Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    ঐতিহাসিক কাহিনী সমগ্র – শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায় এক পাতা গল্প1544 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ০৪. বিদ্যা দাও

    ওদিকে রাজপ্রাসাদের বিশ্রান্তিগৃহে যুবরাজ মকরবর্মা এক খট্বার উপর পৃষ্ঠে বহু উপাধান দিয়া অর্ধশয়ানভাবে অবস্থান করিতেছিলেন। সবেমাত্র বিপুল পান ভোজন শেষ করিয়াছেন, তাঁহার চক্ষু মুদিত হইয়া আসিতেছে, ঘুমাইয়া পড়িতে বেশি বিলম্ব নাই। একটি কিঙ্করী শিয়রে দাঁড়াইয়া তাঁহার মস্তকে বীজন করিতেছে।

    পুস্তপাল মহাশয় স্ফটিকপাত্রে দ্রাক্ষাসব ভরিয়া মকরবর্মার সম্মুখে ধরিলেন। মকরবর্মা এক চুমুকে পাত্র নিঃশেষ করিয়া পত্রটি দূরে নিক্ষেপ করিলেন এবং জড়িতস্বরে বলিলেন— ‘বিচার! জামাতাই হোক আর বিমাতাই হোক— শূলে দেওয়া চাই। নচেৎ—’

    তিনি ঘুমাইয়া পড়িলেন। তাঁহার নাসিকা হঠাৎ ঘর্ঘর শব্দ করিয়া উঠিল।

    পুস্তপাল কিঙ্করীকে ইঙ্গিতে হস্ত সঞ্চালন করিয়া জানাইলেন— আরো জোরে পাখা চালাও। তারপর কতক নিশ্চিন্ত হইয়া নিঃশব্দে বিড়ালগতিতে দ্বারের পানে চলিলেন। দ্বারের ঠিক বাহিরেই কুন্তলরাজ ও মহামন্ত্রী উৎকণ্ঠিতভাবে দাঁড়াইয়া ছিলেন, পুস্তপালের দিকে ভ্রূ তুলিয়া যুগপৎ প্রশ্ন করিলেন। পুস্তপালও অঙ্গভঙ্গি দ্বারা নিঃশব্দে বুঝাইয়া দিলেন যে যুবরাজ নিদ্রিত।

    তিনজনে একত্র হইলে মৃদুস্বরে কথাবার্তা আরম্ভ হইল। কুন্তলরাজ বলিলেন— ‘আজ রাত্রির মত নিশ্চিন্ত। কিন্তু— তারপর?’

    মহামন্ত্রী ভ্রূবদ্ধ ললাটে বলিলেন— ‘উভয় সঙ্কট। এক, রাজজামাতাকে শূলে দিতে হয়— নচেৎ—’

    কুন্তলরাজ নিশ্বাস ফেলিয়া বলিলেন— নচেৎ সৌরাষ্ট্রের সঙ্গে যুদ্ধ।’

    তিনজন পরস্পর চাহিয়া ঘাড় নাড়িলেন। মহামন্ত্রী বলিলেন— ‘যদি যুদ্ধ হয়, সৌরাষ্ট্রের সঙ্গে শক্তি পরীক্ষায় আমাদের কোনো আশা নেই—’

    রাজা বলিলেন— ‘অর্থাৎ রাজ্য ছারখার হবে।’

    তিনজনে কিছুক্ষণ স্তব্ধ রহিলেন। সহসা ঘরের ভিতর হইতে যুবরাজ মকরবর্মার কণ্ঠস্বর আসিল। তিনি নিদ্রাবশে বিকৃতকণ্ঠে বলিতেছেন— ‘প্রতিশোধ— শূল—’

    পুস্তপাল গলা বাড়াইয়া দেখিলেন; যুবরাজ ঘুমন্ত পাশ ফিরিতেছেন; পুস্তপাল কিঙ্করীকে জোরে পাখা চালাইবার ইশারা করিলেন। যুবরাজের গলার মধ্যে বাকি কথাগুলা অস্পষ্ট রহিয়া গেল— ‘চোরের দণ্ড— শূলদণ্ড!’

    কুন্তলরাজ এতক্ষণে লৌহবলে নিজেকে সংযত রাখিয়াছিলেন, এইবার তিনি ভাঙ্গিয়া পড়িবার উপক্রম করিলেন, উদ্‌গত বাষ্পোচ্ছ্বাস কণ্ঠে রোধ করিয়া বলিলেন— ‘আমার কন্যা—’ তাঁহার দুই চক্ষু সহসা জলে ভরিয়া উঠিল।

    মহামন্ত্রী ও পুস্তপাল অন্যদিকে চক্ষু ফিরাইয়া লইলেন। মহামন্ত্রীর মুখ দুরূহদ্রুত চিন্তায় ভ্রূকুটিকুটিল হইয়া উঠিল। একটা কিছু উপায় বাহির করিতেই হইবে— করিতেই হইবে—

    সহসা তিনি রাজার দিকে ফিরিলেন, তাঁহার চোখের দৃষ্টি দেখিয়া রাজা ও পুস্তপাল সাগ্রহে আরো কাছাকাছি হইয়া দাঁড়াইলেন। মহামন্ত্রী বলিলেন— ‘রাজজামাতার প্রাণরক্ষার এক উপায় আছে—’ তিনি সচকিতে বিশ্রান্তিগৃহের দিকে তাকাইলেন, গলা আরো খাটো করিয়া বলিলেন— ‘আজ রাত্রেই তাঁকে চুপিচুপি রাজ্য থেকে—’ বাক্য অসমাপ্ত রাখিয়া তিনি এমনভাবে বাম হস্ত সঞ্চালন করিলেন যাহা হইতে বোঝা যায় যে তিনি রাজজামাতাকে বহু দূরে প্রেরণ করিতে চান। রাজা কিছুক্ষণ স্তব্ধ হইয়া চিন্তা করিলেন, শেষে অস্ফুটস্বরে বলিলেন— ‘কিন্তু— বিবাহের রাত্রেই আমার কন্যা—’

    মহামন্ত্রী দৃঢ়স্বরে বলিলেন— ‘অন্তত রাজদুহিতা বিধবা তো হবেন না।’

    উভয়ে কিছুক্ষণ পূর্ণদৃষ্টিতে পরস্পর চাহিয়া রহিলেন; তারপর রাজা ধীরে ধীরে ঘাড় নাড়িলেন।

    ওদিকে শয়নমন্দিরে কালিদাস গল্প বলা শেষ করিতেছেন। রাজকুমারী শয্যাপাশে তেমনি নতজানু হইয়া আছেন; ক্ষোভে হতাশায় তাঁহার বক্ষে যে ধিকি ধিকি আগুন জ্বলিতেছে তাহা কালিদাস দেখিয়াও দেখিতে পাইতেছেন না। তিনি হাসিতে হাসিতে কাহিনী শেষ করিলেন— ‘তারপর এখানে সকলে আমাকে সৌরাষ্ট্রের যুবরাজ বলে ভুল করল— ভারি মজা হল— না?’

    রাজকুমারী বিদ্যুদ্বেগে উঠিয়া দাঁড়াইলেন— ‘মজা! হা অদৃষ্ট, আমার ললাটে বিধি এই লিখেছিলেন! একটা কাঠুরের সঙ্গে— তাতেও ক্ষতি ছিল না,— কিন্তু তুমি মূর্খ— মূর্খ! পৃথিবীতে যা আমি সবচেয়ে ঘৃণা করি তুমি তাই—’

    রাজকুমারী আবার শয্যায় মুখ লুকাইলেন।

    হাস্যরত বালকের গণ্ডে অকস্মাৎ চপেটাঘাত করিলে তাহার মুখভাব যেরূপ হয় কালিদাসেরও সেইরূপ হইল। কোথায় কিভাবে তিনি কোন অপরাধ করিয়াছেন কিছুই ধারণা করিতে পারিলেন না। রাজকন্যার স্কন্ধ ও অংস ফুলিয়া ফুলিয়া উঠিতেছে; কালিদাস ব্যথিত স্বরে বলিলেন— ‘রাজকুমারি, তুমি আমার ওপর রাগ করলে? কিন্তু আমি তো কোনো দোষ করিনি। রাজকুমারি—’

    তিনি সংকোচভরে কুমারীর স্কন্ধ স্পর্শ করিলেন। সেই স্পর্শে কুপিতা সর্পীর মত রাজকুমারী তড়িদ্বেগে উঠিয়া দাঁড়াইলেন— ‘ছুঁয়ো না! কোন্‌ স্পর্ধায় তুমি আমার অঙ্গ স্পর্শ কর? মূর্খ নিরক্ষর গ্রামীণ!—’

    প্রত্যেকটি শব্দ নিষ্ঠুর কশাঘাতের ন্যায় কালিদাসের মুখে পড়িল। এই সময় দ্বারের কাছে শব্দ শুনিয়া রাজকন্যা জ্বলন্ত চক্ষু সেইদিকে ফিরাইয়া বলিয়া উঠিলেন— ‘ওঃ! পিতা!’

    বিষণ্ণ গম্ভীর মুখে রাজা আসিতেছিলেন, কুমারী ছুটিয়া গিয়া তাঁহার পদপ্রান্তে পড়িলেন, জানু আলিঙ্গন করিয়া কাঁদিয়া উঠিলেন— ‘রাজাধিরাজ, আমাকে রক্ষা করুন, এই গ্রামীণের হাত থেকে আমাকে উদ্ধার করুন—’

    রাজা বুঝিলেন হৈমশ্রী সত্য কথা জানিতে পারিয়াছেন, তিনি কন্যার মস্তকে হস্ত রাখিয়া কঠোর চক্ষে কালিদাসের পানে চাহিলেন— ‘এদিকে এস।’

    কালিদাস কুন্ঠিত পদে কাছে আসিয়া দাঁড়াইলেন। রাজা বলিলেন— ‘তুমি শঠতা দ্বারা কুমারীর পাণিগ্রহণ করেছ?’

    কালিদাস বিমূঢ়ভাবে বলিলেন— ‘শঠতা!’

    রাজার কণ্ঠস্বরে ক্ষোভ মিশিল— ‘প্রিয়দর্শন বালক, তোমার এ দুর্বুদ্ধি কেন হল? তুমি চুরি করলে কেন?’

    পাণ্ডুর মুখে কালিদাস বলিলেন— ‘চুরি! কিন্তু আমি তো চুরি করিনি—’

    কুন্তলরাজ বলিলেন— ‘করেছ। শুধু তাই নয়, আমার রাজ্যের সর্বনাশ করতে বসেছ। কিন্তু সে তুমি বুঝবে না।’ কন্যার দিকে হেঁট হইয়া গাঢ়স্বরে বলিলেন— ‘কন্যা, অধীর হয়ো না। তুমি রাজদুহিতা, বিদুষী; ধৈর্য হারিও না।’ কন্যাকে ছাড়িয়া রাজা কালিদাসকে সংক্ষিপ্ত আদেশ করিলেন— ‘এস আমার সঙ্গে।’

    রাজা ফিরিয়া চলিলেন। কালিদাস তন্দ্রাচ্ছন্নের মত তাঁহার অনুবর্তী হইলেন। দ্বার পর্যন্ত গিয়া কালিদাস একবার ফিরিয়া চাহিলেন; কুমারী হৈমশ্রী তেমনি নতজানু হইয়া বসিয়া আছেন, তাঁহার ক্ষোভ-বিধ্বস্ত মুখখানি বুকের উপর নামিয়া পড়িয়াছে।

    রাত্রি শেষ হইয়া আসিতেছে, আকাশে পূর্ণচন্দ্র নীচাভিমুখী। নগর তোরণের দীপগুলি কতক নিভিয়া গিয়াছে, কতক নিব-নিব। নগরীর শব্দগুঞ্জন শান্ত হইয়াছে।

    তিনটি অশ্ব পাশাপাশি তোরণ সম্মুখে দাঁড়াইয়া। দুই পার্শ্বের দুটি অশ্বের পৃষ্ঠে দুইজন রক্ষী, মধ্যে কালিদাস। প্রধান রক্ষী মস্তক সঞ্চালন দ্বারা ইঙ্গিত করিল; তিনটি অশ্ব একসঙ্গে চলিতে আরম্ভ করিল। তাহাদের গতি নগর হইতে বাহিরের দিকে। —

    নিবিড় বনের উপান্ত। অশোকস্তম্ভের ন্যায় একটি স্তম্ভ নির্জনে দাঁড়াইয়া কুন্তলরাজ্যের সীমানা নির্দেশ করিতেছে। অস্তমান চন্দ্রের দূরপ্রসারী ছায়া ভূমির উপর সুকৃষ্ণ সীমারেখা টানিয়া দিয়াছে।

    তিনটি অশ্ব স্তম্ভের ছায়ারেখার কিনারায় আসিয়া দাঁড়াইল। প্রধান রক্ষী নিঃশব্দে কালিদাসকে অশ্ব হইতে নামিবার ইঙ্গিত করিল; কালিদাস নামিলেন। প্রধান রক্ষী তখন সম্মুখের বনানীর দিকে বাহু প্রসারিত করিয়া গম্ভীর কণ্ঠে বলিল— ‘যাও, আর কখনো কুন্তলরাজ্যে পদার্পণ কোরো না। স্মরণ রেখো এ রাজ্যে প্রবেশ করলেই তোমার শূলদণ্ড—’

    কালিদাস বাক্‌ নিষ্পত্তি করিলেন না, স্খলিত পদে বনের দিকে চলিলেন। যতক্ষণ তাঁহাকে দেখা গেল রক্ষীরা স্থিরভাবে অশ্বপৃষ্ঠে বসিয়া রহিল। তারপর ঘোড়ার মুখ ফিরাইয়া, শূন্য-পৃষ্ঠ অশ্বটিকে মধ্যে লইয়া যো-পথে আসিয়াছিল সেই পথে ফিরিয়া চলিল।

    প্রভাত হইয়াছে। বনের পাতায় পাতায় সোনালী সূর্যকিরণ লাগিয়াছে, মাকড়শার জালে শিশিরবিন্দু এখনো শুকায় নাই; পাখির কাকলি ও বানরের কিচিমিচিতে বনস্থলী পূর্ণ।

    একটি বৃহৎ বটবৃক্ষ। তাহার স্থূল মূলগুলি স্থানে স্থানে মাটির গোপনতা ত্যাগ করিয়া বাহির হইয়া আসিয়াছে; এইরূপ একটি মূলের উপর মাথা রাখিয়া কালিদাস ঘুমাইতেছেন। তাঁহার শয়নের ভঙ্গি দেখিয়া মনে হয়, রাত্রির অন্ধকারে যেখানে হোঁচট খাইয়া পড়িয়াছিলেন সেখানেই নিদ্রাভিভূত হইয়াছেন।

    একটি বানরশিশু এই সময় এদিক ওদিক ঘুরিতে ঘুরিতে কালিদাসের কোল ঘেঁষিয়া বসিল এবং একটি বৃক্ষচ্যুত ফল তুলিয়া লইয়া পরম যত্নে নিরীক্ষণ করিতে লাগিল।

    ঘুমন্ত কালিদাসের অঙ্গে উষ্ণ স্পর্শ লাগিতেই তিনি একটি হাত দিয়া বানরশিশুটিকে জড়াইয়া লইলেন। বানরশিশু এই আলিঙ্গনের জন্য প্রস্তুত ছিল না, হঠাৎ ভয় পাইয়া কালিদাসের হাতে এক কামড় দিয়া দ্রুত পলায়ন করিল। কালিদাসের ঘুম ভাঙ্গিয়া গেল।

    এক হাতে ভর দিয়া কালিদাস ক্লান্তভাবে উঠিয়া বসিলেন। বেশবাস ছিন্ন, অঙ্গ ধূলিমলিন; চোখের কোলে ও গণ্ডে অশ্রুর চিহ্ন শুকাইয়া আছে। তিনি চক্ষু মার্জনা করিতে করিতে উঠিয়া দাঁড়াইলেন, তারপর একটি দীর্ঘ নিশ্বাস মোচন করিয়া শ্লথচরণে চলিতে আরম্ভ করিলেন।

    বন শেষ হইয়া শুষ্ক মরুভূমি। দ্বিপ্রহরে কালিদাস এই মরুভূমির ভিতর দিয়া চলিয়াছেন। বালুকণা উড়িয়া আকাশ সমাচ্ছন্ন করিয়াছে; এই তপ্ত বালুঝটিকা উপেক্ষা করিয়া দিগ্‌ভ্রান্তের মত কালিদাস যাইতেছেন, তাঁহার চোখে মুখে এক দুর্লভ দুরাকাঙ্ক্ষা জ্বলিতেছে।

    বালু-কুজ্ঝটিকার ভিতর দিয়া একটি ভগ্ন দেবায়তনের উচ্চ বহিঃপ্রাচীর দেখা গেল। কালিদাস সেই দিকে অগ্রসর হইয়া চলিলেন; প্রাচীরের নিকটবর্তী হইয়া তিনি একটি প্রস্তরখণ্ডে পা লাগিয়া পড়িয়া গেলেন।

    প্রাচীর ধরিয়া কোনো ক্রমে উঠিয়া দাঁড়াইয়া তিনি ক্ষণকাল ক্লান্তিভারে চক্ষু মুদিত করিয়া রহিলেন। তারপর চোখ খুলিয়া দেখিলেন তিনি প্রাচীরের যে-স্থানে বাহুর ভর দিয়া দাঁড়াইয়া আছেন উহা একটি বিরাট মূর্তির ঊরুস্থল। কালিদাস ঊর্ধ্বে চাহিলেন; প্রাচীরের খোদিত বিশাল শঙ্কর-মূর্তি যেন এই বহ্নি শ্মশানে তপস্যারত। কালিদাস নতজানু হইয়া মূর্তির পদমূলে মাথা রাখিলেন, তারপর গলদশ্রু চক্ষু দেবতার মুখের পানে তুলিয়া ব্যাকুল প্রার্থনা করিলেন— ‘দেবতা, বিদ্যা দাও।’—

    সূর্যাস্ত হইতেছে। দিগন্তহীন প্রান্তরে একাকী দাঁড়াইয়া কালিদাস যুক্তকরে বলিতেছেন— ‘সূর্যদেব, তুমি জগতের অন্ধকার দূর কর, আমার মনের অন্ধকার দূর করে দাও। বিদ্যা দাও।’

    উজ্জয়িনীর মহাকাল মন্দির। কৃষ্ণপ্রস্তরনির্মিত মন্দির আকাশে চূড়া তুলিয়াছে; চূড়ার স্বর্ণত্রিশূল দিনান্তের অস্তরাগ অঙ্গে মাখিয়া জ্বলিতেছে। সন্ধ্যারতির শঙ্খঘণ্টা ঘোর রবে বাজিতেছে। মন্দিরের বহিরঙ্গনে লোকারণ্য, স্ত্রী পুরুষ সকলে জোড়হস্তে তদ্‌গত-মুখে দাঁড়াইয়া আছে। আরতি শেষ হইলে সকলে অঙ্গনে সাষ্টাঙ্গে প্রণত হইল। অঙ্গনের এক কোণে এক বৃদ্ধ প্রণাম শেষ করিয়া উঠিয়া দাঁড়াইল, যুক্তকরে মন্দিরের পানে চাহিয়া প্রার্থনা করিল— ‘মহাকাল, আয়ু দাও।’

    অনতিদূরে একটি নারী নতজানু অবস্থায় মন্দির উদ্দেশ করিয়া বলিল— ‘মহাকাল, পুত্র দাও।’

    বর্মশিরস্ত্রাণধারী এক যোদ্ধা উঠিয়া দাঁড়াইয়া বলিল— ‘মহাকাল, বিজয় দাও।’

    বিনত ভুবনবিজয়ীনয়না একটি নবযুবতী লজ্জাজড়িত কণ্ঠে বলিল— ‘মহাকাল, মনোমত পতি দাও।’

    দীনবেশী শীর্ণমুখ কালিদাস অবরুদ্ধ কণ্ঠে বলিলেন— ‘মহাকাল, বিদ্যা দাও।’

    পাতা-ঝরা একটি অরণ্য। নিষ্পত্র বৃক্ষ-শাখাগুলি আকাশে জাল রচনা করিয়াছে। নির্বিঘ্ন আলোক বনতলের কুন্ঠিত লজ্জা হরণ করিয়া ভূ-লুণ্ঠিত শুষ্ক পল্লবের মধ্যে সকৌতুক ক্রীড়া করিতেছে।

    একটি আট-নয় বছরের গৌরাঙ্গী বালিকা এই বনভূমির উপর দিয়া নাচিতে নাচিতে গান গাহিয়া চলিয়াছে। তাহার পরিধানে শুভ্র বস্ত্র ও উত্তরীয়, কণ্ঠে কুন্তলে বাহুতে শ্বেত পুষ্পের আভরণ। বালিকা থাকিয়া থাকিয়া বঙ্কিম গ্রীবাভঙ্গি করিয়া পিছনে তাকাইতেছে, আবার গাহিতে গাহিতে আগে চলিয়াছে—

    ‘নীল সরসীজলে সিত কমলদলে

    আমি নাচিয়া ফিরি আমি গাহিয়া ফিরি।’

    লাস্যচপল চরণে বালিকা দৃষ্টি বহির্ভূত হইয়া গেল; তাহার গানের ধ্বনিও ক্রমশ ক্ষীণ হইয়া আসিতে লাগিল।

    কালিদাস মোহগ্রস্তের ন্যায় বালিকার সঙ্গীতধ্বনি অনুসরণ করিয়া আসিতেছেন। তাঁহার মুখ বিশীর্ণ, চক্ষু কোটর-প্রবিষ্ট। এক দুরন্ত উৎকণ্ঠা তাঁহাকে ওই অশরীরী সঙ্গীতের পিছনে টানিয়া লইয়া চলিয়াছে।

    বনের অন্য অংশে বালিকা গাহিতে গাহিতে যাইতেছে—

    ‘হিম-তুষার-গলা আমি নির্ঝরিণী

    মোর নূপুর বাজে রুম্‌ রিন্‌কি ঝিনি

    আমি নাচিয়া ফিরি আমি গাহিয়া ফিরি।’

    উপলবঙ্কিম গতি একটি সঙ্কীর্ণ জলধারা লঙ্ঘন করিয়া বালিকা নাচিতে নাচিতে চলিয়া গেল।

    গানের রেশ মিলাইয়া যাইবার আগেই কালিদাস প্রবেশ করিলেন, ব্যগ্রচক্ষে চারিদিকে চাহিতে চাহিতে তিনি অগ্রসর হইতেছেন। কোথায় গেল সেই সঙ্গীতময়ী! জলধারার তীরে দাঁড়াইয়া তিনি ক্ষণেক উৎকর্ণ হইয়া শুনিলেন, তারপর স্রোত উত্তীর্ণ হইয়া আবার চলিলেন।

    দূরে একটি শ্বেতকমলপূর্ণ সরোবর। বালিকা সেইদিকে চলিয়াছে, তাহার কণ্ঠ-নিঃসৃত সঙ্গীত কাকলি চারিদিকে হিল্লোল তুলিয়াছে—

    ‘যেথা মরাল চাহে— ফিরি ফিরি

    যেথা কপোত গাহে— ধীরি ধীরি

    তীরে বন নিরজনে

    আমি নাচিয়া ফিরি। আমি গাহিয়া ফিরি!’

    বালিকা দূরে চলিয়া গেল, কালিদাস তাহাকে দেখিতে পাইয়া উন্মাদের মত তাহার পশ্চাতে চলিয়াছেন। বালিকা সরোবরের ঘাটে দাঁড়াইয়া একবার পিছু ফিরিয়া চাহিল, তারপর মৃদু হাসিয়া সোপান অবতরণ করিতে লাগিল।

    কালিদাস যখন ঘাটে পৌঁছিলেন তখন বালিকা কোথায় অদৃশ্য হইয়া গিয়াছে। ঘাটের সম্মুখে জলের উপর একদল কমল বায়ুভরে হেলিতেছে দুলিতেছে, যেন বালিকা এইমাত্র জলে ডুব দিয়া ওইখানে অন্তর্হিত হইয়াছে। ঘাটের নিম্নতন সোপানে নামিয়া কালিদাস পাগলের মত জলের পানে চাহিলেন; বাষ্পোচ্ছ্বাসে তাঁহার কণ্ঠ রুদ্ধ হইয়া গেল। চঞ্চল পদ্মগুলির দিকে একদৃষ্টে তাকাইয়া তিনি ভগ্নস্বরে বলিলেন— ‘কোথায় গেলে? দেবি, তুমি কোথায় গেলে?— শুনেছি তুমি পদ্মবনে থাক। আমাকে দয়া কর— বিদ্যা দাও— নইলে—’

    তিনি মূর্ছিত হইয়া ঘাটের উপর পড়িয়া গেলেন।

    মূর্ছিত অবস্থায় তিনি অনুভব করিলেন, সরসীর স্বচ্ছ জলতলে তিনি শুইয়া আছেন; দিক-আলো-করা এক পূর্ণযৌবনবতী দেবীমূর্তি শুচিস্মিত হাস্যে তাঁহার শিয়রে আসিয়া বসিলেন, তাঁহার মস্তকে হস্ত রাখিয়া স্নিগ্ধকণ্ঠে বলিলেন— ‘কালিদাস!’

    কালিদাসের ভাবাতুর নেত্র নিমীলিত, তিনি যুক্তকরে গদ্‌গদ কণ্ঠে বলিলেন— ‘মা!’

    দেবী বলিলেন— ‘তুমি আমার বরপুত্র, তোমার কাব্য জগতে অমর হয়ে থাকবে। বারাণসী যাও, সেখানে আচার্য পাবে। ওঠ বৎস।’

    হর্ষোৎফুল্ল মুখে কালিদাস উঠিবার চেষ্টা করিলেন, তাঁহার মুখ দিয়া কেবল বাহির হইল— ‘মা মা মা—!’

    দেবী অবনত হইয়া কালিদাসের শিরশ্চুম্বন করিলেন, তারপর অপূর্ব জ্যোতিরুৎসবের মধ্যে দেবীমূর্তি মিলাইয়া গেল।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43 44 45 46 47 48 49 50 51 52 53 54 55 56 57 58 59 60 61 62 63 64 65 66 67 68 69 70 71 72 73 74 75 76 77 78 79 80 81 82 83 84 85 86 87 88
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleগল্পসংগ্রহ – শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    Next Article ব্যোমকেশ সমগ্র – শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

    Related Articles

    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

    কবিতাসংগ্রহ – শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

    November 22, 2025
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

    দাদার কীর্তি – শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

    November 22, 2025
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

    বিষের ধোঁয়া – শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

    November 22, 2025
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

    ঝিন্দের বন্দী – শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

    November 22, 2025
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

    রিমঝিম – শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

    November 22, 2025
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

    ছায়াপথিক – শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

    November 22, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Our Picks

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }