Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    আনন্দমেলা গল্পসংকলন – সম্পাদনা : পৌলোমী সেনগুপ্ত

    পৌলোমী সেনগুপ্ত এক পাতা গল্প603 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    গাবু – দুলেন্দ্র ভৌমিক

    গাবু – দুলেন্দ্র ভৌমিক

    স্কুলে যাওয়ার সময় রোজই আমার মেয়ে একটা-না-একটা বায়না ধরে। ওর বায়না শুনতে শুনতে ওর মায়ের কান এতই ঝালাপালা হয়ে গেছে যে, ওকে স্কুলের পোশাক পরাতে পরাতে এখন মেয়ের আগে মা-ই ধমকের সুরে বলে ওঠেন, “চুপচাপ স্কুলে যাবে। কোনও বায়না করবে না। ভাল মেয়েরা কখনও বায়না করে না।”

    এর পরেই মেয়ের প্রশ্ন, “বায়না করলেই কি খারাপ হয়ে যায়?”

    মেয়েকে বোঝাবার ভঙ্গি করে মা বলেন, “নিশ্চয়ই খারাপ হয়ে যায়। বইয়ে লেখা আছে পড়োনি। গোপাল অতি সুবোধ বালক। সে কখনও বায়না করে না। বড়রা যাহা বলে তাহাই করে। যা পায়…”

    মাকে থামিয়ে দিয়ে মেয়ে বলে, “এটা তো ছেলেদের জন্যে। গোপাল তো মেয়ে নয়। মেয়েরা বায়না করলে খারাপ হয় না।”

    মা-মেয়ের এমন সওয়াল-জবাব প্রায় নিত্যদিনের ঘটনা। আজ স্কুলে যাওয়ার আগে আমার কাছে এসে বলল, “বাবা, পঁচিশটা পয়সা দিতে হবে। দিদিমণি নিয়ে যেতে বলেছেন।”

    আমি বললাম, “কেন?”

    মেয়ের হয়ে মা উত্তর দিলেন, “ওদের স্কুলে কে নাকি কী সব খেলা দেখাবে। তার জন্যে চার আনা করে পয়সা নিয়ে যেতে বলেছেন।”

    মেয়ে তার মাকে ভুল শুধরে দেওয়ার ভঙ্গি করে বলে, “চার আনা পয়সা নয়, পঁচিশ পয়সা। চার আনা নিলে হবে না।”

    আমারও অফিস বেরোবার তাড়া ছিল বলে ওকে চার আনা অর্থাৎ পঁচিশ পয়সা দিয়ে স্নানে গেলুম। অফিস থেকে ফিরে এসে দেখি গোটা বাড়িতে আমার মেয়েই একমাত্র বক্তা আর সবাই শ্রোতা। এমনকী তার মা’ও নির্বাক। মেয়ে আমাকে দেখতে পেয়ে ছুটে এল। শনিবার বলে পড়ার চাপ কম, অতএব, এখন বকবক করে বেড়ালেও তাকে বকবার লোক কেউ নেই। বাড়ির সকলেরই সম্ভবত একাধিকবার শোনা হয়ে গিয়েছিল, তাই মেয়ে এসে ধরল আমাকে।

    স্কুলে পঁচিশ পয়সার বিনিময়ে যেসব কাণ্ডকারখানা সে দেখে এসেছে, সেই নবীন অভিজ্ঞতার কাহিনি আমাকে না শোনালে ওর স্বস্তি হচ্ছে না।

    মেয়ে চোখ বড় বড় করে, দু’হাত নেড়ে বলতে লাগল, “একজন লোক আমাদের খাওয়ার খেলা দেখাল। প্রথমে বলল, আমি সব খেতে পারি। একজন একটা কাঁচা পেঁপে দিল, লোকটা দিব্যি খেয়ে নিল। তারপর খেল কলাগাছের টুকরো, তারপর কাঁচা বেগুন, এক খাবলা মাটি, মাটির ভাঁড়। যে যা দিচ্ছে সব খেয়ে নিচ্ছে। আমাদের অঙ্ক-দিদিমণির হাতে ছিল চকের বাক্স। এক বাক্স চকের অর্ধেকটা যখন খেয়ে নিয়েছে, তখন বড়দিদিমণি “স্টপ, স্টপ” বলে ছুটে এসে চকের বাক্সটা ওই খাইয়ে-লোকটার হাত থেকে ছিনিয়ে নিয়ে বললেন, এগুলো স্কুলের প্রপার্টি। খেয়ে ফেললে জবাব দিতে পারব না।”

    একনাগাড়ে কথা বলে মেয়ে হাঁফাচ্ছিল। আমি ওকে দম নেওয়ার অবকাশ দিলাম। একটু পরে জিজ্ঞেস করলাম, “কতক্ষণ খেলা দেখাল?”

    মেয়ে খুব দুঃখের সঙ্গে বলল, “বেশিক্ষণ দেখাতে পারল না। বড়দিদিমণি থামিয়ে দিলেন।”

    আমি জিজ্ঞেস করলাম, “কেন?”

    মেয়ে উত্তর দিল, “বড়দিদিমণির ভয় হয়ে গেল যে! একে তো স্কুলের চোদ্দোখানা আস্ত চক খেয়ে নিয়েছে। এর পর একটা ডাস্টার কামড়ে ধরতেই বড়দিদিমণি ভয় পেয়ে বললেন, ‘ওকে দু’-পাঁচ টাকা বেশি দিয়ে বিদেয় করুন। মনে হচ্ছে, এর পর গোটা স্কুল বাড়িটাই খেতে আরম্ভ করবে।’ তারপর বড়দিদিমণি ইংরেজিতে অন্য দিদিমণিদের বললেন, ‘ইফ হি ট্রাই টু ইট আওয়ার স্কুল বিল্ডিং, আই থিঙ্ক হি ক্যান, বাট উই কান্ট অ্যালাউ হিম টু ইট সাচ এ ইম্পরট্যান্ট থিং, লাইক আওয়ার এডুকেশনাল ইনস্টিটিউশন।’ তখন জোর করে ওই খাওয়াখাওয়ির খেলা বন্ধ করতে হল।”

    বাড়ি ফিরে আমার জলখাবারের বরাদ্দ হল এক পিস পাউরুটি, আর এককাপ চা। রক্তের ঘনত্ব বেড়ে যাওয়ায় মাখন খাওয়া বন্ধ করেছি মাস ছয়েক আগে। সেঁকা পাউরুটিতে যখন কামড় দিচ্ছি, তখন মেয়ে বলল, “বাবা, তুমি ওইরকম খেতে পারবে?”

    আমি মাথা নেড়ে জানালাম, না।

    মেয়ে বলল, “পারলে বেশ হত, তাই না।”

    আমি বললাম, “তা হলে তো তোদের স্কুলে গিয়ে খেলা দেখাতে হত আর বড়দিদিমণি ভয় পেয়ে মাঝপথে বন্ধ করে দিতেন, তাই না?”

    মেয়ে বলল, “তা কেন, তখন তো বাড়িতে তুমি সব কাঁচা-কাঁচাই খেতে পারতে। মাকে আর কষ্ট করে রাঁধতে হত না।”

    আমার ওই এক পিস পাউরুটি খাওয়া দেখে মেয়ে তার দুর্বল বাবার দিকে যেন করুণার চোখে তাকাল। আজই সদ্য সদ্য খাওয়ার ব্যাপারে যে মেয়ে নররাক্ষস দেখে ফিরেছে, যে তার কাছে দারুণ একটা হি-ম্যান হিরো, সেই মেয়ে তার নিজের বাবাকে এক পিস পাউরুটি আর এক কাপ চা খেয়ে ঢেকুর তুলতে দেখে যদি খুবই দুর্বল ভাবতে আরম্ভ করে, তাতে আর তার দোষ দেব কেন। এই বয়সের ছেলেমেয়েদের মধ্যে অনেক রকম স্বপ্ন বাসা বাঁধে। বাইরে যা দেখে মুগ্ধ হয় নিজের ঘরে এসে তাই খোঁজবার চেষ্টা করে। আমার মেয়ে রিঙ্কি তাই হঠাৎ হঠাৎ তার মাকে বলে, “মা, তুমি স্টেফি গ্রাফের মতো টেনিস খেলতে শিখলে না কেন?”

    আমাদের বাড়ির কাজের মেয়ে যেদিন এসে বলল, “কী বলব মা গো, বড় রাস্তায় এত গণ্ডগোল যে, দেড় মাইল পথ বাস না পেয়ে ছুটতে ছুটতে চলে এলুম। পাছে দেরি হয় তাই ছুটে এলুম। বাসও আমার আগে আসতে পারবে না।”

    সঙ্গে সঙ্গে রিঙ্কি বলে উঠল, “ও মাসি তুমি তো তা হলে পি টি উষার রেকর্ড ভেঙে দেবে গো। তুমি এখন থেকে তাই করো।”

    কাজের মেয়ে ময়না বলল, “আমি বাছা কারও সাতে-পাঁচে থাকি না। অ্যাদ্দিন তোমাদের কাছে কাজ করছি, তোমরা বলতে পারবে কখনও একটা চায়ের কাপ ভেঙেছে আমার হাত থেকে। তবে কেন আমি অন্যের বাড়ির রেকর্ড রেডিয়ো ভাঙতে যাব।”

    রিঙ্কির এইরকম অভ্যেস আছে বলে আমি এবং আমরা খুব সতর্ক থাকি। আমাকে যে কতবার গাওস্কর, কপিলদেব, মারাদোনা আর বিয়র্ন বর্গ হতে অনুরোধ করেছিল তার ইয়ত্তা নেই। একটা বয়স পর্যন্ত ছেলেমেয়েদের কাছে তার বাবাই হচ্ছেন হিরো। তাদের ধারণা তার বাবা সব পারেন। রিঙ্কি সেই বয়সটা না পেরোনো পর্যন্ত খুব সতর্ক থাকতে হয়।

    রবিবার সকালে বাজারে যাওয়ার সময় মেয়ে বায়না ধরল তাকেও নিয়ে যেতে হবে। এটা অবশ্য এমন কিছু নতুন ব্যাপার নয়। অধিকাংশ রবিবারই এটা ঘটে। বাজার করে ফিরে আসার পথে রিঙ্কি আমার হাতটা শক্ত করে চেপে ধরে কিছুটা ভয় আর অনেকখানি বিস্ময়-জড়ানো গলায় বলে উঠল, “বাবা, ওই যে, ওই যে লোকটা আসছে।”

    আমি দেখলাম, একটা গলির মধ্য দিয়ে আধময়লা পাঞ্জাবি আর পাজামা পরা রোগা চেহারার একটা লোক হেঁটে আসছে। লোকটা দেখতে এতই সাধারণ যে, ওর দিকে কারও নজর পড়ার কথা নয়; অথচ রিঙ্কি চোখ বড় বড় করে তাকেই দেখছে এবং আমাকে দেখাচ্ছে।

    আমি বললাম, “কে ওই লোকটা? তুই চিনিস?”

    রিঙ্কি যেন তার বাবাকে পৃথিবীর কোনও অষ্টম আশ্চর্য দেখাচ্ছে তেমন ভাবেই বলল, “এই তো সেই লোকটা, যে কালকে আমাদের স্কুলে খেলা দেখিয়েছিল। জ্যান্ত নররাক্ষস।”

    এ বার লোকটার দিকে ভাল করে তাকাতেই হল। গত সন্ধ্যায় যার খাওয়াখাওয়ির এমন সব রোমহর্ষক বিবরণ শুনেছি এবং পাছে স্কুল বাড়িটাই খেয়ে ফেলার আশঙ্কায় বড় দিদিমণি ভয় পেয়ে যার খেলা বন্ধ করে দিতে বাধ্য হয়েছিলেন, তাকে দেখার লোভ আমারও হল।

    আমি একটু এগিয়ে গেলাম। রিঙ্কি এবার দু’হাত দিয়ে আমাকে টেনে ধরে চাপা গলায় সাবধান করে দিয়ে বলল, “বাবা, বেশি এগিয়ো না। এখনও নির্ঘাত ওর ব্রেকফাস্ট হয়নি। পারলে ব্যাগ থেকে একটা বাঁধাকপি ছুড়ে দাও।”

    আমি বললাম, “ও কি মানুষও খায় নাকি?”

    রিঙ্কি বলল, “আমাদের রামু-দরোয়ান বলেছে, যে ডাস্টার খেতে পারে সে ইচ্ছে করলে মাস্টারও খেতে পারবে।”

    লোকটা ততক্ষণে বড় রাস্তায় এসে দাঁড়িয়েছে। আমার এক হাত সামনে দাঁড়িয়ে লোকটা আমার দিকে তাকাল। চোখ পিট পিট করে আমায় দেখতে লাগল। আমিও লোকটাকে দেখছি। মাথায় খাটো-খাটো চুল, ছ’ফুটের মতো লম্বা, যেন পাকানো দড়ির মতো। আধময়লা পাজামা আর হ্যান্ডলুমের পাঞ্জাবি, পায়ে হাওয়াই চপ্পল আর কাঁধে একটা কাপড়ের ঝোলা-ব্যাগ। লোকটা আরও এক পা আমার দিকে এগিয়ে আসতেই রিঙ্কি প্রাণপণে আমার হাত ধরে টানতে লাগল।

    লোকটা আমায় দেখতে দেখতে হাসল। তারপর বলল, “নিশ্চয়ই চিনতে পারছিস না। আমি কিন্তু পেরেছি।”

    কথাটা বলেই লোকটা দু’হাতে তালি বাজিয়ে হাত দুটো মুখের কাছে তুলে এনে এমন ভাবে হাসল, যে হাসি জীবনে আমি একজনকেই হাসতে দেখেছি। আমি বললাম, “তুই কি তবে গাবু?”

    ওই লোকটা, অর্থাৎ গাবু আরও জোরে হেসে উঠে বলল, “মার দিয়া কৈলাস! তুই চিনতে পেরেছিস। আমিই গাবু, গ্রেট গাবুলাল সাঁপুই।”

    বাজারের ব্যাগটা ডান হাতে, বাঁ হাত ধরে টানছে রিঙ্কি, তাই ব্যাগটা রাস্তাটায় নামিয়ে ডান হাত বাড়িয়ে গাবুকে কাছে টানলাম। গাবু আমাকে জড়িয়ে ধরে হাসতে লাগল। গতকালের হি-ম্যান নররাক্ষস বাবাকে বুকে জড়িয়ে আদর করছে দেখে রিঙ্কি যেন মনে মনে ভরসা পেল।

    গাবুকে বললাম, “এই হচ্ছে আমার মেয়ে। তুই ওদের স্কুলে গতকাল খেলা দেখিয়েছিলি। রিঙ্কিই তো তোকে দেখাল।”

    গাবু হাত বাড়িয়ে রিঙ্কির গালটা আলতো করে টিপে দিল। রিঙ্কি সঙ্গে সঙ্গে আমার শরীরের সঙ্গে আরও সেঁটে দাঁড়াল। আমার দিকে তাকিয়ে গাবু বলল, “ভাগ্যিস দেখাল তাই দেখা হল। নইলে তো দেখাই হত না। তা প্রায় তিরিশ বছর পর দেখা হল, তাই না?”

    আমি মনে মনে হিসেব করে বললাম, “হ্যাঁ, তা প্রায় হবে।”

    ছেলেবেলার বন্ধুর সঙ্গে এ ভাবে রাস্তায় দাঁড়িয়ে কথা বলা উচিত নয় ভেবে বললাম, “চল, আমার বাড়িতে। কাছেই আমার বাড়ি।”

    গাবু রাজি হয়ে গেল। রিঙ্কির ভয় কেটে গিয়ে এবার কৌতূহলটা বাড়তে লাগল। আমরা যখন হেঁটে আসছি তখন রিঙ্কির এক হাত আমার হাতে, অন্য হাত ধরেছে গাবু। ওকে মাঝখানে রেখে আমি আর গাবু দু’জন রিঙ্কির দু’পাশে হাঁটছি। রিঙ্কি তখন গাবুকে উদ্দেশ করে বলে যাচ্ছে, “তুমি কাঁচা বাঁধাকপি খেতে পারো? তুমি জলের কুঁজো খেতে পারো? তুমি নাকি ইটও খেতে পারো?”

    গাবু সব প্রশ্নের জবাবেই খালি, “পারি, পারি” বলে মাথা নেড়ে যাচ্ছে। রিঙ্কি এ বার আমার দিকে চোখ ফিরিয়ে প্রশ্ন করল, “তোমার কে হয়? বন্ধু?” আমি বললাম, “হ্যাঁ, বন্ধু। খুব ছোটবেলা থেকে।”

    আমি লক্ষ করছিলাম গাবুর সঙ্গে হেঁটে যেতে যেতে রিঙ্কি বেশ গর্বিত চোখে চারপাশে তাকাচ্ছিল। ওর দুই বন্ধুকে ডেকে ডেকে গাবুকে দেখাল। গতকাল পঁচিশ পয়সার বিনিময়ে যার খেলা দেখেছে আজ তারই হাত ধরে রাস্তা দিয়ে হেঁটে যাওয়ার মধ্যে রিঙ্কি এক ধরনের গর্বমেশা আনন্দ পাচ্ছিল। আমার মনে পড়ল কৈশোরের দিনগুলিতে গাবুকে নিয়ে আমাদেরও গর্ব ছিল। গাবু আমাদের বন্ধু অথচ এই বয়সেই আমাদের পাড়ায় গাবু প্রায় ভি. আই. পি.’র সম্মান পেত।

    না, গাবু যে খুব ভাল ছাত্র, দারুণ খেলোয়াড়, কিংবা গাইয়ে-বাজিয়ে ছিল তা নয়। গাবুর ছিল দুটি গুণ। বারো-চোদ্দো বছর বয়সেই গাবু দারুণ খেতে পারত। তার খাওয়া দেখবার জন্য এঁটো হাতেও সার দিয়ে নেমন্তন্ন বাড়িতে লোক দাঁড়িয়ে থাকত। আর ওই বয়সেই তার গায়ে ছিল অসুরের বল। গাবুর বাবার ছিল লোহাপেটার ছোট্ট একরত্তি দোকান। গাবু মাঝে মাঝে বাবার কাজে সাহায্য করত। গাবুর বাবাও নাকি আস্ত একটা কাঁঠাল খেতে পারত। কিন্তু তাঁর খাওয়া আমরা দেখিনি। আমরা দেখেছি গাবুকে। সত্যনারায়ণ পুজোর সিন্নি গাবুকে দেওয়া হত বালতিসুদ্ধু। লোকেরা যেভাবে চুমুক দিয়ে দুধ খায়, গাবুও তেমন করে দেড়-দু’বালতি সিন্নি সাবাড় করে দিত চোদ্দো বছর বয়সেই।

    গোপেন মিত্তিরের মায়ের শ্রাদ্ধে গাবু যা খেল, তাতে গোটা পাড়ায় তার খ্যাতি ছড়িয়ে গেল। গাবু ছিল শ্মশানবন্ধু, অর্থাৎ শবযাত্রায় সেও গিয়েছিল। কিন্তু ওকে গোপেনবাবু বসালেন শেষের ব্যাচে। গাবু খেতে আরম্ভ করল। প্রথমে খান-বিশেক লুচি খেল। তারপর এটা-ওটা খাওয়ার পর এল দই আর মিহিদানা। গোপেনবাবু বললেন, “ওকে গোটা হাঁড়িটা দে।”

    তাই দেওয়া হল। দইয়ের হাঁড়ি থেকে খানিকটা দই খেয়ে গাবু বলল, “এ বার মিহিদানা দাও।”

    দইয়ের হাঁড়িতে মিহিদানা আর দই নিয়ে এমন ভাবে মাখল যেন খিচুড়ি খাচ্ছে। তিন হাঁড়ি দই আর দুই ডাবু-হাতা মিহিদানা শেষ হতেই মাতৃদায়গ্রস্ত গোপেন মিত্তিরের সদ্য ন্যাড়া মাথায় ঘাম জমতে শুরু করল। গোপেনবাবু কাতর গলায় বললেন, “বাবা গাবু, দই ছেড়ে রসগোল্লায় যা।”

    গাবু কোনও উত্তর দিল না। ভাঁড়ারের দই শেষ হতে গাবু রসগোল্লার দিকে চোখ ফেরাল। গাবুর খাওয়ার গতির সঙ্গে পাল্লা দিয়ে আমরা আর গুনে উঠতে পারছি না। একসময় গোপেনবাবুর বড় ছেলে হাততালি দিয়ে উঠে বললেন, “হাফ সেঞ্চুরি হয়ে গেল।”

    আস্তে আস্তে গোটা গাঁয়ে গাবুর খাওয়ার ব্যাপারটা এমন চাউর হয়ে গেল যে, পাড়ার কোনও বাড়িতে গাবুর নিমন্ত্রণ না হওয়া মানে সেই বাড়ির অনুষ্ঠান খুবই ক্ষুদ্র এবং খাওয়াবার ব্যাপারে গৃহস্বামীর সামর্থ্য কম নতুবা গৃহস্বামী কৃপণ। ফলে লোকচক্ষে লজ্জা ঢাকতে সবাই আগেভাগে গাবুকে নিমন্ত্রণ করে আসত। ভদ্রলোকরা কে আর সবার কাছে গরিব বা কৃপণ হিসেবে পরিচিতি পেতে চায়।

    আমরা মাঝেমধ্যে গাবুর পেটে হাত বুলিয়ে দিয়ে জিজ্ঞেস করতুম, “হ্যাঁ রে গাবু, তুই এত খাস কেমন করে?”

    গাবু খুব সরল গলায় উত্তর দিত, “কে জানে কেমন করে হয়। যতক্ষণ খেতে থাকি ততক্ষণ কেবলই খেতে ইচ্ছে করে। চোখের সামনে খাবার দেখলে আরও খিদে বেড়ে যায়।”

    একবার পুবপাড়ার কুঞ্জ সাহা তাঁর বাড়িতে অষ্টপ্রহর কীর্তন গানের ব্যবস্থা করলেন। তিন দিনের কীর্তনের পর দুপুর থেকে নারায়ণসেবা। তার মানে খিচুড়ি, নানা তরকারির ঘ্যাঁট আর বোঁদে। গাবু দুপুর বেলা খেতে গেল। সাহাবাবু ওকে দেখেই বললেন, “এসো গাবু, এসো। সবাই এসে অবধি তোমার খোঁজ করছে। দেখি আজ কত খিচুড়ি তুমি খেতে পারো।”

    গাবু খুব লজ্জিত ভঙ্গিতে বলল, “জ্যাঠাবাবু, আজ একদম পীড়াপীড়ি করবেন না। সন্ধেবেলা ডাক্তারবাবুর নাতির অন্নপ্রাশনের নেমন্তন্ন। ওখানে কিছু একটু তো দাঁতে কাটতে হবে।”

    সাহাবাবু বললেন, “সে সন্ধেবেলার কথা পরে ভাবা যাবে। কেষ্টনগর থেকে কেত্তনের দলের লোকেরা বসে আছে তোমার খাওয়া দেখবে বলে। আমার বেয়াইমশাই এয়েচেন উলটোডিঙি থেকে। ওঁকেও বসিয়ে রেখেছি তোমার জন্যে। এত কাণ্ডের পর তুমি আমায় হতাশ করবে?”

    গাবু সাহাবাবুকে অবশ্য হতাশ করেনি। প্রথমে এক বালতি খিচুড়ি খেয়ে গাবু বলল, “খান তিনেক কাঁচালঙ্কা হবে?”

    সঙ্গে সঙ্গে ছ’খানা কাঁচালঙ্কা চলে এল। গাবু দ্বিতীয় বালতি খিচুড়ি শেষ করার পর তরকারির দিকে হাত বাড়াল। এতক্ষণ তরকারির কোনও দরকারই সে বোধ করেনি। চার বালতি খিচুড়ি শেষ করার পর গাবু খুব বিনীতভাবে বলল, “আর একটু হবে?” ঠিক তখনই ভাঁড়ার ঘর থেকে সাহাবাবুর ডাক এল। সেখান থেকে ঘুরে এসে সাহাবাবু গাবুর কানের কাছে মুখ এনে বললেন, “ওবেলা তো ডাক্তারবাবুর ওখানে যেতে হবে। ওখানে মুখ এঁটো না করলে ডাক্তারবাবু খুব দুঃখ পাবেন। এদিকে সবাই তোমার খাওয়া দেখে খুশি। তাই বলছি বাবা, এবার থামলে হয় না?”

    গাবু কলাপাতার ওপর থেকে খিচুড়ি কাচিয়ে নিয়ে মুখে দিতে দিতে বলল, “জ্যাঠাবাবু, চাট্টি বোঁদে বলুন।”

    সেদিনই রাত আটটা নাগাদ গাবু খেতে বসল ডাক্তারবাবুর বাড়িতে। শুধু গাবুকে পরিবেশন করার জন্যই আলাদা চারটে লোক। তারা অন্যদের কিছুই দেবে না, শুধু গাবুকে পরিবেশন করবে। গাবুকে দিতে দিতে ছেলে চারটে ঘেমে গেল। শেষ পর্যন্ত ডাক্তারবাবু এগিয়ে এসে বললেন, “গাবু, একটু ধীরে ধীরে হাত চালা, ছেলেগুলো তো পাশ ফিরতে পারছে না। তা মাছ খেলি ক’টা?”

    গাবু উত্তর দিল, “খাওয়ার সময় আমি গুনি না। যারা দিয়েছে তারা বলতে পারবে।” কে একজন তখন বলে উঠল, “গাবুর জন্য তিরিশ পিস আলাদা রাখা ছিল। সেগুলো শেষ হতে আরও পনেরো পিস আনতে হয়েছে।”

    ডাক্তারবাবু বললেন, “পাঁচের জন্য আর পঞ্চাশ অপূর্ণ থাকে কেন?”

    গাবু বলল, “ও-বেলায় এটু খিচুড়ি খেয়েছি কিনা। তবে আপনি গুরুজন, আপনি হুকুম করলে অমান্যি করতে পারব না। দিন আর পাঁচ পিস।”

    খাওয়ার জন্য গাবুকে তখন মাঝে মাঝে হায়ারও করা হত। অন্য পাড়া থেকে হয়তো কেউ এসে গাবুর বাবাকে অনুরোধ করত, “আজ্ঞে, আপনার ছেলে গাবুকে একটু চাই। আমাদের সঙ্গে চন্দননগরে বরযাত্রী যাবে আর খেয়ে ওদের পিলে চমকে দেবে। দয়া করে যদি গাবুকে যাওয়ার অনুমতি দেন।”

    হায়ারে গেলে অবশ্য গাবু পাঁচটি টাকা আর একখানা ধুতি পেত। ডাক্তারবাবু অবশ্য বলতেন, কারও কারও পেটে জোড়া পাকস্থলী থাকে, গাবুর বোধহয় এক ডজন আছে। আর ওর লিভার, হজম করার যন্ত্রপাতি বোধহয় ফরেন থেকে তৈরি। ছেলেটা এত খায় অথচ একদিনও বদহজমের জন্য একটা ট্যাবলেট নিতে এল না। ওর হজমযন্ত্রটা ভেরি, ভেরি স্ট্রং—মিউজিয়ামে রাখবার মতো।

    একবার অন্য পাড়ায় খেতে গিয়ে গাবু তো প্রায় দাঙ্গা বাধিয়ে ফেলেছিল। যদিও সেটা ভাড়াটে খাওয়া নয়, তবুও একরকম হায়ারই বলা চলে। উত্তরপাড়ার চক্রবর্তীবাবুর মেয়ের বিয়ে হল শ্যামনগরে। ছেলেটি বি এ পাস করে বেশ ভাল একটা চাকরি করে। গঙ্গার ধারে বিঘেখানেক জমির ওপর নিজেদের দোতলা বাড়ি। ছেলের বাবা জুট মিলের বড়বাবু। খুব রাশভারী লোক এবং বেজায় দেমাকি। এই বিয়েতে দাবি করে যা নেওয়ার তা তো নিয়েইছেন, সঙ্গে নিয়েছেন নগদ দশ হাজার টাকা। তখন দশ হাজার টাকা মানে আজকের দিনে অনেক, অনেক টাকা। অনেক অনুরোধে এক পয়সাও কম নেননি। উত্তরপাড়ার চক্রবর্তীরা অবশ্য পয়সাওলা লোক। সবই দিয়েছেন, কিন্তু মনে মনে চটেছেনও খুব। তাই বউভাতের দিন ছেলের বাবা কালীপ্রসাদ মুখার্জিকে একটু বেগ দেওয়ার জন্য গাবুকে নিয়ে যাওয়া হল। চক্রবর্তীমশাই গাবুর পিঠে হাত বুলিয়ে বললেন, “বাবা গাবু, পাড়ার মানটা রাখিস। তুই ফিরে এলে তবে আমি খাব। দেখিস, মুখুজ্যে যেন তোর কাছে হাতজোড় করে।”

    চক্রবর্তীমশাই বাড়ি রইলেন। তাঁর ভাই আর অন্য আত্মীয়স্বজনরা ভাড়া করা বাসে গাবুকে নিয়ে চললেন শ্যামনগরে। গাবুর জন্য নতুন জামা, প্যান্ট, জুতোও কিনে দিয়েছেন চক্রবর্তীমশাই। গোটা বাসে যত কন্যযাত্রী ছিল সবাই ঘন ঘন গাবুর দিকে তাকাচ্ছিল আর বলছিল, “গাবু, পারবি তো? তোর ওপর চক্রবর্তীবাড়ির মান আর পাড়ার সম্মান।”

    কে একজন হুংকার দিয়ে বলে উঠল, “গাবু, আজ তোকে জ্বলে উঠতে হবে। নিজের রেকর্ড নিজেকেই ভাঙতে হবে।”

    ব্যাপারটা এমন মনে হচ্ছিল, যেন কোনও ফাইনাল খেলায় একজন দামি স্ট্রাইকারকে ভাড়া করে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে, যার গোলেই টিম শিল্ড পাবে।

    বাস থেকে নামবার আগে গাবু চক্রবর্তীমশায়ের ছোট ভাই জীবন চক্রবর্তীকে বলল, “কাকু, আমাদের সঙ্গে তো বাস রয়েছে, তাই আমরা কয়েকটা ব্যাচ পরে বসব। গোটা তিন-চার ব্যাচ হয়ে যাক। আপনারা বলবেন, আগে গাবু খেয়ে উঠুক পরে আমরা বসব।”

    জীবন চক্রবর্তী ভেবে দেখলেন বুদ্ধিটা খারাপ বাতলায়নি গাবু। তিনি সঙ্গে সঙ্গে বললেন, “তাই হবে।”

    তাই হল। যত বার বসতে বলা হয়, জীবন চক্রবর্তী হাতজোড় করে বলেন, “ঠিক আছে ঠিক আছে। আমরা একটু পরে বসছি। সঙ্গে তো বাস রয়েছে, ফেরার ভাবনা নেই।”

    সবাই থেকে থেকে গাবুর খোঁজ করে। মন্টু এসে বলল, “ছোটকাকা, গাবু গঙ্গার ধারে ওয়ার্মআপ করছে। ও আজকে ফাটিয়ে দেবে।”

    জীবন বলল, “দেখিস, উলটোটা যেন না হয়। এদের আয়োজন কিন্তু বেশ।”

    মন্টু বলল, “গাবু যদি ওর আগের স্ট্যান্ডার্ডটাও বজায় রাখতে পারে, নিদেনপক্ষে ছোড়দির বিয়ের রাতের রেকর্ডটা, তাতেই ঢের।”

    এই সময় গাবু এসে জীবন চক্রবর্তীকে বললেন, ‘কাকু, এবার সত্যিই খিদে পেয়ে গেছে। এখানকার গঙ্গার হাওয়াটা বেশ। কেবলই খিদে পায়।”

    এই সময় খবর এল, সেকেন্ড ব্যাচ শেষ হয়ে থার্ড ব্যাচের পাতা পড়ছে। জীবন বললেন, “গাবু, এটা তো থার্ড! কী করবি?”

    গাবু বলল, “ওতেই হবে। আপনারা আমার পরে বসবেন।”

    যথারীতি মুখুজ্যেমশাই চুরুট টানতে টানতে এসে বললেন, “এবার আপনারা বসবেন তো?”

    জীবন চক্রবর্তী হাতজোড় করে বললেন, “বাড়ির মেয়েরা এখনও জমিয়ে গল্প করছে। আপনি বরং বাচ্চাদের বসিয়ে দিন।”

    গুটিসাতেক বাচ্চার সঙ্গে গাবুও বসল। তা বলতে গেলে গাবু তো বাচ্চাই। তখনও চোদ্দো পেরোয়নি।

    পরিবেশনের শুরুতেই জীবন চক্রবর্তী মুখুজ্যেমশাইকে শুনিয়ে বললেন, “বাচ্চাদের একটু দেখেশুনে দেবেন।” মুখুজ্যেমশাই যেতে যেতে ঘুরে দাঁড়িয়ে বললেন, “জীবনবাবু, এটা কালী মুখুজ্যের বাড়ি। কেমন করে খাওয়াতে হয় সেটা ছেলেদের এক হপ্তা ধরে ট্রেনিং দিয়েছি। আমার অর্ডার দেওয়া আছে, ফেলা যায় ফেলা যাবে, কিন্তু কোনও পাত যেন শূন্য না থাকে।”

    পাতে লুচি পড়তেই গাবু বলল, “শুরু করি।”

    যে-লোকটা লুচি দিচ্ছিল সে বলল, “লজ্জা কী খোকা, শুরু করে দাও।” বেগুন ভাজা দিতে এসে দ্যাখে, লুচি নেই। লুচি এলে দ্যাখে, বেগুনভাজা নেই। এইরকম বারতিনেক হতেই গাবু উঠে দাঁড়িয়ে বলল, “ও জীবনকাকা, এরা তো দিতেই পারছে না। খাব কী!”

    কথাটা কানে গেল মুখুজ্যেমশাইয়ের। তিনি গাবুর সামনে এসে বললেন, “কী হয়েছে তোমার?”

    গাবু বলল, “লুচি পাই তো বেগুনভাজা আসে না। আবার ভাজা আসতে আসতে লুচি ফুরিয়ে যায়।”

    মুখুজ্যেমশাই হাঁক দিলেন। পাতে ছ’টা লুচি পড়ল। দু’খানা লুচি বেগুনভাজা দিয়ে জড়িয়ে মুহূর্তে শেষ করে ফেলল গাবু। মুখুজ্যেমশাই বললেন, “আরও চাই?”

    গাবু খুব বিনীতভাবে বলল, “জেঠু, একটু হাত খুলে দিতে বলুন-না। এ যেন পরীক্ষা হলে ব্লটিং পেপার দিচ্ছে।”

    মুখুজ্যেমশাই বললেন, “লুচির ঝুড়ি নিয়ে আয়।”

    ঝুড়ি এল। মুখুজ্যেমশাই বললেন, “এতে চলবে?”

    গাবু বলল, “পাতে ঢেলে দিন।”

    গাবুর পাতে লুচির পাহাড় জমে গেল। গাবু বেগুনভাজার ওপর একটু নুন ছিটিয়ে দিয়ে লুচি খেতে লাগল। শেষ হওয়ার পর দেখল মুখুজ্যেমশাইয়ের চুরুট নিভে গেছে। তিনি বিস্ফারিত চোখে তার দিকে তাকিয়ে। গাবু বলল, “আর খানকয়েক হবে?”

    মুখুজ্যেমশাই ঢোক গিলে বললেন, “হবে, নিশ্চয়ই হবে। তবে বাবা, এখানে আরও আইটেম আছে। পোলাও, মাছ, মাংস, আলুর দম, পটলের কোর্মা, মাংসের চপ, মানে…”

    ঠিক এই সময় জীবন ইশারা করতেই গাবু বলল, “জেঠু, আর কয়েকখানা লুচি খাব।”

    মুখুজ্যেমশাই ছুটলেন হেঁশেলের দিকে। তখন মন্টু মারফত একটা চিরকুট এল গাবুর হাতে। তাতে লেখা, “শাবাশ গাবু, তুই লুচি নিয়ে ড্রিবলিং করে যা। নতুন করে ময়দা মাখা হচ্ছে।”

    আরও ডজনদুয়েক লুচি খাওয়ার পর পোলাও এল। আলুর দমটা গাবু নিলই না। নতুন চিরকুট পাঠালেন জীবন। “তাতে লেখা, মাংসের চপ শুধু কন্যাযাত্রীদের জন্য। স্টক বেশি নেই। চপকে অ্যাটাক কর।”

    পোলাও আর চপ নিয়ে গাবু যখন ত্রাহি ত্রাহি রব তুলে দিয়েছে তখন মুখুজ্যেমশাই বললেন, “খোকা, তুমি মাছ খাবে না? মাংস? এবার না-হয় চপটা ছাড়ো, কচি পেটে এত ভাজা জিনিস কি ভাল?”

    মন্টু ফিসফিস করে বলল, “গাবু, অপোনেন্ট ফাউল করলেও রাগ করবি না। তুই চপ সাবড়ে যা।”

    গাবু বলল, “চপটা খেতে ভাল লাগছে। আর খান কয়েক হবে জেঠু?”

    সঙ্গে সঙ্গে চিরকুট এল জীবনের। “জিতা রহো মেরা লাল! রান্নার ঠাকুরের সঙ্গে মুখুজ্যেমশায়ের ঝগড়া লেগে গেছে। তুই চপ ছাড়িস না। চপ শেষ হলেই ওদের ডিফেন্স ভেঙে যাবে।”

    এ বার মুখুজ্যেমশাই নিজে হাতে করে খানপাঁচেক চপ এনে বললেন, “এই নাও।”

    গাবু বলল, “জেঠু, আর নেই?”

    মুখুজ্যেমশাই মাথা হেঁট করে বললেন, “না বাবা, নেই। ঠাকুররা হিসেবে ভুল করে ফেলেছে।”

    কথাটা কানে যেতেই হাতা-খুন্তি নিয়ে ঠাকুর ধেয়ে এল মুখুজ্যেমশাইয়ের দিকে। বলল, “ঠাকুরের বদনাম করছেন কেন? বলেছিলেন তিরিশজন কন্যাযাত্রী। ষাটখানা চপ বানালেই হবে। আমি তো সত্তরখানা বানিয়েছি। তার মধ্যে থেকে সাতখানা আপনারা নিয়ে গেছেন।”

    এই সময় জীবন এসে বললেন, “ঠিক আছে, এ নিয়ে গোল করার কী হল? এ তো আমাদের নিজেদের ব্যাপার। গাবু, আর চপ খেতে হবে না। দেখছিস না, চপ বাড়ন্ত। তুই মাছ খা।”

    এর মধ্যে কে একজন বোধহয় গাবুকে কলির রাক্ষস বলে ফেলায় মন্টু চিৎকার করে বলে উঠল, “গাবু, উঠে আয়। তোকে রাক্ষস বলেছে।”

    গাবু উঠে দাঁড়াল। ছুটে এলেন মুখুজ্যেমশাই। জীবন বলল, “ছিঃ ছিঃ মুখুজ্যেমশাই, এ কী শুনছি। একটা কচি ছেলে দু’-চার পিস চপ বেশি খেয়েছে বলে তাকে রাক্ষস-টাক্ষস বলে আপনার লোকেরা গাল দিচ্ছে? এই আপনার এক হপ্তার ট্রেনিং? এই আপনার আতিথেয়তা? এর পর তো এখানে জলগ্রহণ করা চলে না।”

    মুখুজ্যেমশাই হাতজোড় করে ক্ষমা চাইলেন। গাবুকে বললেন, “বাবা বোসো, মাছ খাও।”

    জলসায় যেমন গায়কদের কাছে নানা গানের অনুরোধ জানিয়ে চিরকুট যায় তেমনই ঘন ঘন চিরকুট আসতে লাগল গাবুর কাছে। এই চিরকুটে লেখা, “গাবু, ওদের প্রেস্টিজের পেনাল্টি বক্সে ঢুকে পড়েছিস। মাছের ডিফেন্সটাকে নাড়িয়ে দিয়ে মাংসে ঝাঁপা। পরের ব্যাচে যাতে মাছ কম পড়ে। এত রাত্রে মাছ পাওয়া যাবে না। এখনও চার ব্যাচ বাকি!” মুখুজ্যেমশাই একবার গাবুকে দেখেন পরক্ষণেই হেঁশেলে ছোটেন। খাবার জায়গায় তখন হইচই ব্যাপার। বাজনা থামিয়ে সানাইওলারা পর্যন্ত ছুটে এসেছে। গাবুর খাওয়া আর মুখুজ্যেমশাইয়ের ছোটাছুটি দেখে বাজনদাররা বলল, “আমাদের এখনই খেতে দিন। পরের ব্যাচের আর ভরসা করতে পারছি না।”

    গাবু যখন থামল তখন রাত্রি সাড়ে বারোটা। কলকাতার ঠাকুররা ঝগড়া করে সদলবলে চলে গিয়েছে এগারোটা নাগাদ। তখন কন্যযাত্রী-সহ শ’ দেড়েক লোক খেতে বাকি।

    মুখুজ্যেমশাই দোতলায় গিয়ে ঘরে দরজা দিলেন। লজ্জায় তিনি আর কাউকে মুখ দেখাতে পারছেন না। কন্যাযাত্রীরা ঠান্ডা পোলাও আর কয়েক টুকরো মাংস, দু’-একটা মিষ্টি খেয়ে দেখা করতে এল মুখুজ্যেমশাইয়ের সঙ্গে। ঘরে তখন বাবা-ছেলেতে তুমুল ঝগড়া চলছে। এ বলে শ্বশুরবাড়ির লোকের কাছে আমার প্রেস্টিজ গেল, বাবা বলেন, পাড়ার লোকের কাছে আমার মান গেল।

    মুখুজ্যেমশাই বললেন, “আপনাদের কিছুই খাওয়া হয়নি জানি। তাই আর-একদিন আসতে হবে। তা না হলে আমি লজ্জায় মুখ দেখাতে পারব না। শুধু বড়রাই আসবেন। কচি-কাঁচাদের না আনলেও চলবে।”

    গাবু তখন এগিয়ে গিয়ে মুখুজ্যেমশাইকে ঢিপ করে একটা প্রণাম করে বলল, “জেঠু, আমি আসব না?”

    গাবুর দিকে করুণ চোখে তাকিয়ে মুখুজ্যেমশাই বললেন, “আসবে, নিশ্চয়ই আসবে। তুমি বাবা এত কিছু চেটেপুটে খেলে, শেষপাতে যদি চাটনির সঙ্গে আমার মাথাটা চিবিয়ে খেতে তা হলে মুখ দেখানোর লজ্জা থেকে বাঁচতাম।”

    বাস যখন ছাড়তে যাবে তখন কোমরে গামছা বাঁধা কয়েকটা ছেলে হইহই করে এগিয়ে এল। এরাই এতক্ষণ পরিবেশন করছিল। ওদের হাতে এক গামলা লুচি। ওরা বলল, “খেয়ে যেতে হবে। না খেতে পারলে বাস যেতে দেব না। আমাদের অপমান!”

    সবাই গাবুর দিকে তাকাল। ছেলেগুলো কোনও কথা শুনবে না। এ বার গাবু এগিয়ে এসে বলল, “ভালবেসে খাওয়াতে চাইছে, না বলি কেমন করে?”

    খান বিশেক লুচি ছিল। মিনিট তিরিশ সময় নিল গাবু। শেষ লুচিটা মুখে পুরে গামলাটা উলটে দিয়ে বলল, “আর আছে?”

    ছেলেগুলো কয়েক মুহূর্ত স্থির চোখে গাবুকে দেখল, তারপরেই উলটো দিকে দৌড় লাগাল।

    নিজের বাড়িতে এসে এ-হেন গাবুকে বসালাম। জিজ্ঞেস করলাম, “কোথায় থাকিস?” গাবু বলল, “থাকার কোনও ঠিক নেই রে। এই খাওয়াখাওয়ির খেলা দেখিয়ে বেড়াই। গোবরডাঙার কাছে একটা কুঁড়ে আছে। সেখানে মা, বউ আর দুটো বাচ্চা।”

    ইতিমধ্যে খবর পেয়ে রিঙ্কির দু’-চারজন বন্ধু আর অন্য ছেলেরাও এসে গেছে নররাক্ষস দেখবে বলে। রিঙ্কির ফরমায়েশ মতো গাবু কাঁচা বেগুন, বাঁধাকপি, শিম আর কলাগাছের টুকরো খেয়ে দেখাল। যখন মাটির ভাঁড় খেতে আরম্ভ করল তখন আমি বাধা দিয়ে বললাম, “ঢের হয়েছে, আর খেতে হবে না। এখন খেলা শেষ কর!”

    ঘরের ভিড় পাতলা হতেই আমার বউ একটা কাঁসার থালায় খানবিশেক লুচি নিয়ে এল। সঙ্গে বেগুনভাজা আর আলুর ছেঁচকি।

    গাবু অদ্ভুত চোখে লুচিগুলোর দিকে খানিকক্ষণ তাকিয়ে থেকে বলল, “যদি কিছু মনে না করিস, একটা কথা বলব?”

    আমি বললাম, “বল-না কী বলবি?”

    গাবু বলল, “এখন আর এসব খেতে পাই না, ভালও লাগে না। তার চেয়ে বরং কাগজে মুড়ে দে, বাড়িতে পাঠিয়ে দেব। ওরা খাবে।”

    আমি বললাম, “ওরা মানে?”

    গাবু উত্তর দিল, “আমার মা, বউ আর ছেলে দুটো ওরা তো আমার মতো নররাক্ষস হতে পারল না। ওরা মানুষের মতোই ভাত-রুটি এসব খায়। ওদের চারটে পেটের খিদে মেটাতেই আমাকে এসব খেতে হয়। মানুষ যা খায় সে-খাবার কেউ দেয় না রে! দু’খানা রুটি কেউ দেবেনা, কিন্তু আমাকে কাঁচা খাওয়ার জন্যে এক কিলো বেগুন দেবে। মানুষ যদি মানুষের মতো খাবার খায় তা হলে সেটা ক্ষুধা হয়, খেলা হয় না। পরিবারের অন্যদের ক্ষুধা মেটাবার জন্যই আমাকে খাওয়ার খেলা দেখাতে হয়। মানুষ যা খায় না, খেতে পারে না, আমাকে তাই খেয়ে দেখাতে হয়।”

    আমার স্ত্রী বলল, “আপনি খান, আমি বাড়ির জন্য নতুন করে ভেজে দেব।”

    গাবু বিষণ্ণ গলায় বলল, “খেতে পারব না। সহ্য হবে না। রাক্ষসের পেটে মানুষের খাবার সয় না বউদি। বড় ছেলেটা বিকেলে উলটোডাঙা স্টেশনে এসে দাঁড়াবে। ওর হাতে খাবারগুলো দিয়ে দেব।”

    আমার বুকের মধ্যে কান্না আর বেদনা মিশে কেমন অদ্ভুত ধরনের একটা আক্রোশ তৈরি হচ্ছিল। এই আক্রোশটা কার ওপর সেটা বুঝতে পারছিলাম না। গাবু যাওয়ার জন্য উঠে দাঁড়িয়েছে। আমি ঘর থেকে টাকা এনে বললাম, “কিছু মনে করিস না। এটা রাখ।”

    গাবু ছলছল চোখে তাকাল। চোখ সরিয়ে নিতে নিতে বলল, “খেলা দেখিয়ে রাস্তার লোকের কাছ থেকে দশ পয়সা, বিশ পয়সা হাত পেতে নিই। আজ বন্ধু হাতে গুঁজে দিলে সেটা নিতে আটকাবে কেন?”

    গাবু আস্তে আস্তে চলে গেল। আমার স্মৃতিতে আমাদের পুরনো গ্রাম আর কৈশোরের সেই গাবু বারবার ফিরে আসতে লাগল। রিঙ্কি অবাক চোখে তার বাবাকে দেখছে। আমি জানি রিঙ্কি এখন আর তার বাবাকে বুঝতে পারছে না।

    ২৯ এপ্রিল ১৯৯২

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43 44 45 46 47 48 49 50
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleআনন্দমেলা হাসির গল্পসংকলন – সম্পাদনা : পৌলোমী সেনগুপ্ত
    Next Article পূজাবার্ষিকী আনন্দমেলা গল্পসংকলন – সম্পাদনা : পৌলোমী সেনগুপ্ত

    Related Articles

    পৌলোমী সেনগুপ্ত

    আনন্দমেলা রহস্য গল্পসংকলন – সম্পাদনা : পৌলোমী সেনগুপ্ত

    September 18, 2025
    পৌলোমী সেনগুপ্ত

    পূজাবার্ষিকী আনন্দমেলা গল্পসংকলন – সম্পাদনা : পৌলোমী সেনগুপ্ত

    September 17, 2025
    পৌলোমী সেনগুপ্ত

    আনন্দমেলা হাসির গল্পসংকলন – সম্পাদনা : পৌলোমী সেনগুপ্ত

    September 17, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Our Picks

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }