Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    অপেক্ষার বারোমাস – অর্পিতা সরকার

    May 1, 2026

    শ্মশানকোকিলের ডাক – সৌভিক চক্রবর্তী

    May 1, 2026

    এসো না অসময়ে – অর্পিতা সরকার

    May 1, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    অপার্থিব প্রেয়সী – আফজাল হোসেন

    লেখক এক পাতা গল্প118 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    মনসার অভিশাপ

    দুর্গাপূজার অষ্টমীর রাত। `রাত প্রায় সোয়া বারোটা। বৃহত্তর দুর্গাপুরের দেড়শো বছরের পুরানো ঐতিহ্যবাহী পূজা মণ্ডপের পূজা দেখতে আসা দূর- দূরান্তের গ্রাম-গঞ্জের লোকজন এক-এক করে বাড়িতে ফিরে যাচ্ছে।

    তিমিরকাঠী গ্রামের সদরুল। বয়স বাইশ থেকে পঁচিশের মধ্যে। মাঝারি উচ্চতা। অবিবাহিত। রোদে পোড়া বাউণ্ডুলে চেহারা। এমনিতে সে প্রতিটা সন্ধ্যা পার করে গ্রামের সমবয়সী বখাটে ছেলে-ছোকরাদের সাথে তাস পিটিয়ে আর গাঁজার কলকে টেনে। কিন্তু আজ বিকেলে সে গিয়েছিল দুর্গাপুরের পূজা দেখতে। তার বয়সী মুসলমান ঘরের ছেলে-ছোকরাদের পূজা দেখতে যাওয়ার পিছনে প্রধান উদ্দেশ্য থাকে সেজে-গুজে পূজা দেখতে আসা হিন্দু রূপবতী মেয়েদের দু-চোখ ভরে দেখা। আর ভাগ্য ভাল থাকলে ভিড়ের মধ্যে সামান্য স্পর্শ পাওয়া।

    সদরুল রিকশা ভ্যানে করে দুর্গাপুর থেকে কুমারখালী বাজারে এসে পৌঁছয়। দুদু মিয়ার চায়ের দোকানে বসে পর-পর দুই কাপ মালাই চা খেয়ে বাড়ির উদ্দেশে হাঁটতে শুরু করে। কুমারখালী বাজার থেকে ইঁট বিছানো যে রাস্তা তিমিরকাঠী গ্রামের মধ্যে গিয়েছে, সেই রাস্তা ধরে না গিয়ে সে যেতে শুরু করে জঙ্গলের পথ ধরে। জঙ্গলের পথ ধরে যাওয়ার পিছনে তার দুটো উদ্দেশ্য রয়েছে। প্রথমত, এই পথে খুব অল্প সময়ে বাড়ি যাওয়া যাবে। আর পকেটে থাকা পাঁচটা গাঁজা ভরা বিড়ি নিরিবিলিতে আয়েশ করে টানা যাবে।

    বিড়ি ধরিয়ে, ভারী ধোঁয়া ছাড়তে ছাড়তে নির্জন জঙ্গলের মধ্য দিয়ে দ্রুত পা ফেলে হাঁটতে থাকে সদরুল। চারদিকে লতা, গুল্ম, ঝোপঝাড়, কোথাও-কোথাও অবহেলা আর অযত্নে বড় হওয়া গাব গাছ, সুপারি গাছ, তালগাছ আর বাঁশঝাড়। রাতের বেলা সাধারণত লোকজন এই পথে যাওয়া- আসা করে না। কারণ এই জঙ্গলটায় অনেক বিষধর সাপের বাস। গত বছরও দক্ষিণ পাড়ার বেলায়েত চাচাকে এই পথ ধরে যাওয়ার সময় সাপে কাটে। নামি-দামী ওঝা এনেও শেষ রক্ষা হয় না। কাতরাতে কাতরাতে তিনি মারা যান।

    পথের মাঝে সন্দেহজনক কিছু রয়েছে মনে হলে সদরুল তার নকিয়া এগারোশো মডেল মোবাইল সেটটার ছোট্ট টাটা জ্বেলে দেখে নিচ্ছে। হঠাৎ একটা বাঁশঝাড়ের গোড়ায় ঝোপের মধ্যে তার চোখ আটকে যায়। কিছু একটা উজ্জ্বল দ্যুতি ছড়াচ্ছে সেখানে। ভীত পায়ে আলোর উৎসের কাছে কিছুটা এগিয়ে গিয়ে মোবাইলের ছোট্ট টর্চের আলো ফেলে দেখতে পায় মেয়েদের কানের দুলের মত একটা গয়না পড়ে আছে। সাপের ফণা তোলার মত একটা আংটার দু’পাশে দুটো গোল বল। আর সেই বলের চারপাশে ছোট-ছোট উজ্জ্বল পাথর বসানো। গয়নার মত সদরুলের চোখ দুটোও চকচক করে উঠল। মুহূর্ত সময়ও দেরি না করে গয়নাটা তুলে পকেটে রাখল।

    বিকেলে জঙ্গলের পথ ধরে পূজা দেখতে যাওয়া কোন হিন্দু বনেদি ঘরের মেয়ে মানুষের গয়না হয়তো খুলে পড়েছে। এখন বাড়ি গিয়ে গয়না হারানোর ব্যাপারে টের পেয়ে নিশ্চয়ই সে বাড়ির লোকজন খুঁজতে আসবে–এই ভেবে সদরুল কিছুটা পূর্ব দিকে এগিয়ে কৃষ্ণার খালের সাঁকো পার হয়ে ইঁট বিছানো রাস্তায় উঠে আসে।

    মনের ভিতর চাপা আনন্দ নিয়ে ঝড়ের গতিতে সদরুল ইঁট বিছানো রাস্তা দিয়ে বাড়ির দিকে এগোতে থাকে। মাঝিবাড়ির সামনে শিমুল গাছটার নীচে এসে সে থমকে দাঁড়ায়। কালো পোশাকে বরফ সাদা রঙের একটা মেয়ে দু’হাত উঁচিয়ে পথ আগলে দাঁড়িয়ে আছে। অবশ্য মেয়েটার গায়ে রঙের এই ভিন্নতা সদরুলের নজরে পড়ে না!

    চড়া গলায় সদরুল জিজ্ঞেস করে, ‘কেডা তুই! এই আন্ধারে ভূতের লাহান দাঁড়াইয়া রইছ?’

    মেয়েটা অপার্থিব গলায় বলে উঠল, ‘জঙ্গলের মধ্যে যেটা পেয়েছিস, সেটা আমাকে দিয়ে দে। ওটা আমার।’

    ‘কইলেই হইল ওনার! কোন প্রেমাণ আছে? মাইয়া মানুষ রাইত- বিরাইতে ত্যক্ত না কইরা বাড়িতে চইলা যা। নাইলে এমন কিছু কইরা দিমু… শেষে গলায় দড়ি দেওন ছাড়া উপায় পাবি না।’

    ভোজবাজির মত মেয়েটার পিছন থেকে আরও দুটো মেয়ে উদয় হলো। প্রথম মেয়েটার মতই একই পোশাক, একই গায়ের রং। তিনজনই আগুন জ্বলা চোখে সদরুলের দিকে এগোতে থাকে। সদরুল শার্টের বুক পকেটে রাখা গয়নাটা চেপে ধরে পিছন দিকে সরতে সরতে বিভিন্ন অশ্লীল গালি- গালাজ শুরু করে। উত্তেজনায় হয়তো সদরুল তখন লক্ষ করেনি-তিনটি মেয়ের চেহারাও একই!

    হঠাৎ মেয়ে তিনজন থমকে দাঁড়িয়ে সমস্বরে বলে উঠল, ‘আজ রাত পোহাবার আগে যা পেয়েছিস, যেখানে পেয়েছিস, সেখানে রেখে না আসলে তোর বংশ নির্বংশ হয়ে যাবে। আর কথা মত কাজ করলে অঢেল সম্পদ উপহার দেব।’

    কথা শেষ হওয়ার পর আচমকা তিন জনই হাওয়ায় মিলিয়ে গেল। পিছন থেকে ভেসে এল, ‘ওই, সদরুল্যা, এহানে বইয়া একলা একলা কারে গালিগালাজ করোস?’

    সদরুল ঘাড় ঘুরিয়ে পিছনে তাকিয়ে দেখে টর্চ হাতে সবুর বেপারী দাঁড়িয়ে আছেন। অত্যন্ত দুষ্ট চরিত্রের লোক। আসল ঘটনা চেপে যেতে হবে!

    ‘না… ওই বাদুড়রে গালি দিচ্ছি। শিমুল গাছটার নীচে আইলাম পর গায়ে হাইগ্যা দিছে।

    সদরুল সবুর বেপারীকে অনুসরণ করতে করতেই বাড়িতে পৌঁছে গেল। ঘরের দরজায় কয়েকবার কড়া নাড়বার পর ভাবির গলা শোনা গেল, ‘ওই… কেডা?’

    ‘ভাবি, মুই সদরুল।’

    সদরুলের বড় ভাবি সালমা। সদরুলকে দু’চোখে দেখতে পারে না। রোজ রাতে নেশা-ভাঙ করে ঘরে ফেরায় সে খুবই ক্ষিপ্ত। সদরুলের বড় ভাই গত বছর সিঙ্গাপুর গিয়েছে। স্বামী দেশে না থাকায় এমনিতেই তার মন সব সময় দুশ্চিন্তায় আচ্ছন্ন হয়ে থাকে। শুনেছে ওই সব দেশে গেলে পুরুষ মানুষের চরিত্র নাকি আর চরিত্র থাকে না!

    সালমা দরজার ছিটকিনি খুলে দেওয়ার পর সদরুল নিজেই কপাটে ধাক্কা দিয়ে ভিতরে ঢুকে, ভাবির দিকে তাকিয়ে ভয় পাওয়া গলায় বিকট শব্দে চিৎকার শুরু করে, সাপ… সাপ… কাল সাপ… কালনাগিনী…’ সদরুলের চোখ তার ভাবিকে দেখছে-রাজ গোখরোর মত বড়সড় কালো রঙের একটা সাপ ফণা তুলে রয়েছে।

    সদরুলের কাণ্ড দেখে প্রথমে সালমা খুবই হতভম্ব হয়ে যায়। কিছুক্ষণ পর যখন বুঝতে পারে তাকে দেখেই সদরুল সাপ-সাপ বলছে, তখন সদরুলের চেয়েও তীক্ষ্ণ গলায় পাশের কামরায় ঘুমানো শাশুড়িকে উদ্দেশ্য করে, ‘ও, আম্মা, দেইখা যান… সদরুল্যা গাঞ্জা টাইন্যা আইয়া কী শুরু করছে… মুই বোলে কালনাগিনী!!! ও, আম্মা, এহনো আহেন না ক্যান…সদরুল্যা মোরে মারবার লাইগ্যা লাডি হাতে লইছে…’

    সত্যিই সদরুল দরজার পাশে থাকা গাব গাছের একটা মোটা লাঠি হাতে নিয়ে সালমার দিকে এগিয়ে যাচ্ছিল। সদরুলের বিধবা মা, ষাট বছরের বৃদ্ধা ও ঘর থেকে রুদ্ধশ্বাসে কাঁপতে-কাঁপতে ছুটে এসে বলে, ‘ও বউ, কী হইছে… সদরুল্যা হারমজাদা কী করছে….?’

    সদরুল তার মাকে দেখে হাত থেকে লাঠি ফেলে দিয়ে আরও ভয়ঙ্কর ভাবে বলে ওঠে, ‘সাপ… সাপ… দুইডা সাপ…’ বলে চিৎকার করতে-করতে ঘরের বাইরে ছুটে গিয়ে, উঠানের মধ্যে ধপাস করে অজ্ঞান হয়ে পড়ে যায়।

    সদরুলের চোখ তার মাকেও দেখেছে-আর একটা সাপ ফণা তুলে রয়েছে। মা ও ভাবি দুটো বড়-বড় সাপকে এক সাথে ফণা তুলে তার দিকে এগোতে দেখে প্রচণ্ড ভয় পেয়ে, হাতের লাঠি ফেলে, ছুটে ঘরের বাইরে উঠানে গিয়ে দেখে, উঠান – ভরতি হাজার-হাজার সাপ কিলবিল করছে। সাপগুলো হিসহিস শব্দ তুলে হিংস্র ভাবে তার দিকে তেড়ে আসছে। প্রচণ্ড ভয়ে তখন সে জ্ঞান হারিয়ে পড়ে যায়।

    উঠানে পড়ে থাকা সদরুলকে ছুঁয়ে দেখা যায় তার গা জ্বরে পুড়ে যাচ্ছে। চেঁচামেচিতে আশ-পাশের বাড়ি-ঘর থেকেও দু-চারজন লোক ছুটে এসেছে। সবাই মিলে ধরাধরি করে সদরুলকে ঘরে নিয়ে গিয়ে, বিছানায় শুইয়ে, মাথায় পানি ঢালা এবং চোখে-মুখে পানি ছিটানোর এক পর্যায়ে তার জ্ঞান ফিরে আসে। জ্ঞান ফিরে পাবার পর চোখ খুলেই আবার সাপ-সাপ বলে চিৎকার শুরু করে। সদরুলের চোখ আশ-পাশের সব কিছুকেই সাপ রূপে দেখছে। বিছানার পাশে বসা-দাঁড়ানো মা, ভাবি, পাশের বাড়ির লোকজন এমন কী বিছানার কাঁথা-বালিশ সবই তার চোখে সাপের রূপ ধরেছে।

    সাপ-সাপ বলে চিৎকার করা পাগলপ্রায় সদরুলকে সবাই মিলে চেপে ধরে বুঝাতে থাকে, ‘তুই যা দেখছিস ভুল দেখছিস, কোনহানে কোন সাপ নাই… তোর কী হইছে খুইল্যা ক… কোতায় ভয় পাইছোস…?’

    সদরুলও এতক্ষণে কিছুটা বুঝতে পেরেছে, সে চোখে ধাঁধা দেখছে। তাই সে চোখ বন্ধ করে জঙ্গলে সেই গয়না পাওয়ার ঘটনা এবং পাওয়ার পর কী ঘটেছে সব খুলে বলল। বলা শেষ হলে, শার্টের বুক পকেট থেকে সেই গয়নাটা বের করল। ঘরে একটা মোম জ্বলছিল। মোমের মৃদু আলোতে নিমেষেই গয়নার উজ্জ্বল দ্যুতি ছড়িয়ে পড়ল গোটা ঘরে। উপস্থিত সবাই চোখ ছানাবড়া করে অবাক গলায় বলে উঠল, ‘এইডা কী জিনিস!!!’

    বাতাসের গতিতে সমস্ত গ্রামে ছড়িয়ে পড়ল এই ঘটনা। গভীর রাতেও অনেক লোকজনে ভরে গেল সদরুলদের ঘর, বসার ঘর, উঠান। প্রত্যেকেই সেই আকর্ষণীয় গয়নাটা একবার দেখতে চায়। হিন্দু বাড়ি থেকে আসা এক বৃদ্ধা গয়নাটা দেখে আঁতকে উঠে বলল, ‘ওরে অনর্থ হইছেরে… এ তো সর্পমাতা মনসা দেবীর অলংকার!!!… আইজ রাইতের মধ্যে দেবীর কথা মত এই অলংকার ফেরত দিয়া না আইলে, সদরুল তো মরবোই লগে গ্রামবাসীগো কী হইব তা ভগবানই জানেন!’

    গ্রামের মুরব্বীরা মিলে সিদ্ধান্ত নিলেন-আজ রাত পোহাবার আগেই সদরুল যেখান থেকে গয়নাটা পেয়েছে সেখানেই রেখে আসা হবে। কিন্তু কে যাবে! যে কোন একজনকে যেতে হবে। বেশি লোক গেলে মনসা দেবী আবার ক্ষিপ্ত হতে পারে! আলোচনার এমন পর্যায়ে শায়েস্তাবাদ থেকে খবর পেয়ে সদরুলের ভগ্নিপতি ইদরিস চলে আসে। অত্যন্ত ধূর্ত চরিত্রের লোক। গয়নাটা দেখার পর তার চোখ লালসায় চকচক করে ওঠে। মনে-মনে ফন্দি আঁটতে শুরু করে, যে করেই হোক গয়নাটা হাতিয়ে নিতে হবে।

    শেষ রাতের দিকে ইদরিসকেই দায়িত্ব দেওয়া হয় গয়না যথাস্থানে রেখে আসার। যেন মেঘ না চাইতে বৃষ্টি! ইদরিস সুযোগের সদ্ব্যবহার করে। গয়না নিয়ে কুমারখালী বাজার থেকে ট্রলার যোগে সোজা সদরে চলে যায়। সদরের বড় একটা সোনার দোকানে গয়নাটা দেখালে দোকান মালিক বিস্মিত চোখে তৎক্ষণাৎ ইদরিসকে গয়নার বিনিময়ে পাঁচ লাখ টাকা দিতে রাজি হয়। কিন্তু দুষ্টবুদ্ধিসম্পন্ন ইদরিস ভাবে, ঢাকা গেলে এই জিনিসের আরও অনেক বেশি দাম পাওয়া যাবে।

    এদিকে সদরুলদের বাড়িতে যেন অভিশপ্ত ঝড় নেমে এসেছে। সকাল থেকে সদরুলের অবস্থা আরও ভয়াবহ। সাপ-সাপ বলে চিৎকার করতে- করতে একেবারে উন্মাদ হয়ে গিয়েছে। তাকে দড়ি দিয়ে বেঁধে, গ্রামের অনিল ডাক্তারকে ডেকে আনা হয়েছিল। ডাক্তার ঘুমের ইনজেকশন দিয়ে বলে গিয়েছে যত দ্রুত সম্ভব উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রে নিয়ে যেতে।

    সদরুলদের গোয়াল ঘরে দুটো দুধের গাভী ছিল। গাভী দুটোর দুটো বাছুরও ছিল। ভোরবেলা দেখা গেল চারটি জন্তুই মরে পড়ে রয়েছে। প্রত্যেকটি জন্তুর পায়ে সাপের ছোবলের দাগ। চোদ্দটা মুরগি ছিল। ভোরে খোপ খোলার পর দেখা গেল একটা মুরগিও বের হচ্ছে না। সব কটা মুরগি খোপের ভিতরে মরে পড়ে রয়েছে। এমনকী ঘরের পোষা বিড়ালটাও খাটের নীচে মরে পড়ে রয়েছে!

    সদরুলের মা শুকনো উঠানে, আছাড় খেয়ে পড়ে গিয়ে ডান পায়ের হাঁটুতে প্রচণ্ড আঘাত পায়। আঘাত পাওয়া হাঁটুটা নীল হয়ে যায়। আশ্চর্য ব্যাপার হাঁটুর সেই নীলচে ভাব অতি দ্রুত সমস্ত শরীরে ছড়িয়ে পড়ে! তার মুখ দিয়ে ফেনা বেরুতে থাকে এবং নাক দিয়ে গলগল করে রক্ত। উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রে নিয়ে যাবার আগেই অঘটন ঘটে যায়।

    মা-ভাইয়ের দুর্ভোগের কথা শুনে সদরুলের বোন আকলিমা, (ইদরিসের বউ) শায়েস্তাবাদ থেকে টেম্পোতে চড়ে তিমিরকাঠী আসার পথে টেম্পো নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদের মধ্যে উল্টে পড়ে। ঘটনাস্থলেই ঘাড় ভেঙে আকলিমা মারা যায়।

    সদরুলের ভাবি সালমা, শাশুড়ির দাফন-কাফন হওয়ার আগেই ব্যাগ গুছিয়ে বাপের বাড়ি চড়ে যায়। বাড়িতে পড়ে থাকে অসুস্থ বিকৃত মস্তিষ্কের সদরুল একা।

    ৬-৭ দিন কেটে গেল। সদরুল এখন কিছুটা শান্ত। নির্জন প্রেতপুরীর মত বাড়িটা থেকে বিকটভাবে ‘সাপ-সাপ’ চিৎকারের শব্দ এখন আর তেমন পাওয়া যায় না। সদরুলদের পাশের বাড়ির লোকজন দুই বেলা গিয়ে সদরুলের খোঁজ-খবর নিয়ে আসে। খাবার-দাবার খাওয়াবার চেষ্টা করে। কিন্তু সম্ভব হয় না, প্রতিটা খাবারের দিকে তাকিয়েই সদরুল হিসহিসে গলায় বলে ওঠে, সাপের বাচ্চা কিলবিল করছে। এখন আর তাকে বেঁধে রাখতে হয় না। লাল এক জোড়া পলকহীন চোখ নিয়ে সারাদিন বিছানায় মড়ার মত পড়ে থাকে। আর দিনে-দিনে তার শরীরটাও শুকিয়ে লিকলিকে হয়ে যাচ্ছে। কেমন যেন সাপের মত! আজকাল তার গা থেকেও তীব্র আঁশটে গন্ধ পাওয়া যায়। ঠিক যেন সাপের গায়ের গন্ধ!

    এমনি এক ভোরবেলা পাশের বাড়ির লোকজন সদরুলের খোঁজ নিতে গিয়ে দেখে সদরুলের লতার মত দেহটা চিরনিদ্রায় শুয়ে আছে। মুখটা হাঁ হয়ে জিভ বেরিয়ে রয়েছে। জিভটা স্বাভাবিকের চেয়ে লম্বা এবং কালচে রঙের। তার চেয়েও আশ্চর্য ব্যাপার জিভটা মাঝখান থেকে চেরা। লাল চোখ জোড়া আগের মতই পলকহীন, স্থির। কিছুক্ষণ তাকিয়ে থাকলে কেমন দৃষ্টিভ্রম হয়। মনে হয় একটা মৃত সাপ পড়ে রয়েছে!

    অনেক দিন হলো সদরুলদের বাড়িটা পোড়োবাড়ির মত পরিত্যক্ত অবস্থায় রয়েছে। বর্তমানে বাড়িটা গ্রামবাসীদের ভয়ের কেন্দ্র বিন্দুতে পরিণত হয়েছে। রাতের বেলা তো দূরে থাক দিনের বেলাও কেউ ও বাড়ির ভিতরে ঢোকে না। সমস্ত বাড়ির এখানে-সেখানে বিষাক্ত সব সাপের আনাগোনা। এমনকী বাড়িটার পাশ দিয়ে যাওয়ার সময়ও প্রকট ভাবে সাপের গায়ের আঁশটে গন্ধ পাওয়া যায়! কেউ কেউ তো বলে, গভীর রাতে, কালো-মোটা অজগরের মত বড় একটা সাপ, অঙ্গারের মত লাল দুটো চোখ নিয়ে সারা বাড়ি ঘুরে বেড়ায়! আর একটু পর পর তার কালো জিভটা লক- লক করে ওঠে!

    ও বাড়িতে এ সব সাপের আবাসস্থলের খবর পেয়ে, দূর-দূরান্তের গ্রাম থেকে বড়-বড় সাপুড়েরা এসেছিল সাপ ধরতে। কিন্তু তারা ব্যর্থ হয়ে ফিরে গিয়েছে। যাওয়ার সময় বলে গিয়েছে, বস্তুত ওগুলো কোন সাপ নয়! ওগুলো অলৌকিক জগতের কায়াহীন জীব। মানুষকে মায়াজালে বন্দি করে চোখে সাপ রূপে দেখা দেয়।

    সদরুলের ভগ্নীপতি ধূর্ত ইদরিস এখন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বেডে শুয়ে সাপের মত পলকহীন চোখ নিয়ে মৃত্যুর প্রহর গুনছে। সর্বনেশে সেই মহামূল্যবান গয়না নিয়ে বিক্রির উদ্দেশ্যে সে ঢাকা গিয়েছিল। পুরানা পল্টন থেকে রাস্তা ক্রস করে বায়তুল মোকাররমের সোনার দোকানগুলোর দিকে যাওয়ার সময় যাত্রী বোঝাই একটা মাইক্রোবাস তাকে ধাক্কা মেরে চলে যায়।

    অ্যাক্সিডেন্টের পর অজ্ঞান হওয়ার ঠিক আগ মুহূর্তে সে দেখতে পায়, বোরখার মত কালো পোশাক পরা একটা মেয়েমানুষ, যার গায়ের রং বরফের মত সাদা, মূল্যবান সেই গয়নাটা নিয়ে চলে যাচ্ছে। যাওয়ার আগে অপার্থিব, অদ্ভুত সেই মেয়েমানুষটা শরীর হিম করা ক্রুদ্ধ একটা হাসি দেয়।

    [এই কাহিনি আমি শুনেছি হানিফ মোল্লা নামে তিমিরকাঠী গ্রামের এক অশিক্ষিত যুবকের কাছ থেকে। যে যুবক, পঞ্জিকাকে বলে পুঞ্জিকা, হাসপাতালকে বলে হোসপাতাল, আর বিখ্যাত লেখক সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়কে বলে সোনাল গন্ধোপাদা। অতিশয় সহজ-সরল টাইপের লোক। তার কাছ থেকে এই কাহিনি শোনার পর আমার তেমন বিশ্বাস হয়নি, এখনও যে পুরোপুরি বিশ্বাস করেছি তা জোর দিয়ে বলব না। ঘটনার সত্যতা যাচাই করার জন্য, তিমিরকাঠী গ্রামের বদমেজাজি, রুক্ষ স্বভাবের জহিরুল নামের সামান্য পরিচিত আরেক যুবককে ফোন করলাম। সে জানাল, ‘ঘটনা এক্কেবারেই হাছা।’ পুরো কাহিনি সেল ফোনে আবার আমাকে শুনতে হলো। কাহিনি শেষ করে জহিরুল বলল, ‘আফজাল ভাই, এই ঘটনা যদি কেউ মিছা কয় তাইলে হের মুহে মুই ‘ইয়ে’ করি।’- লেখক।]

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleরাইফেল, রোটি, আওরাত – আনোয়ার পাশা
    Next Article গুহামানবী – আফজাল হোসেন

    Related Articles

    আশাপূর্ণা দেবী

    সমুদ্র কন্যা – আশাপূর্ণা দেবী

    April 24, 2026
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    আমাদের মহাভারত – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    March 20, 2026
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়

    বিপিনের সংসার – বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়

    January 8, 2026
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    ভয় সমগ্র – হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    December 9, 2025
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    কিশোর অ্যাডভেঞ্চার সমগ্র – হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    December 9, 2025
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    প্রকাশ্য দিবালোকে – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    November 18, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    अनीश दास
    मौलाना शाह वलीउल्लाह
    रेवरेंड के. के. जी. सरकार
    অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিজ্ঞান রায়চৌধুরী
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমরেন্দ্র চক্রবর্তী
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অরিন্দম দেবনাথ
    অর্পিতা সরকার
    অশোককুমার মিত্র
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    কৌশিক সামন্ত
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যজ্যোতি মজুমদার
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেইল লোনডেস
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শঙ্কর চ্যাটার্জী
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শাক্যজিৎ ভট্টাচাৰ্য্য
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সম্পাদনা : শৈলেন্দ্র হালদার
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্মরণজিৎ চক্রবর্তী
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    অপেক্ষার বারোমাস – অর্পিতা সরকার

    May 1, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    অপেক্ষার বারোমাস – অর্পিতা সরকার

    May 1, 2026
    Our Picks

    অপেক্ষার বারোমাস – অর্পিতা সরকার

    May 1, 2026

    শ্মশানকোকিলের ডাক – সৌভিক চক্রবর্তী

    May 1, 2026

    এসো না অসময়ে – অর্পিতা সরকার

    May 1, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }