Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    কুবেরের বিষয় আশয় – শ্যামল গঙ্গোপাধ্যায়

    August 10, 2026

    বিশেষ দ্রষ্টব্য – নীললোহিত (সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়)

    August 10, 2026

    কৈশোর – নীললোহিত (সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়)

    August 10, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    কৈশোর – নীললোহিত (সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়)

    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় এক পাতা গল্প182 Mins Read0
    ⤶

    কৈশোর – ১০

    ১০

    ভালো করে এখনো ভোর হয়নি, মোটে সোয়া পাঁচটা বাজে। আকাশের রং ছানার জলের মতন, হাওয়া দিচ্ছে ঠাণ্ডা শিরশিরে। এরই মধ্যে কিছু কিছু লোক বেরিয়ে পড়েছে রাস্তায়, কেড্স পরে বুড়োরা ছুটছে, তিন-চারটি করে মেয়ে দল বেঁধে কলকল করে কথা বলতে বলতে যাচ্ছে, ওরা লোকের বাড়িতে ঠিকে কাজ করে। ঝাঁকামুটেরা নিয়ে যাচ্ছে বাজারের সবজি।

    ঠিক করে রেখেছিলুম, রতনকে ডেকে বলব ট্যাক্সিটা বার করতে। কিন্তু ঠনঠন শব্দ করতে করতে একটা ট্রাম এসে গেল। এত ভোরে ট্রাম চলে?

    মুমু আর আমি গিয়ে বসলুম একেবারে সামনের সিটে।

    মুমুর চোখ-মুখে এখনও ঘুম লেগে আছে। একটা লাল রঙের ফ্রক পরেছে, কাঁধে ঝোলানো একটা এয়ারব্যাগ। আমি অবশ্য সঙ্গে কোনো ব্যাগ-ট্যাগ নিইনি, পাজামা-পাঞ্জাবি পরে বেরিয়ে এসেছি। আসবার সময় মাকেও জাগাইনি। শুধু আমাদের কাজের ছেলেটি উঠে পড়েছিল, একটা চিঠি লিখে দিয়ে এসেছি তার হাতে। রঘু সত্যিই কাজের ছেলে, ও সব ঠিক ঠিক মনে রাখে।

    মুমু বলল, সকালবেলায় কলকাতা শহরটাকে পরিষ্কার দেখায় খুব!

    আমি বললুম, ভোরে সবকিছুই সুন্দর দেখায়

    মুমু বলল, রাস্তাটাও কত বড় মনে হচ্ছে?

    আমি বললুম, অন্য সময় রাস্তায় এত মানুষ থাকে যে তার জন্যই সব রাস্তা ছোট হয়ে যায়। এরকম ফাঁকা রাস্তা তো আমরা কখনো দেখি না!

    মুমু বলল, আমার যখন পাঁচ-ছ’ বছর বয়েস, তখন একবার এত ভোরে উঠে রেল স্টেশনে গিয়েছিলুম।

    আমি বললুম, জীবনে কখনো এত ভোরে আমার ঘুম ভাঙে না।

    মুমু বলল, তাহলে আজ উঠলে কী করে? তোমাকে তো ডাকতে হয়নি।

    আমি বললুম, সারা রাত জেগে থেকেছি। আরও যতবার আমাকে এত ভোরে কোথাও যেতে হয়েছে, সারা রাত জেগেছি। আমার এক-একদিন অনেক বেলা পর্যন্ত ঘুমোতে ভালো লাগে, আবার এক-একদিন সারা রাত জাগতেও ভালো লাগে।

    এসপ্লানেডে এসে নেমে পড়লুম ট্রাম থেকে

    হাওড়া কিংবা শিয়ালদা দিয়ে যাবার চেষ্টা না করাই ভালো। চন্দনদা-লালুদা মিলে অনেক রাত পর্যন্ত হাসপাতাল-থানাপুলিশ করেছে। পুলিশ হয়তো হাওড়া—শিয়ালদায় নজর রাখতে পারে।

    এসপ্লানেড থেকে অনেকগুলো দূরপাল্লার বাস ছাড়ে। এর মধ্যেই সেখানে অনেক যাত্রী এসে ভিড় করেছে।

    প্রথম বাস ছাড়ছে দুর্গাপুরের। ঠিক আছে, দুর্গাপুরই সই। ভাগ্যের জোরে এবারেও সামনের দিকে একটা জোড়া সিট পাওয়া গেল।

    মুমু জিজ্ঞেস করল, আমরা কোথায় যাচ্ছি?

    আমি বললুম, বাঃ, নিরুদ্দেশে। তাই তো কথা আছে!

    মুমু বেশ খুশি হয়ে বলল, হ্যাঁ-হ্যাঁ, সেখানেই যাব। এই ব্লু, বলো না, নিরুদ্দেশ কত দূর?

    আমি বললুম, দূর আছে। নিরুদ্দেশ অনেক জায়গায় হয়। আমি তোকে দিকশূন্যপুর বলে একটা জায়গায় নিয়ে যাব। খুব চমৎকার জায়গা, গিয়ে দেখবি!

    —সেখানে কী আছে?

    –সেখানে পাহাড় আছে, নদী আছে, জঙ্গল আছে, এসব তো আছেই। তাছাড়া সেখানে কেউ কারুর ওপর রাগ করে না, হুকুম চালায় না। সেখানে পয়সারও হিসেব রাখতে হয় না। কোনো দোকানও নেই।

    —দোকান নেই? তাহলে জিনিসপত্র পাওয়া যায় কী করে?

    -সেই তো মজা! দোকান নেই, অথচ সবই পাওয়া যায়। খুব যা দরকার, সেই সবই। তা বলে কি আর পাউডার, ক্রিম, চকোলেট এসব পাওয়া যাবে!

    —চকোলেট পাওয়া যায় না?

    —চকোলেট আমরা সঙ্গে নিয়ে যেতে পারি যত ইচ্ছে। এত ভোরে তো দোকান খোলেনি। রাস্তায় কোনো জায়গা থেকে কিনে নেব।

    —নিরুদ্দেশ মানে কি দা প্লেস অফ নো রিটার্ন?

    —ইচ্ছে করলে ফিরেও আসা যেতে পারে। কেউ বারণ করবে না!

    –তুমি সেই দিকশূন্যপুরে যাও, আবার ফিরে আস?

    —হ্যাঁ, মাঝে মাঝে খুব যখন মন খারাপ হয়, তখন কারুকে কিছু না জানিয়ে টপ করে চলে যাই দিকশূন্যপুর। সেখানে সবাই আমাকে ভালোবাসে। আমাকে থেকে যেতে বলে।

    —তবে তুমি সেখানে থেকে যাও না কেন?

    —আমার যে পায়ের তলায় সরষে! নীললোহিতরা মুসাফির হয়। তারা এক জায়গায় থেমে থাকে না। মুসাফির কাকে বলে জানিস?

    —হ্যাঁ, ট্রাভলার।

    —ইটারনাল ট্রাভেলার বলতে পারিস। কোথাও বেশিদিন থেমে থাকলেই তাদের পা কুটকুট করে।

    –আমিও মুসাফির হবো

    —মুমু, তোর সামনের বুধবার থেকে পরীক্ষা। এবার বোধহয় পরীক্ষা দেওয়া হলো না।

    —না হলো তো বয়েই গেল! ভারি তো কোয়ার্টার্লি টেস্ট! আমি আর পড়বই না। পড়ার বই একটাও আনিনি। শুধু গল্পের বই দুটো এনেছি মোটে। আচ্ছা, নীলকাকা, তোমার ঐ দিকশূন্যপুরে গল্পর বই পাওয়া যায়?

    —হ্যাঁ পাওয়া যায়, সেজন্য চিন্তা নেই।

    –দোকান নেই, তবু বই পাওয়া যাবে কী করে?

    —সবাই নিজেদেরটা বদলাবদলি করে। যে-কোনো বাড়িতে গিয়ে চাইলেই তাদের পড়া বইটা দিয়ে দেয়।

    হাওড়া ব্রীজ পার হবার সময় আমি পকেট থেকে একটা দশ পয়সা বার করে খুব জোরে ছুঁড়ে দিলুম গঙ্গায়।

    মুমু জিজ্ঞেস করল, তুমি পয়সা জলে ছুঁড়লে কেন?

    আমি বললুম, মুসাফিরদের দিতে হয়। নদীর সঙ্গে মুসাফিরদের বন্ধুত্ব। একদিন কোনো একটা নদীতে ডুব দিলে হয়তো এই পয়সাটা খুঁজে পেয়ে যাব।

    মুমু বলল, তা হলে আমিও পয়সা ফেলব। আমায় দশ পয়সা দাও!

    —তোর নিজের পয়সা নেই? অন্যের পয়সা ছুঁড়লে কোনো লাভ হয় না!

    মুমু তার কাঁধের ঝোলা থেকে একটা ছোট্ট ব্যাগ বার করল তারপর অপরাধীর মতন হেসে বলল, আমার মোটে পাঁচ টাকা আছে। এর মধ্যে আর জমেনি। মোটে এই কটা টাকা দিয়ে নিরুদ্দেশে যাওয়া যাবে?

    আমি বললুম, দে, তোর ঐ পাঁচ টাকা আমি ভাঙিয়ে দিচ্ছি। দিকশূন্যপুরে একবার পৌঁছে গেলে আর পয়সাই লাগবে না। শুধু এই বাসভাড়াটাই যা লাগছে, সে আমার কাছে আছে।

    সত্যি, এবার আমার কাছে প্রায় আড়াইশো টাকা আছে। অনেক টাকা।

    আমি জিজ্ঞেস করলুম, হ্যাঁরে মুমু, তুই যে পাইপ বেয়ে নামলি বারান্দা থেকে, তোর ভয় করল না?

    মুমু বলল, ভয় করবে কেন? ওপরতলায় পাপুদা আর রিন্টুদার সঙ্গে আমি আগে দু’তিনবার নেমেছি! স-র-র-র-র করে! একটুও ভয় লাগে না!

    —রাত আটটা সাড়ে আটটায় রাস্তায় কত লোক থাকে। তোকে কেউ দেখতে পায়নি? দেখতে পেলে চোর বলে ঠ্যাঙাত!

    —আমি দেখে নিয়েছিলুম, কখন লোক নেই। তাও নেমে আসতেই দেখি একটা বুড়ো লোক হাঁ করে তাকিয়ে আছে। যেই নীচে এসেছি, বুড়োটা বলল, এই খুকি, কী করছ? আমি বললুম, বেশ করেছি! বুড়োটা বলল, ঘোর কলি, ঘোর কলি! ততক্ষণে আমি এক দৌড়ে রাস্তার ওপারে!

    –তোর মেয়ে না হয়ে ছেলে হওয়াই উচিত ছিল। ভুল করে মেয়ে হয়েছিস। একেবারে টম বয়!

    —নীলকাকা, ঘোর কলি মানে কী?

    —কলি হচ্ছে কলিকাল। শাস্ত্রে নাকি আছে, আমি অবশ্য পড়িনি, আমি তো আর সংস্কৃত জানি না, ঐসব খটোমটো বইয়ের অনুবাদও পড়তে ইচ্ছে করে না, তবে কার মুখে যেন শুনেছি, এখনকার সময়টাকে বলে কলিকাল, এই কালে মেয়েরা ছেলেদের মতন পোশাক পরবে আর মাথার চুল ছোট করে কেটে ফেলবে। দেখতেই পাচ্ছিস, সেটা মিলে গেছে, অনেক মেয়েই জিনস পরে আর মাথার চুল ছেঁটে ফেলে। বোধহয় মেয়েদের জলের পাইপ বেয়ে নামার কথাও শাস্ত্রে লেখা আছে!

    —মেয়েরা যে সিগারেট খায়, সে-কথা লেখা আছে?

    –আগেকার দিনেও গ্রামের, মেয়েরা হুঁকো খেত। ওটা বোধহয় দোষের নয়!

    —বর আর বউ ঝগড়া করে যে ডিভোর্স করে, সেটা?

    —আগেকার দিনে কী ছিল জানিস? এক-একজন লোক চারটে-ছটা-দশটা বিয়ে করত! কোনো বউ একটু ঝগড়া করতে এলেই তাকে চাবুক দিয়ে পেটাত! তবু মেয়েদের ডিভোর্স করার উপায় ছিল না। সেটা কি ভালো? তুই যদি সেই যুগে জন্মাতি, এতদিনে তোর বিয়ে হয়ে যেত!

    -আমায় মারতে এলে আমিও মারতুম। ছেড়ে দিতুম নাকি?

    রাস্তার দু’ ধারে জল জমে আছে। বৃষ্টিতে বেশ কয়েকদিন ধুয়ে যাবার পর বোঝা যায়, সব গাছপালার রঙই একরকম সবুজ নয়। সবুজেরও কত বৈচিত্র্য এদিকে বোধহয় কাল রাতে ঝড় উঠেছিল। একটা মস্ত বড় শিমুল গাছ উল্টে পড়ে আছে এক জায়গায়।

    মুমুর সঙ্গে নানারকম গল্প করতে করতে পথ আর সময় কেটে যেতে লাগল হু হু করে। দুর্গাপুরে পৌঁছে গেলুম এগারোটার মধ্যে।

    বাস থেকে নেমে মুমু বলল, এইটা নিরুদ্দেশ? সব দিকে এত বাড়িঘর?

    আমি বললুম, না রে, আরও বাস বদলাতে হবে, আরও অনেক দূরে যেতে হবে। চল, আগে কিছু খেয়ে নিই। তোর খিদে পায়নি?

    কাল রাতে মুমু এক গেলাশ দুধ ছাড়া কিছুই খায়নি। মা ভাত খাবার জন্য জোর করেছিল, কিন্তু মুমুর কিছুতেই খেতে ইচ্ছে হয়নি, এক গেরাশ ভাত মুখে দিয়েই সে বমির মতন ওয়াক তুলেছিল। মনের ওপর খুব চাপ পড়লে খিদে নষ্ট হয়ে যায়। মুমুর ক্ষুদ্র হৃদয়ে কম চাপ পড়েনি।

    আমার কাছে মুমু তার বাবা আর মা সম্পর্কে অনেক খারাপ খারাপ কথা বলছিল। আমি ওকে সাবধান করে দিয়েছিলুম আমার মাকে কিছু না জানাতে। মায়ের কাছেই ওকে শুতে হবে। সবচেয়ে ভালো, ঘুমের ভান করে এক্ষুনি শুয়ে পড়া। মুমু তার বদলে আমার কাছ থেকে প্রতিজ্ঞা করিয়ে নিয়েছিল, ওর বাবা—মা এসে পড়লে আমি যাতে কিছুতেই ধরিয়ে না দিই!

    চন্দনদা-লালুদারা মুমুকে বহু জায়গায় খোঁজাখুঁজি করেছে, কিন্তু আমার বাড়িতে খোঁজ নেওয়ার কথা ওদের মনে আসেনি। মাকে বুঝিয়েছিলুম যে মুমু ইস্কুলের মেয়েদের সঙ্গে একটা গার্ল গাইডের ক্যাম্পে যাচ্ছে, ভোরবেলা তাকে হাওড়া স্টেশনে পৌঁছে দেবার ভার আমার ওপরে দিয়েছে চন্দনদা আর নীপাবৌদি, সেইজন্যই মুমু রাত্তিরটা আমাদের এখানে থাকতে এসেছে। মুমুকে নিয়ে আমি কলকাতা ছেড়ে পালাব, মা কি তা কল্পনাও করতে পারে? মার চোখে তো মুমু ‘এক ফোঁটা’ মেয়ে!

    ঐরকম বাবা-মায়ের কাছ থেকে মুমুর পালানোই উচিত। মুমুকে সাহায্য করতে আমার একটুও দ্বিধা হয়নি। ওদের ভালোমতন শিক্ষা হওয়া দরকার।

    ব্যাসস্ট্যাণ্ড থেকে বেরিয়ে আমরা একটা রেস্তোরাঁয় বসলুম। মেঘলা মেঘলা দিন, একটুও গরম নেই, বেড়াবার পক্ষে চমৎকার।

    টোস্ট, ডবল ডিমের ওমলেট আর এক টুকরো করে কেক খাওয়া হলো। লালুদার দেওয়া টাকাগুলো সৎ কাজেই খরচ হচ্ছে।

    সেখান থেকে বেরিয়ে এসে কেনা হলো গোটা সাতেক চকোলেট বার, পাঁচ শো গ্রাম টফি, এক প্যাকেট নোনতা বিস্কুট। শস্তায় আপেল পাওয়া যাচ্ছে, তাই এক কিলো আপেল কিনতেও দ্বিধা হলো না। রীতিমতন পিকনিকের বাজার।

    উঠে পড়লুম আর একখানা বাসে। দিনের আলোয় ভারতবর্ষের কি আর কোনো বাস খালি থাকে! মুমুর জন্য অতিকষ্টে একটা জায়গা পাওয়া গেল, আমি দাঁড়ালুম তার পাশে। এইমাত্র অত কিছু খেয়েও মুমু একটা চকোলেটের রাংতা ছাড়িয়ে কামড় দিল। আজ তার মন ভালো আছে। তাই তার খিদেও বেশি। অবশ্য চকোলেট খাবার জন্য খিদের দরকার হয় না।

    মুমু তার পাশের মহিলাটির দিকে বক্রভাবে তাকাচ্ছে। তিনি নেমে গেলে আমি সেখানে বসতে পারি। কিন্তু সেই মোটাসোটা মহিলাটির নামবার কোনো লক্ষণও নেই, তিন চতুর্থাংশ জায়গা জুড়ে তিনি গ্যাঁট হয়ে বসেছেন।

    যে-বাসে অনেক লোক দাঁড়িয়ে যায়, সে বাসে গোলমালও বেশি হয়। এখন আর মুমুর সঙ্গে কথা বলার উপায় নেই। মাঝে মাঝে চোখে চোখে কথা হচ্ছে।

    এই বাসটা থেমে গেল বাঁকুড়া শহরে এসে।

    আমি বললুম, এবারে আর একখানা বাসে উঠতে হবে। মুমু তাতে বেশ খুশি। গতির ছোঁয়া লেগেছে ওর। তাছাড়া কলকাতা থেকে যে অনেক দূরে চলে যাওয়া হচ্ছে, সেটাই ওর ভালো লাগছে।

    এবারের বাসটি ভাঙা ঝড়ঝড়ে, তাতে আগে থেকেই গাদাগাদি করে লোক উঠে বসে-দাঁড়িয়ে আছে। পরের বাস ছাড়বে দু’ ঘণ্টা বাদে, সুতরাং এটাতেই চড়তে হলো। এবারে মুমুও বসবার জায়গা পেল না।

    আমি হ্যাণ্ডেল ধরে দাঁড়ালুম, মুমু ধরে রইল আমার কাঁধ। বাসটা চলতে শুরু করার পর মুমু ফিসফিস করে জিজ্ঞেস করল, নীলকাকা, এত লোক কোথায় যাচ্ছে? এরা কি সবাই নিরুদ্দেশে যাবে?

    আমি বললুম, পাগল নাকি? নিরুদ্দেশে কি বাসে করে পৌঁছনো যায়? আমরা মাঝপথে এক জায়গায় নেমে পড়ব, তারপর হাঁটতে হবে অনেকটা। তুই হাঁটতে পারবি তো?

    মুমু বলল, তোমার থেকে বেশি পারব!

    ভাঙা রাস্তায় বাসটা লাফাতে লাফাতে চলেছে। আমার খালি একটাই ভয়, হঠাৎ চেনাশুনো কারুর সঙ্গে দেখা না হয়ে যায়। এইসব অঞ্চলে আমি বহুবার এসেছি, অনেকের সঙ্গেই সাময়িক আলাপ হয়েছে।

    এক-এক জায়গায় বাস থামছে, আর আমি নিচু হয়ে দেখছি। ঠিক জায়গাটা না পেরিয়ে চলে যায়।

    ঠিক যা ভয় করছিলুম তাই হলো। একবার বাসটা সামনের একটা গরুকে বাঁচাতে আচমকা ব্রেক কষতেই আমি হুমড়ি খেয়ে পড়লুম সামনের একটা লোকের ওপরে। তার পা মাড়িয়ে দিতে হলো বাধ্য হয়েই। লোকটি আমাকে গালাগাল দেবার জন্য রাগত মুখখানা ফিরিয়েই চোখ বড় বড় করে বলল, আরে, নীলুবাবু? এদিকে কোথায় চললেন?

    এইরে, মুজিবুর রহমান, এখানকার একটা প্রাইমারি ইস্কুলের মাস্টার। একবার এদিকে এসে ওর বাড়িতে এক রাত কাটিয়ে ছিলুম। খুবই যত্ন-টত্ন করেছিল সেবার।

    আমি মুমুর হাতে চিমটি কেটে ইঙ্গিত করলুম, সে যেন আমার গা-টা ছেড়ে দেয়। সে আমার সঙ্গে যাচ্ছে, তা যেন এই লোকটি বুঝতে না পারে।

    মুমুর বেশ তীক্ষ্ণ বুদ্ধি, সে শুধু আমার কাছ থেকে সরে দাঁড়াল না, সে ভিড় ঠেলে এগিয়ে গেল বাসের সামনের দরজার দিকে।

    মুজিবর রহমান মুসলমানদের মধ্যে একটা বহু প্রচলিত নাম। আমি এই নামের আরও দু’জনকে প্রত্যক্ষভাবে চিনি। এই রহমান সাহেবকে তার সহকর্মীরা অনেক সময় বঙ্গবন্ধু বলে ডাকে।

    আমি রহমান সাহেবের হাত ধরে ঝাঁকুনি দিয়ে বললুম, আরে, কেমন আছেন? ভাবী আর ছেলেমেয়েরা সব ভালো তো?

    রহমান সাহেব বলল, বেশ লোক আপনি! গত শীতে আমার ওখানে আপনার আসার কথা ছিল না?

    আমি পাল্টা অভিযোগ করে বললুম, আর আপনি যে বলেছিলেন, কলকাতায় গিয়ে আমার সঙ্গে দেখা করবেন? ঠিকানা-টিকানা সব দিয়েছিলুম!

    রহমান সাহেব লজ্জিত হয়ে বলল, কলকাতায় গেলে ঠিক দিশা পাই না। এমন ভাবে ঘাড়ের উপর দিয়ে ট্রাম-বাস যায়। রাস্তায় হাঁটতে ভয় হয়। অত ভিড়ের মধ্যে আপনারা থাকেন কী করে?

    আমি বললুম, সেই জন্য তো আপনাদের এদিকে ফাঁকার মধ্যে প্রায়ই চলে আসি!

    —চলেন, আমাদের বাড়িতে থাকবেন তো? আমার ছোট ছেলেটা প্রায়ই আপনার কথা বলে। আপনি তার সাথে লুডো খেলেছিলেন।

    —নিশ্চয়ই আপনার বাড়িতে যাব। তবে এখন না। এদিকে একটা ইস্কুলে আমি চাকরির ইন্টারভিউ দিতে যাচ্ছি। যদি পেয়ে যাই, তাহলে তো আপনাদের কাছাকাছিই থাকব।

    —কোন্ ইস্কুলে!

    —পাথরচাপা সুরেন্দ্রমোহিনী। তার আগে সেই স্কুল কমিটির একজন মেম্বারকে একটু ধরাধরি করতে হবে। এখানকার এম এল এ-র কাছ থেকে একটা চিঠি জোগাড় করেছি।

    আর তিনটি স্টপ পর্যন্ত এরকম অনর্গল বানিয়ে গেলুম। মাঝে মাঝে মুমুর সঙ্গে আমার চোখাচোখি হচ্ছে। পরের বার বাসটা থামবার উপক্রম করতেই আমি বেশ চেঁচিয়ে বললুম, রোককে, রোককে! কণ্ডাকটারদাদা, এখানে নামব!

    মুমুও অন্য দরজা দিয়ে ঠিক নেমে পড়েছে। প্রয়োজন হলে এইটুকু মেয়েও কত কিছু শিখে যায়। সে আমাকে না চেনার ভান করে এগোতে লাগল সামনের দিকে। আমি রহমান সাহেবকে হাত নেড়ে টা-টা করলুম। তারপর রাস্তা ছেড়ে নেমে পড়লুম মাঠের মধ্যে।

    মুমু কোনাকুনি দৌড়ে এসে আমার সঙ্গে যোগ দিয়ে বলল, এবার এই দিকে নিরুদ্দেশ?

    আমি বললুম, এইবারই তো শুরু হবে মজা! ঐ বিচ্ছিরি বাসে করে যেতে তোর ভালো লাগছিল?

    মুমু বলল, ঐ দ্যাখো দূরে একটা পাহাড়। ঐ পাহাড় পেরুলেই কি দিকশূন্যপুর!

    আমি বললুম, না রে, দিকশূন্যপুর আরও অনেক দূরে। চল, ঐ পাহাড়টার কাছে আগে যাই। ওখানেই কয়েকদিন থেকে গেলে কেমন হয়?

    মুমু বলল, খুব ভালো হয়। ওখানে ঝরনা আছে!

    আমি বললুম, হ্যাঁ, ঝরনা আছে। একজন সাধুর আশ্রম আছে। দু’একটা ক্যাম্পও আছে। মুমু, তুই সাঁতার জানিস?

    মুমু ঘাড় নেড়ে বলল, না তো!

    আমি বললুম, দিকশূন্যপুর যেতে হলে দু’তিনটে পাহাড় ডিঙোতে হবে, সাঁতার কেটে একটা নদী পার হতে হবে। এসব না শিখলে তো সেখানে যাওয়া যাবে না!

    —অ্যাই ব্লু, তুমি এসব কথা আমাকে আগে বলোনি কেন?

    —বাঃ। এই পাহাড়ের কাছে থাকাটাও তো নিরুদ্দেশ। বলেছি না, নিরুদ্দেশ অনেক রকম হয়! আগে তুই পাহাড়ে চড়া শিখবি, সাঁতার শিখবি, সেটাও কত মজার।

    —পাহাড়ের কাছে গিয়ে আমরা কোথায় থাকব? যখন বৃষ্টি পড়বে?

    —তাঁবুতে থাকব। সে ব্যবস্থা করা যাবে। তুই কখনো তাঁবুতে থেকেছিস? কী দারুণ ভালো লাগে। রাত্তির বেলা শুয়ে শুয়ে মাটির তলায় গুমগুম শব্দ শোনা যায়! তাঁবুর গায়ে যখন বৃষ্টি পড়ে, তখন ঠিক মনে হয়, কেউ যেন হারমোনিয়াম বাজাচ্ছে, এই পাহাড়ে অনেক ময়ূর আছে। ভোরবেলা ময়ূরের ডাক শুনে ঘুম ভাঙবে।

    -ময়ূর দেখতে পাওয়া যায়?

    —হ্যাঁ। এখন বর্ষার সময় তো, হঠাৎ দেখতে পাবি, ময়ূর পেখম মেলে নাচছে। যেরকম ঠিক ছবিতে দেখা যায়। জঙ্গলে বেড়াতে বেড়াতে হঠাৎ দু’ একটা হরিণও দেখে ফেলতে পারিস। এই জঙ্গলে অবশ্য বাঘ নেই।

    –কেন, বাঘ নেই কেন?

    —একটাই মোটে বাঘ ছিল। ঝরনার কাছে যে সাধুজী থাকেন, তিনি সেই বাঘটাকে পোষ মানিয়েছিলেন। আমি দেখেছি সেই বাঘটাকে। তারপর কি হলো জানিস, একবার একটা সার্কাস পার্টি এসে সেই বাঘটাকে চুরি করে নিয়ে গেল। কী দুঃখের কথা বল তো!

    মুমু তার ঝোলা থেকে আর একটা চকোলেট বার করে আধখানা ভেঙে আমার দিকে বাড়িয়ে বলল, তুমি খাও!

    আজ ভোর থেকে এ পর্যন্ত মুমু একটাও খারাপ কথা বলেনি। উৎসাহে—আনন্দে তার মুখখানি ঝলমল করছে।

    আরও কিছুটা এগোবার পর মুমু জিজ্ঞেস করল, নীলকাকা, এই পাহাড়টার নাম কী? এর নাম নেই?

    আমি বললুম, হ্যাঁ। এর নাম শুশুনিয়া। এখানে কত অ্যাডভেঞ্চার করা যায়। অনেক আগে এখানে একটা রাজ্যের রাজধানী ছিল। এখন এখানে মাউন্টেনীয়ারিং ট্রেইনিং হয়। তুই পাহাড়ে চড়া শিখবি বলেছিলি!

    –তুমি আর আমি এক তাঁবুতে থাকব?

    –না, তা বোধহয় হবে না রে!

    —যদি তাঁবুর মধ্যে সাপ আসে?

    —ধ্যাৎ, এখানে সাপ কোথায়? তাঁবু যেখানে খাটানো হয়, তার চারপাশে কার্বলিক অ্যাসিড দিয়ে রাখে। সাপ নেই, ব্যাঙ নেই, আরশোলা নেই, মাকড়সা নেই। তবে প্রজাপতি আছে। আর কত টিয়াপাখি!

    পাহাড়ের বাঁ দিকে এগোতেই এক জায়গায় দেখা গেল পর পর সাত আটটি তাঁবু। রোহিণী সেনগুপ্তকে খুঁজতে হলো না, সে একদল কিশোরী মেয়েকে নিয়ে ভলিবল খেলছে। সে পরে আছে জিনসের ওপর হলুদ রঙের জামা, কী স্মার্ট দেখাচ্ছে তাকে। যদিও গায়ের রং মাজা মাজা। তবু তাকে মনে হচ্ছে মেমসাহেবের মতন!

    আমাদের দেখতে পেয়ে রোহিণী নিজেই খেলা থামিয়ে এগিয়ে এল। অনেকখানি কৌতূহল নিয়ে সে বলল, কী ব্যাপার, আপনারা?

    আমি মুচকি হেসে বললুম, দেখুন, ঠিক পৌঁছে গেছি! মুমুকে আপনার এখানে ভর্তি করে নিতে হবে!

    রোহিণী বলল, দেখেছ কাণ্ড! এরকম হঠাৎ কেউ আসে? আগে থেকে খবর দেননি? আমাদের এখানে মাত্র আঠেরোটি মেয়েকে ট্রেইনিং দেওয়ার কোটা। সব যে ভর্তি হয়ে গেছে।

    আমি বললুম, তাতে কী হয়েছে? আঠেরোর জায়গায় উনিশ হলে এমন কিছু মহাভারত অশুদ্ধ হয়ে যায় না! আপনার যদি মুমুর মতন একটা মেয়ে থাকত কিংবা ছোট বোন থাকত, আপনি তাকে সঙ্গে আনতে পারতেন না?

    রোহিণী মুমুর কাঁধে হাত দিয়ে কাছে টেনে নিয়ে বলল, আপনি কি পাগল? হঠাৎ চলে এলেন? নিশ্চয়ই বুঝেছিলেন যে আমি ফিরিয়ে দিতে পারব না। এত মিষ্টি মেয়ে। কী মুমু, তুমি এখানে থাকলে তোমার বাবা-মা আপত্তি করবেন না? আমি উত্তর দেবার আগেই মুমু জোর দিয়ে বলল, না! আমি পাহাড়ে চড়া শিখব!

    রোহিণী বলল, চটি পরে এসেছ। পাহাড়ে ওঠার ট্রেইনিং নিতে গেলে স্পেশাল জুতো লাগে। এখানে জুতো কোথায় পাব? সেই বাঁকুড়ায় লোক পাঠাতে হবে।

    আমি বললুম, আহা, এখানে আঠেরোটা মেয়ে রয়েছে, তাদের কারুর কাছে একস্ট্রা জুতো নেই? ইচ্ছে থাকলে সব কিছুরই ব্যবস্থা হয়ে যায়! আর যদি বলেন তো বাঁকুড়া থেকে আমি জুতো কিনে আনছি!

    রোহিণী হেসে বলল, ইচ্ছে থাকলে সব কিছুরই ব্যবস্থা হয়ে যায়, তাই না? দাঁড়ান, একটু টেস্ট নিই। এই আরতি, একটা স্কিপিং লাইন নিয়ে এসো তো!

    আরতি নামে অন্য একটি মেয়ে স্কিপিং-এর দড়ি নিয়ে এল। রোহিণী সেটার এক দিক ধরে বলল, মুমু, চটিটা খুলে লাফাও! আমরা কিন্তু দড়িটা মাঝে মাঝে উঁচু করব, সেই বুঝে তোমাকে লাফাতে হবে।

    গুনে গুনে পঞ্চাশবার নির্ভুলভাবে লাফাল মুমু।

    রোহিণী বলল, ঠিক আছে। আর একটা টেস্ট আছে।

    পকেট থেকে সে একটা স্টপ ওয়াচ বার করে বলল, মুমু, ঐ যে দূরের বড় শাল গাছটা দেখছ, ঐ পর্যন্ত দৌড়ে যাবে, গাছটা ছুঁয়েই ফিরে আসবে। যত পার জোরে ছুটবে কিন্তু। আমি টাইমিং দেখব।

    মুমু দৌড় লাগাতেই আমি রোহিণীকে বললুম, ও বাড়ির জলের পাইপ বেয়ে ছাদ থেকে নীচে নামতে পারে। ও পাহাড়েও উঠতে পারবে।

    রোহিণী বলল, তাই নাকি? ছোটবেলায় আমারও এইরকম স্বভাব ছিল। চন্দননগরে থাকার সময় আমি বড় বড় গাছে চড়ে বসে থাকতুম!

    ফিরে আসার সময় একেবারে শেষ মুহূর্তে মুমু আছাড় খেয়ে পড়ে গেল আমাদের পায়ের কাছে এসে। আমি তাকে তুলতে যেতেই রোহিণী বলল, উঁহু, ওকে ধরবেন না। এমন কিছু হয়নি, শুধু একটু হাঁটু ছড়ে গেছে। পাহাড়ে চড়তে গেলে ওরকম অনেকবার হবে। এক্সেলেন্ট টাইমিং। ভেরি গুড, মুমু! ঠিক আছে, তুমি আমার সঙ্গে থাকবে। আজ তিনটের সময়েই একটা ওপরে ওঠার ট্রেইনিং আছে, তুমি তাতে যোগ দেবে, রেডি হও! আরতি, ওকে নিয়ে যাও তো আমার টেণ্টে।

    আমার দিকে ফিরে রোহিণী বলল, আপনি এখন কী করবেন? এদিককার লাস্ট বাস সাড়ে চারটের সময়।

    আমি বললুম, আপনার এখানে চাকর কিংবা দারোয়ান হিসেবে আমি থেকে যেতে পারি না? আমি রান্নাও করতে পারি।

    রোহিণী মাথা নেড়ে বলল, না, আপনার থাকা চলবে না। আমরা ছেলেদের কোনো সাহায্য নিই না। আপনি ইচ্ছে করলে মুকুটমণিপুর কিংবা বাঁকুড়ায় গিয়ে থাকতে পারেন। রোজ একবার করে দেখে যাবেন। কিংবা, তার দরকার কী? মুমু, এখানে তোমার বয়েসী এত মেয়ে আছে, সবাই মিলে থাকবে, দেখো, একটুও হোমসিক ফিল করবে না। সাতটা দিন থাকতে পারবে না?

    মুমু বলল, হ্যাঁ পারব!

    আমি বললুম, তা হলে মুমু, তোকে আমি সাতদিন পরে নিয়ে যাব! তারপর রোহিণীকে বললুম, ওর ট্রেইনিং-এর জন্য কত খরচ লাগবে? আমি

    কিন্তু দেড়শো টাকার বেশি দিতে পারছি না আপাতত

    রোহিণী বলল, এখন কিছু দিতে হবে না। সব ধার রইল।

    আমি বললুম, আপনার ধার কোনোদিন শোধ করা যাবে কি?

    রোহিণী বলল, আর তো সময় নেই। এক্ষুনি সবাইকে লাইন আপ করাতে হবে। মুমু ঠিক থাকবে, কিছু চিন্তা করবেন না।

    আমি মুমুকে এক পাশে নিয়ে গিয়ে বললুম, এটাও কিন্তু নিরুদ্দেশ। তোর ভালো লাগছে তো? কত নতুন বন্ধু হবে। পাহাড়ে চড়া শিখে যাবি। তারপর একদিন এভারেস্টেও উঠে যেতে পারিস।

    মুমু টলটলে চোখে আমার মুখের দিকে তাকিয়ে রইল একটুক্ষণ।

    তারপর আমার ঠোটে একটা আঙুল বোলাতে বোলাতে বলল, ব্লু, ঠিক সাত বছর বাদে। আই প্রমিস! তুমি যেন তখন ভুলে যেও না!

    পাহাড় থেকে আমি নেমে এলুম লাল ধুলোর রাস্তায়। এখানে কিছু নতুন শাল গাছ পোঁতা হয়েছে। কচি কচি পাতাগুলোকে কিশোর কিশোরীদের মুখের লাবণ্যের মতন মনে হয়। এখন আকাশে ঝকঝক করছে রোদ। এদিকে বৃষ্টি হয়নি তেমন।

    মাঠ ভেঙে হাঁটতে হাঁটতে আমি এগোলুম বড় রাস্তার দিকে। ফেরার বাস আসতে অনেক দেরি আছে, তাড়া নেই কিছু! এবার আমি কোথায় যাব? দিকশূন্যপুরে একবার ঘুরে এলে হয়। দিকশূন্যপুর মাঝে মাঝেই আমাকে হাতছানি দেয়। বন্দনাদি, রোহিলা, সেই আর্টিস্ট…

    মুমুকে দিকশূন্যপুরে নিয়ে যাওয়াটা উচিত হতো না। যদি মুমু আর ফিরতে না চাইত সেখান থেকে? না, চন্দনদা আর নীপাবৌদিকে এত কঠিন শাস্তি দেওয়া যায় না।

    বড় রাস্তার কাছাকাছি এসে একটা মস্ত বড় ছাতার মতন কৃষ্ণচূড়া গাছের নীচে একখণ্ড পাথরের উপরে বসলুম আমি। এই রকম মাঠের মধ্যে চুপচাপ বসে থাকাটা আমার বড্ড মোহময় লাগে। আমার হাতে এত সময়, তবু আমার সময় কাটাবার কোনো সমস্যা নেই। গাছতলায় একাকী বসলে গাছের সঙ্গেও কত কথা বলা যায়।

    মুমুর মুখটা মনে পড়ছে বারবার। আমি সেটা মন থেকে সরিয়ে দেবার চেষ্টা করছি। আমি মুসাফির, এত মায়া ভালো নয়। মুমু এখানে ভালোই থাকবে। আমি একটা ঝুঁকি নিয়ে মুমুকে এখানে এনেছিলুম, দৃঢ় বিশ্বাস ছিল, এই পরিবেশ, এক সঙ্গে প্রায় সমবয়েসি এতগুলো মেয়ের সঙ্গে থাকাটা মুমুর পছন্দ হয়ে যাবে। রোহিণীকে তো সে আগেই পছন্দ করেছে।

    প্রায় ঘণ্টাখানেক বাদে বাঁকুড়ার দিক থেকে ধুলো উড়িয়ে এল একটা জিপ প্রচণ্ড স্পীডে। খানিকটা দূরে থেমে গেল। ড্রাইভারটা মুখ ঝুঁকিয়ে পথচলতি একজন সাঁওতালকে জিজ্ঞেস করল পাহাড়ের দিকের রাস্তা।

    আমি উঠে চট করে লুকোলাম গাছের আড়ালে। এত তাড়াতাড়ি ওরা পৌঁছে গেল! রঘু তাহলে খুব সকাল সকাল চিঠিটা পৌঁছে দিয়েছে।

    জিপের স্টিয়ারিং-এ বসে আছে তপনদা। তার পাশে চন্দনদা। পেছনে নীপাবৌদি আর লালুদা।

    রোহিণী কি এখন ছাড়বে মুমুকে? মুমু কোর্স শেষ না করে ফিরে আসতে চাইবে? সে ওদের ব্যাপার, এবার ওরা বুঝে নিক। আমি আর ওসব ঝঞ্ঝাটের মধ্যে থাকতে চাই না। আমি দিকশূন্যপুরে চলে যাব, এখন বেশ কিছুদিন আমার পাত্তাই পাবে না চন্দনদারা!

    মুমু এখন পাহাড়ে উঠছে। আশা করি আর কোনোদিন ও বারান্দা থেকে ঝাঁপ দিতে চাইবে না।

    ⤶
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleঅর্ধেক মানবী – নীললোহিত (সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়)
    Next Article বিশেষ দ্রষ্টব্য – নীললোহিত (সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়)

    Related Articles

    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    বিশেষ দ্রষ্টব্য – নীললোহিত (সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়)

    August 10, 2026
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    অর্ধেক মানবী – নীললোহিত (সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়)

    August 10, 2026
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    বাড়ির খবর – নীললোহিত (সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়)

    August 10, 2026
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    ফুলমণি-উপাখ্যান – নীললোহিত (সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়)

    August 10, 2026
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    নীললোহিতের চোখের সামনে – নীললোহিত (সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়)

    August 7, 2026
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    নীললোহিতের অন্তরঙ্গ – নীললোহিত (সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়)

    August 7, 2026
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    अनीश दास
    मौलाना शाह वलीउल्लाह
    रेवरेंड के. के. जी. सरकार
    অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত
    অঁতোয়ান দ্য সাঁত-এক্সুপেরি
    অনন্যা পাল
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অনীশ দেব
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    অভিজ্ঞান রায়চৌধুরী
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক দত্ত
    অভীক সরকার
    অমরেন্দ্র চক্রবর্তী
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অরিন্দম দেবনাথ
    অর্পিতা সরকার
    অশোককুমার মিত্র
    অসম্পূর্ণ বই
    আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুর রহমান আল-আরিফি
    আবদুল হালিম
    আব্দুল মালেক আলী আল-কুলাইব
    আব্দুল হামীদ ফাইযী
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    কৌশিক সামন্ত
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোপেন্দ্র বসু
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভট্টাচার্য
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যজ্যোতি মজুমদার
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বাণ রায়
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পরিমল ভট্টাচার্য
    পরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিয়োদর দস্তইয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণু শর্মা
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাসরুর আরেফিন
    মাহতাব উদ্দিন
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রণদীপ নন্দী
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রশীদ করীম
    রাজর্ষি দাশ ভৌমিক
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    রাফিক হারিরি
    রেভারেণ্ড কে. কে. জি. সরকার
    লীলা মজুমদার
    লেইল লোনডেস
    লেখক
    শওকত আলী
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শঙ্কর চ্যাটার্জী
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শহীদুল্লা কায়সার
    শাক্যজিৎ ভট্টাচার্য
    শাক্যজিৎ ভট্টাচাৰ্য্য
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শৈবাল মিত্ৰ
    শ্যামল গঙ্গোপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রীপারাবত
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঙ্গীতা বন্দ্যোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সন্দীপন চট্টোপাধ্যায়
    সন্মাত্রানন্দ
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমীরণ গুহ
    সমুদ্র পাল
    সম্পাদনা : শৈলেন্দ্র হালদার
    সরদার ফজলুল করিম
    সরোজকুমার রায়চৌধুরী
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সায়ক আমান
    সায়ন্তনী পূততুণ্ড
    সায়ন্তনী পূততুন্ড
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুব্রত গুহ
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সেলিনা হোসেন
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ
    সৈয়দ শামসুল হক
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বপ্নময় চক্রবর্তী
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্মরণজিৎ চক্রবর্তী
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হরিশংকর জলদাস
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    কুবেরের বিষয় আশয় – শ্যামল গঙ্গোপাধ্যায়

    August 10, 2026

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    কুবেরের বিষয় আশয় – শ্যামল গঙ্গোপাধ্যায়

    August 10, 2026

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025
    Our Picks

    কুবেরের বিষয় আশয় – শ্যামল গঙ্গোপাধ্যায়

    August 10, 2026

    বিশেষ দ্রষ্টব্য – নীললোহিত (সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়)

    August 10, 2026

    কৈশোর – নীললোহিত (সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়)

    August 10, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }