Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    আনন্দমেলা গল্পসংকলন – সম্পাদনা : পৌলোমী সেনগুপ্ত

    পৌলোমী সেনগুপ্ত এক পাতা গল্প603 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    কেউ কি এসেছিলেন – বিমল কর

    কেউ কি এসেছিলেন – বিমল কর

    রামতনুর বৈঠকখানায় বসেই গল্পগুজব হচ্ছিল। আমরা তিন-চারজন বুড়ো প্রায় রোজই সন্ধেবেলায় রামতনুর বৈঠকখানায় হাজির থাকি। নানান রকম কথাবার্তা হয়। সংসারের কথা, সুখদুঃখের কথা, এখনকার দিনকালের কথা। চা চুরুট, পান খেতে খেতে গল্পও হয় হরেক রকম।

    সেদিন তারকবাবু কথায় কথায় বললেন, ‘খবরের কাগজে একটা অদ্ভুত খবর বেরিয়েছে, আমরা খেয়াল করে দেখেছি কি?’ বলেই উনি সেই খবরের বর্ণনা শুরু করলেন।

    খুব একটা অবাক হওয়ার মতন খবর কিন্তু সেটা নয়। কলকাতায় শোভাবাজারে আদ্যিকালের ভাঙাচোরা একটা বিরাট বাড়ি হঠাৎ হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়ার পর—সেই ইট-কাঠের স্তূপ যখন পরিষ্কার হচ্ছিল তখন একটা জুড়িগাড়ির দুই ভাঙা চাকা পাওয়া যায় আবর্জনার মধ্যে। চাকা নিয়ে কেউ তখন মাথা ঘামায়নি। ঘামাবার কথাও নয়। কিন্তু দিন দুই পর থেকে এক অদ্ভুত কাণ্ড ঘটতে লাগল। দিনমজুরের দল—যারা মাটি খুঁড়ছিল, ইট কাঠ আলাদা করে সরিয়ে রাখছিল—তারা অবাক হয়ে দেখল, সরিয়ে রাখা ভাঙা চাকা দুটো আবার যথারীতি আবর্জনার মধ্যে কেউ ফেলে দিয়েছে। কে ফেলেছে, কেন ফেলেছে—সে-রহস্যের আর কিনারা করা যাচ্ছে না। পাড়ার লোকের ধারণা, এককালে এই বসাকবাড়ির ছোটবাবু ছিলেন— কলকাতার সেরা জুড়িদার। তাঁর চার জোড়া বাহারি জুড়িগাড়ি আর গুটি পাঁচ-ছয় পয়লা নম্বরের ঘোড়া ছিল। ছোটবাবুর নেশা বলতে ওই গাড়ি আর ঘোড়া। মারাও যান গাড়ি হাঁকাবার সময়, জুড়ি উলটে।

    তারকবাবুর বর্ণনা শুনতে শুনতে সদানন্দ বললেন, ‘তুমি কি বলতে চাও, চাকা দুটো ভুতুড়ে? না, বসাকবাড়ির ছোটবাবু এখনও ভূত হয়ে সে-বাড়িতে অধিষ্ঠান করছেন?’

    সদানন্দর বলার ভঙ্গিটা ছিল ঠাট্টার।

    তারকবাবু বললেন, ‘তা আমি জানি না। কাগজে যা ছেপেছে, বললাম।’

    কাগজের খবরটা নিয়ে আমরা হালকাভাবে কথাবার্তা শুরু করলাম। কথায় কথা বাড়ে। হালকা কথাও গম্ভীর হয়ে যায় অনেক সময়। আমরাও বোধহয় খানিকটা গম্ভীর হয়ে উঠলাম।

    রামতনু বরাবরই কথা কম বলে, আমাদের কথা শোনে আর ছোট ছোট মন্তব্য করে। ও আমার ছেলেবেলার বন্ধু। ওর স্বভাব জানি। কথা কম বললেও বাজে কথা বলে না। আবার হাসিতামাশা করলেও কাউকে লজ্জায় ফেলে না।

    সেই রামতনু বলল, ‘সদানন্দবাবু, জগৎটা বেশ বড়, আর সে-তুলনায় আমরা অতি ছোট। জগতে কত কী হয়, তার খবর কি আমরা রাখি! না, রাখতে পারি! খবরের কাগজে মাঝে মাঝেই কত বিচিত্র খবর বেরোয়। আপনি, আমি তা বিশ্বাস করলেই বা কী, না করলেই বা কী! বসাকবাড়ির ছোটবাবু, ঘোড়ার গাড়ির চাকার কথা এখন বাদ দিন; আমার জীবনে আমি একটা ঘটনা ঘটতে দেখেছি—যার কোনও মানে আমি বুঝিনি, কারণও খুঁজে পাইনি। যদি শুনতে চান—বলতে পারি।’

    শোনার আগ্রহ সকলেরই।

    গল্প শোনার পক্ষে সময়টাও এখন ভাল। কার্তিক মাসের শেষ। ঠান্ডা পড়তে শুরু করেছে। এ সময় সচরাচর মেঘ-বাদলার আবহাওয়া হয় দু’-চারদিনের জন্যে। বাদলা না হোক—দিন দুই মেঘলা ভাব চলছিল। বাইরে অন্ধকার। বাতাসের দমকাও ছিল। দেওয়াল ঘড়িতে সবে সাতটা বাজল।

    আমি বললাম, ‘সে কী, তোমার জীবনে অদ্ভুত একটা ঘটনা ঘটে গেল। আর আমি জানি না! বলছ কী?’

    রামতনু বলল, ‘না, জানো না। আমি কাউকেই বলিনি। কেননা, আমি নিজেই বুঝতে পারি না, সত্যি ঘটনাটা ঘটেছিল, না পুরোটাই আমার মনের ভুল! আজও আমি বলতে পারব না, ঘটনাটা সত্যি, না মিথ্যে?’

    ‘ঠিক আছে। ঘটনাটা বলো—!’

    রামতনু সামান্য অপেক্ষা করে বলল, ‘আমার জীবনটা তো রেলে চাকরি করেই কেটে গিয়েছে, তোমরা সবাই জানো। বড় কিছু হওয়ার ক্ষমতা আমার ছিল না। হতেও পারিনি।’

    রামতনুর কথার মধ্যে অসত্য বিশেষ ছিল না, তবে বিনয়ও ছিল। সে যে কিছুই হয়নি, তাও নয়। কম বয়েসে সে রেলের চাকরিতে ঢুকেছিল সামান্য এ এস এম হয়ে। কিন্তু ও যখন চাকরি থেকে অবসর নিল তখন আর সামান্য এ এস এম নয়, বড় স্টেশনের মাস্টারমশাই।

    রামতনু বলল, ‘যখনকার কথা বলছি তখন আমি ছোকরা। বেণুডিহি বলে একটা ছোট্ট স্টেশনে পোস্টিং নিয়ে এসেছি সদ্য। মাস দুই-তিন কেটেছে বড়জোর। বেণুডিহি হল ব্রাঞ্চ লাইনের একটা নিরিবিলি স্টেশন। স্টাফ বলতে আমরা ক’জন মাত্র। আমি, টিকিটবাবু সত্যদা, কেবিনের প্রসাদ আর পোর্টার জনা দুই। স্টেশনের গায়েই আমাদের রেল-কোয়ার্টার। একটা কুয়ো, রাজ্যের আকন্দ ঝোপ আর একজোড়া কাঠচাঁপার গাছ আমাদের কোয়ার্টারের শোভা বাড়ায়।

    ‘বেণুডিহি স্টেশনটা না থাকলেও চলত। কিন্তু কাঠ-চালানের জন্যেই বোধহয় ওটা রাখতে হয়েছে। জঙ্গলের ইজারাদাররা যত রাজ্যের গাছ কাটে, সেগুলো এনে স্টেশনের কাছে জমায়। সময়মতন চালানও দেয় খোলা মালগাড়িতে। তবে হ্যাঁ, দু’-চারটে ছোটখাটো গাঁ-গ্রামও যে বেণুডিহির ধারেকাছে ছিল তাও ঠিক। এমনিতে জায়গাটা ভাল। পাহাড়তলি বলে কথা! মন্দর মধ্যে হল ওখানকার ম্যালেরিয়া। সে এক আজব ব্যাপার। মাসের মধ্যে বার দুই অন্তত তোমায় কাবু করে ফেলবে। জ্বর আসবে আচমকা হু হু করে, শীতে কাঁপবে ঠক ঠক করে, কিন্তু জ্বরের মাত্রাটা বেশির ভাগ সময় একশো দুই আড়াইয়ের বেশি হবে না। দু’-একটা দিন ভুগিয়েই আবার জ্বর পালাবে।

    ‘যেদিনের কথা বলছি সেই দিনটির তারিখ বা মাস আমার সঠিক মনে নেই। শুধু মনে আছে, তখন শীতের শেষ। শেষ হলেও গায়ে গরম জামাকাপড়, গলায় মাফলার রাখতেই হয়।’

    ‘এই রকম এক দিনে স্টেশনে আমি একলা আর পোর্টার শিউরাম। আমাদের সত্যদা জ্বরের ঘোরে বাড়িতে পড়ে আছে। রাত তখন আটটা। সওয়া আটটা নাগাদ একটা প্যাসেঞ্জার আসবে। সেটাই শেষ গাড়ি, মানে প্যাসেঞ্জার ট্রেন। গাড়িটা চলে যাওয়ার পর আমার একরকম ছুটি।’

    ‘একটা কথা বলে রাখি। আজকের মতন তখন ইলেকট্রিক ছিল না রেল স্টেশনে। ছোটখাটো স্টেশনে তো নয়ই। ভুসি-ওঠা কেরোসিন ল্যাম্প আর লণ্ঠন দিয়ে আমাদের কাজ সারতে হত। রেলের এঞ্জিন ছিল কয়লার, যাকে বলা যায় কোল এঞ্জিন।’

    ‘আমার অফিসঘরে একটা দেওয়াল ঘড়ি ছিল। রেল কোম্পানির ঘড়ি। ঘড়িতে যখন আটটা পাঁচটাচ হবে, তখন আমি দু’-একটা অফিসের কাজ সেরে হঠাৎ যেন বুঝতে পারলাম, শরীরটা খারাপ লাগছে। শীত শীত করছিল, চোখ জ্বালা করছে। জ্বর আসবে নাকি?… আর খানিকটা সময় কাটাতে পারলেই বেঁচে যাই।’

    ‘দেখতে দেখতে সওয়া আটটার গাড়ি এসে পড়ল। আমার বাকি কাজ সেরে ফেলতে একবার বাইরে এলাম। গাড়ি ছেড়ে দিল। এমনিতেই এ সময় গাড়ি থেকে লোকজন বড় নামে না। সেদিন কাউকেই চোখে পড়ল না। হয়তো অন্ধকারের জন্যে আগাগোড়া প্ল্যাটফর্ম দেখতেও পাইনি।’

    ‘নিজের অফিসে ফিরে এসে গোছগাছ সেরে নিচ্ছি এমন সময় এক ভদ্রলোক এসে ঘরে ঢুকলেন। ভদ্রলোক মাঝবয়েসি। গায়ে কোট, পরনে প্যান্ট। গলায় মাফলার। হাতে একটা চামড়ার গ্ল্যাডস্টোন ধরনের ব্যাগ। ভদ্রলোককে দেখে আমি বেশ অবাক হয়ে গেলাম। কোট প্যান্ট পরার চলন তখন খুব কম। বিশেষ করে এখানে কে আর সাহেব সেজে আসবে? আর কেনই বা!’

    ‘ওঁকে কিছু বলার আগেই উনি নিজেই বললেন, ভদ্রলোক একজন ডাক্তার। এখানে এসেছেন কালী রক্ষিতদের বাড়ি থেকে ডাক পেয়ে। কালী রক্ষিতের বাড়াবাড়ি অসুখ। রোগী দেখে কাল সকালে উনি ফিরে যাবেন।’

    ‘কালী রক্ষিতকে আমি চিনতাম। বেণুডিহি থেকে মাইলটাক দূরে তাঁর বাড়ি। বাড়ি মানে পুরনো আমলের কাছারিবাড়ি। সেই বাড়িকে ভাঙাচোরা দুর্গ বললেও ভুল হয় না। কালী রক্ষিত এদিককার অনেক জমিজমার মালিক। আজকাল আবার কাঠের কারবার শুরু করেছেন।’

    ‘ভদ্রলোক বললেন, রক্ষিতদের বাড়ির লোক জানে—তিনি এই ট্রেনে আসবেন। ও-বাড়ি থেকে লোক আসবে তাঁকে নিয়ে যেতে। সেই রকমই কথা আছে। উনি আপাতত আমার স্টেশনের অফিসঘরে কিছুক্ষণ বসে থাকতে চান। রক্ষিতবাড়ির লোক এলেই চলে যাবেন। আমার যদি আপত্তি থাকে তবে অবশ্য উনি বাইরে গিয়ে অপেক্ষা করতে পারেন।’

    ‘আমি বললাম, বাইরে আর কোথায় গিয়ে বসবেন! তার ওপর এই ঠান্ডা। আপনি বরং এখানেই বসুন। কী অসুখ রক্ষিতবাবুর?’

    ‘উনি বললেন, জানি না। গিয়ে দেখতে হবে। শুনলাম বেহুঁশ হয়ে পড়ে আছেন।’

    ‘ভদ্রলোক—মানে ডাক্তারবাবু একটা চেয়ার টেনে বসে পড়লেন। আমিও উঠতে পারলাম না। ভাবলাম, লোক তো এসে পড়বে এখুনি; ভদ্রলোক চলে গেলে অফিসে শিউরামকে রেখে আমি কোয়ার্টারে চলে যাব। শরীর ভাল লাগছে না। তা ছাড়া খিদেও পাচ্ছিল।’

    ‘দেখতে দেখতে সাড়ে আটটা বাজল, তারপর পৌনে নয়। আমি অফিস ছেড়ে উঠতে পারছি না। এক ভদ্রলোককে এ ভাবে বসিয়ে চলে যাই কেমন করে? অথচ বেশ কষ্ট হচ্ছিল বসে থাকতে। মাথা যেন ছিঁড়ে যাচ্ছে যন্ত্রণায়।’

    ‘আমি উসখুস করছি। ভদ্রলোককে বোঝাবার চেষ্টা করছি, এভাবে আর কতক্ষণ তিনি অপেক্ষা করবেন, আমিই বা বসে থাকব কেমন করে! ভদ্রলোক বড় অদ্ভুত ধরনের। কথাবার্তা প্রায় বলছেনই না, আমার কথার জবাবে দু’-একটা হ্যাঁ, হুঁ কিংবা না। উনি আমাকে লক্ষ করছিলেন না বিশেষ, ঘাড়-মুখ তুলে ছাদের অন্ধকারের দিকে তাকিয়ে বসে ছিলেন।’

    ‘ন’টা বেজে যাওয়ার পর আমি বাধ্য হয়ে উঠে পড়লাম। বললাম, রক্ষিতবাড়ি থেকে কেউ এখনও এল না। আপনার আসার কথা কি ওরা জানে? ভুল হয়নি তো আপনার? …আমার কথার জবাবে উনি মাথা নাড়লেন, না, ভুল হয়নি।’

    ‘আমি এ বার উঠে পড়লাম। বললাম, আপনি তা হলে বসুন, আমি কোয়ার্টারে যাচ্ছি। শরীরটা ভাল নয় আমার। এখানে শিউরাম থাকল—পোর্টার, আপনি চলে যাওয়ার পর সে অফিসঘরে এসে শুয়ে থাকবে।’

    ‘আমি শিউরামকে খুঁজতে আসছি যখন–তখন প্ল্যাটফর্মে একজনের সঙ্গে দেখা। চাদরে মাথা-কান মোড়া, গায়ে একটা মোটা কম্বল গোছের গরম চাদর, পরনে ধুতি। হাতে লণ্ঠন।…লোকটাকে আমি চিনি না। তবু মনে হল রক্ষিতবাড়ি থেকে আসছে। জিজ্ঞেস করলুম, তুমি রক্ষিতবাড়ি থেকে আসছ? লোকটা মাথা হেলাল। বললাম, যাও ডাক্তারবাবু আমার অফিসঘরে বসে আছেন অনেকক্ষণ হল। …লোকটা এগিয়ে গেল, আমিও কোয়ার্টারের দিকে পা বাড়ালাম।’

    ‘একটা কথা বলে রাখি। বেণুডিহিতে রাত্রে কোনও ঝঞ্ঝাট ছিল না। প্যাসেঞ্জার ট্রেন আসত না; গুডস ট্রেন যা আসত দু’-একটা, তাও থামত না। সোজা চলে যেত। কেবিনম্যান থাকত কেবিনে। যদি কখনও দরকার পড়ত—অফিস থেকে শিউরামরা এসে খবর দিত কোয়ার্টারে, আমি ঘুমচোখে ছুটে যেতাম।’

    ‘সেদিন নিজের কোয়ার্টারে এসে কোনও রকমে একটু কিছু মুখে গুঁজে একেবারে বিছানায়। ততক্ষণে বেশ জ্বর এসে গিয়েছে। ওখানকার সেই বিচিত্র ম্যালেরিয়াই হবে। আমার আর হুঁশ ছিল না।’

    ‘পরের দিন আর জ্বর নেই। মুখটা শুধু তেতো হয়ে রয়েছে। তা দিনের বেলায় রোদজল পেয়ে শরীরটা তাজা হয়ে উঠল। নিজের হাতে রান্নাবান্না। একটা কুকার ছিল। একবার করে স্টেশনে যাই, আবার কোয়ার্টারে ফিরে আসি। রক্ষিতবাবুর কথা মনে পড়ল। কিন্তু এমন কাউকে দেখলাম না—যার কাছে খবর নিতে পারি।’

    ‘যথারীতি সন্ধে হল। তারপর রাত। আটটা বাজল। সেদিনের গাড়িও এল সওয়া আটটায়। প্যাসেঞ্জার গাড়িটা দাঁড়াল মিনিট পাঁচ-সাত। ছেড়েও গেল। …আমি কাজকর্ম সেরে ফেলছিলাম আমার, এমন সময় দেখি কালকের সেই ভদ্রলোক— ডাক্তারবাবু, অফিসঘরে এসে দাঁড়িয়েছেন।’

    ‘আমি অবাক! ভদ্রলোকের সেই একই রকম পোশাক, হাতে কালকের মতনই গ্ল্যাডস্টোন ব্যাগ। আসলে ওটা তখনকার দিনের ডাক্তারবাবুদের ব্যাগ। কিছুই বুঝলাম না। বললাম, আপনি?’

    ‘উনি বললেন, কালী রক্ষিতকে দেখতে এসেছেন, পেশায় উনি ডাক্তার। রক্ষিতবাড়ি থেকে খবর গিয়েছিল, কালীবাবুর বাড়াবাড়ি অসুখ। ওঁর আসার কথা এই সময়, রক্ষিতরা জানে। লোক আসবে ও বাড়ি থেকে তাঁকে নিয়ে যেতে। উনি ততক্ষণ আমার অফিসঘরে বসে অপেক্ষা করতে চান। আমার কি আপত্তি আছে!’

    ‘আমি হতবাক! ব্যাপারটা আমার মাথায় ঢুকছিল না। একটা লোক গতকাল যে-সময়ে এসেছিলেন, আজও সেই সময়ে এসেছেন। একই রকম দেখতে, একই রকম পোশাক। আর আসার কারণও সেই কালী রক্ষিত, রক্ষিতবাবুর বাড়াবাড়ি অসুখ বলে ওঁকে দেখতে এসেছেন।’

    ‘আমি বললাম, আপনি তো কালও এসেছিলেন।’

    ‘উনি মাথা নাড়লেন। বললেন, না।’

    ‘আমি অবাক হয়ে বললাম, সে কী মশাই! কাল আপনি এই সময়ে আমার ঘরে এলেন। বললেন, কালীবাবুকে দেখতে এসেছেন। আমার এখানে ওই চেয়ারে আপনি রাত ন’টা পর্যন্ত বসে ছিলেন। আমি যখন বাড়ি চলে যাচ্ছি—তখন প্ল্যাটফর্মে একটা লোককে দেখলাম। আপনাকে নিয়ে যেতে এসেছে। …এর পরও আপনি বলবেন, আপনি কাল আসেননি! আশ্চর্য!’

    ‘ভদ্রলোক একটু হাসলেন যেন। বললেন, আপনি ভুল করছেন। আমি কখনও দু’বার আসি না। একবারই আসি। …বলেই উনি পেছন ফিরে দরজার দিকে তাকালেন। বললেন, আচ্ছা আমি আসি, ও-বাড়ির লোক এসে গিয়েছে। …বলতে-না-বলতে তিনি অফিসঘর ছেড়ে চলে গেলেন। আমি হতভম্ব।’

    ‘তারপর কী হল জানেন সদানন্দবাবু! শুনলে অবাক হবেন। আমি বোকার মতন খানিকক্ষণ বসে যখন অফিসঘর ছেড়ে ফিরে আসছি তখন রক্ষিতবাড়ির এক কর্মচারী বৈকুণ্ঠর সঙ্গে দেখা। হন্তদন্ত হয়ে আসছে। বলল, বাবুজি, কালীবাবু মারা গিয়েছেন। ঘণ্টাখানেক আগে। আমি লোকজন ডাকতে এসেছি। রাত শেষ হওয়ার আগে তাঁকে দাহ করতে হবে।’

    ‘আমি চমকে উঠে বললাম, সে কী! কাল না এক ডাক্তারবাবু এলেন দেখতে!’

    ‘লোকটা মাথা নাড়ল। বলল, আসার কথা ছিল বটে একজনের। কেউ আসেনি।’

    ‘আমি কেমন বোবা বোকা বিমূঢ় হয়ে তার দিকে তাকিয়ে থাকলাম। বুঝতে পারলাম না—কেমন করে তাকে বোঝাব যে, আমি নিজের চোখে পর পর দু’দিন একজনকে আসতে দেখেছি এখানে। তাঁরা ডাক্তার কি না জানি না, কিন্তু এসেছিলেন যে তা ঠিকই।’

    গল্প শেষ করে রামতনু বলল, ‘আমি কাকে দেখেছিলাম জানি না। ভুল দেখেছিলাম কি না তাও জানি না। তবে কালী রক্ষিতের অসুখের কথা আমি আগে জানতাম না। জানতাম না, তাঁকে দেখতে আসার জন্যে কোনও ডাক্তারবাবুকে খবর দেওয়া হয়েছিল! তা হলে ওঁরা দু’জন কে? কেনই বা এসেছিলেন?’

    ১৮ ডিসেম্বর ১৯৯৬

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43 44 45 46 47 48 49 50
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleআনন্দমেলা হাসির গল্পসংকলন – সম্পাদনা : পৌলোমী সেনগুপ্ত
    Next Article পূজাবার্ষিকী আনন্দমেলা গল্পসংকলন – সম্পাদনা : পৌলোমী সেনগুপ্ত

    Related Articles

    পৌলোমী সেনগুপ্ত

    আনন্দমেলা রহস্য গল্পসংকলন – সম্পাদনা : পৌলোমী সেনগুপ্ত

    September 18, 2025
    পৌলোমী সেনগুপ্ত

    পূজাবার্ষিকী আনন্দমেলা গল্পসংকলন – সম্পাদনা : পৌলোমী সেনগুপ্ত

    September 17, 2025
    পৌলোমী সেনগুপ্ত

    আনন্দমেলা হাসির গল্পসংকলন – সম্পাদনা : পৌলোমী সেনগুপ্ত

    September 17, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Our Picks

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }