Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    খারাপ ছেলে – বাণী বসু

    বাণী বসু এক পাতা গল্প214 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    বিপদ-আপদ

    —হ্যালো

    —মল্লিকাদি, কেমন আছ?

    —ভাল, কিন্তু জিনা তো এখনও ফেরেনি মুকুট!

    —জানি। তোমাকেই ডাকছিলাম।

    ‘ডাকছিলাম।’ কেমন অদ্ভুত কথাটা। কেউ তাকে ডাকে? ডেকেছে কখনও?

    সে বলল, বলো।

    —মুসৌরি যাচ্ছি। মল্লিকাদি, তোমরা যাকে বল ‘হনিমুন’। তুমি গিয়েছিলে?

    —হ্যাঁ, শাশুড়ি সহযোগে, পুরী।

    হাসির শব্দ ভেসে এল।

    —তুমি যা ভিতু, তোমার সব সময়েই একটা প্রোটেকশন দরকার হয়। না?

    —না মুকুট। তুমি যা ভাবছ আমি সেরকম না।

    —সেই দুপুরের স্বপ্নগুলো…দেখ? ম্যমির মতো লোক তাড়া করেছে…

    শিউরে উঠে মল্লিকা বলল, না। অনেকদিন দেখিনি। তুমি কি এখনও সেই নিয়ে ভাবছ?

    —ঠিক আছে। কেন জানি না বেড়াতে যাবার সময়ে তোমার কথা মনে হল। ভাল থেকো।

    মুকুট শেষ কথাটার জবাব দিল না।

    —চেষ্টা তো করি। বিপদে পড়লে বিপদভঞ্জন মধুসূদনকে ডাকতেই হয়। —মল্লিকা বলল।

     

     

    —‘বিপদে আমি না যেন করি ভয়—’ এই মন্ত্র জপ করবে। বুঝলে?

    —বুঝলাম। যাও, তোমরা আনন্দ করে এসো। তাড়াতাড়ি ফিরো। আমাদের ভুলে যেয়ো না।

    একই পৃথিবীতে নানান মানুষ জন্মাচ্ছে। প্রত্যেকের জিভে জীবনের স্বাদ কেন আলাদা রকম? সে বুঝতে পারে পৃথিবীটা কোথাও খুব সুন্দর, জীবনটাও খুবই চমৎকার। কিন্তু তার অনুভবে ব্যাপারটা ধরা দিতে দিতেও দেয় না। এই অল্প বয়সের দুঃখ-কষ্টের চোঁয়াঢেঁকুর কি সারা জীবনই উঠতে থাকবে? কেন? কেন সে এর ওষুধ খুঁজে পায় না? অথচ, তার তো সবই আছে। দিদি মাঝে মাঝে চিঠি লেখে—‘মল্লি, তুই খুবই ভাল আছিস জানি। আমার একমাত্র ছেলেটা লন্ডনে সেট্‌ল করে গেল, কাউকে বোঝাতে পারি না এ কষ্ট।’ এ কি কাউকে তেমন করে ভালবাসতে না পারার কষ্ট? এ কথাও মল্লিকার এক এক সময়ে মনে হয়। সে কাউকে ভালবাসেনি, তাকেও কেউ ভালবাসেনি। কেউ নেই যাকে বিশ্বাস করে নিজের সব কথা বলা যায়। শাশুড়ি যথেষ্ট আদর দিতেন, কিন্তু তাঁকে বলতে পারেনি, স্বামী সদাশয়, তাকেও বলতে পারেনি—সবাই যেন বড্ড দূরে দূরে। হাত বাড়িয়ে সে কাউকে ছুঁতে পারে না। ভেতরে কথা জমে, কান্না জমে, বুকটা পাথর হয়ে থাকে। তার যদি একটা সত্যিকারের বাবা থাকত! সেইসব গল্পের বাবার মতো যাঁরা মেয়ের সুখশান্তির জন্য কোনও কাজেই পিছপা হন না! একজন অগতানুগতিক বাবা!

     

     

    গা ধুয়ে একটা হলুদ খড়কে ডুরে পরে সে আয়নার সামনে দাঁড়াল। কপালে ভাল করে একটা টিপ আঁকছে। রঙিন কুমকুম দিয়ে। ফোনটা বাজল। এইসময়ে সাধারণত রং নাম্বারগুলো আসে। ঝুম্পা-মাম্পির বন্ধুরা জানে ওরা এ সময়ে থাকবে না। জিনার বাপের বাড়ির ফোনগুলোও আসে সন্ধের পর।

    —এটা কি তেত্রিশ নম্বর ডাফ স্ট্রিট?

    —আপনি কাকে চাইছেন?

    অপরিচিত পুরুষ কণ্ঠ বলল, চিত্তরঞ্জন অ্যাভেনিউয়ে ডক্টর সেনগুপ্ত’জ ক্লিনিক থেকে বলছি। মল্লিকা দেবী কি আছেন?

    —হ্যাঁ। কেন? বলছি।

    —আপনার বাবা কল্যাণবাবুর একটা অ্যাকসিডেন্ট হয়েছে। আপনারা যে যে আছেন, চলে আসুন। ওঁকে হাসপাতালে রিমুভ করতে হবে।

     

     

    মল্লিকার হাত-পা কাঁপতে শুরু করেছিল। কেমন গা-বমি করছে। বাবা? অ্যাকসিডেন্ট? বাসের তলা, না ট্রাকের তলা! দলা পাকানো রক্তাক্ত একটা দেহ ছাড়া চোখের সামনে সে আর কিছুই দেখতে পাচ্ছিল না। কী করবে? এসব সময়ে কী করতে হয়? সে বিমানের অফিসে ফোন করল। বেজে যাচ্ছে। অফিস বন্ধ। বিমান বেরিয়ে পড়েছে, কিন্তু এক্ষুনি বাড়ি ফিরতে পারবে না। অন্তত ঘণ্টা দুই সময় তো লাগবেই। তা হলে? নিখিল? না, নিখিল না। কোনওক্রমেই নিখিল নয়। কিন্তু নিখিলও তো বাবার ছেলে। তারও তো খবর পাওয়া উচিত! বোতাম টিপল সে ফোনের। দীর্ঘদিন তার সঙ্গে বাক্যালাপ নেই মল্লিকার।

    —হ্যাললো।

    গলা কেঁপে গেল তার।

    —বউদি বলছি। বাবার অ্যাকসিডেন্ট হয়েছে, চিত্তরঞ্জন অ্যাভেনিউয়ে ডক্টর সেনগুপ্ত’জ ক্লিনিকে আছেন।

    এক মুহূর্ত চুপ। তারপর কণ্ঠ ভেসে এল—বাড়িতে থাকো। আমি এক্ষুনি যাচ্ছি।

     

     

    প্রতি মুহূর্তে বিমানকে আশা করছে মল্লিকা। জিনা। অন্তত জিনাও তো আসতে পারে। কোথায় ‘রোচনা’ না কী এক প্রজেক্ট নিয়ে মেতেছে। —ঋত্বিকের ব্যাপার। ওরা সম্ভবত জিনাকে একটু দেখাশোনা করতে বলে গেছে।

    বেলের শব্দ। কেমন শীত শীত করছে তার। সে দরজা খুলে দিল। নিখিল। সময় নষ্ট না করে বলল, এসো। দরজায় চাবি দিয়ে কোনওমতে গাড়িতে উঠল মল্লিকা।

    সামনের দরজাটা খুলে ধরেছে নিখিল, অন্ধের মতো সে উঠে গেল।

    —কী হয়েছে?

    —কিচ্ছু জানি না। শুধু ওইটুকু বলেই ওঁরা ফোন রেখে দিলেন।

    —জিনা কই?

    —জানি না। কোথাও বেরিয়েছে। —খুব সাবধানে জিনার গন্তব্যস্থল গোপন রাখে মল্লিকা। ভীষণ রাগ হয় জিনার ওপর। সে যদি থাকত এরকম আতান্তরে পড়তে হত না তাকে। পরক্ষণেই রাগটা নিজের ওপর এসে পড়ে। একটা কাজও কি সে নিজে দায়িত্ব নিয়ে করতে পারে না! কী হত ফোনটা করেই ডক্টর সেনগুপ্তর ওখানে চলে গেলে! নিখিলের সঙ্গে এক গাড়িতে যাবার গ্লানি তা হলে তাকে ভোগ করতে হত না। বাড়িতে কাউকে কোনও মেসেজ দেওয়া গেল না। কারও কাছে চাবি নেই। সে বাড়িতে থাকে বলে, বিমান সবসময়ে ডুপ্লিকেট রাখে না। কী ভাবে ঢুকবে ওরা?

     

     

    ক্লিনিকে গিয়ে পরিষ্কার হল ব্যাপারটা। পা ছড়িয়ে ডাক্তারের বেড-এ শুয়েছিলেন। মুখে যন্ত্রণার চিহ্ন। মাথায় ব্যান্ডেজ।

    ডাক্তার বললেন, মাথা ফেটেছে। সতেরোটা স্টিচ দিতে হয়েছে। কিন্তু বাঁ পায়ে কম্পাউন্ড ফ্র্যাকচার। হসপিট্যালে যেতে হবে। খুব সম্ভব অপারেশন করতে হবে।

    —কী করে হল? রাস্তায় কি মাথা-টাথা ঘুরে পড়ে গেলেন?

    —পড়ে যাবেন কী? ডাক্তার বললেন, মারা হয়েছে ওঁকে পেছন থেকে। লাঠির বাড়ি। সোনাগাছির ব্যাপার…কী কারণে কার ওপর রাগ হয়েছে, মেরে দিল বুড়ো মানুষটাকে…

    —সোনাগাছি? —নিখিলের হতবুদ্ধি মুখের দিকে তাকিয়ে ডাক্তার মুচকি হেসে বললেন—আরে—এদিকে উনি বাচ্চাদের কী সব ক্লাস-ট্‌লাস নেন।

     

     

    —সোনাগাছিতে?—নিখিল মল্লিকার দিকে তাকাল—বাবা ক্লাস নেবার আর জায়গা পেলেন না?—মল্লিকা কোনও জবাব দিল না।

    শ্যামবাজারের দিকে একটা নার্সিং হোমে তাঁকে ভর্তি করে পরের দিনই অপারেশনের প্রস্তুতির কথাবার্তা বলে ফিরতে ফিরতে রাত নটা বেজে গেল। মল্লিকা কয়েকবার ভাবল নিখিলের ওপর এবার সবটা ছেড়ে দিয়ে বাড়ি ফিরে যায়। সেখানে নিশ্চয় এখন হুলুস্থূল পড়ে গেছে। কিন্তু নিখিল এত গম্ভীর আর বাবা এমন করে তার ওপর একান্তভাবে নির্ভর করে আছেন! দেখলেই বোঝা যাচ্ছে যন্ত্রণাও হচ্ছে খুব। সে কিছুতেই কথাটা বলতে পারল না।

    কিন্তু বাড়িতে এসে দেখল, আলো জ্বলছে, অস্বাভাবিক কিছু ঘটেছে বলে মনে হচ্ছে না। নিজের চাবিটা সে খুঁজে পেল না, বেল শুনে দরজা খুলে দিল ঝুম্পা। পেছনে মাম্পি। —‘কোথায় গিয়েছিলে মা?’ বিমান নাকি স্থির করেছিল সাড়ে নটা অবধি দেখে পুলিশে খবর দিতে যাবে। জিনাই আগে আসে, সে-ই সবাইকে দরজাটরজা খুলে দিয়েছে। হারানো চাবিটার কথা কয়েকদিনের ডামাডোলে মল্লিকা বেমালুম ভুলে গেল।

     

     

    জিনার অনুপস্থিতিতে আসলে তার কাজটা কদিন চালিয়ে দিচ্ছিলেন কল্যাণবাবু। পূর্ণিমা আর বনমালাকে তিনি একটু আলাদা করে কোচ করছেন। এদের দুজনেরই ক্লাস ফোর-ফাইভ পর্যন্ত বিদ্যা ছিল। মাথা ভাল। অন্যদের অনেক পেছনে ফেলে এগিয়ে গেছে। সেদিন পাঁচটা বাজে দেখে তিনি উঠে পড়েছিলেন। তখনও দু-একটা শক্ত অঙ্কের সমস্যা মাথায় ঘুরছিল। অনেকদিন আগের বিদ্যে তো! মরচে পড়ে গেছে। বান্ধবসমিতির চৌকাঠ থেকে দশ-বারো গজও যাননি মাথার পিছনে একটা প্রচণ্ড আঘাতে চোখে সর্ষেফুল দেখলেন কল্যাণবাবু, একটা লাঠি আর গোটা দুই মানুষের আবছা আকৃতি, ব্যস আছড়ে পড়লেন রাস্তায়। অজ্ঞান। লাঠির বাড়ি খেয়ে আঁক করে একটা শব্দ হয়তো করেছিলেন। শোনবার মতো কেউ কাছাকাছি ছিল না। দোকানপাটও তখন সব ঝাঁপ বন্ধ। পূর্ণিমাকে সঙ্গে নিয়ে নিজের ঘরের সামনের বারান্দায় এসে দাঁড়িয়েছিল বনমালা। তখনই দেখে দৃশ্যটা। হাত-পা ছড়িয়ে উপুড় হয়ে পড়ে আছেন কল্যাণবাবু, মাথা থেকে একটা রক্তের ধারা নেমে পাঞ্জাবির পিঠ ভিজিয়ে দিচ্ছে।

    সঙ্গে সঙ্গে দুজনে চেঁচামেচি করে লোক জড়ো করে। তারপর তাদের সাহায্যে ক্লিনিকে নিয়ে যাওয়া হয়। তোলবার সময়ে একবার চিৎকার করেই অজ্ঞান হয়ে যান কল্যাণবাবু। তখনই বোঝা যায় পা-ও ভেঙেছে। সামান্য পরে জ্ঞান আসতে বাড়ির ফোন নম্বর তিনিই বলেন।

     

     

    পরের দিন তাঁকে দেখতে গিয়ে জিনা চুপিচুপি বলল, বাবা, ও কিন্তু এখনও জানে না আমিও ওখানে যাই। জানলে তুলকালাম করবে। কিন্তু আপনাকে মারল কে বলুন তো?

    এ কথা কল্যাণবাবুও অনেক ভেবেছেন। তাঁর ধারণা লাঠিটা ছিল অন্য কারও জন্য। ভুল করে তাঁর মাথায় এসে পড়েছে। তবু তিনি আর ঝুঁকি নিতে চান না। জিনার আর ওসব জায়গায় না যাওয়াই ভাল। জিনাকে পাহারা দিতেই তো তিনি ওখানে ঢুকেছিলেন। তাঁর মনে পড়ে গেল দুটি বাজে লোককে পিছু নিতে দেখেন তিনি বাস থেকে। তবে? তবে কি তাঁর মতো একজন সঙ্গীকে জিনার পাশ থেকে সরানোই কারও উদ্দেশ্য ছিল? এখন কতদিন তিনি অচল হয়ে থাকবেন কে জানে? জিনা একা যাতায়াত করবে?…সর্বনাশ! যতক্ষণ না পরদিন বিকেলে জিনা নার্সিং হোমে এল তিনি ছটফট করতে লাগলেন।

    বিকেল চারটে না বাজতেই আসে জিনা আর মল্লিকা। এ সময়ে ছেলেরা আসে না। নাতনিরাও নয়। এ সময়টুকু তাই প্রাইভেট। অপারেশনটা হয়ে গেছে। ফিমার ভাঙেনি এই রক্ষা। কিন্তু হাঁটুর তলায় সাপোর্টিং রড ঢোকাতে হয়েছে।

     

     

    জিনা বলল, ইস বাবা, আমার জন্যেই আপনার এত দুর্ভোগ।

    তখনই কল্যাণবাবু সুযোগ পেয়ে গেলেন, বললেন, বুঝে বলছ? না না-বুঝে কথার কথা বললে?

    —কথার কথা? বাবা?—জিনা রীতিমতো অভিমান করে—আমি কি জানি না—আমার জন্যেই আপনি…

    —কথাটা তা নয় জিনা। আজকাল ছোট বউমাকে জিনাই বলেন কল্যাণবাবু, যেটা আমাকে ভাবাচ্ছে সেটা হল কেন এই ঘটনাটা ঘটল।

    মল্লিকা বলল, কেন ঘটেছে, অত বৃত্তান্ত ভাবতে হবে না। আপনারা তো দিব্যি মানবেন না। নইলে বলতুম আমার মাথার দিব্যি রইল—আপনারা দয়া করে আর ও পাড়ায় যাবেন না।

    —আদেশ নাকি?—কল্যাণবাবুর মুখে মৃদু হাসি।

    —তাই বলেন তো তাই। একটু হাসি মল্লিকারও মুখে। পরক্ষণেই সেটা মুছে গেল। সে বলল, বাবা এত জানেন শোনেন, এভাবে বাস্তব বুদ্ধি কী করে লোপ পায় আপনাদের আমি জানি না। মুকুটরা করছে, তাদের পেছনে একটা পুরো প্রতিষ্ঠান আছে, আপনারা কার ভরসায় করছেন এসব? একার চেষ্টায় এসব করা যায় না বাবা!

     

     

    জিনা বলল, একা তো নয়! আমাদের দায়িত্ব তো মুকুটদেরও আছে। আমারটা তো আছেই। আমাকে ওরা পে করে। বাবারও বইপত্তর, ব্ল্যাকবোর্ড সবই তো দিয়েছে। দায়িত্ব এড়াতে পারবে না।

    মল্লিকা বলল, উঁহু, জিনা তুমি মুকুটদের কাজ পুরোপুরি করছ না। তুমি নিজের মতো করে করছ। ওদের গাইড-লাইন তুমি মান না, নিজেই বল সে কথা। বল না?

    —দিদিভাই, তুমিও কি ওদের মতো বলবে— এইসব মেয়েরা এইভাবেই থাক। অন্ধকার পার হতে না পারুক। আমরা ভাল আছি, ভাল থাকব, আমাদের মুক্তির জন্য, ভাল থাকার জন্য কত চিন্তা, আর এই পৃথিবীতেই দেশে দেশে মেয়েদের একটা বিরাট অংশ এইভাবে… তার মুখ কালো হয়ে গেছে।

    কল্যাণবাবু বললেন, ঠিক আছে মা, এখন ক’দিন যাক না! পরে ভেবে দেখা যাবে কী করা যেতে পারে। কিছু না-কিছু একটা উপায় বার হবেই।

    ফেরবার পথে ওরা নিখিল বা বিমানের সঙ্গে ফেরে। আলোচনা থেমে যায়।

     

     

    সকালবেলা মল্লিকা একাই আসে৷ সেদিন এসে দেখল দুটি মেয়ে বসে আছে। তাদের সঙ্গে কল্যাণবাবুর রীতিমতো আলোচনা হচ্ছে কোনও এক অজ্ঞাত বিষয়ে। সে অবশ্য দুয়ে দুয়ে চার করতে পারল। কিন্তু সত্যিই, মেয়েদুটিকে দেখে বোঝবার জো নেই তারা কোথায় থাকে, কী করে। ছোটটি তার ঝুম্পার মতো, ঝুঁটি করে চুল বাঁধা একটা ক্লিপ দিয়ে। মেয়েটি মনে হয় খুব কান্নাকাটি করেছে, চোখদুটো লাল, ঈষৎ ফুলে আছে। শামলা রঙের মুখখানি ভেজা ভেজা। একটু দরিদ্রের ঘরে যেমন লাবণ্য অভাবের তলায় চাপা পড়ে থাকে, এর চেহারার জাত সেইরকম। তা নয়তো বেশ বাড়ন্ত, তরুণীসুলভ। সালোয়ার-কামিজ পরে রয়েছে মেয়েটি, ছাপা কাপড়ের। কোনওরকম প্রসাধন নেই। কল্যাণবাবু বললেন, এর নাম পূর্ণিমা, আমাদের ছাত্রী, ইনি মল্লিকা, তোমাদের দিদিমণিরও দিদিমণি। আর এর নাম বনমালা।

    দুজনেই ঢিপ ঢিপ করে সঙ্গে সঙ্গে প্রণাম করে ফেলল। মল্লিকা বাধা দেবার সময় পেল না।

    বনমালা মেয়েটি একটা মিলের ছাপা শাড়ি পরেছে। ছোটখাটো, মল্লিকারই ধরনের, তারই মতো দোহারা কাটাকাটা চেহারা, মুখের আদলটা প্রতিমা-ধরনের, যদিও তেমন কোনও শ্রী নেই। এর চুলও তারই মতো ঈষৎ কোঁকড়া। চুলটা ছড়ানো ছিল। মেয়েটিকে দেখে কী যে অদ্ভুত একটা অস্বস্তি হল মল্লিকার সে বলে বোঝাতে পারবে না। মেয়েটির মাথায় সিঁদুর, ভুরু প্লাক করা, মধ্যবিত্ত গৃহস্থবাড়ির বউয়ের মতো অবিকল।

    পূর্ণিমা সঙ্গে করে একটা খাতা আর বই এনেছে। অঙ্ক বুঝে নিচ্ছে কল্যাণবাবুর কাছে।

    ওরা চলে গেছে, তবু মল্লিকা কেমন অন্যমনস্ক হয়ে আছে। ঝুম্পা আর পূর্ণিমা, সে আর বনমালা কীরকম এক অথচ আলাদা। ঝুম্পা ফিজিক্স নিয়ে বি. এসসি পড়ছে, আর একবার জয়েন্ট দেবে, চান্স পেলেই ইলেকট্রনিকস এঞ্জিনিয়ারিং-এ চলে যাবে। আর ঝুম্পার বয়সি এই মেয়েটি? দেহ খাটিয়ে অন্নসংস্থান করে। কেউ নেই, বাবা, মা, ভাই, বোন, কোনও অভিভাবক যে একে পালন করবে। একভাবে জন্ম, আলাদা জীবন, আলাদা নিয়তি। আর ওই বনমালা? যদি ওর বদলে তারই কোনও অজগাঁয়ে গরিব চাষির ঘরে জনমজুর-খেতমজুরের ঘরে জন্ম হত, আর বনমালার কোনও বিপত্নীক কমপাউন্ডারের ঘরে! ও-ই যদি কোনও আরতি দে সরকারের চোখে পড়ে যেত! তা হলে তাদের ভাগ্য বদলাবদলি হয়ে যেত। আরতি দে সরকার যদি তাকে পছন্দ করে না ফেলতেন, তবে তারই বা কী গতি হত! ভাবতে ভয় পেয়ে গেল মল্লিকা। চুপচাপ সে টিফিন ক্যারিয়ারটা নিজের ব্যাগের মধ্যে থেকে নামিয়ে রাখল। ছোট্ট মিটসেফটার ভেতরে সন্দেশ জমে গেছে, বাকসোগুলো আয়াদের ডেকে দিয়ে দিল। পুরনো টিফিন ক্যারিয়ারটা ভরে নিল। দুটো বই নামিয়ে রাখল টেবিলে। আস্তে বলল—বাবা এবার যাই?

    কল্যাণবাবু চোখ বন্ধ করে শুয়েছিলেন। এবার খুলে বললেন, রাগ করো না বউমা।

    মল্লিকা অবাক হয়ে বলল, রাগ? রাগ করব কেন?

    —আমি তোমার আপত্তির কথা জানি। ইউ আর জাস্টিফায়েড। তোমার মতো একজন শুচিশুদ্ধ বাড়ির বউ এদের সংস্পর্শ সহ্য করতে পারবে না, পারার কথা নয়, এটুকু বুঝতে আর অসুবিধে কী! আমরাই কি আগে পেরেছি? জিনাও পারেনি। কিন্তু একবার ব্যাপারটার ভেতর ঢুকলে বড় আত্মগ্লানি হয়! আজকের পৃথিবীতে, এখনও, এত মানবাধিকার কমিশন, এত নারীমুক্তি, এত সর্বহারার একনায়কতন্ত্র হচ্ছে, এরই মাঝখানে মেয়েদের এভাবে সেক্স-স্লেভ করে রেখে দেওয়াটা চলছেই। কারও মনে প্রশ্ন পর্যন্ত ওঠে না। একমাত্র সোভিয়েত রাশিয়া আর চিন কিছুকালের জন্য বন্ধ করেছিল জিনিসটা। এদের মধ্যে ভ্যালুজ গড়ে উঠতে পারেনি তেমন করে, তবু কাজটা জঘন্য, এরকম একটা বোধ এদের এখনও আছে। সেটাকেও কিন্তু নষ্ট করে দেবার চেষ্টা হচ্ছে। অর্গ্যানাইজ্‌ড্‌ ইনস্টিট্যুশন্যাল লিগ্যাল একটা বিশ্বজোড়া মেয়েবাজার তৈরির চেষ্টা চলছে মা। আমাদের কতটুকুই বা শক্তি। কতটুকু পারব, প্রাণপাত করলেও পারব না। কিন্তু এই পূর্ণিমার মতো মেয়েগুলোর জন্য বড় কষ্ট হয়। স্বাভাবিক মেয়ে, বেশ মেধাবী। এসব পাড়ায় বেশির ভাগই বুদ্ধিবৃত্তিতে সাব-হিউম্যান স্তরে রয়ে গেছে। কিন্তু এ মেয়েটা ক্লাস ফাইভ পর্যন্ত পড়েছিল। ইচ্ছে ছিল, আছে। ধরো, ও যদি সুযোগ পেত! কেন একটা স্বাভাবিক জীবনের সুযোগ ও পাবে না? মানব-সম্পদের কী বিপুল অপচয় হচ্ছে বুঝতে পার? প্রজননের ক্ষমতা আছে বলে মানুষ প্রজননের সীমা কোথাও টানবে না? পৃথিবী যত মানুষকে স্বচ্ছন্দে খাওয়াতে পারে তার চেয়ে অনেকগুণ বেশি ভার চাপিয়ে দেওয়া হবে তার ওপর, সৃষ্টি হবে উদ্‌বৃত্ত মানুষ, আর উদ্‌বৃত্তকে নিয়ে চলবে বাকি মানুষদের। প্রিভিলেজ্‌ড্‌ মানুষদের অমানুষিক ব্যবহার? বনমালার তবু একটা আশ্রয় আছে। একটি লোকের সঙ্গে থাকে। একজনই। ঠিক আছে বাবা, সামাজিক পরিচয় না-ই হল, তবু তো একটা অর্থ আছে, শৃঙ্খলা আছে তার জীবনযাত্রার! কিন্তু পূর্ণিমা? আর বনমালার ওই লোকটিই বা কী? কেন দেবে না পরিচয়? কেন এভাবে মার্জিন্যালাইজ করে রাখবে? কেন?

    —বাবা, আপনি বড্ড বেশি উত্তেজিত হয়ে যাচ্ছেন, মাথায় সতেরোটা স্টিচ আপনার! —মল্লিকা বলল।

    একটু অসন্তুষ্ট হলেন কল্যাণবাবু, বললেন, সত্যি, আমি অনর্থক নিজের চিন্তা নিয়ে তোমায় বিরক্ত করছি। তোমার নিশ্চিন্ত শান্তির জীবন। তুমি কেন এসব ভাবতে রাজি হবে! আমারই ভুল!

    মল্লিকা ছিল তাঁর মাথার দিকে। লজ্জা পেল, দুঃখও পেল ভীষণ। বলল, বাবা, আমি আপনার কথা সব শুনেছি, সবটা বুঝেছি বা মানছি তা বলব না, কিন্তু আপনার উদ্‌বেগ, কষ্ট এ সবই আমি বুঝেছি বাবা। তবে কী জানেন, আপনারা যেটাকে মনে করেন নিশ্চিন্ত শান্তির জীবন, তেমন কিছুও কিন্তু খুব কম আছে। অনেক অনেক জট চারিদিকে, আমার মতো নিরীহ মেয়েরা হয়তো সেইসব জট কী করে খুলবে ভাবতে ভাবতেই জীবন কাটিয়ে দেয়। সে আবার আর একরকম অন্ধকার।

    কল্যাণবাবু চমকে বললেন, তুমি একবার এদিকে আমার সামনে এসো তো!

    তিনি একটা অপ্রত্যাশিত ধাক্কা খেয়েছেন। বড় বউমাকে এভাবে কথা বলতে তিনি কখনও শোনেননি। অন্ধকার? কীসের অন্ধকার? মল্লিকা কেন এত দুঃখ পেল তাঁর কথায়!

    মল্লিকা সামনে এসে দাঁড়াল। প্রশান্ত মুখ। বলল, এবার আসি? ওয়ার্নিং বেল বেজে গেছে।

    কল্যাণবাবুকে চিন্তিত রেখে সে নীচে নেমে গেল।

    নীচে নামতেই কে ডাকল—দিদিভাই! পাশের দিকের একটা বেঞ্চে বসে আছে পূর্ণিমা আর বনমালা। অর্থাৎ তারই জন্যে অপেক্ষা করছে।

    পূর্ণিমা এগিয়ে এসে বলল, দিদির সঙ্গে আমার খুব জরুরি দরকার। কী করি বলুন তো? দিদি তো এখন বেশ কিছুদিন আসবেন না!

    মল্লিকা ভাবছিল। বনমালা বলল, যদি দিদির বাড়িতে যাই? একটুখানির জন্যে? ওখানে কি অনেকে থাকেন? বাইরের ঘর থেকে একটু কথা বলেই চলে আসব।

    —কী কথা? আমাকে বলা যায় না! অবশেষে বলল মল্লিকা।

    মেয়েদুটি মুখ নিচু করে চুপ করে রইল।

    ওদের দিকে চেয়ে হঠাৎ মল্লিকার মনে হল চল্লিশের কাছে বয়স হল তার। আজ অবধি একটা বিষয়েও নিজের বুদ্ধিতে, কাউকে জিজ্ঞেস না করে সামান্যতম কাজও করেনি সে। আজ, এতদিন পরে, একটা না-হয় করলই। এখন সকাল এগারোটা। দুই বাড়িতেই কেউ থাকবে না। তার বাড়িতে তবু মলি নামে কাজের লোকটি থাকে এইসময়ে। জিনার বাড়ি একেবারে ফাঁকা। সে বলল, চলো।

    —যাব?

    —হ্যাঁ, এসো—সে বেরিয়ে একটা ট্যাকসিকে হাত দেখাল।

    —আজই যাব?

    —বলছিলে যে জরুরি? এখন গেলে কথা বলতে পারবে।

    জিনার বেল টিপল মল্লিকা।

    —খুলে অবাক হয়ে গেল জিনা। এদিক দিয়ে তো মল্লিকার আসার কথা নয়!

    —কী ব্যাপার? দিদিভাই! পরক্ষণেই মেয়েদুটিকে দেখতে পেল সে।

    —তোরা? —ভেতরে ঢুকে দরজা বন্ধ করে বলল জিনা।

    মল্লিকা অপেক্ষা করল না। চলে গেল।

    বনমালা বলল—দিদি পূর্ণিমার ওপর ওরা যা-নয়-তাই অত্যেচার করছে।

    —কে?

    —মাসি৷ পাড়া থেকে কেনাদের দলকে ডেকে এনেছে। কাল সারা রাত দফায় দফায় কেনাদা রবিগুন্ডা সবাই মিলে ওকে রেপ করেছে। মাসি দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে করিয়েছে এসব। আমি খবর শুনে গিয়ে ছাড়াই।

    শিউরে উঠে জিনা বলল—কেন? হঠাৎ?

    —এর কোনও ‘কেন’ সবসময়ে থাকে না দিদি। ওদের পাওনা-গন্ডার শেয়ার না দিলে, মাসির রাগ হলে এসব যখন-তখন হয়। ও আসলে বলে ফেলেছিল মাধ্যমিক পরীক্ষা দেবে, কলেজে পড়বে।

    —কেন বললি? তোকে এসব বলতে বারণ করে দিয়েছিলাম না?

    পূর্ণিমা ক্লান্ত কাঁদো কাঁদো গলায় বলল—আমি অঙ্ক কষছিলাম দিদি। লোক বসাতে ভাল লাগছিল না। বলেছিলুম—আজকের দিনটা আমায় ছেড়ে দাও না! তাইতে বলল—কেন? বিদ্যেধরী, জজ-ম্যাজিস্টর হবি, না কি? তাতেই বলে দিয়েছি—হবই তো, এ পাড়া আমি ছাড়বই ছাড়ব, কলেজে পড়ব, আইন পড়ব…তারপর তোমাদের দেখে নেব… বলেছি স্বীকার করছি দিদি। আমার মনে হচ্ছে মাসি আমাকে বিককিরি করে দেবে। কেনাদার সঙ্গে কাবলেমতো একটা লোক কথা বলছিল, আমার খুব ভয় করছে দিদি, ওরা আমাকে কোন দূরদেশে পাঠিয়ে দেবে।

    তারই জন্য কি এ মেয়েটির জীবনে আরও অন্ধকার ঘনিয়ে এল? অন্ধকারেই ছিল। তাকে এত অন্ধকার বলে জানত না। এখন জানে। তার বাড়িতে থাকার জায়গা দেওয়া যায়। কিন্তু সেটা নিখিলের অনুমতিসাপেক্ষ। কত আর মিথ্যে কথা সে বলবে? দিদিভাইয়ের বাড়িতেও সেই এক প্রবলেম! তার ওপরে আছে দুটি কাজের লোক। তাদের অসীম কৌতূহল। পূর্ণিমার আসল পরিচয় খুঁজে বার করতে তাদের দশ মিনিটের বেশি সময় লাগবে না। আচ্ছা ‘রোচনা’য় নিয়ে গেলে হয় না? ঋত্বিকের অনুপস্থিতিতে সেই এখন কাজ চালাচ্ছে। কারও অনুমতি নেবার দরকার নেই। সে বলল—এক্ষুনি এক জায়গায় নিয়ে যেতে পারি। এখুনি যেতে হবে কিন্তু।

    —এখুনি? জামা কাপড়? টাকা পয়সা? সবই তো…

    বনমালা তাড়া দিয়ে বলল, সেসব আনতে গেলে আর ফিরতে পারবি না পূর্ণিমা। ওরা কি তোর ওপর নজর রাখেনি ভেবেছিস? যা-ই এখন পুরো পাড়া ঘুমোচ্ছে, তাই বেরিয়ে আসতে পেরেছিস। দিদি যা বলছেন শোন—আমি তোর যতটুকু পারি উদ্ধার করে দেবার চেষ্টা করব।

    জিনা বলল, জামাকাপড়ের প্রবলেমটা আমি এখুনি সল্‌ভ করে দিচ্ছি। দাঁড়া। সে চটপট নিজের কিছু শাড়ি, ব্লাউস, সালোয়ার-কামিজ ইত্যাদি একটা জুটের ব্যাগে ভরে ফেলল। টাকা পঞ্চাশেক নিজের সঞ্চয় থেকে একটা পার্সে ভরে দিল। তারপর জামাকাপড় বদলে এসে বলল, বনমালা তুই ফিরে যা। পূর্ণিমা চল।

    পূর্ণিমা ভয়ে ভয়ে বলল, কোথায় নিয়ে যাচ্ছ দিদি? লোকের বাড়ি কাজ করতে কিন্তু আমি পারব না।

    —না, লোকের বাড়ি কাজ করতে নিয়ে যাচ্ছি না। কিন্তু সেভাবেও অনেকে বড় হয় জানিস? কাজকে ভয় করিস কেন?

    —কাজের কথা হচ্ছে না। পুরুষ মানুষ থাকলে সে-বাড়ি আমি যাব না দিদি— পূর্ণিমা গোঁজ হয়ে দাঁড়িয়ে রইল।

    জিনা বিরক্ত হয়ে বলল, বললাম তো কারও বাড়ি নিয়ে যাচ্ছি না!

    —কোনও হোমটোমেও আমি যাব না।

    —না রে বাবা, হস্টেল হয়েছে ‘রোচনা’ শুনেছিস তো? সেখানেই নিয়ে যাচ্ছি।

    —ওখানে তো আমাদের পাড়ার ছেলেমেয়েও আছে, যদি জানাজানি হয়ে যায়?

    —অত ভয় করতে হবে না। আমি তো আছি। ওখানে বন্দুক হাতে দারোয়ান পাহারা দেয়। যে-কেউ ফট করে ঢুকতেই পারে না।

    ‘রোচনা’তে সুধাদির জিম্মা করে দিল সে পূর্ণিমাকে। বেশি কথা বলল না, খালি জানাল—মেয়েটি কিছুদিন থাকবে। একটু বিপদে পড়ে গেছে। তাকে যেন কোনওমতেই বাইরে পাঠানো না হয়।

    আসবার সময়ে পূর্ণিমা ডাকল—দিদি!

    —কী?

    —তুমি কিন্তু আর অবিনাশ কোবরেজে যেয়ো না।

    —কেন?

    —তুমি আমাদের পড়াও বলে অনেকের রাগ।

    —মুকুটরাও তো পড়ায়।

    —ওঁদের পড়ানো আর তোমাদের…ও অনেক আলাদা দিদি। ওঁরা তো শুধু অক্ষর চেনান। মাসিরা সব জোট বেঁধে বেঁধে বলে—তোমরা আমাদের ব্যবসা ছাড়িয়ে দেবে। এত এত টাকার লোকসান হয়ে যাবে। কেনাদা রবিদারা বলে অত লেখাপড়া শেখার তোদের কী দরকার? মেসোমশাই ওইজন্যেই লাঠি খেয়েছেন। তুমি থাকলে তোমাকেও মারত। অনেক খুনে গুন্ডা আছে ও পাড়ায়। তোমাকে ওরা মারের বাড়া করবে। বিশেষ, আমি চলে আসাতে। বনোদিদি ঠিকই বলেছে। আজ গেলে আমি আর ফিরতে পারতুম না।

    কেউ তাকে মারতে চায়? মারের বাড়া? জিনা নামে ঊনত্রিশ বছরের একটি মেয়ে, যে পলিটিক্যাল সায়েন্সে এম.এ পাস করে আর করার মতো কিছু না থাকায় বাবা-মা ইত্যাদি অভিভাবকদের কথায় চোখ বুজে বিয়ের পিঁড়িতে বসে পড়ে, যে ইদানীং হাতে কিছু কাজ না থাকায়, নির্দোষভাবে করবার মতো কিছু চেয়েছিল এবং বন্ধুর মাধ্যমে এই কাজটা পেয়ে সর্বান্তঃকরণে নিঃস্বার্থভাবে কাজটা করছিল, তাকে মারবে? প্রথমটা সমস্ত মন পঙ্গু হয়ে গেল তার। সব জায়গায় সে সম্মান, আদর, প্রশংসা এইসব পেতেই অভ্যস্ত। প্রথমত মেয়ে, দ্বিতীয়ত ভদ্র বাড়ির মেয়ে ও বউ, উপরন্তু আছে তার নিজস্ব রূপ-গুণ। জীবনে করবার মতো কাজ সে কিছুই করেনি কোনওদিন, করতও না, করতে হয় তা-ও জানত না। প্রথম যে কাজটা করতে গেল সেটাতেই গুবলেট করে বসে রইল? কই, মুকুট এত বছর ধরে কাজ করছে, ঋত্বিক করছে, নমিতাদি করছেন, এদের তো কোনও বিপদে পড়তে হয়নি? এরই নাম পেশাদারিত্ব। মুকুট তাকে অনেকবার বলেছে—জড়িয়ে পড়িস না জিনা, বড্ড বেশি ইনভল্‌ভ্‌ড্‌ হয়ে যাচ্ছিস। এ রকম করলে কাজ করবি কী করে? আশ্চর্য! তার ধারণা ছিল লোকহিতকর কাজ করতে গেলে জড়িয়ে পড়তেই হয়। বিদ্যাসাগর মশাই নাকি বালবিধবাদের দুঃখে হাউ হাউ করে কাঁদতেন, বাছুরকে বঞ্চিত করা হয় বলে গোরুর দুধ খাওয়াই বন্ধ করে দিয়েছিলেন, বিবেকানন্দের অমন স্পিরিচুয়াল কেরিয়ার? তাকে গৌণ করে দেশ, দেশবাসীর দারিদ্র, জাতিভেদ এই সমস্ত নিয়ে উদয়াস্ত পরিশ্রম করতে করতে অকালে জীবন দিলেন। একই কথা আরও বেশি করে খাটে সিসটার নিবেদিতার ক্ষেত্রে। সর্বোত্তম লোকহিতের এইসব নমুনাকেই তো চিরকাল আদর্শ বলে মেনে এসেছে সবাই! আর আজকে! হঠাৎ উলটো কথা শুনতে হচ্ছে? এত ইনভলভ্‌ড্‌ হয়ে গেলে কাজ করবি কী করে? কথাটা তো মুকুট ভুলও বলেনি। অতিরিক্ত ইনভলভ্‌মেন্টের জন্যেই কি আজ কাজের পথ তার সামনে বন্ধ হয়ে যাচ্ছে না?

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleমোহানা – বাণী বসু
    Next Article খনামিহিরের ঢিপি – বাণী বসু

    Related Articles

    বাণী বসু

    নূহর নৌকা – বাণী বসু

    November 3, 2025
    বাণী বসু

    ছোটোগল্প – বাণী বসু

    November 3, 2025
    বাণী বসু

    অন্তর্ঘাত – বাণী বসু

    November 3, 2025
    বাণী বসু

    খনামিহিরের ঢিপি – বাণী বসু

    November 3, 2025
    বাণী বসু

    মোহানা – বাণী বসু

    November 3, 2025
    বাণী বসু

    যখন চাঁদ এবং – বাণী বসু

    November 3, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Our Picks

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }