Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    মাহতাব উদ্দিন : জীবন ও গান

    May 18, 2026

    পরমপুরুষ শ্রীশ্রীরামকৃষ্ণ ২ – অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত

    May 18, 2026

    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের প্রেমের গল্প – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    May 16, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    খারাপ ছেলে – বাণী বসু

    বাণী বসু এক পাতা গল্প214 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    এপার-ওপার

    মাঝখানের দরজাটা টুক করে খুলে জিনা ওদিকে গিয়ে দাঁড়াল। চুলগুলো খুলে দিয়েছে। গতকাল খালি মাথার পেছনে একটা পুঁটলি বেঁধে বেঁধে ঘুরে বেড়িয়েছে। কারও সামনে আসেনি। আজ একটু সাহস বেড়েছে, মন খারাপ কমেছে।

    ‘মাম্পি-ই’ —নাঃ মনে হচ্ছে মাম্পি এ তল্লাটে নেই।

    ও কী! ও কী করেছিস রে!—সিঁড়ির তলায় মল্লিকা দাঁড়িয়ে ঊর্ধ্বমুখ। একটা সাধারণ করে পরা নীল খড়কে ডুরে! চুলগুলো পেছন দিকে জড়ো করে একটা না-বড় না-ছোট হাতখোঁপা করা, কয়েকটা ঘুণ্টিওয়ালা রুপোর কাঁটা গোঁজা তাতে, কপালে একটা সিঁদুরের টিপ। এত সুন্দর দেখাচ্ছে যে হঠাৎ যেন নিশ্বাস বন্ধ হয়ে আসে। সৌন্দর্য, সাবলীলতা, অকৃত্রিমতা, কেমন একটা জ্যোতির্মণ্ডল যেন দিদিভাইকে ঘিরে, যার বাইরে সে বোধহয় চিরনির্বাসিত। সে চেয়ে থাকে রুদ্ধবাক যেন কোনও দেবীর দিকে চেয়ে আছে। সত্যি দেবী কি না জানে না, আর কারও দেবী কি না জানে না, কিন্তু তার উপাস্য দেবী। হয়তো শুধু তারই। কেননা ক্রমশই তার ধারণা হচ্ছে সে ছাড়া দিদিভাইয়ের পূর্ণ তাৎপর্য আর কেউই বুঝতে পারেনি। সম্পন্ন পরিবারে একটি মোটামুটি সুন্দর-সুশ্রী বধূর দরকার হয়। তার উৎস বড় ঘর হলে ভাল, না হলে আরও ভাল। সে ক্ষেত্রে তাকে বিনা বাধায় ভোগ করা যায়। বেচারি দিদিভাইয়ের বাপের বাড়ি যাওয়া নেই। দিদি থাকেন সুদূর চেন্নাই, বাবা মারা গেছেন, কাকা কাকিমা ছাড়া কোনও আত্মীয়স্বজনের কথা আজ পর্যন্ত শোনেনি সে। বৃন্তহীন একটা মানুষ। তর্ক, ঝগড়া, নিজের মতামত জোরদার করে প্রকাশ করা—এসব নেই। তাই বলে কি ও বোবা? না মূর্খ! কোনওটাই নয়। একদিন তার অসীম ধৈর্য নিয়ে জিনা নালিশ করেছিল, তাতে মল্লিকা প্রথমে এড়িয়ে যাবার চেষ্টা করে প্রশ্নটা, বলে—তোরই বা ধৈর্য কি কম? আমি তো বুঝি তুই কতটা সইছিস! সবই তো শান্তির জন্যে?

    জিনা তারপরেও তাকে চেপে ধরে, বলে, কথা ঘুরিয়ো না দিদিভাই, আমার কথার জবাব দাও।

    মল্লিকা বলেছিল, আমি মতামত জাহির করবার মতো করে দিলে কে শুনবে সে মত? কে আমি? কী আমার পরিচয়? গ্রামের কলেজে পড়েছি, বি.এ-টা কমপ্লিট করিনি, সব সময়ে কারও না কারও দয়ায় বেঁচেছি। হ্যাঁ পেতাম তোর মুকুটের মতো কাউকে, তা হলে হয়তো অনেক দিন আগেই কনফিডেন্স আসত। এখন কেউ শুনবে না, আমার অন্য কোনও উপায়ও নেই। কিন্তু একটা না-একটা দিন আসবেই যেদিন আমি বলব, অন্যে শুনবে। ঝুম্পা মাম্পিকে বড় হতে দে।

    —কিন্তু তুমি তো এই বাড়ির বড় বউ, গৃহিণী!

     

     

    —আমার গৃহিণীত্ব ভীষণ ঠুনকো জিনা! সবাই ভাবতে ভালবাসে আমি অক্ষম, আমার জোর কম।

    —বাবাও? বাবা যে তোমাকে এত ভালবাসেন!

    —ঠিকই, বাবা খুব ভালবাসেন, দিদিভাই দুঃখিত গলায় বলে, কিন্তু ভালবাসা অনেক রকমের হয় জিনা, বাবার ভালবাসাটাতে করুণা মেশানো আছে। বাবার দোষ নেই। মা ছিলেন প্রবল ব্যক্তিত্বের মানুষ, তিনিও ভালবাসতেন। অমনি করুণা মেশানো ভালবাসতেই ভালবাসতেন, সেটাই উনি বাবার মধ্যে ঢুকিয়ে দিয়ে গেছেন।

    —তা হলে তোমার এই চুপচাপ থাকা, মুখ বুজে কাজ করে যাওয়া, তোমার এত ভুল… তুমি নিজেই বল তুমি অগোছালো… এ সবই তোমার একটা পলিসি?

    —দুর, তুইও যেমন…একটু চুপ করে থেকে মল্লিকা বলেছিল,আমার কিছু ভাল লাগে না জিনা। সেই ভাল-না-লাগাটাকে বাগ মানাতেই মানাতেই আমার সময় কেটে যায়। জীবনও কেটে যাচ্ছে।

     

     

    ভাল-না-লাগাকে বাগ মানাতে মানাতে একটা অদ্ভুত ধরনের বিষণ্ণ ব্যক্তিত্ব এক এক সময়ে ভীষণ প্রকট হয়ে ওঠে মল্লিকার চেহারায়। খুব মাঝে মাঝে। তখন তাকে চেনা যায় না। সেই চেহারা এখন। কথা বলছে পরিচিত অন্তরঙ্গ ভঙ্গিতে। ঘরোয়া ভাষা, ভাব। যেন কিচ্ছুটি জানে না। কিন্তু আসলে সে যেন এক আমূল রহস্যময়ী, ছায়াবৃতা। মল্লিকা শুধু দিদিভাই নয়।

    নিজের ঘোরটাকে কাটাতে জিনা তরতর করে নেমে আসে৷ হঠাৎ গলা জড়িয়ে ধরে, দিদিভাই! যাচ্ছেতাই দেখাচ্ছে, না?

    —যাচ্ছেতাই দেখাবে কেন? অন্যরকম দেখাচ্ছে! শুধু চুলের জন্যে এমন পালটে যায় চেহারা! আশ্চর্য!

    —বদলটা কীরকম বলবে তো?

    —তোর মধ্যে একটা দুষ্টু সরস্বতী দুষ্টু সরস্বতী ভাব ছিল, বুঝলি? এখন একটা ক্লিওপেট্রা ক্লিওপেট্রা ভাব এসেছে।

     

     

    —বাপ রে! তা সে-ও তো দুষ্টুই!

    —দুষ্টু কি না জানি না, একটা ক্ষমতা… প্রতাপ৷ ধর যেন ঘরের মেয়ে ছিলি, এখন রাজদণ্ড হাতে নিয়েছিস… গোছের।

    —জান তো দিদিভাই— জিনা অমনি গলে জল— ক্লিওপেট্রা শুনলে আর কে না জল হবে! জলের চেয়েও তরল কিছু থাকত তো তাই হত।

    —জান। দেড়দিন ধরে লুকিয়ে লুকিয়ে বেড়াচ্ছি। বাবা কী ভাববেন?

    —কী আবার ভাববেন? আর, কিছু যে বলবেন না সেটা তো তুই জানিস।

    —বলবেন না। কিন্তু অদ্ভুত চোখে তাকাবেন, তাতেই আমার লজ্জা করবে। তোমাদের এ বাড়ি বড্ড জটিল যাই বল। আমাদের বাড়িতে বড়রা যা বলবার সোজাসুজি বলে, ধমকায় সেটা বুঝি…।

    —তা যদি বলিস, এত বড় মেয়েকে ধমকানোই কি ভাল? তার যদি চুল কাটতে ইচ্ছে হয়! এটুকু ইচ্ছে পূরণ করতে পারবে না!

     

     

    —ধমকানো মানে কি আর সেরকম সিরিয়াস কিছু? আমার বাবা হলে বলত— ক’দিন আসিসনি আমার সামনে। একটু সয়ে নিতে দে। জেঠিমা হলে বলত—এই যে রূপের ধুচুনি এলেন। এগুলো তো ইচ্ছেয় বাধা দেওয়া নয়। কিন্তু বেশ স্পষ্ট সমালোচনা।

    মল্লিকা হেসে বলল, হয়েছে হয়েছে, আমি তো যথেষ্ট সোজাসুজি ধমকালুম! তাতেও হয়নি!

    —তুমি তো আর এ বাড়ির নও! —কেমন অভিমানে বলল জিনা, যাই হোক দেখো তো তোমার ফ্রিজে গোটাদুই ডিম আছে কিনা! আমার দেখছি ডিম ফুরিয়ে গেছে। আচ্ছা দুটো কেন ছ’টা থাকলে ছ’টাই দাও। সবটাই করি। —বলতে বলতেই সে চমকে ওঠে। —ওই বেল বাজছে। মুকুট বোধহয় এসে গেল। —দাঁড়াও দিদিভাই… জিনা ছুট লাগাল।

    মুকুট এসেছে শুনেই মল্লিকার একটা দুরন্ত আহ্লাদ হয়। কেন যে মেয়েটাকে তার এত ভাল লাগে, কেন যে এত আশ্বাস ওর সান্নিধ্যে তা সে বলতে পারে না। ‘আধুনিকা’, মুকুট আগাগোড়া ‘আধুনিকা’। সে কি মল্লিকার ইচ্ছাপূরণ? আধুনিকা নানান প্রকারের হয়। সাজ-পোশাক-প্রসাধনে চলাফেরায় আধুনিকা একরকম। কথায়বার্তায় মতামতে আধুনিকা সে আরেকরকম। কিন্তু মুকুটের আধুনিকতা একদম স্বাভাবিকভাবে গজিয়ে ওঠা একটা গাছের মতো। প্রথম যেদিন এল—প্রচণ্ড একটা দুঃস্বপ্নের শেষে! জিনস্‌ আর শার্ট পরা। সোজা চুল কানের তলা পর্যন্ত ছেঁটে নিয়েছে, পায়ে স্পোর্টস শু। হাতগুলো খালি, শুদ্ধ, নির্মল, ঘাম চকচকে মুখটা রুমাল দিয়ে মুছে নিচ্ছিল। কানে ছোট ছোট রিং। সোজা ভুরু, আকাশের মতো চোখ, একটু থ্যাবড়া নাক। বেশ পুরু, সুন্দর, গোলাপি ঠোঁট। মুখটা যেন ভাবুক বালিকার মতো, পুরো পুরুষ পুরুষ পোশাক সত্ত্বেও কোথাও কোনও উগ্রতা নেই। আসলে ও তো এ দেশের বাইরে বহুদিন কাজ করেছে। এই পোশাকে অভ্যস্ত। এটাতে ওর সুবিধে হয়, তাই অতশত ভাবেনি, এরকমই পরে। বাইরেটা সম্পর্কে এই একেবারে না ভাবা, সোজাসুজি ভেতরে পৌঁছে যাওয়ার অভ্যাসটা কী অদ্ভুত আরামের! যখন মল্লিকার সঙ্গে আলাপ হল, সোজা চোখের দিকে চাইল। —আপনি স্বপ্ন দেখে খুব ভয় পেয়েছিলেন? জিনা বলছিল!

     

     

    —হ্যাঁ আর বলো না! দুপুরবেলা ঘুমিয়ে পড়লে বড্ড স্বপ্ন দেখি।

    —চিৎকার করেন?

    —করি। আওয়াজ ফোটে না— বলতে বলতে মল্লিকা হেসে ফেলল, কেন? চিকিৎসা করবে?

    —করতেও পারি একটা ব্যবস্থা—হাসিমুখে বলল মুকুট, আমার কিছু ট্রেনিংও আছে কিন্তু…।

    এইজন্যে জিনা ডিম চাইছিল? কী করবে? কী? চট করে ভেবে নিল মল্লিকা। একটা বাটি করে ডিমগুলো নিয়ে মাঝের দরজা দিয়ে সোজা চলে গেল জিনার রান্নাঘরে। ওর ফ্রিজে কী আছে? টোম্যাটো, ক্যাপসিকাম, বোতলের মটরশুটি। চিজ, পেঁয়াজ, বাঃ সবই তো আছে। নরওয়েজিয়ান ওমলেট তৈরির ইচ্ছে ছিল বোধহয় জিনার। তো হয়ে যাক। ওদের গল্পের টুকরোটাকরা ভেসে আসছে।

    —তুইও তো কেটেছিস!

     

     

    —আ রে! —বেশ করেছিস! চোখে পড়ল তাই…।

    হ্যাঁ ঠিকই ধরেছিস।

    —একদিন যাব মাসিমার কাছে… তুই নিজে নিজেই চলে যাস না… হ্যাঁ রে সেবন্তীর কী খবর?

    এইসব টুপটাপ কথাগুলো চারপাশে ঝরে পড়ছে। এক পৃথিবী থেকে অন্য পৃথিবীর দরজায় দাঁড়িয়ে মল্লিকা। কফির উগ্র গন্ধে জিনা ছুটে এল।

    —ও মা দিদিভাই!

    —হয়ে গেছে —ওমলেট কাটতে কাটতে বলল মল্লিকা, নিয়ে যা… আমি কফি নিয়ে আসছি।

    —আচ্ছা মল্লিকাদি, আমাকে জিজ্ঞেস করবে তো! —মুকুট বলল। —জিনা তুই জানবি আমায় কাজে কখন কোথায় ঘুরতে হয়। খিদে পেলেই আমি যেখানেই থাকি ঠিক কিছু-না-কিছু খেয়ে নিই। তাই-ই আমার আলসার হয় না। কফিটা ঠিক আছে… সে কফির কাপটা তুলে নিল।

     

     

    মল্লিকার করুণ মুখের দিকে তাকিয়ে মুকুট বলল, ঠিক আছে, যা রং আর চেহারা তোমার ওমলেটের, একটু না খেলে খেদ রয়ে যাবে।

    তিনজনেই ওমলেট ভেঙে মুখে দিল। মুকুটের চোখগুলো প্রশংসায় বড় বড় হয়ে উঠেছে। —ইস, মল্লিকাদি একটা দোকান দিলে পার! আজকাল ফাস্ট ফুডের যা চাহিদা!

    আগের দিন ‘আপনি’ বলেছিল, আজকে কত সহজে, বিনা অনুমতিতে ‘তুমি’ বলল, জিনার পথ ধরে যে ‘দিদিভাই’ বলল, তা-ও না। মল্লিকাদি! সেই স্কুল কলেজের দিনে নিচু ক্লাসের মেয়েরা যেভাবে ডাকত, তাদের ছাড়া আর কখনও কারও মল্লিকাদি হয়নি তো মল্লিকা। হয় বউমা, নয় মা, নয় মল্লি, নয় দিদি। কতটুকু জগৎটা তার? এখনও কোনও চৌকাঠ পার হতে পারেনি, মুকুটের মতো মেয়ে। সে কখনও দেখেনি। টি.ভি-র পরদায় এই পোশাক কি আর দেখা যায় না! যায়! কিন্তু সেসব পুরোদস্তুর ত্বক-সচেতন, কেশ-সচেতন, পুং-সচেতন পোশাক, পোশাকও, মেয়েও। কে পুরুষের স্পর্শের লোভে ক্রিম মাখছে, কে বিয়ের লোভে ব্রণ সারাচ্ছে, ছোট ছোট মেয়েরা সহপাঠিনীকে ব্রণ-ফুসকুড়ি নিয়ে খেপাচ্ছে! মেয়েদের পৃথিবীটা কি সত্যি এরকম! কে জানে! মল্লিকা জানে না। তার কাছে বাইরের পৃথিবীর খোলা জানলা তো ওই টি.ভি স্ক্রিনই। তার অগোচরে কখন পুরো মেয়ে-পৃথিবীটা এরকম বদলে গেল? নিজের মেয়েদের দেখে অবশ্য অতটা বুঝতে পারে না মল্লিকা। ওদের স্কুল খুব কড়া, এতটুকু অতিরিক্ত সাজগোজ বরদাস্ত করে না। বড় মেয়ে সদ্য কলেজে ঢুকেছে। আরেকটু স্বাধীনতা পেয়েছে। কিন্তু তার অভ্যেস রয়ে গেছে স্কুলের। শুধু য়ুনিফর্মটাই বাদ। সেই টান টান চুলে বিনুনি। সেই ঘষামাজা তেলা মুখ, টিপ পরতে এখনও ভীষণ লজ্জা। কিন্তু সে হয়তো তারা মল্লিকার মেয়ে বলে, একজন প্রায় অনাথা অতি ভালমানুষ প্রতিবাদহীন গ্রামের মেয়ের মেয়ে। কিন্তু তার খুব ভয় করে। হঠাৎ যদি কোনওদিন দেখে ঝুম্পা তার মায়ের চৌকাঠ পার হয়ে গেছে! চোলি আর হাফপ্যান্ট পরে চোখ মারছে কোনও পুরুষের দিকে চেয়ে! ওদের বয়সি ছেলেরা! তারাও তো টি.ভি-র পরদায় কেমন বদলে যাচ্ছে। কী সুন্দর নবীন সবুজ ছিল, বেড়ে ওঠা ছেলেদের একটা আলাদা খেলাধুলোর জগৎ থাকে। পড়াশোনার ব্যাপারেও, বিজ্ঞান, মেকানিক্স—এসবের আশ্চর্য জগৎটার ভেতর আস্তে আস্তে ঢুকে যায় তারা। মোটরবাইক জড়ো করে মেয়েদের কলেজের বাইরে দল বেঁধে দাঁড়িয়ে আওয়াজ দিতে তাদের নবীন সবুজ পুরুষত্ব ধাক্কা খায় না? লজ্জা করে না? ড্রাগ নেয় কেন? একটা ফ্যাশন হয়েছে। ড্রাগ নেওয়া। এসব আগে করত মস্তানরা। চিরকালই ছিল। কিন্তু একটা আলাদা জাত। সাধারণত যারা বছরের পর বছর এক ক্লাসে পড়ে থাকত তারাই এসব ড্রাগফাগ খেত, আওয়াজটাওয়াজ দিত। এখন কি মস্তান ছড়িয়ে চারিয়ে গেল সব কিশোরের তরুণের মধ্যে? না কি এ-ও বিজ্ঞাপনের তৈরি। ফিলমের তৈরি একটা ভুয়ো জগৎ! মিথ্যার জগৎ! নিজের সীমাবদ্ধ চলাফেরা দিয়ে সে বুঝতে পারে না।

     

     

    প্লেটগুলো তুলে নিয়ে সে বলল, তোরা কথা বল, আমি আসছি।

    মুকুট বলল, বসো না! কাজ আছে?

    জিনা বলল, একটু বসতে তোমার যে কী হয়?

    কিন্তু মল্লিকা জানে, মুকুট জিনার খুব বন্ধু। কতদিন বাইরে ছিল। যদি-বা ফিরে এসেছে রোজ রোজ তো আর দেখা হচ্ছে না। ওদের একটু নিজেদের মধ্যে কথা বলার সুযোগ চাই। সে বলল, হ্যাঁ, মেয়েরা যে কোনও সময়ে আসবে, আমি যাই।

    —ওরা এসে গেলে, আবার এসো— জিনা বলল।

    মুকুট বলল, ঘুরে এসো। তোমার সঙ্গে কথা আছে।

    একটু পরে জিনার দিকে চেয়ে মুকুট বলল, তোর জন্যে একটা কাজ ঠিক করেছি।

     

     

    —এরই মধ্যে?

    —কেন তুই কি তৈরি নয়?

    —না রে! আশ্চর্য লাগল, কাল বললুম আর আজই…।

    মুকুট বলল, আমাদের একটা অ্যাডাল্ট এডুকেশন প্রোগ্রাম আছে। দুপুরবেলা যখন ভাতঘুম দিয়ে মোটা হবার সবচেয়ে রিস্‌ক তখন ক্লাসটা হয়।

    —কোথায়?

    —এখান থেকে বাস নিয়ে জাস্ট সেন্ট্রাল অ্যাভেনিউ চলে যাবি। ডাইনে হাঁটতে হবে কিছুটা, বাঁ দিকে কয়েকটা গলি পরে দুর্গাচরণ মিত্র স্ট্রিট চিনিস?

    —দুর, আমি এদিকে কিচ্ছু চিনি না।

     

     

    —ঠিক আছে আমি তোকে প্রথম কদিন নিয়ে যাব। ‘বান্ধব সমিতি’ সাইনবোর্ড লেখা একটা ক্লাবঘর পাবি। ওইখানেই একটা গলির মধ্যে। কোর্সটা তোকে পুরোপুরি বুঝিয়ে দেবে একজন। ওই অঞ্চলের মেয়েরা, ধর বারো-তেরো জন আসবে।

    জিনা চুপ করে আছে দেখে মুকুট বলল, বাংলা, আর খানিকটা ইংরেজি লিখতে পড়তে বুঝতে শেখানো হয় এদের, আর বেসিক অঙ্ক।

    —শহর কলকাতায় থাকে, বাংলা পড়তে লিখতে পারে না এমন লোকও আছে?

    মুকুট হাসল, তোদের বাড়িতে কাজ করে যেসব মেয়ে। ওরা? ওরা পারে? জিনা বলল, ওহ। ডলি মলি? ওদের তো বাবা মানে আমার শ্বশুরমশাই-ই লেখাপড়া শেখান। এরা কে রে? বস্তিটস্তির?

    মুকুট বলল, না রে এরা গণিকা, যাকে বলিস প্রস্টিট্যুট।

     

     

    জিনা হাঁ। কিছুক্ষণ কথা বার হচ্ছে না ওর মুখ থেকে। শেষে বলল, মুকুট, প্রস্টিট্যুট আমি কখনও চোখে দেখিনি রে! কীরকম দেখতে হয়।

    মুকুট হাসবে না কাঁদবে ভেবে পায় না, বলে, জিনা সত্যি তুই আমায় হাসালি। কীরকম দেখতে হয় কী রে? দুটো হাত, দুটো পা আছে আমাদের মতোই…

    ঢোঁক গিলে জিনা বলল, গল্প-উপন্যাসে অবশ্য খুব পড়া যায়। ‘বিকৃত ক্ষুধার ফাঁদে’ বলে একটা গল্প পড়েছিলাম। আমার গা এত ঘিনঘিন করেছিল! একটা শিউরে ওঠার ভাব করলে সে।

    মুকুট বলল, ‘হিঙের কচুরি’ বলে বিভূতিভূষণের একটা গল্প আছে খুব সুন্দর, পড়িসনি?

    জিনা বলল, তুই বললি বলে মনে পড়ল। ব্যাপারটাকে এত ক্যাজুয়ালি নিয়েছেন, নেন এঁরা যে… আমার ভাল লাগেনি, ভাল লাগে না।

    মুকুট বলল, কথাটা তুই বেশ নতুন বললি তো? ক্যাজুয়ালি নেওয়া।

    —না সত্যিই দেখ, মনুষ্যত্বের এত বড় অপমান, মেয়েদের… নারীত্বের এত কুৎসিত ব্যবহার— এই নিয়ে লেখকরা বেশ বিলাসিতা করেন। ভাল গল্পের মেটেরিয়্যাল। শরৎচন্দ্রের ‘আঁধারে আলো’, ‘দেবদাস’-এ কীভাবে গ্ল্যামারাইজ করা হয়েছে ব্যাপারটা। আর তার পরের লেখকরা তো রিয়্যালিজ্‌মের নামে — উঃ। হ্যাঁ রে, এঁরা কি নিয়ম করে এদের কাছে যাতায়াত করেন?

    —দুর—মুকুট হেসে ফেলল, বেশির ভাগই ওপর ওপর দেখে, কল্পনা থেকে লেখা। অনেকে আবার উপাদান সংগ্রহের জন্য যান। শিল্পী লেখকদের সঙ্গে অবশ্য লালবাতি এলাকার একটা যোগ থাকেও মনে হয়। আমি খুব একটা দেখিনি।

    —উপাদানটা ব্যবহার করে এঁরা নিজেরা নাম, টাকা পান। আর মেয়েগুলোর কী হয়?

    —কিছু হয় না। কিছু হওয়া শক্ত জিনা। একজন দু’জনের চেষ্টায় কী হবে? তাই অনেকে মিলে চেষ্টা করছে। করবি কাজটা?

    —আমি? ওদের পড়াতে যাব?

    —তাতে কী? তোর মতো কত মেয়ে এদের বিভিন্ন সেন্টারে পড়াচ্ছে। গেলে দেখতে পাবি। কেউ তোর চেয়ে বড়, কেউ ছোট। মানে ভদ্রঘরের, শিক্ষিত। ওখানে তোর ক্লাসরুমের ঠিক পাশেই একটা ক্লিনিকও আছে। সেখানে স্বাস্থ্যপরীক্ষা, ছোটখাটো চিকিৎসাও হয়।

    জিনা বলল, জানলে আমায় কুটে ফেলবে।

    —কে? তোর বর?

    —আবার কে? অন্যরাও পছন্দ করবে না শিয়োর।

    —হ্যাঁ ট্যাবু তো আছেই, তা তুই নিজে? তোর কী মত?

    —আমার গা শিউরোচ্ছে। অনেস্টলি বলছি মুকুট।

    —তা হলে থাক। অন্য কাজও আমাদের আছে। কিন্তু সেখানে আপাতত ভেক্যান্সি নেই। দূরেও। এটাই তোর সবচেয়ে কাছে ছিল। ঘণ্টা দেড়েক পড়াতিস। একটা থেকে চারটের মধ্যে। সপ্তাহে তিন দিন। তোরও সময় কাটত। একটা স্যাটিসফ্যাকশনও থাকত যে মেয়েদের জন্যে কিছু করলি। সামান্য কিছু উপার্জনও হত। তোর নিজের, একেবারে নিজের উপার্জন।

    —তুই এসব কাজের খোঁজ পেলি কী করে?

    —বা! আমি এম এসসি-র রেজাল্ট বেরোবার আগেই থাইল্যান্ড চলে গেলাম না? তখন থেকেই এদের নিয়ে কাজ করছি। ডাবলু. এইচ. ও-র সঙ্গে সরাসরি যুক্ত আছি। সেই হিসেবে অনেকগুলো এন. জি. ও-তেই উপদেষ্টা হিসেবে কাজ করছি।

    —তার মানে তোকে পড়াতে হয় না, ওখানে যেতে হয় না, সোজাসুজি ওদের সঙ্গে…।

    —না রে জিনা, —বিভিন্ন সেন্টারে পড়ানো, ট্রেনিং, স্বাস্থ্যশিক্ষা ও সবের ওপর হাতেকলমে যে কাজগুলো হয়, সেগুলোর খবরদারি করে কয়েকজন, আমি তাদেরও ওপর খবরদারি করি। এখন বেশির ভাগটাই ডেস্‌ক ওয়ার্ক। তবে পরিদর্শন করতেই হয় নির্দিষ্ট সময় অন্তর অন্তর। সমীক্ষা যাকে বলে।

    —এইসব ইয়েদের নিয়ে?

    —হ্যাঁ।

    —কেন করিস মুকুট? যারা জাহান্নমে যাবে ঠিক করে নিয়েছে…

    মুকুট তার দিকে কয়েক সেকেন্ড তাকিয়ে বলল, তুই কাগজ পড়িস না!

    —পড়িই তো! শব্দজব্দগুলো রেগুলার করি, ক্রস ওয়ার্ড। মিসেলেনিগুলোর ভাল লেখাটেখা থাকলে পড়ি। পলিটিক্স আমি ছুঁই না। আর তো সব খুন, রাহাজানি, রেপ, দাঙ্গা… কী পড়বটা কী?

    —এবার থেকে আর একটু ভাল করে পড়বি। দেখবি এখানে সেখানে বাচ্চা মেয়ে বড় মেয়ে পাচার হচ্ছিল। ধরা পড়েছে। গ্রামে, মফস্বলে। এগুলোর মধ্যে কিছু চুরি, কিছু জোচ্চুরি, আবার কিছু জেনেবুঝে নিজের লোকেরা বিক্রি করে দিয়েছে।

    —বলিস কী? নিজের লোকেরা? মানে? মানুষ বিক্রি করা যায় নাকি?

    —যায় না। কিন্তু জিনিসটা হয়। এরাই প্রধানত লালবাতি এলাকায় এসে পড়ে। তুই কখনও পড়িসনি?

    —ইস মুকুট, পড়েছি হয়তো, সেভাবে মাথায় ঢোকেনি।

    —শুনে রাখ জিনা দারিদ্র আর অশিক্ষার প্রথম শিকার মেয়েরা। দরিদ্র ঘরে যেই একটা মেয়ে জন্মাল অমনি তাকে নিয়ে যা-খুশি করবার অধিকার জন্মে যায় তার পুরুষ অভিভাবকদের। তার মা ঠাকুমা যারা কর্ত্রীপদে আছে তারাও সেইমতোই আচরণ করে। সবচেয়ে কম খাবার তার জন্যে নির্দিষ্ট হয়, সবচেয়ে বেশি কাজ। কোনও সময়েই ভারবাহী পশুর চেয়ে বেশি তাকে মনে করা হয় না। উপরন্তু এই পশু যেটুকু যত্ন পায়, এরা তা-ও পায় না। কিন্তু মেয়েরা দুগ্ধবতী গাভীর মতোই লাভজনক। যৌবনোদগম হলেই সে যৌন পণ্য। তাকে নানারকম দামে বিক্রি করা যায়। যত অল্প বয়স হবে ততই লাভ। ধর ন-দশ বছরের…

    —প্লিজ মুকুট…

    —এ কী জিনা, তুই কাঁদছিস? আ রে কাঁদিসনি, কী ছেলেমানুষ তুই? কত রকমের অত্যাচার, পাশবিক, নৃশংস, চলছে কত কাল থেকে তার তুই কিছুই জানিস না। ছেলে-শিশুদের দিয়েও ব্যবসা আছে। যৌন-ব্যবসা, জকি-ব্যবসা, ভিখারি-ব্যবসা! সেসব শুনলে তো অজ্ঞান হয়ে যাবি!

    —তোরা এদের জন্যে কাজ করছিস? —অনেক টাকাপয়সা লাগে তো! কোথা থেকে পাস? জিনা ভিজে গলায় বলল।

    —অনেক সোর্স থেকে আসে। বিভিন্ন ধনী দেশ দেয়, অনেক প্রতিষ্ঠান দেয়, ব্যক্তি দেয়। ধর একজন বারবনিতা তাঁর অনেকখানি জমি আমার এক বন্ধুকে দিয়েছেন এদের ছেলেমেয়েদের জন্য একটা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়তে।

    —শেষেরটা বুঝলুম— জিনা বলল। কিন্তু ধনী দেশটেশ দেবে কেন? ওরা তো খালি নিজেদেরটাই বোঝে।

    —কথাটা ‘তুই’ বললি? —হাসিমুখে মুকুট তাকায় জিনার দিকে।

    —কেন, কী হয়েছে?

    —না, তুই বললি না খালি ‘শব্দজব্দ’ ‘ক্রসওয়ার্ড’ এসব করিস! তা তুই যেখান থেকেই তোর এ জ্ঞান সংগ্রহ করে থাকিস জিনা, তোর হবে।

    —ঠাট্টা করছিস?

    —না রে। ঠাট্টা করিনি। আসলে জিনা, পৃথিবীটা, সরি মানুষ খুব জটিল আর মিশ্র জীব। বড় বড় ব্যবসাদার যারা ওষুধে ভেজাল মেশায়, দুধে খড়ির গুঁড়ো, কিংবা যারা কর্মচারীদের সঙ্গে পশুর মতো ব্যবহার করে তারাই দেখবি কাঙালিভোজন করায়, কুম্ভে গঙ্গাসাগরে সাধুদের ভাণ্ডারা দেয়, লঙ্গরখানা খোলে। সবটাই যে পুণ্যের লোভে তা নয়। একটা কীরকম বিবেকের তাড়াও ভেতরে ভেতরে থাকে। তেমনই যে দেশ নানাপথে নিজেদের মজুত অস্ত্র বিক্রি করে আমাদের বারোটা বাজিয়ে দিচ্ছে, বাতিল ওষুধ বাতিল শস্য পাঠিয়ে সংকট সৃষ্টি করছে, তারাই আবার অনাথ শিশুদের কল্যাণের জন্যে টাকা দেয়।

    —একেবারে নিস্বার্থ? মুকুট আমার বিশ্বাস হয় না।

    —তুই ঠিকই বলেছিস, গণিকাদের ব্যাপারে ওদের প্রধান স্বার্থ এডস-নিবারণ। এডস তো পুরো সভ্যতার মৃত্যুদূত হয়ে দেখা দিয়েছে কিনা! পীতরা, কালোরা, ব্রাউনরা গেলে হয়তো সাদাদের কিছু এসে যায় না। কিন্তু সাদারাও তো বাঁচবে না বাঁচছে না, তা এইভাবেই একটার সঙ্গে আরও অনেক ইস্যু জুড়ে যায়। স্বাস্থ্য, বিশেষত যৌন স্বাস্থ্য সম্পর্কে বেসিক জ্ঞান কনডোমের ব্যবহার… তারপরে ধর চাইল্ড লেবর নিষিদ্ধ করার পেছনেও ওদের মার্কেট বিষয়ক কোনও স্বার্থ কাজ করতে পারে। কোনটাই যে শুধু স্বার্থ এমন কথা বলা শক্ত। বিক্রির স্বার্থই যে একমাত্র সবসময়ে তা নয়। যা-ই হোক। যা-ই থাক। যা পাচ্ছি, সেটাকে ব্যবহার করে যদি কাজের কাজ কিছু করতে পারা যায় তো মন্দ কী? চতুর্দিকে প্রচুর প্রতিষ্ঠান, স্বার্থলোভী লোক সব হন্যে হয়ে ঘুরছে, গ্রান্টটান্ট জুটিয়ে যদি নিজেরটা গুছিয়ে নিতে পারা যায়। আবার সত্যি সত্যি কাজ করতে চায় এমন লোকও আছে।

    —তুই নিজের সারা জীবনটা এইভাবে উৎসর্গ করবি?

    —আ রে! উৎসর্গটর্গ নয়। এটা আমার পেশা। ঠিক যেমন লোকে ব্যাকটিরিয়া নিয়ে, জিন নিয়ে রিসার্চ করে, আমিও তেমন করছি। যে কোনও কাজে পেশাদারি দক্ষতা দরকার হয়, অধ্যাপনা, ম্যানেজমেন্ট, হিসেবনিকেশ সবেতে। এটাতেও তেমনি। শুধু স্যাক্রিফাইস দিয়ে বা আইডিয়ালিজ্‌ম্‌ দিয়ে কিছু হয় না রে! জনকল্যাণ কিছু চাকরিও তো সৃষ্টি করছে!

    —যেমন এই অ্যাডাল্ট এডুকেশনের টিচারদের?

    —রাইট। আমি এবার চলি রে জিনা, কাল খুব সকালে ট্রেন ধরতে হবে।

    —তুই রাগ করলি?

    —না, রাগ করব কেন! এটাই গড়পড়তা রি-অ্যাকশান। ও ভাল কথা, মল্লিকাদিকে একটু ডাক তো!

    একটু পরে মল্লিকা এসে দাঁড়ালে মুকুট বলল, মল্লিকাদি, তোমার সেই বাঘের স্বপ্নটা যে সেদিন শুনলাম, ওটা নিয়ে অনেক ভেবেছি জান! যে ভাবেই ভাবি একটা ব্যাখ্যাতেই পৌঁছোচ্ছি।

    মল্লিকা বলল, দূর, তুমি ও নিয়ে ভাবা ছেড়ে দাও। ওর কোনও মানে নেই।

    —নাঃ, মানে আছে। স্বপ্নটা আমার কেমন চেনা চেনা লাগছিল। একেবারে টেক্সট বুক ড্রিম যেন। কদিন আমার ডায়েরিগুলো খুঁজছিলাম। একটি অল্পবয়সি ধরো তেরো-চোদ্দো বছরের মেয়ে, খুব স্যাড কেস, মেয়েটিকে তার জনৈক বয়স্ক আত্মীয় রেপ করত, কাউকে ও বলতে পারত না। এই ধরনের স্বপ্ন দেখত। একটা বাঘ আকাশ থেকে লাফ দিয়ে ছাতে পড়ল, ছাত থেকে সিঁড়ি বেয়ে নেমে আসছে, ঘর বাড়ি সব ভেঙে.. কী হল? কী হল?

    জিনা বলল—যা, মুকুট তোর কোনও সেন্স নেই। দিদিভাই! শরীর খারাপ লাগছে? সোফায় বসে পড়েছিল মল্লিকা, কুলকুল করে ঘামছে। চোখের সামনে অন্ধকার। কত দূর থেকে যেন জিনাদের গলা ভেসে আসছে। জলের ছিটে পড়ছে মুখে।

    মুকুট বলল, জিনা তুই বরফ দিয়ে ভাল করে এক গ্লাস শরবত করে নিয়ে আয় তো! জাস্ট নুন-চিনি-লেবুর শরবত। চিনিটা ঠান্ডা জলে গুলতে চায় না। ভাল করে মিশিয়ে নিবি। আমি দেখছি।

    জিনা চলে যাবার সঙ্গে সঙ্গে মুকুট দ্রুত এগিয়ে এসে মল্লিকার কপালের ঘাম মুছিয়ে দিল। বলল, মল্লিকাদি জিনা এক্ষুনি আসবে, চট করে কতকগুলো কথা শুনে নাও। তোমার বাঘ যদি অতীতের হয়, তো ভুলতে চেষ্টা করো। ফিফটি পার্সেন্ট মেয়ের এই ধরনের অভিজ্ঞতা হয়, সো-জা ভুলে যাও। আর ব্যাপারটা যদি বর্তমানের হয়, তা হলে ভয় পেয়ে কোনও লাভ নেই, প্রতিবাদ করো। কড়া প্রতিবাদ, সে তোমার স্বামী হলেও। সহ্য করতে থাকলে তোমার মানসিক দিক থেকে ক্ষতি হয়ে যাবে। তোমারও সেই লোকটিরও, ন্যাচার‍্যালি তোমার পরিবারেরও।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleমোহানা – বাণী বসু
    Next Article খনামিহিরের ঢিপি – বাণী বসু

    Related Articles

    বাণী বসু

    নূহর নৌকা – বাণী বসু

    November 3, 2025
    বাণী বসু

    ছোটোগল্প – বাণী বসু

    November 3, 2025
    বাণী বসু

    অন্তর্ঘাত – বাণী বসু

    November 3, 2025
    বাণী বসু

    খনামিহিরের ঢিপি – বাণী বসু

    November 3, 2025
    বাণী বসু

    মোহানা – বাণী বসু

    November 3, 2025
    বাণী বসু

    যখন চাঁদ এবং – বাণী বসু

    November 3, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    अनीश दास
    मौलाना शाह वलीउल्लाह
    रेवरेंड के. के. जी. सरकार
    অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিজ্ঞান রায়চৌধুরী
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমরেন্দ্র চক্রবর্তী
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অরিন্দম দেবনাথ
    অর্পিতা সরকার
    অশোককুমার মিত্র
    অসম্পূর্ণ বই
    আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    কৌশিক সামন্ত
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোপেন্দ্র বসু
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যজ্যোতি মজুমদার
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণু শর্মা
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহতাব উদ্দিন
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    রেভারেণ্ড কে. কে. জি. সরকার
    লীলা মজুমদার
    লেইল লোনডেস
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শঙ্কর চ্যাটার্জী
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শাক্যজিৎ ভট্টাচাৰ্য্য
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্যামল গঙ্গোপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সন্দীপন চট্টোপাধ্যায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সম্পাদনা : শৈলেন্দ্র হালদার
    সরদার ফজলুল করিম
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সায়ন্তনী পূততুন্ড
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্মরণজিৎ চক্রবর্তী
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মাহতাব উদ্দিন : জীবন ও গান

    May 18, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মাহতাব উদ্দিন : জীবন ও গান

    May 18, 2026
    Our Picks

    মাহতাব উদ্দিন : জীবন ও গান

    May 18, 2026

    পরমপুরুষ শ্রীশ্রীরামকৃষ্ণ ২ – অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত

    May 18, 2026

    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের প্রেমের গল্প – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    May 16, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }