Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    আনন্দমেলা গল্পসংকলন – সম্পাদনা : পৌলোমী সেনগুপ্ত

    পৌলোমী সেনগুপ্ত এক পাতা গল্প603 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    রুকু আর সুকু – সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়

    দু’ভাইয়ের খেলার মাঠের ঝগড়াটা শেষ পর্যন্ত বাড়ি অবধি এসে পৌঁছল। বড় রুকু গেট পেরিয়ে আগে-আগে ল্যাংচাতে-ল্যাংচাতে ঢুকছে। পেছনে আসছে ছোট সুকু, বুক ফুলিয়ে। তার মুখে কোনও ভয় বা অপরাধের চিহ্নই নেই। সে বরং ঢোকার মুখে গেটের পাশের খাড়া ইউক্যালিপটাস গাছের তলা থেকে গোটাকতক ঝরাপাতা তুলে নিয়ে, হাতে রগড়ে নিজের নাকের কাছে ধরে চেঁচিয়ে-চেঁচিয়ে বলল, “আঃ, কী সুন্দর গন্ধ! যাদের বারো মাসই সর্দি তাদের এই পাতা রোজ শোঁকা উচিত।”

    কথাটা সে তার দাদাকে উদ্দেশ করেই বলল আর-একটু খেপাবার জন্যে। অন্য দিন হলে রুকু নিশ্চয় এর কোনও জবাব দিত। আজ কিছু বলল না। সে বেচারা ভাল করে হাঁটতেই পারছে না। সুন্দর একটা একতলা বাংলো বাড়ির দিকে তারা এগিয়ে চলেছে। দু’পাশে কেয়ারিকরা গোলাপের বাগান। বারান্দায় একটা বেতের চেয়ারে বসে বসে মা মোজা বুনছেন একমনে। শীত এল বলে। ডাল্টনগঞ্জে শীতটা বেশ জমিয়ে পড়ে। এ বছর তিন জোড়া মোজাই তাঁকে বুনতে হবে। দু’ছেলের আর স্বামীর। রুকু আর সুকুর বাবা স্থানীয় মিশনারি হাসপাতালের নামকরা সার্জেন। স্থানীয় লোকেরা বলে, ডাক্তারবাবু মানুষ কেটে জোড়া লাগাতে পারেন। এমন হাত।

    মার চোখে সোনালি ফ্রেমের চশমা। সব সময় পরতে হয় না। এই বোনাটোনার সময়েই নাকে ওঠে। তখন যেন আরও সুন্দর দেখায়। সোনার মতো গায়ের রঙের সঙ্গে চশমার রং মিলে যায়। শুধু কাচ দুটো খাড়া টিকলো নাকের পাশে জ্বলজ্বল করতে থাকে। মানুষটি যেমন ভাল তেমনি কড়া। যোধপুরের মেয়ে। চেহারাটা অনেকটা রাজপুত মেয়েদের মতো।

    রুকুকে ল্যাংচাতে দেখে রাজ্যেশ্বরী জিজ্ঞেস করলেন, “কী হয়েছে রে তোর?”

    রুকুটা ভীষণ ভালমানুষ। কী হয়েছে ঠিক ঠিক বলতে গেলে—সুকুর নামে বলতে হয়। রুকু তাই কোনও কথা না বলে সিড়ি ভেঙে বারান্দায় উঠে এল। পেছনেই সুকু। উত্তরটা সেই দিল—আমি ওকে ল্যাং মেরে ফেলে দিয়েছি মা। এই হল সুকুর স্বভাব। তার কাছে কোনও লুকোচুরি নেই। যা করে তা বলে। এই তো সেদিন হাতের আঙুলে গোলমতো মোটা একটা লাঠি খাড়া করে শোবার ঘরে ব্যালেনসিং অভ্যাস করছিল। লাঠিটা হঠাৎ বেকায়দা হয়ে সোজা গিয়ে পড়ল দেরাজ-আয়নাটার ওপর সপাটে। ভেঙে চুরমার। রুকুও সে-ঘরে ছিল। বহুবার ভাইকে বারণ করেছে—‘‘ওরে সুকু, ওরকম করিসনি। একটু আগে আর একটু হলেই আমার মাথাটা ফাটত।” সুকু শশানেনি, বলেছিল, “বিছানায় শুয়ে-শুয়ে সারাদিন বই পড়লেও ওরকম বিপদ একটু-আধটু হতেই পারে।” রুকু আর কিছু বলেনি। মাথায় আইসব্যাগের মতো একটা বালিশ চাপিয়ে সুকুর লাঠির হাত থেকে মাথা বাঁচাবার চেষ্টা করেছিল!

    কাচ ভাঙার ঝনঝন আওয়াজে মা যখন দৌড়ে এলেন, সুকু বললে, “সরি মা! অন্যায় হয়ে গেছে। লাঠিটা যে ওর ওপর পড়বে আমি বুঝতে পারিনি। বাড়িতে ছোট ছেলেমেয়ে থাকলে ওরকম একটু হবেই।” রাজ্যেশ্বরী এমন ছেলেকে কী আর বলবেন। বাবা শুনে বলেছিলেন, “হ্যা, বাপকা বেটা…আমিও ছেলেবেলায় ওর মতোই ছিলাম, সাহসী, বেপরোয়া, সত্যবাদী। এই তো চাই।”

    সেই দিনই ফকরু মিঞা বিকেলের দিকে এসে দেরাজের আয়নাটা নতুন করে লাগিয়ে দিয়ে গেল।

    রাজ্যেশ্বরী বোনাটা কোলের ওপর ফেলে দিয়ে বললেন, “তুই দাদাকে ল্যাং মারলি কেন? এখন পা মচকে এই যে বিছানায় পড়ে থাকবে কে দেখবে?”

    সুকু ভালমানুষের মতো মুখ করে বললে, “আমার অভ্যাস, মা। কী করব বলো?”

    “ল্যাং মারাটা তোর অভ্যাস? বলিস কী রে? তুই খেলতে গেছিস না ল্যাং মারতে গেছিস।”

    “তুমি জানো না মা, আমাদের গেম ইনস্ট্রাক্টর মিস্টার বেঞ্জামিন বলেছেন, ভাল ফুটবলার হতে হলে ভাল ল্যাং মারা শিখতে হবে। টুক করে এমন কায়দায় পা-টা চালাবে যেন সার্জেনের ছুরি। রেফারি ধরতে পারবে না, এমনকী যাকে মারলে সেও বুঝতে পারবে না। বল-ফল ছেড়ে চিতপাত হয়ে পড়ল, তুমি মেরে-মেরে বেরিয়ে গেলে। সেই কায়দাটাই মা দাদাকে দেখিয়েছি।”

    রুকু আর চুপ করে থাকতে পারল না। আর-একটা খালি বেতের চেয়ারে বসে ডান পা-টা সামনে বাড়িয়ে দিয়ে বলল, “তুই একটা কাওয়ার্ড। ব্যাকে খেলার তোর কোনও যোগ্যতাই নেই, তুই যেই দেখলি আমি কাটিয়ে গোললাইনে ঢুকে পড়েছি, সিয়োর গোল, পেছন থেকে সট করে ল্যাং মেরে দিলি। একে খেলা বলে না সুকু, একে বলে গুন্ডামি।”

    “কী বললি? কাওয়ার্ড? সুকু কাওয়ার্ড! তুই খেলার খও জানিস না। থলথলে ভুড়ি নিয়ে হোঁতকা হোঁদলকুতকুতের মতো ওই স্পিডে দৌড়লে ল্যাং মারতেই ইচ্ছে করে। আমি কাওয়ার্ড নই, ক্র্যাফটি।”

    রাজ্যেশ্বরী উঠে দাঁড়ালেন। রুকুর দিকে এগিয়ে যেতে যেতে বললেন, “বাঃ সুকু। তোমার ল্যাঙ্গোয়েজের খুব উন্নতি হয়েছে দেখছি। দাদাকে হোঁতকা বলছ, হোঁদলকুতকুত বলছ।”

    রাজ্যেশ্বরী রুকুর পায়ের কাছে উবু হয়ে বসলেন।

    সুকু বললে, “এসব কথা তুমি সেদিন আমাকে যে বাংলা বইটা উপহার দিলে সেই বইটা থেকে শিখেছি। বইটার পাতায়-পাতায় যেসব ছবি আছে তার মধ্যে দাদার ছবিও আছে। সেখানে এই গল্পটাও আছে মা—হোঁদলকুতকুতের বাবার আলকাতরার ব্যবসা ছিল। হোঁদল ঘামত আর তার বাবা টিনে ধরে ধরে বিক্রি করত।”

    “বইটা তোমাকে দিয়ে খুব ভুল করেছি বাবা। ভেবেছিলুম বাংলা শিখবে, এখন দেখছি কতকগুলো বাজে অ্যাডজেকটিভ শিখে বসে আছ।”

    বাইরে গাড়ি দাঁড়াবার শব্দ হল। বাবা ফিরলেন হাসপাতাল থেকে। সামনে আসছে ডাক্তারি ব্যাগ হাতে সুখন। পেছন পেছন আসছেন ডাক্তার মুখার্জি। লম্বা চওড়া সুপুরুষ মানুষ। মুখে সবসময় একটা হাসি লেগে আছে। বারান্দার কাছে এসে হাসতে হাসতে জিজ্ঞেস করলেন, “বাড়ির খবর? আরে বড়টা দেখছি মানুষ হয়েছে। চেয়ারে বসতে শিখেছে?”

    রুকু বললে, “গুড ইভনিং ফাদার!”

    “গুড ইভনিং বয়। কী হয়েছে তোমার পায়ে?”

    উত্তর দিলেন রাজ্যেশ্বরী, “সুকুর গুন্ডামির ভিকটিম। গোলের মুখে সুকু পেছন থেকে ল্যাং মেরে দিয়েছে।”

    “ফাউল হয়নি?”

    এবার উত্তর দিল রুকু, ‘কী করে ফাউল হবে বাবা! ও তো বলেইছে, বাবা যেভাবে হাতে ছুরি চালায়, ও সেইভাবে পায়ে ল্যাং চালায়।”

    ডাক্তার মুখার্জি হো হো করে হেসে উঠলেন, “বেড়ে বলেছে তো। তা তুই কীভাবে পড়লি।”

    “হাত পা দুমড়ে মুচড়ে ধপাস করে পড়ে গেলুম। আর ও বলটা ক্লিয়ার করে দিল।”

    “দেখি সরো, ও তুমি বুঝতে পারবে না, আমার কাজ আমাকে করতে দাও।”

    ডাক্তার মুখার্জি ছেলের মাকে সরিয়ে নিজেই উবু হয়ে বসলেন, “বেশ ফুলে উঠেছে রে। না, ভাঙেনি, মচকে গিয়েছে। ক’দিন একটু ভোগাবে। ও খেলতে গেলে একটু-আধটু হবেই, চিয়ার আপ মাই বয়। একটু গুলার্ড লোশন লাগাতে হবে।”

    রাজ্যেশ্বরী দেবী বললেন, “কাল থেকে তোমাদের দু’জনের ফুটবল খেলা চিরদিনের জন্যে বন্ধ।”

    “ও, নোনো,” ডাক্তার প্রতিবাদ করে উঠলেন, “ও ব্যবস্থা ঠিক হল না, এক্সকিউজ মি, খেলবে, রোজ খেলবে, তবে আলাদা টিমে নয়, একই টিমে, তা হলে আর ল্যাং মারতে পারবে না।”

    ‘সুকুকে তুমি চেনো না, তা হলেও ঠিক ল্যাং মেরে দেবে। ও কী বলেছে জানো, কাউকে ছুটতে দেখলেই ওর নাকি ভীষণ ল্যাং মারতে ইচ্ছে করে। উনি নাকি ল্যাং স্পেশালিস্ট। হ্যা, তোমাকে কী বলছে জানো, হোঁদলকুতকুতের বাবা।”

    সুকু তিরবেগে ঘর থেকে বেরিয়ে এল, “না বাবা, আমি তোমাকে বলিনি, আমি দাদাকে কেবল হোঁদলকুতকুত বলেছি।”

    “তা হলে দাদার বাবা কী হল?” রাজ্যেশ্বরী প্রশ্নটা রেখে ঘরে ঢুকে গেলেন।

    সুকু আধহাত জিভ কেটে মাথায় দু’ হাত চেপে ধরে বললে, “আমি ভেবে বলিনি বাবা।” তারপর দৌড়ে গিয়ে দু’ হাতে বাবার কোমর জড়িয়ে ধরে বললে, “বাবা, আমায় ক্ষমা করো।”

    ডাক্তার মুখার্জি হাত দিয়ে ছেলের মাথার নরম চুল এলোমেলো করতে-করতে বললেন, “পাগল ছেলে, একটা কথা জেনে রাখো, একজনের আনন্দ কখনও যেন আর-একজনের দুঃখের কারণ না হয়। খেলা মানে মারামারি নয়। দ্যাখো তো, দাদা এখন ক’দিন ভাল করে আর হাঁটতে পারবে না।”

    সুকুর মুখটা হঠাৎ করুণ হয়ে গেল। দাদার সামনে গিয়ে বললে, “তুই ওভাবে পড়ে যাবি, আমি বুঝতে পারিনি রে দাদা। নে, আমার কাঁধে ভর দিয়ে ভেতরে চল।”

    রুকুর একটা হাত সুকুর কাঁধে, সুকুর একটা হাত রুকুর কোমরে। দুই ভাই ধীরে ধীরে ঘরে ঢুকছে। ডাক্তার মনে মনে বললেন, ঈশ্বর আমি কত ভাগ্যবান!

    পড়াশোনার পর রাতের খাওয়া-দাওয়া। খাবার ঘরে লম্বা টেবিলে ধবধবে সাদা টেবিলক্লথ, ঝকঝকে সাদা চিনেমাটির প্লেট, কাঁটা চামচ। বাবুর্চি নিজামত একে-একে গরম-গরম সব খাবার এনে সাজিয়ে রাখছে। ডাক্তার মুখার্জির মুখে তখনও পাইপ। অল্প অল্প ধোঁয়া ছাড়ছেন। অন্য দিন রুকু আর সুকুর সারাক্ষণ বকবকানি চলে। আজ দু’জনেই চুপ। চুপ রুকুই। সুকু সন্ধে থেকে দাদার সঙ্গে অনেকবার কথা বলার চেষ্টা করেছে। রুকু তেমন সাড়াশব্দ করেনি। হুঁ হাঁ করে ছেড়ে দিচ্ছে। সুকু নিজের থেকেই গুলার্ড লোশন দিয়ে দাদার পায়ের পটি দু’বার ভিজিয়ে দিয়েছে। তাও রুকু ভীষণ গম্ভীর।

    সুকু তো বেশিক্ষণ চুপ করে থাকতে পারে না। সে বাবার সঙ্গেই নানা রকম কথা শুরু করেছে। যতক্ষণ খাওয়া চলল ততক্ষণই সুকু কাঠবেড়ালি সম্পর্কে হাজার রকম প্রশ্নে বাবার প্রাণ বের করে দিল। কাঠবেড়ালিকে ওরকম দেখতে কেন? ডিম হয় না বাচ্চা হয়? অত চটপটে কেন? পিড়িক পিড়িক করে ডাকবার সময় ন্যাজটা ওঠানামা করে কেন? কোথায় বাসা করে? বাসাটা দেখতে কেমন?

    রাজ্যেশ্বরী চামচে দিয়ে পুডিং কাটতে কাটতে বললেন, “আজ মাথায় কাঠবেড়ালি ঢুকেছে। কাল ঢুকেছিল টিয়া, সেটা উড়ে গেছে।”

    খাবার টেবিল থেকে কাঠবেড়ালি বসার ঘর পর্যন্ত এলেও সেতার আর গানে চাপা পড়ে গেল। শুতে যাবার আগে এ বাড়ির এইটাই নিয়ম। রেকর্ড প্লেয়ারে ঘণ্টাখানেক বাছা-বাছা রেকর্ড চলবে। কোনও দিন গান, কোনও দিন যন্ত্রসংগীত। ডাল্টনগঞ্জে আকাশ ছেয়ে রাত ঘন হচ্ছে। তারাদের জ্যোতি বাড়ছে। মিষ্টি হাওয়ায় ইউক্যালিপটাসের গন্ধ ভাসছে। গানের সুরে, চার্চের ঘণ্টার আওয়াজে, রাতজাগা পাখির ডাকে পাহাড়ের গা বেয়ে, বনস্থলীর মধ্যে দিয়ে ঘুম আসছে স্বপ্ন নিয়ে।

    দু’ভাই একই ঘরে দু’দিকে দুটো খাটে শোয়। অন্য দিন শুয়ে শুয়ে ঘুম না আসা পর্যন্ত দু’জনে বকর-বকর করে। সুকুই শুরু করে। কখনও পড়ার কথা, কখনও খেলার কথা, কখনও বইয়ে পড়া কোনও অ্যাডভেঞ্চারের কথা। ইয়োরোপ, আমেরিকা, অস্ট্রেলিয়া, আফ্রিকার সব পথ-ঘাট-পাহাড়-পর্বত-বন-জঙ্গল সুকুর ভীষণ চেনা। মশারির মধ্যে ঢুকে বালিশে মাথা রেখে সুকু বললে, “জানিস দাদা, আমাদের বাগানের পুবদিকে বাদাম গাছের তলায় কাঠবেড়ালির বাসা হয়েছে রে। কাল সকালে তোকে দেখাব।”

    রুকু কোনও জবাব দিল না।

    সুকু বললে, “এখনও কোনও বাচ্চা হয়নি রে। আমি গর্তের মধ্যে এতখানি হাত পুরে দিয়েও কিছু দেখতে পেলুম না। খালি একগাদা বাদাম পেলুম।”

    অন্য দিন হলে রুকু ভাইকে সাবধান করে দিত, “যেদিন সাপে কামড়াবে সেদিন তোর সাহস বেরিয়ে যাবে।” আজ কিন্তু কিছুই বলল না। চুপ করে পাশ ফিরে শুয়ে রইল।

    সুকু মশারি তুলে বেরিয়ে এল। রুকুর মশারির মধ্যে মাথা ঢুকিয়ে একটা হাত দাদার কপালে রেখে জিজ্ঞেস করল, “তুই আমার সঙ্গে কথা বলছিস না কেন রে দাদা? রাগ হয়েছে?”

    রুকু আবার বেশিক্ষণ রেগে থাকতে পারে না। তার ফেরানো মুখ থেকেই উত্তর এল, “হুঁ।”

    “রেগে গেলি কেন?”

    রুকু বললে, “তুই সবসময় বন্ধুদের সামনে। আমাকে ল্যাং মারবি, মোটা বলবি, অপদস্থ করবি। কেন আমি কি তোর ভাই নই।”

    সুকু একটু চুপ করে ভাবল। তারপর বললে, “আমি তো কাউকে ছাড়ি না, আমি সবাইকেই তো ওরকম করি।”

    “তারপর তুই সেদিন কোন ফাঁকে চুলে চুইংগাম আটকে দিয়েছিলি। আমি টের পাইনি। তিনদিন পরে মা চুল আঁচড়াতে গিয়ে দেখতে পেয়ে কাঁচি দিয়ে এক খাবলা চুল কেটে দিলেন। জানিস আমার কোঁকড়া চুল। কিছু ঢুকে থাকলে দেখা যায় না। সেই থেকে মাথার মাঝখানে একটা টাক হয়ে আছে।”

    “চুইংগামের শেষটা যে চুলে আটকাতেই ইচ্ছে করে রে দাদা। আমি তো দাদার চুলেই আটকেছি রে, দাদা কি কারও পর। তুইই বল।”

    “হ্যাঁ, এর পর তুই আমার মুখে চুনকালি মাখিয়েও ওই একই কথা বলবি—আমার দাদার মুখেই তো মাখিয়েছি! এখন তুই কেমন স্কুলে যাবি, খেলার মাঠে যাবি, আর আমি বাড়িতে ঠ্যাং তুলে শুয়ে থাকব, কত দিন কে জানে!”

    সুকু মাথাটা বের করে নিয়ে মশারিটা গুঁজে দিল। দরজা খুলে বেরিয়ে গেল ঘরের বাইরে।

    সুকু বেরিয়ে যেতেই রুকু বিছানায় উঠে বসল। ওই পা নিয়ে তার আর হাঁটতে ইচ্ছে করছে না, তা না হলে সে সুকুর পিছু নিত।

    কিছুক্ষণ পরেই সুকুর গলা পাওয়া গেল, “মা, বাবাকে ডাকো।”

    তারপর রুকুর কানে এল মা আর বাবা দু’জনেরই গলা। মা বলছেন, “ইস, কী ভীষণ রক্ত বেরোচ্ছে রে।”

    বাবা বলছেন, “একদম উতলা হবে না, আমাকে দেখতে দাও। আজকের দিনটাই খারাপ। তুমি বরং ইঞ্জেকশানের সিরিঞ্জ তৈরি করে। একটা এ টি এস দিতে হবে।”

    রুকু খোঁড়াতে খোঁড়াতে বেরিয়ে এল। বাথরুমের সামনে সুকু। ডান পায়ের বুড়ো আঙুলটা থেঁতলে গিয়ে রক্ত পড়ছে। সুকু সোজা দাঁড়িয়ে আছে। সারা মুখে দুষ্টু-দুষ্টু একটা হাসি।

    বহু দিন চলে গেছে। রুকু আর সুকু এখন কত বড়! শুধু বড় নয়, নামী মানুষ, প্রতিষ্ঠিত মানুষ। রুকু থাকে মাদ্রাজে, মস্ত বড় ইঞ্জিনিয়ার। সুকু বিশাল বড় ডাক্তার, থাকে দিল্লিতে। যেখানেই থাকুক বছরে একবারে শীতকালে ডিসেম্বর মাসে দু’ ভাই এসে মেলে ডাল্টনগঞ্জে তাদের জন্মস্থানে, ছেলেবেলার সেই বাংলো বাড়িতে। বাড়িটাকে তারা খুব যত্নে রেখেছে। রং, পালিশ, ফার্নিচার, বিছানা, সাজানো বাগান সব সেই আগের মতো আছে। একজন কেয়ারটেকার আছেন। নেই কেবল বাবা আর মা। দুটো বিশাল ছবি ঝুলছে বসার ঘরের দেয়ালে।

    সন্ধের মুখে সবাই বসেছে বসার ঘরে। রুকুবাবু, সুকুবাবু, তাদের স্ত্রী, ফুটফুটে ছেলেমেয়েরা। প্ল্যান হচ্ছে, আগামিকাল দু’খানা ঝকঝকে নতুন গাড়ি নিয়ে তারা জঙ্গলে যাবে শিকারে। সুকুর ডান পা-টা বাঁ পায়ের ওপর তোলা। বুড়ো আঙুলের নখটা একটু গুটিয়ে পাকিয়ে আছে। রুকুর সেদিকে নজর পড়তে বলল, “সুকু, তুই তো এত বড় ডাক্তার, আমার হাতের পোড়া দাগটা ভাল করে দিলি, তোর পায়ের নখটাকে মেরামত করতে পারলি না?”

    সুকুর চেয়ারের পেছন দিকে দাঁড়িয়ে দু’ হাত দিয়ে গলা জড়িয়েছিল রুকুর বড় মেয়ে। সে জিজ্ঞেস করল, “কাকামণি, আঙুলটায় কী হয়েছিল তোমার?”

    “শোধবোধ করেছিলাম রে, মা।”

    “সে আবার কী?”

    রুকু বললে, “শোন তা হলে। তখন আমরা তোদের মতো ছোট। ওই যে সেদিন আমাদের স্কুলটা তাদের দেখালুম, সেই স্কুলের মাঠে হচ্ছে ফুটবল খেলা। গোলের মুখে বল নিয়ে কোনওরকমে ঢুকছি, তোদের কাকামণি পেছন দিক থেকে বলটা কেড়ে নিতে গেল। ছেলেবেলায় আমি একটু মোটাসোটা থলথলে ছিলুম। পড়ে গেলুম ধড়াস করে। ব্যাস। পা মচকে কুপোকাত। এইবার আমার পাগলা ভাইয়ের কেরামতি শোন। তিনি করলেন রাত দশটার সময় আমার পা মচকে দেবার প্রায়শ্চিত্ত—সোজা বাথরুমে ঢুকে জলভর্তি একটা বালতি দু’ হাতে করে ওপরে তুলে পায়ের আঙুলটা তার নীচে রেখে, দিল ছেড়ে। দু’জনেই পায়ে ব্যান্ডেজ বেঁধে পড়ে রইলুম বিছানায় দিন পনেরো। এইরকম ভাই হয় না রে।”

    সুকু বললে, “এরকম দাদাও কি কারুর হয়?”

    রুকু বললে, “তার আগে বলো, কত ভাগ্য করলে তবেই না ওরকম বাবা মা পাওয়া যায়! কত জন্মের তপস্যা।”

    সুকু বললে, “মনে আছে দাদা, বাবা সেই চেয়ারটায় ঠিক তুই যে ভাবে বসে আছিস সেই ভাবে বসে থাকতেন। তোকে অনেকটা বাবার মতো দেখতে হয়েছে।”

    রুকু ধরাধরা গলায় বলল, “আর ওই চেয়ারটায় বসতেন মা। কী সুন্দর দেখতে ছিলেন।”

    কারুর মুখে আর কোনও কথা নেই। সেই একই ঠান্ডা হাওয়া পাহাড় ভেঙে, বনপথ পেরিয়ে, রাতজাগা পাখির ডাক নিয়ে ভেসে আসছে। সেই ঘর, সেই চেয়ার, সেই পড়ার টেবিল, সেই বাথরুম, সব, সব, ঠিক যেমন ছিল তেমনই আছে।

    কেবল রুকু আর সুকু বড় হয়ে গেছে।

    মে ১৯৭৯

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43 44 45 46 47 48 49 50
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleআনন্দমেলা হাসির গল্পসংকলন – সম্পাদনা : পৌলোমী সেনগুপ্ত
    Next Article পূজাবার্ষিকী আনন্দমেলা গল্পসংকলন – সম্পাদনা : পৌলোমী সেনগুপ্ত

    Related Articles

    পৌলোমী সেনগুপ্ত

    আনন্দমেলা রহস্য গল্পসংকলন – সম্পাদনা : পৌলোমী সেনগুপ্ত

    September 18, 2025
    পৌলোমী সেনগুপ্ত

    পূজাবার্ষিকী আনন্দমেলা গল্পসংকলন – সম্পাদনা : পৌলোমী সেনগুপ্ত

    September 17, 2025
    পৌলোমী সেনগুপ্ত

    আনন্দমেলা হাসির গল্পসংকলন – সম্পাদনা : পৌলোমী সেনগুপ্ত

    September 17, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Our Picks

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }