Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    মাহতাব উদ্দিন : জীবন ও গান

    May 18, 2026

    পরমপুরুষ শ্রীশ্রীরামকৃষ্ণ ২ – অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত

    May 18, 2026

    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের প্রেমের গল্প – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    May 16, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    আনন্দমেলা গল্পসংকলন – সম্পাদনা : পৌলোমী সেনগুপ্ত

    পৌলোমী সেনগুপ্ত এক পাতা গল্প603 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    মজারুমামা – আশাপূর্ণা দেবী

    মজারুমামা – আশাপূর্ণা দেবী

    “ধেত্তারি, ভাল লাগছে না।” ফোটন বেজার গলায় বলে উঠল, “আজ আর আসছে না মজারুমামা! ক্যারমবোর্ডটা সাজা বরং। পেটা যাক! তা-ই যাক! কী আর করা!”

    ছোটন বোর্ডটা পেতে ঘুঁটি সাজিয়েছে, ফোটন স্ট্রাইকারটাকে মাথায় ঘষে নিয়ে বোর্ড ফাটাবার জন্যে তাক করছে, ব্যস। ফস করে আলোটা নিভে গেল! ঝুপ করে ঘরের মধ্যে নেমে এল গাঢ় অন্ধকার! আর এমনই আশ্চয্যি, ঠিক সেই মোমেন্টেই ঘটল এই অলৌকিক ঘটনাটি! একদম ঝপ করে। দরজায় মজারুমামা!

    যে মজারুমামার জন্যে ফোটন ছোটন রিঙ্কি পিঙ্কি সেই কখন থেকে ছটফট করছে। রিঙ্কি তো তখন থেকেই বারান্দায় দাঁড়িয়ে আছে রাস্তায় চোখ ফেলে। পিঙ্কি একবার করে ছুটে যাচ্ছে আর আবার ঘরে ফিরে এসে হাত-পা ছুঁড়ছে, “আরে বাবা রে বাবা! কী হল মজারুমামার? আসছে না কেন?”

    তা এরাও তো সেই কথাই বলে চলেছে মিনিটে মিনিটে, ফোটন আর ছোটন। সত্যি, কী হল মজারুমামার? এত দেরি করছে কেন?

    “নাঃ, হোপলেস! কী যেন একখানা মজারুমামাটা!”

    ‘আচ্ছা হল কী বল তো? কী হতে পারে?”

    হতে কত কী-ই পারে অবশ্য! আবার কিছু না হতেও পারে।

    “ইশ! কী যে বিচ্ছিরি লাগছে! ছোটমাসি পষ্ট করে বলে গেল বিকেলে, ‘মজারুদা আসছে। আমি বাড়ি নেই বলে যেন কেটে পড়ে না, তোরা একটু জমিয়ে নিয়ে বসিয়ে রাখবি! “

    “হু! বিকেল! বিকেল আবার কালকে হবে।”

    “মজারুমামাটা এই রকমই। মনে নেই সেবার পিকনিকে যাবার দিন? লাস্ট মোমেন্টে আসতে পারবে না খবর দিয়ে সব গুবলেট করে দিল। ভীষণ অদ্ভুত!”

    “এই এ রকম বলিস না! তেমনি আবার পিঙ্কির জন্মদিনে কেউ নেমন্তন্ন না করতেই নিজে থেকে এসে কী মজাটাই না করে গেল, ভাব!”

    ‘তা সত্যি রে। সেই কোথা থেকে যেন ছৌনাচের এক রাক্ষুসে মুখোশ নিয়ে এসে পরে, সবাইকে ভয় পাইয়ে-হি হি হি! নেমন্তন্ন না করার জন্যে রাগটাগ নেই।”

    “হু রে, মনে পড়েছে। বলেছিল ‘পিঙ্কির জন্মদিন আর মনে রাখব না? কী দিনে জন্মেছিল তা বল? স্বয়ং কেষ্টঠাকুরের জন্মদিনে। মা বলল, ‘তোকে কে নেমন্তন্ন করবে বাবা। কখন যে কোথায় থাকিস তা তুইই জানিস! আর কেষ্টঠাকুরই জানে।”

    ফোটন আর ছোটনের এই ক্ষোভ দুঃখ অস্থিরতা আর স্মৃতিচারণের মাঝখানে মাঝখানে রিঙ্কি ছুটে ছুটে এসে বলে যাচ্ছে, “ও রে বাবা রে, এত দেরি করছে কেন রে মজারুমামা! আমার কাঁদতে ইচ্ছে করছে! এই দাদা, রাস্তায় গিয়ে দেখনা!”

    “রাস্তায় গিয়ে?”

    ফোটন বলেছে, “তুই তো বারান্দা থেকে ঝুঁকে গলাটাকে প্রায় রাস্তায় ঠেকিয়েই দাঁড়িয়ে আছিস! আর কী দেখব?”

    পিঙ্কি ডুকরে উঠছে মাঝে মাঝে, “ছোটমাসি যে কেন বলল, মজারুমামা আসবে! এত দেরি হয়ে গেল, আর এসেছে। ধেত্তারিকা!”

    তা সত্যি, এদের এই আশাভঙ্গটি বড়ই দুঃখজনক!

    মজারুমামা মানেই তো ভয়ংকর ভয়ংকর উৎকট উৎকট সব মজা।… মজারুমামা মানেই জমজমাটি মজলিশ, মিনিটে মিনিটে হাসির হুল্লোড়। …মজারুমামা মানেই গায়ে কাঁটা-দেওয়া ভৌতিক, আধাভৌতিক, দৈবিক, দুঃসাহসিক, অদ্ভুতুড়ে সব নতুন নতুন গল্প!… তা ছাড়া কখন কোন স্টাইলে যে হঠাৎ হঠাৎ একখানি মজা প্রেজেন্ট করবে মজারুমামা, তা বোধহয় মজারুমামারও অজানা!

    ছোটকা তো বলে, “তোদের মজারুমামার কাছাকাছি এলে, পকেটে একটা উঁচু সুতো মজুত রাখা উচিত। কে জানে বাবা কখন না হাসতে হাসতে পেটটা ফেটে যায়!”

    ‘মনোজ’কে ‘মজারু করে ফেলা ওই ছোটকারই অবদান!

    কিন্তু কতদিন যে আসেনি মজারুমামা!

    আজ যখন বেরোবার সময় ছোটমাসি বলল, “এই, আজ বিকেলে মজারুদা আসবে, তোরা একটু বসিয়ে রাখিস, যেন পালায় না” শুনে তখন এরা, মানে ফোটন ছোটন রিঙ্কি পিঙ্কি আহ্লাদে প্রায় লাফিয়ে উঠেছিল।

    “আঁ! মজারুমামা?”

    “সত্যি?”

    “ঠিক?”

    “একদম ঠিক। ওখানে থাকতে চিঠিতে জানিয়ে রেখেছে আমায়! উঃ, কতদিন দেখা হয়নি!”।

    রিঙ্কি অবশ্য একবার বলে ফেলেছিল, “তো তোমার সঙ্গেই দেখা করতে আসছে মজারুমামা, তুমি চলে যাচ্ছ? একদিন না হয় সিনেমাটা বাদ দিতে ছোটমাসি!”

    শুনে দুঃখে ভেঙে পড়েছিল ছোটমাসি। বলেছিল, “সিনেমাটা বাদ? কোন প্রাণে বলতে পারলি রে এ কথা? দশ দিনের তো মেয়াদ, তার চার-চারটে দিন কেটেই গেল। একদিনই মাত্র দুটো হল-এ সিনেমা দেখেছি, আর ক’দিন তো মাত্র একটা করে। তবেই বল আর ক’টাই বা দেখে উঠতে পারব? কোথায় পড়ে থাকি জানিস? বাংলা সিনেমার মুখ দেখতে পাই? এসেই তো পড়ব বাবা। রাত্তিরে তো খাবে এখানে মজারুদা, তখন আড্ডা হবে।”

    চলে গিয়েছিল ছোটমাসি ফোটন কোম্পানির মাকে কব্জা করে নিয়ে। দুটো হল-এ টিকিট কাটা আছে। তিনটে-ছ’টা, ছ’টা-ন’টা!

    ছোটমাসি চলে যাবার পর, ছোটন অবশ্য রিঙ্কিকে বকেছিল, “বোকার মতো ও কথা বলতে গেলি কেন রে? বড়রা না থাকলেই তো আমাদের লাভ। মজারুমামাকে বেশি করে পেয়ে যাব! ওনারা এলে, আর আমরা পাত্তা পাব?”

    রিঙ্কি স্বীকার করেছিল, সত্যিই তার ভুল হয়ে গিয়েছিল। আর তার পর থেকেই ‘লাভের আশায় ছটফটাচ্ছে একগণ্ডা ভাইবোন। মিনিট গুনছে, আর মিনিটে মিনিটে বলছে, ‘দুর ছাই, কী যে করছে মজারুমামা? …বিকেল ছেড়ে সন্ধে পার হয়ে গেল!

    “নাঃ। নো হোপ। আজ আর চান্স নেই!”

    “আমাদের কপালটাই খারাপ!”।

    শেষমেশ রাগে দুঃখে ঘোষণা: “ধেত্তেরি, ভাল লাগছে না, ক্যারমটা পাড়া হোক। পেটা যাক!”

    সেই ক্যারমে খুঁটিগুলি সাজানো হয়েছে মাত্তর, সঙ্গে সঙ্গে নোডশেডিং। আর সেই মুহূর্তে ঘরের দরজায় মজারুমামার আবির্ভাব!

    একসঙ্গে চারটে গলা চেঁচিয়ে উঠল, “উঃ মজারুমামা? এতক্ষণে আসা হল? এই তোমার বিকেল? …ছোটমাসিরা সিনেমা গেছে, ভাবছিলাম আমরা একা একা তোমার গল্প শুনব। …ইশ! তুমি এলে, আর এক্ষুনি আলোটা নিভে গেল।.. এত দেরি করলে কেন?”

    এতগুলো প্রশ্ন আর অভিযোগের উত্তরে একটি মাত্রই শব্দ উঠল, নাকি-নাকি সুরে, “হাঁউ মাউ খাঁউ! মনিষ্যির গন্ধ পাঁউ!”

    কিন্তু ভয় পেতে বয়ে গেছে এদের। ছোট দুটোরও নয়। পিঙ্কিসুদ্ধু বলে ওঠে, “ও মজারুমামা, আমরা বুঝি এখনও আগের মতন ছোট আছি যে হাঁউমাউখাঁউ শুনে ভয় পাব? সে বারের মতো মুখোশ পরে এলেও এখন আর ভয় পাব না। এই ছোড়দা, একটা টর্চ জ্বাল না।”

    ছোটন বলল, “টর্চ তো মা’র ঘরে। কে যাবে বাবা? মজারুমামা, তোমার লাইটারটা জ্বালোনা একটু।”

    আবার নাকিসুর, “আমার বয়ে গেছে।”

    “মজারুমামা, যতই তুমি নাকি সুর করো, আমরা ভয় পাচ্ছি না। জ্বালো না বাবা লাইটারটা। ও মজারুমামা, অন্ধকারে বিচ্ছিরি লাগছে; তোমায় দেখতে পাচ্ছি না।”

    হঠাৎ নাকি সুরের বদলে ‘পাকি’ গলা: “কী। ফ্যাচফ্যাচ করছিস, আঁ! মজারুমামা আবার কী? মজারুমামা! সাত জন্মে এমন কিম্ভূত নাম শুনিনি। কস্মিনকালেও তোদের ওই সব মজারু শজারুকে চিনি না আমি।”

    কিন্তু রিঙ্কি হল গিয়ে দুর্দান্ত মেয়ে, সে ওসব ধমক-টমকে ঘাবড়ায় না। সে হেসে ওঠে, ‘হি হি হি মজারু শজারু। সাত জন্মেও শোনেনি এমন নাম। তবে তোমার নাম কী শুনি?”

    “আমার নামে তোদের কী কাজ, আঁ?”

    “আহা! তোমায় তবে কী বলে ডাকব শুনি?”

    ছায়ামূর্তি বলে, “আমায় ডাকবারই বা কী দরকার? আঁ!”

    ‘বা রে, না ডাকলে কী করে গল্প করব। মজারুমামা?”

    “খবরদার, ওইসব মজারু-গজারু বলবি না, আমার নাম হচ্ছে, গোকুল গড়াই।”

    “কী? কী নাম তোমার? হি হি হি! আবার বলোনা।”

    “বললাম তো! আমার নাম হচ্ছে গোকুল গড়াই। তবে পাড়ার লোক আড়ালে বলে চোর-গোকলো। বলুক গে। আড়ালে লোকে কিনা বলে।”

    “চোর গোকলো! হি হি হি! ছোড়দা রে, এবারে মজারুমামার কী মার্ভেলাস স্টান্ট। আমি যখন খুব ছোট ছিলাম, একবার নাকি তুমি ‘বকরাক্ষস হয়েছিলে মজারুমামা? মা বলে না ছোড়দা? যতই খাবার দেন সব সাবাড়। আর একবার হোয়োনা মজারুমামা। আমি বেশ দেখব।”

    “বটে!” মজারুমামা বলে, “বকরাক্ষস দেখার সাধ? তা দেখিস। সব সাবড়ে দেব! এখন সর, আমায় আমার কাজ করতে দে!”।

    “কাজ! তোমার আবার কাজ কী মজারুমামা?”

    “এই মেয়েটা তো আচ্ছা ফ্যাচফ্যাচানি। চোরের আবার কী কাজ চুরি করা ছাড়া?”

    ছোটন হেসে বলে ওঠে, “তা আলোটা জ্বলুক মজারুমামা। অন্ধকারে তো কিছু দেখতেই পাবে না। কোথাও একটা দেশলাইও খুঁজে পাচ্ছি না। মা না এমন! দেশলাই মোমবাতি টেবিলে রেখে দেবে তো? আমরা ক’জন ছোট একা রয়েছি।”

    “হ্যাঁ, তাই তো!”

    পিঙ্কি পিনপিনিয়ে বলে, “নিজেরা বেশ মজা করে রোজ রোজ সিনেমা দেখতে যাওয়া হবে, আর আমরা একা পড়ে থাকব। আবার লোডশেডিং পাজিটাও এসে হাজির হবে। ও মজারুমামা, একবারটি তোমার লাইটারটাই জ্বালোনা গো। তোমায় দেখি!”

    ‘লাইটারফাইটার নেই আমার।”

    এবারে ফোটন হেসে ওঠে, “তুমি আছ আর তোমার লাইটার নেই, এ হয় মজারুমামা?… তা, তোমায় দরজা খুলে দিল কে?”

    হেঁড়ে গলায় মজারুর উত্তর, “আমায় আবার দরজা খুলে দিতে লাগে নাকি? জন্মে কক্ষনও কেউ আমায় দরজা খুলে দেয়নি, দেয় না, দেবেও না। দরকারটা কী? ছাতের রেনওয়াটার পাইপগুলো তবে আছে কী করতে?”

    “হো-হো-হো, হা-হা-হা, এমন মজার কথা বলো তুমি। আর কত রকম যে গলা করতে পারো। দুর ছাই; লোডশেডিংটা আর সময় পেল না। সেই কখন থেকে হাঁ করে বসে আছি তুমি আসবে-আসবে করে। মিনিট গুনছি। কেবল কেবল রাস্তা দেখছি। আর তুমি…”

    “আহা রে, আজ আমার কী ভাগ্য! সাত জন্মে কেউ কক্ষনও আমার আসার আশায় পথ চেয়ে বসে থাকে না রে। তুই একটু জল খাওয়াতে পারিস?”

    এখন গলার স্বর একটু কম বিকট।

    “জল? এ মা, শুধু জল? ফ্রিজে কত কী রয়েছে। এই বিচ্ছিরি অন্ধকারটা হয়েই তো যত জ্বালা। সুশীল! এই সুশীল!”

    মজারু বলে ওঠে, “এই, চোপ, চেঁচাবি না। রাখ তোর সুশীল। আমি নিজেই নিচ্ছি। ওই তো দালানের কোণে তোদের সাধের ফ্রিজ!”

    “তা তো তুমি জানোই। কিন্তু ভীষণ অন্ধকার যে মজারুমামা!”

    ‘নিকুচি করেছে তোদের অন্ধকারের। অন্ধকারেই আমার চোখে মানিক জ্বলে।”

    দরজার কাছের ছায়াটা নড়ল। অতঃপর এক ঝাপটে ফস করে ছায়াটা সরে গেল।

    ফোটন চেঁচিয়ে উঠল, “ও মজারুমামা, দাঁড়াও, একটা টর্চ পেয়েছি”।

    “অ্যাই খবরদার! টর্চ-ফর্চ জ্বালবি না।”

    কিন্তু জ্বালবেই বা কী! এ তো সেই ব্যাটারি-ফুরনো টর্চটা। বাবা কাল বলেছিলেন, ফোটন, তোর বয়েসে আমি কত কাজ করেছি। আর তুই এইটুকুও পারিস না? বললাম না কাল, টর্চটায় একটু ব্যাটারি ভরে রাখ।

    বলেছিলেন। যেমন সর্বদাই কত কী বলেন।

    রাখেনি ফোটন। তাই জ্বলল না টর্চ। ও দিকে মজারুমামার বারণও। না জ্বলেছে এক রকম ভালই। জ্বললে মজারুমামা রাগ করে চলেই যাবে কি না কে জানে।

    রিঙ্কি দরজা থেকে চেঁচায়, “ফ্রিজ খুলতে পেরেছ মজারুমামা?”

    “ফ্রিজ। হা-হা-হা। ফ্রিজ খুলতে পারব না? বলে গডরেজের লকার খুলে খুলে হাত পাকা। খুলেছি, বেশ ভাল-ভাল সব খাবারদাবার সাঁটছি টপাটপ বকরাক্ষসের মতো।”

    হি-হি-হি৷ রিঙ্কি হাসে, “মালাই চমচম তো? ভীম নাগের তস্য পৌত্রের জলভরা কড়াপাক?… ছোটমাসির তৈরি ডিমের পাটিসাপটা, আর মা’র তৈরি কাশ্মীরি গোকুলপিঠে? সবই বোধহয় তোমার জন্যেই ছিল মজারুমামা। তোমার যখন আসার কথা! …আহা অন্ধকারে খেতে পেরেছ কিছু?”

    দালান থেকে হাসির আওয়াজ, “কিছু কী রে? এমন সব ভালমন্দ খাবার, কেউ কিছু খেয়ে ছেড়ে দেয়? সব সাঁটছি। …আঃ! তার সঙ্গে বোতলের এই ঠান্ডা জল! অমৃত! যাক, এ বার আমায় আমার কাজ করতে দে!”

    ছায়াটা আবার ঘরে ঢুকে এল।

    “মজারুমামা, অত সরে সরে যাচ্ছ কেন? ছুঁতে পারছি না, ধরতে পারছি না, কাছে এসোনা!”

    পিঙ্কি প্রায় কাঁদো কাঁদো।

    কিন্তু তার মজারুমামার মামাত্ব’ কই?

    সে তো প্রায় ধমকে ওঠে, “ধরবি? ধরবি মানে কী? আজ পর্যন্ত কেউ আমায় ধরতে পেরেছে? তায় তুই ধরবি? সর। সব ক’টা এই দেয়াল সেঁটে দাঁড়িয়ে থাক। আমাকে একটু নিশ্চিন্দি হয়ে কাজ করতে দে। চটপট সারতে হবে, নাকি তোদের সঙ্গে বাকতালা করব?”

    ফোটন এখন জোর গলায় বলে, “এবার তুমি বড্ড বেশি মজা করছ মজারুমামা! ভাল্লাগছে না! কী সব উলটো-পালটা কথা বলছ। জানি না বাবা। অন্ধকার দেখে খুব ঠকাতে ইচ্ছে করছে আমাদের, কেমন? কেবল বলা হচ্ছে কাজ করতে দে। কাজ আবার কী তোমার শুনি?”

    “শুনবি? হে-হে-হে! কাজ হচ্ছে ঘর সাফ করা।”

    রিঙ্কি ঝংকার দিয়ে ওঠে, “এ মা, তুমি আবার ঘর সাফ করবে কী? কেন, সুশীলদা কি, হি-হি-হি, বনবাসে গেছে?”

    পিঙ্কি বলে ওঠে, বিকেলে তো সাফ করেছে সুশীলদা ন্যাতা নিয়ে বালতি নিয়ে।”

    “সুশীল? সুশীলের সাফ করার কথা বাদ দে।”

    বিজ্ঞের মতো বলে ছোটন, “ছোটমাসি তো বলে তোদের সুশীলবাবু ঘর সাফ করে যায়, বোঝাও যায় না , করেছে কি করেনি। পায়ে খুব ধুলোবালি কিচকিচ করছে বুঝি মজারুমামা?”

    “ফের মজারু-শজারু? বলেছি না ওইসব বিটকেল নামে ডাকবি না আমায়।”

    “বেশ বাবা, ডাকব না। তো, বাবার হাওয়াই চটিটা এনে দেব তোমায়? অন্ধকারেও খুঁজে পেতে পারি। দরজার কাছেই আছে।”

    ‘হাওয়াই চটি! ধ্যেত! দরকার নেই তোর বাবার চটিতে। তো, বাবা কোথায়?”

    “বাবা তো অফিস থেকে বেরিয়ে সিনেমা হলে এসে জুটবে মা-ছোটমাসিদের কাছে। দুটো সিনেমা দেখছে তো? তিনটে-ছটা, ছ’টা-ন’টা। তা, শেষেরটায় বাবাকে যেতে হবে। নইলে অত রাত্তিরে ছোটমাসিরা প্রাচী থেকে এই যাদবপুরে ফিরবে কী করে?”

    “হেঁহেঁহেঁ! ভালই তো। হেঁহেঁহেঁ!” অন্ধকারের মধ্যে নড়েচড়ে বেড়াতে-বেড়াতে মজারু কেমন একটা বিটকেল গলায় হেসে ওঠে।

    “মজারুমামা! তুমি অমন বিচ্ছিরি গলায় হাসছ কেন?”… ছোটন সন্দেহ সন্দেহ গলায় বলে, “এবার বুঝি হরবোলা শিখে এসেছ।”

    “কী? কী বললি? কী শিখে এসেছি?”

    “হরবোলা গো, না হলে এত রকম গলা করছ কী করে? কত রকমই যে গলা শুনছি। শুধু তোমার মতনটা বাদে! বুঝেছি, সেবারে বহুরূপী হতে শিখে এসেছিলে, এবার হরবোলা!”

    ‘অ্যাই! কী বাজে বাজে কথা বলছিস?”

    “আহা রে! বাজে বাজে বইকী!”

    ছোটন বলে, “ছোটকার বিয়ের সময় এসে বহুরূপী হওনি তুমি? বাবা! ইয়া মোটকা এক ল্যাজওয়ালা বীর হনুমান সেজে নতুন করে কনের ঘরের মধ্যে ধুপ করে লাফিয়ে পড়ে কী কাণ্ড, কী কাণ্ড! পিঙ্কিদের হয়তো মনে নেই।”

    কিন্তু রিঙ্কি সতেজে বলে, “আমার খুব মনে আছে! নতুন কাকি লাফিয়ে ঝাঁপিয়ে আঁআঁ করছে… বড়পিসি নতুন বউয়ের চেঁচানো শুনে বকতে এসে নিজেই হাঁক-পাঁক করতে করতে দে-ছুট। মনে নেই আবার। তোমার মনে পড়ছে না মজারুমামা?”

    “হাঁ! বোধহয় পড়ছে।”

    “এ মা! মনে পড়ার আবার বোধহয় কী? এমন উৎকট মজার কথা বলো তুমি! তো তোমার সেই বহুরূপী সাজবার সব ছালচামড়া গোঁফ-দাড়ি ল্যাজ-ফ্যাজ কিছু আনোনি তো?”

    “কী? ছালচামড়া, ল্যাজ-গোঁফ? ভাগ।”

    “আহা, ছোটমাসি বেশ দেখত!”

    এখন ছায়ামূর্তির গলা থেকে ঠিক ভোম্বলজ্যাঠার মতো গম্ভীর স্বর বেরোল, “এক জায়গায় একই খেলা দেখায় বোকারা, বুঝলি?”

    “বাঃ, ছোটমাসি তো দেখেনি।”

    “তোদের ছোটমাসি আরও অনেক খেলা দেখবে।

    “বাবাঃ! মজারুমামা, তোমার গলাটা ঠিক ভোম্বলজ্যাঠার মতো লাগল। এবারে এই হরবোলাটাই শিখে এসেছ, তাই না? কী কী ডাক ডাকতে পারো?” রিঙ্কির গলায় আগ্রহ, উত্তেজনা। “মুরগির ডাক ডাকতে পারো? ঘোড়ার ডাক? কুকুরের কান্না? রেলগাড়ির ইঞ্জিনের ডাক? মিনিবাসের হর্নের ডাক? আমাদের স্কুলে প্রাইজের দিনে না, একজন হরবোলাবাবু এসে— মজারুমামা!”

    হঠাৎ থেমে যায় রিঙ্কি। বলে ওঠে, “তুমি আলমারি খুলছ? কেন গো?”

    “খুলছি, ভাল করে সাফ করে বন্ধ করে দেব বলে। আহা এ বাড়ির গিন্নি কী গুড গার্ল।”

    মজারুর গলার স্বর এখন ভোম্বলজ্যাঠার মতো নয়, বরং ছোটকার মতো, মজা মজা হাসি-হাসি। “আহা! জগতে যে চুরিটুরি বলে একটা কথা আছে জানেনই না, চোর বলে একটা জিনিস আছে তাও না। বেশ বেশ!”

    ‘হাঁ, বেশ বইকী! দেখেছিস দাদা, ছোড়দা, মা’র নিজের বেলায় দোষ হয় না, যত দোষ নন্দ ঘোষ আমাদের বেলায়। আমরা যদি পেনটা কি স্কেলটা, কি মাইনের বইটা একটু এখানে-সেখানে ফেলে রাখি কী বকুনি! কী বকুনি। …ঠিক আছে মজারুমামা, তোমায় আর বন্ধ করতে হবে না, যেমন ঝুলছে ঝুলুক। এসে নিজের কীর্তিটা দেখুন।”

    “তা দেখুন।” মজারুকণ্ঠ বলে ওঠে, “তবে ভেতরটা সাফ করে ফেলি।”

    “অন্ধকারে আবার তুমি কী সাফ করবে। মজারুমামা! যা হ্যান্ডুল-মান্ডুল হয়ে আছে। হবে না? বলে ছোটমাসির মার্কেটিং! যখন ইচ্ছে, আর যত ইচ্ছে শাড়ি কিনে আনছে, আর আলমারিতে ঠুসছে। ছোটমাসিদের ওখানে নাকি বাংলা সিনেমাও নেই, বাংলা শাড়িও নেই। তাই কলকাতার সব শাড়িগুলো কিনে নিয়ে যাবার তাল। আচ্ছা, নিয়ে যাবে কী করে বল তো?”

    “সেই তো!” মজারু বলে ওঠে, “সেটাই তো সমস্যা। ঢাউস একটা সুটকেস তো এনেছে মনে হচ্ছে, তা সেটাও তো বোঝাই! কীসে কী নিয়ে যাওয়া যাবে।”

    “ও মা! ছোটমাসি যে একটা ঢাউস সুটকেস এনেছে, তুমি জানলে কী করে? সে তো ও-ঘরে।”

    “কী করে জানলাম? হে-হে-হে, জানিস না অন্ধকারে আমার চোখে মানিক জ্বলে, আর হাত না দেখেও আমি গুনে বলতে পারি। সুটকেসটা চাকা লাগানো তো? ভারী খাসা জিনিস। যত ভারীই হোক গড়গড়িয়ে চালিয়ে নিয়ে যাওয়া যায়।”

    “ঠিক, ঠিক। কী দারুণ! ও মজারুমামা, তা হলে হাত গুনে বলে দাও না গো আমার রেজাল্টটা কী হবে!”

    “দুর বাবা! এ তো আচ্ছা মেয়ে! যেমন একজামিন দিয়েছিস, তেমনই রেজাল্ট হবে। আবার কী?”

    “অ, আ, আঁ! ও ছোড়দা দ্যাখ-না—”।

    রিঙ্কির গলা আকাশে ওঠে, “মজারুমামা আমায় রাগাচ্ছে। আমি বুঝি খারাপ পরীক্ষা দিয়েছি?”

    ‘অন্ধকারে তির-ছোঁড়াছুঁড়ি।”

    “অ্যাই! চোপ! আমি বলেছি খারাপ দিয়েছিস? বলেছি, যেমন দিয়েছিস! আমি বেটা চোর-গোকলো ওসব রেজাল্ট-ফেজাল্টের কী বুঝি?”

    “চোর-গোকলো!” ছোটন বলে ওঠে, “ওঃ মার্ভেলাস! দারুণ একখানা নাম আবিষ্কার করেছ। বটে মজারুমামা! মাথায় এলও তো!”

    ফোটন এতক্ষণ বিশেষ কথা বলছিল না। কেবল অন্ধকারেই এখানে-সেখানে, তাকে, জানলার ধারে, বইয়ের শেলফে হাতড়ে বেড়াচ্ছিল একটা দেশলাই আর মোমবাতির টুকরোফুকরো পায় কি না। কত সময়ই যে এ রকম পড়ে থাকতে দেখা যায়। কিন্তু দরকারের সময়? নেভার! এখন হতাশ গলায় বলল, “এই, মজারুমামা অন্ধকারেও গল্প বলতে পারে। তাই না মজারুমামা?”

    “হু! বলব। অপারেশানটা শেষ হোক! তারপর।”

    “অপারেশন কী? আঁ! ও মামা! হঠাৎ অপারেশনের কথা কেন? কীসের অপারেশন? কার অপারেশন?”

    “কেন, কীসের, কার? সেটা পরে বুঝবি!”

    “জানি না বাবা! ও সব বুঝতে-টুঝতে চাই না। আমরা তোমায় ধরছি রোসো।”

    কলকলিয়ে ওঠে সব ক’টা। বলে, “এই শোন, মজারুমামা আলমারির কাছে, আয় সবাই মিলে ধরে ফেলি!”

    “এই যে এটা কার হাত! মজারুমামা তুমি শার্ট পরেছ না পাঞ্জাবি? এই যে ..এই যে…ধরেছি!”

    “অ্যাই! অ্যাই! ফোঁড়া! ফোঁড়া!”

    “ ফোঁ-ড়া!”

    সব কটা হাত নিজের নিজের দু’পাশে ঝুলে পড়ল।

    মজারু নিরাপদ দূরত্বে সরে গিয়ে বলে, “সর্বাঙ্গে ফোঁড়া। বুঝলে হে ভাগ্নে-ভাগ্নিরা! চেপে ধরলেই রক্ত-ফক্ত। দ্যাখো, কারুর হাতে-টাতে লেগে গেল কি না।”

    ততক্ষণে চার-দু’গুনে আটখানা পা পিছু হাঁটতে হাঁটতে একেবারে ও দিকের দেয়ালে সেঁটে গেছে। আর দেখছে হাত ভিজে ভিজে কি না।

    তবু কথা কয়ে উঠল ছোটন, “ওঃ, তাই তুমি অপারেশনের কথা বলছিলে?”

    “হেঁহেঁ, ঠিক বুঝেছিস তো! যাক এবার তা হলে—”

    এই সময় পিঙ্কি হঠাৎ ডুকরে কেঁদে উঠল, “আলো কি আজ আসবে না? মা কি আজ আসবে না?”

    ফোটন বলে উঠল, “ধ্যেত, কাঁদছিস কেন?”

    “আমার ভয় করছে। আমার কান্না পাচ্ছে। আমার মজারুমামাকে ভূত মনে হচ্ছে!”

    “কী বললি? বাঃ, ঠিকই বলেছিস। এ ব্যাটা তো একটা ভূতই! গোর্ভূত। হাম্বা-হাম্বা খাম্বা-খাম্বা, হাউ-মাউ-খাউ!”

    “আঁ আঁ আঁ।” পিঙ্কি কেঁদে ওঠে।

    অন্ধকার ভেদ করে আবার সেই বিকট গলা, “অ্যাই, চোপ! এক চড়ে কান্নাকে বিন্দাবনে পাঠিয়ে দেব। মেয়ে না তো, সানাইবাঁশি! ঠিক আছে, আমি যাচ্ছি। দেখি কোথায় কী—”

    ভয় খেয়ে পিঙ্কি কান্নাটা গিলে ফেলে। আর বাকি তিনজন হা-হা করে ওঠে, “ও মজারুমামা, না না, যেয়ো না গো, ছোটমাসি তা হলে আমাদের বড় ঘেন্না দেবে। বলবে, এইটুকু আর বসিয়ে রাখতে পারলি না? বলে গেলাম। মজারুমামা, তোমার পায়ে পড়ি!”

    “ফের! ফের মজারু? ঠ্যাং ধরে আছাড় মারব এক-একটাকে! বলছি আমি হচ্ছি চোর-গোকলো, কোনও জন্মে কারুর মামা-ফামা নই।”

    হঠাৎ সবাই চুপ করে যায়।

    অন্ধকারের মধ্যে নেমে আসে একটা স্তব্ধতা।

    আর একটু পরেই সেই অন্ধকার ভেদ করে বেশ দিলখোলা এক হা হা হাসি ওঠে।

    “খুব ভয় পেয়ে গেছিস তো? নাঃ, তোরা বাবা খুব চালাক ছেলেমেয়ে, কিছুতেই ঠকানো গেল না। পরীক্ষায় ফার্স্ট তো! তা বোস, অন্ধকারে বসে গল্পই শোন একটা। তোদের ছোটমাসি তত সেই ছ’টা-ন’টা!”

    ভারী মোলায়েম গলা এখন মজারুর।

    ওঃ। বুকের পাহাড় নামল!

    এতক্ষণ ধরে তবে এদের বুদ্ধির পরীক্ষা চলছিল। মজারুমামা যত পারে ঠকাবার চেষ্টা করছিল! “হু বাবা, আমাদের আর ঠকাতে হয় না।”

    অতএব সমস্বরে “হা হা, গল্প গল্প। ততক্ষণে মা-ছোটমাসিরা এসে যাবে।”

    “বেশ, কীসের গল্প শুনবি!”

    “ভূতের, ভূতের!” ফোটন আর ছোটন বলে ওঠে।

    কিন্তু পিঙ্কি আবার পুরনো রেকর্ড চাপায়। “না, নাআঁ। আমার ভয় করছে।”

    “ধ্যেত, একটা ভিতুর ডিম।” রিঙ্কি বলে ওঠে, “ওটাকে নিয়ে পারা যায় না।”

    “তা হলে? রাজা-রানির?”

    “এ মা, রাজা-রানির কী? আমরা কি বাচ্চা?”

    “তা হলে? চোরের?”

    “হ্যাঁ-হ্যাঁ, চোরের, চোরের! কী রে পিঙ্কিখুকি, চোরের গল্পেও ভয় পাবি না তো?”

    পিঙ্কি চোখ মুছে বলে, “না!”

    “তবে শোন। এক গ্রামে এক চোর বাস করত। ভারী ভদ্দরসজ্জন লোক! ওই চুরিটি ছাড়া আর কোনও দোষ ছিল না তার।”

    ‘আহা, চোর আবার ভদ্দরসজ্জন কী গো?”

    “কেন? হতে নেই? চুরিটা তার সাতপুরুষের পেশা। বাপ-ঠাকুরদার কাছে আর-কোনও বিদ্যে শেখেইনি। তা ভদ্দরসজ্জন হতে বাধা কী? তা যা করত নিয়মকানুন মেনেই। রাত বারোটা বাজলেই সিদকাঠিটি নিয়ে বেরিয়ে পড়া, আর ঠিক রাত চারটের মধ্যেই কাজকর্ম সেরে, ফিরে এসে পাতা-বিছানায় শুয়ে পড়া।

    “চৌকিদারদের ডিউটির টাইম হচ্ছে রাত পৌনে বারোটা, আর ভোর সাড়ে চারটে।

    “পৌনে বারোটায় চৌকিদার জানলার বাইরে হাঁক পাড়ত: ‘গণেশ দাস হো!’

    “চোরমশাই সঙ্গে সঙ্গে জবাব দিত, “আছি আজ্ঞে। তামাক খাচ্ছি।”

    তামাক খাচ্ছিস তো ধোঁয়া কই?”

    “চোরমশাই মুখে কালিঝুলির আঁক কাটতে কাটতে বলত, “আজ্ঞে টিকে ভিজে গেছে।

    “ঠিক হ্যায়! ঘুমো ব্যাটা!

    “আবার চৌকিদারটা ভোর সাড়ে চারটের সময় এসে বাইরে থেকে হাঁক পাড়ত, ‘গণেশ দাস হ্যায়!

    “গণেশ দাস তেল-ন্যাকড়া দিয়ে মুখের কালিঝুলি মুছতে মুছতে বলত, “আজ্ঞে আছি বইকী। বিড়ি খাচ্ছি।

    ‘কেন? কেন? এত রাত্তিরে বিড়ি খাচ্ছিস কেন?’

    “আজ্ঞে জেগে থাকতে!

    “চৌকিদার বলত, “কেন? জেগে থাকার কী দরকার?’

    এই আপনার ডাকে সাড়া দিতে। সাড়া না পেলেই তো কাল সকালে এসে চালান দিবেন।

    হা-হা-হা! তা দিব। তবে দে, দুটা বিড়ি দে।’

    “জানলা দিয়ে হাত বাড়াত।

    “কিন্তু এত সাবধানেও কপালের ফেরে একদিন দুপুররাতে সিদকাঠি হাতে ধরা পড়ল গণেশ দাস। বাস, দশ বছর জেল।”

    “দশ বছর!”

    “ওই তো মজা, তল্লাটের যেখানে যত চুরির কাণ্ড ঘটেছে, সব কেস তার নামে। রেগেমেগে গণেশ দাস জেলে ঢোকার আগে তার ছেলেকে বলে গেল, ‘তুই আর রাতের কারবারে যাসনে! যা করবি দিনমানে!”

    “এই বাবা! তার ছেলে চোর নাকি?”

    “তা হবে না? চোরের ব্যাটা চোর না হয়ে কি পুলিশ হবে? বললুম না, সাতপুরুষের পেশা। চুরি না করে উপায় কী? ওই বিদ্যেটি ছাড়া আর তো কিছু শেখেনি। বাপ বলল, রাতের কারবারেই যত ফ্যাসাদ। দিনে-দুপুরে ভাল ভাল জামা-জুতো পরে পাঁচজনের মাঝখানে ঘুরতে ঘুরতে কাজ সাফাই করে বুক ফুলিয়ে বেরিয়ে এসে রাস্তায় পাবলিকের ভিড়ে মিশে যাবি। বাপ-ঠাকুদ্দার মতন কুচিয়ে চুল ছাঁটতে হবে না। গায়ে প্যাচপেচিয়ে তেল মাখতে হবে না, মুখে কালিঝুলি মাখতে হবে না, তুই বা কে, রাজপুত্তুরই বা কে। শহরবাজারে এখন এই রেওয়াজ হয়েছে!

    “তা বাপ জেলে ঢুকে যাবার পর ছেলে সেই রেওয়াজে কাজ চালায়। তোফাই চালায়। হাল ফিরে রাজার হাল! দিনমানে গটগটিয়ে ঢুকে আসে, দোকানে বাজারে লোকের বাড়িতে। চোখ রাঙিয়ে, মাল হাতিয়ে বেরিয়ে আসে। ট্যাক্সি ডেকে মালপত্তর চাপিয়ে হাওয়া হয়ে যায়। বেশ চলছিল…”

    মজারুমামা একটু থেমে বলে, “কপালের ফেরে একদিন হল এক বিপত্তি! বাঘা বাঘা পুলিশদাদারা যাকে জব্দ করতে পারে না, সেই লোক কিনা দুটো কুচোকাচা ছেলেপেলের কাছে জব্দ বনে বসল। সব গুবলেট।”

    “কী মজা! কী মজা!”

    চটপট হাততালি।

    “ওরা বুঝি বুদ্ধি করে চোরটাকে ঘরে বন্ধ করে ফেলল?”

    “ঘরে বন্ধ?” গল্প বলিয়ে মজারু জোর গলায় বলে, “নিকুচি করেছে তোদের! ঘরে বন্ধ আবার একটা ব্যাপার। কেন, জানলার গ্রিল ওপড়ানো যায় না? শিক ভাঙা যায় না? আর বুদ্ধি? বুদ্ধিই বটে! যেন সব ক’টা এইমাত্তর স্বর্গ থেকে খসে পড়েছে।… ও সব কিছু না। কপালের ফের! তা একদিন দিনের বদলে সন্ধে, আর মক্কেলের বাড়ি ঢোকামাত্তর লোডশেডিং।”

    ‘আঁ!”

    “যাঃ!”

    “ধ্যাত!”

    “তুমি বুঝি বানাচ্ছ মজারুমামা?”

    “বানাচ্ছি মানে? লোডশেডিং বলে কোনও জিনিস নেই? দেখিসনি কখনও?”

    “না না, তা বলছি না!”

    “বলছিস না তো চুপচাপ থাক! লোডশেডিং। তায় আবার আকাশে মেঘের ঘটা। সেকেলে চোরের মায়েদের ভিরকুট্টির অবস্থা! চোখ রাঙালেও দেখানো যাচ্ছে না। বাড়িতে গার্জেনরা সব হাওয়া। কিন্তু বাড়িতে রেখে গেছে ওই সর্বনেশে ডেঞ্জারাস কুচো ক’টাকে। …ব্যাস। সবক’টা একসঙ্গে ছিনেজোঁকের মতো লেগে থেকে চোরটাকে কিমা বানিয়ে ছাড়ল।”

    “আঁ! কিমা!”

    “স্যরি কিমা নয়, মামা, মামা! তো চোর বেটার কাছে দুইই সমান। তিন কুলে যার একটাও বোন নেই, তাকে যদি গণ্ডাখানেক ভাগ্নে-ভাগ্নি রসোমালাই, ডিমের পাটিসাপটা, কাশ্মীরি গোকুলপিঠে খাওয়াতে বসে, আর মামা-মামা করে জীবন মহানিশা করে ছাড়ে, সেটা কিমা বানানো ছাড়া আর কী? কাজেই চোরটা…”

    “ও মজারুমামা, গল্পটা তুমি বানাচ্ছ নাকি?”

    ‘বানানো মানে? চোরটা যা করল, তাই বলছি। বিলকুল সত্যি!”

    “কী করল গো?”

    “কী করল? অনেক কষ্টে হাতানো মালপত্তরগুলো ছড়িয়ে ফেলে রেখে এমনি করে গটগট করে বেরিয়ে চলে গেল!”

    “এ কী! এ কী! তা, তুমি চলে যাচ্ছ কেন? ও মজারুমামা, গল্পটার শেষ কী?”

    আর শেষ! ছায়ামূর্তির টিকির ছায়াটিও নেই।

    আর শুনলে বিশ্বাস করা যায় না। ঠিক সেই মুহূর্তে কারেন্ট এসে গেল! বাড়ি আলোয় ঝলমল!

    “ফোটন!”

    “ছোটন!”

    “ছোড়দা রে!”

    “রিঙ্কি রে!”

    “বারান্দায় ঝুঁকেও দেখতে পেলাম না রে দাদা।”

    “আচ্ছা, আমরা কী দোষ করলাম বল তো?”

    “কী জানি বাবা!”

    “এ বারে বোধহয় শরীর ভাল নেই মজারুমামার।”

    “না রে। বোধহয় ছোটমাসিরা নেই বলে রাগ হয়েছে।”

    “হতেই পারে।”

    “কিন্তু এ কী?”

    “এ সব কী?”

    “দালানে এ সব কোখেকে এল?”

    “এ সব কী? এ-সব কী?”

    বাইরের দরজা থেকে চেঁচাতে-চেঁচাতে আসছেন ফোটন কোম্পানির মা বাবা-মাসিরা। এর মানে কী? রাস্তার দরজা হাটপাট!” “সুশীল নিজের দরজায় ছেকল তুলে দিয়ে হাপিস!” “কী, হাপিস নয়? ঘরের মধ্যে বন্দি তুই?” কী ব্যাপার? সিঁড়ি থেকে জিনিস ছড়ানো—এত দুষ্টুমিও মাথায় খেলে ওদের!”

    চেঁচাতে চেঁচাতে উঠে আসেন ওঁরা। “এ কী! এ কী!”।

    তবে ওঁদের চেঁচানোয় কর্ণপাত না করে একগণ্ডা গলা চেঁচিয়ে উঠল, “এতক্ষণে আসা হল তোমাদের? এই একটু আগে চলে গেল মজারুমামা!”

    “চলে গেল!”

    “তা যাবে না তো কী? তোমরা আসবে না, আলো আসবে না, ভাল্লাগে?”।

    “কিন্তু এ সব কী?”

    বড়-ছোট দুই বোন দালানে পা ছড়িয়ে বসে পড়ে চেঁচিয়ে বলতে থাকেন, “কিন্তু এ সব কী ব্যাপার! ওরে বাবা, আমার সুটকেসটা সিঁড়ির ধারে কেন? আলনার জামা কাপড়গুলো মাটিতে জড়ো করা কেন? টেপ-রেকর্ডারটা দেরাজ থেকে বেরিয়ে এখানে এল কী ভাবে? ফ্রিজটা হাঁ করে খোলা.. মানে কী? ওরে বাবা রে, মেজদি, আমার নতুন কেনা শাড়িগুলো বাজারের থলের মধ্যে ঠোসা। আমার যে মাথা ঝিমঝিম করছে গো।”।

    বলতে বলতে ঘরে। এবং আর-একপ্রস্থ চিৎকার। “এ আবার কী? আলমারি ফাঁকা করে সর্বস্ব মাটিতে নামানো। ওরে সর্বনেশে ছেলেমেয়েরা, কী যে হচ্ছিল তোদের? রাম-রাবণের যুদ্ধ, না কুরুক্ষেত্তর কাণ্ড!”

    বাবা গম্ভীর ভাবে বলেন, “দেখে মনে হচ্ছে তৃতীয় মহাযুদ্ধের পত্তন এইখান থেকেই হল! দস্যিপনার একটা সীমা থাকবে তো?”

    মা’ও বলে ওঠেন, “সত্যি! হাঁ হয়ে যাচ্ছি।”

    কিন্তু রিঙ্কি তো আর ছেড়ে কথা বলবার মেয়ে নয়। সে নিজস্ব স্টাইলে ঝংকার দিয়ে ওঠে, “আহা রে। আমরা এই সব করেছি! আমাদের ভারী সাহস! এ সবই তোমাদের মজারু-ভাইয়ের গজারু কাণ্ড! অন্ধকারের মধ্যে উনি ঘরবাড়ি আলমারি দেরাজ সব সাফ করছেন! হি-হি, আবার তিনি ‘চোর-গোকলো’ হয়ে মালপত্তর হাতাচ্ছেন! উঃ, কম কাণ্ড করেছে মজারুমামা আমাদের ঠকাতে? হরবোলা হয়ে দশ রকম গলা করেছে। কিন্তু পারল কি ঠকাতে? আমরা তেমন বোকা নাকি? শেষ অবধি তোমাদের দেরি-ফেরি দেখে হঠাৎ রেগে গটগট করে চলে গেল। তবে খুব ভাগ্যি, ফ্রিজের খাবারগুলো সেটে গেছে চেটেপুটে।”

    ১৭ অক্টোবর ১৯৮৪

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43 44 45 46 47 48 49 50
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleআনন্দমেলা হাসির গল্পসংকলন – সম্পাদনা : পৌলোমী সেনগুপ্ত
    Next Article পূজাবার্ষিকী আনন্দমেলা গল্পসংকলন – সম্পাদনা : পৌলোমী সেনগুপ্ত

    Related Articles

    পৌলোমী সেনগুপ্ত

    আনন্দমেলা রহস্য গল্পসংকলন – সম্পাদনা : পৌলোমী সেনগুপ্ত

    September 18, 2025
    পৌলোমী সেনগুপ্ত

    পূজাবার্ষিকী আনন্দমেলা গল্পসংকলন – সম্পাদনা : পৌলোমী সেনগুপ্ত

    September 17, 2025
    পৌলোমী সেনগুপ্ত

    আনন্দমেলা হাসির গল্পসংকলন – সম্পাদনা : পৌলোমী সেনগুপ্ত

    September 17, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    अनीश दास
    मौलाना शाह वलीउल्लाह
    रेवरेंड के. के. जी. सरकार
    অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিজ্ঞান রায়চৌধুরী
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমরেন্দ্র চক্রবর্তী
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অরিন্দম দেবনাথ
    অর্পিতা সরকার
    অশোককুমার মিত্র
    অসম্পূর্ণ বই
    আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    কৌশিক সামন্ত
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোপেন্দ্র বসু
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যজ্যোতি মজুমদার
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণু শর্মা
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহতাব উদ্দিন
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    রেভারেণ্ড কে. কে. জি. সরকার
    লীলা মজুমদার
    লেইল লোনডেস
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শঙ্কর চ্যাটার্জী
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শাক্যজিৎ ভট্টাচাৰ্য্য
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্যামল গঙ্গোপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সন্দীপন চট্টোপাধ্যায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সম্পাদনা : শৈলেন্দ্র হালদার
    সরদার ফজলুল করিম
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সায়ন্তনী পূততুন্ড
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্মরণজিৎ চক্রবর্তী
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মাহতাব উদ্দিন : জীবন ও গান

    May 18, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মাহতাব উদ্দিন : জীবন ও গান

    May 18, 2026
    Our Picks

    মাহতাব উদ্দিন : জীবন ও গান

    May 18, 2026

    পরমপুরুষ শ্রীশ্রীরামকৃষ্ণ ২ – অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত

    May 18, 2026

    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের প্রেমের গল্প – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    May 16, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }