Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    আনন্দমেলা গল্পসংকলন – সম্পাদনা : পৌলোমী সেনগুপ্ত

    পৌলোমী সেনগুপ্ত এক পাতা গল্প603 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    বনঝাউয়ার রহস্য – ক্ষিতীন্দ্রনারায়ণ ভট্টাচার্য

    বনঝাউয়ার রহস্য – ক্ষিতীন্দ্রনারায়ণ ভট্টাচার্য

    যে-সব রাতজাগা পড়ুয়া অর্থাৎ গল্পপাঠক রহস্য-রোমাঞ্চের গল্প পড়ে উত্তেজনায় কাঁপতে অভ্যস্ত, তাদের মধ্যে কেউ ইন্দ্রপাঁচু রায়ের নাম জানেন না এমনটা দেখিনি, শুনিনিও। আধাবয়সি নাদুসনুদুস এই ভদ্রলোকটির মাথা-ভর্তি পাকা বেলের মতো টাকের আড়ালে যে এত সব গুরুতর রহস্য আর তার সমাধান কী করে লুকিয়ে থাকতে পারে, তা বাইরে থেকে বোঝা দুষ্কর। তবে নামটা? হ্যাঁ, ওটা যেন একটু কেমন-কেমন! তা ওতে ইন্দ্ৰপাঁচুবাবুর তো কোনও হাত নেই। সাধারণত নাম রাখেন বাবা-মা কিংবা দাদু-ঠাকুমা। ওঁর বেলাও তাই হয়েছিল। বাবা নামটাকে একটু ভারিক্কি করার জন্য ইন্দ্ৰ শব্দটির আমদানি করেছিলেন। কিন্তু শুধু ইন্দ্র শুনতে কেমন ন্যাড়া ন্যাড়া লাগে, ইন্দ্রনাথ, ইন্দ্রনারায়ণ, ইন্দ্রসেন, ইন্দ্রদ্যুম্ন, এই ধরনের একটা কিছু হলে তবে মানায়। কিন্তু বেঁকে বসলেন ওঁর ঠাকুমা। ইন্দ্র দেবতাদের রাজা হলেও এমন কিছু আদর্শ-চরিত্রের পুরুষ নন। ঠাকুর-দেবতার নাম বলতে ও নামটা আমরা কেউ বলি না। অথচ ছোটদের নামের মধ্যে কোনও ঠাকুর-দেবতার নাম থাকলে তাকে ডাকাডাকি করার সময় ওই উপলক্ষে বারে বারে সেই ঠাকুরের নামই তো উচ্চারণ করা হয় এবং তাতে নিশ্চয়ই কিছুটা পরকালের কাজও হয়। শিব ঠাকুমার প্রিয় দেবতা, তাই তিনি জোর করতে লাগলেন নাম দেওয়া হোক পঞ্চানন। বাবা ছিলেন মাতৃভক্ত, মায়ের আদেশ একেবারে অগ্রাহ্য করতে পারলেন না, তাই ইন্দ্রের সঙ্গে ওই নামটি জুড়ে করা হল ইন্দ্রপঞ্চানন। কিন্তু ও নামটাও তো কানে লাগে। পঞ্চাননকে চলতি কথায় বলা হয় পাঁচু। তাই শেষ পর্যন্ত ইন্দ্রপাঁচু নামটাই বহাল হয়ে গেল।

    ইস্কুলে ভর্তি হওয়ার সময়ও ওই নামটাই লিখিয়ে দিলেন বাবা। ফলে কলেজেও ওই নামটাই রয়ে গেল। বন্ধুবান্ধবরা নাম নিয়ে একটু ঠাট্টা-বিদ্রুপ করত। ইন্দ্রপাঁচু ভাবতেন আদালতে একটা এফিডেবিট করে নামটা বদলে একটা আধুনিক নাম নিয়ে নেবেন—এই ধরো দেবদ্যুতি কিংবা সঞ্জয় কিংবা শুভায়ু; কিন্তু মুশকিল হল অল্প বয়স থেকেই তিনি গল্প লিখতে শুরু করে দিয়েছিলেন ওই স্বনামেই অর্থাৎ ইন্দ্রপাঁচু নামেই এবং তখন থেকেই তার একটু খ্যাতিও হয়েছিল রহস্য-গল্প-লিখিয়ে বলে। কাজেই এখন আর নাম বদলানো ঠিক হবে না , তাই পুরনো নামটাই বহাল রাখতে হল।

    অবশ্য তাতে কিছু এসে যায় না। স্বয়ং শেক্সপিয়রই তো বলে গিয়েছেন, ‘নামে কী করে? গোলাপে যে নামে ডাকো মধু বিতরে।’ শেক্সপিয়রকে উড়িয়ে দেবে এমন বুকের পাটা কার?

    প্রথম জীবনে ইন্দ্রপাঁচুবাবু একটা মার্চেন্ট অফিসে চাকরি নিয়েছিলেন। কিন্তু কিছু দিন পরেই দেখা গেল, আপিসে কাজ করে গল্প লেখার সময় বড় একটা থাকে না, আর তত দিনে তার যে নাম হয়েছে, তাতে গল্প লিখেই চাকরির চেয়ে বেশি আয় হবে। তার লেখা ‘কামস্কটকার হত্যা-রহস্য, ‘এলোকেশীর বিবেকের দর্শন’ ‘কবরখানার রোজনামচা’, ‘মানুষখেকোর দ্বীপে’ প্রভৃতি বইগুলির ইতিমধ্যেই পাঁচ-সাতটা করে সংস্করণ হয়ে গেছে। আজকাল সম্পাদকদের উৎপাতে অনেক সময় তাঁকে বাড়িতে থেকেও ইন-আউট নেমপ্লেটে ‘আউট’ রাখতে হয়।

    এত ভণিতা করবার কারণ আর কিছুই না, কারণ সেই ইন্দ্রপাঁচুবাবুকে নিয়েই আমার এই গল্প।

    আগেই বলেছি, ইন্দ্রপাঁচুবাবু আধাবয়সি ভদ্রলোক। স্বাস্থ্য মোটামুটি ভালই ছিল, কিন্তু রাত-দিন বসে থেকে থেকে সম্প্রতি তার একটা ছোট্ট ভুঁড়ি গজিয়েছে, আর সেই সঙ্গে দেখা দিয়েছে হাঁপানি। ভুঁড়ি কমাতে গেলে ব্যায়াম করতে হয়, অন্তত নিয়মিত বেশ খানিকটা হেঁটে বেড়াতে হয়, কিন্তু তাতে আবার হাঁপানি বেড়ে ওঠে। চিকিৎসা তো কম করলেন না! অ্যালোপ্যাথি, হোমিওপ্যাথি, কবরেজি, মায় নানা রকম টোটকা ওষুধে তার টেবিল ভর্তি হয়ে গেছে। কিন্তু না, কিস্‌সু হচ্ছে না।

    শেষ পর্যন্ত তিনি ঠিক করলেন দিন কতক কলকাতার হইচই ছেড়ে কোনও নির্জন জায়গায় কাটিয়ে আসবেন। খোলা মুক্ত জায়গায়, যেখানে লোকজনের কোলাহল নেই, নেই কোনও ভক্ত পাঠকের অকারণ আনাগোনার আশঙ্কা। সমুদ্রের ধারে হলে তো কথাই নেই। ভোরবেলাকার সমুদ্রের হাওয়া নাকি হাঁপানি রোগীদের পক্ষে পরম হিতকারী ওষুধ।

    আশ্চর্য, ঠিক সেই রকম জায়গাই একটা পাওয়া গেল।

    সে দিন খবরকাগজে চোখ বোলাতে-বোলাতে ইন্দ্রপাঁচুবাবু দেখেন, ছোট্ট একটা বিজ্ঞাপন বেরিয়েছে। দিঘা থেকে মাইল-দশেক দূরে সমুদ্রের ধারে বনঝাউয়া গ্রামে একটা ছোট্ট বাড়ি ভাড়া কিংবা সস্তায় লম্বা লিজ দেওয়া হবে। উপযুক্ত দাম পেলে বিক্রি করতেও আপত্তি নেই মালিকের। জায়গাটা নির্জন হলেও পরিবেশ মনোরম। দিঘার মতো উটকো যাত্রীর ভিড় নেই। সামনেই সমুদ্র। তাতে ঢেউ আছে, মাঝে মাঝে ব্রেকারও দেখা যায়। স্নানে পরম তৃপ্তি। কাছেই সপ্তাহে দু’বার করে হাট বসে, তাই খাবার-দাবার জোগাড় করারও অসুবিধে নেই। প্রচুর মাছ। দামেও সস্তা। খোঁজ নিন, বক্স নং…।

    এই রকমই তো চেয়েছিলেন ইন্দ্ৰপাঁচুবাবু। তাঁর পক্ষে একেবারে ‘আইডিয়াল জায়গা। মনে মনে ভাবলেন, আপাতত মাস খানেকের জন্য তো ভাড়া নেওয়া যাক। ভাল লাগলে কিনেই ফেলবেন বাড়িটা। কত আর দাম হবে? ঈশ্বরেচ্ছায় একখানা রগরগে উপন্যাস লিখেই টাকাটা তুলে নেওয়া যাবে। নিজের লেখার ওপর তার অগাধ বিশ্বাস আছে।

    সঙ্গে সঙ্গে চিঠি গেল, জবাবও এল। সপ্তাহখানেক পরেই দেখা গেল ইন্দ্রপাঁচুবাবু সশরীরে বনঝাউয়ায় এসে হাজির হয়েছেন। দিঘা থেকে একটা ঝটকা ভাড়া পাওয়া গিয়েছিল, তাইতেই এসেছেন এই দশ মাইল।

    ছোট্ট গ্রাম বনঝাউয়া। দূরে ঝাউবন ঘেঁষে একটা জেলে-পল্লি। ব্যস, আর কিছু না। সামনেই খানিকটা বালির ময়দান পেরোলেই ধু-ধু করছে সমুদ্র। অবিরাম ঢেউ ভেঙে পড়ার শব্দ ছাড়া ক্বচিৎ দু’-একটা নাম-না-জানা পাখির ডাক। তা ছাড়া সম্পূর্ণ নিরিবিলি জায়গাটা।

    বাড়িখানা অবশ্য ছোট্ট। খান-দুয়েক মাত্র ঘর। চাঁচ-বেড়ার ওপর প্লাস্টার লাগানো দেওয়াল, ওপরে টালির ছাদ, তবে মেঝেটা পাকা, সিমেন্ট দিয়ে বাঁধানো। সামনে একফালি বারান্দা। উঠোনের ওধারে ছোট্ট একটা রান্নাঘর। আশপাশে কিছু শৌখিন ফুলের গাছ টবে করে লাগানো হয়েছে। কিছু মনসা জাতীয় গাছও আছে বাড়ির সামনে। একটা টিউবওয়েলও আছে খাবার জলের জন্য, তবে জলটার স্বাদ একটু কষা। তা এ অঞ্চলে ওই রকম তো হবেই।

    মোট কথা, বাড়িটা ভালই লাগল ইন্দ্ৰপাঁচুবাবুর। এখানে স্বাস্থ্য ভালই থাকবে মনে হয়। সারা দিন ঘরে কি খোলা বারান্দায় বসে বই লেখো, না-হয় সমুদ্রের ধারে ঘুরে বেড়াও। ভাগ্যিস সাধারণ লোকে হট্টগোল ভালবাসে, নইলে দিঘার মতো এখানেও ভ্রমণার্থীদের উৎপাত শুরু হত। কিন্তু হয়নি।

    ইন্দ্রপাঁচুবাবু অবশ্য একেবারে একা আসেননি। গিন্নি তাকে একা ছেড়ে দেননি, সঙ্গেই এসেছেন। আর এসেছে কাজের লোক হাবুল। লোক বললাম বটে, কিন্তু নেহাতই বাচ্চা। দশ-বারো বছরের বেশি বয়স হবে না। কিন্তু ভারী চালাক ছেলেটা। দোষের মধ্যে একটু বেশি কথা বলে। তা বলুক।

    বনঝাউয়ায় দিন কয়েক কাটিয়েই ইন্দ্রপাঁচুবাবুর স্বাস্থ্যের বেশ উন্নতি দেখা গেল। ভোরে সূর্য ওঠার আগেই তিনি একটা লাঠি হাতে পায়জামা পরে সমুদ্রের ধারে চলে যান। তারপর সমুদ্রের ধার ঘেঁষে হাঁটতে থাকেন আপনমনে, কখনওবা গল্পের প্লট ভাবতে ভাবতে। ফুরফুরে বাতাস। সে-বাতাসে একটুও ধোঁয়া নেই, একটুও ধুলো নেই, কিন্তু আছে যথেষ্ট ওজোন যা নাকি অক্সিজেনেরই একটা রূপভেদ। ইন্দ্রপাঁচুবাবু বিজ্ঞানী না হলেও এটুকু জানেন যে, সাধারণ অক্সিজেনে যেখানে একটা অণুর মধ্যে থাকে দুটো অক্সিজেন পরমাণু, ওজোনে তার জায়গায় থাকে তিনটে অক্সিজেন পরমাণু। ওই বাড়তি অক্সিজেন পরমাণুটুকু তার শ্বাস-প্রশ্বাসকে আরও সহজ, আরও সতেজ করে তোলে। গিন্নি অত ভোরে উঠতে পারেন না, চিরকালই তার একটু বেলায় ওঠা অভ্যাস। তা ছাড়া তিনি ইতিমধ্যেই এখানকার জেলে আর জেলে-গিন্নিদের সঙ্গে ভাব জমিয়ে ফেলেছেন। একজন ভাল মুরুব্বির সন্ধান পেয়ে তারাও রোজ নানা রকম টাটকা মাছের ঝুড়ি নিয়ে এসে হাজির হয়। তিনি তা থেকে বেছে একটু বেশি করেই কিনে নেন। দরদপ্তর করেন না, এমনিই তো ওরা যা চায়, তা প্রায় জলের দাম। রকমারি রান্না করতে তার খুব ভাল লাগে। হাবুল অবশ্য ইন্দ্রপাঁচুবাবু বেরোলেই সঙ্গে সঙ্গে আসে। সেও নতুন জায়গাটা খুব উপভোগ করে। কখনও ঝিনুকের খোঁজে বালির মধ্যে হাতড়ে বেড়ায়, কখনও সমুদ্রের ধারে একেবারে জল ঘেঁষে দাঁড়ায়, তারপর একটা বড় ঢেউ এসে পা ধুইয়ে দিতেই দৌড়।

    তবে হ্যাঁ, ইন্দ্রপাঁচুবাবুর বই লেখার কাজও চলছিল সমানে। খুনজখম, মারদাঙ্গা, ভূতের উৎপাত—এ সব নিয়ে তিনি অনেক ‘থ্রিলিং’ বই লিখেছেন, এখানে এসে এই পরিবেশে সে রকম বই লিখতে মন চাইছে না। তাই একটা নতুন ধরনের উপন্যাস শুরু করেছেন-বনঝাউয়ার রহস্য। রহস্য তো একটা থাকতেই হবে, নইলে উপন্যাস কাটবে ; তবে রহস্যটা যে কী হবে তা এখনও তিনি ঠিক করে উঠতে পারেননি। তবে একটা কিছু নিশ্চয়ই খুঁজে বার করবেন এবং তখন তরতর করে গড়িয়ে চলবে লেখা জলস্রোতের মতো।

    সে দিনও ভোরবেলা বেরিয়েছেন। দূরে পেছন পেছন হাবলুও আসছে। অন্য দিনের মতোই ফুরফুরে হাওয়া বইছে। সূর্যদেব উঠি উঠি করছেন। ইন্দ্ৰপাঁচুবাবুর মনে হল সূর্যঠাকুরের চেহারায় কেমন যেন একটা ম্লান ভাব। নাকি ওটা তার মনের ভুল? হঠাৎ চিড়বিড় করে কী একটা খেলে গেল আকাশের গায়ে। পরিষ্কার নীল আকাশ, কোথাও এক ফোঁটা মেঘ নেই। এর মধ্যে বিদ্যুৎ ঝলকাবে কী করে? এও কি তবে মনের ভুল! কিন্তু না, পরক্ষণেই আবার সেই বিদ্যুতের ঝলক। কোনও শব্দ নেই তাতে, শুধুই আলো; তাও ঠিক চোখ ঝলসানো নয়। কিন্তু সে বিদ্যুৎ ঝলক থামল না, ক্রমাগত দেখা দিতে লাগল আকাশে। ইন্দ্রপাঁচুবাবু অবাক হয়ে গেলেন। আকাশে মেঘের চিহ্ন নেই, তা ছাড়া এটা বৃষ্টির সময়ও নয়। এ কী অদ্ভুত ব্যাপার!

    কিন্তু বিদ্যুৎ চমকালেও ইন্দ্রপাঁচুবাবুর ভালই লাগছে। প্রাণ ভরে নিশ্বাস নিচ্ছেন, কোনও কষ্ট হচ্ছে না। হাঁপানির নামগন্ধও নেই। হাবুল দূরে জলের ধারে কী যেন একটা খুঁজছে! ওর প্রাত্যহিক সংগ্রহ ইতিমধ্যে বেশ ভারী হয়ে উঠেছে। কলকাতায় ফিরবার সময় যদি আবদার ধরে সব সঙ্গে নিয়ে যাবে, তা হলে হয়তো তার জন্যই আবার একটা আলাদা ঝটকার খোঁজ করতে হবে। ইন্দ্রপাঁচুবাবু সমুদ্রের ধার দিয়ে সমানে হাঁটতে লাগলেন বিদ্যুতের চমক অগ্রাহ্য করে।

    আশ্চর্য, সূর্য কি এখনও ওঠেনি! কিন্তু সূর্য একবার উঠে পড়লে তো বাতাসে আর তিন-পরমাণুর ওজোন থাকে না, সূর্যের তেজই আবার তাকে ভেঙে দু-পরমাণুর অক্সিজেনে পরিবর্তিত করে দেয়। কাজেই তখন আর সমুদ্রের ধারে ঘোরার কোনও মানে হয় না। বাতাসে ধুলো থাকলে তাও ওজোনকে ভেঙে দেয়, এ জন্য সমুদ্রের ধারে ছাড়া অন্যত্র ওজোন কমই পাওয়া যায়। সমুদ্রের ওপরকার বাতাসে তো আর ধুলো থাকে না।

    ইন্দ্রপাঁচুবাবুর খেয়াল হল, সূর্য তো উঠে গেছে, বেশ খানিকটা ওপরেই উঠে গেছে; কিন্তু নিশ্বাস নিয়ে বুঝতে পারছেন বাতাসে অক্সিজেনের প্রাবল্য কমেনি, অর্থাৎ ওজোন তখনও ভেঙে যায়নি৷ ও দিকে মেঘশূন্য আকাশে বিদ্যুতের ঝলকানি চলছে তো চলছেই।

    অবশেষে ইন্দ্রপাঁচুবাবু ফিরলেন। মনটা এবার চায়ের জন্য একটু আকুলতা বোধ করছিল। মনে হল অন্য দিনের চেয়ে আজ বেলাটা ইতিমধ্যে বেশ বেড়ে গেছে। আজ গল্পের জন্য একটা রহস্য খুঁজে বার করতেই হবে, নইলে গল্প আর এগোবে না।

    আকাশে তখনও বিদ্যুতের ঝলকানি সমানে চলেছে। হঠাৎ হাবুল ছুটে এসে বলল, “বাবু, একটা মাছের আঁশটে গন্ধ পাচ্ছেন না? কিন্তু এ দিকে তো জেলেরা কেউ আসে না, মাছ জমিয়েও রাখে না। কেউ এ দিকে।”

    সত্যি, কেমন একটা বিশ্রী গন্ধ ইন্দ্রপাঁচুবাবুও টের পাচ্ছিলেন, কীসের গন্ধ ধরতে পারছিলেন না। হাবুলের অভিজ্ঞ ঘ্রাণশক্তি কিন্তু তা ঠিক ধরে ফেলেছে। হ্যাঁ, মাছের আঁশটে গন্ধই তো! আশ্চর্য ব্যাপার!

    একটু পরেই আর-এক কাণ্ড। সামনের বাতাসটা মনে হল আর তেমন স্বচ্ছ লাগছে না, কেমন ধোঁয়াটে ধোঁয়াটে মনে হচ্ছে। না, কালচে ধোঁয়া নয়, আর ঠিক অস্বচ্ছও নয়; ধোঁয়াটা যেন ঈষৎ নীলচে। যতই এগোচ্ছেন রংটা যেন স্পষ্ট চোখে লাগছে।

    ইন্দ্রপাঁচুবাবু বাড়ির পথ ধরলেন।

    নীলচে ধোয়াটা কিন্তু তখনও মিলিয়ে যায়নি, তারই সঙ্গে সঙ্গে চলেছে। তবে সমুদ্রতীর থেকে সরে আসাতে একটু যেন ফিকে লাগছে।

    বাড়ির সামনে এসে দেখেন, তার গিন্নি নাকে কাপড় গুঁজে একটা ঝাঁটা নিয়ে সারা ঘর, বারান্দা বালতি-বালতি জল ঢেলে ধোয়াচ্ছেন।

    “কী ব্যাপার?

    ইন্দ্রপাঁচুবাবুর প্রশ্ন শেষ হতে না-হতে গিন্নি ঝংকার দিয়ে উঠলেন, “দ্যাখো-না হাবলেটার কাণ্ড! কাল বিকেলে জেলেগুলো একরাশ মাছ নিয়ে হাজির হয়েছিল। বললাম, না, বিকেলে দরকার নেই, বাসি মাছে গন্ধ হবে। ওরা পীড়াপীড়ি করে কয়েকটা জোর করে গছিয়ে দিয়ে গেল। বলল, দাম পরে নেবে। হাবলেকে বললাম, মাছগুলো তুলে রাখ। কী করেছে কোথায় রেখেছে কে জানে! আঁশটে গন্ধে নাক গেল। কিন্তু মাছ তো দেখছি না; তাই আপাতত জল ঢেলে পরিষ্কার করছি। এ ভাবে তো থাকা যায় না!”

    হাবুল বলল, “আমি তো ওগুলো রান্নাঘরে ধামাচাপা দিয়ে রেখেছি, বেশ ভাল করে। গন্ধ আসতেই পারে না,” বলেই সে উর্ধ্বশ্বাসে ছুটল, রান্নাঘরের দিকে। তারপরই চিৎকার, “ও মা, দেখুন, লোহার কড়াই, চাটু কাল ঝকঝকে করে মেজে রাখলুম, এরই মধ্যে কেমন মরচে ধরে গেছে!” সত্যিই তাই।

    ও দিকে আকাশে বিদ্যুতের ঝলকানি সমানে চলছে। ইন্দ্রপাঁচুবাবু লক্ষ করলেন, সমুদ্রের ধারে বাতাসে যে নীলচে ধোঁয়া চোখে পড়েছিল, ক্রমে তা ঘরের দিকেও এগিয়ে আসছে। হ্যাঁ, উঠোন পেরিয়ে ঘরের মধ্যেও ঢুকে গেছে। আর সেই আঁশটে মাছের গন্ধ ঘরের মধ্যেও বেশ টের পাচ্ছেন তিনি। এ কী অদ্ভুত কাণ্ড!

    কিন্তু ওরই মধ্যে একটু সুখেরও আভাস ছিল। ভোরবেলা সমুদ্রের ধারে বেড়াতে গিয়ে যে সহজ নিশ্বাস নেবার আনন্দ পান, বাড়িতে আসার পর সেটা অন্য দিন ততটা থাকে না, যদিও এ ক’দিনে হাঁপানি তার প্রায় সেরে গেছে বললেই চলে। আজ কিন্তু ঘরের মধ্যেও সেই বুকভরা নিশ্বাসপ্রশ্বাসের আনন্দ অনুভব করছেন তিনি।

    গিন্নি কিন্তু সমানে তারস্বরে চিৎকার শুরু করে দিয়েছেন। হাবুল এসেই উনুনে আগুন দিতে বসে গিয়েছিল। এখানে কাঠ ছাড়া আর কোনও জ্বালানি নেই। গিন্নির চিৎকারে উনুন থেকে একটা জ্বলন্ত চেলাকাঠ হাতে নিয়েই ঘরে ঢুকে পড়ল সে। কী হয়েছে মা?” ও দিকে তার হাতের কাঠ তখনও দাউদাউ করে জ্বলছে।

    গিন্নি চেঁচিয়ে উঠলেন, “ওরে হতভাগা, এমনি জ্বলছি ধোঁয়ায় আর বিটকেল গন্ধে, তার মধ্যে তুই আবার আগুন নিয়ে এলি ঘরে।” বললেন বটে, কিন্তু পরক্ষণেই মনে হল ঘরের নীলচে ধোঁয়াটা যেন কমে আসছে। আঁশটে গন্ধটাও আর টের পাওয়া যাচ্ছে না। হাবুল জ্বলন্ত কাঠটা নিয়ে তখনও ঘরের মধ্যে দাঁড়িয়ে। হঠাৎ তার কী খেয়াল হল, সে সেই জ্বলন্ত কাঠটা নিয়ে প্রথমে বারান্দায় ঘুরতে লাগল, সেখান থেকে লাফিয়ে পড়ল উঠোনে, তারপর সেই জ্বলন্ত চেলাকাঠ নিয়েই সারা উঠোন নেচে বেড়াতে লাগল।

    এ দিকে হাবুলের নাচ দেখেই বোধহয় নীল ধোঁয়াটে জিনিসটা লজ্জা পেয়ে সেখান থেকেও আস্তে আস্তে সরে যেতে লাগল, সঙ্গে সঙ্গে মিলিয়ে যেতে লাগল আঁশটে গন্ধটাও। ইন্দ্ৰপাঁচুবাবু দূর আকাশের দিকে দৃষ্টি নিক্ষেপ করলেন। দেখলেন, আকাশে বিদ্যুতের ঝলকানিটাও আর দেখা যাচ্ছে না।

    এর পর আরও দু’দিন কেটে গেছে। ওই ঘটনার পুনরাবৃত্তি আর ঘটেনি। তা হলে রহস্যকাহিনীর একটা রহস্যের সন্ধান পেয়ে গেছেন ইন্দ্রপাঁচুবাবু! এই নিয়েই তো একটা চমৎকার গল্প ফাঁদা যায়। কিন্তু রহস্যের জটটা তো খুলতে হবে। সেটা উদ্ধার করতে না পারলে রহস্যের যে কোনও মানেই থাকে না।

    এ দিকে ওই ঘটনার পরই গিন্নি কলকাতায় ফিরবার জন্য ক্রমাগত তাগাদা শুরু করেছেন। কিন্তু ইন্দ্রপাঁচুবাবু নারাজ। হঠাৎ একদিন কী একটা অলৌকিক কাণ্ড ঘটল বলেই এমন সুন্দর জায়গা ছেড়ে চলে যেতে হবে? নেভার। তা ছাড়া এখানে এসে তো তার স্বাস্থ্যের দিব্যি উন্নতি হচ্ছে। হাঁপানিটা একদম টের পাচ্ছেন না। ভুঁড়িটাও তুবড়ে গেছে। হাঁটা-চলা তো কম হচ্ছে না। গিন্নির রান্নার বাতিক, তাই খাওয়া-দাওয়াটাও ভালই চলছে। স্বামী-স্ত্রী দু’জনেরই গায়ে, যাকে বলে গত্তি লাগা, তাই লেগেছে। এমনকী, হাবুলেরও। সে ছেলেটা তোফা ফুর্তিতে আছে। এখন এ-জায়গা ছেড়ে যাবার কোনও মানে হয়? তা ছাড়া সে-দিনকার সেই অলৌকিক ব্যাপারের একটা জুতসই কারণ ভাবতে না পারলে তার গল্পটাই যে মাঠে মারা যাবে। তিনি তো ভাবছিলেন বাড়িটা সস্তাগণ্ডায় পেলে একেবারে কিনেই ফেলবেন। তা হলে প্রায়ই মাঝে মাঝে আসা যাবে। পরের বারে আর দিঘায় নেমে ঝটকা চেপে আসবেন না, একেবারে খোদ কলকাতা থেকে মোটরেই চলে আসবেন সোজা। পাকা রাস্তা না থাকলেও সবটাই তো বালির ময়দান, বালির ওপর দিয়ে গাড়ি চালাতে অসুবিধে হবে না নিশ্চয়ই।

    অগত্যা গিন্নি বললেন, “তুমি তো দিব্য আছ। নিজের তালে খুশিমতো বেড়াচ্ছ আর পাঁজা-পাঁজা লিখে চলেছ। আমার একা একা সময় কাটে কী করে? তা হলে বরঞ্চ বটকেষ্টকেও আসতে লিখে দি। নতুন বিয়ে করেছে, একেবারে বউ নিয়েই না-হয় কাটিয়ে যাক এখানে।”

    বটকেষ্ট নামটা হেলাফেলার সঙ্গে উচ্চারণ করলেও ভদ্রলোক নেহাত হেলাফেলার লোক নন। তিনি ইন্দ্ৰপাঁচুবাবুর শ্যালক, গিন্নির ছোট ভাই। পুরো নাম ডক্টর বটকৃষ্ণ চ্যাটার্জি। বর্তমানে ইউনিভার্সিটিতে কেমিষ্ট্রি অর্থাৎ রসায়নশাস্ত্রের অধ্যাপক। তুখোড় ছাত্র বলে এক সময়ে খুব নাম ছিল, তেমনই নাম ছিল আমুদে বলে। নামটা অবশ্য বড়ই সেকেলে, কিন্তু সেজন্য ভগ্নিপতির মতো তাঁর কোনও আক্ষেপ ছিল না। নাম? ও একটা হলেই হল। লোকে চিনতে পারলেই হল। তাদের কেমিস্ট্রিতে তো কত বিদঘুটে ল্যাটিন নাম সর্বদা ব্যবহার করতে হয়, তাতে কার কী ক্ষতিটা হচ্ছে? থ্যালিয়াম ট্রাইক্লোরোট্রাইঅ্যাসিটেট কিংবা অ্যালফাকিটোপ্রোগিওনিক অ্যাসিড শুনলে কি কারও কানে বাঁশি বাজে? কিন্তু শেষেরটা যে এক রকম প্রোটিন তৈরির কাজে লাগে, এ-খবর ক’জন রাখে?

    বটকেষ্ট এসেই কিন্তু বাড়ি মাত করে তুলল। তার বউ মধুঋতাও বেশ হাসিখুশি। সেও একটা মেয়ে-কলেজে কেমিস্ট্রি পড়ায়। দুজনে মিলে বাড়ির আবহাওয়াই যেন বদলে দিল মুহূর্তে। মধুঋতা অবশ্য মাঝে মাঝে বেশি চেঁচামেচি হলে ঠোঁটে তর্জনী ঠেকিয়ে বলত, “চুপ, পাঁচুদা বোধহয় রহস্য-গল্প লিখবার তোড়জোড় করছেন, আস্তে কথা বলো।” ইন্দ্রপাঁচু শব্দটা তার মুখে আসত না, আসত না বটকেষ্টরও। সে আগে বলত জামাইবাবু, এখন মধুঋতার দেখাদেখি সেও বলে পাঁচুদা।

    ভোরবেলা এখন থেকে বটকেষ্টও সঙ্গী হল ইন্দ্রপাঁচুবাবুর প্রাতঃভ্রমণে। মধুঋতার তার ননদিনীর মতোই বেলায় ওঠা অভ্যাস। বিশেষত সকালে চা না খাওয়া পর্যন্ত সে এক পা-ও নড়তে চায় না। ওরা বাড়িতেই থাকত।

    বেড়াতে বেড়াতে একদিন ইন্দ্রপাঁচুবাবু শ্যালককে সে দিনকার সেই অলৌকিক কাণ্ডের কথা শোনালেন। শুনে ভারী অবাক হয়ে গেল বটকেষ্ট। বলল, “একটু ভেবে দেখতে হবে। আর কোনও দিন অমন কাণ্ড হয়নি?”

    “না তো?”

    আর, আশ্চর্য, সেই দিনই হঠাৎ শুরু হল সেই আকাশে ছড়ানো বিদ্যুতের ঝলকানি। না, কোনও শব্দ নেই, গর্জন তো দূরের কথা, এমনকী চিড়বিড় আওয়াজটুকুও নয়। কিন্তু সমানে চলতে লাগল থেকে থেকে সেই আলোর ঝলকানি। তারপর সেই একই কাণ্ড। ইন্দ্রপাঁচুবাবু প্রাণ ভরে নিশ্বাস নিতে লাগলেন আরামে, বটকেষ্টও। কিন্তু একটু পরেই নাকে আসতে লাগল সেই আঁশটে মাছের গন্ধ আর চোখে ভেসে আসতে লাগল সেই ঈষৎ নীলচে ধোয়া। ওঁরা আর দেরি না করে তখনই ছুটলেন বাড়ির দিকে।

    বাড়িতেও সেই একই ব্যাপার। সেই নীলচে ধোঁয়াটে বাতাস ঘরে ঢুকে পড়েছে। সঙ্গে আঁশটে মাছের গন্ধ আসছে নাকে। কিন্তু কাল বিকেলে কিংবা আজ সকালে তো কোনও জেলে আসেনি মাছ বেচতে। তবে?

    হাবুল কিন্তু সে দিনের কথা ভোলেনি। হঠাৎ সে রান্নাঘরে ঢুকে একটা মস্ত জ্বলন্ত চেলাকাঠ এনে ঘরে, বারান্দায়, উঠোনে নাচানাচি শুরু করে দিল। আর, আশ্চর্য কাণ্ড, সঙ্গে সঙ্গে নীল ধোঁয়া ধীরে ধীরে অদৃশ্য হয়ে যেতে লাগল, আঁশটে গন্ধটাও যেন মিলিয়ে গেল হাওয়ায়।

    আকাশে তখন বিদ্যুতের ঝলকানি অনেকটা কমে এসেছে। একটু পরেই সেটাও নিবে গেল।

    না, রহস্য ক্রমেই ঘনীভূত হচ্ছে।

    বটকেষ্টর হাবভাব যেন কেমন কেমন লাগছে। সে কি কিছু সন্দেহ করছে! দুপুরে খাওয়া-দাওয়ার পর দেখা গেল সে মধুঋতার সঙ্গে নিরালায় বসে কী আলোচনা করছে। তার পরই একটা ঝটকা জোগাড় করে দুজনেই বেরিয়ে পড়ল, কোথায় যাবে কাউকে না বলে।

    ফিরে এল সন্ধ্যার একটু আগে। দু’জনের মুখেই তখন দিগ্‌বিজয়ের হাসি। অর্থাৎ রহস্যের সন্ধান ওরা পেয়ে গেছে।

    সে দিন ছিল হাটবার। হাটের লোকদের কাছ থেকেই খবরটা পেয়েছিল ওরা। এখান থেকে কয়েক মাইল দূরে একটা মিলিটারি ক্যাম্প বসানো হয়েছে কয়েক মাস আগে। তার ধারে কাছে কাউকে যেতে না দিলেও ওখানে যুদ্ধের নানা রকম মহড়া চলে। যুদ্ধ বাঁধবে বলে নয়, সম্ভবত নতুন যারা সেনাবাহিনীতে যোগ দিয়েছে তাদের ট্রেনিং দেওয়ার জন্য এই সামরিক ক্যাম্প। এইটুকু খবরই বটকেষ্টর কাছে যথেষ্ট এবং সেই জন্যই সে ঝটকা ভাড়া করে মধুঋতাকে নিয়ে সেই মিলিটারি ক্যাম্পের উদ্দেশে রওনা হয়। হাটের দিন বলে ঝটকাও একটা মিলে যায় সহজেই।

    মিলিটারি ক্যাম্পের ভিতরে যাওয়া অবশ্য ওদের পক্ষে সম্ভব হয়নি। কিন্তু ফটকে দাঁড়ানো সান্ত্রীর হাত দিয়ে নিজেদের পরিচয়পত্র দেওয়ার পর একজন মিলিটারি অফিসার ওদের সঙ্গে এসে দেখা করে। আর মজা, দেখা গেল ওই অফিসারটি বটকেষ্টরই একজন পুরনো বন্ধু, কলেজের সহপাঠী। গোপনীয়তা যতটা সম্ভব রক্ষা করে সে যা বলল, বটকেষ্টর কাছে রহস্য উদ্ধারের পক্ষে সেটুকুই যথেষ্ট।

    কিছু দিন থেকে মাঝে মাঝে ওখানে একটা নতুন ধরনের মিসাইল ছোঁড়ার মহড়া চলছিল। ওই মিসাইল ছুঁড়বার সময় তা থেকে বিদ্যুতের ঝলক বেরিয়ে আসে কিন্তু তাতে কোনও শব্দ হয় না। অর্থাৎ তার উত্তাপ এত বেশি হয় না, যা থেকে শব্দ হতে পারে। শব্দ বন্ধ রাখার জন্যই উত্তাপ বাড়তে দেওয়া হয় না কি না সেটা অবশ্য বটকেষ্ট জানতে পারেনি, তবে এটুকু বুঝতে পেরেছে যে, এই ধরনের বিদ্যুৎক্ষরণকেই বিজ্ঞানের ভাষায় বলা হয়, সাইলেন্ট ইলেকট্রিক ডিসচার্জ’, বাংলায় বলা যায় শব্দহীন বিদ্যুৎক্ষরণ। এ ক্ষেত্রে তাপ কখনও ২০০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি হতে দেওয়া হয় না। এইটুকু জানতে পেরেই সমস্ত রহস্যটা রসায়নের অধ্যাপক বটকেষ্টর কাছে ধরা পড়ে গেছে।

    ল্যাবরেটরিতে ওজোন তৈরি করতে হলে তো এই পদ্ধতিরই সাহায্য নেওয়া হয়। অবশ্য ভোরের নির্মল আকাশে সমুদ্রতীরে যে ওজোন তৈরি হয় তার কারণটা অন্য। সূর্যোদয়ের সময় সূর্যের আলোর সঙ্গে বেরিয়ে আসে বেশ খানিকটা আলট্রাভায়োলেট রশ্মি। এই রশ্মি ধুলিহীন সমুদ্রতীরের বাতাসে পড়ে খানিকটা অক্সিজেনকে ওজোনে রূপান্তরিত করে, যা নাকি সাধারণ অক্সিজেনের মতো দুই-পরমাণুর অক্সিজেন নয় তিন-পরমাণুর অক্সিজেন। ওজোনের এই অতিরিক্ত অক্সিজেনের জন্যই হাঁপানি রোগীরা শ্বাস-প্রশ্বাসে আরাম পায়। একটু বেলা হলেই কিন্তু সূর্যের আলো থেকে এই আলট্রাভায়োলেট রশ্মি আর পাওয়া যায় , উপরন্তু ওজোনও তখন সূর্যের তেজে ভেঙে গিয়ে ফের দুই-পরমাণুর সাধারণ অক্সিজেন হয়ে যায়।

    বিজ্ঞানীর ল্যাবরেটরিতে কিন্তু ওভাবে ওজোন তৈরি করা হয় না, সেখানে ওজোন তৈরি হয় অক্সিজেন গ্যাসের ভিতর দিয়ে সাইলেন্ট ইলেকট্রিক ডিসচার্জ চালনা করে। এ জন্য কয়েক রকম পদ্ধতি আছে। কিন্তু এখানকার এটা একেবারে অভিনব বলা যেতে পারে। যাঁরা তৈরি করছেন মিসাইল ছুঁড়ে, তারাও বোধহয় জানেন না এর ফলাফল কী হতে পারে। এটা একেবারেই প্রাকৃতিক ঘটনা বলা চলে, কিন্তু আসলে তো ব্যাপারটা একই। সেই বাতাসের অক্সিজেনকে ক্রমাগত সাইলেন্ট ইলেকট্রিক ডিসচার্জের সাহায্যে ওজোনে রূপান্তরিত করা।

    মিলিটারি মহড়ার সময়ে এখানে সেই কাণ্ডটাই ঘটেছে। অক্সিজেন ক্রমাগত পরিবর্তিত হয়েছে ওজোনে এবং যতক্ষণ মহড়া চলেছে ততক্ষণই চলেছে এই ব্যাপার। ফলে যে ওজোন তৈরি হয়েছে তার পরিমাণ হয়েছে বিরাট।

    এখন, রাসায়নিকরা সবাই জানেন যে, ওজোনের মধ্যে তিনটি অক্সিজেন পরমাণু থাকায় ওজোন আর অক্সিজেনের ধর্ম এক নয়। অক্সিজেনের কোনও রং নেই, কিন্তু ওজোন গ্যাস হলেও, তার রং নীল। অক্সিজেনের কোনও গন্ধ নেই, কিন্তু ওজোনের আছে একটা বিশ্রী গন্ধ, যা নাকি অনেকটা মাছের আঁশটে গন্ধের মতো।

    মিলিটারি মহড়ার ফলে খানিকক্ষণের জন্য ও-জায়গাটার অনেকটা অক্সিজেনই ওজোনে পরিণত হয়ে গিয়েছিল, আর তারই ফলে মনে হয়েছিল একটা অলৌকিক কাণ্ড ঘটে গেছে। রান্নাঘরে কড়াই আর চাটুতে হঠাৎ মরচে ধরার কারণও এই অতিরিক্ত অক্সিজেন।

    অবশ্য এই ওজোন ভেঙে তাকে ফের অক্সিজেনে আনার ব্যাপারে হাবুলেরও মস্ত একটা ভূমিকা ছিল, যদিও সেটা ঘটেছিল তার সম্পূর্ণ অজান্তে। ওজোনকে একটু গরম করলে, বিশেষ করে সে তাপটা যদি ২০০ ডিগ্রির ওপরে হয়, তা হলে তা সঙ্গে সঙ্গেই ভেঙে ফের অক্সিজেনে রূপান্তরিত হয়, হাবুলের হাতের জ্বলন্ত চেলাকাঠ তার অজান্তেই এই অঘটনটা ঘটিয়েছিল।

    বাড়ি ফিরে বটকেষ্ট আর মধুঋতা যখন হাসতে হাসতে রহস্যটা বুঝিয়ে দিল, তখন ইন্দ্রপাঁচুবাবুও হো হো করে হাসতে শুরু করে দিলেন। তবে তার গিন্নি এই সরল সমাধানের ওপর খুব গুরুত্ব দিলেন কি না বোঝা গেল না, কেননা তিনি তখন ভাই আর ভাই-বউয়ের আপ্যায়নের জন্য মাছের চপ ভাজতেই বেশি ব্যস্ত দেখা গেল।

    ৯ ডিসেম্বর ১৯৮৭

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43 44 45 46 47 48 49 50
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleআনন্দমেলা হাসির গল্পসংকলন – সম্পাদনা : পৌলোমী সেনগুপ্ত
    Next Article পূজাবার্ষিকী আনন্দমেলা গল্পসংকলন – সম্পাদনা : পৌলোমী সেনগুপ্ত

    Related Articles

    পৌলোমী সেনগুপ্ত

    আনন্দমেলা রহস্য গল্পসংকলন – সম্পাদনা : পৌলোমী সেনগুপ্ত

    September 18, 2025
    পৌলোমী সেনগুপ্ত

    পূজাবার্ষিকী আনন্দমেলা গল্পসংকলন – সম্পাদনা : পৌলোমী সেনগুপ্ত

    September 17, 2025
    পৌলোমী সেনগুপ্ত

    আনন্দমেলা হাসির গল্পসংকলন – সম্পাদনা : পৌলোমী সেনগুপ্ত

    September 17, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Our Picks

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }