Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    আনন্দমেলা গল্পসংকলন – সম্পাদনা : পৌলোমী সেনগুপ্ত

    পৌলোমী সেনগুপ্ত এক পাতা গল্প603 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    অম্বর সেন অন্তর্ধান রহস্য – সত্যজিৎ রায়

    অম্বর সেন অন্তর্ধান রহস্য – সত্যজিৎ রায়

    ‘আপনি তো আমার লেখা শুধরে দেন, বললেন লালমোহনবাবু, ‘সেটা আর এ বার থেকে দরকার হবে না।’

    ফেলুদা তার প্রিয় সোফাটায় পা ছড়িয়ে বসে রুবিক্‌স কিউবের একটা পিরামিড সংস্করণ নিয়ে নাড়াচাড়া করছিল; সে মুখ না তুলেই বলল, বটে?

    ‘নো স্যার। আমার পাড়ায় এক ভদ্রলোক এয়েচেন, কাল পার্কে দেখা হল। এক বেঞ্চিতে বসে কথা বললুম প্রায় আধ ঘণ্টা। গ্রেট স্কলার। নাম মৃত্যুঞ্জয় সোম।

    ‘স্কলার?’

    ‘স্কলার। বোধহয় হার্বার্ট ইউনিভার্সিটির ডবল এম এ, বা ওই ধরনের কিছু।’

    ‘উফ্‌ফ্‌! ফেলুদা এবার মুখ না তুলে পারল না। হার্বার্ট নয় মশাই, হার্ভার্ড, হার্ভার্ড!’

    ‘তাই হবে। হার্ভার্ড।’

    হার্ভার্ড সেটা বুঝলেন কী করে? নাকি সুরে মার্কিন মার্কা ইংরিজি বলেন ভদ্রলোক?

    “ইংরিজিটা একটু বেশি বলেন। নাকি সুর কিনা লক্ষ করিনি। তবে বিদ্বান লোক। থাকেন বহরমপুর। একটা বই লিখছেন, তাই নিয়ে রিসার্চ করবেন বলে ক’দিনের জন্য কলকাতায় এসেছেন। চেহারাতে বেশ একটা ইয়ে আছে। ফ্রেঞ্চকাট দাড়ি, চোখে সোনার বাই-ফোকাল, জামাকাপড়ও ধোপদুরস্ত। আমার হন্ডুরাসে হাহাকার’টা পড়তে দিয়েছিলুম। চৌত্রিশটা মিসটেক দেখিয়ে দিলেন। তবে বললেন ভেরি এনজয়েব্‌ল।’

    ‘তা হলে আর কী। আপনার পেট্রল খরচা অনেক কমে যাবে এ বার থেকে। আর গড়পার বালিগঞ্জ ঠ্যাঙাতে হবে না।’

    ‘তবে ব্যাপারটা হচ্ছে কী—’।

    ব্যাপারটা কী হচ্ছে সেটা আর জানা গেল না, কেননা ঠিক এই সময় এসে পড়লেন ফেলুদার মক্কেল অম্বর সেন। ন’টায় অ্যাপয়েন্টমেন্ট ছিল। ঘড়ির কাঁটায় কাঁটায় আমাদের কলিং বেল বেজে উঠল।

    অম্বর সেনের বয়স মনে হয় পঁয়তাল্লিশ থেকে পঞ্চাশের মধ্যে, ফরসা রং, দাড়িগোঁফ কামানো, চোখে পুরু ফ্রেমের চশমা, গায়ে পাঞ্জাবি আর ধুতির উপর একটা পুরনো জামেওয়ার শাল। কাশ্মীরি শাল যে কত রকম হয় সেটা সে দিন ফেলুদার সঙ্গে মিউজিয়ামে গিয়ে দেখে এসেছি।

    অম্বর সেন ফেলুদার মুখোমুখি চেয়ারে বসে বললেন, ‘আপনিও ব্যস্ত মানুষ, আমিও ব্যস্ত। কাজেই সময় নষ্ট না করে সোজা কাজের কথায় চলে যাওয়াই ভাল। আগে এই জিনিসটা

    পাঞ্জাবির পকেট থেকে একটা কাগজ বের করে ভদ্রলোক ফেলুদার দিকে এগিয়ে দিলেন। খাতা থেকে ছেঁড়া একটা পাতা, সেটাকে দলা করে পাকানো হয়েছিল, তারপর আবার হাত বুলিয়ে মসৃণ করার চেষ্টা করা হয়েছে।

    কাগজটাতে গোটা অক্ষরে লাল কালি দিয়ে লেখা—’আমার সর্বনাশের শাস্তি ভোগ করার জন্য প্রস্তুত হও। আর সাত দিন মেয়াদ। পালিয়ে পথ পাবে না।’

    কাগজটা নেড়েচেড়ে দেখে ফেলুদা প্রশ্ন করল, কী ভাবে পেলেন এটা?

    ‘আমার বাড়িতে একতলায় আমার কাজের ঘর, বললেন ভদ্রলোক, রাত্তিরে এসে জানালা দিয়ে ছুঁড়ে ডেস্কের উপর ফেলে দিয়ে গেছে। সকালে আমার চাকর লক্ষ্মণ এটা পেয়ে আমার কাছে নিয়ে আসে।

    ‘আপনার ঘর কি রাস্তার উপর?’

    না। ঘরের বাইরে বাগান, তারপর কম্পাউন্ড ওয়াল, তারপর রাস্তা। তবে দেয়াল টপকানো যায়।’

    সর্বনাশের কথা যে বলছে সেটা কী?

    অম্বর সেন মাথা নাড়লেন।

    দেখুন মিস্টার মিত্তির, আমি নির্ঝঞ্ঝাট মানুষ। আমার পেশা হল ব্যবসা, তবে আসল কাজ আমার ভাইই করে। আমার পাঁচ রকম অন্য শখ আছে, সেই সব নিয়ে থাকি। সজ্ঞানে কারও কখনও কোনও সর্বনাশ করেছি বলে তো মনে পড়ে না। অন্তত এমন সর্বনাশ নিশ্চয়ই নয় যেটা এই হুমকি-চিঠিকে জাস্টিফাই করতে পারে। ব্যাপারটা আমার কাছে সম্পূর্ণ অর্থহীন বলে মনে হচ্ছে।’

    ফেলুদা ভুরু কুঁচকে একটুক্ষণ ভেবে বলল, ‘অবিশ্যি এটা এক ধরনের রসিকতাও হতে পারে—যাকে বলে প্রাকটিক্যাল জোক। আপনার পাড়ায় কাছাকাছির মধ্যে মস্তান ছেলেদের আস্তানা আছে?

    ‘আমরা থাকি পাম এভিনিউতে,’ বললেন অম্বর সেন। পুব দিকে কিছু দূরে একটা বস্তি আছে, সেখানে এই ধরনের ছেলে থাকা কিছুই আশ্চর্য নয়।’

    ‘পুজোর চাঁদার জন্য হামলা করে না?

    ‘তা করে, কিন্তু চাঁদা তো আমরা নিয়মিত দিই।’

    শ্রীনাথ চা এনেছে, তাই কাজের কথা কিছুক্ষণের জন্য বন্ধ হল। লালমোহনবাবু দুবার বিড়বিড় করে ‘রিভেঞ্জ’ কথাটা বললেন। ফেলুদা সেই সুযোগে আমাদের দুজনের সঙ্গে ভদ্রলোকের আলাপ করিয়ে দিল।।

    ‘আপনিই বিখ্যাত লালমোহন গাঙ্গুলি?’

    ‘হেঁ হেঁ।’

    ভদ্রলোক বেশ তৃপ্তি সহকারে চায়ে চুমুক দিয়ে ফেলুদার দিকে ফিরে বললেন, “আসলে আপনার বিষয়ে আমি আপনার কাহিনিগুলো থেকেই জেনেছি। তাই মনে হল আপনার কাছেই আসি।’

    ‘পুলিশে খবর দেননি? জিজ্ঞেস করল ফেলুদা।

    ‘আমার ভাই অবিশ্যি পুলিশের কথাই বলেছিল, কিন্তু আমি আবার এ সব ব্যাপারে একটু আন-অর্থডক্স। প্রচলিত নিয়মগুলো চট করে মানতে মন চায় না। আর সত্যি বলতে কী, এখনও বোধহয় অতটা বিচলিত হবার কারণ ঘটেনি। আপনার কাছে এলাম, তার একটা কারণ আপনাকে দেখারও একটা ইচ্ছে ছিল। আমাদের পরিবারের মোটামুটি সকলেই আপনাকে চেনে।’

    ‘পরিবারে আর কে কে আছেন?

    ‘আমার ভাই অম্বুজ আছে। সে বিয়ে করেছে, আমি করিনি। অম্বুজের স্ত্রী আছে, একটি মেয়ে আছে বছর দশেকের—ছেলে দুটি বড়, তারা বাইরে থাকে—তা ছাড়া আমার বিধবা মা আছেন, আর আছে আমাদেরই এক দূর সম্পর্কের আত্মীয়। সে আমাদেরই বাড়িতে মানুষ। ফ্যামিলি মেম্বার বলতে এই; তার বাইরে তিনজন চাকর, একটি ঠিকে ঝি, রান্নার লোক, মালি, দারোয়ান আর ড্রাইভার। আমরা থাকি ফাইভ বাই ওয়ান পাম এভিনিউতে। বাবা ছিলেন নামকরা হার্ট স্পেশালিস্ট অনাথ সেন।

    ফেলুদা একটু কিন্তু-কিন্তু ভাব করছে দেখে ভদ্রলোক বললেন, আপনাকে আমি শুধু ব্যাপারটা জানিয়ে গেলাম। হতে পারে এটা একটা প্র্যাকটিক্যাল জোক ছাড়া আর কিছুই না; তবে কী জানেন, এ ধরনের রসিকতার টারগেট বিখ্যাত ব্যক্তিদের মাঝে মাঝে হতে হয় ঠিকই, কিন্তু আমি তো আর তেমন কেউকেটা নই, তাই…’

    ফেলুদা বললে, বুঝতেই পারছেন, এ হুমকি যদি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন হয় তা হলে আমার পক্ষে কিছু করা সম্ভব নয়। যাই হোক—আপাতত এই চিঠিটা আমি রাখতে পারি তো?’

    “নিশ্চয়ই। ওটা তো আপনাকে দেবার জন্যেই আনা।

    এমন একটা হুমকি-চিঠি নিয়ে অম্বর সেনের ফেলুদার কাছে আসাটা একটু বাড়াবাড়ি বলেই মনে হচ্ছিল, পরদিন সকালে পাম এভিনিউ থেকে যে ফোনটা এল, তাতে সমস্ত ব্যাপারটা একটা অন্য চেহারা নিল।

    বসবার ঘর থেকে ফেলুদার ঘরে কলটা ট্রান্সফার করে দিয়ে কান লাগিয়ে যা শুনলাম তা হল এই—

    ‘কে, মিস্টার মিত্তির?’

    ‘আজ্ঞে হ্যাঁ।’

    ‘আমার নাম অম্বুজ সেন৷ কাল আমার দাদা বোধহয় আপনার ওখানে গেলেন একটা হুমকি-চিঠির ব্যাপারে?

    ‘হ্যাঁ হ্যাঁ ’

    ‘ওয়েল, হি ইজ মিসিং।’

    ‘মানে?

    ‘দাদাকে পাওয়া যাচ্ছে না।’

    ‘পাওয়া যাচ্ছে না?’

    না। দাদা রোজ ভোরে গাড়িতে করে বেরোন; গঙ্গার ধারে গাড়ি দাঁড় করিয়ে তারপর মাইল দুয়েক হাঁটেন। আজও গেলেন, কিন্তু আজ আর ফেরেননি।’

    ‘সে কী!

    ড্রাইভার গাড়ি নিয়ে ফিরে এসেছে এক ঘণ্টা ওয়েট করার পর। ও তন্নতন্ন করে খুঁজেও দাদার দেখা পায়নি।

    ‘পুলিশে জানাননি?’

    ‘সেখানে একটা গোলমাল আছে মিস্টার মিত্তির। আমার মার বয়স আশি, শরীরও ভাল নেই। ওঁকে দাদার ব্যাপারটা নিয়ে এখনও কিছুই জানাইনি। পুলিশ এলেই কিন্তু ব্যাপারটা আর চাপা থাকবে না। তখন ওঁকে সামলানো মুশকিল হবে। কাজেই আমাদের ইচ্ছা, কেসটা আপনিই হ্যান্ডল করুন। আপনার উপর আমাদের পুরো ভরসা আছে। অবশ্য আপনার উপযুক্ত পারিশ্রমিক আমরা দেব।

    ‘আমি তা হলে একবার আপনাদের ওখানে আসছি। অসুবিধা হবে না তো?

    ‘মোটেই না। আপনি এখনই চলে আসুন। আমাদের বাড়ির নম্বরটা জানেন তো?

    ফাইভ বাই ওয়ান পাম এভিনিউ তো?”

    ‘হা হা।’

    ২

    সাহেবি ধাঁচের গাড়িবারান্দাওয়ালা দোতলা ছড়ানো বাড়ি, সামনে একটা ছোট বাগান, পিছনেও সবুজ দেখে মনে হল বোধহয় টেনিস কোর্ট জাতীয় কিছু আছে। গেটের গায়ে শ্বেতপাথরের ফলকে অম্বরবাবুর বাবার নাম, নামের পরে অনেকগুলো ইংরিজি অক্ষর, কমা, ফুলস্টপ। সব শেষে ব্র্যাকেটের মধ্যে ‘এডিন’ কথাটা দেখে বুঝলাম ভদ্রলোককে স্কটল্যান্ড যেতে হয়েছিল ডাক্তারি পড়তে।

    যিনি আমাদের ট্যাক্সির শব্দ পেয়ে বেরিয়ে এলেন তাঁর সঙ্গে অম্বরবাবুর আদল আছে ঠিকই, কিন্তু ইনি বেঁটে, মোটা আর কালো। অর্থাৎ মুখের মিল বাদ দিলে ইনি অম্বরবাবুর ঠিক উলটো।

    আমাদের দেখে ভদ্রলোকের মুখে হাসি ফুটে উঠলেও, দুশ্চিন্তার ফলে সেটা সঙ্গে সঙ্গেই মিলিয়ে গেল।

    ‘আসুন ভিতরে।

    শ্বেতপাথরের মেঝেওয়ালা ল্যান্ডিং পেরিয়ে বৈঠকখানায় গিয়ে ঢুকলাম। এখানেও মাৰ্বল, তার উপর কার্পেট, আর তার উপর দামি দামি ফারনিচার। যে সোফায় বসলাম, সেটার গদি এত নরম যে, আমার ভারেই প্রায় ছ ইঞ্চি বসে গেল।

    ‘রুনা, এসো।’

    একটি ফ্রক-পরা মেয়ে এসে দরজায় দাঁড়িয়ে অবাক চোখে চেয়ে আছে ফেলুদার দিকে। অম্বুজবাবু ডাকতেই সে গুটিগুটি ঘরের ভিতরে এগিয়ে এল।

    “ইনি কে জানো?’ জিজ্ঞেস করলেন অম্বুজবাবু।

    ‘ফেলুদা, চাপা গলায় উত্তর এল।

    ‘আর ইনি?

    ‘তোপ্‌সে।’

    বাঃ, তুমি তো আমাদের দুজনকেই চেনো দেখছি,’ বলল ফেলুদা।

    ‘জটায়ু কোথায়? জিজ্ঞেস করল মেয়েটি। বোঝা গেল, সে এই তৃতীয় ব্যক্তিটিকে না দেখে কিছুটা হতাশ হয়েছে।

    ‘তিনি তো আসেননি,’ বলল ফেলুদা। তবে তাকে একদিন নিশ্চয়ই নিয়ে আসব।’

    ‘তোপ্‌সে এত মিথ্যে কথা বলে কেন?

    এই রে!—আমার সম্বন্ধে হঠাৎ এমন বদনাম কেন?

    ‘মিথ্যে মানে?’ ফেলুদা জিজ্ঞেস করল।

    ‘একটা বইয়ে লিখেছে ফেলুদা ওর মাসতুতো ভাই, আরেকটায় লিখেছে জ্যাঠতুতো ভাই। মিথ্যেই তো।

    ফেলুদাই আমাকে বাঁচিয়ে দিল। বলল, “ওহো—প্রথমে মাসতুতো ভাই লিখেছিল বটে, তখন ও গপ্‌পের মতো বানিয়ে লিখতে চেষ্টা করছিল। আমি ধমক দিতে তারপর সত্যি কথাটা লিখতে শুরু করল। আসলে জ্যাঠতুতো ভাইটাই ঠিক।

    ‘আপনার সব অ্যাডভেঞ্চার ওর পড়া,’ বললেন অম্বুজ সেন।

    ‘জেঠুকে খুঁজে বার করে দিতে পারবে তুমি?’ ফেলুদার দিকে সটান তাকিয়ে প্রশ্ন করল রুনা।

    ‘চেষ্টা করতে হবে।’ বলল ফেলুদা। তুমি যদি কোনও ক্লু জোগাড় করে দিতে পারো তা হলে তো কথাই নেই।

    ‘ক্লু ?’

    ‘ক্লু জান তো?

    ‘জানি।’

    আছে তোমার কাছে কোনও ক্লু, যাতে আমরা চট করে বের করে দিতে পারি তোমার জেঠুকে?

    ‘ক্লু তো তুমি বার করবে। তুমি তো ডিটেকটিভ।

    ‘ঠিক বলেছ। খুব চালাক মেয়ে তুমি। কী নাম তোমার? একটা নাম তো জানি, অন্যটা কী?

    ‘ভাল নাম ঝরনা।’

    ফেলুদা অম্বুজবাবুর দিকে ফিরল।

    ‘দেখুন, আপনাদের দিক থেকে কতকগুলো ব্যাপারে সাহায্য না পেলে কিন্তু আমার পক্ষে এগোনো মুশকিল হবে।

    কী সাহায্য বলুন।

    ‘প্রথমত, আপনাদের সকলের সঙ্গে কথাবার্তা বলতে হবে। আপনার দাদার সঙ্গে আমার মাত্র কয়েক মিনিটের আলাপ। তাকে আমার আরেকটু ভাল করে চিনতে হবে। তাঁর কাজের ঘরটাও একবার দেখা দরকার। এমনকী, দরকার হলে তাঁর জিনিসপত্র একটু ঘেঁটে দেখতে হতে পারে। আশা করি আপত্তি হবে না।’

    ‘মোটেই না,’ বললেন অম্বুজবাবু।

    ‘আর আপনার দাদা যেখানে মর্নিং ওয়াকে যেতেন, সেই জায়গাটাও একবার দেখে আসা দরকার।’

    ‘কোনওই অসুবিধে নেই। আমাদের ড্রাইভার বিলাসই আপনাদের গাড়ি করে নিয়ে গিয়ে সব দেখিয়ে আনবে।

    ফেলুদা সোফা ছেড়ে উঠে পায়চারি আরম্ভ করেছে। তিনটে বড় বড় বুককেস বোঝাই বই, সেই দিকে তার দৃষ্টি।

    ‘এ সব বই কার?

    সবই দাদার।

    নানান বিষয়ে ইন্টারেস্ট আছে দেখছি।’

    আজ্ঞে হ্যাঁ।

    ‘এমনকী গোয়েন্দাগিরি সম্বন্ধেও তো বই আছে।

    হা। এক সময় ওটা নিয়েও পড়াশুনা করেছেন।

    ‘বিজ্ঞান, ইতিহাস, রান্নার বই, মুদ্রা সংগ্রহ, থিয়েটার…’

    ‘থিয়েটারটা দাদার নেশা বলতে পারেন। আমাদের মাঠে পুজোর সময় স্টেজ বেঁধে নাটক হয়। দাদাই নির্দেশক; ফ্যামিলির সকলেই রংটং মেখে নেমে পড়ে। এমনকী ইনিও।’ রুনার দিকে দেখিয়ে দিলেন অম্বুজবাবু। রুনা এখনও সেই ভাবেই হাঁ করে চেয়ে আছে ফেলুদার দিকে।

    ‘এবারে অম্বরবাবুর কাজের ঘরটা একটু দেখতে পারি?

    আসুন আমার সঙ্গে।

    অম্বুজবাবু উঠে পড়লেন সোফা থেকে।

    বৈঠকখানার পাশে একটা প্যাসেজ, সেইটা পেরিয়ে পিছনের মাঠের দিকের একটা ঘরে গিয়ে ঢুকলাম আমরা।

    পুব দিকের জানালা দিয়ে রোদ এসে ঘরটাকে আলো করে দিয়েছে। একটা বড় ডেস্‌ক, তার সামনে একটা রিভলভিং চেয়ার, উল্টো দিকে আরও দুটো চেয়ার। জানালার ধারে একটা আরামকেদারা। এ ছাড়া টেবিলের পিছন দিকে রয়েছে একটা শেলফ, একটা ক্যাবিনেট আর একটা গোদরেজের আলমারি। তার পাশের দেয়ালে একটা ফোলডিং ব্র্যাকেট থেকে হ্যাঙ্গারে ঝুলছে একটা ছাই রঙের কোট।

    ডেস্‌কের উপরটা দেখলে মনে হয় অম্বরবাবু বেশ গোছানো লোক ছিলেন। কাগজপত্র টেলিফোন পেন-হোলডার পিনকুশন পেপার-ওয়েট চিঠির র‍্যাক, সব পরিপাটি করে সাজানো। একটা ডেট-ক্যালেন্ডার রয়েছে, তার তারিখটা তিন দিন আগের। ব্যাপারটা আমারও খটকা লেগেছিল, ফেলুদা সেটার দিকে অম্বুজবাবুর দৃষ্টি আকর্ষণ করায় ভদ্রলোক বললেন, ‘দাদাকে কয়েক দিন থেকেই অন্যমনস্ক দেখছিলাম। সচরাচর দাদার এ রকম ভুল হয় না কিন্তু।

    ফেলুদা খুঁতখুঁতে মানুষ, সে নিজেই শনিবার দোসরাটা বদলে মঙ্গলবার পাঁচই করে দিল।

    ‘দেরাজ খুলে দেখতে পারি কি?’ ফেলুদা জিজ্ঞেস করল।

    ‘দেখুন, না।’

    তিনটে দেরাজই পরপর খুলে তার ভিতরের জিনিসপত্র হাতড়ে দেখল ফেলুদা। ওপরের দেরাজ থেকে পাওয়া এক টুকরো কাগজ সম্বন্ধে মনে হল তার একটু কৌতূহল হয়েছে, কারণ সেটা সে ঘুরিয়ে ফিরিয়ে দেখছে।

    ‘হিমালয়ান অপটিক্যালস থেকে চশমা করাতেন বুঝি আপনার দাদা?

    হাঁ।

    ‘একটা ক্যাশমেমো দেখছি। তারিখটা সাত দিন আগের। নতুন চশমা করিয়েছিলেন বুঝি?

    কই, না তো!’ বলে উঠল রুনা। সে-ও আমাদের পিছন পিছন এসেছে।

    তুমি কী করে জানলে, রুনা?’ জিজ্ঞেস করল ফেলুদা!

    আমাকে তো দেখায়নি জেঠু!

    অম্বুজবাবু একটু হেসে বললেন, ‘দাদা যে কখন কী করছেন তার খবর আমরা সব সময়ে পেতাম না।’

    আমরা অম্বরবাবুর স্টাডি থেকে বেরিয়ে এলাম।।

    ‘আপনাদের এক আত্মীয় এখানে থাকেন বোধ হয়’, প্যাসেজে বেরিয়ে এসে বলল ফেলুদা, আপনাদের এখানেই মানুষ হয়েছেন?

    ‘কে, সমরেশ? হাঁ, থাকে বইকী।’

    ফেলুদার অনুরোধে সমরেশবাবুকে ডেকে পাঠানো হল। বছর পঁয়ত্রিশ বয়স, মুখে বসন্তের দাগ, চোখে পুরু চশমা। একটু যেন আড়ষ্ট ভাব নিয়ে ভদ্রলোক এসে দাঁড়ালেন আমাদের দিকে হাত দশেক দূরে।

    বসুন, বলল ফেলুদা।

    বেশ কিছুটা দূরে একটা চেয়ারে বসলেন সমরেশবাবু।

    আপনার পদবিটা কী?

    মল্লিক।

    কদ্দিন আছেন এ-বাড়িতে?

    বছর পঁচিশ।

    কী করেন?

    ‘একটা ফিল্ম ডিসট্রিবিউশন আপিসে কাজ করি।’

    ‘কোথায়?

    ‘ধর্মতলায়।

    কী নাম কোম্পানির?

    ‘কোহিনুর পিকচার্স।

    কদিন আছেন ওখানে?

    ‘সাত বচ্ছর।

    তার আগে কী করতেন?

    ‘এই…বাড়ির কাজকর্ম।

    হাত দুটোকে ভাঁজ করে হাঁটুর মধ্যে চেপে রেখেছেন ভদ্রলোক—যাকে বলে জবুথবু ভাব।

    ‘আপনি অম্বরবাবুর অন্তর্ধানের ব্যাপারে কোনও আলোকপাত করতে পারেন?

    সমরেশবাবু চুপ। ফেলুদা বলল, তিনি একটা হুমকি-চিঠি পেয়েছিলেন জানেন?

    ‘জানি।

    “আপনার ঘর কি এবাড়ির একতলাতে?

    হ্যাঁ।

    ‘অম্বরবাবুর কাছে বাইরের লোকজন দেখা করতে আসত?

    তা আসত, মাঝে-মাঝে।

    ‘সম্প্রতি এমন কোনও লোককে আসতে দেখেছেন, যাকে আগে দেখেননি?”

    ‘সেটা লক্ষ করিনি। তবে—

    তবে কী?

    ‘এই পাড়ায় কিছু ছেলেকে দেখেছি, যাদের আগে দেখিনি।

    ‘কোথায়?

    ‘মোড়ের মাথায়।

    কী করত তারা?

    ‘মনে হত এই বাড়ির দিকে চোখ রাখছে।’

    বয়স কী রকম তাদের?

    ‘বিশ থেকে পঁচিশের মধ্যে বলে মনে হয়।

    কজন ছেলে?

    ‘চারজন।

    ফেলুদা একটুক্ষণ চুপ করে কী যেন ভাবল। তারপর বলল, “ঠিক আছে। আপনি আসতে পারেন।’

    এই সব কথা থেকে ফেলুদা কোনও ক্লু পেল কি জানি না। যেটাতে মনে হয় সত্যি করে কাজ হল, সেটা হল অম্বুজবাবুর স্ত্রীর সঙ্গে কথাবার্তায়।

    রীতিমতো সুন্দরী মহিলা, তার উপর যাকে বলে ‘ব্রাইট’। বয়স চল্লিশের উপর হলেও দেখে বোঝার জো নেই। দোতলার একটা ছোট বৈঠকখানায় বসে কথা হল।

    ফেলুদা প্রথমেই ক্ষমা চেয়ে নিল ভদ্রমহিলাকে বিব্রত করার জন্য। তাতে কী হয়েছে,’ বললেন মিসেস অম্বুজ সেন, ‘গোয়েন্দাকে যে এ ভাবে জেরা করতে হয় সে তো ফেলুদার গল্প পড়েই জেনেছি। খুব ভাল লাগে পড়তে গোয়েন্দার কাহিনি।

    ‘তা হলে তো ভালই হল, বলল ফেলুদা। ‘আমার প্রধান মুশকিলটা কোথায় হচ্ছে বলি। অম্বরবাবু একটা হুমকি-চিঠি পেয়েছিলেন জানেন বোধহয়।

    ‘তা জানি বইকী।

    ‘দেখেছেন সে চিঠি?

    তাও দেখেছি।’

    ‘আমি অম্বরবাবুকে জিজ্ঞেস করেছিলাম তাঁর জীবনে এমন কোনও ঘটনা ঘটেছিল কি না যার ফলে অন্য কোনও মানুষের সর্বনাশ হতে পারে। উনি বলেছিলেন তেমন কোনও ঘটনা তার জানা নেই। অবিশ্যি আমার বলা উচিত ছিল যে, রিসেন্ট ঘটনা হবার দরকার নেই, অতীতের ঘটনা হলেও চলবে, কেননা প্রতিহিংসার ভাবটা মানুষ অনেক সময়ে অনেক দিন পুষে রাখে। আমি এখন আপনাকে জিজ্ঞেস করতে চাই, আপনি কি এমন কোনও ঘটনার কথা জানেন? দশ-বিশ বছর আগের হলেও চলবে।’

    ভদ্রমহিলা একটুক্ষণ চিন্তিত ভাবে চুপ করে থেকে বললেন, তা হলে আপনাকে বলি। আপনি দেখুন এমনি ঘটনার কথাই বলছেন কি না। এটা আমার কাল রাত্তিরে হঠাৎ মনে পড়ে। আমার স্বামীকেও এখনও বলিনি।’

    কী ঘটনা বলুন তো।’

    ‘একটা অ্যাক্সিডেন্টের ব্যাপার।’

    ‘অ্যাক্সিডেন্ট?

    ‘অনেক দিন আগে। তখনও রুনা হয়নি; বোধহয় তার পরের বছরই হল। আমার ভাসুর তখন নিজেই গাড়ি চালাতেন। আমার শ্বশুরের গাড়ি। অস্টিন। উনি শ্যামবাজারের দিকে একজন লোককে চাপা দেন। সে-লোক মারা যায়।’

    আমরা দুজনেই চুপ। ঘরে থমথমে ভাব। অম্বুজবাবু পাশেই ছিলেন, চাপা গলায় বললেন, ‘আশ্চর্য, এটা আমার মনেই ছিল না।’

    ‘আর কী মনে পড়ছে?’ ফেলুদা দুজনকেই প্রশ্নটা করল।

    ‘নিম্ন-মধ্যবিত্ত ফ্যামিলি, বললেন অম্বুজবাবু, ক্লার্ক ছিলেন ভদ্রলোক।

    নাম মনে পড়ছে?’

    “উহু।’

    ‘স্ত্রী ছিল, আর তিনটি ছেলেমেয়ে, বললেন মিসেস সেন। ছেলেটির বয়স তেরো-চোদ্দো। মেয়ে দুটি আরও ছোট। পাঁচ হাজার টাকা তুলে দেন বিধবার হাতে।

    ‘কে, অম্বরবাবু?

    হ্যাঁ।

    ‘সেই থেকেই দাদা ড্রাইভিং বন্ধ করে দেন, বললেন অম্বুজবাবু, ‘এখন মনে পড়ছে।

    ‘হুঁ…’ ফেলুদা গম্ভীর। তার মানে এখন সে-ছেলের বয়স বছর পঁচিশ। পরিবারটির যে সর্বনাশ হবে এই ঘটনার ফলে, এটা মোটেই অস্বাভাবিক নয়। পাঁচ হাজার টাকা আর কদ্দিন চলে?

    এর বেশি আর কিছু মনে পড়ছে না, জানেন, বললেন মিসেস সেন।

    ‘আমারও না,’ বললেন অম্বুজবাবু।

    ‘অম্বরবাবু কি ডায়রি রাখতেন?’ ফেলুদা জিজ্ঞেস করল।

    কই, সে রকম তো শুনিনি এখনও,’ বললেন অম্বুজবাবু।

    ফেলুদা উঠে পড়ল।

    ‘অনেক ধন্যবাদ, মিসেস সেন। আপনি অন্ধকারে একটা আলো দেখিয়েছেন আমাদের, তার জন্য আমি বিশেষ কৃতজ্ঞ।

    ‘আমরা কিন্তু মনেপ্রাণে চাইছি যে, আপনি ব্যাপারটার একটা সুরাহা করেন।

    কথাটা যে ভদ্রমহিলা খুব আন্তরিকতার সঙ্গে বললেন তাতে কোনও সন্দেহ নেই।

    ৩

    অম্বরবাবুর অসুস্থ মাকে বিরক্ত করার কোনও মানে হয় না, তাই আমরা আপাতত পাম এভিনিউ-এর পাট শেষ করে সেনেদের আমবাসাডরে চলে গেলাম গঙ্গার ধারে। গে রেস্টোরান্টের সামনে গাড়ি দাঁড় করিয়ে ড্রাইভার বিলাসবাবু বললেন, এইখান থেকে স্যার হাঁটতে আরম্ভ করে সোজা দক্ষিণ দিকে গিয়ে ঠিক এক ঘণ্টা বাদে আবার ফিরে আসতেন। একেবারে ঘড়ির কাঁটায় কাঁটায়।

    ‘আপনি গাড়িতেই বসে থাকতেন?

    “আজ্ঞে হ্যাঁ।

    কদ্দিন ড্রাইভারি করছেন সেনবাড়িতে?

    নাইন ইয়ারস।’

    তার মানে অ্যাক্সিডেন্টের ব্যাপারটা আপনি জানেন না?’

    অ্যাক্সিডেন্ট?

    ‘অম্বরবাবু বছর বারো আগে একবার একটি লোককে গাড়ি চাপা দিয়ে মারেন।’

    ‘সেন সাহেব?’

    ‘কেন, আপনার বিশ্বাস হচ্ছে না?

    ‘উনি যে কোনওদিন নিজে ড্রাইভ করেছেন সেইটেই জানতুম না।’

    ‘ওই ঘটনার পরেই ড্রাইভিং ছেড়ে দেন।’

    ‘তা হবে। ড্রাইভারের তো দোষ দেওয়া যায় না সব সময়। রাস্তার লোকে যে ভাবে চলাফেরা করে, আরও বেশি লোক মরে না কেন সেইটেই তো ভাবি। ড্রাইভারের আর কী দোষ?

    “অম্বরবাবু যে দিন আর ফিরলেন না, সে দিনের ঘটনাটা একটু বলবেন?

    সে দিন উনি আসছেন না দেখে আমি হেস্টিংস পর্যন্ত গিয়ে তল্লাশ করেছিলাম। পথে লোক ধরে ধরে জিজ্ঞেস পর্যন্ত করছি। গাড়ি থামিয়ে থামিয়ে রাস্তায় নেমে খুঁজেছি যদি কোথাও পড়ে-টড়ে গিয়ে থাকেন। হার্টটা তেমন মজবুত ছিল না তো।’

    ‘লোকজন কেমন ছিল রাস্তায়?

    সকালে এ দিকটায় লোক মন্দ থাকে না। সব হাঁটতে আসে। তবে নিউ হাওড়া ব্রিজের সাইডটায় লোক থাকে না বললেই চলে। স্যার তো ও দিকেই যেতেন। ফস করে যদি গাড়িতে কটা জোয়ান লোক এসে কোলপাঁজা করে তুলে নিয়ে যায়, কেউ টেরও পাবে না।’

    আমরা গাড়িতে করেই দশ মাইল স্পিডে চালিয়ে হেস্টিংস পর্যন্ত ঘুরে এলাম, কিন্তু সন্দেহজনক কিছুই দেখতে পেলাম না।

    এর পর দু’দিন পাম এভিনিউ থেকে কোনও খবর নেই। বিষুদবার বিকেলে লালমোহনবাবু এসেই বললেন, ‘ঘটনা এগোল?’ অম্বর সেন উধাও শুনে ভদ্রলোকের চোখ কপালে উঠে গেল। বললেন, আপনার একটি কেসও গেঁজে যেতে দেখলুম না। ধন্যি আপনার লাক!

    ‘আপনার গ্রেট স্কলার প্রতিবেশী মৃত্যুঞ্জয় সোমের কী খবর?

    ‘দুর দুর! স্কলার না মুণ্ডু!

    ‘সে কী মশাই, এর মধ্যে আবার কী হল? সে দিন তো সুপারলেটিভ ছাড়া কথাই বলছিলেন না।’

    “আর বলবেন না মশাই।

    ‘কেন, কী হল?

    বলতেও লজ্জা করে।’

    ‘আমার কাছে আবার লজ্জা কী? বলে ফেলুন।

    ব্যাপারটা কী জানি না, কিন্তু সেটা যে লালমোহনবাবু চেপে যেতে চাইছেন সেটা বুঝতেই পারছি। এ দিকে ফেলুদাও ছাড়বার পাত্র নয়। শেষটায় পীড়াপীড়িতে ভদ্রলোক বলেই ফেললেন।

    ‘আরে মশাই, ভাবতে পারেন, ভদ্রলোক প্রদোষ মিত্তিরের নাম শোনেননি! আপনার বন্ধু বলে পরিচয় দিতে গিয়ে একেবারে ভেড়া বনে গেলুম! বলে কিনা—হু ইজ প্রদোষ মিত্র?

    তাতে আর কী হল, এত বড় স্কলার, হার্ভার্ডের ডবল এম এ, আমিও তো তাঁর নাম শুনিনি।

    কথাটা বোধহয় লালমোহনবাবুকে কিছুটা আশ্বস্ত করল। বললেন, ‘তা যা বলেছেন। এত বড় দুনিয়ায় ক’টা মানুষকেই আর ক’টা মানুষ চেনে! আর ভদ্রলোক বোধহয় বেশির ভাগ সময় বিদেশে কাটিয়েছেন। কাজেই এক্সকিউজ করে দেওয়া যায়—কী বলেন?

    আমাদের কথার মাঝখানেই পাম এভিনিউ থেকে ফোন এল। অম্বুজ সেন। একটা বেনামি চিঠি এসেছে ভদ্রলোকের নামে। টেলিফোনে সেটা পড়ে শোনালেন ভদ্রলোক।

    ‘আগামীকাল শুক্রবার সন্ধ্যা সাড়ে ছ’টায় ১০০ টাকার নোটে ২০,০০০ টাকা ব্যাগে পুরে প্রিনসেপ ঘাটের দক্ষিণ-পূর্ব কোণের থামের ধারে রেখে যাবেন। অম্বর সেনকে অক্ষত অবস্থায় ফিরে পাবার এই একমাত্র উপায়। পুলিশ বা গোয়েন্দার সাহায্য নিলে ফল হবে মারাত্মক।

    ফেলুদা ফোনে বলল, ‘এখনই কোনও সিদ্ধান্ত নেবার দরকার নেই, মিস্টার সেন। আরও চব্বিশ ঘণ্টা সময় আছে। এর মধ্যে আমার কয়েকটা কাজ আছে। আপনাদের দিক থেকে কী করণীয় সেটা আমি কাল দুপুর দুটোর মধ্যে আপনাদের বাড়ি গিয়ে বলে আসব। তবে হ্যাঁ, টাকার ব্যবস্থাটা করে রাখবেন। ওটা খুবই জরুরি।’

    ‘কিন্তু গোয়েন্দার ব্যাপারে শাসিয়ে রেখেছে যে মশাই, ফেলুদা ফোন রাখার পর লালমোহনবাবু বললেন।

    ফেলুদা উত্তরে শুধু বলল, “জানি।’

    রকেটের বেগে ঘটনা এগিয়ে চলেছে। এই টাকাটা না দিয়ে উপায় কী আছে সেটা আমিও ভেবে পেলাম না।

    ‘লালমোহনবাবু, কাল আপনার গাড়িটা একটু পাওয়া যাবে কি? প্রায় পাঁচ মিনিট চুপ করে থেকে অবশেষে প্রশ্ন করল ফেলুদা।

    ‘এনি টাইম,’ বললেন জটায়ু। কখন চাই বলুন।

    সকালে একবার বেরোব। সাড়ে নটা নাগাদ পেলেই চলবে। ঘণ্টা দুয়েকের মধ্যে আমার কাজ হয়ে যাবে। তারপর বিকেল পাঁচটা নাগাদ আপনি যদি গাড়িটা নিয়ে চলে আসেন তো খুব ভাল হয়।

    ‘ভেরি গুড।’

    এর পর ফেলুদা আর কোনও কথাই বলল না।

    পরদিন লালমোহনবাবুর গাড়িতে করে ফেলুদা বেরোল। একাই বেরোল, কাজেই কোথায় গেল কী করল জানার উপায় নেই। বারোটা নাগাদ ফিরে আসার পর দেখলাম তার মুখের ভাব বদলে গেছে।

    ‘কী ঠিক করলে ফেলুদা?’ ভয়ে ভয়ে জিজ্ঞেস করলাম।

    ‘টাকাটা দিতেই হবে,’ বলল ফেলুদা। তবে গোয়েন্দা সম্পর্কে হুমকিটা মানা চলবে না।

    ‘মানে? তুমি নিজেও থাকবে সেখানে?

    ‘ফেলু মিত্তির অত সহজে ঘাবড়াবার লোক নয় রে তোপ্‌সে।’

    ‘আর আমরা? আমরা কোথায় থাকব?

    ‘তোরাও থাকবি কাছাকাছির মধ্যে, কারণ হেল্প দরকার হতে পারে।’

    আমি তো শুনে থ’।

    দুপুরে খেয়ে দেয়ে আমরা গেলাম পাম এভিনিউ।

    অম্বুজবাবু স্বভাবতই বাড়িতে ছিলেন, ফেলুদাকে দেখেই ব্যস্ত হয়ে উঠলেন।

    কাল রাত্তিরে চোখের পাতা এক করতে পারিনি মশাই। দেখতে দেখতে কী যে হয়ে গেল।

    ফেলুদা গম্ভীর ভাবে বলল, “টাকাটা আপনাদের খসবেই, মিস্টার সেন। অম্বরবাবুকে ফিরে পাবার আর কোনও রাস্তা নেই।’

    তুমি ধরতে পারোনি এখনও?’রুনা হঠাৎ ঘরের দরজা থেকে চেঁচিয়ে জিজ্ঞেস করে উঠল।

    ‘অনেকটা ধরে ফেলেছি, রুনা,’ বলল ফেলুদা। ‘খুব চেষ্টা করছি যাতে বাকিটা আজ বিকেলের মধ্যেই ধরতে পারি।’

    ব্যাস, ঠিক আছে।’

    রুনাকে ভীষণ নিশ্চিন্ত বলে মনে হল। ফেলুদা ব্যর্থ হবে এটা যেন তার কাছে ভয়ানক একটা দুঃখের ব্যাপার।

    ‘তা হলে কী করা উচিত বলে মনে হয়? জিজ্ঞেস করলেন অম্বুজবাবু।

    ‘টাকার ব্যবস্থা হয়েছে?

    ‘সেটা করে ফেলেছি। বাড়িতে তো অত ক্যাশ থাকে না, তাই আজ সকালেই সমরেশকে দিয়ে ব্যাঙ্ক থেকে আনিয়ে নিয়েছি।’

    ‘সেই টাকা, এবং যে ব্যাগে করে সেটা দেওয়া হবে—এই দুটো জিনিস আমি একবার দেখতে চাই।’

    টাকা এবং ব্যাগ এসে গেল। এত টাকা এর আগে একসঙ্গে দেখেছি কি? মনে তো পড়ে না।

    ফেলুদার সামনেই কুড়িটা করে একশো টাকার নোট রাবার ব্যান্ড দিয়ে গোছ করে দশ ভাগে ব্যাগের মধ্যে পুরে দেওয়া হল। তার ফলে ব্যাগের চেহারা হয়ে গেল কচ্ছপের পিঠের মতো।

    ‘ভেরি গুড,’ বলল ফেলুদা। তা হলে আমরা বেরিয়ে পড়ছি পৌনে ছটা নাগাদ।’

    অম্বুজবাবু চমকে উঠলেন।

    ‘সে কী, আপনি যাবেন?

    ‘অপরাধীকে ধরার চেষ্টা আমাকে করতেই হবে, মিস্টার সেন। আপনি টাকা রেখে আসবেন, আর সে লোক দিব্যি এসে সেটা তুলে নিয়ে চলে যাবে, এ তো হতে দেওয়া যায় না! অম্বরবাবুকে ফেরত পাওয়াটাই বড় কথা সেটা জানি, কিন্তু সেই সঙ্গে এই গুন্ডাদেরও সাজা হওয়া উচিত নয় কি? না হলে তো তারা এই ধরনের কুকীর্তি করেই চলবে। তবে আপনি চিন্তা করবেন না। সাবধানতা অবলম্বন না করে আমি কখনও কিছু করি না।’

    তা হলে—

    ‘আমি বলছি, আপনি মন দিয়ে শুনুন। আপনি আপনার গাড়িতে করে যাবেন টাকা নিয়ে। নিউ হাওড়া ব্রিজের দিকটা দিয়ে আসবেন। ও দিকটা মোটামুটি নিরিবিলি। গাড়ি প্রিনসেপ ঘাট থেকে অন্তত দুশো গজ আগে দাঁড় করিয়ে আপনার ড্রাইভারকে বলবেন টাকাটা যথাস্থানে রেখে আসতে। আমি কাছাকাছির মধ্যেই থাকব। কাজটা ঠিকমতো হচ্ছে কি না সেটা আমি দেখতে পাব। আমরা মিট করব ঘটনার পর। গে রেস্টোরান্টের সামনে। আপনি টাকা রেখে সোজা ওখানে চলে আসবেন। আমিও তাই করব। অপরাধীকে যদি ধরতে পারি তা হলে তিনিও আমার সঙ্গেই থাকবেন, বলাই বাহুল্য।

    অম্বুজবাবুকে মনে হল যেন তিনি বেশ নার্ভাস বোধ করছেন। সেটা অস্বাভাবিক নয়। টাকার অঙ্কটা তো কম নয়। আর গুন্ডারা কী করবে না করবে কে জানে?

    বিকেলে সাড়ে চারটের সময় লালমোহনবাবু এলে পর ফেলুদার প্রথম কথা হল, ‘মশাই, এমন অভিনব কেস আর আমি কোনও দিন পাইনি।’

    অবিশ্যি আমাকে জিজ্ঞেস করলে পরে আমি এখনও বলতে পারব না এর বিশেষত্বটা কোথায়।

    ‘তা হলে আমরা কী করছি?’ জিজ্ঞেস করলেন লালমোহনবাবু।

    ‘শুনে নিন মন দিয়ে, বলল ফেলুদা, ‘তুইও শোন, তোপ্‌সে। সাড়ে পাঁচটার সময় আপনার গাড়ি নিয়ে আপনি আর তোপ্‌সে চলে যাচ্ছেন গে রেস্টোরান্টে। সেখানে আপনাদের অভিরুচি অনুযায়ী পানাহার সেরে ঠিক সোয়া ছ’টায় রেস্টোরান্ট থেকে বেরিয়ে সটান চলে যাবেন দক্ষিণে প্রিনসেপ ঘাট লক্ষ্য করে। গাড়ি রেখে যাবেন রেস্টোরান্টের সামনে। থামওয়ালা ঘাটটার কাছে পৌঁছনোর কিছু আগেই দেখবেন ডান দিকে একটা গম্বুজওয়ালা বসার ঘর রয়েছে। দুজনে সেখানে ঢুকে বেঞ্চিতে বসে পড়বেন। ভাবটা এমন হওয়া চাই যেন সান্ধ্যভ্রমণ আর বায়ুসেবন ছাড়া আপনাদের আর কোনও উদ্দেশ্য নেই। ঘাটের দিকে আড়দৃষ্টি রাখবেন, তবে যেন মনে না হয় যে, ওটাই আপনাদের লক্ষ্য। তারপর সাড়ে ছ’টার দশ মিনিট পর ওখান থেকে উঠে পড়ে নিজের গাড়িতে ফিরে আসবেন। আমিও সেখানেই আপনাদের মিট করব।’

    ৪

    ফেব্রুয়ারি মাস শেষ হতে চলল, কিন্তু এখনও দিব্যি ঠান্ডা। তবে শীতকালের মতো দিন আর অত ছোট নেই, ছ’টা পর্যন্ত বেশ আলো থাকে। আমি আর লালমোহনবাবু কফি আর মুরগির কাটলেট খেয়ে ঠিক সোয়া ছ’টায় রেস্টোরান্ট থেকে বেরিয়ে রওনা দিলাম প্রিনসেপ ঘাটের দিকে।

    পথে লালমোহনবাবু মাঝে-মাঝে বুক ভরে নিশ্বাস নিয়ে আঃ উঃ শব্দ করে সান্ধ্যভ্রমণের অভিনয় করছেন, সেটা যে খুব কনভিনসিং হচ্ছে তা নয়। কিন্তু ক্রমেই আশপাশের লোকজন এত কমে আসছে, ফুচকাওয়ালা আর ভেলপুরিওয়ালার দল এত পিছিয়ে পড়ছে যে, এখন উনি যা খুশি করলেও আপত্তির কিছু নেই।।

    দশ মিনিট লাগল আমাদের গম্বুজওয়ালা বসার জায়গাটায় পৌঁছতে। বেঞ্চ দখল করার পর এ-দিক ও-দিক চেয়ে লালমোহনবাবু চাপা গলায় প্রশ্ন করলেন, “তোমার দাদাকে দেখতে পাচ্ছ কি, তপেশ?

    দাদা কেন, কোনও মানুষকেই দেখতে পাচ্ছি না ঘাটের নৌকোর মাঝিদের ছাড়া। কোনখানে লুকিয়ে রয়েছে ফেলুদা কে জানে। ঘাটের দেড়শো বছরের পুরনো থামগুলো মাথা উঁচিয়ে দাঁড়িয়ে আছে, তাদের মধ্যে ফাঁকগুলো ক্রমেই অন্ধকার হয়ে আসছে। ওখানে গিয়ে কেউ টাকার ব্যাগ রাখলে, বা সেব্যাগ নিতে এলে, কেউ দেখতেও পাবে না।

    ‘ওই যে!’ লালমোহনবাবু আমার হাত খামচে ধরেছেন।

    হা—ঠিকই দেখেছেন ভদ্রলোক।

    একজন সাদা প্যান্ট আর কালো কোট পরা লোক হাতে একটা ব্যাগ নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে প্রিনসেপ ঘাটের দিকে। অম্বরবাবুদের ড্রাইভার। বিলাসবাবু।

    বিলাসবাবু এ বার থামগুলোর ফাঁক দিয়ে ভিতরে ঢুকে অন্ধকারে মিলিয়ে গেলেন।

    মিনিটখানেক পরেই তাকে আবার দেখা গেল। এ বার হাত খালি। বড় রাস্তায় পড়ে ডাইনে মোড় ঘুরে গাছের আড়াল হয়ে গেলেন ভদ্রলোক।

    সাড়ে ছ’টা বেজে গেছে। আলো আরও পড়ে এসেছে। এখন সামনের সারির থামগুলো ছাড়া আর কোনওটাই দেখা যাচ্ছে না। একবার মনে হল অন্ধকারের মধ্যে কে যেন নড়ল; কিন্তু সেটা চোখের ভুল হতে পারে।

    এ বার দেখলাম সেনদের গাড়ি আমাদের সামনে দিয়ে রেস্টোরান্টের দিকে চলে গেল। তারপর তিনজন জিনস-পরা ছেলে, আর তাদের পিছনে ঢোলা প্যান্টপরা হাতে লাঠিওয়ালা এক বৃদ্ধ ফিরিঙ্গিও সেই দিকেই চলে গেল।

    আমরাও উঠে পড়লাম।

    আবার ঠিক দশ মিনিটই লাগল আমাদের গাড়িতে পৌঁছতে।

    কিন্তু ফেলুদা কই?

    এ বার গাড়ির ভিতরে চোখ গেল।

    নস্যিরঙের আলোয়ান জড়ানো এবং লুঙ্গি পরা এক বুড়ো বসে আছে ড্রাইভার হরিপদবাবুর পাশে। থুতনিতে খোঁচা-খোঁচা দাড়ি, কিন্তু গোঁফ নেই।

    ‘স্যালাম কর্তা!’ লালমোহনবাবুর দিকে চেয়ে বলল লোকটা।

    এ আর বলতে হবে না। ওই মুসলমান মাঝি ফেলুদা ছাড়া আর কেউ না। এ দিকে অম্বুজবাবুও এসে পড়েছেন রাস্তার ও দিক থেকে। তার কাছে ফেলুদার নিজের পরিচয় দিতেই হল। নৌকো থেকে ঘাটটা সবচেয়ে ভাল দেখা যায়, তাই ওখানেই ওঁত পাতার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম।

    ‘কিন্তু কী হল সেইটে বলুন, মিস্টার মিত্তির।

    ফেলুদা গম্ভীর।

    ‘ভেরি সরি, মিস্টার সেন।

    মানে?

    ‘আমি ঘাটে ওঠার আগেই সে লোক টাকা নিয়ে হাওয়া।

    বলেন কী! টাকা নেই? লোকটাকেও ধরা গেল না?

    বলছি তো—আমি অত্যন্ত দুঃখিত।

    অম্বুজবাবু কিছুক্ষণ ফ্যালফ্যাল করে চেয়ে বইলেন ফেলুদার দিকে। কথাটা যেন ভদ্রলোকের বিশ্বাসই হচ্ছে না। সত্যি বলতে কী, আমারও কেমন যেন মাথা ঝিমঝিম করছিল। ফেলুদাকে এ ভাবে হার মানতে এর আগে দেখিনি কখনও।

    ‘আপনাদের পুলিশের সাহায্যই নিতে হবে, মিস্টার সেন,’ বলল ফেলুদা। আপনি বাড়ি চলে যান। এ বার তো অম্বরবাবুর ফিরে আসা উচিত। আমরা একবার বাড়িতে ঢু মেরে আপনার ওখানেই আসছি। এই বেশে তো আর পাম এভিনিউ-এর বৈঠকখানায় ঢোকা যাবে না।’

    বাড়ি যাওয়ার একমাত্র কারণ ফেলুদার একটু ফিটফাট হয়ে নেওয়া। তা ছাড়া হাতেও কালো রং লেগেছিল—জিজ্ঞেস করতে বলল আলকাতরা সেটাও ধুয়ে নেওয়া দরকার। আলকাতরাটাও মেক-আপের অংশ কি না জিজ্ঞেস করাতে কোনও উত্তর দিল না ফেলুদা।

    আমরা যখন পাম এভিনিউ রওনা হলাম, তখন প্রায় সাড়ে সাতটা বাজে। পথে লালমোহনবাবু একবার বলেছিলেন, “আপনার অমন ব্রিলিয়ান্ট মেক-আপটা মাঠে মারা যাবে ভাবিনি মশাই কিন্তু তাতে ফেলুদা কোনও মন্তব্য করেনি।

    পাম এভিনিউ পৌঁছনোর সঙ্গে সঙ্গেই রুনার গলায় উচ্ছ্বসিত চিৎকার শোনা গেল, ‘জেঠু এসে গেছে।

    অম্বরবাবু ফিরেছেন আমরা আসার মিনিট দশেক আগে। আমরা বৈঠকখানায় গিয়ে ঢুকতেই ভদ্রলোক সোফা ছেড়ে উঠে হাত বাড়িয়ে ফেলুদার হাত দুটো ধরে ঝাঁকিয়ে দিলেন। ভাই, ভাইয়ের বউ, ভাইঝি, সমরেশবাবু, বিলাসবাবু, সকলেই ঘরে রয়েছেন।

    ‘কোথায় আটক করে রেখেছিল আপনাকে? একগাল হেসে প্রশ্ন করলেন লালমোহনবাবু।

    ‘ও—সে আর বলবেন না—‘

    ফেলুদা হাত তুলে বাধা দিল ভদ্রলোককে।

    ‘উনি তো বলবেনই না, আর আপনিও বলবেন না, মিস্টার সেন। কারণ বললেই একরাশ কল্পনার আশ্রয় নিতে হবে। মিথ্যে শব্দটা ব্যবহার করলাম না, কারণ সেটা ভাল শোনায় না।’

    হুররে হুররে হুররে! চেঁচিয়ে উঠল রুনা। ‘ফেলুদা ধরে ফেলেছে, ফেলুদা ধরে ফেলেছে!

    এ বার ফেলুদা একটা চারমিনার ধরিয়ে নিয়ে বলল, “আপনারা যে একটা বিরাট ফন্দি এঁটেছিলেন সেটা ধরে ফেলেছি, কিন্তু সেটার কারণটা এখনও ঠিক ধরতে পারছি না।’

    কারণ বলছি মিস্টার মিত্তির, হেসে বললেন অম্বর সেন। কারণ আমার ওই খুদে ভাইঝিটি। সে আপনাকে বলতে গেলে এক রকম পুজোই করে। তার ধারণা, আপনি ভুলভ্রান্তির উর্ধ্বে। তাই ওকে আমি সে দিন বললাম যে, তোর ফেলুদাকে আমি জব্দ করতে পারি। ব্যস—ওই একটি উক্তি থেকেই সমস্ত ফন্দিটির উৎপত্তি। এতে আমাদের সকলেরই ভূমিকা আছে।

    ‘অর্থাৎ এও আপনাদের একটা ফ্যামিলি নাটক?

    ‘ঠিক তাই। সবাইকে সব কিছু আমিই শিখিয়ে পড়িয়ে দিয়েছিলাম। আপনি কী জিজ্ঞেস করলে কী উত্তর দেবে, সব লিখে মুখস্থ করিয়ে দিয়েছিলাম— এমনকী ড্রাইভার ও চাকরকে পর্যন্ত। প্রধান নারীচরিত্র অবশ্য বউমা, যাকে দিয়ে মনগড়া অ্যাক্সিডেন্টের কথাটা বলানো হয়েছিল। আমি নিজে ভাবিনি যে, আপনি ব্যাপারটা ধরে ফেলবেন—ইন ফ্যাক্ট, এই নিয়ে আমার ভাইয়ের সঙ্গে একশো টাকা বাজিও ধরেছিলাম। এ ব্যাপারে রুনার উৎকণ্ঠাই ছিল সবচেয়ে বেশি। কারণ তার হিরো যদি ফেল করত, তা হলে তার দুঃখের সীমা থাকত না। এই ঝুঁকিটা অবশ্য আমাকে নিতেই হয়েছিল, কিন্তু এখন সে নিশ্চিন্ত। এবার বলুন তো। আপনার সিসটেমটা কী। কীসে আপনার প্রথম সন্দেহ হল মিস্টার মিত্তির?’

    ফেলুদা বলল, ‘প্রথমত এবং প্রধানত, দুটো ক্লু, দুটোই আপনার কাজের ঘরে পাওয়া। এক হল হিমালয়ান অপটিক্যালসের ক্যাশ মেমো। আমি সেখানে খোঁজ নিয়ে জেনেছি যে, আপনি দিন সাতেক আগে একটি সোনালি ফ্রেমের নতুন চশমা করিয়েছেন। অথচ আপনার বাড়িতে সেটা সম্বন্ধে কেউ জানে না, বা কেউ সেটা আপনাকে পরতে দেখেনি। প্রশ্ন হল, এই চশমার দরকার পড়ছে কেন। এবং ঠিক এই সময় দরকার কেন।

    ‘দুই হল—আপনার ডেট ক্যালেন্ডারে তিন দিনের পুরনো তারিখ। আপনার চাকর যখন তারিখ বদল করে না, তখন সেটা নিশ্চয় আপনিই করেন। তা হলে বদল হয়নি কেন?

    ‘তখনই মনে হল যে, আপনাকে যদি কিডন্যাপ্‌ড হবার ভান করে গা ঢাকা দিতে হয়, তা হলে হয়তো একটা ডেরা স্থির করে দু’দিন আগে গিয়েই সেখানে থাকা অভ্যাস করতে হবে। নতুন জায়গা ধাতস্থ হতে সময় লাগে বইকী! আর তাই যদি হয়, তা হলে সাবধানতা অবলম্বন করার জন্য আপনাকে হয়তো একটি ছদ্মবেশ ও একটি নতুন নাম নিতে হবে। সেই ক্ষেত্রে একটি নতুন চশমা নেওয়াও মোটেই অস্বাভাবিক নয়।’

    ‘ধরে ফেলেছে, ফেলুদা সব ধরে ফেলেছে! আবার চেঁচিয়ে উঠল রুনা।

    এর মধ্যে লালমোহনবাবু যে হঠাৎ কেন খাচায়-বন্ধ সিংহের মতো পায়চারি করতে আরম্ভ করেছেন তা বুঝতে পারলাম না। ভদ্রলোক যাতে কোনও বাড়াবাড়ি না করে ফেলেন তাই ওঁকে সামলাতে যাব, এমন সময় উনি হঠাৎ দুহাত তুলে চেঁচিয়ে উঠলেন—

    ‘ইউরেকা!

    ‘চিনেছেন ভদ্রলোককে?’ ফেলুদা প্রশ্ন করল।

    ‘চিনব না? মৃত্যুঞ্জয় সোম!’

    অম্বরবাবু হো হো করে হেসে উঠলেন।

    “আপনার সঙ্গে সে দিন পার্কে দেখা হওয়াটা সম্পূর্ণ অ্যাক্সিডেন্ট, মশাই। আসলে গড়পারেই আমার এক বন্ধুর বাড়িতে গিয়ে ছিলাম সাত দিন। আপনি যখন এগিয়ে এসে জটায়ু-টটায়ু বলে নিজের পরিচয় দিলেন, তখন ভাবলাম বা রে, এ তো বেশ মজা! যাকে জব্দ করতে যাচ্ছি তারই সাকরেদের সঙ্গে দেখা হয়ে গেল! তা হলে এঁকে নিয়ে একটু রগড় করতে পারলে কেমন হয়? তারপর অবিশ্যি মিত্তির মশাইয়ের বাড়িতেও আপনার সঙ্গে দেখা হয়েছিল আমার আসল চেহারায়, কিন্তু আপনি চিনতে পারেননি।

    ‘কিন্তু তা হলে ব্যাপারটা কী দাঁড়াচ্ছে?’ বলল ফেলুদা, নাটকের তো এখানেই শেষ নয়, অম্বরবাবু। এখনও তো ড্রপসিন ফেলা চলবে না।

    ঘরের আবহাওয়া মুহূর্তে বদলে গেল, কারণ ফেলুদা কথাটা বলেছে গম্ভীর থমথমে ভাবে।

    ‘হোয়্যার ইজ দ্য মানি?’ প্রশ্ন করল ফেলুদা।

    অম্বর সেন ফেলুদার দিকে তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে চেয়ে বললেন, ‘মিস্টার মিত্তির, আপনি আমাকেও কিন্তু একজন শখের গোয়েন্দা বলতে পারেন। আমি যদি বলি যে, টাকাটা আপনিই নিয়ে আমাদের সঙ্গে একটু রগড় করছেন, তা হলে কি খুব ভুল বলা হবে? অপরাধী যখন নেই, কিডন্যাপার নেই, তখন টাকাটা সরে কোথায় যাবে মিস্টার মিত্তির?

    ফেলুদা মাথা নেড়ে বলল, ‘মিস্টার সেন, অত্যন্ত দুঃখের সঙ্গে জানাচ্ছি যে, আপনার শখের গোয়েন্দাগিরি এ ক্ষেত্রে খাটল না। প্রিনসেপ ঘাটের কাছে আজ সন্ধ্যায় আমি ছাড়াও আরেকজন ছদ্মবেশী ছিলেন।

    বলেন কী!’ বললেন অম্বর সেন, ‘আপনি তাকে দেখেছেন?

    ‘দেখেছি, কিন্তু চিনিনি।

    ‘কিন্তু আপনি তখনই তাকে ধরলেন না কেন?

    তখন ধরাটা আপনাদের পক্ষে যথেষ্ট নাটকীয় হত না। আপনারা নাটক পছন্দ করেন তো? আমার মনে হয় আপনাদের সামনে ধরাটা আরও নাটকীয় হবে। আমার সন্দেহ তিনি এখানেই আছেন। এ সন্দেহ ঠিক কি না সেটা আমি একবার পরখ করে দেখতে চাই।’

    ঘরে যাকে বলে পিন-পড়া নিস্তব্ধতা। রুনার দিকে আড়চোখে চেয়ে দেখলাম সেও ফ্যাকাশে মেরে গেছে।

    ‘বিলাসবাবু, আপনার জুতোর তলাটা একবার দেখুন তো,’ বলে উঠল ফেলুদা।

    বিলাসবাবু ঘরের দরজার মুখে দাঁড়িয়ে ছিলেন, বললেন, “দেখব আর কী স্যার, জুতোর তলায় তো আলকাতরা লেগে রয়েছে। ব্যাগ রেখে ফেরবার সময় তো রাস্তায় পা আটকে যাচ্ছিল।

    ‘ওই আলকাতরা আমিই ছড়িয়ে রেখেছিলাম থামটার চারপাশে,বলল ফেলুদা, কারণ একজনের সম্বন্ধে আমার মনে একটা সন্দেহের কারণ ঘটেছিল। আপনারা সকলেই বানিয়ে বানিয়ে কথা বলেছিলেন। কিন্তু ইনি যে মিথ্যেটা বলেছিলেন সেটা একটু অন্য রকম। ইনি বলেছিলেন…ও কী, আপনি যাচ্ছেন কোথায়?

    কিন্তু পালাবার পথ নেই। দরজা আগলে দাঁড়িয়ে আছেন বিলাসবাবু। এক ঝটকায় যাকে বগলদাবা করে ফেলেছেন ভদ্রলোক, তিনি হচ্ছেন সমরেশ মল্লিক।

    এবার আপনার স্যান্ডেলের তলাটা এদের দেখিয়ে দিন তো,বলল ফেলুদা। বিলাসবাবু একটু হেল্প করলে ব্যাপারটা সহজে হয়ে যায়।

    বিলাসবাবু নিচু হয়ে সমরেশবাবুর পা থেকে স্যান্ডেলটা এক টানে খুলে নিয়ে তার তলাটা সকলকে দেখিয়ে দিলেন। উনিই যে গিয়েছিলেন প্রিনসেপ ঘাটের থামের পাশে, তাতে আর কোনও সন্দেহ রইল না।

    ‘আপনার কোহিনুর কোম্পানি তো দুবছর হল লাটে উঠেছে সমরেশবাবু’ বলল ফেলুদা, তা সত্ত্বেও আপনি সেখানে চাকরি করছিলেন কী করে সেটা এদের একটু বুঝিয়ে বলবেন? আর যদি চাকরি না-ই করে থাকেন, তবে এই দু’বছর কীভাবে রোজগার করেছেন, সেটা বলবেন?

    সমরেশবাবু নিরুত্তর। বিলাসবাবু এখনও তাঁকে জাপটে ধরে আছেন; মনে হয় পুলিশ আসার আগে পর্যন্ত সেই ভাবেই ধরে থাকবেন।

    অবিশ্যি এই ব্যক্তির খোলস খুলে ফেলার জন্য আপনাদের আমাকেই ধন্যবাদ দিতে হবে,’ বলল ফেলুদা, আপনারা তো আর বিশ হাজার টাকা রাখতেন না থামের পাশে! নেহাত আমি যখন বললাম শাসানি কেয়ার করি না, আমি নিজে থাকব সেখানে, তখন আপনাদের বাধ্য হয়েই রাখতে হল, আর সেই টাকা হাত করার সুযোগ নিলেন সমরেশবাবু। যাকগে, এখন তো জানলেন টাকা কোথায় আছে। এবার সেটা আদায় করার রাস্তা আপনারা দেখুন। উনি যদি সে-টাকা অন্যত্র পাচার করে থাকেন, তা হলে পুলিশ তো আছেই; তারা এ সব আদায়ের অনেক রাস্তা জানে। আমার কাজ এখানেই শেষ।

    ফেলুদার সঙ্গে সঙ্গে আমরা দু’জনও উঠে পড়েছিলাম, কিন্তু ওঠা আর হল না। মিসেস সেন বাধা দিলেন।

    ‘শেষ বলছেন কী? এত সহজে শেষ হবে কী করে? আপনাকে ঝুড়ি ঝুড়ি মিথ্যে কথাগুলো বললাম, তার বুঝি প্রায়শ্চিত্ত করতে হবে না? আজ রাত্তিরে আপনাদের খেতে হবে আমাদের বাড়িতে।

    ‘আর ওই বিশ হাজারের অন্তত খানিকটা তো আপনার প্রাপ্য,বললেন অম্বর সেন, ‘সেটা না নিয়ে যাবেন কী করে?

    “আর তোমরা তিনজনে একসঙ্গে এসেছ, বললেন শ্রীমতী রুনা, আমার অটোগ্রাফে সই দেবে বুঝি?

    ‘এন্ডস ওয়েল দ্যাট অলস্ ওয়েল,’ বললেন লালমোহনবাবু।

    ৪ মে-১৫ জুন ১৯৮২

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43 44 45 46 47 48 49 50
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleআনন্দমেলা হাসির গল্পসংকলন – সম্পাদনা : পৌলোমী সেনগুপ্ত
    Next Article পূজাবার্ষিকী আনন্দমেলা গল্পসংকলন – সম্পাদনা : পৌলোমী সেনগুপ্ত

    Related Articles

    পৌলোমী সেনগুপ্ত

    আনন্দমেলা রহস্য গল্পসংকলন – সম্পাদনা : পৌলোমী সেনগুপ্ত

    September 18, 2025
    পৌলোমী সেনগুপ্ত

    পূজাবার্ষিকী আনন্দমেলা গল্পসংকলন – সম্পাদনা : পৌলোমী সেনগুপ্ত

    September 17, 2025
    পৌলোমী সেনগুপ্ত

    আনন্দমেলা হাসির গল্পসংকলন – সম্পাদনা : পৌলোমী সেনগুপ্ত

    September 17, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Our Picks

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }