Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    ঐতিহাসিক কাহিনী সমগ্র – শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায় এক পাতা গল্প1544 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ইন্দ্রতূলক

    ইতিহাসের পণ্ডিত বলিলেন, ‘গল্প শোনো। কাল রাত্রে প্রাচীন ইতিহাসের এক পুঁথি পড়তে পড়তে ঘুমিয়ে পড়েছিলুম—’

    খুবই স্বাভাবিক। ইতিহাসের পুঁথি পড়িতে পড়িতে ঘুমাইয়া পড়ে না এমন মানুষ আমি দেখি নাই।

    পণ্ডিত বলিতে লাগিলেন, ‘ঘুমিয়ে এক স্বপ্ন দেখলুম। আশ্চর্য স্বপ্ন। আমি যেন ত্রিকালজ্ঞ পুরুষ, শূন্যে ভেসে বেড়াচ্ছি, আর আমার চোখের সামনে যুগের পর যুগ কেটে যাচ্ছে। আট হাজার বছরের পুরানো ইতিহাস চোখের সামনে দেখতে পেলুম।’

    জিজ্ঞাসা করিলাম, ‘কাল রাত্রে কি খেয়েছিলেন?’

    পণ্ডিত বলিলেন, ‘মনে নেই। গিন্নি বলতে পারেন।’

    গৃহিণী বলিলেন, ‘কাঁকড়ার ঝোল আর ভাত।’

    বলিলাম, ‘বুঝেছি, ইংরেজিতে যাকে বলে নাইট্‌ মেয়ার আপনি তাই দেখেছেন। আমি এবার উঠি।’

    পণ্ডিত বলিলেন, ‘আরে বোসো, চা খেয়ে যাও। — ভূগোল পড়েছ?’

    বলিলাম, ‘ভূগোল? ইতিহাসের স্বপ্ন দেখলেন, তার মধ্যে ভূগোল। ইস্কুলে পড়েছিলুম বটে।’

    পণ্ডিত বলিলেন, ‘বেশ, এখন একটা দেশ মনে মনে কল্পনা কর, বেলুচিস্থান থেকে ইরানের দক্ষিণভাগ পর্যন্ত। কল্পনায় দেখতে পাও?’

    মনের মধ্যে ম্যাপ আঁকিবার চেষ্টা করিলাম; পূর্বদিকে সিন্ধু নদ, পশ্চিমে পারস্য উপসাগরের মুখ, দক্ষিণে সমুদ্র, মাঝখানে পাহাড় ও মরুভূমিতে ভরা একটা দেশ।

    পণ্ডিত বলিলেন, ‘আট হাজার বছর আগে সিন্ধু নদ ছিল না। বর্তমানে যে দেশটা পাঞ্জাব নামে পরিচিত সেটা ছিল ধূ ধূ মরুভূমি। আর কাশ্মীর ছিল প্রকাণ্ড একটা মিঠে জলের হ্রদ। এখন কল্পনা কর, পূর্বদিকে দুস্তর মরুভূমি, উত্তরে দুর্ভেদ্য পাহাড়, দক্ষিণে সমুদ্র— মাঝখানে সরু এক ফালি দেশ। কোনও দিক দিয়েই বেরুবার রাস্তা নেই। আট হাজার বছর আগে এই দেশে একটা জাতি বাস করত।

    ‘বর্বর জাতি; কিন্তু গায়ের চামড়া কটা, চোখের মণি নীল, চুল সোনালী। পরবর্তী কালে যারা আর্য বলে পরিচিত হয়েছিল এরা তারাই। এই দেশই তাদের আদিম বাসভূমি। পাহাড় এবং মরুভূমির পরপারে কালো মেটে পাঁশুটে নানা রঙের মানুষ বাস করত বটে, কিন্তু তাদের সঙ্গে এই আর্যদের মেলামেশার কোনও উপায় ছিল না। সম্পূর্ণ নিঃসঙ্গভাবে এই জাতি বহুকাল বাস করেছিল। নিঃসঙ্গতার মধ্যেই তাদের ভাষা এবং সংস্কৃতি পরিপুষ্ট হয়েছিল।

    ‘শুকনো দেশ, তার ওপর ওরা তখন চাষবাস করতেও জানত না। গরু, ছাগল পুষতে শিখেছিল, কিন্তু ঘোড়া কি জন্তু তা কখনও চোখে দেখেনি। দেশের পূর্বসীমায় বেলুচিস্থানের পাহাড়ে একরকম ঘাস জন্মাত, তার বীজ তারা গুঁড়ো করে খেত। এই পাহাড়ী ঘাসের বীজ আধুনিক গমের পূর্বপুরুষ। কিন্তু তাতে তাদের পেট ভরত না; এই জাতির প্রধান জীবিকা ছিল সমুদ্রে মাছ ধরা।

    ‘ছোট ছোট নৌকায় চড়ে তারা সমুদ্রের কিনারে কিনারে মাছ ধরে বেড়াত। মাছ তাদের জীবনের প্রধান অবলম্বন, তাই মাছকেই তারা দেবতা মনে করত। মৎস্য ছিল তাদের অবতার।

    ‘তাদের অবশ্য একজন রাজা ছিল। রাজার নাম মনু। তখনকার বর্বরতার যুগে সকল জাতিরই একটা totem থাকত; এই জাতির totem ছিল সূর্য। মনু দাবি করতেন সাক্ষাৎ বিবস্বান তাঁর আদি পুরুষ।

    ‘সমুদ্রে পুরুষানুক্রমে মাছ ধরার ফলে এই জাতি নৌ-বিদ্যা বেশ আয়ত্ত করেছিল। মনুর কয়েকটা বড় বড় নৌকা ছিল, তিনি তাইতে চড়ে মাছ ধরে বেড়াতেন। তিনি ভারি বিজ্ঞ ব্যক্তি ছিলেন, সমুদ্রের জল-বাতাস লক্ষ্য করে আসন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগ বুঝতে পারতেন।

    ‘একদিন মনু সমুদ্রে মাছ ধরছেন, তাঁর জালে এক অদ্ভুত চেহারার মাছ উঠিল। মাছের নাকের কাছে এক শিং। মনু পঞ্চাশ বছর এই সমুদ্রে মাছ ধরছেন, কিন্তু এমন মাছ কখনও চোখে দেখেননি। মাছটা ধড়ফড় করল না, নির্জীব হয়ে পড়ে রইল। মনু বুঝলেন, এ মাছ অজানা কোনও সমুদ্র থেকে এসেছে। তিনি আকাশের দিকে তাকালেন, মনে হল আকাশ বাতাস যেন এক মহা দুর্যোগের প্রতীক্ষায় থমথম করছে।

    ‘মনু তাড়াতাড়ি তীরে ফিরে এলেন, প্রজাদের জড়ো করে বললেন, “আমি জানতে পেরেছি এক মহাপ্লাবন আসছে, পৃথিবী ডুবে যাবে। তোমরা যদি বাঁচতে চাও যে-যার নৌকায় ওঠো।”

    ‘মনুর কথায় অনেকেই নৌকায় গিয়ে উঠল। মনু তাঁর স্ত্রী-পুত্র আত্মীয়-পরিজন গরু ছাগল নিয়ে নিজের বড় বড় নৌকা ভরতি করলেন। যারা মনুর কথা বিশ্বাস করল না কিংবা যাদের নৌকা ছিল না তারা মাটিতেই রইল।

    ‘সন্ধ্যাবেলা সূর্য তখন অস্ত যাচ্ছে, সমুদ্র থেকে হুহুঙ্কার শব্দ শোনা গেল। দক্ষিণ-পশ্চিম দিক থেকে তালগাছের মতো উঁচু ঢেউ ছুটে আসছে, তার সঙ্গে ঝড়-তুফান। দেখতে দেখতে সব লণ্ডভণ্ড হয়ে গেল।

    ‘পরদিন সকালবেলা দেখা গেল চারিদিক জলে জলময়, কোথাও মাটির চিহ্নমাত্র নেই। ছোট নৌকাগুলো ঢেউয়ের ঝাপটে সব ডুবে গেছে, কেবল মনুর কয়েকটা বড় নৌকা প্রলয়পয়োধি জলে বটপত্রের মতো ভাসছে।’

    পণ্ডিতকে বাধা দিয়া জিজ্ঞাসা করিলাম, ‘এরকম একটা রসাতল কাণ্ড কেন হল আপনি জানতে পেরেছিলেন?’

    ‘পেরেছিলাম। কিন্তু তুমি বিশ্বাস করতে পারবে?’

    ‘বলুন, চেষ্টা করে দেখি।’

    ‘পারস্য উপসাগর তখন হ্রদ ছিল, সমুদ্রের সঙ্গে যোগ ছিল না। ম্যাপ দেখলে তার কতকটা আন্দাজ পাবে। হ্রদের উত্তর দিকে দুটো বড় বড় নদী— টাইগ্রিস আর য়ুফ্রেটিস— ক্রমাগত হ্রদের মধ্যে জল ঢালছিল, হ্রদের জল বেড়ে বেড়ে তীর ছাপিয়ে যেতে লাগল। তারপর একদিন জলের চাপে সমুদ্রের দিকের বাঁধ ভেঙ্গে গেল, হ্রদ সমুদ্রে মিশল। হু হু শব্দে জল বেরিয়ে সমুদ্র তোলপাড় করে ছুটতে লাগল। সেই তোড়ে আশপাশের তীরভূমি ডুবে গেল। এই হচ্ছে মহাপ্লাবনের কারণ। মহাপ্লাবনের যত প্রাচীন গল্প আছে সব ঐ পারস্য উপসাগরকে কেন্দ্র করে। ঘটনাটা ঐখানেই ঘটেছিল কি না।’

    আমি গুম হইয়া গেলাম। কিন্তু তর্ক করা বৃথা, স্বপ্নের বিরুদ্ধে তর্ক নিষ্ফল। বলিলাম, ‘বুঝেছি। তারপর মনুর কথা বলুন।’

    পণ্ডিত বলিলেন, ‘সাত দিন সাত রাত মনু নৌকায় ভাসতে লাগলেন। রাজ্যের উত্তর সীমানা ঘিরে যে পাহাড় ছিল তার নাম সুমেরু, মনুর নৌকা ঢেউয়ের ধাক্কা খেয়ে সেইদিকে ভেসে চল্‌ল।

    ‘সাত দিন পরে জল নামতে আরম্ভ করল; বানের জল যেমন জোরে আসে তেমনি জোরে নেমে যায়। মনু তখন সুমেরুর গায়ে গিয়ে ঠেকেছেন, একটা চূড়ায় নৌকা বেঁধে ফেললেন।

    ‘ক্রমে সমুদ্রের জল সমুদ্রে ফিরে গেল, আবার ডাঙ্গা জেগে উঠল। দেশ যেমন ছিল প্রায় তেমনি আছে, কিন্তু মানুষ সব শেষ হয়ে গেছে। বেঁচে আছেন শুধু মনু আর তাঁর জ্ঞাতিগোষ্ঠী। আর কয়েকটি ছাগল গরু।

    ‘মনু তাই নিয়ে আবার নতুন করে জীবন আরম্ভ করলেন— যাকে বলে কেঁচে গণ্ডূষ।’

    এই সময় চা আসিয়া পড়িল। পণ্ডিত পেয়ালা তুলিয়া লইয়া চুমুক দিলেন।

    বলিলাম, ‘আপনার স্বপ্ন এইখানেই শেষ তো?’

    পণ্ডিত বলিলেন, ‘আরে রামঃ, আরো অনেক আছে। তুমি ব্যস্ত হয়ে পড়েছ, সংক্ষেপে বলছি। মনুর পর আন্দাজ পাঁচশ’ বছর কেটে গেল। মনু দেহরক্ষা করলেন, কিন্তু তাঁর বংশধরেরা আবার দলে ভারী হয়ে উঠল।’

    প্রশ্ন করিলাম, ‘পাঁচশ’ বছর কেটে গেল বলছেন, তার মানে সাড়ে সাত হাজার বছর আগেকার কথা?’

    পণ্ডিত বলিলেন, ‘মোটামুটি। তখন আকাশে ধ্রুবতারা ছিল না। ধ্রুবতারা এসেছিল আরও দু’হাজার বছর পরে। কিন্তু সে অন্য ধ্রুবতারা, জ্যোতিষে তার নাম Alpha Draconis। বেদে তার উল্লেখ আছে। আজকাল যাকে আমরা ধ্রুবতারা বলি সে অন্য তারা।’

    ‘সর্বনাশ! ধ্রুবতারা আবার ক’টা আছে?’

    ‘অনেক। কিন্তু জ্যোতিষের জটিল তত্ত্ব তুমি বুঝবে না, সে যাক। মহাপ্লাবনের পর দেশের আবহাওয়া কিছু বদলেছিল, মাটির ওপর পলি পড়েছিল। বাইরের সঙ্গে যোগাযোগের দু’-একটা রাস্তাও খুলে গিয়েছিল।

    ‘মহাপ্লাবনের পর আর্যদের নতুন দেবতা হলেন— বরুণ। তিনি জলের দেবতা, রাখলে রাখতে পারেন, মারলে মারতে পারেন, সুতরাং তাঁকে তুষ্ট করা আগে দরকার। এই বরুণকে কেন্দ্র করে আর্যদের আদিম দেবতা-গোষ্ঠী গড়ে উঠেছিল। আর্যদের ভাষা তখন বেশ দানা বেঁধেছে কিন্তু তারা লিখতে জানে না। সবই কানে শোনা কথা— শ্রুতি।

    ‘আর্যরা সংখ্যায় বেশ বেড়ে উঠল। তাদের মধ্যে তুক-তাক মারণ উচাটন প্রভৃতি দৈবক্রিয়ার উদ্ভব হল : তারা রোজা হয়ে ভূত ঝাড়ে, ওঝা হয়ে সাপের বিষ নামায়। এটা অথর্ববেদের প্রথম যুগ। অথর্ববেদ নামেও অথর্ব কাজেও অথর্ব, সবচেয়ে পুরোনো; আর্যদের প্রাচীনতম শ্রুতি ওতে ধরা আছে।

    ‘সে যাক। বাইরে যাবার রাস্তা খোলা পেয়ে দু’চার জন উৎসাহী লোক দেশের বাইরে যেতে আরম্ভ করেছিল। বেশির ভাগই যেত উত্তরদিকে, কারণ পূর্বদিকে পাঞ্জাবের মরুভূমি তখনও শত যোজন জুড়ে পড়ে আছে, তাকে অতিক্রম করা অসাধ্য। যা হোক, বহির্জগতের সঙ্গে আর্যদের অল্প-স্বল্প মেলামেশা আরম্ভ হল; সুমেরু পর্বতের ওপারে কৃষ্ণচক্ষু কৃষ্ণকেশ একজাতীয় মানবের সঙ্গে আলাপ হল।

    ‘এইভাবে আরও কয়েক শতাব্দী কেটে গেল। ইতিমধ্যে আর্যরা কৃষিকার্য শিখে ফেলেছিল, বুনো গমের বীজ বুনে শস্য ফলাতে আরম্ভ করেছিল। কিন্তু তবু দেশে খাদ্যের অনুপাতে মানুষের সংখ্যা এত বেড়ে গিয়েছিল যে, খাদ্যের অনটন দেখা দিল। মৎস্য এবং গোধূম পর্যাপ্ত নয়।

    ‘কিন্তু পুরুষানুক্রমে মৎস্যভোজনের ফলে আর্যদের বুদ্ধি খুব ধারালো হয়েছিল; তারা দলে দলে খাদ্য অন্বেষণে বিদেশে যেতে লাগল। কিন্তু বিদেশে যাবার দু’টি মাত্র পথ; এক সমুদ্র, দ্বিতীয় উত্তর দিক। আর্যদের মধ্যে যারা মৎস্যজীবী, তারা নৌকা নিয়ে সমুদ্রে বেরিয়ে পড়ল। এরাই পরে পাণি বা ফিনিশিয়ান নামে পরিচিত হয়েছিল, দক্ষিণে লঙ্কা এবং উত্তরে ইংলন্ড পর্যন্ত উপনিবেশ স্থাপন করেছিল।

    ‘দ্বিতীয় দল গেল সুমেরুর গিরিসঙ্কট পার হয়ে মাটির পথে। আর্যদের উত্তরাভিযান আরম্ভ হল। এই অভিযান তরঙ্গের পর তরঙ্গ তুলে পারস্য গ্রীস রাশিয়া পার হয়ে স্কান্ডিনেভিয়া পর্যন্ত পৌঁছেছিল।’

    আমি জিজ্ঞাসা করিলাম, ‘এ আপনি স্বপ্নের বৃত্তান্ত বলছেন, না ইতিহাস বলছেন?’

    পণ্ডিত বলিলেন, ‘ইতিহাসে অন্য কথা আছে, আমি যা স্বপ্ন দেখেছি তাই বলছি। কিন্তু সাহেবের লেখা ইতিহাসই সত্য আর আমার স্বপ্ন মিথ্যা, তার প্রমাণ কি?’

    পণ্ডিতকে ঘাঁটাইয়া লাভ নাই, বলিলাম, ‘কোনও প্রমাণ নেই। তারপর বলুন।’

    ‘তারপর আমার স্বপ্নের ক্লাইম্যাক্স।’

    ‘যাক, স্বপ্ন তাহলে শেষ হয়ে আসছে? কিন্তু কই, আর্যরা ভারতবর্ষে তো এল না?’

    ‘এইবার আসছে। সেইখানেই ক্লাইম্যাক্স।’

    পণ্ডিত আবার আরম্ভ করিলেন, ‘উত্তরদিকে যারা অভিযান করল তার অধিকাংশই ফিরে এল না, দু’চার জন ফিরে এল। যারা ফিরে এল তাদের মধ্যে একজনের নাম— ইন্দ্র।

    ‘ইন্দ্র গোড়ায় মানুষ ছিলেন; সাধারণ মানুষ, একজন যোদ্ধা। কিন্তু অসাধারণ তাঁর বুদ্ধি, দুর্দম সাহস। যুগে যুগে যে-সব মানুষ জাতিকে প্রগতির পথে এগিয়ে নিয়ে গেছে, ইন্দ্র তাদেরই একজন। যুগাবতার বলতে পার। ইন্দ্র দলবল নিয়ে উত্তরদিকে গিয়েছিলেন, অনেক বছর পরে যখন ফিরে এলেন তখন তাঁর সঙ্গে একপাল ঘোড়া! দেশের লোক আগে কখনও ঘোড়া দেখেনি, ঘোড়া দেখে চমৎকৃত হয়ে গেল। উচ্চৈঃশ্রবার নাম শুনেছি বোধ হয়। দেবতাদের মধ্যে ইন্দ্রের কেবল ঘোড়া ছিল আর কারুর ছিল না।

    ‘ইন্দ্র ঘোড়া নিয়ে দেশে ফিরে এলেন, কিন্তু বেশি দিন চুপ করে বসে থাকতে পারলেন না। চুপ করে বসে থাকার লোক তিনি নন। আবার সদলবলে অভিযানে বেরুলেন। এবার পূর্বদিকে। ইন্দ্র স্থির করলেন, কতদূর যাওয়া যায় তিনি পরীক্ষা করে দেখবেন। মরুভূমির পরপারে কী আছে? মরুভূমি কি পার হওয়া যায় না?

    ‘ইন্দ্রের অশ্বারোহীর দল পূর্বদিকে চলল। বেলুচিস্থানের পূর্ব সীমানা থেকে মরুভূমি আরম্ভ হয়েছে। ইন্দ্র বারবার মরুভূমি উত্তীর্ণ হবার চেষ্টা করলেন, কিন্তু পারলেন না। মরুভূমি তো নয়, জ্বলন্ত দাবানল। ব্যর্থ হয়ে ইন্দ্র মরুভূমির কিনারা ধরে উত্তর মুখে চললেন। হয়তো উত্তরে মরু পার হবার পথ আছে।

    ‘কুটিল কর্কশ পথ; জলের বড় কষ্ট। তবু ইন্দ্র নিরস্ত হলেন না। মাসের পর মাস কেটে গেল, বছর কেটে গেল, ইন্দ্র পাহাড়-মরুর সন্ধিরেখা ভেদ করে চলেছেন। ঘোড়া ছিল বলেই পেরেছিলেন, পদব্রজে পারতেন না।

    ‘কিন্তু পথ যত দুর্গমই হোক, কোথাও তার শেষ আছে। একদিন ইন্দ্র কাশ্মীর প্রান্তে গিয়ে পৌঁছুলেন। কাশ্মীর তখন ভূস্বর্গ নয়, প্রকাণ্ড একটি হ্রদ। ইন্দ্র দেখলেন হ্রদের জল কানায় কানায় টলমল করছে, তাকে সাপের মতো বৃত্তাকারে ঘিরে রেখেছে কৃষ্ণবর্ণ পাহাড়ের শ্রেণী। ইন্দ্র অঞ্জলি ভরে জল পান করলেন; দেখলেন মিষ্টি জল।

    ‘হ্রদের দিকে চেয়ে চেয়ে ইন্দ্রের মস্তিষ্কে একটা প্রচণ্ড আইডিয়া খেলে গেল। আজকালকার দিনেও কোনও আমেরিকান বা রুশ ইঞ্জিনিয়ারের মাথায় এতবড় দুঃসাহসিক আইডিয়া সহজে আসে না। ইন্দ্র ভাবলেন, সিন্ধুকে অর্থাৎ সমুদ্রকে যদি কোনও মতে পর্বতরূপী বৃত্রাসুরের নাগপাশ থেকে মুক্তি দিতে পারি, তাহলে এই সিন্ধু নিম্নাভিমুখে মরুভূমির উপর দিয়ে ধাবিত হবে, যা এখন ঊষর মরুভূমি আছে তা জলসিক্ত হয়ে শ্যামল ভূমি হবে, মরুর উপর পথ তৈরি হবে…

    ‘ইন্দ্র শুধু ভাবুক নয়, কর্মীপুরুষ! তিনি তাঁর ভাবনাকে কার্যে পরিণত করবার জন্যে মহা উদ্যমে লেগে গেলেন।

    ‘কাজটি কিন্তু সহজ নয়, অনেক দিন লাগল। হ্রদের কিনারে কিনারে বিস্তর খোঁজাখুঁজির পর ইন্দ্র একটা জায়গা পেলেন যেখানে পাহাড়ের বাঁধ কিছু দুর্বল, দু’-চারটি বড় বড় পাথরের চাঁই সরাতে পারলেই জল নিকাশের একটা রাস্তা হয়। একবার একটা রাস্তা পেলে জল নিজের জোরেই রাস্তা প্রশস্ত করে নেয়, তখন আর তাকে ঠেকাবে কে?

    ‘ইন্দ্র ঐ পাথরগুলো সরাবার উদ্যোগ করলেন।

    ‘কিন্তু মানুষের দৈহিক শক্তিতে ও পাথর সরানো সম্ভব নয়। ইন্দ্র ঘোড়া লাগালেন; চর্মরজ্জু দিয়ে পাথর বেঁধে ঘোড়ারা টানতে লাগল। প্রথমে পাথর কিছুতেই নড়ে না, তারপর অনেক টানাটানির পর হঠাৎ হুড়মুড় করে ভেঙে পড়ল।

    ‘সঙ্গে সঙ্গে প্রবল তোড়ে জল বেরুতে লাগল। এত তোড়ে ইন্দ্রও আশা করেননি, রন্ধ্র পথে জলের উত্তাল ধারা সগর্জনে ছুটল। অন্য ঘোড়াগুলো রক্ষা পেল বটে কিন্তু ইন্দ্রের নিজস্ব ঘোড়াটা এই দুর্বার স্রোতের আঘাতে চূর্ণ হয়ে ভেসে গেল। ইন্দ্রের ঘোড়ার নাম ছিল— দধীচি।’

    পণ্ডিত চুপ করিলেন। আমি কিছুক্ষণ অপেক্ষা করিয়া বলিলাম, ‘তারপর?’

    পণ্ডিত বলিলেন, ‘এইখানেই আমার স্বপ্ন শেষ। কিন্তু মন থেকে আরও কিছু জুড়ে দিতে পারি। সিন্ধুকে প্রবাহিত করার ফলে একদিকে যেমন পাঞ্জাব থেকে সিন্ধু পর্যন্ত সঞ্জীবিত হয়ে উঠল, অন্যদিকে তেমনি কাশ্মীর জলের তলা থেকে উঠে এল। ভারতবর্ষের পশ্চিত প্রান্তে যে অলঙ্ঘনীয় প্রাকৃতিক ব্যবধান ছিল তা ভেঙে পড়ল। স্থলপথে বহির্জগতের সঙ্গে ভারতের যোগাযোগ স্থাপিত হল। ইন্দ্র এই কীর্তির কতা; তাই ইন্দ্র দেবরাজ।’

    আমি বলিলাম, ‘একটা কথা। আপনার হিসেবে এই ব্যাপার ঘটেছিল আজ থেকে সাত হাজার বছর আগে। কিন্তু ইন্দ্র কি অত পুরোনো দেবতা?’

    পণ্ডিত বলিলেন, ‘ইন্দ্র মানুষটা সাত হাজার বছরের পুরোনো বটে কিন্তু দেবত্ব লাভ করতে তাঁর আরও দু’হাজার বছর লেগেছিল। আজকাল মানুষের দেবত্ব লাভ যত সহজ, তখন তত সহজ ছিল না। সিন্ধু নদ এবং আরও অনেকগুলি নদী বেরিয়ে পাঞ্জাবকে শস্যশ্যামল করে তোলবার পর আর্যরা অনেকে এসে সপ্তসিন্ধুর তীরে উপনিবেশ স্থাপন করলেন। নূতন দেশের সতেজ জল-হাওয়ায় আর্যদের এক নূতন সংস্কৃতি জন্মলাভ করল। পাঞ্জাবের এই নূতন আর্যরাই বরুণ দেবতাকে সরিয়ে ইন্দ্রকে প্রধান দেবতার পদে অধিষ্ঠিত করেছিলেন। ইন্দ্রপূজার প্রথম দেশ হল সেই দেশ, যাকে ইন্দ্র মরুভূমির বুক থেকে টেনে তুলেছিলেন।

    ‘দেশটা ইন্দ্রের দেশ বলে পরিচিত হল; প্রাচীন দেশ অবশ্য বরুণের দেশই রইল। ইন্দ্রের দেশে যারা বাস করতে লাগল, তাদের নাম হল ইন্দ্র। কালক্রমে ইন্দ্র অপভ্রংশ হয়ে দাঁড়াল হিন্দু। এখনও সেই নাম চলে আসছে। আমরা হিন্দু, অর্থাৎ ইন্দ্রপূজক।’

    ‘তারপর?’

    ‘তারপর ইতিহাস পড়। সূর্যবংশে সগর নামে এক রাজা ছিলেন শুনেছ বোধ হয়। কিন্তু তিনি ভারতবর্ষের লোক নন, সুমেরু দেশের রাজা প্রথম সারগণ, খ্রীস্টপূর্ব তিন হাজার অব্দের কথা। আর্যরা তখন সুমেরু পর্বতের উত্তরে অনেক রাজ্য স্থাপন করেছেন, আবার ভারতবর্ষেও তাঁদের উপনিবেশ পূর্বদিকে অনেক দূর পর্যন্ত এগিয়ে গেছে। সারগণ বা সগর রাজার এক পুত্র ষাট হাজার প্রজা নিয়ে কোনও কারণে আদিম জন্মভূমি ছেড়ে ভারতবর্ষে অভিযান করেছিল। শেষ পর্যন্ত তারা অযোধ্যায় এসে রাজ্য স্থাপন করেছিল।

    ‘সেই থেকে সূর্যবংশের একটা শাখা ভারতবর্ষেই আছে। রামচন্দ্র হলেন সগর রাজার অধস্তন নবম পুরুষ; তিনি ভারতবর্ষেই জন্মেছিলেন। এসব নেহাত হালের কথা।’

    পণ্ডিত বোধ করি আরও কিছুক্ষণ তাঁহার স্বপ্নাদ্য ইতিহাস শুনাইতেন, কিন্তু এই সময় পণ্ডিতগৃহিণী আসিয়া বলিলেন, ‘রবিবার বলে কি আজ নাওয়া খাওয়ারও ছুটি? যাও, স্নান করগে।’

    পণ্ডিত স্নান করিতে চলিয়া গেলেন। আমি পণ্ডিতগৃহিণীকে বলিলাম, ‘বৌদি, আপনার কর্তার পেট গরম হয়েছে। ওঁকে আর কাঁকড়া খাওয়াবেন না। বরং রাত্রে শোবার সময় একটু ত্রিফলার জল দেবেন।’

    ১৮ আষাঢ় ১৩৫৫

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43 44 45 46 47 48 49 50 51 52 53 54 55 56 57 58 59 60 61 62 63 64 65 66 67 68 69 70 71 72 73 74 75 76 77 78 79 80 81 82 83 84 85 86 87 88
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleগল্পসংগ্রহ – শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    Next Article ব্যোমকেশ সমগ্র – শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

    Related Articles

    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

    কবিতাসংগ্রহ – শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

    November 22, 2025
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

    দাদার কীর্তি – শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

    November 22, 2025
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

    বিষের ধোঁয়া – শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

    November 22, 2025
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

    ঝিন্দের বন্দী – শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

    November 22, 2025
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

    রিমঝিম – শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

    November 22, 2025
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

    ছায়াপথিক – শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

    November 22, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Our Picks

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }