Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    আনন্দমেলা গল্পসংকলন – সম্পাদনা : পৌলোমী সেনগুপ্ত

    পৌলোমী সেনগুপ্ত এক পাতা গল্প603 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    গোরক্ষনাথবাবুর নোটবুক – সমরেশ বসু

    গোরক্ষনাথবাবুর নোটবুক – সমরেশ বসু

    ভন্ডুল থেকেই ওর নামটা ভুন্ডুল হয়ে গেছে। ভন্ডুল বা ভুন্ডুল, যাই হোক, কথাটার একটা মানে আছে। আর ওই শব্দটা দিয়ে যদি কোনও ছেলের নাম রাখা হয়, তা হলে ব্যাপারটা কীরকম দাঁড়ায়? মনে তো একটা খটকা লাগেই। কাজ পণ্ড করাও যা, ভন্‌ডুল করাও তাই। কেউ কোনও কাজ নষ্ট করলেই, বা কোনও একটা আয়োজন এলোমেলো করে দিলে, আমরা বলি, সব ভন্ডুল করে দিলে।’ এর অর্থ একটাই। যে ছেলেবেলা থেকেই দুরন্ত আর কেবলই কাজ ভন্‌ডুল করে দেয়, তারই নাম রাখা হয় ভন্ডুল। আর ভন্ডুলই সকলের মুখে মুখে ভুন্ডুল।

    কিন্তু আমি যে শ্রীমান ভুন্ডুলের কথা বলছি, ওর মতো নিরীহ শান্ত ভালমানুষ ছেলে, গোটা মফস্‌সল শহরে আর পাড়ায় একটিও আছে বলে মনে হয় না। ভুন্ডুলের ভাল নাম রজত ঘোষাল। শহরের হাইস্কুলে ক্লাস এইটে পড়ে। লেখাপড়ায়ও ও খুব ভাল না হলেও খারাপ বলা চলবে না কোনও মতেই। এক রকমের ছেলে আছে, সাতে-পাঁচে নেই, ভুন্ডুল হল সেই রকমের ছেলে। ও কোনও ক্লাবের মেম্বার নয়। খেলাধুলোয় ওর কোনও টান নেই, আর তা নিয়ে কোনও দলাদলির মধ্যেও নেই।

    ভুন্ডুলের স্বাস্থ্যটা অবশ্য কোনও দিনই বিশেষ ভাল নয়। রুগ্‌ণ বললে যা বোঝায়, ঠিক তা না হলেও, ছেলেটা রোগাই। দৌড়ঝাঁপ করা তেমন পছন্দ করে না। তবে ওর রোগা আর মোটামুটি মাথাচাড়া দেওয়া লম্বা ধাঁচের চেহারাটা সুন্দর। চোখ দুটো বেশ ডাগর। নাকটি চোখা। গায়ের রং খুব ফরসা না হলেও, বেশ উজ্জ্বল। কোনও ক্লাবের মেম্বার না হলেও, ও লাইব্রেরির মেম্বার। বই পড়তে খুব ভালবাসে। আর চোখ দুটো ওর ডাগর বটে, কিন্তু সেই ডাগর চোখজোড়া সব সময়েই যেন নানান আশ্চর্য স্বপ্নের ঘোরে ঝকঝক করে। ওর বন্ধুবান্ধব প্রায় নেই বললেই চলে। শহরের মাত্র দু-তিনটি ছেলের সঙ্গে ওর ভাব আছে। আসলে ভুন্ডুল সব সময়ে ওর নিজের জগৎ নিয়েই আছে। আর সেই জগৎটা এমনই, অন্যান্য ছেলেরা যা দেখতে পায় না, ও তাই দেখতে পায়। কেউ যদি সেগুলোকে আজগুবি বলে উড়িয়ে দিতে চায়, দিতে পারে। তাতে ভুন্ডুলের কিছু যায় আসে না।

    ভুন্ডুলের সবচেয়ে বেশি বন্ধুত্ব বোধহয় এখনও ওর মায়ের সঙ্গেই। আর ওর মাই ওকে সবচেয়ে ভাল বোঝেন। তার সঙ্গে ওর কথাও হয় অনেক। মা মাঝে-মাঝে হেসে বলেন, “ভুন্ডুলের সবই ঠিক আছে। কেবল ওর ব্রহ্মতালুটা সব সময়েই একটু বেশি তেতে থাকে। আর মনটা রাজ্যের দুঃখী-গরিবের জন্য কাঁদে।”

    মায়ের দুটো কথাই ঠিক। ভুন্ডুলের মাথার চাঁদি গরম থাকারই কথা। কারণ, চোখ মেলে ও যে কত রকমের আশ্চর্য ব্যাপার সব দেখতে পায়, আর কত রকমের উত্তেজিত স্বপ্নময় সব উদ্ভট চিন্তা মাথায় খেলা করে, ওর ব্রহ্মতালু তেতে থাকবেই। আর ওই কথাটাও সত্যি। যত রাজ্যের দুঃখী ছেলেদের অদ্ভুত সব দুঃখের আর কষ্টের ঘটনা ওরই চোখে পড়ে। আর সে সবের মধ্যে ও যেন কেমন সহজেই জড়িয়ে পড়ে।

    ভুন্ডুল অঙ্কে কোনও কালেই ভাল ফল করতে পারে না। বলতে গেলে, ও অঙ্ক বিষয়টিকে ভয়ই পায়। এ-বিষয়ে অনেক ছেলের সঙ্গেই ওর মিল খুঁজে পাওয়া যাবে। কিন্তু অঙ্কের চেয়েও, ও অনেক বেশি ভয় পায় অঙ্কের স্যার গোরক্ষনাথবাবুকে। এক-একজন মানুষকে দেখলে বা তার সঙ্গে চোখাচোখি হলেই, কেমন যেন একটা অলৌকিক ভয়ে বুক কেঁপে ওঠে, ভুন্ডুলের কাছে অঙ্কের স্যার গোরক্ষনাথবাবুও সেইরকম। অথচ, এমন নয় যে, গোরক্ষনাথবাবু ভুন্ডুলের ওপর রেগে থাকেন। আসলে তিনি এমনিতে কারও ওপরেই রেগে থাকেন না। তবে, অঙ্ক শেখাবার সময় কেউ গোলমাল করলে তিনি ভীষণ চটে যান। তখন তার মাথার ঠিক থাকে না। হাতের ডাস্টারও অনেক সময় ছুঁড়ে মারেন। আর অমনোযোগী ছেলেদেরও তিনি দু’চক্ষে দেখতে পারেন না।

    ভুন্ডুলের সেদিক থেকে কোনও ভয় নেই। গোরক্ষনাথ নামটাই ওর কাছে কেমন অস্বস্তিকর লাগে। তা ছাড়া গোরক্ষনাথবাবুর চেহারাটা দোহারা চওড়া, আর কালো কুচকুচে। তাতেও ভুন্ডুলের কিছু যায়-আসে না। কুচকুচে কালো মানুষ তো কতই আছে। কিন্তু তারা কেউ গোরক্ষনাথবাবুর মতো রামগরুড়ের ছানা নয়। গোরক্ষনাথবাবু যে কেবল হাসেন না, তা নয়। মুখটা সব সময়েই যেন রাগে থমথম করছে। যখন খুব রেগে যান, তখন তার ঝকঝকে সাদা দাঁতগুলো যেন হিংস্রভাবে ঝকঝকিয়ে ওঠে। তার চোখ দুটোও যেন কেমন জ্বলজ্বলিয়ে জ্বলে। ভুন্ডুল কিছুতেই সেই চোখের দিকে তাকাতে পারে না। তার মাথার চুলগুলোও কুচকুচে কালো আর যেন ছোট-ছোট সাপের মতো ফণা তোলা।

    ভুন্ডুল একলা নয়। অঙ্কের স্যার গোরক্ষনাথবাবুকে ভয় পায় না, এমন ছেলে বোধহয় একটিও নেই। কিন্তু ভুন্ডুলের ভয়টার সঙ্গে, আর সবার ভয়ের একটা তফাত আছে। কারণ ওর ভয়টা হল অলৌকিক। গোরক্ষনাথবাবুর পুরো হাতাওয়ালা সাদা শার্ট আর ধুতি পরা ওই চেহারাটা কি আসল, না নকল? উনি কি সত্যি …?

    ভুন্ডুলের মনের জিজ্ঞাসা মনেই থেকে যায়। ভাবতেই গায়ে কাঁটা দেয়, গোরক্ষনাথবাবু আসলে মানুষের বেশ ধরে ঘুরে বেড়ান কি না। অথচ ও জানে গোরক্ষনাথবাবুর বাড়ি ওদের শহরেরই বেশ দূরের এক প্রান্তে। ভুন্ডুল সেদিকে যায় না। শুনেছে গোরক্ষনাথবাবুর ছেলেমেয়েও নাকি আছে। পাশাপাশি শহরের, অন্য শহরের স্কুলে তারা পড়ে। কিন্তু ভুন্ডুল দিব্যি গেলে বলতে পারে, গোরক্ষনাথবাবু আর দশজন স্যারের মতো নন তো বটেই, সাধারণ মানুষের মতোও নন।

    ভুন্ডুলের এরকম ভাববার অনেক কারণ আছে। মজাটাও সেখানেই। যে-গোরক্ষনাথবাবুকে ওর সবচেয়ে বেশি ভয়, সেই ভয়ংকর লোকটির দিকেই ওর নজর থাকে বেশি। ও অনেক দিন দেখেছে, গোরক্ষনাথবাবু রাস্তায় হাঁটতে হাঁটতে হঠাৎ থেমে পড়েন। এমনিতেই রাস্তা চলবার সময় উনি কোনও দিকে তাকান না। যেন একটা ঘোরের মধ্যে হনহনিয়ে চলেন। চলতে চলতে হঠাৎ থমকে দাঁড়ান। যেন রাস্তায় সামনে এমন কিছু দেখেছেন, না দাঁড়িয়ে উপায় নেই। কিন্তু রাস্তায় কিছুই থাকে না। ভুন্ডুল অবাক হয়ে দেখেছে, গোরক্ষনাথবাবু যেন কেমন একটা দোটানায় পড়ে যান। সামনে পা বাড়াতে গিয়েও বাড়াতে পারেন না। তারপর হঠাৎ কিছু যেন ভাবতে আরম্ভ করেন। এমনকী বা হাত তুলে কর গুনে কী যেন হিসেব করেন। তার পরে মুখ তুলে চারদিকে সাবধানে একবার তাকিয়ে, আস্তে আস্তে কয়েক পা পেছিয়ে যান। পকেট থেকে টেনে বার করেন ছোট্ট একটা নোটবুক। বুক পকেট থেকে কলম নিয়ে, নোটবুকের পাতা খুলে, খুব তাড়াতাড়ি কী যেন লেখেন। তার পরে কোনও কোনও দিন উল্টো দিকে ফিরে চলে যান। নয়তো বেশ খানিকটা ডাইনে অথবা বাঁয়ে গিয়ে, সামনের দিকেই হনহন করে চলতে থাকেন।

    কোনও স্বাভাবিক মানুষ কি এ রকম করতে পারেন? ভুন্ডুলের চোখে, গোরক্ষনাথবাবু অলৌকিক ভীতিজনক মানুষ তো বটেই। তার সঙ্গে তাঁর চলাফেরার ওই ধরনের অদ্ভুত ব্যাপার দেখে,ভুন্ডুলের কৌতুহলও দারুণ দানা বেঁধে উঠেছে। আর এই কারণেই, গোরক্ষনাথবাবুকে ও যখনই রাস্তায় দেখতে পায়, প্রায় গোয়েন্দার মতোই লুকিয়ে তার পেছনে ধাওয়া করে। অথচ ধাওয়া করে কোনও ফল হয় না। গোরক্ষনাথবাবু দিশাহারার মতো, হঠাৎ-হঠাৎ রাস্তা বদলে, একটা ছোট শহরের বাইরে আর একটা ছোট শহরের কোথায় যে চলে যান, আর কেনই বা যান, ভুন্ডুলের মাথায় কিছু ঢোকে না। তবুও ভুন্ডুল সহজে তাঁর পেছন ছাড়ে না। কারণ ওর কৌতুহল কিছুতেই মেটে না। কিন্তু আশ্চর্যের ব্যাপার হল, গোরক্ষনাথবাবু কোনও বাড়িতেই যান না। কোনও দোকানপাটেও ঢোকেন না। কেবল পাগলের মতো হনহনিয়ে চলতে চলতে, আবার থমকে দাঁড়ান। যেন তার পায়ের সামনে খুব খারাপ কিছু পড়ে আছে। মাড়িয়ে ফেলার ভয়ে, একেবারে দাঁড়িয়ে পড়েন। অথচ রাস্তায় কিছুই থাকে না। আবার সেই আঙুলের কর গোনা, পেছিয়ে আসা, নোটবুকে চটপট কিছু টুকে নেওয়া এবং তার পরে অন্য দিক দিয়ে পাশ কাটিয়ে হনহনিয়ে চলে যাওয়া।।

    ভুন্ডুল অবশ্য লক্ষ করেছে, ঘুরতে ঘুরতে বিশেষ কোনও একটা জায়গায় তিনি আস্তে-আস্তে হাঁটতে থাকেন। আশপাশে ঘাড় ফিরিয়ে তাকিয়ে দেখেন। তখন তিনি হঠাৎ থমকে কোথাও দাঁড়ান না। কিন্তু দাঁড়ান। যেন নিতান্তই চলতে চলতে কিছু একটা কথা মনে পড়ে গেছে। কাছের দু’-একটা বাড়ির দিকে এক-আধবার চোখ তুলে একটু দেখে নেন। তার পরে আবার চলতে আরম্ভ করেন। কেন এরকম ঘোরেন, কী জন্য, ভুন্ডুল আজ অবধি কিছুই বুঝতে পারেনি। মাঝে-মাঝে ওর সন্দেহ হয়, গোরক্ষনাথবাবুর মাথাখারাপ। অবশ্য, এ সন্দেহটা ওর একলার নয়। ছাত্রদের মধ্যে তো বটেই, মাস্টারমশাইদের মধ্যেও অনেকের ওই রকম একটা সন্দেহ আছে। সংস্কৃতের স্যার তো স্পষ্টতই বলেন, “পাগলা গোরক্ষনাথবাবা।”

    তবে এটাও ভুন্ডুলের মনে হয়, যিনি ওইরকম চমৎকার অঙ্ক বোঝান, তার মাথা খারাপ কী করে হয়? শুধু যে ভাল বোঝান, তা নয়। ভুন্ডুলের মনে হয়, গোরক্ষনাথবাবু অঙ্ক বিষয়টিকে ভালবাসেন। সেজন্যই যেমন যত্ন করে অঙ্ক শেখান, তেমনি কেউ অবহেলা করলে, ভীষণ রেগে যান। আবার কোনও ছেলে যখন একটা কঠিন অঙ্ক ঠিক-ঠিক কষে দেয়, তার ওপর গোরক্ষনাথবাবু খুব খুশি। অবশ্য তিনি হাসেন না, ছেলেটিকে ডেকে আদরও করেন না। কেবল একটি কথাই বলেন, “হুঁ, তুই ঠিক আখের রস চিবিয়ে খেতে শিখেছিস।”

    যিনি এ রকম কথা বলেন, তাঁকে মাথাখারাপ ভাবতেও মন পুরোপুরি সায় দেয় না। গোরক্ষনাথবাবু মাঝে-মাঝে আরও একটা কথা বলেন। কোনও একটা অঙ্ক, ব্ল্যাকবোর্ডে লিখে বুঝিয়ে ছেলেদের দিকে ফিরে তাকান। ঘাড় ঝাঁকিয়ে জিজ্ঞেস করেন, “অলরাইট?”

    সেকথার জবাব প্রায় কোনও ছেলেই দেয় না। সবাই এমন একটা ভাব দেখায়, সব অলরাইট। অর্থাৎ সবাই বুঝেছে। আর গোরক্ষনাথবাবু নিশ্চিত হয়ে চেয়ারে বসে একটি কথা বলেন, “অঙ্কই হল সব। অঙ্কের নাগাল যে পাবে, সে সব কিছুরই নাগাল পাবে। আর, এর থেকে সহজ সাবজেক্ট আর কিছু নেই।”

    ভুন্ডুল কোনও দিনই শেষের কথাটা মেনে নিতে পারবে না। কারণ অঙ্ককে ও কখনও সহজে ধরতে পারে না। কিন্তু, গোরক্ষনাথবাবুর বাকি ব্যাপারগুলো কী? তিনি কি রাস্তায় চলতে চলতেও অঙ্ক ভাবেন? আর যেই ভাবা, অমনি থমকে দাঁড়ান? হিসেব কি সেইজন্যই কষতে আরম্ভ করেন? নোটবুক খুলে, রাস্তায় দাঁড়িয়ে তৎক্ষণাৎ কি অঙ্কটাই কষে ফেলেন?

    ভুন্ডুল মনে মনে মাথা নাড়ে। আর বলে, “অসম্ভব। ওঁর মধ্যে আছে একটা অলৌকিক ভৌতিক ব্যাপার।” … ভুন্ডুলের আরও বিশ্বাস গোরক্ষনাথবাবুর ছোট্ট নোংরা পুরনো নোটবইটার মধ্যেই সব অলৌকিক ভৌতিক ব্যাপারগুলো লুকিয়ে রাখা আছে। ওই নোটবইটা যদি একবার দেখা যায়, তা হলেই সব বোঝা যাবে। যদি অঙ্ক কষা থাকে, তা হলে অঙ্ক-পাগলা ছাড়া, গোরক্ষনাথবাবুকে আর কিছুই ভাবা যাবে না। কিন্তু ওঁর চেহারা, চলাফেরা, সাদা ঝকঝকে দাঁত, রহস্যময় ঘোরাঘুরি, ও-সবের মধ্যে অঙ্ক পাগলামোর থেকে অন্য কিছুই বেশি আছে বলে মনে হয়। যদিও ভুন্ডুল রোজই গোরক্ষনাথবাবুর পেছনে ঘুরে বেড়ায় না। সব দিন বাইরে তার দেখা পাওয়া সম্ভবও নয়। যেদিন পায়, সেদিন পেছন নেয়। ফল অবশ্য কিছুই পাওয়া যায় না।

    ভুন্ডুল শেষ পর্যন্ত মনে মনে একটা মতলব ফেঁদে বসল। ভাবল, মতলবটা যেমন করেই হোক হাসিল করতে হবে। গোরক্ষনাথবাবুর নোটবইটা যেমন করে হোক, একবার দেখতে হবে। কথাটা ভেবেই, ভুন্ডুলের গায়ে কাঁটা দিয়ে উঠল। গোরক্ষনাথবাবুর নোটবই ও কী করে দেখবে? পকেট মারবে? সে কাজ তো ও জানে না। যার চোখের দিকে তাকাতেই ভয় হয়, তার নোটবই চুরি করে দেখা? সে তো গোখরো সাপের ফণার মুখে হাত বাড়িয়ে দেওয়া।

    দুটো দিন সাত-পাঁচ ভাবতে ভাবতেই, ভুন্ডুলের হঠাৎ একটা কথা মনে পড়ে গেল। স্কুলের দোতলায়, পশ্চিম দিকে, মাস্টারমশাইদের ব্যবহারের বাথরুম আছে। তার পাশেও আছে একটা ছোট ঘর। সে-ঘরে একটা নড়বড়ে টেবিল ছাড়া আর কিছুই নেই। ভুন্ডুলের চোখের সামনে ভেসে উঠল কয়েক বারের দেখা একটা ঘটনা। গোরক্ষনাথবাবু রোজই প্রায় একটা সময়ে বাথরুমে যান। বাথরুমে যাবার সময়, তিনি গায়ের জামা আর হাতের ঘড়ি খুলে, টেবিলের ওপর রেখে দেন। পকেট থেকে যে কিছু চুরি যাবার ভয় নেই, সেটা সবাই জানে। স্কুলের দফতরি থাকে কাছেপিঠেই। ছাত্রদেরও ওদিকে যাবার বিশেষ দরকার হয় না। গেলেও, কেউ তেমন লক্ষ করে না।

    ভুন্ডুল মনের কথা মনেই রাখল। কিন্তু ভেতরে ভেতরে ভীষণ উত্তেজিত হয়ে উঠল। মাস্টারমশাইয়ের পকেটে হাত দিয়ে, তার নোটবই দেখাটা অপরাধ ছাড়া কিছু নয়। অথচ মনের কৌতুহল যেন ভূতের মতোই ওর ঘাড়ে ভর করেছে। ন্যায়-অন্যায় বিচার হারিয়ে ফেলেছে। যেমন করেই হোক, গোরক্ষনাথবাবুর নোটবইটা ওকে একবার দেখতেই হবে। ও মন ঠিক করে ফেলল, আর একটা দিন বাদ দিয়েই, ও ক্লাস থেকে বেরিয়ে পড়ল। সময়টা গোরক্ষনাথবাবুর বাথরুম যাবার সময়। ও ক্লাস থেকে বেরিয়ে আগে গেল মাস্টারমশাইদের বসবার ঘরের দিকে।

    সব স্যারদের একসঙ্গে ক্লাসে ক্লাসে যেতে হয় না। কারও কারও কোনও কোনও দিন একটা পিরিয়ড ছুটি থাকে। ভুন্ডুল মাস্টারমশাইদের ঘরের খোলা দরজা দিয়ে দেখল, মাত্র একজন স্যার বসে আছেন। টেবিলের ওপর ঝুঁকে কী একটা বই পড়ছেন। গোরক্ষনাথবাবু নেই। ভুন্ডুল আর এক সেকেন্ডও না দাঁড়িয়ে ডান দিকে ক্লাস নাইনের ‘বি’ সেকশনের পাশ দিয়ে পশ্চিমের করিডর দিয়ে চলে গেল বাথরুমের দিকে। ক্লাস নাইনের ‘বি’ সেকশনের শেষেই, একটা টুলের ওপর দফতরি কানাইলালের বসে থাকার কথা। টুল খালি। ভুন্ডুলের বুকের ধুকধুকুনি বেড়ে গেল। ও বাথরুমের সামনের ঘরের খোলা দরজা দিয়ে দেখল, টেবিলের ওপর গোরক্ষনাথবাবুর জামা আর হাতঘড়ি! এ-ঘরের পাশ দিয়েই সোজা পশ্চিমে গেলে, ক্লাস নাইনের ‘সি’ সেকশন।

    ভুন্ডুল ঢুকে পড়ল ঘরের মধ্যে। টেবিলের সামনে গিয়ে, গোরক্ষনাথবাবুর জামার নীচের দু’ পকেট হাতড়ে, বের করে আনল নোটবুকটা। ওর বুক এত ঢিপঢিপ করছে আর ঘামছে, মনে হল এক্ষুনি দম বন্ধ হয়ে মরে যাবে। নোটবুকটা নিয়ে চলে যাবার আগে, একবার একটা জায়গার পাতা খুলে দেখে নিল। অঙ্ক কষা থাকলে, নোটবুক দেখে কোনও লাভ নেই। কিন্তু এ কী সাংঘাতিক ব্যাপার। ভুন্ডুল দেখল, ও যে পাতাটা খুলেছে, সে-পাতায় কয়েক লাইন লেখা। বাকি সব খাতা ফাঁকা। কিন্তু সামনের দিকে সব পাতা লেখা-ভর্তি। ও যে পাতাটা খুলেছিল, তার কয়েক লাইনে এই কথাগুলো লেখা রয়েছে, ছ’ মাস গেল না, যম তার দাঁত বের করে হাত বাড়িয়ে খেতে এল। তুতোলির মুখুজ্জেপাড়ার অবিনাশ মুখুজ্জেকে নির্ঘাত ১৭ই আষাঢ় যম রাত্রের মধ্যে মুখে করে নিয়ে যাবে। এ-সবে যে আমার কেন এত খিদে, তা জানি নে।’…

    এ-সবের মানে? কিন্তু ভুন্ডুল আর এক সেকেন্ডও দেরি না করে, নোটবুক আবার জামার পকেটে ঢুকিয়ে দিয়ে ঘর থেকে বেরিয়ে এল। দফতরির টুল তখনও ফাঁকা। নাইন ‘বি: সেকশন থেকে কোনও মাস্টারমশাইয়ের গলা ভেসে আসছে। ও মাস্টারমশাইদের বসার ঘরের পাশ দিয়ে নিজের ক্লাসের বাইরে দরজার সামনে দাঁড়াল। বাংলার স্যার তখন পড়াচ্ছেন। তিনি ভুন্ডুলকে দেখতে পেয়ে ইংরেজিতে বললেন, “কাম ইন।”

    ভুন্ডুল ঘামতে ঘামতে ক্লাসে ঢুকে নিজের জায়গায় গিয়ে বসল। বাংলা সাহিত্যের বইটার পাতা খুলে ধরল সামনে। বইয়ের লেখা কিছুই চোখে পড়ছে না। নোটবইয়ের খুদে-খুদে অক্ষরের সেই কথাগুলোই ওর চোখে ভাসছে, ‘ছ’ মাস গেল না, যম তার দাঁত বের করে হাত বাড়িয়ে খেতে এল। তুতোলির মুখুজ্জেপাড়ার অবিনাশ মুখুজ্জেকে নির্ঘাত ১৭ই আষাঢ় যম রাত্রের মধ্যে মুখে করে নিয়ে যাবে। এ সবে যে আমার কেন এত খিদে, তা জানি নে।’

    তুতোলি ভুন্ডুলদের উত্তরের পাশের শহর। কিন্তু গোরক্ষনাথবাবুর এ-সব কথার মানে কী? ওর খেয়াল আছে, আজ হচ্ছে ১৬ আষাঢ়। আগামী কালই ১৭ আষাঢ়, তুতোলির মুখুজ্জেপাড়ার অবিনাশ মুখুজ্জেকে ও জানে না। কিন্তু লেখা পড়ে মনে হচ্ছে, আগামীকাল রাত্রের মধ্যেই অবিনাশ মুখুজ্জেকে যমে মুখে করে নিয়ে যাবে। যার একটাই অর্থ, অবিনাশ মুখুজ্জেকে কেউ মেরে ফেলবে। ছ’ মাস আগে কী ঘটেছিল, নোটবুকের লেখা পড়ে তো বোঝার উপায় নেই। কিন্তু সবচেয়ে মারাত্মক কথা হল, এ সবে যে আমার কেন এত খিদে, তা জানিনে। কথাটা পড়েই গোরক্ষনাথবাবুর সাদা ঝকঝকে দাঁতগুলো ওর চোখের সামনে ভেসে উঠল। তার কিসের খিদে? অবিনাশ মুখুজ্জেকে ১৭ আষাঢ় যে-যম নির্ঘাত রাত্রের মধ্যে মুখে করে নিয়ে যাবে, সে-যম কি স্বয়ং গোরক্ষনাথবাবু?

    ভুন্ডুল পারতপক্ষে মিথ্যে কথা বলে না। এখন অবস্থাগতিকে, মিথ্যে না বলে পারল না। ও উঠে দাঁড়িয়ে হাত তুলল। বাংলার স্যার ওর দিকে তাকালেন। ও বলল, “স্যার, আমার পেটে খুব যন্ত্রণা হচ্ছে, আমি বাড়ি যাব।”

    বাংলার স্যার ভুরু কুঁচকে কয়েক সেকেন্ড তাকিয়ে থেকে বললেন, “ঠিক আছে। বেশি রোদ না লাগিয়ে বাড়ি যাও, গিয়ে ওষুধ খাও।”

    ভুন্ডুল বইখাতা বগলে, ক্লাস থেকে বেরিয়ে, সোজা বাড়ি চলে গেল। ওকে অসময়ে বাড়ি ঢুকতে দেখে, রান্নাঘর থেকে মা বেরিয়ে এলেন। জিজ্ঞেস করলেন, “কী রে ভুন্ডুল, এখনও তো তোর টিফিনের ছুটি হয়নি। বাড়ি চলে এলি যে?”

    “আমার শরীর ভাল লাগছে না,” বলতে বলতে ভুন্ডুল ঘরের মধ্যে ঢুকে গেল।”

    মা একটু গম্ভীর মুখে ভাবলেন। তার পরে হেসে নিজের মনেই বললেন, “নিশ্চয়ই ভুন্ডুলের বেহ্মতালু তেতেছে।” তিনি আবার রান্নাঘরে ঢুকে গেলেন।

    ভুন্ডুল বাবার আলাদা ঘরটায় ঢুকে বই রেখে খাটের ওপর শুয়ে পড়ল। চোখের সামনে ভাসতে লাগল নোটবুকের সেই খুদে খুদে লেখাগুলো। আগামী কাল রাত্রিটা না গেলে, ও কিছুই ঠিক করতে পারছে না। অথচ মনে মনে এখনই অস্থির হয়ে উঠছে।

    মা ভুন্ডুলকে সময়মতো ডেকে খেতে দিলেন। ভুন্ডুল ভাল করে খেতে পারল না। কেবল মাকে জিজ্ঞেস করল, “তুমি তুতোলির মুখুজ্জেপাড়ার অবিনাশ মুখুজ্জেকে চেনো?”

    মা বললেন, “কেন চিনব না? তুতোলি তো পাশের গাঁ। অবিনাশ মুখুজ্জেরা বেশ বড়লোক। ওদের বাড়ি দুর্গাপুজো হয়। তুই কি তুতোলির মুখুজ্জেদের দুর্গাপ্রতিমা দেখতে যাসনি কোনও দিন?”

    ভুন্ডুল সেকথা মনে করতে পারল না। কেবল মাথা নাড়ল। মা’কে আর কিছুই জিজ্ঞেস করল না। কেবল বলল, “মা, আমি কাল স্কুলে যাব না। হেডমাস্টারমশাইকে তুমি একটা চিঠি লিখে দিলেই হবে।”

    মায়ের চোখে দুশ্চিন্তা ফুটে উঠল। তিনি ভুন্ডুলের গালে গলায় হাত বুলিয়ে বললেন, “কেন রে, তোর কি জ্বরটর এসেছে নাকি?”

    “না না, সে-সব কিছু নয়,” ভুন্ডুল ঘাড় নেড়ে বলল, “মাথাটা কেমন টিপটিপ ব্যথা করছে, আর কেবলই শুয়ে থাকতে ইচ্ছে করছে।”

    মা তবু উদ্‌বেগের সঙ্গে বললেন, “হয়তো ঠান্ডা লাগিয়েছিস! শুয়ে কি আর তুই সত্যি থাকবি? থাকলে তো ভালই। যাই হোক, সাবধানে থাক। আমি হেডমাস্টারমশাইকে কালকের ছুটির জন্য চিঠি লিখে দেব। কিন্তু তুতোলির অবিনাশ মুখুজ্জের কথা তুই জিজ্ঞেস করলি কেন?”

    “এমনি,” ভুন্ডুল মুখ ফিরিয়ে কথা এড়িয়ে ঘরের মধ্যে চলে গেল।

    তার পরে ভুন্ডুল শুয়ে বসে কাটালেও, ওর ব্রহ্মতালু যে তেতেছে, তাতে কোনও সন্দেহ নেই। ওর চোখের সামনে কেবল গোরক্ষনাথবাবুর নোটবুকের খুদে অক্ষরের কথাগুলো ভাসছে। সেইসঙ্গে গোরক্ষনাথবাবুর অলৌকিক চেহারাটা। আজকের দিনটা কেটে গেলেও, পরের দিন, অর্থাৎ ১৭ আষাঢ় যেন আর কাটতে চায় না। বিশেষ করে রাতটা। কিন্তু আশ্চর্যের ব্যাপার হল, প্রায় শেষরাত্রি অবধি জেগে থেকে, ভুন্ডুলের যখন ঘুম ভাঙল, তখন রীতিমতো বেলা হয়ে গেছে। ও লাফ দিয়ে বিছানা ছেড়ে উঠে আগেই কলতলায় ছুটে গিয়ে চোখে-মুখে জল দিল। ছোট স্নানের ঘরে ঢুকে দাঁত মেজে নিল তাড়াতাড়ি। সেখান থেকে বেরিয়ে এসে, ঘরে ঢুকতেই, বাবার সামনেই মা বললেন, “হ্যাঁ রে ভুন্ডুল, তুতোলির মুখুজ্জেপাড়ার অবিনাশ মুখুজ্জের সম্পর্কে তুই কিছু শুনেছিলি?”

    ভুন্ডুলকে বাধ্য হয়েই মিথ্যে মাথা নাড়তে হল। মা বললেন, “তুই পরশু লোকটার কথা বললি, আর আজই সকালে শুনলুম, অবিনাশ মুখুজ্জেকে কে নাকি গলায় রেশমি সুতোর ফাঁস জড়িয়ে মেরে ফেলেছে।”

    ‘অ্যাঁ!” ভুন্ডুল হাঁ করে, দু চোখ বড় করে তাকাল। কিন্তু তার বেশি আর কিছুই বলতে পারল না।

    ভুন্ডুলের বাবা একজন সরকারি অফিসার। তিনি যেন একটু বিরক্ত আর সন্দিগ্ধ চোখে ভুন্ডুলের দিকে তাকিয়ে গম্ভীর স্বরে বললেন, “কিছুই জানো না তো, পরশু কেন হঠাৎ অবিনাশ মুখুজ্জের কথা বলেছিলে, তা বোঝা যাচ্ছে না। যাই হোক, যা ঘটে ঘটুক, বাইরে যদি কিছু পরশুদিন শুনেও থাকো, এখন থেকে আর একটি কথাও বলবে না। অবিনাশ মুখুজ্জের নামও মনে আনবে না।”

    ভুন্ডুল নিরীহ ভঙ্গিতে ঘাড় ঝাঁকিয়ে, অন্য ঘরে চলে গেল। ওর ব্রহ্মতালু এখন দপদপ করে জ্বলছে। গোরক্ষনাথবাবুর নোটবুকে তা হলে সত্যি কথাই লেখা ছিল। তিনি জানতেন? না কি তিনি নিজেই…ভুন্ডুলের চোখের সামনে নোটবুকের শেষের কথা ক’টি ভেসে উঠল, এ সবে যে আমার কেন এত খিদে, তা জানিনে।’ …খিদে। কীসের খিদে। তার চওড়া কালো মুখ আর ঝকঝকে সাদা দাঁতগুলোর কথা মনে পড়লেও, অবিনাশ মুখুজ্জেকে তো কেউ চিবিয়ে খায়নি। গলায় রেশমি সুতোর ফাঁস দিয়ে মেরেছে। গোরক্ষনাথবাবু একথাটা নির্ঘাত জানলেন কেমন করে?

    বাবা অফিসে যাবার জন্যে তৈরি হতে-হতেই, ভুন্ডুলও স্কুলে যাবার জন্য তৈরি হয়ে নিল। বাবা বেরিয়ে যাবার পরে ও মাকে বলল, “মা, তুমি হেডমাস্টারমশাইকে চিঠিটা লিখে দিয়ো।”

    “চিঠি আমি লিখে রেখেছি,” মা বললেন, “তুই খেতে বোস। আমি চিঠিতে লিখে দিয়েছি, তোর আজও যদি শরীর খারাপ লাগে, তা হলে যেন ছুটি দিয়ে দেন। যা রুগ্‌ণ ছেলে তুই, তোকে বিশ্বাস নেই।”

    ভুন্ডুল কোনও রকমে খেয়ে ছুটতে ছুটতেই স্কুলে গিয়েও তুতোলির অবিনাশ মুখুজ্জের খুনের কথা শুনল। ওর তখন গোরক্ষনাথবাবুকে দেখবার দারুণ কৌতুহল জাগছিল। ও মাস্টারমশাইদের বসবার ঘরের সামনে গিয়ে দেখল, সবাই ক্লাসে যাবার আগে গল্প করছেন। কেবল গোরক্ষনাথবাবু টেবিলের ওপর ঝুঁকে পড়ে, তাঁর সেই নোটবুকে কী যেন লিখে চলেছেন। পাশেই হেডমাস্টারমশাইয়ের ঘর। তার মায়ের চিঠি দিয়ে, ভুন্ডুল ক্লাসে ফিরে এল। কিন্তু আজ আবার নোটবুকটা দেখার জন্য ও প্রায় পাগলের মতো অস্থির হয়ে উঠল। দুটো ক্লাস যে কী ভাবে, কী পড়া নিয়ে কেটে গেল, ও জানতেই পারল না। ঠিক সময় বুঝে ও ক্লাস-টিচারের অনুমতি নিয়ে ক্লাসের বাইরে গেল।

    এটাই সেই সময়, গোরক্ষনাথবাবু যখন বাথরুমে যান। ঠিক পথেই ও এগিয়ে গেল। আর ওর কপালটাও ভাল, দফতরি তার টুলে ছিল না। ও বাথরুমের পাশের ঘরে উঁকি দিয়ে দেখল। টেবিলের ওপর গোরক্ষনাথবাবুর জামা আর ঘড়ি রয়েছে।

    ভুন্ডুল এদিকে-ওদিকে একবার দেখেই, ঘরের মধ্যে ঢুকে পড়ল। টেবিলের ওপরে রাখা গোরক্ষনাথবাবুর জামার পকেট থেকে নোটবুকটা বের করল। তখনই বাথরুমের মধ্যে জল পড়ার শব্দ শোনা গেল। ও ভয় পেয়ে, নোটবুক নিয়েই ছিটকে বেরিয়ে গেল ঘর থেকে। নোটবুকটা ঢুকিয়ে দিল ওর হাফপ্যান্টের পকেটে। তার পরে ওর মনে হল, মাথাটা খারাপ হয়ে গিয়েছে। কী করবে কিছুই বুঝতে পারছে না। অবশ্য ক্লাসে গিয়ে ওকে বসতেই হল, আর মিনিটখানেক পরেই উঠে দাঁড়িয়ে বলল, “স্যার, আমার শরীর খারাপ লাগছে। মা হেডমাস্টারমশাইকে লিখে দিয়েছেন, শরীর খারাপ লাগলে যেন আমাকে আজ ছুটি দিয়ে দেন।”

    ক্লাস-টিচার বললেন, “তা হলে হেড মাস্টারমশাইকে বলে বাড়ি যাও।”

    ভুন্ডুল বইখাতা নিয়ে হেডমাস্টারমশাইয়ের ঘরের দিকে গেল। মাস্টারমশাইদের ঘরের সামনে গোরক্ষনাথবাবু দাঁড়িয়ে আছেন। তার দু চোখ লাল, মুখ রাগে থমথম করছে। তার সামনে দফতরি জোড় হাতে দাঁড়িয়ে। বলছে, “বিশ্বাস করুন স্যার, আমি আমার টুল ছেড়ে নড়িনি। ঘরে কেউ ঢোকেনি। আর আপনার পকেটে হাত দেবার সাহস আমার নেই।”

    “কিন্তু আমার নোটবুক তা হলে কোথায় গেল?” গোরক্ষনাথবাবু গর্জন করে উঠলেন, “আমার মানিব্যাগ চুরি গেলে কিছু ক্ষতি হত না। কিন্তু আমার নোটবুকের দাম তার চেয়ে অনেক বেশি। আমি এক্ষুনি হেডমাস্টারমশাইয়ের কাছে যাচ্ছি। তিনি যদি কোনও ব্যবস্থা করতে না পারেন, তা হলে আমাকে থানায় যেতে হবে।”

    ভুন্ডুলের সাহস ছিল না, গোরক্ষনাথবাবুর মুখের দিকে তাকায়। মাঝখান থেকে ও এমন ঘাবড়ে গেল, হেডমাস্টারের ঘরেও আর যেতে পারল না। সেখান থেকেই ফিরে সোজা একেবারে বাড়ি। মা তো দেখে অবাক। জিজ্ঞেস করলেন, “কী রে ভুন্ডুল, আবার শরীর খারাপ করেছিস নাকি?”

    “হ্যাঁ, মা,” বলেই ঘরের মধ্যে ঢুকে গেল।

    মা’ও ভুন্ডুলের পেছনে পেছনে ঘরে গিয়ে ঢুকলেন। ভুন্ডুলের গালে কপালে গলায় হাত বুলিয়ে বললেন, “না, জ্বর আছে বলে তো মনে হচ্ছে না। তোর কী হচ্ছে বল দিকিনি?”

    “সেটাই তো জানিনে মা,” ভুন্ডুল বইখাতা টেবিলের ওপর রেখে বলল, “তবে আমি এখন শোব না। ছাদে গিয়ে, ছায়ায় একটু বসে থাকব।”

    মা রান্নাঘরের দিকে যেতে যেতে বললেন, “এ এক অদ্ভুত ছেলে, যার কোনও হাতমাথা খুঁজে পাইনে। ছাদে এখন রোদ। বসতে হয়, চিলেকোঠায় গিয়ে বোস।”

    ভুন্ডুল এক মুহূর্ত দেরি না করে ছাদে উঠে গেল। চিলেকোঠার এক কোণে ঠাকুরের জায়গা। ও ঘরে দরজা বন্ধ করে, আগে হাফপ্যান্টের পকেট থেকে নোটবুকটা বের করল। তার পরে দেয়ালে হেলান দিয়ে মেঝেয় বসে নোটবুকের পাতা ওলটাল। প্রথম দিন যে-পাতাটা খুলেছিল, আগে সে-পাতাটাই খুলল। দেখল, আগে যা লেখা ছিল, তার পরেও অনেকখানি লেখা রয়েছে। ভুন্ডুল পড়তে আরম্ভ করল, খবরটা আগেই কৌশল করে, বন্ধ খামে থানার বড়বাবুকে লিখে পাঠিয়ে দিয়েছিলুম, তবু অবিনাশ মুখুজ্জে রক্ষা পেলেন না। তার মানে, থানার বড়বাবু আমার বেনামি চিঠিটাকে বিশ্বাস করেনি। উড়ো খবর বলে উড়িয়ে দিয়েছে। এর আগেও এরকম ঘটনা ঘটেছে। তবু যে কেন থানা আমার বেনামি চিঠির কোনও দাম দেয় না, বুঝিনে। আমি বেনামি চিঠিতে জানাই, কারণ, নিজেকে আড়ালে রাখতে চাই। মামলা-মোকদ্দমার মধ্যে জড়িয়ে পড়তে চাইনে। শত হলেও, আমি একজন সামান্য স্কুলমাস্টার। ওসব ঘটনার মধ্যে জড়িয়ে না পড়াই ভাল। কিন্তু আজ অবধি যতগুলো দুর্ঘটনার আন্দাজ আমি পেয়েছি, কোনওটাই মিথ্যে হয়নি। এই যেমন অবিনাশ মুখুজ্জের ব্যাপারটা। লোকটা ছিল খুবই খারাপ। নিজের এক ভাইকে পাগল সাজিয়ে আজ অবধি পাগলা গারদে আটকে রেখেছে। তার সেই ভাই রাসবিহারীকে আমি খুব ভাল করে চিনতুম। সে ছিল আমার বন্ধু। অনেক বছর পাগলা গারদে থেকে এখন সে বোধহয় এমনিতেই পাগল হয়ে গেছে। অবিনাশ খেয়াল করেনি, রাসবিহারীর বড় ছেলে বেশ বুদ্ধিমান। সে তার জ্যাঠার কাণ্ডকারখানা সবই বুঝতে পেরেছিল। সে অনেক দিনই চুপচাপ ছিল। গোলমাল বাধাল অবিনাশ, হঠাৎ সম্পত্তি ভাগ করতে গিয়ে। কথাটা যেদিন আমার কানে এল, সেদিনই আমার অঙ্কের ছকে ধরা পড়ে গেল, অবিনাশের দিন ঘনিয়ে এসেছে। রাসবিহারীর ছেলেকে সে যেভাবে সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত করেছে, তার পরিণামে তাকে শেষ হতেই হবে। আমি লক্ষ রেখেছিলুম। রাসবিহারীর ছেলে অবিনাশ-হত্যার জন্য যে-লোকটাকে বেছে নিয়েছিল, সে অতি ধূর্ত এক খুনি। আগেকার দিনের খুনিদের মতোই সে অনায়াসে রাস্তার অল্প ভিড়ের মধ্যেও রেশমি ফাঁস দিয়ে লোক মারতে পারে। অবিনাশকে সে সেইভাবেই বাড়ির বাইরে রাস্তায় মেরেছে। এসব কথাই আমি আগেই থানায় চিঠি দিয়ে জানিয়েছিলুম। কিন্তু পুলিশ আমাদের কথা বিশ্বাসই করে না। এখন আর চেষ্টা করলেও, অবিনাশ মুখুজ্জের খুন প্রমাণ করতে পারবে না। আমার অঙ্ক তাই বলছে।”

    নোটবুকে আর কিছু লেখা নেই। ভুন্ডুল নোটবুকটার দিকে তাকিয়ে, হতভম্ব হয়ে বসে রইল। ওর চোখের সামনে গোরক্ষনাথবাবুর মুখটা ভাসতে লাগল। এতকাল তা হলে অঙ্কের স্যার গোরক্ষনাথবাবুকে ও একেবারে ভুল বুঝে এসেছে! আশ্চর্য, মানুষ চেনা খুবই কঠিন। কিন্তু এখন নিজের কৃতকর্মের জন্য ভুন্ডুল আবার অস্থির হয়ে উঠল। গোরক্ষনাথবাবুকে যেমন করে হোক, ও-নোটবুক ফেরত দিতেই হবে। এ-নোটবুক ফেরত না পেলে, উনি হয়তো পাগলই হয়ে যাবেন। অথচ ভুন্ডুলের এমন সাহস নেই গোরক্ষনাথবাবুর কাছে গিয়ে সত্যি কথা বলে নোটবুক ফেরত দিয়ে আসবে। তার সামনে যাবার কথা ভাবলেই গায়ে কাঁটা দিচ্ছে।

    ভুন্ডুল প্রায় ঘণ্টাখানেক ভাবল। ভেবে, একটা পন্থা ঠিক করল। চিলেকোঠা থেকে নেমে, ও সোজা গেল বাবার ঘরে। বাবার কাজের টেবিলের দেরাজ থেকে বের করল একটা বড় খাম। তার মধ্যে নোটবুকটা ঢুকিয়ে, গদের আঠা দিয়ে ভাল করে মুখ বন্ধ করল। তারপর কাউকে কিছু না বলে বাড়ি থেকে বেরিয়ে পড়ল। রাস্তায় পড়েই প্রায় ছুট লাগাল গোরক্ষনাথবাবুর বাড়ির দিকে। পৌঁছে গেল দশ মিনিটেই। একতলা বাড়িটা নিঝুম, চুপচাপ। আশেপাশে কয়েকটা গাছপালার ছায়ায় ঢাকা। রাস্তার দিকে ঘরগুলোর তিনটে জানালা খোলা।

    ভুন্ডুল সাবধানে চারদিকে দেখে, পকেট থেকে খামটা বের করে, একটা জানালা দিয়ে ঘরের ভেতর ফেলে দিল। দিয়ে পেছন ফিরে দৌড়তে যাবে তৎক্ষণাৎ গোরক্ষনাথবাবুর গলা শুনতে পেল, “এই যে রজত, পালাসনে, ভয় পাসনে। তুই বাড়ির ভেতর আয়। আমি দরজা খুলে দিচ্ছি।”

    ভুন্ডুলের মনে হল, ও তক্ষুনি দম বন্ধ হয়ে, রাস্তায় পড়ে মরে যাবে। তবে গোরক্ষনাথবাবুর গলার স্বরে এমন কিছু ছিল, তাতে যেন একটু ভরসার আভাস আছে। গোরক্ষনাথবাবু বাড়ির ভেতরে যাবার দরজা খুলে দেবে, আবার বললেন, “রজত, আয়। তোর ভয় পাবার কিছু নেই।”

    ভুন্ডুল দরদর ঘামছে। ও গোরক্ষনাথবাবুর মুখের দিকে না তাকিয়ে বাড়ির মধ্যে ঢুকল। গোরক্ষনাথবাবু দরজা বন্ধ করে ভুন্ডুলকে নিয়ে একটা ঘরে ঢুকলেন। ঘরে কেউ নেই। তিনি ঘরের দরজা বন্ধ করে, প্রথমেই বললেন, “আমি কিছু জিজ্ঞেস করতে চাইনে। যা বলার.তা তুই নিজের থেকেই বল।”

    ভুন্ডুলের চোখে তখন জল এসে পড়েছে। তার পরে ও সব কথাই বলল। গোরক্ষনাথবাবুকে নিয়ে ওর কৌতূহল, নোটবুক দেখার ভীষণ ইচ্ছে, আর কীভাবে নোটবুক নিয়েছে, দেখেছে, আর কেনই বা নোটবুকটা নিয়ে ওকে পালাতে হয়েছিল, কিছু বলতেই বাকি রাখল না।

    গোরক্ষনাথবাবু সব কথা শুনে বললেন, যাক, নোটবুকটা যে তুই ফেরত দিয়েছিস, তাতেই আমার ধড়ে প্রাণ এল। একটা কথা বলে দিই। নোটবুক পড়ে যা জেনেছিস তা ঘুণাক্ষরেও কাউকে বলিসনে। বললে বিপদে পড়ে যাবি। নোটবুকটার কথাও কাউকে বলিসনে। আরও একটা কথা মনে রাখিস। অঙ্ক জিনিসটা ভারী মজার। সহজও খুবই। অঙ্কের মধ্যে সব পাবি, কেবল হিসেবে যেন গরমিল না হয়। যা, এবার বাড়ি গিয়ে খেয়েদেয়ে ঘুমোগে।”

    ভুন্ডুল গোরক্ষনাথবাবুকে এই প্রথম হাসতে দেখল। তখনও ওর চোখে জল। ও গোরক্ষনাথবাবুকে প্রণাম করে ঘর থেকে বেরিয়ে এল।

    ২৫ জুন ১৯৮৬

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43 44 45 46 47 48 49 50
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleআনন্দমেলা হাসির গল্পসংকলন – সম্পাদনা : পৌলোমী সেনগুপ্ত
    Next Article পূজাবার্ষিকী আনন্দমেলা গল্পসংকলন – সম্পাদনা : পৌলোমী সেনগুপ্ত

    Related Articles

    পৌলোমী সেনগুপ্ত

    আনন্দমেলা রহস্য গল্পসংকলন – সম্পাদনা : পৌলোমী সেনগুপ্ত

    September 18, 2025
    পৌলোমী সেনগুপ্ত

    পূজাবার্ষিকী আনন্দমেলা গল্পসংকলন – সম্পাদনা : পৌলোমী সেনগুপ্ত

    September 17, 2025
    পৌলোমী সেনগুপ্ত

    আনন্দমেলা হাসির গল্পসংকলন – সম্পাদনা : পৌলোমী সেনগুপ্ত

    September 17, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Our Picks

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }