Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    অপেক্ষার বারোমাস – অর্পিতা সরকার

    May 1, 2026

    শ্মশানকোকিলের ডাক – সৌভিক চক্রবর্তী

    May 1, 2026

    এসো না অসময়ে – অর্পিতা সরকার

    May 1, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    আগাথা ক্রিস্টি রচনা সমগ্র ৩ (অনুবাদ : পৃথ্বীরাজ সেন)

    লেখক এক পাতা গল্প2514 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ২. আততায়ী

    আততায়ী

    সার্জেন্ট গ্রীন হাস্ট্রীট সাইপ্রিয়ান থানায় রাতের ডিউটিতে বসে হাই তুলছিল। টেলিফোন বেজে উঠতেই রিসিভার তুলে নিলো…নিমেষে তার ভঙ্গী পাল্টে গেল। তাড়াতাড়ি কাগজ টেনে লিখতে শুরু করল।

    হ্যাঁ, মোডোব্যাঙ্ক, আচ্ছা কি নাম, এস.পি. আর এন-জি, জি? গ্রীনে জি? আচ্ছা ই-আর, প্রিন্সার।

    মেডোব্যাঙ্কে খোলা দরজা দিয়ে আলোর রশ্মি এসে ঠিকরে পড়ছে। মিস বুলস্ট্রোড নিজে এসে গোয়েন্দা ইনসপেক্টর কেলসিকে অভ্যর্থনা করলেন। মহিলাটি ইনসপেক্টরের মুখচেনা। অবশ্য এ তল্লাটে এমন কেউ নেই যে তাঁকে চেনে না। এত গুণ্ডগোলের মধ্যেও মহিলাটি আচরণের সমতা হারাননি। সম্পূর্ণ পরিবেশ যেন তার আয়ত্তেই রয়েছে।

    আমি ডিটেকটিভ ইনসপেক্টর কেলসি।

    প্রথমে আপনি কি করতে চান ইনসপেক্টর? ক্রীড়ামঞ্চে যাবেন, না ঘটনার বিবরণ শুনবেন।

    নিশ্চয়ই। আমি সঙ্গে ডাক্তার নিয়ে এসেছি তাকে আর আমার দুজন লোককে যদি দেখিয়ে দেন মৃতদেহ কোথায় আছে তাহলে আপনার সঙ্গে কটা কথা সেরে নিই।

    মিস বুলস্ট্রোডের পেছনে পেছনে কেলসি বসবার ঘরে ঢুকলো।-মৃতদেহ প্রথমে কে দেখেছিল?

    মিস জনসন, আমাদের মেট্রন। একটা মেয়ের কানে ব্যথা হয়েছিল, মিস জনসন তার ঘরে গিয়ে দেখাশোনা করছিলো। এমন সময় পর্দাটি ঠিকমতো খোলা নেই দেখে ঠিক করতে গিয়ে দেখে ক্রীড়ামঞ্চে আলো জ্বলছে। তখন রাত প্রায় একটা-ওখানে তো আলো জ্বলবার কথা নয়।

    হু! মিস জনসন কোথায়?

    এখানেই আছে ডেকে দেব কি?

    এখন থাক… তারপর কি হল বলুন?

    মিস জনসন তখন আমার আর এক সহকর্মী মিস চ্যাডউইককে ডেকে তুললো। দুজনে মিলে ওপাশের দরজা দিয়ে যখন নেমে যাচ্ছিল তখন বন্দুকের শব্দ শুনতে পায়। শুনেই একদৌড়ে তারা ক্রীড়ামঞ্চে হাজির হল, সেখানে…।

    কিন্তু তার আগে নিহত মহিলাটি সম্বন্ধে কিছু বলুন

    ওর নাম মিস গ্রেস স্প্রিঙ্গার।

    আপনার এখানে কতদিন ছিলেন।

    এই পরেই এসেছিলেন।…আগের ক্রীড়া শিক্ষয়িত্রীটি কাজ ছেড়ে চলে গেলেন অস্ট্রেলিয়া।

    মিস স্প্রিঙ্গার সম্বন্ধে আপনি কি জানেন?

    তার পরিচয় পত্রগুলো বেশ ভালোই ছিল।

    ব্যক্তিগত পরিচয় ছিলো না আগে।

    না।

    এমন ঘটনা কেন ঘটতে পারে বলতে পারেন। কোনো মতামত? উনি কি অসুখী ছিলেন? কোনো প্রেমঘটিত?

    সেরকম আমি কিছু শুনিনি। আমার তা মনে হয় না, ওর ধারণাটাই ছিলো অন্যরকম। দুনিয়ায় যে কত আশ্চর্য ঘটনা ঘটে।

    মিস জনসনকে কি ডেকে দেবো?

    আচ্ছা মিস বুলস্ত্রোড় তাহলে আমি মিস জনসনের সঙ্গে কথা বলি কেমন?

    মিস বুলস্ট্রোড গিয়ে মিস জনসনকে নিয়ে এলেন।

    মৃতদেহ আবিষ্কার করবার পর মিস জনসন ভয় কাটানোর জন্য বেশ খানিকটা ব্র্যাণ্ডি খেয়ে নিয়েছিল। ফলে কথাটথা তার বেড়ে গেছে।

    এলসপেথ, ইনি গোয়েন্দা ইনসপেক্টর কেলসি। তুমি মাথা ঠিক রেখে একে সব কথা বলো, যা যা ঘটেছিলো।

    মিস জনসন বলে, উঃ সাংঘাতিক ভয়ঙ্কর, জন্মে কভূ দেখিনি। বিশ্বাস করতেই পারছি না, সত্যি বলছি। বিশ্বাসই হয় না, শেষ মিস স্প্রিঙ্গার

    বুদ্ধিমান গোয়েন্দা কেলসি সুরের রেশ বুঝে জেরা করবার রীতি পাল্টে ফেললো। মিস ম্প্রিঙ্গারকে খুন করা হয়েছে দেখে কি আপনি অবাক হয়েছেন?

    হু…তা তো হয়েছিই। উনি কেমন শক্তসমর্থ মানুষ ছিলেন, কেমন মেজাজী …দুটো চোর একসঙ্গে এলেও তার সঙ্গে এঁটে উঠতে পারতো না।

    চোর?…ক্রীড়ামঞ্চে চুরি করবার মতো কিছু ছিল।

    না…মানে…সাঁতারের পোশাক ও খেলার সরঞ্জাম আছে।

    অর্থাৎ ছিঁচকে চোর।…কিন্তু তার জন্য কি কেউ দরজা ভাঙবার মতো কষ্ট স্বীকার করবে? আচ্ছা দরজার তালা কি ভেঙ্গেছিলো।

    আঁ! লক্ষ্য করিনি তো, যখন আমরা ওখানে পৌঁছলাম দরজা খোলাই ছিল। কাজেই মিস বুলস্ট্রোড বলেন, না ভাঙেনি।

    ও চাবির ব্যবহার করেছে। মিস স্পিঙ্গারের সঙ্গে কি সকলের সদ্ভাব ছিল?

    তা–ঠিক জানি না, এখন তো তিনি মারা গেছেন। মিস জনসনের দিকে তাকিয়ে ইনসপেক্টর বলে, অর্থাৎ, তাকে আপনি পছন্দ করতেন না। তাই তো?

    আমার মনে হয় কেউই তাকে পছন্দ করতো না। ভয়ানক মূর্খরা ছিলেন তিনি, তবে নিজের কাজে ভীষণ পারদর্শী ছিলেন, কী বলেন–মিস বুলস্ট্রোড?

    নিশ্চয়ই

    কেলসি এবার বললো, তাহলে কী কী হয়েছিলো। ঠিক করে বলুন তো মিস জনসন?

    আমাদের একজন ছাত্রী জীনের কানের ব্যথা হয়েছিল। আমি একটু ওষুধ লাগিয়ে আবার তার বিছানায় শুইয়ে দিলাম। তক্ষুনি দেখি জানালার পর্দা আধখোলা, ভাবলাম হাওয়া লাগানো মেয়েটার পক্ষে ঠিক নয়, তাই পর্দাটি বন্ধ করে দিই। আমাদের মেয়েরা অবশ্য সবাই জানালা খুলেই শোয়। বিদেশী ছাত্রীরা যা একটু গোলমাল করে। আমি জানালা লাগাতে গিয়ে দেখলাম কী আশ্চর্য, তখন দেখি ক্রীড়ামঞ্চে আলো। স্পষ্ট দেখা গেল। আলোটা যেন ঘুরে বেড়াচ্ছে।

    মানে আপনি বলছেন যে ওটা বিজলীর আলো ছিল না টর্চের আলো।

    হা নিশ্চয়ই তাই। ভাবলাম এতরাতে ওখানে

    আপনি কী ভেবেছিলেন?

    মিস জনসন একবার মিস বুলস্ট্রোডের দিকে দেখে নিয়ে আমি ঠিক বুঝিনি, মানে…আমি… আমি তখন হয়তো জিনিসটা সম্বন্ধে ভাবিইনি

    মিস বুলস্ট্রোড বললেন মিস জনসন বোধহয় ভেবেছিলেন যে কোনো ছাত্রী হয়তো ওখানে রাতের অভিসারে গেছে। তাই না…এলসপেথ?

    মানে…হা ওরকম একটা ধারণা তখন হয়েছিলো। ভেবেছিলাম হয়তো আমাদের কোনো ইতালীয় ছাত্রী। বিদেশী মেয়েরা ইংরেজ মেয়েদের তুলনায় অনেক অকালপক্ক।

    মিস বুলস্ট্রোড বলেন, অত বিদেশীপনা করো না, বহু ইংরেজ ছাত্রী গোপনে গোপনে কত অযোগ্য পাত্রে মিলিত হয়। এসময় ওরকম ধারণা হওয়া স্বাভাবিক।

    তারপর?

    আমি ভাবলাম মিস চ্যাডউইকে ডেকে সঙ্গে নিয়ে দেখে আসি..কী ব্যাপার?

    কেলসি বললো, বিশেষ করে মিস চ্যাডউইককে কেন?

    মিস বুলস্ট্রোডকে অত রাতে বিরক্ত করতে চাইনি। কাজেই মিস চ্যাডউইকের কথাই মনে পড়লো। যখনই আমরা মিস বুলস্ট্রোডকে বিরক্ত করতে চাই না। তখনই আমরা মিস চ্যাডউইককে স্মরণ করি। উনি তো কতকাল এখানে আছেন, কত তার অভিজ্ঞতা। তিনি শুনেই বলেন এখুনি সেখানে আমাদের যাওয়া উচিত। কোনোমতো একটা সোয়েটার বা কোট চাপিয়ে পাশের দরজা দিয়ে বেরুলাম। রাস্তায় যেই নেমেছি কানে এল গুলির আওয়াজ। ক্রীড়ামঞ্চের দিকে শব্দটা হতেই আমরা ওদিকে ছুটলাম, হা সঙ্গে একটা টর্চও নিইনি। অন্ধকারে দু-চারবার হোঁচট খেলাম..দরজা খোলাই ছিল, আলোর বোম টিপতেই

    দাঁড়া দাঁড়া সেখানে আলো ছিল না? টর্চের বা অন্য কোনো আলো?

    না জায়গাটা ঘুটঘুঁটে অন্ধকার ছিল। বোতাম টিপতেই চোখে পড়লো উনি ওখানে,

    উনি–ইনসপেক্টর নরম গলায় বলে, আর কোনো বিবরণ দেবার দরকার নেই। আমি এখুনি ওখানে যাচ্ছি। নিজের চোখেই দেখবো…যেতে যেতে কাউকে দেখেছিলেন? কারো দৌড়ে পালাবার শব্দ পেয়েছিলেন?

    না কোনো শব্দ শুনিনি।

    স্কুল দালান থেকে আর কেউ গুলির আওয়াজ পেয়েছিল? মিস বুলস্ট্রোড মাথা নাড়লেন, না। জানি না, গুলির শব্দ শুনেছি বলে কেউ আমাকে বলেনি। ক্রীড়ামঞ্চ এখান থেকে বেশ খানিকটা দূরে তাই হয়তো আওয়াজটা কেউ লক্ষ্য করেনি।

    .

    পাখির ঝাঁকে বেড়াল

    জেনিয়া সাটক্লিফ তার মাকে লিখলো—

    মামনি,
    আমাদের এখানে কাল রাতে একটা খুন হয়েছে। আমাদের শরীরচর্চার দিদিমনি মিস প্রিঙ্গারকে হত্যা করা হয়েছে। মাঝরাতে ঘটনাটা ঘটেছিল, পুলিশ এসেছিল। আজ সকাল থেকে সবাইকে জেরা করছে।
    মিস চ্যাডউইক কাউকে এসব কথা জানাতে মানা করে দিয়েছেন কিন্তু ভাবলাম তুমি হয়তো জানতে চাইবে।
    স্নেহের–
    জেনিয়া।

    সমাজের উপরতলায় মেডোব্যাঙ্ক প্রতিষ্ঠানটির স্থান। কাজেই পুলিশের খোদকর্তা ব্যাপারটায় মনোযোগ দিলেন। মিস বুলস্ট্রোডও চুপচাপ বসে থাকেননি। যখন তদন্ত চলছিল তখনই তিনি দুটো টেলিফোন করেছিলেন। একজন একটি প্রভূত ক্ষমতাবান সংবাদপত্রের অধিকারীকে ও দ্বিতীয়টি স্বরাষ্ট্র বিভাগের সচিবকে। তারা দুজনেই মিস বুলস্ট্রোডের বন্ধু। কাজেই হত্যাকাণ্ডের সংবাদটা বিশেষ প্রচারিত হল না। ক্রীড়া শিক্ষয়িত্রীকে স্কুলের ব্যায়ামাগারে নিহত অবস্থায় পাওয়া গেছে। মৃতদেহে গুলির চিহ্ন আছে কিনা এ বিষয়ে সঠিক বলা যাচ্ছে না। যে ব্যাপারটি নিছক দুর্ঘটনা ছাড়া কিছু নয়।…প্রতিটি কাগজে খবরটা প্রকাশিত হল বেশ বিনীত ভঙ্গিতে।

    সেদিন সন্ধ্যায় পুলিশের বড়কর্তা মিঃ স্টোন ও ইনসপেক্টর কেলসির সঙ্গে তিনি এক গোপন বৈঠকে বসেছিলেন। কাগজওয়ালারা যদি ব্যাপারটা নিয়ে বেশি উচ্চবাচ্চ না করে তাতে তো পুলিশেরই সুবিধা..চুপচাপ তদন্ত চালিয়ে যাওয়া যাবে।

    পুলিশের প্রধান বলেন, সত্যিই আমি ভয়ানক দুঃখিত মিস বুলস্ট্রোড, বুঝি তো এই ঘটনা আপনার জন্য কতরকম সমস্যা নিয়ে আসতে পারে। মিস বুলস্ট্রোড বললেন, কোনো স্কুলে যদি খুন হয় সমস্যা আসবেই। তা নিয়ে ভেবে কি লাভ, আগেও আমরা বহু সমস্যা কাটিয়ে উঠেছি, এটাও কাটিয়ে উঠবো।…আমি আশা করছি যে আপনারা শীঘ্রই এর একটা কিনারা করবেন।

    পুলিশ সাহেব বললেন, স্কুলবাড়ি খানাতল্লাশি করতে কি আপনার আপত্তি আছে?

    মিস বলুস্ট্রোড বললেন, কিছুমাত্র নয়, আপনারা বোধহয় অস্ত্রটা খুঁজছেন?

    হা বিদেশী পিস্তল। আপনি কি জানেন আপনার কোনো কর্মী বা ছাত্রীর কাছে কি পিস্তল আছে?

    না, অন্তত আমার জানা নেই, ছাত্রীদের কাছে যে নেই-ই সে বিষয়ে আমি নিঃসন্দেহ। কারণ তারা এলে তাদের জিনিসপত্র খুলে গুছিয়ে রাখা হয়। পিস্তল থাকলে তো কেউ না কেউ দেখতোই। তবে ইনসপেক্টর আপনি যা ভালো বোঝেন করুন। আপনার লোকজন তো মাঠে ময়দানে তল্লাশি শুরু করেই দিয়েছে।

    হ্যাঁ, এখানকার প্রত্যেক কর্মীদের আমি জেরা করতে চাই, হয়তো এমন কেউ আছেন যিনি মিস স্প্রিঙ্গারের এমন কোনো উক্তি শুনেছেন যা আমাদের অনুসন্ধানে সাহায্য করতে পারে।

    আমি ভাবছি আজ সন্ধ্যায় উপাসনার পর মেয়েদের সামনে ছোট্ট একটা ভাষণ রাখবে। তাদের কেউ যদি মিস স্প্রিঙ্গারের এমন কোনো কথা জানে যেন আমার কাছ এসে সেকথা বলে।

    পুলিশের কর্তাটি বললেন, বাঃ সুন্দর পরিকল্পনা।

    মিস বুলস্ট্রোড বললেন, কিন্তু মনে রাখবেন কোনো মেয়ে অতিরঞ্জিত করবেই। হয়তো কল্পিত ঘটনাই ফেঁদে বসবে যাতে নিজের গুরুত্ব বেড়ে যায়। জানেন তো মেয়েরা বড়ো অদ্ভুত চরিত্র। আপনারা নিশ্চয়ই এধরনের অনেক প্রচেষ্টাই দেখেছেন।

    খেলার ঘরে দেরাজগুলো খুঁজে দেখেছি স্যার।

    কিছু পেলে?

    আজ্ঞে না, তেমন কিছু না। কিছু মজার জিনিস দেখেছি বটে। কিন্তু আমাদের প্রয়োজন নয়। কোনোটা তালা বন্ধ ছিল?

    না। ওগুলোর মধ্যে চাবি ছিলো। কিন্তু তালা বন্ধ ছিল না। ভেতরের কাজ বলে মনে হচ্ছে নাকি স্যার। ওই দুজন মাস্টারনী আর জীন মেয়েটি, যার কানে ব্যথা ছিলো, এরা ছাড়া সবাই তো বিছানায় শুয়ে নাকি ঘুমাচ্ছিল। কিন্তু প্রমাণ কই। সাক্ষী কই? এমনকি মিস বুলস্ট্রোড নিজেও বাইরে আসতে পারেন। এইখানে মিস স্প্রিন্সারের সঙ্গে দেখা করে থাকতে পারেন অথবা এখানে আসতে পারেন। তারপর গুলি করা হয়ে গেলে হত্যাকারী অতি সহজেই ঝোঁপঝাড়ের মধ্যে দিয়ে চুপিসারে পাশের দরজা দিয়ে বাড়ির মধ্যে ঢুকে হল্লা ওঠবার আগেই নিশ্চিন্তে বিছানায় শুয়ে পড়তে পারে। তবে উদ্দেশ্য কী?

    কেলসি ক্রীড়ামঞ্চ থেকে স্কুলবাড়ির দিকে হাঁটে। ব্রিগস তখনো একটা ফুলের জমি তৈরি করেছিলো, সে ইনসপেক্টরকে দেখেই সোজা হয়ে দাঁড়ায়। ব্রিগস বলে, হা, আজকালকার ছেলেছোকরারা কি জানে, বাগান করা চাড্ডিখানি কথা। তাদের কাছে বাগান করাও যেন আটটা পাঁচটার কাজ। কোনোদিন হয়তো কাজ দেখতেই পারবো না। আবার হয়তো ভোর সাতটা থেকে রাত আটটা পর্যন্ত কাজ করে যেতে হবে। মোদ্দা কথা হল বাগানে যদি পরাণ ঢেলে না দেন, এর ব্যবহার দেখে খুশী না হন তো কিছু হবে না।

    কেলসি বলে, এই বাগানটা নিয়ে তুমি অহঙ্কার করতে পার হে! এত ভালো বাগান আর দেখাই যায় না।

    ব্রিগস বলে, তা ঠিক। আমার কপাল ভালো একটা শক্তসমর্থ জোয়ান আমার হাতে হাতে কাজ করে দেয়। তার নাম অ্যাডাম গুডম্যান।

    ইনসপেক্টর বললো, কই তাকে দেখলাম না আমি।

    আজ ছুটি চেয়ে নিয়েছে কাজকর্ম ঢিলে তাই।

    কিন্তু ওর কথা আমাকে জানানো উচিত ছিল। এখানে যারা কাজ করে সেই তালিকাতে ওর নাম নেই।

    ওঃ তাতে কী, কাল তো আবার দেখা পাবেন। যদিও মনে হয় না আপনাকে ও কিছু বলতে পারবে। এই পর্বের শুরুতে একজন শক্তসমর্থ যুবক নিজে এসে যেচে কাজটা নিয়েছে, কেলসির মনে সন্দেহ জাগে।

    যথারীতি সেই সন্ধ্যাতে মেয়েরা উপাসনার জন্য হলঘরে এল। উপাসনা শেষ হয়ে গেলে মিস বুলস্ট্রোড হাত তুলে তাদের থামতে বললেন।

    তোমাদের কটি কথা বলতে চাই। জানই তো কাল রাতে মিস প্রিন্সারকে গুলি করে ক্রীড়ামঞ্চে হত্যা করা হয়েছে। তোমাদের মধ্যে কেউ গত সপ্তাহে মিস প্রিঙ্গার সম্বন্ধে এমন কিছু শুনে থাক বা দেখে থাক বা তোমাদের অস্বাভাবিক ঠেকেছে, তাহলে আমি চাই যে, সেকথা তোমরা আমাকে এখন জানাও। আজ সন্ধ্যায় যে কোনো সময়ে আমার বসার ঘরে এসে কথাগুলো বলে যেতে পার।

    আইলিন রীচকে ইনসপেক্টর বললেন আপনি মেডোব্যাঙ্কে কদিন আছেন?

    বছর দেড়েক হল।

    আগে কখনও গণ্ডগোল হয়নি।?

    আইলিন রীচ চমকে ওঠে। কোথায়, মেডোব্যাঙ্কে! না না, এই পর্বের আগে পর্যন্ত সব ঠিক ছিলো।

    কেন? এই পর্বে কী হয়েছে, খুন হওয়ার কথাটা নিশ্চয়ই বলছেন না। আপনি অন্য কিছু বলতে চাইছেন?

    তা কেন, না না, বোধহয় তাই কিন্তু গোটা ব্যাপারটা এমন ধোঁয়াটে-বলুন বলুন

    আইলিন বলে–ইদানীং মিস বুলস্ট্রোডের মনে সুখ নেই। এই হল একটা ব্যাপার, অবশ্য আপনি সেটা বুঝতেও পারবেন না। আর শুধু তিনি একলাই যে অসুখী তা নয়। আপনি নিশ্চয়ই অন্য কোনো সংবাদের প্রত্যাশায় আছেন, তাই না? আমি যা বলছি সেটা তো মানসিকতার কথা। আইলিন বললেন যে, তার মনে হচ্ছে একটা কিছু গোঁজামিল আছে। এখানে যেন আমাদের মধ্যে এমন একজন কেউ আছেন যার স্থান এখানে নয়। অনুভূতিটা কেমন জানেন যেন মনে হচ্ছে পাখির ঝাঁকে বেড়াল এসে লুকিয়ে আছে আমাদের মধ্যে। কিন্তু বেড়ালটাকে আমরা দেখতে পাচ্ছি না।

    কিন্তু রীজ কথাটা যে ভীষণ অস্পষ্ট।

    .

    আশ্চর্য কাহিনী

    মাদমোয়াজেল অ্যাঞ্জেল ব্লাশকে দেখে পঁয়ত্রিশ বছর মনে হয়, প্রসাধন ছিল না। ঘন বাদামী চুল পরিপাটি করা, মোটা খসখসে কোর্ট আর স্কার্ট পরে আছে। বেশ ঝাঁঝালো সুরে বললেন, যে স্কুলে খুন হয় সেখানে থাকা কি পোয়! তাছাড়া বাড়িটার কোথাও কোনো গুপ্ত সংকেত ঘণ্টা নেই।

    এখানে তো আর তেমন দামী জিনিসপত্র থাকে না মাদমোয়াজেল ব্লাশ, যে চোর-টোর আসবে?

    কোনো মেয়ের কাছে যদি কোনো দামী জিনিস থাকেও সেটাকেও সে ব্যায়ামঘরে রাখতে যাবে কেন?

    কী করে জানলেন? তাদের প্রত্যেকের জন্য একেকটা তালাবন্ধ দেরাজ আছে সেখানে জানেন না?

    সে তো শুধু খেলার সরঞ্জাম রাখবার জন্য। আইনত তাই বটে, কিন্তু খেলার বুটের মধ্যে তো কেননা জিনিস রাখতে পারে। অথবা পুলোভারে বা স্কার্ফেও তোত জড়িয়ে রাখতে পারে।

    কী ধরনের জিনিস মাদমোয়াজেল? খুব আদুরে বাপেরাও তো মেয়েকে জড়োয়ার হার স্কুলে নিয়ে আসতে দেবে না?

    ধরুন পোকার মতো দেখতে ছোটো একটা মণি বা এমন কোনো জিনিস, তার দাম প্রচুর। এখানকার একটি মেয়ের বাবা তো পুরাতাত্ত্বিক।

    আমার তো সম্ভব বলে মনে হয় না–মাদমোয়াজেল। আমি তো শুধু একটা সম্ভাবনার ইঙ্গিত দিচ্ছিলাম।

    ইনসপেক্টর তাকে জিজ্ঞাসা করল, মিস প্রিন্সারের সঙ্গে জানাশোনা ছিল?

    না ভীষণ অভদ্র ব্যবহার বলে পারতপক্ষে কথা বলতাম না। হাড়সর্বস্ব চেহারা, দাগদাগ মুখ, রুক্ষ কর্কশ সুর, যেন ইংরেজ রমণীর ব্যঙ্গ চিত্র। আমার সঙ্গে প্রায়ই বিশ্রী ব্যবহার করত।

    বিশ্রী ব্যবহার করবার কারণ?

    তার ক্রীড়ামঞ্চে আমাকে আসতে দিতে চাইতো না। একদিন সেখানে গিয়ে ঘুরে দেখছি, কী সুন্দর ইমারত চমৎকার সাজানো গোছানো। মিস প্রিন্সার এসে আমাকে বলে, কী করছেন এখানে, আপনার তো এখানে কোনো কাজ নেই। যে কিনা স্কুলেরই আরেকজন শিক্ষিকা–কি ভেবেছিল কি?

    অ্যাঞ্জেল ব্লাশ চলে যেতেই বন্ড বললো, অভিমানী, ফরাসিরা সকলেই অভিমানী।

    কেলসি বলে, যাই হোক কিছু খবর তো জানা গেল। মিস স্প্রিঙ্গার চাইতেন না যে লোকে তার ব্যায়ামঘরে আসুক মানে ক্রীড়ামঞ্চে…কিন্তু কেন?

    বন্ড বললেন, তিনি হয়তো মনে মনে ভাবতেন যে ফরাসিনী তাকে চোখে চোখে রাখছে।

    কিন্তু তাই বা কেন, তার ওপরে যে গোয়েন্দাগিরি করেছে এই ভয়টা তো তখুনি জাগবে যখন অ্যাঞ্জেল ব্লাশ তার কোনো গোপনীয় তথ্য জেনে নেবার সম্ভাবনা থাকবে।

    আর কে কে আছে?

    দুজন নবীন শিক্ষিকা মিস ব্লেক ও মিস রোয়ান, আর মিস বুলস্ট্রোডের সেক্রেটারি। মিস ব্লেকের বয়স কম, গোলগাল চেহারা, সরল মুখ। উদ্ভিদতত্ত্ব ও পদার্থবিদ্যা পড়ায়।

    বিশেষ কোনো খরবই দিতে পারল না। মিস রোয়ানের মনস্তত্ত্বের ডিগ্রি। কাজেই তার নানা অভিমত। খুব সম্ভব স্প্রিঙ্গার আত্মহত্যাই করেছেন।

    কেলসি তো অবাক, সে কী! তার মনে সুখ ছিল না?

    ভীষণ তীব্র স্বভাব ছিলো তার।

    বুঝুন তাহলে ওটা তো মানসিক প্রতিরক্ষা। তার সম্বন্ধে এতক্ষণ যতটুকু জেনেছি তাতে তো মনে হয় তিনি বেশ আত্মবিশ্বাসী মানুষ ছিলেন।

    একটু বেশিই আত্মবিশ্বাসী নয় কি, তার অনেক কথা থেকেই আমার সন্দেহ প্রমাণিত হয়।

    মিস বুলস্ট্রোড এসে বললেন, ইনসপেক্টর কেলসি, একটি মেয়ে আপনার সঙ্গে দেখা করতে চায়।

    সত্যি? কিছু জানে বুঝি?

    আমার যথেষ্ট সন্দেহ আছে। আপনি নিজে কথা বলে দেখুন, মেয়েটি আমাদের বিদেশী ছাত্রীদের মধ্যে একজন। আমীর ইব্রাহিমের ভাইঝি, রাজকুমারী শাইস্তা। মনে মনে নিজেকে খুব বড়ো করে ভাবে, বুঝলেন তো?

    মাঝারি গড়নের একটি কাল মেয়ে ঘরে ঢুকলো, শান্ত বাদামী চোখে তাকিয়ে বলে, আপনারা পুলিশ?

    হ্যাঁ আমরা পুলিশ, বসো, বলো তো তুমি কী জান মিস স্প্রিঙ্গারের সম্বন্ধে।

    হ্যাঁ বলবো আপনাকে।

    বসে পড়ে সামনের দিকে ঝুঁকে–এই জায়গাটার ওপর লোকে নজর রেখেছে, তাদের দেখা যায় না বটে কিন্তু তারা আছে।

    এই স্কুলের ওপর কেন নজর রাখবে?

    আমার জন্য, আমাকে চুরি করে নিয়ে যাবে।

    তোমাকে তারা চুরি করতে চায় কেন?

    কেন, মুক্তিপণ আদায় করবে আমার আত্মীয়দের কাছ থেকে।

    আঁ…ও আচ্ছা…আচ্ছা কিন্তু তার সঙ্গে মিস স্প্রিঙ্গারের মৃত্যুর কি সম্বন্ধ?

    শাইস্তা বলে, তিনি হয়তো ওদের দেখে ফেলেছিলেন, তিনি হয়তো সব জানতে পেরেছিলেন বলে তাদের ভয় দেখিয়েছিলেন। তারা হয়তো টাকার লোভ দেখিয়েছিল। তিনি টাকা নিতে ক্রীড়ামঞ্চে গেলেন, ব্যস তখন ওরা তাকে গুলি করল।

    নাঃ, মিস স্প্রিঙ্গার কখনও কি ঘুষ নিতে পারেন?

    কেন? স্কুলের মাস্টারনী হয়ে থাকাটা কি খুব সুখের…তাও ব্যায়াম শেখানোর মাস্টারনী? তার চেয়ে যদি টাকা থাকে সেটা ভালো না।

    তোমাকে চুরি করে নিয়ে যাওয়ার কথাটা তো তোমার নিছক কল্পনাও হতে পারে? ইনসপেক্টর বললো।

    শাইস্তা রেগে ওঠে, আপনি কিছু জানেন না। আমার জ্যাঠতুতো দাদা হচ্ছে রামাতের রাজা শাহাজার্দা আলি ইউসুফ। তিনি বিপ্লবে মারা গেছেন। কথা ছিল আমি বড়ো হলে তার সঙ্গে আমার বিয়ে হবে। কাজেই বুঝেছেন তো আমার গুরুত্ব কতখানি। কমিউনিস্টরা ভীষণ ভীষণ পাজি। ওরা ভাবছে যে রত্নগুলো কোথায় আছে আমি জানি।

    রত্ন…কিসের রত্ন?

    আমার ওই দাদার কিছু রত্ন ছিলো তার বাবারও ছিল। আমাদের পরিবারে সবসময়েই বহু হীরা জহরৎ থাকতো, বিপদের জন্য–বুঝলেন? ওরা ভাবছে যে আমি জানি রত্নগুলো কোথায়, তাই ওরা আমাকে ধরে নিয়ে খবর আদায় করবে।

    জানো নাকি রত্নগুলো কোথায়?

    না বিপ্লবের সময় থেকে ওগুলো উধাও। হয়তো কমিউনিস্ট হতচ্ছাড়াগুলো নিয়েছে, আবার হয়তো নিতে পারেনি।

    ওগুলো কার সম্পদ?

    আমার জ্যাঠতুতো দাদার মৃত্যুর পর ওগুলো আমার হয়ে গেছে, তার বংশে তো আর কেউ নেই। আমার মাও মারা গেছে।

    সেই ব্যবস্থাই ছিল বুঝি, বিয়ের পর ওই রত্নগুলো তোমার হতো? তুমি পেতে?

    .

    আলোচনা চক্র

    ইনসপেক্টর কেলসি ফিরতেই থানার সার্জেন্ট জানালো অ্যাডাম গুডম্যানকে।

    অ্যাডাম গুডম্যান ও…হা মালি। অ্যাডাম বললো, শুনলাম আমাকে ডেকেছেন, কর্কশ স্বরে বললো।

    কেলসি বললো–হ্যাঁ, ঘরে এসো।

    খুনের বিষয়ে আমি কিছুই জানি না, আমাকে কেন? আমি তো বাসায় রাতে ঘুমোচ্ছিলাম। অ্যাডাম বললো ইনসপেক্টরকে যে, সে এইটা দেখাতে চায়।

    অ্যাডামের সেই বেপরোয়া ভাবও নেই। মুখ গোমড়ানিও নেই। শান্ত ধীর সশ্রদ্ধ ভাব, কী একটা পকেট থেকে বের করে দেয়, কেলসি সেটা দেখে মাথা তুলে বলে…বারবার তোমাকে এখন দরকার হবে না।

    অবাক হয়ে বিচক্ষণ তরুণ পুলিশই উঠে চলে যায়। কেলসি বললো,  এই তবে আপনার পরিচয়?

    কিন্তু বলুন তো কোন কাজকর্ম আপনি এখানে—

    তারপর অ্যাডাম বললেন ইনসপেক্টরকে যে, তিনি কী ব্যাপারে মেডোব্যাঙ্কে।

    আমাদের ঠিক জানা নেই যে মেডোব্যাঙ্কে কি হচ্ছে। আমার কাজ পাহারাদারি বা কাল রাত পর্যন্ত তাই ছিলো। খেলার মাস্টারনী হত্যা? স্কুলের পাঠ্যতালিকায় পড়ে না।

    অ্যাডামের কাহিনী কেলসি মন দিয়ে শোনে…ইনসপেক্টর বললো, ওই মেয়েটার ওপর অবিচারই করেছি। কিন্তু এই কাহিনী চট করে বিশ্বাস করা অসম্ভব। পাঁচ থেকে দশ লক্ষ পাউন্ড মূল্যের রত্ন? কার যেন জিনিসটা বললেন? বলা ভীষণ কঠিন। এই প্রশ্নের উত্তর পেতে হলে আপনার বাঘা বাঘা উকিলের প্রয়োজন। তিনমাস আগে রত্নগুলোর মালিক ছিল রামাতের মহামান্য শাহজা আলি ইউসুফ। রামাতে যদি রত্নগুলো পৌঁছে যায় তার মালিকানা হবে সরকারের। হয়তো আলি ইউসুফ কোনো উইল করে গেছেন। সেই উইল কোথায় করা হয়েছে সেই প্রমাণের ওপরও অনেক কিছু নির্ভর করছে।

    কেলসি বললো, অর্থাৎ বলতে চান যে ওগুলো যারা পাবে তাদেরই হয়ে যাবে? না না, একথা ভালো নয়।

    অ্যাডম গম্ভীর গলায় বলে, ভালো কথা তো নয়ই, তাছাড়া অনেকগুলো দলও সন্ধানে ঘুরছে। তারা কেউই সাধুসন্ত নয়। গুজবও হতে পারে, সত্যিও হতে পারে।

    কিন্তু মেডোব্যাঙ্কে কেন?

    এই ছোট্ট রাজকুমারীর জন্য, যার মুখে এখনো দুধের গন্ধ। রাজকুমারী শাইস্তা আলি ইউসুফের খুড়তুতো বোন। ই, কেউ হয়তো ওকে জিনিসগুলো পৌঁছে দেবার চেষ্টা করবে। আশেপাশে কিছু সন্দেহজনক চরিত্রের আমদানী হয়েছে।

    অ্যাডাম ধীরে ধীরে বললো, প্রিঙ্গার রাত দুপুরে ক্রীড়ামঞ্চে ছিল কেন? কে তাকে হত্যা করেছে। সে প্রশ্ন অবান্তর। যতক্ষণ না আমরা জানতে পারছি কেন সে এত রাতে ক্রীড়ামঞ্চে গিয়েছিলো, বলা যেতে পারে তার অমন নির্দোষ ব্যায়ামপুষ্ট জীবনেও অনিদ্রা রোগ জন্মেছিল। বিছানা থেকে উঠে জানলা দিয়ে ক্রীড়ামঞ্চে আলো জ্বলতে দেখতে পেলো-তার জানলাটাও ওই দিকেই তো। শক্তসমর্থ সাহসী স্ত্রীলোক তাই নিজেই গেল অনুসন্ধানে, তাতে হয়তো কেউ কাজে বাধা পেলো, কাজেই লোকটা এমন মরিয়া হয়ে উঠলো যে তাকে গুলি করে মেরে ফেলতেও কসুর করলো না।

    কেলসি মাথা নাড়ে, আমারও ওভাবেই দেখছি। কিন্তু আপনার শেষের কথাটা আমাকে ভাবিয়ে তুলেছে। হত্যা করবার জন্য গুলিও ছোঁড়া হয় না বা সেরকম প্রস্তুতি নিয়ে লোকে আসে না, যদি না..ক্রীড়ামঞ্চে কোন রাজার ধন আছে। কিছু লুকিয়ে রাখবার মতো জায়গাই তো ওটা নয়। ওখানে কিছু পাওয়া যায়নি।

    অ্যাডাম বলে, হত্যাকারী সেটা তো রেখে যাবে না, নিয়েই যাবে। অবশ্য অন্য আরেকটা সম্ভাবনা রয়েছে এতে। ক্রীড়ামঞ্চটি হয়তো গোপন আড্ডার স্থান হিসেবেই মিস স্প্রিঙ্গার বা অন্য কেউ ব্যবহার করতো। ধরা যাক মিস স্প্রিঙ্গার ওখানে গিয়েছিলেন কারো সঙ্গে দেখা করতে।… মতের অমিল হতেই গুলি খেয়ে মরলো। অথবা মিস স্প্রিঙ্গার কাউকে বাড়ি থেকে বেরিয়ে যেতে দেখে তার পিছু নেয়, এবং এমন কিছু দেখে বা শোনে যা তার পক্ষে অনুচিত।

    কেলসি বললো, আমি অবশ্য জীবিত অবস্থায় মিস স্প্রিঙ্গারকে দেখিনি কিন্তু শুনে স্পষ্ট বুঝলাম যে, সব ব্যাপারেই তিনি নাক গলাতেন।

    অ্যাডামও একমত। মনে হয় ভদ্রমহিলার মৃত্যুও হয়েছে ওই জন্য।অধিক কৌতূহলে মরিল সিংহ..ক্রীড়ামঞ্চেই নাটকের রঙ্গমঞ্চে।

    অ্যাডাম জোরে মাথা নেড়ে বললেন যে, স্কুলেই কেউ আছে, যার ওপর মনোযোগ দিতে হবে, পাখির ঝাঁকে আছে একটা বিড়াল।

    কেলসি কথাটা কানে যেতেই থ। আঁ? কী বললে, পাখীর ঝাঁকে বেড়াল? আজও এই কথাটা মিস রীচ বলেছে, স্কুলের একজন শিক্ষিকা। এই পর্বে তিনজন নতুন এসেছে। সেক্রেটারি স্যাপল্যান্ড, ফরাসি শিক্ষিকা ব্লাশ, আর মিস স্প্রিঙ্গার, তিনি তো মারাই গেছেন। পাখির ঝাঁকে বেড়াল যদি থাকেই তবে দুজনের মধ্যে একজনই বেড়াল, কোনজন? তোমার কোনো ধারণা আছে?

    অ্যাডাম বলে, আমি একদিন মাদমোয়াজেল ব্লাশকে ক্রীড়ামঞ্চ থেকে বেরিয়ে আসতে দেখেছিলাম কেমন যেন দোষী দোষী ভাব নিয়ে। মিস বুলস্ট্রোডও আশ্চর্য নারী। এই ব্যাপারটা আমরা যত শীঘ্র নিষ্পত্তি করতে পারি ততই মঙ্গল। মেডোব্যাঙ্ককে আমরা আবার ঝকঝকে তকতকে করে তুলতে চাই।

    আপনি যে কে সে কথাটা এবার মিস বুলস্ট্রোডকে জানানো উচিত। ভয় নেই। তিনি মুখ খুলবেন না।

    অ্যাডাম মাথা নেড়ে বলে, ঘটনা যেরকম দাঁড়িয়েছে, তাতে তো বলতেই হবে, আর কোনো উপায় নেই।

    .

    চাই পুরানো প্রদীপের বদলে নতুন প্রদীপ

    আরো একটি গুণ আছে মিস বুলস্ট্রোডের, তিনি চমৎকার শ্রোতা। এই গুণের জন্যই তাকে মহিলা শ্ৰেষ্ঠা বলা যেতে পারে।

    অ্যাডামের কথাগুলো শুনে কেলসি বললো, অদ্ভুত! অ্যাডাম ভাবল, আপনিই তো অদ্ভুত! মূলকথায় এসে পৌঁছলেন, ই, তাহলে আমায় কী করতে হবে বলুন?

    ইনসপেক্টর কেলসি বলে, দেখুন আমারা ভেবে দেখলাম আপনাকে সব কথা খুলে বলা উচিত…স্কুলের স্বার্থেই।

    মিস বুলস্ট্রোড মাথা নেড়ে বললেন, স্বভাবতই স্কুলের স্বার্থই আমি প্রথমে দেখবো। আমার ছাত্রীদের নিরাপত্তার জন্য আমিই সম্পূর্ণ দায়ী। কর্মীদের জন্যও বটে তবে কম। কাজেই মিস ম্প্রিন্সারের মৃত্যুর প্রচার যত কম হয় ততই আমার পক্ষে ভালো। অবশ্য ওটা স্বার্থপরের মতো হল। অবশ্য এই ঘটনাটার পূর্ণ প্রচার যদি আপনাদের কাজের জন্য আবশ্যক হয় তবে তো করতেই হবে। কিন্তু তার কী দরকার আছে?

    কেলসি বলে, না কম প্রচার হলে আমাদের পক্ষেও ভালো। আমরাও জানিয়ে দেবো মনে হচ্ছে ঘটনাটা স্থানীয় ব্যাপার, ছোকরা গুণ্ডার দল…যাকে আজকালকার ভাষায় শিশু অপরাধী বলা হয়…মিস স্প্রিঙ্গার হঠাৎ তাদের চমকে দেওয়ায় ওরা গুলি ছোঁড়ে।…আমি চাই এই ধরনের গল্পই চলুক, তাহলেই আমরা চুপচাপ তদন্ত করতে পারবো।

    কেলসি বলে, মিসেস আপজনের সঙ্গে যোগাযোগ করতে হবে। যত শিগগির সম্ভব, আপনজনের কাছে তার ঠিকানা আছে?

    নিশ্চয়।…তবে শুনেছিলাম যে তিনি এখন বিদেশে। আচ্ছা দাঁড়ান এখুনি খোঁজ করছি।

    ঘন্টি বোতামটা দুবার টিপে জুলিয়া আপনজনকে একটু পাঠিয়ে দিতে বললেন।

    অ্যাডাম বললো, মেয়েটি আসার আগেই আমি কেটে পড়ি। ইনসপেক্টর তদন্ত করছেন, সেখানে আমার থাকাটা ঠিক নয়। ইনসপেক্টর এমন ভাব দেখাবেন যেন আপনি আমাকে এখানে ডেকে এনেছেন বকাবকি দেবার জন্য, এখন দেখছেন আমি কিছুই জানি না। অতএব চলে যেতে হুকুম দিলেন।

    দরজায় টোকা শুনে মিস বুলস্ট্রোড বললেন, ভেতরে এসো। ছুটতে ছুটতে আসার জন্য জুলিয়া আপজন হাঁপাচ্ছে।

    এসো জুলিয়া।

    কেলসি গর্জে উঠলো এখন তুমি যেতে পার, গুডম্যান। নিজের কাজ করগে।

    জুলিয়া বললো, যে তাকে ডাকা হয়েছে? মিসেস বুলস্ট্রোড বললো, হ্যাঁ তোমার মায়ের ঠিকানাটা দাও। একটা চিঠি লিখতে হবে। জুলিয়া বললো, মা বিদেশে গেছে, ইসাবেল মাসিকে লিখুন। তারপর তাকে জিজ্ঞাসা করলেন যে, তোমার মা ইনটেলিজেন্সে কাজ করতেন, তাই না? হ্যাঁ, মায়ের খুব ভালো লাগতো।

    আচ্ছা জুলিয়া ধন্যবাদ। যেতে পারো এখন।

    .

    বিপর্যয়

    স্কুল খোলর পর তৃতীয় সপ্তাহ শেষ। এই শনি-রবিবারেই ছাত্রীরা প্রথম তাদের অভিভাবকদের সঙ্গে বাইরে বেরুবার অনুমতি পাবে। ফলে সপ্তাহ শেষে প্রায় খালি মেডোব্যাঙ্ক। রোববার দুপুরে খাবার জন্য মোট কুড়িজন মেয়ে কর্মীরাও অনেকে ছুটিতে গেছে। মিস বুলস্ট্রোড নিজেও সপ্তাহের শেষে বেরিয়ে যাচ্ছেন। মেডোব্যাঙ্কের প্রতিপত্তির দরুন মিস স্প্রিঙ্গারের হত্যাকাণ্ডটি পত্রপত্রিকায় বিশেষ আলোড়ন তুললো না। স্পষ্ট করে না বললেও এমন একটা ধারণার সৃষ্টি হল যেন কজন মস্তান ছোকরা দরজা ভেঙ্গে ক্রীড়ামঞ্চে ঢুকেছিলো। মিস ম্প্রিন্সারের মৃত্যু হয়তো আকস্মিক ইচ্ছাকৃত নয়। পুলিশ কজন তরুণকে থানায় ডেকেছে পুলিশকে সাহায্য করতে।

    ..শনিবার সকালে মিস বুলস্ট্রোড.তার সেক্রেটারি অ্যান স্যাপল্যান্ড চিঠিপত্র লেখার কাজ সবে শেষ করেছে–টেলিফোন বাজতেই অ্যান ধরলো।

    আমীর ইব্রাহিমের অনুচরের সঙ্গে মিস বুলস্ট্রোড কথা বললেন…রোববার বেলা সাড়ে এগারোটা থেকে শাইস্তা তৈরি থাকবে। রাত আটটার মধ্যে মেয়ে যেন ফিরে আসে। টেলিফোন রেখে বললেন, এই প্রাচ্য দেশের মানুষগুলো ঠিক একটুও সময় দিতে পারে না, কালই শাইস্তা যাবে গ্রিসেলদারের সঙ্গে, সব ঠিক হয়ে গেছে, এখন আবার বদলাও। অ্যান স্যাপল্যান্ডকে বললেন যে চ্যাডউইককে পাঠিয়ে দেওয়ার কথা।

    চ্যাডউইক হন্তদন্ত হয়ে ঢোকে। মিস বুলস্ট্রোড বললেন, চ্যাডিকাল আমীর ইব্রাহিম শাইস্তার কাকা ওকে নিতে আসবেন, যদি তিনি নিজে আসেন তো বলে দিও মেয়েটি স্কুলে ভালোই পড়াশুনা করছে।

    .

    রবিবার সকাল, ঝকঝকে দিন। শনিবারে মিস বুলস্ট্রোড চলে গেছেন। স্কুলে রয়েছে শুধু মিস ভ্যান্সিটার্ট, মিস চ্যাডউইক, মিস রোয়ান আর মাদমোয়াজেল ব্লাশ। মিস ভ্যান্সিটার্ট ও চ্যাডউইক সব অভিভাবকদের অভ্যর্থনা জানাচ্ছেন আর তাদের মেয়েদের দিচ্ছেন।

    সভাঘরে মিস ভ্যান্সিটার্ট ও মিস চ্যাডউইক বসেছিলেন। মিস রোয়ান ঘরে ঢুকেই বললো, শাইস্তা কোথায়, তাকে কোথাও পেলাম না, আমীরের গাড়ি এসেছে তাকে নিতে। চ্যাডি বললো, কী, কোথাও কোনো ভুল হয়েছে নিশ্চয়ই। আমীরের গাড়ি তো এসেছিল সেই বলল, প্রায় মিনিট পঁয়তাল্লিশ হল। আমি নিজে দেখেছি সেই গাড়িতে উঠতে।

    ভ্যান্সিটার্ট বললে, হয়তো দু-দুবার করে গাড়িকে বলে দিয়েছে অমনি কিছু একটা গোলমাল হয়েছে। নিজেই বাইরে গিয়ে শোফেয়ারকে বললো, দেখো গলতি হয়েছে কোথাও। পঁয়তাল্লিশ মিনিট হল মেয়েটি লন্ডনের পথে রওনা হয়ে গেছে। কখনো অমন ভুল হতে পারে না।

    হামেশাই হয় এমন।

    সাড়ে চারটের সময় টেলিফোন বাজতে চ্যাডি সাড়া দিল, মেডোব্যাঙ্ক স্কুল, মিস বুলস্ট্রোড আছেন? কণ্ঠস্বরে বোঝা গেল বেশ উঁচু বংশের কোনো ইংরেজ পুরুষ।

    মিস বুলস্ট্রোড আজ এখানে নেই, আমি মিস চ্যাডউইক বলছি।

    দেখুন আপনাদের এক ছাত্রীর সম্পর্কে আমাদের কিছু বলবার আছে…আমি ক্রারিজ থেকে বলছি আমীর ইব্রাহিমের কামরা থেকে।

    হা বলুন?…শাইস্তার সম্বন্ধে তো?

    হ্যাঁ, আপনাদের কাছ থেকে আমরা এখনো কোনো খবর পাইনি, আমীর বেশ বিরক্ত হয়েছেন?

    খবর? তাকে আমরা কি খবর দেবো?

    কেন বলতে তো পারতেন, শাইস্তা এলো না বা আসতে পারলো না।

    এলো না!..মানে আপনি কি বলতে চান যে সে এখনো পৌঁছায়নি? না আসেইনি এখানে, …মেডোব্যাঙ্ক থেকে রওনা হয়ে গিয়েছে, বলছেন!

    হ্যাঁ, সকালেই তো একটা গাড়ি এসেছিল। প্রায় সাড়ে এগারোটায়, সেই গাড়িতেই তো গেল।

    কী আশ্চর্য এখনও পর্যন্ত কোনো পাত্তা নেই।

    মিস চ্যাডউইক বললো, কী কাণ্ড! দুর্ঘটনা না হলেই বাঁচি, না না না, খারাপ কেন ভাবছেন, কোনো দুর্ঘটনা ঘটলে এতক্ষণ খবর পেয়ে যেতেন। নইলে আমরাও তো পেতাম।

    না…ব্যাপারটা অদ্ভুত মনে হচ্ছে। আচ্ছা…মানে…আমীরকে অবশ্য এখন কোনো সম্ভাবনার কথা বলবো না…তবু আপনাকে জিজ্ঞেস করছি। কোনো…ইয়ে মানে পুরুষ বন্ধু নেই তো? নাঃ থাকতেই পারে না।

    দেখুন ওসব কথা মনেও স্থান দেবেন না, একেবারে অসম্ভব। টেলিফোন রেখে চ্যাডি ভাবলো সত্যি কি অসম্ভব? চ্যাডি বলে, মেয়েটি কিন্তু বলেছিল যে কেউ ওকে হরণ করতে চেষ্টা করবে।

    .

    মিস চ্যাডউকের ঘুম আসে না

    বিছানায় শুয়ে মিস চ্যাডউইক এপাশ ওপাশ করছে ঘুম আসছে না।

    আটটা যখন বেজে গেলো তখনও শাইস্তা ফিরলো না। কোনো খবরও পাওয়া গেল না। তখন মিস চ্যাডউইক আর শান্ত থাকতে পারলো না। নিজের হাতেই ব্যাপারটার ভার নিলো। ইনসপেক্টর কেলসিকে টেলিফোন করলো। ইনসপেক্টর বললো যে, মিস চ্যাডউইক যেন তার ওপরেই ব্যাপারটা ছেড়ে দেয়। যা কিছু করার তিনিই করবেন।

    কেলসি বললো, দেখুন সবচেয়ে বেশি করে সে জিনিসটা আপনি বা বুলস্ট্রোড এড়িয়ে যেতে চান তা হল প্রচার। মনে হয় না মেয়েটিকে কেউ চুরি করে নিয়ে গেছে। অতএব ভাবনা করবেন না। আমার উপরেই ছেড়ে দিন।

    চ্যাডির ঘুম আসছে না রাতে, খাট থেকে নেমে দুটো অ্যাসপিরিন মুখে ফেলে এক গেলাস জল খায়। ফিরে যেতে যেতে জানলার পর্দা সরিয়ে একনজর দেখে মনকে আশ্বস্ত করতে চেয়েছিল, যে সারারাতে আর কখনো ক্রীড়ামঞ্চে আলো দেখা যাবে না।

    কিন্তু দেখা গেলো।…চ্যাডি সঙ্গে সঙ্গে জুতোজোড়া পড়ে মোটা কোট গায়ে চরিয়ে টর্চ লাইটটা নিয়ে বেরিয়ে সিঁড়ি দিয়ে নিচে নামে। কাউকে ডাকবার কথাও মনে হল না। ক্রীড়ামঞ্চে তাড়াতাড়ি যেতে হবে। দেখতে হবে সে রাতের আগন্তুক কে। পাশের দরজা দিয়ে বেরিয়ে ঝোঁপের রাস্তা দিয়ে প্রায় ছুটেই চলে, দুরুদুরু বুকে দরজার কাছে গিয়ে ধীরে ধীরে নিঃশব্দে হাঁটে। দরজা সামান্য ভেজানো ছিলো, ধাক্কা দিয়ে খুলে ভেতরে তাকালো।

    .

    হত্যার পর হত্যা

    ইনসপেক্টর কেলসি ভীষণ গম্ভীর গলায় ঘরে ঢুকলো, আসুন আবার একটা।

    এটা আবার কী? প্রশ্ন করে অ্যাডাম। আবার একটা হত্যা, ইনসপেক্টর কেলসি বলে, তার পিছু পিছু অ্যাডামও বেরিয়ে আসে। সিঁড়ি দিয়ে নামতে নামতে ইনসপেক্টরকে প্রশ্ন করে অ্যাডাম–

    আরেকজন শিক্ষার্থী…মিস ভ্যান্সিটার্ট। কোথায়? ক্রীড়ামঞ্চে।

    আবার অ্যাডাম বললেন, কী আছে সেখানে। আপনি এবার জায়গাটার তল্লাশি নিন, ইনসপেক্টর কেলসি বলে, বলা যায় না আপনাদের কায়দা অনুসরণ করলে যদি কোনো ফল পাওয়া যায়। নিশ্চয়ই ক্রীড়ামঞ্চে কিছু আছে নইলে ওখানেই হত্যার পর হত্যা হচ্ছে কেন? ডাক্তার হাঁটু গেড়ে শব পরীক্ষায় ব্যস্ত। ঘরে ঢুকতেই ডাক্তার উঠে দাঁড়ায়।

    আধঘণ্টা হল মারা গেছেন। ডাক্তার বললো, বড়োজোর চল্লিশ মিনিট হবে। প্রথম কে দেখেছিল? কেলসি জিজ্ঞাসা করল। তার লোক বলে ওঠে, মিস চ্যাডউইক। কেলসি বললো, কি দিয়ে মারা হয়েছে? আবার গুলি কি?

    ডাক্তার মাথা নেড়ে বলে, না, এবারে মারা হয়েছে মাথার পেছনে বালির বস্তা বা হান্টার জাতীয় কিছু একটা দিয়ে।

    দরজার কাছে গলফের ডান্ডা পড়েছিল। একমাত্র এটাই ছিল।

    ডাক্তার বলে, মৃতদেহে অস্ত্রের কোনো ছাপ পড়েনি। রবার মোড়া হান্টার বা বালির বস্তা হবে। খুনি নিঃশব্দে এসে মাথার পেছনে হেনেছে প্রচণ্ড আঘাত। উনি সামনে পড়ে গিয়েছিলেন, জানতেও পারেননি কিসের আঘাত লাগলো।

    কি করেছিলেন তিনি? ডাক্তার বলে এই দেরাজটার সামনে হাঁটু গেড়ে ছিলেন। ইনসপেক্টর এগিয়ে গিয়ে সেটাকে দেখে। মেয়েটির নাম লেখা আছে নিশ্চয়ই। দেখি, হ্যাঁ, এই তো শাইস্তা…ওহো সেই মিশরীয় মেয়েটা। মহামাননীয় রাজকুমারী শাইস্তা। মিস ভ্যান্সিটার্টের উপর আজ স্কুলের দায়িত্ব ছিল। মিস বুলস্ট্রোড তো বাইরে গেছে।

    ইনসপেক্টর বললেন, মিস চ্যাডউইকের সঙ্গে তাহলে দেখা করা যাক।

    চ্যাডউইক তার ঘরে একটা চেয়ারে বসেছিলেন। রাতটা বেশ গরম তবুও তার ঘরে বিদ্যুঞল্পী জ্বলছে, হাঁটু থেকে পা পর্যন্ত কম্বলে ঢাকা। ইনসপেক্টর কেলসির দিকে বিবর্ণ মুখে তাকিয়ে, মরে গেছে..মরে গেছে না?

    কেলসি মাথা নেড়ে ধীরে ধীরে মিস চ্যাডউইককে বলে, কী ভয়ানক! মিস বুলস্ট্রোডও নেই, স্কুলটা শেষ হয়ে যাবে যে।…বলতে বলতে কেঁদে উঠলো।

    সান্ত্বনার সুরে কেলসি বলে, আমার কথা আপনার মনে খুব আঘাত লেগেছে জানি, তবু আমার অনুরোধ সাহস ফিরিয়ে আনুন। মিস চ্যাডউইক আমাকে বলুন কী ঘটেছিল। আমরা যত শিগগিরি জানতে পারি কে অপরাধী ততই মঙ্গল, ততই কম প্রচার হবে এই সব অপকাণ্ডের।

    চ্যাডউইক বললো, দেখুন আমি তাড়াতাড়ি শুতে গিয়েছিলাম। ভেবেছিলাম যে অন্তত একটি দিনের জন্যও অনেকক্ষণ ধরে ঘুমোত পারি। কিন্তু ভীষণ দুশ্চিন্তা হচ্ছিল, ঘুম এল না।

    স্কুলের ব্যাপারে দুশ্চিন্তা?

    হ্যাঁ, শাইস্তার নিখোঁজ হয়ে যাবার ব্যাপার। মিস স্প্রিঙ্গারের কথাও মনে হচ্ছিলো। ভাবছিলাম অভিভাবকদের আতঙ্কিত করে তুলবে। তারা কি আর পরের বারে তাদের মেয়েদের পাঠাবেন? তারপর অ্যাসপিরিন খেলাম, আবার শুতে আসবার সময় কেন জানি না পর্দা তুলে বাইরে তাকালাম। বোধহয় তখনো আমার মাথার মধ্যে মিস প্রিন্সারের চিন্তাই ঘুরছিল। আমি দেখলাম –এখানে তো আলো জ্বলছে।

    কী রকম আলো?

    আলোটা যেন নেচে নেচে উঠলো, টর্চের লাইটই হবে বোধহয়। আগেরবার মিস জনসন ও আমি যেরকম দেখেছিলাম।

    হুবহু একই আলো কী?

    হুঁ, সেইরকমই মনে হচ্ছে। বোধহয় একটু তেজ কম ছিলো, কী জানি ঠিক মনে নেই।

    ওঃ তারপর?

    হঠাৎ চ্যাডউইকের গলার স্বর তেজালো হয়ে উঠলো। তারপর আমি এবারে সংকল্প করেছিলাম দেখতেই হবে ওখানে কে, আর কি করছে। তাই আমি কোট আর জুতো পরে নিলাম। একছুটে বাইরে চলে গেলোম। কাউকে ডেকে নেবার কথা মনে হয়নি তখনও। এত তাড়াতাড়ি ছুটে গিয়েছিলাম সে সব কথা মনেও হয়নি। ভেবেছি দেরি হয়ে গেলে হয়তো তাকে পাওয়াই যাবে না। দরজা পর্যন্ত সমস্ত রাস্তাই দৌড়ে গিয়েছিলাম। তারপর পা টিপে টিপে কোনো আওয়াজ না করে ওখানে গিয়ে দেখতে পাই কে আছে, ওখানে কী করছে। দরজা ভেজানো ছিল। ধাক্কা দিতেই খুলে গেল, এদিক ওদিক চোখ বোলাতে গিয়েই দেখি…ওকী উপুড় হয়ে পড়ে আছে,…মৃত…তার গা…শিউরে শিউরে উঠলো।

    একটা কথা বলতে পারেন, ইনসপেক্টর জিজ্ঞাসা করল, ওখানে একটা গলফের লাঠি দেখলাম, আপনি কি সেটা নিয়ে গেছেন? না–মিস ভ্যান্সিটার্ট?

    চ্যাডউইক বললেন যে, তিনি নিয়ে গেছেন, যদি কোনো প্রয়োজন হয়।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43 44 45 46 47 48 49 50 51 52 53 54 55 56 57 58 59 60 61 62 63 64 65 66 67 68 69 70 71 72 73 74 75 76 77 78 79 80 81 82 83 84 85 86 87 88 89 90 91 92 93 94 95
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleআগাথা ক্রিস্টি রচনা সমগ্র ৪ (অনুবাদ : পৃথ্বীরাজ সেন)
    Next Article আগাথা ক্রিস্টি রচনা সমগ্র ২ (অনুবাদ : নচিকেতা ঘোষ)

    Related Articles

    আশাপূর্ণা দেবী

    সমুদ্র কন্যা – আশাপূর্ণা দেবী

    April 24, 2026
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    আমাদের মহাভারত – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    March 20, 2026
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়

    বিপিনের সংসার – বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়

    January 8, 2026
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    ভয় সমগ্র – হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    December 9, 2025
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    কিশোর অ্যাডভেঞ্চার সমগ্র – হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    December 9, 2025
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    প্রকাশ্য দিবালোকে – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    November 18, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    अनीश दास
    मौलाना शाह वलीउल्लाह
    रेवरेंड के. के. जी. सरकार
    অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিজ্ঞান রায়চৌধুরী
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমরেন্দ্র চক্রবর্তী
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অরিন্দম দেবনাথ
    অর্পিতা সরকার
    অশোককুমার মিত্র
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    কৌশিক সামন্ত
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যজ্যোতি মজুমদার
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেইল লোনডেস
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শঙ্কর চ্যাটার্জী
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শাক্যজিৎ ভট্টাচাৰ্য্য
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সম্পাদনা : শৈলেন্দ্র হালদার
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্মরণজিৎ চক্রবর্তী
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    অপেক্ষার বারোমাস – অর্পিতা সরকার

    May 1, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    অপেক্ষার বারোমাস – অর্পিতা সরকার

    May 1, 2026
    Our Picks

    অপেক্ষার বারোমাস – অর্পিতা সরকার

    May 1, 2026

    শ্মশানকোকিলের ডাক – সৌভিক চক্রবর্তী

    May 1, 2026

    এসো না অসময়ে – অর্পিতা সরকার

    May 1, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }