Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    আনন্দমেলা গল্পসংকলন – সম্পাদনা : পৌলোমী সেনগুপ্ত

    পৌলোমী সেনগুপ্ত এক পাতা গল্প603 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ‘তেনা-রা’ – প্রেমেন্দ্র মিত্র

    “ফ্যাঁ…শ।”

    না, আওয়াজটা ঠিক বোঝানো গেল না। শুধু লেখা অক্ষরের মারফত বোঝানো যায়ও না বোধহয়। ও আওয়াজ ধরবার মতো বর্ণ-পরিচয় কোনও ভাষাতেই তৈরি হয়নি। শুধু উদাহরণ দিয়ে একটু বোঝাবার চেষ্টা করা যেতে পারে।

    কী উদাহরণ দেব? এই যেমন একজোড়া কোরা কাপড় মাঝখান থেকে ধরে দু’হাতে ছিঁড়ে দু’ফাঁক করা।

    না, শুধু তাই নয়, সে-কাপড় ছিঁড়ে দু’ফাঁক করার শব্দের সঙ্গে একটা ডুকরে উঠতে চাওয়া কান্নাকে যেন প্যাঁচানো ছিপি ঘুরিয়ে চেপে দেওয়া।

    আওয়াজ যেমনই হোক, ভড়কালাম না। ভড়কাব কেন? খুঁজে-পেতে সাধ করে এমন একটা ডাকসাইটে কম-সে-কম দুশো বছরের পোড়ো বাড়িতে রাত কাটাতে এসেছি, এমন দু’-চারটে বুকের-রক্ত-জল-করা আওয়াজ শুনতে হবে না! এ আওয়াজ তো শুধু উপক্রমণিকা মাত্র। তার পর যা হতে পারে, তার জন্যেই তৈরি থাকা দরকার।

    টর্চটা তাই একবার জ্বেলে পরীক্ষা করে নিলাম। হ্যাঁ, ব্যাটারি একেবারে নতুন। কালিমাড়া অন্ধকারে যেন সার্চ লাইটের মতো জোরালো রোশনাইয়ের তেজ নিয়ে ভাঙা দালানের উত্তরের হাঁ-করা জানলাটা বুনো লতা-পাতার ফাঁসে জড়ানো সবেধন নীলমণি দোমড়ানো শিকটা সমেত স্পষ্ট করে তুলল।

    টর্চটা নেভাবার আগে কাছের বাতিদানে মোমবাতিটা জ্বেলে নিলাম। ধূপও জ্বালিয়ে দিলাম ক’টা। বহু কাল ইঁদুর-চামচিকের বাসা-হওয়া দালানের এঁদো ভ্যাপসা গন্ধটা একটু হাল্কা করবার জন্যে। তার পর গুপ্তি লাঠিটারও ওপরের খাপ খুলে, ভেতরের সড়কিটা ভাল করে দেখে নিয়ে খোলা অবস্থাতেই পাশে নিয়ে এই পাতাটা লিখতে বসলাম।

    হাতঘড়িটায় দেখে নিলাম, রাত একটা বাজতে তিন মিনিট।

    তিন মিনিটে না থোক, আর তিন ঘণ্টার মধ্যে যা হবার হবেই। আওয়াজের যে নমুনা দিয়ে পালাটা শুরু হয়েছে, তাতে রাত জাগার মজুরি ভাল করেই পোষাবে বলে মনে হয়।

    এ পর্যন্ত লিখে কলমটা থামিয়ে চারিদিকে একবার তাকালাম। আবহাওয়াটা অনুকূল বলেই মনে হচ্ছে। বাইরে হাওয়া-টাওয়া নেই। মোমবাতির সলতেটা প্রায় নিষ্কম্প হয়ে জ্বলছে। নেহাত শীর্ণ একটা বাতি, তার আলো আমার বসবার জায়গা আর খাতাটা ছাড়িয়ে অতি ভয়ে ভয়েই যেন আবছা অন্ধকার দেয়াল আর ছাদের দিকে এগোতে গিয়ে থেমে আছে।

    ঝিঁঝি-টিঝি নয়, কী একটা অজানা পোকা অন্ধকার নিস্তব্ধটাই যেন থেকে থেকে আচমকা কুরে কুরে ফুটো করবার চেষ্টা করছে।

    কোরা কাপড় ছিঁড়ে দু’ভাগ করার সঙ্গে প্যাঁচানো ছিপিতে চেপে দেওয়া কান্না মেশানো যে আওয়াজটা খানিক আগে শুনেছিলাম, সেটা একেবারে থেমে গেলেও কিছু-একটা হবার সময় ঘনিয়ে আসছে বলেই মনে হয়।

    লেখবার খাতাটা সরিয়ে রেখে তৈরি হয়ে বসলাম।

    কোন দিক থেকে কী ধরনের চমকটা আসবে,তা ভাবার চেষ্টা করে লাভ নেই। তবে এই ভাঙা দালানের মধ্যেই কিছু একটা হওয়ার কথা। আমার পেছনে নয়, সামনে।

    পেছনে কিছু হওয়ার সম্ভাবনাটা একেবারে দেয়ালেই পিঠ দিয়ে বসে একরকম কাটিয়ে রেখেছি বলা যায়। ঝুল ধুলো সব সাফ করে তার জন্যে একটু খাটতেও হয়েছে। আগেকার দিনের তৈরি দেয়ালটা বেশ মজবুতই আছে এখনও। পুরনো পঙ্কের কাজ বেরঙা হয়ে উঠে গেলেও কোথাও ফাটল-টাটল ধরেনি।

    তাই পেছনে কিছু হতে গেলে দেয়ালটা ভেঙে বা উড়িয়ে দিয়েই হবে। সে সুদূর সম্ভাবনাটা আপাতত বাতিল করে সামনের দিক সম্বন্ধেই সজাগ হলাম।

    হয়তো দু’ পাশের পলস্তারা খসে হাড়পাজরা বেরোনো দেয়ালের ধারে জমে-থাকা ভাঙা ঘুণধরা সব আসবাবপত্রের স্তূপ, কিংবা সামনের ওই হাঁ-করা বিভীষিকার মতো জানলাটাতেই তাঁদের কারুর আবির্ভাব দেখব। মাথার ওপরকার প্রায় অন্ধকার ছাদটা থেকেও কিছু হতে পারে।

    কিন্তু কই?

    হাত-ঘড়িটায় মাঝে মাঝে আপনা থেকেই চোখ না দিয়ে পারছি না। পাঁচ দশ মিনিট করতে করতে বড় কাঁটাটা যে নীচের ছয়ের দাগ ছুঁই-ছুঁই করছে! অথচ সেই গায়ে-কাঁটা-দেওয়া প্রথম আওয়াজের পর আর কোনও সাড়াশব্দই নেই। অজ ধাপধাড়া এক আধা-জংলি মুল্লুকের অন্তত দশ-কুড়ি বছর পার-করা এক পোড়া ভিটের ভাঙা দালানের বদলে চৌরঙ্গির কোনও দোকানের দোতলায় বসে আছি ভাবলেও চলে।

    দেড়টার দাগ পার হয়ে ঘড়ির বড় ছোট কাঁটা ক্রুমশ দুটোর কাছে পৌঁছে গেল। নিশুতি রাত ভেতরে-বাইরে ঝিমঝিম করছে।

    কিন্তু ওই পর্যন্তই। তার বেশি আর কোনও অভাবিত কিছুর একটু উঁকি পর্যন্ত নেই।

    শেষকালে এত তোড়জোড় করে আসার হয়রানি, রাত জাগার এই ধকল সব মিথ্যে হবে নাকি?

    এইটুকু লিখে বেশ একটু হতাশা নিয়েই খাতাটা আবার বন্ধ করলাম।”

    ***

    খাতাটা বন্ধ করলাম আমিও এবং একটু নয়, রীতিমতো হতাশ হয়ে।

    এত আশা এত আগ্রহ নিয়ে শুরু করার পর শেষ অবধি এমনি করে আহাম্মকের মার খাওয়া?

    সমস্ত ব্যাপারটা এখন গোড়া থেকে একটু খুলে বলতে হয়। এতক্ষণ ধরে অধীর কৌতূহলে যা পড়ছিলাম তা একটি পুরনো ছেঁড়াখোঁড়া অনেক-ঘাঁটাঘাঁটিতে ময়লা বেরঙা মোটা খেরো খাতা মাত্র। খাতার বদলে কাগজের বান্ডিল বললেও হয়। আলগা পাতাটাতা খসে হারিয়ে যাওয়ার ভয়ে একটা লাল শালুর পুঁটলির মধ্যে বাঁধা।

    সেই অবস্থাতেই আমি পেয়েছিলাম শহরের বোধহয় সবচেয়ে লম্বা দৌড়ের পঁয়তাল্লিশ নম্বর বাসে।

    যাচ্ছিলাম বালিগঞ্জ হয়ে এয়ারপোর্টে। ভি আই পি রোড ধরে বাঙ্গুর কলোনি টলোনি ছাড়াবার পর আমার দিকের সিটগুলো কিছুটা খালি হয়ে গিয়েছিল। সেই সময়েই বান্ডিলটা ঠিক আমার পাশেই দেখলাম। এ বান্ডিল যে কার, তার কোনও হদিশ মেলেনি। স্পষ্টই কাগজ ভরা আলগা বান্ডিল দেখে উপস্থিত সকলের সামনে খোলার পরও মালিকানাটা অজানাই থেকে গেছে।

    দলিলপত্র বা দামি কাগজ-টাগজ নয়, নেহাত জড়ানো সেকেলে হাতের লেখায় ভরা একটা হাতে সেলাই সস্তা কাগজের খেরো খাতা দেখে সেটা আমার হাতে দিতে কারুর আপত্তি হয়নি। খাতাটা আগাগোড়া হাতড়ে নাম-ঠিকানা কিছু পেলে আমিই মালিককে পাঠিয়ে দেব বলে কথা দিয়েছি।

    খাতাটা মালিকের কাছে পৌঁছে দেবার এই বেফায়দা ঝামেলা সাধ করে ঘাড়ে নেওয়াটা নেহাত পরোপকারের মহত্ত্ব নয়। বাসে সকলের সামনে বান্ডিল খুলে খাতাটা উল্টোবার সময় একটা এমন কথা চোখে পড়েছিল, যাতে সেটা একটু নেড়ে-চেড়ে দেখবার লোভ সামলাতে পারিনি।

    বাড়িতে এনে আগাগোড়া নেড়ে-চেড়ে দেখেও সেই কথাটুকুর বেশি লেখক বা মালিকের নাম ঠিকানা কিছুই উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। খাতার মধ্যে ছোট চিরকুট গোছের একটা চিঠির খসড়া পেয়ে তা থেকে কিছু হদিশ পাবার যে আশাটুকু হয়েছিল, চিঠি পড়বার পর তাও বরবাদ হয়ে গিয়েছে। চিঠির চিরকুটটি খাতার লেখক ও মালিকেরই যে লেখা, সে-বিষয়ে সন্দেহ নেই। কিন্তু কাকে লেখা হচ্ছে বা কে লিখছে, তার কোনও পরিচয় সেখানে মেলেনি। চিঠিটি এইরকম—কল্যাণবরেষু, সরকার ভায়া, তুমি যে আস্তানার খবর দিয়েছ সেটা লোভনীয় বলেই মনে হচ্ছে। জোগাড়-যন্তর সব করে রাখো। আসছে অমাবস্যার দিনই গিয়ে পৌঁছোচ্ছি। আপাতত আগের বৃত্তান্তগুলো লিখে ফেলতে ব্যস্ত। ওসব জমিজমার হিসেবপত্র বড়কর্তাকে বুঝিয়ো। অমাবস্যার জন্যে তৈরি থেকো। আশীর্বাদ নিয়ো। ইতি মেজকর্তা।

    চিঠিটা কোনও কারণে ফেলা হয়নি বলে এই মেজকর্তা নামটুকুই শুধু পেয়েছি! এই মেজকর্তা নামটুকু বাদে আর যে কথাটি প্রথমেই পেয়েছিলাম সেইটেই হল মোক্ষম।

    কথাটা হল ভূত-শিকার! হ্যাঁ, মেজকর্তা যেই হন, তিনি এক সৃষ্টিছাড়া মানুষ। ভূত-শিকারই তাঁর নেশা। আঁদাড় পাঁদাড় বন-বাদাড় যত বেয়াড়া বিদঘুটে জায়গাই হোক, হদিশ কিছু পেলেই তিনি ভূত শিকার করে বেড়ান। এই খাতা তাঁর সেই সব শিকারের বৃত্তান্ত।

    খাতার গোড়ার পাতার ভূমিকায় এই পরিচয়টুকু পেয়ে সত্যিকার রুদ্ধ-নিশ্বাসে মেজকর্তার পুঁথি পড়তে শুরু করেছিলাম।

    কিন্তু এ কী ধরনের ঘাটের কাছে এসে ভরাডুবি।

    তবু শুরু যখন করেছি, তখন যেমন করে হোক শেষ করার জন্যে পাতা উল্টে বাকিটা পড়বার চেষ্টা করলাম।

    পড়বার আকর্ষণ কিছু নেই। মেজকর্তা নিজেই তাঁর আশাভঙ্গ নিয়ে ঘ্যানঘ্যান করছেন—

    “কিন্তু খাতা বন্ধ করে রেখেই বা লাভটা কী? ঘড়ির কাঁটা ঘুরেই চলেছে। রাত এখন প্রায় তিনটে। কিছুই যে হচ্ছে না, সেটাও লিখে যাওয়া দরকার। এমন ভাবে যে রাতটা শেষ হবে, তা ভাবতেও পারা যায়নি। যা হল, তা যেন বড় বেশি আশা করার মুখে ভাগ্যের থাপ্পড়।

    এমনটা যে হতে পারে, তার একটু আভাস একেবারে পাইনি এমন কিন্তু নয়। অবশ্য অখদ্দে স্টেশনটায় নেমে সাইকেল-রিকশা ভাড়া করার সময় কাছাকাছি অনেকে যে অবাক হয়েছিল, তা দেখে অসুখী হইনি। তাদের একটু সন্দিগ্ধ জিজ্ঞাসাতেও না।

    ‘কোথায় যাবেন বাবু? নৈহারের পাঁচকুঠি?’

    ‘হ্যাঁ।’

    ‘কিন্তু নৈহার যে শুধু জঙ্গল বাবু, আর পাঁচকুঠির একটাই শুধু ঘাড়মুড় গুঁজে পড়বার জন্যে কোনওরকমে খাড়া থেকে ধুঁকছে।’

    তবু রিকশা একটা পেয়েছিলাম শেষ পর্যন্ত। রিকশাওয়ালার গরজ বা সাহস অন্যদের চেয়ে একটু বেশি। সেও কিন্তু নৈহারের পাঁচকুঠিতে পৌঁছে দিয়েই চলে যাবার কড়ারে সওয়ারি করেছিল। বেশি ভাড়ার লোভ দেখিয়েও তাকে সকালটা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে রাজি করানো যায়নি।

    রাস্তায় পাঁচকুঠি নিয়ে তার সঙ্গে একটু আলাপ করবার চেষ্টাতেও বিফল হয়েছি। নৈহারের এই জংলা অঞ্চলটা ভাল জায়গা নয়, আর পাঁচকুঠিতে তার বাপ-দাদারাও কখনও মানুষের বাস দেখেনি, এর বেশি সে কিছু জানে না বা বলতে রাজি হয়নি। কেন এই ঘোর অন্ধকার রাতে পাঁচকুঠিতে আমি যাচ্ছি, তাও সে জানতে চায়নি একবারও।

    পাঁচকুঠির পোড়ো ভিটের কাছ-বরাবর আমার লাঠি আর কাঁধের ঝোলাটা নিয়ে রিকশা থেকে নামবার সময় অন্য সেই রিকশাওয়ালাকে দেখেছিলাম। আমাদের জন্যেই যেন সে অপেক্ষা করছিল ওখানে। আমাকে অমন জায়গায় একা নামতে দেখে অবাক যদি সে হয়ে থাকে, তার কথায় তা কিন্তু বোঝা যায়নি। কেন যে ওখানে নামছি, নিজে থেকেই যেন বুঝে নিয়ে সে একটু সহানুভূতির স্বরে শুধু বলেছিল, ‘পাঁচকুঠিতে রাত জাগবেন তো! তা জাগুন গিয়ে। কিন্তু তেনাদের কাউকে পাবেন না।’

    ‘তেনাদের?’ আমি একটু বিরক্তি আর না বোঝার ভান করে বলেছিলাম, ‘তেনারা? কী বলছ তুমি? কাদের কথা বলছ?’

    ‘ওই যাদের সবাই ডরায়, আবার খোঁজেও’— অন্ধকারেই লোকটার মুচকি হাসি যেন তার গলার স্বরে ফুটেছিল, ‘সোজা করেই তা হলে বলি। বলছি আমাদের ভূত-পেত্নিদের কথা। তাঁরা এখানে নেই।’

    মেজাজটা এবার সত্যিই একটু গরম হয়েছিল। বিদ্রুপ করে বলেছিলাম, ‘তাঁরা নেই তো হয়েছে কী? আমি যে তাদের খোঁজে এসেছি, তোমাকে কানে কানে বলেছি সে-কথা?’

    ‘আজ্ঞে না, তা বলবেন কেন?’ লোকটা লজ্জা পেয়েই অন্ধকারে যেন জিভ কেটেছিল, ‘বেয়াদবি আমার মাফ করবেন।’

    এইটুকু বলেই, লোকটা হঠাৎ যেন কান খাড়া করে একটু টান হয়ে দাঁড়িয়ে বলেছিল, ‘শুনতে পাচ্ছেন তো?’

    ভাড়া নিয়ে আমার রিকশাওয়ালা তখন ফিরে যাচ্ছে। সেদিকে চেয়ে রুক্ষ গলাতেই বলেছিলাম, ‘কী, শুনব কী? ও তো আমার রিকশাওয়ালার ঘণ্টি।’

    ‘আজ্ঞে না।’ লোকটা এবার জোর দিয়ে বলেছিল, ‘সাইকেলের ঘণ্টি নয়, সরাইল্লার ডাক। সরাইল্লা আজ যখন আছে, তখন ভাবনা নেই।’

    কী, বকছে কী লোকটা? পাগল-টাগলই তো মনে হয়। একটু ধমকের সুরেই বলেছিলাম, ‘কীসব বাজে বকছ? সরাইল্লা আবার কী?’

    “আজ্ঞে সরাইল কুকুর! ওই শুনুন-না?’ লোকটা পোডড়া পাঁচকুঠির ভিটের দিকেই আঙুল দেখিয়েছিল।

    সেদিকে ফিরে বেশ একটু মন দিয়েই শোনবার চেষ্টা করেছিলাম তারপর। কিছুই কিন্তু শুনতে পাইনি। সেদিক থেকে মুখ ফিরিয়ে লোকটাকে খুব কড়া বকুনিই দিতাম। কিন্তু দেখি, বকুনিটা অনুমান করেই সে ইতিমধ্যে কখন নিঃশব্দে তার রিকশা নিয়ে সরে পড়েছে।

    তার পর থেকে এই নিষ্ফল পাহারাই চলেছে। রাত তিনটে বিশ।

    হঠাৎ, ও কী!

    না, না, ওই তো! এবার ঠিক শুনতে পেয়েছি। লোকটা তা হলে মিথ্যে বলেনি। কুকুরের ডাক। যে-সে কুকুর নয়, সেই বিখ্যাত সরাইল কুকুরের জাত। কিন্তু ডাকটা আরও যেন হিংস্র আরও বুক-কাঁপানো।

    সেই সেকালের পুব বাংলার সরাইল কুকুর এখানে কোথা থেকে আসবে, সে-কথা ভাববার মতো মনের অবস্থা নয়। সমস্ত শরীরটা শুধু যেন হিম হয়ে যাচ্ছে। অথচ লোকটা বলেছিল, সরাইল কুকুর যখন আছে তখন ভাবনা নেই। কেন বলেছিল সে-কথা? বোঝবার চেষ্টা করবার আগেই শিউরে উঠল শরীরটা। হচ্ছে! কিছু একটা হচ্ছে!

    একটা শব্দ, না একটা গন্ধ, না শুধু একটা অনুভূতি, তা বুঝতে পারছি না। কিন্তু মোমবাতির আবছা আলোটাই যেন একটা আতঙ্কের কাঁপুনি ছড়াচ্ছে।

    গুপ্তি লাঠিটা কাছে টেনে টর্চের বোতামটা টিপলাম। কিন্তু আলো কই? টর্চ থেকে খানিকটা অন্ধকারের তোড়ই যেন সামনে গিয়ে হাঁ-করা জানলাটার ওপর পড়েছে। আর সেখানে? সেখানে সেই মাথা আর চোখ!

    না, পুরুষ কি মেয়ে কি কঙ্কালের মুখ কি চোখ নয়! অজগর! অতি বড় দুঃস্বপ্নের কল্পনা-ছাড়ানো বীভৎস বিরাট ভয়ংকর এক অজগরের মাথা ধীরে ধীরে জানলার দোমড়ানো গরাদ আরও সরিয়ে পিছলে গলে আসছে, কালো বিদ্যুতের মতো কাটা জিভটা পলকে পলকে বার করতে করতে। মুখ আর জিভের চেয়ে ভয়ংকর তার চোখ। তাতে পলক পড়ে না, শুধু যেন সম্মোহনের সাঁড়াশিতে জাঁতাকলের চেয়ে সবলে চেপে ধরে অসাড় করে রাখে।

    সেই মুহূর্তে সরাইলটাকে দেখলাম। কুকুর নয়, যেন কালো চিতারই একটা চাবুক-তীক্ষ্ন খুদে নমুনা!

    অজগরটা জানলা দিয়ে গলে তখন নিয়তির মতো এগিয়ে আসছে। সরাইলটা গিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ল তার মাথাটা লক্ষ্য করে।

    সম্মোহনটা কি কেটে গেল তাইতেই? সড়কি-লাঠিটা নিয়ে উঠে দাঁড়ালাম এক লাফে। পাগলের মতো সেই সড়কির খোঁচার পর খোঁচা বসালাম অজগরটার গায়ে মাথায় চোখে। বিরাট কাছির মতো দেহটা তার কিলবিলিয়ে উঠল সেই দারুণ খোঁচায়।

    কিন্তু কিন্তু সেই কিলবিলিয়ে ওঠার মধ্যেই সে সরাইলটাকে তার কুণ্ডলীর মধ্যে পাক দিয়ে ফেলেছে যে!

    অক্লান্তভাবে সড়কি চালিয়ে চললাম। অজগরের মরণ-খিঁচুনি থেমে গেল শেষ পর্যন্ত। কিন্তু সেই সঙ্গে তার আলিঙ্গনে পিষে গুঁড়ো হওয়া সরাইলটারও।

    নিজেকেও প্রায় বেহুঁশ হয়েই মেঝের ওপর শুয়ে পড়তে হল এবার। শুয়ে পড়বার আগে টর্চটা কোনওরকমে একবার অজগর আর সরাইলটার ওপর ফেললাম। না, দুটোই একেবারে শেষ হয়ে গেছে। মেঝেটা রক্তে আর অজগরের মুখের ফেনায় মাখামাখি।

    বেশিক্ষণ নয়। মিনিট পাঁচেকের বেশি বেহুঁশ হয়ে থাকিনি। উঠে যখন বসলাম, তখন ঘড়িতে তিনটে পঁয়তাল্লিশ মাত্র।

    মোমবাতিটা এরই মধ্যে কখন নিভে গেছে। টর্চের আলোতেই ঘড়িটা দেখে সেটা ঘরের মাঝখানে ফেললাম।

    একটা অস্ফুট চিৎকার আপনা থেকে গলা ঠেলে বেরিয়ে এল তৎক্ষণাৎ।

    হ্যাঁ, যা ভাবতেও পারিনি, সামনে তারই প্রমাণ।

    মেঝের ওপর রক্তমাখা ক্ষতবিক্ষত অজগর কি তার আলিঙ্গনে পিষে গুঁড়ো হয়ে যাওয়া সরাইল কুকুরটার চিহ্নমাত্র নেই। মাত্র দশ মিনিটের মধ্যে তারা একেবারে নিশ্চিহ্ন হয়ে হাওয়ায় মিলিয়ে গেছে।

    তার মানে ‘তেনা’রা বলতে যা বুঝি, সে-ধারণাটা আরও ছড়াতে হবে। নইলে পাঁচকুঠির কোন আদ্যিকালের ওরা এমন করে হঠাৎ আমায় দেখা দিয়ে যাবে কেন?

    * এ-কাহিনিটি চোখে পড়লে মেজকর্তা উপযুক্ত প্রমাণ দিয়ে তাঁর খেরোখাতাটা দাবি করতে পারেন। লেখাটি সেই উদ্দেশ্যেই ছাপানো।

    এপ্রিল ১৯৭৬

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43 44 45 46 47 48 49 50
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleআনন্দমেলা হাসির গল্পসংকলন – সম্পাদনা : পৌলোমী সেনগুপ্ত
    Next Article পূজাবার্ষিকী আনন্দমেলা গল্পসংকলন – সম্পাদনা : পৌলোমী সেনগুপ্ত

    Related Articles

    পৌলোমী সেনগুপ্ত

    আনন্দমেলা রহস্য গল্পসংকলন – সম্পাদনা : পৌলোমী সেনগুপ্ত

    September 18, 2025
    পৌলোমী সেনগুপ্ত

    পূজাবার্ষিকী আনন্দমেলা গল্পসংকলন – সম্পাদনা : পৌলোমী সেনগুপ্ত

    September 17, 2025
    পৌলোমী সেনগুপ্ত

    আনন্দমেলা হাসির গল্পসংকলন – সম্পাদনা : পৌলোমী সেনগুপ্ত

    September 17, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Our Picks

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }