Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    অপেক্ষার বারোমাস – অর্পিতা সরকার

    May 1, 2026

    শ্মশানকোকিলের ডাক – সৌভিক চক্রবর্তী

    May 1, 2026

    এসো না অসময়ে – অর্পিতা সরকার

    May 1, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    আবুল হাসান গল্প সংগ্রহ

    লেখক এক পাতা গল্প85 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    অসহায় এলাকা

    পেনশন পাবার পর এই প্রথম তাঁর মনে হলো তিনি সত্যিই সব কাজ থেকে পেনশন পেয়ে গেছেন। তিনি সত্যি সত্যি অবসরপ্রাপ্ত! সংসারের কোথাও কোনো কাজে তিনি আর অপরিহার্য নন! ছেলেমেয়েগুলো আস্তে আস্তে তার চোখের সামনে বড় হয়ে গেছে। ওরাই এখন সবকিছু চালায়। আগে পেনশনের টাকা আনতে শহরে যেতেন; এখন তাও বন্ধ। মেজো ছেলে সংসার তদারক করে। ও-ই শহরে যায়। পেনশন উঠিয়ে নিয়ে আসে। মাস গেলে মাত্র একশটি তুচ্ছ টাকা! আগে বড় ছেলের দেয়া এক সেট পাজামা পাঞ্জাবী ন্যাপথলিন দেয়া পুরনো চামড়ার স্যুটকেস থেকে সযত্ন সতর্কতার সাথে বের করে, যখোন পেনশন উঠাবার জন্য শহরে যেতেন, তখোন মনে হতো, এখনোও তিনি অপরিহার্য। তাঁর দায়ভাগ কমেনি। স্ত্রী আমেনা তখোন ভোরবেলা উঠে ঘরদোর ঝাট দিয়ে রান্নাঘরে গিয়ে বসতেন। সচরাচর হয় না, সেই দিনটিতে তাই হতো। সকাল বেলাই নতুন পাতিলে দুটো কাঁচাকলা সিদ্ধ বসিয়ে, উঠোনের মরিচ গাছ থেকে দুতিনটে মরিচ তুলে ভাত বেঁধে দিতেন–গরম ভাতের ফেনার সুগন্ধের মধ্যে মাসের সেই একটি দিন স্ত্রীর চিকন মায়াবী গলা শুনা যেতো। যুবতী থাকাকালীন যে মমতা এবং প্রেমের সাথে তিনি তাঁকে ভাত খেতে এসো বলে ডাকতেন–সেই রকম অবিকল কণ্ঠের নকল সুরটি তার কানে পৌঁছলে তিনি পুরনো দিনের সেই বসন্তভরা দিনে ফিরে যেতেন, ভাবতেন–আমি এখনো আছি। বেঁচে আছি। যে রকম বেঁচে থাকলে মানুষ সুখ-দুঃখের মধ্যে কাঁদতে পারে, হাসতে পারে সে রকম। কিন্তু গত এক বছর হলো স্ত্রীর সেই কণ্ঠের উদ্ধৃত্ত যুবতী স্বভাব কেন যেনো হারিয়ে গেছে। বরং ঘরের এক দিকের বারান্দায় টিন-টলির অভাবে যে থাকার জায়গা ক্রমশঃ কমে আসছে, তার একটা খনখনে অভিযোগ সকাল-দুপুর বিকেলে তিনি শুনতে পান। স্বভাবতঃই স্ত্রীর সামনে ভীরু তিনি। তাই প্রতিবাদ করেন না। বরং একটা অক্ষমতার দুঃখ তার ক্রমক্ষীণায়মাণ সংরক্ষিত দায়িত্বের উপর অন্ধকারের হাহাকার বুলিয়ে যায়। বুঝতে পারেন, যৌবনের আকাক্ষার অনেক জায়গায় তিনি পরাজিত। তার জয়ী হবার সময় বা সামর্থ আর কেউ ফিরিয়ে দেবে না।

    বরং সন্তানরা তার একটু একটু বেঁচে থাকার অবসর হরণ করে নিচ্ছে। তার অপরিহার্য উপস্থিতিতে এখন তার নিজস্ব উত্তরাধিকারীদের অধিকার প্রবেশ ঘটেছে। তারাই এখন সবকিছুর মালিক।

    এর জন্য অবশ্য তিনি একা একা গোপনে অযৌক্তিকভাবে ক্ষুণ্ণ হন। কিন্তু চাপা স্বভাবের এই পুরুষটির এখানেও পরাজয়ের আভাস ফুটে ওঠে। তিনি জোর গলায় চীৎকার করে তার সন্তানদের কাউকে অভিযোগ করে বলতে পারেন না যে, তিনি এখনো শক্ত সামর্থ্য। দরকার হলে নদীর তলা থেকে ডুব দিয়ে কাদা তুলে আনতে পারেন। যৌবনের সেই উষ্ণ অহঙ্কারে সঙ্গে এখনো পাল্লা দিয়ে তিনি চাই কি প্রমত্ত পদ্মায় ঝাঁপ দিয়ে আবার কুলে উঠে বাড়ী ফিরে আসতে পারেন। গভীর রাতের ঝড়ো হাওয়ায় একা বাড়ী ফিরে দরোজায় এখনো তিনি টোকা দিয়ে বলতে পারেন-আমেনা, দরোজা খোলো আমি এসেছি।

    কিন্তু সেইসব সামর্থের কথা নিজের চাপা স্বভাবের তলায় পুরনো বাসের মধ্যে তুলে রাখা নতুন রুমালের মতো ঢাকা পড়ে যায়। এই সময় তার একমাত্র সঙ্গী নিজের কাছের নিজের দীর্ঘনিঃশ্বাস। যা একমাত্র তার নাসারন্ধ্রের অগ্রভাগ স্পর্শ করেই আবার নিজের ভিতর নিভে আসে।

    স্বভাবতঃই এই কারণে তিনি নিজেকে সরল এবং নিজের কাছে অপরিহার্য করে রাখার জন্য সবার চোখের আড়ালে ঘরে সীমানার প্রান্তে রতি এক ফালি বাগানের ভেতর রাত না ফুরোতে ঢুকে পড়েন। এই গাছটির পাতা ঠিক করে দেন। ওই চারা গাছটির লতানো শরীরে জমে ওঠা দু’একটা পিঁপড়ে কি রাতের উড়ন্ত বাদুড়ের ফেলে যাওয়া বিষ্ঠার অংশ পরম মমতায় ঝেড়ে ফেলে দিয়ে পরে সকাল ফুটতে না ফুটতেই বাড়ীর উত্তর ভিটের এক ফালি জমিতে বুনে দেয়া শাকসজী ও ক্ষেতে মাটির কলস ভরা জল নিয়ে ঢোকেন। পাছে আবার কেউ দেখে ফেলে এই ভয়ে তাড়াতাড়ি নিষ্ঠাবান কৃষাণের মতো হাত উঁচু করে অঞ্জলীতে জল ঢেলে দিয়ে উঠন্তু শজির মূলে ঝারির জলের মতো পাতলা করে জল ছিটিয়ে অতি দ্রুত ঘরে ফিরে আসেন। আগে ধর্মের দিকে বড় একটা মনোযোগ ছিল না। এখন সময় কাটানোর তাগিদেই হোক অথবা নিজের বদ্ধমূল কিছু কিছু জীবনগত পাপক্ষয়ের ভ্রান্ত বাসনায় হোক ঘরের বারান্দার এক কোণে যত্নে টাঙ্গানো শীতলপাটির জায়নামাজটা বিছিয়ে চিরকালের উপাসনাকারীর মতো পৃথিবীর ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা জানান। সুর করে এলাহান করে সুরা আবৃত্তিতে একদা শৈশবে তার পরিবার তথা তার পাড়া-প্রতিবেশীর কাছে তাঁর বেশ সুনাম ছিল। বহুদিনের অনভ্যাসে সেই সুললিত ছন্দের সঙ্গীত থেকে এখনো কেন যেন তাঁকে বঞ্চিত করেনি। আগে কেউ ভোরে উঠতো না। কিন্তু এখন তার নামাজ আদায়ের কেতাদুরস্ত অভ্যাস এবং অভিনিরেশের মধ্য দিয়ে বাড়ীর অন্য আর সবাই সকাল বেলায় সূর্য দেখতে দেখতে বিছানা থেকে উঠে যে যার কাজে লেগে পড়ে। এই ভোরে ওঠার লিস্টে অবশ্য তার বড় ছেলেটি বাদ কেননা সে বাড়ীতে থাকে না। মেজো ছেলেটি ইন্টারমিডিয়েট পাসকরে কি এক অজ্ঞাত কারণে বাড়ীতেই রয়ে গেছে। তার একমাত্র মেয়ে, মার হারানো যৌবন নিজের শরীরে সঞ্চয় করে পরম কৃপণের মতো একটু একটু নারী হচ্ছে। তিনি অনুভব করেন তাঁর স্ত্রীর সকল সঙ্গোপন স্বভাবের ছায়া তাঁর ঐ একমাত্র মেয়ের মুখের ছায়ায়। এতে তার আনন্দই হয়। একটি নারীর হারানো সুষমা আর একটি নারীর নিভৃত স্বভাবের মধ্যে ফিরে আসছে, এই ব্যাপারটির মধ্যে চিরকালের কোন রহস্য লুকানো তিনি অবশ্য জানেন না। কিন্তু তার জন্য তার মন উদ্বিগ্ন হয় না। বরং এই অনুভূতি তাকে তার যৌবনের দিকে ফিরিয়ে দেয় তিনি মানশ্চক্ষে দেখতে পান, কোলকাতার চাকরি জীবনের প্রথম পাদে, শুকিয়া স্ট্রীটের একটি দু’কামরা অলা দালানের ভিতর একটি নিরাভরণ চৌকির ধবধবে সাদা চাদরের উপর গ্রামীণ সম্ভ্রান্ত বংশের যুবতী একটি কন্যাকে। যার শরীরে বিবাহের অলংকার ঝলমল করছে। যার উচ্চতা নাতিদীর্ঘ। পেলব শরীরের শনভঙ্গিটি সাদা চাদরে শুভ্রতার ভিতর একেবারেই যেন মানিয়ে গেছে। কানে একছড়া ওয়াসেল মোল্লার দোকানের হাল্কা দুল। লজ্জা মাখানো চিবুকে তার স্বর্ণাভা দুলে দুলে উঠতেই সারা ঘরে একটা অপার্থিব সূর্যাস্ত নেমে এসেছে। সেই যুবতীট তার স্ত্রী আমেনা। মধ্যরাতে যার প্রায়ই জানালার পাশে দাঁড়িয়ে চাঁদ দেখা অভ্যাস ছিল। যে যুবতী শরীওে সাংঘাতিক সন্ন্যাসভাবের জন্য একটা গোধূলির অলৌকিক স্থিরতায় প্রতিষ্ঠিত থাকতো। যার স্বভাবের মধ্যে যতটা না প্রগলভতা, তার চেয়ে ব্যর্থ প্রেমিকার বেদনা বোধের প্রশান্তি সর্বদা অনস্পর্শ দূরত্বের রহস্য অংকিত থাকতো। এবং যার ফলে বিবাহের প্রথম রাত থেকে তিনি একটু একটু তার স্ত্রীর নিজস্ব শুভ্রতার কাছে সাংঘাতিকভাবে সমর্পিত হয়েছিলেন।

    পৌরুষের প্রবল ভোগজনোচিত জ্বরাবোধ তাই তাকে কখনো স্পর্শ না করলেও এবং বিবাহের পর থেকেই নিজের স্বভাবের কিছু কিছু উৎকেন্দ্রিক উগ্রতা থেকে তিনি নিজেকে মুক্ত করতে পারলেও, সংসারের ভিতরের কোনো কোনো অংশের বৈরাগ্য তাকে যে বিষণ্ণতার মধ্যে বসিয়ে দিয়ে গেছিলো সেই বিষণ্ণতার বন্ধন থেকে অদ্যাবধি তিনি মুক্তিতো পানইনি বরং সংসারের আরো গভীরে তার এই বিষণ্ণ স্বভাবের শিকড় শাখা-প্রশাখা মেলে দিতেই ধীরে ধীরে তিনি তাঁর স্ত্রীর কাছে থেকে মনের দিক থেকে আলাদা হয়ে যেতে থাকেন। আজীবন অন্তর্মুখীন চারিত্রটি তার আরো অন্তর্মুখীন হয়ে পড়ায় তিনি একেবারেই চাপা স্বভাবের পুরুষেরা যেভাবে সংসারের ভিতর থেকে সন্ন্যাসবৃত্তি পালন করে ঠিক তেমন করেই সংসারের চাকা চালিয়ে যেতে থাকেন।

    ফলে কোনো পার্থিব উন্নতি তার দ্বারা এ যাবৎ হয়নি। তার সহকর্মরা ইতিমধ্যেই অনেকেই কীর্তিমান পুরুষের খ্যাতিতে অধিষ্ঠিত। কেউ কেউ শহরে জায়গা জমি কিনে বর্তমানে রাজার হালে আছে। কেউ কেউ বাড়ীতে দালানকোষ্ঠা নির্মাণ করে, পূর্বপুরুষের জমিজমার খাতে আরো জমিজমার বৃদ্ধি ঘটিয়ে মোটামুটি সচ্ছল এবং ধনী।

    শুধু তিনিই কিছু করতে পারেননি। এর জন্য স্ত্রী আমেনার অনেক দুর্বাক্য তাঁকে মাঝে মাঝে সহ্য করতে হয়। ফলে সংসারের ক্ষয়ক্ষতির হিসেব উঠলেই, ছেলেমেয়দের ভবিষ্যতের কথা উঠলেই, মেয়ের বয়সের উল্লেখ করে তার বিবাহের কথা উঠলেই তিনি তড়িঘড়ি সেখান থেকে উঠে পড়ে আমেনার দুঃখিত গলার অভিযোগ থেকে নিজেকে নিষ্কৃতি দিয়ে তবে বাঁচেন।

    আর তাছাড়া ছেলেমেয়েরা সবাই এখন যার যার যৌবনের উত্তাপকে স্পর্শ করেছে। তাদের সামনে স্ত্রীর দুঃখিত অভিযোগ বড় কুৎসিত মনে হয়। যৌবনের বাসন্তী রাত্রিতে যে যুবতীটি এত সুষমাময়ী ছিল, নির্লোভাতুরা নিঃশর্ত ভাবে নেপথ্যচারিণী, সেই যুবতীটি, মাত্র তিনটি সন্তানের মাতা হওয়ার পর এ রকম ঘোর সংসারী হয়ে উঠবে, এটাও তার কাছে কি রকম যেন বেখাপ্পা লাগে। জীবনের কোনো অংকের সাথে নারীর এই লোভ-নির্লোভের অংক তিনি মেলাতে পারেন না। ফলে পরাজয়ের বেদনায় তিনি নিজেকে বড় হীন, অক্ষম ভাবতে শুরু করেন। এই ভাবনা তাঁকে ঘটনাস্থান থেকে উঠিয়ে নিয়ে যেতে বাধ্য করে।

    এক সময় ছিল, স্ত্রী আমেনা তার পৃথক বিছানা সন্ধ্যেবেলা গড়ে রাখতেন। মশারী খাঁটিয়ে দিতেন। গ্রামের ঘন গাছগাছালির ছায়ায় রাত্রিকে আরো ঘন-গভীর করে তুলতে তিনি মাঝে মাঝে সেই পৃথক বিছানায় এসে তার শয্যাসঙ্গিণীও হতেন। অপরাহ্নের দুটি মানুষ-দুটি পুরুষ ও রমণীর পাশাপাশি এভাবে শুয়ে থাকার ভিতর তাদের দুপুর বেলার সেই দুটি যুবক-যুবতী মাঝে মাঝে যে সেজেগুজে রাত্রিকে রমণীয় করে তুলতো না, তাও নয়। মাঝে মাঝে এ রকমও ঘটেছে।

    দক্ষিণের জানালার মৃদুমন্দ হাওয়ায় মশারীর ভিতর তাদের বিগত দিনগুলোর ভোগ উপভোগের স্মৃতি তখোন একটু একটু উষ্ণতায় তাদের সংসারের টানাপোড়েনের স্থিতিকে কোথায় হাওয়ায় ভাসিয়ে নিয়ে গেছে। মনে হয়েছে তার সহকর্মীদের কীর্তিমান হাটে তিনি না যেতে পারলেও মধ্যিখানের একটি পথের পাশের এই নিরিবিলি সঙ্গসুখ থেকে তিনি তো বঞ্চিত হননি। ভাগ্যের প্রতি তখন তিনি আর কুপিত অবস্থা টের পাননি। ভেবেছেন, বেঁচে থাকার সব আয়ুর সীমার মধ্যে এই মুহূর্তের এই প্রাপ্তিই তার সবকিছু। বাড়ী, জমি, ধান সম্পত্তির সচ্ছলতা তার কাছে তুচ্ছ। দারিদ্র তার কিছু না।

    কিন্তু ক্রমে দিন ফুরাতেই এখন টের পাচ্ছেন, সবাই তাকে ফাঁকি দিতে উদ্যত। স্ত্রী এখন পরম আরামে বাতের ব্যথায় কাতরে অন্য বিছানায় তার সদ্য যুবতী মেয়েটিকে সখীর মতো জড়িয়ে নিদ্রা যায়। মেজো ছেলে বাড়ীতে ঘুমোয় না মাঝে মাঝে। গ্রামের কিছু উঠতি বয়সের ছেলে ছোকরাদের দলপতি সেজে সে মাঝে মাঝে সমাজ সমিতি রক্ষা করার নামে গ্রামের গুরুজনদের বিরুদ্ধে সারারাত শলাপরামর্শ করে। একটি গোপন সংস্থার সাথে ইদানিং নাকি সে জড়িত হয়ে পড়েছে। মাঝে মাঝে কোথা থেকে চেনা-অচেনা কি সব ছেলেদের ঘরে ডেকে এনে রাত্রির আশ্রয় দেয়। তাদের হাতে ধারালো অস্ত্র-নতুন বন্দুকের নলের চকচকে সঙ্গীন দেখে তিনি কিছু বলেন না। মনে মনে শুধু দেশের রাজনীতিকে শাপ-শাপান্ত করেন। আবার অর্ধাহারে-অনাহারে উৎপীড়িত দেশবাসীর সকরুণ চেহারা মাঝে মাঝে যেন তার বার্ধক্যের পেশীতে যৌবনের সবল বিদ্যুৎ সঞ্চার করে তোলে। তিনি তাদের অস্ত্রের ধার নিজ হাতে স্পর্শ করে যেন তাদেরকে অলৌকিকভাবে দেশোদ্ধারের শপথ করান–যখন রাত্রি বাড়ে তখন তিনি উত্তেজিত হয়ে ওঠেন। বাড়ীর পোষা কুকুর তার বিছানার পাশে শুয়ে থাকে। তিনি জেগে সেই কুকুরটির গায়ে হাত বুলিয়ে মমতায় তার সাথে এমন ভাবে কথা বলেন, যাতে কেউ টের না পায় যে তিনি জাগ্রত। কুকুরটি তার আদুরে চোখ বুজে আবার হাই তোলে। পাশ ফিরে শোয়। তিনি গলায় হাত বুলাতে বুলাতে, এক সময় কুকুরটি যখন ড্রিায় কাতর হয়ে পড়ে তখোন আবার বালিশে হেলান দিয়ে চুপচাপ শুয়ে থাকেন।

    মাঝে মাঝে স্ত্রীর ঘুমঘোরে বাতের ব্যথার কাতরানি শুনে তিনি পার্টিশানের ওপার থেকে নদী পারের মানুষের মতো তন্দ্রাচ্ছন্ন গলায় বলে ওঠেন সান্ত্বনায়–আমেনা, ও আমেনা–কি, বাতের ব্যথাটা আবার বাড়লো নাকি? আমেনা শুনতে পান না। তিনি প্রত্যুত্তর না পেয়ে আবার পাশ ফিরে শুয়ে থাকেন তার রাত্রিতে ঘুম আর আসে না। এই রকম জাগরণ এবং তন্দ্রা তাকে প্রতি রাকে ক্লান্ত করে তোলে। তবুও ভোর হবার আগেই তার প্রকৃতি পরিচর্যার কাজে ছেদ পড়ে না। নামাজ আদায় করতে তিনি এখন রীতিমত উৎসাহী।

    শুধু যা অভাব তা হলো কেউ তাকে আর আগের মতো অপরিহার্য ভেবে কোনোকিছু বায়না তোলে না। এমন কি যে বয়সে মেয়েরা বাবার কাছে সাধ সাধনার অলংকার দাবী করে সেই বয়সে সে তার মেয়েটিও যেন নিশ্চিন্তভাবে নির্বাক। পৃথিবীতে কোনো পার্থিব উপকরণ যেন এই মেয়েটির চাহিদায় আসতে ভয় পায়! শহর থেকে মাঝে মাঝে পত্রসহযোগে কিছু সস্নেহ উপদেশ, তাতেই যেন সে আপনাতে আপনি পূর্ণ এবং বিকশিত। এবং আশ্চর্যের বিষয়–যতদিন যাচ্ছে, এই কৃপণ প্রাপ্তির মধ্যে সে ততই সুষমামণ্ডিত হয়ে উঠছে। উর্বর মাটির ভিতর থেকে বেরিয়ে আসা দু’একটি চন্দ্রমল্লাকের গাছ যে কম শ্যামলিমা ধারণ করে সে রকম তার শরীরে শোভা, কোথাও কোনো বাহুল্য নেই। যতটুকু থাকলে চাঁদ জ্যোত্সাপ্রদায়ী, ঠিক ততটুকু থেকে সেও সুষমাময়ী।

    মেয়ের এই অনৈশ্বর্যের ঐশ্বর্যে সে অবশ্য তৃপ্ত। বর্তমান বিবাহের বাজারে তার মেয়েটি যে একেবারে অপাংক্তেয় নয়–এটাও তাকে একটা স্বস্তির নিঃশ্বাসের মালিক করে তোলে। অন্ততঃ কালো-কুচ্ছিৎ মেয়ে সম্প্রদান করার পিছনে যে ব্যয় বাহুল্য, সেইটি যে হবে না, তর জন্য তিনি আনন্দিত।

    মোটামুটি তার সংসারে দায় দায়িত্ব বলতে এই ৷ কিন্তু স্ত্রীটি যেহেতু ঐতিহাসিভাবে তাঁর কাছে আর কোনো দাবী নিয়ে আসে না এমনকি আগের মতো তার অক্ষমতার জন্যে তাকে তিরস্কারটি পর্যন্ত করে না–মুরগী প্রতিপালনের জন্য একটি খোয়াড়ের দরকার বহুদিন হলো তার স্ত্রী তার সামনে তার মেজো ছেলেকে এই আর্জি তুলে ধমক দিচ্ছে তিনি শুনতে পাচ্ছেন, অথচ একটিবারও তাকে এর জন্য কিচ্ছুটি বলছে না এবং রান্নাঘরের খড়ের আগুনে যে সে ভাত রাঁধতে গিয়ে যারপর নাই কষ্ট পাচ্ছে, কিছু কাঠের দরকার–তা-টি পর্যন্তও যখন মেজো ছেলের দায়িত্বে আমিনা ফেলে দিচ্ছে, তখন তিনি নিজেকে বড়ই অপাংক্তেয় মনে করেন। পোষা কুকুরটি এই সময় তার পায়ের কাছে ঘেঁষে এসে দাঁড়ায় তখন মনে হয় কুকুরটিও যদি তাকে কিছু বলতো। কিন্তু জীবজগতের ভাষা সবটা শেখার ক্ষমতা তো মানুষের নেই। এই অবস্থায় তিনি সংসারের আঙিনা থেকে সরে আসেন। আবার পূর্ববৎ নিজের অতীতে ফিরে যান–বিষণ্ণতা তাকে আচ্ছন্ন করে।

    এবং তখোন তিনি জোরে অস্বাভাবিকভাবে পাগলের মতো চীৎকার করে-তারস্বরে সমস্ত আকাশ ফাটিয়ে বলে ওঠেন–আমেনা–আমি কি কিছু খাবো না? আমার ক্ষিদের দিকে দেখছি তোমরা একটুও তাকাও না। তোমাদের হলো কি? বেলা কম হলো নাকি। আমেনা, ও আমেনা, শুনছো।

    আমেনার নিপ অবস্থার মধ্যে খোন মেজো ছেলেটা যখোন তার চোখের সামনে দিয়ে বাইরে যেতে উদ্যত হয় তখোন আরো জোরে চীৎকার, ওরা কারা? বলে দিচ্ছি আমার বাড়ীতে ওসব বিপ্লবীদের আড্ডা দেয়া চলবে না। বুঝেছ? আমি কাউকে গোল্লায় যাওয়ার জন্য বাড়ীতে জায়গা দেইনি। রাজনীতি টাজনীতি যাদের পয়সা আছে তারা করুক। আর কোনোদিন যেন না শুনি এ বাড়ীতে কেউ অস্ত্র নিয়ে কানাঘুষা করছে। শুনতে পেলে পিঠের ছাল বাকল শুদ্ধ আমি তুলে নেবো বলে রাখলাম। বুঝেছ? কি, কথা কানে গেল? কথাটা কি শুনতে পেয়েছ? এই যে বলি, ব্যাপারটার মাথামুণ্ড কি ভিতরে ঢুকলো না আবার… আর বলতে পারে না, বুকের ভিতর চিলিক দিয়ে একটা চিনচিনে ব্যথা তাকে থামিয়ে দেয়। তিনি হাঁপাতে হাঁপাতে আবার বিছানায় গিয়ে সোজা শুয়ে পড়ে বড় ক্লান্তি অনুভব করেন। তাঁর মাথা ঘুরতে থাকে। ভিতর থেকে আমিনার কণ্ঠ সেই সময় তাকে প্রথমবারের মতো শাসনের অনুভূতি দিলে তিনি একটু নিশ্চিন্ত অনুভব করেন। তার মনে আবার নিরীহ শিশুর অভিমান জমে উঠতেই তিন মুখ বালিশে গুঁজে দিয়ে একটি অবদমিত পরাজয়ের কান্না বুকের ভিতর ঘুরিয়ে একেবারে নাভীর নীচে ঠেলে দেন। কারণ এই বয়সে তিনি জানেন, সব অশ্রু, রক্তের উদ্ধৃত অংশ ছাড়া আর কিছু নয়। তা চোখে নামলে চোখ বড় বিশ্রী দেখায়। মুখ কুৎসিত হয়ে ওঠে। মন কিছুতেই আর মানুষের মতো কোনো মমতায় সাড়া দিতে চায় না। স্ত্রীর শাসনের মধ্যে তিনি ফের অন্দরে প্রবেশ করে দেখতে পান, তার জন্য ভাতের থালায় খাদ্য শোভা পাচ্ছে। সরল শিশুর মতো তিনি ক্ষুধার্ত ভঙ্গীতে স্ত্রীর সামনে সেই ভাত খান আর গপ গল্প করে স্ত্রীর গত রাত্রির রান্নার প্রশংসা করেন এই বিশ্বাসে-হয়তো আমেনা তাকে তার স্বাস্থ্যের দিকে নজর দেয়ার কথা বলবে। নিয়মিত খেতে বলবে। না খেলে এই বয়সে শরীর রক্ষা যে সত্যিই কঠিন, সেই কথাটিও মায়ের মতো তাকে শুনিয়ে দেবে। এ বয়স আসে, যখোন মানুষ স্ত্রীর ভিতরও নিজের হারানো মায়ের মাতৃত্বের ভঙ্গীটর জন্য লালায়িত হয়ে ওঠে সেই বয়সে তিনি তো পৌঁছে গেছেন–অগত্য আমিনার ভিতর যুগপৎ স্ত্রী এবং হারানো মায়ের অনুসন্ধানে তৎপর হয়ে তিনি যখোন ব্যর্থ হলেন কোন থালার শেষ ভাত গোগ্রাসে গিলে তিনি নিজেই কলস থেকে গেলাসে জল গড়িয়ে নিয়ে ঢক ঢক্‌ করে যতটুকু পারলেন, জল খেলেন। স্ত্রীকে শুনিয়ে বললেন, তিনি বাজারে যাচ্ছেন, আসতে রাত হবে। অগত্য দুপুরের ভাত যেনো তার জন্য না রাঁধা হয়। স্ত্রী কোনো কথা বললেন না–নির্বাক নিশূপ এই স্ত্রীলোকটির দিকে তখোন প্রবল ঘৃণায় তাকিয়ে তিনি সোজা বাড়ীর বাইরে চলে যান। বাজারে এসে মনে হলো তাঁর আপন গৃহাঙ্গনটিতে ধীরে ধীরে একটি প্রবেশ নিষেধ’ তার জন্য কেউ যেনো চকখড়িতে ইতিমধ্যেই লিখতে শুরু করে দিয়েছে।

    বাজারে এসে তাই তিনি যেখানেই পারলেন নিজের কর্তৃত্ব ক্ষমতার বাহুল্য ঘটিয়ে এর ঝগড়া মিটিয়ে ওর দোকানের দেনাদারদের মধ্যে পুরনো মনোমালিণ্যের ছেদ ঘটিয়ে কিছুটা স্বস্তি পেলেন। একটি দোকানের চালার উপর এই সময় নদীর ওপারের কিংবা হয়তো ভীন্ গ্রামের কিছু সাদা কবুতর দেখতে পেয়ে নিজের অজ্ঞাতে হাত দিয়ে আয় আয় করে ডাকতে আরম্ভ করলেন। তার এই আচরণ বাজারে সমবেত তার জ্ঞাতি ভাই ভ্রাতাদের কাছে অপরিচিত। অকস্মাৎ এই পৌঢ় পুরুষটির প্রগলভতার কোনো কারণ খুঁজে না পেয়ে তারা পরস্পর মুখ চাওয়া-চাওয়ি করতে লাগলো। কেউ ভাবলো শেষ বয়সের এক ধরনের ছেলেমি–কেউ মনে মনে আঁচ করলো হয়তো বহুদিন পর গত রাতে তিনি স্ত্রীসঙ্গ উপভোগ করেছেন–প্রদীপের নিভে যাওয়ার আগে যে রকম হঠাৎ শিখা উদীপ্ত হয় হয়তো গত রাতে হঠাৎ উদ্দীপ্ত যৌবনের উপভোগকালীন আনন্দের রেশ তাঁর এই কবুতর ডাকার মধ্যে ছড়িয়ে আছে।

    কবুতরগুলো তার হাতের তালিতে ছত্রখান হয়ে পাখসাটে আকাশের নীলিমা স্পর্শ করতেই কি জানি কেন তিনিও যেন আজ হঠাৎ তাঁর যৌবনের কিছু উদ্ধৃত বাসনায় নিজেকে নিজের পড়ন্ত পৌরুষ ফিরিয়ে দিয়ে ভাবলেন, “আজ রাতে হবে”।

    এজন্য তাঁর চিরকালের অভ্যাসমতো দোকান থেকে কিছু তালমিছরী কিনলেন। কিছু গুয়ামৌরী। একটি সুন্দর দেশলাই প্রজাপতি মার্কা। বহুদিন সিগ্রেট খান না। হঠাৎ মনে হলো বাকীতে এক প্যাকেট ভালো সিগ্রেট কিনবেন। কিনলেও তাই। মফস্বলে ক্কচিৎ কদাচিৎ ক্যাপস্টান আসে। তার ভাগ্য ভালো এক দোকানে তিন ঐ ব্রান্ডের একটি প্যাকেট পেয়ে গেলেন। বাজারের এল, এম, এফ ডাক্তারটি শহর থেকে এই ব্রান্ড কিনিয়ে আনেন। ভাগ্যিস তিনি আজ এখানে নেই। নিজেই শহরে গেছেন। সুতরাং দোকানের থেকে প্যাকেটটি পেতে তার বেগ পেতে হলো না। সঙ্গে সঙ্গে কিছু হাল্কা অঙ্গরাগ–যৌবন বয়সে এমন কি মধ্যবর্তী বয়স পর্যন্ত স্ত্রীর রাত্রির সহচর্যের জন্য তিনি যা যা ব্যবহার করতেন অথবা যা যা তার অভ্যাস ছিল, সব তিনি জোগাড় করার জন্য উঠেপড়ে লাগলেন। বহুদিন পর তাঁর এই বিলাসী দ্রব্য সগ্রহের ঘটা দেখে কেউ কিছু বুঝে উঠতে পরলো না। তবে অনেকে মনে করলো হয়তো তাঁর যুবতী মেয়েটির বিবাহের কোনো সম্বন্ধ এসেছে তাদের জন্য হয়তোবা এই বিলাস দ্রব্য যা হোক, মোটামুটি যা পেলেন, তাই হাতে করে নিয়ে তিনি যখোন বাড়ীতে উপস্থিত তখোন অপরাহ্ন। ঘরের দরোজায় টোকা দিতে তার মেয়েটি বেরিয়ে এলো। জিজ্ঞেস করলেন, তোমার মা কোথায়। ঘুমুচ্ছে’ শুনে তিনি অস্ফুট কণ্ঠে সায় দিলেন : ঘুমোক।

    তিনিও রাত জাগরণে জন্য কোনো কিছু খেলেন না। ঘুমিয়ে গেলেন। ঘুম ভাঙ্গতেই সন্ধ্যে। হ্যারিকেনের মৃদু আলোয় অবশেষে তিনি জেগে আমিনার সেই নাতিদীর্ঘ শরীরের ছায়া দেখতে পেলেন ঘরের বারান্দায়। ‘শোনো’ স্বামীর মৃদুকণ্ঠে আমিনার কোথায় যেনো একটা দুঃখ জমে উঠলো। বহুদিন কাছে বসেন না। বহুদিন ভুলেও জিজ্ঞেস করেন না। কেমন আছো শরর পড়ে গেলে পুরষ স্বভাবতঃ স্ত্রীলোকের চাইতে অসহায় হয়ে যায়। এই প্রথম তিনি তার স্বামীর পড়ন্ত বয়সের সেই অসহায়তা দেখে মৃদু ধীর গলায় প্রত্যুত্তর করলেন–বলো।

    কিন্তু চাপা স্বভাবের ভদ্র লোকটি এবারও তাঁর উদ্দেশ্য স্ত্রীর কাছে বলতে পারলেন–বিছানায় এক প্রান্তে রাখা বিলাস দ্রব্য দেখিয়ে তিনি স্ত্রীকে অতীতের স্মরণযোগ্য রাত্রি বেলার কথা মনে করিয়ে দেয়ার চেষ্টা করলেন। কিন্তু আমিনা যেনো কিছুই বুঝলো না বারান্দার দোলানো পর্দার এক প্রান্তে তার শেষ যৌবনের রেশ লাগা হাতের দ্রুত সঞ্চালন আরো দ্রুত হতে লাগলো। তার চোখ কেঁপে উঠলো মেঘ থেকে জেগে ওঠা জ্যোৎস্না রাতের দূরাভাবিত দুটি তারকার মতো তিনি বুঝতে পারলেন আমিনার সেই শরীরের সৌরভের কোথায় যেনো সংসারের বহু বিস্ফোরণ লেগে একটা চরম ভ্যাপসা গন্ধের জন্ম হয়েছে–যা কাছে গেলে এবং একেবারে স্পর্শের মধ্যে আনলে আরো তীব্রভাবে তাঁকে জ্বালাবে।

    ধীরে ধীরে তিনি বুঝতে পারলেন তারা দু’জনেই নিঃশেষিত। ফুরিয়ে গেছেন। তার চোখে এই প্রথম এক বিন্দু জল দেখা গেল। আমিনা সেখানে আর দাঁড়ালেন না। পিছনের সংগৃহীত বিলাদ্রব্যের মধ্যে আমিনার অপসৃয়মাণ ছায়া দেখে তার মনে হলো আসলে তার স্ত্রী তার চাইতেও ক্লান্ত। তার চাইতেও একা। এই নেপথ্যাচারিণীর জন্য হঠাৎ কোথায় যেন তিনি দুঃখ অনুভব করলেন। সংসারের সমস্ত জয়-পরাজয়ের রহস্যের তিনি কোনো কুলকিনারা করে উঠতে পারলেন না।

    সংসারের এই জয়-পরাজয়ের রহস্যের দুর্বোধ্যতা তাকে আরো কিছুটা অপাংক্তেয় করে তুলতে লাগলো যেনো। তদুপরি তার স্ত্রীর এই সঙ্গোপন সহনশীলতা এবং একাকিত্বের খবর, এতদিন যে তিনি জানতে পারেননি তার জন্যও নিজের কাছে নিজে কম ধাক্কা খেলেন না। ফলে শরীর এবং মনের একটি দ্রুতসংহার এই মুহূর্তে তিনি টের পেলেন। কয়েক মাস আগে পৃষ্ঠনের সাংঘাতিক যন্ত্রণায় পাগলের মতো মাঠঘাট ছুটে বেড়িয়েছেন। ঘুমোতে পারেননি, খেতে পারেননি। সেই যন্ত্রণার কবল থেকে এখনো তিনি মুক্ত নন। যন্ত্রণা কাতরতা আর জীবনব্যাপী পরাজয়ের মধ্যে অকস্মাৎ এই সন্ধ্যে বেলার শেষ মুহূর্তের অন্ধকারে তীব্র-তীক্ষ্ণভাবে কে যেনো সেই পৃষ্ঠব্রনের ক্ষতচিহ্নের ভিতর বসে সোজা তার হৃদপিণ্ডের পশম ধরে টান দিতে লাগলো। ফলে শেষবারের মতো তাঁর সংগৃহীত সম্ভোগ দ্রব্যাদির মধ্যে ঘরের ভিতরে হ্যারিকেনের লাল কেরোসিনের অল্প-প্রাণ আলোর শিখা এই একটি প্রবল বাতাস পেয়ে উঠতেই তিনি বুকে প্রচণ্ড ব্যথা অনুভব করলেন। মেঘ থেকে বিদ্যুৎ বেরিয়ে আসার মত তার সমস্ত শিরাতন্ত্রী পুড়ে একটি দমবন্ধ নিঃশ্বাসের সে কি তীব্র উদগমনের প্রচেষ্টা। ধীরে ধীরে এতদিনের সাধের জমানো সংসার তার চোখের সামনে ঝাপসা হয়ে এলো। তিনি জোরে তার মেয়েকে ডাক দিতে চেষ্টা করলেন। কিন্তু তার মুখ নিঃসৃত ‘রানু’ শব্দটি খুব আস্তে বেরিয়ে বেশীদূর আর অগ্রসর হতে পারলো না। কেবল পোষা কুকুরটি মনিবের এতদিনের চেনা গলার দুর্বলস্বরে ছুটে এসে দেখলো, তার প্রিয়জন বাম কাত হয়ে খালি পাটির তক্তপোষের উপর শুয়ে আছে। মাথার বালিশ পড়ে গেছে। ভিতর থেকে হ্যারিকেনের অল্প-প্রাণ আলোর শিখায় বৃদ্ধ লোকটিকে মনে হচ্ছে অগোছালো ঘুমে কাতর। কিন্তু কুকুরটি কেন যেনো সবকিছু বুঝতে পেরে আস্তে তার তক্তপোষে ওঠে উবু হয়ে মনিবের ঠাণ্ডা নিস্তাপ শরীরের দিকে তাকিয়ে রইলো। তার চোখে জল।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleআমার দেখা রাজনীতির পঞ্চাশ বছর – আবুল মনসুর আহমদ
    Next Article গল্পসম্ভার – আব্দুর রউফ চৌধুরী

    Related Articles

    আশাপূর্ণা দেবী

    সমুদ্র কন্যা – আশাপূর্ণা দেবী

    April 24, 2026
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    আমাদের মহাভারত – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    March 20, 2026
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়

    বিপিনের সংসার – বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়

    January 8, 2026
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    ভয় সমগ্র – হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    December 9, 2025
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    কিশোর অ্যাডভেঞ্চার সমগ্র – হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    December 9, 2025
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    প্রকাশ্য দিবালোকে – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    November 18, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    अनीश दास
    मौलाना शाह वलीउल्लाह
    रेवरेंड के. के. जी. सरकार
    অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিজ্ঞান রায়চৌধুরী
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমরেন্দ্র চক্রবর্তী
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অরিন্দম দেবনাথ
    অর্পিতা সরকার
    অশোককুমার মিত্র
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    কৌশিক সামন্ত
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যজ্যোতি মজুমদার
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেইল লোনডেস
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শঙ্কর চ্যাটার্জী
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শাক্যজিৎ ভট্টাচাৰ্য্য
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সম্পাদনা : শৈলেন্দ্র হালদার
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্মরণজিৎ চক্রবর্তী
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    অপেক্ষার বারোমাস – অর্পিতা সরকার

    May 1, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    অপেক্ষার বারোমাস – অর্পিতা সরকার

    May 1, 2026
    Our Picks

    অপেক্ষার বারোমাস – অর্পিতা সরকার

    May 1, 2026

    শ্মশানকোকিলের ডাক – সৌভিক চক্রবর্তী

    May 1, 2026

    এসো না অসময়ে – অর্পিতা সরকার

    May 1, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }