Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    মাহতাব উদ্দিন : জীবন ও গান

    May 18, 2026

    পরমপুরুষ শ্রীশ্রীরামকৃষ্ণ ২ – অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত

    May 18, 2026

    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের প্রেমের গল্প – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    May 16, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    আনন্দমেলা গল্পসংকলন – সম্পাদনা : পৌলোমী সেনগুপ্ত

    পৌলোমী সেনগুপ্ত এক পাতা গল্প603 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    নিখোঁজ চারু – অতীন বন্দ্যোপাধ্যায়

    নিখোঁজ চারু – অতীন বন্দ্যোপাধ্যায়

    চারু মহাজন বেশ কিছুদিন বেপাত্তা । নানা জনে নানা কথা বলল। মহাজনের ধারবাকি মেলা। তাগাদার চোটে দেশান্তরী।কেউ নাকি দেখেছে রাতে শ্মশানের দিকটায় যেত। শ্মশান থাকলে মন্দির থাকে, মন্দির থাকলে সাধু থাকে, এমনই জানতাম। আমাদের গাঁয়ে নদী আছে, শ্মশান আছে, মন্দিরও আছে।তবে মন্দিরে কোনও সাধু থাকতেন না।কবে সাধু হাজির, কবে মহাজন সাধুর দর্শন পেল, আর বিবাগি হওয়ার বাসনা জাগল, বুঝতে পারলাম না। চারু মহাজন আর ফিরে এল না।চর আসমানদিপুরে কপালির মামার বাড়ি।কপালির মামার বাড়ির দেশ থেকেও মামারা এসে গেল।না, কোনও খবর নেই! কপালির বাবা চারু মহাজন শেষে চারু ফটাস হয়ে গেল।

    কপালি কান্নাকাটি করে।তা ছোট্ট মেয়ে কপালি, বাপের জন্য তো কষ্ট হবেই।ওর কাকারা প্রবোধ দেয়। প্রতিবেশীরাও। আমরাও দিই।দিতেই হয়। এমন জলজ্যান্ত একটা মানুষ দেশ ছাড়া, বাড়িছাড়া, খায় কী, থাকে কোথায়—ভাবনা তো হবেই! কপালির মা অন্নজল ত্যাগ করেছিল।পরে সবার সুবিবেচনায় খেতে-পরতে রাজি হয়েছে। কপালির মাকে আমরা ‘বিধুখুড়ি’ ডাকি। বিধুখুড়ি নদীর ঘাটে স্নান করতে এলেই আমাদের দেখতে পায়। কপালিকে পাঠিয়ে দেয়।কপালি দৌড়ে আসে।ওর দু’বিনুনি ঝোলে।বড় বড় চোখে তাকায়, আর হাঁপায়।বলে, ‘মা ডাকছে।’

    আমাদেরও কর্তব্য আছে।গাঁয়ের ছেলে, পূজাপার্বণে চারু মহাজন রাবণ বধের পালা আনত গাঁয়ে।টাকা-পয়সা দু’হাতে খরচ করতে পারত। বাজারের দিকটায়, মতিহারি তামাকের দোকান, পাটের আড়ত, মশলাপাতির দোকান, হাঁড়িপাতিলের দোকান—সব চারু মহাজন করেছে। ভাইদের দোকানে-দোকানে বসিয়ে দিয়েছে।সেই মানুষ বিবাগি হয়ে গেলে কার না খারাপ লাগে! সবচেয়ে খারাপ লাগে, কেউ চারু মহাজনের বাড়ি কোন দিকে বললে, এক কথা, ‘চারু ফটাসের বাড়ি! ওই ওদিকটায়।বাঁশতলা পার হয়ে দিঘির পাড় ধরে হেঁটে চলে যান, চৌখুপি জানলার টিনকাঠের ঘর দেখলেই বোঝবেন, চারু ফটাসের বাড়ি।’

    এমনকী ‘এ-কার মেয়ে রে বাবা! গাছতলায় বসে কাঁদছে !’যেই থাকুক, আমরা থাকলেও বলি, ‘ও, চেনেন না, চারু ফটাসের মেয়ে কপালি।বাপের কথা মনে হলেই গাছতলায় বসে কাঁদে।’

    আসলে ‘ফটাস’ কথাটা আমাদের তিনুকাকাই চালু করেছেন।তিনিই ছোটকাকাকে খবর দিয়েছিলেন, ‘শুনছ ছোড়দা, চারু মহাজন ফটাস!’

    ছোটকাকা জমিজমা দেখতে বের হচ্ছিলেন, হঠাৎ তিনুর কথায় তিনি কিছুটা বিভ্রমে পড়ে গিয়ে বিচলিত বোধ করলেন, ‘ফটাস কী রে!’

    ‘ফটাস বোঝো না।নিখোঁজ।’

    ‘কবে থেকে?’

    ‘পরশু থেকে।’

    ‘কে বলল?’

    ‘বেচু সাহা বলল।’

    অবশ্য চারু মহাজনের বাড়ি আমাদের গাঁয়ে— তবে লম্বা গাঁ, প্রায় পরগনার মতো। দু’ক্রোশ লম্বায়। নদীর বাঁক আছে বলে, চরটা খুব কাছে হয়। নদীর চর ধরে উঠে গেলে বেশি দূর না। তিনুকাকা চরের দিকটায় মাছের খোঁজে গিয়েছিলেন। মাছের নেশা প্রবল। চরেই নাকি বেচু সাহা বলেছে, ‘তিনুকর্তা নাকি, শুনছেন খবর, চারু মহাজনের দু’দিন হল খোঁজ নাই। গদিতে নাই, শহরেও যায়নি, বাড়িতে শোক…একবার ছোটকর্তারে খবর দেবেন।’

    দু’দিন বোধ হয় চেপেচুপে ছিল, যদি ফিরে আসে—কিন্তু না আসায় বাড়ির মানুষদের ধৈর্য শেষ। ফেটে বের হয়ে গেছে খবরটা। কোথাও যাবে বলেও বের হয়নি। গদি থেকে ফিরে রোজ যেমন, নদীর ঘাট থেকে হাত-মুখ ধুয়ে মালা জপ করতে বসে, তাই বসেছিল। রাতে বিধুখুড়ি খেতে দিয়েছে। কপালি বাপের পাতে বসে খেয়েছে। বিন্দুমাত্র সন্দেহ ছিল না। সকালে খোঁজখবর করারও কারণ হয়নি। সকালে সে নিজের ধান্দায় ঘোরে, গদিতে গিয়ে বসে থাকে। ফড়েরা আসে। কথাবার্তা হয়। পাটের গুদামে পাট ঝাড়াই-বাছাইয়ের কাজ থাকে বলে, সর্বক্ষণ কাজ ছাড়া কিছু বোঝে না। সেই লোক, নিখোঁজ হলে ফটাস হয় টের পেলাম তিনুকাকার কথায়। কপালিকে তিনুকাকাও স্নেহ করেন। মেলায় বান্নিতে গেলে কপালি লগ ধরবেই। কাকা নিজেই গিয়েছিলেন—আমরাও। কাকার এক কথা—‘চারু, ফটাস! গেল কোথায়!’

    তা সেই ফটাস চারুকে নিয়ে মাসখানেক আমাদেরও আহার-নিদ্রার কথা মনে ছিল না। তিনুকাকা আচমকা কোনও বিদঘুটে খবর-টবর পেলেই বের হয়ে পড়তেন। তা দামোদরদির বাজারে একজন কবিরাজ এসেছেন। শেকড়বাকড় দিচ্ছেন। মাথায় ফেজটুপি, গায়ে আদ্দির পাঞ্জাবি। দেখতে চারু মহাজনের মতো। আর যায় কোথায়! খবরের আগে আগে আমরা দামোদরদির বাজারে গিয়ে শুনি লোকটা হাওয়া। নদীর পাড় ধরে কোথায় হেঁটে চলে গেছে!

    দেশটা নদীনালার বলে, দুর্গম রাস্তাঘাট। আর গভীর বনজঙ্গলেরও প্রাচুর্য আছে। জঙ্গলের ভেতর যদি কুটির নির্মাণ করে সাধুসন্নেসি হয়ে যায়! আমাদের মহাজনকাকা যদি মনে করে তার ইহকাল পাটের লাছি গুনে গেল, পরকালের জন্য থাকল কী— ভেবে যে-কোনও তীর্থে চলে যায়নি কে বলবে!

    নানা জনে নানা কথা বলতে থাকল।

    কিছু কু-কথাও চাউর হতে থাকল।

    নদীর পাড়ে লাশ। কার লাশ খোঁজো। মহাজনকাকার লাশ হয়ে থাকার প্রবৃত্তিই হবে না। তেমন মানুষই তো নয়। ধর্ম আর দুর্মতি দুইই তার সম্বল। কপালি সঙ্গে সঙ্গে ঘোরে। সেই জানে তার বাবার মতিভ্রম যতই হোক, তাকে দেখলে স্থির থাকতে পারবে না।

    আমরা নদীর পাড় ধরে হাঁটি। কপালি দৌড়য়। বিধুখুড়ি একদিন ডেকে খবর দিল, চরে কে নাকি রাতে ঘোরাঘুরি করে। ঠিক মহাজনের মতো! জ্যোৎস্না রাতে লোকজন পাঠিয়ে খুঁজেছে। কিন্তু না, কেউ না। বিধুখুড়ি সর্বক্ষণ যদি কাকার কথা ভাবে, জ্যোৎস্না রাতে চরের মধ্যে ফটাসকাকাকে দেখতেই পারে। তা কালো, নধর চেহারার ফটাসকাকা, বেটেখাটো। গলায় তুলসীর মালা। গালে চাপদাড়ি। গায়ে ফতুয়া, মাথায় লম্বা টিকি। টিকিতে হলুদ করবী ফুল বাঁধা থাকত। সকালে কপালির কাজই ছিল শুদ্ধবস্ত্রে করবী ফুল তুলে আনা। তামার পাত্রে ফুলটি। নদীর ঘাট থেকে উঠেই সূর্যপ্রণাম। তারপর চোখ খুললে, সামনে মা মহামায়া। তামার পাত্রে করবী ফুল। সেই মা মহামায়াকে ফেলে দেশান্তরী হয়ে থাকা যে খুব বেশি দিন সম্ভব না, আমরা বুঝি।

    এই এক আশা ছিল। কিন্তু আশা কুহকিনী। তবে তিনুকাকা ছাড়ার পাত্র নয়। রানির বাবা হারান পাল আর বশিরকে দিয়ে বোঝা গেছে। শেষ পর্যন্ত গুপ্ত খবরটি ফাঁস করা তিনুকাকার পক্ষেই সম্ভব।

    খবর রটে গেল। ঢোল পিটিয়ে দেওয়া হল হাটে। উদ্ধবগঞ্জ থেকে হ্যান্ডবিল ছাপিয়ে আনা হল। কপালির কাকারা হাটে-বাজারে হ্যান্ডবিল বিলি করতে বের হয়ে গেল। বগলে ছাতা, কেউ যায় উত্তরে, কেউ যায় দক্ষিণে। নদী বলতে মেঘনা। আর ওদিকে বিশ-ত্রিশ ক্রোশ দূরে শীতলক্ষ্যা। তার ভেতর যত গ্রামগঞ্জ সব জায়গায় হ্যান্ডবিল বিলি করেও যখন পাত্তা পাওয়া গেল না, তখন কপালির মা কাঁদতে বসল।

    নদীর ঘাটলায় বসে শোকার্ত কান্না। শুনতে কাঁহাতক ভাল লাগে! কপালিও বিধুখুড়ির গলা জড়িয়ে দোহারে লেগে যায়। আর কান্না তো সংক্রামক ব্যাধি! আমাদেরও কাঁদতে ইচ্ছে করে। কপালিকে ডাকি, ‘এই, তুই কীরে। কাকা ঠিক ফিরে আসবে। মরাকান্না জুড়ে দিলি!’

    তিনুকাকাও ধমক দিলেন ঘাটে গিয়ে, ‘তা বউঠান, আপনি যেমন! মানুষটা সাধুসন্ত যদি হয়ে যায়, তবে তা আর কতক্ষণ! পাটের দর উঠছে, বিষয়ী মানুষ খবর পেলে লোটা-চিমটে ফেলে দেখবেন চলে আসবে। মরাকান্না শোভা পায়!’

    বিধুখুড়ির হঠাৎ কী মনে হল, কান্না থামিয়ে বলল, ‘আমি যে তিনু তোমার দাদাকে অকম্মার ঢেঁকি বলেছি! সেই রাগে ঘর ছেড়ে চলে গেল।’

    ‘অকম্মার ঢেঁকি কেন!’

    ‘কাজকাম ছাড়া লোকটার মাথায় কিছু নাই। মামলা-মোকদ্দমা ছাড়া মাথায় কিছু নাই। আমার একজোড়া দুল করার কথা, তার নাকি মনেই থাকে না। তা রাগ হয় না! আমি কেন যে মুখ ফসকে বলে ফেললাম, অকম্মার ঢেঁকি। মনে তো খটকা লাগবেই।’

    তার পরই ফের কান্না জুড়ে দিল বিধুখুড়ি। বলতে থাকল, ‘যে করে পারো তারে ধরে আনো। যে খবর দিতে পারবে, তার বখশিশ মিলবে।’

    তিনুকাকা বলল, ‘কত টাকা উল্লেখ করব?’

    ‘কত টাকা বখশিশ দিলে তোমার দাদার খোঁজ পাওয়া যাবে মনে হয়।’

    ‘তা হাজার। হাজার হলে, অনেক টাকা। এক হাজার।’

    এক হাজার টাকা সোজা কথা না! এক হাজার টাকায় কত কিছু কেনা যায়। আবার হ্যান্ডবিল, আবার বিলি। কপালির কাকারা দাদার জন্য সর্বস্ব পণ করতে রাজি। বুদ্ধি, পরামর্শ, জমিজিরাতের বন্দোবস্তি কারবার সহ, পাটের গুদাম, আখের খেত সব দাদার মাথা থেকে উৎপত্তি। দাদা না থাকলে সে বিদ্যেও নেই বিষয়আশয় ধরে রাখে। হাজার টাকা যায় যাক। দরকারে সব বাজি রাখতে রাজি, দাদা ফিরে এলে আবার সব ঠিকঠাক। পুষিয়ে যাবে সব।

    তিনুকাকার কিছুটা হাতটানের স্বভাব আছে। ঠাকুমার ভাণ্ডার থেকে এটা ওটা সরান। তাঁর মুখে কত দিগ্‌বিজয়ের কাহিনি—বাড়ি এসে উদয় হলেই আমাদের অনেক মজা। কাকার মুখের ওপর কথা বলারও কেউ নেই। ঠাকুমার একটামাত্র ভাই, তাঁর একটামাত্র ছেলে, পিসির বাড়ি আদর খেতেই আসেন। এসে যদি দেখেন আমাদের ব্যাজার মুখ, তবে ঠাকুমার মাথায় যেন কাগেবগে নোংরা ফেলে। ঠাকুমা আমাদের খুশি রাখার সব রকমের বন্দোবস্ত করেন। ভাইপোটা না আবার আমাদের ব্যাজার মুখ দেখে পালায়। দুধের সর, মিষ্টি আম, কনক ধানের চাল দিয়ে পাটিসাপটা, চিতই পিঠে, জমির আখি গুড়, তারপর শীতের দিন হলে তো কথাই নেই— মোচার ঘন্ট, বড় পাবদা মাছের ঝোল, মাষকলাইয়ের বড়ি আর ধনেপাতা সহ ঝোল, নানা কিসিমের রান্না। বউরা তখন চোপা পর্যন্ত করতে সাহস পায় না। তিনুঠাকুর বাড়িতে প্রায় গুরুঠাকুরের শামিল। ছোটকাকা পর্যন্ত কাকাকে সমীহ করে চলে। বললেই হল, ‘ধুস, থাকে! থেকে কচু হবে। যেমন আমার পিসি তার তেমনই বউরা। ছেলে ক’টাকে চোরের মতো গৃহবন্দি করে রাখা—সহ্য হয়! কেবল পড়া, স্কুল, পড়া, শিক্ষকের বেত্রাঘাতে জর্জর—সহ্য হয় চোখে। চললাম।’

    সবাই পড়ে যায় মহাফাঁপরে। ঠাকুমার চোপার কাছে, সবাই জব্দ। সেই আতঙ্কে, তিনুকাকার সাতখুন মাপ।

    তিনুকাকা বলেন, ‘পারবি?’

    আমরা বললাম, ‘কী পারব।’

    ‘পারবি দনদির বাজারে যেতে!’

    ‘কী হবে গিয়ে!’

    ‘লোক ধরে আনবি। ছদ্মবেশী মনে হলেই খবর দিবি।’

    ‘দিলে কী হবে?’

    ‘হবে কচু। বুঝিস না, হাজার টাকা। খবর দিতে পারলে, হাজার টাকা। খোঁজাখুঁজির টাকাও দেবে। খরচের বহর কী কী আছে দ্যাখ। রাস্তাঘাটের খরচ, থাকার খরচ, খাওয়ার খরচ, কত পয়সা বোঝ।’ ইতিমধ্যে খবর এসে গেল—দেখা গেছে, উদ্ধবগঞ্জের হাটে একটা লোক সাঁকোর ওপর দাঁড়িয়ে থাকে। কথা বলে না। দেখতে চারুকাকার মতো।

    বিধুখুড়ি বাড়ি এসেই বলল, ‘শিগগির চলে যান তিনুঠাকুর। সাঁকোর ওপর দাঁড়িয়ে আছেন। বাঁশের সাঁকো। ভেঙে পড়লে সব যাবে।’

    ছুটলাম। তা একদিনের পথ নৌকায়। গিয়ে আর তার খোঁজ পাওয়া গেল না। খরচপত্রের হিসাব দিলেন—তা পঁয়তাল্লিশ টাকা দশ আনা। মোট খরচ। মাঝিমাল্লার খরচ আলাদা। আমরা দু’-তিনদিন নৌকায় থাকলাম। নদীর জলে সাঁতার কাটলাম। নৌকার পাটাতনে রান্না। ইলিশ মাছের ঝোল আর ডিম ভাজা। গরম ভাত, পদ্মপাতায়। খোলা আকাশ মাথার ওপর নদীর জলে নৌকা, আনারস কাঁঠালের নৌকা থেকে কাঁঠাল আনারস। জলে জলে নৌকা যায়। গজারির বনের ভেতর নৌকা ঢুকে যায়। মাঝে মাঝে দ্বীপের মতো। আমরা সাঁকোর খোঁজে গিয়ে খবর পেলাম, লোকটা গোলাম মিঞার মসজিদে উঠে গেছে। কেউ বলল, সে থাকে মাঝের চরের বিলে। তা বিলে নেমে শুনি, একটা লোক দুটো কুকুর সঙ্গে নিয়ে নৌকায় উঠে গেছে। লোকটা নাকি চারুকাকার মতো। তা কুকুর কেন? ধর্মরাজ তো একজন, দুটো কুকুরের মর্মার্থ উদ্ধার করা গেল না। একভাবে আট-দশ দিন ফের ঘুরে আসা গেল। চারু ফটাসের খবর পাওয়া গেল না।

    কাকা ফিরে এসে প্রমাদ গুনলেন। কপালি ছুটে এসেছে—কাকাকে বলেছে, এক গণ্ডা চারু ফটাস বাড়িতে হাজির। নানা জায়গা থেকে লোকজন চলে আসছে চারু ফটাসের নামে। সঙ্গে সবার একজন চারু ফটাস। কপালির কাকারা গলদঘর্ম। বেছে চারজনকে রেখে দিয়েছে। যদি তারা চারু ফটাস হয়! তা কাকার যদি গালে দাড়ি থাকে, আর দাড়ি যদি কামিয়ে দেশে ফেরে—তবে চিনতে তো অসুবিধা হবেই। বিধুখুড়ি বিয়ের পিঁড়িতে গাল সাফ দেখেছিল, তারপর যে কী হল, ধর্ম এবং দুর্মতি দুই চারু মহাজনকে কাবু করে ফেলল। দু’নম্বরি কাজকারবার করতে গেলে গলায় তুলসীর মালাটি চাই। সাধু-সন্নেসি চেহারা চাই। মুখে, ‘হরি বল, জয় হরি’ ছাড়া কথা বলে না। কাকার এই ছদ্মবেশ খুলতে বিধুখুড়ি হিমশিম খেয়েছে। এখন এক গণ্ডা ছদ্মবেশীকে বৈঠকখানায় বেছে রেখে দেওয়া হয়েছে। কারও গায়ে গিরিমাটি রঙের আলখাল্লা, কেউ জটাজুটধারী। তা মচ্ছব চলছে। সকালে সবরি কলা, দুধ, মুড়ি। দুপুরে খিচুড়ি, পায়েস, বেগুনভাজা। রাতে মুগের ডাল, পটলভাজা, ছানার কালিয়া। বিধুখুড়ি ভাণ্ডার খুলে দিয়েছে। কপালি ঘরে ঢুকছে, বের হচ্ছে। কাকারা সতর্ক প্রহরায় আছে। তিনুকাকা না ফিরলে কাউকে ছাড়া হবে না।

    কাকা আমাদের ডেকে বললেন, ‘ধন্দে পড়া গেল।’

    ‘কী ধন্দ কাকা!’

    ‘তোদের মাথায় সত্যি গোবর পোরা। বুঝিস না তোর তিনুকাকার সমূহ বিপদ! হাজার টাকা বেহাত!’

    তারপর প্রশ্ন, ‘তুলসীর মালা আছে?’

    ‘হ্যাঁ, আছে।’

    ‘বেঁটে গাট্টাগোট্টা দেখতে?

    ‘হ্যাঁ, তাই।

    ‘কেন যে চারু ফটাস ধর্ম এবং দুর্মতি বজায় রাখতে গিয়ে দাড়ি রাখল, টিকি রাখল, করবী ফুল শিখাগ্রে ঝোলাল! এতে কি বেশি সুবিধা!’ প্রশ্ন করলাম।

    ‘টিকি আছে কি না বল?’

    ‘তিনজনের আছে। একজনের নেই।’

    ‘নেই কেন!’

    ‘তা কী করে বলব!’

    ‘চল তো! চোরের ওপর বাটপাড়ি। দলে দলে চারু ফটাস সেজে চলে আসছে। দাড়ি গালে থাকলে বোঝাও দায়! আঁব আছে কপালে?’

    ‘একজনের আছে। তিনজনের নেই। আরও দু’জন আসছে। চারু ফটাস মোট ছ’জন। বাছাবাছির ঝামেলা।’

    তিনুকাকা কপালিদের বাড়ি ঢুকলেন। গাঁয়ের আরও মানুষজন সঙ্গে। কেউ এসে উদয় হলেই লোক ভেঙে পড়ে মজা দেখার জন্য। সবাই মৌনীবাবা। শুধু জপ-তপ। চিমটা বাজানো। কেউ কথা বলে না। মহা দায়। বিধুখুড়ি বৈঠকখানায় চুপি দিয়ে একবার দেখে যায়। তার এক কথা, ‘মনে তো লয়।’

    মনে লয় মানে, হতে পারে।

    তিনুকাকা খেপে গেলেন। ‘মনে তো লয় মানে! চিনতে পারছেন না। মচ্ছব লাগিয়ে দিয়েছেন। সব ক’টাকে মেরে না তাড়াচ্ছি তো!’

    বিধুখুড়ি তিনুকাকার প্রায় পায়ের কাছে লুটিয়ে পড়ল, ‘না না, তিনুঠাকুর, দোহাই, সাধুসন্ত মানুষ, বিভূতির অন্ত নাই। তিনি যে নানা বেশে হাজির হননি কে বলবে! আছে যখন থাক। মেজাজ প্রসন্ন হলে স্বরূপে দেখা দেবেন। রোজ ঠাকুরকে ডাকছি, আমার বেয়াদপির অন্ত নাই ঠাকুর। স্বামী হল গে সতীর পরমায়ু—কেন বুঝছেন না। প্রসন্ন হলে স্বরূপে প্রকাশ পাবেন।’

    তিনুকাকা বললেন, ‘হয়ে গেল!’

    ‘কী হয়ে গেল কাকা!’

    আমাদের বাইরে টেনে নিয়ে গেলেন। বললেন, ‘চার চার হাজার টাকা গচ্চা! বউঠানকে ঠকিয়ে চার চার হাজার টাকা গায়েব। বোঝো এবার!’

    বড়দা বলল, ‘আমরা তবে চারু ফটাস সেজে চলে আসি। আমরা চার ভাই—হবে না! চার চার হাজার টাকা, সোজা কথা!’

    কাকা থম মেরে থাকলেন! কী ভাবলেন! নিজের ট্যাঁক থেকে পয়সা খরচ করে হ্যান্ডবিল ছাপালেন। বাজার-হাটে বিলি করতে থাকলেন—তাতে একটাই খবর। ‘চারুদা ফিরে এসো। তুমি ফটাস হয়ে গিয়ে ভাল কাজ করোনি! চারু মহাজন সেজে সবাই চলে আসছে। তোমার সব গায়েব।’

    মাসাধিক কাল এই চলল। তারপর এক রাতে আমাদের বৈঠকখানায় কে কড়া নাড়ে! কাকা হ্যারিকেন জ্বালিয়ে ধড়ফড় করে উঠে বসলেন। আমাদের ডেকে তুললেন। দরজা খুলে হ্যারিকেনের আলোতে দেখি, মাথা ন্যাড়া, গাল সাফ, বেঁটেখাটো মানুষ, তুলসীর মালা গলায় দাঁড়িয়ে কে এক মহান্ত। বগলে পুঁটলি। বলল, ‘চিনতে পারছ ঠাকুর?’

    কাকার এক কথা, ‘না।’

    ‘আমি চারু। চারু মহাজন। দেশে ফিরে হাটেবাজারে কী সব খবর পেলাম। বাড়িতে চারজন চারু নাকি হাজির! আরও দু’জন আসছে!’

    ‘মেলা বকবে না। যাও। তুমিও দেখছি চারু সেজে চলে এসেছ?’

    ‘দোহাই তিনুকর্তা, আমি সত্যি চারু মহাজন। চারু ফটাস না। পরিবারের গঞ্জনায় মাথা ঠিক রাখতে পারিনি। কামাখ্যায় গেলাম, শান্তি পেলাম না। হরিদ্বারে গেলাম, শান্তি নেই। সব দেখে চলে এলাম। কপালির কথা মনে হলেই পাগল পাগল লাগে। বৃন্দাবনে গেলাম। সব ধান্দা তিনুঠাকুর! যে যার মতো ধান্দায় ঘুরছে। গেলাম গয়ায়। মাথা মুণ্ডন করে ফেরার পথে হাটেবাজারে শুনি মেলা চারু। কেলেঙ্কারির এক শেষ! কী করি! বাড়ি গেলে আর-একজন চারু ফটাস হয়ে যাব। তুমি রক্ষা করো তিনুঠাকুর।’

    ‘হাজার টাকা চাই।’

    ‘দেব।’

    ‘হাজার টাকা, তোমার ভিটা-জমিতে ক্লাবঘর চাই। ফুটবলের মাঠ চাই। ইস্কুলের বাড়ি তুলতে হবে। টাকা চাই।’

    ‘সব দেব।’

    আমাদের দিকে তাকিয়ে বললেন, ‘তোদের কিছু চাই?’

    দাদা বলল, ‘একটা চামড়ার ফুটবল।’

    ‘আর কিছু না?’

    ‘না। আর কিছু না।’

    তারপর সে অনেক পর্ব। সব ঝেঁটিয়ে বিদায়। চারু মহাজন অবশ্য কথা রেখেছে। ধর্ম এবং দুর্মতি একসঙ্গে সয় না ভেবে চারু শিখাটি ছেঁটে দিল। তুলসীর মালা নদীর জলে ফেলে দিয়ে সোজা একজন সাধারণ গেরস্ত হয়ে গেল।

    ১ মে ১৯১১

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43 44 45 46 47 48 49 50
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleআনন্দমেলা হাসির গল্পসংকলন – সম্পাদনা : পৌলোমী সেনগুপ্ত
    Next Article পূজাবার্ষিকী আনন্দমেলা গল্পসংকলন – সম্পাদনা : পৌলোমী সেনগুপ্ত

    Related Articles

    পৌলোমী সেনগুপ্ত

    আনন্দমেলা রহস্য গল্পসংকলন – সম্পাদনা : পৌলোমী সেনগুপ্ত

    September 18, 2025
    পৌলোমী সেনগুপ্ত

    পূজাবার্ষিকী আনন্দমেলা গল্পসংকলন – সম্পাদনা : পৌলোমী সেনগুপ্ত

    September 17, 2025
    পৌলোমী সেনগুপ্ত

    আনন্দমেলা হাসির গল্পসংকলন – সম্পাদনা : পৌলোমী সেনগুপ্ত

    September 17, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    अनीश दास
    मौलाना शाह वलीउल्लाह
    रेवरेंड के. के. जी. सरकार
    অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিজ্ঞান রায়চৌধুরী
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমরেন্দ্র চক্রবর্তী
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অরিন্দম দেবনাথ
    অর্পিতা সরকার
    অশোককুমার মিত্র
    অসম্পূর্ণ বই
    আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    কৌশিক সামন্ত
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোপেন্দ্র বসু
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যজ্যোতি মজুমদার
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণু শর্মা
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহতাব উদ্দিন
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    রেভারেণ্ড কে. কে. জি. সরকার
    লীলা মজুমদার
    লেইল লোনডেস
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শঙ্কর চ্যাটার্জী
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শাক্যজিৎ ভট্টাচাৰ্য্য
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্যামল গঙ্গোপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সন্দীপন চট্টোপাধ্যায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সম্পাদনা : শৈলেন্দ্র হালদার
    সরদার ফজলুল করিম
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সায়ন্তনী পূততুন্ড
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্মরণজিৎ চক্রবর্তী
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মাহতাব উদ্দিন : জীবন ও গান

    May 18, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মাহতাব উদ্দিন : জীবন ও গান

    May 18, 2026
    Our Picks

    মাহতাব উদ্দিন : জীবন ও গান

    May 18, 2026

    পরমপুরুষ শ্রীশ্রীরামকৃষ্ণ ২ – অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত

    May 18, 2026

    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের প্রেমের গল্প – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    May 16, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }