্তার। চলো, তোমার দাদার কী রোগ হয়েছে, দেখি।’

    ‘কোন রোগ হয় নাই,’ একটু শান্ত হলো সে। ‘এটা লোভের ফল। আমি কইছিলাম, দাদা, লোভ কইরেন না। বাবা মরছে, আপনিও মরবেন। আমার কথা শোনে নাই দাদা। এতক্ষণে মনে হয় তারে খাইয়া ফেলাইছে।’

    ‘তাকে কে খাবে?’ বিরক্ত না হয়ে পারলাম না তারা কথায়।

    ‘তারা খাবে…যারা আমার বাবারে খাইছিল।’

    ‘কারা তারা?’

    ছেলেটা এবার গলা বাড়িয়ে এদিক-ওদিক তাকাল। তারপর ফিসফিস করে বলল, ‘সাপগুলা!’

    আমি এবার স্পষ্ট বিরক্ত হলাম। বললাম, ‘সাপে কখনও মানুষ খায়? দেখেছ? আহাম্মক কোথাকার!’

    ‘হ্যাঁ, দেখেছি,’ সে বলল। ‘আমার সামনে আমার বাবাকে সাপগুলা পুরা খাইয়া ফেলছিল।’

    এবার গায়ে কাঁটা দিল আমার। মনে হলো ছেলেটা মিথ্যা বলছে না। এ বয়সী একটা ছেলের মিথ্যা বলার কোন কারণ নেই, তবু আমি ফিসফিস করে বললাম, ‘আমি থাকতে তোমার ভয় নেই। চলো, তোমার দাদাকে দেখে আসি। একটা মানুষকে এভাবে ফেলে রেখে যেতে নেই।’

    ‘কিন্তু ওরা টের পেলে-’

    ‘কারা?’

    ‘সাপগুলা!’

    ‘শোনো, ছেলে, তুমি হয়তো কোথাও কোন সাপের গল্প পড়েছ বা শুনেছ। বাস্তবের সাথে তাকে গুলিয়ে ফেলছ। এধরনের কোন সাপ পৃথিবীতে নেই।’

    ছেলেটি এবার আমার দিকে তাকিয়ে বলল, ‘তাহলে ওই ঘরগুলা?’

    ‘কোন্ ঘরগুলো?’

    ‘ওই যে রাস্তার পাশে, এখানে ঢোকার মুখে। ছয়টা ঘর।’

    কেন জানি না আমি একটু কেঁপে উঠলাম। বললাম, ‘কী হয়েছে ঘর নিয়ে? ঘর তো যেখানে খুশি থাকতেই পারে।’

    ‘না, ওইগুলা সাপেদের ঘর। ইয়া বড়, তালগাছের মত সব সাপ থাকে ওখানে। মানুষ খায়।’

    আমি ছেলেটার দিকে ভাল করে তাকালাম। বললাম, ‘তোমার মায়ের কথা এখনও বলো নাই। ওনাকেও কি সাপে খেয়েছে? নাকি অন্য কোথাও বেড়াতে গেছেন?’

    আমার রসিকতাটুকু বুঝল না সে। বলল, ‘আমার জন্মের সময় মা মারা গেছে। ‘

    পুরো পথ একটা কথাও বলল না রুবাইয়েত। শুধু মাঝে-মাঝে ছেলেটার দিকে তাকাতে লাগল। আমি ছেলেটার একটা হাত ধরে আছি, পাছে সে দৌড় দেয়, তাই।

    সে এমনভাবে এগোচ্ছে যেন পুরো পথ তার মুখস্থ। একসময় হাঁটার গতি থামাল সে। আঙুল তুলে বলল, ‘ওই যে-’

    চাঁদের আলোয় দেখলাম একটা কাঠের ঘর। ভেতরে আলো জ্বলছে কিনা বোঝা যাচ্ছে না।

    ‘আপনারা যান, আমি যাব না।’ ছেলেটি বলল।

    আমি বললাম, ‘মনে হয় ঘরে কেউ নেই। আলো জ্বলছে না।’

    ‘তাহলে এতক্ষণে দাদাকে খাইয়ে শেষ করে ফেলছে,’ নির্বিকার গলায় বলল ছেলেটি।

    ঠিক তখনই চিৎকারটি শুনতে পেলাম। ঘরের মধ্য থেকে আসছে।

    ‘আমার দাদা…আমার দাদাজানকে হারামিগুলা খাইয়া ফেলতেছে…’ ছেলেটি আমার কাছ থেকে তার হাত ছাড়ানোর চেষ্টা করছে। ‘বাঁচান, আমার দাদারে বাঁচান। ভুল করছিল সে। লোভে পড়ছিল, কিন্তু মানুষটা ভাল…

    আমি সজোরে ছেলেটার গালে চড় মারলাম। সে হুমড়ি খেয়ে মাটিতে পড়ল।

    আমি রুবাইয়েতকে বললাম, ‘ওকে ধরে রেখো, আমি আসছি।’

    দৌড়ে ঘরের কাছে গেলাম।

    কান পাতলাম দরজায়। ভেতরে কোন সাড়া-শব্দ নেই।

    ছেলেটা কি তাহলে বানিয়ে বলেছে সব?

    সবটাই শিশু মনের কল্পনা?

    উঁকি মারার চেষ্টা করলাম।

    ভেতরটা এত অন্ধকার যে কিছুই দেখা যায় না। হঠাৎ মনে হলো পকেটে তো মোবাইল আছে, মোবাইলের টর্চটা তো জ্বেলে দেখতে পারি।

    পকেট থেকে মোবাইল বের করে টর্চ জ্বাললাম।

    নাহ, আশপাশটা খুব শান্ত, খুব নিশ্চুপ।

    দরজায় ফুটো খুঁজতে লাগলাম, ওখান দিয়ে টর্চের

    আলো ফেলে ভেতরটা দেখা যায় কিনা।

    কোন ফুটো পেলাম না। ভেতর থেকে দরজা বন্ধ।

    আস্তে কয়েকবার ঠেলাও দিলাম। না, দরজা বন্ধ। ঘরের পেছনের দিকটায় চলে গেলাম।

    কাঠের দেয়াল মেঝে থেকে চাল পর্যন্ত।

    একটা জানালাও কি নেই?

    আমি প্রতিটা কাঠে আলো ফেলছি। খুব মনোযোগের সাথে ফাঁক-ফোকর খুঁজছি।

    এতক্ষণ খেয়াল করিনি যে ঘরের পশ্চিম পাশে একটা ছোট জানালা রয়েছে! মাটি থেকে দাঁড়ালে আমার গলা সমান উঁচুতে। আমি এগিয়ে গিয়ে জানালাটা আস্তে ঠেলা দিতেই খুলে গেল। মোবাইল উঁচু করে আলো ফেললাম ভেতরে এবং একই সাথে উঁকি দিলাম। আমি চিৎকার দিয়ে উঠেছিলাম কিনা মনে নেই। যে দৃশ্য ভেতরে দেখলাম তা আমাকে মৃত্যু পর্যন্ত তাড়িয়ে নিয়ে বেড়াবে। এর চেয়ে ভয়াবহ দৃশ্য আমি আমার জীবনে দেখিনি। মুহূর্তের মধ্যেই ‘আমার সব দেখা হয়ে গেল।

    মনে হয় ওরা জানত! তাই এত নিশ্চুপ ছিল। ওদের সবক’টা আমার দিকে তাকিয়ে আছে। একেকটার সারিবদ্ধ দাঁত। হাঁ করে আছে সবাই। লালা ঝরছে মুখ দিয়ে। এমন বীভৎস, কুৎসিত সাপ পৃথিবীতে আছে আমার জানা ছিল না। আমার বুক সমান উঁচুতে ফণা তুলে সবক’টা দাঁড়িয়ে আছে। কালো, কুচকুচে, ভয়ঙ্কর। বিশাল মুখ। সামনে পড়ে আছে অর্ধেকের বেশি খাওয়া ক্ষত-বিক্ষত একটি লাশ! আমি মোবাইল ফেলে রেখেই দৌড় দিলাম।

    পেছনে শিশুদের গোঙানির মত শব্দ। আমি দৌড়চ্ছি প্রাণপণে। দেখলাম, আমাকে দৌড়তে দেখে ওই ছেলেটা আর রুবাইয়েতও দৌড়নো শুরু করেছে। পেছনে তাকানোর সাহস নেই। প্রাণপণে ছুটছি। চারদিকে হিসহিস শব্দ আর শিশুর গোঙানি। দৌড়তে দৌড়তে হঠাৎ মনে হলো পায়ের নিচে আর মাটি নেই, আমি বাতাসে ঝাঁপ দিয়েছি।

    পড়ে যাচ্ছি আমি। কতক্ষণ জানি না।

    ধপ করে পানিতে পড়লাম।

    পড়েই পানির অনেক নিচে তলিয়ে গেলাম। দম বন্ধ হয়ে এল আমার। মনে হচ্ছে বুক ফেটে যাবে। আর সম্ভব নয়। মুখটা খুলতে যাব, ভুস করে ভেসে উঠলাম।

    শরীরে শক্তি নেই এক বিন্দু।

    শুধু ভেসে থাকার চেষ্টা করলাম পানির ওপর।

    মনে হয় কোন মাছ ধরার নৌকা যাচ্ছিল।

    আমাকে দেখতে পেয়ে কাছে এগিয়ে এল।

    কয়েকটা হাত টেনে তুলল আমাকে।

    আমি জ্ঞান হারালাম।

    .

    যখন জ্ঞান ফিরল, মুখের ওপর রোদ এসে পড়েছে। উঠে বসলাম আমি। সারা শরীরে ব্যথা। দেখলাম আমাকে ঘিরে বেশ কয়েকজন নারী-পুরুষ।

    যুবক মত একজন বলল, ‘আমি আপনাকে প্রথমে দেখেছিলাম। আপনি, স্যর, নদীর মাঝখানে আসলেন কোত্থেকে? কী স্রোত, বাপরে বাপ।’

    ‘হুম,’ আরেকজন বলল। ‘আমি তো দেইখ্যাও বিশ্বাস করি নাই যে ওইটা কোন মানুষ। আপনারে আমরা না দেখলে আপনার বাঁচন লাগত না। মেঘনায় এখন যা স্রোত!’ আমি দুর্বল গলায় বললাম, ‘আমার সাথে আরও দুইজন ছিল। ওদের কি দেখেছ?’

    ‘না, আমরা শুধু আপনারেই পাইছি।’

    ‘আমি ঢাকা যাব। আমাকে একটা মাইক্রোবাস ঠিক করে দিলে হবে।’ চট করে নিজের দিকে তাকালাম। একটা লুঙ্গি পরা।

    ‘স্যর, আপনার প্যান্ট শুকাতে দেয়া হয়েছিল। সব ঠিক আছে।’ একজন বলল।

    আমি প্যান্ট-শার্ট পরে নিলাম।

    আমার মানিব্যাগটা একজন বাড়িয়ে দিল।

    আমি বললাম, ‘ওটা আপনার কাছেই থাকুক।’

    ‘না, স্যর। আপনার জিনিস আপনি নেন। মেলা টাকা আপনার ব্যাগে। আমাদের অত লোভ নাই।’

    লোভ! মাথার ভেতর সেই ছেলেটির কথা বাড়ি খেল।

    কী যেন নাম ছেলেটির?

    রবিন? হ্যাঁ, রবিন।

    ওর আর রুবাইয়েতের জন্য দুশ্চিন্তা হলো আমার। ওরা ভাল আছে তো?

    .

    এ ঘটনার পর তিন মাস কেটে গেছে। এর মধ্যে রুবাইয়েতের সাথে আমার আর যোগাযোগ হয়নি। সে-ও ফোন করেনি আমাকে। এখন অন্য একজন আমাদেরকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া আসা-যাওয়ার টিকেট দেয়। প্রতি শুক্রবার সকাল ৬:৩৫ মিনিটের পারাবত ট্রেনে উঠি, ফিরি বিকাল সোয়া পাঁচটার দিকে মহানগর এক্সপ্রেসে। শুধু আমি নই, অনেক ডাক্তার এদিন প্র্যাকটিস করতে ব্রাহ্মণবাড়িয়া যায়। এখন যে ছেলেটি আমাদেরকে ট্রেনের টিকেট দেয়, তাকে একদিন জিজ্ঞেস করেছিলাম রুবাইয়েতের কথা। সে মুখ বাঁকিয়ে বলল, ‘ওর কথা আর বলবেন না, স্যর। পিপীলিকার পাখা গজিয়েছে। ছিল ওষুধ কোম্পানির রিপ্রেজেন্টেটিভ, এখন এলিয়নে চড়ে। হাইফাই অবস্থা। কথা কয় না। ফোন নম্বর পাল্টিয়েছে। দেখা হলে চেনে না। আমার মনে হয় স্মাগলিঙের সাথে জড়িত।’

    আমি বললাম, ‘মানুষ বদলাতেই পারে।’

    ‘তাই বলে এমন বদলানো, স্যর? কুত্তা যদি ঘি খায়, পেটে সইবে? সইবে না বলে দিলাম।’

    আমি বললাম, ‘সবাই যে যার মত ভাল থাকুক—এটাই তো কাম্য হওয়া উচিত, তাই না?’

    সে বলল, ‘ছুঃ। একই সাথে দু’জন এই কোম্পানিতে ঢুকেছিলাম। আমি শালা এখনও ডাক্তারদের ট্রেনের টিকেট কেটেই চলেছি, আর ওই হারামজাদা এলিয়নে চড়ে। বলে, বাপের টাকা। বাপ যেন আর কারও নাই।’

    আমি ট্রেনে ফেরার সময়, ট্রেন যখন মেথিকান্দা ঢোকে, আমি খুব আগ্রহ নিয়ে রেললাইনের বাঁ দিকে তাকিয়ে থাকি, সাপমারা বাজারের কোন সাইনবোর্ড আমার চোখে পড়ে না। যে ছয়টি ঘর আমি দেখেছিলাম সেরকম কোন ঘরও দেখতে পাই না। আমি কয়েকজন ডাক্তারকে জিজ্ঞেস করেছি, তারা উত্তরে বলেছে গ্রামগঞ্জে এধরনের অনেক বিচিত্র নাম থাকে-সব চেনা বা জানার কথা নয়। একসময় আমি নিজেও এসব ভুলে যাই।

    একদিন বিকেলে আমি শাহবাগ কেন্দ্রীয় পাবলিক লাইব্রেরিতে যাচ্ছিলাম একটি অনুষ্ঠানে যোগ দিতে। বারবার একটা নাম্বার থেকে আমার মোবাইলে কল আসছিল। আমি সাধারণত অপরিচিত নম্বর থেকে কল এলে ধরি না। তাই এ কলটিও কেটে দিচ্ছিলাম। কিন্তু এতবার কল আসছে যে শেষ পর্যন্ত আমি ধরতে বাধ্য হলাম। বেশ বিরক্ত স্বরে বললাম, ‘হ্যালো।’

    ‘আপনি কি স্যর বলছেন? নাকি তার পিয়ন?’ একটা মেয়েলি কণ্ঠ।

    ‘স্যর বলছি।’

    ‘স্যর, আমি রুবাইয়েতের স্ত্রী।’ দ্রুত গলায় বলল ওপাশ থেকে। ‘আপনাকে ক’দিন ধরে ট্রাই করছি। পাচ্ছি না। রুবাইয়েত খুব অসুস্থ। আপনাকে কী যেন বলতে চায়। আপনি আসুন, স্যর।’

    ‘কী হয়েছে ওর? ও তো আমার সাথে যোগাযোগই করে না।’

    ওকে মাফ করে দিন, স্যর। আপনি কোথায় আছেন? আমি গাড়ি পাঠাচ্ছি। ও খুবই অসুস্থ।’

    ‘ও কোন্ হাসপাতালে আছে বলো। গাড়ি পাঠানো লাগবে না। আমি যাব দেখতে।’

    ‘হাসপাতালে না, স্যর। বাসায়। উত্তরা ১৪ নং সেক্টর। আমি, স্যর, ড্রাইভারকে বলে দিচ্ছি। গাড়ি, স্যর, গুলিস্তানে আছে।’

    ‘আমি তো শাহবাগে। তুমি তাহলে পাবলিক লাইব্রেরিতে পাঠাও। আমার নম্বর দিয়ে দিয়ো।’

    ‘ঠিক আছে, স্যর। অনেক ধন্যবাদ।’

    পাবলিক লাইব্রেরির অনুষ্ঠানে আমার আর যাওয়া হলো না। আমি গেটের কাছে পৌঁছতে গাড়িও চলে এল। নতুন ঝকঝকে গাড়ি। ড্রাইভার আমাকে চিনল। গাড়িতে তুলেই আর দেরি করল না। হর্ন বাজিয়ে চলতে শুরু করল।

    ‘একটু আস্তে চালাও,’ আমি তাকে মাঝে-মাঝে সতর্ক করে দিলাম। কিন্তু সে আমার কথা শুনছে বলে মনে হলো না। তার ইচ্ছামত সে গাড়ি চালাচ্ছে।

    এসির মধ্যে ঠাণ্ডায় ঘুম চলে এসেছিল প্রায়। ড্রাইভারের ডাকে তন্দ্রা ছুটল। ‘স্যর, চলে এসেছি। নামেন।’

    সুন্দর, দোতলা বাড়ি। সামনের লনে সবুজ ঘাস আর বিভিন্ন ধরনের ফুলের গাছ। আমি গাড়ি থেকে নামতেই এক তরুণী দৌড়ে এল। ‘স্যর, আমি আপনাকে ফোন করেছিলাম। রুবাইয়েত দোতলার ঘরে আছে, চলুন।’

    আমি সিঁড়ি বেয়ে উঠতে-উঠতে ভাবলাম, ব্যাটা ভালই কামিয়েছে।

    ঘরে ঢুকলাম আমি। চমকে গেলাম রুবাইয়েতকে দেখে। এ কাকে দেখছি আমি! প্রাণচঞ্চল এক যুবক যেন রাতারাতি বৃদ্ধে পরিণত হয়েছে।

    চোখে শূন্য দৃষ্টি। এলোমেলো চুল। অর্ধেকের বেশি পেকে গেছে। চোখের নিচে কালি। মনে হয় কতদিন ঘুমায় না। আমাকে দেখে ফ্যাসফ্যাসে গলায় বলল, ‘স্যর, আমাকে মাফ করে দেন। আপনার পায়ে পড়ি, স্যর, আমাকে মাফ করেন।’

    সে সত্যি-সত্যি আমার পা ধরতে এল। আমি দ্রুত পেছনে সরে গেলাম। ‘কী হয়েছে, রুবাইয়েত?’

    ‘পাপের ফল, স্যর। লোভ করেছিলাম। উফ…’ রুবাইয়েত দু’হাতে তার মাথা চেপে ধরল।

    ‘যন্ত্রণায় মরে যাচ্ছি।’ মাথার চুল টানতে-টানতে বলল সে। ‘সারাক্ষণ যন্ত্রণা।’

    ‘ওষুধ খাও না?’

    ‘ওষুধ!’ হিস্টিরিয়া রোগীর মত হাসল সে। ‘ওষুধ বাইটা খাইলেও কিছু হবে না। আমার মাথা, স্যর, ছিঁড়ে যাচ্ছে।’

    ‘রুবাইয়েত, শান্ত হও।’ আমি বললাম।

    ‘কীভাবে শান্ত হব, স্যর। ঘুমাতে পারি না। মাথার মধ্যে খসখস শব্দ হয়। মনে হয় কী যেন নড়ছে। কখনও মনে হয় আমার মাথার মধ্যে, স্যর, সাপ জন্মাইছে।’

    ‘কী আবাল-তাবোল চিন্তা তোমার!’

    ‘আমি সত্যি বলছি। হঠাৎ মোচড় দিয়ে নড়ে ওঠে। ব্যথায় আমি প্রায় মরে যাই। কেন যে লোভ সামলাতে পারলাম না।’

    ‘কীসের লোভ?’

    ওই পোলাডারে চাইপা ধরতেই আমারে কইছিল, স্যর, ওই পোলা, যার দাদাকে সাপে খাইছিল!’

    ‘বলো, শুনছি।’

    কথা বলতে রীতিমত কষ্ট হচ্ছে রুবাইয়েতের। ঘন-ঘন শ্বাস নিতে-নিতে বলল, ‘আপনাকে তো, স্যর, খুঁজে পেলাম না। মনে করছিলাম সাপের পেটে গেছেন। আমরা ওই রাতেই দৌলতকান্দি চলে আসি। ওই পোলা শোনাল তার দাদার মরার কাহিনি। সাপদের আক্রোশের কথা। একটা কুয়া আছে ওখানে। বিষ ভর্তি কুয়া। সাপেরা ওখানে তাদের বিষ ঢালে। ওর দাদা ওই বিষ নিয়ে বেচত। জানেন তো, স্যর, কোটি টাকা দাম। আমিও শুনে লোভ সামলাতে পারিনি। এই দেখেন, স্যর, কী দামি বাসায় থাকি। সাপের বিষের টাকায় কেনা। ওই পোলারে সাথে নিয়ে আমি দিনের বেলা গিয়েছিলাম। পানির বোতলে কইরা বিষ নিয়ে আসি। যদি জানতাম ওগুলো সাধারণ সাপ না-’

    দু’হাতে জোরে মাথা চেপে ধরল রুবাইয়েত।

    ‘স্যর, মরে যাচ্ছি, স্যর। এত যন্ত্রণা-মাথাটা, স্যর, ফাইটা যাচ্ছে।’

    দেখলাম যন্ত্রণায় মোচড় খাচ্ছে রুবাইয়েতের শরীর। ভাল করে তাকালে মনে হবে যেন একটা সাপ।

    ঘাড় বাঁকিয়ে-বাঁকিয়ে সে অদ্ভুত শব্দ করছে। আমি কী করব বুঝতে পারছি না।

    তার দিকে এগোতেই সে হাত নেড়ে নিষেধ করল। ‘স্যর-স্যর-স্যর…’ শেষ একথাটাই শুধু বলতে পেরেছিল সে। ঠাস করে একটা শব্দ হলো।

    একই সময়ে তার ভেতরে যেন একটা শিশু গুঙিয়ে উঠল।

    পড়ে গেল সে।

    তার মাথার খুলি চুরমার হয়ে গেছে।

    আমি চোখ বড় করে তাকিয়ে রইলাম। যেখানে মগজ থাকার কথা সেখানে মগজ নেই।

    একটা কুণ্ডলী পাকানো সাপ!

    ফোঁস-ফোঁস শব্দ করতে-করতে সে রুবাইয়েতের মাথার ভেতর থেকে বেরিয়ে এল। কালো, কুৎসিত। লেজ নাড়ছে। জিভ বের করছে মাঝে-মাঝে। মুখটা হাঁ করল একটু। সারি-সারি দাঁত! আমি পাথরের মত শক্ত হয়ে দাঁড়িয়ে রইলাম।

    বিশাল ফণা তুলেছে সাপটা।

    হিসহিস শব্দ হচ্ছে।

    মনে হচ্ছে শব্দের পরিমাণ আরও বেড়ে যাচ্ছে। এখন পুরো ঘর জুড়ে শুধু হিসহিস শব্দ।

    আমি দৌড়নোর শক্তি হারিয়ে ফেললাম।

    রুবাইয়েত পড়ে আছে মেঝেতে।

    সাপটা তার পায়ের কাছে গেল। ছোবল মারার মত ঊরুতে কামড় বসাল। টেনে এক খাবলা মাংস নিয়ে এল। চিবোতে লাগল। আমি বমি করে ফেললাম।

    সাপটা ঘুরে তাকাল আমার দিকে। কী বীভৎস দেখতে! জ্বলজ্বল করছে তার চোখ। ঠোঁট গোল করে মনে হলো শিস দিল!

    হিসহিস শব্দে ভরে উঠল ঘর। অবাক হয়ে দেখি জানালা দিয়ে ওরা ঢুকছে!

    আমি গোনার চেষ্টা করলাম। পারলাম না। কালো, মাংসল সাপ।

    যেন আমার দিকে খেয়াল নেই ওদের।

    এগোতে লাগল দল বেঁধে।

    তারপর এক যোগে ঝাঁপিয়ে পড়ল রুবাইয়েতের লাশের ওপর!

    মিজানুর রহমান কল্লোল

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleট্যাবু – তৌফির হাসান উর রাকিব
    Next Article হাতকাটা তান্ত্রিক – তৌফির হাসান উর রাকিব সম্পাদিত

    Related Articles

    তৌফির হাসান উর রাকিব

    নিশিডাকিনী – তৌফির হাসান উর রাকিব সম্পাদিত

    April 24, 2026
    তৌফির হাসান উর রাকিব

    হাতকাটা তান্ত্রিক – তৌফির হাসান উর রাকিব সম্পাদিত

    August 25, 2025
    তৌফির হাসান উর রাকিব

    ট্যাবু – তৌফির হাসান উর রাকিব

    August 25, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    अनीश दास
    मौलाना शाह वलीउल्लाह
    रेवरेंड के. के. जी. सरकार
    অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিজ্ঞান রায়চৌধুরী
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমরেন্দ্র চক্রবর্তী
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অরিন্দম দেবনাথ
    অর্পিতা সরকার
    অশোককুমার মিত্র
    অসম্পূর্ণ বই
    আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    কৌশিক সামন্ত
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোপেন্দ্র বসু
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যজ্যোতি মজুমদার
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণু শর্মা
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহতাব উদ্দিন
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    রেভারেণ্ড কে. কে. জি. সরকার
    লীলা মজুমদার
    লেইল লোনডেস
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শঙ্কর চ্যাটার্জী
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শাক্যজিৎ ভট্টাচাৰ্য্য
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্যামল গঙ্গোপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সন্দীপন চট্টোপাধ্যায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সম্পাদনা : শৈলেন্দ্র হালদার
    সরদার ফজলুল করিম
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সায়ন্তনী পূততুন্ড
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্মরণজিৎ চক্রবর্তী
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মাহতাব উদ্দিন : জীবন ও গান

    May 18, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মাহতাব উদ্দিন : জীবন ও গান

    May 18, 2026
    Our Picks

    মাহতাব উদ্দিন : জীবন ও গান

    May 18, 2026

    পরমপুরুষ শ্রীশ্রীরামকৃষ্ণ ২ – অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত

    May 18, 2026

    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের প্রেমের গল্প – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    May 16, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }